পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫ টপিক: বঙ্গভঙ্গ থেকে দেশভাগ বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী রাজনীতি ও অন্যান্য, বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ (ফসল, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) [Live Class - 8 & 9 ক্লাস মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন-
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2.  খাজা নাজিমউদ্দিন
  3. এ.কে. ফজলুল হক
  4.  নূরুল আমিন
ব্যাখ্যা

অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন- এ.কে. ফজলুল হক।
------------------- 
• এ. কে. ফজলুল হক:
- শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ছিলেন অবিভক্ত বাংলার একজন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও জননেতা।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে একটি সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- রাজনৈতিক জীবনে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

- ১৯১৬ সালে লক্ষ্ণৌ শহরে লীগ–কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে তিনি যে প্রস্তাব উত্থাপন করেন, তা ইতিহাসে বিখ্যাত লক্ষ্ণৌ চুক্তি নামে পরিচিত।
- পরে ১৯২৫ সালে তিনি বাংলার মন্ত্রিসভার সদস্য মনোনীত হন।
- কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি ১৯২৭ সালে কৃষক-প্রজা পার্টি নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
- ১৯৩৫ সালে তিনি কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন।

- ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি যুক্তফ্রন্ট দলের নেতৃত্ব দিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- পরবর্তীতে ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

- বাংলার এই প্রখ্যাত নেতা শের-ই-বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল প্রায় ৮৯ বছর বয়সে ঢাকার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।
----------------
অন্যদিকে, 
- ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন- নূরুল আমিন। 
- ভাষা আন্দোলনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন- খাজা নাজিম উদ্দীন। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

.
বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয় কবে?
  1. ১৯০৪ সালে 
  2. ১৯০৫ সালে 
  3. ১৯০৯ সালে
  4. ১৯১১সালে 
ব্যাখ্যা

বঙ্গভঙ্গ ও বঙ্গভঙ্গ রদ:
- ব্রিটিশ শাসনামলে বাংলাকে ভাগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড কার্জন।
- বাংলা ছিল অত্যন্ত বড় একটি প্রদেশ—এর অন্তর্ভুক্ত ছিল পূর্ব ও পশ্চিম বাংলা ছাড়াও বিহার ও উড়িষ্যা।
- এত বিশাল অঞ্চল কলকাতা কেন্দ্রিক প্রশাসনের মাধ্যমে সুশাসন করা কঠিন ছিল।
- বিশেষ করে পূর্ব বাংলা ও আসাম অঞ্চল দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল।
- এই সমস্যার সমাধান হিসেবে কার্জন প্রস্তাব দেন বাংলাকে ভাগ করে একটি নতুন প্রদেশ গঠনের—যার নাম হবে পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ।
- এর রাজধানী নির্ধারিত হয় ঢাকা।
- এবং শাসনভার দেওয়া হয় একজন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে।
- এই ঘোষণায় পূর্ববঙ্গের মানুষ, বিশেষত মুসলমান সমাজ, আশাবাদী হয়ে ওঠে। 

- লর্ড কার্জন ১৯০৪ সালে বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাব প্রস্তুত করেন এবং সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে পূর্ববঙ্গ সফর করেন।
- ঢাকায় এসে তিনি উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে একটি টাউন হল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন, যা পরে তাঁর নামানুসারে কার্জন হল নামে পরিচিত হয়।
- ১৯০৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়।

- তবে বাংলার শিক্ষিত ও অভিজাত হিন্দু সমাজের বড় অংশ এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে।
- তাঁদের মতে, বঙ্গভঙ্গ ছিল ‘ভাগ করে শাসন করো’ নীতির অংশ—হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে ব্রিটিশ শাসন টিকিয়ে রাখার কৌশল।
- ক্রমে বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলন তীব্র হয়।
- এবং এক পর্যায়ে তা সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের রূপ নেয়।
- পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।

উৎস: ইতিহাস, SSC প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়—
  1. ১৯০৫ সালের ২০ ডিসেম্বর 
  2. ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর 
  3. ১৯০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর
  4. ১৯১২ সালের ২৫ ডিসেম্বর 
ব্যাখ্যা

