⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় বলা হয়েছে— অপরাধীকে আশ্রয় দিলে বা লুকিয়ে রাখলে শাস্তি হবে। কিন্তু যদি অপরাধীকে তার স্বামী বা স্ত্রী আশ্রয় দেয় বা লুকিয়ে রাখে, তাহলে এ ধারা প্রযোজ্য হবে না।
⇒ দণ্ডবিধির ২১২ ধারায় অপরাধীকে আশ্রয় বা লুকিয়ে রাখার জন্য শাস্তির বিধান আছে। তবে, যদি দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী তাকে আশ্রয় দেন, তবে তারা ২১২ ধারায় দণ্ডিত হবেন না।
যদি দোষী ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে আশ্রয়দাতা পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। যাবজ্জীবন বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে, দণ্ডিতের জন্য শাস্তি তিন বছর পর্যন্ত। দশ বছরের নিচে এক বছর পর্যন্ত দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত হলে, দণ্ডের সর্বাধিক মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড হতে পারে।
এই ধারার 'অপরাধ' বলতে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় যে কোনো কাজ বোঝানো হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাইরে সংঘটিত হলেও দণ্ডনীয় হবে। তবে, দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী যদি তাকে আশ্রয় দেন, তাহলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।
- দণ্ডবিধির ২১২ ধারার বিধান দোষী ব্যক্তিকে আশ্রয় দান করা:- কোন অপরাধ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দোষী বলে জ্ঞাত করা থাকা সত্ত্বেও অথবা সে দোষী বলে বিশ্বাস করার কারণ থাকা সত্ত্বেও তাকে আইনের সাজা হতে বাঁচাবার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে রাখে বা আশ্রয়দান করে, সেক্ষেত্রে-
দোষী ব্যক্তি যদি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:
- যদি অপরাধটি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি পাঁচ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
দোষী ব্যক্তি যদি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়:
- যদি অপরাধটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে কিংবা দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয়, তবে সে ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।
যদি অপরাধটি এক বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হয় এবং দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় না হয়, তবে সে ব্যক্তি সেই অপরাধটির জন্য বিহিত প্রকারের কারাদণ্ডের দীর্ঘতম মেয়াদের এক-চতুর্থাংশ পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হবে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।
অত্র ধারার 'অপরাধ' বলতে বাংলাদেশের মধ্যে যে কাজ অনুষ্ঠিত হলে তা ৩০২, ৩০৪, ৩৮২, ৩৯২, ৩৯৩, ৩৯৪, ৩৯৫, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০২, ৪৩৫, ৪৩৬, ৪৪৯, ৪৫০, ৪৫৭, ৪৫৮, ৪৫৯ এবং ৪৬০ ধারায় যে কোনটি অনুযায়ী দণ্ডনীয় হত, তা বাংলাদেশের বাইরে যেকোন স্থানে অনুষ্ঠিত হলে তাকেও বুঝাবে এবং অনুরূপ যেকোন কাজ যেন অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেই সংঘটনের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, এমনভাবেই দণ্ডনীয় বলে পরিগণিত হবে।
⇒ ব্যতিক্রম:- দোষী ব্যক্তির স্বামী বা স্ত্রী অনুরূপ আশ্রয়দান করলে বা লুকিয়ে রাখলে তখন এই বিধান প্রয়োগযোগ্য হবে না।
--------
⇒ Exception. This provision shall not extend to any case in which the harbour or concealment is by the husband or wife of the offender.