পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৩
সিলেবাস
বিষয় - আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অধ্যায়: বৈশ্বিক ইতিহাস, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা, ভূ-রাজনীতি টপিকসমূহ: ১. বৈশ্বিক ইতিহাস: i) মানব সমাজের বিবর্তন ii) বিশ্ব সভ্যতা উৎস: ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা সম্পর্কিত বোর্ড বই [NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়], ব্রিটানিকা, হিস্টরি.কম, সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট এবং যেকোনো গাইডবই। [গাইড বই থেকে পড়ার ক্ষেত্রে কনফিউজিং বিষয়গুলো ক্রসচেক করে পড়া উত্তম।] ------------------------- [নির্দেশিকা: এই রুটিনে সারাবছর জুড়ে পরীক্ষা চলমান থাকে। আপনি আজ ১ম পরীক্ষা দেওয়া শুরু করলে ২০০ দিনের মধ্যে পুরো সিলেবাস সম্পন্ন হবে।]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৩ প্রশ্ন

.
মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি?
  1. সুমেরীয় সভ্যতা 
  2. গ্রীক সভ্যতা
  3. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  4. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
গ্রীক সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীক সভ্যতা
ব্যাখ্যা

- মেসোপটেমীয় সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয় গ্রীক সভ্যতা।

• মেসোপটেমীয় সভ্যতা :

- মেসোপটেমীয় সভ্যতাকে বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতা হিসেবে গণ্য করা হয়।
- গ্রিক ভাষার শব্দ 'মেসোপটেমিয়া' অর্থ হলো "দুই নদীর মধ্যবর্তী দেশ"।

• ভৌগোলিক অবস্থান :
- বর্তমানে ইরাক, কুয়েত, সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল এবং তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল নিয়ে এই সভ্যতা বিস্তৃত ছিল।
- এটি টাইগ্রিস (দজলা) ও ইউফ্রেটিস (ফুরাত) নদীর মধ্যবর্তী উর্বর ভূমিতে গড়ে ওঠে।
- উৎপত্তি : আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ - ৩৫০০ অব্দের দিকে এই সভ্যতার সূচনা ঘটে। [সোর্স : ব্রিটানিকা]

• সভ্যতার ধাপসমূহ : মেসোপটেমীয় সভ্যতা চারটি প্রধান ভাগে বিভক্ত।
১. সুমেরীয় সভ্যতা (প্রাচীনতম)।
২. ব্যাবিলনীয়
৩. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
৪. ক্যালডীয় সভ্যতা

উৎস : এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

.
ভারতে সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে কোন অঞ্চলে?
  1. পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু
  2. বিহার, উড়িষ্যা, তামিলনাড়ু
  3. মহারাষ্ট্র, গুজরাট, কর্ণাটক
  4. পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট
ব্যাখ্যা

- ভারতে সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাট।

সিন্ধু সভ্যতা: 

- সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল বলে এই সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
- সিন্ধু সভ্যতার সংস্কৃতিকে অনেক সময়ে হরপ্পা সংস্কৃতি বা হরপ্পা সভ্যতা বলা হয়ে থাকে।
- বিশ শতকের প্রথম দিকে বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারোতে এবং দয়ারাম সাহানীর চেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারী জেলার হরপ্পায় এই সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
- জন মার্শালের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে আরো বহু নিদর্শন আবিষ্কার করে।
- মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পা উভয় অঞ্চল একই সভ্যতার অন্তর্গত।
- সিন্ধু সভ্যতা উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা।
- এই সভ্যতা শুধু সিন্ধু নদীর অববাহিকা বা ঐ দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলনা। পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন অংশে এই সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে পাঞ্জাব থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
পিকিং মানব কোন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. হোমো স্যাপিয়েন্স
  2. হোমো হ্যাবিলিস
  3. হোমো ইরেক্টাস
  4. অস্ট্রালোপিথেকাস
সঠিক উত্তর:
হোমো ইরেক্টাস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হোমো ইরেক্টাস
ব্যাখ্যা

পিকিং মানব (Peking Man):
- পিকিং মানব হলো 'হোমো ইরেক্টাস' (Homo erectus) প্রজাতির একটি আদিম মানুষের গোষ্ঠী।
- ১৯২০-এর দশকে চীনের বেইজিংয়ের (তৎকালীন পিকিং) নিকটবর্তী ঝৌকৌদিয়ান (Zhoukoudian) গুহায় এদের জীবাশ্ম বা কঙ্কাল আবিষ্কৃত হয়।
- ধারণা করা হয়, এরা আজ থেকে প্রায় ৭,৫০,০০০ থেকে ২,৩০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯২১ সালে সুইডিশ ভূতাত্ত্বিক জোহান গুনার অ্যান্ডারসন প্রথম এই স্থানটি শনাক্ত করেন।
- পরবর্তীতে ১৯২৭ সালে কানাডীয় নৃতাত্ত্বিক ডেভিডসন ব্ল্যাক একটি দাঁত খুঁজে পান এবং একে একটি নতুন প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করেন।
- ১৯২৯ সালে চীনা প্রত্নতাত্ত্বিক পেই ওয়েনঝং (Pei Wenzhong) প্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ খুলি (Skullcap) আবিষ্কার করেন।

• আগুনের ব্যবহার: পিকিং মানবের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো আগুনের ব্যবহার।
- গুহায় পোড়া হাড় এবং ছাইয়ের স্তর দেখে প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে এবং তা ব্যবহার করে খাবার রান্না করতে শিখিয়েছিল। এটি মানব বিবর্তনের ইতিহাসে একটি বিশাল মাইলফলক।

• হাতিয়ার তৈরি:
- মূলত শিকার করা এবং পশুর চামড়া ছাড়ানোর জন্য তারা কুঠার ও চাঁছনি ব্যবহার করত।

• রহস্যময় অন্তর্ধান (Missing Fossils):
- ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যখন জাপান চীন আক্রমণ করে, তখন নিরাপত্তার খাতিরে পিকিং মানবের আদি কঙ্কালগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- কিন্তু যাত্রাপথে সেগুলো রহস্যজনকভাবে হারিয়ে যায় এবং আজ অবধি সেগুলোর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
- বর্তমানে কেবল কঙ্কালগুলোর ছাঁচ (Casts) টিকে আছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

.
চীনের মহাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন কে? 
  1. হান সম্রাট
  2. লাও-ৎসে
  3. কনফুসিয়াস
  4. কিন শি হুয়াং
সঠিক উত্তর:
কিন শি হুয়াং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিন শি হুয়াং
ব্যাখ্যা

চৈনিক সভ্যতা (Chinese Civilization):
- চীনের হোয়াংহো (Yellow River) ও ইয়াংৎসে নদী (Yangtze River) নদীর অববাহিকায় এই সভ্যতার বিকাশ ঘটে।
- হোয়াংহো নদীতে প্রায়ই ভয়াবহ বন্যা হতো, যা জনপদ ধ্বংস করত। এ কারণে নদীটিকে ‘চীনের দুঃখ’ বলা হয়। তবে এই বন্যার পলিমাটিই জমিকে উর্বর করে সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখে।

• সাং রাজবংশের সময় থেকেই চীনে লিখন পদ্ধতির বিকাশ ঘটে।
- উত্তর দিক থেকে আগত যাযাবর জাতিগোষ্ঠীর (যেমন—জিয়ংনু) আক্রমণ প্রতিরোধের জন্য সম্রাট কিন শি হুয়াং চীনের মহাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন।
- এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্থাপত্য নিদর্শন।

• চীনারা চিত্রভিত্তিক লিখন পদ্ধতি ব্যবহার করত।
- পরবর্তীকালে তারা গাছের ছাল, পুরনো কাপড় ও শণজাত আঁশ থেকে বিশ্বের প্রথম কাগজ আবিষ্কার করে।

• কনফুসিয়াস ও লাও-ৎসে-র দর্শন চীনা সমাজে গভীর প্রভাব ফেলে।
- কনফুসিয়াসের নৈতিকতা ও কর্তব্যভিত্তিক দর্শন রাষ্ট্রশাসন ও সমাজব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে তোলে।

- চীনের রেশম বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ছিল। এই রেশম পরিবহনের দীর্ঘ বাণিজ্যপথকে ‘সিল্ক রোড’ বলা হয়,
- যা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ স্থাপন করে।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নব্য প্রস্তর যুগ কোন যুগের শেষ পর্যায়?
  1. ব্রোঞ্জ যুগ
  2. পাথরের যুগ
  3. লৌহ যুগ
  4. তাম্র যুগ
সঠিক উত্তর:
পাথরের যুগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাথরের যুগ
ব্যাখ্যা

নব্য প্রস্তর যুগ (Neolithic Age):
- মানব সভ্যতার ইতিহাসে নব্য প্রস্তর যুগ বা 'নিওলিথিক যুগ' হলো পাথরের যুগের শেষ পর্যায়।

- একে 'নব্য প্রস্তর বিপ্লব' (Neolithic Revolution)-ও বলা হয়।
- এই যুগটি আনুমানিক ১০,০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৪,৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সময়ে শুরু ও শেষ হয়েছিল।

• কৃষিভিত্তিক সমাজ: নব্য প্রস্তর যুগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো কৃষিকাজের সূচনা।
- মানুষ বন্য শস্য সংগ্রহ করার বদলে সেগুলো চাষাবাদ করতে শুরু করে। গম, যব এবং ডাল ছিল তাদের প্রধান ফসল।
- খাদ্য সংগ্রাহক থেকে মানুষ 'খাদ্য উৎপাদক'-এ পরিণত হয়।

• পশুপালন: এই যুগে মানুষ বন্য পশুদের পোষ মানাতে শুরু করে।
- কুকুর, ছাগল, ভেড়া এবং গরু পালন করার মাধ্যমে তারা দুধ, মাংস এবং পশমের নিয়মিত উৎস খুঁজে পায়।

• হাতিয়ার ও প্রযুক্তির উন্নতি:
- এই যুগের হাতিয়ারগুলো ছিল আগের যুগের তুলনায় অনেক বেশি মসৃণ, ধারালো এবং পালিশ করা।

• চাকা ও মৃৎশিল্পের উদ্ভব:
- চাকা আবিষ্কার এই যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্ভাবন। এটি যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনে আমূল পরিবর্তন আনে।

• ধর্ম ও শিল্প: 
- মানুষ এই সময় প্রকৃতি ও আদিম দেবতাদের পূজা শুরু করে এবং পাথরের তৈরি বড় বড় স্তম্ভ বা স্মৃতিস্তম্ভ (Megalith) নির্মাণ করে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

.
মায়া সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয়-
  1. মেক্সিকো
  2. গুয়াতেমালা
  3. পেরু
  4.  বেলিজ
সঠিক উত্তর:
পেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পেরু
ব্যাখ্যা

- মায়া সভ্যতার অন্তর্ভুক্ত নয়-পেরু।
- পেরু: ইনকা সভ্যতার কেন্দ্র।

মায়া সভ্যতা (Maya Civilization):
- মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল, গুয়াতেমালা, বেলিজ এবং হন্ডুরাসের পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে এই সভ্যতা বিস্তৃত ছিল।
- এটি মূলত ক্রান্তীয় রেইনফরেস্ট বা ঘন জঙ্গল ঘেরা অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল।
- মায়াদের কোনো একক কেন্দ্রীয় রাজধানী ছিল না;
- বরং তারা তিকাল (Tikal), কোপান (Copán) এবং চিচেন ইৎজার (Chichen Itza) মতো অসংখ্য শক্তিশালী ও স্বাধীন নগর রাষ্ট্র গড়ে তুলেছিল।

• জ্যোতির্বিজ্ঞান ও ক্যালেন্ডার: 
- মায়ারা জ্যোতির্বিজ্ঞানে অত্যন্ত উন্নত ছিল। তারা গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অত্যন্ত নির্ভুল 'মায়া ক্যালেন্ডার' তৈরি করেছিল।
- তাদের সৌর ক্যালেন্ডার (Haab) ৩৬৫ দিনের ছিল।

• লিখন পদ্ধতি (Hieroglyphs): মায়ারা পাথরের স্তম্ভ (Stelae), মৃৎপাত্র এবং গাছের ছাল দিয়ে তৈরি কাগজে (Codex) তাদের ইতিহাস লিখে রাখত।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
ফিনিশীয় সভ্যতা কোন অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. মেসোপটেমিয়ায়
  2. নীল নদের অববাহিকায়
  3. ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল
  4. মধ্য আমেরিকায়
সঠিক উত্তর:
ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূল
ব্যাখ্যা

• ফিনিশীয় সভ্যতা (Phoenician Civilization):
- বর্তমান লেবানন এবং সিরিয়ার কিছু অংশ নিয়ে ভূমধ্যসাগরের পূর্ব উপকূলে এই প্রাচীন সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল।

- ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে তারা স্থলপথের চেয়ে জলপথে বাণিজ্যে বেশি আগ্রহী ছিল।
- গ্রীকরা এদের নাম দিয়েছিল 'ফিনিশীয়' বা 'পার্পল পিপল' (Purple People), কারণ তারা এক ধরণের বিশেষ সামুদ্রিক শামুক থেকে রাজকীয় বেগুনি রং তৈরি করত এবং এর ব্যবসা করত।

• বর্ণমালা আবিষ্কার (Invention of Alphabet):
- ফিনিশীয়দের সবচেয়ে বড় অবদান হলো বর্ণমালার উদ্ভাবন।
- তারা ২২টি ব্যঞ্জনবর্ণের একটি সেট তৈরি করে, যা ছিল আধুনিক বর্ণমালার পূর্বপুরুষ।
- পরবর্তীতে গ্রীকরা এই বর্ণমালার সাথে স্বরবর্ণ (Vowels) যুক্ত করে এবং রোমানদের হাত ধরে তা বর্তমান ইংরেজি বর্ণমালায় রূপ নেয়।

• প্রধান নগর রাষ্ট্রসমূহ:
- ফিনিশীয়রা কোনো একক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেনি, বরং তারা ছোট ছোট স্বাধীন 'নগর রাষ্ট্র' বা 'সিটি স্টেটস'-এ বিভক্ত ছিল।
- তারা ছিল প্রাচীন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ নাবিক ও জাহাজ নির্মাতা।
- তারা ধ্রুবতারা দেখে দিক নির্ণয় করতে জানত, যাকে গ্রীকরা 'ফিনিশীয় তারা' বলত।

• কার্থেজ (Carthage):
- ফিনিশীয়রা ভূমধ্যসাগরের নানা স্থানে উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। এর মধ্যে উত্তর আফ্রিকায় (বর্তমান তিউনিসিয়া) অবস্থিত 'কার্থেজ' ছিল সবচেয়ে বিখ্যাত, যা পরবর্তীতে রোমান সাম্রাজ্যের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠে।

উল্লেখ্য,
- আলেকজান্ডার ৩৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাদের প্রধান শহর টায়ার দখল করে নিলে ফিনিশীয়দের রাজনৈতিক স্বাধীনতার অবসান ঘটে এবং তারা হেলেনিস্টিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে যায়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট  এবং বিশ্ব ইতিহাস এনসাইক্লোপিডিয়া।

.
জাভা মানবের জীবাশ্ম কোথায় আবিষ্কৃত হয়?
  1. চীন
  2. দক্ষিণ আফ্রিকা
  3. ইন্দোনেশিয়া
  4. চিলি
সঠিক উত্তর:
ইন্দোনেশিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইন্দোনেশিয়া
ব্যাখ্যা

জাভা মানব (Java Man):
- জাভা মানব হলো 'হোমো ইরেক্টাস' (Homo erectus) প্রজাতির প্রথম আবিষ্কৃত জীবাশ্ম।
- ধারণা করা হয়, এরা আজ থেকে প্রায় ৭,০০,০০০ থেকে ১০,০০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৮৯১ সালে ওলন্দাজ (ডাচ) অ্যানাটমিস্ট এবং ভূতাত্ত্বিক ইউজিন ডুবোয়া (Eugene Dubois) ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপের সোলো নদীর তীরে এই জীবাশ্ম আবিষ্কার করেন।
- এটি ছিল ইউরোপের বাইরে আবিষ্কৃত প্রথম আদিম মানুষের জীবাশ্ম। ডুবোয়া এর নাম দিয়েছিলেন 'পিথেকানথ্রোপাস ইরেক্টাস' (Pithecanthropus erectus), যার অর্থ 'সোজা হয়ে দাঁড়ানো বানর-মানুষ'।

• শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
- জাভা মানবের মাথার খুলি ছিল পুরু, কপাল ছিল নিচু এবং চোখের ওপরের হাড় (Brow ridge) ছিল বেশ চওড়া।
- এদের মস্তিষ্কের আকার ছিল প্রায় ৯০০ সিসি (cc), যা আধুনিক মানুষের চেয়ে ছোট কিন্তু ওরাংওটাং-এর চেয়ে বড়।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।

.
প্রথমে সপ্তাহে সাত দিনের ধারণা দিয়েছিল কারা?
  1. গ্রিক
  2. রোমান
  3. ক্যালডীয়
  4. সুমেরীয়
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্যালডীয়
ব্যাখ্যা

- প্রথমে সপ্তাহে সাত দিনের ধারণা দিয়েছিল ক্যালডীয় সভ্যতা।

ক্যালডীয় সভ্যতা (Chaldean Civilization):
- ক্যালডীয়রা ছিল একটি সেমিটিক জাতি যারা আসিরীয় সাম্রাজ্যের পতনের পর ব্যাবিলনে একটি শক্তিশালী সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।
- একে 'নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য'ও বলা হয়।
- কালক্রম: খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ থেকে ৫৩৯ অব্দ পর্যন্ত এই সভ্যতার স্থায়ীত্ব ছিল।
- প্রধান সম্রাট: নবোপোলাসার (প্রতিষ্ঠাতা) এবং তাঁর পুত্র সম্রাট নেবুচাদনেজার (শ্রেষ্ঠ শাসক)।
- কেন্দ্রবিন্দু: এই সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র ছিল পুনরায় সংস্কার করা জাঁকজমকপূর্ণ 'ব্যবিলন' শহর।

• স্থাপত্যে: নেবুচাদনেজারের আমলে ব্যাবিলন শহরটি বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত ও সুন্দর শহরে পরিণত হয়। তিনি শহরের চারদিকে বিশাল প্রাচীর এবং নীল রঙের চকচকে ইটের তৈরি 'ইশতার গেট' নির্মাণ করেন।

• জ্যোতির্বিদ্যার উন্নতি: ক্যালডীয়রা আকাশের গ্রহ-নক্ষত্র পর্যবেক্ষণে অত্যন্ত উন্নত ছিল।
- তারা সাত দিনে এক সপ্তাহ এবং ১২ মাসে এক বছরের হিসাব নিখুঁতভাবে করতে পারত।
- তারাই প্রথম সপ্তাহের সাত দিনের নামকরণ গ্রহ-নক্ষত্রের নামে করেছিল।

- ধর্ম: তারা বহু ঈশ্বরবাদী ছিল। তাদের প্রধান দেবতা ছিলেন 'মারদুক' (Marduk)। প্রতিটি বড় স্থাপত্য বা মন্দির তাঁর উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হতো।

• পতন: খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যাবিলন দখল করেন।
- এর ফলে মেসোপটেমিয়ার ওপর ব্যাবিলনীয় ও ক্যালডীয়দের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চিরতরে শেষ হয়।

উৎস: ব্রিটানিকা। এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১০.
লৌহ যুগের সূচনা আনুমানিক কখন শুরু হয়?
  1. ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
  2. ১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
  3. ৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
  4. ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
সঠিক উত্তর:
১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ
ব্যাখ্যা

লৌহ যুগ (Iron Age):
- ব্রোঞ্জ যুগের সমাপ্তির পর মানুষ যখন লোহার আকরিক গলিয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার ও যন্ত্রপাতি তৈরি করতে শিখল, তখন থেকেই লৌহ যুগের সূচনা হয়।
- আনুমানিক ১,২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই যুগের বিস্তার শুরু হয়।

• প্রযুক্তিগত বিপ্লব:
- ব্রোঞ্জের তুলনায় লোহা ছিল অনেক বেশি সহজলভ্য এবং শক্ত। 
- লোহার তৈরি কুঠার ও লাঙল কৃষিকাজে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনে,
- যার ফলে মানুষ কঠিন মাটি চাষ করা এবং গহিন জঙ্গল পরিষ্কার করে কৃষিজমি বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়।

• সামরিক শক্তি ও সাম্রাজ্য বিস্তার:
- লোহার তৈরি তলোয়ার, বর্শা এবং বর্ম সৈন্যদের অনেক বেশি শক্তিশালী করে তোলে।
- এই যুগে হিট্টাইট (Hittites) এবং পরবর্তীকালে অ্যাসিরীয় ও পারস্য সাম্রাজ্যের মতো বিশাল শক্তিগুলোর উত্থান ঘটে।

নগরায়ন ও সমাজ:
- লোহার ব্যবহারের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বড় বড় নগর রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
- এই সময় বাণিজ্যের প্রসার ঘটে এবং সমাজে শ্রম বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

• লিপি ও সংস্কৃতি:
- অধিকাংশ উন্নত লিখন পদ্ধতি এবং সাহিত্যিক ঐতিহ্যের বিকাশ এই যুগে ঘটে।
- মুদ্রার প্রচলন এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নও এই সময়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট (Britannica.com) এবং হিস্টোরি ডট কম।[লিঙ্ক]

১১.
মিশরীয় লিপি হায়ারোগ্লিফিক্সের পাঠোদ্ধার করেছিলেন কে? 
  1. জাঁ-ফ্রাঁসোয়া চ্যাম্পোলিয়ন
  2. হেরোডোটাস
  3. খুফু
  4. তুতেনখামেন
সঠিক উত্তর:
জাঁ-ফ্রাঁসোয়া চ্যাম্পোলিয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জাঁ-ফ্রাঁসোয়া চ্যাম্পোলিয়ন
ব্যাখ্যা

- মিশরীয় লিপি হায়ারোগ্লিফিক্সের পাঠোদ্ধার করেছিলেন জাঁ-ফ্রাঁসোয়া চ্যাম্পোলিয়ন।

মিশরীয় সভ্যতা:

- ঐতিহাসিক হেরোডোটাসের মতে, মিশর হলো "নীল নদের দান" (The Gift of the Nile)। নীল নদের নিয়মিত বন্যা ও পলিমাটি না থাকলে এই মরু অঞ্চলে এমন বিশাল সভ্যতার বিকাশ অসম্ভব ছিল।
- ফারাওরা ছিলেন মিশরের একচ্ছত্র অধিপতি। তারা মনে করতেন তারা দেবতা 'হোরাস'-এর উত্তরসূরি।
- খুফু (Khufu): চতুর্থ রাজবংশের শাসক, যিনি বিশাল পিরামিড নির্মাণ করেন।
- হাটশেপসুট (Hatshepsut): তিনি কেবল রাণী ছিলেন না, বরং ফারাও হিসেবে পূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করতেন এবং বাণিজ্যে উন্নতি ঘটান।
- তুতেনখামেন (Tutankhamun): "বালক রাজা" হিসেবে পরিচিত,
- মিশরের অর্থনীতির মূল ভিত্তি ছিল কৃষি।
- নীল নদ: প্রতি বছর নীল নদে বন্যা হতো, যা জমিতে উর্বর পলি ফেলে যেত। তারা বাঁধ ও সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই পানি নিয়ন্ত্রণ করত।
- প্যাপিরাস: এই গাছ থেকে তারা বিশ্বের প্রথমদিককার কাগজ তৈরি করেছিল।
- দেব-দেবী: সূর্যদেব 'রা', সৃষ্টির দেবতা 'আমন' এবং মৃত্যুর দেবতা 'আনুবিস' ছিলেন প্রধান।
- মমি: তারা বিশ্বাস করত মৃতদেহ রক্ষা করলে আত্মা (কা) অমর হবে। ন্যাট্রন লবণের সাহায্যে মৃতদেহ শুকিয়ে কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে মমি করা হতো। এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে প্রায় ৭০ দিন সময় লাগত।

• হায়ারোগ্লিফিক্স: এটি ছিল এক ধরনের লিপি যা ছবির মাধ্যমে লেখা হতো।
- ১৮২২ সালে জাঁ-ফ্রাঁসোয়া চ্যাম্পোলিয়ন (Jean-François Champollion)'রোসেটা স্টোন' (Rosetta Stone) ব্যবহারের মাধ্যমে এই লিপির পাঠোদ্ধার করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১২.
হাইডেলবার্গ মানবের কোন অঙ্গটি প্রথম আবিষ্কৃত হয়? 
  1. খুলি
  2. চোয়ালের হাড়
  3. দাঁত
  4. পায়ের হাড়
সঠিক উত্তর:
চোয়ালের হাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোয়ালের হাড়
ব্যাখ্যা

হাইডেলবার্গ মানব (Heidelberg Man):
- হাইডেলবার্গ মানব বা 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস' (Homo heidelbergensis) হলো আধুনিক মানুষ (Homo sapiens) এবং নিয়ানডারথাল (Neanderthals) মানুষের সাধারণ পূর্বপুরুষ বলে ধারণা করা হয়।
- এরা আজ থেকে প্রায় ৭,০০,০০০ থেকে ২,০০,০০০ বছর আগে বসবাস করত।

• আবিষ্কারের ইতিহাস:
- ১৯০৭ সালে জার্মানির হাইডেলবার্গ শহরের কাছে মাউয়ার (Mauer) নামক স্থানে একটি বালুর খনিতে প্রথম এই প্রজাতির চোয়ালের হাড় (Mauer mandible) আবিষ্কৃত হয়।
- শ্রমিক ড্যানিয়েল হার্টম্যান এটি খুঁজে পান এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক অটো শয়টেনস্যাক (Otto Schoetensack) এটি শনাক্ত করে এর নাম দেন 'হোমো হাইডেলবার্গেনসিস'।