 মুসলিম লীগ:
- নিখিল ভারত মুসলিম লীগ ছিল ব্রিটিশ ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল।
- এই দল পরবর্তীকালে ভারত উপমহাদেশে মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পেছনে প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।
- এই দলটি ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ১৯০৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলনে ঢাকার তৎকালীন নবাব নবাব স্যার সলিমুল্লাহ মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠন গঠনের প্রস্তাব দেন।
- তাঁর এই প্রস্তাবের ভিত্তিতেই মুসলিম লীগের জন্ম হয়।
- মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন নবাব ভিকার-উল-মুলক এবং সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান।
- মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগে যোগ দেন অনেক পরে, ১৯১৩ সালে। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

.
লক্ষ্মৌ চুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য কোনটি?
  1. সামরিক শক্তি বৃদ্ধি
  2. ব্রিটিশ শাসন জোরদার
  3. প্রাদেশিক বিভাজন 
  4. ঐক্য গড়ে তোলা
ব্যাখ্যা

লক্ষ্মৌ চুক্তি:
- ১৯১৬ সালের লক্ষ্মৌ চুক্তি ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে হিন্দু–মুসলিম ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
- এই চুক্তির মূল লক্ষ্য ছিল-
- ভারতের বিভিন্ন জাতি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা,
- পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা,
- এবং সম্মিলিতভাবে স্বরাজ বা আত্মশাসন অর্জনের পথ সুগম করা।

- ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ ১৯১১ সালে রদ হওয়ায় মুসলমান সমাজের মধ্যে গভীর হতাশা সৃষ্টি হয়।
- এর পাশাপাশি ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করতে বাধ্য হয়।
- ফলে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি নতুন সমঝোতার পরিবেশ গড়ে ওঠে।
- এই প্রেক্ষাপটে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস ও নিখিল ভারত মুসলিম লীগ—উভয়েই পারস্পরিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।
- ১৯১৬ সালের ডিসেম্বরে লক্ষ্মৌ শহরে দুই দল একযোগে তাদের বার্ষিক অধিবেশন আয়োজন করে।
- এবং আলোচনার মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছায়, যা ইতিহাসে লক্ষ্মৌ চুক্তি নামে পরিচিত।

- এই চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস মুসলিম লীগের পৃথক নির্বাচনী ব্যবস্থা ও মুসলমানদের ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের দাবিকে স্বীকৃতি দেয়।
- অন্যদিকে মুসলিম লীগ কংগ্রেসের সঙ্গে একত্রে সাংবিধানিক সংস্কার ও স্বশাসনের দাবিতে আন্দোলন চালাতে সম্মত হয়।
- এর ফলে হিন্দু–মুসলিম রাজনৈতিক ঐক্য দৃঢ় হয়।
- এবং ব্রিটিশ সরকারের ওপর সাংবিধানিক সংস্কার আনার জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
খিলাফত আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. মাওলানা আবুল কালাম আজাদ 
  3. তিতুমীর 
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

 খিলাফত আন্দোলন:
- ১৯২০ সালে সেভার্স চুক্তি অনুযায়ী ব্রিটিশ সরকার ও জোট শক্তির কারণে তুরস্ক (অটোমান সাম্রাজ্য)কে ভেঙে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়।
- এর ফলে ভারতের মুসলিমরা উদ্বিগ্ন হন।
- কারণ তারা তুরস্কের সুলতানকে মুসলিম বিশ্বের খলিফা বা ধর্মীয় নেতা হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন।
- ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় মনে করেছিল, খলিফা বা খলিফার মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হলে ধর্মীয় কর্তৃত্ব হ্রাস পাবে।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক জার্মানির পাশে থাকায় ভারতীয় মুসলিমদের অবস্থান জটিল হয়ে পড়ে।
- ধর্মীয় আনুগত্যের কারণে তারা খলিফার প্রতি অনুগত থাকতে চায়।
- কিন্তু রাজনৈতিক কারণে ব্রিটিশ সরকারেরও সমর্থন করতে বাধ্য।
- যুদ্ধে জার্মানির পরাজয় ও সেভার্স চুক্তি মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে।
- এই প্রেক্ষাপটে খিলাফত আন্দোলন গড়ে ওঠে।
- এটি মূলত ভারতীয় মুসলিমদের মধ্যে প্যান-ইসলামি রাজনৈতিক আন্দোলন।

- আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল খলিফার মর্যাদা রক্ষা ও ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে প্রভাবিত জনমত সৃষ্টি করা।
- অন্দোলনের নেতৃত্ব দেন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। 
- তাঁর সহযোগীও- দুই ভাই মাওলানা শওকত আলী ও মাওলানা মোহাম্মদ আলী- আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। 
- আন্দোলন মুসলিমদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গেও সংযুক্ত ছিল। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী। 

.
অসহযোগ আন্দোলনের নেতা কে ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী
  2. জওহরলাল নেহরু
  3. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
  4. বিপিনচন্দ্র পাল 
ব্যাখ্যা

অসহযোগ আন্দোলন:
-  অসহযোগ আন্দোলন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের মধ্যে অহিংস প্রতিরোধ, রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণমানুষকে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে একত্রিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত। 
- ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধী ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন।
- এই আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল- ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে অহিংস প্রতিবাদ এবং সরকারি কার্যক্রমে কোনো সহযোগিতা না করা।
- ১৯২১–২২ খ্রিস্টাব্দে আন্দোলনটি সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- তবে ১৯২১ সালে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা এলাকায় অহিংস আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেওয়ায় গান্ধী হঠাৎ করে আন্দোলন বন্ধের ঘোষণা দেন।
- ১৯২২ সালে মহাত্মা গান্ধী গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়।
---------------------
উল্লেখ্য,
• মহাত্মা গান্ধী:
- মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী, যিনি মহাত্মা গান্ধী নামেও পরিচিত।
- তিনি অহিংস প্রতিরোধ আন্দোলনের একজন প্রবক্তা এবং ভারত রাষ্ট্রের জনক।
- তিনি ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতের গুজরাট রাজ্যের পোরবন্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে “মহাত্মা” উপাধি প্রদান করেন।
- দক্ষিণ আফ্রিকায় গান্ধী “নাটাল ইন্ডিয়ান কংগ্রেস” নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে ‘Indian Opinion’ পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।
- তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতীয়দের উপর বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে সত্যাগ্রহ আন্দোলন শুরু করেন।
- ১৯১০ সালে তিনি তলস্তয় ফার্ম (Tolstoy Farm) নামে একটি আশ্রম স্থাপন করেন, যেখান থেকেই আন্দোলন পরিচালিত হতো।
- এছাড়াও সেখানে তিনি “দ্যা ক্রনিকল” নামের একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বেঙ্গল প্যাক্টের মূল উদ্দেশ্য কি ছিল?
  1. ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন
  2. অর্থনৈতিক চুক্তি সম্পাদন করা
  3. হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের ঐক্য 
  4. ভারতের স্বাধীনতা 
ব্যাখ্যা

বেঙ্গল প্যাক্ট:
- ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেঙ্গল প্যাক্ট (১৯২৩) একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
- দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস ছিলেন অসাম্প্রদায়িক ও উদার মনের রাজনীতিবিদ।
- তিনি বিশ্বাস করতেন যে ব্রিটিশ শাসন থেকে ভারতবাসীকে মুক্ত ও স্বাধীন করতে হলে হিন্দু-মুসলমান ঐক্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অপরিহার্য।
- এই দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি স্যার আব্দুর রহিম, স্যার আব্দুল করিম, মাওলানা আকরাম খান, মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদী, মৌলভী মজিবর রহমান প্রমুখ মুসলমান নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
- এর ফলশ্রুতিতে ১৯২৩ সালে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পাদিত হয়, যা বেঙ্গল প্যাক্ট নামে পরিচিত।

- চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল-
- হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা ও সমঝোতা প্রতিষ্ঠা করা;
- এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের পিছিয়ে পড়া অংশকে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার মাধ্যমে সমানভাবে উন্নয়নের পথ সুগম করা।
- এই চুক্তি হিন্দু-মুসলমান সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

.
লাহোর প্রস্তাবে কোন তত্ত্বের রাজনৈতিক রূপ প্রকাশ পায়?
  1. সাম্যবাদ তত্ত্ব
  2. দ্বি-জাতি তত্ত্ব
  3. ধর্মনিরপেক্ষতা তত্ত্ব
  4. একজাতি তত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• লাহোর প্রস্তাব:
- লাহোর প্রস্তাব ভারতীয় উপমহাদেশে বসবাসকারী মুসলমানদের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে নির্দেশ করে।
- ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ অধিবেশনে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী শেরে বাংলা আবুল কাশেম ফজলুল হক প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।
- অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেছিলেন মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, এবং চৌধুরী খালিকুজ্জামানসহ অন্যান্য মুসলিম নেতৃবৃন্দ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।

- লাহোর প্রস্তাব মূলত জিন্নাহর দ্বি-জাতি তত্ত্বের রাজনৈতিক রূপ।
- দ্বি-জাতি তত্ত্ব অনুযায়ী ভারতবর্ষে দু’টি পৃথক জনগোষ্ঠী রয়েছে—হিন্দু ও মুসলমান।
- জিন্নাহর মতে, মুসলমানদের ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, আশা-আকাঙ্ক্ষা হিন্দুদের থেকে ভিন্ন।
- এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত হয় যে ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব অঞ্চলে যেখানে মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেসব অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করা হবে।
- ২৪ মার্চ ১৯৪০ লাহোর প্রস্তাব গৃহীত হয়।
- এর মাধ্যমে ভারতীয় মুসলমানদের পৃথক আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়।
- পরে ১৯৪৬ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনে প্রস্তাবটি সংশোধিত হয়।
- একাধিক রাষ্ট্রের (States) পরিবর্তে কেবল একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এই প্রস্তাবের মাধ্যমে মুসলিম লীগের নেতৃত্বে মুসলমানরা তাদের জন্য স্বায়ত্তশাসিত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দান করেন, যা শেষ পর্যন্ত ১৯৪৭ সালে ভারত-বিভাজনের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম দেয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণী

.
ক্রিপস মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল- 
  1. ভারতকে সামরিক সাহায্য প্রদান
  2. রাজনৈতিক প্রস্তাব উপস্থাপন
  3. ভারতীয় সমর্থন লাভ
  4. খ+গ 
ব্যাখ্যা

• ক্রিপস মিশনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল-
- রাজনৈতিক প্রস্তাব উপস্থাপন; 
- ভারতীয় সমর্থন লাভ। 
-------------------
• ক্রিপস মিশন:
- ক্রিপস মিশন ১৯৪২ সালের ২৩ মার্চ ভারতে আগমন করে।
- এর নেতৃত্বে ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস।
- এই মিশনটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রেরিত হয়েছিল এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
- ক্রিপস শ্রমিক দলের একজন চরমপন্থি সদস্য এবং হাউস অব কমন্স-এর নেতা ছিলেন।
- তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রবল সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

- ক্রিপস মিশন ১৯৪২ সালে ভারত পাঠানোর মূল প্রেরণা ছিল দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণের ওপর ভিত্তি করে-
• এর একটি প্রধান কারণ ছিল- 
- ১৯৪০ সালের অক্টোবর মাসে মহাত্মা গান্ধীর সত্যাগ্রহ আন্দোলন।
- এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাধারণ জনগণকে সংঘবদ্ধ করে গণঅভ্যুত্থন ঘটানো, যাতে ব্রিটিশদের যুদ্ধ তৎপরতা—বিশেষত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদের অংশগ্রহণ—প্রভাবিত হয়।

• আরেকটি কারণ-
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ব্রিটিশরা জাপানিদের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হারায়—যেমন সিঙ্গাপুর (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৪২), রেঙ্গুন (৮ মার্চ ১৯৪২) এবং আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ (২৩ মার্চ ১৯৪২)।
- এই হার পুরো ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকে গুরুতর হুমকির মুখে ফেলে।
- ফলে ব্রিটিশরা বুঝতে পারে যে, তারা ভারতের জনগণের সমর্থন ছাড়া এই যুদ্ধ এবং উপনিবেশিক শাসন চালিয়ে যেতে পারবে না।
- এই অবস্থায় ভারতের রাজনৈতিক সমর্থন অর্জনের জন্য ব্রিটিশরা কিছু রাজনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে।
- এবং এ কারণেই ১৯৪২ সালে ক্রিপস মিশন ভারত পাঠানো হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া। 

১০.
কোন মুসলিম নেতাকে “শের-ই-বঙ্গাল” (বাংলার বাঘ) উপাধি দেওয়া হয়েছিল?
  1. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  2. চৌধুরী খালিকুজ্জামান
  3. আবুল কাশেম ফজলুল হক
  4. মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা

শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক:
- শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হক ছিলেন একজন প্রখ্যাত রাজনৈতিক নেতা ও সমাজসেবক।
- তাঁর পূর্ণ নাম আবুল কাশেম ফজলুল হক।
- তিনি ১৮৭৩ সালের ২৯ অক্টোবর বরিশাল জেলার বানরীপাড়া থানার চাখার গ্রামে সম্ভ্রান্ত কাজী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী।
- এবং বাংলার কৃষক-প্রজা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা।
- ১৯১৬ সালে তিনি লক্ষ্ণৌ চুক্তি প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা পরে ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাইলফলক হিসেবে পরিচিত হয়।
- ১৯২৭ সালে তিনি কৃষক-প্রজা পার্টি গঠন করেন এবং ১৯৩৫ সালে কলকাতার মেয়র নির্বাচিত হন।

- ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সভাপতিত্বে লাহোরে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত মুসলিম লীগের অধিবেশনে তিনি লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। 
- এই অধিবেশনে তাঁর জাদুকরী বক্তৃতার জন্য তাকে শের-ই-বঙ্গাল বা বাংলার বাঘ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। 

- স্বাধীন পাকিস্তানে ১৯৫৪ সালে তিনি যুগফ্রন্ট দলের নেতৃত্বে নির্বাচিত হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন।
- এবং ১৯৫৬–১৯৫৮ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে দায়িত্ব পালন করেন।
- বাংলার এই প্রখ্যাত নেতা ১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রয়াত হন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১১.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কোনটি? 
  1. ফরিদপুর 
  2. বগুড়া
  3. ঠাকুরগাঁও
  4. দিনাজপুর
ব্যাখ্যা

• উৎপাদনে শীর্ষ জেলা:
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী,
- বাংলাদেশে পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা হিসেবে ফরিদপুরকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী, এই জেলায় প্রতি বছর পাটের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ক্রমবর্ধমান। 
- এইজন্য ফরিদপুরকে “সোনালি আঁশে ভরপুর” নামে অভিহিত করা হয়।
------------------- 
উল্লেখ্য, 
- কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪ অনুযায়ী,
• ধান - ময়মনসিংহ।
• আলু - রংপুর।
• গম - ঠাকুরগাঁও।
• চা - মৌলভীবাজার।
• তামাক - কুষ্টিয়া।
পাট - ফরিদপুর।
• ভুট্টা - দিনাজপুর।
• তুলা - ঝিনাইদহ।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ ২০২৪।

১২.
“হীরে, মুক্তা, নিজামী” কোনটির উন্নত জাতের নাম?  
  1. আলু
  2. ধান
  3. পুঁই শাক
  4. মরিচ 
ব্যাখ্যা

• ফসলের উন্নত জাতের নাম:
- ধান এর উন্নত জাতের নাম-
- আশা, হীরে, মুক্তা, নিজামী, বিপ্লবী, রহমত, চান্দিনা, ময়না, প্রগতি, ইরিশাইল, ব্রিশাইল, কিরন, ইরাটম, উফসী, ইছামতী, সোনার বাংলা-১, গাজী (বি-আর ১৪)।
-------------------------
অন্যদিকে,
• আলুর উন্নত জাতের নাম- ডায়মন্ড, কুফরী, সিন্দুরী, কার্ডিনাল।
• পুঁই শাকের উন্নত জাতের নাম- সবুজ, চিত্রা।
• মিষ্টি কুমড়ার উন্নত জাতের নাম- হাজী ও দানেশ। 
---------------------
উল্লেখ্য,
• আরও কিছু ফসলের নাম ও জনপ্রিয় জাত:

