ব্যাখ্যা
- তিস্তা নদী বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে প্রবাহিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃসীমান্ত নদী। এটি মূলত ভারতের সিকিম থেকে উৎপন্ন হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশের নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলা অতিক্রম করে ব্রহ্মপুত্র নদীতে মিশে যায়।
- উত্তরবঙ্গের (বিশেষ করে রংপুর অঞ্চলের) কৃষি সেচের জন্য তিস্তার পানি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পানির অভাব হলে শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এটি শুধু ভৌগোলিক ইস্যু নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ইস্যু।
- ভারত তিস্তা নদীতে একাধিক বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মাণ করেছে (বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে)। ফলে বর্ষাকাল বাদ দিলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় পানি প্রবাহ কমে যায়। বাংলাদেশ দাবি করে, ন্যায্য ও সমানভাবে টীস্তার পানি ভাগাভাগি করা দরকার।
- ২০১১ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের কথা ছিল। বাংলাদেশে সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপত্তি তোলায় চুক্তি সই হয়নি। ফলে এখনও (২০২৫ সাল পর্যন্ত) এ সমস্যা সমাধান হয়নি।
- উত্তরবঙ্গের কৃষকরা সেচের জন্য পানির ঘাটতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন → সামাজিক-অর্থনৈতিক অসন্তোষ তৈরি হয়। প্রতিটি বাংলাদেশ-ভারত বৈঠকে এই ইস্যুটি গুরুত্ব পায় → এটি একটি দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক চাপের ক্ষেত্র। বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল এটি জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও কৃষকের অধিকার ইস্যু হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
- তিস্তা পানি বণ্টন বিরোধ মূলত বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক-ভৌগোলিক দ্বন্দ্ব।
সূত্রঃ বাংলাদেশের ভূগোল– নজরুল ইসলাম