পরীক্ষা আর্কাইভ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

পরীক্ষাশিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes২৪ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ২৬ বিষয়: বাংলা ব্যাকরণ টপিক: বানান ও বাক্য সংশোধন বা শুদ্ধকরণ/প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ, লিঙ্গ পরিবর্তন।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম]

শিক্ষক নিবন্ধন (NTRCA) প্রস্তুতি [১৯তম] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
"সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে"- বাক্যটি কী কারণে অশুদ্ধ?  
  1. বাচ্যজনিত অশুদ্ধি
  2. লিঙ্গজনিত অশুদ্ধি
  3. সন্ধির ভুল প্রয়োগ
  4. বাহুল্য দোষে
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাহুল্য দোষে
ব্যাখ্যা

• ভুল প্রয়োগ: "সমুদয় পক্ষীরাই নীড় বাঁধে"
- শুদ্ধ বাক্য: সমুদয় পক্ষীই নীড় বাঁধে।

- এখানে 'সমুদয়' শব্দটির অর্থই হলো সব বা পুরো।
- তাই এটি স্বয়ং বহুবচন নির্দেশ করে।
- অতএব, 'পক্ষী' শব্দের পরে অতিরিক্ত বহুবচনসূচক 'রা' ব্যবহার করলে তা বাহুল্যদোষে দুষ্ট। 
-----------------------
• কিছু গুরুত্বপূর্ণ শুদ্ধ বাক্য:
অশুদ্ধ: সব আলেমগণ এখানে এসেছেন।
শুদ্ধ: আলেমগণ এখানে এসেছেন। 

অশুদ্ধ: ফলজ বৃক্ষ বেশি লাগাতে হবে।
শুদ্ধ: ফলদ বৃক্ষ বেশি লাগাতে হবে।

অশুদ্ধ: তার সৌজন্যতায় মুগ্ধ হলাম।
শুদ্ধ: তার সৌজন্যে মুগ্ধ হলাম।

অশুদ্ধ: বাংলা বানান আয়ত্ব করা বেশ কঠিন।
শুদ্ধ: বাংলা বানান আয়ত্ত করা বেশ কঠিন।

অশুদ্ধ: পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে।
শুদ্ধ: পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: আমি সাক্ষী দিব না।
শুদ্ধ: আমি সাক্ষ্য দেব না। 

অশুদ্ধ: আমি গীতাঞ্জলী পড়েছি।
শুদ্ধ: আমি গীতাঞ্জলি পড়েছি। 

অশুদ্ধ: দুর্বলবশত তিনি আসতে পারেননি।
শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত তিনি আসতে পারেননি

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ? 
  1. দৃষ্টিকোণ 
  2. চক্ষুষ্মান
  3. অভ্যন্তরীন
  4. কনকাঞ্জলি
সঠিক উত্তর:
অভ্যন্তরীন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভ্যন্তরীন
ব্যাখ্যা

• বানান শুদ্ধিকরণ:

অশুদ্ধ বানান - 'অভ্যন্তরীন';
- শব্দের শুদ্ধ বানান - 'অভ্যন্তরীণ';
- অভ্যন্তরীণ একটি বিশেষণ পদ।
- এর অর্থ হলো ভেতরের বা অন্তর্গত।
- এটি কোনো বস্তু বা ব্যক্তির অভ্যন্তরীণ বৈশিষ্ট্য বা অবস্থান প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।
-----------------------------------------
অন্যদিকে,
• দৃষ্টিকোণ, চক্ষুষ্মান, কনকাঞ্জলি- শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

.
‘পেনসিল’ বানানে কেন মূর্ধন্য-ণ বসবেনা? 
  1. শব্দগুলো সংস্কৃত বলে
  2. সমাসবদ্ধ নিয়ম এখানে খাটেনা 
  3. শব্দটি বিশেষ্য পদ বলে
  4. বিদেশি শব্দে ‘ণ’ হয় না
সঠিক উত্তর:
বিদেশি শব্দে ‘ণ’ হয় না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিদেশি শব্দে ‘ণ’ হয় না
ব্যাখ্যা

‘কমিশন’ বানানে মূর্ধন্য-ণ হবে না কারণ- বিদেশি শব্দে ‘ণ’ হয় না। 
------------------------------
• ণ-ত্ব বিধান:
- তৎসম শব্দ হলো বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সেই শব্দগুলো, যেগুলো সংস্কৃত ভাষা থেকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই এসেছে। 
- ‘তৎ’ মানে সংস্কৃতের এবং ‘সম’ মানে তুল্য বা অপরিবর্তিত।
- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য-ণ (ণ) ব্যবহারের নিয়ম মূলত তৎসম বা সংস্কৃত শব্দের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
- এ নিয়মকে বলা হয় ণত্ব বিধান।
- ণত্ব বিধান অনুযায়ী, তৎসম শব্দে দন্ত্য-ন (ন) নির্দিষ্ট পরিবেশে মূর্ধন্য-ণ (ণ)-এ রূপান্তরিত হয় এবং সেই বানান অবিকৃতভাবেই রাখতে হয়।
- বাংলা তদ্ভব, দেশি ও বিদেশি শব্দে সাধারণত মূর্ধন্য-ণ ব্যবহৃত হয় না।