• টমেটো: মানিক, রতন, ঝুমকা, সিঁদুর, শ্রাবণী, অপূর্ব।
• কলা: কানাইবাসি, মোহনবাসি, অগ্নিশ্বর, বীটজবা, চম্পা। 
• পাট: সিভিএল, তোষা। 
• ভুট্টা: বর্ণালী, শুভ্র, মোহর, সুপার সুইট কর্ন, উত্তরণ।
• গম: বলাকা, দোয়েল, সোনালিকা, শতাব্দী, আকবর, বরকত।
• আম: মহানন্দা, মোহনভোগ, গোপালভোগ, গৌড়মতি।
• তামাক: সুমাত্রা, ম্যানিলা।
• বেগুন: উত্তরা, শুকতারা, নয়নতারা, তারাপুরী, কাজল।
• তরমুজ: পদ্মা, মধুবালা।
• সরিষা: সফল, অগ্রণী, কল্যাণীয়া।
• পেয়ারা: কাজী, স্বরূপকাঠি, কাঞ্চননগর। 
• তুলা: রুপালি, ডেলফোস। 
• মরিচ: যমুনা, চন্দ্রমুখী।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৩.
কুষ্টিয়া গ্রেড কোন সম্পদের সাথে সম্পর্কিত?
  1. ছাগলের চামড়া
  2. পাট
  3. বাগদা চিংড়ি
  4. তেজস্ক্রিয় বালু
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উপনাম ও তাদের পরিচয়:
- Black Bengal হলো কালো জাতের দেশি ছাগল, যা তার দেহের রঙ ও দামী চামড়ার জন্য পরিচিত।
- ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের চামড়াকে বিশ্ববাজারে কুষ্টিয়া গ্রেড (Kushtia Grade) বলা হয়।
- এটি বাংলাদেশের সেরা এবং আন্তর্জাতিক মানের দামী চামড়া হিসেবে খ্যাত।
- প্রধানত কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহ জেলা থেকে এই মানসম্পন্ন চামড়া সংগৃহীত হয়।
--------------------------- 
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশে বিভিন্ন কৃষি ও প্রাণী সম্পদকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র নাম বা উপনামে অভিহিত করা হয়।
- উদাহরণস্বরূপ-
• Black Tiger হলো বাগদা চিংড়ি, যা সমুদ্র মাছ এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্যবান। 
• White Gold হলো চিংড়ি সম্পদ, যা দেশের রপ্তানি ও অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। 
• সোনালি আঁশ বোঝায় দেশি ও তোষা পাট, যা বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কৃষি ফসল।
• Black Gold হলো তেজস্ক্রিয় বালু, যা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। 

উৎস: অর্থনীতি, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, ও প্রথম আলো পত্রিকা। 

১৪.
বাংলাদেশ হরিণ প্রজনন কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. বাগেরহাট 
  3. বান্দরবান
  4. চকোরিয়া
ব্যাখ্যা

প্রজনন কেন্দ্র:
- প্রজনন কেন্দ্র হলো বিশেষভাবে গঠিত এমন একটি স্থান, যেখানে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি বা পরিকল্পিত প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নত জাতের গবাদি পশু বা বিপন্ন বন্যপ্রাণীর প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি করা হয়। এছাড়া এখানে পশুর জাত উন্নয়ন, প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংরক্ষণমূলক কার্যক্রমও পরিচালিত হয়।
- বাংলাদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীর প্রজনন কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। 
- বাংলাদেশে প্রধান কয়েকটি হরিণ প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে।
- এর মধ্যে অন্যতম প্রজনন কেন্দ্র কক্সবাজার জেলার চকরিয়ায় অবস্থিত। 
---------------------------
• বাংলাদেশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রাণীর প্রজনন কেন্দ্র:

• বন্যপ্রাণী প্রজননের জন্য ব্যবহৃত কেন্দ্র হলো ডুলাহাজরা, কক্সবাজার।
- কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক বন্যপ্রাণী প্রজনন ও সংরক্ষণের জন্য একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
- এটি ১৯৮০-৮১ সালে একটি 'হরিণ প্রজনন কেন্দ্র' হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও, পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে এটি পূর্ণাঙ্গ সাফারি পার্কে রূপান্তরিত হয়

• গরু পালন ও প্রজননের জন্য সাভার, ঢাকা জেলা পরিচিত। 
• দেশি ছাগল প্রধানত টিলাগড়, সিলেট অঞ্চলে প্রজনিত হয়।
• মহিষ প্রজননের জন্য ফকিরহাট, বাগেরহাট অঞ্চল ব্যবহৃত হয়।
• কুমির প্রজননের কেন্দ্র হিসেবে খ্যাত করমজল, সুন্দরবন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৫.
ইলিশ মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান- [মার্চ, ২০২৬]
  1. ১ম 
  2. ২য় 
  3. ৩য় 
  4. ৪র্থ 
ব্যাখ্যা

