ব্যাখ্যা
আহমদ শরীফ যে ৩ জনের কথা বলেছেন তারা হলেন
১. অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস ( সর্বপ্রাচীন)
২. চণ্ডীদাস( চৈতন্য পূর্বকাল বা জৈষ্ঠ্য সমসাময়িক)
৩. পালা গানের রচয়িতা দীন চণ্ডীদাস
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৭ প্রশ্ন
মধ্যযুগের বাংলায় প্রধান সাহিত্যধারা গুলো হলোঃ
বৈষ্ণব সাহিত্য
জীবন সাহিত্য
মঙ্গলকাব্য
অনুবাদ সাহিত্য
পুঁথিসাহিত্য
লোকসাহিত্য
উল্লেখ্য মধ্যযুগে লোকসাহিত্য ধারাটি ব্যাতিক্রম। কারণ এই ধারায় ধর্ম বা দেব-দেবী নয়। মানুষের গুরুত্ব অধিক। তার প্রণয় ও কামনাকে মূখ্য বিবেচনা করা হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
বিদ্যাপতির উপাধিগুলোর মধ্যে রয়েছে,
কবিকণ্ঠহার, কবিরঞ্জন, অভিনব জয়দেব, নবকবি শেখর।
অন্যদিকে রাজা রঘুনাথ রায় মুকুন্দরাম চক্রবর্তীকে 'কবিকঙ্কণ' উপাধি দেন, এবং শ্রীজীব গোস্বামী গোবিন্দদাসকে 'কবিরাজ' উপাধি দেন।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
জ্ঞান্দাস চণ্ডীদাসের ভাবশিষ্য ছিলেন, অপরিদিকে বিদ্যাপতির ভাবশিষ্য গোবিন্দদাস, যাকে দ্বিতীয় বিদ্যাপতিও বলা হয়।
জ্ঞানদাসের পদঃ
" রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কান্দে প্রতি অঙ্গ মোর"
" সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু অনলে পুড়িয়া গেল।
অমিয়া-সাগরে সিনান করিতে সকলি গরল ভেল"
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
মঙ্গলকাব্য' ধর্মীয় আরাধনার মাধ্যমে লোকজ সমাজে ধর্মচেতনা বিস্তারের জন্য রচিত হলেও এতে সামাজিক বাস্তবতা লোকজ বিশ্বাস, পারস্পারিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
মঙ্গলকাব্যে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে যে আন্তঃসম্পর্ক, মেলামেশা ও সামাজিক যোগাযোগের চিত্র ফুটে উঠেছে সেটিই সাজিক মিথস্ক্রিয়া।
যেমনঃ মনসামঙ্গলে চাঁদ সওদাগরের বাণিজ্যিক অভিযান ও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের ভূমিকা।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
মঙ্গলকাব্যে ৬২ জন কবির সন্ধান পাওয়া যায়।
এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন কানাহরিদত্ত, বিজয়গুপ্ত, নারায়ণ দেব, মানিকদত্ত, দ্বিজমাধব, ময়ূর ভট্ট, রূপরাম চক্রবর্তী।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
ভারতচন্দ্র রায় গুণাকরের কিছু বিখ্যাত উক্তি হলো-
যতন নহিলে নাহি মিলয়ে রতন
বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সম্ভাষে যদি দেখে লক্ষ্মীছাড়া।
হাভাতে যদ্যপি চায় সাগর শুকায়ে যায়।
কড়িতে বাঘের দুধ মিলে।
জন্মভূমি জননী স্বর্গের গরীয়সী।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
অন্নদামঙ্গল ৩টি খণ্ডে বিভক্ত
১. শিবনারায়ণ অন্নদামঙ্গলঃ এ-ই অংশে ভারতচন্দ্রের পৃষ্ঠপোষক রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের নবাব আলীবর্দী কর্তৃক বন্দি হওয়া, অন্নপূর্ণা দেবীর পূজা করে মুক্তিলাভ বর্ণিত আছে।
২. কালিকা মঙ্গল বা বিদ্যাসুন্দরঃ এ-ই অংশে রাজকুমার সুন্দর এবং রাজকুমারী বিদার প্রেম কাহিনি, সুন্দরকে চোর হিসেবে ধরে শিরশ্ছেদের জন্য শ্মশানে নিয়ে যাওয়া কালীর কৃপায় সুন্দরের রক্ষা পাওয়া বর্ণিত আছে।
৩. মানসিংহ-ভবানন্দ উপাখ্যানঃ এ অংশে অন্নদার বরপুত্র ভবানন্দের সহায়তায় মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের পক্ষ হয়ে মানসিংহ কর্তৃক বাংলার বীর প্রতাপাদিত্যকে পরাজিত করা, পুরস্কারের পরিবর্তে সম্রাট কর্তৃক অপমান লাভ এবং পরিশেষে অন্নপূর্ণার অনুচর ভূত-প্রেতের অত্যাচার অতিষ্ঠ হয়ে সম্রাটের নতি স্বীকার এবং ভবানন্দকে বিস্তৃত জমিদারি ও রাজা উপাধি দেওয়ার কাহিনি বর্ণিত আছে।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম
শ্রীধর্মমঙ্গল কাব্যে ২ টি কাহিনী পাওয়া যায়,
১। রাজা হরিশ্চন্দ্রের কাহিনি- উল্লেখ যোগ্য চরিত্রঃ রানি মদনা, লুইধর।
২। লাউসেনের কাহিনিঃ এ-র চরিত্র সমূহ- কর্ণসেন, লাউসেন ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম