পরীক্ষা আর্কাইভ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

পরীক্ষানৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়10 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৭ টপিক: রিভিশন (পরীক্ষা ৫ ও ৬) [Live Class – 7 to 10]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোন ধরনের রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে উঠে?
  1. স্বৈরতান্ত্রিক রাষ্ট্র
  2. পুঁজিবাদী রাষ্ট্র
  3. কল্যাণমূলক রাষ্ট্র
  4. আধিপত্যবাদী রাষ্ট্র
সঠিক উত্তর:
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কল্যাণমূলক রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ, চিন্তা ও সমাজ গঠনের নৈতিক মানদণ্ড।
- আর এই মূল্যবোধই একটি রাষ্ট্রকে কল্যাণমূলক পথে পরিচালিত করে।
- মূল্যবোধ মানুষকে সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলে।
- মূল্যবোধের ভিত্তিতে পরিচালিত রাষ্ট্র দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বৈষম্য ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকে।
- মূল্যবোধ মানুষ ও রাষ্ট্রকে মানবিক করে তোলে।
- তাই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হলে গড়ে উঠে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র, যেখানে মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা প্রাধান্য পায়।

উল্লেখ্য, কল্যাণমূলক রাষ্ট্র (Welfare State) হলো এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা-
- যা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে,
- যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থান, কর্মসংস্থান ইত্যাদির দায়িত্ব নেয়,
- যেখানে ন্যায্যতা ও সামাজিক সমতা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত কোনটি?
  1. প্রশাসন
  2. গণমাধ্যম
  3. বিচার বিভাগ
  4. রাজনৈতিক দল
সঠিক উত্তর:
গণমাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয়।
- বর্তমানে ‘সুশাসন’ ও ‘গণমাধ্যম’ এ দুটি বিষয় পরস্পর গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
- গণমাধ্যমে একমাত্র ব্যবস্থা যা সুশাসনের নিয়ামকগুলোকে জনমত সৃষ্টির মাধ্যমে সুসংহত করতে পারে।
- শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমে অনুপস্থিতি সুশাসনের অন্তরায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- স্বাধীন সংবাদ মাধ্যম আর স্বাধীন বিচার বিভাগ ছাড়া সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা ও প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
- গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও আইনের শাসনকে কেউ কেউ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে থাকে যা গনমাধ্যমের জোরালো ভূমিকার মাধ্যমে তা প্রতিহত করা যায়।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
.
প্রজাতন্ত্র কোন ধরনের রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করে?
  1. আমলাতান্ত্রিক শাসন
  2. জনগণের সার্বভৌমত্ব
  3. ব্যক্তির একক ক্ষমতা
  4. রাজপরিবারের কর্তৃত্ব
সঠিক উত্তর:
জনগণের সার্বভৌমত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জনগণের সার্বভৌমত্ব
ব্যাখ্যা
প্রজাতন্ত্র (Republic):
- গনতান্ত্রিক সরকারেরই একটা রূপ প্রজাতান্ত্রিক সরকার।
- যে শাসনব্যবস্থা বা সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপ্রধান জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষ নির্বাচিত হন, তাকে "প্রজাতন্ত্র" বলে।
- প্রজাতন্ত্র হল এমন একটি সরকার ব্যবস্থা যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতা ভোগ করে জনগণ বা জনগণের একাংশ।
- প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রগুলি সাধারণত সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়ে থাকে।
- প্রজাতন্ত্রের উদ্ভব ঘটে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যে। রোমান সাম্রাজ্য ছিল প্রথম প্রজাতন্ত্র।
- প্রজাতন্ত্রের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রপ্রধান হবেন নির্বাচিত ও তাদের নিকট দায়বদ্ধ।

গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্রের মূল পার্থক্য-
- গণতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে সরাসরি জনগণের হাতে। অন্যদিকে, প্রজাতন্ত্রে ক্ষমতা থাকে পৃথক নাগরিকদের হাতে।
- একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হতেও পারেন আবার না-ও পারেন। কিন্তু একটি প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রপ্রধানকে নির্বাচিত হতে হবে।
- গণতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় সংখ্যাগরিষ্ঠের মতে। প্রজাতন্ত্রে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় জনগণের প্রতিনিধিদের দ্বারা।
- গণতন্ত্রে জনগণের ইচ্ছা বা জনমত অনুযায়ী দেশ পরিচালিত হয়, যেখানে প্রজাতন্ত্রে তা সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
- অর্থাৎ, গণতন্ত্রে জনমত চাইলে কোনো বিষয়ে তাদের অধিকার পরিবর্তন করতে পারে, কিন্তু প্রজাতন্ত্রে সংবিধানের দেয়া অধিকারকে জনমত ছাড়িয়ে যেতে পারে না।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।
.
ই.বি. টেইলর সংস্কৃতিকে কী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন?
  1. ধর্মীয় অনুশাসন
  2. নৈতিক মূল্যবোধ
  3. রাজনৈতিক কাঠামো
  4. অর্জিত অভ্যাস ও দক্ষতার সমষ্টি
সঠিক উত্তর:
অর্জিত অভ্যাস ও দক্ষতার সমষ্টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্জিত অভ্যাস ও দক্ষতার সমষ্টি
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- ইংরেজি Culture শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'সংস্কৃতি' যা ল্যাটিন শব্দ 'Cultura' থেকে এসেছে।
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।
- সংস্কৃতি এমন একটি শক্তি, যা নিরবিচারে ব্যক্তি ও সমাজের মনন, চিন্তা ও আচরণের ভিত গড়ে তোলে।
- সংস্কৃতি সমাজের মানুষের মানসিকতা, চিন্তাধারা ও মূল্যবোধ গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।

বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী এবং নৃবিজ্ঞানী বিভিন্নভাবে সংস্কৃতিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন। যেমন-
ই.বি টেইলর (Tylor) তাঁর 'Primitive Culture' গ্রন্থে বলেছেন,
"সংস্কৃতি হচ্ছে জ্ঞানবিশ্বাস, শিল্পকলানীতি, নিয়ম, সংস্কার ও অন্যান্য দক্ষতা যা মানুষ সমাজের সদস্য হিসেবে অর্জন করে থাকে।"


সংস্কৃতির সংজ্ঞায় Jones বলেন,
"মানুষ তার চলার পথে জীবিকা নির্বাহের জন্য যা কিছু সৃষ্টি করে তা-ই সংস্কৃতি।"

ম্যালিনোস্কি তাঁর 'A Scientific Theory of Culture' গ্রন্থে বলেন,
"সংস্কৃতি হলো মানুষের আপন কর্মের সৃষ্টি যার মাধ্যমে সে তার উদ্দেশ্য সাধন করে।"

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান ১ম পত্র, এইচএসসি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি কোনটি?
  1. স্বাধীনতা
  2. সহনশীলতা
  3. প্রতিযোগিতা
  4. জনপ্রিয়তা
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সহনশীলতা
ব্যাখ্যা
সহনশীলতা (Tolerance):
- ধর্ম, সংস্কৃতি, ভাষা ও চিন্তাভাবনার পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সবাইকে সহ্য ও সম্মান করার গুণই হল সহনশীলতা।
- সহনশীলতা হলো সামাজিক মূল্যবোধের একটি মৌলিক ও শক্তিশালী ভিত্তি।
- এটি সমাজে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং ভিন্নমত গ্রহণের পরিবেশ তৈরি করে।
- সহনশীলতা গণতান্ত্রিক চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত। গণতন্ত্রে ভিন্নমতকে মূল্য দেওয়া হয়, যা সহনশীলতার মাধ্যমেই সম্ভব।
- সহনশীল ব্যক্তিরা সহিংসতা নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করে, ফলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।
-  সহনশীলতা না থাকলে সাম্প্রদায়িকতা, বিদ্বেষ ও সংঘাত বাড়ে, সামাজিক অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।
- সহনশীলতা কেবল একটি চারিত্রিক গুণ নয়, এটি সমাজের শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।
- তাই, সহনশীলতা-ই সামাজিক মূল্যবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
নিচের কোনটি সাম্যের পরিপন্থী?
  1. সমতার সুযোগ সৃষ্টি
  2. আইনের সুশাসন
  3. বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা
  4. সামাজিক ন্যায়বিচার
সঠিক উত্তর:
বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য মানে হলো সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করা।
- এটি একটি মৌলিক মানবাধিকার এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।

প্রতিটি অপশন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
ক) সমতার সুযোগ সৃষ্টি
- এটি সাম্যের অনুকূলে, কারণ এটি সবাইকে সমানভাবে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ দেয়।

খ) আইনের সুশাসন
- আইনের শাসন নিশ্চিত করলে সবাই আইনের চোখে সমান হয়, তাই এটি সাম্যের পক্ষে।

গ) বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা
- এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে শিক্ষার সুযোগ, মান বা উপকরণ শ্রেণি, অঞ্চল বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে বিভিন্ন হয়।
- ফলে সমাজে অসমতা তৈরি হয়, যা সরাসরি সাম্যের পরিপন্থী।


ঘ) সামাজিক ন্যায়বিচার
- সমাজে সমান অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠায় এটি গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ এটি সাম্যের সহায়ক।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
টি. এইচ. গ্রিনের মতে, রাষ্ট্রের ভিত্তি কী?
  1. শক্তি
  2. ইচ্ছা
  3. কর্তব্য
  4. অধিকার
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইচ্ছা
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রের ভিত্তি:
- টিএইচ গ্রিন ছিলেন উনিশ শতকের একজন প্রভাবশালী ব্রিটিশ দার্শনিক ও উদারপন্থী চিন্তাবিদ।
- তিনি নৈতিক দর্শন ও রাজনৈতিক চিন্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
- তাঁর মতে, রাষ্ট্র কেবল শক্তি বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে গঠিত হয় না, বরং জনগণের নৈতিক সম্মতি ও ইচ্ছার ভিত্তিতে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়।
- গ্রিন বোঝাতে চেয়েছেন যে, একটি স্থায়ী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র কেবল অস্ত্র বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা যায় না।
- জনগণের সচেতন স্বীকৃতি, নৈতিক দায়িত্ববোধ, এবং সম্মিলিত ইচ্ছাই রাষ্ট্র গঠনের প্রকৃত ভিত্তি।
- জনগণ যদি স্বেচ্ছায় আইন মেনে চলে, তবেই রাষ্ট্র কার্যকর হয় এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় থাকে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান , এস এস এইচ এল , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
সুশাসন অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে কীভাবে?
  1. বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে
  2. বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করে
  3. ব্যবসায় ব্যয় বৃদ্ধি করে
  4. বিনিয়োগ পরিবেশ অস্থিতিশীল করে
সঠিক উত্তর:
বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে
ব্যাখ্যা
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- সুশাসন বলতে বোঝায়- স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার, কার্যকর প্রশাসন, আইনের শাসন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশের সমন্বিত রূপ।
- একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো যখন জনকল্যাণে দক্ষভাবে পরিচালিত হয়, তখন তাকে সুশাসনের উদাহরণ বলা হয়।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।
- একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগ অপরিহার্য।
- সুশাসনের ফলে দুর্নীতির পরিমাণ কমে, ফলে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ পরিবেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।
- সুশাসনের মাধ্যমে সরকার নীতি পরিবর্তনে স্থিরতা বজায় রাখে।
- সুশাসন অর্থবছরের বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে দক্ষ ব্যয় নিশ্চিত করে, যা অবকাঠামোগত উন্নয়নে সহায়ক হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক।
.
"ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার" কোন শ্রেণির অধিকার?
  1. মৌলিক অধিকার
  2. নৈতিক অধিকার
  3. সামাজিক অধিকার
  4. আইনগত অধিকার
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নৈতিক অধিকার
ব্যাখ্যা
• অধিকারের শ্রেণিবিভাগ:
অধিকার প্রধানত দুই প্রকার- যথা (১) নৈতিক অধিকার ও (২) আইনগত অধিকার

• নৈতিক অধিকার (Moral Rights):
- নৈতিক অধিকার নীতি এবং বিবেকদ্বারা জাগ্রত
- ন্যায়বোধ থেকে এটি তৈরি হয়।
- নৈতিক অধিকারের আইনগত ভিত্তি নেই।
- যেমন: ভিখারির ভিক্ষা পাওয়ার অধিকার।

• আইনগত অধিকার (Legal Rights):
- আইনগত অধিকার নাগরিকের জীবনধারণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য।
- এ অধিকার রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত বা অনুমোদিত।
- এ অধিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত।
- ফলে এরূপ অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র শাস্তি বিধান করে।
- যেমন: জীবনধারণের অধিকার, অন্ন-বস্ত্র, বাসস্থানের অধিকার ইত্যাদি।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা দ্বিতীয় বর্ষ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক হিসেবে কোনটি কাজ করে?
  1. আইন
  2. সরকার
  3. পুলিশ
  4. বিচার বিভাগ
সঠিক উত্তর:
আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন
ব্যাখ্যা
আইন সম্পর্কিত গুরত্বপূর্ণ তথ্য:
• আইন হচ্ছে ব্যক্তির বাহ্যিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়মের সমষ্টি যা সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত। 
• প্রাচীনতম উৎস- প্রথা।
• গুরুত্বপূর্ণ উৎস- ধর্ম।
• আধুনিককালের আইনের উৎস- আইন পরিষদ।
• আইনের মৌলিক উৎস- সংবিধান।
• স্বাধীনতার রক্ষক ও অভিভাবক- আইন।

উল্লেখ্য,
- স্বাধীনতা তখনই কার্যকর হয়, যখন তা একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামো বা সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এই কাঠামো তৈরি করে আইন।
- আইন বলে দেয়, একজন ব্যক্তি কখন নিজের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে এবং কখন তা অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।
- যদি কারও স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হয় (যেমন: অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, মত প্রকাশে বাধা), আইন তাকে সুরক্ষা দেয় এবং প্রতিকার নিশ্চিত করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১১.
মূল্যবোধ শিক্ষা কোন বিষয়ের বিকাশ সাধন করে?
  1. ব্যক্তি সত্তার
  2. ভোগবাদী চিন্তার
  3. সাম্প্রদায়িক চেতনার
  4. প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি সত্তার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যক্তি সত্তার
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা একটি গভীর ও বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া যা ব্যক্তি সত্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
- মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, নৈতিক মান এবং আদর্শের বিকাশ ঘটায়।
- এটি ব্যক্তির মধ্যে আত্ম-সচেতনতা, আত্ম-মূল্যায়ন ও আত্ম-উন্নয়নের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
- ব্যক্তির মধ্যে সৃজনশীলতা, বিচার-বিবেচনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা এবং নৈতিক যুক্তি শক্তির বিকাশ ঘটায়।
- ব্যক্তিকে সমাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে সাহায্য করে।
- এভাবে মূল্যবোধ শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনে সহায়তা করে এবং ব্যক্তি সত্তার সামগ্রিক বিকাশ সাধন করে।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা , নবম-দশম শ্রেণি।
১২.
মূল্যবোধ ও সুশাসনের সম্পর্কের ফলে সমাজে কী ধরনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে?
  1. দমনমূলক
  2. একনায়কতান্ত্রিক
  3. প্রতিহিংসামূলক
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও সুশাসনের সম্পর্ক:
- মূল্যবোধ ও সুশাসনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান।
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ ও চিন্তার নৈতিক দিকনির্দেশনা, যা সুশাসনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
- যখন সমাজে মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব হয় এবং নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ বৃদ্ধি পায়।
- এছাড়া নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গঠনে মূল্যবোধের ভূমিকা অপরিসীম।
- মূল্যবোধই একটি জাতিকে তার সভ্যতা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সামাজিক ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখতে সহায়তা করে।
- তাই দমনমূলক, একনায়কতান্ত্রিক বা প্রতিহিংসামূলক সংস্কৃতি নয়- বরং একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক সমাজ-সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
 
তথ্যসূত্র- পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র , একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি , প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৩.
লর্ড ব্রাইস-এর মতে, নিম্নের কোনটি আইন মান্য করার একটি কারণ?
  1. ধর্মীয় অনুশাসন
  2. প্রথাগত বাধ্যবাধকতা
  3. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
  4. রাজনৈতিক প্রভাব
সঠিক উত্তর:
অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অপরের প্রতি শ্রদ্ধা
ব্যাখ্যা
আইন মান্য করার কারণ:
- আইনের শাসন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি শর্ত হল আইন মান্য করা।
- প্রত্যেক আইনেই কিছু নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকে।
- আইন মান্য করার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হল আইনের উপযোগিতা।

লর্ড ব্রাইস আইন মান্য করার কারণগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করেন:
১. যৌক্তিকতার উপলব্ধি;
২. অপরের প্রতি শ্রদ্ধা;
৩. নির্লিপ্ততা;
৪. সহানুভূতি;
৫. শাস্তির ভয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচ এস সি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
সুশাসনের অন্যতম অন্তরায় কী?
  1. শক্তিশালী গণমাধ্যম
  2. নিরপেক্ষ গণমাধ্যম
  3. স্বাধীন সংবাদমাধ্যম
  4. পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম
সঠিক উত্তর:
পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
সুশাসন ও গণমাধ্যম:
- সুশাসন মানে হচ্ছে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, অংশগ্রহণমূলক এবং আইনের শাসনভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা।
- এর অন্যতম শর্ত হলো তথ্যের মুক্ত প্রবাহ এবং সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার, যাতে জনগণ সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে এবং সরকারের কার্যক্রমের জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
- সুশাসনের অন্যতম অন্তরায় হলো পক্ষপাতিত্বমূলক গণমাধ্যম।
- কারণ এটি সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য প্রবাহে বিঘ্ন ঘটায় এবং জবাবদিহিতার পরিবেশ নষ্ট করে।

উল্লেখ্য,
- পক্ষপাতিত্বপূর্ণ গণমাধ্যম নিরপেক্ষভাবে সত্য খবর না দিয়ে বিশেষ ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের স্বার্থে তথ্য পরিবেশন করে।
- জনগণ সঠিক তথ্য না পেলে তারা ভুল সিদ্ধান্ত নেয় বা নিরুৎসাহিত হয়, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে।
- পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ও মেরুকরণ সৃষ্টি করে, যা সমাজে বিভাজন বাড়ায় এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠাকে বাধাগ্রস্ত করে।
- অন্যদিকে, শক্তিশালী, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন গণমাধ্যম সুশাসনের সহায়ক, কারণ তারা সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং জনগণের সচেতনতা বাড়ায়।

তথ্যসূত্র: উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন; প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৫.
Johannesburg Plan of Implementation মূলত কোন বিষয়ের সাথে সুশাসনের সম্পর্ক স্থাপন করে?
  1. টেকসই উন্নয়ন
  2. সামাজিক উন্নয়ন
  3. পেশাগত উন্নয়ন
  4. সাংস্কৃতিক উন্নয়ন
সঠিক উত্তর:
টেকসই উন্নয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেকসই উন্নয়ন
ব্যাখ্যা
• Johannesburg Plan of Implementation:
- Johannesburg Plan of Implementation জোহান্সবার্গ ঘোষণা নামে পরিচিত। 
- ১৯৯২ সালে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ আফ্রিকার জোহান্সবার্গ  শহরে জাতিসংঘের পরিবেশ ও উন্নয়ন সম্মেলনে Johannesburg Plan of Implementation গৃহীত হয়। 
- Johannesburg Plan of Implementation সুশাসনের সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন (Sustainable Development) বিষয়টিকে অধিকতর গুরুত্ব দেয়। 
- এখানে সুশাসনকে টেকসই উন্নয়নের মূল উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, যেখানে অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশগত লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য সুশাসনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
 
তথ্যসূত্র: UN ওয়েবসাইট।
১৬.
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের যৌথ ফলাফল কোনটি?
  1. দুর্নীতিযুক্ত সমাজ
  2. ন্যায়বিচারহীন সমাজ
  3. নিপীড়নমূলক প্রশাসন
  4. জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের উপযোগিতা:
- মূল্যবোধ শিক্ষা হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে ব্যক্তি সত্য, ন্যায়, নৈতিকতা, কর্তব্য, সহানুভূতি, সহনশীলতা ইত্যাদি গুণাবলি অর্জন করে।
- অন্যদিকে, সুশাসন হলো এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থা, যেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠিত থাকে।
- এই দুইটি যখন একত্রে সমাজে প্রয়োগ করা হয়, তখন একটি কার্যকর, দায়িত্বশীল এবং জবাবদিহিতামূলক আমলাতন্ত্র গড়ে ওঠে।
- অর্থাৎ, আমলারা তখন জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হয়ে কাজ করেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রবণতা হ্রাস পায়, এবং জনগণের সমস্যা সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়।

মূল্যবোধ শিক্ষা ও সুশাসনের মাধ্যমে:
- দুর্নীতি দমন সহজ হয়;
- প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায়;
- দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়;
- আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়;
- ন্যায়ের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ -দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭.
‘নারী ও শিশু নির্যাতন’ কোন ধরনের সমস্যার উদাহরণ?
  1. অর্থনৈতিক সংকট
  2. সামাজিক অবক্ষয়
  3. পরিবেশগত সমস্যা
  4. রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামাজিক অবক্ষয়
ব্যাখ্যা
মূল্যবোধ ও সুশাসনের অভাবজনিত সামাজিক অবক্ষয়:
- সমাজে নৈতিকতা, আদর্শ ও সুশাসনের অভাব সমাজকে নষ্ট করে দেয়।
- সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ থাকে না।
- এতে মানুষের মধ্যে অসততা, অনাচার ও অন্যায়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

সামাজিক অবক্ষয়সমূহ হলো:
অপসংস্কৃতি, যুব সমাজের অবক্ষয়, বাল্যবিবাহ, যৌতুক প্রথা, মাদকাসক্তি, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস, ইভটিজিং, নারী ও শিশু নির্যাতন, আর্থ-সামাজিক সমস্যা, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, দরিদ্রতা, খাদ্যে ভেজাল, সহিংসতা ও যুদ্ধমূলক সমস্যা, যুদ্ধ, জঙ্গিবাদ, চরমপন্থা, মৌলবাদ, বর্ণবাদ, রাষ্ট্র কর্তৃক রাষ্ট্র আক্রমণ ইত্যাদি বৃদ্ধি পায়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ১মপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
১৮.
'যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিকে' আইন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন কে?
  1. সক্রেটিস
  2. এরিস্টটল
  3. টি এইচ গ্রিন
  4. অধ্যাপক হল্যান্ড
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এরিস্টটল
ব্যাখ্যা
• আইন:
- আইনের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘Law’।
- সাধারণভাবে আইন বলতে আমরা সুনির্দিষ্ট নীতি ও নিয়ম কানুনকে বুঝে থাকি যা সকলের ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য।
- রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও আইনবিদগণ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আইনের সংজ্ঞা প্রদান করেছেন।
- এরিস্টটল বলেছেন, “যুক্তিসিদ্ধ ইচ্ছার অভিব্যক্তিই হচ্ছে আইন।" (Law is the passionless reason)।
- টমাস হবস, জ্যা বোদা, অধ্যাপক হল্যান্ড, জন অস্টিন প্রমুখ "বিশ্লেষণপন্থি লেখক' আইনকে 'সার্বভৌম শক্তির আদেশ' বলে বর্ণনা করেছেন।

এছাড়াও - 
- টমাস হব্স (Thomas Hobbes)-এর মতে, “জনগণের ভবিষ্যৎ কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ যে আদেশ প্রদান করে তাই আইন।”
- অধ্যাপক হল্যান্ড (Prof. Holland)-এর মতে, “আইন হচ্ছে, সেই সাধারণ নিয়ম যা মানুষের বাহ্যিক আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং সার্বভৌম রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ যা প্রয়োগ করেন।” 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (১ম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি।
১৯.
অর্থনৈতিক সাম্য বলতে বোঝায়-
  1. সকলকে সমপরিমাণ সম্পদ প্রদান
  2. সম্পদের উত্তরাধিকার নিষিদ্ধ করা
  3. সম্পদ ও সুযোগ যোগ্যতা অনুযায়ী বণ্টন
  4. সকল নাগরিকের সমান উপার্জিত আয়
সঠিক উত্তর:
সম্পদ ও সুযোগ যোগ্যতা অনুযায়ী বণ্টন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্পদ ও সুযোগ যোগ্যতা অনুযায়ী বণ্টন
ব্যাখ্যা
সাম্য:
- সাম্য বলতে বোঝায় সকল মানুষের জন্য সমান অধিকার, সুযোগ ও ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা।
- সাম্য একটি সমাজকে ন্যায়বিচার, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নেয়।
- আইনের সুশাসন, ন্যায়বিচার ও সমতার সুযোগ সৃষ্টি করে সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

• সাম্যের বিভিন্ন দিক:
স্বাভাবিক সাম্য- জন্মগতভাবে সবাই সমান।
সামাজিক সাম্য- সমাজে যোগ্যতা অনুযায়ী সকলে একই সুযোগ ভোগ করবে।
অর্থনৈতিক সাম্য- যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ ও সুযোগের বন্টন।
নাগরিক সাম্য- ব্যক্তিগত সকল নাগরিকের সমান অধিকার।
রাজনৈতিক সাম্য- রাষ্ট্রীয় কাজে অংশগ্রহণে সমান অধিকার ও মতামত প্রকাশ।
আইনগত সাম্য- আইনের চোখে সকলে সমান।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০.
নিচের কোনটি অবস্তুগত সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ধর্ম
  2. সাহিত্য
  3. হাতিয়ার
  4. রীতিনীতি
সঠিক উত্তর:
হাতিয়ার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতিয়ার
ব্যাখ্যা
সংস্কৃতি:
- ইংরেজি Culture শব্দটির বাংলা প্রতিশব্দ হলো 'সংস্কৃতি' যা ল্যাটিন শব্দ 'Cultura' থেকে এসেছে।
- সংস্কৃতি বলতে বোঝায় একটি সমাজের ইতিহাস, ঐতিহ্য, রীতি-নীতি, ধর্ম, বিশ্বাস, শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সামাজিক আচার-আচরণ ও জীবনযাত্রার পদ্ধতি।

⇒ সংস্কৃতি দুই প্রকার। যথা:
i) বস্তুগত সংস্কৃতি এবং
ii) অবস্তুগত সংস্কৃতি।

• বস্তুগত সংস্কৃতি:
- সকল বস্তুগত জিনিসপত্র যা মানুষ দৈনন্দিন জীবন যাপনের জন্য ব্যবহার করে তাকে বস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এসব বস্তুগত জিনিসের মধ্যে ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি, পোষাক, বাসন বা তৈজসপত্র, হাতিয়ার অন্যতম।

• অবস্তুগত সংস্কৃতি:
- যেসব বিষয়ের বস্তুগুণ নেই অথচ আমাদের সংস্কৃতির অংশ তাকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- যেমন-চিন্তাভাবনা, ধ্যান-ধারণা, রীতিনীতি, সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, নীতিবোধ ইত্যাদি।
- এক কথায় ভাবগত সংস্কৃতিকে অবস্তুগত সংস্কৃতি বলে।
- এছাড়াও মানুষের ভাষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আইন, আদর্শ, মূল্যবোধ, প্রথা, শিল্পকলা, অভ্যাস, বিশ্বাস, সামর্থ্য ইত্যাদি উপাদানও অবস্তুগত সংস্কৃতির অংশ।

তথ্যসূত্র:
i) Britannica.
ii) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।