পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
বিষয় - ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব), পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা টপিক - ভূগোল (বাংলাদেশ ও বিশ্ব) ও পরিবেশ ১) বাংলাদেশ ও অঞ্চলভিত্তিক ভৌগোলিক অবস্থান, সীমানা, পারিবেশিক, আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব; ২) অঞ্চলভিত্তিক ভৌত পরিবেশ (ভূ-প্রাকৃতিক), সম্পদের বণ্টন ও গুরুত্ব; ৩) বাংলাদেশের পরিবেশ: প্রকৃতি ও সম্পদ, প্রধান চ্যালেঞ্জসমূহ। উৎস: ভূগোল ও পরিবেশ সম্পর্কিত অষ্টম, মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেণির বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], বাংলাপিডিয়া, ওয়ার্ল্ড এটলাস ওয়েবসাইট, ব্রিটানিকা এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।]। ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে কোন সালে?
  1. ১৯৮৫ সালে 
  2. ১৯৯৭ সালে 
  3. ২০০১ সালে 
  4. ২০০৫ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৯৭ সালে 
ব্যাখ্যা

সুন্দরবন:
- সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, যা জলাভূমির বন হিসেবেও পরিচিত।
- সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত।
- এই বনের অধিকাংশ অংশ দিনে দু’বার জোয়ার ভাটার কারণে লোনা পানিতে ডুবে যায়, যা ম্যানগ্রোভ বন হিসাবে এর বিশেষত্ব তৈরি করে।
- সুন্দরবনের মোট আয়তন প্রায় ১০,০০০ বর্গকিমি।
- এর মধ্যে বাংলাদেশে বিস্তৃত সুন্দরবনের আয়তন ২,৪০০ বর্গমাইল বা ৬২%।
- সুন্দরবন যে এলাকাগুলো জুড়ে রয়েছে: সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনা।
- সুন্দরবনকে বাংলাদেশের ফুসফুস বলা হয়। 
- কারণ এই বন বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং উপকূলীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।
- ১৮৭৮ সালে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
- ৭ ডিসেম্বর ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো এই বনকে ৭৯৮তম ‘World Heritage Site’ বা বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।

- সুন্দরবন অঞ্চলের প্রধান উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে রয়েছে—
- সুন্দরী, গড়ান, গেওয়া, পশুর, ধুন্দুল, কেওড়া, বাইন, ওড়া, হেন্দাল ও কাঁকড়া প্রভৃতি।
- এসব উদ্ভিদ লবণাক্ত জলাভূমি পরিবেশে টিকে থাকার জন্য বিশেষভাবে অভিযোজিত।

- সুন্দরী বৃক্ষ এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ গাছ।
- আন্তর্জাতিকভাবে এই গাছটি “লুকিং গ্লাস ট্রি (Looking Glass Tree)” নামে পরিচিত।
- সুন্দরী গাছের প্রাচুর্যের কারণেই এই বনভূমির নামকরণ করা হয়েছে “সুন্দরবন”।

উৎস:
১. বন অধিদপ্তর,
২. বাংলাপিডিয়া;
৩. জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

.
পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা সরু দেশ কোনটি?
  1. পেরু
  2. আর্জেন্টিনা
  3. উরুগুয়ে 
  4. চিলি
সঠিক উত্তর:
চিলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিলি
ব্যাখ্যা

- পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা সরু দেশ চিলি। 
----------------------------
• চিলি (Chile):
- চিলি দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি অত্যন্ত সরু ও দীর্ঘ দেশ। 
- চিলি অ্যান্টার্কটিকার মাত্র প্রায় ৪০০ মাইল উত্তরে অবস্থান করছে।
- এই দেশের গড় প্রস্থ প্রায় ১১০ মাইল;
- যেখানে সর্বোচ্চ প্রস্থ ২১৭ মাইল (অ্যান্টোফাগাস্টা অঞ্চলে) এবং সর্বনিম্ন প্রস্থ মাত্র ৯.৬ মাইল (পুয়ের্তো নাটালেসের কাছে)।
- এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,৩০০ কিলোমিটার। 
- এটি পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর এবং পূর্বে আন্দিজ পর্বতমালা দ্বারা সীমাবদ্ধ।
-  এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই একে বলা হয় পৃথিবীর সবচেয়ে সরু দেশ।
- এর রাজধানী: সান্তিয়াগো (Santiago).
- চিলির মুদ্রা পেসো।
- চিলি তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং প্রাচীন সভ্যতার জন্য পরিচিত।
- দেশটির সংস্কৃতি মূলত ভারতীয়, স্প্যানীয় ও আমেরিকান সাংস্কৃতিক উপাদানের সংমিশ্রণে গঠিত।
- চিলির অর্থনীতি প্রধানত খনিজ উত্তোলন, কৃষি এবং শিল্পখাতের ওপর নির্ভরশীল।
- চিলির বিশেষত্ব হচ্ছে: এটি “দীর্ঘ-সরু দেশ” হিসেবে পরিচিত। 
------------------------------
অপরদিকে,
• পেরু (Peru):
- পেরু চিলির উত্তরে অবস্থিত একটি দক্ষিণ আমেরিকান দেশ।
- এটি অ্যান্ডিজ পর্বতমালা ও অ্যামাজন বনাঞ্চল উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
- পেরু তুলনামূলকভাবে চওড়া ও পাহাড়ি দেশ। 

• আর্জেন্টিনা (Argentina):
- আর্জেন্টিনা দক্ষিণ আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ।
- এটি উত্তরে বলিভিয়া ও দক্ষিণে চিলির সাথে সীমান্ত ভাগ করেছে।
- দেশটি প্রশস্ত সমভূমি ও পাম্পাস অঞ্চল নিয়ে গঠিত। 

• উরুগুয়ে (Uruguay):
- উরুগুয়ে একটি ছোট দেশ হলেও আকারে প্রায় চতুর্ভুজাকার।
- অবস্থান: দক্ষিণ আমেরিকার পূর্ব উপকূলে, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মাঝে।

উৎস: Britannica. 

.
মাইক্রোনেশিয়া(Micronesia) অঞ্চলের অন্তর্গত দেশ কোনটি?
  1. টোঙ্গা
  2. কিরিবাতি
  3. নিউজিল্যান্ড
  4. ভানুয়াতু 
সঠিক উত্তর:
কিরিবাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিরিবাতি
ব্যাখ্যা

ওশেনিয়া (Oceania):
- ওশেনিয়া (Oceania) হলো দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত হাজারো দ্বীপ ও একটি প্রধান মূলভূমি (অস্ট্রেলিয়া) নিয়ে গঠিত ভৌগোলিক অঞ্চল।
- ওশেনিয়া হলো বিশ্বের সবচেয়ে ছোট মহাদেশ।
- এতে ১৪টি স্বাধীন রাষ্ট্র রয়েছে।
- ওশেনিয়া মহাদেশের আয়তন ও জনসংখ্যা—উভয় দিক থেকেই বৃহত্তম দেশ হলো অস্ট্রেলিয়া।
- ওশেনিয়া মহাদেশের আয়তনে সবচেয়ে ছোট দেশ হলো নাউরু (Nauru),
- জনসংখ্যার দিক থেকে এই অঞ্চলের সবচেয়ে ছোট দেশ হলো টুভালু (Tuvalu)।
- অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এই অঞ্চলের সবচেয়ে উন্নত ও বৃহত্তম দেশ।

• ওশেনিয়াকে সাধারণত চারটি অংশে ভাগ করা হয়: 
- অস্ট্রালাসিয়া — (অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড);
- মেলানেশিয়া (Melanesia) — ফিজি, নিউ গিনি, ভানুয়াতু; 
মাইক্রোনেশিয়া (Micronesia) — কিরিবাতি, নাউরু, পালাউ;
- পলিনেশিয়া (Polynesia) — নিউজিল্যান্ড, টোঙ্গা, সামোয়া, হাওয়াই। 

উৎস: Britannica. 

.
নিচের কোন দেশের নাম ও রাজধানীর নাম একই? 
  1. মোনাকো
  2. নাউরু 
  3. ফ্রান্স
  4. জাপান
সঠিক উত্তর:
মোনাকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোনাকো
ব্যাখ্যা

মোনাকো এমন একটি দেশ যেখানে দেশ এবং রাজধানীর নাম এক।
------------------------------ 
• মোনাকো:
- মোনাকো একটি সার্বভৌম প্রিন্সিপ্যালিটি।
- মোনাকো মেডিটেরিয়ান সাগরে অবস্থিত একটি পাথুরে উপকূলে স্থাপিত।
- পুরো প্রিন্সিপ্যালিটি শহর-রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করে। 
- Merriam-Webster অভিধান অনুযায়ী, মোনাকোকে ছোট একটি দেশ এবং একটি কমিউন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

- মোনাকো প্রিন্সিপ্যালিটির রাজধানী হিসেবেই বিবেচিত হয়। 
- দেশ- মোনাকো; 
- রাজধানী- মোনাকো। 
---------------------------
অন্যদিকে:
• নাউরু → রাজধানী নেই।
• ফ্রান্স → রাজধানী প্যারিস।
• জাপান → রাজধানী টোকিও।
------------------------- 
উল্লেখ্য,
• যে সমস্ত দেশের নাম ও তাদের রাজধানীর নাম একই:
- লুক্সেম্বার্গ (Luxembourg) → লুক্সেম্বার্গ, 
- মোনাকো (Monaco) → মোনাকো,
- সান মারিনো (San Marino) → সান মারিনো,
- সিঙ্গাপুর (Singapore) → সিঙ্গাপুর,
- ভ্যাটিকান (Vatican) → ভ্যাটিকান,
- জিবুতি (Djibouti) → জিবুতি, 
- গুয়াতেমালা (Guatemala) → গুয়াতেমালা সিটি,
- কুয়েত (Kuwait) → কুয়েত সিটি,
- মেক্সিকো (Mexico) → মেক্সিকো সিটি,
- পানামা (Panama) → পানামা সিটি। 

উৎস:Britannica. 

.
ভারতের ছিটমহলগুলোর মধ্যে লালমনিরহাটে কতটি ছিটমহল ছিল? 
  1. ৩টি 
  2.  ১২টি 
  3. ৫২টি 
  4. ৫৯টি 
সঠিক উত্তর:
৫৯টি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৫৯টি 
ব্যাখ্যা

ছিটমহল:
- ছিটমহল হলো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের মধ্যে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা অন্য কোনো দেশের অন্তর্ভুক্ত এলাকা।
- ২০১৫ সালের আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট ১৬২টি ছিটমহল ছিল।
- ১ আগস্ট ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে ১৬২ টি ছিটমহলের বিলুপ্তি ঘটে।
- ভারত বাংলাদেশ এই সীমান্ত চুক্তি মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি নামে পরিচিত। 

- ১ আগস্ট ২০১৫ সালে ভারত ও বাংলাদেশ মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি অনুযায়ী নিজেদের ছিটমহলগুলো পরস্পরের মধ্যে বিনিময় করে।
- এর আগে ভারতের ১১১টি ছিটমহল বাংলাদেশের মধ্যে এবং বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল ভারতের মধ্যে ছিল।
- এই বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয় ভারতের ১১১টি ছিটমহলের নাগরিক।
- আর ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয় বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের নাগরিক।

ভারতের ছিটমহলগুলোর মধ্যে-
- বাংলাদেশের লালমনিরহাটে ছিল- ৫৯টি;
- পঞ্চগড়ে ৩টি;
- কুড়িগ্রামে ১২টি এবং
- নীলফামারীতে ৪টি অবস্থান করেছিল। 

• বাংলাদেশের ছিটমহলগুলোর মধ্যে-
- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলায় ৪৭টি এবং জলপাইগুড়িতে ৪টি ছিল।

উৎস: প্রথম আলো এবং বিবিসি পত্রিকা রিপোর্ট।

.
ভৌগোলিকভাবে 'Tropic of Cancer' বাংলাদেশের কোন জেলাগুলোর ওপর দিয়ে গেছে?
  1. চাঁদপুর, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
  2. কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর 
  3. ঢাকা, ফরিদপুর, বরিশাল
  4. রাঙ্গামাটি, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর 
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর 
ব্যাখ্যা

ভৌগোলিকভাবে Tropic of Cancer -কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর জেলার ওপর দিয়ে গেছে।
---------------------
• বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
- বাংলাদেশ এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত।
- এটি ২০°৩৪′ থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমা রেখার মধ্যে বিস্তৃত।
- বাংলাদেশের ওপর দিয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ ভৌগলিক রেখা অতিক্রম করেছে তার নাম কর্কটক্রান্তি রেখা বা ট্রপিক অব ক্যানসার এবং এটি 90 ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা।

- কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer) হলো পৃথিবীর বিষুবরেখা থেকে প্রায় ২৩°২৭′ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।
- এই অক্ষাংশ হলো সূর্যের সর্বোত্তম উত্তরের অবক্ষয় যখন সূর্য তার কক্ষপথে বিষুবরেখার সমান্তরাল অবস্থায় থাকে।
- উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালীন সূর্যস্থানান্তর প্রায় জুন ২১ তারিখে ঘটে, তখন সূর্য সরাসরি কর্কটক্রান্তি রেখার ওপর থাকে।

- বাংলাদেশের কর্কটক্রান্তি রেখা অতিক্রম করা জেলার নামগুলো হলো:
- চুয়াডাঙ্গা, মানিকগঞ্জ, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি। 
- বাংলাদেশের ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা রেখা ও কর্কটক্রান্তি রেখার ছেদবিন্দু ফরিদপুরে অবস্থিত।

উৎস: Britannica ও বাংলাপিডিয়া। 

.
বাংলাদেশের কোন জেলা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তযুক্ত হলেও ভারতের সঙ্গে সীমান্ত নেই?
  1. খাগড়াছড়ি
  2. রাঙামাটি
  3. সিলেট
  4. বান্দরবান
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বান্দরবান
ব্যাখ্যা

বান্দরবান জেলা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করলেও ভারতের সঙ্গে এর কোনো সীমান্ত নেই।
--------------------------- 
• সীমান্তবর্তী জেলা:
- বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি।
- এর মধ্যে ৩০টি জেলা ভারতের সঙ্গে সীমান্তযুক্ত; 
- আর ৩টি জেলা মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে—এগুলো হলো বান্দরবান, রাঙামাটি ও কক্সবাজার।

- এই তিন জেলার মধ্যে রাঙামাটি একটি বিশেষ জেলা;
- কারণ এটি বাংলাদেশের একমাত্র জেলা যেখানে ভারত (ত্রিপুরা ও মিজোরামের অংশ) এবং মিয়ানমার—উভয় দেশের সঙ্গেই সীমান্ত রয়েছে;
- ফলে রাঙামাটি একটি ত্রি-সীমান্ত সংযোগকারী জেলা হিসেবে পরিচিত।

- অন্যদিকে, বান্দরবান জেলা কেবল মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত ভাগ করে, ভারতের সঙ্গে এর কোনো সীমান্ত নেই।
- একইভাবে, কক্সবাজারও শুধুমাত্র মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্তযুক্ত;
- ভারতের সঙ্গে এর কোনো সীমান্ত নেই, কারণ জেলার দক্ষিণ ও পশ্চিমাংশ বঙ্গোপসাগরের দিকে উন্মুক্ত।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

.
Ben Nevis পর্বতের গঠন কোন ধরনের শিলার সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. চুনাপাথর ও স্যান্ডস্টোন
  2. গ্রানাইট ও অ্যান্ডেসাইট
  3. শেল ও স্লেট 
  4. ডোলোমাইট ও বেসাল্ট
সঠিক উত্তর:
গ্রানাইট ও অ্যান্ডেসাইট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রানাইট ও অ্যান্ডেসাইট
ব্যাখ্যা

Ben Nevis পর্বতের গঠন গ্রানাইট ও অ্যান্ডেসাইট  শিলার সঙ্গে সম্পর্কিত।
-----------------------
বেন নেভিস (Ben Nevis):
- বেন নেভিস হলো ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের সর্বোচ্চ পর্বত। 
- এটি স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ড কাউন্সিল এলাকায় অবস্থিত। 
- এই পর্বত গ্র্যাম্পিয়ান পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

- পর্বতটির চূড়া প্রায় ১০০ একর (৪০ হেক্টর) আয়তনের একটি মালভূমি;
- যার দক্ষিণাংশ তুলনামূলকভাবে মৃদু ঢালযুক্ত, কিন্তু উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে খাড়া ও প্রায় উল্লম্ব মুখ।

- প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন বছর আগে (Carboniferous Period) পৃথিবীর অভ্যন্তরস্থ ম্যাগমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এখানে বিশাল আগ্নেয়গিরি গঠন করেছিল।
- পরবর্তীতে আগ্নেয় কার্যকলাপ নিস্তেজ হয়ে গেলে, গভীরে জমে থাকা ম্যাগমা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে গ্রানাইট (Granite) শিলায় পরিণত হয়। 
- এই গ্রানাইট স্তরের ওপর আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ থেকে নির্গত লাভা ঠান্ডা হয়ে অ্যান্ডেসাইট (Andesite) শিলা তৈরি করে।

- ফলে Ben Nevis পর্বতের গঠন হয় দুটি স্তরের সমন্বয়ে—
- নিচের স্তর: গভীর আগ্নেয় শিলা — গ্রানাইট,
- উপরের স্তর: বাহ্যিক আগ্নেয় শিলা — অ্যান্ডেসাইট। 

- দীর্ঘ সময়ের ক্ষয় ও ভাঙনের ফলে এই শিলাগুলো ভূপৃষ্ঠে উন্মোচিত হয়ে বর্তমান আকৃতি লাভ করে।
- সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হিমবাহ ক্ষয় ও আবহবিকার প্রক্রিয়ায় এর বর্তমান গম্বুজাকৃতি শীর্ষ গঠিত হয়েছে। 

উৎস: Britannica. 

.
অস্ট্রেলিয়ার ভৌগলিক উপনাম কী?
  1. ম্যাপল পাতার দেশ
  2. ভূমিকম্পের দেশ
  3. হাজার হ্রদের দেশ
  4. ক্যাঙ্গারুর দেশ
সঠিক উত্তর:
ক্যাঙ্গারুর দেশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যাঙ্গারুর দেশ
ব্যাখ্যা

• ভৌগলিক উপনাম:
- অস্ট্রেলিয়া হলো ওশেনিয়া মহাদেশে অবস্থিত একটি দেশ।
- অস্ট্রেলিয়াকে ওশেনিয়া মহাদেশে অবস্থিত দ্বীপ ও বলা যায়।
- এই দ্বীপটি ভারত মহাসাগর ও দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যে অবস্থিত।
- অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে প্রচলিত ভৌগোলিক উপনাম হলো “ক্যাঙ্গারুর দেশ” এবং “The Land Down Under”.
- দেশটিতে ক্যাঙ্গারুর প্রচুরতার কারণে অস্ট্রেলিয়াকে ক্যাঙ্গারুর দেশ বলা হয়।
- আর ডাউন আন্ডার নির্দেশ করে অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।

- এছাড়া দেশটিকে আরও কিছু নামেও ডাকা হয়-
• Straya,
• Aussie,
• the Great Southern Land,
• the Sunburnt Country,
•  the Wide Brown Land. 

অন্যদিকে,
• ম্যাপল পাতার দেশ বলা হয়- কানাডাকে।
• ভূমিকম্পের দেশ বলা হয়- জাপানকে।
• হাজার হ্রদের দেশ বলা হয়- ফিনল্যান্ডকে।

উৎস: Britannica. 

১০.
উত্তর আমেরিকার কোন অঞ্চলকে প্রায়শই "পশ্চিমের জিব্রাল্টার" বলা হয়?
  1. অন্টারিও
  2. কুইবেক
  3. মন্টানা
  4. আলবার্টা
সঠিক উত্তর:
কুইবেক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুইবেক
ব্যাখ্যা

কুইবেক অঞ্চল:
- উত্তর আমেরিকার কুইবেক অঞ্চল এবং তার রাজধানী কুইবেক সিটি প্রায়শই “পশ্চিমের জিব্রাল্টার” (Gibraltar of the North) নামে পরিচিত।
- এর কারণ হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান।
- সেন্ট লরেন্স নদীর তীরে উঁচু পাথুরে স্থল (Cap Diamant) হওয়ায় শহরটি প্রাকৃতিকভাবে দুর্ভেদ্য, যা ইউরোপীয় উপনিবেশ স্থাপনের সময় সামরিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

- কুইবেক কানাডার পূর্বভাগের বৃহত্তম প্রদেশ, আয়তনে ফ্রান্সের তিনগুণ এবং দেশটির দ্বিতীয় জনবহুল প্রদেশ।
- এটি ১৭টি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত, যার মধ্যে নর্ড-দ্য-কুয়েবেক, সেন্ট লরেন্স লো-ল্যান্ডস এবং অ্যাপলাচিয়ান আপল্যান্ডস উল্লেখযোগ্য।
- এর প্রধান ভাষা ফরাসি, যা অঞ্চলটির অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় নিশ্চিত করে।
- কুইবেকের অর্থনীতি মূলত খনিজ সম্পদ, জলবিদ্যুৎ ও দক্ষ জনশক্তির ওপর নির্ভরশীল।

- ১৬০৮ সালে স্যামুয়েল ডি শ্যাম্পলেইন এই অঞ্চলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
- এই অঞ্চলটি উত্তর আমেরিকার প্রাচীন ইউরোপীয় বসতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
- সব মিলিয়ে, কুইবেক অঞ্চল তার ভৌগোলিক দুর্ভেদ্যতা, ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সমৃদ্ধ সম্পদ এবং অনন্য সংস্কৃতির কারণে “পশ্চিমের জিব্রাল্টার” হিসেবে পরিচিত।

উৎস: Britannica. 

১১.
দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত অন্তরীপ- 
  1. হর্ন অন্তরীপ
  2. ট্রাফালগার অন্তরীপ
  3. গার্দাফুই অন্তরীপ
  4. উত্তমাশা অন্তরীপ
সঠিক উত্তর:
উত্তমাশা অন্তরীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উত্তমাশা অন্তরীপ
ব্যাখ্যা

উত্তমাশা অন্তরীপ দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত। 
--------------------------------------- 
• উত্তমাশা অন্তরীপ (Cape of Good Hope):
- উত্তমাশা অন্তরীপ হলো আফ্রিকার এক গুরুত্বপূর্ণ ভূ-প্রান্ত।
- এটি দক্ষিণ আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলে অবস্থিত কেপ পেনিনসুলার অংশ।
- সাধারণভাবে, যখন কোনো ভূপৃষ্ঠ ক্রমশ সরু হয়ে সাগরে প্রবেশ করে, তখন সেই অংশকে অন্তরীপ বলা হয়।

- উত্তমাশা অন্তরীপের প্রথম আবিষ্কার করেন পর্তুগিজ অভিযাত্রী বার্থোলোমিউ ডিয়াজ।
- তিনি ১৪৮৮ সালে এই কেপে পৌঁছান এবং প্রথমে এটিকে নাম দেন ‘কেপ অব স্টর্মস’।
- পরে পর্তুগিজরা এই নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘কেপ অব গুড হোপ’ বা উত্তমাশা অন্তরীপ।
----------------------------------------------
• অন্যান্য উল্লেখযোগ্য অন্তরীপের উদাহরণ:
- হর্ন অন্তরীপ: চিলি। 
- ট্রাফালগার অন্তরীপ: স্পেন।
- গার্দাফুই অন্তরীপ: সোমালিয়া। 
- মরিস জেসাপ অন্তরীপ: গ্রিনল্যান্ড

উৎস: ব্রিটানিকা ও ওয়ার্ল্ড অ্যাটলাস। 

১২.
খাইবার গিরিপথ কোন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সামরিক সংযোগের জন্য প্রাচীনকাল থেকে গুরুত্বপূর্ণ?
  1. পাকিস্তান ও ভারত
  2. পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
  3. সুইজারল্যান্ড ও বুলগেরিয়া
  4. সুইজারল্যান্ড ও ইতালি
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

খাইবার গিরিপথ:
- গিরিপথ হলো পাহাড়ি অঞ্চলে পর্বতশ্রেণির মধ্যবর্তী সংকীর্ণ ও অনুচ্চ পথ।
- খাইবার গিরিপথ অবস্থিত পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে।
- এটি উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী একমাত্র মহাসড়ক সালান গিরিপথ দ্বারা সংযুক্ত। 
- খাইবার গিরিপথ হিন্দু কুশ পর্বতমালার অংশ এবং একসময় সিল্ক রোডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।
- এটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পেশোয়ারকে আফগানিস্তানের কাবুলের সঙ্গে যুক্ত করে। 
- খাইবার গিরিপথ হাজার বছরের মধ্যে পারস্য, চীন ও মধ্য এশিয়ার বাণিজ্যিক রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।
- এবং আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট, চেঙ্গিস খান ও বিভিন্ন মুঘল শাসকের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবেশের প্রধান পথ হিসেবে পরিচিত ছিল।
- ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে গিরিপথটি সামরিক চোক পয়েন্ট ও খাইবার রেলওয়ের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
- বর্তমানেও এটি পাকিস্তান-আফগান সীমান্তের অন্যতম প্রধান ক্রসিং, যেখানে তোর্খাম (Torkham) পয়েন্ট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- পর্যটকদের জন্য এখানে বাব-ই-খাইবার (খাইবার গেট) একটি সুপরিচিত দর্শনীয় স্থান।
--------------------------
• অন্যান্য পরিচিত কিছু গিরিপথ-
- গ্রেট সেন্ট বার্নার্ড (সুইজারল্যান্ড),
- সিম্পলন (সুইজারল্যান্ড ও ইতালি),
- সেন্ট গোথার্ড (সুইজারল্যান্ড),
- ব্রেনার (সুইজারল্যান্ড),
- শিপকা (বুলগেরিয়া)। 

উৎস: Britannica. 

১৩.
নিচের কোনটি বঙ্গোপসাগরের দ্বীপ নয়? 
  1. আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
  2. লাক্ষাদ্বীপ
  3. কোকো আইল্যান্ড
  4. জম্বুদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
লাক্ষাদ্বীপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাক্ষাদ্বীপ
ব্যাখ্যা

লাক্ষাদ্বীপ বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত নয়; এটি ভারতের পশ্চিম দিকে আরব সাগরে অবস্থিত একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। 
-------------------------- 
বঙ্গোপসাগর:
- বঙ্গোপসাগর হলো বাংলাদেশের উপকূলবর্তী উপসাগর।
- এটি ভারত মহাসাগরে অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের উত্তরে, ভারতের পূর্ব উপকূল ও শ্রীলঙ্কার পূর্ব উপকূলের পশ্চিমে এবং মায়ানমার উপদ্বীপের পূর্বে অবস্থিত।
- বঙ্গোপসাগর প্রায় ৫° থেকে ২২° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮০° থেকে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে বিস্তৃত।
- বঙ্গোপসাগর পশ্চিমে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, মহানদী, গোধাবরী, কৃষ্ণা ও কাবেরি নদী দ্বারা উপকূল সংযুক্ত।
- বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ সীমা শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ দন্দ্রা চূড়া থেকে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ পর্যন্ত বিস্তৃত।
- বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মায়ানমার ও ইন্দোনেশিয়া। 
- বঙ্গোপসাগরের প্রস্থ প্রায় ১,০০০ মাইল (১,৬০০ কিমি), গড় গভীরতা প্রায় ২,৬০০ মিটার এবং সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় ৪,৬৯৪ মিটার।

- বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৫৭২টি দ্বীপ অন্তর্ভুক্ত। 
- এর মধ্যে আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ভারতের অধীনে এবং ৩৭টি দ্বীপে মানুষের বসবাস রয়েছে।
- কোকো দ্বীপপুঞ্জ (Coco Islands) হলো বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব অংশে অবস্থিত মিয়ানমারের অন্তর্গত একটি দ্বীপসমষ্টি। 
জম্বুদ্বীপ হলো বঙ্গোপসাগরের একটি নির্জন দ্বীপ, যা পটুয়াখালী জেলার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কাছাকাছি অবস্থিত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ।

- বাংলাদেশের সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের রাজনৈতিক সমুদ্রসীমা ১২ নটিক্যাল মাইল (২২.২২ কিমি)। 
- এবং অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা ২০০ নটিক্যাল মাইল (৩৭০.৪০ কিমি)।
- এছাড়া ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত।

- বঙ্গোপসাগরের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড। 
- এটি বঙ্গোপসাগরের একটি খাদ।
- এর অর্থ- যার কোনো তল নেই। 
- সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ডকে গঙ্গাখাত ও বলা হয়। 
- এটি মহীসোপানকে কৌণিকভাবে অতিক্রম করা খাদ আকৃতির গভীর অববাহিকা। বঙ্গোপসাগরের এই অংশ সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে প্রায় ৩০ কিমি দূরে।

উৎস: Britannica ও বাংলাপিডিয়া।

১৪.
কোনটি ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমির বৃক্ষ নয়?
  1. কড়ই
  2. হরিতকি
  3. গামার 
  4. ছাতিম
সঠিক উত্তর:
গামার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গামার 
ব্যাখ্যা

• 'গামার' ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমির বৃক্ষ নয়।
---------------------------  
• ক্রান্তীয় পতনশীল বনভূমি বা শালবন:
- এ ধরনের বন মূলত ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল অঞ্চলের মধুপুর গড়, গাজীপুরের ভাওয়াল গড়, কুমিল্লার লালমাই এবং রংপুর-দিনাজপুরের বরেন্দ্রভূমি এলাকায় বিস্তৃত।
- এ বনের প্রধান গাছ হলো শাল, যা অনেকেই গজারি নামে চেনে।
- শুষ্ক মৌসুমে বা শীতের শুরুতে (ফেব্রুয়ারি–মার্চ) শাল গাছের পাতা ঝরে যাওয়ার কারণে এ বনকে পতনশীল বা Deciduous Forest বলা হয়।
- শাল ছাড়াও এখানে হরিতকি, ছাতিম, কড়ই, কদম, বহেরা, কাঁঠাল, কৃষ্ণচূড়া, শিমুল ও অর্জুনের মতো বিভিন্ন বৃক্ষ জন্মে।
- শাল গাছকে বৈদ্যুতিক খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
- শিমুল দিয়াশলাই কারখানায় ব্যবহৃত হয়।
- ছাতিম টেক্সটাইল মিলে ব্যবহৃত হয়।

- এ বনে বসবাসকারী উল্লেখযোগ্য প্রাণীর মধ্যে আছে- 
- মেছোবাঘ, বনরুই (এক ধরনের স্তন্যপায়ী), বানর ও শিয়াল ইত্যাদি।
-------------------------- 
অন্যদিকে, 
- গামার হচ্ছে- ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বনের বৃক্ষ।

ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বৃক্ষের বনভূমি বা পাহাড়ি বন:
- এই ধরনের বনভূমি প্রধানত পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় পুরো অঞ্চলজুড়ে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে বিস্তৃত।
- এসব এলাকায় অতিবৃষ্টিপাতের কারণে চিরহরিৎ বন গড়ে উঠেছে।
- এ বনভূমির মোট আয়তন প্রায় ১০,৩০০ বর্গকিলোমিটার।
- এখানে দীর্ঘকায় চিরসবুজ বৃক্ষের মধ্যে গর্জন, চাপালিশ, তেলসুর, গামার, বইলাম ও চান্দুল উল্লেখযোগ্য।
- মাঝারি উচ্চতার গাছের মধ্যে অর্জুন, জারুল, কুসুম, হরগজ ও বহেরা প্রধান।
- এছাড়া এ বনাঞ্চলে বেত ও নানা প্রজাতির বাঁশঝোপ জন্মে।
- এসব বনে চিতাবাঘ, হাতি, হরিণ, বানর, বনবিড়াল, সজারু, খরগোশ, সাপ ও বেজির মতো বন্যপ্রাণী দেখা যায়।

উৎস:
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি; 
অর্থনৈতিক ভূগোল, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৫.
কোন নদীর উৎপত্তি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে? 
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. পদ্মা
  3. তিস্তা 
  4. মেঘনা
সঠিক উত্তর:
পদ্মা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদ্মা
ব্যাখ্যা

পদ্মা নদী:
- পদ্মা বাংলাদেশের একটি প্রধান নদী এবং দেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী।
- পদ্মা নদীর উৎপত্তিস্থল হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে। 
- এটি হিমালয়ের গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকে উৎপন্ন গঙ্গার প্রধান শাখা।
- বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহর রাজশাহী পদ্মার উত্তর তীরে অবস্থিত।
- বাংলাদেশে পদ্মা নদী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মানাকোসা ও দুর্লভপুর দিয়ে প্রবেশ করে। 
- পরে গোয়ালন্দে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়;
- এবং চাঁদপুরে মেঘনার সঙ্গে মিলিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়।

- পদ্মার সর্বোচ্চ গভীরতা ১,৫৭১ ফুট (৪৭৯ মিটার);
- এবং গড় গভীরতা ৯৬৮ ফুট (২৯৫ মিটার)।
- এর দৈর্ঘ্য ৩৬৬ কিলোমিটার।
- পদ্মা নদী সর্পিলাকার এবং ভাঙনপ্রবণ হওয়ায় এটি ‘কীর্তিনাশা’ নামেও পরিচিত। 
-------------------
অন্যদিকে, 
• নদীর উৎপত্তি:
- ব্রহ্মপুত্র নদী: হিমালয় পর্বতের মানস সরোবর থেকে উৎপন্ন।
- তিস্তা নদী: ভারতের পর্বত্য অঙ্গরাজ্য সিকিম থেকে উৎপন্ন।
- মেঘনা নদী: ভারতের আসামের লুসাই পাহাড় থেকে উৎপন্ন।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

১৬.
অশ্বমণ্ডল প্রধানত কোন উপাদানগুলো দিয়ে গঠিত?
  1. নিকেল ও ম্যাগনেসিয়াম
  2. সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম
  3. আর্গন ও নাইট্রোজেন
  4. আর্গন ও নিকেল 
সঠিক উত্তর:
সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম
ব্যাখ্যা

অশ্বমণ্ডল (Lithosphere): 
- গুরুমণ্ডলের উপরাংশকে অশ্বমণ্ডল বা শিলামণ্ডল বলা হয়।
- এটি নানা রকম শিলা ও খনিজ উপাদান দ্বারা গঠিত।
- মহাদেশের নিচে অশ্বমণ্ডলের গভীরতা সর্বোচ্চ, আর মহাসাগরের নিচে সর্বনিম্ন।

- লিথোস্ফিয়ারের উপরের অংশকে ভূ-ত্বক বলে।
- এটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০০ কিমি গভীর পর্যন্ত বিস্তৃত।
- অশ্বমণ্ডল নিচের দিকে প্রতি কিমি গভীরতায় প্রায় ৩০°C তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়।

• উপাদান ও শিলা গঠন:
- অশ্বমণ্ডলের প্রধান উপাদান হলো-
- অক্সিজেন, সিলিকন, অ্যালুমিনিয়াম, লৌহ, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম।
------------------ 
উল্লেখ্য,
• লিথোস্ফিয়ারের শিলার প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে ভূ-ত্বককে তিন ভাগে ভাগ করা হয়:

১. পৃষ্ঠের হালকা ঘন শিলাস্তর (Sial / গ্রানাইট স্তর):
- মানুষ, জীবকূল, গাছপালা ও তৃণগাছ এখানে বাস করে।
- প্রধান উপাদান: সিলিকা ও অ্যালুমিনিয়াম, তাই একে সিয়াল স্তর বলা হয়।
- স্থলভাগ বা মহাদেশ এই শিলায় গঠিত।

২. মধ্যম ঘন শিলাস্তর (Sima / ব্যাসল্ট স্তর): 
- এটি সিয়াল স্তরের ঠিক নিচে অবস্থিত মধ্যম শিলাস্তর।
- এই স্তরের প্রধান উপাদান: সিলিকা ও ম্যাগনেসিয়াম।
- মহাসাগরীয় ভূ-ত্বক এই শিলায় তৈরি হয়।
- সমুদ্র তলের নিচে গ্রানাইট শিলার পর এই স্তর শুরু হয়।
- সিয়াল ও সিমা স্তরের মিলনের সীমাকে কনরাড বিযুক্তি বলা হয়।

৩. নিম্ন স্তর – অলিভিন জাতীয় শিলা: 
- লিথোস্ফিয়ারের সবচেয়ে নিচের স্তর, যেখানে অলিভিন জাতীয় শিলা বেশি।
- শিলার প্রধান উপাদান: ম্যাগনেসিয়াম ও লৌহের সিলিকেট।
- ভূ-কম্পনের তরঙ্গ এখানে প্রতি সেকেন্ডে ৮ কিমি বেগে চলে।
- আপেক্ষিক গুরুত্ব: ৩.৩।

উৎস: পরিবেশ বিজ্ঞান, বিবিএ প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৭.
পাদদেশীয় মালভূমি কিভাবে গঠিত হয়?
  1. আগ্নেয়গিরির লাভা দ্বারা
  2. নদী ও হিমবাহের ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ সঞ্চয় দ্বারা
  3. মহাদেশীয় শীল্ডে প্রাকৃতিক উত্তলতার মাধ্যমে
  4. সমুদ্রের তীরে বালু জমায়
সঠিক উত্তর:
নদী ও হিমবাহের ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ সঞ্চয় দ্বারা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী ও হিমবাহের ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ সঞ্চয় দ্বারা
ব্যাখ্যা

• পর্বতের ক্ষয়প্রাপ্ত পদার্থ জমে যে উঁচু বা সমতল ভূমি সৃষ্টি করে, সেটিই পাদদেশীয় মালভূমি।
----------------------- 
• মালভূমি:
- মালভূমি বলতে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তুলনামূলকভাবে উঁচু, বিস্তীর্ণ ও প্রায় সমতল ভূমিকে বোঝানো হয়।
- এটি গঠিত হয় ভূ-অভ্যন্তরস্থ ও ভূ-পৃষ্ঠস্থ বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
- যেমন—পাত সঞ্চালন, ভূ-আন্দোলন, ক্ষয়, ভূমিকম্প, আগ্নেয়গিরির আগ্নুৎপাত ও লাভা সঞ্চয়।

- মালভূমি উৎপত্তি অনুসারে প্রধানত তিন প্রকারে বিভক্ত:
- ভূ-গাঠনিক মালভূমি,
- সঞ্চয়জাত মালভূমি,
- এবং ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট মালভূমি।

- অবস্থান ও গঠন অনুযায়ী ছয় প্রকার মালভূমি রয়েছে:
- পর্বত-মধ্যবর্তী মালভূমি (Intermontane Plateau),
- পাদদেশীয় মালভূমি (Piedmont Plateau),
- চ্যুতি-সৃষ্ট মালভূমি (Horst Plateau),
- লাভা বা আগ্নেয়জাত মালভূমি (Lava Plateau),
- ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট মালভূমি (Erosional/Residual Plateau),
- শীল্ড বা মহাদেশীয় মালভূমি (Shield/Continental Plateau)

পাদদেশীয় মালভূমি:
- পাদদেশীয় মালভূমি হলো সেই ধরণের ভূমি যা পর্বতের পাদদেশে গঠিত হয়।
- পর্বতের শিখর থেকে বৃষ্টি, নদী বা হিমবাহের মতো প্রাকৃতিক শক্তি দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত মাটি, পাথর ও মৃত্তিকা নিচে ভেসে আসে এবং ধীরে ধীরে জমে এক ধরনের সমতল বা হালকা উঁচু ভূমি তৈরি করে।
- এই মালভূমি অনেক সময় পাদদেশীয় পলল সমভূমি বা পর্বত জোয়ার নামে পরিচিত।
- সাধারণত এর একপাশে সমুদ্র বা সমতল ভূমি থাকে।
- উদাহরণস্বরূপ, উত্তর আমেরিকার কলোরাডো মালভূমি একটি পাদদেশীয় মালভূমি।

উৎস: ভূমিরূপ বিদ্যা, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮.
বাংলাদেশের প্রথম প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন শুরু হয় কোন সালে?
  1. ১৯৫৫ সালে 
  2. ১৯৫৭ সালে 
  3. ১৯৬২ সালে 
  4. ১৯৯৮ সালে 
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৭ সালে 
ব্যাখ্যা

প্রাকৃতিক গ্যাস:
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক গ্যাস দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ।
- এটি ভূ-পৃষ্ঠের বিভিন্ন গভীরতায় শিলাস্তরে সঞ্চিত পেট্রোলিয়াম খনিজ তেলের উপরে উচ্চ চাপে গ্যাসীয় হাইড্রোকার্বনের মিশ্রণ হিসেবে পাওয়া যায়।
- মূলত, বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাসে ৯৫–৯৯% মিথেন থাকে।

- বাংলাদেশে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩০টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
- এর মধ্যে সর্বশেষ আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রটি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে অবস্থিত।
- প্রাকৃতিক গ্যাস এর মধ্যে দুটি (সাঙ্গু ও কুতুবদিয়া) উপকূলীয় অঞ্চলে, বঙ্গোপসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত।
- বাকিগুলি দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।

- বাংলাদেশে প্রথম গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ১৯৫৫ সালে, সিলেটের হরিপুরে।
- এরপর ১৯৫৭ সালে এই গ্যাসক্ষেত্র থেকে দেশের প্রথম গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়
- ১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে।
- তিতাস গ্যাসক্ষেত্র মজুদের দিক থেকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র।
- দেশের সর্বোচ্চ দৈনিক গ্যাস উত্তোলন করা হয় বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র থেকে।
- এছাড়া, সমুদ্র এলাকার প্রথম গ্যাসক্ষেত্র হলো সাঙ্গু। 

উৎস:
রসায়ন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; 
প্রথম আলো পত্রিকা। 

১৯.
নিম্নলিখিত কোনটি সঞ্চয়জাত সমভূমির উদাহরণ?
  1. উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগর তীরবর্তী সমভূমি 
  2. নদীর পলিগঠিত সমভূমি
  3. উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে অবস্থিত সমভূমি 
  4. আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব তীরে অবস্থিত সমভূমি 
সঠিক উত্তর:
নদীর পলিগঠিত সমভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদীর পলিগঠিত সমভূমি
ব্যাখ্যা

নদীর পলি ও বালু দীর্ঘদিন ধরে জমে নদী সমভূমি তৈরি করে- যা সঞ্চয়জাত সমভূমির অন্তর্গত। 
--------------------------
• সমভূমি: 
- সমভূমি হলো সমুদ্র সমতলের কাছাকাছি বা সমতুল্য উচ্চতায় বিস্তৃত ভূমি, তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি কয়েকশ মিটার উচ্চতাতেও থাকতে পারে। 
- এ ধরনের ভূমিতে সাধারণত মৃদু ঢাল, ছোট টিলা, পাহাড় বা নদী উপত্যকা দেখা যায়। 
- পৃথিবীর মোট স্থলভাগের প্রায় অর্ধেকই সমভূমি দ্বারা গঠিত। 
- সমভূমি এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি, আর আফ্রিকায় অপেক্ষাকৃত কম। 
- ইউরেশিয়ার উত্তরাংশে বিশ্বের বৃহত্তম সমভূমি অবস্থিত।

- সমভূমির বৈশিষ্ট্য হলো- 
- সাধারণত কোনো খাড়া ঢাল, 
- উচ্চভূমি বা নিম্নভূমি থাকে না, যদিও সামান্য উঁচু-নিচু থাকতে পারে। 
- এগুলি মহাদেশের সীমান্ত, মহাসাগরের তীরে বা অভ্যন্তরীণ অঞ্চলেও দেখা যায়।

- সমভূমিকে অবস্থান ও গঠনের ভিত্তিতে প্রধান কয়েক প্রকারে ভাগ করা যায়:
- ক্ষয়জাত সমভূমি। 
- হৈমবাহিক সমভূমি। 
- সঞ্চয়জাত সমভূমি। 
- কার্স্ট সমভূমি। 
------------------------------
সঞ্চয়জাত সমভূমি: 
- নদী, হিমবাহ বা বায়ুর মাধ্যমে ক্ষয়প্রাপ্ত পলিমাটি, বালি, কাদা ও নুড়ি নিচু স্থানে জমে উর্বর সমভূমি তৈরি করে।
- এ ধরনের সমভূমি অত্যন্ত উর্বর এবং জনবসতিপূর্ণ হয়।
- উদাহরণ:
নদীর পলিগঠিত সমভূমি,
• উপকূলীয় সমভূমি,
• প্লাবন সমভূমি,
• লোয়েস সমভূমি,
• হিমবাহ সমভূমি,
• লাভার সমভূমি।
-----------------------------------
উল্লেখ্য, 
• ক্ষয়জাত সমভূমি:
- দীর্ঘ সময় ধরে বায়ু, জলপ্রবাহ, বৃষ্টি বা হিমবাহের কারণে উচ্চভূমি ক্ষয় হয়ে নিম্নভূমিতে পরিণত হলে এ ধরনের সমভূমি তৈরি হয়।
- উদাহরণ:
- ইউরোপের ফিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার হাডসন উপসাগর তীরবর্তী সমভূমি ক্ষয়জাত সমভূমির অন্তর্গত। 

• হৈমবাহিক সমভূমি:
- হিমবাহের প্রবাহ ভূমি ক্ষয় করে এবং সঙ্গে যে শিলা, কাঁকর ও পাথর আসে তা নিচে সঞ্চিত হয়ে সমভূমি তৈরি করে।
- উদাহরণ:
- এই ধরনের সমভূমি দেখা যায়- উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ, ফিনল্যান্ড, পূর্ব কানাডা, সুইডেন।

• কার্স্ট সমভূমি: 
- কার্স্ট সমভূমি হলো চুনাপাথরের বিস্তৃত অঞ্চলে গঠিত সমভূমি, যা ভূ-গর্ভস্থ জলধারার ক্রিয়াশীলতার মাধ্যমে তৈরি হয়।
- এ ধরনের সমভূমি মূলত চুনাপাথরের ক্ষয়প্রক্রিয়ার ফলে সৃষ্টি হয় এবং
- এটি ভূ-গর্ভস্থ গুহা, চুনাপাথরের গর্ত বা কূপের মাধ্যমে ভূ-প্রকৃতিতে বিশেষ বৈশিষ্ট্যযুক্ত হয়।
- উদাহরণস্বরূপ-
- যুগোশ্লোভিয়ার কার্স্ট অঞ্চল যা আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্ব তীরে অবস্থিত

উৎস: ভূগোল ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২০.
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত পাহাড় কোনটি?
  1. লালমাই পাহাড় 
  2. ময়নামতি পাহাড় 
  3. চন্দ্রনাথ পাহাড়
  4. শিপ্পি পাহাড় 
সঠিক উত্তর:
শিপ্পি পাহাড় 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিপ্পি পাহাড় 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের পাহাড়:
- বাংলাদেশের পাহাড়, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেটের, মূলত টারশিয়ারি যুগে ভারতের এবং ইউরেশীয় টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষ ও ভাঁজ প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে।
- এগুলো আসামের লুসাই ও মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমগোত্রীয়।
- পাহাড়গুলো প্রধানত বেলেপাথর, শেল ও কদম শিলায় গঠিত।
- দীর্ঘ সময় ধরে নদী, বৃষ্টি ও ভূমিরূপ পরিবর্তনের প্রভাবে পাহাড়গুলোর বর্তমান আকার তৈরি হয়েছে।

- দেশের বৃহত্তম ও উচ্চতম পাহাড় হলো গারো পাহাড়, যা বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে অবস্থিত।
- ইউরেনিয়াম খনিজ পাওয়া যায় কুলাউড়া পাহাড়ে, মৌলভীবাজার জেলায়।
- ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকে লালমাই পাহাড় ও ময়নামতি পাহাড় কুমিল্লা অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ।
- হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত চন্দ্রনাথ পাহাড়, যা চট্টগ্রাম ও সীতাকুণ্ড এলাকায় অবস্থিত।
- পাহাড়ের রানি বা বাংলাদেশের দার্জিলিং হিসেবে খ্যাত চিম্বুক পাহাড়/কালাপাহাড় বান্দরবানে অবস্থিত। 
- বান্দরবানের শিপ্পি বা রামজু পাহাড় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন।