পরীক্ষা আর্কাইভ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

পরীক্ষানতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাসতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়17 minutes
মোট প্রশ্ন৪৯
সিলেবাস
বিষয় - কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি টপিক - তথ্য-প্রযুক্তি ১. আধুনিক প্রযুক্তির ডিভাইসসমূহ - স্মার্ট ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ট্যাব ইত্যাদি। ২. মোবাইল প্রযুক্তির বৈশিষ্ট্যসমূহ; মোবাইল নেটওয়ার্ক ও এর বৈশিষ্ট্য; সেলুলার ডাটা নেটওয়ার্ক: টুজি, থ্রিজি, ফোরজি, ওয়াইম্যাক্স ইত্যাদি। ৩. তথ্যপ্রযুক্তির বড় প্রতিষ্ঠান ও তাদের সেবা/তথ্যসমূহ: গুগল, মাইক্রোসফট, আইবিএম ইত্যাদি। ৪. ক্লায়ন্ট-সার্ভার ম্যানেজমেন্ট ও ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা। ৫. সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং: ফেসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রাম ইত্যাদি। ৬. আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, ৭. রোবটিক্স, ৮. ডিজাইন ও প্রোগ্রামিং ভাষা সম্পর্কে ধারণা ইত্যাদি। উৎস: অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। ----------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস

নতুনদের বিসিএস প্রস্তুতি - ২০০ দিনে পুরো সিলেবাস · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৯ প্রশ্ন

.
পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কোনটি সঠিক?
  1. একটি কম্পিউটারে সকল রিসোর্স থাকে
  2. প্রতিটি কম্পিউটার একই সাথে সার্ভার এবং ক্লায়েন্ট
  3. ডেডিকেটেড সার্ভার প্রয়োজন
  4. কম্পিউটারে শ্রেণিবিন্যাস বা হায়ারার্কি থাকে
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো খ) প্রতিটি কম্পিউটার একই সাথে সার্ভার এবং ক্লায়েন্ট।

পিয়ার টু পিয়ার (P2P) নেটওয়ার্কে কোন বিশেষ সার্ভার বা কেন্দ্রীভূত নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এখানে প্রতিটি কম্পিউটার বা নোড একই সাথে সার্ভার ও ক্লায়েন্ট হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ, প্রতিটি কম্পিউটার অন্য কম্পিউটারের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে পারে এবং তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। P2P নেটওয়ার্কে নির্দিষ্ট কোনো ডেডিকেটেড সার্ভার প্রয়োজন হয় না, এবং প্রতিটি কম্পিউটার সমানাধিকারভিত্তিকভাবে রিসোর্স ভাগাভাগি করে। এই বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি ফাইল শেয়ারিং, অনলাইন স্ট্রিমিং বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো কাজে কার্যকর। Hierarchy বা centralized control এখানে প্রযোজ্য নয়।

• নিয়ন্ত্রণ কাঠামো এবং সার্ভিস প্রদানের ভিত্তিতে কম্পিউটার নেটওয়ার্কসমূহকে প্রধানত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১। ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক (Client-Server Network),
২। পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক (Peer to Peer Network) ও
৩। হাইব্রিড নেটওয়ার্ক (Hybride Network)।

• ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক:
- কেন্দ্রীয়ভাবে ডাটা স্টোর, নিরাপত্তা দেওয়া, বিভিন্ন এ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য ক্লায়েন্ট সার্ভার নেটওয়ার্ক খুবই উপযোগী।
- এই নেটওয়ার্কে একটি কম্পিউটারে সকল রিসোর্স থাকে এবং অন্যান্য সকল কম্পিউটারগুলো এসব রিসোর্স ব্যবহার করে।
- যে কম্পিউটার রিসোর্স শেয়ার করে সেটিকে সার্ভার বলে আর যেসব কম্পিউটার রিসোর্স ব্যবহার করে তাদেরকে ক্লায়েন্ট বলে।
- নেটওয়ার্কের সমস্ত রিসোর্স সার্ভারে জমা থাকায় রিসোস ম্যানেজম্যান্ট অনেক সহজ হয়।

• পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্ক:
- পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কে প্রত্যেক কম্পিউটার হতে রিসোর্স শেয়ার করা যায়।
- এই নেটওয়ার্কে প্রতিটি কম্পিউটার একই সাথে সার্ভার এবং ক্লায়েন্ট।
- এরা প্রত্যেকেই রিসোর্স শেয়ারের ক্ষেত্রে সমান ভুমিকা পালন করে।
- ডেডিকেটেড সার্ভার না থাকায় কম্পিউটারগুলোর কোন শ্রেণীবিন্যাস নেই।

• হাইব্রিড নেটওয়ার্ক:
- হাইব্রিড নেটওয়ার্ক মূলত ক্লায়েন্ট সার্ভার এবং পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের সমন্বয়ে গঠিত।
- সাধারনত হাইব্রিড নেটওয়ার্কে সার্ভার অংশের প্রাধান্য থাকে। তবে এর পাশাপাশি অল্প বিস্তারে পিয়ার টু পিয়ার নেটওয়ার্কের অংশ থাকে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
অ্যাপলের মূল কর্পোরেট সদর দপ্তরের কমপ্লেক্সটির নাম কী?
  1. অ্যাপল প্লেক্স
  2. অ্যাপল হাউজ
  3. অ্যাপল পার্ক
  4. অ্যাপল ভ্যালি
ব্যাখ্যা

• অ্যাপলের মূল কর্পোরেট সদর দপ্তরের কমপ্লেক্সটির নাম অ্যাপল পার্ক। এটি ক্যালিফোর্নিয়ার কুপার্টিনোতে অবস্থিত। এই কমপ্লেক্সটি স্থাপত্য ও প্রযুক্তি দিক থেকে অত্যন্ত আধুনিক এবং পরিচিত “স্পেসশিপ” আকারের বড় বৃত্তাকার ডিজাইনের জন্য। অ্যাপল পার্কে অফিসের পাশাপাশি প্রাকৃতিক উদ্যান, হেঁটে ঘুরার পথ এবং একটি বড় অ্যাপল মিউজিয়ামও রয়েছে। এটি কেবল অ্যাপলের কর্মীদের জন্য নয়, ভিজিটরদের জন্যও আকর্ষণীয়। স্যুট ও কর্পোরেট সুবিধার সমন্বয়, উদ্ভাবনী পরিবেশ এবং পরিবেশ বান্ধব ডিজাইনের কারণে এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেট সদর দপ্তর হিসেবে স্বীকৃত। সঠিক উত্তর: গ) অ্যাপল পার্ক।

• অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড:
- অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড একটি বিখ্যাত আমেরিকান বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি।
- এটি কনজুমার ইলেকট্রিক, কম্পিউটার সফটওয়্যার, এবং অনলাইন সেবা ডিজাইন, ডেভলপ ও বিক্রি করে।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৯৭৬ সালের ১ এপ্রিল।
- প্রতিষ্ঠাতা: স্টিভ জবস, স্টিভ ওজনিয়াক এবং রোনাল্ড ওয়েন।
- স্লোগান: Think Different.
- সদর দপ্তর: কিউপারটিনো, ক্যালিফোর্নিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্র।

উৎস: ব্রিটানিকা।

.
মোবাইল ফোনের জনক হিসেবে কাকে ধরা হয়?
  1. ভিনটন জি কার্ফ
  2. মার্টিন কুপার
  3. অ্যালান টুরিং
  4. স্টিভ জবস
ব্যাখ্যা

• মোবাইল ফোনের জনক হিসেবে মার্টিন কুপারকে ধরা হয়। তিনি প্রথম ওয়্যারলেস মোবাইল ফোনের দ্বারা কল করেছিলেন এবং এই উদ্ভাবনের মাধ্যমে যোগাযোগ প্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটান। মার্টিন কুপারের নেতৃত্বে মোটরোলা কোম্পানি এই ফোনটি তৈরি করে, যা মানুষকে যে কোনো স্থানে ফোনের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ দেয়। অন্যদের অবদান প্রযুক্তির অন্যান্য ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, মোবাইল ফোনের বাস্তবায়িত এবং বাণিজ্যিক রূপ দেয়ার ক্ষেত্রে মার্টিন কুপারের অবদান সবার উপরে। তাই মোবাইল ফোনের জনক হিসেবে তার নাম সর্বাধিক পরিচিত।

- উত্তর: খ) মার্টিন কুপার।

• মোবাইল ফোন:
- মোবাইল ফোনের জনক মার্টিন কুপার।
- যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম Motorola Dyna TACS (Total Access Communication System) নামে হ্যান্ড মোবাইল সেট চালু করে।
- ১৯৭৯ সালে জাপানের NTTC (Nippon Telegraph and Telephone Corporation) প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অটোমেটেড সেলুলার নেটওয়ার্ক চালু করার মাধ্যমে 1G এর সূচনা করে।
- মোবাইল ফোনের প্রজন্মকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা - প্রথম প্রজন্ম, দ্বিতীয় প্রজন্ম, তৃতীয় প্রজন্ম,
চতুর্থ প্রজন্ম এবং পঞ্চম প্রজন্ম।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- টাচস্ক্রিন প্রযুক্তির জনক ড. স্যামুয়েল হার্স্ট।
- ইন্টারনেটের জনক ভিনটন জি কার্ফ।
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক অ্যালান টুরিং।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২. বিবিসি।

.
ইন্টারনেট আবিষ্কারের পেছনে কোনটির সরাসরি ভূমিকা রয়েছে?
  1. প্রতিরক্ষা
  2. শিক্ষাগত গবেষণা
  3. বাণিজ্যিক যোগাযোগ
  4. মহাকাশ গবেষণা
ব্যাখ্যা

•  ইন্টারনেটের আবিষ্কার মূলত প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত চাহিদার ফলাফল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ (DARPA) ১৯৬০-৭০-এর দশকে এমন একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি করার চেষ্টা করছিল যা পরমাণু হামলার মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও তথ্য হারাবে না এবং সংযোগ বজায় রাখবে। এই লক্ষ্য থেকে ARPANET-এর মতো প্রাথমিক নেটওয়ার্ক তৈরি হয়, যা পরে ইন্টারনেটের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও শিক্ষাগত গবেষণা, বাণিজ্যিক যোগাযোগ এবং মহাকাশ গবেষণার মতো ক্ষেত্রগুলিও ইন্টারনেটের বিকাশকে প্রভাবিত করেছে, সরাসরি ভূমিকা এবং প্রাথমিক উদ্ভাবনের পেছনের মূল চালিকা শক্তি ছিল প্রতিরক্ষা খাত। তাই ইন্টারনেটের আবিষ্কারের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে।

• ইন্টারনেট:
- ইন্টারনেট পৃথিবীর বিস্তৃত একটি বৃহত্তম কম্পিউটার নেটওয়ার্ক।
- ইন্টারনেটের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয় ARPANET (Advanced Research Projects Agency Network) এর মাধ্যমে।
- এটি ছিল একটি গবেষণা প্রকল্প যা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের অধীনস্থ ARPA (পরবর্তীতে DARPA) দ্বারা ১৯৬৯ সালে চালু হয়েছিল।
- ARPANET-ই হল আধুনিক ইন্টারনেটের ভিত্তি।
- ১৯৬৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের একটি গবেষণা প্রকল্পের আওতায় দেশের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরীক্ষামূলক কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সংযুক্ত করে। এ নেটওয়ার্কের নাম আরপানেট।

• প্রতিরক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব:
১. সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজে সিমুলেশান এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি পরিবেশ তৈরি করে ব্যাপকভাবে তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা হয়। 
২. মানুষকেন্দ্রিক যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে আধুনিক যুদ্ধে নেটওয়ার্কভিত্তিক যুদ্ধ পরিচালনা করা হয়। 
৩. স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্বারা দূর থেকে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সরাসরি সম্প্রচার, পর্যবেক্ষণ ও কমান্ডিং করা সম্ভব হয়।
৪. শত্রুবাহিনীকে পর্যুদস্ত করার জন্য তাদের কমান্ড সেন্টারের যোগাযোগ ব্যবস্থা ইলেক্ট্রনিক জ্যামিং করে অচল করে দিতে পারে।
৫. মিসাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত কার্যকর ও নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
৬. অত্যন্ত গোপনে শত্রুপক্ষের শিবিরে আঘাত হানার জন্য ড্রোন ব্যবহার করা যায়।
৭. মিসাইল, রকেট বা ড্রোন আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পালটা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজে তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

.
স্মার্ট ওয়াচ ব্যবহারে কী সুবিধা পাওয়া যায়?
  1. মেসেজিং এবং কলিং ফিচার
  2. রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ
  3. কম্পাসের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তকরন
  4. উপরের সবগুলো
ব্যাখ্যা

• স্মার্ট ওয়াচ ব্যবহারের ফলে ব্যবহারকারীরা অনেক সুবিধা পেতে পারেন। এটি শুধু সময় দেখানোর জন্য নয়, বরং মেসেজিং ও কলিং ফিচারের মাধ্যমে দ্রুত যোগাযোগ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া, অনেক স্মার্ট ওয়াচ রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে পারে, যা স্বাস্থ্য মনিটরিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া, কম্পাস এবং GPS প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারী তার অবস্থান সহজেই শনাক্ত করতে পারেন। এই সব ফিচার একত্রে ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনকে অনেক সহজ, সুস্থ ও নিরাপদ করে তোলে। তাই বলা যায়, স্মার্ট ওয়াচের ব্যবহার উপরের সব সুবিধা একসাথে প্রদান করে।

• স্মার্ট ওয়াচ:
- স্মার্ট ওয়াচ হলো সাধারণ হাত ঘড়ির মত হাতে পরিধান করার উপযোগী এক ধরণের কম্পিউটিং ডিভাইস।
- সময় বলার পাশাপাশি স্মার্ট ওয়াচগুলো ব্লুটুথ ক্ষমতা সম্পন্ন। প্রতিটি স্মার্ট ওয়াচ ব্লুটুথ অ্যাডাপ্টার হিসেবে কাজ করে এবং যা পরিধানকারীর স্মার্টফোনের ক্ষমতা তাঁর ঘড়িতে প্রসারিত করতে সক্ষম।
- ব্যবহারকারী স্মার্ট ওয়াচ ব্যবহার করে ফোনের কল রিসিভ করতে পারে এবং কল দিতেও পারে। তাছাড়াও, ইমেইল পড়তে, আবহাওয়ার প্রতিবেদন পেতে, সঙ্গীত শুনতে, ডিজিটাল এসিস্ট্যান্টকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে ঘড়ির ইন্টারফেস ব্যবহার করতে পারেন।
- স্মার্ট ওয়াচগুলি ১৯৭০ এর দশকের গোড়ার দিকে আবিষ্কৃত হতে থাকে।
- 'হ্যামিল্টন পালসার' ছিল প্রথম ডিজিটাল ঘড়িগুলির মধ্যে একটি, যা ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।

• স্মার্ট ওয়াচের ব্যবহার:
- বিভিন্ন স্বাস্থ্য তথ্য যেমন হৃদস্পন্দন, রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা, রক্তচাপ এবং তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
- ডিজিটাল ওয়ালেট অ্যাপ্লিকেশন সুবিধা প্রদান করেন।
- স্মার্টফোনের মতোই মেসেজিং এবং কলিং ফিচার।
- ব্যবহারকারী কোন বিপদে পড়লে জরুরি বার্তা প্রদান করতে পারে।
- মানচিত্র, কম্পাস, altimeter এবং জিপিএস ট্র্যাকিং এর সুবিধা প্রদান করার মাধ্যমে অবস্থান শনাক্তকরনে ব্যবহৃত হয়।

উৎস: IEEE.

