পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অধ্যায়: বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি টপিকসমূহ: ১. বৈশ্বিক ইতিহাস: i) মানব সমাজের বিবর্তন ii) বিশ্ব সভ্যতা উৎস: ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সম্পর্কিত বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, হিস্টরি.কম, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. সুমেরীয় সভ্যতা 
  2. গ্রীক সভ্যতা
  3. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  4. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

- মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয় গ্রীক সভ্যতা।

• মেসোপটেমীয় সভ্যতা :

- মেসোপটেমীয় সভ্যতাকে বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ্রিক ভাষার শব্দ 'মেসোপটেমিয়া' অর্থ হলো "দুই নদীর মধ্যবর্তী দেশ"।

• ভৌগোলিক অবস্থান :
- বর্তমানে ইরাক, কুয়েত, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল এবং তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল নিয়ে এই সভ্যতা বিস্তৃত ছিল।
- এটি টাইগ্রিস (দজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফুরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর ভূমিতে গড়ে ওঠে।
- উৎপত্তি : আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ - ৩৫০০ অব্দের দিকে এই সভ্যতার সূচনা ঘটে। [সোর্স : ব্রিটানিকা]

• সভ্যতার ধাপসমূহ : মেসোপটেমীয় সভ্যতা চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত।
১. সুমেরীয় সভ্যতা (প্রাচীনতম)।
২. ব্যাবিলনীয়
৩. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
৪. ক্যালডীয় সভ্যতা

উৎস : এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

.
ভারতে সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে কোন অঞ্চলে?
  1. পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু
  2. বিহার, উড়িষ্যা, তামিলনাড়ু
  3. মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক
  4. পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট
ব্যাখ্যা

- ভারতে সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট।

সিন্ধু সভ্যতা: 

- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- জন মার্শালের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে আরো বহু নিদর্শন আবিষ্কার করে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার অন্তর্গত।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
- এই সভ্যতা শুধু সিন্ধু নদীর অববাহিকা বা ঐ দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা। পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে পাঞ্জাব থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পিকিং মানব কোন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. হোমো স্যাপিয়েন্স
  2. হোমো হ্যাবিলিস
  3. হোমো ইরেক্টাস
  4. অস্ট্রালোপিথেকাস
ব্যাখ্যা

পিকিং মানব (Peking Man):
- পিকিং মানব হলো 'হোমো ইরেক্টাস' (Homo erectus) প্রজাতির একটি আদিম মানুষের গোষ্ঠী।
- ১৯২০-এর দশকে চীনের বেইজিংয়ের (তৎকালীন পিকিং) নিকটবর্তী ঝৌকৌদিয়ান (Zhoukoudian) গুহায় এদের জীবাশ্ম বা কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়।
- ধারণা করা হয়, এরা আজ থেকে প্রায় ৭,৫০,০০০ থেকে ২,৩০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯২১ সালে সুইডিশ ভূতাত্ত্বিক জোহান গুনার অ্যান্ডারসন প্রথম এই স্থানটি শনাক্ত করেন।
- পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে কানাডীয় নৃতাত্ত্বিক ডেভিডসন ব্ল্যাক একটি দাঁত খুঁজে পান এবং একে একটি নতুন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৯২৯ সালে চীনা প্রত্নতাত্ত্বিক পেই ওয়েনঝং (Pei Wenzhong) প্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ খুলি (Skullcap) আবিষ্কার করেন।

• আগুনের ব্যবহার: পিকিং মানবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আগুনের ব্যবহার।
- গুহায় পোড়া হাড় এবং ছাইয়ের স্তর দেখে প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তা ব্যবহার করে খাবার রান্না করতে শিখিয়েছিল। এটি মানব বিবর্তনের ইতিহাসে একটি বিশাল মাইলফলক।

• হাতিয়ার তৈরি:
- মূলত শিকার করা এবং পশুর চামড়া ছাড়ানোর জন্য তারা কুঠার ও চাঁছনি ব্যবহার করত।

• রহস্যময় অন্তর্ধান (Missing Fossils):
- ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জাপান চীন আক্রমণ করে, তখন নিরাপত্তার খাতিরে পিকিং মানবের আদি কঙ্কালগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- কিন্তু যাত্রাপথে সেগুলো রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায় এবং আজ অবধি সেগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
- বর্তমানে কেবল কঙ্কালগুলোর ছাঁচ (Casts) টিকে আছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

.
চীনের মহাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন কে? 
  1. হান সম্রাট
  2. লাও-ৎসে
  3. কনফুসিয়াস
  4. কিন শি হুয়াং
ব্যাখ্যা

চৈনিক সভ্যতা (Chinese Civilization):
- চীনের হোয়াংহো (Yellow River) ও ইয়াংৎসে নদী (Yangtze River) নদীর অববাহিকায় এই সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- হোয়াংহো নদীতে প্রায়ই ভয়াবহ বন্যা হতো, যা জনপদ ধ্বংস করত। এ কারণে নদীটিকে ‘চীনের দুঃখ’ বলা হয়। তবে এই বন্যার পলিমাটিই জমিকে উর্বর করে সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখে।

• সাং রাজবংশের সময় থেকেই চীনে লিখন পদ্ধতির বিকাশ ঘটে।
- উত্তর দিক থেকে আগত যাযাবর জাতিগোষ্ঠীর (যেমন—জিয়ংনু) আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সম্রাট কিন শি হুয়াং চীনের মহাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
- এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্থাপত্য নিদর্শন।

• চীনারা চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতি ব্যবহার করত।
- পরবর্তীকালে তারা গাছের ছাল, পুরনো কাপড় ও শণজাত আঁশ থেকে বিশ্বের প্রথম কাগজ আবিষ্কার করে।

• কনফুসিয়াস ও লাও-ৎসে-র দর্শন চীনা সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে।
- কনফুসিয়াসের নৈতিকতা ও কর্তব্যভিত্তিক দর্শন রাষ্ট্রশাসন ও সমাজব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলে।

- চীনের রেশম বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ছিল। এই রেশম পরিবহনের দীর্ঘ বাণিজ্যপথকে ‘সিল্ক রোড’ বলা হয়,
- যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ স্থাপন করে।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নব্য প্রস্তর যুগ কোন যুগের শেষ পর্যায়?
  1. ব্রোঞ্জ যুগ
  2. পাথরের যুগ
  3. লৌহ যুগ
  4. তাম্র যুগ
ব্যাখ্যা

নব্য প্রস্তর যুগ (Neolithic Age):
- মানব সভ্যতার ইতিহাসে নব্য প্রস্তর যুগ বা 'নিওলিথিক যুগ' হলো পাথরের যুগের শেষ পর্যায়।

- একে 'নব্য প্রস্তর বিপ্লব' (Neolithic Revolution)-ও বলা হয়।
- এই যুগটি আনুমানিক ১০,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৪,৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে শুরু ও শেষ হয়েছিল।

• কৃষিভিত্তিক সমাজ: নব্য প্রস্তর যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো কৃষিকাজের সূচনা।
- মানুষ বন্য শস্য সংগ্রহ করার বদলে সেগুলো চাষাবাদ করতে শুরু করে। গম, যব এবং ডাল ছিল তাদের প্রধান ফসল।
- খাদ্য সংগ্রাহক থেকে মানুষ 'খাদ্য উৎপাদক'-এ পরিণত হয়।

• পশুপালন: এই যুগে মানুষ বন্য পশুদের পোষ মানাতে শুরু করে।
- কুকুর, ছাগল, ভেড়া এবং গরু পালন করার মাধ্যমে তারা দুধ, মাংস এবং পশমের নিয়মিত উৎস খুঁজে পায়।

• হাতিয়ার ও প্রযুক্তির উন্নতি:
- এই যুগের হাতিয়ারগুলো ছিল আগের যুগের তুলনায় অনেক বেশি মসৃণ, ধারালো এবং পালিশ করা।

• চাকা ও মৃৎশিল্পের উদ্ভব:
- চাকা আবিষ্কার এই যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন। এটি যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে আমূল পরিবর্তন আনে।

• ধর্ম ও শিল্প: 
- মানুষ এই সময় প্রকৃতি ও আদিম দেবতাদের পূজা শুরু করে এবং পাথরের তৈরি বড় বড় স্তম্ভ বা স্মৃতিস্তম্ভ (Megalith) নির্মাণ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

.
মায়া সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. মেক্সিকো
  2. গুয়াতেমালা
  3. পেরু
  4.  বেলিজ
ব্যাখ্যা

- মায়া সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয়-পেরু।
- পেরু: ইনকা সভ্যতার কেন্দ্র।

মায়া সভ্যতা (Maya Civilization):
- মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল, গুয়াতেমালা, বেলিজ এবং হন্ডুরাসের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে এই সভ্যতা বিস্তৃত ছিল।
- এটি মূলত ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট বা ঘন জঙ্গল ঘেরা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- মায়াদের কোনো একক কেন্দ্রীয় রাজধানী ছিল না;
- বরং তারা তিকাল (Tikal), কোপান (Copán) এবং চিচেন ইৎজার (Chichen Itza) মতো অসংখ্য শক্তিশালী ও স্বাধীন নগর রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল।

• জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ক্যালেন্ডার: 
- মায়ারা জ্যোতির্বিজ্ঞানে অত্যন্ত উন্নত ছিল। তারা গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অত্যন্ত নির্ভুল 'মায়া ক্যালেন্ডার' তৈরি করেছিল।
- তাদের সৌর ক্যালেন্ডার (Haab) ৩৬৫ দিনের ছিল।

• লিখন পদ্ধতি (Hieroglyphs): মায়ারা পাথরের স্তম্ভ (Stelae), মৃৎপাত্র এবং গাছের ছাল দিয়ে তৈরি কাগজে (Codex) তাদের ইতিহাস লিখে রাখত।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ফিনিশীয় সভ্যতা কোন অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. মেসোপটেমিয়ায়
  2. নীল নদের অববাহিকায়
  3. ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল
  4. মধ্য আমেরিকায়
ব্যাখ্যা

• ফিনিশীয় সভ্যতা (Phoenician Civilization):
- বর্তমান লেবানন এবং সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে এই প্রাচীন সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল।

- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তারা স্থলপথের চেয়ে জলপথে বাণিজ্যে বেশি আগ্রহী ছিল।
- গ্রীকরা এদের নাম দিয়েছিল 'ফিনিশীয়' বা 'পার্পল পিপল' (Purple People), কারণ তারা এক ধরণের বিশেষ সামুদ্রিক শামুক থেকে রাজকীয় বেগুনি রং তৈরি করত এবং এর ব্যবসা করত।

• বর্ণমালা আবিষ্কার (Invention of Alphabet):
- ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের একটি সেট তৈরি করে, যা ছিল আধুনিক বর্ণমালার পূর্বপুরুষ।
- পরবর্তীতে গ্রীকরা এই বর্ণমালার সাথে স্বরবর্ণ (Vowels) যুক্ত করে এবং রোমানদের হাত ধরে তা বর্তমান ইংরেজি বর্ণমালায় রূপ নেয়।

