পরীক্ষা আর্কাইভ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
"পরীক্ষা - ২২: বিষয় - নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন টপিকসমূহ: 1) Impact of Values Education and Good Governance in national development; 2) How the element of Good Governance and Values Education can be established in society in a given social context; 3) The benefits of Values Education and Good Governance and the cost society pays adversely in their absence. এবং বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিকসমূহ: ১. বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা: রাজনৈতিক দলসমূহের গঠন, ভূমিকা ও কার্যক্রম, ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্পর্কাদি, সুশীল সমাজ ও চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীসমূহ এবং এদের ভূমিকা। ২. বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক।"
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি

১৪০ দিনে ৫১তম বিসিএস প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসা বিজ্ঞানী কে ছিলেন?
  1. ডা. হোসনেয়ারা বেগম
  2. ডা. জোহরা বেগম কাজী
  3. ডা. ফিরোজা বেগম
  4. ডা. মমতাজ বেগম কাজী
সঠিক উত্তর:
ডা. জোহরা বেগম কাজী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডা. জোহরা বেগম কাজী
ব্যাখ্যা
উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম নারী চিকিৎসা বিজ্ঞানী:
- উপমহাদেশের প্রথম নারী চিকিৎসক অধ্যাপক জোহরা বেগম কাজী।

⇒ তিনি ১৯১২ সালের ১৫ অক্টোবর অবিভক্ত ভারতের মধ্য প্রদেশের রাজনান গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- ২৩ বছর বয়সেই তিনি দিল্লির 'লেডি হাডিং মেডিকেল কলেজ' থেকে ১৯৩৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে এমবিবিএস পাস করেন।
- এজন্য পুরস্কার হিসেবে পান ভাইসরয় পদক।
- ১৯৪৮ সালে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগ দেন।
- ১৯৭৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পর বেশকিছু বছর হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট হাসপাতালে কনসালটেন্ট হিসাবে চিকিৎ‍সা সেবা প্রদান করেন।
- পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেলে অনারারী অধ্যাপক হিসেবে কাজ করেন।
- তার কারণে চিকিৎসা শাস্ত্রে এদেশে মেয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পায়।

⇒ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। দীর্ঘকাল মানবতার সেবায় নিঃস্তার্থ কর্মকান্ডের স্তীকৃতিস্তরূপ ডাঃ জোহরা কাজীকে তমঘা-ই-পাকিস্তান (১৯৬৪), বেগম রোকেয়া পদক (২০০২) এবং একুশে পদক (২০০৮) প্রদান করা হয়।
- তিনি ২০০৭ সালের ৭ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: বাংলপিডিয়া।
.
'কৃষক-শ্রমিক পার্টি' কার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. এ. কে. ফজলুল হক
  2. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  3. মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী
  4. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এ. কে. ফজলুল হক
ব্যাখ্যা
কৃষক-শ্রমিক পার্টি:
- কৃষক-শ্রমিক পার্টি আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি সম্বলিত একটি রাজনৈতিক দল।
- দলটি ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৩ পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিতে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল।
- ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কৃষক প্রজা পার্টি ছিল নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতির ফসল।
- বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের মুসলমান নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে নিখিলবঙ্গ প্রজা সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২৯ সালে।
- স্যার আব্দুর রহিম এ সমিতির সভাপতি এবং আরও পাঁচজন সহ-সভাপতি ছিলেন।
- এ.কে ফজলুল হক ছিলেন এ পাঁচজনের মধ্যে প্রথম সহ-সভাপতি।
- ১৯৩০ দশকের মন্দার প্রেক্ষাপটে পূর্ব বঙ্গের প্রায় সকল জেলায় প্রজা সমিতি গঠিত হয়।
- এ. কে. ফজলুল হক পূর্ব বাংলায় তার সমর্থকদের নিয়ে প্রজা সমিতি ত্যাগ করলেন এবং ১৯৩৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় কৃষক প্রজা পার্টি প্রতিষ্ঠিত করেন।

উল্লেখ্য,
- ১৯৩৭ সালের নির্বাচনে কে.পি.পি-র প্রধান দু প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ।
- কৃষক ভোটাররা ফজলুল হকের প্রতি বিশাল সমর্থন জানায়।
- নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে কেপিপি তৃতীয় স্থান দখল করে।
- কংগ্রেস পায় ৫২টি আসন, মুসলিম লীগ ৩৯টি, কে.পি.পি ৩৬টি এবং অন্যান্য খন্ডিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ২৫০ আসনের বাকিগুলি দখল করে।
- এর ফলে কে.পি.পি পূর্ব বঙ্গের একটি দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
কোন রাজনীতিবিদ 'দেশবন্ধু' উপাধি পেয়েছিলেন?
  1. চিত্তরঞ্জন দাশ
  2. পন্ডিত মতিলাল নেহরু
  3. অমর্ত্য সেন
  4. সুভাষচন্দ্র বসু
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাশ
ব্যাখ্যা
চিত্তরঞ্জন দাশ:
- চিত্তরঞ্জন দাশ সাধারণত দেশবন্ধু বলে আখ্যায়িত। 

⇒ তিনি বিশ শতকের বাংলার সবচেয়ে প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অন্যতম।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন।
- অনুশীলন সমিতির মতো বিপ্লবী সংগঠনের সাথে তিনি যুক্ত ছিলেন।
- এস.এন ব্যানার্জী, বি.সি পাল ও অরবিন্দ ঘোষের সহকর্মী হিসেবে তিনি বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫)-কে বাংলায় বিপ্লবী কর্মকান্ড বিস্তৃত করতে সদ্ব্যবহার করেন।
- ১৯১৭ সালে ভবানীপুরে অনুষ্ঠিত বাংলার প্রাদেশিক সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন তিনি।
- তিনি ব্যাঙ্গল প্যাক্ট এর প্রবক্তা।

⇒ চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার বহু রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক গুরু।
- তাদের মধ্যে সুভাষচন্দ্র বসু, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বিধানচন্দ্র রায়, শরৎচন্দ্র বসু, যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্ত প্রভৃতি ব্যক্তিবর্গ উল্লেখযোগ্য।
- তিনি সব সময় ব্রিটিশবিরোধী লড়াইকে জোরদার করতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পক্ষে নিজের মত প্রকাশ করেছেন।
- একসময় তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে 'স্বরাজ দল' নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই স্বরাজ দলের প্রার্থী হিসেবেই ১৯২৪ সালে কলকাতা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন।
- এ সময়ে তিনি নারী শিক্ষা, বিধবা বিবাহ ইত্যাদির পক্ষে অনেক কাজ করেন।
- বাংলার এই বলিষ্ঠ নেতা মাত্র ৫৫ বছর বয়সে ১৯২৫ সালের জুন মাসে মারা যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন রয়েছে?
  1. ঢাকা
  2. রাঙামাটি
  3. পঞ্চগড়
  4. চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঢাকা
ব্যাখ্যা
সংসদীয় আসন:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ৩৫০টি আসন নিয়ে গঠিত।
- মহিলাদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসন ৫০টি।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সংসদীয় আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।
- ঢাকা জেলায় ২০টি সংসদীয় আসন রয়েছে।

অন্যদিকে -
- জাতীয় সংসদের - ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় মাত্র একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- ৩০০ নং আসন হলো বান্দরবান।
- চট্টগ্রাম জেলায় সংসদীয় আসন ১৬টি।
- রাজশাহী জেলায় সংসদীয় আসন ৬টি।
- কুমিল্লা জেলায় সংসদীয় আসন ১১টি।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
.
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় -
  1. ১৯৮৬ সালে
  2. ১৯৯০ সালে
  3. ১৯৯১ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯১ সালে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- একটি সরকারের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় থেকে নতুন একটি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পূর্ববর্তী সময়ে রাষ্ট্রের প্রশাসন পরিচালনায় নিয়োজিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
- সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গৃহিত হয়।

- বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় ৪ বার।
- যথা: ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮।

এছাড়াও,
- ২২ জানুয়ারি, ২০০৭ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ধার্য্য হলে দেশব্যাপী রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংঘাত ব্যাপক আকার ধারণ করে।
- ১ জানুয়ারি ২০০৭ রাষ্ট্রপতি জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেন।
- ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে পুনরায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়।
- এ সরকার ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের রোডম্যাপ ঘোষণা করে।
- ৩ জানুয়ারি ২০০৯ তারিখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার দায়িত্ব পালন করে।
- ৩০ জুন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বাতিল করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিম্নোক্ত কোন নেতা কারাগারের 'শহীদ চারনেতা' হিসেবে উল্লেখ নন?
  1. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  2. শেখ মুজিবুর রহমান
  3. তাজউদ্দীন আহমদ
  4. এম মনসুর আলী
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শেখ মুজিবুর রহমান
ব্যাখ্যা
জেলহত্যা:
- ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগের চারজন সিনিয়র নেতা: সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাই ৩ নভেম্বর জেল হত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব যখন অনেকটা দিশেহারা, সে সময় দলের গুরুত্বপূর্ণ এই চার নেতাসহ অনেককে বন্দি করা হয়েছিল।
- শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীরা দেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পূর্বে পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটকরত চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
- কতিপয় সেনা কর্মকর্তা পুরাতন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অভ্যন্তরে আটক এই চার নেতাকে গুলি করে এবং বেয়নেট দিয়ে বিদ্ধ করে হত্যা করে।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব কে দেন?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  2. দুদু মিয়া
  3. মাওলানা মুহাম্মদ আলী
  4. মজনু শাহ
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুদু মিয়া
ব্যাখ্যা
ফরায়েজী আন্দোলন:
- ফরায়েজী আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপদান করেন দুদু মিয়া।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।
- জী শরিয়ত উল্লাহ বৃহত্তর ফরিদপুরের মাদারীপুর জেলায় ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহর এই সংস্কার আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।
- ফরায়েজি শব্দটি আরবি ‘ফরজ’ (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে।
- যাঁরা ফরজ পালন করে তারাই ফরায়েজি।
- শরিয়ত উল্লাহ যে ফরজের উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন, তা ছিল পবিত্র কুরআনে বর্ণিত পাঁচটি অবশ্যপালনীয় (ফরজ) মৌলনীতি।
- তিনি ভারতবর্ষকে ‘দারুল হারব' অর্থাৎ বিধর্মীর রাজ্য বলে ঘোষণা করেন।
- জমিদার শ্রেণি নানা অজুহাতে ফরায়েজি প্রজাদের উপর অত্যাচার শুরু করলে শরিয়ত উল্লাহ প্রজাদের রক্ষার জন্য লাঠিয়াল বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত নেন।
- ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে তার উপর পুলিশি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
- ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

⇒ হাজী শরিয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পরে ফরায়েজি আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তাঁর যোগ্যপুত্র মুহম্মদ মুহসিন উদ্দীন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া।
- তিনি ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।
- ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে দুদু মিয়া মৃত্যুবরণ করেন।
- তাঁর মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে।

অন্যদিকে -
- মাওলানা মুহাম্মদ আলী খিলাফত আন্দোলনের নেতা ছিলেন।
- স্যার সৈয়দ আহমদ খান আলীগড় আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মজনু শাহ ফকির বিদ্রোহের নেতা ছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনো সমস্যা সমাধানে সুশীল সমাজের উদ্যোগকে কী ধরনের কূটনীতি বলা হয়?
  1. ট্র্যাক ওয়ান কূটনীতি
  2. ট্র্যাক টু কূটনীতি
  3. ট্র্যাক থ্রি কূটনীতি
  4. মাল্টি ট্র্যাক কূটনীতি
সঠিক উত্তর:
ট্র্যাক টু কূটনীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ট্র্যাক টু কূটনীতি
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ:
- ইংরেজি ‘সিভিল সোসাইটি’ কথাটির বাংলা অর্থ হল ‘সুশীল সমাজ’।
- সুশীল সমাজের মধ্যে বেসরকারি সংস্থাসমূহ, পেশাজীবী সংস্থাসমূহ, ব্যবসায়ী সংগঠনসমূহ, আইনজীবী সংগঠনসমূহ এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন গণমাধ্যমসমূহ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
- সাধারণভাবে বলা যায়, সুশীল সমাজ হলো একটি সংগঠিত গোষ্ঠী, যার সদস্যরা সরকারের কাছ থেকে নাগরিক অধিকার অর্জনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হয়।
- সুশীল সমাজ ব্যক্তি ও সরকারের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
- সুশীল সমাজ কখনও কখনও সরকার ও জনগণের মধ্যকার দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- এরা সাধারণত বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাসী।
- সর্বসাধারণের উন্নতি বিধান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সুশাসন এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য গৃহীত কার্যক্রমে স্বাধীনভাবে অথবা সরকারের সহযোগিতায় সুশীল সমাজ অংশগ্রহণ করে থাকে।
- বলা হয়ে থাকে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা কিংবা প্রভাব যেখানে শেষ সেখানেই সুশীল সমাজের শুরু।

⇒ সুশীল সমাজের রয়েছে চারটি মৌলিক উপাদান -
১. বহুত্ববাদ বা বহুদলীয় গণতন্ত্র বা উদার গণতন্ত্র,
২. জনমত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা,
৩. গোপনীয়তা ও
৪. বৈধতা।

⇒ ট্র্যাক টু কূটনীতি:
- ট্র্যাক টু কূটনীতি বলতে বোঝায় একদেশের সুশীল সমাজ বা মিডিয়া তথা কোনো সমস্যা সমাধানে প্রভাব ফেলে তাকে।
- ট্র্যাক টু কূটনীতির ধারণাটি ১৯৭০ দশকে উদ্ভূত হয়েছিল।
- ট্র্যাক II কূটনীতিকে ব্যাকচ্যানেল কূটনীতি ও বলা হয়ে থাকে।
- বিশ্বের যে কোন বিবাদ মীমাংসায় সুশীল সমাজের উদ্যোগকে ট্র্যাক টু কূটনীতি বলা হয়।
- যেমন রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ সরকারের ট্রাক টু ডিপ্লোমেসি গ্রহন।

এছাড়াও,
- কোন সরকারের পক্ষে বা সরকারের জন্য অন্যদেশের নীতি নির্ধারনের উপর দাতা গোষ্ঠির প্রভাবকে ট্র্যাক থ্রী কূটনীতি বলে।
- পাবলিক কূটনীতি: বিদেশী জনসাধারণের সাথে সরাসরি যোগাযোগের লক্ষ্যে বিভিন্ন সরকার স্পন্সরকৃত প্রচেষ্টা।
- একইসাথে বিভিন্নমুখী কূটনৈতিক উদ্যোগকে বিভিন্ন ট্র্যাকে একই সঙ্গে চালিয়ে যাওয়া হয়, তাকে মাল্টি ট্র্যাক কূটনীতি বলে।

উৎস: i) পৌরনীতি ও সুশাসন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি ১ম পত্র, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) Britannica.
.
মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয়া হয় কেন?
  1. জনসমর্থন না থাকায়
  2. দাবি মেনে নেয়ায়
  3. প্রশাসনের অনুরোধে
  4. সহিংসতায় রূপ নেয়ায়
সঠিক উত্তর:
সহিংসতায় রূপ নেয়ায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহিংসতায় রূপ নেয়ায়
ব্যাখ্যা
অসহযোগ আন্দোলন:
- ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত আন্দোলন ও অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলে।
- মহাত্মা গান্ধীর অসহযোগ আন্দোলন সংঘটিত হয় ১৯২০ সালে।
- ১৯২১-২২ খ্রিস্টাব্দে এই আন্দোলন সর্বভারতীয় গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।
- ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে উত্তর প্রদেশের চৌরিচোরা নামক স্থানে অহিংস অসহযোগ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নিলে হঠাৎ করে এই আন্দোলন বন্ধের ডাক দেন।
- ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে তিনি গ্রেফতার হলে আন্দোলন স্থিমিত হয়ে যায়।

উল্লেখ্য,
⇒ মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী:
- ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী।
- ১৮৬৯ সালের ২ অক্টোবর ভারতে জন্ম নেন তিনি।
- ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অহিংস আন্দোলন করা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে বিদায় করতে তাঁর ভূমিকা অগ্রগণ্য।
- তিনি ছিলেন সত্যাগ্রহ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা।
- মহাত্মা গান্ধীকে ১৯৪৮ সালের ৩০শে জানুয়ারি নতুন দিল্লির একটি সুবৃহৎ প্রাসাদ বিড়লা হাউসের প্রাঙ্গনে হত্যা করা হয়েছিল।
- তাঁর ঘাতক ছিলেন নাথুরাম গডসে।

উৎস: i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) Britannica.
১০.
সমাজে ইভটিজিং ও পর্নোগ্রাফি বৃদ্ধির কারণ কী?
  1. উচ্চশিক্ষা
  2. গ্রাম উন্নয়ন
  3. মূল্যবোধের অভাব
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের অভাব
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অবক্ষয় বলতে সমাজে নৈতিক ও নীতিগত মূল্যবোধের অভাব বা অনুপস্থিতিকে বোঝায়।
- এটি ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।
- মূল্যবোধের অভাব হলো সমাজে ইভটিজিং ও পর্নোগ্রাফি বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচরণ ও নৈতিকতার ভিত্তি গড়ে তোলে।
- যখন এই মূল্যবোধগুলি সমাজে অনুপস্থিত থাকে বা ক্ষীণ হয়ে যায়, তখন মানুষের মধ্যে নৈতিকতা ও সততার অভাব দেখা দেয়, যা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজের প্রসার ঘটায়।

উল্লেখ্য,
মূল্যবোধের চর্চা ও প্রসার ঘটিয়ে ইভটিজিং এবং পর্নোগ্রাফি রোধ করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন:
→ শিক্ষার প্রসার: শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক ও মূল্যবোধের শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা।
→ সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি: ইভটিজিং ও পর্নোগ্রাফির কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
→ পারিবারিক শিক্ষা: পরিবারে সঠিক নৈতিক শিক্ষা ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করা।
→ নিয়ম ও আইন প্রয়োগ: কঠোর আইন ও তার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১১.
সুশাসন সম্পর্কে ম্যাককরনি’র অভিমত হলো:
‘সুশাসন বলতে _________ সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের এবং শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়।’
  1. রাষ্ট্রের
  2. সমাজের
  3. নাগরিকের
  4. শাসনের
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাষ্ট্রের
ব্যাখ্যা
• সুশাসনের কয়েকটি প্রামাণ্য সংজ্ঞা:

⇒ ম্যাককরনি:
"সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বোঝায়।"

⇒ কফি আনান:
"সুশাসন মানবাধিকার, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, জনপ্রশাসনের স্বচ্ছতা এবং সক্ষমতাকে নিশ্চিত করে।"

⇒ মিশেল ক্যামডেসাস:
"রাষ্ট্রের সব ধরনের উন্নয়নের জন্য সুশাসন অত্যাবশ্যক।"

⇒ মারটিন মিনোগ (Martin Minogue) সুশাসন সম্পর্কে বলেন,
“ব্যাপক অর্থে সুশাসন হচ্ছে কতগুলো উদ্যোগের সমষ্টি এবং একটি সংস্কার কৌশল যা সরকারকে অধিকতর গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক করতে সুশীল সমাজের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করে তোলে।”