.
LinkedIn প্ল্যাটফর্মটির প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. রিড হফম্যান
  2. বিল গেটস
  3. জেফ বেজোস
  4. মার্ক জুকারবার্গ
ব্যাখ্যা

• LinkedIn একটি পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম যা মূলত পেশাজীবীদের যোগাযোগ ও চাকরির সুযোগ সৃষ্টির জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি রিড হফম্যান এবং তার সহপ্রতিষ্ঠিত দল দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। LinkedIn ব্যবহারকারীদের প্রফেশনাল প্রোফাইল তৈরি, সংযোগ বৃদ্ধি, চাকরির বিজ্ঞাপন অনুসন্ধান এবং শিল্প সংক্রান্ত তথ্য শেয়ার করার সুযোগ দেয়। এটি ব্যবসায়িক যোগাযোগ এবং নেটওয়ার্কিংকে ডিজিটাল মাধ্যমে সহজতর করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে LinkedIn বিভিন্ন ফিচার যোগ করেছে, যেমন অনলাইন লার্নিং, কোম্পানি পেজ এবং জব পোস্টিং, যা পেশাজীবীদের জন্য প্ল্যাটফর্মটিকে আরও কার্যকর করে তুলেছে। সুতরাং LinkedIn-এর প্রতিষ্ঠাতা হলো রিড হফম্যান।

- সঠিক উত্তর: ক) রিড হফম্যান।

• LinkedIn:
- এটি বিজনেস অরিয়েন্টেড বা পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ওয়েব সাইট।
- সামাজিক যোগাযোগের এই সাইটি পেশাজীবিরা নিজেদের দক্ষতা এবং যোগ্যতা দেখানোর জন্য ব্যবহার করে।
- রিড হফম্যান (Reid Hoffman) লিংডইনের প্রধান প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচিত, যিনি তার সহ-প্রতিষ্ঠাতা অ্যালেন ব্লু, কনস্টান্টিন গুয়েরিকে, এরিক লি, এবং জিন-লুক ভ্যালিয়ান্টের সাথে এই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন।
- এটি ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং ২০০৩ সালে চালু করা হয়।
- প্রতিষ্ঠাতা - Reid Hoffman, Eric Ly.
- সদর দপ্তর - Sunnyvale, California.
- সিইও - Ryan Roslansky.
- ২০০৫ সালে কোম্পানিগুলোকে চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সুযোগ দেয়।

অন্যান্য অপশনসমূহ:
মার্ক জুকারবার্গ: ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা,
বিল গেটস: মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা,
জেফ বেজোস: অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা।

উৎস: LinkedIn অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

.
মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল বায়োমেট্রিক পদ্ধতি কোনটি?
  1. ফেইস রিকোগনিশন
  2. সিগনেচার ভেরিফিকেশন
  3. টাইপিং কীস্ট্রোক
  4. ভয়েস রিকোগনিশন
ব্যাখ্যা

• মানুষের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল বায়োমেট্রিক পদ্ধতি হলো ফেইস রিকোগনিশন। এটি মানুষের মুখের আকার, চোখ, নাক, ঠোঁট এবং মুখের অন্যান্য ভৌত বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে পরিচয় নির্ধারণ করে। ফেইস রিকোগনিশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ফোন আনলক করা, ব্যাংক লেনদেন যাচাই ইত্যাদি কাজ করা সম্ভব। অন্যদিকে সিগনেচার ভেরিফিকেশন, টাইপিং কীস্ট্রোক এবং ভয়েস রিকোগনিশন মূলত মানুষের আচরণ বা ক্রিয়াকলাপের ওপর নির্ভরশীল, যা শারীরিক বৈশিষ্ট্য নয়। তাই শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কাজ করা একমাত্র পদ্ধতি ফেইস রিকোগনিশন।

- উত্তর: ক) ফেইস রিকোগনিশন।

• বায়োমেট্রিক্স (Biometrics):
- মানুষের দৈহিক গঠন বা আচরণগত বৈশিষ্ট্য পরিমাপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তিকে অদ্বিতীয়ভাবে শনাক্ত করার জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তিকে বায়োমেট্রিক্স বলে।

• বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতায় বায়োমেট্রিক্সের প্রকারভেদ দুই ধরনের। যথা-

১। শারীরবৃত্তীয় বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি:
- আঙ্গুলের ছাপ শনাক্তকরণ (ফিঙ্গার প্রিন্ট),
- হাতের রেখা শনাক্তকরণ (হ্যান্ড জিওমিট্রি), 
- আইরিশ এবং রেটিনা শনাক্তকরণ, 
- মুখমন্ডলের অবয়ব শনাক্তকরণ (ফেইস রিকোগনিশন), 
- ডিএনএ পর্যবেক্ষণ।

২। আচরণগত বায়োমেট্রিক্স পদ্ধতি:
- কিবোর্ড টাইপিং গতি যাচাইকরণ,
- হাতে করা স্বাক্ষর যাচাইকরণ (সিগনেচার ভেরিফিকেশন),
- কণ্ঠস্বর যাচাইকরণ (ভয়েস রিকোগনিশন)।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

.
FORTRAN প্রোগ্রামিং ভাষায় TRAN-এর সম্পূর্ণ রূপ কী?
  1. Transaction
  2. Transition
  3. Translation
  4. Transfer
ব্যাখ্যা

• FORTRAN প্রোগ্রামিং ভাষায় TRAN-এর পূর্ণরূপ হলো “Translation”। FORTRAN (Formula Translation) মূলত একটি উচ্চ-স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা যা বৈজ্ঞানিক ও সংখ্যাত্মক গণনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এখানে TRAN অংশটি নির্দেশ করে যে, প্রোগ্রামারের লেখা সূত্র বা কোডকে মেশিন-রিডেবল ভাষায় “অনুবাদ” (Translation) করা হয়, যাতে কম্পিউটার এটি কার্যকরভাবে চালাতে পারে। অর্থাৎ, FORTRAN-এর কোড সরাসরি কম্পিউটার বোঝে না, বরং TRAN প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে রূপান্তরিত হয়। 

• ফোরট্রান (FORTRAN):
- FORTRAN এর পূর্ণরূপ Formula Translation.
- FORTRAN হলো বিশ্বের প্রথম সফল কম্পিউটার প্রোগ্রামিং ভাষা।
- ফোরট্রান আদিতম উচ্চস্তরের নির্দেশমূলক প্রোগ্রামিং ভাষা।

- জন বাকাস ও তাঁর সহযোগীরা আইবিএম-এ কর্মরত থাকা অবস্থায় ১৯৫০-এর দশকের মাঝামাঝি এটি তৈরি করেন।
- ফোরট্রানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্করণগুলো হচ্ছে:
- ফোরট্রান I,
- ফোরট্রান II,
- ফোরট্রান iv,
- ফোরট্রান ৭৭, এবং
- ফোরট্রান ৯০।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
রোবটিক্সের জনক হিসেবে পরিচিত কে?
  1. জোসেফ এঙ্গেলবার্গার
  2. নিকোলা টেসলা
  3. নরবার্ট উইনার
  4. অ্যালান টুরিং
ব্যাখ্যা

• রোবটিক্সের জনক হিসেবে জোসেফ এঙ্গেলবার্গারকে ধরা হয়। তিনি একজন প্রখ্যাত মার্কিন ইঞ্জিনিয়ার ও উদ্ভাবক, যিনি আধুনিক শিল্প রোবটের প্রবর্তক। ১৯৫০-এর দশকে তিনি প্রথম শিল্প রোবট “ইউনিম্যাট” উদ্ভাবন করেন, যা প্রধানত কারখানায় উৎপাদন কাজের জন্য ব্যবহৃত হতো। তার কাজ রোবটিক্সকে শিল্প ও বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এঙ্গেলবার্গারের উদ্ভাবন এবং গবেষণা রোবট প্রযুক্তির উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। তিনি রোবটিক্সকে এক আধুনিক বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং আজও তার নামকে রোবটিক্সের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে যুক্ত করা হয়। তাই সঠিক উত্তর হলো ক) জোসেফ এঙ্গেলবার্গার।

• রোবটিক্স:
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, ডিজাইন, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- রোবটিক্স (Robotics) শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে স্লাভিক শব্দ robota (রোবটা) থেকে যার ইংরেজি হলো robot (রোবট)।
- রোবট এর আভিধানিক অর্থ হল শ্রমিক, দাস বা কর্মী।
- চেক লেখক ক্যারেল ক্যাপেক ১৯২১ সালে Rossurovi Univerzilni Roboti নামে একটি সাইন্স ফিকশন গল্প লিখেন যাতে তিনি শ্রমিক বা কর্মী অর্থে সর্বপ্রথম 'robota' শব্দের ব্যবহার করেন।
- ১৯৫০ সালে আমেরিকান প্রকৌশলী, গণিতবিদ ও উদ্যোক্তা যোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গার এবং জর্জ চার্লস ডেভল মিলে সর্বপ্রথম ইউনিমেট (Unimate) নামে শিল্পে ব্যবহার উপযোগী রোবট উদ্ভাবন করেন।
- যোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গারকে রোবটিক্সের জনক বলা হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

১০.
Google Workspace মূলত কোন ধরণের ক্লাউড পরিষেবার অংশ?
  1. CaaS
  2. IaaS
  3. SaaS
  4. PaaS
ব্যাখ্যা

• Google Workspace মূলত SaaS (Software as a Service) এর অংশ। এটি ব্যবহারকারীদের ওয়েব-ভিত্তিক সফটওয়্যার সরবরাহ করে, যা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অ্যাক্সেস করা যায়। ব্যবহারকারীদের নিজস্ব সার্ভার বা হার্ডওয়্যার পরিচালনার প্রয়োজন নেই; তারা সরাসরি Google-এর সার্ভারে হোস্ট করা অ্যাপ্লিকেশন যেমন Gmail, Google Docs, Google Sheets এবং Google Drive ব্যবহার করতে পারে। SaaS মডেলে সফটওয়্যার এবং তার আপডেটগুলি ক্লাউডে সংরক্ষিত থাকে, ফলে ব্যবহারকারীরা সহজে যেকোনো ডিভাইস থেকে কাজ চালিয়ে যেতে পারে। এটি প্রতিষ্ঠানগুলিকে আইটি অবকাঠামো পরিচালনার ঝামেলা ছাড়া উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই Google Workspace স্পষ্টভাবে SaaS এর উদাহরণ।

• ক্লাউড কম্পিউটিং:
- ক্লাউড কম্পিউটিং হচ্ছে কম্পিউটার রিসোর্স যেমন, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার, নেটওয়ার্ক ডিভাইস প্রভৃতি ব্যবহার করে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কোনো সার্ভিস বা সেবা প্রদান করা।
- ২০০৬ সালে বিশ্ব বিখ্যাত আমাজন ওয়েব সার্ভিস বাণিজ্যিকভাবে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ব্যবহার শুরু করে।
- সেবার ধরন অনুসারে ক্লাউড কম্পিউটিং কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১. Infrastructure-as-a Service (IaaS):
- ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নেটওয়ার্ক, সিপিইউ, স্টোরেজ ও অন্যান্য মৌলিক কম্পিউটিং সিস্টেম ভাড়া দেয়।
- উদাহরণ: অ্যামাজন ইলাস্টিক কম্পিউট ক্লাউড (EC2)।

২. Platform-as-a- Service (PaaS):
- এই পদ্ধতিতে সরাসরি ভার্চুয়াল মেশিন ভাড়া না দিয়ে ভাড়া দেওয়া হয় প্ল্যাটফর্ম, যার উপর অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারেন ইউজাররা।
- উদাহরণ: গুগলের অ্যাপ ইঞ্জিন।

৩. Software-as-a Service (SaaS):
- সফটওয়্যার এজ এ সার্ভিস হলো ক্লাউডভিত্তিক এমন একটা সেবা যেখানে ইউজাররা ক্লাউডের উপরে চলছে এমন রেডিমেট সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারে।
- উদাহরণ: Google Workspace.

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান। 
২. মাইক্রোসফটের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট।

১১.
কোন প্রক্রিয়াটি প্রোগ্রামের সব অংশ একবারে পরীক্ষা করে মেশিন কোডে রূপান্তর করে?
  1. Compiler
  2. Converter
  3. Interpreter
  4. Assembler
ব্যাখ্যা

• প্রক্রিয়াটি যা প্রোগ্রামের সব অংশ একবারে পরীক্ষা করে মেশিন কোডে রূপান্তর করে তা হলো Compiler. Compiler একটি সম্পূর্ণ প্রোগ্রামকে ইনপুট হিসেবে নিয়ে পুরো সোর্স কোডকে একবারে বিশ্লেষণ করে এবং যেকোনো সিনট্যাক্স বা লজিক্যাল ভুল চিহ্নিত করে। এরপর এটি সোর্স কোডকে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে রূপান্তর করে, যা সরাসরি কম্পিউটার দ্বারা কার্যকর করা যায়। অন্যদিকে, Interpreter কোডটি এক লাইন করে পড়ে এবং সেই লাইন অনুযায়ী তৎক্ষণাৎ চালায়, Compiler-এর মতো একবারে সব কোড রূপান্তর করে না। Converter সাধারণত ফাইল বা ফরম্যাট পরিবর্তনের জন্য ব্যবহৃত হয়, আর Assembler অ্যাসেম্বলি ল্যাঙ্গুয়েজকে মেশিন কোডে রূপান্তর করে। তাই প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো ক) Compiler.

• অনুবাদক প্রোগ্রাম (Translator Program):
- বর্তমানে হাজার খানেক প্রোগ্রামিং ভাষা প্রচলিত, যদিও সব ভাষা সমানভাবে জনপ্রিয় নয়।
- কম্পিউটারের প্রসেসর কেবল বাইনারি ভাষা অর্থাৎ 0 ও 1-এর সংকেত বুঝে।
- তাই বিভিন্ন ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে মেশিন কোডে রূপান্তর করতে হয়।
- এই কাজটি করার জন্য বিশেষ প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়, যাকে বলে অনুবাদক প্রোগ্রাম।

• নিচে তিন ধরনের অনুবাদকের বর্ণনা দেওয়া হলো:
১। অ্যাসেম্বলার (Assembler): 
- অ্যাসেম্বলি ভাষায় লেখা প্রোগ্রামকে মেশিন কোডে অনুবাদ করে অ্যাসেম্বলার নামক একটি প্রোগ্রাম।
- উচ্চ স্তরের যেসব প্রোগ্রামিং ভাষা সেগুলোকে মেশিন কোডে অনুবাদ করার কাজটি করার জন্য দু ধরনের প্রোগ্রাম রয়েছে- কম্পাইলার (Compiler) ও ইন্টারপ্রেটার (Interpreter)।
- প্রতিটি উচ্চ স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষারই পৃথক কম্পাইলার অথবা ইন্টারপ্রেটার রয়েছে।
- এই দুই ধরনের অনুবাদক প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য এক হলেও কাজের ধরনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

২। কম্পাইলার (Compiler):
- কম্পাইলার প্রথমে পুরো প্রোগ্রামটি পরীক্ষা করে দেখে যে ভাষার গঠনগত নিয়ম (Syntax) ঠিক আছে কি না। যদি ঠিক থাকে, তখন সে পুরো প্রোগ্রামটি কম্পাইল করে মেশিন কোডে রূপান্তর করে।
- যেহেতু পুরো প্রোগ্রামটি একবারে কম্পাইল করা হয় তাই প্রোগ্রামে কোনো ভুল থাকলে সব একসাথে দেখানো হয়। সে কারণে ভুলগুলো শুদ্ধ করা একটু জটিল।
- তবে কম্পাইল করার পর এই প্রোগ্রামগুলো অনেক দ্রুতগতিতে কাজ করে।

৩। ইন্টারপ্রেটার (Interpreter):
- ইন্টারপ্রেটার পুরো প্রোগ্রাম পরীক্ষা না করে প্রোগ্রামের প্রতিটি স্টেটমেন্ট (statement বা নির্দেশ) মেশিন কোডে রূপান্তর করে সেটিকে এক্সিকিউট করে।
- অর্থাৎ, কোনো প্রোগ্রামে যদি দশটি স্টেটমেন্ট থাকে, তাহলে প্রথম স্টেটমেন্ট আগে মেশিন কোডে রূপান্তর হয়ে চলবে, তারপর দ্বিতীয় স্টেটমেন্ট, তারপর তৃতীয় স্টেটমেন্ট, একে একে সব স্টেটমেন্ট এক্সিকিউট হবে। এ কারণে ভুল শুদ্ধ করা অনেক সহজ।
- কিন্তু একটি একটি করে স্টেটমেন্ট মেশিন কোডে রূপান্তর হয় বলে সময় তুলনামূলকভাবে বেশি লাগে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
CSS-এর পূর্ণ আকার কী?
  1. Computed Style Sheets
  2. Compound Style Sheets
  3. Cascading Style Sheets
  4. Collaborative Style Sheets
ব্যাখ্যা

• CSS-এর পূর্ণ আকার হলো Cascading Style Sheets. CSS হলো ওয়েব পেজের লেআউট, রঙ, ফন্ট, মার্জিন, প্যাডিং এবং অন্যান্য ভিজ্যুয়াল উপাদান নিয়ন্ত্রণ করার একটি ভাষা। এটি HTML-এর সঙ্গে ব্যবহার করা হয় যাতে পেজের কনটেন্টের প্রদর্শন আরও সুন্দর ও প্রফেশনাল দেখাতে সাহায্য করে। “Cascading” শব্দটি নির্দেশ করে যে, একাধিক CSS নিয়ম যদি একই উপাদানের উপর প্রযোজ্য হয়, তাহলে কোন নিয়মটি শেষ হবে তা নির্ধারণ করার একটি নির্দিষ্ট ক্রম আছে। CSS ব্যবহার করে ডিজাইনাররা ওয়েব পেজকে রেসপন্সিভ, আকর্ষণীয় এবং ব্যবহারকারীর জন্য সুবিধাজনক করতে পারে। তাই CSS ওয়েব ডিজাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

- সঠিক উত্তর: গ) Cascading Style Sheets.

CSS:
- CSS এর পূর্ণরূপ হলো Cascading Style Sheets.
- CSS, HTML এর ডকুমেন্টের স্টাইল বর্ণনা করে।
- কীভাবে HTML উপাদানগুলি স্ক্রিন, বা অন্য মিডিয়ায় প্রদর্শিত হবে তা CSS দ্বারা নির্ধারণ করা যায়।

HTML:
- HTMLএর পূর্ণরূপ হচ্ছে Hypertext Markup Language.
- HTML ওয়েবসাইট এবং ওয়েবপেজ তৈরি করার জন্য ব্যবহার হয়।
- এর মাধ্যমে আমরা টেক্সট, ইমেজ, ভিডিও, অডিও ইত্যাদি কনটেন্ট সুন্দরভাবে বিন্যাস করতে পারি।

সূত্র: ব্রিটানিকা।

১৩.
ইন্সটাগ্রামের প্যারেন্ট ফার্মের নাম কী?
  1. Meta Platforms Inc.
  2. Microsoft Corporation
  3. Amazon.com Inc.
  4. Alphabet Inc.
ব্যাখ্যা

• ইন্সটাগ্রামের প্যারেন্ট ফার্মের নাম Meta Platforms Inc.। ইন্সটাগ্রাম ২০১০ সালে Kevin Systrom এবং Mike Krieger দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে, ২০১২ সালে ফেসবুক ইন্সটাগ্রামকে ক্রয় করে। ২০২১ সালে ফেসবুক নিজেকে Meta Platforms Inc. হিসেবে পুনঃনামকরণ করে, যা সোশ্যাল মিডিয়া, ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বড় হোল্ডিং কোম্পানি হিসেবে পরিচিত। মাইক্রোসফট, অ্যামাজন বা আলফাবেট ইন্সটাগ্রামের মালিক নয়; তারা আলাদা প্রযুক্তি ও ই-কমার্স সংস্থা। তাই ইন্সটাগ্রামের আনুষ্ঠানিক প্যারেন্ট কোম্পানি হলো Meta Platforms Inc., যা ফেসবুকের অন্তর্ভুক্ত এবং সামাজিক যোগাযোগের বিশ্বের অন্যতম প্রধান সংস্থা।

সঠিক উত্তর: ক) Meta Platforms Inc.

• ইন্সটাগ্রাম:
- ইন্সটাগ্রাম একটি জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম।
- ফটো এবং ভিডিও শেয়ারিং, সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম।
- ২০১০ সালে কেভিন সিস্ট্রম ও মাইক ক্রিয়েগার ইন্সটাগ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন।
- ২০১২ সালে ফেসবুক এটি ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দিয়ে কিনে নেয়।
- ফেসবুক ইনকর্পোরেটেড ২০২১ সালে কোম্পানির নাম পরিবর্তন করে Meta Platforms Inc. করে।

• Meta Platforms Inc. :
- Meta বর্তমানে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও থ্রেডসের প্যারেন্ট কোম্পানি।
- মেটা ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত হয়।
- ২০২১ সালে মেটাভার্স প্রযুক্তিতে ফোকাস করার লক্ষ্যে “Meta” নামে রিব্র্যান্ড করা হয়।
- মেটার সদর দপ্তর: মেনলো পার্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।

উৎস:
১। ইন্সটাগ্রামের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (instagram.com)।
২। Meta Platforms, Inc.-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (meta.com)।

১৪.
গুইডো ভ্যান রোসাম কোন প্রোগ্রামিং ভাষার জনক হিসেবে খ্যাত?
  1. Swift
  2.  JavaScript
  3. PHP
  4. Python
ব্যাখ্যা

• গুইডো ভ্যান রোসাম হলেন প্রখ্যাত প্রোগ্রামার, যিনি Python প্রোগ্রামিং ভাষার জনক হিসেবে খ্যাত। Python ১৯৮৯ সালে তৈরি করা হয়েছিল সহজ, পরিষ্কার এবং পড়তে সুবিধাজনক কোড লেখার উদ্দেশ্যে। এই ভাষা শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে পেশাদার প্রোগ্রামার পর্যন্ত সবাই ব্যবহার করতে পারে। Python-এর সিনট্যাক্স সহজ এবং কোডের কাঠামো পাঠযোগ্য হওয়ায় এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এছাড়া, Python বৈজ্ঞানিক গণনা, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা সায়েন্স এবং অটোমেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। গুইডো ভ্যান রোসামের এই অবদান কম্পিউটার বিজ্ঞানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

- উত্তর: ঘ) Python.

• পাইথন (Python):
- পাইথন হচ্ছে প্রোগ্রামিং ভাষাসমূহের অন্যতম হাই-লেভেল অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড ভাষা।
- ডাইনামিক ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনসহ অনেক সফটওয়্যার বানাতে এটি ব্যবহার করা হয়।
- ১৯৮৯ সালে নেদারল্যান্ডের বিজ্ঞানী গুইডো ভ্যান রোসাম (Guido van Rossum) এ ভাষাটি রচনা করেন।
- পাইথনের কোর সিনট্যাক্স খুবই সংক্ষিপ্ত, তবে ভাষাটির স্ট্যান্ডার্ড লাইব্রেরি অনেক সমৃদ্ধ।
- অন্যান্য ল্যাঙ্গুয়েজের যতরকম ফিচার বা নতুন নতুন সাপোর্ট আসে, সবই পাইথনে খুব সহজে ব্যবহার করা যায়।

- সাধারণত দ্রুত সফটওয়‍্যার নির্মাণের জন্য পাইথন ব্যবহৃত হয়।
- যে সমস্ত বড় প্রতিষ্ঠান পাইথন ব্যবহার করে, তাদের মধ্যে গুগল ও নাসা উল্লেখযোগ্য।
- ২০১৮ সালে এটি IEEE কর্তৃক সর্বশ্রেষ্ঠ প্রোগ্রামিং ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
- এটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে চলে এবং ক্লাউডভিত্তিক ওয়েব এ্যাপ্লিকেশন, ডেটা অ্যানালাইসিস ও মেশিন লার্নিং অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে ব্যবহার করা হয়।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি (মাহবুবুর রহমান)।

১৫.
প্রথম তৈরি হওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নামটি কী?
  1. Sophia
  2. Atlas
  3. Roomba
  4. Unimate
ব্যাখ্যা

• প্রথম তৈরি হওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম Unimate. এটি জর্জ ডেভল এবং জোয়েল ব্রেন্ডস্টাইন দ্বারা তৈরি করা হয়। Unimate মূলত গাড়ি শিল্পে ব্যবহৃত হয়েছিল, বিশেষ করে জেনারেল মোটরসের ফ্যাক্টরিতে ধাতু গরম করা এবং ভারী বস্তু সরানোর কাজে। এটি মানুষের কাজের বোঝা কমানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছিল, কারণ সেই সময়ের শ্রমিকদের জন্য এই ধরনের কাজ বিপজ্জনক এবং কঠিন ছিল। Unimate ছিল এক ধরনের প্রোগ্রামেবল রোবট আর্ম, যা নির্দিষ্ট কমান্ড অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারত। এই রোবট ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশনের ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল।

- উত্তর: ঘ) Unimate.

• রোবটিক্স:
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, ডিজাইন, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয় সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- চেক লেখক ক্যারেল ক্যাপেক ১৯২১ সালে Rossurovi Univerzilni Roboti নামে একটি সাইন্স ফিকশন গল্প লিখেন যাতে তিনি শ্রমিক বা কর্মী অর্থে সর্বপ্রথম 'robota' শব্দের ব্যবহার করেন।
- যোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গারকে রোবটিক্সের জনক বলা হয়।

• Unimate রোবট:
- ১৯৫০ সালে আমেরিকান প্রকৌশলী, গণিতবিদ ও উদ্যোক্তা যোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গার এবং জর্জ চার্লস ডেভল  মিলে সর্বপ্রথম ইউনিমেট (Unimate) নামে শিল্পে ব্যবহার উপযোগী রোবট উদ্ভাবন করেন।
- এটি ১৯৬১ সালে জেনারেল মোটরসের নিউ জার্সির কারখানায় প্রথম ব্যবহৃত হয়, যেখানে এটি গাড়ি উৎপাদনে গরম ধাতু ঢালাই ও সমাবেশের কাজে ব্যবহৃত হয়।
- Unimation Inc. নামে একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয় রোবটটি উৎপাদনের জন্য।

উৎস:
১। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২। ব্রিটানিকা।

১৬.
স্মার্টফোন ডিজাইন করার ক্ষেত্রে প্রথম উদ্যোগ কোন প্রতিষ্ঠানের?
  1. BlackBerry
  2. Nokia
  3. IBM
  4. Samsung
ব্যাখ্যা

• স্মার্টফোন ডিজাইন করার ক্ষেত্রে প্রথম উদ্যোগ নেওয়া প্রতিষ্ঠান হলো IBM. IBM তাদের Simon Personal Communicator (SPC) নামে একটি ডিভাইস বাজারে আনে, যা আধুনিক স্মার্টফোনের প্রাথমিক রূপ হিসেবে বিবেচিত। এটি শুধু কল করার জন্য নয়, ইমেইল, ক্যালেন্ডার, ক্যালকুলেটর, টাচস্ক্রিন এবং নোট নেওয়ার সুবিধা প্রদান করত। যদিও পরবর্তীতে BlackBerry এবং Nokia স্মার্টফোনকে জনপ্রিয়তা এনে দেয়, IBM ছিল প্রথম যে কার্যকরভাবে মোবাইল কমিউনিকেশন এবং কম্পিউটিংকে একত্রিত করে। তাই স্মার্টফোনের উদ্ভাবনী যাত্রার সূচনা IBM-এর Simon ডিভাইসের মাধ্যমে হয়।

- সঠিক উত্তর: গ) IBM.

• স্মার্টফোন:
- স্মার্টফোন হলো একটি বিশেষ ধরনের মোবাইল ফোন যা মোবাইল কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে তৈরি।
- সর্বপ্রথম স্মার্টফোন ডিজাইন করে IBM প্রতিষ্ঠান।
- ১৯৯৩ সালে বেলসাউথ প্রতিষ্ঠান স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে আসে।
- এই স্মার্টফোনে ক্যালেন্ডার, ঠিকানা বই, ক্যালকুলেটর এবং অন্যান্য ফাংশন অ্যাক্সেস করার জন্য একটি টাচস্ক্রিন ইন্টারফেস অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
- স্মার্টফোন ডেটা রূপান্তরের জন্য প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- এটি উচ্চ গতিসম্পন্ন ডেটা স্থানান্তর নিশ্চিত করে।
- ব্ল্যাকবেরি স্মার্টফোনের প্রথম নির্মাতা হচ্ছে - BlackBerry Limited এবং Research In Motion.

• স্মার্টফোনের বৈশিষ্ট্য:
- ডেটা রূপান্তরের জন্য প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- ডাটা স্থানান্তর উচ্চ গতিসম্পন্ন।
- মডেম সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়।
- মেমোরি বেশি থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৭.
হাইপারলিঙ্ক যুক্ত করার জন্য HTML-এ কোন ট্যাগ ব্যবহার হয়?
  1. < a >
  2. < link >
  3. < href >
  4. < hyperlink >
ব্যাখ্যা

•  HTML-এ হাইপারলিঙ্ক বা ওয়েবপেজে অন্য পেজে যাওয়ার লিঙ্ক যুক্ত করার জন্য <a> ট্যাগ ব্যবহার করা হয়। এই ট্যাগকে “অ্যাঙ্কর ট্যাগ” বলা হয়। <a> ট্যাগের মধ্যে href অ্যাট্রিবিউট ব্যবহার করে লিঙ্কের ঠিকানা নির্ধারণ করা হয়। উদাহরণস্বরূপ, <a href="https://www.example.com">Example</a> লিখলে ব্যবহারকারী “Example” শব্দে ক্লিক করলে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে চলে যাবে। অন্য বিকল্পগুলো যেমন <link> সাধারণত স্টাইলশীট বা রিসোর্স সংযুক্ত করার জন্য, <href> বা <hyperlink> HTML-এ বৈধ ট্যাগ নয়। তাই, হাইপারলিঙ্ক তৈরি করার জন্য সঠিক এবং একমাত্র প্রয়োজনীয় ট্যাগ হলো <a>। এটি ওয়েব ডেভেলপমেন্টের মৌলিক এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

• এইচটিএমএল (HTML):
- HTML-এর পূর্ণরূপ হলো HyperText Markup Language। এটি World Wide Web-এ তথ্য উপস্থাপন ও ফরমেট করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- HTML ফাইল সাধারণভাবে ওয়েব পেইজ (Web Page) নামে পরিচিত।
- জেনেভায় অবস্থিত CERN এ কাজ করার সময় টিম বার্নার্স-লি (Tim Berners-Lee) ১৯৯০ সালে সর্বপ্রথম HTML আবিষ্কার করেন।
- উল্লেখ্য যে, HTML ফাইলের এক্সটেনশন হলো ".html বা.htm" ।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

১৮.
গুগলের প্রধান কার্যালয় কোথায় অবস্থিত?
  1. ম্যানলো পার্ক, ক্যালিফোর্নিয়া
  2. সান ব্রুনো, ক্যালিফোর্নিয়া
  3. মাউন্টেইন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়া
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• গুগলের প্রধান কার্যালয় হলো মাউন্টেইন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়া। এটি "গুগলপ্লেক্স" নামে পরিচিত, যা একটি বিশাল ও আধুনিক ক্যাম্পাস। এখানে শুধুমাত্র অফিসের স্থান নয়, বরং কর্মীদের জন্য রেস্টুরেন্ট, খেলাধুলার সুবিধা, খোলা সবুজ এলাকা এবং উদ্ভাবন কেন্দ্রও রয়েছে। গুগলপ্লেক্সের নকশা এবং অবকাঠামো কর্মীদের সৃজনশীলতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। মাউন্টেইন ভিউ ক্যালিফোর্নিয়ার সিলিকন ভ্যালিতে অবস্থিত, যা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশ্বখ্যাত কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। গুগলের মূল কার্যক্রম, গবেষণা ও উন্নয়ন এখান থেকেই পরিচালিত হয়, যা কোম্পানিকে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অগ্রণী অবস্থানে রাখে। তাই সঠিক উত্তর হলো: গ) মাউন্টেইন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়া।

• গুগল (Google):
- ল্যারি পেইজ এবং সার্জে ব্রেইন ১৯৯৮ সালে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন।
- গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন সুন্দর পিচাই।
- গুগল শব্দটির উৎপত্তি ‘গুগোল’ (googol) থেকে- যা একটি বিশেষ সংখ্যার নাম।
- গুগল ও আলফাবেটের কর্পোরেট হেডকোয়ার্টার কমপ্লেক্সের নাম হচ্ছে গুগলপ্লেক্স।
- গুগলপ্লেক্স মাউন্টেইন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
- গুগলের পূর্ব নাম হল ব্যাকরাব।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- ইউটিউব এর সদর দপ্তর সান ব্রুনো, ক্যালিফোর্নিয়া।
- ফেসবুকের সদর দপ্তর - ম্যানলো পার্ক, ক্যালিফোর্নিয়া।

উৎস:
১. গুগলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২. ব্রিটানিকা।

১৯.
নিম্নলিখিত কোনটি ক্লাউড কম্পিউটিং-এর সার্ভিস মডেল নয়?
  1. DaaS (Database as a Service)
  2. PaaS (Platform as a Service)
  3. SaaS (Software as a Service)
  4. IaaS (Infrastructure as a Service)
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - ঘ) IaaS (Infrastructure as a Service).
 
ক্লাউড কম্পিউটিং সাধারণত বিভিন্ন সার্ভিস মডেলের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো IaaS (Infrastructure as a Service), PaaS (Platform as a Service), এবং SaaS (Software as a Service)। IaaS ব্যবহারকারীদের ভার্চুয়ালাইজড কম্পিউটিং রিসোর্স যেমন সার্ভার, স্টোরেজ ও নেটওয়ার্ক সুবিধা প্রদান করে। PaaS ডেভেলপারদের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি ও চালানোর জন্য প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে, যেখানে হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যারের ম্যানেজমেন্ট প্রয়োজন হয় না। SaaS হলো সম্পূর্ণ সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন অনলাইনে ব্যবহার করার সুবিধা। তবে DaaS (Database as a Service) মূল তিনটি সার্ভিস মডেলের অংশ নয়; এটি একটি বিশেষায়িত ডাটাবেস-ভিত্তিক সেবা, যা ক্লাউড কম্পিউটিং-এর মূল ধারার মধ্যে গণ্য করা হয় না। তাই, সঠিক উত্তর হলো ক) DaaS.

• ক্লাউড কম্পিউটিং:
- ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে দূরবর্তী সার্ভার থেকে ডাটা, সফটওয়্যার এবং বিভিন্ন কম্পিউটিং রিসোর্স ব্যবহার করার প্রযুক্তি।
- ক্লাউড কম্পিউটিং এর মূল বিষয়টি হলো নিজের ব্যবহৃত কম্পিউটারের হার্ডড্রাইভের পরিবর্তে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট হতে সার্ভিস বা হার্ডওয়‍্যার ভাড়া নেওয়া।

• ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভিসদাতা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের সার্ভিস প্রদান করে থাকে। এ সব সার্ভিস মডেলকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

১। অবকাঠামোগত সেবা (IaaS: Infrastructure as a service):
- এই মডেলে অবকাঠামো ভাড়া দেওয়া হয়। অ্যামাজন-এর ইলাস্টিক কম্পিউটিং ক্লাউড (EC2) এরকম একটি মডেল। EC2-এর প্রতিটি সার্ভারে 1 থেকে 4 টি ভার্চুয়াল মেশিনে চলে, ক্রেতারা এগুলোই ভাড়া নিয়ে থাকেন। ব্যবহারকারীরা ভার্চুয়াল মেশিনে নিজেদের ইচ্ছেমতো অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করে নিজের নিয়ন্ত্রণে অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার চালাতে
পারেন।

২। প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সেবা (PaaS: Platform as a service):
- এই মডেলে ভার্চুয়াল মেশিন ভাড়া না দিয়ে ভাড়া দেওয়া হয় কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত অপারেটিং সিস্টেম, প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এক্সিকিউশন পরিবেশ, ডেটাবেজ এবং ওয়েব সার্ভার ইত্যাদি। এই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারী স্বল্প ব্যয়ে তার অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার উন্নয়ন করতে পারেন। Google -এর App Engine এই মডেলের উদাহরণ।

৩। সফটওয়্যারভিত্তিক সেবা (SaaS: Software as a service):
- এই মডেলে ব্যবহারকারীরা সার্ভিসদাতা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা সফটওয়‍্যার ও ডেটাবেজে অ্যাকসেস এবং ব্যবহারে সুযোগ পায়। এর ফলে ব্যবহারকারীকে সিপিইউ বা স্টোরেজের অবস্থান, কনফিগারেশন ইত্যাদি জানা বা রক্ষণাবেক্ষণ করার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ (আলিম শ্রেণি)।

২০.
Google-এর ভিডিও মিটিং বা চ্যাটের জন্য কোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহৃত হয়?
  1. Google Zoom
  2. Google Teams
  3. Google Meet
  4. Google Assistant
ব্যাখ্যা

• Google-এর ভিডিও মিটিং এবং চ্যাটের জন্য ব্যবহৃত প্রধান প্ল্যাটফর্ম হলো Google Meet। এটি একটি অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সিং টুল যা ব্যবহারকারীদের ভিডিও কল, অডিও কল এবং চ্যাট করার সুবিধা প্রদান করে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীরা এটি ব্যবহার করে দূর থেকে মিটিং, ক্লাস বা আলোচনা পরিচালনা করতে পারে। Google Meet-এর মাধ্যমে একাধিক মানুষ একসাথে একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিতে পারে, শেয়ার স্ক্রিন করতে পারে এবং রেকর্ডিং সংরক্ষণ করতে পারে। এটি Google-এর Gmail এবং অন্যান্য Google সার্ভিসের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে কাজ করে। তাই ভিডিও মিটিংয়ের জন্য সঠিক উত্তর হলো গ) Google Meet.

• গুগল (Google):
- ল্যারি পেইজ এবং সার্জে ব্রেইন ১৯৯৮ সালে আমেরিকান সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানি গুগল প্রতিষ্ঠা করেন।
- বর্তমান CEO: Sundar Pichai.
- গুগল শব্দটির উৎপত্তি 'গুগোল' (googol) থেকে- যা একটি বিশেষ সংখ্যার নাম।
- গুগল ও আলফাবেটের কর্পোরেট হেডকোয়ার্টার কমপ্লেক্সের নাম হচ্ছে গুগলপ্লেক্স।
- গুগলপ্লেক্স মাউন্টেইন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
- গুগলের সার্ভিসসমূহ: Google Nest, Drive, Google Maps, Google Workspace, Chrome, Gmail, Android, Google Assistant, YouTube, Google Keep, Google Meet, Google Photos, Chromebook, AdSense প্রভৃতি।
- Google পরিচালিত ভিডিও কমিউনিকেশন সার্ভিস হচ্ছে - Google Meet.

উৎস: ব্রিটানিকা এ সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

২১.
ভার্চুয়াল রিয়েলিটির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. হেড-মাউন্টেড ডিসপ্লে (HMD)
  2. অপটিক্যাল ফ্লো ম্যাপার
  3. সিআরটি মনিটর
  4. কোয়ান্টাম সেন্সর
ব্যাখ্যা

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির (VR) জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো হেড-মাউন্টেড ডিসপ্লে (HMD)। এটি ব্যবহারকারীর মাথায় পরিধান করা হয় এবং সরাসরি চোখের সামনে ভিজ্যুয়াল কন্টেন্ট প্রদর্শন করে, যা একটি সম্পূর্ণ ইমার্সিভ বা ডুবন্ত অভিজ্ঞতা তৈরি করে। HMD-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারী ভার্চুয়াল পরিবেশ দেখতে পান এবং তার সঙ্গে ইন্টার‍্যাক্ট করতে পারেন। এর মধ্যে সাধারণত দুইটি ছোট স্ক্রিন বা লেন্স থাকে, যা চোখের জন্য পৃথক ছবি দেখায়, ফলে তিন-মাত্রিক গভীরতার অনুভূতি জন্মায়। এছাড়াও HMD-তে হেড ট্র্যাকিং প্রযুক্তি থাকে, যা মাথার গতি অনুযায়ী দৃশ্য পরিবর্তন করে। অন্য যন্ত্রপাতি যেমন অপটিক্যাল ফ্লো ম্যাপার, CRT মনিটর বা কোয়ান্টাম সেন্সর সরাসরি VR-এর ইমার্সিভ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে পারে না, তাই HMD হল মূল উপাদান।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটি:
- এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের সমন্বয়ে কম্পিউটার সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো বস্তু, ঘটনা বা পরিবেশের বাস্তব বা ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরি করা হয়।
- এটি আসলে বাস্তব নয়, কিন্তু বিজ্ঞানের কল্পনা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে তৈরি একটি কৃত্রিম বাস্তবতা।
- এটি মূলত কম্পিউটার প্রযুক্তি এবং সিমুলেশন তত্ত্বের ওপর ভিত্তি করে কাজ করে।
- কম্পিউটার প্রযুক্তির সাহায্যে এমন একটি কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয়, যা ব্যবহারকারীর কাছে সত্যি এবং বাস্তব বলে মনে হয়।
- ভার্চুয়াল রিয়েলিটিতে ত্রিমাত্রিক ছবি তৈরির মাধ্যমে এমন কঠিন কাজও সম্পন্ন করা সম্ভব, যা বাস্তবে করা খুব কঠিন হতো।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির উপাদানসমূহ:
- হেড-মাউন্টেড ডিসপ্লে (HMD),
- ডেটা গ্লাভস,
- বিশেষ বডি স্যুট।

- এই সরঞ্জামগুলো ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে শারীরিক ঝুঁকি বা বিপদ ছাড়াই বাস্তবের মতো অভিজ্ঞতা দেয়।

• ভার্চুয়াল রিয়েলিটির প্রয়োগ:
- চিকিৎসাক্ষেত্রে,
- ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়,
- ফ্লাইট সিমুলেশনে,
- খেলাধূলা ও বিনোদন ইত্যাদি।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
কোন প্রজন্মের মোবাইল ফোনে মোবাইল ব্যাংকিং ও ই-কমার্স সেবা চালু করা হয়?
  1. প্রথম প্রজন্ম
  2. তৃতীয় প্রজন্ম
  3. দ্বিতীয় প্রজন্ম
  4. চতুর্থ প্রজন্ম
ব্যাখ্যা

• মোবাইল ব্যাংকিং এবং ই-কমার্স সেবা চালু করা হয় তৃতীয় প্রজন্মের (3G) মোবাইল ফোনে। তৃতীয় প্রজন্মের প্রযুক্তি উচ্চগতির ডেটা সংযোগের সুযোগ দেয়, যা ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও কল এবং অনলাইন লেনদেনের মতো সেবাকে সম্ভব করে। 3G প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের মোবাইল ডিভাইস থেকে নিরাপদভাবে ব্যাংকিং, পেমেন্ট এবং অনলাইন শপিং করার সুযোগ দেয়, ফলে এটি ডিজিটাল সেবার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

- উত্তর: খ) তৃতীয় প্রজন্ম।

• তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন:
- ২০০১ সালে জাপানের টোকিওতে সর্বপ্রথম পরীক্ষামূলকভাবে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনের ব্যবহার শুরু হয়।
- দ্বিতীয় প্রজন্ম থেকে তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনের প্রধান প্রযুক্তিগত পার্থক্য হচ্ছে সার্কিট সুইচিং ডাটা ট্রান্সমিশনের পরিবর্তে প্যাকেট সুইচিং ডাটা ট্রান্সমিশনের ব্যবহার।
- 3G বা Third Generation হচ্ছে এমন একটি মোবাইল প্রযুক্তি যাতে GSM, EDGE, UTMS, এবং CDMA 2000 প্রযুক্তি অন্তর্ভূক্ত।
- 3G প্রযুক্তি ব্যবহার করে DECT, WiMAX, Voice Call, Video Call সার্ভিস প্রদান করা সম্ভব।

• তৃতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোনের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য:
- মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স ইত্যাদি সেবা কার্যক্রম চালু সম্ভব হয়।
- উচ্চগতি সম্পন্ন ডেটা ট্রান্সফার।
- GPRS স্ট্যান্ডার্ডের ব্যাপক উন্নতি সাধিত হয়।
- সর্বাধিক ডেটা ট্রান্সফারের মোবাইল টেকনোলজি EDGE সিস্টেম চালু হয়।
- ডেটা ট্রান্সফার রেট সর্বোচ্চ প্রায় 2Mbps।
- প্যাকেট স্যুইচিং এবং সার্কিট স্যুইচিং উভয় পদ্ধতি ডেটা ট্রান্সমিশনে ব্যবহার করা যায়।
- অতি দ্রুত ভয়েজ ও ছবি আদান-প্রদান করা যায়।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

২৩.
সি প্রোগ্রামিং ভাষা প্রথম কোন অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়েছিল?
  1. Unix
  2. Linux
  3. Windows
  4. MS-DOS
ব্যাখ্যা

• সি প্রোগ্রামিং ভাষা প্রথম Unix অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়েছিল। ডেনিস রিচি এবং কেন থমসন বেল ল্যাবস-এ Unix অপারেটিং সিস্টেমের উন্নয়নের সময় C ভাষার বিকাশ করেন। তখনকার সময় Unix মূলত অ্যাসেম্বলি ভাষায় তৈরি হয়েছিল, কিন্তু সিস্টেমের কার্যকারিতা এবং পোর্টেবিলিটি বাড়ানোর জন্য C ভাষা উদ্ভাবন করা হয়। C-এর মাধ্যমে Unix অপারেটিং সিস্টেমকে হাই-লেভেল ভাষায় পুনঃলিখন করা সম্ভব হয়, যা সিস্টেমকে বিভিন্ন হার্ডওয়্যারে সহজেই চালানোর সুযোগ দেয়। এই কারণে C ভাষা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়্যার উন্নয়নের জন্য একটি ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

- উত্তর: ক) Unix.

• সি প্রোগ্রামিং ভাষা:
- যুক্তরাষ্ট্রের বেল ল্যাবরেটরিতে ১৯৭০ সালে ডেনিস রিচি (Dennis Ritchie) প্রথম C ভাষা তৈরি করেন।
- Dennis Ritchie-কে সি প্রোগ্রামিং ভাষার জনক বলা হয়।
- তিনি সর্বপ্রথম Unix অপারেটিং সিস্টেমে DEC PDP-11 মেশিনে 'সি' প্রয়োগ করেন।
- 'সি' এসেছে BCPL নামের একটি কম্পিউটার ভাষা থেকে, যা থেকে 'বি' নামে অপর একটি ভাষার উদ্ভব ঘটে এবং 'বি' এর পরের উন্নয়ন হলো 'সি' ভাষার উদ্ভবের মধ্য দিয়ে।
- প্রথমে 'সি' সরবরাহ হতো Unix অপারেটিং সিস্টেমে। পরে 'সি' এর প্রয়োগ ঘটে আরো বহুভাবে।
- বহু সুবিধার কারণে এখনও 'সি' প্রোগ্রামিং ভাষা প্রচলিত আছে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

২৪.
দোকানে টাচলেস পেমেন্ট করতে গুগল পে কোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে?
  1. NFC
  2. Bluetooth
  3. SMS
  4. QR code
ব্যাখ্যা

• দোকানে টাচলেস পেমেন্টের জন্য গুগল পে মূলত NFC (Near Field Communication) প্রযুক্তি ব্যবহার করে। NFC হলো সংক্ষিপ্ত দূরত্বের ওয়্যারলেস যোগাযোগ প্রযুক্তি, যা দুইটি ডিভাইসকে খুব কাছাকাছি অবস্থানে আনলে তথ্য বিনিময় করতে দেয়। যখন কেউ দোকানে গুগল পে ব্যবহার করে পেমেন্ট করে, তখন মোবাইল ফোনটি পয়েন্ট অফ সেল (POS) টার্মিনালের কাছে আনলে NFC মাধ্যমে পেমেন্ট তথ্য নিরাপদভাবে পাঠানো হয়। এটি দ্রুত এবং নিরাপদ, কারণ তথ্য সরাসরি ডিভাইস থেকে টার্মিনালে ট্রান্সফার হয় এবং কোনো কার্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে ছোঁয়া লাগে না। Bluetooth, SMS বা QR কোডের মাধ্যমে টাচলেস পেমেন্ট সম্ভব হলেও গুগল পের মূল প্রযুক্তি NFC.

- উত্তর: ক) NFC.

• বাংলাদেশে গুগল পে:
- বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে 'গুগল পে' সেবা চালু হয়েছে ২৪ জুন, ২০২৫
- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর - এ সেবার উদ্বোধন করেন। 
- গুগল, মাস্টারকার্ড ও ভিসার সহযোগিতায় সিটি ব্যাংক পিএলসি এই ডিজিটাল লেনদেন সেবা চালু করেছে।
- গুগল পে-এর এ সুবিধা আপাতত কেবল সিটি ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকলেও ভবিষ্যতে অন্যান্য ব্যাংকও এই সেবায় যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

• গুগল (Google):
- ল্যারি পেইজ এবং সার্জে ব্রেইন ১৯৯৮ সালে গুগল প্রতিষ্ঠা করেন।
- গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হলেন সুন্দর পিচাই। 
- গুগল শব্দটির উৎপত্তি ‘গুগোল’ (googol) থেকে- যা একটি বিশেষ সংখ্যার নাম।
- গুগল ও আলফাবেটের কর্পোরেট হেডকোয়ার্টার কমপ্লেক্সের নাম হচ্ছে গুগলপ্লেক্স।
- গুগলপ্লেক্স মাউন্টেইন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।
- গুগলের পূর্ব নাম হল ব্যাকরাব।

উৎস:
১. গুগলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
২. android [লিংক]
৩. ittefaq [লিংক]

২৫.
ব্লুটুথের ট্রান্সমিশন ফ্রিকুয়েন্সি কত?
  1. 3.8 গিগাহার্টজ 
  2. 5.2 গিগাহার্টজ 
  3. 2.4 গিগাহার্টজ 
  4. 4.8 গিগাহার্টজ 
ব্যাখ্যা

• ব্লুটুথ একটি সংক্ষিপ্ত-দূরত্বের ওয়্যারলেস যোগাযোগ প্রযুক্তি যা ডিভাইসগুলির মধ্যে ডেটা এবং অডিও পাঠাতে ব্যবহৃত হয়। ব্লুটুথ সাধারণত ২.৪ গিগাহার্টজ (GHz) ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ড ব্যবহার করে। এটি একটি বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত ISM (Industrial, Scientific, and Medical) ব্যান্ড, যা ওয়াইফাই, মাইক্রোওয়েভ এবং অন্যান্য ডিভাইসের সাথে সহজেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২.৪ GHz ফ্রিকোয়েন্সি উচ্চ গতিতে ডেটা ট্রান্সমিশন, কম শক্তি ব্যবহার এবং কম ব্যয় নিশ্চিত করে। সুতরাং, প্রদত্ত অপশন গুলির মধ্যে সঠিক উত্তর হলো: গ) 2.4 গিগাহার্টজ ।

• ব্লুটুথ:
- স্বল্প দূরত্বের ভেতর ফিক্সড ও মোবাইল ডিভাইসসমূহ থেকে তথ্য বিনিময়ের জন্য একটি প্রোপ্রায়েটারি ওপেন ওয়‍্যারলেস প্রযুক্তি স্ট্যান্ডার্ড হলো ব্লুটুথ।
- এর মাধ্যমে একটি পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (PAN) সৃষ্টি হয় যেখানে উঁচু মানের নিরাপত্তা বজায় থাকে।
- দশম শতাব্দীর ডেনমার্কের রাজা হারাল্ড ব্লুটুথ এর নাম অনুসারে এই প্রযুক্তিটির নাম ব্লুটুথ রাখা হয়েছে।
- বর্তমানে মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে, কম্পিউটার, মেডিক্যাল ডিভাইস এবং বাসাবাড়ির বিনোদন ক্ষেত্রের অনেক ডিভাইসে ব্লুটুথ প্রযুক্তিটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

• ব্লুটুথের বৈশিষ্ট্য:
- কাছাকাছি দুইটি ডিভাইসের মধ্যে ডাটা স্থানান্তরে ব্লুটুথ রেডিও ওয়েভ ব্যবহার করে।
- ওয়‍্যারলেস কমিউনিকেশনের কোন লাইসেন্স ছাড়াই 2.4 গিগাহার্টস ফ্রিকুয়েন্সি ব্যান্ডে চলতে পারে।
- 10-100 মিটারের মধ্যে অবস্থানকারী ডিভাইসের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে।
- ইনফ্রারেড ডাটা কমিউনিকেশনের ন্যায় দেয়াল বা অন্যকোন বাধা ডাটা ট্রান্সমিশনে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে না।
- কোনো পিকোনেটে (Piconet) একটি মাস্টার সর্বোচ্চ ৭টি স্লেভের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২৬.
কোন IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ডে প্রথম MIMO প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে?
  1. 802.11n
  2. 802.11b
  3. 802.11g
  4. 802.11a
ব্যাখ্যা

• IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ডগুলির মধ্যে প্রথম MIMO (Multiple Input Multiple Output) প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে 802.11n-এ। MIMO হলো এমন একটি প্রযুক্তি যা একাধিক অ্যান্টেনা ব্যবহার করে ডেটা পাঠানো ও গ্রহণ করতে সক্ষম, যার ফলে ডেটা ট্রান্সফার স্পিড এবং সিগন্যাল স্থায়িত্ব অনেক বৃদ্ধি পায়। 802.11n স্ট্যান্ডার্ডটি 2009 সালে চালু হয় এবং এটি পূর্ববর্তী স্ট্যান্ডার্ডগুলির (যেমন 802.11a, 802.11b, 802.11g) তুলনায় উচ্চতর ব্যান্ডউইথ এবং উন্নত কভারেজ প্রদান করে। অন্য স্ট্যান্ডার্ডগুলিতে MIMO প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়নি, তাই উচ্চ গতির ও নির্ভরযোগ্য ওয়্যারলেস কানেকশনের জন্য 802.11n খুব গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং সঠিক উত্তর হলো (ক) 802.11n

• Wi-Fi:
- Wi-fi এর পূর্ণরূপ হলো Wireless Fidelity.
- Wi-fi হলো একটি জনপ্রিয় তারবিহীন প্রযুক্তি যা উচ্চগতির ইন্টারনেট ও নেটওয়ার্ক সংযোগসমূহ সরবরাহ করে থাকে রেডিও ওয়েভ ব্যবহাররের মাধ্যমে।
- ওয়াই-ফাই সাধারণত 2.4 থেকে 5 GHz ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে।
- এটি Wi-fi Alliance এর একটি ট্রেডমার্ক এবং IEEE 802.11 স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহারকারী পণ্যসমূহের একটি ব্র্যান্ড নাম।
- ভিক্টর ভিক হেরেসকে ওয়াই-ফাই এর জনক বলা হয়।
- ওয়াই-ফাই এর ডাটা ট্রান্সমিশনে এ হাফ ডুপ্লেক্স মুড ব্যবহৃত হয়।
- কাভারেজ ঘরের ভিতর ৩৩ মিটার এবং বাইরে প্রায় ১০০ মিটার জুড়ে হয়ে থাকে।

• এছাড়াও,
- WiMAX এর IEEE স্ট্যান্ডার্ড 802.16.
- Bluetooth এর IEEE স্ট্যান্ডার্ড 802.15.

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২. মৌলক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. Intel.

২৭.
বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদনকারী কোম্পানি কোনটি?
  1. Google Corporation
  2. Apple Corporation
  3. Oracle Corporation
  4. Intel Corporation
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদনকারী কোম্পানি হলো Intel Corporation। ইন্টেল ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং মূলত কম্পিউটার প্রসেসর, মেমোরি চিপ, এবং অন্যান্য সেমিকন্ডাক্টর ডিভাইস তৈরি করে। এটি প্রধানত ব্যক্তিগত কম্পিউটার এবং সার্ভারের জন্য উচ্চ ক্ষমতার প্রসেসর সরবরাহ করে এবং প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবনের জন্য পরিচিত। অন্যদিকে, Google, Apple এবং Oracle মূলত সফটওয়্যার, স্মার্টফোন বা ক্লাউড সার্ভিসে বেশি কার্যক্রম চালায়, তাই তারা সেমিকন্ডাক্টর চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রে Intel-এর মতো বিশাল সক্ষমতা রাখে না। Intel এর বাজার অংশীদারি এবং গবেষণা-উন্নয়ন কার্যক্রম এটিকে বিশ্বস্ত শীর্ষস্থানীয় চিপ প্রস্তুতকারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

• ইনটেল কর্পোরেশন (Intel Corporation):
- ইনটেল কর্পোরেশন একটি মার্কিন বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানি।
- যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা ক্লারা তে এর সদর দপ্তর অবস্থিত।
- এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর চিপ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।
- এটি মাইক্রোপ্রসেসর এক্স ৮৬ সিরিজের প্রস্তুতকারক।
- যা বেশিরভাগ ব্যক্তিগত কম্পিউটারে (PC) ব্যবহৃত হয়।
- ১৮ জুলাই, ১৯৬৮ খ্রি. ইন্টেল প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এই কোম্পানি শুরু করেন সেমিকন্ডাক্টরের অগ্রগামী রবার্ট নয়েস, গর্ডন মুর এবং এন্ড্রু গুভ।

উৎস: ব্রিটানিকা।

২৮.
স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালানোর জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম কোনটি?
  1. Adobe Photoshop
  2. Arduino
  3. Excel
  4. iMovie
ব্যাখ্যা

• স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনার জন্য সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্ম হলো Arduino। এটি একটি ওপেন সোর্স ইলেকট্রনিক্স প্ল্যাটফর্ম যা সহজেই সেন্সর, মোটর, লাইট এবং অন্যান্য ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। ব্যবহারকারীরা প্রোগ্রামিং করে বিভিন্ন স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম যেমন আলো চালু/বন্ধ করা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তা সিস্টেম পরিচালনা করতে পারেন। Arduino-এর সহজ ইন্টারফেস এবং কম খরচের হার এটিকে শিক্ষার্থী ও হোম অটোমেশন উভয়ের জন্য জনপ্রিয় করেছে। অন্যদিকে Adobe Photoshop, Excel, এবং iMovie মূলত গ্রাফিক্স, ডেটা বা ভিডিও সম্পাদনার জন্য ব্যবহৃত হয়, তাই স্মার্ট হোম অটোমেশনের সঙ্গে এগুলো সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
 
• স্মার্ট হোম প্রযুক্তি:
- স্মার্ট হোম হলো এমন একটি বাসস্থান, যেখানে রিমোট কন্ট্রোলিং বা প্রোগ্রামিং ডিভাইসের সাহায্যে বাড়ির হিটিং সিস্টেম, কুলিং সিস্টেম, লাইটিং সিস্টেম, সিকিউরিটি কন্ট্রোল সিস্টেম ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- স্মার্ট হোমের পদ্ধতিকে হোম অটোমেশন সিস্টেম (Home Automation System) বলা হয়।
- একটি স্মার্ট হোমে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- টেলিভিশন, এসি, লাইটিং, ফ্যান, সিকিউরিটি ক্যামেরা ইত্যাদি পরিচালনার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল বা রিমোট কন্ট্রোলিং ডিভাইস ব্যবহার করে সেগুলোকে কোনো কেন্দ্রীয় অবস্থানে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পোন্নত দেশ যেমন-চীন, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া ইত্যাদি দেশে গ্লোবাল রেসিডেন্স বা বৈশ্বিক বাসস্থান তৈরি করা হচ্ছে।
- বাসস্থানের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আইপি ক্যামেরা।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

২৯.
কোন দেশ Motorola DynaTAC মোবাইল ফোনের প্রাথমিক ব্যবহার শুরু করে?
  1. জার্মানি
  2. যুক্তরাষ্ট্র
  3. চীন
  4. জাপান
ব্যাখ্যা

• Motorola DynaTAC মোবাইল ফোনের প্রাথমিক ব্যবহার শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৮০ এর দশকে সালে Motorola কোম্পানি প্রথম বাণিজ্যিক মোবাইল ফোন DynaTAC 8000X বাজারে আনে। এটি তখনকার যুগের জন্য এক বিপ্লবী প্রযুক্তি ছিল, যা মানুষের যোগাযোগের ধরন পুরোপুরি বদলে দেয়। ফোনটির ওজন অনেক বেশি ছিল, প্রায় এক কেজি, এবং ব্যাটারির আয়ুষ্কালও সীমিত ছিল। তবু, এটি প্রথমবারের মতো মানুষকে তার পকেটে ফোন বহন করে যেকোনো জায়গা থেকে কল করার সুযোগ দেয়। DynaTAC-এর উদ্ভাবন যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক দিক থেকে মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রকে নতুন দিশা দেখায়, যা পরবর্তীতে গোটা বিশ্বের মোবাইল ফোন শিল্পে বিপ্লব সৃষ্টি করে। সুতরাং, সঠিক উত্তর হলো খ) যুক্তরাষ্ট্র।

• মোবাইল ফোন:
- মোবাইল ফোনের জনক মার্টিন কুপার।
- যুক্তরাষ্ট্রে সর্বপ্রথম Motorola Dyna TACS (Total Access Communication System) নামে হ্যান্ড মোবাইল সেট চালু করে।
- ১৯৭৯ সালে জাপানের NTTC (Nippon Telegraph and Telephone Corporation) প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অটোমেটেড সেলুলার নেটওয়ার্ক চালু করার মাধ্যমে 1G এর সূচনা করে।

• মোবাইল ফোনের প্রজন্মকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা:
- প্রথম প্রজন্ম,
- দ্বিতীয় প্রজন্ম,
- তৃতীয় প্রজন্ম,
- চতুর্থ প্রজন্ম এবং
- পঞ্চম প্রজন্ম।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

৩০.
GSM সিস্টেমে মাল্টিপল অ্যাক্সেসের জন্য কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়?
  1. TDMA 
  2. CDMA
  3. BDMA
  4. OFDMA
ব্যাখ্যা

• GSM সিস্টেমে মাল্টিপল ব্যবহারকারীর জন্য TDMA (Time Division Multiple Access) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এই প্রযুক্তিতে একটি ফ্রিকোয়েন্সি ব্যান্ডকে সময় ভাগে ভাগ করা হয়, এবং প্রতিটি ব্যবহারকারী নির্দিষ্ট সময় স্লটে যোগাযোগ করে। অর্থাৎ, এক ফ্রিকোয়েন্সি চ্যানেলে একাধিক ব্যবহারকারী একসাথে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে, কিন্তু তাদের সিগন্যালগুলি ভিন্ন সময়ে প্রেরিত হয়। এটি স্পেকট্রাম ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ায় এবং একসাথে অনেক ব্যবহারকারীকে সাপোর্ট দেয়। CDMA, BDMA বা OFDMA অন্যান্য সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়, কিন্তু GSM-এর জন্য মূল প্রযুক্তি হলো TDMA, যা ২জি মোবাইল যোগাযোগের ভিত্তি হিসেবে পরিচিত।

- উত্তর: ক) TDMA.

• জিএসএম:
- জিএসএম বা গ্লোবাল সিস্টেম ফর মোবাইল কমিউনিকেশন (Global System for Mobile Communication-GSM) হলো মোবাইল টেলিফোনি সিস্টেমের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্ট্যান্ডার্ড।
- একে দ্বিতীয় প্রজন্মের মোবাইল ফোন সিস্টেম হিসেব বিবেচনা করা হয়।
- জিএসএম প্রথম চালু হয় ফিনল্যান্ডে।
- মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের মধ্যে রোমিং চুক্তি থাকার ফলে বিশ্বের যে কোন স্থান থেকে যেকোন ব্যক্তি জিএসএম এর আওতায় থাকা অবস্থায় নিজের মোবাইল ফোনটি ব্যবহার করতে পারছে।
- GSM, TDMA ব্যবহার করে যেসব মোবাইল ফোন সার্ভিস দেয়া হয় সেগুলো হলো- এসএমএম, কল ফরওয়ার্ডিং, আউটগোয়িং কলকে নিয়ন্ত্রণ করা, ইনকামিং কলকে নিয়ন্ত্রণ করা, কল হোডিং, কলার আইডি, কলার ওয়েটিং, মাল্টিপার্টি সার্ভিস ইত্যাদি।

• জিএসএম এর বৈশিষ্ট্য:
- স্বল্প মূল্যের এসএমএস এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জিএসএম পথিকৃত।
- সেলুলার নেটওয়ার্ক বিধায় নির্দিষ্ট এলাকাতে মোবাইল ফোনগুলো জিএসএম এর সাথে সংযুক্ত হয়।
- সর্বোচ্চ দূরত্ব হলো ৩৫ কিলোমিটার।
- অধিকাংশ টুজি জিএসএম নেটওয়ার্কগুলো 900 MHz বা 1800MHz ব্যান্ডে পরিচালিত হয়।
- হ্যান্ডসেটের ট্রান্সমিশন ক্ষমতা ২ বা ১ ওয়াট।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩১.
অফিস অটোমেশন সম্পাদনের জন্য কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়?
  1. অ্যাডোবি ফটোশপ
  2. ভিজ্যুয়াল ম্যাটল্যাব
  3. অ্যাক্রোবেট স্টুডিও
  4. অ্যাক্রোবেট রিডার
ব্যাখ্যা

• অফিস অটোমেশন মূলত অফিসের দৈনন্দিন কাজ যেমন ডকুমেন্ট তৈরি, সম্পাদনা, তথ্য বিন্যাস, রিপোর্ট প্রস্তুতি এবং ইলেকট্রনিক ফাইল ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর জন্য সাধারণত এমন সফটওয়্যার প্রয়োজন যা সহজে ডকুমেন্ট তৈরি ও সম্পাদনা করতে পারে এবং অফিসের কাজকে দ্রুত ও কার্যকরীভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করে। প্রদত্ত অপশনগুলোর মধ্যে অ্যাডোবি ফটোশপ মূলত গ্রাফিক্স ও ছবি সম্পাদনার জন্য, ভিজ্যুয়াল ম্যাটল্যাব মূলত গাণিতিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং সমাধানের জন্য, অ্যাক্রোবেট স্টুডিও পিডিএফ সম্পাদনার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু অফিস অটোমেশনের জন্য সবচেয়ে প্রাথমিক ও প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার হলো অ্যাক্রোবেট রিডার, যা ডকুমেন্ট পড়া, সংরক্ষণ এবং সহজেই শেয়ার করার সুবিধা প্রদান করে। তাই অফিসে ডকুমেন্ট ব্যবস্থাপনার কাজের জন্য এটি উপযুক্ত।

• অফিস অটোমেশন:
- অফিস পরিচালনার ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির একটি প্রায়োগিক টুল হলো অফিস অটোমেশন সিস্টেম।
- অফিস অটোমেশন হলো এমন এক ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম, যার মাধ্যমে কম্পিউটার, নেটওয়ার্কিংসহ তথ্য প্রযুক্তির আরও অন্যান্য ডিভাইস ও সিস্টেম দ্বারা অফিসের সকল পেপার ওয়ার্ক ও যোগাযোগের কাজ পরিচালনা করা যায়।
- এছাড়াও অফিস পরিচালনার ক্ষেত্রে যে সমস্ত তথ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর ডিভাইস ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, ফ্যাক্স, স্ক্যানার, প্রিন্টার, প্রজেক্টর, সিসিটিভি, আইপি, পিএবিএক্স, কর্মীদের হাজিরার জন্য বায়োমেট্রিক্স ডিভাইস ইত্যাদি।
- বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক উৎকর্ষতার কারণে ঘরে বসেও অফিসের সকল কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং অফিস পরিচালনার সব ধরনের নির্দেশ ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে প্রদান করা সম্ভব।
- চব্বিশ ঘণ্টা চালু থাকে এ ধরনের অফিসকে ভার্চুয়াল অফিস এবং প্রদত্ত সার্ভিসকে 24/7 সার্ভিস বলা হয়ে থাকে।
- অফিস অটোমেশনে ব্যবহৃত সফটওয়‍্যারগুলো হলো মাইক্রোসফট অফিস, ওপেন অফিস অর্গ, অ্যাক্রোবেট রিডার ইত্যাদি।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

৩২.
মোবাইল সেলের নেটওয়ার্ক কভারেজ সাধারণত কী ধরনের আকার ধারণ করে?
  1. ষড়ভুজাকৃতির
  2. গোলাকৃতি
  3. ত্রিভুজাকৃতি
  4. চতুর্ভুজাকৃতি
ব্যাখ্যা

• মোবাইল সেলের নেটওয়ার্ক কভারেজ সাধারণত ষড়ভুজাকৃতির আকার ধারণ করে। এর কারণ হলো এটি কার্যকরভাবে এলাকায় সিগন্যাল বিতরণ করতে সাহায্য করে। একটি সেল টাওয়ারের রেডিও তরঙ্গ প্রায় গোলাকৃতি ছড়িয়ে পড়ে, কিন্তু এককভাবে গোলাকৃতি হলে সেলগুলো একে অপরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জোড়া দেওয়া কঠিন হয় এবং ফাঁকা বা অতিরিক্ত কভারেজ হতে পারে। ষড়ভুজাকৃতি নকশা ব্যবহার করলে প্রতিটি সেলের সীমান্ত নির্দিষ্টভাবে সংযুক্ত থাকে এবং কোন স্থান ফাঁকা থাকে না। এছাড়া এটি নেটওয়ার্ক ডিজাইনকে সহজ করে এবং ফ্রিকোয়েন্সি পুনঃব্যবহার কার্যকরভাবে সম্ভব হয়। তাই সেল কভারেজের জন্য ষড়ভুজাকৃতি সবচেয়ে উপযুক্ত।