• শারীরিক বৈশিষ্ট্য:
- এদের মস্তিষ্কের আকার ছিল প্রায় ১১০০ থেকে ১৪০০ সিসি (cc), যা আধুনিক মানুষের মস্তিষ্কের আকারের কাছাকাছি।
- এরা ছিল প্রথম দিকের এমন এক প্রজাতি যারা শীত প্রধান জলবায়ু বা ঠান্ডা পরিবেশে বসবাসের জন্য অভিযোজিত হয়েছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশন।

১৩.
অ্যাজটেকরা মুদ্রার পরিবর্তে কী ব্যবহার করত?
  1. রৌপ্য 
  2. কোকো বিন
  3. স্বর্ণমুদ্রা
  4. শস্য
সঠিক উত্তর:
কোকো বিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কোকো বিন
ব্যাখ্যা

অ্যাজটেক সভ্যতা (Aztec Civilization):
- বর্তমান মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে গড়ে ওঠা এই সভ্যতাটি ছিল প্রাচীন আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী সভ্যতা।
- আনুমানিক ১৩০০ থেকে ১৫২১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এই সভ্যতা উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছায়।
- তাদের প্রধান শহর বা রাজধানীর নাম ছিল 'টেনোচটিটলান' (Tenochtitlan),
- যা একটি হ্রদের মাঝখানে কৃত্রিম দ্বীপে গড়ে উঠেছিল (বর্তমান মেক্সিকো সিটি)।

• অর্থনীতি ও বাণিজ্য:
- অ্যাজটেকরা বাণিজ্যে অত্যন্ত উন্নত ছিল। 
- তারা মুদ্রার পরিবর্তে অনেক সময় কোকো বিন ব্যবহার করত।

• স্থাপত্য ও প্রকৌশল (Engineering Marvels):
- অ্যাজটেকরা জলাভূমির ওপর বড় বড় পিরামিড, মন্দির এবং প্রাসাদ তৈরি করেছিল।
- 'চিনাম্পা' (Chinampa) বা ভাসমান বাগান ছিল তাদের এক অসামান্য উদ্ভাবন।
- হ্রদের ওপর কৃত্রিম জমি তৈরি করে তারা সারা বছর কৃষিকাজ করত।

• শিক্ষা ও সমাজ ব্যবস্থা:
- তাদের নিজস্ব লিখন পদ্ধতি (পিক্টোগ্রাফ) এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম সৌর ক্যালেন্ডার ছিল,
- যা কৃষিকাজ ও ধর্মীয় উৎসবের সময় নির্ধারণে ব্যবহৃত হতো।

• ধর্ম ও বলিদান প্রথা:
- অ্যাজটেকরা বহু ঈশ্বরে বিশ্বাসী ছিল। তাদের প্রধান দেবতাদের মধ্যে ছিলেন 'হুইজিলোপোচটলি' (সূর্য ও যুদ্ধের দেবতা) এবং 'কুয়েটজালকোটল' (জ্ঞানের দেবতা)।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডট কম।

১৪.
নতুন সপ্তাশ্চর্য ‘মাচুপিচু’ (Machu Picchu) কোন সভ্যতার নিদর্শন?
  1. মায়া সভ্যতা
  2. ইনকা সভ্যতা
  3. অ্যাজটেক সভ্যতা
  4. মেসোপটেমীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
ইনকা সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনকা সভ্যতা
ব্যাখ্যা

- নতুন সপ্তাশ্চর্য ‘মাচুপিচু’ (Machu Picchu) ইনকা সভ্যতার নিদর্শন।
-
তারা বিশাল বিশাল পাথর দিয়ে কোনো সিমেন্ট বা চুন ছাড়াই সুনিপুণভাবে দেয়াল তৈরি করত, যা আজও বিশ্বের বিস্ময়।

ইনকা সভ্যতা:

- এটি দক্ষিণ আমেরিকার একটি প্রাচীন সভ্যতা।
- ইনকা সভ্যতা পেরুকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।
-প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল এবং আন্দিজ পর্বতমালা বরাবর উত্তর ইকুয়েডর থেকে মধ্য চিলি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ইনকা সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ দেখা যায় পেরুর মাচু পিচুতে।
- স্থপতি: মানকো কাপেন।
- ইনকাদের কোনো লিখিত লিপি ছিল না। এর বদলে তারা রঙিন সুতার গিঁট দিয়ে হিসাব রাখা ও তথ্য আদান-প্রদান করত, যাকে 'কুইপু' বলা হয়। 

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি .কম।

১৫.
ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান (Hanging Gardens of Babylon) নির্মাণ করেছিলেন কে? 
  1. হাম্মুরাবি
  2. সাইরাস দ্য গ্রেট
  3. দারিয়াস
  4. নেবুচাদনেজার
সঠিক উত্তর:
নেবুচাদনেজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নেবুচাদনেজার
ব্যাখ্যা

ব্যাবিলনীয় সভ্যতা (Babylonian Civilization):
- মেসোপটেমিয়ার টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে সুমেরীয় সভ্যতার পতনের পর ব্যবিলনীয় সভ্যতা বিকশিত হয়।
- এটি মূলত দক্ষিণ মেসোপটেমিয়ার 'ব্যবিলন' শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল।

• ভৌগোলিক অবস্থান:
- বর্তমান ইরাকের বাগদাদ শহরের দক্ষিণে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে ব্যাবিলন শহরটি অবস্থিত ছিল।

• কালক্রম: এটি প্রধানত দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
১. পুরাতন ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য: খ্রিস্টপূর্ব ১৮৯৪ – ১৫৯৫ অব্দ (বিখ্যাত সম্রাট হাম্মুরাবির সময়কাল)।
২. নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য: খ্রিস্টপূর্ব ৬২৬ – ৫৩৯ অব্দ (সম্রাট নেবুচাদনেজারের সময়কাল)। [ব্রিটানিকা]

• ঐতিহাসিক অর্জন ও অবদান:
- হাম্মুরাবির আইন সংকলন (Code of Hammurabi): বিশ্বের প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ লিখিত আইনগুলোর একটি” ।
- ২৮২টি আইনের এই সংকলনটি একটি বিশাল পাথরের স্তম্ভে খোদাই করা ছিল, যার মূলনীতি ছিল "চোখের বদলে চোখ এবং দাঁতের বদলে দাঁত"।
- ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান (Hanging Gardens of Babylon): সম্রাট নেবুচাদনেজার তাঁর রানীর জন্য এটি নির্মাণ করেছিলেন। এটি প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি।

• জ্যোতির্বিদ্যা ও গণিত: ব্যবিলনীয়রা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণ গণনায় পারদর্শী ছিল।
- তারা রাশিচক্রের (Zodiac) ১২টি চিহ্নের ধারণা প্রবর্তন করে এবং বর্ষপঞ্জি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

• স্থাপত্য: তারা পোড়া ইটের ব্যবহার এবং খিলান ও গম্বুজ নির্মাণে দক্ষ ছিল। ব্যবিলনের 'ইশতার গেট' (Ishtar Gate) তাদের উন্নত স্থাপত্যকলার অন্যতম নিদর্শন।

• সভ্যতার পতন :
-  খ্রিস্টপূর্ব ৫৩৯ অব্দে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যবিলন দখল করেন। এর ফলে মেসোপটেমিয়ার ওপর ব্যবিলনীয়দের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব চিরতরে শেষ হয়।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।

১৬.
হিব্রু সভ্যতার সবচেয়ে বড় ও বৈপ্লবিক অবদান কোনটি?
  1. আইন সংকলন
  2. লিপি আবিষ্কার
  3. একেশ্বরবাদ
  4. নগর সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
একেশ্বরবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একেশ্বরবাদ
ব্যাখ্যা

হিব্রু সভ্যতা (Hebrew Civilization):
- বর্তমান ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন অঞ্চলে এই সভ্যতা বিকাশ লাভ করেছিল।
- হিব্রুরা মূলত সেমেটিক বংশোদ্ভূত যাযাবর গোষ্ঠী ছিল,
- যারা মেসোপটেমিয়া থেকে কেনানে (বর্তমান ফিলিস্তিন) এসে বসতি স্থাপন করে।
- 'হিব্রু' শব্দের আক্ষরিক অর্থ হলো 'যারা নদীর ওপার থেকে এসেছে'।

• একেশ্বরবাদ (Monotheism): হিব্রু সভ্যতার সবচেয়ে বড় এবং বৈপ্লবিক অবদান হলো 'একেশ্বরবাদ'।

• ধর্মীয় গ্রন্থ ও সাহিত্য: হিব্রুদের প্রধান ধর্মীয় গ্রন্থ হলো 'তাওরাত' (Torah), যা খ্রিস্টানদের কাছে 'ওল্ড টেস্টামেন্ট' হিসেবে পরিচিত।
- এটি হিব্রু ইতিহাস, আইন, কবিতা এবং দর্শনের একটি অনন্য সংকলন।


• বিখ্যাত রাজন্যবর্গ:
- রাজা সাউল (Saul): তিনি হিব্রু উপজাতিদের ঐক্যবদ্ধ করে প্রথম রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।
- রাজা ডেভিড (David): তিনি জেরুজালেম দখল করে একে হিব্রু রাজ্যের রাজধানী করেন।
- ৫৪৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারস্য সম্রাট সাইরাস জেরুজালেম দখল করে নিলে হিব্রু সভ্যতার রাজনৈতিক শক্তির পতন ঘটে, কিন্তু তাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে টিকে থাকে।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
ব্রোঞ্জ যুগে বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ-  
  1. লোহার ব্যবহার
  2. চাকার ব্যবহার
  3. তামা ও টিন সংগ্রহ
  4. মুদ্রার ব্যবহার
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিন সংগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তামা ও টিন সংগ্রহ
ব্যাখ্যা

- ব্রোঞ্জ তৈরির জন্য তামা ও টিন দূর-দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করতে হতো, যার ফলে বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে আন্তর্জাতিক
বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।

ব্রোঞ্জ যুগ (Bronze Age):
- তাম্র-প্রস্তর যুগের পর মানুষ যখন তামা ও টিনের মিশ্রণে শক্তিশালী সংকর ধাতু 'ব্রোঞ্জ' তৈরি করতে শিখল, তখন থেকেই ব্রোঞ্জ যুগের সূচনা হয়।
- আনুমানিক ৩,৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১,২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এই যুগ স্থায়ী ছিল।

• সভ্যতার উত্থান:
- ব্রোঞ্জ যুগেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রাচীন সভ্যতাগুলো (যেমন: মেসোপটেমীয়, মিশরীয়, সিন্ধু এবং ইজিয়ান সভ্যতা) বিকশিত হয়।
- মানুষ বিশাল পিরামিড, জিকুরাত এবং সুপরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলে।

• প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন:
- ব্রোঞ্জের হাতিয়ার পাথরের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই ও তীক্ষ্ণ ছিল।
- এই যুগে মানুষ চাকা, পাল তোলা নৌকা এবং লাঙলের ব্যবহার ব্যাপকভাবে শুরু করে।

• লিখন পদ্ধতির উদ্ভব:
- বাণিজ্যের হিসাব এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনে এই যুগেই প্রথম লিখন পদ্ধতি বা লিপির (যেমন: কিউনিফর্ম ও হায়ারোগ্লিফিক্স) উদ্ভব ঘটে।

বাণিজ্যিক প্রসার:
- ব্রোঞ্জ তৈরির জন্য তামা ও টিন দূর-দূরান্ত থেকে সংগ্রহ করতে হতো, যার ফলে বিভিন্ন সভ্যতার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটে।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি .কম।

১৮.
পারসিয়ান বা প্রাচীন ইরানিদের প্রধান ধর্ম ছিল-
  1. ইহুদি ধর্ম
  2. জরথুস্ট্রবাদ
  3. হিন্দুধর্ম
  4. খ্রিস্টধর্ম
সঠিক উত্তর:
জরথুস্ট্রবাদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জরথুস্ট্রবাদ
ব্যাখ্যা

পারস্য সভ্যতা:-
- বর্তমান ইরানকে কেন্দ্র করে এই বিশাল ও শক্তিশালী সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল।
- এটি প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং সুসংগঠিত সাম্রাজ্য ছিল।
- পারস্য সাম্রাজ্যের গোড়াপত্তন করেন সম্রাট সাইরাস (Cyrus the Great)।

• সাম্রাজ্য বিস্তার ও শাসন পদ্ধতি:
- সম্রাট সাইরাস থেকে শুরু করে সম্রাট প্রথম দারিউস (Darius I) পর্যন্ত পারস্য সাম্রাজ্য এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিশাল অংশে বিস্তৃত ছিল।

• সম্রাট সাইরাসের সিলিন্ডার (Cyrus Cylinder): এটিকে বিশ্বের প্রথম 'মানবাধিকারের ঘোষণাপত্র' হিসেবে গণ্য করা হয়।
- সম্রাট সাইরাস যখন ব্যাবিলন জয় করেন, তখন তিনি সেখানকার বন্দি হিব্রুদের মুক্তি দেন এবং সবাইকে নিজ নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দান করেন।

• ধর্ম ও দর্শন: পারস্যদের ধর্মের নাম ছিল 'জরথুস্ট্রবাদ' (Zoroastrianism)।
• স্থাপত্যকলা: পারস্য স্থাপত্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন হলো 'পারসেপোলিস' (Persepolis) নামক বিশাল প্রাসাদ।
- মুদ্রার প্রচলন: সম্রাট দারিউস সর্বপ্রথম বাণিজ্য সহজ করার জন্য 'দারিক' (Daric) নামক স্বর্ণমুদ্রা এবং রৌপ্যমুদ্রার প্রচলন করেন।
- পারস্যরা প্রথম সুশৃঙ্খলভাবে একটি বিশাল নৌবাহিনী ও পদাতিক বাহিনী গড়ে তুলেছিল। তাদের বিশেষ একটি বাহিনী ছিল যার নাম 'ইমমোর্টালস' (Immortals) বা অমর বাহিনী।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত ‍বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯.
অ্যাসিরীয়রা বিশেষভাবে কোন ক্ষেত্রে পারদর্শী ছিল? 
  1. নৌযুদ্ধ
  2. কৃষি
  3. বাণিজ্য
  4. সামরিক কৌশল
সঠিক উত্তর:
সামরিক কৌশল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামরিক কৌশল
ব্যাখ্যা

- অ্যাসিরীয়রা বিশেষভাবে সামরিক কৌশল ক্ষেত্রে পারদর্শী ছিল।

 অ্যাসিরীয় সভ্যতা (Assyrian Civilization):

- অ্যাসিরীয় ছিল মেসোপটেমিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি যোদ্ধা জাতি।
- তারা তাদের নিষ্ঠুর যুদ্ধকৌশল এবং বিশাল সাম্রাজ্য শাসনের জন্য পরিচিত।
- মেসোপটেমিয়ার উত্তরাঞ্চল (বর্তমান উত্তর ইরাক) ছিল আসিরীয়দের মূল কেন্দ্র।
- খ্রিস্টপূর্ব ৯০০ থেকে ৬১২ অব্দ পর্যন্ত তারা সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল।
- প্রধান শহর: আশুর (Assur) এবং নিনভেশ (Nineveh)। নিনভেশ ছিল তাদের সাম্রাজ্যের জাঁকজমকপূর্ণ রাজধানী।
- প্রধান সম্রাট: সম্রাট আশুরবানিপাল (Ashurbanipal) এবং দ্বিতীয় সারগন।
- সামরিক কৌশল:  অ্যাসিরীয়রা প্রথম লোহার তৈরি অস্ত্র ও রথ ব্যবহারের মাধ্যমে এক অপরাজেয় সেনাবাহিনী গড়ে তোলে।
- তারা অত্যন্ত সুসংগঠিত সামরিক শাসন প্রবর্তন করে।
- অসুরবানিপালের লাইব্রেরি: সম্রাট আশুরবানিপাল নিনভেশ শহরে বিশ্বের প্রথম সুশৃঙ্খল গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেন। এখানে হাজার হাজার কিউনিফর্ম মাটির ফলক সংরক্ষিত ছিল।

• স্থাপত্য: তারা বিশাল প্রাসাদ ও পাথরের খোদাই করা চিত্রকলার (Relief Sculpture) জন্য বিখ্যাত ছিল। ডানাযুক্ত ষাঁড় বা 'লামাসু' (Lamassu) ছিল তাদের স্থাপত্যের অন্যতম প্রতীক।

• প্রশাসনিক ব্যবস্থা:  অ্যাসিরীয় তাদের বিশাল সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত করে দক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল।

উৎস: ব্রিটানিকা এবং এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

২০.
প্রাচীন প্রস্তর যুগের সবচেয়ে বড় বৈপ্লবিক সাফল্য কী? 
  1. মৃৎশিল্প
  2. চাকার আবিষ্কার
  3. আগুনের ব্যবহার 
  4. নগরায়ন
সঠিক উত্তর:
আগুনের ব্যবহার 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগুনের ব্যবহার 
ব্যাখ্যা

প্রাচীন প্রস্তর যুগ (Paleolithic Age):
- মানব সভ্যতার আদিমতম পর্যায়কে প্রাচীন প্রস্তর যুগ বলা হয়।
- এই যুগের মানুষ ছিল মূলত যাযাবর এবং খাদ্য সংগ্রাহক।
- হাতিয়ার: তারা পাথর ভেঙে ভোঁতা ও অমসৃণ হাতিয়ার তৈরি করত। এই যুগের শেষ দিকে হাড় ও দাঁতের তৈরি সূক্ষ্ম হাতিয়ারের ব্যবহারও দেখা যায়।

• আগুনের আবিষ্কার:
- এই যুগের সবচেয়ে বৈপ্লবিক সাফল্য ছিল আগুনের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহার শেখা।
- এটি মানুষকে শীত থেকে বাঁচতে এবং খাবার রান্না করতে সাহায্য করে।

• আবাসন ও শিল্প:
- মানুষ প্রধানত গুহায় বসবাস করত। তারা গুহার দেওয়ালে শিকার ও পশুর ছবি আঁকত, যা 'গুহাচিত্র' (Cave Paintings) নামে পরিচিত। - ফ্রান্সের লাস্কো এবং স্পেনের আলতামিরা গুহায় এর চমৎকার নিদর্শন পাওয়া যায়।

• সামাজিক গঠন:
- মানুষ বেঁচে থাকার প্রয়োজনে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বাস করত এবং মূলত শিকার ও ফলমূল সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে তাদের জীবনযাত্রা চলত।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডট কম।

২১.
প্রাচীন রোমান সভ্যতার বিখ্যাত নাট্যশালার নাম কী ছিল? 
  1. প্যান্থিয়ন
  2. কলোসিয়াম
  3. সার্কাস ম্যাক্সিমাস
  4. অ্যাক্রোপলিস
সঠিক উত্তর:
কলোসিয়াম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কলোসিয়াম
ব্যাখ্যা

