পরীক্ষা আর্কাইভ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

পরীক্ষা৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশনতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়40 minutes৪৬ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন৪৭
সিলেবাস
৪৫তম বি.সি.এস. প্রস্তুতি - সাবজেক্ট ফাইনাল ও রিভিশন [রাউন্ড – ২] বিষয়ের নাম: বাংলা ব্যাকরণ সম্পূর্ণ [১০০ নাম্বার]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন

৫১তম বিসিএস ফাইনাল মডেল টেস্ট ও রিভিশন · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৭ প্রশ্ন

.
নিচের কোনটি ধ্বনি পরিবর্তন 'ব্যঞ্জন বিকৃতি' এর উদাহরণ নয়?
  1. ক) কবাট > কপাট
  2. খ) ফাল্গুন > ফাগুন
  3. গ) ধোবা > ধোপা
  4. ঘ) ধাইমা > দাইমা
সঠিক উত্তর:
খ) ফাল্গুন > ফাগুন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ফাল্গুন > ফাগুন
ব্যাখ্যা
ধ্বনি পরিবর্তন 'ব্যঞ্জন বিকৃতি' এর উদাহরণ- কবাট > কপাট, ধোবা > ধোপা, ধাইমা > দাইমা। 

ব্যঞ্জন বিকৃতি: 
শব্দের মধ্যে কোনো কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জন ধ্বনিতে পরিণত হওয়াকে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।

অন্তর্হতি:  
পদের মধ্যে ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমনঃ ফাল্গুন > ফাগুন, আলাহিদা > আলাদা।


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিচের কোনটি অবস্থাবাচক বিশেষণ?
  1. ক) নীল আকাশ
  2. খ) দক্ষ কারিগর
  3. গ) তাজা মাছ
  4. ঘ) মেটে কলসি
সঠিক উত্তর:
গ) তাজা মাছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাজা মাছ
ব্যাখ্যা
তাজা মাছ- অবস্থাবাচক বিশেষণ। 

নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে। 
রূপবাচক বিশেষণ: নীল আকাশ 
গুণবাচক বিশেষণ: দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া
অবস্থাবাচক বিশেষণ- তাজা মাছ 
উপাদানবাচক বিশেষণ- মেটে কলসি, বেলে মাটি 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। 
.
নিচের কোন শব্দে স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে?
  1. ক) ভীষণ
  2. খ) ভাষণ
  3. গ) আপণ
  4. ঘ) কারণ
সঠিক উত্তর:
গ) আপণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আপণ
ব্যাখ্যা
'আপণ' শব্দে- স্বভাবতই মূর্ধন্য 'ণ' হয়েছে।

• ঋ, র, ষ- এর পরে মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন : ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।  

কতগুলো শব্দে স্বভাবতই মর্ধন্য ণ হয়।
- চিক্কণ
- নিক্বণ
- তূণ
- বণিক
- চাণক্য,
- মাণিক্য,
- গণ,
- বাণিজ্য
- লবণ,
- মণ,
- বেণু,
- বীণা,
- কঙ্কণ
- কণিকা,
- আপণ,
- লাবণ্য,
- বাণী,
- নিপুণ,
- ভণিতা,
- পাণি,
- গৌণ,
- কোণ,
- বাণ ইত্যাদি

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. ক) বন + ওষুধি = বনৌষধি
  2. খ) মহা + ওষুধি = মহৌষধি
  3. গ) পরম + ওষুধি = পরমৌষধ
  4. ঘ) মহা + ঔষধ = মহৌষধ
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা
[অপশনে একাধিক উত্তর থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হলো।]

• বন + ওষুধি = বনৌষধি, সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়।
- সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: বন + ওষধি = বনৌষধি 

• মহা + ওষুধি = মহৌষধি, সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়।
- সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: মহা + ওষধি = মহৌষধি

• পরম + ওষুধি = পরমৌষধ, সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়।
- সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: পরম + ঔষধ = পরমৌষধ




উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'গবাক্ষ' শব্দের অর্থ-
  1. ক) গরু
  2. খ) বোকা
  3. গ) গবেষণাকারী
  4. ঘ) জানালা
সঠিক উত্তর:
ঘ) জানালা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) জানালা
ব্যাখ্যা
'গবাক্ষ' শব্দের অর্থ- জানালা 

বাংলা একাডেমি আধুনিক অভিধান অনুসারে, 
গবাক্ষ (বিশেষ্য) 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = গো+√অক্ষ্‌+অ 
অর্থ:
- আলো বাতাস চলাচলের জন্য গাড়ি বা ঘরের দেয়ালে নির্মিত পথ, ঘুলঘুলি।
- জানালা। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
.
কোন বাক্যে নাম পুরুষের ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) আমি যাই।
  2. খ) তুমি যাও।
  3. গ) আপনি যান।
  4. ঘ) সে যায়।
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে যায়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সে যায়।
ব্যাখ্যা
সে যায়- নাম পুরুষের ব্যবহার হয়েছে। 

উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ। যেমন: আমি।

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ। তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, আপনি, তুই। 

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি ইত্যাদি। 

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
.
নিচের কোনটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ নয়?
  1. ক) বনস্পতি
  2. খ) ষোড়শ
  3. গ) পরস্পর
  4. ঘ) ততোধিক
সঠিক উত্তর:
ঘ) ততোধিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ততোধিক
ব্যাখ্যা
ততোধিক- নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি নয়। 
‘ততোধিক’ হলো বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ। এর যথাযথ সন্ধিবিচ্ছেদ হলো - ততঃ + অধিক = ততোধিক।

• সন্ধির নিয়ম:
অ ধ্বনির পরস্থিত (অঘোষ উষ্মধ্বনি) বিসর্গের পর অ ধ্বনি থাকলে অ + ঃ + অ - এই তিনে মিলে ও কার হয়।
যেমন: ততঃ + অধিক = ততোধিক।

• সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে।
নিচে কয়েকটি নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধির উদাহরণ হল:
- বন + পতি = বনস্পতি,
- পর+পর = পরস্পর
- আ + চর্য = আশ্চর্য
- গো + পদ = গোষ্পদ 
- পর + পর = পরস্পর
- ষট্ + দশ = ষোড়শ
- এক+ দশ = একাদশ
- পতৎ + অঞ্জলি = পতঞ্জলি
- গো+ইন্দ্র = গবেন্দ্র
- কুল+অটা = কুলটা
- গো+অক্ষ = গবাক্ষ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
.
নিচের কোন বাক্যে 'সামান্য' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছে।
  2. খ) ধীরে ধীরে যায়।
  3. গ) আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
  4. ঘ) নরম নরম হাত।
সঠিক উত্তর:
গ) আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
ব্যাখ্যা
'আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।'- বাক্যে 'সামান্য' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

তাছাড়া,
'তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ'- পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
'ধীরে ধীরে যায়'- 'ক্রিয়া বিশেষণ' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
'নরম নরম হাত'- 'তীব্রতা বা সঠিকতা' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।  
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
.
নিচের কোন বানানটি সঠিক নয়?
  1. ক) অভিশংসন
  2. খ) অভ্যুদয়
  3. গ) কর্তব্যনিষ্ট
  4. ঘ) কর্ণশূল
সঠিক উত্তর:
গ) কর্তব্যনিষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কর্তব্যনিষ্ট
ব্যাখ্যা
কর্তব্যনিষ্ট বানানটি অশুদ্ধ।
এর শুদ্ধ বানান কর্তব্যনিষ্ঠ।   
কর্তব্যনিষ্ঠ- সংস্কৃত শব্দ।  
'কর্তব্যনিষ্ঠ' শব্দের অর্থ- কর্তব্য পালনে নিষ্ঠা আছে এমন। 

তাছাড়া, 
অভিশংসন শব্দের অর্থ- সাংবিধানিক পদে নিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রকাশ্য অভিযোগ আনয়ন। 
অভ্যুদয় শব্দের অর্থ- উদয়, উদ্ভব। 
কর্ণশূল শব্দের অর্থ- কানের ব্যথা। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বানান অভিধান। 
১০.
'Persecution' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) ব্যক্তিত্ব
  2. খ) উৎপীড়ন
  3. গ) শাশ্বত
  4. ঘ) প্রচারণা
সঠিক উত্তর:
খ) উৎপীড়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উৎপীড়ন
ব্যাখ্যা
বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা অনুসারে, 
'Persecution' এর বাংলা পরিভাষা- 'উৎপীড়ন' 

তাছাড়া,
Propaganda এর বাংলা পরিভাষা-  প্রচারণা 
'Perpetual' এর বাংলা পরিভাষা- শাশ্বত
'Personality' এর বাংলা পরিভাষা- ব্যক্তিত্ব 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা।
১১.
নিচের কোনটি 'সংবৃত' স্বরধ্বনি?
  1. ক) [ই], [উ]
  2. খ) [এ], [ও]
  3. গ) [অ্যা] [অ]
  4. ঘ) [আ]
সঠিক উত্তর:
ক) [ই], [উ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) [ই], [উ]
ব্যাখ্যা
[ই], [উ]- 'সংবৃত' স্বরধ্বনি। 

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।
সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]।
উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (সর্বশেষ সংস্করণ)।
১২.
নিচের কোন সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়?
  1. ক) বিপদ + চয় = বিপচ্চয়
  2. খ) উদ্‌ + ছেদ = উচ্ছেদ
  3. গ) বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া
  4. ঘ) সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্‌ + ছেদ = উচ্ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্‌ + ছেদ = উচ্ছেদ
ব্যাখ্যা
উদ্‌ + ছেদ = উচ্ছেদ; সন্ধি বিচ্ছেদটি সঠিক নয়।
এর সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ: উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ 

সন্ধির নিয়ম:
ত্‌ ও দ্‌ এর পর চ্‌ ও ছ্‌-  থাকলে ত্‌ ও দ্‌ স্থানে চ্‌ হয়। 
যেমন:
- উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ 
- বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া 
- বিপদ + চয় = বিপচ্চয় 
- সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা 


উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
১৩.
'হররোজ' কোন ধরনের উপসর্গ?
  1. ক) বাংলা উপসর্গ
  2. খ) তৎসম উপসর্গ
  3. গ) ফারসি উপসর্গ
  4. ঘ) উর্দু- হিন্দি উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) উর্দু- হিন্দি উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উর্দু- হিন্দি উপসর্গ
ব্যাখ্যা
'হররোজ'- উর্দু- হিন্দি উপসর্গ। 
- এখানে 'হর' উপসর্গটি 'প্রত্যেক' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 
এমন আরো কিছু শব্দ: হরমাহিনা, হরকিসিম, হরহামেশা ইত্যাদি। 

•  সংস্কৃত বা তৎসম উপসর্গ ২০টি:
যথা:  প্র, পরা, অপ, সম, নি, অনু, অব, নির, দুর, বি, অধি, সু, উৎ, পরি, প্রতি, অতি, অভি, অপি, উপ, আ।

• বাংলা উপসর্গ ২১ টি।
যথাঃ অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আব, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

• আরবি উপসর্গঃ আম, খাস, লা, গর, বাজে এবং খয়ের।
• ফারসি উপসর্গঃ কার, দর, না, নিম, ফি, বদ, বে, বর, ব, কম।
• উর্দু উপসর্গঃ হর।
• ইংরেজি উপসর্গঃ হেড, সাব, ফুল, হাফ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৪.
কোন পদের ক্ষেত্রে পুরুষ হয়না?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণ
ব্যাখ্যা
'পুরুষ' একটি পারিভাষিক শব্দ।
- বিশেষ্য, সর্বনাম, ক্রিয়ারই পুরুষ আছে।
- বিশেষণ ও অব্যয়ের পুরুষ নেই।

ব্যাকরণে পুরুষ তিন প্রকার।
যথা- উত্তম, মধ্যম ও নাম পুরুষ।

উত্তম পুরুষ:
স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ। আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ। যেমন: আমি 

মধ্যম পুরুষ:
প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ।
যেমন: তুমি, তোমরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।

নাম পুরুষ:
অনুপস্থিত বা পরোক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি, বস্তু, প্রাণীই নাম পুরুষ।
যেমন: সে, তারা, তাদের, তিনি, তাহাদের প্রভৃতি নাম পুরুষ। (সমস্ত বিশেষ্য শব্দই নাম পুরুষ)।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
১৫.
নিচের কোন বাক্যে 'অভ্যস্ততা' অর্থে যৌগিক ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) তিনি বলতে লাগলেন।
  2. খ) সাইরেন বেজে উঠল।
  3. গ) শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
  4. ঘ) ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল।
সঠিক উত্তর:
গ) শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে।
ব্যাখ্যা
' শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে' - 'অভ্যস্ততা' অর্থে যৌগিক ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে। 

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া।  
যেমন: 
তাগিদ দেয়া অর্থে- তিনি বলতে লাগলেন।  
আকস্মিকতা অর্থে- সাইরেন বেজে উঠল। 
কার্যসমাপ্তি অর্থে- ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ৯ম - ১০ম শ্রেণী ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১৬.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) জাজ্বল্যমান
  2. খ) জন্মবার্ষিক
  3. গ) জ্ঞাতার্থে
  4. ঘ) অবগতির জন্য
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞাতার্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জ্ঞাতার্থে
ব্যাখ্যা
'জ্ঞাতার্থে' - অপপ্রয়োগ এর উদাহরণ।

এখানে,
জ্ঞাতার্থে শব্দটি বহুল প্রচলিত হলেও ব্যাকরণসম্মত নয়।
জ্ঞাত + অর্থে = জ্ঞাতার্থে; এভাবে নিষ্পন্ন হলে শব্দটি অর্থহীন হয়ে যায়। 
তাই অবগতির জন্য লিখতে হবে, জ্ঞাতার্থে নয়। 

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ। 
১৭.
নিচের কোন লিঙ্গান্তরটি সঠিক নয়?
  1. ক) দেবর- জা
  2. খ) ছেলে- ছেলে বউ
  3. গ) ধোপা- ধোপানি
  4. ঘ) শ্রোতা- শ্রোতানি
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রোতা- শ্রোতানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শ্রোতা- শ্রোতানি
ব্যাখ্যা
শ্রোতা- শ্রোতানি; লিঙ্গান্তরটি সঠিক নয়।
এর সঠিক লিঙ্গান্তর: শ্রোতা- শ্রোত্রী। 

- যেসব পুরুষবাচক শব্দের শেষে 'তা' রয়েছে, স্ত্রীবাচক বোঝাতে সেসব শব্দে 'স্ত্রী' হয়। 
যেমন: শ্রোতা- শ্রোত্রী, নেতা- নেত্রী, কর্তা- কর্ত্রী, ধাতা- ধাত্রী ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
১৮.
নিচের কোনটি মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ নয়?
  1. ক) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম।
  2. খ) এখন গোল্লায় যাও।
  3. গ) এখন যেতে পার।
  4. ঘ) ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে।
সঠিক উত্তর:
গ) এখন যেতে পার।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) এখন যেতে পার।
ব্যাখ্যা
এখন যেতে পার- মিশ্র ক্রিয়ার উদাহরণ নয়। 
এটি  যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

মিশ্র ক্রিয়া
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে
গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
যেমন–
বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও। 
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে : ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে।  

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে একটি সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। 
যেমন:  এখন যেতে পার। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
নিচের কোন বাক্যে তারিখ লেখার ক্ষেত্রে কমার সঠিক ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) মার্চ, ১৮, ২০২৩
  2. খ) মার্চ ১৮, ২০২৩
  3. গ) ১৮, মার্চ, ২০২৩
  4. ঘ) কোনটিই না
সঠিক উত্তর:
খ) মার্চ ১৮, ২০২৩
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) মার্চ ১৮, ২০২৩
ব্যাখ্যা
মার্চ ১৮, ২০২৩- তারিখ লেখার ক্ষেত্রে কমার সঠিক ব্যবহার হয়েছে। 

তারিখের পরেই সাল থাকলে, তারিখের পরে কমা বসাতেই হবে। 
যেমন:  মার্চ ১৮, ২০২৩ 

কমার ব্যবহার: 
অল্প বিরাম বোঝাতে কিছু স্থানে কমা ব্যবহৃত হয়। যথা:
- নামের শেষে ডিগ্রি থাকলে কমা বসে।
যেমন: ডক্টর মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, এমএ. পিএইচডি।
- এক জাতীয় একাধিক বাক্য পাশাপাশি ব্যবহৃত হলে তাদের আলাদা করতে।
- একই পদের বারবার ব্যবহারের মাঝে কমা বসে।
- সম্বোধনের পর কমা বসে।
- তারিখ লিখতে কমা বসে
- - খণ্ডবাক্যের পরে কমা বসে।ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ), বাংলা লেখার নিয়ম কানুন- ড. হায়াৎ মামুদ। 
২০.
অসমাপিকা ক্রিয়াপদ বাক্যের কোথায় বসে?
  1. ক) প্রথমে
  2. খ) শেষে
  3. গ) বিশেষণের পূর্বে
  4. ঘ) বিশেষ্যের পর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণের পূর্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষণের পূর্বে
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়াপদ- 'বিশেষণের পূর্বে' বাক্যের বসে। 
যেমন: 
লোকটি ব্যবহারে  খুবই ভদ্র। 
রাজশাহীর আম খেতে চমৎকার। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২১.
'তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে'- কোন বাচ্যের উদাহরণ?
  1. ক) কর্তৃবাচ্য
  2. খ) কর্মবাচ্য
  3. গ) ভাববাচ্য
  4. ঘ) কর্মকর্তৃবাচ্য
সঠিক উত্তর:
গ) ভাববাচ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ভাববাচ্য
ব্যাখ্যা
'তোমাকেই ঢাকা যেতে হবে'- 'ভাববাচ্য' এর উদাহরণ।  
 
ভাববাচ্য:  
যে বাচ্যে কর্ম থাকে না এবং বাক্যের ক্রিয়ার অর্থই বিশেষভাবে ব্যক্ত হয়, তাকে ভাববাচ্য বলে।

ভাববাচ্যের বৈশিষ্ঠ্য: 
- ভাববাচ্যে ক্রিয়া সর্বদা নাম পুরুষের হয়। ভাববাচ্যের কর্তায় ষষ্ঠী, দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয় বিভক্তি প্রযুক্ত হয়।
যেমন - আমার খাওয়া হলো না। (কর্তায় ষষ্ঠী)

- কখনো কখনো ভাববাচ্যে কর্তা উহ্য থাকে, কর্ম দ্বারাই ভাববাচ্য গঠিত হয়।
যেমন - এ পথে চলা যায় না; এবার ট্রেনে ওঠা যাক।

- মূল ক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগী ক্রিয়ার সংযোগ ও বিভিন্ন অর্থে ভাববাচ্যের ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন - এ রাস্তা আমার চেনা নেই।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি। ( ২০১৯ সংস্করণ)। 
২২.
নিচের কোন বাক্যে 'পরিণতি' বোঝাতে 'ইলে > লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে?
  1. ক) চারটা বাজলে স্কুলের ছুটি হবে।
  2. খ) এখন বৃষ্টি হলে ফসলের ক্ষতি হবে।
  3. গ) তিনি গেলে কাজ হবে।
  4. ঘ) বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে।
ব্যাখ্যা
'বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে' বাক্যে- 'পরিণতি' বোঝাতে 'ইলে > লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার হয়েছে। 

তাছাড়া,
'ইলে' > 'লে' বিভক্তিযুক্ত অসমাপিকা ক্রিয়ার কয়েকটি ব্যবহার -
- কার্যপরম্পরা বোঝাতে -- চারটা 'বাজলে' স্কুলের ছুটি হবে।
- সম্ভাব্যতা অর্থে -- এখন বৃষ্টি 'হলে' ফসলের ক্ষতি হবে।
- সাপেক্ষতা বোঝাতে -- তিনি 'গেলে' কাজ হবে।
- প্রশ্ন বা বিস্ময় জ্ঞাপনে -- একবার 'মরলে' কি কেউ ফেরে?
- বিধিনির্দেশ অর্থে- এখানে প্রচারপত্র লাগালে ফৌজদারিতে সোপর্দ হবে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।
২৩.
নিচের কোনটি ৪র্থী তৎপুরুষ সমাসের সমস্তপদ?
  1. ক) মৃগশিশু
  2. খ) খোশমেজাজ
  3. গ) বিয়েপাগলা
  4. ঘ) আশীবিষ
সঠিক উত্তর:
গ) বিয়েপাগলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিয়েপাগলা
ব্যাখ্যা
বিয়েপাগলা= বিয়ের জন্য পাগলা;  ৪র্থী তৎপুরুষ সমাসের সমস্তপদ। 

তৎপুরুষ সমাস:
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। 
৪র্থী তৎপুরুষ সমাস:
পূর্বপদে চতুর্থী বিভক্তি ( কে, জন্য, নিমিত্ত ইত্যাদি) লোপে যে সমাস হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। 
যেমন: 
বিয়েপাগলা= বিয়ের জন্য পাগলা;
গুরুকে ভক্তি= গুরুভক্তি;
বসতের নিমিত্ত বাড়ি= বসতবাড়ি 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম- দশম শ্রেণি। (২০১৯ সংস্করণ)। 
২৪.
'Hoarder' এর বাংলা পরিভাষা কোনটি?
  1. ক) ফেরিওয়ালা
  2. খ) মাতব্বর
  3. গ) মজুতদার
  4. ঘ) দরকষাকষি
সঠিক উত্তর:
গ) মজুতদার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) মজুতদার
ব্যাখ্যা
'Hoarder' এর বাংলা পরিভাষা- মজুতদার 

তাছাড়া, 
Hawker এর বাংলা পরিভাষা- ফেরিওয়ালা  
Headman এর বাংলা পরিভাষা - মাতব্বর 
Higgling এর বাংলা পরিভাষা- দরকষাকষি 

উৎস: বাংলা একাডেমি প্রশাসনিক পরিভাষা। 
২৫.
'উপসর্গ' কোন ধরনের শব্দ?
  1. ক) মৌলিক শব্দ
  2. খ) যৌগিক শব্দ
  3. গ) রূঢ়ি শব্দ
  4. ঘ) যোগরূঢ় শব্দ
সঠিক উত্তর:
গ) রূঢ়ি শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) রূঢ়ি শব্দ
ব্যাখ্যা
'উপসর্গ'-  রূঢ়ি শব্দ। 

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: উপ + সর্গ = উপসর্গ; ব্যুৎপত্তিগত অর্থ- পূর্বের অধ্যায়। কিন্তু ব্যবহারিক অর্থ- রোগের লক্ষণ। 
- সন্দেশ, হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।
২৬.
'রিক্‌শা > রিশ্‌কা'- এটি ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ক) অসমীকরণ
  2. খ) ধ্বনি বিপর্যয়
  3. গ) সমীভবন
  4. ঘ) বিষমীভবন
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনি বিপর্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বনি বিপর্যয়
ব্যাখ্যা
• ধ্বনি বিপর্যয়:
শব্দের মধ্যে দুটি ব্যঞ্জনের পরস্পর পরিবর্তন ঘটলে তাকে ধ্বনি বিপর্যয় বলে।
যেমন –  রিক্‌শা > রিশ্‌কা অনুরুপ – পিশাচ > পিচাশ, লাফ > ফাল। 

অন্যদিকে, 
• অসমীকরণ: একই ঘরের পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমন – ধপ + ধপ > ধপাধপ, টপ + টপ > টপাটপ ইত্যাদি। 

• সমীভবন: শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন: জন্ম > জম্ম, কাঁদনা > কান্না।

• বিষমীভবন: দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন – শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৯ সংস্করণ)।
২৭.
ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথের গ্রন্থের নাম কি?
  1. ক) ধ্বনিবিজ্ঞান
  2. খ) ধ্বনিতত্ত্ব
  3. গ) শব্দতত্ত্ব
  4. ঘ) শব্দবিজ্ঞান
সঠিক উত্তর:
গ) শব্দতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শব্দতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
ধ্বনিবিজ্ঞানের উপর লেখা রবীন্দ্রনাথ রচিত গ্রন্থ হলো- 'শব্দতত্ত্ব' 
- গ্রন্থটি ১৯০৯ সালে প্রকাশিত হয়
- এছাড়া তিনি বাংলা ব্যাকরণ থেকে সম্প্রদান কারক কে বাদ দেওয়ার কথা বলেছিলেন।

উৎস: লাল নীল দীপাবলি-হুমায়ুন আজাদ, এবং বাংলাপিডিয়া।
২৮.
'প্রতারণা করা' অর্থে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) চিচিং ফাঁক
  2. খ) চোখে ধূলি দেওয়া
  3. গ) চাটিবাটি গুটানো
  4. ঘ) চোরাবালি
সঠিক উত্তর:
খ) চোখে ধূলি দেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) চোখে ধূলি দেওয়া
ব্যাখ্যা
চোখে ধূলি দেওয়া- বাগধারাটির অর্থ- 'প্রতারণা করা' 
বাক্য গঠন: আমার চোখে ধূলি দিতে চাও,এত সাহস তোমার এখনো হয়নি।

তাছাড়া, 
'চাটিবাটি গুটানো' বাগধারাটি অর্থ- বাস্তুত্যাগ করা
‘চিচিং ফাঁক’ বাগধারাটির অর্থ- 'গুপ্ত মন্ত্র প্রকাশ করা'। 
‘চোরাবালি’ বাগধারাটির অর্থ-  'প্রচ্ছন্ন আকর্ষণ'। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাগধারা বাগবিধি, লেখক- মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান 
২৯.
‘অবহিত’ এর বিপরীত শব্দ কোনটি?
  1. ক) বিরল
  2. খ) নিগ্রহ
  3. গ) উন্নত
  4. ঘ) অনবহিত
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনবহিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনবহিত
ব্যাখ্যা
‘অবহিত’ এর বিপরীত শব্দ হলো 'অনবহিত'

এছাড়াও 
বিরল এর বিপরীত শব্দ অবিরল
নিগ্রহ এর বিপরীত শব্দ অনুগ্রহ
উন্নত এর বিপরীত শব্দ অবনত

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি,লেখক- ড. হায়াৎ মামুদ
৩০.
নিচের কোনটি নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়?
  1. ক) সতীন
  2. খ) এয়ো
  3. গ) কুমারী
  4. ঘ) সধবা
সঠিক উত্তর:
গ) কুমারী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) কুমারী
ব্যাখ্যা
কুমারী- নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ নয়। 

• ঈ-প্রত্যয় যোগে বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ: 
- কুমার- কুমারী
- মানব- মানবী

নিত্য স্ত্রীবাচক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে যা কেবল স্ত্রীবাচক এদেরকে নিত্য স্ত্রীবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- এয়ো, সতীন, সৎমা, সধবা, কুলটা, বিধবা, অরক্ষণীয়া, সপত্নী ইত্যাদি। 

নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ:
কিছু শব্দ আছে তা কেবল পুরুষকে নির্দেশ করে এদেরকে নিত্য পুরুষবাচাক শব্দ বলে।
যেমন- কবিরাজ, কৃতদার, অকৃতদার, ঢাকী ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 
৩১.
‘অসম্ভব বস্তু’ বলতে কোন বাগধারাটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সুখের পায়রা
  2. খ) সোনার চাঁদ 
  3. গ) সোনার পাথর বাটি
  4. ঘ) স্যাক দেওয়া
সঠিক উত্তর:
গ) সোনার পাথর বাটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সোনার পাথর বাটি
ব্যাখ্যা
অসম্ভব বস্তু বলতে ব্যবহৃত হয় ‘সোনার পাথর বাটি’
বাক্য গঠন: গল্পটি তোমার একদম বানানো, বাস্তবতার লেশমাত্র নেই, সোনার পাথর বাটির মতো আজগুবি।  

তাছাড়া, 
সুখের পায়রা' বাগধারাটির অর্থ- 'বিলাসী'
'সোনার চাঁদ' বলতের বুঝায় আদরের পাত্র
'স্যাক দেওয়া' বলতে বুঝায় জব্দ করা 

উৎস বাগধারা বাগবিধি,লেখক- মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান
৩২.
অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি; এখানে 'অসুস্থ ছেলেটি' কোন ধরণের বর্গের অন্তর্গত?
  1. ক) বিশেষ্যবর্গ
  2. খ) বিশেষণবর্গ
  3. গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্যবর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিশেষ্যবর্গ
ব্যাখ্যা
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশ কে বর্গ বলে। 
নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেয়া হল- 

বিশেষ্যবর্গ:
বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধ পদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্যবর্গ তৈরি হয়। 
যেমন - অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি। 

বিশেষণবর্গ:
বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণবর্গ।
যেমন- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। 

ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ:
যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ বলে। 
যেমন - তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে  গিয়ে দাড়ালাম। 

ক্রিয়া বর্গ:
বাক্যের ইধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় সময় ক্রিয়া বর্গহিসেবেকাজকরে।
যেমন - সে লিখছে আর হাসছে। 
            সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৩.
নিচের কোনটি ভিন্নার্থক?
  1. ক) ঘর
  2. খ) আলয়
  3. গ) প্রবৃত্তি
  4. ঘ) আগার
সঠিক উত্তর:
গ) প্রবৃত্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) প্রবৃত্তি
ব্যাখ্যা
গৃহ শব্দের সমার্থক শব্দ হলো- 
- ঘর
- আলয়
- আগার

অপরদিকে প্রবৃত্তি শব্দের সমার্থক শব্দ হলো:
- ইচ্ছা 
- অভিলাষ
- সন্তোষ
- ঈপ্সা
- অভীপ্সা
- কামনা
- বাসনা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( সর্বশেষ সংস্করণ)
৩৪.
'ভিটায় ঘুঘু চড়ানো' বাগধারাটির অর্থ-
  1. ক) বাইরে পরিপাটি
  2. খ) নিঃস করা
  3. গ) শিক্ষার শুরু
  4. ঘ) অত্যন্ত গরিব
সঠিক উত্তর:
খ) নিঃস করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিঃস করা
ব্যাখ্যা
'ভিটায় ঘুঘু চড়ানো' বাগধারাটির অর্থ- নিঃস করা 
বাক্য গঠন: ও হুমকি দিয়ে বলেছে, আমার ভিটায় নাকি ঘুঘু চড়াবে। 

তাছাড়া,
'লেফাফা দুরস্ত' বাগধারাটির অর্থ- 'বাইরে পরিপাটি' 
হাতেখড়ি বাগধারাটির অর্থ- 'শিক্ষার শুরু'   
ছা- পোষা বাগধারাটির অর্থ- 'অত্যন্ত গরিব' 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২০ সংস্করণ)।
৩৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) ছেলেটি বংশের চোখে চুনকালি দিল
  2. খ) তিনি স্বত্রীক ঢাকায় থাকেন
  3. গ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
  4. ঘ) নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত অসুখী
সঠিক উত্তর:
গ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ
ব্যাখ্যা
• প্রদত্ত প্রশ্নে শুদ্ধ বাক্য হচ্ছে - তাহার বৈমাত্রেয় ভ্রাতা অসুস্থ।
- বাকি অপশনগুলো অশুদ্ধ নিয়মে গঠিত।

• অপশনগুলোর শুদ্ধরূপ হচ্ছে - 
- ছেলেটি বংশের মুখে চুনকালি দিল।
- নীরোগ লোকেরাই প্রকৃত সুখী।
- তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ, ড. মোহাম্মদ আমীন।
৩৬.
যে নারী শিশুসন্তানসহ বিধবা- এর এক কথায় প্রকাশ-
  1. ক) বীরপ্রসূ
  2. খ) অঙ্গনা 
  3. গ) বালপুত্রিকা
  4. ঘ) চিরন্টী 
সঠিক উত্তর:
গ) বালপুত্রিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বালপুত্রিকা
ব্যাখ্যা
যে নারী শিশুসন্তানসহ বিধবা =  বালপুত্রিকা

তাছাড়া, 
যে নারি চিরকাল পিতৃগৃহবাসিনী=চিরন্টী
যে নারী দেহ সৌষ্ঠব সম্পন্না = অঙ্গনা
যে নারী বীর সন্তান প্রসব করে =  বীরপ্রসূ

আরো কিছু বাক্য সংকোচনঃ
 যে নারী সহবাসে মৃত্যু হয় = বিষকন্যকা
 যে নারী বীর = বীরাঙ্গনা 
যে নারী বার (সমূহ) গামিনী=বারাঙ্গনা
যে নারী অঘটন ঘটাতে পারদর্শী =অঘটনঘটনপটিয়সী
যে নারী একবার সন্তান প্রসব করেছে =কাকবন্ধ্যা
যে নারী পূর্বে অন্যের স্ত্রী ছিল।=অন্যপূর্বা
যে নারী সূর্যকে দেখে না (অন্তঃপুরে থাকে) =অসূর্যম্পশ্যা
যে নারী চিত্রে অর্পিতা বা নিবন্ধা = চিত্রার্পিতা
যে নারী (বা গাভী) দুগ্ধবতী = পয়স্বিনী
যে নারী প্রিয় বাক্য বলে = প্রিয়ংবদা
যে নারী স্বয়ং পতি বরণ করে = স্বয়ংবরা
যে নারী সুন্দরী = রামা


উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড.সৌমিত্র শেখর
৩৭.
বাংলা যৌগিক স্বরধ্বনি কয়টি ?
  1. ক) ২০
  2. খ) ২৫
  3. গ) ২৩
  4. ঘ) ১১
সঠিক উত্তর:
খ) ২৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ২৫
ব্যাখ্যা
বাংলা যৌগিক স্বরধ্বনি ২৫ টি ।
বাংলা যৌগিক স্বরধ্বনি পৃথক বর্ণ দিয়ে চিহ্নিত করা হয় দুটো (ঐ, ঔ)। এ ছাড়া আরো তেইশটি যৌগিক স্বরধ্বনি আছে কিন্তু এদের জন্য পৃথক কোনো বর্ণ নেই। 
অর্থাৎ বাংলা যৌগিক স্বরধ্বনি সাকুল্যে পঁচিশটি। এর মধ্যে নিচে কয়েকটি উল্লেখ করা হলো :
অ + ও = অও > লও
অ + এ = অয় > নয
আ + ই = আইন > গাই
আ + এ = আয় > খায়
আ + উ = আউ > হাউ
 ই + আ = ইআ > উড়িয়া;
ই + ই = ইই > দিই
ই + উ = ইউ > মিউ
ই + এ = ইএ > গাইয়ে
ই + ও = ইও > নিও
উ + ই = উই > ছুঁই 
উ + ও = উও > কুয়ো
এ + ই = এই > সেই
এ + উ = এউ > কেউ
ও + ই = ওউ > মউ
ও + ও = ওও > ধোও
এ্যা + এ = এ্যায় > দ্যায়
এ্যা + ও = এ্যাও > ম্যাও

উৎস : বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর
৩৮.
'ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ' গ্রন্থের রচয়িতা-
  1. ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. খ) ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
  3. গ) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
  4. ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
ব্যাখ্যা
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় রচিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বিষয়ক গ্রন্থ হলো 'ভাষাপ্রকাশ বাঙ্গালা ব্যাকরণ'।
The Origin and Development of Bengali Language বাংলা ভাষার উৎপত্তি বিষয়ক তার রচিত গ্রন্থ । 

সুত্রঃ বাংলাপিডিয়া।
৩৯.
'রাত্রি' শব্দের সমার্থক নয়-
  1. ক) যামিনী
  2. খ) নিশীথিনী
  3. গ) নীরদ
  4. ঘ) ক্ষণদা
সঠিক উত্তর:
গ) নীরদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নীরদ
ব্যাখ্যা
'রাত্রি' শব্দের সমার্থক-
- রজনী;
- ত্রিযামা;
- যামিনী;
- রাত;
- নিশা;
- নিশীথিনী;
- ক্ষণদা;
- শর্বরী;
- বিভাবরী।

• ‘নীরদ’ হলো মেঘের সমার্থক শব্দ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪০.
স্বভাব অর্থে 'অ' প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ-
  1. ক) পাণ্ডু + অ = পাণ্ডব
  2. খ) শিব + অ = শৈব
  3. গ) তপস + অ = তাপস
  4. ঘ) মুনি + অ = মৌন
সঠিক উত্তর:
গ) তপস + অ = তাপস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তপস + অ = তাপস
ব্যাখ্যা
সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে  অ ( অন, অএ ,ষ্ণ) প্রত্যয় যোগে বিভিন্ন অর্থে শব্দ গঠিত হয়।
• স্বভাব অর্থে : তপস + অ = তাপস,
                    ছত্র + অ = ছাত্র ।
• অপত্য অর্থে : যদু + অ = যাদব,
                        দনু + অ = দানব,
                       পাণ্ডু + অ = পাণ্ডব,
• ভক্ত বা উপাসক অর্থে : শিব + অ = শৈব,
                                     শক্তি + অ = শাক্ত,
                                     বিষ্ণু + অ = বৈষ্ণব
• ভাবার্থে : মুনি + অ = মৌন,
               গুরু + অ = গৌরব,
• রচিত অর্থে : ব্যাকরণ + অ = বৈয়াকরণ,
                     স্মৃতি + অ = স্মার্ত
• বিকার অর্থে : তিল + অ = তৈল,
                     হেম + অ = হৈম
• তৎ-সম্বন্ধীয় অর্থে : পৃথিবী + অ = পার্থিব,
                               নিশা + অ = নৈশ,
                               দেব + অ = দৈব,
                               বিধি + অ = বৈধ

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৪১.
আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। এখানে 'ভারী সুন্দর' কোন বর্গের উদাহরণ?
  1. ক) বিশেষ্যবর্গ
  2. খ) বিশেষণবর্গ
  3. গ) ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া বর্গ
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণবর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশেষণবর্গ
ব্যাখ্যা

আমটা দেখতে ভারী সুন্দর- এখানে 'ভারী সুন্দর' বিশেষণ বর্গের উদাহরণ।
- এখানে 'আম' বিশেষ্যের বিশেষণ রূপে ভারী সুন্দর ব্যবহৃত হয়েছে।  
বাক্যের মধ্যে একাধিক শব্দ নিয়ে গঠিত বাক্যাংশ কে বর্গ বলে। 

নিচে বিভিন্ন ধরনের বর্গের পরিচয় দেয়া হল- 
বিশেষ্যবর্গ:
বিশেষ্যের আগে এক বা একাধিক বিশেষণ বা সম্বন্ধ পদ যুক্ত হয়ে বিশেষ্যবর্গ তৈরি হয়। 
যেমন - অসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি। 
             আমার ভাই পড়তে বসেছে।  
            রহিম ও করিম বৃষ্টিতে ভিজছে। 

বিশেষণবর্গ:
বিশেষণ জাতীয় শব্দের গুচ্ছকে বলা হয় বিশেষণবর্গ।
যেমন- আমটা দেখতে ভারী সুন্দর। 
           ভদ্রলোক সত্যিকারের নির্লোভ

ক্রিয়াবিশেষণ
বর্গ: যে শব্দগুচ্ছ ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বর্গ বলে। 
যেমন - সকাল আটটার সময় সে রওনা হলো।
            তারপর আমরা দশ নম্বর প্লাটফর্মে  গিয়ে দাড়ালাম। 

ক্রিয়া বর্গ:
বাক্যের ইধেয় অংশের ক্রিয়া প্রায় সময় ক্রিয়া বর্গহিসেবেকাজকরে।
যেমন - সে লিখছে আর হাসছে। 
            সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর বসে পড়লো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।

৪২.
শাক্ত শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
  1. ক) শক্তি+অ
  2. খ) শাক্ত+ই
  3. গ) শাক্ত+অ
  4. ঘ) শক্তি+ই
সঠিক উত্তর:
ক) শক্তি+অ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শক্তি+অ
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে শাক্ত শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হলো- শক্তি+অ। 
- এটি একটি সংস্কৃত তদ্ধিত প্রত্যয়।

• শাক্ত (বিশেষণ):
- এর সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে শাক্‌তো।
- এর অর্থ হচ্ছে শক্তির উপাসক, তান্ত্রিক।
- এর সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয়- শক্তি+অ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৪৩.
কোনটি তদ্ধিতান্ত শব্দের উদাহরণ নয়?
  1. ক) পাগলামি
  2. খ) বিবিয়ানা
  3. গ) দোলনা
  4. ঘ) বাজিকর
সঠিক উত্তর:
গ) দোলনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) দোলনা
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নের অপশনগুলোতে দোলনা হচ্ছে কৃদন্ত শব্দ।
- দুল্‌+অনা= দোলনা।
- বাকি অপশনগুলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

•  তদ্ধিতান্ত শব্দ: 
- শব্দের পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে তদ্ধিত প্রত্যয় বলে।
- তদ্ধিত প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

• প্রদত্ত অপশনগুলোর তদ্ধিতান্ত শব্দ:
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা।
- পাগলামি = পাগল + আমি। 
- বাজিকর = বাজি+ কর।
উপরের 'আনা', 'আমি', 'কর' ইত্যাদি হলো তদ্ধিত প্রত্যয় এবং বাবুয়ানা, পাগলামি ও বাজিকর হচ্ছে তদ্ধিতান্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৪৪.
'পদ্মআঁখি' কোন সমাস?
  1. ক) উপমান কর্মধারয়
  2. খ) রূপক কর্মধারয়
  3. গ) মধ্যলোপী কর্মধারয়
  4. ঘ) উপমিত কর্মধারয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপমিত কর্মধারয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উপমিত কর্মধারয়
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে 'পদ্মআঁখি' উপমিত কর্মধারয় সমাস।

• উপমিত কর্মধারয়:
- যাকে তুলনা করা হয়, তা উপমেয়।
- কিছু কর্মধারয় সমাসে উপমেয় পদের সাথে উপমান পদের সমাস হয়। এগুলোকে উপমিত কর্মধারয় সমাস বলে।
যেমন –
পুরুষ সিংহের ন্যায় = সিংহপুরুষ।
আঁখি পদ্মের ন্যায় = পদ্মআঁখি।
মুখ চন্দ্রের ন্যায় = চন্দ্রমুখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪৫.
'মরাবাঁচা' কোন অর্থে দ্বন্দ্ব?
  1. ক) সমার্থক
  2. খ) বিরোধার্থক
  3. গ) মিলনার্থক
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) বিরোধার্থক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিরোধার্থক
ব্যাখ্যা
- 'মরাবাঁচা' বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্বের উদাহরণ।

• পূর্বপদ ও পরপদের বিপরীত শব্দ মিলিত হয়ে যে দ্বন্দ্ব সমাস হয় তাকে বিরোধার্থক বা বিপরীতার্থক দ্বন্দ্ব সমাস বলে।
যেমন:
মরাবাঁচা = মরা ও বাঁচা,
হিতাহিত = হিত ও অহিত,
অহিনকুল = অহি ও নকুল,
ছোটবড় = ছোট ও বড়,
ভালো-মন্দ = ভালো ও মন্দ,
দাকুমড়া = দা ও কুমড়া,
সুখদুঃখ = সুখ ও দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
৪৬.
কোনটি তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ নয়?
  1. ক) মামাবাড়ি
  2. খ) হাতঘড়ি
  3. গ) গ্রামছাড়া
  4. ঘ) রাজপথ
সঠিক উত্তর:
খ) হাতঘড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হাতঘড়ি
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত প্রশ্নে হাতে পরা হয় যে ঘড়ি = হাতঘড়ি, কর্মধারয় সমাসের উদাহরণ।
- বাকি অপশনগুলো তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ।

• তৎপুরুষ সমাস:
- সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস।
- এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায় ৷
যেমন:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত।
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি,
ধানের খেত = ধানখেত,
পথের রাজা = রাজপথ
গোলায় ভরা = গোলাভরা,
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৪৭.
'ঝাঁকানি' শব্দের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় কি?
  1. ক) ঝাঁক্‌+ইনি
  2. খ) ঝাঁক্‌+আনি
  3. গ) ঝাঁক্‌+এনি
  4. ঘ) ঝাঁক্‌+নি
সঠিক উত্তর:
খ) ঝাঁক্‌+আনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঝাঁক্‌+আনি
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত প্রশ্নের সঠিক প্রকৃতি ও প্রত্যয় হচ্ছে- ঝাঁক্‌+আনি।

 আনি প্রত্যয় যোগে আরো কয়েকটি শব্দ হচ্ছে-
• প্রদত্ত শব্দ -- প্রকৃতি ও প্রত্যয়
- জ্বালানি --- জ্বাল্‌+আনি।
- ঝাঁকানি --- ঝাঁক্‌+আনি।
- শুনানি ---- শুন্‌+আনি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।