উত্তর
ব্যাখ্যা
⇒দানশীলতার দিক থেকে কুতুবউদ্দিনকে হাতেম তাই-এর সাথে তুলনা করা হয়।
-তিনি প্রত্যেক দিন লক্ষ লক্ষ মুদ্রা দান করতেন।
- এ জন্য ঐতিহাসিকগণ তাঁকে ‘লাখ বকস্’ উপাধি প্রদান করেন।
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি [১৯১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন
⇒দানশীলতার দিক থেকে কুতুবউদ্দিনকে হাতেম তাই-এর সাথে তুলনা করা হয়।
-তিনি প্রত্যেক দিন লক্ষ লক্ষ মুদ্রা দান করতেন।
- এ জন্য ঐতিহাসিকগণ তাঁকে ‘লাখ বকস্’ উপাধি প্রদান করেন।
⇒শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ ৪০ জন তুর্কি ক্রীতদাসের সমন্বয়ে ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ নামক চল্লিশ চক্রের শাসকগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন।
-তার মরত্যর পর এই বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ নামক চল্লিশ চক্রের শাসকগোষ্ঠী সুলতানদের উপর প্রভব বিস্তার করেছিল।
-বন্দেগানই চেহেল গানের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন গিয়াসউদ্দিন বলবন।
⇒ শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশের সময় সর্ব প্রথম মঙ্গল ১২২১ সালে আক্রমণের সম্ভাব্যতা থেকে ভারতীয় উপমহাদেশকে কৌশলে রক্ষা করে তিনি দিল্লি সালতানাতকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করেন।
-নানা বিদ্রোহ ও প্রতিকূল অবস্থার মোকাবেলা করে একে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করেন জন্য তাকে দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়।
⇒গিয়াসউদ্দিন বলবন সাম্রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিনত্নাবাদ, গোলযোগ ও বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলা নির্মূল করার উদ্দেশ্যে এক অভিনব ও নির্মম নীতি অবলম্বন করেন।
-যা ইতিহাসে ‘রক্তপাত ও কঠোরতার নীতি’ (Blood and Iron Policy) নামে পরিচিত।
⇒তিনি আমির খসরু ( ভারতের তোতা পাখী), শেখসাদি, নিজাম উদ্দিন আউলিয়া, ও রুকুনুদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
-তার সভার বিখ্যাত কবি ছিলেন ভারতের তোতা পাখী খ্যাত আমির খসরু।
⇒১২২৯ খিস্ট্রাব্দে দিল্লির সুলতানদের মধ্য ১ম শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা আল- মুনতাসিরের কাছ থেকে “সুলতান-উল-আজম” খেতাব সহ রাজছত্র ও রাজকীয় পোশাক উপঢৌকন হিসেবে লাভ করেন।
- এ জন্যই বিখ্যাত ঐতিহাসিক মিনহাজ-উস-সিরাজ তাকে 'সুলতান-উল-আজম' নামেই অভিহিত করেছেন।
⇒মুইজ উদ্দুন মুহাম্মদ ঘুরির আমীর গণ মুঈজি আমীর নামে।
-কুতুব উদ্দুন আইবেকের আমীরগণ কুতুবী আমীর নামে,
-এবং শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশের আমীরগণ শামসী আমীর নামে পরিচিত ছিল।
⇒ইলতুৎমিশ ১২২৯ খিস্ট্রাব্দে তিনি বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা আল- মুনতাসিরের কাছ থেকে “সুলতান-উল-আজম” খেতাবলাভ করেন।
-তিনি খলিফার নিকট থেকে রাজছত্র ও রাজকীয় পোশাক উপঢৌকন হিসেবে লাভ করেন।
⇒সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লিতে ‘কুয়াত-উল-ইসলাম’ এবং আজমীরে ‘আড়াই দিন-কা-ঝোপড়া’ মসজিদ নির্মাণ করেন।