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১২.
মূল্যবোধ কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়?
  1. সামাজিকীকরণ
  2. আইনি প্রক্রিয়া
  3. বিচার প্রক্রিয়া
  4. ক্ষমতা প্রয়োগ
সঠিক উত্তর:
সামাজিকীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিকীকরণ
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ:
- মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তি হচ্ছে মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ মানুষের আচার-ব্যবহার, ধ্যান-ধারনা, চাল-চলন ইত্যাদি নিয়ন্ত্রন করার মাপকাঠি স্বরূপ।
- মূল্যবোধের ধারণা ও বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী মূল্যবোধ একটি মানবিক গুনাবলী।
- মূল্যবোধ একজন মানুষের নীতি-নৈতিকতা ও বিবেকের উপর নির্ভরশীল।
- মূল্যবোধ সামাজিক আচার-ব্যবহার, সংস্কৃতি চর্চা ও সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৩.
মানবিক মূল্যবোধ কীভাবে সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে?
  1. অর্থনৈতিক উন্নয়ন করে
  2. ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে
  3. সামাজিক উন্নয়ন করে
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে
ব্যাখ্যা
মানবিক মূল্যবোধ:
- মানবিক মূল্যবোধ হচ্ছে শৃঙ্খল ও ন্যায় সমাজ গঠনের প্রথম শর্ত।
- মানবিক মূল্যবোধ বলতে কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাসকে বুঝায়।
- যে চিন্তা–ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের মানবিক আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই মানবিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, তাদের সেবা করা, উত্তম ব্যবহার, সহনশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা প্রভৃতি মানবিক মূল্যবোধের উদাহরণ।
- মানবিক মূল্যবোধ ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১৪.
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য কোনটি?
  1. আইন তৈরি করা
  2. নিজের অধিকার ভোগ করা
  3. সৎভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য করা
  4. সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা
সঠিক উত্তর:
সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা
ব্যাখ্যা
• সুশাসন:
- গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকেরা বিভিন্ন অধিকার উপভোগ করে, কিন্তু একই সাথে তাদের কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।
- অধিকার ভোগের সাথে সাথে নাগরিকেরা এসব কর্তব্য পালন করতে বাধ্য।
- একটি দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও উন্নতি লাভে নাগরিকদের কর্তব্যপরায়ণতা অপরিহার্য।
- কর্তব্যবিমুখ একটি জাতি কখনোই উন্নতি অর্জন করতে বা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।

• সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নাগরিকের কর্তব্য:
→ সামাজিক দায়িত্ব পালন;
→ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন;
→ আইন মান্য করা;
→ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন;
→ নিয়মিত কর প্রদান;
→ রাষ্ট্রের সেবা করা;
→ সন্তানদের শিক্ষাদান;
→ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।
১৫.
একজন যােগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের অত্যাবশকীয় মৌলিক গুণাবলীর শ্রেষ্ঠ গুণ কোনটি?
  1. দক্ষতা
  2. সরলতা
  3. নৈতিকতা
  4. মানবতা
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতা
ব্যাখ্যা
সুশাসন এবং নৈতিকতা:
- একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের জন্য অত্যাবশ্যকীয় মৌলিক গুণাবলীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণটি হলো নৈতিকতা।
- নৈতিকতা হলো সততা, ন্যায়বিচার, এবং সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষমতা।
- একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপককে তার কর্মক্ষেত্রে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে উচ্চ নৈতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। 

কারণ:
- নৈতিকতা একজন প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের প্রতি জনগণের এবং সহকর্মীদের আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখতে সাহায্য করে।
- উচ্চ নৈতিকতা দুর্নীতি ও অনৈতিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একটি সুরক্ষা প্রদান করে।
- নৈতিকতা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য এবং সুনাম নিশ্চিত করে।
- নৈতিক প্রশাসক ও ব্যবস্থাপক তার দলের মধ্যে সম্মান ও সহযোগিতার মনোভাব তৈরি করতে সক্ষম হয়।

যদিও মানবতা, দক্ষতা, এবং সরলতা সবই গুরুত্বপূর্ণ গুণাবলী, নৈতিকতা একটি ভিত্তি প্রদান করে যার উপর এই গুণাবলী গড়ে উঠতে পারে। তাই, নৈতিকতা একজন যোগ্য প্রশাসক ও ব্যবস্থাপকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ বলে বিবেচিত হয়।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১৬.
নিচের কোনটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা?
  1. দারিদ্র্য
  2. অধিক জনসংখ্যা
  3. জনসচেতনতার অভাব
  4. একাধিক রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দারিদ্র্য
ব্যাখ্যা
দারিদ্র্য ও সুশাসন:
- দারিদ্র্য সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা।
- আর্থিক কারণে দরিদ্র জনগণ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না। দরিদ্র ও অশিক্ষিত জনগণের মধ্যে সচেতনতার অভাব লক্ষ্য করা যায়।
- দরিদ্র ও অসচেতন জনগণ সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপায় সম্পর্কে অজ্ঞ ও উদাসীন থাকে।
- সুতরাং দারিদ্র্য সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় বাধা ৷

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কী কাজ করে?
  1. জ্ঞান ও বিজ্ঞান
  2. অর্থ ও সম্পদ
  3. সততা ও শিষ্টাচার
  4. প্রযুক্তি ও উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
সততা ও শিষ্টাচার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সততা ও শিষ্টাচার
ব্যাখ্যা
মানবিক মূল্যবোধ:
- মানবিক মূল্যবোধ হচ্ছে শৃঙ্খল ও ন্যায় সমাজ গঠনের প্রথম শর্ত।
- মানবিক মূল্যবোধ বলতে কতগুলো মনোভাবের সমন্বয়ে গঠিত অপেক্ষাকৃত স্থায়ী বিশ্বাসকে বুঝায়।
- যে চিন্তা–ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের মানবিক আচরণ, ব্যবহার ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই মানবিক মূল্যবোধ।
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- বড়দের সম্মান করা, তাদের সেবা করা, উত্তম ব্যবহার, সহনশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা, সততা প্রভৃতি মানবিক মূল্যবোধের উদাহরণ।
- মানবিক মূল্যবোধ ব্যক্তির মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করে।
- আর এভাবে ব্যক্তিসত্তা বিকাশ করে এটি সুশাসনের পথকে প্রশস্ত করে।

তথ্যসূত্র: উচ্চমাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম-পত্র বোর্ড বই।
১৮.
মূল্যবোধের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ কী?
  1. সাংস্কৃতিক মিশ্রণ
  2. অর্থনৈতিক উন্নতি
  3. নৈতিকতার অভাব
  4. প্রযুক্তিগত উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিকতার অভাব
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধের অবক্ষয়:
- মূল্যবোধের অবক্ষয় বলতে সমাজে নৈতিক ও নীতিগত মূল্যবোধের অভাব বা অনুপস্থিতিকে বোঝায়।
- এটি ঘটলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়।

মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণ: 
- দারিদ্রতা;
- নৈতিকতার অভাব;
- রাজনৈতিক কারণ;
- অসম বণ্টন ব্যবস্থা;
- পারিবারিক কারণ;
- সঙ্গ দোষ;
- অনুকরণ;
- স্যাটেলাইট চ্যানেল।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯.
সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনটি অপরিহার্য?
  1. মূল্যবোধের চর্চা
  2. প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ
  3. রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি
  4. আন্তর্জাতিক চুক্তির সাথে মিল রাখা
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের চর্চা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূল্যবোধের চর্চা
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও মূল্যবোধ:
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মূল্যবোধের চর্চা অপরিহার্য।
- যে সমাজ বা রাষ্ট্রে মূল্যবোধ অনুপস্থিত, সেখানে সুশাসন কখনোই সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না।
- মূল্যবোধগুলি এমন নীতি ও আদর্শ যা একটি সমাজের সদস্যদের আচরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করে।
- সুশাসনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং এটি শুধুমাত্র তখনই সম্ভব যখন মৌলিক মূল্যবোধগুলি কার্যকরভাবে অনুসৃত হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র এইচ এস সি ,উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।