নিচের কোনটি ধ্বনি পরিবর্তন 'ব্যঞ্জন বিকৃতি' এর উদাহরণ নয়?
ক
ক) কবাট > কপাট
খ
খ) ফাল্গুন > ফাগুন
গ
গ) ধোবা > ধোপা
ঘ
ঘ) ধাইমা > দাইমা
ব্যাখ্যা
ধ্বনি পরিবর্তন 'ব্যঞ্জন বিকৃতি' এর উদাহরণ- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা।
ব্যঞ্জন বিকৃতি: শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
অন্তর্হতি: পদের মধ্যে ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি। যেমনঃ ফাল্গুন > ফাগুন, আলাহিদা > আলাদা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
২.
নিচের কোনটি অবস্থাবাচক বিশেষণ?
ক
ক) নীল আকাশ
খ
খ) দক্ষ কারিগর
গ
গ) তাজা মাছ
ঘ
ঘ) মেটে কলসি
ব্যাখ্যা
তাজা মাছ- অবস্থাবাচক বিশেষণ।
নাম বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। রূপবাচক বিশেষণ: নীল আকাশ গুণবাচক বিশেষণ: দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া অবস্থাবাচক বিশেষণ- তাজা মাছ উপাদানবাচক বিশেষণ- মেটে কলসি, বেলে মাটি
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৩.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে?
ক
ক) ভীষণ
খ
খ) ভাষণ
গ
গ) আপণ
ঘ
ঘ) কারণ
ব্যাখ্যা
'আপণ' শব্দে- স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে।
• ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়। যেমন : ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
৪.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
ক
ক) বন + ওষুধি = বনৌষধি
খ
খ) মহা + ওষুধি = মহৌষধি
গ
গ) পরম + ওষুধি = পরমৌষধ
ঘ
ঘ) মহা + ঔষধ = মহৌষধ
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
[অপশনে একাধিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।]
• বন + ওষুধি = বনৌষধি, সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়। - সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: বন + ওষধি = বনৌষধি
• মহা + ওষুধি = মহৌষধি, সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়। - সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: মহা + ওষধি = মহৌষধি
• পরম + ওষুধি = পরমৌষধ, সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়। - সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: পরম + ঔষধ = পরমৌষধ
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৫.
'গবাক্ষ' শব্দের অর্থ-
ক
ক) গরু
খ
খ) বোকা
গ
গ) গবেষণাকারী
ঘ
ঘ) জানালা
ব্যাখ্যা
'গবাক্ষ' শব্দের অর্থ- জানালা
বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান অনুসারে, গবাক্ষ (বিশেষ্য) - সংস্কৃত শব্দ - প্রকৃতি প্রত্যয় = গো+√অক্ষ্+অ অর্থ: - আলো বাতাস চলাচলের জন্য গাড়ি বা ঘরের দেয়ালে নির্মিত পথ, ঘুলঘুলি। - জানালা।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬.
কোন বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার হয়েছে?
ক
ক) আমি যাই।
খ
খ) তুমি যাও।
গ
গ) আপনি যান।
ঘ
ঘ) সে যায়।
ব্যাখ্যা
সে যায়- নাম পুরুষের ব্যবহার হয়েছে।
উত্তম পুরুষ: স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ। যেমন: আমি।
মধ্যম পুরুষ: প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ। যেমন: তুমি, আপনি, তুই।
প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ: - যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। - আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ। - যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
৭.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ নয়?
ক
ক) বনস্পতি
খ
খ) ষোড়শ
গ
গ) পরস্পর
ঘ
ঘ) ততোধিক
ব্যাখ্যা
ততোধিক- নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়। ‘ততোধিক’ হলো বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। এর যথাযথ সন্ধিবিচ্ছেদ হলো - ততঃ + অধিক = ততোধিক।
• সন্ধির নিয়ম: অ ধ্বনির পরস্থিত (অঘোষ উষ্মধ্বনি) বিসর্গের পর অ ধ্বনি থাকলে অ + ঃ + অ - এই তিনে মিলে ও কার হয়। যেমন: ততঃ + অধিক = ততোধিক।
• সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হল: - বন + পতি = বনস্পতি, - পর+পর = পরস্পর - আ + চর্য = আশ্চর্য - গো + পদ = গোষ্পদ - পর + পর = পরস্পর - ষট্ + দশ = ষোড়শ - এক+ দশ = একাদশ - পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি - গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র - কুল+অটা = কুলটা - গো+অক্ষ = গবাক্ষ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৮.
নিচের কোন বাক্যে 'সামান্য' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে?
তাছাড়া, 'তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ'- পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 'ধীরে ধীরে যায়'- 'ক্রিয়া বিশেষণ' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 'নরম নরম হাত'- 'তীব্রতা বা সঠিকতা' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
৯.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
ক
ক) অভিশংসন
খ
খ) অভ্যুদয়
গ
গ) কর্তব্যনিষ্ট
ঘ
ঘ) কর্ণশূল
ব্যাখ্যা
কর্তব্যনিষ্ট বানানটি অশুদ্ধ। এর শুদ্ধ বানান কর্তব্যনিষ্ঠ। কর্তব্যনিষ্ঠ- সংস্কৃত শব্দ। 'কর্তব্যনিষ্ঠ' শব্দের অর্থ- কর্তব্য পালনে নিষ্ঠা আছে এমন।
তাছাড়া, অভিশংসন শব্দের অর্থ- সাংবিধানিক পদে নিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযোগ আনয়ন। অভ্যুদয় শব্দের অর্থ- উদয়, উদ্ভব। কর্ণশূল শব্দের অর্থ- কানের ব্যথা।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান।
১০.
'Persecution' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
ক
ক) ব্যক্তিত্ব
খ
খ) উৎপীড়ন
গ
গ) শাশ্বত
ঘ
ঘ) প্রচারণা
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অনুসারে, 'Persecution' এর বাংলা পরিভাষা- 'উৎপীড়ন'
তাছাড়া, Propaganda এর বাংলা পরিভাষা- প্রচারণা 'Perpetual' এর বাংলা পরিভাষা- শাশ্বত 'Personality' এর বাংলা পরিভাষা- ব্যক্তিত্ব
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১১.
নিচের কোনটি 'সংবৃত' স্বরধ্বনি?
ক
ক) [ই], [উ]
খ
খ) [এ], [ও]
গ
গ) [অ্যা] [অ]
ঘ
ঘ) [আ]
ব্যাখ্যা
[ই], [উ]- 'সংবৃত' স্বরধ্বনি।
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত: - সংবৃত [ই], [উ]; - অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও]; - অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ]; - বিবৃত: [আ]। সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।
• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত: - উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ]; - উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও]; - নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ]; - নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]। উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১২.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
ক
ক) বিপদ + চয় = বিপচ্চয়
খ
খ) উদ্ + ছেদ = উচ্ছেদ
গ
গ) বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া
ঘ
ঘ) সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা
ব্যাখ্যা
উদ্ + ছেদ = উচ্ছেদ; সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়। এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ
সন্ধির নিয়ম: ত্ ও দ্ এর পর চ্ ও ছ্- থাকলে ত্ ও দ্ স্থানে চ্ হয়। যেমন: - উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ - বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া - বিপদ + চয় = বিপচ্চয় - সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
'হররোজ' কোন ধরনের উপসর্গ?
ক
ক) বাংলা উপসর্গ
খ
খ) তৎসম উপসর্গ
গ
গ) ফারসি উপসর্গ
ঘ
ঘ) উর্দু- হিন্দি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
'হররোজ'- উর্দু- হিন্দি উপসর্গ। - এখানে 'হর' উপসর্গটি 'প্রত্যেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এমন আরো কিছু শব্দ: হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা ইত্যাদি।
• আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের। • ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম। • উর্দু উপসর্গঃ হর। • ইংরেজি উপসর্গঃ হেড, সাব, ফুল, হাফ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
কোন পদের ক্ষেত্রে পুরুষ হয়না?
ক
ক) বিশেষ্য
খ
খ) বিশেষণ
গ
গ) সর্বনাম
ঘ
ঘ) ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
'পুরুষ' একটি পারিভাষিক শব্দ। - বিশেষ্য, সর্বনাম, ক্রিয়ারই পুরুষ আছে। - বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই।
ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার। যথা- উত্তম, মধ্যম ও নাম পুরুষ।
উত্তম পুরুষ: স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ। যেমন: আমি
মধ্যম পুরুষ: প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। যেমন: তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
নাম পুরুষ: অনুপস্থিত বা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণীই নাম পুরুষ। যেমন: সে, তারা, তাদের, তিনি, তাহাদের প্রভৃতি নাম পুরুষ। (সমস্ত বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ)।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
নিচের কোন বাক্যে 'অভ্যস্ততা' অর্থে যৌগিক ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া। যেমন: তাগিদ দেয়া অর্থে- তিনি বলতে লাগলেন। আকস্মিকতা অর্থে- সাইরেন বেজে উঠল। কার্যসমাপ্তি অর্থে- ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম - ১০ম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
ক
ক) জাজ্বল্যমান
খ
খ) জন্মবার্ষিক
গ
গ) জ্ঞাতার্থে
ঘ
ঘ) অবগতির জন্য
ব্যাখ্যা
'জ্ঞাতার্থে' - অপপ্রয়োগ এর উদাহরণ।
এখানে, জ্ঞাতার্থে শব্দটি বহুল প্রচলিত হলেও ব্যাকরণসম্মত নয়। জ্ঞাত + অর্থে = জ্ঞাতার্থে; এভাবে নিষ্পন্ন হলে শব্দটি অর্থহীন হয়ে যায়। তাই অবগতির জন্য লিখতে হবে, জ্ঞাতার্থে নয়।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ।
১৭.
নিচের কোন লিঙ্গান্তরটি সঠিক নয়?
ক
ক) দেবর- জা
খ
খ) ছেলে- ছেলে বউ
গ
গ) ধোপা- ধোপানি
ঘ
ঘ) শ্রোতা- শ্রোতানি
ব্যাখ্যা
শ্রোতা- শ্রোতানি; লিঙ্গান্তরটি সঠিক নয়। এর সঠিক লিঙ্গান্তর: শ্রোতা- শ্রোত্রী।
- যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'স্ত্রী' হয়। যেমন: শ্রোতা- শ্রোত্রী, নেতা- নেত্রী, কর্তা- কর্ত্রী, ধাতা- ধাত্রী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
নিচের কোনটি মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ নয়?
ক
ক) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
খ
খ) এখন গোল্লায় যাও।
গ
গ) এখন যেতে পার।
ঘ
ঘ) ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।
ব্যাখ্যা
এখন যেতে পার- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ নয়। এটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।
মিশ্র ক্রিয়া - বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে। যেমন– বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও। ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে : ঝম্ ঝম্ করে বৃষ্টি পড়ছে।
যৌগিক ক্রিয়া: অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমন: এখন যেতে পার।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
নিচের কোন বাক্যে তারিখ লেখার ক্ষেত্রে কমার সঠিক ব্যবহার হয়েছে?
ক
ক) মার্চ, ১৮, ২০২৩
খ
খ) মার্চ ১৮, ২০২৩
গ
গ) ১৮, মার্চ, ২০২৩
ঘ
ঘ) কোনটিই না
ব্যাখ্যা
মার্চ ১৮, ২০২৩- তারিখ লেখার ক্ষেত্রে কমার সঠিক ব্যবহার হয়েছে।
তারিখের পরেই সাল থাকলে, তারিখের পরে কমা বসাতেই হবে। যেমন: মার্চ ১৮, ২০২৩
কমার ব্যবহার: অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়। যথা: - নামের শেষে ডিগ্রি থাকলে কমা বসে। যেমন: ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এমএ. পিএইচডি। - এক জাতীয় একাধিক বাক্য পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে তাদের আলাদা করতে। - একই পদের বারবার ব্যবহারের মাঝে কমা বসে। - সম্বোধনের পর কমা বসে। - তারিখ লিখতে কমা বসে - - খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে।ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ), বাংলা লেখার নিয়ম কানুন- ড. হায়াৎ মামুদ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২১.
'তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে'- কোন বাচ্যের উদাহরণ?
ক
ক) কর্তৃবাচ্য
খ
খ) কর্মবাচ্য
গ
গ) ভাববাচ্য
ঘ
ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
ব্যাখ্যা
'তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে'- 'ভাববাচ্য' এর উদাহরণ।
ভাববাচ্য: যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।
ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: - ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়। যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)
- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়। যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।
- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়। যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। ( ২০১৯ সংস্করণ)।
২২.
নিচের কোন বাক্যে 'পরিণতি' বোঝাতে 'ইলে > লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
তাছাড়া, 'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার - - কার্যপরম্পরা বোঝাতে -- চারটা 'বাজলে' স্কুলের ছুটি হবে। - সম্ভাব্যতা অর্থে -- এখন বৃষ্টি 'হলে' ফসলের ক্ষতি হবে। - সাপেক্ষতা বোঝাতে -- তিনি 'গেলে' কাজ হবে। - প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে -- একবার 'মরলে' কি কেউ ফেরে? - বিধিনির্দেশ অর্থে- এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৩.
নিচের কোনটি ৪র্থী তৎপুরুষ সমাসের সমস্তপদ?
ক
ক) মৃগশিশু
খ
খ) খোশমেজাজ
গ
গ) বিয়েপাগলা
ঘ
ঘ) আশীবিষ
ব্যাখ্যা
বিয়েপাগলা= বিয়ের জন্য পাগলা; ৪র্থী তৎপুরুষ সমাসের সমস্তপদ।
তৎপুরুষ সমাস: সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। ৪র্থী তৎপুরুষ সমাস: পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি ( কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। যেমন: বিয়েপাগলা= বিয়ের জন্য পাগলা; গুরুকে ভক্তি= গুরুভক্তি; বসতের নিমিত্ত বাড়ি= বসতবাড়ি
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি। (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪.
'Hoarder' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
ক
ক) ফেরিওয়ালা
খ
খ) মাতব্বর
গ
গ) মজুতদার
ঘ
ঘ) দরকষাকষি
ব্যাখ্যা
'Hoarder' এর বাংলা পরিভাষা- মজুতদার
তাছাড়া, Hawker এর বাংলা পরিভাষা- ফেরিওয়ালা Headman এর বাংলা পরিভাষা - মাতব্বর Higgling এর বাংলা পরিভাষা- দরকষাকষি
উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
২৫.
'উপসর্গ' কোন ধরনের শব্দ?
ক
ক) মৌলিক শব্দ
খ
খ) যৌগিক শব্দ
গ
গ) রূঢ়ি শব্দ
ঘ
ঘ) যোগরূঢ় শব্দ
ব্যাখ্যা
'উপসর্গ'- রূঢ়ি শব্দ।
রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন: উপ + সর্গ = উপসর্গ; ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- পূর্বের অধ্যায়। কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- রোগের লক্ষণ। - সন্দেশ, হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
২৬.
'রিক্শা > রিশ্কা'- এটি ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন?
ক
ক) অসমীকরণ
খ
খ) ধ্বনি বিপর্যয়
গ
গ) সমীভবন
ঘ
ঘ) বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়: শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে। যেমন – রিক্শা > রিশ্কা অনুরুপ – পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল।
অন্যদিকে, • অসমীকরণ: একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ। যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি।
• সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন। যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না।
• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থের নাম কি?
ক
ক) ধ্বনিবিজ্ঞান
খ
খ) ধ্বনিতত্ত্ব
গ
গ) শব্দতত্ত্ব
ঘ
ঘ) শব্দবিজ্ঞান
ব্যাখ্যা
ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ রচিত গ্রন্থ হলো- 'শব্দতত্ত্ব' - গ্রন্থটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয় - এছাড়া তিনি বাংলা ব্যাকরণ থেকে সম্প্রদান কারক কে বাদ দেওয়ার কথা বলেছিলেন।
উৎস: লাল নীল দীপাবলি-হুমায়ুন আজাদ, এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮.
'প্রতারণা করা' অর্থে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়?
ক
ক) চিচিং ফাঁক
খ
খ) চোখে ধূলি দেওয়া
গ
গ) চাটিবাটি গুটানো
ঘ
ঘ) চোরাবালি
ব্যাখ্যা
চোখে ধূলি দেওয়া- বাগধারাটির অর্থ- 'প্রতারণা করা' বাক্য গঠন: আমার চোখে ধূলি দিতে চাও,এত সাহস তোমার এখনো হয়নি।
তাছাড়া, 'চাটিবাটি গুটানো' বাগধারাটি অর্থ- বাস্তুত্যাগ করা ‘চিচিং ফাঁক’ বাগধারাটির অর্থ- 'গুপ্ত মন্ত্র প্রকাশ করা'। ‘চোরাবালি’ বাগধারাটির অর্থ- 'প্রচ্ছন্ন আকর্ষণ'।
উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাগধারা বাগবিধি, লেখক- মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান
২৯.
‘অবহিত’ এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
ক
ক) বিরল
খ
খ) নিগ্রহ
গ
গ) উন্নত
ঘ
ঘ) অনবহিত
ব্যাখ্যা
‘অবহিত’ এর বিপরীত শব্দ হলো 'অনবহিত'
এছাড়াও বিরল এর বিপরীত শব্দ অবিরল নিগ্রহ এর বিপরীত শব্দ অনুগ্রহ উন্নত এর বিপরীত শব্দ অবনত
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি,লেখক- ড. হায়াৎ মামুদ
নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ: কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে। যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি।
নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ: কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে। যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩১.
‘অসম্ভব বস্তু’ বলতে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়?
ক
ক) সুখের পায়রা
খ
খ) সোনার চাঁদ
গ
গ) সোনার পাথর বাটি
ঘ
ঘ) স্যাক দেওয়া
ব্যাখ্যা
অসম্ভব বস্তু বলতে ব্যবহৃত হয় ‘সোনার পাথর বাটি’ বাক্য গঠন: গল্পটি তোমার একদম বানানো, বাস্তবতার লেশমাত্র নেই, সোনার পাথর বাটির মতো আজগুবি।
তাছাড়া, সুখের পায়রা' বাগধারাটির অর্থ- 'বিলাসী' 'সোনার চাঁদ' বলতের বুঝায় আদরের পাত্র 'স্যাক দেওয়া' বলতে বুঝায় জব্দ করা
উৎস বাগধারা বাগবিধি,লেখক- মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান
৩২.
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি; এখানে 'অসুস্থ ছেলেটি' কোন ধরণের বর্গের অন্তর্গত?
ক
ক) বিশেষ্যবর্গ
খ
খ) বিশেষণবর্গ
গ
গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
ঘ
ঘ) ক্রিয়া বর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশ কে বর্গ বলে। নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেয়া হল-
বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধ পদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্যবর্গ তৈরি হয়। যেমন - অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
বিশেষণবর্গ: বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণবর্গ। যেমন- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর।
ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ বলে। যেমন - তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাড়ালাম।
ক্রিয়া বর্গ: বাক্যের ইধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় সময় ক্রিয়া বর্গহিসেবেকাজকরে। যেমন - সে লিখছে আর হাসছে। সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৩.
নিচের কোনটি ভিন্নার্থক?
ক
ক) ঘর
খ
খ) আলয়
গ
গ) প্রবৃত্তি
ঘ
ঘ) আগার
ব্যাখ্যা
গৃহ শব্দের সমার্থক শব্দ হলো- - ঘর - আলয় - আগার
অপরদিকে প্রবৃত্তি শব্দের সমার্থক শব্দ হলো: - ইচ্ছা - অভিলাষ - সন্তোষ - ঈপ্সা - অভীপ্সা - কামনা - বাসনা
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( সর্বশেষ সংস্করণ)
৩৪.
'ভিটায় ঘুঘু চড়ানো' বাগধারাটির অর্থ-
ক
ক) বাইরে পরিপাটি
খ
খ) নিঃস করা
গ
গ) শিক্ষার শুরু
ঘ
ঘ) অত্যন্ত গরিব
ব্যাখ্যা
'ভিটায় ঘুঘু চড়ানো' বাগধারাটির অর্থ- নিঃস করা বাক্য গঠন: ও হুমকি দিয়ে বলেছে, আমার ভিটায় নাকি ঘুঘু চড়াবে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২০ সংস্করণ)।
৩৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
ক
ক) ছেলেটি বংশের চোখে চুনকালি দিল
খ
খ) তিনি স্বত্রীক ঢাকায় থাকেন
গ
গ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
ঘ
ঘ) নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত অসুখী
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে শুদ্ধ বাক্য হচ্ছে - তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ। - বাকি অপশনগুলো অশুদ্ধ নিয়মে গঠিত।
• অপশনগুলোর শুদ্ধরূপ হচ্ছে - - ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল। - নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত সুখী। - তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৬.
যে নারী শিশুসন্তানসহ বিধবা- এর এক কথায় প্রকাশ-
ক
ক) বীরপ্রসূ
খ
খ) অঙ্গনা
গ
গ) বালপুত্রিকা
ঘ
ঘ) চিরন্টী
ব্যাখ্যা
যে নারী শিশুসন্তানসহ বিধবা = বালপুত্রিকা
তাছাড়া, যে নারি চিরকাল পিতৃগৃহবাসিনী=চিরন্টী যে নারী দেহ সৌষ্ঠব সম্পন্না = অঙ্গনা যে নারী বীর সন্তান প্রসব করে = বীরপ্রসূ
আরো কিছু বাক্য সংকোচনঃ যে নারী সহবাসে মৃত্যু হয় = বিষকন্যকা যে নারী বীর = বীরাঙ্গনা যে নারী বার (সমূহ) গামিনী=বারাঙ্গনা যে নারী অঘটন ঘটাতে পারদর্শী =অঘটনঘটনপটিয়সী যে নারী একবার সন্তান প্রসব করেছে =কাকবন্ধ্যা যে নারী পূর্বে অন্যের স্ত্রী ছিল।=অন্যপূর্বা যে নারী সূর্যকে দেখে না (অন্তঃপুরে থাকে) =অসূর্যম্পশ্যা যে নারী চিত্রে অর্পিতা বা নিবন্ধা = চিত্রার্পিতা যে নারী (বা গাভী) দুগ্ধবতী = পয়স্বিনী যে নারী প্রিয় বাক্য বলে = প্রিয়ংবদা যে নারী স্বয়ং পতি বরণ করে = স্বয়ংবরা যে নারী সুন্দরী = রামা
উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড.সৌমিত্র শেখর
৩৭.
বাংলা যৌগিক স্বরধ্বনি কয়টি ?
ক
ক) ২০
খ
খ) ২৫
গ
গ) ২৩
ঘ
ঘ) ১১
ব্যাখ্যা
বাংলা যৌগিক স্বরধ্বনি ২৫ টি । বাংলা যৌগিক স্বরধ্বনি পৃথক বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করা হয় দুটো (ঐ, ঔ)। এ ছাড়া আরো তেইশটি যৌগিক স্বরধ্বনি আছে কিন্তু এদের জন্য পৃথক কোনো বর্ণ নেই। অর্থাৎ বাংলা যৌগিক স্বরধ্বনি সাকুল্যে পঁচিশটি। এর মধ্যে নিচে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো : অ + ও = অও > লও অ + এ = অয় > নয আ + ই = আইন > গাই আ + এ = আয় > খায় আ + উ = আউ > হাউ ই + আ = ইআ > উড়িয়া; ই + ই = ইই > দিই ই + উ = ইউ > মিউ ই + এ = ইএ > গাইয়ে ই + ও = ইও > নিও উ + ই = উই > ছুঁই উ + ও = উও > কুয়ো এ + ই = এই > সেই এ + উ = এউ > কেউ ও + ই = ওউ > মউ ও + ও = ওও > ধোও এ্যা + এ = এ্যায় > দ্যায় এ্যা + ও = এ্যাও > ম্যাও
উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩৮.
'ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা-
ক
ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
খ
খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
গ
গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
ঘ
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ হলো 'ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ'। The Origin and Development of Bengali Language বাংলা ভাষার উৎপত্তি বিষয়ক তার রচিত গ্রন্থ ।
উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪১.
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। এখানে 'ভারী সুন্দর' কোন বর্গের উদাহরণ?
ক
ক) বিশেষ্যবর্গ
খ
খ) বিশেষণবর্গ
গ
গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
ঘ
ঘ) ক্রিয়া বর্গ
ব্যাখ্যা
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর- এখানে 'ভারী সুন্দর' বিশেষণ বর্গের উদাহরণ। - এখানে 'আম' বিশেষ্যের বিশেষণ রূপে ভারী সুন্দর ব্যবহৃত হয়েছে। বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশ কে বর্গ বলে।
নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেয়া হল- বিশেষ্যবর্গ: বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধ পদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্যবর্গ তৈরি হয়। যেমন - অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি। আমার ভাই পড়তে বসেছে। রহিম ও করিম বৃষ্টিতে ভিজছে।
বিশেষণবর্গ: বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণবর্গ। যেমন- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ।
ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ বলে। যেমন - সকাল আটটার সময় সে রওনা হলো। তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে গিয়ে দাড়ালাম।
ক্রিয়াবর্গ: বাক্যের ইধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় সময় ক্রিয়া বর্গহিসেবেকাজকরে। যেমন - সে লিখছে আর হাসছে। সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৪২.
শাক্ত শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
ক
ক) শক্তি+অ
খ
খ) শাক্ত+ই
গ
গ) শাক্ত+অ
ঘ
ঘ) শক্তি+ই
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে শাক্ত শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো- শক্তি+অ। - এটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।
• শাক্ত (বিশেষণ): - এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে শাক্তো। - এর অর্থ হচ্ছে শক্তির উপাসক, তান্ত্রিক। - এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- শক্তি+অ।
• উপমিত কর্মধারয়: - যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়। - কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে। যেমন – পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ। আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি। মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪৫.
'মরাবাঁচা' কোন অর্থে দ্বন্দ্ব?
ক
ক) সমার্থক
খ
খ) বিরোধার্থক
গ
গ) মিলনার্থক
ঘ
ঘ) কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
- 'মরাবাঁচা' বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্বের উদাহরণ।
• পূর্বপদ ও পরপদের বিপরীত শব্দ মিলিত হয়ে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে। যেমন: মরাবাঁচা = মরা ও বাঁচা, হিতাহিত = হিত ও অহিত, অহিনকুল = অহি ও নকুল, ছোটবড় = ছোট ও বড়, ভালো-মন্দ = ভালো ও মন্দ, দাকুমড়া = দা ও কুমড়া, সুখদুঃখ = সুখ ও দুঃখ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪৬.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
ক
ক) মামাবাড়ি
খ
খ) হাতঘড়ি
গ
গ) গ্রামছাড়া
ঘ
ঘ) রাজপথ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি, কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ। - বাকি অপশনগুলো তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।
• তৎপুরুষ সমাস: - সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। - এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ৷ যেমন: দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত। মামার বাড়ি = মামাবাড়ি, ধানের খেত = ধানখেত, পথের রাজা = রাজপথ গোলায় ভরা = গোলাভরা, গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪৭.
'ঝাঁকানি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
ক
ক) ঝাঁক্+ইনি
খ
খ) ঝাঁক্+আনি
গ
গ) ঝাঁক্+এনি
ঘ
ঘ) ঝাঁক্+নি
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে- ঝাঁক্+আনি।
আনি প্রত্যয় যোগে আরো কয়েকটি শব্দ হচ্ছে- • প্রদত্ত শব্দ -- প্রকৃতি ও প্রত্যয় - জ্বালানি --- জ্বাল্+আনি। - ঝাঁকানি --- ঝাঁক্+আনি। - শুনানি ---- শুন্+আনি।