-রাজ্য বিজয়ের স্মারক এবং ইসলামের মহিমা বিশ্বজনীনভাবে উপস্থাপনের ‘কুতুব মিনার’ নির্মাণ আরম্ভ করেন। তবে তিনি এর নির্মাণ শেষ করে যেতে পারেন নি।
⇒ গিয়াসউদ্দিন বলবনের রাজতন্ত্র মতবাদ হচ্ছে:
-রাজতন্ত্রের ক্ষমতা নিরঙ্কুশ
-সুলতান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ প্রাপ্ত হওয়ায় সমাজে কেউ তার সমক্ষ নয়।
-সুলতান সম্মান রক্ষা না করলে জনগণ অবাধ্য ও সাম্রাজ্যে নৈরাজ্য দেখা দিবে।
-জনগণের আনুগত্য ও সাম্রাজ্যের নিরাপত্তার জন্য সুলতানের অতিমানব সুলভ ও স্বেচ্ছাচারী মুলক ক্ষমতা প্রয়োগ আবশ্যক।
⇒ কুতুবউদ্দিন আইবেক রাজ্য বিজয়ের স্মারক এবং ইসলামের মহিমা বিশ্বজনীনভাবে উপস্থাপনের অভিপ্রায়ে ১১৯২ সালে সুলতান কুতুবউদ্দিন ধমর্বেত্তা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামানুসারে ‘কুতুব মিনার’ নির্মাণ আরম্ভ করেন।
-তবে তিনি এর নির্মাণ শেষ করে যেতে পারেন নি।
-এটি ৭টি স্তরে নির্মিত যার উচ্চতা ছিল ৩০০ ফুট।
-বর্তমানে এর ২টি স্তর ঝড়ে ভেঙ্গে যাওয়ায় উচ্চতা ২৩৮ ফুট।
⇒সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ ছিলেন ইলবারী তুর্কি গোষ্ঠির লোক।
-কুতুবউদ্দিন আইবেক ক্রীতদাস হিসেবে তাকে উচ্চমূল্যে কিনে নেন।
-তার গুণে হয়ে তাঁকে মুক্ত করে বদায়ুনের শাসনকর্তা এবং নিজ কন্যার সাথে বিয়ে দেন।
⇒সুলতান ইলতুৎমিশ তাঁর সুযোগ্য কন্যা, বুদ্ধিমতী ও অনন্য প্রতিভার অধিকারী রাজিয়াকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।
- কিন্তু ১২৩৬ খ্রিস্টাব্দে ইলতুৎমিশের মৃত্যুর পর তাঁর মনোনয়ন অস্বীকার করে কতিপয় অভিজাত সুলতানের পুত্র রুকনউদ্দিন ফিরোজকে সিংহাসনে আরোহণে সহায়তা প্রদান করেন।
-রুকনউদ্দিন ফিরোজের অদক্ষতার জন্য আমির উমারাহগণ রাজিয়াকে দিল্লির সিংহাসনে আমন্ত্রণ জানালে তিনি ১২৩৬ সালে সিংহাসনে আরোহন করেন।
⇒গিয়াসউদ্দিন বালবন রাজদরবার জমকালোভাবে সজ্জিত,সিজদাহ ও পায়বুস রীতি প্রচলন করেন।
-তিনি জনগণের থেকে দুরত্ব ও সবসময় রাজকীয় পোশাক পরিধান করতেন।
-তিনি নিচু বংশের সাথে মেলোমেশা ও কথা বলা পছন্দ করতেন না।
⇒১২৯৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি নিজ ভাই উলুঘ খান এবং নুসরাত খানকে গুজরাট অভিযানে প্রেরণ করেন।
- সেখান থেকে রানী কমলাদেবী সহ কাফুর নামক একজন খোজাকে বন্দি করে নিয়ে আসা হয়।
-সুলতান রানী কমলাদেবীকে বিবাহ করেন।
-খোজা কাফুরকে নসরাত খান ১০০০ দিনারের বিনিময়ে সুলতানের কাছে বিক্রয় করেন।
-পরবর্তীতে মালিক কাফুর নামে সেনাপতি ও অমাত্যের পদ অলংকৃত করেন।
-১০০০ দিনারের বিনিময়ে সুলতানের কাছে বিক্রয় করেন জন্য মালিক কাফুর কে হাজার দিনারী বলা হয়।
⇒অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সাম্রাজ্যের স্থায়ীত্ব,সিনাবাহিনী গঠন ও মদ্রাস্ফিতি হ্রাস করতেই মূল্য নিয়ন্ত্রন পদ্ধতি চালু করে সকল পন্যের দাম নির্ধারণ করে দেন।
-এ জন্য বাজার স্থাপন(মান্ডি),বাজার পরিদর্শন,সরবরাহ নিশ্চিত করন,শস্য ভান্ডার স্থাপন, রেশনিং ব্যবস্থা করে এগুলোর তত্ত্বাবধানে ‘শাহান-ই-মান্ডি’ নিয়োগ করে।
