ব্যাখ্যা
"সন্ধি" শব্দটি "সম্ + ধা + ই" ধাতু থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ ‘সংযোগ’ বা ‘মিলন’। দুটি অক্ষর বা ধ্বনি যখন মিলিত হয়ে পরিবর্তিত রূপ ধারণ করে, তখন তাকে "সন্ধি" বলা হয়। এটি মূলত ধ্বনিতত্ত্বগত নিয়ম। সন্ধির মাধ্যমে উচ্চারণ সহজ ও মধুর হয়।
৪৯তম বিসিএস ⎯ সংস্কৃত [১৫১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৯ প্রশ্ন
"সন্ধি" শব্দটি "সম্ + ধা + ই" ধাতু থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ ‘সংযোগ’ বা ‘মিলন’। দুটি অক্ষর বা ধ্বনি যখন মিলিত হয়ে পরিবর্তিত রূপ ধারণ করে, তখন তাকে "সন্ধি" বলা হয়। এটি মূলত ধ্বনিতত্ত্বগত নিয়ম। সন্ধির মাধ্যমে উচ্চারণ সহজ ও মধুর হয়।
যখন দুটি ধ্বনি পাশাপাশি আসে তখন উচ্চারণ সহজ করতে ধ্বনির পরিবর্তন হয়, একে "সন্ধি" বলা হয়। যেমন: "গुरु + उदयः = गुरूदयः"। এখানে "উ" এবং "উ" মিলিত হয়ে দীর্ঘ "ঊ" ধ্বনি তৈরি করেছে।
সংস্কৃত ব্যাকরণে সন্ধি প্রধানত তিন প্রকার—
১) স্বরসন্ধি,
২) ব্যঞ্জনসন্ধি,
৩) বিসর্গসন্ধি।
প্রতিটি প্রকারের আবার উপবিভাগ রয়েছে। এই শ্রেণিবিভাগ ধ্বনিগত পরিবর্তনের ভিত্তিতে করা হয়েছে।
সব ক্ষেত্রে সন্ধি প্রযোজ্য নয়। কখনও কখনও দুটি অক্ষর পাশাপাশি থেকেও ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটায় না। "তৎ + করোতি" তে "ৎ" ব্যঞ্জনের পরে "ক" ব্যঞ্জন এসেছে, কিন্তু পরিবর্তন হয়নি। তাই সন্ধি হয়নি।
ব্যঞ্জনসন্ধি হলো যেখানে এক ব্যঞ্জনের সংস্পর্শে অন্য ব্যঞ্জনের পরিবর্তন ঘটে। যেমন: "তৎ + জ্ঞান = তজ্জ্ঞান"। এখানে "ৎ" ধ্বনি "জ" এর প্রভাবে "জ্" হয়ে গেছে। এটাই ব্যঞ্জনসন্ধির প্রকৃতি।
বিসর্গসন্ধিতে "ঃ" (বিসর্গ) এর পরে আসা ধ্বনির উপর ভিত্তি করে পরিবর্তন ঘটে। যেমন: "रामः + गच्छति = रामो गच्छति"। এখানে বিসর্গ "ঃ" এর পরে "গ" থাকায় তা "ও" তে রূপান্তরিত হয়েছে।
সন্ধি মূলত ধ্বনিগত পরিবর্তনের নিয়ম। শব্দের মিলনে যাতে উচ্চারণ সহজ ও সুমধুর হয়, সেই কারণে সন্ধির প্রয়োগ হয়। যেমন: "गुरुः अस्ति" উচ্চারণে কঠিন হলেও "गुरुरस्ति" সহজ ও মধুর।
এখানে "রামঃ" শব্দের শেষে বিসর্গ (ঃ) আছে। তার পরে "চ" ধ্বনি এসেছে। বিসর্গসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী বিসর্গের পরে "চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ" এলে বিসর্গ "শ্" রূপ নেয়। তাই "রামঃ + চ" → "রামশ্চ" হয়েছে।
এখানে "অগ্নি" শব্দের শেষে "ই" স্বর এবং "ইন্দ্র" শব্দের শুরুতেও "ই" স্বর আছে। স্বরসন্ধির নিয়ম অনুযায়ী একই স্বর মিললে তারা দীর্ঘ রূপ ধারণ করে। তাই "ই + ই = ঈ" হয়ে "অগ্নীন্দ্রঃ" হয়েছে। এটাই স্বরসন্ধির উদাহরণ।
যখন দুটি স্বর পাশাপাশি আসে এবং ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, তখন তাকে স্বরসন্ধি বলে। এখানে "অ" এবং "আ" মিলিত হয়ে "আ" হয়েছে। উদাহরণ: "তথা + আশা = তথাশা → তাশা"। এটি স্পষ্ট স্বরসন্ধি।
এখানে "গুরু" শব্দের শেষে "উ" এবং "উদয়" শব্দের শুরুতে "উ" এসেছে। একই স্বর "উ + উ" দীর্ঘ হয়ে "ঊ" হয়েছে। তাই হয়েছে "গুরূদয়ঃ"। এটি দ্বিত্ব স্বর মিলনের ফলে গঠিত স্বরসন্ধি।
এখানে "তৎ" এর শেষে "ৎ" এবং "জ্ঞান" এর শুরুতে "জ" পাশাপাশি এসেছে। উচ্চারণ সহজ করতে "ৎ" ধ্বনি "জ" এর প্রভাবে "জ্" হয়ে গেছে। ফলে হয়েছে "তজ্জ্ঞান"। এটিই ব্যঞ্জনসন্ধির প্রকৃত উদাহরণ।
এখানে প্রথম শব্দের শেষে "ৎ" এবং দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে "ত্ব" একসাথে এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম "ৎ" লোপ পেয়ে গেছে। তাই হয়েছে "ত্বম্"। এটি ব্যঞ্জনসন্ধির একটি বিশেষ রূপ।
"সত্" শব্দের শেষে "ৎ" এবং "পুরুষ" শব্দের শুরুতে "প" এসেছে। নিয়ম অনুযায়ী ব্যঞ্জনসন্ধিতে কখনও ব্যঞ্জন অপরিবর্তিত থেকে যায়। তাই "সৎপুরুষ" হয়েছে। এখানে সন্ধি ঘটলেও রূপান্তর ঘটেনি। এটি ব্যঞ্জনসন্ধির আরেক রূপ।
বিসর্গসন্ধি হল সেই সন্ধি যেখানে পূর্বপদে উপস্থিত বিসর্গ (ঃ)-এর কারণে পরিবর্তন ঘটে। বিশেষত যখন বিসর্গের পরে ‘চ, ছ, ট, ঠ, ত, থ, প, ফ’ প্রভৃতি অঘোষ ধ্বনি (voiceless stops/affricates) আসে, তখন বিসর্গ সাধারণত ‘শ্’ (ś) রূপ নেয়। তাই "রামঃ + চ" একত্রে উচ্চারণ করলে "রামশ্চ" হয়—বিসর্গ (ঃ)-ই শ্ হয়ে গিয়েছে। এটাকে সাধারণ স্কুলস্তরের বিসর্গসন্ধি হিসেবে পড়ানো হয়। এই পরিবর্তনটি উচ্চারণকে সহজ ও সাবলীল করে।
এখানে পূর্বপদে বিসর্গ (গুরুঃ) এবং পরপদে স্বর (অস্তি) আছে। বিসর্গ যখন স্বর বা কণ্ঠ্য/স্বরোচ্চারণের সাথে সংস্পর্শে আসে, তখন অনেক ক্ষেত্রে বিসর্গ 'র্' (র-অভিধানী রূপ) হিসেবে প্রতিস্থাপিত হয় বা সংযোগে ‘র’ ঢুকে পড়ে। ফলে "গুরুঃ + অস্তি" → "গুরুরস্তি" হয়। এই রূপান্তরটি বিসর্গসন্ধির এক পরিচিত নিয়ম — বিশেষত স্বরের পূর্বে বিসর্গকে ‘র’ রূপে দেখা যায়। এটি উচ্চারণটাকে স্বচ্ছ ও সহজ করে।
পূর্বপদে বিসর্গ (ঃ) এবং পরপদে স্বর (অপि) থাকলে বিসর্গ প্রাকৃতিকভাবে 'র্' (r) তে রূপান্তরিত হয়ে যায়। তাই "পিতৃঃ + অপি" একত্রে উচ্চারণ করলে "পিতরঅপি" রূপ ধারণ করে। এখানে মূল কথা হচ্ছে — বিসর্গের পরে যদি স্বর থাকে, তখন বিসর্গ সাধারণত 'র'-রূপ নেবে এবং পর অর্জিত রূপ উচ্চারণে যুক্ত হবে। বিদ্যালয়ীয় গ্রামারেও এটাই নিয়ম হিসেবে নেয়া হয়।
পাণিনীর শাস্ত্রে বিসর্গের কিছু বিশেষ অবস্থান আছে—যখন বিসর্গের পরে গলার ধ্বনি (k, kh) আসে, তখন ঐ বিসর্গকে কন্ঠভিত্তিক একটি বিশেষ উচ্চারণ বলা হয় — জিহ্বমূলীয়। আর যখন বিসর্গের পরে প, ফ (উপ-ধ্বনি) আসে, তখন অন্য একটি বিশেষ উচ্চারণ উপধ্মনীয় রূপ দেখা যায়। এগুলো প্রকৃতপক্ষে আলাদা অক্ষর নয়, বরং ধ্বনিগত পরিবর্তন — উচ্চারণগত সূক্ষ্মতা বোঝায়। স্কুলস্তরের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যায় বলা হয়: k/kh-এর আগে জিহ্বমূলীয় এবং p/ph-এর আগে উপধ্মনীয় শব্দ ঘটতে পারে।
বিসর্গের রূপান্তরের নিয়মগুলো প্রসঙ্গভিত্তিক। যখন বিসর্গের পরে স্বর (অ —, ই, ইত্যাদি) বা কবে-কবে কোনো ঘন/স্বরোচ্চারণ (যেমনঃ কোনো উচ্চারিত শব্দ) আসে, তখন বিসর্গ প্রাকৃতিকভাবে 'র্' আকারে প্রকাশ পায়। তাই "গুরুঃ + অস্তি = গুরুরস্তি" বা "পিতৃঃ + অপি = পিতরঅপি" রকম রূপান্তর ঘটে। এই রূপান্তর উচ্চারণ সহজ করার জন্য এবং ধ্বনিগত মিল বজায় রাখার উদ্দেশ্যে।
নিপাত হচ্ছে সেই শ্রেণীর শব্দ যা বিভক্ত হতে পারে না — অর্থাৎ অব্যয় (indeclinables) : উদাহরণ—চ (ca), अपि (api), तु (tu), हि (hi), एव (eva) ইত্যাদি। এরা বাক্যে যোগব্যঞ্জক বা বিমর্শসূচক কাজ করে এবং পরিচিতি/যোগ/উদ্ধৃতি ইত্যাদি প্রকাশ করে। নিপাত সাধারণত শব্দের পর বা মাঝে এসে সংযোগ বা তুলনা–প্রকরণ দেখায়। নিপাত যখন কোনো পদে যোগ করে, তখন প্রয়োজনে সন্ধি নিয়মও প্রয়োগ হয় (বিশেষত বিসর্গযুক্ত পূর্বপদের ক্ষেত্রে)।
এখানে নিপাত 'চ'—এটি একটি সাধারণ অব্যয়। পূর্বপদে যদি বিসর্গ (ঃ) থাকে, এবং পরপদে 'চ'-রকম অঘোষ ব্যঞ্জন আসে, তাহলে বিসর্গ প্রাথমিকভাবে 'শ্' রূপে পরিবর্তিত হয়। তাই "রুদ্রঃ + চ" একত্রে উচ্চারণ করলে "রুদ্রশ্চ" হয়। অর্থাৎ নিপাত 'চ'-এর উপস্থিতিতে বিসর্গসন্ধির ঐ প্রচলিত নিয়মই কার্যকর হয়। নিপাত নিজে কোন পরিবর্তন পায় না; পরিবর্তন ঘটে পূর্বপদের বিসর্গে।
“সমাস” শব্দের আক্ষরিক অর্থ ‘সংক্ষেপণ’। দুটি বা ততোধিক পদ (শব্দ) একত্র হয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে এক পদ হয়ে যায়, একে সমাস বলে। যেমন: "राजपुरुषः" (রাজপুরুষ) = রাজ्ञঃ পুরুষঃ। সমাস মূলত বাক্যকে সংক্ষিপ্ত, মধুর ও সুন্দর করে তোলে।
সংস্কৃত সমাস প্রধানত চার প্রকার—
১) দ্বন্দ্ব সমাস,
২) তৎপুরুষ সমাস,
৩) বহুব্রীহি সমাস,
৪) দ্বিগু সমাস।
প্রত্যেকটির আবার কিছু উপবিভাগ আছে। এই শ্রেণিবিভাগ করা হয় অর্থগত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে।
এখানে "রাজ্ঞঃ পুরুষঃ" অর্থাৎ "রাজপুরুষঃ" গঠিত হয়েছে। পূর্বপদ রাজ্ঞঃ (ষষ্ঠী বিভক্তি) এবং উত্তরপদ পুরুষঃ। উত্তরপদে প্রধান জোর পড়ে। এটি ষষ্ঠীতৎপুরুষ সমাস। সাধারণভাবে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদ কারকবাচক অর্থ বহন করে।
দ্বন্দ্ব সমাসে দুই বা একাধিক শব্দ সমান গুরুত্বে যুক্ত হয়। যেমন—"সিতা + রাম = সীতারামঃ"। এখানে সীতা এবং রাম সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দ্বন্দ্ব সমাসকে ইংরেজিতে বলা হয় copulative compound।
"পিতা + মহঃ" = "পিতামহঃ"। এখানে "পিতা" পূর্বপদ এবং "মহঃ" উত্তরপদ। তৎপুরুষ সমাসে মূলত পূর্বপদ উত্তরপদের বিশেষক অর্থ প্রকাশ করে। এই সমাসে সাধারণত একাধিক কারকভিত্তিক বিভক্তি-অর্থ গোপন থাকে।
সংখ্যাবাচক শব্দের সাথে বিশেষ্য পদ যোগ হয়ে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে দ্বিগু সমাস বলে। "চতুর্বেদঃ" = চতুর্ (চার) + বেদঃ (বেদ)। এখানে ‘চার বেদ’ বোঝানো হয়েছে।
দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদ সমান গুরুত্বে থাকে। "পিতৃমাতা" মানে পিতা ও মাতা। এখানে কোন পদই অপরটির অধীন নয়, বরং সমভাবে যুক্ত হয়েছে। তাই এটি দ্বন্দ্ব সমাসের নিখুঁত উদাহরণ।
বহুব্রীহি সমাসে গঠিত পদে সমাসপদ দ্বারা বোঝানো হয় অন্য কোনো পদার্থ। যেমন—"নীললোহিতঃ" মানে যে ব্যক্তি নীল ও লোহিতবর্ণের অধিকারী। এখানে সমাসপদ (নীল+লোহিত) বিশেষ কোনো গুণের দ্বারা অন্য ব্যক্তিকে বোঝাচ্ছে। তাই এটি বহুব্রীহি সমাস।
দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি বা একাধিক শব্দ সমান গুরুত্বে যুক্ত হয়। "সীতা + রাম = সীতারামঃ" মানে সীতা ও রাম। এখানে কোনো পদই অপরটির অধীন নয়। ইংরেজিতে একে copulative compound বলা হয়।
বহুব্রীহি সমাসে গঠিত পদ অন্য কোনো বস্তুকে বোঝায়। "নীললোহিতঃ" মানে যিনি নীল ও লোহিত রঙের অধিকারী। এখানে সমাসপদ বিশেষণ হয়ে অন্য বস্তুকে নির্দেশ করছে।
"গুরোঃ পাদঃ" = "গুরুপাদঃ"। এখানে পূর্বপদ (গুরোঃ) ষষ্ঠী বিভক্তি নির্দেশ করছে এবং উত্তরপদ (পাদঃ) মুখ্য। এটি তৎপুরুষ সমাসের সাধারণ রূপ।
এখানে "অশ্বস্য পালকঃ" → "অশ্বপালঃ"। এটি ষষ্ঠীতৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ। উত্তরপদ (পালক) মুখ্য এবং পূর্বপদ (অশ্ব) কারক সম্পর্ক দেখাচ্ছে।
এখানে "অষ্টাদশ" (সংখ্যা = ১৮) এবং "পুরাণম্" (বিশেষ্য) যুক্ত হয়েছে। সংখ্যা + বিশেষ্য মিলে দ্বিগু সমাস হয়। তাই "অষ্টাদশপুরাণম্" দ্বিগু সমাস।
এখানে সমাসপদ "চন্দ্রশেখরঃ" দ্বারা বোঝানো হচ্ছে শিবকে। সমাসের পদগুলোর অর্থ (চন্দ্র + শিখর) সরাসরি অর্থ নয়, বরং অন্য বস্তু (শিব) নির্দেশ করছে। তাই এটি বহুব্রীহি সমাস।
সমাসে সর্বদা উত্তরপদ মুখ্য হয়। অর্থাৎ সমাসপদকে ব্যাকরণিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় উত্তরপদেই মূল অর্থ নিহিত থাকে। যেমন – "গুরুপাদঃ" = "গুরুর পা"। এখানে "পাদঃ" মুখ্য।
সমাস হলো দুটি বা ততোধিক শব্দকে মিলিয়ে নতুন শব্দ গঠন করা। ইংরেজি ব্যাকরণে একে Compounding বলা হয়। যেমন – "Bookshop" (Book + Shop) ইংরেজিতে যেমন সমাস, তেমনি "রাজপুরুষঃ" সংস্কৃতে সমাস।
সমাস ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো বাক্যকে সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ করা। যেমন – "রাজার পুরুষ" → "রাজপুরুষঃ"। সমাসে অল্প শব্দে বৃহৎ অর্থ প্রকাশ করা সম্ভব হয়।
দ্বিগু সমাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো – এখানে সংখ্যা + বিশেষ্য যোগ হয়। যেমন – "চতুর্বেদঃ" = "চারটি বেদ"। সংখ্যা (চতুর্) মূল নির্দেশক, যা বিশেষ্য পদকে বর্ণনা করে।
বহুব্রীহি সমাসে সমাসের পদগুলো নিজেদের অর্থ প্রকাশ করে না, বরং অন্য কোনো বস্তুকে বোঝায়। যেমন – "চন্দ্রশেখরঃ" মানে শিব। চন্দ্র ও শিখরের যোগফল নয়, বরং ভিন্ন এক সত্ত্বাকে বোঝাচ্ছে।
কারক হলো ক্রিয়ার সঙ্গে পদকে যুক্ত করার শক্তি বা সম্পর্ক। উদাহরণ: "रामः फलम् खादति" (রাম ফল খায়)। এখানে "रामः" কর্তার কারকে, "फलम्" কর্মকারকে ব্যবহৃত। অর্থাৎ ক্রিয়ার সঙ্গে পদকে যুক্ত করছে কারক।
সংস্কৃতে সাত প্রকার কারক পাওয়া যায়:
১. কর্তা (কর্তৃকারক)
২. কর্ম (কর্মকারক)
৩. করণ (করণকারক)
৪. সম্প্রদান (সম্প্রদানকারক)
৫. অপাদান (অপাদানকারক)
৬. অধিকরণ (অধিকরণকারক)
৭. সম্পর্ক (সম্পর্ককারক)।
করণকারক সেই কারক যা কোনো যন্ত্র, উপকরণ বা মাধ্যম দ্বারা কাজ সম্পন্ন করে। যেমন – "रामः लेखनीया लिखति" (রাম কলম দ্বারা লেখে)। এখানে "लेखनीया" করণকারক।
অধিকরণকারক নির্দেশ করে কোথায় কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। যেমন – "रामः ग्रामे वसति" (রাম গ্রামে বাস করে)। এখানে "ग्रामे" অধিকরণকারক।
এখানে "বালকের" দ্বারা বোঝানো হচ্ছে মালিকানা বা সম্পর্ক। এটি পুস্তকের সঙ্গে সম্পর্ক প্রকাশ করছে। সম্পর্ককারক তখন ব্যবহৃত হয় যখন কোনো বস্তু বা পদ অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কিত হয়।
অধিকরণকারক ব্যবহৃত হয় কাজের স্থান বা অবস্থান নির্দেশ করতে। এখানে কাজটি (স্নান) গঙ্গার মধ্যে ঘটছে। তাই "গঙ্গার মধ্যে" অধিকরণকারক।
সপ্তমী বিভক্তি সাধারণত কাজের স্থান বা অবস্থান নির্দেশ করে। যেমন – "গ্রামে বাস করে" বাক্যে "গ্রামে" হল অধিকরণকারক।
যিনি কিছু গ্রহণ করেন, তিনি সম্প্রদানকারক। এখানে শিষ্য বই গ্রহণ করছেন। তাই "শিষ্যকে" সম্প্রদানকারক।
করণকারক ব্যবহার হয় যে পদ বা উপায় দ্বারা কাজ সম্পন্ন হয়। এখানে শিষ্যকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে গুরু দ্বারা। তাই "গুরু দ্বারা" করণকারক।