• “রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।"- বাক্যটি প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগের কারণে অশুদ্ধ।
• প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগ:
- “রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য” অশুদ্ধ কারণ এখানে ‘উৎকর্ষ’ (বিশেষ্য) শব্দের সাথে অতিরিক্ত ‘-তা’ প্রত্যয় সংযোজন করা হয়েছে, যা প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি।
- অর্থাৎ, ‘উৎকর্ষ’ ইতিমধ্যেই একটি পূর্ণ বিশেষ্য পদ যার অর্থ ভালো গুণ বা উৎকর্ষতা বোঝায়, তাই পুনরায় ‘-তা’ যোগ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
- সঠিক রূপ হলো: “রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য”, এখানে বিশেষ্য ‘উৎকর্ষ’ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়েছে।
---------------------------------------
• প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগের কারণে কিছু অশুদ্ধ — শুদ্ধ রূপ
অশুদ্ধ — ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ — ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।
অশুদ্ধ — সৌজন্যতার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।
শুদ্ধ — সৌজন্যের / সৌজন্যবোধের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।
অশুদ্ধ — দুর্বলতবশত সে আসতে পারেনি।
শুদ্ধ — দুর্বলতাবশত সে আসতে পারেনি।
অশুদ্ধ — ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ — ইহার আবশ্যকতা নেই।
অশুদ্ধ — তাহার সৌন্দর্যতাবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।
শুদ্ধ — তার সৌন্দর্যবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।
অশুদ্ধ — ছেলেটি অহর্নিশি তার মাকে জ্বালাতন করে।
শুদ্ধ — ছেলেটি অহর্নিশ তার মাকে জ্বালাতন করে।
অশুদ্ধ — তার সাংঘাতিক আনন্দ হলো।
শুদ্ধ — তার অপরিসীম আনন্দ হলো।
অশুদ্ধ — মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে সুস্বাগত জানানো হল।
শুদ্ধ — মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানানো হল।
অশুদ্ধ — মিছিল করার জন্য সবাই একত্রিত হলো।
শুদ্ধ — মিছিল করার জন্য সবাই একত্র হলো।
অশুদ্ধ — সৌজন্যতা বজায় রাখা উচিত।
শুদ্ধ — সৌজন্য বজায় রাখা উচিত।
অশুদ্ধ — ঘটনাটি প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ — ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে।
অশুদ্ধ — বাহুল্যতা পরিহার করা উচিত।
শুদ্ধ — বাহুল্য পরিহার করা উচিত।
অশুদ্ধ — মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠতর সন্তান।
শুদ্ধ — মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।
অশুদ্ধ — ঐক্যতার ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।
শুদ্ধ — ঐক্যের ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।
অশুদ্ধ — সে সমৃদ্ধশালী পরিবারের সন্তান।
শুদ্ধ — সে সমৃদ্ধ পরিবারের সন্তান।
অশুদ্ধ — লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যতার ছাপ স্পষ্ট।
শুদ্ধ — লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্ট।
উৎস:
বাংলা ভাষা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।