⇒মুহাম্মদ ঘুরি ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর পূর্বে কুতুবউদ্দিন আইবেককে ভারতে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করে তাঁকে ‘মালিক’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
-১২০৬ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জুন লাহোরে কুতুবউদ্দিন আইবেক দায়ীত্ব নেয়ার পর তাঁর নামে খুৎবা পাঠ করা হয় এবং মুদ্রা প্রচলন করা হয়।
⇒১২২৯ খিস্ট্রাব্দে দিল্লির সুলতানদের মধ্য ১ম শামসউদ্দিন ইলতুৎমিশ বাগদাদের আব্বাসীয় খলিফা আল- মুনতাসিরের কাছ থেকে “সুলতান-উল-আজম” খেতাব সহ রাজছত্র ও রাজকীয় পোশাক উপঢৌকন হিসেবে লাভ করেন।
- এ জন্যই বিখ্যাত ঐতিহাসিক মিনহাজ-উস-সিরাজ তাকে 'সুলতান-উল-আজম' নামেই অভিহিত করেছেন।
⇒গিয়াসউদ্দিন বলবন তুর্কিস্থানের বিখ্যাত ইলবারি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
-বলবনের প্রকৃত নাম ছিল বাহাউদ্দিন।
-১২৩২ খ্রিস্টাব্দে তাকে সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশের নিকট বিক্রি করে দেন।
-সুলতান ইলতুৎমিশ গিয়াসউদ্দিন বলবনকে তাঁর ইতিহাস প্রসিদ্ধ বিখ্যাত ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ বা ‘চলিশ্ল চক্রের’ অন্তর্ভুক্ত করেন।
-তিনি ছিলেন সুলতান ইলতুৎমিশের ‘খাসবরদার’ বা ব্যক্তিগত কমর্কর্তা।
⇒১২০৬ থেকে ১২৯০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত কুতুবউদ্দিন, ইলতুৎমিশ, বলবন এবং তাঁদের বংশধরেরা মোট ১১ জন সুলতান শাসন করেন।
-যারা সকলেই বিভিন্ন গোত্রের হলেও জাতীতে তুর্কি ছিলেন।
-প্রথম জীবনে কুতুবউদ্দিন, ইলতুৎমিশ এবং বলবন এই তিনজনই ছিলেন ক্রীতদাস।
-এক সময় এঁদের সবাইকে একই বংশের লোক বলে মনে করা হতো এবং তাঁদের বংশকে বলা হতো ‘দাস বংশ’।
⇒শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ ১২১১ খ্রি. থেকে ১২৩৬ খ্রি. পর্যন্ত দীর্ঘ সময় শাসন করেন।
-প্রজাসাধারণ সহজে সুলতানের দৃষ্টি আকষর্ণের জন্য তিনি রাজদরবারে একটি শিকল বাঁধা ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখতেন।
⇒আলাউদ্দিন খিলজিকে বিজয়ের জন্য ২য় আলেকজান্ডার বলা হয়।
- এই বিজয়ের স্বারক হিসেবেই তিনি আলাই দরওয়াজা সহ বেশ কিছু স্থাপত্য নির্মাণ করেন।
- এছাড়াও তিনি আমির খসরু (তোতা পাখী), শেখসাদি, নিজাম উদ্দিন আউলিয়া, ও রুকুনুদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
⇒গিয়াসউদ্দিন বলবন তুর্কিস্থানের বিখ্যাত ইলবারি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
-বলবনের প্রকৃত নাম ছিল বাহাউদ্দিন।
-১২৩২ খ্রিস্টাব্দে তাকে সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশের নিকট বিক্রি করে দেন।
-সুলতান ইলতুৎমিশ গিয়াসউদ্দিন বলবনকে তাঁর ইতিহাস প্রসিদ্ধ বিখ্যাত ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ বা ‘চলিশ্ল চক্রের’ অন্তর্ভুক্ত করেন।
⇒আলাউদ্দিন খিলজিকে উত্তর ভারত বা রাজপুতনা ও দাক্ষিণাত্য বিজয় করেন।
-তার সভার বিখ্যাত কবি ছিলেন ভারতের তোতা পাখী খ্যাত আমির খসরু।
-বিজেতা হিসেবে অবিশ্বরনীয় অবদানের জন্য তার সভার বিখ্যাত কবি ভারতের তোতা পাখী খ্যাত আমির খসরু তাকে সিকান্দার-ই-সানি বা ২য় আকিজান্ডার উপাধী দিয়েছিলেন।
