উত্তরঃ সব ( all)
- মানব সম্পদ উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য দিকসমূহ -
- মানব সম্পদ উন্নয়নে পরিকল্পনা গ্রহণ করা: এ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হতে হবে সঠিক ব্যক্তিকে সঠিক স্থানে
সঠিক কাজে নিয়োজিত করা।
- সাংগঠনিক উন্নয়ন করা: প্রতিষ্ঠানকে সমস্যামুক্ত করা এবং কাজ করার উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, যা সার্বিক
উন্নয়ন ঘটিয়ে মানব সম্পদকে অধিক কার্যকরী করে তোলা।
- পরিতোষিক সুবিধাদি প্রদান: মানুষ পরিশ্রম করে অভাব পূরণের জন্য আর এ জন্য প্রয়োজন অর্থের। কাজের
বিনিময়ে তারা অভাব পূরণের উপযোগী পারিতোষিক ও সুবিধা প্রত্যাশা করে।
- জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন: জনগণের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধিকরণে মানব সম্পদের উপর বিনিয়োগ বৃদ্ধি
প্রয়োজন। তাহলেই জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
- দক্ষ শ্রমিক ও কারিগর তৈরি: উপযুক্তি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে একদল দক্ষ শ্রমিক ও
কারিগর গড়ে তোলা সম্ভব যারা অর্থনীতির যে কোন খাতে বেশি অবদান রাখতে পারে।
- অবকাঠামোগত উন্নয়ন: বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশ বর্তমানে উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে জড়িত বহু
ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে এবং হাতে নিচ্ছে। এসব কাজের সঠিক বাস্তবায়নে প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান,
কেমিস্ট, ডাক্তার, সুপারভাইজার, পরিদর্শক, প্রশাসনিক ব্যক্তি, পরিসংখ্যানবিদ, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার,
অপারেটর, মাঠকর্মী, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সচিব ইত্যাদি বিভিন্ন পেশার দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল আবশ্যক।
-পরিবেশ উন্নয়ন: পরিবেশগত উন্নয়ন মানব সম্পদ উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, পরিবেশ রক্ষা,
সংরক্ষণ, পাহাড় কেটে ফেলা, অপরিকল্পিত নগরায়ন, বনভূমি উজাড়, বৃক্ষ নিধন ইত্যাদি নৈমিত্তিক ব্যাপার
বিভিন্নভাবে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। অতএব ক্ষেত্র বিশেষে শিক্ষার মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করে
পরিবেশের উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব।
- সর্বস্তরে নিরক্ষরতা দূরীকরণ: বাংলাদেশে বয়স্ক পুরুষের চেয়ে বয়স্ক নারীদের নিরক্ষরতার হার বেশি। নারী
শিক্ষার হার বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
- প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগ: আধুনিক প্রযুক্তিজ্ঞান, দক্ষতা ও প্রয়োগের উপযোগী করে মানব সম্পদ উন্নয়ন
সম্ভব। এতে দেশকে দ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা সহজ হবে। সর্বস্তরে কম্পিউটার শিক্ষার
ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
- দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিজ্ঞান বাংলাদেশের মানুষকে অদৃষ্টবাদী দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তে
বাস্তববাদী ও উন্নয়নমুখী করে তুলতে সাহায্য করে। মানব সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে সামাজিক, রাজনৈতিক ও
ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে যা অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। পুরুষের পাশাপাশি নারী
শিক্ষার প্রসারে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে।
- উৎপাদন বৃদ্ধি: প্রাকৃতিক সম্পদ ও মূলধনের পাশাপাশি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন মানব সম্পদ। কারণ
কেবলমাত্র দক্ষ মানব সম্পদই পারে প্রাকৃতিক সম্পদ ও মূলধনের সঠিক ব্যবহার করে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে।
ফলে প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর ঘাটতি দূর হবে, দেশ হবে স্বাবলম্বী।
- কর্মসংস্থান বৃদ্ধি: উন্নয়নের সর্বক্ষেত্রে দক্ষ শ্রমিক সৃষ্টি করতে পারলে মানব সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বেকারত্ব
দূর হবে। অন্যদিকে দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টি করে যদি কর্মসংস্থানের যথাযথ সুযোগ সৃষ্টি করা না যায় তাহলে
উন্নয়নের গতিধারা ব্যহত হবে। বেকারত্বের ফলে জনমনে চরম হতাশা, অন্যায়, অপরাধ প্রবণতা, সন্ত্রাস,
চুরি, ডাকাতি ইত্যাদির বৃদ্ধি জাতীয় উন্নয়নে ব্যাঘাত ঘটাবে। ফলশ্রুতিতে দক্ষ মানব সম্পদ দেশের জন্য
একটি বিরাট সমস্যার সৃষ্টি করবে।
- আয়-বৈষম্য দূরীকরণ: বাংলাদেশে বর্তমানে প্রকট আয় বৈষম্য বিরাজমান। দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের
মাধ্যমে এবং সরকার কর্ত ৃক যথাযথ নীতিমালা প্রণয়ন করে সমাজে আয় বৈষম্য কমাতে হবে।
- দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন: মানব সম্পদ উন্নয়নে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সরকারি বেসরকারি সকল
ক্ষেত্রেই দুর্নীতির কারণে প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা কতিপয় ব্যক্তি হাতে চলে যায়। এজন্য দুর্নীতিমুক্ত সুশাসন
প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক।
- কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা: বাংলাদেশের সকল স্তরে শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কারিগরি ও প্রকৌশলগত
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করে দক্ষ মানব সম্পদে পরিণত করা যায়।
- মুদ্রাস্ফীতি রোধ: দেশে মুদ্রাস্ফীতি রোধ করা গেলে দ্রব্যমূল্য কমে আসবে, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
ফলে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি তথা গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে।
- বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা গ্রহণ: বাস্তবধর্মী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সম্পদের পূর্ণ
ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করতে হবে।
(এম এড, স্কুল অব এডুকেশন, বাংলাদেশ ওপেন ইউনিভার্সিটি)