• প্রধান নগর রাষ্ট্রসমূহ:
- ফিনিশীয়রা কোনো একক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেনি, বরং তারা ছোট ছোট স্বাধীন 'নগর রাষ্ট্র' বা 'সিটি স্টেটস'-এ বিভক্ত ছিল।
- তারা ছিল প্রাচীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা।
- তারা ধ্রুবতারা দেখে দিক নির্ণয় করতে জানত, যাকে গ্রীকরা 'ফিনিশীয় তারা' বলত।

• কার্থেজ (Carthage):
- ফিনিশীয়রা ভূমধ্যসাগরের নানা স্থানে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। এর মধ্যে উত্তর আফ্রিকায় (বর্তমান তিউনিসিয়া) অবস্থিত 'কার্থেজ' ছিল সবচেয়ে বিখ্যাত, যা পরবর্তীতে রোমান সাম্রাজ্যের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য,
- আলেকজান্ডার ৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাদের প্রধান শহর টায়ার দখল করে নিলে ফিনিশীয়দের রাজনৈতিক স্বাধীনতার অবসান ঘটে এবং তারা হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট  এবং বিশ্ব ইতিহাস এনসাইক্লোপিডিয়া।

.
জাভা মানবের জীবাশ্ম কোথায় আবিষ্কৃত হয়?
  1. চীন
  2. দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. চিলি
ব্যাখ্যা

জাভা মানব (Java Man):
- জাভা মানব হলো 'হোমো ইরেক্টাস' (Homo erectus) প্রজাতির প্রথম আবিষ্কৃত জীবাশ্ম।
- ধারণা করা হয়, এরা আজ থেকে প্রায় ৭,০০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৮৯১ সালে ওলন্দাজ (ডাচ) অ্যানাটমিস্ট এবং ভূতাত্ত্বিক ইউজিন ডুবোয়া (Eugene Dubois) ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের সোলো নদীর তীরে এই জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন।
- এটি ছিল ইউরোপের বাইরে আবিষ্কৃত প্রথম আদিম মানুষের জীবাশ্ম। ডুবোয়া এর নাম দিয়েছিলেন 'পিথেকানথ্রোপাস ইরেক্টাস' (Pithecanthropus erectus), যার অর্থ 'সোজা হয়ে দাঁড়ানো বানর-মানুষ'।

• শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
- জাভা মানবের মাথার খুলি ছিল পুরু, কপাল ছিল নিচু এবং চোখের ওপরের হাড় (Brow ridge) ছিল বেশ চওড়া।
- এদের মস্তিষ্কের আকার ছিল প্রায় ৯০০ সিসি (cc), যা আধুনিক মানুষের চেয়ে ছোট কিন্তু ওরাংওটাং-এর চেয়ে বড়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

.
প্রথমে সপ্তাহে সাত দিনের ধারণা দিয়েছিল কারা?
  1. গ্রিক
  2. রোমান
  3. ক্যালডীয়
  4. সুমেরীয়
ব্যাখ্যা

- প্রথমে সপ্তাহে সাত দিনের ধারণা দিয়েছিল ক্যালডীয় সভ্যতা।

ক্যালডীয় সভ্যতা (Chaldean Civilization):
- ক্যালডীয়রা ছিল একটি সেমিটিক জাতি যারা আসিরীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর ব্যাবিলনে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।
- একে 'নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য'ও বলা হয়।
- কালক্রম: খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ থেকে ৫৩৯ অব্দ পর্যন্ত এই সভ্যতার স্থায়ীত্ব ছিল।
- প্রধান সম্রাট: নবোপোলাসার (প্রতিষ্ঠাতা) এবং তাঁর পুত্র সম্রাট নেবুচাদনেজার (শ্রেষ্ঠ শাসক)।
- কেন্দ্রবিন্দু: এই সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিল পুনরায় সংস্কার করা জাঁকজমকপূর্ণ 'ব্যবিলন' শহর।

• স্থাপত্যে: নেবুচাদনেজারের আমলে ব্যাবিলন শহরটি বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও সুন্দর শহরে পরিণত হয়। তিনি শহরের চারদিকে বিশাল প্রাচীর এবং নীল রঙের চকচকে ইটের তৈরি 'ইশতার গেট' নির্মাণ করেন।

• জ্যোতির্বিদ্যার উন্নতি: ক্যালডীয়রা আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত উন্নত ছিল।
- তারা সাত দিনে এক সপ্তাহ এবং ১২ মাসে এক বছরের হিসাব নিখুঁতভাবে করতে পারত।
- তারাই প্রথম সপ্তাহের সাত দিনের নামকরণ গ্রহ-নক্ষত্রের নামে করেছিল।

- ধর্ম: তারা বহু ঈশ্বরবাদী ছিল। তাদের প্রধান দেবতা ছিলেন 'মারদুক' (Marduk)। প্রতিটি বড় স্থাপত্য বা মন্দির তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হতো।

• পতন: খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যাবিলন দখল করেন।
- এর ফলে মেসোপটেমিয়ার ওপর ব্যাবিলনীয় ও ক্যালডীয়দের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চিরতরে শেষ হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
লৌহ যুগের সূচনা আনুমানিক কখন শুরু হয়?
  1. ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
  2. ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
  3. ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
  4. ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
ব্যাখ্যা

লৌহ যুগ (Iron Age):
- ব্রোঞ্জ যুগের সমাপ্তির পর মানুষ যখন লোহার আকরিক গলিয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি তৈরি করতে শিখল, তখন থেকেই লৌহ যুগের সূচনা হয়।
- আনুমানিক ১,২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই যুগের বিস্তার শুরু হয়।

