ব্যাখ্যা
• "উর্বশী ও আর্টেমিস" গ্রন্থটির রচয়িতা- বিষ্ণু দে।
--------------------------------------------
• বিষ্ণু দে:
- বিষ্ণু দে ছিলেন একজন প্রখ্যাত কবি, প্রাবন্ধিক, চিত্রসমালোচক ও শিল্পানুরাগী,
- তিনি ১৯০৯ সালের ১৮ জুলাই কলকাতার পটলডাঙ্গায় জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতা অবিনাশচন্দ্র দে ছিলেন অ্যাটর্নি।
- তাঁর শিক্ষা জীবন কেটেছে কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউট ও সংস্কৃত কলেজিয়েট স্কুলে।
- তিনি পঞ্চপান্ডব্দের মধ্যকার একজন।
- ১৯২৩ সালে কল্লোল পত্রিকা প্রকাশের ফলে বাংলা সাহিত্যে নতুন ধারা ও শিল্পচেতনার সূচনা হয়, যেখানে বিষ্ণু দে অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন।
- ১৯৩০ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হলে তিনি সুধীন্দ্রনাথ দত্তের পরিচয় (১৯৩১) পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন এবং ১৯৪৭ পর্যন্ত সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
- ১৯৪৮ সালে তিনি চঞ্চলকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় সাহিত্যপত্র প্রকাশ করেন।
- তিনি ১৯৮২ সালের ৩ ডিসেম্বর কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।
- বিষ্ণু দে’র উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে:
• উর্বশী ও আর্টেমিস,
• চোরাবালি,
• সাত ভাই চম্পা,
• রুচি ও প্রগতি,
• সাহিত্যের ভবিষ্যৎ,
• নাম রেখেছি কোমল গান্ধার,
• তুমি শুধু পঁচিশে বৈশাখ,
• স্মৃতি সত্তা ভবিষ্যত,
• রবীন্দ্রনাথ ও শিল্পসাহিত্যে আধুনিকতার সমস্যা,
• মাইকেল রবীন্দ্রনাথ ও অন্যান্য জিজ্ঞাসা,
• In the Sun and the Rain,
• উত্তরে থাকো মৌন,
• সেকাল থেকে একাল,
• আমার হূদয়ে বাঁচো।
-------------------------------------------------------
• “উর্বশী ও আর্টেমিস” গ্রন্থ নিয়ে কিছু কথা:
- বিষ্ণু দে রচিত “উর্বশী ও আর্টেমিস” একটি আধুনিক কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি প্রেম, নারীসত্তা ও মানুষের অন্তর্নিহিত কামনার সঙ্গে আধুনিক বাস্তবতার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছে। কবি এখানে পৌরাণিক ও প্রতীকি নারী চরিত্র—উর্বশী (কামনার প্রতীক) ও আর্টেমিস (কুমারী ও শিকারদেবী)—মাধ্যমে নারী ও প্রেমের দ্বান্দ্বিক রূপ ফুটিয়ে তুলেছেন। গ্রন্থে আধুনিক প্রেম ও নারী, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের নারীসত্তার পার্থক্য এবং প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে নতুন আঙ্গিক ও ভাষায় মানব জীবনের জটিলতা প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৫টি কবিতা সংকলিত, যার মধ্যে ‘পলায়ন’, ‘কাব্যপ্রেম’, ‘উদ্যাপন’ ও ‘প্রেম’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
উৎস:
বাংলাপিডিয়া;
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।