- রোমানদের বিখ্যাত নাট্যশালা ‘কলোসিয়াম’।

• রোমান সভ্যতা (Roman Civilization): 
- ইতালির টাইবার নদীর তীরে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এই সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
- রোমানদের মতে, রোমিউলাস ও রেমাস নামে দুই ভাই এই রোম নগরীর পত্তন করেছিলেন।
- খ্রিস্টপূর্ব ৫০৯ অব্দে রোমে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এখানে 'সিনেট' নামক শক্তিশালী পরিষদ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত।

• আইন ও শাসনব্যবস্থা:
- রোমানদের শ্রেষ্ঠ অবদান ছিল তাদের আইনব্যবস্থা।
- 'বারোটি ব্রোঞ্জ পাতের আইন' (Twelve Tables) ছিল সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় বিশ্বের প্রথম লিখিত আইনের অন্যতম।

• রোমানরা সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। উত্তর আফ্রিকার কার্থেজের বিরুদ্ধে তাদের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ 'পিউনিক যুদ্ধ' নামে পরিচিত, যার ফলে রোম সমগ্র ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করে।
- জুলিয়াস সিজার রোমের একচ্ছত্র অধিপতি হয়েছিলেন, কিন্তু তার মৃত্যুর পর অগাস্টাস সিজার রোমান সাম্রাজ্যের প্রথম সম্রাট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন এবং রোমে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি (Pax Romana) প্রতিষ্ঠা করেন।

- রোমানদের বিখ্যাত নাট্যশালা ‘কলোসিয়াম’ (Colosseum).

উৎস: ব্রিটানিকা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

২২.
ইজিয়ান সভ্যতা কোন অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল?
  1. গ্রিস 
  2. তুরস্ক
  3. ইতালি
  4. ইরান
সঠিক উত্তর:
গ্রিস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিস 
ব্যাখ্যা

ইজিয়ান সভ্যতা (Aegean Civilization):
- গ্রিসের মূল ভূখণ্ড, ক্রিট দ্বীপ এবং ইজিয়ান সাগরের দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে ইজিয়ান সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এটি মূলত দুটি প্রধান ধারায় বিভক্ত ছিল: মিনোয়ান সভ্যতা (ক্রিট দ্বীপ) এবং মাইসিনীয় সভ্যতা (গ্রিসের মূল ভূখণ্ড)।

• মিনোয়ান সভ্যতা (Minoan Civilization):
- এটি ইজিয়ান অঞ্চলের প্রাচীনতম উন্নত সভ্যতা, যা ক্রিট দ্বীপে বিকশিত হয়েছিল।
- রাজা মিনোসের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়।
- তাদের প্রধান কেন্দ্র ছিল 'নোসোস' (Knossos) প্রাসাদ। 

• মাইসিনীয় সভ্যতা (Mycenaean Civilization):
- গ্রিসের মূল ভূখণ্ডে মাইসিনাই নামক শহরকে কেন্দ্র করে এই সভ্যতা গড়ে ওঠে।
- এটি ছিল মূলত একটি সামরিক বা বীর যোদ্ধাদের সভ্যতা।

• বিখ্যাত কবি হোমারের 'ইলিয়াড' ও 'ওডিসি' মহাকাব্যে এই মাইসিনীয় যুগের বীরত্ব এবং ট্রোজান যুদ্ধের কাহিনী বর্ণিত হয়েছে।
- তাদের স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বিশাল পাথরের তৈরি 'লায়ন গেট' (Lion Gate)।

উৎস: ব্রিটানিকা ওয়েবসাইট এবং হিস্টোরি ডট কম।

২৩.
মেসোপটেমীয় সভ্যতার প্রথম পর্যায় ছিল কোনটি? 
  1. ব্যাবিলনীয় সভ্যতা
  2. অ্যাসিরীয় সভ্যতা
  3. সুমেরীয় সভ্যতা
  4. ক্যালডীয় সভ্যতা
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুমেরীয় সভ্যতা
ব্যাখ্যা

সুমেরীয় সভ্যতা (Sumerian Civilization): 
- সুমেরীয় সভ্যতা ছিল মেসোপটেমীয় সভ্যতার প্রথম পর্যায়।

- এবং মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রথম সংগঠিত সভ্যতা।
- এটি মেসোপটেমিয়ার দক্ষিণ অংশে আনুমানিক  (বর্তমান দক্ষিণ ইরাক) খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ থেকে ৩০০০ অব্দের মধ্যে বিকশিত হয়েছিল।

• ভৌগোলিক অবস্থান: প্রাচীন সুমের (Sumer) ছিল টাইগ্রিস এবং ইউফ্রেটিস নদীর মোহনার নিকটবর্তী নিম্নভূমি।
- কালক্রম: এর বিকাশ আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে শুরু হয় এবং খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ অব্দ পর্যন্ত এর প্রভাব টিকে ছিল। [ব্রিটানিকা]

• প্রধান শহরসমূহ: উরুক ছিল বিশ্বের প্রথম বড় শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম।

• ঐতিহাসিক অর্জন ও অবদান
- লিখন পদ্ধতি (Cuneiform): সুমেরীয়রা বিশ্বের প্রথম লিখন পদ্ধতি 'কিউনিফর্ম' উদ্ভাবন করে।
- এটি নল খাগড়া দিয়ে ভেজা মাটির ফলকে খোদাই করে লেখা হতো।

• চাকার উদ্ভাবন: খ্রিস্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দের দিকে তারা প্রথম চাকা (পটার’স হুইল বা কুমোরের চাকা) ব্যবহার শুরু করে, পরবর্তীতে এই ধারণা যানবাহনের চাকার বিকাশে ভূমিকা রাখে।

• আইন ও শাসন: তারা লিখিত আইনের প্রাথমিক ধারণা প্রদান করে।

• কৃষি প্রযুক্তি: সুমেরীয়রা অত্যন্ত উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং লাঙলের ব্যবহার শুরু করেছিল, যা মরুপ্রায় ভূমিকে শস্যভাণ্ডারে পরিণত করে।

• সাহিত্য: বিশ্বের প্রাচীনতম মহাকাব্য 'গিলগামেশ' (Epic of Gilgamesh) সুমেরীয় সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত।

• গণিত: তারা ৬০-ভিত্তিক গণনা পদ্ধতি (Sexagesimal system) প্রবর্তন করে, যেখান থেকে আজকের ৬০ সেকেন্ডে এক মিনিট ও ৬০ মিনিটে এক ঘণ্টার ধারণা এসেছে।

• ধর্ম ও সংস্কৃতি :
- জিগুরাত: তারা তাদের প্রধান দেবতাদের সম্মানে বিশাল উঁচু মন্দির বা 'জিগুরাত' নির্মাণ করত।

উৎস: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা।