পরীক্ষা আর্কাইভ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

পরীক্ষা৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes৫২ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৫৪
সিলেবাস
"Award Mania: Season - 15” এর জন্য প্রযোজ্য -------------------------------------------- পরীক্ষা - ৫ পার্ট-১: ১) গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সাধারণ তথ্য এবং ইতিহাস (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, চীন, ফ্রান্স, রাশিয়ার, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাপান)। ২) NATO, Warsaw Pact, INTERPOL, ANZUS, নিরাপত্তা সম্মেলন সমূহ, FBI, CIA, FSB, RAW, Fairfax, মোসাদ, আমান, M16, হামাস, হিজবুল্লাহ, আল শাবাব, আইরিস রিপাবলিকান আর্মি, টুপাক আমারু, ফার্ক, আবু শায়াফ, শাইনিং পাথ, M-23, উলফা, খেমারুজ, পিকেকে, ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর, গডস আর্মি, ইসলামিক স্ট্যাট, হুথি বিদ্রোহী, লস্কর-ই তৈইব্যা, জইশ মোহাম্মদ, হিজবুত তাহরীর, JKLF, নকশাল, তানজিম আল জিহাদ, M19. পার্ট-২) নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সু-শাসন: 1) Definition of Values Education and Good Governance; 2) Relation between Values Education and Good Governance; 3) General Perception of Values Education and Good Governance; 4) Importance of Values Education and Good Governance in the life of an individual as a citizen as well as in the making of society and national ideals. ------------------ পার্ট–১ সোর্স: যেকোনো গাইড বই। তবে, সংস্থাগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটগুলো সম্ভব হলে একটু দেখে নিবেন। গাইডে অনেক সময় ভুল থাকে। পার্ট-২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই, SSC & HSC পৌরনীতি বোর্ড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived

৫০ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [সমন্বিত] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ৫৪ প্রশ্ন

.
'লাদাখ' অঞ্চলটি কোন দেশের অংশ? 
  1. ভারত
  2. চীন
  3. পাকিস্তান
  4. নেপাল
ব্যাখ্যা

• লাদাখ:
- লাদাখ ভারতের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি ইউনিয়ন টেরিটরি (Union Territory),
- যা জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের অংশ ছিল এবং ২০১৯ সালে আলাদা ইউনিয়ন টেরিটরি হিসেবে গঠিত হয়।
- এটি কারাকোরাম এবং পশ্চিম হিমালয় পর্বতমালার কাছে অবস্থিত।
- লাদাখের সংস্কৃতি এবং ইতিহাস তিব্বতের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।

উল্লেখ্য, 

• ভারত:
 
- সরকারের ধরন: সংসদীয় গণতন্ত্র ও প্রজাতন্ত্র।
- রাজধানী: নয়াদিল্লি।
- সরকার প্রধান: নরেন্দ্র মোদী। 
- রাষ্ট্রপতি: দ্রৌপদী মুর্মু।
- সংবিধান গৃহীত: ২৬ নভেম্বর ১৯৪৯;
- কার্যকর ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০।
- স্বাধীনতা লাভ: ১৫ আগস্ট ১৯৪৭ (ব্রিটিশ শাসন থেকে)।
- ভাষা: সরকারি ভাষা: হিন্দি ও ইংরেজি।
- মুদ্রা: ভারতীয় রুপি।
- জনসংখ্যা: জনসংখ্যায় বিশ্বের বড় দেশ।
- জাতীয় পশু: বাঘ।
- জাতীয় পাখি: ময়ূর।
- ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র।
• ভারতের ২৮টি অঙ্গরাজ্য ও ৮টি ইউনিয়ন টেরিটরি অঞ্চল রয়েছে।
- ভারতের সবচেয় বড় অঙ্গরাজ্য: রাজস্থান। [আয়তনে]। 

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

.
'শিন বেত' গোয়েন্দা সংস্থাটি কোন দেশের?
  1. ইসরায়েল
  2. ফিলিপাইন
  3. রাশিয়া
  4. চীন
ব্যাখ্যা

- 'শিন বেত' ইসরায়েলের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। 

• শাবাক বা শিন বেত:

- শাবাক বা শিন বেত গঠিত হয় ১৯৪৯ সালে।
- এই গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব হলো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
- শিন বেত দাবি করে, তারা পশ্চিম তীর ও গাজা থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আসা হুমকির বিরুদ্ধে 'অদৃশ্য ঢাল' হিসেবে কাজ করে।

উল্লেখ্য,
ইসরায়েলের আরো গোয়েন্দা ইউনিট গুলো হল:
• মোসাদ:
- মোসাদ গঠিত হয় ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড় বছর পর, ১৯৪৯ সালের ডিসেম্বরে।
- তাদের কাজ ছিল ইসরায়েলকে বাইরের হুমকি থেকে রক্ষা করা।
- এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যই ছিল ইসরায়েলের অস্তিত্ব নিরাপদ রাখা।

• ইউনিট ৮২০০ :
- ইউনিট ৮২০০-কে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে ধরা হয় এবং এই ইউনিটের মাধ্যমেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইলেকট্রনিক মাধ্যমে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা পরিচালনা করে।
- ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মতে, এটি তাদের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট।
- ইউনিট ৮২০০-তে ১০ হাজারের বেশি লোক কাজ করে এবং এখানে যারা কাজ করে তারা এলিট এবং শিক্ষিত বাহিনী থেকে বাছাই করা।
- এই ইউনিটে কাজ করা সদস্যদের সংখ্যা মোসাদ ও শিন বেটের সদস্যদের থেকেও বেশি।
-  গোয়েন্দাগিরির জন্য ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক যন্ত্র বানানোর দায়িত্বও ইউনিট ৮২০০-এর।
-  ২০১০ সালে ইরানে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর সাইবার হামলায় ইউনিট ৮২০০ জড়িত ছিল।

• আমান: 
- আমান হলো ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা, যা প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাধারণ সদর দপ্তরের অধীনে কাজ করে।
- এই সংস্থার মূল কাজ হলো তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে সামরিক কমান্ডকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করা।
- ইসরায়েলে গোয়েন্দা সংস্থার ইতিহাস ইসরায়েলের অস্তিত্বের চেয়েও পুরনো।

তথ্যসূত্র: বিবিসি।

.
ন্যাটোর যৌথ নিরাপত্তার নীতি কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখিত রয়েছে?
  1.  ১ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৪ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৫ নং অনুচ্ছেদ
  4. ৬ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• NATO:
- NATO-এর পূর্ণরূপ:North Atlantic Treaty Organisation অথবা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- ন্যাটো মূলত সামরিক সহযোগিতার জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।
- মুসলিম দেশ: আলবেনিয়া ও তুরস্ক।
- সর্বশেষ ৩২তম সদস্য হলো সুইডেন।

⇒ ন্যাটো প্রতিষ্ঠার চুক্তিটি ১৪টি ধারার। 

⇒ অনুচ্ছেদ/আর্টিকেল - ৫: Collective Security বা যৌথ নিরাপত্তা।
- অনুচ্ছেদ - ৫ এ বলা হয়েছে - জোটভুক্ত কোনো দেশ যদি বিদেশি শক্তির দ্বারা আক্রমণের শিকার হয়, তাহলে জোটের সব সদস্যদেশ একযোগে তা প্রতিহত করবে। অর্থাৎ সদস্যদেশগুলো সম্মিলিতভাবে একে অপরকে সুরক্ষা দেবে।
- ন্যাটোর মূল ভিত্তি ধরা হয় এ ধারাকে।
- ন্যাটোর ইতিহাসে একবার মাত্র ন্যাটোর আর্টিকেল-৫ কার্যকর করা হয়েছে।
- নাইন ইলেভেনে টুইন টাওয়ার হামলার পর ২০০১ সালে এই আর্টিকেল অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
- এটির ভিত্তিতেই সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সঙ্গে নিয়ে আফগানিস্তানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।

তথ্যসূত্র:  NATO ওয়েবসাইট।

.
হংকং কত সালে চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে?
  1. ১৯৯৪ সালে
  2. ১৯৯৫ সালে
  3. ১৯৯৭ সালে
  4. ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

• হংকং:
- হংকং চীনের একটি বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল।
- এটি দক্ষিণ চীন সাগরের তীরে অবস্থিত।
- ১৮৪২ সালে নানকিং চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশরা হংকং দ্বীপটি চীন থেকে অধিকার করে নেয়। এটি ছিল দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধ এর ফলস্বরূপ।
- ১৯৯৭ সালে, "এক দেশ, দুই ব্যবস্থা" নীতির আওতায় হংকং চীনের কাছে হস্তান্তরিত হয়। 

⇒ ১৯৯৭ সালে, হংকং চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল (SAR) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এর মানে হল যে, হংকং চীনের অংশ হলেও এটি স্বায়ত্তশাসিত এবং এতে নিজস্ব আইন এবং প্রশাসন রয়েছে।

উল্লেখ্য,
- হংকং কে কেন্দ্র করে চীনে 'এক দেশ দুই নীতি' চালু হয় ১৯৯৭ সালে এবং এই নীতি চালু থাকবে ২০৪৭ সাল পর্যন্ত।

তথ্যসূত্র: Britannica.

.
নিচের কোন সংস্থাটি সামরিক জোট নয়?
  1. INTERPOL
  2. Warsaw Pact
  3. NATO
  4. ANZUS
ব্যাখ্যা

 • INTERPOL: 
- পূর্ণরূপ: The International Criminal Police Organization।
- এটি পুলিশের একটি আন্তর্জাতিক সংগঠন।
- প্রতিষ্ঠা: ৭ সেপ্টেম্বর, ১৯২৩ সাল।

অন্যদিকে: 
• NATO:
- পূর্ণরুপ-The North Atlantic Treaty Organization. 
- NATO প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯ সালে।
- এটি সামরিক জোট। 

• ANZUS:
-চুক্তি  স্বাক্ষরিত হয়: ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫১।
- কার্যকর হয়: ১৯৫২ সালে।
- এটি সামরিক জোট। 

• Warsaw Pact:
- Warsaw Pact বলতে বোঝায় Warsaw Treaty of Friendship, Cooperation, and Mutual Assistance।
- সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে পূর্ব ইউরোপের ৮টি দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি।
- উদ্দেশ্য: মূলত, আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে সোভিয়েত প্রভাব বৃদ্ধিই ছিলো এর মূল উদ্দেশ্য।
- স্বাক্ষরের স্থান: ওয়ারশ, পোল্যান্ড।
- এটি সামরিক জোট। 
- সদস্য সংখ্যা ছিলো: ৮টি; সোভিয়েত ইউনিয়ন, আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, চেকোস্লাভিয়া, পূর্ব জার্মানি, হাঙেরি, পোল্যান্ড ও রোমানিয়া।
- বিলুপ্ত: ১ জুলাই, ১৯৯১।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট।

.
Mossad এর অফিসিয়াল নাম কী?
  1. Institute for Intelligence and Special Operations
  2. Central Intelligence Directorate
  3. National Security Authority
  4. Israel Secret Operations Bureau
ব্যাখ্যা

• মোসাদ:
- মোসাদ ইসরায়েলের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৪৯ সালে।
- প্রতিষ্ঠাতা: ডেভিড বেনগুরিয়ন।
- সদরদপ্তর: তেলআবিব, ইসরায়েল।
- হিব্রু ভাষায় ‘মোসাদ’ শব্দের অর্থ ‘ইনস্টিটিউট’ বা প্রতিষ্ঠান।
- আনুষ্ঠানিকভাবে এই বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থার নাম ‘দ্য ইনস্টিটিউট ফর ইনটেলিজেন্স অ্যান্ড স্পেশাল অপারেশন্স’ (Institute for Intelligence and Special Operations)। 
- মোসাদ কাজ করে তথ্য সংগ্রহ, গোপন অভিযান ও সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে।
- এর পরিচালক সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করেন।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম গুপ্তচর সংস্থাগুলোর একটি।
- মোসাদের কার্যক্রম এবং বাজেট কোনো আইন দ্বারা সংজ্ঞায়িত নয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা, মোসাদের ওয়েবসাইড ও বাংলাদশ প্রতিদিন। (Link) 

.
আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের নতুন রাজধানীর নাম কি?
  1. পোর্ট ব্লেয়ার 
  2. শ্রী বিজয় পুরম
  3. শ্রী গান্ধী পুরম
  4. স্বরাজ দ্বীপ 
ব্যাখ্যা

•আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ:
- বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জ।
- বর্তমানে এটি ভারতের কেন্দ্রশাসিত।
- ৫৭২টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত, যেগুলির মধ্যে মাত্র ৩৮টি জনবসতিপূর্ণ।
- এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটি দু'টি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত।
- এগুলি হল: আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।
- ১৪৫ কিলোমিটার প্রশস্ত তিন ডিগ্রি চ্যানেল (১০° উত্তর অক্ষরেখার সঙ্গে সমান্তরাল) এই দুই দ্বীপপুঞ্জকে পৃথক করেছে।
- আন্দামান সাগর উভয় দ্বীপপুঞ্জেরই পূর্ব দিকে এবং বঙ্গোপসাগর পশ্চিম দিকে অবস্থিত।
- রাজধানী: শ্রী বিজয় পুরম।
- মুদ্রা: রুপি।

উল্লেখ্য,
- এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটির পূর্বের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ার।
- আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারের নাম পরিবর্তন করে ‘শ্রী বিজয় পুরম’ করেছে ভারত সরকার।

তথ্যসূত্র: Britannica.com

.
নিচের কোন চুক্তি বা জোট বর্তমানে কার্যকর নয়?
  1. Warsaw Pact
  2. CTBT
  3. APTA
  4. কোনটিই নয়
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

Warsaw Pact ও CTBT  বর্তমানে কার্যকর নয়। অপশনে দ্বৈত উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

• Warsaw Pact:

- Warsaw Pact-এর পূর্ণরূপ: Warsaw Treaty of Friendship, Cooperation, and Mutual Assistance.
- এটি একটি প্রতিরক্ষা ও সহোযোগিতা চুক্তি।
- স্বাক্ষরিত হয়: ১৪ মে, ১৯৫৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: ওয়ারশ, পোল্যান্ড।
- সদস্য সংখ্যা ছিলো: ৮টি (সোভিয়েত ইউনিয়ন, আলবেনিয়া, বুলগেরিয়া, চেকোস্লাভাকিয়া, পূর্ব জার্মানি, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও রোমানিয়া। 
- উদ্দেশ্য: পশ্চিমা দেশের (বিশেষত ন্যাটো) বিরুদ্ধে সামরিক সুরক্ষা এবং পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব বৃদ্ধি।
- এটি ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট, যা পূর্ব ইউরোপে সোভিয়েত প্রভাব শক্তিশালী করতে সাহায্য করেছিল।
- ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পরপরই ওয়ারশ চুক্তি ভেঙে যায়।
- ১৯৯১ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি ওয়ারশ চুক্তির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। 
- চেকোস্লোভাক রাষ্ট্রপতি ভ্যাক্লাভ হ্যাভেল ১৯৯১ সালের ১লা জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে এর সমাপ্তি ঘোষণা করেন। 

• CTBT:
- CTBT-এর পূর্ণরূপ: Comprehensive Nuclear Test Ban Treaty/ পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি।
- এই চুক্তির উদ্দেশ্য হলো সামরিক-বেসামরিক সকল পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ।
- জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ CTBT চুক্তিটি গ্রহণ করে: ১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত হয়: ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৬।
- স্বাক্ষরিত দেশ: ১৮৭টি।
- অনুমোদিত দেশ: ১৭৮টি।
- CTBT বর্তমানে কার্যকর নয়। এটি কার্যকর হতে হলে Annex 2-এ তালিকাভুক্ত ৪৪টি দেশের সবাইকে অনুমোদন করতে হবে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত: ১৮৭টি দেশ স্বাক্ষর করেছে, ১৭৮টি দেশ অনুমোদন করেছে। কিন্তু Annex 2 দেশগুলোর মধ্যে ৯টি এখনো অনুমোদন করেনি বা স্বাক্ষর করেনি (যেমন: চীন, মিশর, ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া; রাশিয়া ২০২৩ সালে অনুমোদন প্রত্যাহার করেছে)। ফলে চুক্তিটি আইনগতভাবে কার্যকর নয়।

অন্যদিকে,
⇒ APTA:
- APTA-এর পূর্ণরূপ: Asia Pacific Trade Agreement.
- এটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি বাণিজ্য চুক্তি।
- চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়: ২ নভেম্বর, ২০০৫।
- চুক্তিটি কার্যকর হয়: ১ সেপ্টেম্বর, ২০০৬। 
- বর্তমান সদস্য সংখ্যা: ৭টি।

তথ্যসূত্র:
i) NATO ওয়েবসাইট।
ii) Britannica.

.
‘১২ দিনের যুদ্ধ’ কোন দুই দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়?
  1. ভারত ও পাকিস্তান
  2. ইরান ও ইসরায়েল
  3. লেবানন ও ইসরায়েল
  4. সিরিয়া ও ইসরায়েল
ব্যাখ্যা

• ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ:
- ১৩ জুন ইরানে  ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। 
- ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধে জড়িয়ে যায়। 
- ২৩ জুন ইরান কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। 
- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বিরতির কথা জানান ২৪ জুন।
- ইরান-ইসরায়েল '১২ দিনের যুদ্ধে' উভয়ের দেশেরই ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে উভয় দেশের।

উল্লেখ্য,
- ১৩ জুন ২০২৫  ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন ইরানের ছয় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, ৯ পরমাণু বিজ্ঞানীসহ অন্তত ২৯ জন।
- পাল্টা জবাবে ইরান শতাধিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে, যার কিছু তেল আবিবে আঘাত হানে– ৩৫ জন হতাহত হয়েছে। 

তথ্যসূত্র: ডয়েচে ভেলে। 

১০.
'মুসলিম ব্রাদারহুড' প্রতিষ্ঠা করেন কে?
  1. শেখ আহমেদ ইয়াছিন
  2. হাসান আল বান্না
  3. হাসান নাসরুল্লাহ
  4. আব্দুল্লাহ ওচালান
ব্যাখ্যা

• মুসলিম ব্রাদারহুড: 
- মুসলিম ব্রাদারহুড বা আল ইখয়ান আল মুসলিমিন হলো মধ্যপ্রাচ্যের একটি ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন।
- ১৯২৮ সালে মিশরে হাসান আল বান্না এটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- প্রতিষ্ঠার পর মিশর, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, লেবানন, সুদান ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে এটি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
- মিশরের ‘ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস পার্টি’ ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক দল।
- এছাড়া তুরস্কের ‘এ কে পার্টি’; ফিলিস্তিনের ‘হামাস’ প্রভৃতি দল ব্রাদারহুডের মতাদর্শী।
- আরববিশ্বের রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর শাসকরা ব্রাদারহুডকে তাদের জন্যে বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখে। 
- তবে কাতার ব্রাদারহুডকে সমর্থন দিয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা

১১.
NATO - এর কোন অনুচ্ছেদে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির কথা উল্লেখ আছে?
  1. ১ নং অনুচ্ছেদ
  2. ৫ নং অনুচ্ছেদ
  3. ৭ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১০ নং অনুচ্ছেদ
ব্যাখ্যা

• NATO:
- NATO-এর পূর্ণরূপ:North Atlantic Treaty Organisation অথবা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- ন্যাটো মূলত সামরিক সহযোগিতার জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।
- মুসলিম দেশ: আলবেনিয়া ও তুরস্ক।
- ন্যাটো প্রতিষ্ঠার চুক্তিটি ১৪টি ধারার।

⇒ অনুচ্ছেদ/আর্টিকেল - ১: শান্তিপূর্ণ সমাধান।
- NATO চুক্তির ১নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশসমূহ একে অপরের সাথে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে।

⇒ ন্যাটোর অনুচ্ছেদ:
- অনুচ্ছেদ ১: শান্তিপূর্ণ সমাধান,
- অনুচ্ছেদ ২: বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক,
- অনুচ্ছেদ ৩: প্রতিরক্ষা সক্ষমতা,
- অনুচ্ছেদ ৪: পরামর্শ,
- অনুচ্ছেদ ৫: সম্মিলিত প্রতিরক্ষা,
- অনুচ্ছেদ ৬: আক্রমণের সংজ্ঞা ,
- অনুচ্ছেদ ৭: জাতিসংঘ সনদের বাধ্যবাধকতা,
- অনুচ্ছেদ ৮: অ-দ্বন্দ্বমূলক সম্পৃক্ততা,
- অনুচ্ছেদ ৯: বাস্তবায়ন পরিষদ,
- অনুচ্ছেদ ১০: অতিরিক্ত পক্ষসমূহ,
- অনুচ্ছেদ.১১: চুক্তি অনুমোদন এবং প্রয়োগ,
- অনুচ্ছেদ ১২: চুক্তি পর্যালোচনা,
- অনুচ্ছেদ ১৩: জোটের সদস্যতা ত্যাগ,
- অনুচ্ছেদ ১৪: চুক্তির অন্যান্য সংস্করণের গ্রহণযোগ্যতা।

তথ্যসূত্র: NATO ওয়েবসাইট।

১২.
'বাবরি মসজিদ' হিন্দু উগ্রপন্থীদের হাতে কোন সালে ধ্বংস হয়?
  1. ১৯৯২ সালে
  2. ১৯৯৩ সালে
  3. ১৯৯৪ সালে
  4. ১৯৯৫ সালে
ব্যাখ্যা

•বাবরি মসজিদ: 
• বাবরি মসজিদ ভারতের উত্তর প্রদেশের ফৈজাবাদ জেলার অযোধ্যায় অবস্থিত মুঘল আমলের একটি স্থাপত্য।
• এটি মুঘল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাকী ১৫২৮ সালে নির্মাণ করেন।
• বিতর্কিত এই স্থান নিয়ে ‘রাম জন্মভূমি ট্রাস্ট’ ও ‘সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড’ দ্বারস্থ হয় সুপ্রিম কোর্টের।
• ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর হিন্দু উগ্রপন্থীদের দ্বারা বাবরি মসজিদ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়।
• অবশেষে গত ৯ নভেম্বর ২০১৯ বিতর্কিত এই জায়গায় রাম মন্দির তৈরির পক্ষে চূড়ান্ত রায় দেয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
• সেই সাথে মসজিদ তৈরি করার জন্য মুসলিম পক্ষকে অযোধ্যার মধ্যেই পাঁচ একর জমি দেয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
• অতঃপর ১০ জুন, ২০২০ শুরু হয় বিতর্কিত রাম মন্দির নির্মাণ।

তথ্যসূত্র: ডয়েচভেলে।

১৩.
CIA এর প্রধান কার্যালয় কোন শহরে অবস্থিত?
  1. নিউইয়র্ক
  2. ভার্জিনিয়া
  3. ক্যালিফোর্নিয়া
  4. ওয়াশিংটন ডিসি
ব্যাখ্যা

• CIA:
- সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি বা CIA হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা।
- এটি ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তখন থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও গোপন অভিযানে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে।
- সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় অবস্থিত ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ল্যাংলিতে।
- CIA বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত।

তথ্যসূত্র: CIA ওয়েবসাইট।

১৪.
জাপানের সর্ববৃহৎ দ্বীপ কোনটি?
  1. হোক্কাইদো
  2. হনসু
  3. কিউশু
  4. শিকোকু
ব্যাখ্যা

• জাপান:
- সংবিধানিক রাজতন্ত্র (Constitutional Monarchy).
- সম্রাটের ক্ষমতা আনুষ্ঠানিক কিন্তু কার্যকর শাসন প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়।
- রাজধানী: টোকিও (Tokyo) ১৮৬৮ সালে ইডো থেকে টোকিওতে স্থানান্তরিত হয়।
- ভৌগোলিক অবস্থান: পূর্ব এশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপদেশ; চারটি প্রধান দ্বীপ: হোক্কাইডো, হনসু , শিকোকু, কিউশু।
- জাপানের আয়তন: ৩৭৭,৯১৫ বর্গকিলোমিটার।
- সবচেয়ে বড় দ্বীপ: হনসু।
- আয়তন প্রায় ২২৭,৯৬২ বর্গকিলোমিটার
- জনসংখ্যা (২০২৫ আনুমানিক): প্রায় ১২৩,১০৫,০০০ জন।
- জাতীয় ভাষা: জাপানি (Japanese)।
- ধর্ম: শিন্তো ও বৌদ্ধ ধর্ম প্রধান; খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারীও রয়েছে।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

১৫.
'তানজিম আল কায়েদাতুল জিহাদ' কোন দেশের উগ্রপন্থী গোষ্ঠী?
  1. সিরিয়া
  2. আফগানিস্তান
  3. ইরাক
  4. পাকিস্তান
ব্যাখ্যা

• তানজিম আল কায়েদাতুল জিহাদ:
- তানজিম আল কায়েদাতুল জিহাদ হলো ইরাকের আল কায়েদার শাখা।
- ২০০৪ সালের অক্টোবরে এটি জামাত আল তৌহিদ ওয়াল জিহাদ থেকে তানজিম আল জিহাদ নাম ধারণ করে।
- এটির প্রধান ছিলেন আবু মুসাব আল জারাকায়ি।
- তানজিম আল জিহাদ জাতিসংঘের কালো তালিকাভুক্ত সংঠন।

তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট। (Link)

১৬.
'টুপাক আমারু' কোন ধরনের সংস্থা?
  1. একটি সংবাদ সংস্থা
  2. একটি পুলিশ বাহিনী
  3. গেরিলা সংগঠন
  4. একটি গোয়েন্দা সংস্থা
ব্যাখ্যা

• টুপাক আমারু:
- টুপাক আমারু রেভ্যুলেশনারী মুভমেন্ট (MRTA) হলাে পেরুর কমিউনিস্ট সশস্ত্র সংগঠন।
- এটি একটি গেরিলা সংগঠন।
- এটি পেরুতে শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষে ১৯৮৪ সাল থেকে সশস্ত্র লড়াই শুরু করে।
- ২০০০ সালের দিকে এর কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে।
- শাইনিং পাথ পেরুর অপর একটি কমিউনিস্ট গেরিলা সংগঠন।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা এবং কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন এর ওয়েবসাইট।

১৭.
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট ইলেক্টোরাল কলেজ ভোটের সংখ্যা কত ?
  1. ৫৩৬টি
  2. ৫৩৭টি
  3. ৫৩৮টি
  4. ৫৩৯টি
ব্যাখ্যা

• যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পদ্ধতি:
- ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ পদ্ধতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই পদ্ধতিতে ভোটাররা সরাসরি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অংশগ্রহণ করেন না।
- নির্বাচনের ফলাফল ভোটারদের দেওয়া ভোটে সরাসরি নির্ধারিত হয় না। জাতীয় স্তরের নির্বাচনি লড়াইয়ের বদলে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হবে একেকটি অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনি লড়াইয়ের মাধ্যমে।
- যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের একটিতে জয়ী হওয়ার অর্থ একজন প্রার্থী সেই অঙ্গরাজ্যের সবকটি ‘ইলেক্টোরাল কলেজ’ ভোট পেয়ে যাবেন।
- ইলেক্টোরাল কলেজের মোট ভোটের সংখ্যা ৫৩৮টি।
- মাইন ও নেব্রাসকা এই দুটো অঙ্গরাজ্য বাদে বাকি সবগুলো রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট যোগ দিলে যে প্রার্থী ২৭০টি বা তারও বেশি ভোট পাবেন তিনিই প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন।
- প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের বেশ কয়েকটি করে ইলেক্টোরাল ভোট থাকে, যা ওই অঙ্গরাজ্যের জনসংখ্যার মোটামুটিভাবে সমানুপাতিক হয়।
- ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সর্বাধিক ৫৪টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোট রয়েছে।

তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট।

১৮.
FBI-এর বর্তমান পরিচালক কে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ক্যাশ প্যাটেল
  2. ক্রিস্টোফার রে
  3. অ্যান্ড্রু ম্যাকক্যাব
  4. উইলিয়াম বার
ব্যাখ্যা

• Federal Bureau of Investigation:
- FBI এর পূর্ণরূপ Federal Bureau of Investigation.
- FBI মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা।
- প্রতিষ্ঠাকাল: ২৬ জুলাই, ১৯০৮ সাল।
- সদর দপ্তর: ওয়াশিংটন পেনসিলভানিয়া এভিনিউ, যুক্তরাষ্ট্র।
- বর্তমান পরিচালক: ক্যাশ প্যাটেল। [ডিসেম্বর, ২০২৫]
- এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন।
- FBI মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সংঘটিত অপরাধের অনুসন্ধান এবং দেশি-বিদেশি যেকোন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা ও সুরক্ষা প্রদানে নিয়োজিত।

তথ্যসূত্র: FBI অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১৯.
'হিজবুল্লাহ' কোন দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠী?
  1. সিরিয়া
  2. লেবানন
  3. ইরান
  4. ইয়েমেন
ব্যাখ্যা

• হিজবুল্লাহ:
- হিজবুল্লাহ একটি রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী শিয়া মুসলিম সংগঠন।
- এটি লেবাননের একটি রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী।
- হিজবুল্লাহ ইরান ও সিরিয়ার সমর্থনপুষ্ট।
- ১৯৭৫ সাল থেকে ১১৯০ সাল পর্যন্ত চলা লেবাননের গৃহযুদ্ধের সময় ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস ১৯৮২ সালে হিজবুল্লাহ গঠন করে।
- সংগঠনটি মূলত ইসলামিক জাতীয়তাবাদ, ইহুদিবাদ বিরোধী ও পশ্চিমা সংস্কৃতি বিরোধী।
- মূলত ইরানের উদ্যোগেই হিজবুল্লাহ সংগঠনটির জন্ম হয়েছিল।
- ১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসন ও গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ১৯৮৫ সালে প্রকাশ্যে হিজবুল্লাহর আত্মপ্রকাশ ঘটে।

⇒ হিজবুল্লাহ লেবানন সরকারে প্রতিনিধিত্ব করছে।
- হিজবুল্লাহ লেবাননে একটি শক্তিশালী গ্যারিলা গ্রুপের জন্ম দিয়েছে।
- এজন্য হিজবুল্লাহকে বলা হয় 'রাষ্ট্রের ভেতরে আলাদা রাষ্ট্র'।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

২০.
'গুড ফ্রাইডে চুক্তি' এর সাথে সম্পর্কিত  সংগঠন কোনটি?
  1. FARC
  2. IRA
  3. CIA
  4. FSB
ব্যাখ্যা

• আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (IRA):
- আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি একটি প্রজাতন্ত্রপন্থী আধাসামরিক সংগঠন যা ১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। 
- এর মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটিয়ে আয়ারল্যান্ডকে পুনরায় একত্রিত করে একটি প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।
- IRA একই উদ্দেশ্যে কাজ করলেও এটি রাজনৈতিক সংগঠন শিন ফেইন (Sinn Féin) থেকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতো।
- ১৯২২ সালে আইরিশ ফ্রি স্টেট প্রতিষ্ঠার পর, যা ব্রিটিশ কমনওয়েলথের অধীনে ছিল, IRA এই রাষ্ট্রের বৈধতাকে অস্বীকার করে এবং সহিংসতা অব্যাহত রাখে।
- ১৯৩১ সালে IRA অবৈধ ঘোষণা করা হয়, এবং এর সদস্যদের বিচার ছাড়াই আটক রাখার আইন প্রণয়ন করা হয়।
- ১৯৪৯ সালে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্র ঘোষণার পর, IRA তার কার্যক্রম উত্তর আয়ারল্যান্ডে কেন্দ্রীভূত করে।
- ১৯৯৪ সালে IRA যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে এবং ১৯৯৮ সালে গুড ফ্রাইডে চুক্তি (বেলফাস্ট চুক্তি) স্বাক্ষর করে। 
- ২০০৫ সালের জুলাইয়ে IRA তাদের সশস্ত্র কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে তাদের লক্ষ্য অর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা।

২১.
যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জনগোষ্ঠী কোন সালে ভোটাধিকার লাভ করে?
  1. ১৯৫৬ সালে
  2. ১৯৪৬ সালে
  3. ১৯৬৩ সালে
  4. ১৯৬৫ সালে
ব্যাখ্যা

• আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার: 
- আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গরা ভোটাধিকার পায় ১৯৬৫ সালে। 
- ১৯৬৫ সালে ডায়ান ন্যাশ আরও কয়েকজনকে নিয়ে নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ছাত্র শাখার কার্যক্রম শুরু করেন।
- যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে ভোটাধিকারের জন্য প্রচার চালাতে থাকেন তিনি।
- অহিংস কৌশল অবলম্বন করে ডায়ান ন্যাশ নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কৃষ্ণাঙ্গ নারী ও পুরুষদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করান। 
- এভাবে ১৯৬৫ সালের ভোটাধিকার আইন পাসে অবদান রাখেন তিনি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৬৫ সালের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রাজ্যে কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে নানা রকম নিয়ম চালু করা হয়েছিল।
- এসব নিয়মের লক্ষ্য ছিল মূলত কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

তথ্যসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট। 

২২.
MI6 এর সদর দপ্তর কোন শহরে অবস্থিত?
  1. লন্ডন
  2. ম্যানচেস্টার
  3. বার্মিংহাম
  4. এডিনবরা
ব্যাখ্যা

• MI6:
- MI6 'Secret Intelligence Service' নামে পরিচিত।
- এটি যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা।
- এটি বিদেশী গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং ব্রিটিশ সরকারের কাছে প্রচারের জন্য দায়িত্বশীল।
- এটি ১৯০৯ সালে সিক্রেট সার্ভিস ব্যুরোর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সদর দপ্তর: লন্ডন, যুক্তরাজ্য।
- সামরিক গোয়েন্দা (Military Intelligence) বিভাগের ছয় নম্বর সেকশন হিসেবে MI6 নামে পরিচিত।
- জার্মানিতে অ্যাডলফ হিটলারের ক্ষমতায় উত্থানের পর, MI6 ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা এবং এশিয়ার বেশিরভাগ অংশে গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে।

উল্লেখ্য,
- এটি অ্যাডলফ হিটলারের ক্ষমতায় উত্থানের সময় ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ায় গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে ভূমিকা, শীতল যুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য বিখ্যাত।

তথ্যসূত্র: SIS (Secret Intelligence Service) ওয়েবসাইট।

২৩.
বিশ্বের সর্বাধিক 'ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট' কোন দেশে রয়েছে? [ডিসেম্বর, ২০২৫]
  1. ইতালি
  2. চীন
  3. ভারত
  4. তুরস্ক
ব্যাখ্যা

• সর্বাধিক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানভুক্ত দেশ: 
- হেরিটেজ সাইট বা ঐতিহ্যবাহী স্থান বলতে মূলত বোঝানো হয় বিশেষ ধরনের (মরুভূমি,দালান, পাহাড়,বন, স্মৃতিস্তম্ভ,হ্রদ,প্রাসাদ )। 
- ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা রয়েছে এসব স্থান।
- ইউনেস্কোর একটি প্রকল্প আছে, যার নাম ‘আন্তর্জাতিক বিশ্ব ঐতিহ্য প্রকল্প’।
- এই প্রকল্পের আওতায় ২১টি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটি তালিকা প্রণয়নের কাজ করেন।
- এই প্রকল্পের কাজ হলো বিশ্বের নানা স্থানে ছড়িয়ে থাকা অনন্যসাধারণ সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক গুরুত্ববিশিষ্ট স্থানসমূহ চিহ্নিত করা।
- একই সঙ্গে তা একটি বৈশ্বিক তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করা। তালিকাভুক্ত স্থানসমূহকে পরবর্তী সময়ে শ্রেণীভুক্ত করা হয়।
- বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই কমবেশি আছে ‘ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’।
- ইতালিতে বিশ্বের সর্বাধিক ‘ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ আছে। [ডিসেম্বর, ২০২৫]
 
• ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি World Heritage Sites থাকা দেশসমূহ: 
১) ইতালি → ৬০ টি
২) চীন → ৫৯ টি
৩) জার্মানি → ৫৪ টি
৪) ফ্রান্স → ৫৩ টি
৫) স্পেন → ৫০ টি

তথ্যসূত্র: ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ ওয়েবসাইট ও পত্রিকা।  (Link)

২৪.
FSB এর পূর্ণরূপ কী?
  1. The Federal Security Service
  2. The Federal Intelligence Bureau
  3. The National Security Agency
  4. The Federal Intelligence Directorate
ব্যাখ্যা

• FSB:
- FSB এর পূর্ণরূপ: The Federal Security Service. 
- যা রাশিয়ান ভাষায় Federalnaya Sluzhba Bezopasnosti.
- এটি রাশিয়ান প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা।
- সোভিয়েত ইউনিয়ন - এর সময় এই গোয়েন্দা সংস্থার নাম ছিলো - KGB (Committee for State Security)।
- ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হওয়ার পর ১৯৯৪-৯৫ সময়ে এর নাম হয় - Federal Counterintelligence Service (FSK) |
- ১৯৯৫ সাল থেকে এই সংস্থাটির বর্তমান নাম করেন তৎকালীন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Boris Yeltsin.
- রাশিয়ার অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা, সীমান্ত অপরাধ, চোরাচালান, ফেডারেল কোন আইন ভঙ্গ করলে তার তদন্ত ও অপরাধী সনাক্তকরণ ইত্যাদি বিষয়ে FSB কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। 

তথ্যসূত্র: FSB অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

২৫.
মেধাভিত্তিক আধুনিক সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থার সূচনা হয় কোন দেশে?
  1. যুক্তরাজ্যে
  2. যুক্তরাষ্ট্রে
  3. চীনে
  4. ভারতে
ব্যাখ্যা

• আধুনিক মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিস:
- প্রাচীন চীনে সরকারী চাকুরি বা আধুনিক মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিসের সূচনা।
- তখন চীনে সরকারী চাকুরে রাজ্যের বিভিন্ন বিষয়ে সম্রাটকে অবহিত করতেন।
- সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলা হতো মন্ত্রিদেরকে, যারা সরাসরি প্রাসাদের কাজ করতেন।
- তারা সরকারের ক্ষমতাশালী ব্যাক্তিবর্গ হিসাবে পরিচিত ছিলেন।

⇒ ২০৬ খ্রিস্টপূর্বে হ্যান শাসনামলে সম্রাট উডির শাসনামলে সর্বপ্রথম সিভিল সার্ভিস বা সরকারী চাকরির সূচনা হয়।
- সম্রাট জানতেন চীনের মতো এতো বড় সাম্রাজ্য তিনি একা চালাতে পারবেন না।
- তিনি উচ্চশিক্ষিত মন্ত্রী এবং প্রশাসকদের সরকারের সাথে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিলেন।
- এভাবেই ২০০০ বছর ধরে চীনা সাম্রাজ্য সিভিল সার্ভিস দ্বারা পরিচালিত হতো।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (সংক্ষিপ্ত রুপ বিসিএস নামে সর্বাধিক পরিচিতি) হল বাংলাদেশ সরকারের সিভিল সার্ভিস।
- এটি প্রাক্তন সেন্ট্রাল সুপিরিয়র সার্ভিস অব পাকিস্তান থেকে উদ্ভূত হয়েছে, যা উপনিবেশিক শাসনামলের ব্রিটিশ সম্রাজ্ঞী নিয়ন্ত্রিত ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিসের উত্তরসূরি ছিল।
- স্বাধীনতার পর থেকে এটি সিভিল সার্ভিস অধ্যাদেশের দ্বারা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস হিসাবে পরিচিতি হয়।
- এর মূলনীতি ও পরিচালনা পরিষদ বাংলাদেশ সরকারী কর্ম কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত হয়।
- বিসিএস এর ক্যাডার সংখ্যা হল ২৬টি।

তথ্যসূত্র: Britannica.

২৬.
'Fairfax' কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা?
  1. যুক্তরাষ্ট্র
  2. যুক্তরাজ্য
  3. কানাডা
  4. অস্ট্রেলিয়া
ব্যাখ্যা

• ফেয়ার ফ্যাক্স (Fairfax):
- ফেয়ার ফ্যাক্স যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা।

⇒ যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা:
• Central Intelligence Agency (CIA),
• Defense Intelligence Agency (DIA),
• Fairfax,
• Federal Bureau of Investigation (FBI)।

তথ্যসূত্র: i) Britannica.
ii) WorldAtlas.

২৭.
হামাস গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণে নেয় কত সালে?
  1. ২০০৫ সালে
  2. ২০০৬ সালে
  3. ২০০৭ সালে
  4. ২০০৮ সালে
ব্যাখ্যা

• হামাস:
- হামাস ফিলিস্তিনের গেরিলা সংগঠন।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৮৭।
- প্রতিষ্ঠাতা: শেখ ইয়াসিন।
- এর সদরদপ্তর গাজায় অবস্থিত।
- সামরিক শাখা: ইজ্জেদিন আল-কাশেম ব্রিগেডস।
- গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণ নেয়: ২০০৭ সালে।

⇒ ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসানের দাবিতে ‘ইন্তিফাদা’ বা ফিলিস্তিনি গণজাগরণ শুরুর পর ১৯৮৭ সালে হামাস গঠিত হয়।
- কট্টর ইসরায়েলবিরোধী আধ্যাত্মিক নেতা শেখ আহমাদ ইয়াসিনের নেতৃত্বে আবদেল আজিজ আল-রান্তিসি ও মাহমুদ জহর সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- শুরু থেকেই নীতিগতভাবে প্রয়াত ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াসির আরাফাতের স্বাধীনতাপন্থী সংস্থা পিএলও এর বিরোধিতা করে আসছে দলটি।
- তাদের প্রথম উদ্দেশ্য এর সামরিক শাখা ইজ্জেদিন আল-কাশেম ব্রিগেডসের মাধ্যমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা।

উল্লেখ্য,
- ২০০৬ সালের জানুয়ারিতে প্যালেস্টাইনের সাধারণ নির্বাচনে হামাস ফাতাহকে হারিয়ে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
- ২০০৬ সালে ফিলিস্তিনের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ফাতাহ হেরে যাওয়ার পর এবং হামাস যোদ্ধারা গাজার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এই সহিংসতা শুরু হয়। ওই সংঘাতের ফলে ফিলিস্তিনের যৌথ সরকারের বিলুপ্তি ঘটে এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে শাসনভার ভাগ হয়ে যায়। ফিলিস্তিনের দুই অংশ- পশ্চিম তীর ফাতাহ আর গাজা হামাসের শাসনে চলে যায়।
- ১০ জুন, ২০০৭ থেকে গাজায় হামাস এবং ফাতাহের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়। তিন দিনের তীব্র সংঘর্ষের পর হামাস গাজা নিয়ন্ত্রণ নেয়।

তথ্যসূত্র:
i) Al Jazeera.
ii) Britannica.

২৮.
ইসরায়েলের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন কে? 
  1. ডেভিড বেন গুরিয়েন
  2. আর্থার বেলফোর 
  3. থিওডোর হার্জেল 
  4. মোনটেম বেগিন 
ব্যাখ্যা

• ইসরাইল:
- মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর মাঝখানে ছোট্ট একটি দেশ ইসরাইল।
- রাজধানী: জেরুজালেম।
- মুদ্রা: শেকেল।
- ইসরাইলের ভাষা হিব্রু।
- গোয়েন্দা সংস্থা: মোসাদ, আমান।

⇒ ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ব্রিটিশ ও মার্কিনদের সহায়তায় ইহুদিরা আরব ভূমিতে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে।
- ইসরাইলের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন 'ডেভিড বেন গুরিয়েন।'

উল্লেখ্য,
- ১৯১৭ সালের নভেম্বর মাসে তুরস্কের সেনাদের হাত থেকে জেরুজালেম দখল করে ব্রিটেন।
- ১৯১৭ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনের ভূমি ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
- তখন ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ফিলিস্তিনের মাটিতে ইহুদিদের জন্য একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য সহায়তা করবে।
- ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড আর্থার জেমস বেলফোর বিষয়টি জানিয়ে চিঠি লিখেছিলেন ইহুদি আন্দোলনের নেতা ব্যারন রটসচাইল্ডকে।
- তৎকালীন ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সে চিঠি ‘বেলফোর ডিক্লারেশন’ হিসেবে পরিচিত।
- ১৯৪৭ সালের নভেম্বর মাসে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ডে দুটি রাষ্ট্র গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় জাতিসংঘ, একটি ইহুদিদের জন্য এবং অন্যটি আরবদের জন্য। 
- ১৯৪৮ সালের ১৪ই মে ফিলিস্তিন ছেড়ে যায় ব্রিটেন, আর ইহুদিরা ঘোষণা করে নিজস্ব রাষ্ট্র ইসরায়েলের। 

⇒ ইসরায়েলের স্বপ্নদ্রষ্টা অস্ট্রিয়ান সাংবাদিক থিওডর হার্জেল। 
- ইহুদিবাদ অন্দোলনের প্রবক্তা থিওডোর হার্জল।
- যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়।

তথ্যসূত্র:
i) Britannica.
ii) BBC.

২৯.
FARC কোন দেশের গেরিলা সংগঠন?
  1. ভেনিজুয়েলা
  2. কলম্বিয়া
  3. কম্বোডিয়া
  4. পেরু
ব্যাখ্যা

• ফার্ক (FARC):
- FARC-এর পূর্ণরূপ: Revolutionary Armed Forces of Colombia.
- এটি কলম্বিয়ার বিপ্লবী সশস্ত্র গোষ্ঠী।
- এটি ল্যাটিন আমেরিকার একটি পুরনো গেরিলা সংগঠন।
- ১৯৬৪ সালে কলম্বিয়ান কমিউনিস্ট পার্টির সামরিক শাখা হিসেবে ফার্ক গঠিত হয়।
- ফার্কের প্রতিষ্ঠাতা ম্যানুয়েল মারুলেন্দা।
- এরা মূলত মার্কসবাদী আদর্শে বিশ্বাসী।

উল্লেখ্য,
- কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সানতোস ফার্ক গেরিলাদের সাথে ২০১৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর একটি শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।
- দীর্ঘ ৪ বছর ধরে আলোচনার পর কলম্বিয়ার পার্লামেন্ট ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর এই শান্তি চুক্তিটি অনুমোদন করেছে।
- ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফার্ক গ্যারিলাদের একটি শান্তি এলাকায় রাখা হয়েছে, যাতে করে তাদেরকে পুনর্বাসন করা যায়।

তথ্যসূত্র: ব্রিটানিকা। 

৩০.
ANZUS কোন ধরনের জোট?
  1. সামরিক
  2. বাণিজ্যিক
  3. সাংস্কৃতিক 
  4. পরিবেশগত
ব্যাখ্যা

• ANZUS:
- ANZUS একটি সামরিক জোট।
- এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১ সেপ্টেম্বর ১৯৫১ সালে।
- ANZUS এর সদস্য সংখ্যা ৩টি দেশ। (সেপ্টেম্বর, ২০২৫)
- এই জোটের সদস্য দেশ: অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।

তথ্যসূত্র: ANZUS-এর ওয়েবসাইট ও ব্রিটানিকা।

৩১.
'Political Man' বইটি কার লেখা?
  1. স্যামুয়েল হান্টিংটন
  2. সেইমুর মার্টিন লিপসেট
  3. ডেভিড স্টরম্যান
  4. গ্যাব্রিয়েল আলমন্ড
ব্যাখ্যা

- "Political Man" গ্রন্থের লেখক হলেন সেমুর মার্টিন লিপসেট।
- গ্রন্থটি তার রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানের বিশ্লেষণ ও তাত্ত্বিক গুরুত্বের জন্য আমেরিকান সোসিওলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সম্মানজনক ম্যাকআইভার পুরস্কার অর্জন করে।

• সেমুর মার্টিন লিপসেট গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বই:
- Political Man.
- American Exceptionalism: A Double-Edged Sword.
- Political Man: The Social Bases of Politics.
- The First New Nation: The United States in Historical and Comparative Perspective.
- Revolution and Counterrevolution: Change and Persistence in Social Structures.

উৎস: ব্রিটানিকা, বিভিন্ন পত্রিকার রিপোর্ট।

৩২.
যে গুণের মাধ্যমে মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ'- এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে, তাকে বলা হয়- 
  1. ন্যায়পরায়নতা 
  2. কর্তব্যবোধ
  3. মূল্যবোধ
  4. সদাচার
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মানুষ 'ভুল' ও 'শুদ্ধ' ভাল ও মন্দ-এর পার্থক্য নির্ধারণ করতে পারে তাকে বলা হয় মূল্যবোধ।
-মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মাধ্যমে মূল্যবোধকে সুদৃঢ় করা যায়।
- জন্মের পর থেকেই মানুষ মূল্যবোধের শিক্ষা লাভ করতে শুরু করে যা আমৃত্যু চলে। তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে মূল্যবোধ শিক্ষারও পরিবর্তন ঘটে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৩.
"কর্তব্যের জন্য কর্তব্য" - ধারনাটি প্রবর্তক কে?
  1. হার্বার্ট স্পেন্সার
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ইমানুয়েল কান্ট
  4. জাঁ জ্যাক রুশো
ব্যাখ্যা

নৈতিকতা:
- 'কর্তব্যের জন্য কর্তব্য' ধারণাটির প্রবর্তক ইমানুয়েল কান্ট।
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- ইমানুয়েল কান্টকে কর্তব্যমুখী নৈতিকতার প্রবর্তক বলা হয়।
- 'সততার জন্য সদিচ্ছা' বলেছেন ইমানুয়েল কান্ট।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৪.
জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য কয়টি শর্ত উল্লেখ করেছেন? 
  1. ৫টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ২টি
ব্যাখ্যা

গণতন্ত্র:
- বর্তমানকালে আদর্শগতভাবে গণতন্ত্র সর্বোৎকৃষ্ট শাসন ব্যবস্থা হিসাবে বিবেচিত।
- এ শাসন ব্যবস্থা কার্যকর ও টেকসই করা কষ্টকর।
- জন স্টুয়ার্ট মিল গণতন্ত্রের সাফল্যের জন্য তিনটি শর্তের উল্লেখ করেন।
- শর্তগুলো হলো:
১. গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গ্রহণ করার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকা প্রয়োজন।
২. ব্যক্তিগত অধিকার সংরক্ষেণের জন্য জনগণকে সদা সতর্ক থাকতে হবে।
৩. নিজ নিজ নাগরিক কর্তব্য পালন এবং অধিকার রক্ষার সংগ্রামে অবতীর্ণ হওয়ার ইচ্ছা ও সামর্থ্য জনগণের থাকতে হবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৩৫.
মূল্যবোধ কী?
  1. সমাজের মানুষের কার্যাবলি
  2. আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি
  3. ব্যক্তির মৌলিক বৈশিষ্ট্য
  4. আইন মেনে চলা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ: 
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৩৬.
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে কী হয়?
  1. বেকারত্ব হ্রাস
  2. বিনিয়োগ বৃদ্ধি
  3. কর্মসংস্থান বৃদ্ধি
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন:
- অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সুশাসনের গুরুত্ব অত্যধিক।
- অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন নিশ্চিত হলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত হয়।
- এতে করে পুঁজি বিনিয়োগ ও শিল্পকারখানা স্থাপনে আগ্রহ বৃদ্ধি পায়।
- ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় ও বেকারত্ব হ্রাস পায়।
- অর্থনীতির সাথে সরাসরি বিনিয়োগের সাথে সম্পর্ক আছে।
- তাই অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।

৩৭.
নিচের কোনটি অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়?
  1. অসততা
  2. অসংযম
  3. শৃঙ্খলা
  4. অবাধ্যতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়, যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
• শৃঙ্খলা: শৃঙ্খলা মূল্যবোধের অপরিহার্য উপাদান। শৃঙ্খলা অনুসরণ করলে উচ্চ মূল্যবোধের সৃষ্টি হয়।
• এছাড়াও মূল্যবোধের কিছু উপাদান -
- সহমর্মিতা: মূল্যবোধ ও সহমর্মিতা নিবিড়ভাবে জড়িত। সহমর্মিতা না থাকলে কেউ সামাজিক মূল্যবোধসম্পন্ন হতে পারে না।
- সৌজন্যবোধ: ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ। আচার-ব্যবহার - সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।
- মানবিকতা: মানবিকতা মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ। মানবিকতা না থাকলে তাকে মানুষ বলা যায় না; মূল্যবোধসম্পন্ন বলার তো
প্রশ্নই আসে না। অর্থাৎ মূল্যবোধসম্পন্ন ব্যক্তি অবশ্যই মানবিক গুনাবলির অধিকারী হবে।
- শ্রমের মর্যাদা: শ্রমের মর্যাদা দেওয়া প্রত্যেকের কর্তব্য। এটি অনুশীলনের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আসে। এর মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তি অন্য একজন ব্যক্তিকে সম্মান করতে শিখে।

উৎস:  পৌরনীতি ও নাগরিকতা এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৮.
'শর্তহীন আদেশ' ধারণাটির প্রবর্তক কে? 
  1. অ্যারিস্টটল
  2. বার্ট্রান্ড রাসেল
  3. ইমানূয়েল কান্ট
  4. হার্বার্ট স্পেন্সার
ব্যাখ্যা

ইমানুয়েল কান্ট:
- ইমানুয়েল কান্ট একজন জার্মান নীতিবিজ্ঞানী।
- তাঁর নীতিবিদ্যার মূলকথা তিনটি।যথা:-
- সৎ ইচ্ছা,
- কর্তব্যের জন্য কর্তব্য এবং
- শর্তহীন আদেশ।
- 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতা' বা 'কর্তব্যের নৈতিকতার' দর্শন যে কোনো কর্মের ফল বা পরিণতির বদলে কর্মের ধরনকে গুরুত্ব দেয়।
- ইমানুয়েল কান্টকে 'কর্তব্যমুখী নৈতিকতার' প্রবর্তক বলা হয়।

• নীতিশাস্ত্রের উপর তাঁর রচিত বই:
- Groundwork for Metaphysics of Morals.
- Critique of Pure Reason.
- Critique of Practical Reason.
- Critique of Judgement.

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন- প্রথম পত্র, এইচএসসি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৯.
সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি হলো- 
  1. সমাজ
  2. সুশাসন
  3. নৈতিকতা
  4. রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

- সমাজ সভ্যতার অন্যতম প্রতিচ্ছবি।

• সভ্যতা (Civilization):
- সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধার প্রথা সংস্কৃতির উন্নত
- ম্যাকাইভার এবং পেজের মরে আমরা যাতা যনো সংস্কৃতি এবং আমরা য ব্যবহার করি তা ধনো সভ্যতা)
-স্কটের মতে সহাতা হচ্ছে একটি উচ্চতর জটিল বিষয় যা সংস্কৃতির সাথে আপেক্ষিকতার আলোকে তুলনা করা হয়।'
- বটোমোর মতে সভ্যতা হলো কতকগুলো নির্দিষ্ট মানবগোষ্ঠীর অভিন্ন সাংস্কৃতিক বৈশিষ্টদেমূহের সমন্বয়।
- জেরি এবং জেরি বলেন, সভ্যতা হচ্ছে সাস্কৃতির উন্নত ধরন যেমন- কেন্দ্রীয় সরকার, শিল্পকলা ও শিক্ষণের উন্নয়ন।
- নীতি-নৈতিকতার সমচিত এগ যা নগরের সাথে সম্পর্কিত এব। বৃষএর সমাজ
- সব মিনিয়ে নরা ধায়, সভ্যতা হলো উন্নত জীবনধর। প্রথ্য সংস্কৃতির উন্নত ধরন।
- সভ্যতা প্রযুক্তিবিদ্যা, বস্তুগত সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সমগ্রিলে যোগায়।
- সভ্যতা হচ্ছে সংস্কৃতির প্রধিকতা অগ্রসর ও জটিল বিষয় যা বিভিন্ন সমাজে প্রণয়িত হয়।
- অর্থাৎ, সমাজ সভ্যতার প্রতিচ্ছবি।
- সমাজের বিশ্লেষণ করেই সলতার সম্পর্কে হারনা পাপ্রয়া যায়।

উৎস:  সমাজবিজ্ঞান , এইচ এসসি প্রোগ্রাম, বালাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪০.
নিচের কোনটি ‍সামাজিক মূল্যবোধ নয়?
  1. আতিথেয়তা
  2. দানশীল হওয়া
  3. সহনশীলতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

বর্ণিত সবগুলো সামাজিক মূল্যবোধ। অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।

সামাজিক মূল্যবোধ:

- যে চিন্তা-ভাবনা, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষের সামাজিক আচার-আচরণ ও কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করে তাই সামাজিক মূল্যবোধ।
- সমাজবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস ই.মেরিল এর মতে,
- "সামাজিক মূল্যবোধ হলো মানুষের দলীয় কল্যাণের জন্য আচরণ সংরক্ষণ করা, যা মানুষ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করে।"
- ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও শিষ্টাচার সামাজিক মূল্যবোধের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

• সামাজিক মূল্যবোধ: 
- বড়দের সম্মান করা,
- সহনশীলতা,
- দানশীল হওয়া,
- আতিথেয়তা ইত্যাদি।

উৎস: মূল্যবোধ ও সুশাসন, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪১.
সুশাসনের ধারণাটি কোন সংস্থা থেকে উদ্ভাবিত হয়?
  1. ইউএনডিপি
  2. বিশ্বব্যাংক 
  3. আইএমএফ
  4. জাতিসংঘ
ব্যাখ্যা

• বিশ্বব্যাংক ও সুশাসন:
- 'সুশাসন' ধারণাটি বিশ্ব ব্যাংকের উদ্ভাবিত একটি ধারণা।
- ১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে বিশ্ব ব্যাংকের এক সমীক্ষায় সর্বপ্রথম 'সুশাসন' (Good Governance) প্রত্যয়টি ব্যবহার করা হয়।
- এছাড়াও একটি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সে রাষ্ট্রে টেকসই উন্নয়ন সাধিত হয়।
- ১৯৯৪ সালে বিশ্ব ব্যাংক প্রদত্ত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে যে, 'সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি দেশের সামাজিক এবং
অর্থনৈতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনার জন্য ক্ষমতা প্রয়োগের পদ্ধতিই হলো গভর্নেন্স।'
- ২০০০ সালে বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করে যে, সুষ্ঠু গভর্নেন্স বা সুশাসন চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর নির্ভরশীল।

• বিশ্বব্যাংকের ঘোষিত চারটি স্তম্ভ হলো:
- দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা, আইনি কাঠামো ও অংশগ্রহণ।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪২.
মূল্যবোধের চালিকা শক্তি হলো- 
  1. রাজনীতি
  2. সংস্কৃতি
  3. সুশাসন
  4. গণতন্ত্র
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- সমাজ জীবনে মানুষের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত আচার-আচরণ পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় মূল্যবোধের দ্বারা।
- আমাদের এ সকল কর্মকাণ্ড সংস্কৃতি দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়।
- মূল্যবোধের মাধ্যমে সমাজভেদে মানুষের আচার-আচরণের মাঝে যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় সংস্কৃতি মানুষকে তার কাঙিক্ষত আচরণটি শেখায়।
- সুতরাং সংস্কৃতি হচ্ছে মূল্যবোধের চালিকাশক্তি।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক।

৪৩.
E-Governance-এর ফলে কোনটি হ্রাস পায়?
  1. দক্ষতা
  2. দুর্নীতি
  3. জবাবদিহিতা
  4. স্বচ্ছতা
ব্যাখ্যা

ই-গভর্নেন্স:
- E-Governance-এর পূর্ণরূপ হলো Electronic governance ।
- সুশাসন প্রতিষ্ঠার আধুনিকতম একটি উদ্যোগ হল ই-গর্ভনেন্স।
- দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই হচ্ছে ই-গভর্নেন্সের লক্ষ্য।
- ই-গর্ভনেন্স হল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা সমাজের সকল মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া।
- ই-গর্ভনেন্স ব্যবস্থায় একজন নাগরিক স্বল্প ব্যয়ে, ঝামেলাবিহীনভাবে সপ্তাহে সাত দিন; দিনে চব্বিশ ঘন্টা সরকারি সেবা পেতে পারে।
- এর ফলে শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আসে, দুর্নীতি হ্রাস পায়।
- এভাবে মূলত সুশাসনই নিশ্চিত হয়।
- তবে পুরোপুরি ই-গর্ভনেন্স চালু করার জন্য বিপুল অর্থ, দক্ষ জনশক্তি, সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ এবং দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা অপরিহার্য।
- বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রে এসব ক্ষেত্রে এখন অবধি অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৪৪.
মূল্যবোধ দৃঢ় হয় কিসের মাধ্যমে?
  1. সুশাসনের মাধ্যমে
  2. শিক্ষার মাধ্যমে
  3. সংস্কৃতির মাধ্যমে
  4. গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী মানদণ্ড ও নীতি।
- শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যবোধ অর্জন।
- জ্ঞানার্জন বা শিক্ষার মাধ্যমেই মূল্যবোধ সুদৃঢ় হয়।
- মানুষের শিক্ষাজীবনকে ব্যক্তিগত মূল্যবোধ অর্জনের শ্রেষ্ঠ সময় বলা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রাথমিক উৎস হলো পরিবার।
- পরিবার থেকেই মূল্যবোধ শিক্ষার সূচনা হয়।
- মূল্যবোধ শিক্ষার প্রধান প্রাতিষ্ঠানিক উৎস হলো বিদ্যালয় (শিক্ষা প্রতিষ্ঠান)।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন নবম- দশম শ্রেণি বোর্ড বই।

৪৫.
'Republic' গ্রন্থটির রচয়িতা কে?
  1. জন লক
  2. এরিস্টটল
  3. বার্কলে
  4. প্লেটো
ব্যাখ্যা

প্লেটো:
- প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিক সক্রেটিসের শিষ্য ছিলেন প্লেটো এবং প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল।
- সুশাসনের ধারণা প্রথম পাওয়া যায় প্লেটোর 'The Republic' গ্রন্থে।
- প্লেটো তাঁর 'রিপাবলিক' গ্রন্থে বলেছেন, "শাসক যদি ন্যায়বান হন তাহলে আইন নিষ্প্রয়োজন, আর শাসক যদি দুর্নীতিপরায়ণ হন তাহলে আইন নিরর্থক।"

• তার লেখা বিখ্যাত বই - Republic.

- তার লেখা অন্যান্য বইসমূহ:
- Symposium
- Apologia Socrates
- Allegory of the Cave
- The Laws (348 BCE)
- Plato: Complete Works ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- প্লেটোর মতে সদগুণ বা মৌলিক সততা হলো চারটি।
- এগুলো হলো: জ্ঞান, সাহসিকতা, আত্মসংযম ও ন্যায়পরায়ণতা।

উৎস: ব্রিটানিকা।

৪৬.
ব্যাক্তির চিরন্তন মূল্যবোধ কোনটি?
  1. স্বার্থকতা
  2. সত্য ও ন্যায়
  3. অহমিকা 
  4. অসহিষ্ণুতা
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধ:
- মানুষের আচরণের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী ধারনা বা আদর্শ বলে-সামাজিক মূল্যবোধ।
- সামাজিক মূলবোধের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি- সহনশীলতা।
- মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদণ্ড হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- সমাজ ও রাষ্ট্রের আচরনের ভিত্তি হচ্ছে- মূল্যবোধ।
- মূল্যবোধ শিক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে- সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা
- মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়- কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।
- মূল্যবোধ শিক্ষা বিকাশ সাধন করে- ব্যক্তি সত্তার।
- চিরন্তন মূল্যবোধ হলো- সত্য ও ন্যায়।

এছাড়াও,
- মুল্যবোধের চালিকাশক্তি- সংস্কৃতি।
- মূল্যবোধ জাগ্রত করে- নীতিশাস্ত্র।
- সুশাসনের প্রাণ হচ্ছে- সামাজিক মূল্যবোধ।

উৎস: সমাজবিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৭.
'মত প্রকাশের অধিকার'- নাগরিকের কোন ধরনের অধিকার? 
  1. নৈতিক
  2. ধর্মীয়
  3. সামাজিক
  4. রাজনৈতিক
ব্যাখ্যা

• অধিকার প্রধানত দুই প্রকার। যথা- ১। নৈতিক অধিকার ও ২। আইনগত অধিকার।
• নৈতিক অধিকার:
- নৈতিক অধিকার মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে।
- যেমন- দুর্বলের সাহায্য লাভের অধিকার নৈতিক অধিকার।
- এটি রাষ্ট্র কর্তৃক প্রণয়ন করা হয় না যার ফলে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
- তাছাড়া এ অধিকার ভঙ্গকারীকে কোনো শাস্তি দেওয়া হয় না। নৈতিক অধিকার বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন রকম হতে পারে।

২.আইনগত অধিকার 
- আইনগত অধিকার যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন কর্তৃক স্বীকৃত ও অনুমোদিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে।
- আইনগত অধিকারকে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
- যেমন- ক. সামাজিক খ. রাজনৈতিক ও গ. অর্থনৈতিক অধিকার।

সামাজিক অধিকার:
- সামাজিক অধিকার সমাজে সুখ-শান্তিতে বসবাস করার জন্য আমরা সামাজিক অধিকার ভোগ করি।
- যেমন- জীবন রক্ষার, স্বাধীনভাবে চলাফেরার ও মত প্রকাশের, পরিবার গঠনের, শিক্ষার, আইনের দৃষ্টিতে সমান সুযোগ লাভের, সম্পত্তি লাভের ও ধর্মচর্চার অধিকার ইত্যাদি।

রাজনৈতিক অধিকার: 

- রাজনৈতিক অধিকার নির্বাচনে ভোটাধিকার, নির্বাচিত হওয়া এবং সকল প্রকার অভাব-অভিযোগ আবেদনের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়াকে রাজনৈতিক অধিকার বলে।
- এসব অধিকার ভোগের বিনিময়ে নাগরিকরা রাষ্ট্র পরিচালনায় পরোক্ষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

অর্থনৈতিক অধিকার:
- জীবনধারণ করা এবং জীবনকে উন্নত ও এগিয়ে নেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপ্রদত্ত অধিকারকে অর্থনৈতিক অধিকার বলে।
- যেমন- যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ করার অধিকার, ন্যায্য মজুরি লাভের অধিকার, অবকাশ লাভের অধিকার, শ্রমিকসংঘ গঠনের অধিকার।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি বোর্ড বই। 

৪৮.
ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে-
  1. স্বাধীনতার মূল্যবোধকে
  2. সামাজিক মূল্যবোধকে
  3. ব্যক্তিগত মূল্যবোধকে
  4. অর্থনৈতিক মূল্যবোধকে
ব্যাখ্যা

ব্যক্তিগত মূল্যবোধ লালন করে সামাজিক মূল্যবোধকে।

সামাজিক মূল্যবোধ:
- সামাজিক মূল্যবোধ সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
- মূল্যবোধ হচ্ছে বিশ্বাস, আদর্শ ও নীতির সমষ্টি যা ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট কাজে পরিচালিত করে এবং অন্যের কাজের ভাল মন্দ বিচারের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়।
- মূল্যবোধ, ব্যক্তিদল, পরিবার, সমষ্টি, সমাজ, পেশা, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি সকল পর্যায়েই থাকে।
- মূল্যবোধ ছন্দময় এবং পরিবর্তনশীল।
- সামাজিক মূল্যবোধ হলো সমাজের সদস্যদের সিংহভাগের সর্ব সম্মত বিশ্বাস, আদর্শ, নীতি ইত্যাদির সমষ্টি যা তারা ভাল বলে গ্রহণ করে।
- সমাজের মানুষের ভাল মন্দ আচরণ বিচারের মানদন্ড হলো সামাজিক মূল্যবোধ।
- এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে।
- সামাজিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মূল্যবোধেও পরিবর্তন ঘটে।
- ব্যক্তি ও সমাজের অভিন্ন আকাংখার অভিব্যক্তিই হলো সামাজিক মূল্যবোধ।

⇒ ব্যক্তিগত মূল্যবোধ:
- আধুনিক বিশ্ব সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় ব্যক্তিগত মূল্যবোধের ওপর।
- এটি ব্যক্তির স্বাধীনতাকে লালন করে।
- ব্যক্তিগত মূল্যবোধ হচ্ছে ব্যক্তির আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণে তার নিজস্ব কিছু মূল্যবোধ, যা ব্যক্তির রুচি, বিশ্বাস, মনোভাব, ধারণা ও নীতি-নৈতিকতা থেকে সৃষ্টি হয়।
- প্রতিটি শিশুই ব্যক্তিগত মূল্যবোধ নিয়ে জন্মায় এবং পরিবার থেকেই সে তার মূল্যবোধের শিক্ষা পায়।
- ব্যক্তির ব্যক্তিজীবন তার মূল্যবোধ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।

উৎস: i) সমাজকল্যাণ ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।
ii) কৌশলগত মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতার বিষয়সমূহ, এমবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৪৯.
মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে কীসের মাধ্যমে? 
  1. ব্যাক্তির সম্পদ বণ্টন প্রক্রিয়ায়
  2. রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে
  3. ব্যক্তির আচরণে
  4. ব্যক্তির স্বতন্ত্র সত্তার স্বীকৃতিতে
ব্যাখ্যা

মূল্যবোধের উপাদান:
- মূল্যবোধ একটি অর্জিত বিষয়,
- যা কোন সমাজে দীর্ঘ সময় বসবাসের মধ্য দিয়ে একজন ব্যক্তির মাঝে গড়ে ওঠে।
- এক জন ব্যক্তির মূল্যবোধ কেমন হবে তা সমাজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা সমাজের বিভিন্ন উপাদানের উপর নির্ভর করে
- এই অবস্থাগুলোই হল মূল্যবোধের ভিত্তি বা উপাদান।
- ব্যক্তির আচার-আচরণের মধ্য দিয়েই তার মূল্যবোধের বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
- সৌজন্যবোধ তার একটি অংশ।
- আচার-ব্যবহার সৌজন্য, শালীনতা মূল্যবোধ থেকে সৃষ্টি হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫০.
কোনটিকে সরকার ও জনগণের Win Win Game বলা হয়?
  1.  জবাবদিহিতা
  2. মূল্যবোধ
  3. নৈতিকতা
  4.  সুশাসন
ব্যাখ্যা

- সুশাসনকে সরকার ও জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

• সুশাসন:

- সুশাসন একটি সামাজিক ধারণা।
• 'সুশাসন' হলো একটি কাঙিক্ষত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতিফলন। 'সুশাসন' হলো ন্যায়নীতি অনুসারে উত্তমরূপে, সুষ্ঠভাবে ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে দেশ বা রাষ্ট্র শাসন। অন্যকথায় সুশাসন বলতে রাষ্ট্রের সাথে সুশীল সমাজের, সরকারের সাথে শাসিত জনগণের, শাসকের সাথে শাসিতের সম্পর্ককে বুঝায়। সুশাসন হচ্ছে অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও ন্যায়সংগত ব্যবস্থা যা আইনের শাসনকে নিশ্চিত করে। সুশাসনকে সরকারের উচ্চতর দক্ষতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
• মূলত: ল্যাটিন আমেরিকা ও আফ্রিকা মহাদেশে বিশ্বব্যাংকের ব্যর্থতার ফলে ১৯৮৯ সালে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক সুশাসনের ধারণাটি উদ্ভব হয়।
- এটি বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশন নামে পরিচিত।
- আশির দশকের দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাংক সুশাসনকে উন্নয়নের এজেন্ডাভুক্ত করে।
- এতে সরকার ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয় ও উভয়েই লাভবান হয় বলে সুশাসনকে সরকার ও
জনগণের 'Win Win Game' বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো: মোজাম্মেল হক ও সুশাসন বনাম সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ।

৫১.
মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো- 
  1. আপেক্ষিকতা
  2. পরিবর্তনশীলতা
  3. বিভিন্নতা
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

- মূল্যবোধের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য: আপেক্ষিকতা, বিভিন্নতা, পরিবর্তনশীলতাG

• মূল্যবোধের বৈশিষ্ট্য:

সামাজিক মূল্যবোধের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপ:
১. সামাজিক মাপকাঠি: মানুষের কর্মকাণ্ডের ভালো-মন্দ বিচার করার ভিত্তিই হচ্ছে মূল্যবোধ।
২. যোগসূত্র ও সেতুবন্ধন: মূল্যবোধ সমাজের মানুষকে ঐক্যসূত্রে আবদ্ধ করে।
৩. নৈতিক প্রাধান্য: মূল্যবোধ আইন নয়। এর বিরোধিতা বেআইনি নয়। এটা মূলত একপ্রকার সামাজিক নৈতিকতা।
৪. বিভিন্নতা: মূল্যবোধ বিভিন্ন সমাজে বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে। দেশ, জাতি, সমাজ ও প্রকৃতিভেদে মূল্যবোধের পরিবর্তন হয় এবং স্থান, কাল, পাত্রভেদে মূল্যবোধের পার্থক্য সৃষ্টি হয়।
৫. বৈচিত্র্যময়তা ও আপেক্ষিকতা: মূল্যবোধ বৈচিত্র্যময় ও আপেক্ষিক। আজ যা মূল্যবোধ বলে পরিগণিত,
কাল-সেভাবে বিবেচ্য নাও হতে পারে।
৬. পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা: মূল্যবোধের প্রধান বৈশিষ্ট্য এর পরিবর্তনশীলতা ও নৈর্ব্যক্তিকতা।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

৫২.
গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান-
  1. শক্তিশালী রাজনৈতিক দল
  2. স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন
  3. পরমতসহিষ্ণুতা
  4. নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য
ব্যাখ্যা

- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান- পরমত সহিষ্ণুতা।

• গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ধারণা: 

- বিভিন্ন ধরনের মূল্যবোধের মাঝে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অন্যতম।
- নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মসংযম, পরমত সহিষ্ণুতা এর মতো গুনাবলিগুলো মানুষকে গণতান্ত্রিক আচরণ করতে শেখায়।
- একটি রাষ্ট্র কেবল গণতন্ত্র ঘোষণা করলেই হবে না, তা প্রতিষ্ঠা করার জন্য জনগণের মাঝে গণতান্ত্রিক চেতনা, সংকল্প ও উদ্দেশ্য তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ থাকতে হবে।
- সমাজের কথা, প্রতিবেশীর সুবিধা-অসুবিধা, অন্যের অধিকার সম্পর্কে চিন্তা করা মূল্যবোধের অবিচ্ছেদ্য অংশ যা আবার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধেরই প্রতিফলন।
- মূলত উদারতাবাদ নামক মতবাদ থেকেই এর উৎপত্তি।
- অধ্যাপক জর্জ এইচ সেবাইন উদারতাবাদের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন "ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনি সুরক্ষা এবং সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার তত্ত্ব ও অনুশীলন হচ্ছে উদারতাবাদ।
- মানুষের মানবিক ব্যক্তিত্ব, ব্যক্তিস্বাধীনতা, সহজাত যুক্তিবোধ ও গুণ, এবং পারস্পরিক সম্মতিসহ এমন আরো কয়েকটি গুণের চর্চাই হল উদারতাবাদ, যার সবকটিই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ।
- গণতন্ত্র ব্যর্থ হবার পেছনে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অভাবকেই দায়ী করা হয়।"

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৩.
ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতি' এর মূল প্রবক্তা কে? 
  1. জন লক 
  2. এরিস্টটল 
  3. মন্টেস্কু 
  4. কার্ল মার্কস
ব্যাখ্যা

• ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ:
- ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতিকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্থায়ী আসন দেন মন্টেস্কু।
- ১৭৪৮ সনে তিনি তার 'The spirit of laws' গ্রন্থে সর্বপ্রথম পরিপূর্ণভাবে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির আধুনিক ব্যাখ্যা দান করেন।
- এজন্য তাকে ক্ষমতা স্বতন্ত্রীকরণ নীতির মূল প্রবক্তা বলা হয়।
- মন্টেস্কু মনে করেন যে, প্রত্যেক সরকারের তিন ধরনের ক্ষমতা রয়েছে- আইন প্রণয়ন, শাসন ও বিচার সংক্রান্ত ক্ষমতা।
- তিনি বলেন যে, এই তিনটি ক্ষমতা অথবা এর যেকোনো দুটি এক হাতে বা এক ব্যক্তিগোষ্ঠীর হাতে একত্রিত হলে ব্যক্তি স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন হবে।

উৎস: পৌরনীতি, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৫৪.
"স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" উক্তিটি কার? 
  1. মন্টেস্কু 
  2. জন লক 
  3. আর্নেস্ট বার্কার
  4. উইলোবি
ব্যাখ্যা

- আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় "স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই"

আইন স্বাধীনতার পরিপূরক:

- আইন যেমন কেবল নিয়ন্ত্রণ নয় তেমনি স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা করা নয়।
- উভয়টির সাথেই যৌক্তিকতা বিষয়টি রয়েছে।
- আইন স্বাধীনতাকে পূর্ণ করে। স্বাধীনতা কোনভাবে বাধাগ্রস্থ হলে আইনের মাধ্যমে তা বলবৎ করা হয়।
- অর্থাৎ আইন ছাড়া স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় না।
- আইন স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটায়
- সমাজে আইনের অভাবে অনেক সময় মৌলিক স্বাধীনতাও খর্ব হয়।
- সেসব ক্ষেত্রে আইনের শাসন নিশ্চিত হলে নাগরিকগণ প্রাপ্য স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে।
- আইন না থাকলে এক জনের দ্বারা অন্যের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা থাকে।
- তাই আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে স্বাধীনতার সম্প্রসাবণ ঘটে।
- অর্থাৎ আইন ও স্বাধীনতা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।
- একটি ছাড়া অন্যটি অর্থহীন। তবে আইন সবসময় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না।
- কেবল জনগণের জন্য, জনগণের দ্বারা প্রণীত আইনই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারে।
- স্বেচ্ছাচারী ও স্বৈরাচার কর্তৃক প্রণীত আইন সব সময়ই স্বাধীনতা বিরোধী।
- যেমন- সামরিক আইন, স্বৈরাচার প্রণীত আইন স্বাধীনতা খর্ব করে।
- তাই আর্নেস্ট বার্কারের ভাষায় বলা যায় "স্বাধীনতা ও আইনের বিরোধ নেই" (Liberty and law do not quarrel).

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, ‍এসএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।