• প্রযুক্তিগত বিপ্লব:
- ব্রোঞ্জের তুলনায় লোহা ছিল অনেক বেশি সহজলভ্য এবং শক্ত। 
- লোহার তৈরি কুঠার ও লাঙল কৃষিকাজে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনে,
- যার ফলে মানুষ কঠিন মাটি চাষ করা এবং গহিন জঙ্গল পরিষ্কার করে কৃষিজমি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়।

• সামরিক শক্তি ও সাম্রাজ্য বিস্তার:
- লোহার তৈরি তলোয়ার, বর্শা এবং বর্ম সৈন্যদের অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে।
- এই যুগে হিট্টাইট (Hittites) এবং পরবর্তীকালে অ্যাসিরীয় ও পারস্য সাম্রাজ্যের মতো বিশাল শক্তিগুলোর উত্থান ঘটে।

নগরায়ন ও সমাজ:
- লোহার ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বড় বড় নগর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
- এই সময় বাণিজ্যের প্রসার ঘটে এবং সমাজে শ্রম বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

• লিপি ও সংস্কৃতি:
- অধিকাংশ উন্নত লিখন পদ্ধতি এবং সাহিত্যিক ঐতিহ্যের বিকাশ এই যুগে ঘটে।
- মুদ্রার প্রচলন এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নও এই সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট (Britannica.com) এবং হিস্টোরি ডট কম।[লিঙ্ক]

১১.
মিশরীয় লিপি হায়ারোগ্লিফিক্সের পাঠোদ্ধার করেছিলেন কে? 
  1. জাঁ-ফ্রাঁসোয়া চ্যাম্পোলিয়ন
  2. হেরোডোটাস
  3. খুফু
  4. তুতেনখামেন
ব্যাখ্যা

- মিশরীয় লিপি হায়ারোগ্লিফিক্সের পাঠোদ্ধার করেছিলেন জাঁ-ফ্রাঁসোয়া চ্যাম্পোলিয়ন।

মিশরীয় সভ্যতা:

- ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের মতে, মিশর হলো "নীল নদের দান" (The Gift of the Nile)। নীল নদের নিয়মিত বন্যা ও পলিমাটি না থাকলে এই মরু অঞ্চলে এমন বিশাল সভ্যতার বিকাশ অসম্ভব ছিল।
- ফারাওরা ছিলেন মিশরের একচ্ছত্র অধিপতি। তারা মনে করতেন তারা দেবতা 'হোরাস'-এর উত্তরসূরি।
- খুফু (Khufu): চতুর্থ রাজবংশের শাসক, যিনি বিশাল পিরামিড নির্মাণ করেন।
- হাটশেপসুট (Hatshepsut): তিনি কেবল রাণী ছিলেন না, বরং ফারাও হিসেবে পূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করতেন এবং বাণিজ্যে উন্নতি ঘটান।
- তুতেনখামেন (Tutankhamun): "বালক রাজা" হিসেবে পরিচিত,
- মিশরের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কৃষি।
- নীল নদ: প্রতি বছর নীল নদে বন্যা হতো, যা জমিতে উর্বর পলি ফেলে যেত। তারা বাঁধ ও সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই পানি নিয়ন্ত্রণ করত।
- প্যাপিরাস: এই গাছ থেকে তারা বিশ্বের প্রথমদিককার কাগজ তৈরি করেছিল।
- দেব-দেবী: সূর্যদেব 'রা', সৃষ্টির দেবতা 'আমন' এবং মৃত্যুর দেবতা 'আনুবিস' ছিলেন প্রধান।
- মমি: তারা বিশ্বাস করত মৃতদেহ রক্ষা করলে আত্মা (কা) অমর হবে। ন্যাট্রন লবণের সাহায্যে মৃতদেহ শুকিয়ে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে মমি করা হতো। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৭০ দিন সময় লাগত।

• হায়ারোগ্লিফিক্স: এটি ছিল এক ধরনের লিপি যা ছবির মাধ্যমে লেখা হতো।
- ১৮২২ সালে জাঁ-ফ্রাঁসোয়া চ্যাম্পোলিয়ন (Jean-François Champollion)'রোসেটা স্টোন' (Rosetta Stone) ব্যবহারের মাধ্যমে এই লিপির পাঠোদ্ধার করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
হাইডেলবার্গ মানবের কোন অঙ্গটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়? 
  1. খুলি
  2. চোয়ালের হাড়
  3. দাঁত
  4. পায়ের হাড়
ব্যাখ্যা

হাইডেলবার্গ মানব (Heidelberg Man):
- হাইডেলবার্গ মানব বা 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস' (Homo heidelbergensis) হলো আধুনিক মানুষ (Homo sapiens) এবং নিয়ানডারথাল (Neanderthals) মানুষের সাধারণ পূর্বপুরুষ বলে ধারণা করা হয়।
- এরা আজ থেকে প্রায় ৭,০০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯০৭ সালে জার্মানির হাইডেলবার্গ শহরের কাছে মাউয়ার (Mauer) নামক স্থানে একটি বালুর খনিতে প্রথম এই প্রজাতির চোয়ালের হাড় (Mauer mandible) আবিষ্কৃত হয়।
- শ্রমিক ড্যানিয়েল হার্টম্যান এটি খুঁজে পান এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক অটো শয়টেনস্যাক (Otto Schoetensack) এটি শনাক্ত করে এর নাম দেন 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস'।

• শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
- এদের মস্তিষ্কের আকার ছিল প্রায় ১১০০ থেকে ১৪০০ সিসি (cc), যা আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের আকারের কাছাকাছি।
- এরা ছিল প্রথম দিকের এমন এক প্রজাতি যারা শীত প্রধান জলবায়ু বা ঠান্ডা পরিবেশে বসবাসের জন্য অভিযোজিত হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন।

১৩.
অ্যাজটেকরা মুদ্রার পরিবর্তে কী ব্যবহার করত?
  1. রৌপ্য 
  2. কোকো বিন
  3. স্বর্ণমুদ্রা
  4. শস্য
ব্যাখ্যা

অ্যাজটেক সভ্যতা (Aztec Civilization):
- বর্তমান মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে গড়ে ওঠা এই সভ্যতাটি ছিল প্রাচীন আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী সভ্যতা।
- আনুমানিক ১৩০০ থেকে ১৫২১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই সভ্যতা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছায়।
- তাদের প্রধান শহর বা রাজধানীর নাম ছিল 'টেনোচটিটলান' (Tenochtitlan),
- যা একটি হ্রদের মাঝখানে কৃত্রিম দ্বীপে গড়ে উঠেছিল (বর্তমান মেক্সিকো সিটি)।

• অর্থনীতি ও বাণিজ্য:
- অ্যাজটেকরা বাণিজ্যে অত্যন্ত উন্নত ছিল। 
- তারা মুদ্রার পরিবর্তে অনেক সময় কোকো বিন ব্যবহার করত।

• স্থাপত্য ও প্রকৌশল (Engineering Marvels):
- অ্যাজটেকরা জলাভূমির ওপর বড় বড় পিরামিড, মন্দির এবং প্রাসাদ তৈরি করেছিল।
- 'চিনাম্পা' (Chinampa) বা ভাসমান বাগান ছিল তাদের এক অসামান্য উদ্ভাবন।
- হ্রদের ওপর কৃত্রিম জমি তৈরি করে তারা সারা বছর কৃষিকাজ করত।

• শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থা:
- তাদের নিজস্ব লিখন পদ্ধতি (পিক্টোগ্রাফ) এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম সৌর ক্যালেন্ডার ছিল,
- যা কৃষিকাজ ও ধর্মীয় উৎসবের সময় নির্ধারণে ব্যবহৃত হতো।

• ধর্ম ও বলিদান প্রথা:
- অ্যাজটেকরা বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিল। তাদের প্রধান দেবতাদের মধ্যে ছিলেন 'হুইজিলোপোচটলি' (সূর্য ও যুদ্ধের দেবতা) এবং 'কুয়েটজালকোটল' (জ্ঞানের দেবতা)।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডট কম।

১৪.
নতুন সপ্তাশ্চর্য ‘মাচুপিচু’ (Machu Picchu) কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. মায়া সভ্যতা
  2. ইনকা সভ্যতা
  3. অ্যাজটেক সভ্যতা
  4. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

- নতুন সপ্তাশ্চর্য ‘মাচুপিচু’ (Machu Picchu) ইনকা সভ্যতার নিদর্শন।
-
তারা বিশাল বিশাল পাথর দিয়ে কোনো সিমেন্ট বা চুন ছাড়াই সুনিপুণভাবে দেয়াল তৈরি করত, যা আজও বিশ্বের বিস্ময়।

ইনকা সভ্যতা:

- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
-প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ইনকাদের কোনো লিখিত লিপি ছিল না। এর বদলে তারা রঙিন সুতার গিঁট দিয়ে হিসাব রাখা ও তথ্য আদান-প্রদান করত, যাকে 'কুইপু' বলা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি .কম।

১৫.
ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান (Hanging Gardens of Babylon) নির্মাণ করেছিলেন কে? 
  1. হাম্মুরাবি
  2. সাইরাস দ্য গ্রেট
  3. দারিয়াস
  4. নেবুচাদনেজার
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা (Babylonian Civilization):
- মেসোপটেমিয়ার টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে সুমেরীয় সভ্যতার পতনের পর ব্যবিলনীয় সভ্যতা বিকশিত হয়।
- এটি মূলত দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার 'ব্যবিলন' শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।

• ভৌগোলিক অবস্থান:
- বর্তমান ইরাকের বাগদাদ শহরের দক্ষিণে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে ব্যাবিলন শহরটি অবস্থিত ছিল।

• কালক্রম: এটি প্রধানত দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
১. পুরাতন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য: খ্রিস্টপূর্ব ১৮৯৪ – ১৫৯৫ অব্দ (বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরাবির সময়কাল)।
২. নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য: খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ – ৫৩৯ অব্দ (সম্রাট নেবুচাদনেজারের সময়কাল)। [ব্রিটানিকা]

• ঐতিহাসিক অর্জন ও অবদান:
- হাম্মুরাবির আইন সংকলন (Code of Hammurabi): বিশ্বের প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ লিখিত আইনগুলোর একটি” ।
- ২৮২টি আইনের এই সংকলনটি একটি বিশাল পাথরের স্তম্ভে খোদাই করা ছিল, যার মূলনীতি ছিল "চোখের বদলে চোখ এবং দাঁতের বদলে দাঁত"।
- ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান (Hanging Gardens of Babylon): সম্রাট নেবুচাদনেজার তাঁর রানীর জন্য এটি নির্মাণ করেছিলেন। এটি প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি।

• জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিত: ব্যবিলনীয়রা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ গণনায় পারদর্শী ছিল।
- তারা রাশিচক্রের (Zodiac) ১২টি চিহ্নের ধারণা প্রবর্তন করে এবং বর্ষপঞ্জি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• স্থাপত্য: তারা পোড়া ইটের ব্যবহার এবং খিলান ও গম্বুজ নির্মাণে দক্ষ ছিল। ব্যবিলনের 'ইশতার গেট' (Ishtar Gate) তাদের উন্নত স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন।

• সভ্যতার পতন :
-  খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যবিলন দখল করেন। এর ফলে মেসোপটেমিয়ার ওপর ব্যবিলনীয়দের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চিরতরে শেষ হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৬.
হিব্রু সভ্যতার সবচেয়ে বড় ও বৈপ্লবিক অবদান কোনটি?
  1. আইন সংকলন
  2. লিপি আবিষ্কার
  3. একেশ্বরবাদ
  4. নগর সভ্যতা
ব্যাখ্যা

হিব্রু সভ্যতা (Hebrew Civilization):
- বর্তমান ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন অঞ্চলে এই সভ্যতা বিকাশ লাভ করেছিল।
- হিব্রুরা মূলত সেমেটিক বংশোদ্ভূত যাযাবর গোষ্ঠী ছিল,
- যারা মেসোপটেমিয়া থেকে কেনানে (বর্তমান ফিলিস্তিন) এসে বসতি স্থাপন করে।
- 'হিব্রু' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো 'যারা নদীর ওপার থেকে এসেছে'।

• একেশ্বরবাদ (Monotheism): হিব্রু সভ্যতার সবচেয়ে বড় এবং বৈপ্লবিক অবদান হলো 'একেশ্বরবাদ'।

• ধর্মীয় গ্রন্থ ও সাহিত্য: হিব্রুদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ হলো 'তাওরাত' (Torah), যা খ্রিস্টানদের কাছে 'ওল্ড টেস্টামেন্ট' হিসেবে পরিচিত।
- এটি হিব্রু ইতিহাস, আইন, কবিতা এবং দর্শনের একটি অনন্য সংকলন।


• বিখ্যাত রাজন্যবর্গ:
- রাজা সাউল (Saul): তিনি হিব্রু উপজাতিদের ঐক্যবদ্ধ করে প্রথম রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- রাজা ডেভিড (David): তিনি জেরুজালেম দখল করে একে হিব্রু রাজ্যের রাজধানী করেন।
- ৫৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারস্য সম্রাট সাইরাস জেরুজালেম দখল করে নিলে হিব্রু সভ্যতার রাজনৈতিক শক্তির পতন ঘটে, কিন্তু তাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে টিকে থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
ব্রোঞ্জ যুগে বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ-  
  1. লোহার ব্যবহার
  2. চাকার ব্যবহার
  3. তামা ও টিন সংগ্রহ
  4. মুদ্রার ব্যবহার
ব্যাখ্যা

- ব্রোঞ্জ তৈরির জন্য তামা ও টিন দূর-দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করতে হতো, যার ফলে বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।

ব্রোঞ্জ যুগ (Bronze Age):
- তাম্র-প্রস্তর যুগের পর মানুষ যখন তামা ও টিনের মিশ্রণে শক্তিশালী সংকর ধাতু 'ব্রোঞ্জ' তৈরি করতে শিখল, তখন থেকেই ব্রোঞ্জ যুগের সূচনা হয়।
- আনুমানিক ৩,৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১,২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এই যুগ স্থায়ী ছিল।

• সভ্যতার উত্থান:
- ব্রোঞ্জ যুগেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাচীন সভ্যতাগুলো (যেমন: মেসোপটেমীয়, মিশরীয়, সিন্ধু এবং ইজিয়ান সভ্যতা) বিকশিত হয়।
- মানুষ বিশাল পিরামিড, জিকুরাত এবং সুপরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলে।

• প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন:
- ব্রোঞ্জের হাতিয়ার পাথরের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই ও তীক্ষ্ণ ছিল।
- এই যুগে মানুষ চাকা, পাল তোলা নৌকা এবং লাঙলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু করে।

• লিখন পদ্ধতির উদ্ভব:
- বাণিজ্যের হিসাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে এই যুগেই প্রথম লিখন পদ্ধতি বা লিপির (যেমন: কিউনিফর্ম ও হায়ারোগ্লিফিক্স) উদ্ভব ঘটে।

বাণিজ্যিক প্রসার:
- ব্রোঞ্জ তৈরির জন্য তামা ও টিন দূর-দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করতে হতো, যার ফলে বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি .কম।

১৮.
পারসিয়ান বা প্রাচীন ইরানিদের প্রধান ধর্ম ছিল-
  1. ইহুদি ধর্ম
  2. জরথুস্ট্রবাদ
  3. হিন্দুধর্ম
  4. খ্রিস্টধর্ম
ব্যাখ্যা

পারস্য সভ্যতা:-
- বর্তমান ইরানকে কেন্দ্র করে এই বিশাল ও শক্তিশালী সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল।
- এটি প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং সুসংগঠিত সাম্রাজ্য ছিল।
- পারস্য সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন সম্রাট সাইরাস (Cyrus the Great)।

• সাম্রাজ্য বিস্তার ও শাসন পদ্ধতি:
- সম্রাট সাইরাস থেকে শুরু করে সম্রাট প্রথম দারিউস (Darius I) পর্যন্ত পারস্য সাম্রাজ্য এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিশাল অংশে বিস্তৃত ছিল।

• সম্রাট সাইরাসের সিলিন্ডার (Cyrus Cylinder): এটিকে বিশ্বের প্রথম 'মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র' হিসেবে গণ্য করা হয়।
- সম্রাট সাইরাস যখন ব্যাবিলন জয় করেন, তখন তিনি সেখানকার বন্দি হিব্রুদের মুক্তি দেন এবং সবাইকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দান করেন।

• ধর্ম ও দর্শন: পারস্যদের ধর্মের নাম ছিল 'জরথুস্ট্রবাদ' (Zoroastrianism)।
• স্থাপত্যকলা: পারস্য স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো 'পারসেপোলিস' (Persepolis) নামক বিশাল প্রাসাদ।
- মুদ্রার প্রচলন: সম্রাট দারিউস সর্বপ্রথম বাণিজ্য সহজ করার জন্য 'দারিক' (Daric) নামক স্বর্ণমুদ্রা এবং রৌপ্যমুদ্রার প্রচলন করেন।
- পারস্যরা প্রথম সুশৃঙ্খলভাবে একটি বিশাল নৌবাহিনী ও পদাতিক বাহিনী গড়ে তুলেছিল। তাদের বিশেষ একটি বাহিনী ছিল যার নাম 'ইমমোর্টালস' (Immortals) বা অমর বাহিনী।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
অ্যাসিরীয়রা বিশেষভাবে কোন ক্ষেত্রে পারদর্শী ছিল? 
  1. নৌযুদ্ধ
  2. কৃষি
  3. বাণিজ্য
  4. সামরিক কৌশল
ব্যাখ্যা

- অ্যাসিরীয়রা বিশেষভাবে সামরিক কৌশল ক্ষেত্রে পারদর্শী ছিল।

 অ্যাসিরীয় সভ্যতা (Assyrian Civilization):

- অ্যাসিরীয় ছিল মেসোপটেমিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি যোদ্ধা জাতি।
- তারা তাদের নিষ্ঠুর যুদ্ধকৌশল এবং বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য পরিচিত।
- মেসোপটেমিয়ার উত্তরাঞ্চল (বর্তমান উত্তর ইরাক) ছিল আসিরীয়দের মূল কেন্দ্র।
- খ্রিস্টপূর্ব ৯০০ থেকে ৬১২ অব্দ পর্যন্ত তারা সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল।
- প্রধান শহর: আশুর (Assur) এবং নিনভেশ (Nineveh)। নিনভেশ ছিল তাদের সাম্রাজ্যের জাঁকজমকপূর্ণ রাজধানী।
- প্রধান সম্রাট: সম্রাট আশুরবানিপাল (Ashurbanipal) এবং দ্বিতীয় সারগন।
- সামরিক কৌশল:  অ্যাসিরীয়রা প্রথম লোহার তৈরি অস্ত্র ও রথ ব্যবহারের মাধ্যমে এক অপরাজেয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলে।
- তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত সামরিক শাসন প্রবর্তন করে।
- অসুরবানিপালের লাইব্রেরি: সম্রাট আশুরবানিপাল নিনভেশ শহরে বিশ্বের প্রথম সুশৃঙ্খল গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে হাজার হাজার কিউনিফর্ম মাটির ফলক সংরক্ষিত ছিল।

• স্থাপত্য: তারা বিশাল প্রাসাদ ও পাথরের খোদাই করা চিত্রকলার (Relief Sculpture) জন্য বিখ্যাত ছিল। ডানাযুক্ত ষাঁড় বা 'লামাসু' (Lamassu) ছিল তাদের স্থাপত্যের অন্যতম প্রতীক।

• প্রশাসনিক ব্যবস্থা:  অ্যাসিরীয় তাদের বিশাল সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত করে দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২০.
প্রাচীন প্রস্তর যুগের সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক সাফল্য কী? 
  1. মৃৎশিল্প
  2. চাকার আবিষ্কার
  3. আগুনের ব্যবহার 
  4. নগরায়ন
ব্যাখ্যা

প্রাচীন প্রস্তর যুগ (Paleolithic Age):
- মানব সভ্যতার আদিমতম পর্যায়কে প্রাচীন প্রস্তর যুগ বলা হয়।
- এই যুগের মানুষ ছিল মূলত যাযাবর এবং খাদ্য সংগ্রাহক।
- হাতিয়ার: তারা পাথর ভেঙে ভোঁতা ও অমসৃণ হাতিয়ার তৈরি করত। এই যুগের শেষ দিকে হাড় ও দাঁতের তৈরি সূক্ষ্ম হাতিয়ারের ব্যবহারও দেখা যায়।

• আগুনের আবিষ্কার:
- এই যুগের সবচেয়ে বৈপ্লবিক সাফল্য ছিল আগুনের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার শেখা।
- এটি মানুষকে শীত থেকে বাঁচতে এবং খাবার রান্না করতে সাহায্য করে।

• আবাসন ও শিল্প:
- মানুষ প্রধানত গুহায় বসবাস করত। তারা গুহার দেওয়ালে শিকার ও পশুর ছবি আঁকত, যা 'গুহাচিত্র' (Cave Paintings) নামে পরিচিত। - ফ্রান্সের লাস্কো এবং স্পেনের আলতামিরা গুহায় এর চমৎকার নিদর্শন পাওয়া যায়।

• সামাজিক গঠন:
- মানুষ বেঁচে থাকার প্রয়োজনে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বাস করত এবং মূলত শিকার ও ফলমূল সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে তাদের জীবনযাত্রা চলত।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডট কম।

২১.
প্রাচীন রোমান সভ্যতার বিখ্যাত নাট্যশালার নাম কী ছিল? 
  1. প্যান্থিয়ন
  2. কলোসিয়াম
  3. সার্কাস ম্যাক্সিমাস
  4. অ্যাক্রোপলিস
ব্যাখ্যা

- রোমানদের বিখ্যাত নাট্যশালা ‘কলোসিয়াম’।

• রোমান সভ্যতা (Roman Civilization): 
- ইতালির টাইবার নদীর তীরে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- রোমানদের মতে, রোমিউলাস ও রেমাস নামে দুই ভাই এই রোম নগরীর পত্তন করেছিলেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫০৯ অব্দে রোমে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এখানে 'সিনেট' নামক শক্তিশালী পরিষদ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত।

• আইন ও শাসনব্যবস্থা:
- রোমানদের শ্রেষ্ঠ অবদান ছিল তাদের আইনব্যবস্থা।
- 'বারোটি ব্রোঞ্জ পাতের আইন' (Twelve Tables) ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিশ্বের প্রথম লিখিত আইনের অন্যতম।

• রোমানরা সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। উত্তর আফ্রিকার কার্থেজের বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ 'পিউনিক যুদ্ধ' নামে পরিচিত, যার ফলে রোম সমগ্র ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে।
- জুলিয়াস সিজার রোমের একচ্ছত্র অধিপতি হয়েছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর অগাস্টাস সিজার রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং রোমে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি (Pax Romana) প্রতিষ্ঠা করেন।

- রোমানদের বিখ্যাত নাট্যশালা ‘কলোসিয়াম’ (Colosseum).

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
ইজিয়ান সভ্যতা কোন অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. গ্রিস 
  2. তুরস্ক
  3. ইতালি
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

ইজিয়ান সভ্যতা (Aegean Civilization):
- গ্রিসের মূল ভূখণ্ড, ক্রিট দ্বীপ এবং ইজিয়ান সাগরের দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এটি মূলত দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত ছিল: মিনোয়ান সভ্যতা (ক্রিট দ্বীপ) এবং মাইসিনীয় সভ্যতা (গ্রিসের মূল ভূখণ্ড)।

• মিনোয়ান সভ্যতা (Minoan Civilization):
- এটি ইজিয়ান অঞ্চলের প্রাচীনতম উন্নত সভ্যতা, যা ক্রিট দ্বীপে বিকশিত হয়েছিল।
- রাজা মিনোসের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়।
- তাদের প্রধান কেন্দ্র ছিল 'নোসোস' (Knossos) প্রাসাদ। 

• মাইসিনীয় সভ্যতা (Mycenaean Civilization):
- গ্রিসের মূল ভূখণ্ডে মাইসিনাই নামক শহরকে কেন্দ্র করে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এটি ছিল মূলত একটি সামরিক বা বীর যোদ্ধাদের সভ্যতা।

• বিখ্যাত কবি হোমারের 'ইলিয়াড' ও 'ওডিসি' মহাকাব্যে এই মাইসিনীয় যুগের বীরত্ব এবং ট্রোজান যুদ্ধের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- তাদের স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিশাল পাথরের তৈরি 'লায়ন গেট' (Lion Gate)।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডট কম।

২৩.
মেসোপটেমীয় সভ্যতার প্রথম পর্যায় ছিল কোনটি? 
  1. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  2. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4. ক্যালডীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতা (Sumerian Civilization): 
- সুমেরীয় সভ্যতা ছিল মেসোপটেমীয় সভ্যতার প্রথম পর্যায়।

- এবং মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রথম সংগঠিত সভ্যতা।
- এটি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ অংশে আনুমানিক  (বর্তমান দক্ষিণ ইরাক) খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ থেকে ৩০০০ অব্দের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল।

• ভৌগোলিক অবস্থান: প্রাচীন সুমের (Sumer) ছিল টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদীর মোহনার নিকটবর্তী নিম্নভূমি।
- কালক্রম: এর বিকাশ আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে শুরু হয় এবং খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ পর্যন্ত এর প্রভাব টিকে ছিল। [ব্রিটানিকা]

• প্রধান শহরসমূহ: উরুক ছিল বিশ্বের প্রথম বড় শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম।

• ঐতিহাসিক অর্জন ও অবদান
- লিখন পদ্ধতি (Cuneiform): সুমেরীয়রা বিশ্বের প্রথম লিখন পদ্ধতি 'কিউনিফর্ম' উদ্ভাবন করে।
- এটি নল খাগড়া দিয়ে ভেজা মাটির ফলকে খোদাই করে লেখা হতো।

• চাকার উদ্ভাবন: খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের দিকে তারা প্রথম চাকা (পটার’স হুইল বা কুমোরের চাকা) ব্যবহার শুরু করে, পরবর্তীতে এই ধারণা যানবাহনের চাকার বিকাশে ভূমিকা রাখে।

• আইন ও শাসন: তারা লিখিত আইনের প্রাথমিক ধারণা প্রদান করে।

• কৃষি প্রযুক্তি: সুমেরীয়রা অত্যন্ত উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং লাঙলের ব্যবহার শুরু করেছিল, যা মরুপ্রায় ভূমিকে শস্যভাণ্ডারে পরিণত করে।

• সাহিত্য: বিশ্বের প্রাচীনতম মহাকাব্য 'গিলগামেশ' (Epic of Gilgamesh) সুমেরীয় সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত।

• গণিত: তারা ৬০-ভিত্তিক গণনা পদ্ধতি (Sexagesimal system) প্রবর্তন করে, যেখান থেকে আজকের ৬০ সেকেন্ডে এক মিনিট ও ৬০ মিনিটে এক ঘণ্টার ধারণা এসেছে।

• ধর্ম ও সংস্কৃতি :
- জিগুরাত: তারা তাদের প্রধান দেবতাদের সম্মানে বিশাল উঁচু মন্দির বা 'জিগুরাত' নির্মাণ করত।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।