- উদাহরণসমূহ:
- ইংরেজি: কর্নার, কর্ন, গ্রিন, ফার্নিচার, জার্নাল। 
- ফারসি/আরবি: কুরআন, তুফান, নিশান, সুলতান, কোরবান, কামান। 
- অন্যান্য: কোম্পানি, লন্ডন, পেনসিল, হর্ন, স্টেনগান। 

উৎস:
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
কোন শব্দটির লিঙ্গান্তর হয় না? 
  1. শূদ্র 
  2. বৈশ্যা
  3. জামাতা
  4. মুদি
সঠিক উত্তর:
জামাতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জামাতা
ব্যাখ্যা

- 'জামাতা' শব্দটির লিঙ্গান্তর হয় না।
- 'জামাতা' একটি নিত্য পুরুষবাচক শব্দ হওয়ায় এর লিঙ্গান্তর হয় না। 
-------------
লিঙ্গান্তর:
- যেসব শব্দে পুরুষ বা স্ত্রীবাচক কোনো নির্দিষ্টতা থাকে না, বরং পুরুষ ও নারী উভয়কে বোঝায়, অথবা যা জড় পদার্থ বা ধারণা নির্দেশ করে, তাদের লিঙ্গান্তর হয় না।
- এগুলো নিত্য উভয়লিঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়।
- এর মধ্যে রয়েছে এমন পেশা, পদবী, সাধারণ নাম বা জড় বস্তু যা পুরুষ ও নারী উভয়েই বোঝাতে পারে।
- প্রথাগত ব্যাকরণে এর কোনো আলাদা স্ত্রীবাচক রূপ নেই, তাই এটি নিত্য উভয়লিঙ্গ শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

- লিঙ্গান্তরহীন কিছু নির্দিষ্ট পদবী ও সম্পর্ক নিম্মরুপ, যেমন:
জামাতা, কবিরাজ, যোদ্ধা,  ডাক্তার, শিক্ষক, পুলিশ, মন্ত্রী, কবি, শিল্পী, বিচারপতি, মহকুমাশাসক, কর্মচারী, ঢাকী, কৃতদার, অকৃতদার, পুরোহিত, কেরানি, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সরকার, পীর, দরবেশ, মওলানা, সেনাপতি, দলপতি, জ্বীন ইত্যাদি।
-----------------
অন্যদিকে,
- 'শূদ্র' এর স্ত্রীবাচক শব্দ-শূদ্রাণী ,
- ‘বৈশ্যা' এর স্ত্রীবাচক শব্দ-বৈশ্যানী,
- 'মুদি' এর স্ত্রীবাচক শব্দ- মুদিবউ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা,ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. তোমার কাজে আমি সন্তোষ হলাম।
  2. তোমার কাজে আমি সন্তুষ্ট হলাম।
  3. তোমার কাজে আমি সন্তোষজনক হলাম। 
  4. তোমার কাজে আমি সন্তোষ্ট হলাম। 
সঠিক উত্তর:
তোমার কাজে আমি সন্তুষ্ট হলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তোমার কাজে আমি সন্তুষ্ট হলাম।
ব্যাখ্যা

তোমার কাজে আমি সন্তুষ্ট হলাম- বাক্যটি শুদ্ধ কারণ এখানে বিশেষণ পদ (সন্তুষ্ট) সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে।
--------------------------
অন্যদিকে,
- "তোমার কাজে আমি সন্তোষ হলাম।"- বাক্যটি অশুদ্ধ কারণ এখানে বিশেষ্য পদ (সন্তোষ) ভুলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। 

- “তোমার কাজে আমি সন্তোষজনক হলাম।"- ভুল, কারণ ‘সন্তোষজনক’ কাজ বা বস্তুর গুণ বোঝায়, কিন্তু ব্যক্তি নিজে সন্তোষজনক না হয়ে ‘সন্তুষ্ট’ হন।

 - “তোমার কাজে আমি সন্তোষ্ট হলাম।"- বাক্যটি বানানজনিত কারনে ভুল। সন্তোষ্ট' বানানটি ভুল। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

.
বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী নিচের কোন শব্দটির বানান ভুল? 
  1. শ্রীলঙ্কা
  2. গ্রীস 
  3. ইতালি
  4. জার্মানি
সঠিক উত্তর:
গ্রীস 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রীস 
ব্যাখ্যা

• বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানরীতি অনুযায়ী ‘গ্রীস’ শব্দটির বানান ভুল।
--------------------
• দেশের নাম লিখতে ই-কার ব্যবহার: 
- যে কোনো দেশের নাম লিখার সময় সাধারণভাবে ই-কার ব্যবহার করা যায়।
- উদাহরণস্বরূপ—
- গ্রিস, জার্মানি, ইতালি, হাঙ্গেরি ইত্যাদি।
- তবে কিছু দেশের ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম,
- যেখানে ই-কার প্রয়োগ করা হয় না।
- এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

.
‘শিল্পী’ কোন লিঙ্গের উদাহরণ? 
  1. পুংলিঙ্গ
  2. স্ত্রীলিঙ্গ
  3. ক্লীবলিঙ্গ
  4. উভয়লিঙ্গ
সঠিক উত্তর:
উভয়লিঙ্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উভয়লিঙ্গ
ব্যাখ্যা

‘শিল্পী’- উভয়লিঙ্গ।
--------
লিঙ্গ:
- বাংলা ব্যাকরণে যে চিহ্ন বা লক্ষণের মাধ্যমে কোনো পদ—যেমন বিশেষ্য, সর্বনাম বা বিশেষণ—পুরুষ, স্ত্রী, উভয় লিঙ্গ বা অচেতন বস্তুকে নির্দেশ করে, তাকে লিঙ্গ বলা হয়।
- বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- এ চার প্রকার লিঙ্গ হলো-
- পুংলিঙ্গ,
- স্ত্রীলিঙ্গ,
- ক্লীবলিঙ্গ,
- উভয়লিঙ্গ। 

পুংলিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে পুরুষজাতিকে বোঝায়, তাদেরকে বলা হয় পুংলিঙ্গ।
- এসব নামবাচক শব্দের উদাহরণ হলো- কাকা, চাচা, ছেলে, বালক, নানা, বাবা, গোয়ালা, কিশোর, প্রবীণ ইত্যাদি।

স্ত্রীলিঙ্গ:
- যে সব নামবাচক শব্দের সাহায্যে স্ত্রীজাতিকে বোঝায়, সেসব শব্দকে স্ত্রীলিঙ্গ বলে।
- এসব স্ত্রীবাচক শব্দের উদাহরণ হলো- কাকী, মামী, চাচী, মা, আম্মা, কিশোরী, প্রবীণা ইত্যাদি।

ক্লীবলিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে পুরুষ ও স্ত্রীজাতি কোনোটিই বোঝায় না, সেসব শব্দকে বলা হয় ক্লীবলিঙ্গ।
- এসব শব্দের উদাহরণ হলো- গাছ, পাহাড়, পর্বত, বই, টেবিল, ফুল, ফল, চেয়ার ইত্যাদি।

উভয় লিঙ্গ:
- যে সব শব্দের সাহায্যে স্ত্রী ও পুরুষজাতি উভয়ই বোঝায়, তাকে বলা হয় উভয়লিঙ্গ।
- উভয়লিঙ্গের উদাহরণ হলো- শিল্পী, ডাক্তার, শিশু, মানুষ, কবি ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?   
  1. বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে। 
  2. রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
  3. সৌজন্যবোধের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।
  4. দুর্বলতাবশত সে আসতে পারেনি।
সঠিক উত্তর:
বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে। 
ব্যাখ্যা

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে- 'বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরাবস্থা তৈরি হয়েছে।'- এই বাক্যে। 
- শুদ্ধ রূপ- 'বন্যায় গ্রামের মানুষের চরম দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।'
-----------------------------
• প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগজনিত- শুদ্ধ–অশুদ্ধ রূপ:

অশুদ্ধ: রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।
শুদ্ধ: রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।

অশুদ্ধ: সৌজন্যতার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।
শুদ্ধ: সৌজন্যের / সৌজন্যবোধের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।

অশুদ্ধ: দুর্বলতবশত সে আসতে পারেনি।
শুদ্ধ: দুর্বলতাবশত সে আসতে পারেনি।

অশুদ্ধ: ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ: ইহার আবশ্যকতা নেই।

অশুদ্ধ: তাহার সৌন্দর্যতাবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।
শুদ্ধ: তার সৌন্দর্যবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।

অশুদ্ধ: ছেলেটি অহর্নিশি তার মাকে জ্বালাতন করে।
শুদ্ধ: ছেলেটি অহর্নিশ তার মাকে জ্বালাতন করে।

অশুদ্ধ: তার সাংঘাতিক আনন্দ হলো।
শুদ্ধ: তার অপরিসীম আনন্দ হলো।

অশুদ্ধ: মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে সুস্বাগত জানানো হল।
শুদ্ধ: মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানানো হল।

অশুদ্ধ: মিছিল করার জন্য সবাই একত্রিত হলো।
শুদ্ধ: মিছিল করার জন্য সবাই একত্র হলো।

অশুদ্ধ: সৌজন্যতা বজায় রাখা উচিত।
শুদ্ধ: সৌজন্য বজায় রাখা উচিত।

অশুদ্ধ: ঘটনাটি প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ: ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: বাহুল্যতা পরিহার করা উচিত।
শুদ্ধ: বাহুল্য পরিহার করা উচিত।

অশুদ্ধ: মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠতর সন্তান।
শুদ্ধ: মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।

অশুদ্ধ: ঐক্যতার ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।
শুদ্ধ: ঐক্যের ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।

অশুদ্ধ: সে সমৃদ্ধশালী পরিবারের সন্তান।
শুদ্ধ: সে সমৃদ্ধ পরিবারের সন্তান।

অশুদ্ধ: লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যতার ছাপ স্পষ্ট।
শুদ্ধ: লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্ট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

.
কোন শব্দে ‘ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ? 
  1. ত্রিণয়ন
  2. অগ্রহায়ণ
  3. ভীষণ
  4. কারণ 
সঠিক উত্তর:
ত্রিণয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্রিণয়ন
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ শব্দ:
- 'ত্রিণয়ন' শব্দে ণ’ এর ব্যবহার অশুদ্ধ।
- কারণ ‘ণ-ত্ব’ বিধান খাটেনা- সমাসবদ্ধ পদে।
- সমাসবদ্ধ শব্দে দুইপদেরই অর্থের প্রাধান্য থাকলে ণ-ত্ব বিধান খাটে না।
- সমাসবদ্ধ পদে 'ন' হয়। 
- যেমন-
- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
-------------------------
অন্যদিকে,
• ণত্ব বিধানের প্রধান নিয়ম হলো—

- ঋ, র, রেফ (র্), র-ফলা ও ষ-এর পরে যদি দন্ত্য-ন থাকে, তবে তা মূর্ধন্য-ণ হয়।
- উদাহরণ—
- ঋ-এর পরে: ঋণ, ঘৃণা, মৃণাল।
- র-এর পরে: কারণ, বরণ, মরণ।
- রেফ (র্)-এর পরে: বর্ণ, চূর্ণ, শীর্ণ।
- র-ফলা-এর পরে: ত্রাণ, দ্রোণ, অগ্রহায়ণ
- ষ-এর পরে: ভীষণ, বিশেষণ, পাষাণ। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?    
  1. ইহার আবশ্যক নাই।
  2. ইহার আবশ্যকতা নাই। 
  3. ইহার আবশ্যকীয় নাই। 
  4. সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ইহার আবশ্যকতা নাই। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইহার আবশ্যকতা নাই। 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য- ইহার আবশ্যকতা নাই।
- বাক্যটি শুদ্ধ, কারণ ‘আবশ্যকতা’ একটি বিশেষ্য পদ; এর সঙ্গে ‘নাই’ ব্যবহার করে প্রয়োজনের অভাব সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

-----------------------------
- ইহার আবশ্যক নাই- অশুদ্ধ, কারণ ‘আবশ্যক’ শব্দটি বিশেষণ (যার অর্থ প্রয়োজনীয়), কিন্তু বাক্যে প্রয়োজন বা দরকার বোঝাতে বিশেষ্য দরকার হয়; তাই ‘আবশ্যকতা’ ব্যবহার না করে ‘আবশ্যক’ বসানো পদগত ভুল।

- ইহার আবশ্যকীয় নাই- অশুদ্ধ, কারণ ‘আবশ্যক’ শব্দটি বিশেষণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এর বদলে ঈয় প্রত্যয় যোগ করে আবশ্যকীয় শব্দের ব্যবহার যথাযথ নয়। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১১.
‘তা' ও ‘ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে? 
  1. ভারসাম্যতা
  2. পুরুষত্ব 
  3. মধুরতা
  4. মিত্রতা 
সঠিক উত্তর:
ভারসাম্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভারসাম্যতা
ব্যাখ্যা

• ‘তা' ও ‘ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে ভারসাম্যতা শব্দে।
- ‘তা' ও ‘ত্ব' প্রত্যয়ের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে- পুরুষত্ব , মধুরতা, মিত্রতা শব্দগুলোতে। 
---------------------------
• নিয়ম:
- ‘তা' ও ‘ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে ভারসাম্যতা শব্দে, কারণ-
- ‘ভারসাম্য’ নিজেই একটি বিশেষ্য পদ, যা সমাবস্থা বা ভারসাম্য নির্দেশ করে।
- অতএব, এর সঙ্গে অতিরিক্ত ‘তা’ বা ‘ত্ব’ প্রত্যয় যোগ করা অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যাকরণগতভাবে অশুদ্ধ।
- উদাহরণস্বরূপ, ‘ভারসাম্যতা’ বা ‘ভারসাম্যত্ব’ লেখা দ্বিত্ব দোষ সৃষ্টি করে, কারণ মূল শব্দের অর্থের মধ্যে ইতিমধ্যেই সমাবস্থা নিহিত।
- তাই ‘ভারসাম্য’-এর সঙ্গে কোনো অতিরিক্ত প্রত্যয় ব্যবহার করা উচিত নয়।

অন্যদিকে,
- 'পুরুষত্ব' (পুরুষ + ত্ব) শব্দে 'ত্ব' প্রত্যয়ের সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে কারণ এটি একটি নাম বিশেষ্যের সাথে যুক্ত হয়ে গুণবাচক বিশেষ্য তৈরি করেছে। 

- ‘মধুর’ একটি বিশেষণ, যা কোনো কিছুকে মিষ্টি বা সুমধুর বোঝায়। এর সঙ্গে ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত করে ‘মধুরতা’ (বিশেষ্য) তৈরি করা হয়েছে, যা মূল শব্দের অর্থ বজায় রেখে মধুর হওয়ার গুণ বা অবস্থাকে প্রকাশ করে।

- ‘মিত্রতা’ শব্দে ‘তা’ প্রত্যয়ের ব্যবহার সঠিক। মূল শব্দ ‘মিত্র’ থেকে এই প্রত্যয় যুক্ত করে বন্ধুত্বের ভাব বা অবস্থা প্রকাশ করা হয়েছে। ‘তা’ বা ‘ত্ব’ প্রত্যয় বিশেষ্য বা বিশেষণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন ভাববাচক শব্দ তৈরি করে, যা ব্যাকরণগতভাবে শুদ্ধ। তাই ‘মিত্রতা’ বা ‘মিত্রত্ব’ শব্দে বন্ধুত্বের অর্থ প্রকাশের জন্য তদ্ধিত প্রত্যয়ের ব্যবহার সঠিকভাবে হয়েছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১২.
'ইনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?    
  1. শূদ্রাণী
  2. দুঃখিনী
  3. বৈশ্যানী 
  4. ক্ষত্রিয়াণী 
সঠিক উত্তর:
দুঃখিনী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুঃখিনী
ব্যাখ্যা

• 'ইনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হলো- দুঃখিনী।
- দুঃখিনী =  'দুঃখী' শব্দের সাথে 'ইনী' প্রত্যয় যোগে 'দুঃখিনী' গঠিত হয়েছে।

•'ইনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- 'ইনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দগুলো সাধারণত পুরুষবাচক শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি করে;
- যেমন:
• দুঃখী > দুঃখিনী, 
• শ্বেতাঙ্গ > শেতাঙ্গিনী। 
----------
অন্যদিকে,
- শূদ্রাণী- শূদ্র পুংলিঙ্গের স্ত্রীবাচক রূপ ('আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত)। 
- বৈশ্যানী- বৈশ্যা পুংলিঙ্গের স্ত্রীবাচক রূপ ('আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত)। 
- ক্ষত্রিয়াণী- ক্ষত্রিয় পুংলিঙ্গের স্ত্রীবাচক রূপ ('আনী' প্রত্যয়যোগে গঠিত)। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৩.
সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?    
  1. মুখচ্ছবি
  2. উপর্যুক্ত
  3. উপর্যুপরি
  4. তরুছায়া
সঠিক উত্তর:
তরুছায়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তরুছায়া
ব্যাখ্যা

সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে ‘তরুছায়া' শব্দে।
- শুদ্ধ রূপ- তরুচ্ছায়া। 
--------------------------
• সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি:

শুদ্ধ - অশুদ্ধ:
- অনটন - অনাটন,
- অদ্যাবধি - অদ্যবধি,
- বাগীশ্বরী - বাগেশ্বরী,
- বক্ষ-উপরি - বক্ষোপরি,
- বিপদুদ্ধার - বিপদোদ্ধার,  
- দুরদৃষ্ট - দুরাদৃষ্ট,
- মুখচ্ছবি - মুখছবি,
- উপর্যুক্ত - উপরোক্ত,
- উপর্যুপরি - উপর্যপরি ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৪.
"ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে কোনটি ব্যবহৃত হয়? 
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

• "ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে 'ষ' ব্যবহৃত হয়। 
----------------------------------------
• ষ-ত্ব বিধান:
- অবিকৃত সংস্কৃত শব্দে কোন নিয়মে মূর্ধন্য ষ লেখা হবে—এই বিধানকেই ষ-ত্ব বিধান বলা হয়।
- বাংলা ভাষায় মূর্ধন্য ষ-এর জন্য আলাদা কোনো বিশেষ উচ্চারণ নেই।
- তাই খাঁটি বাংলা শব্দ ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য ষ ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না।

• 'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ই-কারান্ত ও উ-কারান্ত উপসর্গের পরে কিছু ধাতুতে মূর্ধন্য ষ ব্যবহৃত হয়।
- যেমন:
- অভি + সেক → অভিষেক,
- অনু + সঙ্গ → অনুষঙ্গ,
- প্রতি + সেধক → প্রতিষেধক,
- অনু + স্থান → অনুষ্ঠান।

উৎস: বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১৫.
নিচের কোন বাক্যটি বাচ্যজনিত কারণে ভুল হয়েছে? 
  1. আমি অপমান হয়েছি। 
  2. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  3. আসছে আগামীকাল কলেজ খুলবে।
  4. সবগুলো  
সঠিক উত্তর:
সবগুলো  
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলো  
ব্যাখ্যা

- আমি অপমান হয়েছি, তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে, আসছে আগামীকাল কলেজ খুলবে। - ৩টি বাক্যই বাচ্যজনিত কারণে ভুল হয়েছে। 

- বাচ্যজনিত ভুল-
- কর্তৃবাচ্যে বিশেষ্য ও করা ক্রিয়ার রূপ থাকলে কর্মবাচ্যে বিশেষণ ও হওয়া ক্রিয়ার রূপ হবে। 

- অশুদ্ধ বাক্য- আমি অপমান হয়েছি।
শুদ্ধ বাক্য- আমি অপমানিত হয়েছি। 

- অশুদ্ধ বাক্য- তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য- তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে। 

- অশুদ্ধ বাক্য- আসছে আগামীকাল কলেজ খুলবে।
শুদ্ধ বাক্য- আগামীকাল কলেজ খুলবে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৬.
সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে? 
  1. নিরভিমান 
  2. অর্ধরাত্র
  3. নিরপরাধী
  4. অহর্নিশ 
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিরপরাধী
ব্যাখ্যা

সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে 'নিরপরাধী' শব্দে।
- শুদ্ধ রূপ- নিরপরাধ।
--------------------------
• সমাস-ঘটিত শুদ্ধি ও অশুদ্ধি:

- শুদ্ধ – অশুদ্ধ
- নিরভিমান - নিরভিমানী,
- অর্ধরাত্র - অর্ধরাত্রি,
- অহর্নিশ - অহর্নিশি,
- অহোরাত্র -  অহোরাত্রি,
- দিবারাত্র - দিবারাত্রি,
- নিরহঙ্কার - নিরহঙ্কারী,
- নির্দোষ - নির্দোষী,
- ভ্রাতৃবৃন্দ - ভ্রাতাবৃন্দ,
- মহিমমণ্ডিত - মহিমামণ্ডিত,
- মাতৃজাতি - মাতাজাতি,
- নির্ধন - নির্ধনী,  
- নীরোগ - নীরোগী,
- যুবরাজ - যুবরাজা,
- রাজগণ - রাজাগণ,
- সুবুদ্ধি - সুবুদ্ধিমান। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

১৭.
'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. ঠাকুরানি
  2. কামারনি 
  3. গয়লানি
  4. জেলেনি 
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠাকুরানি
ব্যাখ্যা

'আনি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ হল- ঠাকুরানি।
- ঠাকুরানি =  'ঠাকুর' শব্দের সাথে 'আনি' প্রত্যয় যোগে 'ঠাকুরানি' গঠিত হয়েছে।

•'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দ:
- 'আনী' প্রত্যয় যোগে গঠিত শব্দগুলো সাধারণত পুরুষবাচক শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে স্ত্রীবাচক শব্দ তৈরি করে;
- যেমন:
• ঠাকুর > ঠাকুরানি,
• নাপিতা > নাপিতানি,
• মেথর > মেথরানি।
----------------
অন্যদিকে,
- কামারনি, গয়লানি, জেলেনি- 'নি' প্রত্যয়যোগে গঠিত স্ত্রীবাচক শব্দ।
- কামার = কামারনি।
- গয়লা = গয়লানি।
- জেলে = জেলেনি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮.
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে? 
  1. আরক্তিম
  2. অদ্যপি
  3. সঠিক 
  4. মূলসহ 
সঠিক উত্তর:
আরক্তিম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আরক্তিম
ব্যাখ্যা

সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে আরক্তিম শব্দে।
- শুদ্ধ রূপ- রক্তিম।
----------------------------
• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:

- শুদ্ধ – অশুদ্ধ
- অদ্যাপি / অদ্যও – অদ্যাপিও,
- অশ্রু - অশ্রুজল,
- আয়ত্ত - আয়ত্তাধীন,
- কেবল / মাত্র - কেবলমাত্র,
- কদাপি - কদাপিও,
- বিবিধ - বিবিধপ্রকার,
- শুধু / মাত্র - শুধুমাত্র,
- সমূল / মূলসহ – সমূলসহ,
- সময় / কাল - সময়কাল,
- সুবুদ্ধি / বুদ্ধিমান – সুবুদ্ধিমান,
- স্বাগত - সুস্বাগত,
- স্বাস্থ্য - সুস্বাস্থ্য,
- প্রয়োজন - প্রয়োজনীয়তা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৯.
নিচের কোন বানানটি অশুদ্ধ? 
  1. অধিকারিত্ব
  2. মনোযোগীতা
  3. বিলাসিনী
  4. অপক্ষপাতিত্ব  
সঠিক উত্তর:
মনোযোগীতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনোযোগীতা
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানান- 'মনোযোগীতা'।
- শুদ্ধ বানান- 'মনোযোগিতা'।

• মনোযোগিতা-
- ‘মনোযোগিতা’ একটি ভাববাচক বিশেষ্য পদ।
- এটি ‘মনোযোগ’ শব্দের সঙ্গে ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয়েছে।
- শব্দটির অর্থ হলো মনোযোগের অবস্থা, একাগ্রতা বা অভিনিবেশ।
- অর্থাৎ, যখন মন কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত ও নিবিষ্ট থাকে, সেই গুণ বা অবস্থাকেই ‘মনোযোগিতা’ বলা হয়।
---------------------------- 
• নিয়ম: 
- কোনো শব্দের শেষে যদি দীর্ঘ ঈ-কার থাকে এবং শব্দটি যদি ‘ইন’ ভাগান্ত হয়, তবে সেই শব্দের পরে ত্ব / তা / নি ইত্যাদি প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের শেষের দীর্ঘ ঈ-কার পরিবর্তিত হয়ে হ্রস্ব ই-কার হয়ে যায়।
- এটি বাংলা বানানরীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।

- উদাহরণ—
• অধিকারী → অধিকারিণী, 
• অধিকারী → অধিকারিত্ব,
• বিলাসী → বিলাসিনী,
• অপক্ষপাতী → অপক্ষপাতিত্ব,
• মনোযোগী → মনোযোগিতা।
- এখানে প্রতিটি ক্ষেত্রে মূল শব্দের শেষে দীর্ঘ ঈ-কার থাকলেও প্রত্যয় যুক্ত হওয়ার সময় তা হ্রস্ব ই-কারে রূপান্তরিত হয়েছে।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

২০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ? 
  1. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। 
  2. আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর। 
  3. আলোচনার মাধ্যমে সকল সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভবপর। 
  4. কোনটি নয় 
সঠিক উত্তর:
আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর। 
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বাক্য- আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর। 
-------------------------------
• নিয়ম: 
• বহুবচনের অপ্রপ্রয়োগজনিত ভুল:
- বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়।
- বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুবচন অপ্রয়োজনীয়।
- তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুবচক পদ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ পদের সঙ্গে গুলি/গুলো ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

- যেমন:
- অশুদ্ধ- আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব।
- শুদ্ধ- আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভবপর।
--------------------------
• কিছু বাক্যশুদ্ধি:

অশুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ- ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

অশুদ্ধ- সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ- সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ- অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।
শুদ্ধ- অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।

অশুদ্ধ- অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ- অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২১.
উৎকর্ষবাচক 'তর' ও 'তম' প্রত্যয়জনিত শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?   
  1. সর্বশ্রেষ্ঠ
  2. শ্রেষ্ঠতম 
  3. কনিষ্ঠতর 
  4. সবগুলো  
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

• প্রশ্ন অনুযায়ী অপশনে অসঙ্গতি থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
-----------------------------
• উৎকর্ষবাচক 'তর' ও 'তম' প্রত্যয়জনিত শুদ্ধ ও অশুদ্ধ প্রয়োগ:

- শুদ্ধ - অশুদ্ধ
- কনিষ্ঠ - কনিষ্ঠতর,
- সর্বকনিষ্ঠ - কনিষ্ঠতম,
- গরিষ্ঠ - গরিষ্ঠতম,
- পাপিষ্ঠ - পাপিষ্ঠতম,
- বলিষ্ঠ - বলিষ্ঠতম,
- লঘিষ্ঠ - লঘিষ্ঠতর,
- শ্রেষ্ঠ - শ্রেষ্ঠতর,
- সর্বশ্রেষ্ঠ - শ্রেষ্ঠতম। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২২.
তৎসম শব্দে 'ত-বর্গীয়' ধ্বনির ক্ষেত্রে কোনটি প্রযোজ্য? 
  1. শ  
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম:
- প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী তৎসম শব্দে ত-বর্গীয় বর্ণের ক্ষেত্রে ‘ন’ প্রযোজ্য। 

- তৎসম শব্দে ত-বর্গীয় বর্ণ (ত, থ, দ, ধ, ন) থাকলে সেখানে সর্বদা দন্ত্য ‘ন’ ব্যবহৃত হয়, মূর্ধন্য ‘ণ’ নয়।
- অর্থাৎ, ণত্ব বিধানের প্রভাবে ‘ন’ কখনো ‘ণ’-এ পরিবর্তিত হয় না; এটি অপরিবর্তিত থাকে।
- উদাহরণ: অন্ত, গ্রন্থ, ক্রন্দন, কুন্দ, বন্ধন।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২৩.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ বানান?   
  1. ইতঃপূর্বে
  2. ঈদৃশ
  3. ইতিমধ্যে
  4. আত্মস্থ
সঠিক উত্তর:
ইতিমধ্যে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইতিমধ্যে
ব্যাখ্যা

অশুদ্ধ বানান- ইতিমধ্যে।
- শুদ্ধ বানান- ইতোমধ্যে।
- ইতোমধ্যে- শব্দটি হলো একটি ক্রিয়া বিশেষণ।
- এর অর্থ এই সময়ের মধ্যে, এই অবসরে।
- ইতোমধ্যে- মূলত সময় বা কাল নির্দেশক অব্যয় হিসেবে কাজ করে এবং বাক্যের ক্রিয়ার সময় বা অবস্থার ব্যাখ্যা দেয়।
- সন্ধি বিচ্ছেদ-  ইতঃ+মধ্যে। 
----------
অন্যদিকে,
- ইতঃপূর্বে, ঈদৃশ, আত্মস্থ- বানানগুলো শুদ্ধ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৪.
শুদ্ধ বানান কোনটি?  
  1. দাদী
  2. মন্ত্রীত্ব 
  3. সহযোগীতা  
  4. সাধ্বী
সঠিক উত্তর:
সাধ্বী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধ্বী
ব্যাখ্যা

শুদ্ধ বানান- সাধ্বী। 
----------------------
• সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দে ঈ-কারের ব্যবহার:
- বাংলা ভাষায় খাঁটি সংস্কৃত বা তৎসম স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে সর্বদা ঈ-কার বসে।
- উদাহরণস্বরূপ—
- জননী, নারী, স্ত্রী, সাধ্বী, গাভী, দেবী, কুমারী ইত্যাদি। 
-------------
• ব্যতিক্রম: 
- তৎসম না হওয়া অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রে ঈ-কারের পরিবর্তে ই-কার ব্যবহার করা হয়।
- যেমন—
- মাসি, পিসি, দাদি।

- এছাড়াও, তৎসম শব্দে যদি ঈ-কারান্ত শব্দের সঙ্গে ‘-ত’, ‘-তা’ বা ‘-ত্ব’ প্রত্যয় যুক্ত হয়, তবে ঈ-কার ই-কারে পরিবর্তিত হয়ে লেখা হয়।
- যেমন-
- 'দায়ী' থেকে 'দায়িত্ব',
- 'সহযোগী' থেকে 'সহযোগিতা', 
- 'মন্ত্রী' থেকে 'মন্ত্রিত্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা। 

২৫.
“রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।"- বাক্যটি কি কারণে অশুদ্ধ?
  1.  প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগের কারণে। 
  2. বিশেষ্যের অপপ্রয়োগের কারণে। 
  3. উপমার অপপ্রয়োগের কারণে।  
  4. বানানের অপপ্রয়োগের কারণে।  
সঠিক উত্তর:
 প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগের কারণে। 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগের কারণে। 
ব্যাখ্যা

“রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য।"- বাক্যটি প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগের কারণে অশুদ্ধ। 

প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগ:
- “রচনাটির উৎকর্ষতা অনস্বীকার্য” অশুদ্ধ কারণ এখানে ‘উৎকর্ষ’ (বিশেষ্য) শব্দের সাথে অতিরিক্ত ‘-তা’ প্রত্যয় সংযোজন করা হয়েছে, যা প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি।
- অর্থাৎ, ‘উৎকর্ষ’ ইতিমধ্যেই একটি পূর্ণ বিশেষ্য পদ যার অর্থ ভালো গুণ বা উৎকর্ষতা বোঝায়, তাই পুনরায় ‘-তা’ যোগ করার কোনো প্রয়োজন নেই।
- সঠিক রূপ হলো: “রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য”, এখানে বিশেষ্য ‘উৎকর্ষ’ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়েছে।
---------------------------------------
• প্রত্যয়ের ভুল প্রয়োগের কারণে কিছু অশুদ্ধ — শুদ্ধ রূপ

অশুদ্ধ — ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ — ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

অশুদ্ধ — সৌজন্যতার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।
শুদ্ধ — সৌজন্যের / সৌজন্যবোধের জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় না।

অশুদ্ধ — দুর্বলতবশত সে আসতে পারেনি।
শুদ্ধ — দুর্বলতাবশত সে আসতে পারেনি।

অশুদ্ধ — ইহার আবশ্যক নেই।
শুদ্ধ — ইহার আবশ্যকতা নেই।

অশুদ্ধ — তাহার সৌন্দর্যতাবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।
শুদ্ধ — তার সৌন্দর্যবোধ আমাকে অভিভূত করেছে।

অশুদ্ধ — ছেলেটি অহর্নিশি তার মাকে জ্বালাতন করে।
শুদ্ধ — ছেলেটি অহর্নিশ তার মাকে জ্বালাতন করে।

অশুদ্ধ — তার সাংঘাতিক আনন্দ হলো।
শুদ্ধ — তার অপরিসীম আনন্দ হলো।

অশুদ্ধ — মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে সুস্বাগত জানানো হল।
শুদ্ধ — মহাসমারোহে প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানানো হল।

অশুদ্ধ — মিছিল করার জন্য সবাই একত্রিত হলো।
শুদ্ধ — মিছিল করার জন্য সবাই একত্র হলো।

অশুদ্ধ — সৌজন্যতা বজায় রাখা উচিত।
শুদ্ধ — সৌজন্য বজায় রাখা উচিত।

অশুদ্ধ — ঘটনাটি প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ — ঘটনাটি প্রমাণিত হয়েছে।

অশুদ্ধ — বাহুল্যতা পরিহার করা উচিত।
শুদ্ধ — বাহুল্য পরিহার করা উচিত।

অশুদ্ধ — মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠতর সন্তান।
শুদ্ধ — মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান।

অশুদ্ধ — ঐক্যতার ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।
শুদ্ধ — ঐক্যের ভিত্তিতে কাজটি সম্পাদিত হয়েছে।

অশুদ্ধ — সে সমৃদ্ধশালী পরিবারের সন্তান।
শুদ্ধ — সে সমৃদ্ধ পরিবারের সন্তান।

অশুদ্ধ — লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যতার ছাপ স্পষ্ট।
শুদ্ধ — লোকটির পোশাকে দারিদ্র্যের ছাপ স্পষ্ট।

উৎস:
বাংলা ভাষা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।