ইলিশ মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ:
- বাংলাদেশ ইলিশ মাছ উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে।
- মোট ইলিশের প্রায় ৮৬ শতাংশই দেশে উৎপাদিত হয়। 
- দেশের বিভিন্ন নদী ও অভয়াশ্রমে মা ও জাটকা ইলিশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা, অভয়াশ্রম সম্প্রসারণ এবং সঠিক জাল ব্যবহারের কারণে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
- বিশেষ করে প্রতি বছর ৭ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ধরা নিষিদ্ধ থাকায় ইলিশের বৃদ্ধি হয়েছে।
- বর্তমানে দেশে ১২৫-১৩০টি উপজেলায় ইলিশ পাওয়া যায়।
- এবং প্রায় ৭ হাজার বর্গকিলোমিটারের অভয়াশ্রমে মাছ ধরা আইনত নিষিদ্ধ।
- এই সাফল্যের কারণে বাংলাদেশকে ইলিশ উৎপাদনের রোল মডেল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
------------------- 
উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যে বিশ্বে উৎপাদন ও অবস্থান –
- বাংলাদেশ মৎস্য ও কৃষিক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

• জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) তথ্য অনুযায়ী, বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ (Aquaculture) উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
• এছাড়া অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বাংলাদেশ তৃতীয়।

• বাংলাদেশ আলু উৎপাদনে বিশ্বের মধ্যে সপ্তম অবস্থানে আছে।
- এশিয়ায় আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশটি তৃতীয় স্থানে রয়েছে। 

• বাংলাদেশ তেলাপিয়া উৎপাদনে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। 

• বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে।

উৎস:
১) বনিক বার্তা,
২) দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা, 
৩) প্রথম আলো পত্রিকা [ লিঙ্ক], 
৪) জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৬.
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত?
  1. ঢাকা 
  2. ময়মনসিংহ 
  3. খুলনা 
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট:
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) হলো দেশের বৃহৎ কৃষি গবেষণা কেন্দ্র।
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (BARI) ইতিহাস শতাধিক বছরের।
- ১৮৮০ সালে এটি বেঙ্গল ল্যান্ড রেকর্ডস ডিপার্টমেন্টের অধীনে ছোট শাখা হিসেবে শুরু হয়।
- ১৯০৮ সালে ঢাকা ফার্ম প্রতিষ্ঠা পায়, যা ১৯৬৬ সালে জয়দেবপুরে স্থানান্তরিত হয়।
- ১৯৭৩ সালের রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে কৃষি গবেষণার উন্নয়ন ও সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়।
- এবং পরবর্তীতে BARI স্বায়ত্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট জয়দেবপুর, গাজীপুরে অবস্থিত। 

- এটি ২০৫টিরও বেশি কৃষি বিষয়ক ফসলের গবেষণা পরিচালনা করে।
- কেন্দ্রীয় স্টেশনের পাশাপাশি BARI-এর ৬টি ফসলভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্র ও ২৪টি উপকেন্দ্র রয়েছে।
- ফসলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো হলো –
- কন্দ-ফসল গবেষণা কেন্দ্র,
- গম গবেষণা কেন্দ্র,
- উদ্যান গবেষণা কেন্দ্র,
- ডাল গবেষণা কেন্দ্র,
- তেলশস্য গবেষণা কেন্দ্র ও
- মসলা গবেষণা কেন্দ্র। 
------------------------- 
অন্যদিকে, 
-  বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট মানিক মিয়া এভিনিউ, ঢাকায় অবস্থিত। 
- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটও জয়দেবপুর, গাজীপুরে অবস্থিত। 
- এবং বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট ময়মনসিংহে অবস্থিত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৭.
বাংলাদেশের কোন সম্পদকে White gold বলা হয়? 
  1. পাট
  2. চিংড়ি
  3. ইলিশ
  4. ধান 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের চিংড়ি সম্পদকে White gold বলা হয়। 
---------------- 
• চিংড়ি সম্পদ:
- বৃহত্তর খুলনা অঞ্চল—বিশেষ করে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা—চিংড়ি চাষের জন্য খুবই প্রসিদ্ধ।
- উপকূলীয় ও লোনা পানির উপযোগী ভৌগোলিক পরিবেশ থাকার কারণে এখানে ব্যাপক হারে চিংড়ি চাষ সম্ভব হয়েছে। 
- বাংলাদেশ বিদেশে প্রচুর পরিমাণে চিংড়ি রপ্তানি করে উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।
- এটি দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
- আন্তর্জাতিক বাজারে বাগদা ও গলদা চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা ও উচ্চ মূল্য থাকায় এ খাত অত্যন্ত লাভজনক। 
- বিশেষ করে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি শিল্প হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।
- এ কারণেই চিংড়িকে ‘সাদা সোনা’ বা ‘হোয়াইট গোল্ড’ বলা হয়।
- এছাড়া কাঁচা চিংড়ির সাদাটে বা স্বচ্ছ রঙের কারণেও একে ‘সাদা সোনা’ বলা হয়।
- বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত মূল্যবান ও লাভজনক হওয়ায় চিংড়ি শিল্পকে খনিজ সোনার সঙ্গে তুলনা করা হয়।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা [লিঙ্ক]। 

১৮.
বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান কততম? মার্চ, ২০২৬]
  1. তৃতীয়
  2. চতুর্থ
  3. পঞ্চম
  4. ষষ্ঠ
ব্যাখ্যা

বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান-
- Food and Agriculture Organization–এর The State of World Fisheries and Aquaculture 2024 (২০২২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বদ্ধ জলাশয়ে (যেমন পুকুর) চাষকৃত মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বে পঞ্চম স্থানে রয়েছে।
- আগে এ ক্ষেত্রে তৃতীয় অবস্থানে থাকলেও বর্তমানে তা পঞ্চমে নেমে এসেছে।
- তবে সামগ্রিক স্বাদুপানির মাছ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখনো বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

- বাংলাদেশের মৎস্য খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানসমূহ:
- বদ্ধ জলাশয়ে চাষ (Aquaculture): ৫ম। 
- স্বাদুপানির মাছ উৎপাদন (মোট): ২য়। 
- অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে আহরণ: ৩য়। 
- ইলিশ উৎপাদন: বিশ্বে ১ম। 
- সামুদ্রিক মাছ উৎপাদন: ১৪তম। 
- তেলাপিয়া উৎপাদন: বিশ্বে ৪র্থ, এশিয়ায় ৩য়। 

উৎস: The Daily Star [লিঙ্ক]। 

১৯.
২০২৪ সালের কৃষিশুমারি অনুযায়ী কোন বিভাগে সবচেয়ে বেশি আউশ ধান উৎপন্ন হয়েছে?
  1. চট্টগ্রাম বিভাগ
  2. রাজশাহী বিভাগ
  3. খুলনা বিভাগ
  4. বরিশাল বিভাগ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে আউশ ধান উৎপাদনের সামগ্রিক হিসাব ২০২৪ কৃষিশুমারি অনুযায়ী:

- বিভাগ অনুযায়ী:
- সবচেয়ে বেশি আউশ ধান উৎপাদন হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে (৬,১৭,৬০০ মেট্রিক টন)।
- দ্বিতীয় অবস্থানে আছে রাজশাহী বিভাগ (৫,৯৫,৮০১ মেট্রিক টন)।

- জেলা অনুযায়ী:
- সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে কুমিল্লা জেলায় (২,৩৪,৮৩৯ মেট্রিক টন),
- দ্বিতীয় অবস্থানে ভোলা জেলা (১,৯০,৭৮৪ মেট্রিক টন)।

- চট্টগ্রাম বিভাগের আউশ ধান চাষের ক্ষেত্রফল: ৫,৪৯,৮৯০ একর।
- কুমিল্লা জেলার আউশ ধান চাষের ক্ষেত্রফল: ১,৯৪,৩৪৬ একর। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২০.
২০২৪ সালের কৃষি শুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশের কোন জেলায় চা উৎপাদন সবচেয়ে বেশি?
  1. মৌলভীবাজার
  2. সুনামগঞ্জ
  3. পঞ্চগড়
  4. ঠাকুরগাঁও
ব্যাখ্যা

• ২০২৪ সালের কৃষি শুমারি:
- ২০২৪ সালের কৃষি শুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে চা উৎপাদন দেশের গুরুত্বপূর্ণ কৃষি খাতের মধ্যে একটি।
- মোট উৎপাদন ৯৩,২০৮ মেট্রিক টন এবং চাষের ক্ষেত্রফল ১,৪১,৩৫৫ একর।

- বিভাগ অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয়েছে সিলেট বিভাগে (৬৫,১২০ মেট্রিক টন) এবং চাষের ক্ষেত্রফল ১,১৮,০৫২ একর।
- রংপুর বিভাগ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে, উৎপাদন ১৭,১৮০ মেট্রিক টন।

- জেলা অনুযায়ী, মৌলভীবাজার জেলায় সবচেয়ে বেশি চা উৎপাদন হয়েছে (৪৪,৬৭৭ মেট্রিক টন) এবং চাষের ক্ষেত্রফল ৭৬,২৯৯ একর। 
- অন্যদিকে পঞ্চগড় জেলা দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।