• বাংলা ব্যাকরণের বিশেষণ পদ সংস্কৃত লিঙ্গের নিয়ম মানে না।
• তৎসম (সংস্কৃত) পুরুষবাচক বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে পুরুষবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয় এবং স্ত্রীবাচক বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে স্ত্রীবাচক বিশেষণ ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
বিদ্বান লোক এবং বিদুষী নারী। এখানে, 'লোক' পুরুষবাচক বিশেষ্য এবং 'নারী' স্ত্রীবাচক বিশেষ্য। 'বিদ্বান' পুরুষবাচক বিশেষণ এবং 'বিদুষী' স্ত্রীবাচক বিশেষণ।
কিন্তু,
বাংলা ভাষার ক্ষেত্রে সংস্কৃত ব্যাকরণের এ নিয়ম মানা হয় না।
যেমন,
সংস্কৃতে 'সুন্দর বালক' ও 'সুন্দরী বালিকা' হবে কিন্তু বাংলায় 'সুন্দর বালক' ও 'সুন্দর বালিকা' হবে।
--------------------------
লিঙ্গ অন্যান্য পদ ও শব্দরে লিঙ্গ পরিবর্তনের নিয়ম:
• বাংলা লিখিত ভাষায় কখনো কখনো সংস্কৃতপ্রধান শৈলীতে বিশেষ্য ও বিশেষণের লিঙ্গসাযুজ্য ঘটে। যেমন- দুঃখিনী, জন্মভূমি, বিপুলা।
• বাংলা ভাষায় সর্বনাম শব্দে নারী-পুরুষবাচক পার্থক্য করা হয় না। আমি, তুমি, সে, তারা, এটা, ওটা ইত্যাদি সর্বনাম স্ত্রী-পুরুষ উভয় ক্ষেত্রেই একই রূপে ব্যবহৃত হয়।
• তৎসম পুরুষবাচক শব্দের শেষে -আ, -ঈ, -আনী, -নী ইত্যাদি নারীবাচক প্রত্যয় যোগে নারীবাচক শব্দে পরিবর্তিত করা হয়।
• ভিন্ন ভিন্ন নারীবাচক প্রত্যয় যোগে একই পুরুষবাচক শব্দের একাধিক নারীবাচক রূপ হতে পারে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।