পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন৪৩
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১: বিষয়: বাংলা - (সাবজেক্ট ফাইনাল) টপিক: ব্যাকরণ এবং সাহিত্য।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন

.
'ক্ষণপ্রভা' শব্দের অর্থ কী?
  1. আগুন 
  2. সূর্য
  3. দিবা 
  4. বিদ্যুৎ
ব্যাখ্যা



• ​'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'হ্ম' যুক্তবর্ণের শুদ্ধ গঠন কোনটি?
  1. হ্‌ + ণ 
  2. ম্‌ + হ 
  3. হ্‌ + ম 
  4. হ্‌ + ষ
ব্যাখ্যা

• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় তাদের কে স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় না তাদের কে অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্+ ম = হ্ম,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ + ণ= ষ্ণ,
- ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

.
কোনটি সাধারণ পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ?
  1. চৌঠা
  2. ষষ্ঠ
  3. আটই
  4. তেহাই
ব্যাখ্যা

পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ তিন প্রকার। যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম)।

- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম)...নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।

- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়োদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।

-------------------------
• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
'তস্কর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. নস্কর 
  2. নিষ্কর
  3. মন্থর
  4. সাধু
ব্যাখ্যা

• 'তস্কর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - সাধু।

​• 'তস্কর' শব্দের অর্থ- অপহরণ-কারী, অপহারক, চোর।
• '​সাধু' শব্দের অর্থ- ধার্মিক, ধর্মপরায়ণ, শিষ্ট, মার্জিত (সাধু বাক্য), উত্তম, যথাযথ, ফকির, সন্ন্যাসী, বণিক।

​অন্যদিকে, 
'​ক্ষিপ্র' পরীতার্থক শব্দ - মন্থর। 
​'নিষ্কর' অর্থ- কর দিতে হয় না এমন, লাখেরাজ (নিষ্কর ভূমি)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
'ট, ঠ, ড' কোন ধরনের স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
  1. কণ্ঠ স্পৃষ্ট
  2. মূর্ধা স্পষ্ট
  3. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  4. দন্ত স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা

• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্‌প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
যথা:
ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের ফ, থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

.
কোনটি দেশি শব্দ?
  1. ডাব
  2. বৃক্ষ
  3. পাখি
  4. গ্রহ
ব্যাখ্যা

উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

১. তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।

২. তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

৩. দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।

৪. বিদেশি শব্দ: ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
'থকথক' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. পদাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
কুট কুট, খক খক, সাঁই-সাঁই, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথক, শোঁ শোঁ, চকচক, ভটভট, ধুপধুপ টুপটাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

.
ত-বর্গীয় ধ্বনি কোনটি?
  1. ন 
ব্যাখ্যা

• ক-বর্গীয় ধ্বনি: ক, খ, গ, ঘ, ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• চ-বর্গীয় ধ্বনি: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে। এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনি: ট, ঠ, ড,, - এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ উল্টিয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশকে স্পর্শ করে। এগুলোর উচ্চারণে জিহ্বা উল্টা হয় বলে এদের নাম দন্তমূলীয় প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি। আবার এগুলো ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশ অর্থাৎ মূর্ধায় স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয় মূর্ধন্য ধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি: ত, থ, দ, ধ, ন- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

• প-বর্গীয় ধ্বনি: প, ফ, , ভ, ম- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

.
'​আমদানি' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি 
  2. ফারসি
  3. হিন্দি 
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা

​আমদানি (বিশেষ্য পদ)।
​- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- বিদেশ থেকে বাণিজ্যিক পণ্য আনয়ন, 
​- বিক্রয় থেকে লব্ধ আয়। 
​- আগমন, উপস্থিতি।

'ফারসি' ভাষার আরো কিছু শব্দ হলো:
খোদা, গুনাহ, দোজখ, ফেরেশতা, আমদানি, জিন্দা, রপ্তানি, বেহেশত, নমুনা, রোজা, হাঙ্গামা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১০.
'Associate' এর বাংলা পারিভাষিক কোনটি?
  1. ব্যবস্থাপক
  2. অনুগামী
  3. সহযোগী
  4. সহযোজন
ব্যাখ্যা

• 'Associate' এর বাংলা পারিভাষিক - সহযোগী।

​অন্যদিকে, 
'Companion; Attendant' অর্থ - ​অনুগামী। 
'Manager' অর্থ - ব্যবস্থাপক।
'Co-ordination' অর্থ - সহযোজন। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।

১১.
অন্ত্যস্বর লোপের উদাহরণ কোনটি?
  1. অলাবু> লাবু > লাউ
  2. উদ্ধার > উধার > ধার
  3. অগুরু > অগ্র
  4. সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ
ব্যাখ্যা

• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্‌তি, জানালা > জান্‌লা ইত্যাদি।

আদি স্বরলোপ:
প্রথম স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরলোপ বলে।
যেমন:
- অলাবু> লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।

• মধ্যস্বর লোপ:
শব্দের মধ্যে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- অগুরু > অগ্র,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।

• অন্ত্যস্বর লোপ:
শব্দের শেষে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার,
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১২.
'বিপিন' শব্দের সমার্থক শব্দ কোনটি?
  1. ফুল 
  2. বন
  3. পাখি
  4. পর্বত 
ব্যাখ্যা



• 'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১৩.
'আকাশ থেকে পড়া' বাগ্‌ধারার অর্থ কী?
  1. কিছু না জানা
  2. বিপজ্জনক পরিণতি
  3. আবির্ভূত হওয়া
  4. না জানার ভান করা
ব্যাখ্যা

• 'আকাশ থেকে পড়া'  বাগ্‌ধারার অর্থ- না জানার ভান করা।

​অন্যদিকে,
• ​'অন্ধকারে থাকা' অর্থ - কিছু না জানা।
• '​আসরে নামা' অর্থ - আবির্ভূত হওয়া। 
​• 'কেঁচো খুড়তে সাপ' অর্থ - বিপজ্জনক পরিণতি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৪.
'খড়-খর' শব্দজোড়টি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. রৌদ্র-শুকনা ফসল
  2. তৃণ-তীব্র
  3. ক্ষরণ-রৌদ্র
  4. তৃণ-শুষ্ক
ব্যাখ্যা

• 'খড়-খর' শব্দজোড়টির অর্থ- তৃণ-তীব্র। 

​'খড়' অর্থ - তৃণ।
'খর' অর্থ - তীব্র।

​এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো-
খদ্দর - কাপড়।
খদ্দের - গ্রাহক।

খরা - রৌদ্র।
ক্ষরা - ক্ষরণ।

খুর - পশুর পায়ের অংশ।
ক্ষুর - কামানোর অস্ত্র।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)। 

১৫.
'শ্যামল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. উজ্জ্বল
  2. সরস
  3. গৌরাঙ্গ
  4. সুশ্রী
ব্যাখ্যা

• 'শ্যামল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- গৌরাঙ্গ।

অন্যদিকে,
--------------
মলিন - উজ্জ্বল।
সুশ্রী - কুশ্রী/বিশ্রী।
সরস - নীরস।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৬.
শুদ্ধ বানান কোনটি?
  1. নিঃস্পৃহ
  2. নিঃস্পৃহা
  3. নিঃষ্পৃহ
  4. নিস্পৃহা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ বানান- নিঃস্পৃহ। 
- শব্দটি বিশেষণ পদ। 
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ। 
অর্থ:
- স্পৃহাহীন; নিরাসক্ত; বাসনাশূন্য। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
১৭.
'ক্রিয়া' ব্যাকরণের কোন তত্ত্বে আলোচনা করা হয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. ধ্বনিতত্ত্ব
  3. রূপতত্ত্ব
  4. অর্থতত্ত্ব
ব্যাখ্যা

• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষও রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১৮.
নিচের কোনটি সাধু ভাষার শব্দ?
  1. জুতো
  2. সঙ্গে
  3. বুনো
  4. শুকনা
ব্যাখ্যা

সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:

সাধু চলিত ভাষায় শব্দ-
আসিয়া - এসে।
মস্তক - মাথা
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
​সহিত - সঙ্গে/সাথে।
বন্য - বুনো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১৯.
স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. ঋণ
  2. লক্ষণ
  3. গৌণ
  4. হরিণ
ব্যাখ্যা
• স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে- গৌণ শব্দে। 

---------------------------
মূর্ধন্য 'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় মূর্ধন্য 'ণ' যুক্ত হয়।
যেমন- ঘণ্টা, লুণ্ঠন, কাণ্ড ইত্যাদি।

২. ঋ, র, ষ – এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।

৩. ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন- কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ), লক্ষণ (ক্+ষ+ অ + ণ)।
এরূপ- রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

৪. কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই ণ হয়।
চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, কল্যাণ, শোণিত, মণি, স্থাণু, গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু, বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ,  কফণি, বণিক, গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ।

৫. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে ন হয়। যেমন - ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক।
৬. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত 'ন' কখনো 'ণ' হয় না, ন হয়। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২০.
'দেখতে ইচ্ছুক এমন' এর এক কথায় প্রকাশ কী?
  1. দিদৃক্ষু
  2. দিধক্ষু
  3. দিৎসু
  4. দিধিষু
ব্যাখ্যা
• 'দেখতে ইচ্ছুক এমন' এর এক কথায় প্রকাশ - দিদৃক্ষু। 

অন্যদিকে, 
• 'দহনেচ্ছু' - দিধক্ষু।
• 'দান করতে ইচ্ছুক' - দিৎসু।
• 'দ্বিতীয়বার বিবাহিত নারী' - দিধিষু।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১.
খাঁটি বাংলা উপসর্গ কোনটি?
  1. দুর
  2. অধি
  3. রাম
  4. দর
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত উপসর্গকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
১. খাঁটি বাংলা উপসর্গ,
২. সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ এবং
৩. বিদেশি উপসর্গ।

• খাঁটি বাংলা উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত নিজেস্ব উপসর্গকে খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলা হয়। খাঁটি বাংলা উপসর্গ ২১টি।
যথা: অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।
[বাংলা উপসর্গের মধ্যে আ, সু, বি, নি এই চারটি উপসর্গ তৎসম শব্দেও পাওয়া যায়।]

• সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ:
বাংলা ভাষায় যেসকল সংস্কৃত উপসর্গ ব্যবহার করা হয় তাদের সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ বলে। সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি। যথা: প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বিদেশি উপসর্গ:
আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি এসব ভাষার বহু শব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এছাড়া কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু আছে। বিদেশি উপসর্গ অনির্দিষ্ট বা অনির্ণেয়।
যেমন:
- আরবি উপসর্গ: আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
- ফারসি উপসর্গ: কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
- উর্দু উপসর্গ: হর।
- ইংরেজি উপসর্গ: হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ অ নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২১- সংস্করণ)।
২২.
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. শ্রীমতী
  2. সতীন
  3. সতী
  4. মহতী
ব্যাখ্যা
• নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ বলে।
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা ইত্যাদি।

• নিত্য পুরুষবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• পুরুষবাচক শব্দের শেষে অত্, বান্, মান্, ঈয়ান থাকলে যথাক্রমে অতী, বতী, মতি, ঈয়সী হয়।
যথা: সৎ-সতী, মহৎ-মহতী, গুণবান-গুণবতী, রূপবান-রূপবতী, শ্রীমান-শ্রীমতী, বুদ্ধিমান-বুদ্ধিমতী, গরীয়ান-গরিয়সী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
নিচের কোনটি মিশ্র ক্রিয়া?
  1. এখন যেতে পার।
  2. তিনি বলতে লাগলেন।
  3. ঘটনাটা শুনে রাখ।
  4. এখন গোল্লায় যাও।
ব্যাখ্যা
• যৌগিক ক্রিয়া:
একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া যদি একত্রে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তবে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন-
ক. তাগিদ দেওয়া অর্থে: ঘটনাটা শুনে রাখ
খ. নিরন্তরতা অর্থে: তিনি বলতে লাগলেন
গ. কার্যসমাপ্তি অর্থে: ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল
ঘ. আকস্মিকতা অর্থে: সাইরেন বেজে উঠল
ঙ. অভ্যস্ততা অর্থে: শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে
চ. অনুমোদন অর্থে: এখন যেতে পার

• মিশ্র ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়, ধর্, মার্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থে মিশ্র ক্রিয়া গঠন করে।
যেমন-
ক. বিশেষ্যের উত্তর (পরে): আমরা তাজমহল দর্শন করলামএখন গোল্লায় যাও
খ. বিশেষণের উত্তর (পরে): তোমাকে দেখে বিশেষ প্রীত হলাম
গ. ধ্বনাত্মক অব্যয়ের উত্তর (পরে): মাথা ঝিম্‌ ঝিম্ করছে। ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪.
কোন যতিচিহ্ন ব্যবহারে বিরতির প্রয়োজন হয় না?
  1. বিস্ময় চিহ্ন
  2. ড্যাস
  3. হাইফেন
  4. প্রশ্নবোধক চিহ্ন
ব্যাখ্যা
বাক্যে যতিচিহ্ন অনুসারে থামার পরিমাণ-
• কমা বা পাদচ্ছেদ থাকলে- 'এক' উচ্চারণে যত সময় লাগে সেই পরিমাণ সময় থামতে হয়।
• সেমিকোলন বা অর্ধচ্ছেদ থাকলে - 'এক' বলার দ্বিগুণ সময় থামতে হয়।
হাইফেন, ইলেক বা লোপ চিহ্ন ও ব্রাকেট থাকলে- থামার প্রয়োজন হয় না।
• দাড়ি বা পূর্ণচ্ছেদ, প্রশ্নবোধক চিহ্ন, বিস্ময় চিহ্ন, কোলন, কোলন ড্যাস, ড্যাস ইত্যাদি চিহ্ন থাকলে - এক সেকেন্ড থামতে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫.
'গায়ক' শব্দের শুদ্ধ প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. √গা + অক
  2. √গৈ + অক
  3. √গৈা + অক
  4. √গৈই + অক
ব্যাখ্যা
• সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়:
ধাতুর সঙ্গে যেসব সংস্কৃত প্রত্যয় যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠিত হয়, তাদের বলা হয় সংস্কৃত কৃৎ প্রত্যয়।
যেমন:
√নে + অক = নায়ক,
√গৈ + অক = গায়ক,
√কৃ + অনীয় = করণীয়,
√রক্ষ + অনীয় = রক্ষণীয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০১৯)।
২৬.
বিসর্গ সন্ধি সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. পরস্পর
  2. নিরন্ন
  3. পুনরাগমন
  4. বহির্ভূত
ব্যাখ্যা
• নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জন সন্ধি- পরস্পর = পর + পর। 

অপশনে প্রদত্ত অন্যান্য শব্দগুলো বিসর্গ সন্ধির নিয়মে গঠিত-
নিরন্ন = নিঃ + অন্ন। 
পুনরাগমন = পুনঃ + আগমন। 
বহির্ভূত = বহিঃ + ভূত। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
কোনটি যৌগিক শব্দ?
  1. জলধি
  2. পঙ্কজ
  3. বাবুয়ানা
  4. রাজপুত
ব্যাখ্যা

• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
​দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
চিকামারা = চিকা + মারা অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
​---------------------
• ​​যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৮.
'যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।' কোন ধরনের বাক্য?
  1. খণ্ড কাব্য
  2. সরল বাক্য
  3. যৌগিক বাক্য
  4. জটিল বাক্য
ব্যাখ্যা
• জটিল বাক্য:
যে-সে, যারা-তারা, যিনি-তিনি, যাঁরা-তাঁরা, যা-তা প্রভৃতি সাপেক্ষ সর্বনাম এবং যদি-তবে, যদিও-তবু, যেহেতু-সেহেতু, যত-তত, যেটুকু-সেটুকু, যেমন-তেমন, যখন-তখন প্রভৃতি সাপেক্ষ যোজক দিয়ে যখন অধীন বাক্যগুলো যুক্ত থাকে, তাকে জটিল বাক্য বলে।
একটি মূল বাক্যের অধীনে এক বা একাধিক আশ্রিত বাক্য বা বাক্যাংশ থাকলে জটিল বাক্য তৈরি হয়।
যেমন:
- যদি তোমার কিছু বলার থাকে, তবে এখনই বলে ফেলো।
- যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।

অন্যান্য অপশন:
• যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক স্বাধীন বাক্য যখন যোজকের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে একটি বাক্যে পরিণত হয়, তখন তাকে যৌগিক বাক্য বলে।
এবং, ও, আর, অথবা, বা, কিংবা, কিন্তু, অথচ, সেজন্য, ফলে ইত্যাদি যোজক যৌগিক বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কমা (,), সেমিকোলন (;, কোলন (:), ড্যাশ (_) ইত্যাদি যতিচিহ্নও যোজকের কাজ করে।
যেমন:
- তিনি ধনী, কিন্তু দাতা নন।
- তার ভাই ঋণ করেছিলো, আর সে তা পরিশোধ করেছে।
- বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে।

• সরল বাক্য:
একটিমাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকলে তাকে সরল বাক্য বলে।
যেমন:
জেসমিন সবার জন্য চা বানিয়েছে। পাখিগুলো নীল আকাশে উড়ছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মাহমুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২১)।
২৯.
চলিত ভাষারীতিতে কোন পদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
• চলিত ভাষারীতির বৈশিষ্ট্য:
- চলিত ভাষা সর্বজনগ্রাহ্য মার্জিত ও গতিশীল ভাষা। তাই এটি মানুষের কথাবার্তা ও লেখার ভাষা হিসেবে গৃহীত হয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল।
- এ ভাষারীতি ব্যাকরণের প্রাচীন নিয়মকানুন দিয়ে সর্বদা ব্যাখ্যা করা যায় না।
- চলিত ভাষারীতিতে অপেক্ষাকৃত সহজ-সরল শব্দের ব্যবহার বেশি বলে এটি বেশ সাবলীল, চটুল ও জীবন্ত।
- বলার ও লেখার ভাষা বলেই এ ভাষা বক্তৃতা, ভাষণ, নাটকের সংলাপ ও সামাজিক আলাপ-আলোচনার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
- চলিত ভাষারীতিতে সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের সংক্ষিপ্তরূপ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩০.
'আলোয় আঁধার কাটিয়া যায়।'- এখানে 'আলোয়' কোন কারক?
  1. কর্ম কারক
  2. করণ কারক
  3. অধিকরণ কারক
  4. অপাদান কারক
ব্যাখ্যা
• করণ কারক:
- যার দ্বারা বা যার সাহায্যে ক্রিয়া সম্পাদিত হয় তাকে করণ কারক বলে। ক্রিয়া সম্পাদনের যন্ত্র, উপকরণ বা সহায়ককেই করণ কারক বলে।
- বাক্যস্থিত ক্রিয়াপদের সঙ্গে 'কীসের দ্বারা' বা 'কী উপায়ে' প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই করণ কারক।
যেমন:
- 'এ পেন্সিলে ভালো লেখা হয়।'
[এখানে 'কিসের দ্বারা' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'পেন্সিলে'। সে অনুসারে এখানে 'পেন্সিলে' হচ্ছে করণ কারকের উদাহরণ।]

এরূপ-
- আলোয় আঁধার কাটিয়া যায়।
বাক্যটিকে 'কীসের দ্বারা আঁধার কাটিয়া যায়?' প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় 'আলোয়'। সুতরাং 'আলোয়' করণে শূন্য বিভক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩১.
নিচের কোনটি বিদেশি ধাতু?
  1. কাট্
  2. হস্
  3. ঝুল্
  4. দৃশ্
ব্যাখ্যা
• মৌলিক ধাতু:
যেসকল ধাতুকে বিশ্লেষণ করা যায় না, সেগুলোই মৌলিক ধাতু। এগুলোকে সিদ্ধ বা স্বয়ংসিদ্ধ ধাতুও বলা হয়।
যেমন- চল্, পড়, কর্ ইত্যাদি।

মৌলিক ধাতু আবার ৩ প্রকার। যথা-
ক) বাংলা ধাতু,
খ) সংস্কৃত ধাতু ও
গ) বিদেশি ধাতু।

• বাংলা ধাতু:
যেসব ধাতু বা ক্রিয়ামূল সংস্কৃত থেকে সোজাসুজি আসে নি, সেগুলোকে বাংলা ধাতু বা ক্রিয়ামূল বলে।
যেমন- কাদ্‌, কাট্, নাচ্, আক্ কহ্, কর্ ইত্যাদি।

• সংস্কৃত মূল ধাতু:
যে সব ক্রিয়াপদের মূল সংস্কৃত ভাষা থেকে এসে বাংলাভাষায় সরাসরি ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় সংস্কৃত মূল ধাতু। এসব ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ক্রিয়া বিশেষ্য বাক্রিয়া বিশেষণ গঠিত হয়।
যেমন: অঙ্ক, কথ্, কৃৎ, খাদ্‌, হস্, পঠ, দৃশ্ ইত্যাদি।

• বিদেশি ধাতু:
তৎসম ও বাংলা ধাতু ছাড়া যেসব ধাতু বিদেশি ভাষা থেকে এসে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত হচ্ছে সেসব ধাতুকে বলা হয় বিদেশি ধাতু।
যেমন: আঁট, খাট্, চেঁচ্‌, ঝুল্ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩২.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গীতিনাট্য?
  1. ঝিলিমিলি
  2. মধুমালা
  3. আলেয়া
  4. শিউলিমাল
ব্যাখ্যা
• 'মধুমালা' গীতিনাট্য:
- 'মধুমালা' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গীতিনাট্য।
- নজরুল অসুস্থ হওয়ার পর ১৯৬০ সালে এটি গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- রূপকথা বা ঐতিহ্যের আদলে নাটকটি রচিত হয়েছে।

অন্যদিকে, 
• কাজী নজরুল ইসলামের ঝিলিমিলি একটি নাট্যগ্রন্থ। এতে ঝিলিমিলি, সেতুবন্ধ ও শিল্পী নামে তিনটি ছোট নাটক রয়েছে। 
• 'আলেয়া' কাজী নজরুল ইসলাম রচিত দ্বিতীয় নাটক। এটি ১৯৩১ সালে মঞ্চস্থ ও প্রকাশিত হয়। 'মরুতৃষা' শিরোনামে লিখলেও পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন করে 'আলেয়া' করা হয়। ত্রিভুজ প্রেম ও তার পরিণয় এই নাটকের প্রধান বিষয়বস্তু।

------------------
কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যকর্মগুলো হলো:
• উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা (বাংলা সাহিত্যের প্রথম পত্রোপান্যাস),
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

• গল্পগ্রন্থ:
- ব্যথার দান,
- রিক্তের বেদন,
- শিউলিমাল

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং 'মধুমালা' গীতিনাট্য।
৩৩.
'মৈনাসৎ' ও 'চান্দাইন কাব্য' অনুসরণে রচিত রোমান্টিক আখ্যানমূলক কাব্য কোনটি?
  1. পদ্মাবতী
  2. মধুমালতী
  3. চন্দ্রাবতী
  4. সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী
ব্যাখ্যা
• 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য:
- সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী রোমান্টিক আখ্যানমূলক কাব্য। 
- আরাকানরাজ শ্রীসুধর্মার সমরসচিব আশরফ খানের পৃষ্ঠপোষকতা ও নির্দেশে দৌলত কাজী সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী কাব্য রচনা করেন।

- তিনি হিন্দি কবি মিঁয়া সাধনের 'মৈনাসৎ' ও মোল্লা দাউদের 'চান্দাইন কাব্য' অনুসরণ করেন বলে ধারণা করা হয়। কাব্যটির দুই-তৃতীয়াংশ রচনার পর কবির মৃত্যু হলে আলাওল বাকি অংশ সমাপ্ত করেন (১৬৫৯)।

- এতে সামন্তপতি লোরের সঙ্গে অপর সামন্তবধূ চন্দ্রানীর পরকীয়া প্রেমের বর্ণনা আছে। কাব্যখানি মানবিক জীবনরসে সিক্ত। হিন্দি মূল কাব্যে রূপকের মাধ্যমে আধ্যাত্মিকতা বর্ণনা করা হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৩৪.
জসীম উদ্‌দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. একাত্তরের চিঠি
  2. কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প
  3. ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে
  4. মা যে জননী কান্দে
ব্যাখ্যা
• 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ:
- 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' জসীম উদ্‌দীন রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়।
- 'তুজম্বর আলি' ছদ্মনামে এই কবিতাগুলি রাশিয়া, আমেরিকা ও ভারতে পাঠানো হয়েছিল।
- কবি জসীম উদ্‌দীনের মেয়ে হাস্না এর মধ্যে কিছু কবিতা ইংরাজিতে অনুবাদ করে নিউইয়র্কে বিদ্বান-সমাজে বেনামিতে পাঠ করেছিলেন।
- রাশিয়াতেও কবিতাগুলো সমাদৃত হয়েছিল। সেখানেও কিছু কিছু লেখা রুশ ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- ভারতে এই লেখাগুলো প্রকাশিত হইলে মুল্করাজ আনন্দ প্রমুখ বহু সাহিত্যিক ও কাব্যরসিকের সশ্রদ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

কাব্যগ্রন্থের উল্লেখযোগ্য কিছু কবিতা হলো:
- বঙ্গ-বন্ধু,
- কি কহিব আর,
- মুক্তি-যোদ্ধা,
- হবে হবে জয়,
- স্বাধীনতার দিনে,
- জাগায়ে তুলিব আশা ইত্যাদি। 

অন্যদিকে, 
• "একাত্তরের চিঠি" একটি সংকলন গ্রন্থ, যেখানে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লেখা বিভিন্নজনের চিঠি সংকলিত হয়েছে। এই সংকলনের সম্পাদনা পরিষদের দায়িত্বে ছিলেন সালাউদ্দীন আহমদ, আমিন আহম্মেদ চৌধুরী, রশীদ হায়দার, সেলিনা হোসেন এবং নাসির উদ্দীন ইউসুফ।  
 
• 'কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প' রুদ্র মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কবিতা।
• 'মা যে জননী কান্দে' জসীম উদ্‌দীন রচিত কাহিনি কাব্য। 

উৎস: 'ভয়াবহ সেই দিনগুলিতে' কাব্যগ্রন্থ কবি জসীম উদ্‌দীন এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩৫.
নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়কোবাদকে কোন উপাধিতে ভূষিত করা হয়?
  1. সাহিত্যরত্ন
  2. সাহিত্যবিশারদ
  3. সাহিত্যসাগর
  4. কাব্যকণ্ঠ
ব্যাখ্যা
• কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১) ছিলেন আধুনিক বাংলা মহাকাব্য ধারার শেষ কবি, তিনি বাঙ্গালি মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট রচয়িতা এবং আধুনিক বাংলাসাহিত্যের প্রথম মুসলিম কবি।

- তাঁর প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, 'কায়কোবাদ' তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম। ১৮৫৭ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

- অতি অল্পবয়স থেকে কায়কোবাদের সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য বিরহবিলাপ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।
- নিখিল ভারত সাহিত্য সংঘ কর্তৃক কবি কায়কোবাদকে কাব্যভূষণ, বিদ্যাভূষণ ও সাহিত্যরত্ন উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

অন্যদিকে,
• বিখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক এবং মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের গবেষক আবদুল করিমকে নদীয়া সাহিত্য সভা তাকে "সাহিত্যসাগর" খেতাব এবং চট্টল ধর্মমণ্ডলী "সাহিত্যবিশারদ" খেতাব প্রদান করে। 

• 'শান্তিপুরের কবি' হিসেবে পরিচিত মোজাম্মেল হক বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ কর্তৃক 'কাব্যকণ্ঠ' উপাধিতে ভূষিত হন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৬.
বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্তের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকা কোনটি?
  1. কালিকলম
  2. কবিতা
  3. সমকাল
  4. প্রগতি
ব্যাখ্যা
• 'প্রগতি' পত্রিকা:
- ১৯২৭ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় মাসিকপত্র 'প্রগতি'। সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও অজিতকুমার দত্ত।
- বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার বাতাস প্রবাহিত হলে ঢাকা যে তাতে পিছিয়ে ছিল না, 'প্রগতি'র প্রকাশ তার প্রমাণ। কল্লোল- কালিকলম-প্রগতি একই সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য তিনটি নাম। বাংলাদেশে আধুনিক সাহিত্যের বিকাশে এ পত্রিকার অবদান কম নয়।

অন্যদিকে,
-----------------
- 'কালিকলম' সচিত্র মাসিক সাহিত্য পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ বৈশাখ ১৩৩৩ (১৯২৬)। মুরলীধর বসু, শৈলেজানন্দ মুখোপাধ্যায় ও প্রেমেন্দ্র মিত্রের সম্পাদনায় কলকাতা, কলেজ স্ট্রিট মার্কেটের বরদা এজেন্সি থেকে প্রকাশিত হতো।

- 'কবিতা' কবিতাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা। প্রথম প্রকাশ ১ অক্টোবর ১৯৩৫ (আশ্বিন ১৩৪২)। পত্রিকাটির প্রথম দুবছরের সম্পাদক ছিলেন বুদ্ধদেব বসু ও প্রেমেন্দ্র মিত্র। যৌথ সম্পাদনায় পত্রিকাটি প্রকাশিত হলেও বুদ্ধদেব বসুই এর প্রধান পরিচালক ছিলেন। 

- মাসিক 'সমকাল' পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন - সিকান্দার আবু জাফর।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৩৭.
'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থটি কার রচনা?
  1. সুফিয়া কামাল
  2. জসীম উদ্‌দীন
  3. নির্মলেন্দু গুণ
  4. রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
ব্যাখ্যা
• 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ:
- 'চাষাভুষার কাব্য' বাংলা সাহিত্যের ষাট দশকের কবি নির্মলেন্দু গুণের একটি উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়। 
- এই বইয়ের কবিতাগুলোয় রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্ম ও অর্থনীতির নানা বিভক্তি, সংঘাত এবং মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া দূরত্ব ও বিপন্নতার বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 
- এই কাব্যগ্রন্থে কবি গ্রামীণ, শ্রমজীবী মানুষের জীবন ও মাটির সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ককে ফুটিয়ে তুলেছেন।  

অন্যদিকে, 
• 'চাষার ছেলে' নামে জসীম উদ্‌দীনের একটি কবিতা রয়েছে। 
• 'চাষার দুক্ষু' নামক প্রবন্ধটি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত।  

উৎস: 'চাষাভুষার কাব্য' কাব্যগ্রন্থ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
৩৮.
'চর্যার ভাষাকে প্রাচীন বাংলা কিংবা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী ভাষা বলাই সঙ্গত'- চর্যাপদের ভাষা সম্পর্কে উক্তিটি করন-
  1. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
  2. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  3. বিজয়চন্দ্র মজুমদার
  4. ড. প্রবোধচন্দ্র বাগচী
ব্যাখ্যা
চর্যাপদের ভাষা বিষয়ক আলোচনা:
- বিজয়চন্দ্র মজুমদার ১৯২০ সালে প্রথম চর্যাপদের ভাষা নিয়ে আলোচনা করেন।

- ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে স্বীকৃত দেন যে, চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত। চর্যাগীতির বৈয়াকরণ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় ১৯২৬ সালে ভাষা আলোচনা করে দেখালেন- চর্যাপদ বাংলা নিশ্চয়ই, বাংলার প্রায় মূর্তি অবহটঠের সদ্যোনির্মোক মুক্ত রূপ।

- চর্যায় নাসিক্যধ্বনির প্রাধান্য ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে কেউ কেউ এ ভাষাকে পশ্চিমবঙ্গের মনে করেন। কিন্তু ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্'র মতে- চর্যার ভাষাকে প্রাচীন বাংলা কিংবা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী ভাষা বলাই সঙ্গত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৩৯.
বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন কে?
  1. উইলিয়াম কেরি
  2. ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালঙ্কার
  4. গোলোকনাথ শর্মা
ব্যাখ্যা
• ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ছিলেন সংস্কৃত পণ্ডিত, লেখক, শিক্ষাবিদ, সমাজসংস্কারক, জনহিতৈষী।
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পৈতৃক পদবি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি 'ঈশ্বরচন্দ্র শর্মা' নামে স্বাক্ষর করতেন।
- তিনি বাংলা গদ্যের জনক হিসেবে খ্যাত। তিনি বাংলা গদ্যে প্রথম যতি বা বিরামচিহ্ন স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ 'বেতাল পঞ্চবিংশতি'।
- বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম মৌলিক গদ্য রচনার নাম 'প্রভাবতী সম্ভাষণ'।
- বাংলা গদ্যে প্রথম আত্মজীবনী রচনা করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাঁর রচিত আত্মজীবনীর নাম বিদ্যাসাগর চরিত বা আত্মচরিত।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।
৪০.
'জীবন থেকে নেয়া' চলচ্চিত্রের পরিচালক কে?
  1. হুমায়ূন আহমেদ
  2. সত্যজিৎ রায়
  3. জহির রায়হান
  4. মুনীর চৌধুরী
ব্যাখ্যা
চলচ্চিত্র প্রাঙ্গণে জহির রায়হান:
• ১৯৫৬ সালে জহির রায়হান চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। ১৯৬১ সালে তাঁর পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র 'কখনও আসেনি' মুক্তি পায়। তারপর একের পর এক তাঁর নির্মিত চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে থাকে। এসব চলচ্চিত্র হলো: কাজল, কাঁচের দেয়াল, বেহুলা, জীবন থেকে নেয়া, আনোয়ারা, সঙ্গম এবং বাহানা।

• 'জীবন থেকে নেয়া' ছবিতে প্রতীকী কাহিনির মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের স্বৈরাচারী শাসনকে চিত্রিত করা হয় এবং জনগণকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

• ১৯৭১-এর ২৫ মার্চের পর তিনি কলকাতায় যান। সেখান থেকে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার গণহত্যার চিত্র সম্বলিত 'স্টপ জেনোসাইড' নির্মাণ করেন। ছবিটি পৃথিবী জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

• জহির রায়হানের উর্দু চলচ্চিত্র 'সঙ্গম' ছিল পাকিস্তানের প্রথম রঙ্গীন চলচ্চিত্র। তাঁর অপর উর্দু ছবি বাহানা ছিল সিনেমাস্কোপ। তিনি কাঁচের দেয়াল ছবির জন্য অনেক পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৬১ সালে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুমিতা দেবীর সঙ্গে পরিণয়সূত্রে আবদ্ধ হন এবং ১৯৬৮ সালে অপর চলচ্চিত্র অভিনেত্রী সুচন্দাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।

• জহির রায়হান 'লেট দেয়ার বি লাইট' নামে একটি ইংরেজি ছবি নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ায় তিনি তা শেষ করতে পারেন নি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪১.
চর্যাপদের কবি নন কে?
  1. জয়দেবপা
  2. মহীধরপা
  3. আর্যদেবপা
  4. জয়নন্দীপা
ব্যাখ্যা
• চর্যাপদের কবি নন- জয়দেবপা। 

---------------------
• চর্যাপদের কবিগণ:
সুকুমার সেনের 'বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস' (প্রথম খণ্ড) গ্রন্থে চর্যাপদের ২৪ জন পদকর্তার নাম পাওয়া যায়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত 'Buddhist Mystic Songs' গ্রন্থে চর্যাপদের ২৩ জন কবির নাম উল্লেখ আছে।

চর্যাপদের কবিগণ হলেন:
কাহ্নপা; কুক্কুরীপা; ধর্মপা; ঢেগুণপা; বিরুপা; বীণাপা; ভাদেপা; ভুসুকুপা, মহীধরপা, লুইপা; শবরপা; শান্তিপা; সরহপা; ডোম্বীপা; কম্বলাম্বরপা; গুণ্ডুরীপা; চাটিল্লপা; আর্যদেবপা; দারিকপা; তাড়কপা; কঙ্কণপা; জয়নন্দীপা; তন্ত্রীপা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪২.
বাংলা শিশুসাহিত্যের বিখ্যাত 'মশা' গল্পটি কার রচনা?
  1. সুকুমার রায়
  2. প্রেমেন্দ্র মিত্র
  3. উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
  4. সুকান্ত ভট্টাচার্য
ব্যাখ্যা
• 'মশা' গল্প ও 'ঘনাদা' চরিত্র:
- প্রেমেন্দ্র মিত্রের "মশা" একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিমূলক ছোটগল্প যা তাঁর জনপ্রিয় চরিত্র ঘনাদার সঙ্গে জড়িত। 
- বাংলা শিশুসাহিত্যে প্রেমেন্দ্র মিত্রের অতুলনীয় সৃষ্টি 'ঘনাদা' চরিত্রটি।প্রেমেন্দ্র মিত্রের এ ঘনাদা চরিত্রে সৃষ্টি হয় তাঁর রচিত 'মশা' (১৯৩৭) গল্পের মাধ্যমে।
- শিশুর মনোরাজ্যের রোমাঞ্চকর অনুভূতিগুলি তিনি ঘনাদা চরিত্রের মাধ্যমে অভিব্যক্ত করেন।
- ঘনাদা পড়ে প্রতিটি শিশু-কিশোর ঘনাদার ভিতর দিয়ে নিজেদের দেখতে উন্মুখ হয়ে ওঠে। কিশোর মনোরাজ্য অধিকারের জন্য ডিটেকটিভ ও রোমাঞ্চকর কাহিনি সৃজনে তিনি অসাধারণ শক্তির পরিচয় দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও ড. সৌমিত্র শেখর; 'মশা' গল্প।
৪৩.
গোলাম মোস্তফা রচিত কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. বুলবুলিস্তান
  2. বিশ্বনবী
  3. কাব্যকাহিনী
  4. খোশরোজ
ব্যাখ্যা
• 'বিশ্বনবী' গোলাম মোস্তফা রচিত- গদ্যগ্রন্থ।
- এটি রাসুলুল্লাহ (স) এর জীবনীমূলক গ্রন্থ। গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

---------------------
• গোলাম মোস্তফা:

- গোলাম মোস্তফা ছিলেন কবি ও লেখক। ১৮৯৭ সালে যশোর (বর্তমান ঝিনাইদহ) জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে তাঁর জন্ম।
- ১৯৪৯ সালে গঠিত পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে তিনি কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন।
- তিনি গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ ছিলেন, তবে কবি হিসেবেই তাঁর মুখ্য পরিচয় ছিল।
- সাহিত্য-সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক 'কাব্য সুধাকর' (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক 'সিতারা-ই-ইমতিয়াজ' (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত কাব্যগ্রন্থ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম ইত্যাদি।

তাঁর রচিত অনুবাদকাব্য:
- মুসাদ্দাস-ই-হালী,
- কালামে ইকবাল,
- শিকওয়া ও জওয়াব-ই-শিকওয়া (১৯৬০)।

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।