পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২১
সিলেবাস
বিষয় - বাংলা সাহিত্য টপিক - বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের লেখকগণ [গুরুত্বপূর্ণ লেখকদের জীবনী, সাহিত্য-কর্ম, অবদান, স্বীকৃতি ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত পড়তে হবে। অন্যান্য লেখকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে পড়লেই হবে।] ১. গুরুত্বপূর্ণ লেখকগণ: কাজী নজরুল ইসলাম, জহির রায়হান, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, হুমায়ুন আজাদ, হুমায়ূন আহমেদ। ২. অন্যান্য লেখকগণ: কাজী মোতাহার হোসেন, কামিনী রায়, কালীপ্রসন্ন সিংহ, কুসুমকুমারী দাশ, কায়কোবাদ, গিরিশচন্দ্র ঘোষ, গোলাম মোস্তফা, চণ্ডীচরণ মুনশী, জাহানারা ইমাম, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। উৎস: ষষ্ঠ থেকে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যপাঠ বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], যেকোনো একজন ভালো একাডেমিক লেখকের বই; বাংলাপিডিয়া; বাজারে প্রচলিত যেকোনো ভালো গাইড বই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ----------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২১ প্রশ্ন

.
কাজী নজরুল ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ কবিতা কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়?
  1. ধূমকেতু
  2. বিজলী 
  3. লাঙল
  4. কল্লোল
সঠিক উত্তর:
বিজলী 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিজলী 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বিজলী

'বিদ্রোহী' কবিতা:
 - ‘বিদ্রোহী’ কাজী নজরুল ইসলামের ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় কবিতা।
 - ‘বিদ্রোহী’ কবিতা ২২ পৌষ, ১৩২৮ (১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি) সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
 - নজরুল বিদ্রোহ-ভাবাপন্ন আরও কবিতা লিখলেও শুধু এক ‘বিদ্রোহী’ কবিতার জন্যই তিনি বাঙালির চিরকালের বিদ্রোহী কবি।
 - এর মূলে রয়েছে - বিদ্রোহ ও বিপ্লবের আবেগ।

 অগ্নিবীণা:
 - কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’।
 - এই কাব্যগ্রন্থটি তিনি বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে উৎসর্গ করেন।
 - এতে মোট ১২টি কবিতা রয়েছে।

‘অগ্নিবীণা’ কাব্যের কবিতাগুলো হলো:

- প্রলয়োল্লাস (প্রথম কবিতা),
- বিদ্রোহী,
- রক্তাম্বরধারিণী মা,
- আগমনী,
- ধুমকেতু,
- কামালপাশা,
- আনোয়ার,
- রণভেরী,
- শাত-ইল-আরব,
- খেয়াপারের তরণী,
- কোরবানী,
- মোহররম।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের লেখক কে?
  1. শহীদুল্লা কায়সার
  2. হুমায়ূন আহমেদ
  3. জহির রায়হান 
  4. মাইকেল মধুসূদন দত্ত
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জহির রায়হান 
ব্যাখ্যা

‘হাজার বছর ধরে’ উপন্যাসের লেখক হচ্ছে জহির রায়হান। 

হাজার বছর ধরে:
- 'হাজার বছর ধরে' (১৯৬৪) উপন্যাসে আবহমান বাংলার জীবন ও জনপদ প্রতিপাদ্য।
- উপন্যাসে টুনি চরিত্রের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
- টুনি একমাত্র জীবন্ত চরিত্র; অন্য চরিত্রগুলো মৃত ও বিবর্ণ।
- উপন্যাসের জন্য জহির রায়হান আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
- প্রধান চরিত্র: মন্ত, টুনি, বুড়ো মকবুল।

জহির রায়হান:
- তিনি একজন প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
- ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রকৃত নাম: মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ।
- প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র: সঙ্গম।
- ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
- পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গণহত্যা নিয়ে স্টপ জেনোসাইড নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেন।
- ভাষা আন্দোলনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত বিখ্যাত উপন্যাস: আরেক ফাল্গুন।
- ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি মিরপুর থেকে নিখোঁজ হন।

জহির রায়হানের অন্যান্য উপন্যাস:
- হাজার বছর ধরে,
- আর কতদিন,
- শেষ বিকেলের মেয়ে,
- তৃষ্ণা,
- আরেক ফাল্গুন,
- বরফ গলা নদী,
- কয়েকটি মৃত্যু। 

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
হুমায়ূন আহমেদ রচিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস নয় কোনটি?
  1. জোছনা ও জননীর গল্প
  2. আগুনের পরশমণি
  3. অনিল বাগচীর একদিন
  4. নন্দিত নরকে
সঠিক উত্তর:
নন্দিত নরকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নন্দিত নরকে
ব্যাখ্যা

নন্দিত নরকে হুমায়ূন আহমেদের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস। 
- এটি মূলত একটি পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে লেখা, যা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস হিসেবে পরিচিত নয়। 

হুমায়ূন আহমেদ:
- হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন একাধারে লেখক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র পরিচালক, গীতিকার ও শিক্ষক।
- তাঁর জন্ম নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় মাতামহের বাড়িতে।
- তাঁর পৈত্রিক নিবাস নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে।
- তাঁর ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল ছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং জনপ্রিয় লেখক।

সাহিত্যকর্ম:
- ছাত্রজীবনে লেখা ‘নন্দিত নরকে’ উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে আত্মপ্রকাশ করেন।
- মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তাঁর গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে: শ্যামল ছায়া, আগুনের পরশমণি, অনিল বাগচীর একদিন ও জোছনা ও জননীর গল্প।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

.
কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে কোন রীতির প্রবর্তক ছিলেন?
  1. নাট্যরীতি
  2. চলিত রীতি
  3. ছদ্মনামী রীতি
  4. হুতোমী বাংলা রীতি
সঠিক উত্তর:
হুতোমী বাংলা রীতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হুতোমী বাংলা রীতি
ব্যাখ্যা

কালীপ্রসন্ন সিংহ বাংলা সাহিত্যে হুতোমী বাংলা রীতির প্রবর্তক ছিলেন। 

কালীপ্রসন্ন সিংহ:
- কালীপ্রসন্ন সিংহ ১৮৪০ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় জন্মগ্রহণ করেন।
- কালীপ্রসন্ন সিংহ ছিলেন সংগঠক, সাংবাদিক, লেখক ও সমাজকর্মী।
- তিনি বাংলা সাহিত্যে ‘হুতোমী বাংলা’ রীতির প্রবর্তক হিসেবে খ্যাত।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তিনি ‘বিদ্যোৎসাহিনী সভা’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই সভার সদস্যরা সাপ্তাহিক মিলিত হয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন ও আলোচনা করতেন।
- তিনি ‘হুতোম প্যাঁচা’ ছদ্মনামেও পরিচিত ছিলেন।
- তিনি ১৮৭০ সালে কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

সাহিত্যকর্ম
- হুতোম প্যাঁচার নকশা,
- সংস্কৃত মহাভারতের গদ্য-অনুবাদ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

.
কাজী মোতাহার হোসেনের বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন কোনটি?
  1. সঞ্চয়ন
  2. সঞ্চিতা
  3. সঞ্চয়িতা
  4. সঞ্জীবন
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সঞ্চয়ন
ব্যাখ্যা

কাজী মোতাহার হোসেনের বিখ্যাত প্রবন্ধ সংকলন হচ্ছে সঞ্চয়ন।  

কাজী মোতাহার হোসেন:
- কাজী মোতাহার হোসেন (১৮৯৭-১৯৮১) একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী এবং সাহিত্যিক ছিলেন।
- তিনি ‘শিখা’ পত্রিকার মুখপত্র হিসেবে কাজ করেছেন।
- ঢাকায় ‘মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান ছিল।
- তিনি ‘বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন’ এর সাথে যুক্ত ছিলেন।
- কাজী আবদুল ওদুদ, সৈয়দ আবুল হুসেন ও আবুল ফজলের সহযোগিতায় ১৯২৬ সালে মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
- কাজী মোতাহার হোসেন সংস্থার মুখপত্র ‘শিখা’ পত্রিকা অল্প সময় সম্পাদনা করেন।
- শিক্ষা ও গবেষণায় তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ খেতাবে ভূষিত হন।

উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাসমূহ:
- সঞ্চয়ন,
- নজরুল কাব্য পরিচিত,
- সে পথ লক্ষ্য করে,
- সিম্পোজিয়াম গণিত শাস্ত্রের ইতিহাস,
- আলোক বিজ্ঞান।

অন্যদিকে, 
- সঞ্চিতা: এটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি কাব্যগ্রন্থ, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে উৎসর্গ করা হয়েছিল।  
- সঞ্চয়িতা: এটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত একটি কাব্যগ্রন্থ, যা ১৯৩১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়।  
- সঞ্জীবন: এটি কাজী মোতাহার হোসেনের প্রবন্ধ সংকলনের নাম নয়। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

.
কুসুমকুমারী দাশ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
  1. বরিশাল
  2. ঢাকা
  3. পটুয়াখালী 
  4. কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা

কুসুমকুমারী দাশ বরিশাল জেলার সন্তান। 

কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জীবনানন্দ দাশের মাতা ছিলেন।
- কুসুমকুমারী দাশ ১৯৪৮ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

সাহিত্যকর্ম:
- তার গদ্যগ্রন্থের নাম ‘পৌরাণিক আখ্যায়িকা’।
- শিশুদের জন্য তিনি ‘কবিতা মুকুল’ নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছিলেন।
- তার কবিতা প্রকাশিত হত বিভিন্ন পত্রিকায়, যেমন ‘প্রবাসী’, ‘ব্রহ্মবাদী’, ‘মুকুল’।
- তার বিখ্যাত কবিতার একটি পঙ্ক্তি: “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।”

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

.
কায়কোবাদের প্রকৃত নাম কী?
  1. মোহাম্মদ রওশন আলী
  2. শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী
  3. কাজেম আল কোরেশী
  4. আবদুল হামিদ
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাজেম আল কোরেশী
ব্যাখ্যা

কায়কোবাদের প্রকৃত নাম হচ্ছে কাজেম আল কোরেশী। 

কায়কোবাদ:
- আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি হিসেবে খ্যাত কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১)।
- তাঁর প্রকৃত নাম কাজেম আল কোরেশী, এবং ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- কায়কোবাদ মুসলিম কবিদের মধ্যে প্রথম সনেট ও মহাকাব্য রচনা করেন।
- তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য হলো ‘মহাশ্মশান’, যা ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- কায়কোবাদের সাহিত্যিক প্রতিভা অতি অল্প বয়স থেকেই প্রকাশ পায়।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘বিরহবিলাপ’ (১৮৭০) প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- অশ্রুমালা (গীতিকাব্য),
- কুসুমকানন,
- শিবমন্দির,
- অমিয়ধারা,
- বিরহবিলাপ,
- শ্মশানভষ্ম,
- মহররম শরীফ,
- প্রেম পারিজাত,
- মন্দাকিনী ধারা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

.
‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’ হুমায়ুন আজাদ রচিত কোন ধরনের রচনা?
  1. কাব্যগ্রন্থ
  2. প্রবন্ধ
  3. উপন্যাস
  4. নাটক
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপন্যাস
ব্যাখ্যা

‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’ হচ্ছে হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস। 

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল:
- হুমায়ুন আজাদ রচিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল’।
- এটি প্রকাশিত হয় ১৯৯৪ সালে।
- এই উপন্যাসের প্রকাশের মাধ্যমে হুমায়ুন আজাদ ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
- উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে এই কাহিনীর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয়েছে।

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ ছিলেন কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী।
- তিনি জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল, বিক্রমপুরের রাড়িখালে।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘জ্বলো চিতাবাঘ’ প্রকাশিত হয় ১৯৮৩ সালে।

উপন্যাসসমূহ:
- ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল (প্রথম প্রকাশিত),
- সবকিছু ভেঙে পড়ে,
- মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ,
- রাজনীতিবিদগণ,
- পাক সার জমিন সাদ বাদ,
- একটি খুনের স্বপ্ন, ইত্যাদি।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,
- সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
- যতোই গভীরে যায় মধু, যতোই ওপরে যাই নীল,
- আমি বেঁচে ছিলাম অন্যদের সময়ে,
- পেরোনোর কিছু নেই, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

.
কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের রচিত প্রবন্ধ নয়?
  1. তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা 
  2. যুগবাণী
  3. রাজবন্দীর জবানবন্দী
  4. রাজবন্দীর রোজনামচা
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজবন্দীর রোজনামচা
ব্যাখ্যা

রাজবন্দীর রোজনামচা শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থটি।
- এখানে তিনি তাঁর রাজনৈতিক বন্দিজীবনের অভিজ্ঞতা ও উপলব্ধিগুলো তুলে ধরেছেন।

রাজবন্দীর জবানবন্দী:
- এটি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি প্রবন্ধ।
- ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯২২ ধূমকেতু পত্রিকায় তাঁর কবিতা আনন্দময়ীর আগমনে প্রকাশিত হলে পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করা হয়।
- ২৩ নভেম্বর একই বছরে তাঁর প্রবন্ধগ্রন্থ যুগবাণী বাজেয়াপ্ত করা হয়।
- একই দিনে নজরুলকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
- গ্রেফতারের পর তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হয়।
- আদালতে তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি লিখিতভাবে মাত্র চার পৃষ্ঠার বক্তব্য দেন।
- এই লিখিত বক্তব্য পরবর্তীতে রাজবন্দীর জবানবন্দী নামে প্রকাশিত হয়।
- নজরুল প্রায় চল্লিশ দিন একটানা অনশন করে ইংরেজ সরকারের জেল-জুলুমের প্রতিবাদ জানান।

কাজী নজরুল ইসলাম রচিত অন্যান্য প্রবন্ধগ্রন্থ:
- রাজবন্দীর জবানবন্দী,
- যুগবাণী,
- রুদ্র মঙ্গল,
- তুর্কমহিলার ঘোমটা খোলা,
- দুর্দিনের যাত্রী,
- আমি সৈনিক। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১০.
হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. চিন্তাতরঙ্গিণী
  2. বৃত্রসংহার
  3. দশমহাবিদ্যা
  4. বীরবাহু কাব্য
সঠিক উত্তর:
বৃত্রসংহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৃত্রসংহার
ব্যাখ্যা

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য হচ্ছে বৃত্রসংহার। 

বৃত্রসংহার:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান কাব্যগ্রন্থ হলো ‘বৃত্রসংহার’, যা ২ খণ্ডে, ১৮৭৫-৭ সালে প্রকাশিত।
- এটি হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের রচিত জনপ্রিয় আখ্যান কাব্য। মহাকাব্য হিসেবে রচিত। 
- এটি মহাভারতের কাহিনী অবলম্বনে রচিত, যেখানে সমসাময়িক সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের জয় প্রতিপাদ্য করা হয়েছে।
- এক সময় বাংলাদেশে এই কাব্যটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল এবং কবি হিসেবে হেমচন্দ্রের খ্যাতি মূলত এ কাব্যের জন্য।

হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়:
- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় জন্মগ্রহণ করেন হুগলির গুলিটা গ্রামে, ১৮৩৮ সালে।
- কর্মজীবনে তিনি আইনজীবী হিসেবে পরিচিত হন।
- তিনি হিন্দু জাতীয়তাবাদের আদর্শে দেশপ্রেম তাঁর রচনায় ফুটিয়ে তোলেন।

কাব্যগ্রন্থ:
- চিন্তাতরঙ্গিণী,
- আশাকানন,
- ছায়াময়ী,
- দশমহাবিদ্যা,
- চিত্তবিকাশ,
- বীরবাহু কাব্য (১৮৬৪ সালে প্রকাশিত আখ্যানকাব্য)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১১.
মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন কোনটি?
  1. মায়াকানন
  2. তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য
  3. একেই কি বলে সভ্যতা
  4. বীরাঙ্গনা কাব্য
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একেই কি বলে সভ্যতা
ব্যাখ্যা

মধুসূদন দত্ত রচিত প্রহসন হচ্ছে একেই কি বলে সভ্যতা। 

মাইকেল মধুসূদন দত্ত:
- মহাকবি, নাট্যকার, বাংলাভাষার সনেট প্রবর্তক ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- তাঁর জন্ম ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি, যশোর জেলার কপোতাক্ষ নদের তীরে সাগরদাঁড়ি গ্রামে, এক জমিদার বংশে।
- ১৮৪৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তিনি খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তখন থেকে তাঁর নামের পূর্বে ‘মাইকেল’ শব্দটি যুক্ত হয়।
- তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো ‘মেঘনাদবধ কাব্য’, যা অমিত্রাক্ষর ছন্দে ও রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত একটি মহাকাব্য।

তাঁর রচিত কাব্যসমূহ:
- তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য,
- মেঘনাদবধ কাব্য,
- ব্রজাঙ্গনা কাব্য,
- বীরাঙ্গনা কাব্য,
- চতুর্দশপদী কবিতাবলী। 

তাঁর রচিত নাটকসমূহ:
- শর্মিষ্ঠা,
- পদ্মাবতী,
- কৃষ্ণকুমারী,
- মায়াকানন। 

তাঁর প্রহসনসমূহ:
- একেই কি বলে সভ্যতা,
- বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১২.
‘শ্যামল ছায়া’ চলচ্চিত্রটির পটভূমি কী?
  1. ১৯৪৭ সালের দেশভাগ
  2. ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
  3. ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন
  4. ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ
ব্যাখ্যা

‘শ্যামল ছায়া’ চলচ্চিত্রটির পটভূমি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ। 

শ্যামল ছায়া:
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা হুমায়ুন আহমেদের জনপ্রিয় উপন্যাস 'শ্যামল ছায়া'।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের উপর ভিত্তি করে রচিত উপন্যাসটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তিতে এই উপন্যাসের কাহিনি অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মিত হয়।

হুমায়ূন আহমেদ (১৯৪৮-২০১২):
- কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা, গীতিকার, শিক্ষক।
- জন্ম: নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জে তাঁর মাতামহের বাড়িতে।

সাহিত্যিক জীবন:
- ছাত্রজীবনে লেখা 'নন্দিত নরকে' শিরোনামের নাতিদীর্ঘ উপন্যাসের মধ্য দিয়ে বাংলা সাহিত্যে হুমায়ূন আহমেদের আবির্ভাব।
- উপন্যাসটি তিনি রচনা করেন ১৯৭২ সালে এবং সেই বছরই গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।
- 'নন্দিত নরকে' বাংলাদেশের পাঠকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগায়।
- দ্বিতীয় উপন্যাস: শঙ্খনীল কারাগার (১৯৭৩)।
- গল্প, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ গ্রন্থ, নাটক, প্রবন্ধ, আত্মজৈবনিক রচনা মিলিয়ে তাঁর গ্রন্থের সংখ্যা তিন শতাধিক।
- শেষ উপন্যাস: দেয়াল (অপ্রকাশিত; পটভূমি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকান্ড ও তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনা)।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ:
- শ্যামল ছায়া,
- আগুনের পরশমণি,
- অনিল বাগচীর একদিন,
- জোছনা ও জননীর গল্প। 

স্থান-কাল ও বিষয়ভিত্তিক প্রধান গ্রন্থ:
- শঙ্খনীল কারাগার, 
- আনন্দ বেদনার কাব্য,
- যখন গিয়েছে ডুবে পঞ্চমীর চাঁদ,
- আমার আছে জল,
- নক্ষত্রের রাত,
- এই সব দিনরাত্রি,
- বহুব্রীহি,
- অয়োময়,
- শ্রাবণ মেঘের দিন,
- আশাবরী (১৯৯১),
- কোথাও কেউ নেই (১৯৯২),
- কবি। 

সায়েন্স ফিকশন:
- তোমাদের জন্য ভালোবাসা,
- তারা তিনজন। 

আত্মজৈবনিক গ্রন্থ:
- হোটেল গ্রেভারইন,
- আমার ছেলেবেলা। 

চলচ্চিত্র নির্মাণ:
- প্রথম ছবি: আগুনের পরশমণি (১৯৯৫),
- শেষ ছবি: ঘেটুপুত্র কমলা (২০১২),
- উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র: শ্যামল ছায়া (১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া। 

১৩.
‘একাত্তরের দিনগুলি’ কোন ধরনের রচনা?
  1. উপন্যাস
  2. প্রবন্ধ
  3. নাটক
  4. দিনলিপি
সঠিক উত্তর:
দিনলিপি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দিনলিপি
ব্যাখ্যা

'একাত্তরের দিনগুলি' একটি ডায়েরি/দিনলিপি। 

একাত্তরের দিনগুলি:
- জাহানারা ইমামের সর্বাধিক খ্যাতির কারণ দিনপঞ্জিরূপে লেখা তাঁর অনবদ্য গ্রন্থ 'একাত্তরের দিনগুলি'।
- এটি বস্তুত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি শিহরণমূলক ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত।

জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪):
- জন্ম: ১৯২৯ সালের ৩ মে, অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার সুন্দরপুর গ্রামে।
- পরিচিতি: শহীদ জননী
- তিনি ছিলেন ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’ এর আহ্বায়ক এবং এ ভূমিকার জন্য ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেন।- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক ডায়েরি গ্রন্থ: ‘একাত্তরের দিনগুলি’, যা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিহরণময় ও মর্মস্পর্শী ঘটনাবৃত্তান্ত হিসেবে বিবেচিত।
- ১৯৮১ সালে মুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
- ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন, আমেরিকার মিশিগান স্টেট, ডেট্রয়েটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
- পরে তাঁর দেহ ঢাকায় এনে সমাহিত করা হয়।

উল্লেখযোগ্য রচিত গ্রন্থসমূহ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- অন্য জীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- শেক্সপিয়রের ট্রাজেডি,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যান্সারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা; বাংলাপিডিয়া।

১৪.
জহির রায়হানের প্রকৃত নাম কী?
  1. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর
  2. মোহাম্মদ রাফিকুল
  3. মোহাম্মদ হুমায়ূন
  4. মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ
ব্যাখ্যা

জহির রায়হানের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ। 

জহির রায়হান:
- জহির রায়হান ১৯৩৫ সালে ফেনী জেলার মজিপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- প্রখ্যাত বাংলাদেশি কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্র পরিচালক।
- প্রকৃত নাম: মোহাম্মদ জহিরুল্লাহ.

চলচ্চিত্র কীর্তি:
- প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র: ‘সঙ্গম’।
- পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র: ‘কখনো আসে নি’।
- প্রথম সিনেমাস্কোপ ছবি: ‘বাহানা’।
- চলচ্চিত্র ‘কাঁচের দেয়াল’ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র হিসেবে নিগার পুরস্কার লাভ করে।
- ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। 

উৎস: সাহিত্য পাঠ (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১৫.
‘মহাশ্মশান’ কাব্যটি কোন যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত?
  1. পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
  2. পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ
  3. কলকাতার সিপাহী বিদ্রোহ 
  4. দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ
ব্যাখ্যা

‘মহাশ্মশান’ কাব্যটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ অবলম্বনে রচিত। 

মহাশ্মশান:
- ‘মহাশ্মশান’ কায়কোবাদের শ্রেষ্ঠ মহাকাব্যগ্রন্থ, যা ১৯০৪ সালে প্রকাশিত হয়।
- এটি ধারাবাহিকভাবে মহম্মদ রওশন আলী সম্পাদিত ‘কোহিনূর’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।
- কাব্যটি পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ (১৭৬১) এর উপর ভিত্তি করে রচিত।
- এটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত, যেখানে প্রথম খণ্ডে ২৯টি সর্গ, দ্বিতীয় খণ্ডে ২৪টি সর্গ এবং তৃতীয় খণ্ডে ৭টি সর্গ রয়েছে।
- মহাকাব্যের প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে আছেন: এব্রাহিম কার্দি, জোহরা বেগম, হিরণ বালা, আতা খাঁ, লঙ্গ, রত্নজি, সুজাউদ্দৌলা, সেলিনা, এবং আহমদ শাহ্ আব্দালী।

কায়কোবাদ:
- কায়কোবাদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যে প্রথম মুসলিম কবি।
- তিনি ১৮৫৭ সালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা ছিলেন শাহামতউল্লাহ আল কোরেশী, ঢাকার জেলা-জজ আদালতের উকিল।
- কায়কোবাদের প্রকৃত নাম মোহাম্মদ কাজেম আল কোরেশী, এবং ‘কায়কোবাদ’ তাঁর সাহিত্যিক ছদ্মনাম।
- মাত্র তেরো বছর বয়সে তাঁর প্রথম কাব্য ‘বিরহবিলাপ’ প্রকাশিত হয়।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- কুসুম-কানন,
- শিব-মন্দির,
- অমিয়ধারা,
- শ্মশান-ভস্ম,
- অশ্রুমালা,
- মহাশ্মশান,
- মহরম শরীফ। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৬.
'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. কায়কোবাদ
  2. গোলাম মোস্তফা
  3. কাজী নজরুল ইসলাম
  4. কাজী মোতাহার হোসেন
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাম মোস্তফা
ব্যাখ্যা

'বিশ্বনবী' গ্রন্থের রচয়িতা হচ্ছে গোলাম মোস্তফা। 

বিশ্বনবী:
- ‘বিশ্বনবী’ রচয়িতা গোলাম মোস্তফা।
- এটি একটি গদ্যগ্রন্থ, যা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর জীবনভিত্তিক।
- গ্রন্থটি ১৯৪২ সালে প্রকাশিত হয়।

গোলাম মোস্তফা:
- তিনি ১৮৯৭ সালে যশোর জেলার শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি একজন কবি ও লেখক ছিলেন।
- ১৯৪৯ সালে পূর্ববঙ্গ সরকারের ভাষা সংস্কার কমিটির সচিব হিসেবে কাজ করেন।
- তিনি পাকিস্তানি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় উর্দুর প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।
- গদ্য ও পদ্য রচনায় সমান দক্ষ, তবে প্রধান পরিচয় কবি হিসেবে।
- সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি যশোর সংঘ কর্তৃক ‘কাব্য সুধাকর’ (১৯৫২) এবং পাকিস্তান সরকার কর্তৃক ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ (১৯৬০) উপাধি লাভ করেন।
- তিনি ১৯৬৪ সালে ঢকায় মৃত্যুবরণ করেন।

গোলাম মোস্তফার রচিত কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- রক্তরাগ,
- খোশরোজ,
- কাব্যকাহিনী,
- গীতি সঞ্চয়ন,
- সাহারা,
- হাসনাহেনা,
- বুলবুলিস্তান,
- বনি আদম। 

গোলাম মোস্তফার রচিত গদ্যগ্রন্থসমূহ:
- বিশ্বনবী,
- ইসলাম ও জেহাদ,
- ইসলাম ও কমিউনিজম,
- আমার চিন্তাধারা। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৭.
কামিনী রায়ের কাব্যগ্রন্থ নয় কোনটি?
  1. আলো ও ছায়া
  2. কুহু ও কেকা 
  3. দীপ ও ধূপ
  4. মাল্য ও নির্মাল্য
সঠিক উত্তর:
কুহু ও কেকা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুহু ও কেকা 
ব্যাখ্যা

"কুহু ও কেকা" হলো সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত একটি বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ। 

কামিনী রায়:
- কামিনী রায় ১৮৬৪ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে সংস্কৃত বিষয়ে অনার্সসহ বি.এ. পাস করেন।
- সেই কলেজেই তিনি অধ্যাপনা করতেন।
- কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯২৯ সালে ‘জগত্তারিণী’ পদক লাভ করেন।
- কামিনী রায় ১৯৩৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

কাব্যগ্রন্থসমূহ:
- আলো ও ছায়া,
- নির্মাল্য,
- পৌরাণিকী,
- অম্বা (নাট্যকাব্য),
- দীপ ও ধূপ,
- গুঞ্জন,
- মাল্য ও নির্মাল্য,
- অশোক সংগীত (সনেট সংগ্রহ),
- জীবন পথে। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৮.
কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম কত বঙ্গাব্দে?
  1. ১২ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৫
  2. ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ 
  3. ১লা আষাঢ় ১৩০৭
  4. ২৪শে বৈশাখ ১২৮৮
সঠিক উত্তর:
১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ 
ব্যাখ্যা

কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম ১১ই জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে। 

 কাজী নজরুল ইসলাম:
 - কাজী নজরুল ইসলাম ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ সালে ভারতের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
 - শৈশবে তিনি লেটো গানের দলে যোগ দেন।
 - পরবর্তীতে তিনি বর্ধমান ও ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার দরিরামপুর হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন।
 - ১৯১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীর বাঙালি পল্টনে যোগ দিয়ে করাচি যান।
 - তাঁকে “বিদ্রোহী কবি” নামে অভিহিত করা হয়।
 - মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে তিনি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান।
 - বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর অসুস্থ কবিকে ঢাকায় আনা হয় এবং তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।
 - তাঁকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়।

 উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১৯.
হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
  1. জ্বলো চিতাবাঘ
  2. অলৌকিক ইস্টিমার
  3. কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু
  4. সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে
সঠিক উত্তর:
অলৌকিক ইস্টিমার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলৌকিক ইস্টিমার
ব্যাখ্যা

হুমায়ুন আজাদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ হচ্ছে অলৌকিক ইস্টিমার। 

হুমায়ুন আজাদ:
- হুমায়ুন আজাদ জন্মগ্রহণ করেন ১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল, বিক্রমপুরের রাড়িখাল এলাকায়।
- তিনি মূলত একজন লেখক ও অধ্যাপক ছিলেন।
- তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অলৌকিক ইস্টিমার’ প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে।
- তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৬ সালে।
- হুমায়ুন আজাদ মৃত্যুবরণ করেন ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট।

প্রধান কাব্যগ্রন্থ:
-  অলৌকিক ইস্টিমার,
-  জ্বলো চিতাবাঘ,
-  সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে,
-  যতোই গভীরে যাই মধু, যতোই উপরে যাই নীল,
-  কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু,

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২০.
"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই পঙ্‌ক্তিগুলো রচয়িতা কে?
  1. কাজী নজরুল ইসলাম
  2. কালীপ্রসন্ন সিংহ
  3. কুসুমকুমারী দাশ
  4. জাহানারা ইমাম
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুসুমকুমারী দাশ
ব্যাখ্যা

"আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।" - এই পঙ্ক্তির রচয়িতা হচ্ছে কুসুমকুমারী দাশ।
কুসুমকুমারী দাশের লেখা কবিতাটির নাম "আদর্শ ছেলে" এবং এর প্রথম পঙক্তিটি হলো "আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে"।

কুসুমকুমারী দাশ:
- কুসুমকুমারী দাশ ১৮৮২ সালে বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি জীবনানন্দ দাশের মাতা ছিলেন।
- তার গদ্যগ্রন্থের নাম ‘পৌরাণিক আখ্যায়িকা’।
- শিশুদের জন্য তিনি ‘কবিতা মুকুল’ নামে একটি পুস্তিকা রচনা করেছেন।
- বিভিন্ন পত্রিকা যেমন: ‘প্রবাসী’, ‘ব্রহ্মবাদী’, ‘মুকুল’ তে তার কবিতা প্রকাশিত হত। 
- তার বিখ্যাত কবিতার একটি পঙ্ক্তি: “আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে, কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।”
- কুসুমকুমারী দাশ ১৯৪৮ সালে মৃত্যু বরণ করেন।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

২১.
জাহানারা ইমামের অনুবাদ গ্রন্থ কোনটি?
  1. অন্যজীবন
  2. বুকের ভিতর আগুন
  3. নদীর তীরে ফুলের মেলা
  4. সাতটি তারার ঝিকিমিকি
সঠিক উত্তর:
নদীর তীরে ফুলের মেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর তীরে ফুলের মেলা
ব্যাখ্যা

জাহানারা ইমামের অনুবাদ গ্রন্থ হচ্ছে নদীর তীরে ফুলের মেলা। 

জাহানারা ইমাম:
- জাহানারা ইমাম জন্মগ্রহণ করেন অবিভক্ত বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলায়, ১৯২৯ সালের ৩ মে।
- তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে শহীদ জননী হিসেবে পরিচিত।
- তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’ এর আহবায়ক হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পান।
- জাহানারা ইমামের মৃত্যু হয় ১৯৯৪ সালের ২৬ জুন।

অন্য গ্রন্থসমূহ:
- অন্যজীবন,
- বুকের ভিতর আগুন,
- নাটকের অবসান,
- নিঃসঙ্গ পাইন,
- ক্যানসারের সঙ্গে বসবাস,
- প্রবাসের দিনগুলি। 

শিশু সাহিত্যের জন্য গ্রন্থসমূহ:
- গজকচ্ছপ,
- সাতটি তারার ঝিকিমিকি,
- বিদায় দে মা ঘুরে আসি। 

অনুবাদ গ্রন্থসমূহ:
- জাগ্রত ধরিত্রী,
- তেপান্তরের ছোট্ট শহর,
- নদীর তীরে ফুলের মেলা। 

- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক স্মৃতিচারণমূলক ডায়েরি গ্রন্থ ‘একাত্তরের দিনগুলি’ তার অসাধারণ অবদান।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।