উত্তর
ব্যাখ্যা
• 'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন
• 'বিদ্যুৎ' শব্দের সমার্থক শব্দ:
তড়িৎ, বিজলি, বিজুরি, অশনি, ক্ষণপ্রভা, সৌদামিনী, দামিনী, চপলা।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• যুক্তবর্ণ:
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় তাদের কে স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে। যে সকল যুক্তবর্ণ দেখলে সহজে চেনা যায় না তাদের কে অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ বলে।
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ক্ + স = ক্স,
- ক্ + ষ = ক্ষ,
- হ্+ ম = হ্ম,
- হ্ + ন = হ্ন,
- ষ + ণ= ষ্ণ,
- ক্ + ষ + ম = ক্ষ্ম।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।
পূরণবাচক সংখ্যা শব্দ তিন প্রকার। যথা:
১. সাধারণ পূরণবাচক,
২. তারিখ পূরণবাচক,
৩. ভগ্নাংশ পূরণবাচক।
• সাধারণ পূরণবাচক:
ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারোতম ইত্যাদি। সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।
- ১১ থেকে ১৮ পর্যন্ত সংখ্যার পূর্ণ পূরণবাচক ও সংক্ষিপ্ত পূরণবাচক দুই রকম: একাদশ (১১শ) ও এগারোতম (১১তম), দ্বাদশ (১২শ) ও বারোতম (১২তম), ত্রয়োদশ (১৩শ) ও তেরোতম (১৩তম), চতুর্দশ (১৪শ) ও চোদ্দতম (১৪তম), পঞ্চদশ (১৫শ) ও পনেরোতম (১৫তম)।
- ১৯ থেকে ৯৯ পর্যন্ত সংখ্যার সংক্ষিপ্ত পূরণবাচকে শুধু 'তম' প্রত্যয় যোগ করা হয়। যথা: উনিশতম বা ঊনবিংশতিতম (১৯তম), বিশতম বা বিংশতিতম (২০তম), একুশতম বা একবিংশতিতম (২১তম), আটাশতম বা অষ্টাবিংশতিতম (২৮তম)...নিরানব্বইতম বা নবনবতিতম (৯৯তম) ইত্যাদি।
- বাংলা ভাষায় সাধারণ পূরণবাচকের নারীবাচক রূপের ব্যবহার আছে। যেমন প্রথমা (১মা), দ্বিতীয়া (২য়া), তৃতীয়া (৩য়া), চতুর্থী (৪র্থী), পঞ্চমী (৫মী), ষষ্ঠী (৬ষ্ঠী), সপ্তমী (৭মী), অষ্টমী (৮মী), নবমী (৯মী), দশমী (১০মী), একাদশী (১১শী), দ্বাদশী (১২শী), ত্রয়োদশী (১৩শী), চতুর্দশী (১৪শী), পঞ্চদশী (১৫শী), ষোড়শী (১৬শী), সপ্তদশী (১৭শী), অষ্টাদশী (১৮শী) ইত্যাদি।
-------------------------
• তারিখ পূরণবাচক:
বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। যেমন: পয়লা/পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা, পাঁচই, ছয়ই, সাতই, আটই.......ত্রিশে, একত্রিশে ইত্যাদি।
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
কখনো পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। যেমন: আধ, সাড়ে, পোয়া, সোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• 'তস্কর' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ - সাধু।
• 'তস্কর' শব্দের অর্থ- অপহরণ-কারী, অপহারক, চোর।
• 'সাধু' শব্দের অর্থ- ধার্মিক, ধর্মপরায়ণ, শিষ্ট, মার্জিত (সাধু বাক্য), উত্তম, যথাযথ, ফকির, সন্ন্যাসী, বণিক।
অন্যদিকে,
'ক্ষিপ্র' পরীতার্থক শব্দ - মন্থর।
'নিষ্কর' অর্থ- কর দিতে হয় না এমন, লাখেরাজ (নিষ্কর ভূমি)।
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত।
যথা:
ফল, থলে, ঠাণ্ডা, ছুরি, খেলা শব্দের ফ, থ, ঠ, ছ, খ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।
উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী এগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
মূর্ধা স্পষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়: তৎসম, তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি। এর মধ্যে তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।
১. তৎসম শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব বাংলা শব্দের লিখিত চেহারা সংস্কৃত ভাষার শব্দের অনুরূপ সেগুলোকে তৎসম শব্দ বলে। যথা: পৃথিবী, আকাশ, গ্রহ, বৃক্ষ। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণ করে গঠিত পারিভাষিক শব্দকেও তৎসম শব্দ বলা হয়। যথা: অধ্যাদেশ, গণপ্রজাতন্ত্রী, মহাপরিচালক, সচিবালয় ইত্যাদি।
২. তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।
৩. দেশি শব্দ: বাংলা অঞ্চলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভাষা থেকে কিছু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান পেয়েছে, এগুলোকে দেশি শব্দ বলা হয়। উদাহরণ: কুড়ি, পেট, চুলা, কুলা, ডাব, টোপর, ঢেঁকি ইত্যাদি।
৪. বিদেশি শব্দ: ঐতিহাসিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হওয়ায় সেসব দেশের বহু শব্দ বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে, এই শব্দগুলোকে বিদেশি শব্দ বলে। এসব বিদেশি শব্দের মধ্যে রয়েছে আরবি, ফারসি, ইংরেজি, পর্তুগিজ, ফরাসি, ওলন্দাজ, তুর্কি, হিন্দি ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
• ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
কুট কুট, খক খক, সাঁই-সাঁই, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথক, শোঁ শোঁ, চকচক, ভটভট, ধুপধুপ টুপটাপ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
• ক-বর্গীয় ধ্বনি: ক, খ, গ, ঘ, ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।
• চ-বর্গীয় ধ্বনি: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে। এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।
• ট-বর্গীয় ধ্বনি: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ উল্টিয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশকে স্পর্শ করে। এগুলোর উচ্চারণে জিহ্বা উল্টা হয় বলে এদের নাম দন্তমূলীয় প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি। আবার এগুলো ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশ অর্থাৎ মূর্ধায় স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয় মূর্ধন্য ধ্বনি।
• ত-বর্গীয় ধ্বনি: ত, থ, দ, ধ, ন- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।
• প-বর্গীয় ধ্বনি: প, ফ, ব, ভ, ম- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• আমদানি (বিশেষ্য পদ)।
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
- বিদেশ থেকে বাণিজ্যিক পণ্য আনয়ন,
- বিক্রয় থেকে লব্ধ আয়।
- আগমন, উপস্থিতি।
'ফারসি' ভাষার আরো কিছু শব্দ হলো:
খোদা, গুনাহ, দোজখ, ফেরেশতা, আমদানি, জিন্দা, রপ্তানি, বেহেশত, নমুনা, রোজা, হাঙ্গামা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'Associate' এর বাংলা পারিভাষিক - সহযোগী।
অন্যদিকে,
'Companion; Attendant' অর্থ - অনুগামী।
'Manager' অর্থ - ব্যবস্থাপক।
'Co-ordination' অর্থ - সহযোজন।
উৎস: বাংলা একাডেমি, প্রশাসনিক পরিভাষা এবং অভিগম্য অভিধান।
• সম্প্রকর্ষ বা স্বরলোপ:
দ্রুত উচ্চারণের জন্য শব্দের আদি, অন্ত্য বা মধ্যবর্তী কোনো স্বরধ্বনির লোপকে বলা হয় সম্প্রকর্ষ।
যেমন- বসতি > বস্তি, জানালা > জান্লা ইত্যাদি।
•আদি স্বরলোপ:
প্রথম স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে আদি স্বরলোপ বলে।
যেমন:
- অলাবু> লাবু > লাউ,
- উদ্ধার > উধার > ধার।
