পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৭ টপিক: রিভিশন (পরীক্ষা ৫ ও ৬) [Live Class – 7 to 10]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোন ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠে?
  1. স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র
  2. পুঁজিবাদী রাষ্ট্র
  3. কল্যাণমূলক রাষ্ট্র
  4. আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ, চিন্তা ও সমাজ গঠনের নৈতিক মানদণ্ড।
- আর এই মূল্যবোধই একটি রাষ্ট্রকে কল্যাণমূলক পথে পরিচালিত করে।
- মূল্যবোধ মানুষকে সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলে।
- মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত রাষ্ট্র দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকে।
- মূল্যবোধ মানুষ ও রাষ্ট্রকে মানবিক করে তোলে।
- তাই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে গড়ে উঠে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র, যেখানে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রাধান্য পায়।

উল্লেখ্য, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র (Welfare State) হলো এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা-
- যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে,
- যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান ইত্যাদির দায়িত্ব নেয়,
- যেখানে ন্যায্যতা ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত কোনটি?
  1. প্রশাসন
  2. গণমাধ্যম
  3. বিচার বিভাগ
  4. রাজনৈতিক দল
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়।
- বর্তমানে ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
প্রজাতন্ত্র কোন ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করে?
  1. আমলাতান্ত্রিক শাসন
  2. জনগণের সার্বভৌমত্ব
  3. ব্যক্তির একক ক্ষমতা
  4. রাজপরিবারের কর্তৃত্ব
ব্যাখ্যা
প্রজাতন্ত্র (Republic):
- গনতান্ত্রিক সরকারেরই একটা রূপ প্রজাতান্ত্রিক সরকার।
- যে শাসনব্যবস্থা বা সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ নির্বাচিত হন, তাকে "প্রজাতন্ত্র" বলে।
- প্রজাতন্ত্র হল এমন একটি সরকার ব্যবস্থা যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে জনগণ বা জনগণের একাংশ।
- প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি সাধারণত সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়ে থাকে।
- প্রজাতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে। রোমান সাম্রাজ্য ছিল প্রথম প্রজাতন্ত্র।
- প্রজাতন্ত্রের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান হবেন নির্বাচিত ও তাদের নিকট দায়বদ্ধ।

গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের মূল পার্থক্য-
- গণতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে সরাসরি জনগণের হাতে। অন্যদিকে, প্রজাতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে পৃথক নাগরিকদের হাতে।
- একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হতেও পারেন আবার না-ও পারেন। কিন্তু একটি প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রপ্রধানকে নির্বাচিত হতে হবে।
- গণতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে। প্রজাতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা।
- গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছা বা জনমত অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হয়, যেখানে প্রজাতন্ত্রে তা সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
- অর্থাৎ, গণতন্ত্রে জনমত চাইলে কোনো বিষয়ে তাদের অধিকার পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু প্রজাতন্ত্রে সংবিধানের দেয়া অধিকারকে জনমত ছাড়িয়ে যেতে পারে না।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
.
ই.বি. টেইলর সংস্কৃতিকে কী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন?
  1. ধর্মীয় অনুশাসন
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক কাঠামো
  4. অর্জিত অভ্যাস ও দক্ষতার সমষ্টি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- ইংরেজি Culture শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'সংস্কৃতি' যা ল্যাটিন শব্দ 'Cultura' থেকে এসেছে।
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।
- সংস্কৃতি এমন একটি শক্তি, যা নিরবিচারে ব্যক্তি ও সমাজের মনন, চিন্তা ও আচরণের ভিত গড়ে তোলে।
- সংস্কৃতি সমাজের মানুষের মানসিকতা, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী এবং নৃবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে সংস্কৃতিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন-
ই.বি টেইলর (Tylor) তাঁর 'Primitive Culture' গ্রন্থে বলেছেন,
"সংস্কৃতি হচ্ছে জ্ঞানবিশ্বাস, শিল্পকলানীতি, নিয়ম, সংস্কার ও অন্যান্য দক্ষতা যা মানুষ সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জন করে থাকে।"


সংস্কৃতির সংজ্ঞায় Jones বলেন,
"মানুষ তার চলার পথে জীবিকা নির্বাহের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই সংস্কৃতি।"

ম্যালিনোস্কি তাঁর 'A Scientific Theory of Culture' গ্রন্থে বলেন,
"সংস্কৃতি হলো মানুষের আপন কর্মের সৃষ্টি যার মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য সাধন করে।"

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি কোনটি?
  1. স্বাধীনতা
  2. সহনশীলতা
  3. প্রতিযোগিতা
  4. জনপ্রিয়তা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা (Tolerance):
- ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা ও চিন্তাভাবনার পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সবাইকে সহ্য ও সম্মান করার গুণই হল সহনশীলতা।
- সহনশীলতা হলো সামাজিক মূল্যবোধের একটি মৌলিক ও শক্তিশালী ভিত্তি।
- এটি সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভিন্নমত গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করে।
- সহনশীলতা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত। গণতন্ত্রে ভিন্নমতকে মূল্য দেওয়া হয়, যা সহনশীলতার মাধ্যমেই সম্ভব।
- সহনশীল ব্যক্তিরা সহিংসতা নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করে, ফলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।
-  সহনশীলতা না থাকলে সাম্প্রদায়িকতা, বিদ্বেষ ও সংঘাত বাড়ে, সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
- সহনশীলতা কেবল একটি চারিত্রিক গুণ নয়, এটি সমাজের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
- তাই, সহনশীলতা-ই সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি সাম্যের পরিপন্থী?
  1. সমতার সুযোগ সৃষ্টি
  2. আইনের সুশাসন
  3. বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য মানে হলো সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।
- এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।

প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
ক) সমতার সুযোগ সৃষ্টি
- এটি সাম্যের অনুকূলে, কারণ এটি সবাইকে সমানভাবে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ দেয়।

খ) আইনের সুশাসন
- আইনের শাসন নিশ্চিত করলে সবাই আইনের চোখে সমান হয়, তাই এটি সাম্যের পক্ষে।

গ) বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা
- এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে শিক্ষার সুযোগ, মান বা উপকরণ শ্রেণি, অঞ্চল বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে বিভিন্ন হয়।
- ফলে সমাজে অসমতা তৈরি হয়, যা সরাসরি সাম্যের পরিপন্থী।


ঘ) সামাজিক ন্যায়বিচার
- সমাজে সমান অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ এটি সাম্যের সহায়ক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
টি. এইচ. গ্রিনের মতে, রাষ্ট্রের ভিত্তি কী?
  1. শক্তি
  2. ইচ্ছা
  3. কর্তব্য
  4. অধিকার
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের ভিত্তি:
- টিএইচ গ্রিন ছিলেন উনিশ শতকের একজন প্রভাবশালী ব্রিটিশ দার্শনিক ও উদারপন্থী চিন্তাবিদ।
- তিনি নৈতিক দর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাঁর মতে, রাষ্ট্র কেবল শক্তি বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে গঠিত হয় না, বরং জনগণের নৈতিক সম্মতি ও ইচ্ছার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
- গ্রিন বোঝাতে চেয়েছেন যে, একটি স্থায়ী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কেবল অস্ত্র বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা যায় না।
- জনগণের সচেতন স্বীকৃতি, নৈতিক দায়িত্ববোধ, এবং সম্মিলিত ইচ্ছাই রাষ্ট্র গঠনের প্রকৃত ভিত্তি।
- জনগণ যদি স্বেচ্ছায় আইন মেনে চলে, তবেই রাষ্ট্র কার্যকর হয় এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান , এস এস এইচ এল , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সুশাসন অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে কীভাবে?
  1. বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে
  2. বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে
  3. ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধি করে
  4. বিনিয়োগ পরিবেশ অস্থিতিশীল করে
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- সুশাসন বলতে বোঝায়- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, কার্যকর প্রশাসন, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশের সমন্বিত রূপ।
- একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো যখন জনকল্যাণে দক্ষভাবে পরিচালিত হয়, তখন তাকে সুশাসনের উদাহরণ বলা হয়।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
- একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ অপরিহার্য।
- সুশাসনের ফলে দুর্নীতির পরিমাণ কমে, ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ পরিবেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।
- সুশাসনের মাধ্যমে সরকার নীতি পরিবর্তনে স্থিরতা বজায় রাখে।
- সুশাসন অর্থবছরের বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দক্ষ ব্যয় নিশ্চিত করে, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
.
"ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার" কোন শ্রেণির অধিকার?
  1. মৌলিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. আইনগত অধিকার
ব্যাখ্যা
• অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা (১) নৈতিক অধিকার ও (২) আইনগত অধিকার

• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।

• আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে কোনটি কাজ করে?
  1. আইন
  2. সরকার
  3. পুলিশ
  4. বিচার বিভাগ
ব্যাখ্যা
আইন সম্পর্কিত গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
• আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। 
• প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
• গুরুত্বপূর্ণ উৎস- ধর্ম।
• আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
• আইনের মৌলিক উৎস- সংবিধান।
• স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক- আইন।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা তখনই কার্যকর হয়, যখন তা একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো বা সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই কাঠামো তৈরি করে আইন।
- আইন বলে দেয়, একজন ব্যক্তি কখন নিজের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে এবং কখন তা অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।
- যদি কারও স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয় (যেমন: অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, মত প্রকাশে বাধা), আইন তাকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রতিকার নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১১.
মূল্যবোধ শিক্ষা কোন বিষয়ের বিকাশ সাধন করে?
  1. ব্যক্তি সত্তার
  2. ভোগবাদী চিন্তার
  3. সাম্প্রদায়িক চেতনার
  4. প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা একটি গভীর ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া যা ব্যক্তি সত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, নৈতিক মান এবং আদর্শের বিকাশ ঘটায়।
- এটি ব্যক্তির মধ্যে আত্ম-সচেতনতা, আত্ম-মূল্যায়ন ও আত্ম-উন্নয়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- ব্যক্তির মধ্যে সৃজনশীলতা, বিচার-বিবেচনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা এবং নৈতিক যুক্তি শক্তির বিকাশ ঘটায়।
- ব্যক্তিকে সমাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।
- এভাবে মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করে এবং ব্যক্তি সত্তার সামগ্রিক বিকাশ সাধন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা , নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের সম্পর্কের ফলে সমাজে কী ধরনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে?
  1. দমনমূলক
  2. একনায়কতান্ত্রিক
  3. প্রতিহিংসামূলক
  4. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও সুশাসনের সম্পর্ক:
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও চিন্তার নৈতিক দিকনির্দেশনা, যা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- যখন সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব হয় এবং নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়া নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গঠনে মূল্যবোধের ভূমিকা অপরিসীম।
- মূল্যবোধই একটি জাতিকে তার সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সামাজিক ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- তাই দমনমূলক, একনায়কতান্ত্রিক বা প্রতিহিংসামূলক সংস্কৃতি নয়- বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক সমাজ-সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
 
তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৩.
লর্ড ব্রাইস-এর মতে, নিম্নের কোনটি আইন মান্য করার একটি কারণ?
  1. ধর্মীয় অনুশাসন
  2. প্রথাগত বাধ্যবাধকতা
  3. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
  4. রাজনৈতিক প্রভাব
ব্যাখ্যা
আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি;
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা;
৩. নির্লিপ্ততা;
৪. সহানুভূতি;
৫. শাস্তির ভয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
সুশাসনের অন্যতম অন্তরায় কী?
  1. শক্তিশালী গণমাধ্যম
  2. নিরপেক্ষ গণমাধ্যম
  3. স্বাধীন সংবাদমাধ্যম
  4. পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- সুশাসন মানে হচ্ছে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং আইনের শাসনভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা।
- এর অন্যতম শর্ত হলো তথ্যের মুক্ত প্রবাহ এবং সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার, যাতে জনগণ সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সরকারের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
- সুশাসনের অন্যতম অন্তরায় হলো পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম।
- কারণ এটি সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য প্রবাহে বিঘ্ন ঘটায় এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ নষ্ট করে।

উল্লেখ্য,
- পক্ষপাতিত্বপূর্ণ গণমাধ্যম নিরপেক্ষভাবে সত্য খবর না দিয়ে বিশেষ ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থে তথ্য পরিবেশন করে।
- জনগণ সঠিক তথ্য না পেলে তারা ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা নিরুৎসাহিত হয়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে।
- পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও মেরুকরণ সৃষ্টি করে, যা সমাজে বিভাজন বাড়ায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করে।
- অন্যদিকে, শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন গণমাধ্যম সুশাসনের সহায়ক, কারণ তারা সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং জনগণের সচেতনতা বাড়ায়।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৫.
Johannesburg Plan of Implementation মূলত কোন বিষয়ের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক স্থাপন করে?
  1. টেকসই উন্নয়ন
  2. সামাজিক উন্নয়ন
  3. পেশাগত উন্নয়ন
  4. সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
• Johannesburg Plan of Implementation:
- Johannesburg Plan of Implementation জোহান্সবার্গ ঘোষণা নামে পরিচিত। 
- ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গ  শহরে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে Johannesburg Plan of Implementation গৃহীত হয়। 
- Johannesburg Plan of Implementation সুশাসনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development) বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়। 
- এখানে সুশাসনকে টেকসই উন্নয়নের মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেখানে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
 
তথ্যসূত্র: UN ওয়েবসাইট।
১৬.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের যৌথ ফলাফল কোনটি?
  1. দুর্নীতিযুক্ত সমাজ
  2. ন্যায়বিচারহীন সমাজ
  3. নিপীড়নমূলক প্রশাসন
  4. জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, কর্তব্য, সহানুভূতি, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে।
- অন্যদিকে, সুশাসন হলো এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
- এই দুইটি যখন একত্রে সমাজে প্রয়োগ করা হয়, তখন একটি কার্যকর, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র গড়ে ওঠে।
- অর্থাৎ, আমলারা তখন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে কাজ করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রবণতা হ্রাস পায়, এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়।

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে:
- দুর্নীতি দমন সহজ হয়;
- প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়;
- দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়;
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়;
- ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
‘নারী ও শিশু নির্যাতন’ কোন ধরনের সমস্যার উদাহরণ?
  1. অর্থনৈতিক সংকট
  2. সামাজিক অবক্ষয়
  3. পরিবেশগত সমস্যা
  4. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও সুশাসনের অভাবজনিত সামাজিক অবক্ষয়:
- সমাজে নৈতিকতা, আদর্শ ও সুশাসনের অভাব সমাজকে নষ্ট করে দেয়।
- সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ থাকে না।
- এতে মানুষের মধ্যে অসততা, অনাচার ও অন্যায়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

সামাজিক অবক্ষয়সমূহ হলো:
অপসংস্কৃতি, যুব সমাজের অবক্ষয়, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, মাদকাসক্তি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন, আর্থ-সামাজিক সমস্যা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দরিদ্রতা, খাদ্যে ভেজাল, সহিংসতা ও যুদ্ধমূলক সমস্যা, যুদ্ধ, জঙ্গিবাদ, চরমপন্থা, মৌলবাদ, বর্ণবাদ, রাষ্ট্র কর্তৃক রাষ্ট্র আক্রমণ ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৮.
'যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিকে' আইন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন কে?
  1. সক্রেটিস
  2. এরিস্টটল
  3. টি এইচ গ্রিন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
ব্যাখ্যা
• আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Law’।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason)।
- টমাস হবস, জ্যা বোদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়াও - 
- টমাস হব্স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৯.
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়-
  1. সকলকে সমপরিমাণ সম্পদ প্রদান
  2. সম্পদের উত্তরাধিকার নিষিদ্ধ করা
  3. সম্পদ ও সুযোগ যোগ্যতা অনুযায়ী বণ্টন
  4. সকল নাগরিকের সমান উপার্জিত আয়
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য বলতে বোঝায় সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।
- সাম্য একটি সমাজকে ন্যায়বিচার, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেয়।
- আইনের সুশাসন, ন্যায়বিচার ও সমতার সুযোগ সৃষ্টি করে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

• সাম্যের বিভিন্ন দিক:
স্বাভাবিক সাম্য- জন্মগতভাবে সবাই সমান।
সামাজিক সাম্য- সমাজে যোগ্যতা অনুযায়ী সকলে একই সুযোগ ভোগ করবে।
অর্থনৈতিক সাম্য- যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বন্টন।
নাগরিক সাম্য- ব্যক্তিগত সকল নাগরিকের সমান অধিকার।
রাজনৈতিক সাম্য- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণে সমান অধিকার ও মতামত প্রকাশ।
আইনগত সাম্য- আইনের চোখে সকলে সমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
নিচের কোনটি অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধর্ম
  2. সাহিত্য
  3. হাতিয়ার
  4. রীতিনীতি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- ইংরেজি Culture শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'সংস্কৃতি' যা ল্যাটিন শব্দ 'Cultura' থেকে এসেছে।
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

• বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

তথ্যসূত্র:
i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।