⇒রুকনউদ্দিন ফিরোজের অদক্ষতার জন্য আমির উমারাহগণ রাজিয়াকে দিল্লির সিংহাসনে আমন্ত্রণ জানালে তিনি ১২৩৬ সালে সিংহাসনে আরোহন করেন।
-সিংহাসনে আরোহন করে তিনি নিজ নামে মুদ্রা প্রচলন করেন।
-এবং মুদ্রায় নিজেকে ‘উমদাদ-উল-নিসওয়ান’ বা মহিলাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত বলে অভিহিত করেন।
⇒সুলতান ইলতুৎমিশ বেশ কিছু সংস্কার সাধন করেন।
-সমগ্র রাজ্যকে কতগুলো ‘ইকতা’ বা প্রদেশে বিভক্ত করে।
-প্রজাসাধারণ সহজে সুলতানের দৃষ্টি আকষর্ণের জন্য তিনি রাজদরবারে একটি শিকল বাঁধা ঘণ্টা ঝুলিয়ে রাখতেন।
-তিনি ‘রূপাইয়া’ নামে রৌপ্য মুদ্রা প্রবর্তন করেন।
⇒ সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি ১৩০৬ খ্রিস্টাব্দে দেবগিরি বিজয় করে।
-১৩০৯ খ্রিস্টাব্দে বরঙ্গল বিজয় করেন।
-১৩১০ খ্রিস্টাব্দে দ্বারসমুদ্রে অভিযান করে বিজয় করেন।
-১৩১১ খ্রিস্টাব্দে পান্ডরাজ্য অধিকার করেন।
-এ সকল অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল রাজস্ব সংগ্রহ করা।
⇒বলবনের মৃত্যুর পর যোগ্য উত্তরাধিকারের অভাবে বিশ্ঙৃখলা দেখা দেয়।
- এ সুযোগে জালাল উদ্দিন ফিরোজ খলজি ১২৯০ সালের ১৩ জুন শাসন গ্রহন করেন।
- মামলুক বংশের পতন ঘটে খলজি বংশের সূচনা হয়।
⇒১২৯৭ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি নিজ ভাই উলুঘ খান এবং নুসরাত খানকে গুজরাট অভিযানে প্রেরণ করেন।
-গুজরাট বিজয় করে রাজা দ্বিতীয় রায় কর্ণদেবের স্ত্রীর রানী কমলাদেবী সহ কাফুর নামক একজন খোজাকে বন্দি করে দিল্লিতে নিয়ে আসে।
-সুলতান রানী কমলাদেবীকে বিবাহ করেন।
আলাউদ্দিন খিলজিকে উত্তর ভারত বা রাজপুতনা ও দাক্ষিণাত্য বিজয় করেন।
-তার সভার বিখ্যাত কবি ছিলেন ভারতের তোতা পাখী খ্যাত আমির খসরু।
-এছাড়াও তিনি শেখসাদি, বিখ্যাত সুফি সাধক নিজাম উদ্দিন আউলিয়া, ও রুকুনুদ্দিনের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
⇒১৩০৩ খ্রিস্টাব্দের ২৬ আগস্ট আলাউদ্দিন খলজি চিতোর আক্রমণ করেন।
-জনশ্রুতি আছে যে,রাজপুত রাণা রতন-সিংহের স্ত্রী পদ্মিনীকে লাভের জন্য সুলতান আলাউদ্দিন খলজি চিতোর অভিযান করেন।
- রাজা রাণা রতন সিংহ পরাজিত হলে রাজপুত রমনীগণ আত্মসম্মান রক্ষায় অগ্নিকুন্ডে ঝাঁপ দিয়ে আত্মবিসর্জন দেন।
⇒খলজিরা আফগান বংশোদ্ভুত।
-বলবনের মৃত্যুর পর বিশৃঙ্খলার সুযোগে জালাল উদ্দিন ফিরোজ খলজি ১২৯০ সালের ১৩ জুন শাসন গ্রহন করেন।
-সুলতানী আমলে ২য় বংশ হিসেবে খলজি বংশের সূত্রপাত ঘটে।
⇒গিয়াসউদ্দিন বলবন সাম্রাজ্যে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিনত্নাবাদ, গোলযোগ ও বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলা নির্মূল করার উদ্দেশ্যে এক অভিনব ও নির্মম নীতি অবলম্বন করেন। যা ইতিহাসে ‘রক্তপাত ও কঠোরতার নীতি’ (Blood and Iron Policy) নামে পরিচিত।
-তিনি সুলতান ইলতুৎমিশের গঠিত বিখ্যাত ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ বা চলিশ্ল চক্রের প্রভাব হ্রাস করেন।
⇒আলাউদ্দিন খিলজি ১২৯৬ খ্রি. থেকে ১৩১৬ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
-তার দীর্ঘ সময়ের শাসনের সব সংস্কার গুলো আকবরকে প্রভাবিত করে।
⇒১২৯৯ সালে গুজরাট বিজয়ের সময় সেনাপতি নুসরত খান মালিক খোজাকে সাথে নিয় দিল্লও এসে সুলতানের কাছে ১০০০ দিনারে বিক্রয় করেন।
-পরবর্তী তিনি মালিক কাফুর নামে সুলতানের সেনাপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন।
-১০০৬-১৩ সালের মধ্যে মালিক কাপুর দাক্ষিনাত্য বুজয় করলে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি সেনাপতি মালিক কাফুরকে ‘মালিক-ই-নায়েব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
⇒আলাউদ্দিন খলজি সর্ব প্রথম রাজপুতনা ও দাক্ষিনাত্য বিজয় করেন।
যে সব সেনাপতি তার বিজয় অভিযান পরিচালনা করেন তার হচ্ছে - ভাই উলুখ খান, নাসরত খান,মালিক কাফুর।
-উত্তর ভারত বা রাজপুতনা উলুখ খান ও নাসরত খান বিজয় করে।
- দাক্ষিণাত্য মালিক কাফুরের নেতৃত্বে বিজিত হয়।
⇒আলাউদ্দিন খলজির দরবারে আমির খসরু, শেখ সাদি,জিয়াউদ্দিন বারাণী,নিজামুদ্দিন আউলিয়া সহ অনেক বিভিন্ন মনিষীর পদাচারণ ঘটেছিল।
⇒গিয়াসউদ্দিন বলবন তুর্কিস্থানের বিখ্যাত ইলবারি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
-বলবনের প্রকৃত নাম ছিল বাহাউদ্দিন।
-১২৩২ খ্রিস্টাব্দে তাকে সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশের নিকট বিক্রি করে দেন।
-সুলতান ইলতুৎমিশ গিয়াসউদ্দিন বলবনকে তাঁর ইতিহাস প্রসিদ্ধ বিখ্যাত ‘বন্দেগান-ই-চেহেলগান’ বা ‘চলিশ্ল চক্রের’ অন্তর্ভুক্ত করেন।
⇒সুলতান শামসুদ্দিন ইলতুৎমিশ ছিলেন ইলবারী তুর্কি গোষ্ঠির লোক।
-কুতুবউদ্দিন আইবেক তাকে উচ্চমূল্যে কিনে নেন।
-তার গুণে হয়ে তাঁকে মুক্ত করে বদায়ুনের শাসনকর্তা এবং নিজ কন্যার সাথে বিয়ে দেন।
⇒মুহাম্মদ ঘুরি ১২০৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুর পূর্বে কুতুবউদ্দিন আইবেককে ভারতে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করে তাঁকে ‘মালিক’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
-১২০৬ খ্রিস্টাব্দের ২৪ জুন লাহোরে কুতুবউদ্দিন আইবেক দায়ীত্ব নেয়ার পর তাঁর নামে খুৎবা পাঠ করা হয় এবং মুদ্রা প্রচলন করা হয়।
⇒দাক্ষিণাত্য হতে আহরিত অগণিত ধন সম্পদ উত্তর ভারতে মুদ্রাস্ফীতির সূচনা করে, বাধ্য হয়ে সুলতান আলাউদ্দিন খলজি জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে মূল্যনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।
-কিন্তু তার এই মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাজধানী দিল্লি ছাড়া আর কোথায় কার্যকর হয় নি!
⇒সুলতান গিয়াস উদ্দিন বলবন তুর্কিস্থানের বিখ্যাত ইলবারি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
-বলবনের প্রকৃত নাম ছিল বাহাউদ্দিন।
-তার উপাধি ছিল উলুগ খান।
⇒রাজ্য বিজয়ের স্মারক এবং ইসলামের মহিমা বিশ্বজনীনভাবে উপস্থাপনের অভিপ্রায়ে ১১৯২ সালে সুলতান কুতুবউদ্দিন ধমর্বেত্তা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার কাকীর নামানুসারে ‘কুতুব মিনার’ নির্মাণ আরম্ভ করেন।
-তবে তিনি এর নির্মাণ শেষ করে যেতে পারেন নি।
-এটির উচ্চতা ৩০০ ফুট বর্তমানে ২৩৮ ফুট।