• মধ্যস্বর লোপ:
শব্দের মধ্যে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে মধ্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- অগুরু > অগ্র,
- সুবর্ণ > স্বর্ণ।
• অন্ত্যস্বর লোপ:
শব্দের শেষে অবস্থিত স্বরধ্বনি লোপ পেলে তাকে অন্ত্যস্বর লোপ বলে।
যেমন:
- আশা > আশ,
- আজি > আজ,
- চারি > চার,
- সন্ধ্যা > সঞঝা > সাঁঝ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• 'বন' শব্দের সমার্থক শব্দ:
অরণ্য, জঙ্গল, কানন, বনানী, বনবাদাড়, কুঞ্জ, কান্তার, বিপিন, অটবী।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'আকাশ থেকে পড়া' বাগ্ধারার অর্থ- না জানার ভান করা।
অন্যদিকে,
• 'অন্ধকারে থাকা' অর্থ - কিছু না জানা।
• 'আসরে নামা' অর্থ - আবির্ভূত হওয়া।
• 'কেঁচো খুড়তে সাপ' অর্থ - বিপজ্জনক পরিণতি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'খড়-খর' শব্দজোড়টির অর্থ- তৃণ-তীব্র।
'খড়' অর্থ - তৃণ।
'খর' অর্থ - তীব্র।
এরূপ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দজোড় হলো-
খদ্দর - কাপড়।
খদ্দের - গ্রাহক।
খরা - রৌদ্র।
ক্ষরা - ক্ষরণ।
খুর - পশুর পায়ের অংশ।
ক্ষুর - কামানোর অস্ত্র।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
• 'শ্যামল' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ- গৌরাঙ্গ।
অন্যদিকে,
--------------
মলিন - উজ্জ্বল।
সুশ্রী - কুশ্রী/বিশ্রী।
সরস - নীরস।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• রূপতত্ত্ব:
- রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- এই আলোচনায় বিশেষ্য, সর্বনাম, বিশেষণ, ক্রিয়া, ক্রিয়াবিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়।
- বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দগঠন প্রক্রিয়া।
- উপসর্গ, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষও রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
সাধু ও চলিত ভাষায় বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের কতিপয় রূপ:
সাধু ও চলিত ভাষায় শব্দ-
আসিয়া - এসে।
মস্তক - মাথা
জুতা - জুতো;
তুলা - তুলো;
শুষ্ক/শুকনা - শুকনো;
সহিত - সঙ্গে/সাথে।
বন্য - বুনো।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
গায়ক = গৈ + ণক (অক) অর্থ: গান করে যে।
কর্তব্য = কৃ + তব্য - অর্থ: যা করা উচিত।
বাবুয়ানা = বাবু + আনা - অর্থ: বাবুর ভাব।
মধুর = মধু + র - অর্থ: মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য - অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি।
চিকামারা = চিকা + মারা অর্থ: দেওয়ালের লিখন।
অন্যদিকে,
---------------------
• যোগরূঢ় শব্দ:
সমাস নিষ্পন্ন যে সকল শব্দ সম্পূর্ণভাবে সমস্যমান পদসমূহের অনুগামী না হয়ে কোনো বিশিষ্ট অর্থ গ্রহণ করে তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন:
- মহাযাত্রা: 'মহাসমারোহে যাত্রা' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ 'মৃত্যু'।
- জলধি: 'জল ধারণ করে এমন' অর্থ পরিত্যাগ করে একমাত্র 'সমুদ্র' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
- রাজপুত: 'রাজার পুত্র' অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে 'জাতি বিশেষ'।
- পঙ্কজ: পঙ্কে জন্মে যা। শৈবাল, শালুক, পদ্মফুল প্রভৃতি উদ্ভিদ পঙ্কে জন্মে থাকে। কিন্তু 'পঙ্কজ' শব্দটি একমাত্র 'পদ্মফুল' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।