পরীক্ষা আর্কাইভ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

পরীক্ষাপ্রাইমারি ডেইলি কুইজতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
বিষয়: সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ বিষয়াবলি) টপিক: বাংলাদেশের অর্থনীতি, সম্পদ (বন, কৃষি, শিল্প, পানি), পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাংলাদেশের সমাজজীবন, সমস্যা, জনমিতিক পরিচয়। উৎস: বাংলাপিডিয়া, জাতীয় তথ্যবাতায়ন, বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ

প্রাইমারি ডেইলি কুইজ · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, গ্রামে বসবাসকারী জনসংখ্যার শতকরা হার কত?
  1. ৬৭.৫%
  2. ৬৫%
  3. ৬৮.৩৪%
  4. ৭০%
ব্যাখ্যা

• জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২:
- বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (BBS) জনশুমারি পরিচালনা করে।
- ষষ্ঠ জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুষ্ঠিত হয়: ১৫-২১ জুন ২০২২।
- চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ: নভেম্বর, ২০২৩।
- মোট জনসংখ্যা: ১৬,৯৮,২৮,৯১১ জন।
- জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার: ১.১২%।
- জনসংখ্যার ঘনত্ব: ১,১১৯ জন।

• অন্যান্য জনমিতিক বিষয়: 
- মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (৩১.৬৬%) নাগরিক এখন শহরে বাস করে; দুই-তৃতীয়াংশ (৬৮.৩৪%) গ্রামে বাস করে

- সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস করে ঢাকা বিভাগে।
- সবচেয়ে কম মানুষ বাস করে বরিশাল বিভাগে।

-ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বোচ্চ ৫৯,৯০,৭২৩ জন।
- বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে জনসংখ্যা সর্বনিম্ন ৪,১৯,৪৮৪ জন।

- ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সর্বাধিক ঘনবসতিপূর্ণ।
- রংপুর সিটি কর্পোরেশন সর্বনিম্ন ঘনবসতিপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ চূড়ান্ত রিপোর্ট।

.
দেশে প্রথমবারের মতো কোন তিনটি জেলাকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে?
  1. রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ
  2. ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ
  3. চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল
  4. কক্সবাজার, ভোলা, নওগাঁ
ব্যাখ্যা

• পানি সংকটাপন্ন এলাকা:
- দেশে প্রথমবারের মতো ৩টি অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে।

- বাংলাদেশ পানি আইন, ২০১৩-এর ধারা ১৭ ও ১৯-এর আলোকে বিস্তারিত জরিপ ও অনুসন্ধান শেষে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিম হাইড্রোলজিক্যাল অঞ্চলের রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার তিনটি অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে
- ২৫ আগস্ট ঢাকার গ্রিন রোডের ওয়ারপো ভবনের সম্মেলনকক্ষে জাতীয় পানিসম্পদ পরিষদের নির্বাহী কমিটির ১৮তম সভায় এই তিনটি এলাকাকে সংকটাপন্ন ঘোষণা করা হয়।
 - এ অঞ্চলে মোট ২৫টি উপজেলার ২১৫টি ইউনিয়ন (৪ হাজার ৯১১টি মৌজা)-এর মধ্যে ৪৭টি ইউনিয়নকে (১ হাজার ৫০৩টি মৌজা) অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

- চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন (১০৪টি মৌজা) ও একটি পৌরসভা (আটটি মৌজা)-এর মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন (সাতটি মৌজা) এবং একটি পৌরসভাকে (পাঁচটি মৌজা) অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ। লিংক

.
খুলনার নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি কোন কাঠের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে?
  1. সুন্দরী কাঠ
  2. গেওয়া কাঠ
  3. গরান কাঠ
  4. চাপালিশ কাঠ
ব্যাখ্যা

• শিল্প উন্নয়নে বনভূমির গুরুত্ব:

১) কাগজ শিল্প: রাঙ্গামাটি জেলার কর্ণফুলী কাগজের কল স্থানীয় বাঁশ সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কাগজ ও মন্ড তৈরির কারখানাটি সিলেটের সাবাই ঘাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে।

২) নিউজপ্রিন্ট কারখানা: সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর ভিত্তি করে খুলনার নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি গড়ে উঠেছে

৩) দিয়াশলাই শিল্প: সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে। এছাড়া কদম ও শিমুল গাছের কাঠ এই শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

৪) রেয়ন শিল্প: চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনার রেয়ন কারখানাটি স্থানীয় বনভূমির নরম কাঠ ও বাঁশের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

৫) পর্যটন শিল্প: পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সুন্দরবন পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় স্থান। প্রাকৃতিক দৃশ্য ও জীববৈচিত্র্য পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


তথ্যসূত্র:  ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্ববৃহৎ কারখানাটি কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সৈয়দপুর
  3. গাজীপুর
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ রেলওয়ের কারখানা সমূহ:

• সৈয়দপুর (১টি):
- সবচেয়ে বড় কারখানা।
- এখানে উভয় গেজের রেলকোচ ও ওয়াগনের বড় মেরামত করা হয়।
- নতুন রেলকোচ ও ওয়াগন সন্নিবেশ করা হয়।

• পাহাড়তলী (২টি):
- একটি কারখানায় মিটারগেজ রেলযান ও ওয়াগন মেরামত ও সমাবেশ করা হয়।
- অন্যটিতে মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক রেল ইঞ্জিন মেরামত করা হয়।
-
• পার্বতীপুর (২টি):
- ১৯৯২ সালে কেন্দ্রীয় ডিজেল কারখানা স্থাপিত হয়।
- এখানে ডিজেল রেল ইঞ্জিনের বড় মেরামত ও ওভারহলিং করা হয়।
- অন্য কারখানায় ব্রডগেজ ডিজেল রেল ইঞ্জিনের সাধারণ মেরামত করা হয়।

• ঢাকা (১টি):
- এখানে মিটারগেজ রেল ইঞ্জিনের সাধারণ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। (লিংক)

.
বাংলাদেশের জিডিপির প্রধান খাত কোনটি? [অক্টোবর, ২০২৫]
  1. কৃষি
  2. শিল্প
  3. সেবা
  4. খনিজ সম্পদ
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের অর্থনীতির খাত: (২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রেক্ষাপটে)
- অর্থনীতির প্রধান খাত: সেবা খাত (Service Sector)
- অতীতে কৃষি খাত প্রধান ছিল, তবে বর্তমানে জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে সেবা খাত

 
• খাতভিত্তিক জিডিপি অবদান
- কৃষি খাত: ১১.৬২%
- শিল্প খাত: ৩৪.৮১%
- সেবা খাত: ৫৩.৫৬%
 
• জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার
- ২০২৩-২৪ অর্থবছর (চূড়ান্ত হিসাব) → ৪.২২%
- ২০২৪-২৫ অর্থবছর (সাময়িক হিসাব) → ৩.৯৭%
 
• মাথাপিছু আয়
- ২,৮২০ মার্কিন ডলার। 
 
• খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির হার (২০২৪-২৫ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব)
- কৃষি খাত: ১.৭৯%
- শিল্প খাত: ৪.৩৪%
- সেবা খাত: ৪.৫১%। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ওয়েবসাইট। (Link)

.
বাংলাদেশে কোন নদী প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে স্বীকৃত?
  1. হালদা নদী
  2. ইছামতী
  3. অড়িয়াল খাঁ
  4. সুরমা
ব্যাখ্যা

• হালদা নদী: 
- হালদা বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম জেলার একটি নদী।
- পার্বত্য চট্টগ্রামের বাটনাতলী পাহাড়ি এলাকা থেকে উৎসারিত হয়ে ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরপূর্ব কোণ দিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় প্রবেশ করেছে। 
- বাংলাদেশে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষিত- হালদা নদী। 
- হালদা নদী হলো দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র।
- প্রতিবছর এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে হালদা নদীতে রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউসের মতো কার্প জাতীয় মাতৃমাছ প্রচুর পরিমাণ ডিম ছাড়ে।  
- হালদার প্রধান উপনদী ধুরুং খুবই খরস্রোতা।

তথ্যসূত্র: হাটহাজারী উপজেলা।

.
ত্রিপুরাদের প্রধান বর্ষবরণ উৎসব কোনটি?
  1. ওয়ানগালা
  2. বৈসুক
  3. বিজু
  4. সাংগ্রাই
ব্যাখ্যা

• ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উৎসব:
ত্রিপুরা → বৈসুক (বর্ষবরণ উৎসব)
গারো → ওয়ানগালা
চাকমা → বিজু (বর্ষবরণ উৎসব)
সাঁওতাল → সোহরাই
মারমা → সাংগ্রাই

• ত্রিপুরা:
ভাষার নাম: ককবরক
অর্থ: মানুষের ভাষা
নিজস্ব কোনো বর্ণমালা নেই
লেখা হয় বাংলা ও রোমান হরফে

তথ্যসূত্র: ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি : ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণি এবং নৃ-গোষ্ঠীসনদ বাংলাদেশ। 

.
পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে দেশের ন্যূনতম কত শতাংশ বনাঞ্চল থাকা উচিত?
  1. ৩৫%
  2. ৩০%
  3. ২৫%
  4. ১৫%
ব্যাখ্যা

• বনজ সম্পদ:
- বনভূমি ও বনজ সম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ।
- প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত অবস্থা ভালো রাখার জন্য যেকোনো দেশের কমপক্ষে শতকরা ২৫ ভাগ বনাঞ্চল থাকা দরকার
- কিন্তু বাংলাদেশের মোট বনভূমি মোট ভূখণ্ডের প্রায় শতকরা ১৭.৬২ ভাগ যা অন্যান্য দেশের তুলনায় কম।
- যেমন, আমেরিকায় শতকরা ৩৩.৮৪ ভাগ, জাপানে শতকরা ৬৭ ভাগ, বার্মায় শতকরা ৬৩ ভাগ এবং ভারতে শতকরা ২৩.৭০ ভাগ বনাঞ্চল রয়েছে।

তথ্যসূত্র: অর্থনীতি, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।

.
বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তনের জৈবিক উপাদানের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত-
  1. গড় আয়ু ও জীবনযাত্রার মান
  2. অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টি
  3. নদী ভাঙন ও টর্নেডো
  4. জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন:
- বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন নির্ভর করে নানা উপাদানের উপর, যেমন-
- আর্থসামাজিক, প্রাকৃতিক, জৈবিক, রাজনৈতিক, শিক্ষা, ধর্ম ও সংস্কৃতি, যোগাযোগ, প্রযুক্তি এবং শিল্পায়ন-নগরায়ণ।

 
• প্রাকৃতিক উপাদানসমূহ
১) জলবায়ু পরিবর্তন
২) বৈশ্বিক উষ্ণতা
৩) ভৌগোলিক পরিবর্তন
৪) নদী ভাঙন
৫) অতিবৃষ্টি
৬) অনাবৃষ্টি
৭) টর্নেডো ইত্যাদি
 
• জৈবিক উপাদানসমূহ
জন্ম ও মৃত্যুহার
জনসংখ্যার ঘনত্ব
গড় আয়ু
জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম দশম শ্রেণি।

১০.
বাংলাদেশে কয় ধরনের রেলপথ রয়েছে?
  1. ২ ধরনের
  2. ৩ ধরনের
  3. ৪ ধরনের
  4. ৫ ধরনের
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ রেলওয়ে:
- যোগাযোগের ক্ষেত্রে রেলওয়ে একটি পরিবেশ বান্ধব, নিরাপদ এবং সুলভে মালামাল পরিবহণের নির্ভরশীল মাধ্যম।
- বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের রেললাইনের দৈর্ঘ্য ২,৮৭৭ কিলোমিটার।

- বাংলাদেশে প্রধানত তিন ধরনের রেলপথ রয়েছে। যথা:
১) মিটারগেজ রেলপথ  ২) ব্রডগেজ রেলপথ  ৩) ডুয়েলগেজ রেলপথ

• ব্রডগেজ রেলপথ: ১.৬৮ মিটার প্রস্থ রেলপথকে ব্রডগেজ রেলপথ বলে। ব্রডগেজ রেলপথ যমুনা নদীর পশ্চিমাংশে রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় ৬৫৯ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ রয়েছে।

• ডুয়েলগেজ রেলপথ: যমুনা সেতুর উপর দিয়ে জামতৈল থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ৪১০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ রেলপথ রয়েছে।

• মিটারগেজ রেলপথ: ১ মিটার প্রস্থ রেলপথকে মিটারগেজ রেলপথ বলে। মিটারগেজ রেলপথ যমুনা নদীর পূর্বাংশে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে রয়েছে। 

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।

১১.
চামড়া পাকা করার জন্য চামড়া শিল্পে সুন্দরবনের কোন বৃক্ষ ব্যবহৃত হয়?
  1. গরান ও বাবুল গাছের বাকল
  2. গেওয়া গাছের পাতা
  3. গোলপাতা
  4. গর্জন, সেগুন ও চাপালিশ গাছের বাকল
ব্যাখ্যা

শিল্প উন্নয়নে বনভূমির গুরুত্ব:

১) কাগজ শিল্প: রাঙ্গামাটি জেলার কর্ণফুলী কাগজের কল স্থানীয় বাঁশ সম্পদের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত কাগজ ও মন্ড তৈরির কারখানাটি সিলেটের সাবাই ঘাসকে কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার করে।

২) নিউজপ্রিন্ট কারখানা: সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর ভিত্তি করে খুলনার নিউজপ্রিন্ট কারখানাটি গড়ে উঠেছে।

৩) দিয়াশলাই শিল্প: সুন্দরবনের গেওয়া কাঠের উপর নির্ভর করে দিয়াশলাই শিল্প গড়ে উঠেছে। এছাড়া কদম ও শিমুল গাছের কাঠ এই শিল্পে ব্যবহৃত হয়।

৪) রেয়ন শিল্প: চট্টগ্রামের চন্দ্রঘোনার রেয়ন কারখানাটি স্থানীয় বনভূমির নরম কাঠ ও বাঁশের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

৫) চামড়া শিল্প: সুন্দরবনের গরান ও বাবুল গাছের বাকল চামড়া পাকা করার জন্য চামড়া শিল্পে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া বাঘ, হরিণ, গুইসাপ, অজগর সাপ প্রভৃতি প্রাণীর চামড়াও শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

৬) পর্যটন শিল্প: পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, সুন্দরবন পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় স্থান। প্রাকৃতিক দৃশ্য ও জীববৈচিত্র্য পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১২.
কবে সুন্দরবনকে UNESCO World Heritage Site হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়?
  1. ১৯৯৫ সালে
  2. ১৯৯৭ সালে
  3. ১৯৯৮ সালে
  4.  ১৯৯৯ সালে
ব্যাখ্যা

• সুন্দরবন:

- সুন্দরবন সমুদ্র উপকূলবর্তী নোনা পরিবেশের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি এবং এটি অখন্ড বন হিসেবে বিশ্বে সর্ববৃহৎ।
- বনভূমিটি গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রের মোহনায় অবস্থিত এবং বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে বিস্তৃত।
- মোট বিস্তার: প্রায় ১০,০০০ বর্গকিলোমিটার।
- বাংলাদেশের অংশ: ৬,০১৭ বর্গকিলোমিটার।
-"সুন্দরবন"-এর আক্ষরিক অর্থ: “সুন্দর জঙ্গল” বা “সুন্দর বনভূমি”।
সুন্দরী গাছ থেকে সুন্দরবনের নামকরণ হয়ে থাকতে পারে, যা এখানে প্রচুর জন্মায়।

• স্বীকৃতি ও মর্যাদা:
- ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ।
- ১৯৯২ সালের ২১ মে সুন্দরবন রামসার স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ।

• ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য:
- জালের মতো জড়িয়ে আছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ছোট ছোট দ্বীপ।

তথ্যসূত্র: বাগেরহাট জেলা, জাতীয় তথ্য বাতায়ন ওয়েবসাইট।

১৩.
বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর কোনটি?
  1. পায়রা
  2. মংলা
  3. চট্টগ্রাম
  4. কক্সবাজার
ব্যাখ্যা

• পায়রা বন্দর:
- পায়রা বন্দর বাংলাদেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর।
- এটি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্র বন্দর।
- এটি কলাপাড়ার রাবনাবাদ চ্যানেলে অবস্থিত।

উল্লেখ্য,
- চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের প্রথম সমুদ্র বন্দর।
- মংলা বন্দর বাংলাদেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর।

তথ্যসূত্র: পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ ওয়েবসাইট। (লিংক)

১৪.
বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে বনভূমির পরিমাণ খুবই কম?
  1. দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল
  2. দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে
  3. উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা

• বনভূমি:
- বাংলাদেশের মোট বনভূমির আয়তন প্রায় ২২.৫ লক্ষ হেক্টর।
- বনভূমির এ পরিমাণ দেশের মোট ভূমির শতকরা ১৭ ভাগ।
- এ বন সারাদেশে সমানভাবে বিস্তৃত নয়।
- অধিকাংশ বনভূমি দেশের পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।
- দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বনভূমির পরিমাণ খুবই কম।

• অবস্থান ও বিস্তৃতিভেদে বাংলাদেশের বনাঞ্চলকে প্রধানত পাঁচভাগে ভাগ করা হয়েছে।
১। পাহাড়ি বন;
২। সমতলভূমির বন;
৩। ম্যানগ্রোভ বন;
৪। সামাজিক বন;
৫। কৃষি বন।

উৎস: কৃষি শিক্ষা, এসএসসি প্রোগ্রাম  উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫.
"উত্তরা" কোন ফসলের জাত?
  1. ধান
  2. গম
  3. বেগুন
  4. আলু
ব্যাখ্যা

• বেগুনের জাতসমূহ:
- বারি বেগুন-১ (উত্তরা)
- বারি বেগুন-২ (তারাপুরি)
- বারি বেগুন-৩ (শুকতারা)
- বারি বেগুন-৪ (কাজলা)
- বারি বেগুন-৫ (নয়নতারা)

তথ্যসূত্র: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। LINK

১৬.
বাংলাদেশের কোন সমস্যা আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে?
  1. সাইবার অপরাধ
  2. বাল্যবিবাহ
  3. দুর্নীতি
  4. জনসংখ্যা
ব্যাখ্যা

সাম্প্রতিককালে দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

• সামাজিক সমস্যা:

- এমন এক ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি যা স্বাভাবিক সামাজিক জীবনাচরণের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
- এর ফলে নাজুক সামাজিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক পর্যায়ে মোকাবেলার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়।
 
• বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা:
১. পূর্বের সামাজিক সমস্যা
- জনসংখ্যা সমস্যা, অধিক জনসংখ্যার প্রভাব
- বেকারত্ব
- দারিদ্র্য
- মাদকাসক্তি
- দুর্নীতি
- সুশাসনের অভাব

২. সাম্প্রতিক যোগ হওয়া সমস্যা
- নারীর সামাজিক নিরাপত্তাজনিত সমস্যা
- যৌন নিপীড়ন
- সাইবার অপরাধ
- কর্মজীবী নারীর সমস্যা
- জেন্ডার বৈষম্য
- যৌতুক ও বাল্যবিবাহ
- বার্ধক্য সমস্যা
- সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ
- সাইবার অপরাধের বৃদ্ধি, বিশেষ করে নারীর শিকার হওয়া

৩. বার্ধক্য সমস্যা নতুন মাত্রা পেয়েছে
-কর্মস্থলের দূরত্ব
- নগরমুখিতা
- সামাজিক দায়বদ্ধতার অভাব
- ব্যক্তিস্বার্থপরতার বৃদ্ধি
- অণু পরিবারের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়া
- যৌথ বা বর্ধিত পরিবারে অনীহা

তথ্যসূত্র: সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭.
BSTI-এর পূর্ণরূপ কী?
  1. Bangladesh ‍Society for Telecommunication & Information
  2. Bangladesh Standards and Testing Institution
  3. Bangladesh Scientific Testing Institute
  4. Bangladesh Security & testing Institute
ব্যাখ্যা

• BSTI:
- পূর্ণরূপ Bangladesh Standards and Testing Institution
- এ উপমহাদেশে ১৯৪৬ সালে Indian Standards Institute স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় মান সংস্থার কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।
- ১৯৪৭ সালে উপনিবেশিক শাসনের অবসানের সুদীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় পরে, ১৯৫৮ সালে, তৎকালীন পাকিস্তানে Pakistan Standards Institute (PSI) প্রতিষ্ঠিত হয়।
- তৎপূর্বে ১৯৫৬ সালে Colombo Plan এর অধীনে ঢাকায় Central Testing Laboratory (CTL) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- ঢাকায় ১৯৬৩ সালে PSI এর অফিস প্রতিষ্ঠিত হয়।
- স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে CTL এবং BDSI, এই দুটি সংস্থা পৃথক সত্তা হিসেবে নিজ নিজ দায়িত্বে কার্যরত ছিল।

 - ১৬ই মে ১৯৮৩ সালে তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী Science & Technology Division এর অধিনস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল টেস্টিং ল্যাবরেটরী (CTL) ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস ইনস্টিটিউশন (BDSI)-কে একীভূত করে ২৫শে জুলাই ১৯৮৫ তারিখে বাংলাদেশ সরকারের জারীকৃত ‘দি বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন অধ্যাদেশ, ১৯৮৫’ -এর মাধ্যমে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) গঠিত হয়।

তথ্যসূত্র: বিএসটিআই ওয়েবসাইট।

১৮.
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪ অনুসারে, বাংলাদেশের জিডিপিতে (GDP) তে কৃষি খাতের অবদান কত? 
  1. ৩৭.৯৫%
  2. ৫১.০৪%
  3. ৩৯.৫৬%
  4. ১১.০২%
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা: 
- চলিত মূল্যে জিডিপি- ৫০,৪৮,০২৭ কোটি টাকা।
- চলিত মূল্যে মাথাপিছু জিডিপি- ২,৬৭৫  মার্কিন ডলার।
- স্থির মূল্যে জিডিপি- ৩৩,৯৭,২৩১ কোটি টাকা।
- চলিত মূল্যে মোট জাতীয় আয় - ৩,০৬,১৪৪ কোটি টাকা।
- চলিত মূল্যে মাথাপিছু জাতীয় আয় - ২,৭৮৪ মার্কিন ডলার।
- মুদ্রাস্ফীতি-  ৯.৭৪%।
- জিডিপিতে কৃষির অবদান - ১১.০২%।
- জিডিপিতে শিল্পের অবদান - ৩৭.৯৫%।
- জিডিপিতে সেবার অবদান -৫১.০৪%।
- অর্থনীতিতে মোট খাত - ১৯ টি (২০১৫-১৬ ভিত্তি বছর)

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪।

১৯.
বাংলাদেশে প্রথম প্রাকৃতিক তেলক্ষেত্র কোথায় পাওয়া যায়?
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. মৌলভীবাজার
  4. সুনামগঞ্জ
ব্যাখ্যা

খনিজ তেলক্ষেত্র (Petroleum):
- বাংলাদেশের সিলেট জেলার হরিপুরে ১৯৮৬ সালে প্রাকৃতিক গ্যাসের সপ্তম কূপে তেল পাওয়া গেছে
- এ কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৬০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করা হয়।
- অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের তেল শোধনাগারে পরিশোধন করা হয়। পরিশোধিত তেল থেকে কোরোসিন, বিটুমিন, পেট্রোল ও অন্যান্য দ্রব্য পাওয়া যায়। 
- মৌলভীবাজার জেলার বরমচালে বাংলাদেশের দ্বিতীয় তেলক্ষেত্রটি অবস্থিত।
- দৈনিক প্রায় ১,২০০ ব্যারেল তেল উত্তোলিত হয় এই তেলক্ষেত্রটি থেকে।
- বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) সমগ্র বাংলাদেশের জ্বালানি তেল মজুদ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সম্প্রসারণ, বিপনন ও জ্বালানি তেল আমদানি ও মজুদ করে থাকে।

তথ্যসূত্র: ভূগোল ও পরিবেশ, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।