- সঠিক উত্তর: ক) ষড়ভুজাকৃতির।

• মোবাইল কমিউনিকেশন:
- একাধিক চলনশীল ডিভাইস অথবা একটি চলনশীল ও অন্যটি স্থির ডিভাইসের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহৃত কমিউনিকেশন সিস্টেমকে মোবাইল কমিউনিকেশন বলা হয়।
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ক্যাবল ছাড়া যোগাযোগের প্রযুক্তি ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন সিস্টেমের উৎকর্ষতার ফসল হলো মোবাইল কমিউনিকেশন।
- এটি একটি ডুপ্লেক্স বা দ্বিমুখী কমিউনিকেশন সিস্টেম।
- বর্তমানে সারা পৃথিবীতে মোবাইল কমিউনিকেশন একটি অতি প্রয়োজনীয় এবং জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
- মোবাইল কমিউনিকেশনে স্থাপিত এক একটি ফিক্সড ল্যান্ড বা বেজ স্টেশন হলো সেল, যা মোবাইল ফোনের জন্য প্রয়োজনীয় নেটওয়ার্ক কাভারেজ প্রদান করে। 
- মোবাইল ব্যবহারকারী চলমান অবস্থায় এক সেল এরিয়া থেকে অন্য সেল এরিয়ায় প্রবেশ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার মোবাইল ইউনিটটি পূর্বের সেল এরিয়ার সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বর্তমান সেল এরিয়ার সাথে সংযুক্ত হয়ে যায়। 
- একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে মোবাইল ইউনিটটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এক সেল নেটওয়ার্কের সংযুক্তি ত্যাগ করে অন্য সেল নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হয়ে যায়, একে Handoff বলা হয়।
- স্বয়ংক্রিয় এই ব্যবস্থা মোবাইল ইউনিটে বজায় থাকার কারণে মোবাইল ইউনিটের শক্তি ব্যয় গড় সর্বদা সমান থাকে।

সূত্র - ব্রিটানিকা।

৩৩.
ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ক্লাউডের সংমিশ্রণকে কী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়?
  1. হাইব্রিড ক্লাউড
  2. কমিউনিটি ক্লাউড
  3. প্রাইভেট ক্লাউড
  4. পাবলিক ক্লাউড
ব্যাখ্যা

• ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ক্লাউডের সংমিশ্রণকে হাইব্রিড ক্লাউড হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা যায়। হাইব্রিড ক্লাউড হলো একটি পরিকাঠামো যেখানে পাবলিক ক্লাউড এবং প্রাইভেট ক্লাউড একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সংবেদনশীল তথ্য প্রাইভেট ক্লাউডে সুরক্ষিত রাখতে পারে, একই সঙ্গে কম গুরুত্বপূর্ণ বা বড় পরিসরের কাজ পাবলিক ক্লাউডে পরিচালনা করতে পারে। এটি সংস্থাগুলোর জন্য উন্নত স্কেলেবিলিটি, ফ্লেক্সিবিলিটি এবং খরচের সাশ্রয় নিশ্চিত করে। হাইব্রিড ক্লাউড ব্যবসার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ক্লাউড পরিবেশের সুবিধা একত্রিত করার একটি কার্যকর পদ্ধতি।

- উত্তর: ক) হাইব্রিড ক্লাউড।

• ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রকারভেদ:
- ক্লাউড ব্যবহারকারী কারা, তার ওপরে ভিত্তি করে ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রকারভেদ:

• হাইব্রিড ক্লাউড (Hybrid Cloud):
- হাইব্রিড ক্লাউড হলো পাবলিক আর প্রাইভেটের সংমিশ্রণ।
- ভিন্ন ভিন্ন ধরনের ক্লাউডের সংমিশ্রণকে হাইব্রিড ক্লাউড বলা হয়।
- এখানে প্রাইভেট ক্লাউড দিয়ে প্রাথমিক চাহিদা মেটানো হয়, আর প্রাইভেট ক্লাউডের ধারণক্ষমতা অতিক্রান্ত হয়ে গেলে পাবলিক ক্লাউডের সাহায্য নেয়া হয়।
- পাবলিক ক্লাউডের চেয়ে হাইব্রিড ক্লাউডের খরচ বেশি।

• পাবলিক ক্লাউড (Public Cloud):
- পাবলিক ক্লাউড হলো এমন ক্লাউড যা সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত। যে টাকা দেবে, সেই সার্ভিস পাবে, এমন ক্লাউডকে বলা হয় পাবলিক ক্লাউড।
- যেমন: আমাজনের EC2.
- এসব ক্লাউডের সুবিধা হলো যে কেউ এর সেবা নিতে পারে।

• প্রাইভেট ক্লাউড (Private Cloud):
- যখন বড় কোনো সংস্থা নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়ার জন্য ক্লাউড সিস্টেম ডেভেলপ করে তখন তাকে প্রাইভেট ক্লাউড বলে।
- এটি সাধারণত একটি সংস্থায় অভ্যন্তরীণভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করা হয়।
- এতে খরচ অনেক বেশি হয়, নিজস্ব ডেটা সেন্টার বসাতে হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিজস্ব জনবল রাখার প্রয়োজন হয়।

• কমিউনিটি ক্লাউড (Community Cloud):
- সাধারণত কোনো বিশেষ কমিউনিটির জন্য যে ক্লাউড ডেভেলপ করা হয় সেটি হলো কমিউনিটি ক্লাউড।
- কমিউনিটি ক্লাউডের সুবিধা হলো কমিউনিটির মধ্যে ইউজার সীমাবদ্ধ থাকে বলে এখানে সিকিউরিটির কোনো সমস্যা নেই।
- আর অসুবিধা হলো এখানে ক্লায়েন্টের সংখ্যা সীমিত বলে খরচ বেশি হয়।

উৎস:
১) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (মাহবুবুর রহমান), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি এবং
২) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।

৩৪.
স্মার্টফোনের আবিষ্কার হিসেবে কোন ফোনটিকে সবচেয়ে বেশি স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
  1. iPhone
  2. Motorola Razr
  3. Simon
  4. Nokia 3310
ব্যাখ্যা

• স্মার্টফোনের আবিষ্কারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি স্বীকৃতি পায় গ) Simon। ১৯৯২ সালে IBM-এর সঙ্গে সহযোগিতায় তৈরি করা এই Simon Personal Communicator ১৯৯৪ সালে বাজারে আসে। এটি শুধু কল করার জন্য নয়, বরং ইমেল পাঠানো, ক্যালেন্ডার ব্যবহার, ঠিকানা সংরক্ষণ এবং নোট তৈরি করার মতো বৈশিষ্ট্যও প্রদান করত। অর্থাৎ, এটি প্রচলিত মোবাইল ফোনের চেয়ে অনেক বেশি “স্মার্ট” ছিল। যদিও পরে iPhone এবং অন্যান্য ফোনগুলো প্রযুক্তি ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে সাফল্য পায়, স্মার্টফোন হিসেবে Simon-এর ভূমিকা প্রায়ই প্রথম এবং পথপ্রদর্শক হিসেবে চিহ্নিত হয়। তাই স্মার্টফোনের আবিষ্কার হিসেবে Simon সবচেয়ে বেশি স্বীকৃত।

• স্মার্টফোন:
- প্রযুক্তি কোম্পানী IBM বিশ্বের প্রথম স্মার্টফোন তৈরি করে যার নাম ছিল সাইমন।
- 16 আগস্ট, 1994-এ জনসাধারণের কাছে বিক্রি হয়েছিল।
- এতে একটি টাচস্ক্রিন, ইমেইল ক্ষমতা, একটি ক্যালকুলেটর এবং একটি স্কেচ প্যাড সহ কয়েকটি অন্তর্নির্মিত অ্যাপ রয়েছে৷
- এটির কোড-নাম ছিল "অ্যাঙ্গলার" এবং ভেগাসের ফল কমডেক্স কনভেনশনে উন্মোচন করা হয়েছিল।
- ব্যাটারি একবার চার্জ করলে ১ ঘণ্টা চালানো যেত।
- বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ডিভাইসটি কেবলমাত্র 50,000 ইউনিট স্থানান্তরিত করতে ছয় মাস ব্যয় করেছে।

• স্মার্টফোনের বৈশিষ্ট্য:
- ডেটা রূপান্তরের জন্য প্যাকেট সুইচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
- ডাটা স্থানান্তর উচ্চ গতিসম্পন্ন।
- মডেম সংযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায়।
- মেমোরি বেশি থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৩৫.
রোবটের মুভমেন্ট নিয়ন্ত্রণ করতে রোবটিক্সে কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়?
  1. অ্যাকচুয়েটর
  2. সেন্সর
  3. আইসি
  4. প্রসেসর
ব্যাখ্যা

• রোবটের মুভমেন্ট বা গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করতে প্রধানত অ্যাকচুয়েটর (Actuator) প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। অ্যাকচুয়েটর হল একটি ডিভাইস যা রোবটের সংকেত বা কমান্ড অনুযায়ী শক্তি ব্যবহার করে যান্ত্রিক গতি সৃষ্টি করে। এটি রোবটের হাত, পা, চাকা বা অন্যান্য অংশকে নির্দিষ্ট দিক এবং গতিতে চলতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, সেন্সর তথ্য সংগ্রহ করে, প্রসেসর সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে এবং আইসি বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ কার্য সম্পাদনায় সাহায্য করে। তবে সরাসরি মুভমেন্ট তৈরি করা এবং রোবটকে চলমান করা কাজটি অ্যাকচুয়েটরই করে। তাই রোবটিক্সে রোবটের গতি নিয়ন্ত্রণে অ্যাকচুয়েটর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• রোবটিক্স:
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা বা ডিজাইন, গঠন, পরিচালন প্রক্রিয়া, কাজ ও প্রয়োগক্ষেত্র সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, সেই শাখাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গারকে রোবোটিক্সের জনক বলা হয়।
- রোবটের মুভমেন্টের জন্য রোবোটিক্সে অ্যাকচুয়েটর ব্যবহার করা হয়।
- রোবটিক্স শব্দটি এসেছে 'রোবট' শব্দ হতে, যা প্রবর্তিত হয় চেক লেখক ও নাট্যকার কারেল কাপেক এর একটি নাটক থেকে, যা ১৯২০ সালে প্রকাশিত হয়।
- Robot শব্দটি এসেছে স্লাভিক শব্দ Robota থেকে, যার অর্থ হলো 'শ্রমিক'।
- প্রথম রোবট তৈরি করেন আমেরিকান উদ্ভাবক জর্জ চার্লস ডেভল।
- ১৯৫০ সালে তার তৈরি প্রথম ইন্ডাস্ট্রিয়াল রোবটের নাম ছিল ইউনিমেট।
- ইউনিমেট রোবট তৈরির প্রজেক্টের উদ্যোক্তা ছিলেন আমেরিকান জোসেফ ফ্রেডরিক এঙ্গেলবার্গার।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।

৩৬.
কোন ওয়্যারলেস প্রযুক্তি স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলোর মধ্যে যোগাযোগের মেশ নেটওয়ার্ক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়?
  1. Zigbee
  2. LTE
  3. Ethernet
  4. USB
ব্যাখ্যা

•স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং যোগাযোগের জন্য সাধারণত Zigbee ওয়্যারলেস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এটি একটি কম শক্তি খরচকারী, স্বল্প ব্যান্ডউইথের এবং ছোট দূরত্বের জন্য উপযুক্ত প্রযুক্তি। Zigbee ডিভাইসগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে একটি মেশ নেটওয়ার্ক তৈরি করে, যেখানে প্রতিটি ডিভাইস নেটওয়ার্কের অন্য ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্য পাঠাতে পারে। ফলে একটি ডিভাইস সরাসরি রাউটারের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকলেও, নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তথ্য পৌঁছানো সম্ভব হয়। অন্যদিকে LTE, Ethernet বা USB এই ধরনের মেশ নেটওয়ার্কের জন্য সাধারণত ব্যবহার হয় না, কারণ এগুলো বা শক্তি বেশি খরচ করে, বা তারযুক্ত সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। Zigbee এর মেশ নেটওয়ার্ক সুবিধা স্মার্ট হোমে ডিভাইসগুলোকে আরও স্থিতিশীল এবং দক্ষভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে।
- তাই সঠিক উত্তর: গ) Zigbee.

• স্মার্ট হোম প্রযুক্তি:
- স্মার্ট হোম হলো এমন একটি বাসস্থান, যেখানে রিমোট কন্ট্রোলিং বা প্রোগ্রামিং ডিভাইসের সাহায্যে বাড়ির হিটিং সিস্টেম, কুলিং সিস্টেম, লাইটিং সিস্টেম, সিকিউরিটি কন্ট্রোল সিস্টেম ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- স্মার্ট হোম প্রযুক্তিতে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করে হোম অটোমেশন চালু করা হয়।
- স্মার্ট হোমের পদ্ধতিকে হোম অটোমেশন সিস্টেম (Home Automation System) বলা হয়।
- একটি স্মার্ট হোমে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস যেমন- টেলিভিশন, এসি, লাইটিং, ফ্যান, সিকিউরিটি ক্যামেরা ইত্যাদি পরিচালনার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির মোবাইল বা রিমোট কন্ট্রোলিং ডিভাইস ব্যবহার করে সেগুলোকে কোনো কেন্দ্রীয় অবস্থানে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
- বর্তমানে বিভিন্ন শিল্পোন্নত দেশ যেমন-চীন, সিঙ্গাপুর, কোরিয়া ইত্যাদি দেশে গ্লোবাল রেসিডেন্স বা বৈশ্বিক বাসস্থান তৈরি করা হচ্ছে।
- বাসস্থানের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে আইপি ক্যামেরা।
- রিমোট কন্ট্রোল বা ভয়েস কমান্ডের সাহায্যে গাড়ির গ্যারেজ, ঘরের দরজা-জানালা খোলা বা বন্ধ করা, লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার ও টেলিফোন চালু কিংবা বন্ধ করা যায়।
- বাইরে থাকাকালে কোনো মেহমান বাসায় আসলে সিকিউরিটি এলার্মের সাহায্যে মোবাইল ফোনে তা জানা যায় ।
- কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত রোবোটের সাহায্যে চা বানানো, কাপড় ধোয়া, ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও ময়লা নিষ্কাশন করা সম্ভব হয়।

উৎস:
১) তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২) IEEE.

৩৭.
Python কোন ধরণের প্রোগ্রামিং কনসেপ্ট বা প্যাটার্ন অনুসরণ করে?
  1. স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং
  2. ইভেন্ট ড্রাইভেন প্রোগ্রামিং
  3. অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং
  4. ভিজ্যুয়াল প্রোগ্রামিং
ব্যাখ্যা

• Python মূলত অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং (Object-Oriented Programming, OOP) প্যাটার্ন অনুসরণ করে, যদিও এটি স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং ও সমর্থন করে। Python-এ সবকিছুই অবজেক্ট হিসেবে বিবেচিত হয়, যেমন সংখ্যা, স্ট্রিং, ফাংশন বা ক্লাস। OOP-এর মূল ধারণা হলো ক্লাস ও অবজেক্ট ব্যবহার করে প্রোগ্রামকে মডুলার, পুনঃব্যবহারযোগ্য এবং সহজে রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য করা। Python-এ আপনি ক্লাস তৈরি করে ডেটা এবং ফাংশন একত্রিত করতে পারেন, ইনহেরিটেন্স, পলিমরফিজম এবং এনক্যাপসুলেশন ব্যবহার করতে পারেন। এর পাশাপাশি, Python স্ট্রাকচার্ড প্রোগ্রামিং প্যাটার্নও ব্যবহার করতে দেয় যেখানে কোডকে ফাংশন এবং লজিকাল ব্লকে ভাগ করা হয়। তাই Python মূলত OOP ভিত্তিক, কিন্তু নমনীয়তার কারণে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ধরণ সমর্থন করে।

- উত্তর: গ) অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং।

• অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং:
- অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং পদ্ধতিতে ডেটাও ইনস্ট্রকাশনের সমন্বয়ে চলক তৈরি করা হয়, একে বলা হয় অবজেক্ট।
- এই প্রোগ্রামিং পদ্ধতিতে প্রোগ্রামের ইনস্ট্রাকশনগুলো ডাটা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।
- C++, Java, C#, Python ইত্যাদি হলো অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং এর উদাহরণ।

• মূলত ৬টি প্রাথমিক ধারণার দ্বারা অবজেক্ট ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিংকে উপস্থাপন করা হয়। যথা:
১. অবজেক্ট (Object),
২. ক্লাস (Class),
৩. মেসেজ (Message),
৪. পলিমারফিজম (Polymorphism),
৫. ইনহেরিটেন্স (Inheritance) এবং
৬. এনক্যাপসুলেশন (Encapsulation)।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
ISDN কী ধরনের তথ্য একসাথে ট্রান্সমিট করতে পারে?
  1. শুধুমাত্র ভিডিও
  2. শুধুমাত্র ডেটা
  3. ভয়েস এবং ডেটা একসাথে
  4. শুধুমাত্র ভয়েস
ব্যাখ্যা

• ISDN (Integrated Services Digital Network) হল একটি ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা যা একই সময়ে একাধিক ধরনের তথ্য স্থানান্তর করতে সক্ষম। এটি মূলত ভয়েস, ভিডিও এবং ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ISDN একটি লাইন ব্যবহার করে কেবল ভয়েস নয়, বরং ডেটা এবং ভিডিও সিগন্যালও একসাথে প্রেরণ করতে পারে, ফলে আলাদা লাইন ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়ে না। উদাহরণস্বরূপ, একই সময়ে কেউ ফোনে কথা বলার পাশাপাশি ইন্টারনেটে ডেটা ট্রান্সফার করতে পারে। তাই ISDN শুধুমাত্র ভয়েস বা শুধুমাত্র ডেটার জন্য সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভয়েস এবং ডেটা একসাথে প্রেরণের সুবিধা দেয়।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো: গ) ভয়েস এবং ডেটা একসাথে।

 
 • ইন্টারনেটের সংযোগ পদ্ধতি:
- বর্তমানে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ধরনের পদ্ধতি আছে। বহুল প্রচলিত পদ্ধতিগুলো হলো-
১. ডায়াল আপ সিস্টেম (Dial-Up System)
২. আইএসডিএন (ISDN)
৩. ব্রডব্যান্ড (Broadband)
৪. ওয়াই-ফাই (Wi-Fi)
৫. ওয়াইম্যাক্স (WiMax)

• ISDN:
- ISDN-এর পূর্ণ অর্থ হচ্ছে Integrated Service Digital Network.
- এটি নিয়মিত টেলিফোনের বিকল্প এক ধরনের টেলিফোন সার্ভিস।
- ISDN-এর সুবিধা হচ্ছে এটি নিয়মিত টেলিফোন লাইনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দ্রুত ডেটা ট্রান্সমিশন বা আদান-প্রদান করতে পারে।
- তবে এটি সাধারণ টেলিফোন লাইনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল।
- বড় বড় প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ ডেটা আদান-প্রদান করেতে হয়, সেখানে এ ধরনের সার্ভিস ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

উৎস: মৌলিক কম্পিউটার শিক্ষা, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
ক্রায়োসার্জারির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কোনটি?
  1. ইথানল
  2. ফ্রেয়ন
  3. মিথেন
  4. নাইট্রোজেন
ব্যাখ্যা

• ক্রায়োসার্জারির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো নাইট্রোজেন (ঘ)। ক্রায়োসার্জারি হলো এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে অসুস্থ বা অস্বাভাবিক টিস্যুকে অত্যন্ত কম তাপমাত্রায়বা ধ্বংস করা হয়। এতে প্রায়শই তরল নাইট্রোজেন ব্যবহার করা হয়, কারণ এটি −১৯৬°C তাপমাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যা কোষের পানি তৎক্ষণাৎ করে দেয় এবং কোষ ধ্বংস করে। নাইট্রোজেনের এই চরম ঠান্ডা ক্ষমতার কারণে এটি অন্যান্য তাপমাত্রা হ্রাসকারী পদার্থের তুলনায় বেশি কার্যকর। অন্য বিকল্প যেমন ইথানল, ফ্রেয়ন বা মিথেন এই তাপমাত্রা পৌঁছাতে পারে না এবং তাই ক্রায়োসার্জারিতে সাধারণভাবে ব্যবহার হয় না। তাই, সঠিক এবং নিরাপদ ক্রায়োসার্জারির জন্য নাইট্রোজেনই মূল উপাদান।

• ক্রায়োসার্জারি:
- যে পদ্ধটিতে অত্যন্ত ঠান্ডা তাপমাত্রা প্রয়োগ করে ত্বকের অস্বাভাবিক এবং রোগাক্রান্ত টিস্যু ধ্বংস করা হয় তাকে ক্রায়োসার্জারি বলে।
- ক্রায়োসার্জারিকে ক্রায়োথেরাপিও বলা হয়।
- জেমস আরনট কর্তৃক মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় লবণ পানিকে জমাকৃত করে ব্যবহার করার পদ্ধতি বর্ণিত হওয়ার মাধ্যমে ১৮৪৫ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম ক্রায়োসার্জারির ব্যবহার শুরু হয়।
- গ্রিক শব্দ 'ক্রায়ো' (বরফের মতো ঠান্ডা) এবং 'সার্জারি' (হাতের কাজ) শব্দ দু'টি হতে ক্রায়োসার্জারি শব্দটি এসেছে।
- প্রায় বিগত ৪০ বছর ধরে প্রস্টেট ক্যান্সারের চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি ব্যবহার করা হচ্ছে
- ১৯২০ সালের দিকে ক্রায়োসার্জারিতে তরল অক্সিজেনের ব্যবহার শুরু হয়।
- ১৯৫০ সালে ড. রে এলিংটন সর্বপ্রথম ক্রায়োসার্জারিতে তরল নাইট্রোজেন প্রয়োগ করেন।
- ক্রায়োসার্জারিতে ব্যবহৃত প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন, তরল অবস্থায় প্রয়োগ করা হয়।
- পাইলস, চর্মরোগ, লিভার ক্যান্সার ইত্যাদি চিকিৎসায় ক্রায়োসার্জারি ব্যবহৃত হয়।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৪০.
দুটি ব্লুটুথ ডিভাইস একে অপরের সঙ্গে সংযোগ করার পদ্ধতিটিকে কী বলা হয়?
  1. ডিবাগিং
  2. লিঙ্কিং
  3. প্যায়ারিং
  4. বন্ডিং
ব্যাখ্যা

• দুটি ব্লুটুথ ডিভাইস একে অপরের সঙ্গে সংযোগ করার প্রক্রিয়াকে প্যায়ারিং (Pairing) বলা হয়। যখন দুটি ডিভাইস প্রথমবার একে অপরকে চিনে নেয়, তখন তারা এক ধরনের নিরাপদ চ্যানেল তৈরি করে ডেটা আদানপ্রদান করতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত একটি পাসকোড বা পিন ব্যবহার করা হয়, যা নিশ্চিত করে যে সংযোগটি অনুমোদিত এবং নিরাপদ। একবার প্যায়ারিং সম্পন্ন হলে, ডিভাইসগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভবিষ্যতে সংযুক্ত হতে পারে, ফলে বারবার অনুমোদনের প্রয়োজন হয় না। প্যায়ারিং ব্লুটুথ ডিভাইসগুলোর মধ্যে তথ্য, ফাইল বা অডিও ট্রান্সমিশনের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করে। তাই সঠিক উত্তর হলো গ) প্যায়ারিং।
 
• ব্লুটুথ (Bluetooth):
- ব্লুটুথ হলো স্বল্প দূরত্বের ভেতর বিনা খরচে ডেটা আদান-প্রদানের জন্য বহুলপ্রচলিত ওয়্যারলেস প্রযুক্তি।
- ব্লুটুথের সাহায্যে বিনা খরচে স্বল্প দূরত্বে থাকা আধুনিক প্রায় সকল ডিভাইস নিজেদের মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে ডেটা আদান-প্রদান করতে পারে বিধায় এটিকে তারবিহীন (Wireless) পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক (WPAN) প্রটোকল বলা হয়।
- Bluetooth এ Radio Frequency (RF) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
- Bluetooth 2.4GHz ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে।
- এটি প্রযুক্তিগতভাবে IEEE 802.15 নামে পরিচিত।
- Bluetooth কার্যকরী পাল্লা হচ্ছে ১০ মিটার। তবে বিদ্যুৎ কোষের শক্তি বৃদ্ধি করে এর পাল্লা ১০০ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যেতে পারে।
- বর্তমানে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, গেমিং কনসোল, ডিজিটাল ক্যামেরা, প্রিন্টার, ল্যাপটপ, জিপিএস রিসিভার প্রভৃতি যন্ত্রাদিতে Bluetooth প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২. তথ্য ও প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১.
সোফিয়া নামের রোবটটির নির্মাতা সংস্থা কোনটি?
  1. Hanson Robotics
  2. Yaskawa
  3. Boston Dynamics
  4. iRobot
ব্যাখ্যা

• সোফিয়া নামের রোবটটি Hanson Robotics নামের একটি হংকংভিত্তিক সংস্থার তৈরি। এটি সর্বজনীনভাবে পরিচিতি লাভ করে, বিশেষ করে মানুষের মতো মুখের অভিব্যক্তি প্রকাশ এবং কথোপকথনে সক্ষমতার জন্য। Hanson Robotics রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে বিশেষভাবে কাজ করে এবং মানবসদৃশ রোবট তৈরির লক্ষ্য রাখে। সোফিয়ার ডিজাইন এবং সফটওয়্যার এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি মানুষের মুখের মিমিক্রি করতে পারে, বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতে পারে এবং সামাজিক ইন্টারঅ্যাকশনে অংশগ্রহণ করতে পারে। অন্যদিকে, Yaskawa, Boston Dynamics, এবং iRobot আলাদা ধরনের রোবট তৈরি করে, যেমন শিল্প রোবট, চলাফেরার রোবট বা ঘরের স্বয়ংক্রিয় রোবট, তাই সোফিয়ার নির্মাতা শুধুমাত্র Hanson Robotics।

- উত্তর: ক) Hanson Robotics.

• রোবটিক্স (Robotics):
- প্রযুক্তির যে শাখায় রোবটের নকশা, গঠন, পরিচালনা ও প্রয়োগের বিষয় আলোচনা করা হয়, তাকে রোবটিক্স বলা হয়।
- রোবট হলো কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত একটি ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল যন্ত্র, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের মতো কাজ করতে সক্ষম।
- 'রোবটিক্স' শব্দটি এসেছে 'রোবট' থেকে, যা প্রথম ব্যবহার করা হয় চেক লেখক কারেল কাপেকের ১৯২০ সালে প্রকাশিত নাটকে।
- রোবট শব্দটি স্লাভিক শব্দ "Robota" থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ 'শ্রমিক'।
- অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি অনুযায়ী, 'রোবটিক্স' শব্দটি প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৯৪১ সালে আইজাক অসিমভের সায়েন্স ফিকশন "লায়ার"-এ।

• রোবট সোফিয়া:
- রোবট সোফিয়া তৈরি করেছে হংকং ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হ্যানসন রোবটিকস।
- এর মূল নির্মাতা ডেভিড হ্যানসন (David Hanson)।
- রোবট সোফিয়াকে নকশা করা হয় হলিউডের ব্রিটিশ অভিনয় শিল্পী অড্রে হেপবার্ন এর মত করে।
- রোবট সোফিয়াকে ২০১৫ সালের ১৯ এপ্রিল থেকে সক্রিয় করা হয়।
- ২০১৭ সালের অক্টোবরে সৌদি আরবের নাগরিকত্ব দেয়া হয় এই রোবটকে এবং এটিই প্রথম রোবট যে কোন দেশের নাগরিকত্ব লাভ করে।
- ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি উৎসব ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডে অংশ নিয়েছে সিঙ্গাপুরের তৈরি ও সৌদি আরবের নাগরিকত্ব পাওয়া এই রোবট সোফিয়া। এটি প্রায় ৫০ ধরনের ভাবভঙ্গি দেখাতে পারে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৪২.
EDGE কোন মোবাইল প্রযুক্তির আপগ্রেডেড রূপ?
  1. GSM
  2. LTE
  3. CDMA
  4. Wi-Fi
ব্যাখ্যা

• EDGE (Enhanced Data rates for GSM Evolution) হলো GSM প্রযুক্তির আপগ্রেডেড রূপ। এটি ২জি (2G) নেটওয়ার্কের তুলনায় দ্রুত ডাটা ট্রান্সফার সক্ষমতা দেয়। মূলত এটি সেলুলার নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ইমেল পাঠানো এবং মিডিয়ার ছোট ফাইল ডাউনলোডের জন্য ব্যবহৃত হয়। EDGE প্রযুক্তি GPRS-এর চেয়ে তিনগুণ বেশি ডাটা স্পিড দিতে পারে এবং এটি “২.৫জি” (2.5G) হিসেবে পরিচিত। এটি মূলত GSM নেটওয়ার্কের উপর ভিত্তি করে তৈরি, তাই GSM ব্যবহারকারীরা সহজেই EDGE-এর সুবিধা নিতে পারে। LTE, CDMA বা Wi-Fi এর সাথে EDGE সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

- সঠিক উত্তর: ক) GSM.

• EDGE:
- জিপিআরএস এর চাইতে উন্নত মোবাইল ফোন প্রযুক্তি হলো ইডিজিই।
- EDGE এর পুরো অর্থ হলো Enhanced Data rates for GSM Evolution।

• ইডিজিই এর বৈশিষ্ট্য (Features of EDGE):
১. এটি স্ট্যান্ডার্ড GPRS এর চাইতে চারগুণ বেশি ট্রাফিক বহন করতে পারে।
২. থ্রিডি নেটওয়ার্কের জন্য ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স ইউনিয়ন এর চাহিদাগুলো EDGE পূরণ করেছে।
৩. ৯টি মডুলেশন ও কোডিং স্কিম ব্যবহার করে।
৪. বড় আকারের চিপ ভেন্ডরদের দ্বারা GSM এবং WCDMA/HSPA উভয়টির জন্যই বর্তমানে EDGE সমর্থন করে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৩.
সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে উচ্চ স্তরের পোগ্রামিং ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়?
  1. MongoDB
  2. Redis
  3. PostgreSQL
  4. C++
ব্যাখ্যা

• উত্তর হলো: ঘ) C++

C++ হলো একটি উচ্চ স্তরের প্রোগ্রামিং ভাষা যা সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে ব্যবহৃত হয়। এটি সাধারণত জটিল এবং বড় সফটওয়্যার, যেমন অপারেটিং সিস্টেম, গেম, ডাটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, এবং অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যার তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। C++ প্রোগ্রামারদের মেমোরি ম্যানেজমেন্ট নিয়ন্ত্রণের সুবিধা দেয় এবং অবজেক্ট-ওরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং (OOP) সমর্থন করে।
- অন্যদিকে, MongoDB এবং Redis হলো ডাটাবেস প্রযুক্তি, এবং PostgreSQL হলো রিলেশনাল ডাটাবেস, যেগুলো প্রোগ্রামিং ভাষা নয়। তাই সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টে কোড লেখার জন্য ব্যবহৃত উচ্চ স্তরের ভাষা হিসেবে C++ ব্যবহৃত হয়।

• উচ্চ স্তরের ভাষা:
- হাই-লেভেল বা উচ্চ স্তরের ভাষা কোন সংকেত বা সাংকেতিক কোড নির্ভর নয়।
- মেশিন বা অ্যাসেম্বলি ভাষার প্রধান অসুবিধা হলো, এক ধরনের কম্পিউটারের জন্য প্রোগ্রাম অন্য ধরনের কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায় না।
- তাছাড়া মেশিন ও অ্যাসেম্বলি ভাষায় প্রোগ্রাম লিখা অনেক কষ্টকর ও শ্রমসাধ্য ব্যাপার।
- এছাড়া মানুষের পক্ষে লো-লেভেল ভাষা বোঝা সহজসাধ্য নয়।
- এই অসুবিধা দুর করার জন্য উচ্চ স্তরের ভাষার উদ্ভব হয়।
- এই স্তরের ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম বিভিন্ন ধরনের মেশিনে ব্যবহার করা সম্ভব।
- উচ্চ স্তরের ভাষা মানুষের ভাষার (যেমন- ইংরেজি ভাষা) সাথে মিল রেখে তৈরি করা হয়েছে।
- কম্পাইলার বা ইন্টারপ্রেটার নামক প্রোগ্রাম ব্যবহার করে এ ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম মেশিনের ভাষায় অনুবাদ করা হয়।
- ফলে কম্পিউটার এ জাতীয় প্রোগ্রাম বুঝতে পারে।

• উচ্চ স্তরের ভাষার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ভাষা হচ্ছে:
- BASIC,
- COBOL,
- FORTRAN,
- PASCAL,
- C++,
- JAVA,
- PROLOG ইত্যাদি।

• উচ্চ স্তরের ভাষার সুবিধা:
- এ ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম যে কোনো কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায়।
- এ ভাষায় প্রোগ্রাম রচনা সহজ ও যুক্তিনির্ভর।
- প্রোগ্রামের ভুল নির্ণয় ও সংশোধন অপেক্ষাকৃত সহজ।
- উচ্চ স্তরের ভাষায় অসংখ্য লাইব্রেরি ফাংশনের সুবিধা আছে।
- প্রোগ্রাম লেখার সময় কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে ধারণার প্রয়োজন নেই।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- PostgreSQL, Redis, MongoDB এগুলো হচ্ছে ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সফটওয়্যার।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান।

৪৪.
কোন ধরনের ট্রান্সফার সিস্টেমে প্রেরক একবারে একটি অক্ষর গ্রাহকের কাছে পাঠায়?
  1. আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন
  2. অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন
  3. সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

• যে ধরনের ট্রান্সফার সিস্টেমে প্রেরক একবারে একটি অক্ষর পাঠায় তা হলো অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন। এতে ডেটা স্টিম ছোট ছোট ইউনিট বা চর হিসেবে প্রেরিত হয়, সাধারণত এক অক্ষর বা এক বাইট। প্রতিটি ইউনিটের আগে এবং পরে স্টার্ট এবং স্টপ বিট থাকে, যা প্রেরক ও গ্রাহকের মধ্যে সময় সমন্বয় নিশ্চিত করে। এই পদ্ধতিতে প্রেরক ও গ্রাহকের ঘড়ি মিলানো প্রয়োজন হয় না, তাই এটি সহজ এবং ছোট ডেটা ট্রান্সমিশনের জন্য উপযুক্ত। আইসোক্রোনাস বা সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনে ডেটা ধারাবাহিকভাবে ব্লক আকারে পাঠানো হয়, যেখানে একবারে কেবল একটি অক্ষর প্রেরণ হয় না।
- তাই প্রশ্ন অনুযায়ী সঠিক উত্তর হলো খ) অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন।

• অ্যাসিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন: 
- এ পদ্ধতিতে প্রেরক হতে গ্রাহকে একটি একটি করে ক্যারেক্টার পাঠানো হয়।
- এ ধরনের ট্রান্সমিশনে যে কোন সময় ডাটা প্রেরণ ও গ্রহণ সম্ভব।
- এক্ষেত্রে প্রতিটি ক্যারেক্টারের সাথে একটি স্টার্ট বিট ও একটি স্টপ বিট পাঠানো হয়।
- প্রতিটি ক্যারেক্টার পাঠানোর মাঝখানে সময়ের ব্যবধান সমান হয় না।

উল্লেখ্য,
- সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন: যে ট্রান্সমিশনের ক্ষেত্রে ক্যারেক্টারগুলো সংরক্ষণ করে কমপক্ষে ৮০ থেকে ১৩২ টি ক্যারেক্টারের ব্লক/ প্যাকেট করে এবং প্রতিটি ব্লক/প্যাকেট সমান বিরতিতে স্থানান্তর করে তাকে সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশন বলে।
- আইসোক্রোনাস ট্রান্সমিশন: এটিও সিনক্রোনাস ট্রান্সমিশনের মতো অনেকগুলো ক্যারেক্টার একত্রিত করে একটি ব্লক/প্যাকেট তৈরি করে ট্রান্সমিশন করে কিন্তু প্রতিটি ব্লক/প্যাকেট বিরতিহীনভাবে স্থানান্তরিত হয়। 

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়।

৪৫.
ডাক্তার রোগীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগাযোগ করে চিকিৎসা দিলে তাকে কী বলা হয়?
  1. ই-হেলথ
  2. ডিজিটাল হেলথ
  3. টেলিযোগাযোগ
  4. টেলিমেডিসিন
ব্যাখ্যা

• রোগীর সঙ্গে ডাক্তার ভিডিও কনফারেন্স বা অনলাইন মাধ্যমে যোগাযোগ করে চিকিৎসা দিলে তাকে টেলিমেডিসিন বলা হয়। এটি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের একটি ডিজিটাল মাধ্যম, যেখানে রোগী এবং ডাক্তার একই স্থানে না থাকলেও রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ, এবং চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় থাকা মানুষরাও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের সেবা নিতে পারে, সময় ও ভ্রমণের খরচ কমে। এটি মূলত ইন্টারনেট, কম্পিউটার, স্মার্টফোন এবং ভিডিও কল প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে। বর্তমান যুগে টেলিমেডিসিন স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, বিশেষ করে করোনা মহামারীর সময়।

- সঠিক উত্তর: ঘ) টেলিমেডিসিন।

• টেলিমেডিসিন:
- টেলিমেডিসিন হলো তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে অবস্থানরত রোগীদেরকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দ্বারা চিকিৎসাসেবা প্রদান করা।
- মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের উন্নত ব্যবহারের মাধ্যমে এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই চিকিৎসাসেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।
- এর মাধ্যমে চিকিৎসকরা দূরবর্তী অবস্থান থেকেও রোগী পরামর্শ, চিকিৎসা শিক্ষা আদান-প্রদান, রোগীর চিকিৎসার তথ্য সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণ করতে পারেন।
- ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে রোগীকে চাক্ষুষ দেখা এবং ই-মেইলের মাধ্যমে রিপোর্ট ও পরামর্শপত্র আদান-প্রদান করা সম্ভব হয়।

• এ ধরনের উল্লেখযোগ্য সেবাগুলোর মধ্যে:
- Teledoc,
- Maven,
- Clinic,
- iClinic, MDlive,
- Amwell,
- Doctor on Demand ইত্যাদি প্ল্যাটফর্ম রয়েছে।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মাহবুবুর রহমান।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, NCTB.

৪৬.
কোন প্রযুক্তি ‘Pay as you go’ স্টাইলের সার্ভিস প্রদান করে?
  1. Cloud Computing
  2. Software Development
  3. Client Server System
  4. Web Hosting Services
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো ক) Cloud Computing.

Cloud Computing বা ক্লাউড কম্পিউটিং এমন একটি প্রযুক্তি যা ব্যবহারকারীদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে সার্ভিস প্রদান করে, যেখানে তারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী রিসোর্স ব্যবহার করতে পারে এবং ব্যবহারের ভিত্তিতে অর্থ প্রদান করে। এই ‘Pay as you go’ মডেল অর্থাৎ ব্যবহার অনুযায়ী পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যবহারকারীদের অপ্রয়োজনীয় খরচ কমাতে সাহায্য করে। ক্লাউড কম্পিউটিং-এ স্টোরেজ, সার্ভার, ডাটাবেস, সফটওয়্যার এবং নেটওয়ার্কিং সুবিধা অনলাইনেই প্রদান করা হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের হার্ডওয়্যার ইনভেস্টমেন্ট ছাড়াই প্রয়োজনীয় রিসোর্স পেতে পারে এবং তাদের চাহিদা অনুযায়ী সহজে স্কেল করতে পারে। অন্যান্য বিকল্প যেমন Software Development, Client Server System বা Web Hosting Services সব ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যবহার ভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সাধারণ নয়।

• ক্লাউড কম্পিউটিং:
- ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ স্ট্যান্ডার্ড এন্ড টেস্টিং(NIST) এর মতে ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ক্রেতার তথ্য ও বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনকে কোন সেবাদাতার সিস্টেমে আউটসোর্স করার এমন একটি মডেল।

• ক্লাউড কম্পিউটিং এ নিম্মোক্ত ৩ টি বৈশিষ্ট্য থাকবে। যথা:
১. Resource Flexibility/Scalability (যত চাহিদা তত সার্ভিস):
- ছোট বা বড় যাই হোক, ক্রেতার সব ধরনের চাহিদাই মেটানো হবে, ক্রেতা যত চাইবে সেবা দাতা ততই অধিক পরিমাণে সেবা দিতে পারবে।

২. On Demand (যখন চাহিদা তখন সার্ভিস):
- ক্রেতা যখন চাইবে, তখনই সেবা দিতে পারবে।
- ক্রেতা তার ইচ্ছা অনুযায়ী যখন খুশি তার চাহিদা বাড়াতে বা কমাতে পারবে।

৩. Pay as you go (যখন ব্যবহার তখন মূল্যশোধ):
- এটা একটি পেমেন্ট মডেল।
- ক্রেতাকে আগে থেকে কোন সার্ভিস রিজার্ভ করতে হবে না।
- ক্রেতা যা ব্যবহার করবে কেবলমাত্র তার জন্যই পেমেন্ট দিতে হবে।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭.
কোন প্রোগ্রাম নেমোনিক কোডকে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজের অবজেক্ট প্রোগ্রামে পরিবর্তন করে?
  1. লিঙ্কার
  2. ইন্টারপ্রেটার
  3. কম্পাইলার
  4. অ্যাসেম্বলার
ব্যাখ্যা

• নেমোনিক কোড বা অ্যাসেম্বলি ল্যাঙ্গুয়েজ হলো মানুষের জন্য পড়ার সুবিধা মতো লেখা নির্দেশনার একটি সেট, যা সরাসরি কম্পিউটারের মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে কাজ করে না। এই নেমোনিক কোডকে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজের অবজেক্ট প্রোগ্রামে রূপান্তর করার জন্য অ্যাসেম্বলার ব্যবহার করা হয়। অ্যাসেম্বলার প্রতিটি নেমোনিক নির্দেশকে তার সমতুল্য বাইনারি কোডে অনুবাদ করে, ফলে কম্পিউটার সেই প্রোগ্রামকে সরাসরি চালাতে পারে। অন্যদিকে লিঙ্কার, ইন্টারপ্রেটার বা কম্পাইলার আলাদা কাজ করে, যেমন ফাইল যুক্ত করা, সোর্স কোড সরাসরি চালানো বা হাই লেভেল ভাষা থেকে মেশিন কোডে রূপান্তর করা।
- সুতরাং সঠিক উত্তর হলো ঘ) অ্যাসেম্বলার।

• অনুবাদক প্রোগ্রাম:
- যে প্রোগ্রাম এর মাধ্যমে উৎস বা সোর্স প্রোগ্রামকে বস্তু বা অবজেক্ট প্রোগ্রামে রুপান্তরিত করা হয়, তাকে অনুবাদক প্রোগ্রাম বলা হয়।
- হাই-লেভেল এর ভাষা কে মেশিন ভাষায় রুপান্তরিত করার জন্য অনুবাদক প্রোগ্রাম এর প্রয়োজন পরে।

• তিন ধরনের অনুবাদক প্রোগ্রাম রয়েছে:
১. কম্পাইলার:
- কম্পাইলার হল এমন একটি অনুবাদক যা সোর্স প্রোগ্রামকে একসাথে সম্পূর্ণরূপে মেশিনের ভাষায় অনুবাদ করে একটি অবজেক্ট প্রোগ্রাম তৈরি করে এবং একটি এক্সিকিউশন ফাইল (.exe) তৈরি করে।

২. ইন্টারপ্রেটার:
- ইন্টারপ্রেটার উচ্চতর ভাষাকে মেশিন ভাষায় রূপান্তর করে, তবে কম্পাইলার যেমন, প্রথমে সোর্স প্রোগ্রামকে অবজেক্ট প্রোগ্রামে রূপান্তর করে এবং শেষে ফলাফল প্রদান করে কিন্তু ইন্টারপ্রেটার সোর্স প্রোগ্রামকে অবজেক্ট প্রোগ্রামে রূপান্তর করে না। প্রোগ্রামে রূপান্তর করে না।
- ইন্টারপ্রেটার এক লাইন করে সম্পাদন করে এবং তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদান করে।

৩. অ্যাসেম্বলার:
- অ্যাসেম্বলার হচ্ছে অ্যাসেম্বলি ভাষায় লিখিত উৎস প্রোগ্রাম অর্থাৎ নেমোনিক কোডকে মেশিনের ভাষায় লিখিত অবজেক্ট প্রোগ্রামে রূপান্তর করা এক ধরনের অনুবাদক প্রোগ্রাম।

উৎস:
১. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান, একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি।
২. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৮.
'X' (টুইটার) এর বর্তমান সিইও কে? (জানুয়ারি, ২০২৬)
  1. Mark Zuckerberg
  2. Linda Yaccarino
  3. Ryan Roslansky
  4. Elon Musk
ব্যাখ্যা

• 'X' (টুইটার) এর বর্তমান সিইও (জানুয়ারি, ২০২৬) - Linda Yaccarino.
-
X’ (পূর্বে টুইটার) হলো একটি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ এবং মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম, যা ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ব্যবহারকারীদের ছোট ছোট পোস্ট বা ‘টুইট’ করার সুযোগ দেয়, যা পূর্বে ১৪০ অক্ষরের সীমায় ছিল এবং বর্তমানে ২৮০ অক্ষরে বৃদ্ধি পেয়েছে। টুইটারের সদর দপ্তর সানফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে এই প্ল্যাটফর্মটি সোশ্যাল মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে। জানুয়ারি ২০২৬ অনুযায়ী, ‘X’-এর বর্তমান সিইও হলেন লিন্ডা ইয়াকারিনো (Linda Yaccarino), যিনি ২০২৩ সালের ৫ জুন থেকে এই পদটি গ্রহণ করেন। তিনি টুইটারের কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক দিকসমূহ পরিচালনা করছেন।

- উত্তর: খ) Linda Yaccarino.

• 'X' (টুইটার):
- টুইটারের পরিবর্তিত নাম 'X'.
- 'X' (টুইটার) হচ্ছে সামাজিক আন্ত:যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মাইক্রোব্লগিংয়ের ওয়েবসাইট।
- টুইটারের বর্তমান সিইও Linda Yaccarino. তিনি ২০২৩ সালের ৫ জুন সিইও'র দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
- টুইটারের অপর নাম ইন্টারনেটের এসএমএস।
- টুইটার চালু হয় ১৫ জুলাই, ২০০৬ সালে (তবে প্রতিষ্ঠিত হয় ২১ মার্চ, ২০০৬ সালে)।
- টুইটারের সদর দপ্তর সানফ্রান্সিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।
- জ্যাক ডরসি, নোয়ান গ্লাস, বিজ স্টোন, ইভান উইলিয়ামস টুইটার প্রতিষ্ঠা করেন।
- টুইটারে ফেসবুকের মতো পোস্টকে টুইট (Tweet) বলা হয়।
- 'X' (টুইটার ) এ ব্যবহারকারীর টুইটের সীমাবদ্ধতা ২৮০ অক্ষর (পূর্বে ১৪০ অক্ষর ছিল)।

• অন্যান্য অপশন আলোচনা:
- Elon Musk 'X' এর বর্তমান চেয়ারম্যান (জানুয়ারি, ২০২৬)।
- Ryan Roslansky হচ্ছে LinkedIn এর বর্তমান সিইও (জানুয়ারি, ২০২৬)।
- Mark Zuckerberg ফেসবুকের বর্তমান নাম ‘মেটা' এর প্রতিষ্ঠাতা।

উৎস: টুইটারের ওয়েবসাইট।

৪৯.
কোন প্রোগ্রামিং ভাষায় সবকিছুকে বাইনারি (১ এবং ০) আকারে প্রকাশ করা হয়?
  1. Machine Language
  2. Python Language
  3. High Level Language
  4. Assembly Language
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর হলো ক) Machine Language.

মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজ হল কম্পিউটারের মূল ভাষা, যা সরাসরি হার্ডওয়্যারের জন্য বোঝার যোগ্য। এখানে সবকিছু বাইনারি সংখ্যা, অর্থাৎ ১ এবং ০ এর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। কম্পিউটার প্রসেসর শুধুমাত্র এই বাইনারি নির্দেশনা পড়তে এবং সম্পাদন করতে পারে। অন্যদিকে, Python বা অন্যান্য High Level Languages (যেমন C++, Java) মানুষদের জন্য সহজবোধ্য, কিন্তু এগুলো সরাসরি কম্পিউটার বুঝতে পারে না; এগুলোকে Compiler বা Interpreter দিয়ে মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজে রূপান্তর করতে হয়। Assembly Language হলো Low Level Language, যা কিছুটা মানুষের পড়ার মতো, কিন্তু শেষে মেশিন কোডে কম্পাইল হয়। মেশিন ল্যাঙ্গুয়েজই একমাত্র ভাষা যা সরাসরি কম্পিউটারের জন্য কার্যকর।

• মেশিন ভাষা:
- কম্পিউটারে সবচেয়ে নিচের স্তরের ভাষা হলো মেশিন ভাষা।
- কম্পিউটারের নিজস্ব ভাষাকে মেশিন ভাষা বা নিম্নস্তরের ভাষা বলা হয়।
- কম্পিউটারের মৌলিক ভাষা হলো এই নিম্নস্তরের ভাষা।
- এ ভাষায় বাইনারি সংখ্যা (1) এবং (0) অথবা হেক্সাডেসিম্যাল পদ্ধতি ব্যবহার করে সবকিছু লেখা হয়।
- কম্পিউটার শুধুমাত্র মেশিন ভাষাই বুঝতে পারে।
- কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ কার্যনির্বাহের জন্য বিদ্যুৎ তরঙ্গের পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সাথে মেশিনের ভাষার সরাসরি মিল রয়েছে।

• মেশিন ভাষার সুবিধা:
- এই ভাষা দিয়ে সরাসরি মেমোরি অ্যাড্রেসের সাথে সংযোগ সাধন সম্ভব।
- সবচেয়ে কম পরিমাণ লজিক ও কম মেমোরিতে এই ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম নির্বাহ করা যায়।
- এ ভাষায় লিখিত প্রোগ্রাম নির্বাহের জন্য অনুবাদক প্রোগ্রাম দরকার হয় না।
- মেশিন ভাষা অন্যান্য ভাষা থেকে দ্রুত কাজ করে।

• মেশিন ভাষার অসুবিধা:
- এই ভাষায় প্রোগ্রাম লেখা অত্যন্ত ক্লান্তিকর ও সময়সাপেক্ষ।
- এক ধরনের মেশিনের জন্য লিখিত প্রোগ্রাম অন্য ধরনের মেশিনে ব্যবহার করা যায় না।
- মেশিন ভাষায় প্রোগ্রাম লিখতে দক্ষ প্রোগ্রামার প্রয়োজন।
- প্রোগ্রামের ভুল-ত্রুটি সনাক্ত ও সংশোধন কষ্টসাধ্য।

উৎস: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।