পরীক্ষা আর্কাইভ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

পরীক্ষা৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archivedতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়20 minutes
মোট প্রশ্ন১৯
সিলেবাস
পরীক্ষা - ২: পার্ট-১) বাংলা ব্যাকরণ: টপিকসমূহ ১. বাংলা ভাষা (ভাষা ও বাংলা ভাষা রীতি; বাংলা ব্যাকরণ ও এর আলোচ্য বিষয়) ২. ধ্বনিতত্ত্ব (ধ্বনি ও বর্ণ-প্রকরণ; ধ্বনির উচ্চারণ বিধি; ধ্বনি পরিবর্তন, ণ-ত্ব ও ষ-ত্ব বিধান; সন্ধি) পার্ট-২) জাতিসংঘ - History, মূল সংস্থা, জড়িত ব্যক্তি, জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ, জাতিসংঘ ও নোবেল, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম (গুরুত্বপূর্ণ), জাতিসংঘ মিশন সমূহ, World Bank, IMF, WTO, UNCTAD. পার্ট–১ সোর্স: উৎস: অষ্টম শ্রেণি ও মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ বোর্ড বই (NCTB ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), বাংলা একাডেমির অভিধান অথবা যেকোনো স্কলার (যেমন: ড. হায়াৎ মামুদ)-এর বই। (ব্যাকরণ - এর ক্ষেত্রে গাইড থেকে পড়াশুনা করলে, বিতর্কিত বিষয়গুলো বোর্ড বই ও বাংলা একাডেমি অভিধান থেকে ক্রসচেক করে নিলে উত্তম হবে।) পার্ট–২ সোর্স: যেকোনো গাইড বই। তবে, সংস্থাগুলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটগুলো সম্ভব হলে একটু দেখে নিবেন। গাইডে অনেক সময় ভুল থাকে ও আপডেটেড তথ্য দেওয়া থাকে না।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived

৪৫ দিনে ৫০তম বিসিএস প্রস্তুতি [বিষয়ভিত্তিক] - Archived · তারিখ অনির্ধারিত · ১৯ প্রশ্ন

.
প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় -
  1. ১৭৪৩ সালে ইংরেজি ভাষায়
  2. ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়
  3. ১৭৭৮ সালে ইংরেজি ভাষায়
  4. ১৭৭৮ সালে পর্তুগিজ ভাষায়
ব্যাখ্যা
ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ:
- ব্যাকরণে ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
- ব্যাকরণের কাজ ধ্বনি, শব্দ, বাক্য ইত্যাদি বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভাষার মধ্যকার সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করা। 
- যে বিদ্যাশাখায় বাংলা ভাষার স্বরূপ ও প্রকৃতি বর্ণনা করা হয় তাকে বাংলা ব্যাকরণ বলে। 

• প্রথম বাংলা ব্যাকরণ প্রকাশিত হয় ১৭৪৩ সালে পর্তুগিজ ভাষায়
- এর লেখক ছিলেন মানোএল দা আসসুম্পসাঁউ।
- তাঁর বাংলা-পর্তুগিজ অভিধানের ভূমিকা অংশ হিসেবে তিনি এটি রচনা করেন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'ঢ়' কোন ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ?
  1. উষ্ম ব্যঞ্জন
  2. কম্পিত ব্যঞ্জন
  3. তাড়িত ব্যঞ্জন
  4. পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• 'ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জন ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

ব্যঞ্জনধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখের বাইরে বের হওয়ার আগে বাক্প্র‌ত্যঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় বাধা পায়, সেগুলোকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।

• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট, জিভ, জিভমূল ইত্যাদি বাক্প্র‌ত্যঙ্গের আকৃতিগত পরিবর্তন হয়। এতে বায়ুপথে সৃষ্ট বাধার ধরন আলাদা হয়ে উচ্চারণের প্রকৃতি বদলে যায়।
- উচ্চারণের এই প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন, নাসিক্য ব্যঞ্জন, উষ্ম ব্যঞ্জন, পার্শ্বিক ব্যঞ্জন, কম্পিত ব্যঞ্জন, তাড়িত ব্যঞ্জন ইত্যাদি।

তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূর্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
- বাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ড়, ঢ় তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
কোন বর্ণের নিজস্ব কোনো ধ্বনি নেই?
ব্যাখ্যা
ঞ:
- '' বর্ণের নিজস্ব কোনো ধ্বনি নেই
- স্বতন্ত্র ব্যবহারে [অঁ]-এর মতো আর সংযুক্ত ব্যঞ্জনে [ন্‌]-এর মতো উচ্চারিত হয়: মিঞা [মিয়াঁ], চঞ্চল [চন্চ‌ল্], গঞ্জ [গন্‌জো]।

অন্যদিকে,
ণ:
ণ বর্ণের উচ্চারণ [ন্‌]: কণা [কনা], বাণী [বানি], হরিণ [হোরিন্]।

ম:
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।
- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে গঠিত হয়েছে কোনটি?
  1. কঙ্কণ
  2. কৃপণ
  3. নিক্কণ
  4. বাণ
ব্যাখ্যা
• ণ-ত্ব বিধানের নিয়মানুসারে গঠিত হয়েছে - কৃপণ

ণ-ত্ব বিধানের নিয়ম:
- ঋ, র, ষ-এর পরে স্বরধ্বনি, য, য়, ব, হ, ং এবং ক-বর্গীয় ও প-বর্গীয় ধ্বনি থাকলে তার পরবর্তী ন মূর্ধন্য 'ণ' হয়।
যেমন - কৃপণ (ঋ-কারের পরে প্, তার পরে ণ), হরিণ (র-এর পরে ই, তার পরে ণ, অর্পণ (র্ + প + অ+ণ্‌), লক্ষণ (ক্+ ষ্‌ + অ + ণ্‌)।
এরূপ - রুক্মিণী, ব্রাহ্মণ ইত্যাদি।

স্বভাবতই 'ণ' হয় এমন কিছু শব্দ:
- চাণক্য, মাণিক্য, গণ, কণিকা, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কল্যাণ, বণিক, কঙ্কণ, শোণিত, মণি, স্থাণু , গুণ, পুণ্য, বেণী, ফণী, অণু , বিপণি, গণিকা, আপণ, লাবণ্য, বাণী, নিপুণ, ভণিতা, পাণি, গৌণ, কোণ, ভাণ, পণ, শাণ, চিক্কণ, নিক্কণ, তূণ, কফণি (কনুই), গুণ, গণনা, পিণাক, পণ্য, বাণ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'লক্ষ্মণ' শব্দের 'ক্ষ্ম' বর্ণটি বিশ্লেষণ করলে কোনটি পাওয়া যায়?
  1. ক্ + হ্‌ + ম
  2. ক্ + ষ্ + ম
  3. ক্ + ষ্ + ণ
  4. ক্ + ষ্ + ন
ব্যাখ্যা
• 'লক্ষ্মণ' শব্দের 'ক্ষ্ম' বর্ণটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় - ক্ + ষ্ + ম

ক্ষ্ম - সহযােগে গঠিত কয়েকটি শব্দ হলো:
- লক্ষ্মী,
- লক্ষ্মণ ইত্যাদি।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত = ত্ত,
- ভ্‌ + র = ভ্র,
- হ্‌ + ণ = হ্ণ,
- ষ্‌ + ণ = ষ্ণ,
- ত্‌ + থ = ত্থ,
- ঙ্‌ + গ = ঙ্গ,
- ঙ্‌ + ক = ঙ্ক,
- ক্‌ + ষ = ক্ষ,
- হ্‌ + ম = হ্ম,
- ঙ্‌ + ক্‌ + ষ = ঙ্ক্ষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
.
সংবৃত পশ্চাৎ স্বরধ্বনি কোনটি?
ব্যাখ্যা
• সংবৃত পশ্চাৎ স্বরধ্বনি -

স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - [ই], [এ], [অ্যা]।
২. মধ্য স্বরধ্বনি - [আ]।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি - [অ], [ও], [উ]
- সম্মুখ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়; পশ্চাৎ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সংবৃত - [ই], [উ]
২. অর্ধ-সংবৃত - [এ], [ও]।
৩. অর্ধ-বিবৃত - [অ্যা], [অ]।
৪. বিবৃত - [আ]।
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'সুষুপ্ত' শব্দে 'ষ' হয়েছে যে নিয়মে -
  1. স্বভাবত 'ষ' বসে
  2. 'স' এর পরে বসেছে বলে
  3. 'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে
  4. 'প্ত' মূলরূপ থেকে উৎসারিত হওয়ায় 
ব্যাখ্যা
• 'সুষুপ্ত' শব্দে 'ষ' হয়েছে - 'উ' কারান্ত উপসর্গ পূর্বে আছে বলে

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ' হয়।
যেমন - অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, প্রতিসেধক > প্রতিষেধক, প্রতিস্থান > প্রতিষ্ঠান, অনুস্থান > অনুষ্ঠান, বিসম> বিষম, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
কোনটি বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. সংস্কার
  2. সংসার
  3. সংহার
  4. স্বয়ংবরা
ব্যাখ্যা
• বিশেষ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি - সংস্কার

ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি:
- উৎ + স্থান = উত্থান,
- সম্‌ + কার = সংস্কার,
- উৎ + স্থাপন = উত্থাপন,
- সম্‌ + কৃত = সংস্কৃত,
- পরি + কার = পরিষ্কার।

অন্যদিকে,
• সাধারণ নিয়মে সাধিত ব্যঞ্জনসন্ধি - সংসার (সম্‌ + সার), সংহার (সম্‌ + হার), স্বয়ংবরা (স্বয়ম্‌ + বরা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
'গ্রাহ্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. গ্রাজ্‌জো
  2. গ্রাজ্‌ঝো
  3. গ্রাঝ্‌ঝো
  4. গ্রাজ্‌হো
ব্যাখ্যা
• বানান: গ্রাহ্য।
- সঠিক উচ্চারণ: গ্রাজ্‌ঝো
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √গ্রহ্‌ + য।
- অর্থ: গ্রহণযোগ্য; জ্ঞেয়, বোধগম্য (ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য)।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০.
'একোন' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি?
  1. এক + অন
  2. এক + উন
  3. এক + ঊনা
  4. একো + ন
ব্যাখ্যা
• 'একোন' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ - এক + উন

স্বরসন্ধি:
স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনকে স্বরসন্ধি বলে।

• অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনে যুক্ত হয়।
যেমন -
→ অ + উ = ও; সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়।
→ আ + উ = ও; যথা + উচিত = যথোচিত; এক + উন= একোন।
→ অ + ঊ = ও; গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব, 
→ আ + ঊ = ও; গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি।
এরূপ - নীলোৎপল, চলোর্মি, মহোৎসব, নবোঢ়া, ফলোদয়, যথোপযুক্ত, হিতোপদেশ, পরোপকার, প্রশ্নোত্তর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১১.
অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয়?
  1. বাগ্‌ধারা
  2. বাচ্য
  3. বিপরীত শব্দ
  4. শব্দজোড়
ব্যাখ্যা
• অর্থতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় নয় - বাচ্য
- এটি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

• ব্যাকরণের আলোচ্য বিষয় অন্তত চারটি ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. ধ্বনিতত্ত্ব,
২. রূপতত্ত্ব,
৩. বাক্যতত্ত্ব ও
৪. অর্থতত্ত্ব।

অর্থতত্ত্ব:
- ব্যাকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয়, সেই অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। একে বাগর্থতত্ত্বও বলা হয়।
- বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগ্‌ধারা প্রভৃতি বিষয় অর্থতত্ত্বের অন্তর্ভুক্ত।
- এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এই অংশে আলোচনা থাকে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১২.
কোনগুলো অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. চ, ট, প, ঠ
  2. ত, ঙ, ম, হ
  3. থ, ড, ভ, ব
  4. ন, র, ল, স
ব্যাখ্যা
• অঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি - চ, ট, প, ঠ
 
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: , , , দ, ধ, , , , , ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ,

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: , ফ, ত, থ, স, , , , ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৩.
'পাভেল ও হুমায়ারা নতুন পোশাক পড়ে ষ্টুডিওতে ছবি তুলতে গেল।' - বাক্যটির নিম্নরেখ শব্দগুলোতে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার -
  1. প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
  2. প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
  3. দুটোই শুদ্ধ
  4. দুটোই অশুদ্ধ
ব্যাখ্যা
• 'পাভেল ও হুমায়ারা নতুন পোশাক পড়ে ষ্টুডিওতে ছবি তুলতে গেল।' - বাক্যটির নিম্নরেখ শব্দগুলোতে মূর্ধন্য 'ষ' এর ব্যবহার - প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ

ষ-ত্ব বিধান:
- বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই।
- তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না।
- কেবল কিছু তৎসম শব্দে ষ-এর প্রয়োগ রয়েছে।
- যেসব তৎসম শব্দে 'ষ' রয়েছে তা বাংলায় অবিকৃত আছে।
- তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য 'ষ'-এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।

• আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে 'ষ' হয় না। 
যেমন - জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট, স্টেশন, স্টুডিও ইত্যাদি।
  
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
'বিপচ্ছায়া' কোন নিয়মে ব্যঞ্জনসন্ধি?
  1. স্বর + স্বর
  2. স্বর + ব্যঞ্জন
  3. ব্যঞ্জন + স্বর
  4. ব্যঞ্জন + ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনসন্ধি:
স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ও ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে।
- এদিক থেকে ব্যঞ্জন সন্ধিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা -
১. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি,
২. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি,
৩. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি।

ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
ত্ ও দ্-এর পর চ্ ও ছ্‌ থাকলে ত্ ও দ্‌ স্থানে চ্ হয়।
যেমন -
- ত্ + চ = চ্চ; সৎ + চিন্তা = সচ্চিন্তা।
- ত্‌ + ছ = চ্ছ; উৎ + ছেদ = উচ্ছেদ।
- দ্‌ + চ = চ্চ; বিপদ + চয় = বিপচ্চয়।
- দ্‌ + ছ = চ্ছ; বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া
এরূপ – উচ্চারণ, শরচ্চন্দ্র, সচ্চরিত্র, তচ্ছবি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
নিচের কোনটি জাতিসংঘের প্রশাসনিক কাজ করে?
  1. আর্ন্তজাতিক আদালত
  2. নিরাপত্তা পরিষদ
  3. জাতিসংঘ সচিবালয়
  4. সাধারণ পরিষদ
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ:
- ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ গঠিত হয়।
- এর আগে ২৬ জুন ১৯৪৫ যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো শহরে জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়।
- জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ৫১টি।
- বর্তমান সদস্য ১৯৩টি।
- সচিবালয় বা সেক্রেটারিয়েট জাতিসংঘের প্রধান প্রশাসনিক বিভাগ।
- মহাসচিব জাতিসংঘের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা।
- মহাসচিবের অধীনে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচিত কর্মচারীদের নিয়ে সচিবালয় পরিচালিত হয়ে থাকে।
- জাতিসঘের সদর দপ্তর অবস্থিত নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
- নিউ ইয়র্কে সদরদপ্তরের বাইরে জাতিসংঘের আঞ্চলিক অফিস রয়েছে — জেনেভা, নাইরোবি ও ভিয়েনাতে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১৬.
কোন সংস্থা 'বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন' প্রকাশ করে?
  1. UNTSO
  2. World Bank
  3. UNDP
  4. WTO
ব্যাখ্যা
World Bank:
- বিশ্বব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত হয় ১৯৪৪ সালের ৪ জুলাই।
- যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার শহরে ২৯টি দেশ ব্রেটন উডস চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
- আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৪৫ সালে।
- কার্যক্রম শুরু করে জুন, ১৯৪৬ সালে।
- বর্তমান সদস্য ১৮৯টি দেশ।
- সদরদপ্তর: ওয়াশিংটন ডি. সি, যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বব্যাংক এর উদ্দেশ্য মধ্য আয়ের দেশ গুলোকে ঋণ প্রদান ও উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করে।
- বিশ্বব্যাংকের প্রথম ঋণ গ্রহীতা দেশ ফ্রান্স।
- বিশ্বব্যাংক 'World Development Report' (বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন) প্রকাশ করে।
- বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বিশ্বের প্রতিটি দেশের একটি তুলনামূলক প্রতিবেদনসহ বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 
- এটি ১৯৭৮ সাল থেকে বার্ষিক প্রকাশিত হয়।

উৎস: World Bank ওয়েবসাইট।
১৭.
জাতিসংঘের কোন সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচটি দেশের ভেটো প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়?
  1. সানফ্রান্সিসকো সম্মেলন
  2. মস্কো সম্মেলন
  3. তেহরান সম্মেলন
  4. ইয়াল্টা সম্মেলন
ব্যাখ্যা
- ১৯৪৫ সালের ৪ থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার অধীন ক্রিমিয়া উপদ্বীপের ইয়াল্টা শহরে জাতিসংঘ গঠন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইয়াল্টা কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
- এই সম্মেলনে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট, সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট জোসেফ স্ট্যালিন এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিল অংশগ্রহণ করেন।
-এই সম্মেলনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের ভেটো ক্ষমতা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।
১৮.
Bretton Woods Conference অনুষ্ঠিত হয় -
  1. যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে
  2. যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারে
  3. যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে
  4. যুক্তরাষ্ট্রের পেনসেলভেনিয়ায়
ব্যাখ্যা
ব্রেটন উডস কনফারেন্স:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ১৯৪৪ সালে জার্মানি ও জাপানের প্রত্যাশিত পরাজয়ের পর যুদ্ধোত্তর সময়ে যুদ্ধবিদ্ধস্ত দেশ সমূহের পুনর্গঠন ও আর্থিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বানিজ্যের রূপরেখা নির্ধারণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের ৪৪টি দেশের নেতারা এক সম্মেলনে অংশ নেন।
- এই সম্মেলনকে ব্রেটন উডস কনফারেন্স (Bretton Woods Conference) বলা হয়।
- সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ার শহরে ১৯৪৪ সালের ১-২২ জুলাই।
- এই সম্মেলনের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন - যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তা Harry Dexter White এবং ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ John Maynard Keynes. 
- তাদের দুই জনকে বিশ্বব্যাংক ও IMF এর Founding Fathers বলা হয় ৷
- এই সম্মেলনের ফলে বিশ্বব্যাংক, IMF ও পরে GATT গঠিত হয়।

উৎস: World Bank Group ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইট।
১৯.
বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম জাতিসংঘে যোগদান করে কত সালে? 
  1. ১৯৭৫ সালে
  2. ১৯৭৪ সালে
  3. ১৯৭৩ সালে
  4. ১৯৭২ সালে
ব্যাখ্যা
জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ:
- ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ গঠিত হয়।
- জাতিসংঘের বর্তমান সদস্য ১৯৩টি।
- বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৮ আগস্ট জাতিসংঘের সদস্যপদের জন্য আবেদন করে।
- ১০ আগস্ট, ১৯৭২ সালে চীন বাংলাদেশের সদস্যপদের বিরুদ্ধে ভেটো প্রদান করে।
- স্থায়ী সদস্য হওয়ার পর এটি ছিল চীনের প্রথম ভেটো।
- ১৯৭২ সালের ১৭ অক্টোবর জাতিসংঘে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা লাভ করে।
- বাংলাদেশের জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে।

উৎস: জাতিসংঘ ওয়েবসাইট।