পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন২৫
সিলেবাস
পরীক্ষা – ১৮ টপিক: রিভিশন পরীক্ষা [Exam – 16 & 17] [Live Class -23,25 & 24 মেন্টর: আসিফ আসাদ]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৫ প্রশ্ন

.
বাংলাদেশের হাইকোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনীকে আংশিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করেছে- 
  1. ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪
  2. ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ 
  3. ৩ জুলাই, ২০২৫
  4. ৩০ জুন, ২০২৪ 
ব্যাখ্যা

পঞ্চদশ সংশোধনী:  
- বাংলাদেশের হাইকোর্ট ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে পঞ্চদশ সংশোধনীকে আংশিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করেছে।
- পঞ্চদশ সংশোধনী ৩০ জুন, ২০১১ তারিখে জাতীয় সংসদে পাস হয়।
- এবং ৩ জুলাই, ২০১১ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়।
- সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৪টি পরিবর্তন, সংযোজন ও পরিমার্জন আনা হয়।
- তবে বদিউল আলম মজুমদার- সুজন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক- সংশোধনীর বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
- হাইকোর্টের রায়ে ২০২৪ সালে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও দেবাশীষ রায় চৌধুরী ৫৪টির মধ্যে ৬টি বিধান বাতিল করেন।
- বাতিলকৃত ধারার মধ্যে ছিল- ৭(ক), ৭(খ), ৪৪(২) এবং ১৪২।
- এর ফলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন বাতিল হয়ে যায়।
- বর্তমানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য,
- পূর্বে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৪২ ধারা বাতিল করা হয়েছিল।
- তবে হাইকোর্ট পুনর্বহালের রায়ে গণভোট আয়োজনের ক্ষমতা পুনঃসংযোজন করে।
- হাইকোর্টের রায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করার পথ সুগম করেছে।
- এছাড়া, সংবিধানের মৌলিক বিষয়গুলোর পরিবর্তন বা বাতিল করার সুযোগও নিশ্চিত করেছে।
- পাশাপাশি হাইকোর্টের রায়ের ফলে আইন বিভাগের উপর শাসন বিভাগের কর্তৃত্ব কিছু পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। 

উৎস: 
১. প্রথম আলো;
২. BBC News;
৩. দৈনিক ইত্তেফাক। 

.
সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ছিলেন- 
  1. অধ্যাপক জয়নুল আবেদীন
  2. অধ্যাপক রুহুল আমিন
  3. অধ্যাপক কামরুল হাসান
  4. অধ্যাপক আলী রিয়াজ
ব্যাখ্যা

• সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠিত হয়- ৬ অক্টোবর, ২০২৪।
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ছিলেন অধ্যাপক আলী রিয়াজ। 
- কমিশনে মোট ৯ জন সদস্য ছিলেন।
- কমিশনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে:
• দেশের সাংবিধানিক নাম হবে জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ (People's Republic of Bangladesh),
• নাগরিকত্ব বাংলাদেশি হিসেবে ধার্য করা হবে।
• সংবিধানের মূলনীতি হবে চারটি – সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র।
• এছাড়া, সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট;
• যেখানে নিম্নকক্ষে ৪০০টি আসন এবং উচ্চকক্ষে ১০৫টি আসন থাকবে। 
• এবং সরকারের, সংসদের এবং রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ধার্য করা হবে ৪ বছর।
• সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স হবে ২১ বছর। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

.
বাংলাদেশ সংবিধানের কততম সংশোধনীতে "বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহিম" সংযোজন করা হয়? 
  1. চতুর্থ 
  2. পঞ্চম 
  3. দ্বিতীয় 
  4. প্রথম 
ব্যাখ্যা

পঞ্চম সংশোধনী: 
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে।
- বাংলাদেশের পঞ্চম সংশোধনী (১৯৭৯) ছিল একটি বিতর্কিত সংশোধনী।

- এই সংশোধনীর মাধ্যমে-
• ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক সরকারের সমস্ত কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেয়া হয়।
সংবিধানের শুরুতে "বিসমিল্লাহির-রাহমানির রাহিম" সংযোজন করা হয়।
• তাছাড়া, বাঙালি জাতিকে ‘বাংলাদেশি’ নামে আখ্যায়িত করা হয়, যদিও এটি পরে পরিবর্তিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ২০০৫ সালে হাইকোর্ট পঞ্চম সংশোধনীর সামরিক শাসন বৈধতা দানকারী অংশটি অবৈধ ঘোষণা করে।
- আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বহাল রাখলেও, সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজনের অংশটি বাতিল করেনি। 

উৎস:
১. BBC News;
২. প্রথম আলো পত্রিকা;
৩. বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

.
সংবিধানের চতুর্থ তফসিল কোন বিষয় সম্পর্কিত?
  1. ৭ই মার্চের ভাষণ
  2. রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
  3. শপথ ও ঘোষণা
  4. ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী 
ব্যাখ্যা

সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলীর কথা উল্লেখ আছে। 

সংবিধানের তফসিল:
- বাংলাদেশের সংবিধান গণপরিষদের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হয়।
- সংবিধানের খসড়া প্রণয়ন কমিটি ১৯৭২ সালের ১১ অক্টোবর চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করে।
- সংবিধানটি ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে গৃহীত হয়। 
- ১৪ ডিসেম্বর স্পিকার সংবিধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বৈধতা ও স্বীকৃ্তি দেয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- সংবিধানে মোট ৭টি তফসিল রয়েছে।

• সংবিধানের তফসিলসমূহ:
- প্রথম তফসিল – অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
- দ্বিতীয় তফসিল – রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
- তৃতীয় তফসিল – শপথ ও ঘোষণা।
- চতুর্থ তফসিল – ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
- পঞ্চম তফসিল – ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ভাষণ।
- ষষ্ঠ তফসিল – স্বাধীনতার ঘোষণা।
- সপ্তম তফসিল – স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

.
সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. ১৪২
  2. ১২৪
  3. ১১৮
  4. ১০৮
ব্যাখ্যা

১৪২ নং অনুচ্ছেদ: সংবিধানের বিধান সংশোধনের ক্ষমতা-
- সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সংবিধানের কোনো বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিতকরণের মাধ্যমে সংশোধন করতে পারে।
- তবে এর জন্য কিছু শর্ত রয়েছে-
• প্রথমত, সংশোধনীর বিলের সম্পূর্ণ শিরোনামে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে কোন বিধান সংশোধন করা হবে।
• দ্বিতীয়ত, সংসদের মোট সদস্যসংখ্যার অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোট দ্বারা বিল গৃহীত হতে হবে;
- অন্যথায় এটি রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করা যাবে না। 
• তৃতীয়ত, রাষ্ট্রপতি বিলটি পাসের জন্য সাত দিনের মধ্যে সম্মতি দিতে হবে;
- আর যদি তিনি দেওয়ার ক্ষমতা না রাখেন, তবে সেই সময়সীমা শেষে বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।

অন্যদিকে,
• ১২৪ অনুচ্ছেদ — নির্বাচন সম্পর্কিত বিধানপ্রণয়ন:
- সংসদের ১২৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ আইনের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয়গুলি নির্ধারণ করতে পারে।
• এর মধ্যে রয়েছে- 
- নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ,
- ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা,
- নির্বাচন পরিচালনা এবং
- সংসদের সঠিক গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিধান প্রণয়ন করা।

• ১০৮ অনুচ্ছেদ — সুপ্রিম কোর্টের কোর্ট অব রেকর্ড স্বরূপ ক্ষমতা:
- সংবিধানের ১০৮ অনুচ্ছেদ মতে, সুপ্রিম কোর্ট একটি কোর্ট অফ রেকর্ড; তার আদেশ এবং রায় চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে এবং
- কোন বাক্তি  আদালত এর সিদ্ধান্তের অবমাননা করলে সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত ও শাস্তিসহ তার সমস্ত সংবিধিবদ্ধ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে ওই বাক্তির বিরুদ্ধে।

• ১১৮ অনুচ্ছেদ — নির্বাচন কমিশন:
- ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে, যার প্রধান হবেন একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং
- সদস্য হিসেবে সর্বোচ্চ চারজন নির্বাচন কমিশনার থাকবেন।

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

.
বাংলাদেশ সংবিধানের ১১ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে- 
  1. ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা 
  2. আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন 
  3. গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূলনীতি 
  4. সুযোগের সমতা
ব্যাখ্যা

অনুচ্ছেদ ১১:
- ১১ নং অনুচ্ছেদে- গনতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূলনীতি প্রণীত হয়েছে। 
- সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১ -এ উল্লেখ আছে যে, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ হবে।
- এখানে সবাইকে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা দেওয়া হবে।
- মানুষের মর্যাদা ও মূল্যকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
- এছাড়া দেশের সব প্রশাসনিক কাজে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগণ অংশগ্রহণ করতে পারবে।

অন্যদিকে,
• ১২ নং অনুচ্ছেদে- ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।
• ২৫ নং অনুচ্ছেদে- আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়নের কথা উল্লেখ আছে। 
• ১৯ নং অনুচ্ছেদে- সুযোগের সমতার কথা বর্ণিত হয়েছে। 

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

.
সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণের বিষয়টি সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে উল্লেখ রয়েছে?
  1. অনুচ্ছেদ ৬৬
  2. অনুচ্ছেদ ৬৭ 
  3. অনুচ্ছেদ ৬৮ 
  4. অনুচ্ছেদ ৬৯
ব্যাখ্যা

সংবিধান: 
- সংবিধানের ৬৬ নং অনুচ্ছেদ সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা নির্ধারণ করে।
- সংবিধানের ৬৬ নং অনুচ্ছেদ বলে, সংসদে নির্বাচিত হতে হলে একজন প্রার্থীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে.
- এবং বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হতে হবে।
- কিন্তু কোনো ব্যক্তি নির্বাচিত হতে পারবে না, যদি তিনি:
• কোনো আদালত দ্বারা অপ্রকৃতিস্থ ঘোষণা প্রাপ্ত হন,
• দেউলিয়া থাকেন এবং দায় মুক্তি পাননি,
• অন্য দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বা অন্য দেশের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করেছেন,
• গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন এবং কারাদণ্ডের পাঁচ বছর পূর্ণ না হয়,
• ১৯৭২ সালের যোগসাজশী মামলায় দণ্ডিত হন, অথবা
• কোনো আইন অনুযায়ী নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষিত হয়েছে।

অন্যদিকে,
সংবিধানের ৬৭ নং অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানের ৬৭ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে যদি:
- শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করার ৯০ দিনের মধ্যে তা করতে না পারেন,
- অনুমতি ছাড়া ৯০ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকেন,
- সংসদ ভাঙে,
- ৬৬ নং অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে অযোগ্য হন, বা
- ৭০ নং অনুচ্ছেদের শর্ত পূরণ হয়।
- সদস্য চাইলে স্পীকারের কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগ করতে পারবেন, এবং স্পীকার পত্র প্রাপ্ত হলে তার আসন শূন্য ধরা হবে।

সংবিধানের ৬৮ নং অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানের ৬৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ-সদস্যদের পারিশ্রমিক, ভাতা ও বিশেষ অধিকার নির্ধারণ করা হবে সংসদের আইন বা রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী।

সংবিধানের ৬৯ নং অনুচ্ছেদ:
- সংবিধানের ৬৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কেউ শপথ গ্রহণের আগে বা অযোগ্য অবস্থায় আসন গ্রহণ বা ভোট দিলে, প্রতি দিনের জন্য এক হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে।

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

.
বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি কয়টি?
  1. ৪টি
  2. ৫টি
  3. ৬টি
  4. ৭টি
ব্যাখ্যা

সংবিধান:
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ, সংবিধান রচনার লক্ষ্যে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর, খসড়া সংবিধান বিল গণপরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর, সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।

- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অনুচ্ছেদ ৮ অনুযায়ী বাংলাদেশের সংবিধানের মূলনীতি চারটি- 
• জাতীয়তাবাদ,
• গণতন্ত্র,
• ধর্মনিরপেক্ষতা ও
• সমাজতন্ত্র।

- সংবিধানের বৈশিষ্ঠ্য:
• বাংলাদেশের সংবিধানে ১১ টি অধ্যায় আছে।
• ১৫৩টি অনুচ্ছেদ আছে।
• ৭ টি তফসিল রয়েছে।
• ১৩ টি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
• ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

.
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের কোন ধারায় নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে?
  1. ৯৬ নং অনুচ্ছেদ
  2. ১১৮ নং অনুচ্ছেদ
  3. ১৪২ নং অনুচ্ছেদ
  4. ১৪৬ নং অনুচ্ছেদ 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সংবিধান:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সর্বোচ্চ চারজন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে একটি নির্বাচন কমিশন গঠিত হবে।
- রাষ্ট্রপতি সংবিধান ও প্রণীত আইনের বিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ প্রদান করবেন।
- একাধিক কমিশনার থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
- এই অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনারদের পদ মেয়াদ পাঁচ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এবং তাদের ভবিষ্যৎ সরকারি নিয়োগ সংক্রান্ত বিধিনিষেধ উল্লেখ করা হয়েছে।
- পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
- এছাড়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারকের মতো একই পদ্ধতি ও কারণ ছাড়া কোনো নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা যাবে না।
- সর্বশেষে, কমিশনারদের স্বেচ্ছায় পদত্যাগের ব্যবস্থাও এই অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে,
সংবিধানের ৯৬ নং অনুচ্ছেদ:
- এই অনুচ্ছেদে বিচারকদের পদের মেয়াদ ও অপসারণ নিয়ে বলা হয়েছে।
- এতে বলা হয়েছে, কোনো বিচারক ৬৭ বছর বয়স পর্যন্ত পদে বহাল থাকবেন।
- প্রমাণিত অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের ক্ষেত্রে সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত প্রস্তাব ও রাষ্ট্রপতির আদেশ ছাড়া বিচারককে অপসারণ করা যাবে না।
- অভিযোগের তদন্ত ও পদ্ধতি সংসদ আইনের মাধ্যমে নির্ধারণ করবে।
- তাছাড়া, বিচারক চাইলে রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিতভাবে পদত্যাগ করতে পারবেন।

• সংবিধানের ১৪২ নং অনুচ্ছেদ:
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ন্যস্ত।
- সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সংবিধানের কোনো বিধান সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন বা রহিত করতে পারে।
- তবে সংশোধনী বিলের শিরোনামে সংশোধনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
- বিলটি সংসদের মোট সদস্যের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে গৃহীত হতে হবে। 
- গৃহীত বিল রাষ্ট্রপতির নিকট উপস্থাপিত হলে তিনি ৭ দিনের মধ্যে সম্মতি দেবেন।
- সম্মতি না দিলে নির্ধারিত সময় শেষে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হবে।

সংবিধানের ১৪৬ নং অনুচ্ছেদ:
- এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী- "বাংলাদেশ" নাম ব্যবহার করে দেশের সরকারের বিরুদ্ধে বা সরকারের পক্ষ থেকে মামলা করা যেতে পারে। 

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

১০.
সংবিধানের সপ্তদশ সংশোধনী অনুসারে, কত বছর পর্যন্ত ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত থাকবে?
  1. ১৫ বছর
  2. ৩০ বছর
  3. ২৫ বছর
  4. ২০ বছর
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংশোধনী:
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ, সংবিধান রচনার লক্ষ্যে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- ১৯৭২ সালের ১২ অক্টোবর, খসড়া সংবিধান বিল গণপরিষদের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে পেশ করা হয়।
- ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর, সংবিধান গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণীত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশের সংবিধানে এখন পর্যন্ত ১৭টি সংশোধনী আনা হয়েছে। 
- সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৮ জুলাই জাতীয় সংসদে সপ্তদশ (১৭তম) সংশোধনী বিল পাস হয়।
- এতে একাদশ সংসদের ৫০টি নারী আসন আগামী ২৫ বছর পর্যন্ত বহাল রাখার বিধান অন্তর্ভুক্ত ছিল।

উৎস: পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

১১.
বিশ্বের প্রথম আধুনিক লিখিত সংবিধান- 
  1. মদিনা সনদ
  2. যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান
  3. ম্যাগনাকার্টা
  4. ভারতের সংবিধান
ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান:
- জর্জ ওয়াশিংটনের নেতৃত্বে ১৭৮৭ সালে ফিলাডেলফিয়ায় একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
- এ সম্মেলনে আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
- এ উদ্দ্যেশ্যে একটি সংবিধান প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
- এ সংবিধান রচনায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন জেমস ম্যাডিসন, আলেকজান্ডার হ্যামিলটন ও বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন।
- বিশ্বের প্রথম আধুনিক লিখিত সংবিধান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ১৭৮৭ সালে গৃহীত হয়। 
- এটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার রূপায়ণের মূল দলিল।
- যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভাগ, সরকারি শাখাগুলির ভূমিকা, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের বিভিন্ন দিক সংজ্ঞায়িত করে।
- সংবিধানটি গণতন্ত্রের রূপায়ণ ও মানবাধিকার বিষয়ে বিশ্বে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করে।

অন্যদিকে,
• মদিনা সনদ:
- পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান হলো মদিনা সনদ।
- মদিনা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী ইহুদী, খ্রিস্টান, পৌত্তলিক ও ‍মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতির জন্যে হযরত ‍মুহাম্মদ (স.) ৬২২ খ্রিস্টাব্দে ‘মদিনা সনদ’ রচনা করেন।
- এতে ৪৭টি ধারা ছিলো।

• ম্যাগনা কার্টা:
- ম্যাগনা কার্টা (১২১৫) ইংল্যান্ডে রাজা জন অনুমোদিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানিক দলিল।
- এটি রাজা ও শাসনের ক্ষমতা সীমিত করে এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার, যেমন সুবিচার ও অবিচারের বিরুদ্ধে সুরক্ষা নিশ্চিত করে।
- এটি পরবর্তীতে ইংল্যান্ডে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি হিসেবে গড়ে উঠে। 

ভারতের সংবিধান:
-  ভারতের সংবিধান ১৯৫০ সালে কার্যকর হয়।
- এটি বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান।
- এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রেখে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো তৈরি করে।

উৎস:
১. উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস ১মপত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১২.
বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর কে? [জানুয়ারি, ২০২৬] 
  1. মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন
  2. শফিকুল ইসলাম
  3. ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার
  4. আহসান এইচ মনছুর
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ ব্যাংক:
- বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো বাংলাদেশ ব্যাংক।
- বাংলাদেশ ব্যাংক ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ অনুযায়ী পরিচালিত হয়।
- ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত।
- এর প্রধান কার্যালয় ব্যতীত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও দশটি শাখা রয়েছে- 
- মতিঝিল, সদরঘাট, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, বগুড়া, খুলনা, ময়মনসিংহ ও রংপুর।
- বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর ছিলেন আ ন ম হামিদুল্লাহ।  
- বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হচ্ছেন আহসান এইচ মনছুর (১৩তম)। 
- আর অর্থসচিব ড. মোঃ খায়েরুজ্জামান মজুমদার।
- গভর্নরের মেয়াদকাল চার বছর।

উৎস: বাংলাদেশ ব্যাংক ওয়েবসাইট।

১৩.
বাংলাদেশ সরকারের হজযাত্রী সহায়ক মোবাইল অ্যাপের নাম কী? 
  1. লা শারিকালাহু
  2. হজসঙ্গী
  3. লাব্বাইক
  4. হজগাইড 
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মোবাইল অ্যাপের নাম- 'লাব্বাইক'।

'লাব্বাইক':
- বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য ‘লাব্বাইক’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে।
- এটি হজযাত্রার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে সৌদি আরবে অবস্থানকালীন প্রয়োজনীয় তথ্য, দিকনির্দেশনা, যোগাযোগ, লজিস্টিক সাপোর্ট এবং জরুরি সহায়তার জন্য ডিজিটাল সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
- এই অ্যাপ হজযাত্রীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, স্থানীয় অবকাঠামো সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং জরুরি সহায়তার প্রয়োজনীয়তা মোকাবিলায় সহায়তা করে।
- ফলে হজযাত্রা নিরাপদ, সুবিন্যস্ত এবং আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ হয়।
- এই অ্যাপটির জন্য হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, গতিশীল ও কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে।
- অ্যাপটির প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো: 
• বাংলা ভাষায় হজ বিষয়ক অডিও-ভিজ্যুয়াল গাইড ও দোয়া,
• মক্কা, মদিনা ও মিনার বাসস্থান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহের ছবি ও তথ্য,
• ভার্চুয়াল মেডিকেল সাপোর্ট,
• লাগেজ ট্র্যাকিং, 
• প্রিপেইড কার্ড ও সিমের রোমিং সুবিধা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো পত্রিকা। 

১৪.
বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের কোন অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে?
  1. চিন্তা, বিবেক ও বাক্-স্বাধীনতা
  2. মামলা করার অধিকার 
  3. ধর্মীয় স্বাধীনতা 
  4. কোনোটি নয় 
ব্যাখ্যা

সংবিধান: 
- বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের চিন্তা, বিবেক ও বাক্-স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
- সংবিধানের ৩৯ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সকল নাগরিকের চিন্তা ও বিশ্বাসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে।
- এছাড়া, মত প্রকাশের অধিকার এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাও স্বীকৃত।
- তবে, এই স্বাধীনতা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা, আদালত অবমাননা, মানহানি বা অপরাধপ্ররোচনার ক্ষেত্রে আইনানুগ সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকবে।

অন্যদিকে,
সংবিধান ৪৪ -মৌলিক অধিকার বলবৎকরণ:
- সংবিধানের ৪৪ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নের জন্য নাগরিকদের হাইকোর্টে মামলা করার অধিকার রয়েছে।
- একই সঙ্গে, সংসদ আইন প্রণয়ন করে অন্যান্য আদালতকেও সীমিতভাবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করার সুযোগ দিতে পারে, তবে এটি হাইকোর্টের ক্ষমতার ক্ষতি করবে না।

সংবিধান ৪১ -ধর্মীয় স্বাধীনতা:
- বাংলাদেশের নাগরিকরা যে কোনো ধর্ম মানার, পালন করার ও প্রচার করার অধিকার রাখে।
- এছাড়া, ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ-সম্প্রদায় নিজেদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গঠন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার অধিকারও রাখে।
- কোনো ব্যক্তি যদি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়, তার নিজস্ব ধর্ম না হলে তাকে কোনো ধর্মীয় শিক্ষা বা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করা যাবে না।

উৎস: Laws Of Bangladesh. 

১৫.
সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য সংবিধানের কোন তফসিলের অপব্যবহার করা হয়েছে? 
  1. ৫ম তফসিল
  2. ৭ম তফসিল
  3. ৪র্থ তফসিল
  4. ৬ষ্ঠ তফসিল
ব্যাখ্যা

• সংবিধানের চতুর্থ তফসিল মূলত ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী সংক্রান্ত।
- সংবিধানের মূল চেতনার বিপরীতে সামরিক শাসনকে বৈধতা দেওয়ার জন্য চতুর্থ তফসিলের অপব্যবহার করা হয়েছে।

সংবিধানের তফসিল:
- সংবিধান হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতিচ্ছবি।
- ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ, সংবিধান রচনার লক্ষ্যে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে।
- ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস থেকে সংবিধান কার্যকর করা হয়।
- বাংলাদেশ সংবিধানে মোট সাতটি তফসিল রয়েছে। এগুলো হলো:
• প্রথম তফসিল: অন্যান্য বিধান সত্ত্বেও কার্যকর আইন।
• দ্বিতীয় তফসিল: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন (বর্তমানে বিলুপ্ত)।
• তৃতীয় তফসিল: শপথ ও ঘোষণা।
• চতুর্থ তফসিল: ক্রান্তিকালীন ও অস্থায়ী বিধানাবলী।
• পঞ্চম তফসিল: বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ।
• ষষ্ঠ তফসিল: বঙ্গবন্ধু প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণা।
• সপ্তম তফসিল: মুজিবনগর সরকার জারি করা স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান। 

১৬.
'জুলাই স্মৃতি উদ্যান' কোথায় অবস্থিত?
  1. চট্টগ্রাম 
  2. কুমিল্লা 
  3. ঢাকা
  4. রাজশাহী
ব্যাখ্যা

'জুলাই স্মৃতি উদ্যান':
- চট্টগ্রামের জাতিসংঘ পার্ক-কে সম্প্রতি ‘জুলাই স্মৃতি উদ্যান’ নামে নতুন নামকরণ করা হয়েছে।
- এই উদ্যানটি তৈরি করা হয়েছে শহীদদের স্মরণ ও তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য।
- এই নামকরণটি 'ফ্যাসিবাদ যাতে ফিরে না আসে এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম যাতে শহীদদের ত্যাগ স্মরণ করতে পারে', সেই উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে। 
- উদ্যানটি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকায় অবস্থিত।
- এটি ১৯৫৪ সালে পাঁচলাইশ পার্ক নামে স্থাপিত হয়।
- ২০০২ সালে এর নাম পরিবর্তন করে জাতিসংঘ পার্ক (UN Park) রাখা হয়।
- সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এর নাম পরিবর্তন করে ‘জুলাই স্মৃতি উদ্যান’ রাখা হয়।
- নতুনভাবে উদ্যানটি ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা। 

১৭.
যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্য ১৪ এপ্রিলকে বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে?
  1. ফ্লোরিডা
  2. টেক্সাস
  3. নিউইয়র্ক
  4. ক্যালিফোর্নিয়া
ব্যাখ্যা

বাংলা নববর্ষ:
- যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ১৪ এপ্রিলকে বাংলা নববর্ষ (পহেলা বৈশাখ) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
- অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অফিস আলবেনিতে বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় এই উৎসব উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
- এটি মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে, ৩২ স্টেট সিনেটের লুইস সেপুলভেদার প্রস্তাবে এবং আইনসভার ২২ জানুয়ারির অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।
- গভর্নর ক্যাথি হোকুল ২৩৪ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন।
- এই স্বীকৃতি প্রবাসী বাঙালিদের জন্য অনেক বড় একটি অর্জন।
- এছাড়া এই স্বীকৃতি নিউইয়র্কের বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিফলনও ঘটায়।
- এর মাধ্যমে ১৪ এপ্রিল শুধু উৎসবের দিন নয়, বরং বাঙালির ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতি আন্তর্জাতিকভাবে উদযাপন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
- পহেলা বৈশাখে নিউইয়র্কে মঙ্গল শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মেলা ও পরিবারিক মিলনমেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে। 

উৎস: প্রথম আলো ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা। 

১৮.
সপ্তম বাংলাদেশি হিসেবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেছেন- 
  1. নিশাত মজুমদার
  2. ইকরামুল হাসান শাকিল
  3. মুসা ইব্রাহীম
  4. এম এ মুহিত 
ব্যাখ্যা

এভারেস্ট জয়ী: 
- বাংলাদেশি পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল সপ্তম বাংলাদেশি হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন।
-  ২০২৫ সালের ১৯মে শাকিল বাংলাদেশের জন্য এই সাফল্যমণ্ডিত অর্জন বয়ে আনে।
- তিনি কক্সবাজার থেকে প্রায় ১,৩৭২ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ৮৪ দিনে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান।
- এ সময় তিনি এভারেস্টের চূড়ায় লাল-সবুজের বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান।
- এই অভিযানে তিনি পদযাত্রায় এভারেস্ট জয় করে এমন এক কীর্তি গড়েছেন যা পৃথিবীতে অন্য কারো নেই।
- শাকিল সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এভারেস্ট জয়ের বিশ্বরেকর্ড স্থাপন করেছেন।

অন্যদিকে,
- প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী নারী- নিশাত মজুমদার।
- বাংলাদেশের প্রথম এভারেস্ট বিজয়ী মুসা ইব্রাহীম।
- এভারেস্টের দুই দিক থেকে দুইবার জয় করেন এম এ মুহিত। 

উৎস: দৈনিক যুগান্তর ও প্রথম আলো পত্রিকা। 

১৯.
বাংলাদেশের কোন জেলায় রাষ্ট্রীয় বনভূমির পরিমাণ সর্বাধিক?
  1. খুলনা
  2. সিলেট
  3. রাঙ্গামাটি
  4. লালমনিরহাট
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের বনাঞ্চল:
- বনভূমি থেকে যে সম্পদ উৎপাদিত হয় বা পাওয়া যায় তাকে বনজ সম্পদ বলে।
- কোনো দেশের পারস্পরিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মোট ভূমির ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
- বর্তমানে বাংলাদেশে মোট বনভূমির পরিমাণ ২৫ লক্ষ ৭৫ হাজার হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের ১৫.৫৮%।
- বন অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১০.৭৪%।
- বাংলাদেশে মোট ৩৫টি জেলায় রাষ্ট্রীয় বনভূমি রয়েছে।
- এর মধ্যে রাঙ্গামাটিতে সবচেয়ে বেশি বনভূমি রয়েছে। 
- আর লালমনিরহাটে সবচেয়ে কম।
- অন্য জেলায় বনভূমির পরিমাণ মধ্যম বা তুলনামূলকভাবে কম বেশি।

উল্লেখ্য, 
- জলবায়ু ও মাটির গুণাগুণের তারতম্যের কারণে বাংলাদেশের বনভূমিকে তিন শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
• ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমি:
- বাংলাদেশের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের প্রায় সব অংশে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের কিছু অংশে এ বনভূমি বিস্তৃত।
- এসব গাছের পাতা একসঙ্গে  ঝরে যায়না।
- ফলে বনগুলো সারা বছর সবুজ থাকে।

• ক্রান্তীয় পাতাঝরা গাছের বনভূমি:
- বাংলাদেশের প্লাইস্টোসিনকালের সোপানসমূহে এ বনভূমি রয়েছে।
- শীতকালে এ বনভূমির বৃক্ষের পাতা ঝরে যায়। গ্রীষ্মকালে আবার নতুন পাতা গজায়।

• স্রোতজ বনভূমি বা সুন্দরবন:
- সমুদ্রের জোয়ার-ভাটা ও লোনা পানি এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের জন্য এ অঞ্চল সমৃদ্ধ।

উৎস:
১. প্রথম আলো;
২. ভূগোল ও পরিবেশ, নবম ও দশম শ্রেণি;
৩. জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২০.
বাংলাদেশের সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী (২০১৪) এর মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
  1. রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত করা
  2. বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদকে ফিরিয়ে দেওয়া
  3. প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্য করা
  4. একাদশ সংসদের ৫০টি নারী আসন সংরক্ষণ
ব্যাখ্যা

• ষোড়শ সংশোধনী:
- ষোড়শ সংশোধনী বাংলাদেশে ২০১৪ সালে পাস হওয়া সংবিধানের একটি সংশোধনী।
- এর মাধ্যমে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে পুনরায় জাতীয় সংসদের হাতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল।
- সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে এই সংশোধনী কার্যকর করা হয়।
- কিন্তু পরবর্তীতে আপিল বিভাগ এই সংশোধনীর বিরুদ্ধে রায় দিয়ে এটিকে অসাংবিধানিক ও বাতিল ঘোষণা করে।
- কারণ, এটি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি ক্ষুণ্ণ করছিল
- এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী ছিল।
- সংশোধনী বাতিল হওয়ার ফলে অপসারণের ক্ষমতা পুনরায় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের হাতে ফিরে আসে।
- এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

অন্যদিকে, 
• ১৪তম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত করা হয়। 
• ষোলতম সংশোধনীর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও বিনামূল্য করা হয়। 
• সতেরোতম সংশোধনীর মাধ্যমে একাদশ সংসদের ৫০টি নারী আসন সংরক্ষণ করা হয়। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান ও প্রথম আলো পত্রিকা। 

২১.
বাংলাদেশের কোন মূল্যমানের নোটে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের ছবি রয়েছে?
  1. সামনের দিকে ২ টাকার নোট
  2. সামনের দিকে ৫ টাকার নোট
  3. পেছনের দিকে ১০ টাকার নোট
  4. পেছনের দিকে ২ টাকার নোট
ব্যাখ্যা

নোট: 
- বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ব্যাংক নোটের ছবি প্রকাশ করেছে।
- কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্বাক্ষরিত ৫০০, ২০০, ১০০ ও ১০ টাকার নোটের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।
- এছাড়া, অর্থ সচিব ড. খায়রুজ্জামান মজুমদারের স্বাক্ষরিত ২ ও ৫ টাকার নোটের ছবি ও প্রকাশিত হয়েছে।
- ২ টাকার নোটের সামনের দিকে বামপাশে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং মাঝখানে শাপলা ফুলের ছবি মুদ্রিত রয়েছে।
- পেছনের দিকে রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের ছবি থাকবে।
- নোটে হালকা সবুজ রঙের আধিক্য থাকবে।
- ২ টাকার নোটের জলছাপ হিসেবে 'রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ', মূল্যমান '2' এবং 'গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম' থাকবে।

অন্যদিকে,
• ৫ টাকার নোট: 
- ৫ টাকার নোটের সামনের দিকে বামপাশে তারা মসজিদ ও মাঝখানে শাপলা ফুলের ছবি মুদ্রিত থাকবে।
- পেছনের দিকে জুলাই-২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি 'গ্রাফিতি-২০২৪' মুদ্রিত থাকবে।
- নোটে গোলাপী রঙের আধিক্য থাকবে।
- জলছাপ হিসেবে নোটে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’, মূল্যমান ‘5’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ থাকবে।

• ১০ টাকার নোট:
- বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর স্বাক্ষরিত ১০ টাকার নোটের সামনের দিকে বামপাশে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এবং মাঝখানে শাপলা ফুলের ছবি মুদ্রিত থাকবে।
- ১০ টাকার নোটের পেছনের দিকে জুলাই-২০২৪ গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদের আঁকা ‘গ্রাফিতি-২০২৪’ মুদ্রিত থাকবে।
- নোটে গোলাপি রঙের আধিক্য থাকবে।
- জলছাপ হিসেবে নোটে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’, মূল্যমান ‘10’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ থাকবে।

উৎস: প্রথম আলো ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা। 

২২.
জাতীয় বাজেট ২০২৫-২৬ অনুসারে, বাজেটের আকার-  
  1. সাত লক্ষ আটাশি হাজার কোটি টাকা 
  2. সাত লক্ষ পঞ্চাশ হাজার কোটি টাকা 
  3. সাত লক্ষ একানব্বই হাজার কোটি টাকা 
  4. সাত লক্ষ নিরানব্বই হাজার কোটি টাকা 
ব্যাখ্যা

সংশোধিত জাতীয় বাজেট (২০২৫-২৬):
- ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
- এই বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের আকার ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- বাজেটটি ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
- চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
- খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমায় বাজেটের শেষ নাগাদ এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে বলে সরকার আশা করছে।

- সংশোধিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমিয়ে ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা।
- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার কমানোর জন্য উন্নয়ন ব্যয় ৩০ হাজার কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে।
- সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা।
- এবং দেশীয় অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা।
- সংশোধিত বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
- এছাড়া সংশোধিত বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৩.৩ শতাংশ।
- এই ঘাটতির মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ৬৩ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। 

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও প্রথম আলো পত্রিকা। 

২৩.
সম্প্রতি বাংলাদেশ কোন দেশে নতুন হাইকমিশন স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে?
  1. সিঙ্গাপুর
  2. কানাডা
  3. অস্ট্রেলিয়া
  4. নিউজিল্যান্ড
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ হাইকমিশন:
- বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনে একটি হাইকমিশন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
- ২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
- এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
- নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ-পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি সমৃদ্ধ দেশ।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন, মানব উন্নয়ন সূচকে এই দেশের অবস্থান ১৬তম।
- এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা সূচকে ৩২তম অবস্থানে রয়েছে দেশটি।
- দেশটির উচ্চ ক্রয়ক্ষমতা বাংলাদেশি পণ্যের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় বাজার হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
- তাছাড়া, হাইকমিশন স্থাপনের মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক, কৌশলগত, বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ সম্পর্কিত স্বার্থও বৃদ্ধি পাবে।
- এই মিশনের সকল ব্যয় অর্থবছর ২০২৫-২৬-এ বাস্তবায়িত হয়েছে।

উৎস: The Financial Express ও জাতীয় তথ্য বাতায়ন। 

২৪.
জিংক সমৃদ্ধ নতুন সুগন্ধিযুক্ত ধানের জাতের নাম কী?
  1. জিএইউ ধান-১
  2. জিএইউ ধান-২
  3. জিএইউ ধান-৩
  4. জিএইউ ধান-৪
ব্যাখ্যা

ধানের জাত:
- গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় একটি নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করেছে।
- জিংকসমৃদ্ধ এই নতুন ধানের জাতের নাম রাখা হয়েছে- জিএইউ ধান-৩’। 
- এই ধান জিংকসমৃদ্ধ এবং সুগন্ধিযুক্ত।
- শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এই ধান বিশেষভাবে উপকারী।
- এতে জিংক ও আয়রনের পরিমাণ বেশি।
- সাধারণ জাতের চেয়ে এই ধানের ফলন প্রায় ১৫% বেশি (হেক্টরে ৫–৬ টন)।
- ধানটি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির সুগন্ধিযুক্ত এবং দ্রুত পরিপক্ক হয়।
- আমন মৌসুমে প্রায় ৩ মাস ও বোরো মৌসুমে ৩.৫ মাসে এই জাতের ধান পরিপক্ক হয়।
- এছাড়াও এটি রোগ ও পোকা প্রতিরোধক।
- এই জাতের ধান থেকে প্রচুর খড় উৎপন্ন হয়।
- তাই এই জাতের ধান দ্বৈত ব্যবহারের (শস্য ও জ্বালানি/খাবার) জন্য উপযুক্ত।
- ড. নাসরীন আক্তার আইভীর নেতৃত্বে গাকৃবি'র বিজ্ঞানীরা এই ধানের জাত উদ্ভাবনে সফল হন। 

উৎস: প্রথম আলো পত্রিকা। 

২৫.
সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দেশের সাংবিধানিক নাম কী হবে?
  1. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ
  2. জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ
  3. গণজনতন্ত্রী বাংলাদেশ
  4. জনতন্ত্রী বাংলাদেশ 
ব্যাখ্যা

সংবিধান সংস্কার কমিশন:
- বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করার জন্য বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল।
- কমিশন গঠনের পেছনের প্রেক্ষাপট ছিল ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
-  অতীতের সাংবিধানিক ব্যর্থতার কারণগুলো চিহ্নিত করে একটি নতুন, শক্তিশালী এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত সংবিধান প্রণয়নের জন্য রোডম্যাপ তৈরি করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
- এর পরিপ্রেক্ষিতেই ৬ অক্টোবর, ২০২৪ সালে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠিত হয়।

- কমিশনের উল্লেখযোগ্য সুপারিশের মধ্যে রয়েছে:
দেশের সাংবিধানিক নাম হবে জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ (People's Republic of Bangladesh).
• নাগরিকত্ব বাংলাদেশি হিসেবে ধার্য করা হবে।
• সংবিধানের মূলনীতি হবে চারটি – সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র।
• এছাড়া, সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট;
• যেখানে নিম্নকক্ষে ৪০০টি আসন এবং উচ্চকক্ষে ১০৫টি আসন থাকবে।
• এবং সরকারের, সংসদের এবং রাষ্ট্রপতির মেয়াদ ধার্য করা হবে ৪ বছর।
• সংসদীয় প্রার্থী হওয়ার ন্যূনতম বয়স হবে ২১ বছর। 

উল্লেখ্য, 
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান ছিলেন অধ্যাপক আলী রিয়াজ।
- কমিশনে মোট ৯ জন সদস্য ছিলেন।
- সংবিধান সংস্কার কমিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল:
- জনপ্রতিনিধিত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।