ব্যাখ্যা
⇒ আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি ছিলেন দৌলত কাজী। তার রচিত গ্রন্থের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- তিনি সেটি অনুবাদ করেছেন হিন্দি কবি মিয়া সাধন এ-র 'মৈনাসত' গ্রন্থ থেকে।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
৪৯তম বিসিএস ⎯ বাংলা [১১১] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন
⇒ আরাকান রাজসভার প্রথম বাঙালি কবি ছিলেন দৌলত কাজী। তার রচিত গ্রন্থের নাম 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
- তিনি সেটি অনুবাদ করেছেন হিন্দি কবি মিয়া সাধন এ-র 'মৈনাসত' গ্রন্থ থেকে।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ 'চন্দ্রাবতী' কোরেশি মাগন ঠাকুর এ-র কাব্য।
- ভদ্রাবতী নগরের রাজপুত্র বীরভান, মন্ত্রীপুত্র সুতের সহায়তায় কীভাবে সরন্দীপ রাজকন্যা চন্দ্রাবতীকে লাভ করেছিলেন তা এ-ই কাব্যে বর্ণিত হয়েছে।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ পুঁথি সাহিত্য আরবি, উর্দু, ফারসি, হিন্দি ভাষার মিশ্রণে রচিত এক বিশেষ শ্রেণির বাংলা সাহিত্য। এ সাহিত্যের রচয়িতা এবং পাঠক উভয়েই ছিলেন মুসলমান।
- বিষয়বস্তু অনুসারে পুঁথি সাহিত্যকে কয়েকভাগে ভাগ করা যায়।
১) প্রণয়োপাখ্যান জাতীয় কাব্যঃ ইউসুফ জোলেখা, পদ্মাবতী।
২) যুদ্ধ সম্পর্কিত: জঙ্গনামা, আমীর হামজা, সোনাভান।
৩) পীর পাঁচালি: গাজী কালু চম্পাবতী, সত্যপীরের পুঁথি।
অন্যদিকে ময়মনসিংহ গীতিকা ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীন পালাগানের সংকলন।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
- কমলা' পালার রচয়িতা দ্বিজ ঈশান।
অন্যদিকে দ্বিজ মাধব এবং দ্বিজ বংশীদাস মঙ্গলকাব্যের রচয়িতা।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ কবিওয়ালা ও শায়েরে উদ্ভব হয় আঠারো শতকের শেষার্ধে ও উনিশ শতকের প্রথমার্ধে।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ কবিগানের প্রথম কবি গোঁজলা গুঁই। উল্লেখযোগ্য কবিওয়ালা হলেন- হরু ঠাকুর, কেষ্টা মুচি, ভবানী বেনে, নিতাই বৈরাগী, রাম বসু, ভোলা ময়রা, এন্টনি ফিরিঙ্গি প্রমুখ।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ 'আমির হামজা' কাব্যের প্রথমাংশ রচনা করেন ফকির গরীবুল্লাহ। এবং দ্বিতীয়াংশ রচনা করেন সৈয়দ হামজা।
- দৌলত কাজী রচনা করেন 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী'।
অন্যদিকে আলাওল ও দোনা কাজী চৌধুরী রচনা করেন 'সয়ফুলমুলক বদিউজ্জামাল'।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ কবি ভারত চন্দ্র রায় গুণাকর ১৭১২ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং মৃত্যু বরণ করেন ১৭৬০ সালে।
তার কিছু বিখ্যাত উক্তি-
→ কড়িতে বাঘের দুধ মিলে
→ হাভাতে যদ্যপি যায়, সাগর শুকায়ে যায়।
→ বাপে না জিজ্ঞাসে মায়ে না সম্ভাষে যদি দেখে লক্ষ্মীছাড়া।
→ মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
→ যতন নহিলে নাহি মিলায়ে রতন।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ লৌকিক কাহিনির আদি রচয়িতা দৌলত কাজী। 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্য লৌকিক কাহিনি নিয়ে রচিত।
- দোনা গাজী চৌধুরীর অনূদিত বইয়ের নাম ' সয়ফুলমুলুক-বদিউজ্জামাল'।
- ফকীর গরীবুল্লাহ পুঁথি সাহিত্যের আদি কবি তার রচিত বইয়ের নাম ' ইউসুফ জোলেখা, সোনাভান, জঙ্গনামা'।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ ভারতচন্দ্র রায় গুণাকর (১৭১২-১৭৬০) নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সভাকবি ছিলেন।
- লক্ষণসেনের সভাকবি ছিলেন 'গীতগোবিন্দের' কবি জয়দেব।
- কবিকণ্ঠহার বিদ্যাপতি ছিলেন মহারাজা শিবসিংহের সভাকবি।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ আলাওল মৌলিক কিছু পদাবলি রচনা করেছেন।
- আলাওল তোহফা কাব্যটি ইউসুফ গদা এ-র 'তোহফা তুন নেসায়েহ' থেকে অনুবাদ করেছেন।
- 'সিকান্দারনামা' অনুবাদ করেছেন ফারসি কবি নিজামীর 'সিকান্দারনামা থেকে।
- 'সপ্তপয়কর' অনুবাদ করেছেন নিজামীর 'হপ্তপয়কর' থেকে।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ আলাওল 'সপ্তপয়কর' গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন নিজামী গঞ্জবী এর 'হপ্তপয়কর' গ্রন্থ থেকে।
- ইউসুফ গদা এর ' তোহফা তুন নেসায়েহ' থেকে আলাওল অনুবাদ করেন ' তোহফা' কাব্যটি।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ আলাওল 'তোহফা' কাব্যটি অনুবাদ করেন ইউসুফ গদা এ-র 'তোহফা তুন নেসায়েহ' থেকে।
- সিকান্দারনামা' অনুবাদ করেন নিজামী গঞ্জবী এ-র ' সিকান্দারনামা থেকে।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ নাথ সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি শেখ ফয়জুল্লাহ। তার রচিত গ্রন্থের নাম ' গোরক্ষ বিজয়'।
- ফকির গরীবুল্লাহ পুঁথি সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি। তার রচিত কাব্য ' ইউসুফ জোলেখা ' সোনাভান', জঙ্গনামা', আমির হামজা'।
- শেখ ফয়জুল্লাহ মর্সিয়া সাহিত্যের আদি কবি। তার রচির গ্রন্থ ' জয়নবের চৌতিশা'।
- শুকুর মাহমুদ নাথ গীতিকার কবি তার রচিত গ্রন্থ গোপীচন্দ্রের সন্যাস। তবে তিনি নাথ সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ কবি নন।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ কমলা' পালাটির রচয়িতা দ্বিজ ঈশান। মূল চরিত্র কমলার নামে পালাটির নামকরণ হয়।
- মহুয়া' পালার রচয়িতা দ্বিজ কানাই।
- দ্বিজ মাধব এবং দ্বিজ বংশীদাস দুজনেই মঙ্গলকাব্যের রচয়িতা।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ বানিয়াচঙ্গের দেওয়ান সোনাফরের পুত্র আলাল দুলালের বিচিত্র জীবন এবং দুলাল ও মদিনার প্রেম কাহিনি এই পালার বিষয় বস্তু।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ 'মলুয়া' ও 'দস্যু কেনারাম' এ-ই দুটি পালা চন্দ্রাবতী রচনা করেন।
- নয়ানচাঁদ ঘোষ রচনা করেন ' চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র' পালাটি।
- মনসুর বয়াতির পালার নাম ' দেওয়ানা মদিনা'।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ দেওয়ানা ভাবনার রচয়িতা সম্পর্কে জানা যায়নি।
- দেওয়ানা মদিনা' পালাটির রচয়িতা মনসুর বয়াতি।
- নয়ানচাঁদ ঘোষ রচনা করেন ' কঙ্ক ও লীলা' এবং 'চন্দ্রাবতী ও জয়চন্দ্র' নামক পালা।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ 'নিজাম ডাকাতের পালা, 'ভেলুয়া', 'কাফন চোরা' এগুলো পূর্ববঙ্গ গীতিকা।
- 'কঙ্ক ও লীলা' ময়মনসিংহ গীতিকার উল্লেখযোগ্য পালা।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ নদীয়ার মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র রামপ্রসাদ কে 'কবিরঞ্জন' উপাধি দেন।
- দৌলত উজির বাহরাম খানকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন জমিদার নিজাম শাহ।
- যশোরাজ খান, বিপ্রদাস এবং বিজয়গুপ্ত কে পৃষ্ঠপোষকতা করেন আলাউদ্দিন হুসেন শাহ।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ দৌলত উজির বাহরাম খান আরাকান রাজসভার কবি নন। তবে তিনি রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান রচনা করেছেন।
আরাকান রাজসভার কবি হলেন,
আলাওল, মাগন ঠাকুর, দৌলত কাজী, মরদন প্রমুখ।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ দৌলত কাজী 'সতীময়না ও লোরচন্দ্রানী' কাব্যটি সম্পন্ন করে যেতে পারেন নি। তার অসমাপ্ত কাব্য শেষ করেন আলাওল।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ নাথ সাহিত্যকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
১) মীন নাথ ও তার শিষ্য গোরক্ষনাথের কাহিনী
২) রাজা গোপীচন্দ্রের সন্যাস।
- শুকুর মাহমুদ রচিত কাব্যের নাম 'গোপীচন্দ্রের সন্যাস'।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ শুকুর মাহমুদ নাথ সাহিত্য রচনা করেছেন।
- তার রচিত গ্রন্থের নাম ' গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস'
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।
⇒ বাংলা সাহিত্যে আধুনিক যুগের সূচনা হয় ১৮০১ বা উনিশ শতক থেকে।
- যুগ সন্ধিক্ষন (১৭৬০-১৮৬০)।
⇒ নিজাম ডাকাতের পালা' পূর্ববঙ্গ গীতিকার অংশ।
- অন্যদিকে 'রূপবতী', 'দেওয়ানা ভাবনা', 'কঙ্ক ও লীলা' ময়মনসিংহ গীতিকার অংশ।
উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম।