পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

পরীক্ষাবার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়50 minutes
মোট প্রশ্ন৯৯
সিলেবাস
Exam - 29 Full Model Test-6 Topic ➝ Full Syllabus
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬

বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ⎯ ২০২৬ · তারিখ অনির্ধারিত · ৯৯ প্রশ্ন

.
দেওয়ানি আদালত কখন মোকদ্দমায় কোনো পক্ষকে বাদ দিতে বা সংযুক্ত করতে আদেশ দিতে পারে?
  1. রায়ের আগে
  2. মামলার যেকোনো পর্যায়ে 
  3. বিচার্য বিষয় চূড়ান্ত হবার আগে
  4. মামলার প্রথম শুনানির আগে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : মামলার যেকোনো পর্যায়ে।

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ ১ এর  বিধি ১০ (২)- আদালত পক্ষসমূহকে বাদ দিতে বা যোগ করতে পারেন:
মামলার যে কোন পর্যায়ে আদালত যে কোন পক্ষের আবেদনক্রমে বা বিনা আবেদনে এবং সেই সকল শর্তে যা আদালতের কাছে সঙ্গতঃ বলে প্রতীয়মান হয়, অন্যায় ভাবে যুক্ত কোন পক্ষের নাম, বাদী বা বিবাদী যে হিসেবেই হউক, কর্তন করতে এবং অন্য যে ব্যক্তির নাম বাদী বা বিবাদী যে হিসেবেই হউক যুক্ত করা উচিত, অথবা মামলায় বিজড়িত প্রশ্নসমূহের কার্যর ও সম্পূর্ণভাবে বিচার ও নিস্পত্তি করার জন্য আদালতের সামনে যার উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে, তাকে যুক্ত করতে আদেশ দিতে পারেন।

.
একই বিষয়বস্তু সম্পর্কে বহু সংখ্যক প্রতিকার দাবী করার অধিকারী হলে, বাদী কী করতে পারবে?
  1. শুধু একটি প্রতিকার দাবী করতে পারবে
  2. সমস্ত বা তন্মধ্যে যে কোন প্রতিকার দাবী করতে পারবে 
  3. সর্বোচ্চ দুইটি প্রতিকার দাবী করতে পারবে
  4. কোনো প্রতিকার দাবী করতে পারবে না
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২ এর বিধি ২ অনুসারে,
মোকদ্দমার বিষয়বস্তু সম্বন্ধে বাদী যে পরিমাণ দাবী করার অধিকার রাখে, তা সম্পূর্ণ দাবী করতে হবে। কোন ক্ষেত্রে বাদী মোকদ্দমার একই বিষয়বস্তু সম্পর্কে বহু সংখ্যক প্রতিকার দাবী করার অধিকারী হলে সে সমস্ত বা তন্মধ্যে যে কোন প্রতিকার দাবী করে মোকদ্দমা দাখিল করতে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত ধরণের প্রতিকারগুলোর মধ্যে কোন দাবী না করে থাকলে, পরে সেরূপ কোন প্রতিকার দাবী করা চলবে না।

• আদেশ ২ বিধি ২- 
১) সমগ্র দাবী মোকদ্দমার অন্তর্ভুক্ত করতে হবেঃ 
যেকোন মোকদ্দমার সারবস্তু সম্বন্ধে বাদি যে পরিমাণ দাবী করার অধিকার রাখে, তা সম্পূর্ণ দাবী করতে হবে। অবশ্য মোকদ্দমাটি কোন আদালতের এখতিয়ারভুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে তার দাবী আংশিকভাবে বর্জন করার যদি দরকার হয় তাহলে তা করতে পারবে।

২) দাবীর অংশ পরিত্যাগঃ
 বাদী যদি তার দাবীর কোন অংশ উল্লেখ না করে মোকদ্দমা করে অথবা ইচ্ছাকৃতভাবে দাবী আংশিক বর্জন করে, তবে পরে ঐ দাবী বা দাবীর সে অংশের জন্য মোকদ্দমা করা চলবে না।

৩) একাধিক প্রতিকারের মধ্যে কোন একটির জন্য মোকদ্দমা করতে বর্জনঃ
কোন ক্ষেত্রে বাদী মোকদ্দমার একই বিষয়বস্তু সম্পর্কে বহু সংখ্যক প্রতিকার দাবী করার অধিকারী হলে সে সমস্ত বা তন্মধ্যে যে কোন প্রতিকার দাবী করে মোকদ্দমা দাখিল করতে পারে। অবশ্য এক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি ছাড়া উক্ত ধরণের প্রতিকারগুলোর মধ্যে কোন দাবী না করে থাকলে পরে সেরূপ কোন প্রতিকার দাবী করা চলবে না।

ব্যাখা- উক্ত বিধির উদ্দেশ্যে কোন বাধ্যবাধকতা এবং তা সম্পাদন করার নিমিত্তে প্রদত্ত আনুষঙ্গিক জামানত এবং উক্ত বাধ্যবাধকতা হতে উদ্ভূত আনুক্রমিক দাবীসমূহ ক্রমান্বয়ে একটি মোকদ্দমার কারণই সৃষ্টি করবে।

.
দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ১০৯ অনুসারে, হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কীসের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা যায়?
  1. শুধু রায়ের বিরুদ্ধে
  2. শুধু ডিক্রির বিরুদ্ধে
  3. শুধু অন্তর্বর্তীকালীন আদেশের বিরুদ্ধে
  4. রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানী কার্যবিধির ১০৯ ধারার বিধান: সুপ্রিম কোর্টে যখন আপিল করা চলবে:
দেশের আদালতসমূহের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট সময়ে সময়ে যে সমস্ত বিধি প্রণয়ন করবেন, তৎসাপেক্ষে এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে আপিল বিভাগের নিকট নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে আপিল করা চলবে-
ক) হাইকোর্ট বিভাগ বা চূড়ান্ত আপিল এখতিয়ারসম্পন্ন অন্য কোন আদালত কর্তৃক আপিলে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি অথবা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে;
খ) হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক এর মূল দেওয়ানি এখতিয়ার প্রয়োগকালে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে; এবং
গ) অতঃপর বর্ণিত বিধানানুসারে কোন মোকদ্দমা আপিল বিভাগের নিকট আপিলের যোগ্য বলে সুপারিশ করা হলে তদ্রূপ মোকদ্দমায় প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে।

.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১৬ বিধি ১৪ অনুসারে, মোকদ্দমার বহিরাগত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে কে তলব করতে পারে?
  1. শুধু বাদী
  2. শুধু বিবাদী
  3. আদালত নিজ উদ্যোগে
  4. মোকদ্দমার যে কোনো পক্ষ
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৬ বিধি ১৪: আদালত নিজ উদ্যোগে মোকদ্দমার বহিরাগত ব্যক্তিকে সাক্ষী হিসেবে তলব করতে পারে:
উপস্থিতি ও হাজিরা সম্পর্কে এই কার্যবিধির বিধানাবলী এবং বলবৎ যে কোন আইন সাপেক্ষে, আদালত যদি যে কোন সময় মোকদ্দমার পক্ষ নয় এবং মোকদ্দমার কোন পক্ষ কর্তৃক সাক্ষী হিসেবে তলব করা হয়নি এমন কোন ব্যক্তিকে পরীক্ষা করা প্রয়োজন মনে করে, তাহলে আদালত নিজ উদ্যোগে উক্ত ব্যক্তিকে নির্ধারিত দিনে সাক্ষ্য প্রদান বা তার দখলে থাকা কোন দলিল উপস্থাপনের জন্য সাক্ষী হিসেবে তলব করতে পারে এবং তাকে সাক্ষী হিসেবে পরীক্ষা করতে বা উক্ত দলিল উপস্থাপন করতে বলতে পারে।

.
বাদীর মোকদ্দমাটি ব্যর্থ হলে এবং মোকদ্দমাটির যুক্তিসঙ্গত কারণ না থাকলে, বিবাদী দেওয়ানি কার্যবিধির কোন ধারামতে ক্ষতিপূরণের দাবি করে আদালতে আবেদন করতে পারে?
  1. ৯২ ধারা
  2. ৯৩ ধারা
  3. ৯৪ ধারা
  4. ৯৫ ধারা
ব্যাখ্যা

ধারা ৯৫: অপর্যাপ্ত কারণে গ্রেফতার, ক্রোক বা নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্তির জন্য ক্ষতিপূরণ:
(১): যে কোনো মোকদ্দমায় যেখানে পূর্ববর্তী ধারার অধীনে গ্রেফতার বা ক্রোক কার্যকর করা হয়েছে বা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মঞ্জুর করা হয়েছে,-
(ক) আদালতের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে এরূপ গ্রেফতার, ক্রোক বা নিষেধাজ্ঞা অপর্যাপ্ত কারণে আবেদন করা হয়েছিল, অথবা
(খ) বাদীর মোকদ্দমা ব্যর্থ হয় এবং আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে মোকদ্দমা দায়ের করার কোনো যুক্তিসংগত বা সম্ভাব্য কারণ ছিল না,
তাহলে বিবাদী আদালতের নিকট আবেদন করতে পারে, এবং আদালত উক্ত আবেদনের ভিত্তিতে তার আদেশ দ্বারা বাদীর বিরুদ্ধে এমন পরিমাণ অর্থ, যা দশ হাজার টাকার অধিক হবে না, বিবাদীর ব্যয় বা ক্ষতির জন্য যুক্তিসংগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে মঞ্জুর করতে পারে:
শর্ত থাকে যে, এই ধারার অধীনে আদালত তার আর্থিক এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করে এমন কোনো পরিমাণ মঞ্জুর করবে না।

(২): এরূপ কোনো আবেদন নিষ্পত্তিকারী আদেশ উক্ত গ্রেফতার, সংযুক্তি বা নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত ক্ষতিপূরণের জন্য কোনো মোকদ্দমা বারিত করবে।

.
কালেক্টরকে রিসিভার নিয়োগের জন্য কার সম্মতি প্রয়োজন?
  1. বাদীর
  2. মোকদ্দমার উভয় পক্ষের
  3. সরকারের
  4. কালেক্টরের নিজস্ব
ব্যাখ্যা

Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ৪০ বিধি ৫: কখন কালেক্টরকে রিসিভার নিয়োগ করা যায়:
যেখানে সম্পত্তি এমন ভূমি যা সরকারকে রাজস্ব প্রদান করে, বা এমন ভূমি যার রাজস্ব হস্তান্তরিত বা খালাসকৃত হয়েছে, এবং আদালত বিবেচনা করে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের স্বার্থ কালেক্টরের ব্যবস্থাপনায় উন্নীত হবে, তাহলে আদালত কালেক্টরের সম্মতিতে তাকে উক্ত সম্পত্তির রিসিভার নিয়োগ করতে পারে।

.
দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২৬ বিধি-২ অনুযায়ী, কোন উদ্দেশ্যে কমিশন প্রেরণ করা হয়?
  1. সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য
  2. সাক্ষীকে পরীক্ষার জন্য
  3. রায় ঘোষণার জন্য
  4. সম্পত্তি বাটোয়ারার জন্য
ব্যাখ্যা

দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ-২৬ বিধি-২: কমিশনের জন্য আদেশ: 
সাক্ষী পরীক্ষার জন্য কমিশন জারির আদেশ আদালত কর্তৃক হয় নিজ উদ্যোগে অথবা মোকদ্দমার কোনো পক্ষের বা যে সাক্ষীকে পরীক্ষা করা হবে তার শপথপত্র সমর্থিত বা অন্যভাবে আবেদনক্রমে প্রদান করা যেতে পারে।

Order-26 Rule-2. Order for commission:
An order for the issue of a commission for the examination of a witness may be made by the Court either of its own motion or on the application, supported by affidavit or otherwise, of any party to the suit or of the witness to be examined.

.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর আদেশ ১৪ বিধি ৩ অনুসারে, আদালত কয়টি উৎস থেকে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে পারে?
  1. একটি
  2. দুইটি
  3. তিনটি
  4. চারটি
ব্যাখ্যা

আদেশ ১৪ বিধি ৩ মতে- বিচার্য বিষয় প্রণয়নের তিনটি উৎস:
- শপথভিত্তিক মৌখিক অভিযোগ;
- আরজি-জবাব ও প্রশ্নমালার লিখিত অভিযোগ;
- দাখিলকৃত দলিলপত্র।

আদালত নিম্নলিখিত বিষয়গুলোর সকল কিংবা যে কোনটি থেকে বিচার্য বিষয় প্রণয়ন করতে পারেন [Materials from which issues may be framed]—
ক) পক্ষগণ কর্তৃক কিংবা তাদের পক্ষে উপস্থিত কোন ব্যক্তিগণ কর্তৃক কিংবা উত্তরূপ ব্যক্তিসমূহের উকিলগণ কর্তৃক শপথের মাধ্যমে উত্থাপিত অভিযোগসমূহ,
[allegations made on faith by the parties, or by any persons present on their behalf, or made by the pleaders of such parties]

খ) আরজি জবাবে কিংবা মোকদ্দমায় প্রদত্ত প্রশ্নমালার উত্তরে রচিত অভিযোগসমূ্‌হ,
[allegations made in the pleadings or in answers to interrogatories delivered in the suit]

গ) কোন পক্ষ কর্তৃক দাখিলকৃত দলিল পত্রের বিষয়বস্তু। 
[the contents of documents produced by either party]

.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ৩ বিধি ১ অনুসারে, কোনো পক্ষ আদালতে হাজিরা দিতে পারে-
  1. শুধু ব্যক্তিগতভাবে
  2. শুধু আইনজীবীর মাধ্যমে
  3. শুধু ব্যক্তিগতভাবে বা স্বীকৃত প্রতিনিধির মাধ্যমে
  4. ব্যক্তিগতভাবে, স্বীকৃত প্রতিনিধি বা উকিলের মাধ্যমে
ব্যাখ্যা

আদেশ ৩ বিধি ১- উপস্থিতি ইত্যাদি ব্যক্তিগতভাবে, স্বীকৃত প্রতিনিধি বা আইনজীবী মারফতে হতে পারে:
মোকদ্দমার কোন পক্ষের আদালতে হাজিরা দেয়া, আবেদন করা বা আইন মোতাবেক অন্য যা করা কর্তব্য, প্রত্যক্ষভাবে অন্য কোন বিপরীত বিধান না থাকলে উক্ত কার্যগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষ ব্যক্তিগতভাবে সম্পন্ন করতে পারে, অথবা তার স্বীকৃত প্রতিনিধি কর্তৃক কিংবা তার পক্ষে [ক্ষেত্র বিশেষ উপস্থিত, দরখাস্ত কিংবা কার্যকরী] কোন উকিলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় হাজিরা দিতে, আবেদন করতে বা অন্য কোন কাজ সমাধান করতে পারেঃ

তবে শর্ত থাকে যে, আদালত নির্দেশ প্রদান করলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের হাজিরা বা উপস্থিতি ব্যক্তিগতভাবেই দিতে হবে।

১০.
কখন কোনো পক্ষ দেওয়ানি আদালতে আবেদন করতে পারে যে, স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রায় দেওয়া হোক?
  1. কেবল বিচার শেষে
  2. কেবল লিখিত জবাব দাখিলের আগে
  3. মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে
  4. কেবল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে
ব্যাখ্যা

আদেশ ১২ বিধি ৬: স্বীকারোক্তির উপর রায়-
যখন আরজি জবাবে কিংবা অন্যপ্রকারে কোন ঘটনা সম্পর্কে স্বীকারোক্তি করা হয়েছে তদক্ষেত্রে মোকদ্দমার যে কোন পর্যায়ে যে কোন পক্ষ আদালতে এ মর্মে আবেদন করতে পারে যে, পক্ষগণের মধ্যে অন্য কোন প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা না করে, উপরের স্বীকারোক্তি যতদূর তার পক্ষে হয়েছে, সে পর্যন্ত রায় কিংবা আদেশ দান করা হোক। এবং আদালত অনুরূপ আবেদনক্রমে যেরূপ সঙ্গত মনে করতে পারে, সেরূপ রায় কিংবা আদেশ দিতে পারে।

১১.
একটি দেওয়ানি মোকদ্দমার সমন বিনা জারিতে ফেরত আসার ৩০ দিনের মধ্যে বাদী নতুন করে সমন পাঠানোর পদক্ষেপ না নিলে আদালত কী সিদ্ধান্ত নিবে?
  1. বাদীকে নোটিশ দেবে
  2. মোকদ্দমাটি স্থগিত করে রাখবে
  3. মোকদ্দমাটি খারিজ করার আদেশ দেবে
  4. বাদীকে আদালতে হাজির হবার জন্য সমন পাঠাবে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানী কার্যবিধি, আদেশ-৯, বিধি-৫:
(১) বিবাদীকে কিংবা কতিপয় বিবাদীর কোনো একজনের প্রতি সমন দেওয়ার পর যদি তা জারি না হয়ে ফেরত আসে, এবং আদালতের যে কর্মচারী সাধারণত সমন জারির বিষয়ে আদালতের কাছে প্রত্যয়ন করেন, তিনি আদালতে উক্ত সমন জারি না হওয়ার প্রত্যয়নপত্রসহ তা ফেরত দেওয়ার পর এক মাসের মধ্যে বাদী যদি নতুন সমন দেওয়ার জন্য আবেদন না করেন, তাহলে আদালত অনুরূপ বিবাদীর বিরুদ্ধে মোকদ্দমাটি খারিজের আদেশ দেবে। তবে, যদি উক্ত এক মাসের মধ্যে বাদী নিম্নলিখিত যে কোনো কারণ দর্শিয়ে আদালতকে এ মর্মে সন্তুষ্ট করতে পারেন—
ক) যে বিবাদীর উপর সমন জারি হয়নি, বাদী যথাসাধ্য সকল চেষ্টা করেও সেই বিবাদীর ঠিকানা আবিষ্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে; অথবা
খ) উক্ত বিবাদী পরোয়ানা জারি এড়িয়ে চলছেন; অথবা
গ) সময়ের মেয়াদ বাড়ানোর জন্য কোনো যৌক্তিক কারণ রয়েছে, তাহলে আদালত নতুন সমন দেওয়ার আবেদনের সময়ের মেয়াদ উপযুক্ত মনে করে বৃদ্ধি করতে পারবে।

(২) অনুরূপ ক্ষেত্রে বাদী (তামাদি আইন সাপেক্ষে) নতুন মোকদ্দমা দায়ের করতে পারেন।

১২.
দেওয়ানী কার্যবিধির কত ধারায় সংসদ সদস্যদের দেওয়ানি পরোয়ানায় গ্রেফতার হতে অব্যাহতির বিধান আছে?
  1. ১৩২ ধারায়
  2. ১৩৩ক ধারায়
  3. ১৩৫ ধারায়
  4. ১৩৫ক ধারা
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানী কার্যবিধির ১৩৫ক ধারার বিধান: দেওয়ানি পরোয়ানায় আটক ও গ্রেফতার হতে সংসদ সদস্যদের অব্যাহতি:
১) নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে কোন ব্যক্তিকে দেওয়ানি পরোয়ানাধীনে গ্রেফতার অথবা জেলে আটক রাখা যাবে না-
ক) যদি উক্ত ব্যক্তি সংসদের সদস্য হন, তবে সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সময়ে;
খ) যদি উক্ত ব্যক্তি সংসদের কোন কমিটির একজন সদস্য হন, তবে এরূপ কমিটির অধিবেশন চলাকালীন সময়ে; এবং এরূপ অধিবেশন বা বৈঠকের পূর্বের বা পরের চৌদ্দ দিন সময় পর্যন্ত।

২) উপ-ধারা (১) অনুসারে আটকাদেশ হতে মুক্ত কোন ব্যক্তিকে এই উপ-ধারায় উল্লেখিত বিধান সাপেক্ষে পুনঃ গ্রেফতার করা যাবে এবং তিনি (১) উপ-ধারার বিধানের অধীনে মুক্ত না হলে আরও যতদিন আটক থাকতে হত, ততদিন তাকে আটক রাখা যাবে।

১৩.
দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯খ ধারা মোতাবেক সালিস নিষ্পত্তিতে কোন আইন অনুরসরণ করতে হয়?
  1. সালিস আইন, ২০০০
  2. সালিস আইন, ২০০১
  3. সালিস আইন, ২০০২
  4. সালিস আইন, ২০০৩
ব্যাখ্যা

 দেওয়ানী কার্যবিধি ধারা-৮৯খ: সালিস:
১) মোকদ্দমার বিরোধ অথবা বিরোধসমূহ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সালিশের নিকট প্রেরণ করবেন এই কারণে মোকদ্দমার পক্ষসমূহ কার্যপদ্ধতির যে কোন পর্যায়ে মোকদ্দমাটি তুলে নেয়ার জন্য আদালতের সমীপে আবেদন করলে আদালত আবেদন অনুমোদন করবে এবং মোকদ্দমা তুলে নেয়ার অনুমতি প্রদান করবে এবং তৎপরবর্তীতে যতদূর প্রযোজ্য, সালিস আইন,২০০১ (২০০১ সালের ১নং আইন) অনুযায়ী বিরোধ বা বিরোধসমূহ নিষ্পত্তি হবেঃ তবে শর্ত থাকে যে, কোন কারণে কার্য প্রক্রিয়া অনুষ্ঠিত না হলে বা সালিসের রোয়েদাদ প্রদত্ত না হলে এই উপ-ধারার অধীন তুলে নেয়ার অনুমতিপ্রাপ্ত মোকদ্দমার পক্ষসমূহ পুনঃ দাখিলের অধিকার অর্জন করবে।

২) ১নং উপ-ধারানুযায়ী পেশকৃত আবেদন সালিস আইন, ২০০১ (২০০১ সালের ১নং আইন) এর ধারা নং ৯ এর অধীনে সালিসের সম্মতি বলে ধরে নিতে হবে।

১৪.
Mesne Profits-এর মধ্যে সাধারণত কোন বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকে?
  1. শুধু সুদ
  2. শুধু ফসল
  3. সুদসহ মুনাফা
  4. শুধু মুনাফা
ব্যাখ্যা

⇒The Code of Civil Procedure, 1908-এর ধারা ২(১২) অনুসারে,
বেআইনীভাবে দখলকৃত সম্পত্তিতে স্বাভাবিক নিয়মে যে লাভ তৈরি হয় বা বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি সাধারণ বুদ্ধিমত্তায় যে লাভ করতে পারতো, সুদসহ উক্ত মুনাফা কে মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে।

ব্যতিক্রম:-
বেআইনীভাবে দখলদার ব্যক্তি উক্ত সম্পত্তির কোন উন্নয়ন করলে এবং সেই উন্নয়নের ফলে কোন মুনাফা হলে, উক্ত মুনাফা মধ্যবর্তী মুনাফা (Mesne Profits) বলে গণ্য হবে না।

১৫.
'প্রতিটি আরজিতে উল্লিখিত তথ্যসমূহ এফিডেভিট (শপথপত্র) দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।'- দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর কোথায় উল্লেখ আছে?
  1. আদেশ ৪ বিধি ১
  2. আদেশ ৪ বিধি ২
  3. ধারা ২৬(১)
  4. ধারা ২৬(২)
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা ২৬: মোকদ্দমা দায়েরের পদ্ধতি:
(১) প্রত্যেক দেওয়ানি মোকদ্দমা আরজি দাখিলের মাধ্যমে বা বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো উপায়ে দায়ের করতে হবে।
(২) প্রতিটি আরজিতে উল্লিখিত তথ্যসমূহ এফিডেভিট (শপথপত্র) দ্বারা প্রমাণ করতে হবে।

⇒ Code of Civil Procedure, 1908, Section 26: Institution of suits:
(1) Every suit shall be instituted by the presentation of a plaint or in such other manner as may be prescribed.
(2) In every plaint, facts shall be proved by affidavit.

১৬.
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর Order 22, Rule 7 কোন বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. পক্ষের মৃত্যু
  2. পক্ষ পরিবর্তন
  3. পক্ষের বিবাহ
  4. পক্ষের দেউলিয়াত্ব
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ-২২, বিধি-৭: মহিলা পক্ষের বিবাহের ফলে মামলা স্থগিত হবে না:
(১) কোনো মহিলা বাদী বা বিবাদীর বিবাহ হলেও মামলাটি স্থগিত হবে না, বরং মামলা অগ্রসর হয়ে রায় প্রদান করা যাবে; এবং যেখানে রায় মহিলা বিবাদীর বিরুদ্ধে থাকে, সেখানে রায় শুধুমাত্র তার বিরুদ্ধে কার্যকর করা যেতে পারে।

(২) যেখানে স্বামী আইন অনুসারে তার স্ত্রীর দেনার জন্য দায়ী, সেখানে আদালতের অনুমতি নিয়ে রায় স্বামীর বিরুদ্ধে কার্যকর করা যেতে পারে; এবং স্ত্রীর পক্ষে রায় হলে, স্বামীর আবেদনপত্রে, যেখানে স্বামী আইন অনুযায়ী রায়ের বিষয়ভিত্তিক অধিকারী, সেখানে রায় কার্যকর করার জন্য অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।

১৭.
দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৯৮ অনুসারে, যদি ডিক্রি-দায়িক ন্যায়সংগত কারণ ছাড়া বাধা দেয়, আদালত কী করবে?
  1. মামলা খারিজ করবে
  2. নতুন ডিক্রি জারি করবে
  3. আবেদনকারীকে সম্পত্তির দখলে রাখার নির্দেশ দিবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

⇒ দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২১ বিধি-৯৮- দায়িক কর্তৃক প্রতিবন্ধ বা বাধাদান:
ডিক্রি দায়িক বা তার প্ররোচনায় অন্য কোন ব্যক্তি ন্যায়সংগত কারণ ব্যতীত বাধাদান করলে আদালত আবেদনকারীকে সম্পত্তি দখলে রাখার নির্দেশ দিবে এবং আবেদনকারীকে এর পরেও দখল লাভে বাধাদান করলে আদালত দায়িককে ৩০ দিন পর্যন্ত দেওয়ানি জেলে আটকের নির্দেশ দিতে পারেন।

১৮.
আদেশ ২৬, বিধি ১৭ অনুযায়ী পরোয়ানা জারির জন্য কমিশনার কোন আদালতে আবেদন করতে পারেন?
  1. হাইকোর্ট ডিভিশনে
  2. ফৌজদারি আদালতে
  3. জেলা জজ আদালতে
  4. যে আদালতের স্থানীয় সীমার মধ্যে সাক্ষী থাকে
ব্যাখ্যা

দেওয়ানি কার্যবিধির আদেশ ২৬ বিধি-১৭: কমিশনারের সম্মুখে সাক্ষীদের উপস্থিতি ও জবানবন্দি প্রদান:
১) সমন, হাজিরা এবং সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং সাক্ষীদের পারিশ্রমিক প্রদান ও সাক্ষীর উপর আরোপিত জরিমানাদি সংক্রান্ত এই আইনের বিধানসমূহ বাংলাদেশে অবস্থিত আদালত কর্তৃক এরূপে নির্দেশিত কাজ সম্পাদনের জন্য প্রেরিত হোক না কেন উক্ত কমিশন কর্তৃক এ আদেশের অধীনে সাক্ষ্য প্রদান করার নিমিত্তে কিংবা দলিল দাখিল করার জন্য আবশ্যকীয় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে এবং এই বিধির উদ্দেশ্যে কমিশনারকে দেওয়ানি আদালত বলে বিবেচিত হবে।

২) যে আদালতের এখতিয়ারের স্থানীয় সীমার মধ্যে কোন সাক্ষী বসবাস করে তিনি প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করলে সে সাক্ষী বরাবর বা বিরুদ্ধে কোন পরোয়ানা প্রেরণের জন্য সেরূপ কোন আদালতে (হাইকোর্ট ডিভিশন নয়) কমিশনার আবেদন করতে পারেন এবং উক্ত আদালতের ঐচ্ছিক ক্ষমতায় যুক্তিসঙ্গত ও উপযুক্ত বিবেচনা করে অনুরূপ পরোয়ানা প্রেরণ করতে পারে।

১৯.
কোন পরিস্থিতিতে আদালত দেওয়ানি কার্যবিধির Order 38, Rule 9 এর অধীনে ক্রোক (attachment) প্রত্যাহারের আদেশ দেবে?
  1. বাদী আদালতে অনুপস্থিত থাকলে
  2. বিবাদী আদালতে অনুপস্থিত থাকলে
  3. বাদী প্রয়োজনীয় জামানত প্রদান করলে
  4. বিবাদী প্রয়োজনীয় জামানত প্রদান করলে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) বিবাদী প্রয়োজনীয় জামানত প্রদান করলে।

আদেশ-৩৮ বিধি-৯: জামানত প্রদান করা হলে কিংবা মোকদ্দমা খারিজ করা হলে ক্রোক অপসারণ: 
যেক্ষেত্রে রায়ের পূর্বে ক্রোকের জন্য কোন আদেশ প্রদান করা হয়েছে, সেক্ষেত্রে বিবাদী ক্রোকের খরচাদির জামানতসহ আবশ্যকীয় জামানত প্রদান করে বা মোকদ্দমাটি খারিজ হলে আদালত ক্রোক প্রত্যাহার করে আদেশ দিবে।

Order-38 Rule-9: Removal of attachment when security furnished or suit dismissed:
Where an order is made for attachment before judgment, the Court shall order the attachment to be withdrawn when the defendant furnishes the security required, together with security for the costs of the attachment, or when the suit is dismissed.

২০.
The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order IX, Rule 13-এর Proviso অনুযায়ী, কোন ক্ষেত্রে আদালত অন্য বিবাদীদের বিরুদ্ধেও ডিক্রি বাতিল করতে পারে?
  1. যদি বাদী চায়
  2. যদি ডিক্রি কেবল আর্থিক হয়
  3. যদি অন্য বিবাদীরা অনুপস্থিত থাকে
  4. যদি ডিক্রি কেবল একজনের বিরুদ্ধে বাতিল করা যায় না
ব্যাখ্যা

The Code of Civil Procedure, 1908 এর Order IX, Rule 13:
(১) কোনো মামলায় যদি বিবাদীর বিরুদ্ধে ex parte ডিক্রি জারি করা হয়, তবে সে আদালতের কাছে আবেদন করতে পারে যা ডিক্রি জারি করেছে, যাতে সেই ডিক্রি বাতিল (set aside) করা হয়।

আদালত সেই বিবাদীকে সন্তুষ্ট হতে হবে যে— সমন (summons) যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়নি, অথবা সে যথাযথ কারণে উপস্থিত হতে পারেনি, যখন মামলার শুনানি হয়েছে।

এই শর্ত পূরণ হলে, আদালত সেই বিবাদীর বিরুদ্ধে জারি ডিক্রি বাতিল করবে এবং প্রযোজ্য হলে খরচ (costs) সম্পর্কিত শর্ত নির্ধারণ করবে। আদালত মামলার শুনানির জন্য নতুন দিনও নির্ধারণ করবে।

Proviso (শর্তাবলী):
- যদি ডিক্রি এমন প্রকৃতির হয় যে শুধুমাত্র সেই বিবাদীর বিরুদ্ধে বাতিল করা সম্ভব নয়, তাহলে আদালত তা অন্য সকল বা যেকোনো অন্যান্য বিবাদীর বিরুদ্ধেও বাতিল করতে পারে।

- একই বিবাদী এই রুলের মাধ্যমে একাধিকবার ডিক্রি বাতিল করতে পারবে না।

(২) সাব-রুল (১) অনুযায়ী করা আবেদনগুলিতে Limitation Act, 1908-এর ধারা ৫ প্রযোজ্য হবে।

২১.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৫(গ) উপধারার অধীনে মঞ্জুরকৃত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে কোন ধরনের প্রতিকার হিসেবে গণ্য করা হয়?
  1. আদেশাত্মক প্রতিকার
  2. বাধ্যতামূলক প্রতিকার
  3. নিরোধক প্রতিকার
  4. অস্থায়ী প্রতিকার
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৬ ধারায় প্রতিরোধ বা নিরোধক প্রতিকারের সংজ্ঞা বর্নিত হয়েছে।

ধারা ৬: নিরোধক প্রতিকার:
৫ ধারার (গ) উপধারার অধীন মঞ্জুরীকৃত সুনির্দিষ্ট প্রতিকারকে নিরোধক প্রতিকার বলা হয়।

Section 6- Preventive relief:
Specific relief granted under clause (c) of section 5 is called preventive relief.

২২.
“Rectification of Instruments”- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের কোন ধারায় রয়েছে?
  1. ধারা ৩১–৩৪
  2. ধারা ৩৫–৩৮
  3. ধারা ৩৯-৪১
  4. ধারা ৪২–৪৩
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের বিষয়বস্তু (Subject matter of Specific Relief Act):
১৮৭৭ সালের সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনটি ১০টি অধ্যায়ে (Chapter) বিভক্ত এবং এতে মোট ৫৭টি ধারা (Section) সন্নিবেশিত রয়েছে। 

অধ্যায়সমূহ:
⇒ সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (Recovering possession of property)- ধারা (৮-১১);
⇒ চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন (Specific performance of contract)- ধারা (১২-৩০);
⇒ দলিল সংশোধন (Rectification of Instruments)- ধারা (৩১-৩৪);
⇒ চুক্তি রদ (Rescission of a contract)- ধারা (৩৫-৩৮);
⇒ দলিল বাতিল (Cancellation of instrument)- ধারা (৩৯-৪১);
⇒ ঘোষণামূলক ডিক্রি (Declaratory Decree)- ধারা (৪২-৪৩);
⇒ তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ (Appointment of receiver)- ধারা ৪৪;
⇒ বিলুপ্ত (Omitted)- ধারা (৪৫-৫১);
⇒ সাধারণভাবে নিষেধাজ্ঞা (Injunction generally)- ধারা (৫২-৫৩);
⇒ চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Perpetual injunction)- ধারা (৫৪-৫৭)।

২৩.
The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ২০ কখন প্রযোজ্য হবে?
  1. যখন চুক্তি সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের অযোগ্য
  2. যখন চুক্তি সুনির্দিষ্ট সম্পাদনের যোগ্য
  3. যখন চুক্তি বাতিলযোগ্য
  4. যখন কোনো দলিল রদ করা হয়
ব্যাখ্যা

The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ২০: ক্ষতিপূরণের অর্থ নির্ধারিত থাকলেও সুনির্দিষ্ট সম্পাদন থেকে বাধা নয়:
যদি কোনো চুক্তিতে ভঙ্গের ক্ষেত্রে প্রদেয় ক্ষতিপূরণের পরিমাণ আগেই নির্ধারিত থাকে, তবুও চুক্তিটি অন্য সবদিক দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের যোগ্য হলে, এবং চুক্তিভঙ্গকারী পক্ষ সে নির্ধারিত অর্থ দিতে রাজি থাকলেও, চুক্তির সুনির্দিষ্ট সম্পাদন (Specific Performance) আদালত দিতে পারে। অর্থাৎ, চুক্তিতে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা থাকলেও তা সুনির্দিষ্ট সম্পাদনে বাধা নয়।

২৪.
‘রহিম’, ‘করিম’-এর কাছে ৫ কাঠা জমি বিক্রি করতে চুক্তিবদ্ধ হয়। করিম নির্ধারিত তারিখে মূল্য পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয় এবং চুক্তি পালন করতে অস্বীকৃতি জানায়। রহিম এরপর চুক্তি অমান্যের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করে এবং ক্ষতিপূরণ পায়। এক্ষেত্রে, রহিম ক্ষতিপূরণ আদায় করার পর-
  1. চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চাইতে পারবে না
  2. চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চাইতে পারবে
  3. আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন চাইতে পারবে
  4. স্বয়ংক্রিয়ভাবে চুক্তি কার্যকর করতে পারবে
ব্যাখ্যা

এখন রহিম আর Specific Performance (জমি হস্তান্তরের আদেশ) চাইতে পারবে না, কারণ সে ইতোমধ্যে ক্ষতিপূরণকে প্রতিকার হিসেবে বেছে নিয়েছে।

ধারা ২৪- প্রতিকারের পথে ব্যক্তি বাধাসমূহ: চুক্তির সুনির্দিষ্ট এমন ব্যক্তির পক্ষে করা যায় না-
ক) যে চুক্তি অমান্যের জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবে না;
খ) যে নিজ চুক্তির কোন প্রয়ােজনীয় শর্ত অমান্য করে বা শর্ত পালনে ব্যর্থ হয় এবং যদ্বরুণ তার নিজের অংশেরই কার্যসম্পাদন বাকী থাকে;
গ) যে ইতিমধ্যে তার প্রতিকার বেছে নিয়েছে এবং কথিত চুক্তি অমান্যের জন্য ক্ষতিপূরণ পেয়েছে; বা
ঘ) যে চুক্তি আগেই অবগত ছিল যে, তার বিষয়বস্তু (যদিও তা কোন মূল্যবান পণভিত্তিক নয়) বিলিবন্দোবস্ত করা হয়েছিল এবং তখন তা কার্যকরী ছিল।

উপধারা-গ এর-
‘ক’ ‘খ’-এর কাছে একটি বাড়ি সুনির্দিষ্ট শর্তে এবং ভাড়ায় ভাড়া প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হয়। 'খ' চুক্তির কার্যসম্পাদনে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করে। 'ক' ইহার পর 'খ'-এর চুক্তি অমান্যের ক্ষতিপূরণের জন্য মােকদ্দমা রুজু করে এবং ক্ষতিপূরণ লাভ করে। 'ক' চুক্তির সুনির্দিষ্ট কার্যসম্পাদন কার্যকরী করার অধিকারী হবে না।

২৫.
যদি চুক্তির একটি স্বাতন্ত্র্য অংশ সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকরযোগ্য হয় এবং অন্য অংশ কার্যকরযোগ্য না হয়, তখন আদালত-
  1. পুরো চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য
  2. চুক্তি স্থগিত করতে পারে
  3. কার্যকরযোগ্য অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারে না
  4. কার্যকরযোগ্য অংশটি সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদনের নির্দেশ দিতে পারে
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১৬ ধারা- কোন চুক্তির স্বাতন্ত্র্য অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন:
যখন চুক্তির একটি অংশের স্বাতন্ত্র্যভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কাজ সম্পাদন করা যায় বা করা আবশ্যক হয় এবং তা একই চুক্তির এমন অন্য অংশ হতে স্বাতন্ত্র্য এবং স্বাধীনভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে অবস্থান করে যা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পাদন করা যাবে না বা করা আবশ্যক নহে, তাহলে আদালত পূর্ববর্তী অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করতে পারেন।

২৬.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৯ ধারা কোন নীতিকে প্রতিফলিত করে?
  1. Ownership overrides possession
  2. A man is presumed to know the law
  3. Possession can be protected only with proving title
  4. Possession must be protected even without proving title
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) Possession must be protected even without proving title

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭–এর ধারা ৯-এর মূল নীতি হলো-
“মালিকানা প্রমাণ না করলেও দখলকে আইন রক্ষা করে।”

অর্থাৎ কেউ যদি বেআইনিভাবে ও তার অসম্মতিতে দখলচ্যুত হয়, তবে সে শুধু দখলের ভিত্তিতে মামলা করে আবার দখল ফিরে পেতে পারে। এখানে মালিকানা (title) প্রশ্ন বিবেচনায় নেওয়া হয় না।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনে ৯ ধারার বিধান: স্থাবর সম্পত্তির দখল চ্যুত ব্যক্তি কর্তৃক মামলা:
যদি কোন ব্যক্তি তার অসম্মতিতে আইনগত পন্থা ছাড়াই স্থাবর সম্পত্তির দখলচ্যুত হয়, তাহলে সে বা তার মাধ্যমে দাবিদার কোন ব্যক্তি মামলার মাধ্যমে তা পুনরুদ্ধার করতে পারে। তবে এই ধারার কোন কিছুই এমন সম্পত্তির ব্যাপারে নিজের স্বত্ব প্রতিষ্ঠিত এবং তার দখল পুনরুদ্ধার করার নিমিত্তে কোন ব্যক্তি কর্তৃক মামলা রুজু করার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না।
- সরকারের ক্ষেত্রে এই ধারার কোনো প্রয়োগযোগ্য নেই।
- আদালত যে আদেশ দিবে তার বিরুদ্ধে আপিল বা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা যাবে না।

২৭.
কোন আইনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য নয়?
  1. দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮
  2. রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮
  3. চুক্তি আইন, ১৮৭২
  4. তামাদি আইন, ১৯০৮
ব্যাখ্যা

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের অপ্রযোজ্যতা:
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের-৪ ধারার বিধান কোন ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না-
ⅰ) চুক্তি নয় এমন কোনো অঙ্গীকারের অধীন প্রতিকার, এবং
ii) ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন প্রযোজ্য হবে না।
------------
⇒ The Specific Relief Act, 1877 - Sections- 4. Savings:
Except where it is herein otherwise expressly enacted, nothing in this Act shall be deemed-
(a) to give any right to relief in respect of any agreement which is not a contract;
(b) to deprive any person of any right to relief, other than specific performance, which he may have under any contract; or
(c) to affect the operation of the Registration Act, 1908 on documents.

২৮.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১১ সাধারণত কী প্রতিকার প্রদান করে?
  1. ক্ষতিপূরণ
  2. দখল হস্তান্তর
  3. মালিকানা হস্তান্তর
  4. বিকল্প চুক্তি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) দখল হস্তান্তর।

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ১১ মূলত অস্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার (Specific delivery of movable property) সংক্রান্ত প্রতিকার প্রদান করে। এটি ক্ষতিপূরণের বিকল্প নয়; বরং যেখানে ক্ষতিপূরণ যথেষ্ট নয় বা অনুপযুক্ত, সেখানে সম্পত্তি সরাসরি দখলে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়াই এ ধারার উদ্দেশ্য।

⇒ সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ - ধারা ১১: অধিকারী না হওয়া সত্ত্বেও দখলে থাকা ব্যক্তির দায়:
যে কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নির্দিষ্ট অস্থাবর সম্পত্তির দখল বা নিয়ন্ত্রণ রাখে, তবে সে যদি তার মালিক না হয়, তাকে সুনির্দিষ্টভাবে ওই সম্পত্তি তার দখলে থাকা ব্যক্তি থেকে উদ্ধার করতে বাধ্য করা যেতে পারে, তবে নিম্নলিখিত যে কোনো ক্ষেত্রে:
(ক) যখন প্রতিপক্ষ ওই সম্পত্তি বাদী হিসেবে এজেন্ট বা ট্রাস্টি হিসেবে দখলে রাখে;
(খ) যখন মুদ্রায় ক্ষতিপূরণ বাদীকে ওই সম্পত্তি হারানোর জন্য যথেষ্ট প্রতিকার প্রদান করতে সক্ষম নয়;
(গ) যখন ওই সম্পত্তি হারানোর ফলে সৃষ্ট প্রকৃত ক্ষতি নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন হবে;
(ঘ) যখন ওই সম্পত্তির দখল অসৎভাবে বাদীর কাছ থেকে প্রতিপক্ষের কাছে স্থানান্তরিত হয়েছে।

২৯.
যদি বিক্রেতা বিক্রয়ের পরে সম্পত্তিতে অতিরিক্ত কোনো স্বার্থ (interest) অর্জন করেন, তবে The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ১৮(ক) অনুসারে ক্রেতার অধিকার কী?
  1. সেই স্বার্থ বাতিল করতে পারেন
  2. চুক্তি বাতিল করতে পারবেন
  3. চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে পারবেন
  4. বিক্রেতাকে নতুন স্বার্থ থেকে চুক্তি পূরণে বাধ্য করতে পারেন
ব্যাখ্যা

The Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ১৮: ত্রুটিপূর্ণ শিরোনামের বিক্রেতার বিরুদ্ধে ক্রেতার/ভাড়াটিয়ার অধিকার:
যে কোনো ব্যক্তি কোনো সম্পত্তি বিক্রয় বা ভাড়া দেওয়ার চুক্তি করলে এবং তার সেই সম্পত্তিতে কেবল ত্রুটিপূর্ণ শিরোনাম (imperfect title) থাকে, ক্রেতা বা ভাড়াটিয়াকে (যদি অন্যথা এই অধ্যায়ে বলা না হয়) নিম্নলিখিত অধিকার থাকবে:

(ক) যদি বিক্রেতা বা ভাড়াটিয়া বিক্রয় বা ভাড়ার পরে সম্পত্তিতে কোনো স্বার্থ অর্জন করেন, ক্রেতা বা ভাড়াটিয়া তাকে সেই স্বার্থ থেকে চুক্তি পূরণ করতে বাধ্য করতে পারে।

(খ) যেখানে শিরোনামের বৈধতার জন্য অন্য ব্যক্তিদের সম্মতি প্রয়োজন এবং তারা বিক্রেতার/ভাড়াটিয়ার অনুরোধে স্থানান্তর করতে বাধ্য, ক্রেতা বা ভাড়াটিয়া বিক্রেতাকে সেই সম্মতি প্রাপ্তির জন্য বাধ্য করতে পারে।

(গ) যেখানে বিক্রেতা দাবি করেন যে সম্পত্তি ঋণমুক্ত (unencumbered), কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সম্পত্তি একটি মর্টগেজে বন্ধকী এবং সেই মর্টগেজের পরিমাণ ক্রয়মূল্যের সমান বা কম, এবং বিক্রেতার কেবল redeem করার অধিকার থাকে, ক্রেতা তাকে মর্টগেজ রিডিম করতে এবং মর্টগেজদাতার কাছ থেকে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে বাধ্য করতে পারে।

(ঘ) যেখানে বিক্রেতা বা ভাড়াটিয়া চুক্তি পূরণের জন্য মামলা করেন এবং সেই মামলা তার অপরিপূর্ণ শিরোনামের কারণে খারিজ হয়ে যায়, তখন বিপক্ষের অধিকার থাকবে:
- তার জমা দেওয়া অর্থ (deposit) ফেরত পাওয়া, সুদসহ,
- মামলার খরচ ফেরত পাওয়া, এবং
- বিক্রেতা বা ভাড়াটিয়ার সম্পত্তিতে চুক্তি অনুযায়ী তার জমা, সুদ ও খরচের উপর lien থাকা।

৩০.
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ধারা ১২ মোট কতটি ক্ষেত্রে চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করার কথা বলে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ১২ ধারা মতে, নিম্নলিখিত ৪টি ক্ষেত্রে কোন চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়: যথা-

ক) চুক্তিটি অছি বা জিম্মার অন্তর্ভুক্ত হলে (when the act agreed to be done is in the performance, wholly or partly, of a trust);
খ) চুক্তিভঙ্গের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নির্ণয়ের মানদন্ড না থাকলে (when there exists no standard for ascertaining the actual damage caused by non-performance of the act agreed to be done);
গ) চুক্তিভঙ্গের ফলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ অপর্যাপ্ত হলে (when the act agreed to be done is such that pecuniary compensation for its non-performance would not afford adequate relief); এবং
ঘ) চুক্তিভঙ্গের ফলে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে (when it is probable that pecuniary compensation cannot be got for the non-performance of the act agreed to be done)- চুক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কার্যকর করা যায়।

৩১.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ক অনুসারে, গ্রেফতারকারী পুলিশ কর্মকর্তা কাকে গ্রেফতারের কারণ জানাবেন?
  1. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির পরিবারকে
  2. থানার অফিসার-ইন-চার্জকে
  3. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে
  4. ওয়ারেন্ট জারিকারী আদালতকে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: C. গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৫৪ক-  গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের কারণ জানানো:
যে কোনো পুলিশ কর্মকর্তা কোনো ব্যক্তিকে ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেফতার করলে, তাকে গ্রেফতার করার সময় গ্রেফতারের কারণ সেই ব্যক্তিকে জানাতে হবে।

Section 54A- Person arrested to be informed of reason of arrest: 
Every police-officer arresting any person without warrant shall, at the time of making arrest, communicate to him the reasons for which he is arrested.

৩২.
তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট সর্বোচ্চ কত টাকা অর্থদণ্ড দিতে পারেন?
  1. ১ লাখ টাকা
  2. ২ লাখ টাকা
  3. ৩ লাখ টাকা
  4. ৫ লাখ টাকা
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৩২: বিভিন্ন শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট যে সাজা দিতে পারবেন:
(১) ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নিম্নলিখিত সাজা দিতে সক্ষম-
(ক) মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত:
- সর্বোচ্চ ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত একাকী বন্দিত্ব (solitary confinement) অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

(খ) দ্বিতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত:
- সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, যার মধ্যে আইন অনুযায়ী নির্ধারিত একাকী বন্দিত্ব অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
- সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

(গ) তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত:
- সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
- সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।

(২) যেকোনো ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আইন অনুযায়ী যে কোনো সাজা দিতে পারবে, একাধিক ধরণের সাজা একত্রিত করে।

৩৩.
আপিল আদালতের রায় ঘোষণার সময় আসামিকে আদালতে হাজির করা -
  1. বাধ্যতামূলক
  2. বিবেচনামূলক 
  3. হাইকোর্টের আদেশাধীন
  4. আসামির ইচ্ছাধীন
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪২৪ অনুযায়ী,
আপিল আদালত যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলে আসামিকে আদালতে হাজির করতে পারে। তবে, এটি বাধ্যতামূলক নয়, বরং আদালতের বিবেচনার ওপর নির্ভর করে।

ধারা ৪২৪- অধস্তন আপিল আদালতের রায়:
অপরাধমূলক কার্যবিধির অধ্যায় XXVI-তে যে সকল নিয়ম অপরাধ সংক্রান্ত মূল বিচারকার্যের আদালতের রায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা যথাসম্ভব উচ্চ আদালত বিভাগ ব্যতীত অন্য কোনো আপিল আদালতের রায়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

তবে, যদি আপিল আদালত ভিন্ন কোনো নির্দেশ না দেয়, তাহলে আসামিকে আদালতে হাজির করা বা রায় শোনার জন্য উপস্থিত থাকার প্রয়োজন নেই।

৩৪.
অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে যদি কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়, তদারকি কর্মকর্তা কী করতে পারেন?
  1. তাকে গ্রেফতার করতে পারেন
  2. তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দিতে পারেন
  3. তাকে সাময়িকভাবে মুক্তি দিতে পারেন
  4. তদন্তকারীকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিতে পারেন
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১৭৩ক: অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন ইত্যাদি:
(১) ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৭৩-এর উপ-ধারা (১)-এ যা-ই বলা থাকুক না কেন, এই অধ্যায়ের অধীন কোনো মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই— পুলিশ কমিশনার, অথবা জেলা পুলিশ সুপার, অথবা তদন্তের তদারকির দায়িত্বে থাকা সমপর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা তদন্তের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে একটি অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন (Interim Investigation Report) দাখিল করতে নির্দেশ দিতে পারেন।

(২) যদি দাখিলকৃত অন্তর্বর্তী তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেখা যায় যে- কোনো নির্দিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রমাণ অপর্যাপ্ত, তাহলে-পুলিশ কমিশনার, অথবা জেলা পুলিশ সুপার, অথবা তদারকি কর্মকর্তা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিতে পারেন যে তিনি এই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল করবেন। ম্যাজিস্ট্রেট (বা প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনাল)—
যদি প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্বাসযোগ্য ও সন্তোষজনক মনে করেন, তবে তিনি উক্ত অভিযুক্তকে অব্যাহতি (Discharge) দিতে পারেন,তবে উপ-ধারা (৩)-এর শর্তসাপেক্ষে। এবং এতে অন্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলতে পারবে।

(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী কোনো অভিযুক্তকে অস্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তদন্ত শেষ হওয়ার পরে যদি যথেষ্ট এবং প্রামাণিক প্রমাণ পাওয়া যায় যে তিনি প্রকৃতপক্ষে অপরাধে জড়িত ছিলেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ধারা ১৭৩ অনুযায়ী চূড়ান্ত পুলিশ প্রতিবেদন (চার্জশিট) দাখিল করার সময় তার নাম যুক্ত করতে বাধা পাবেন না। অর্থাৎ- অব্যাহতি মানে স্থায়ী মুক্তি নয়; তদন্ত শেষে নতুন প্রমাণ পাওয়া গেলে তার নাম পুনরায় চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

৩৫.
ধারা ২৫০(৫) অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি আর কী আদেশ দিতে পারেন?
  1. সর্বোচ্চ ১ মাসের কারাদণ্ড
  2. সর্বোচ্চ ২ মাসের কারাদণ্ড
  3. সর্বোচ্চ ৩ মাসের কারাদণ্ড
  4. সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 –এর ধারা ২৫০(৫): মিথ্যা, তুচ্ছ বা হয়রানিমূলক অভিযোগ:
এই ধারায় অন্য যাই বলা থাকুক না কেন, উপ-ধারা (২) অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ করার পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট আরও আদেশ দিতে পারেন, যে- যে ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে, সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড ভোগ করবে, অথবা তার নিকট থেকে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আদায় করা হবে।

অর্থাৎ, শুধু ক্ষতিপূরণই নয়— প্রয়োজনে কারাদণ্ড বা অতিরিক্ত জরিমানাও ম্যাজিস্ট্রেট দিতে পারেন, যদি অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন বা হয়রানিমূলক (vexatious) প্রমাণিত হয়।

৩৬.
গ্রেফতারকারী অফিসার যদি সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তা না হন, তবে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৬খ অনুযায়ী তিনি কী করতে বাধ্য?
  1. অভিযুক্তকে সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দিতে
  2.  থানায় মৌখিকভাবে তথ্য জানাতে
  3. গ্রেফতারের মেমোরান্ডামের কপি ওসি-কে দিতে
  4. আদালতে রিপোর্ট জমা দিতে
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৪৬খ: গ্রেফতারের রেকর্ড, সাধারণ ডায়েরিতে নথিভুক্তি এবং তথ্য প্রদান:
(১) গ্রেফতারকারী অফিসারকে অফিসিয়াল রেজিস্টারে একটি এন্ট্রি করতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকবে—
- গ্রেফতারের কারণ,
- তথ্যদাতা বা অভিযোগকারী ব্যক্তির নাম ও বিবরণ,
- সেই আত্মীয় বা বন্ধুর নাম ও বিবরণ, যাকে গ্রেফতারের তথ্য জানানো হয়েছে, এবং
- গ্রেফতার ব্যক্তিকে আটক করার দায়িত্বে থাকা অফিসারের নাম ও বিবরণ।

(২) প্রতিটি গ্রেফতারীর ঘটনা সেই থানার সাধারণ ডায়েরিতে সঙ্গে সঙ্গেই নথিভুক্ত করা হবে। যদি গ্রেফতারকারী অফিসার সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তা না হন, তবে গ্রেফতার সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই গ্রেফতারের মেমোরান্ডামের একটি কপি সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার-ইন-চার্জকে প্রদান করতে হবে, যিনি এরপর তা সাধারণ ডায়েরিতে এন্ট্রি করবেন।

(৩) যারা অফিসিয়াল রেজিস্টার বা সাধারণ ডায়েরি রক্ষা করার দায়িত্বে আছেন, তারা চাইলে গ্রেফতার সম্পর্কিত তথ্য গ্রেফতার ব্যক্তির যে কোনো আত্মীয়, বন্ধু বা প্রতিবেশীকে দিতে বাধ্য থাকবেন।

৩৭.
FIR কে স্বাক্ষর করবে?
  1. সাক্ষী
  2. সংবাদদাতা
  3. পুলিশ সদস্য
  4. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) সংবাদদাতা।

এফআইআর (FIR- First Information Report)
অপরাধমূলক কোনো কিছু ঘটার পর সে বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার জন্য থানায় যে সংবাদ দেওয়া বা জানানো হয়, তাকে এজাহার বা এফআইআর বলে। প্রকৃতপক্ষে, এজাহারের মাধ্যমে থানায় মামলা করা হয়। এজাহারের ক্ষেত্রে পিআরবি বা পুলিশ রেগুলেশন বেঙ্গল ১৯৪৩ এর ২৪৩ প্রবিধান এবং ফৌজদারী কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় এজাহারের বিষয়বস্তু গুলো অনুসরণ করা হয়। 

 FIR লেখার প্রক্রিয়া: অভিযোগকারী (Informant) যদি মৌখিকভাবে তথ্য দেয়—
- ওসি বা তার নির্দেশে পুলিশ সদস্য সেই তথ্য লিখে নেবে;
- সেই লিখিত তথ্য সংবাদদাতাকে পড়ে শোনানো হবে;
- সংবাদদাতা নিশ্চিত হবেন যে তার বক্তব্য সঠিকভাবে লেখা হয়েছে;
- এরপর সেই লিখিত FIR-এ সংবাদদাতাকেই স্বাক্ষর করতে হবে।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ১৫৪: আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ:

যখন কেউ কোনো আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সংবাদ থানায় জানায়, তখন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেই তথ্য গ্রহণ করতে বাধ্য। যদি সেই তথ্য মৌখিকভাবে জানানো হয়, তাহলে তিনি নিজে বা তার নির্দেশে কেউ তা লিখে নেবেন। এরপর সেই লিখিত বক্তব্য সংবাদদাতাকে পড়ে শুনাতে হবে যেন সে নিশ্চিত হতে পারে, তার কথাই ঠিকভাবে লেখা হয়েছে। এরপর সেই ব্যক্তি স্বাক্ষর করবে এবং পুলিশ কর্মকর্তা সরকার নির্ধারিত রেজিস্টারে ঐ বিবরণ লিপিবদ্ধ করে রাখবেন।

৩৮.
প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল কোথায় করা যাবে?
  1. হাইকোর্ট ডিভিশন
  2. দায়রা জজ আদালত
  3. চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট
  4. যুগ্ম দায়রা জজ আদালত
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৮ ধারার বিধান -যুগ্ম দায়রা জজ বা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল:
যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন যুগ্ম দায়রা জজ বা কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা কোন প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের বিচারে দণ্ডিত হয়, সে ব্যক্তি দায়রা জজ বরাবর আপিল দায়ের করতে পারবে।

নিম্নোক্ত শর্ত থাকে যে-
(ক) যেক্ষেত্রে কোন মোকদ্দমায় যুগ্ম দায়রা জজ ৫ (পাঁচ) বৎসরের অধিক সময়ের কারাদণ্ডের আদেশ, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারে সাজাপ্রাপ্ত সকল বা যে দণ্ডিত ব্যক্তিকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।

(খ) যেক্ষেত্রে কোন ব্যক্তি কোন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বা জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারায় (রাষ্ট্রদ্রোহিতা) উল্লেখিত অপরাধের বিচারে দণ্ডিত হয়, সেক্ষেত্রে তাকে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল করতে হবে।

৩৯.
ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান অনুযায়ী, অভিযোগ পরিবর্তন বা সংযোজন করলে আদালত কী করতে বাধ্য?
  1. পুরাতন সাক্ষীদের বাদ দিতে
  2. নতুন তদন্ত শুরু করতে
  3. অভিযোগকারীকে পড়ে শোনাতে এবং বুঝাতে
  4. অভিযুক্তকে পড়ে শোনাতে এবং বুঝাতে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ২২৭ ধারার বিধান-
অভিযোগে অপরাধের বর্ণনা বা অন্য কোন তথ্য পরিবেশনের সময় কোন ভুল হলে বা কোন কিছু বাদ পড়লে রায় ঘোষণার পূর্বে যেকোন সময় আদালত অভিযোগ পরিবর্তন বা নতুন অভিযোগ করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যেকটি পরিবর্তন বা সংযোজন অভিযুক্তকে পড়ে শুনাতে হবে এবং বুঝাতে হবে।

⇒ The Code of Criminal Procedure, 1898, Section 227: Court may alter charge-
(1) Any Court may alter or add to any charge at any time before judgment is pronounced.
(2) Every such alteration or addition shall be read and explained to the accused.

৪০.
ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ ধারার বিধান নিম্নের কোন ধারাসমূহকে প্রভাবিত করবে না?
  1. ১০৬(৫) ও ১০৯(৪)
  2. ১০৭(৪) ও ১১৭(৩)
  3. ১৪৫(২) ও ১৪৮(৩)
  4. ১৬৪(১) ও ১৬৪(২)
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৬ ধারার বিধান- জামিনযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে জামিন:
যদি কোনো ব্যক্তি, যিনি অজামিনযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত নন, তাকে পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তার করে বা আটক করে, অথবা আদালতে হাজির করা হয়, এবং তিনি জামিন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তাহলে তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হবে।

তবে শর্ত থাকে যে: সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা বা আদালত চাইলে, জামিন নেওয়ার পরিবর্তে ওই ব্যক্তিকে কোনো জামিনদার ছাড়াই একটি বন্ড স্বাক্ষর করিয়ে মুক্তি দিতে পারেন, যাতে তিনি ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে আদালতে হাজির হন।

এছাড়াও, এই ধারার কোন কিছুই ১০৭ ধারার (৪) উপধারা বা ১১৭ ধারার (৩) উপধারার বিধানকে প্রভাবিত করবে না।

৪১.
মৃত্যুর কারণ আবিষ্কার করার জন্য কবর থেকে লাশ তুলে পরীক্ষা করাতে পারেন-
  1. ওসি
  2. ম্যাজিস্ট্রেট
  3. তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা
  4. উল্লিখিত সকলে
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৬ ধারার বিধান: মৃত্যুর কারণ বিষয়ে ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ইনকেয়ারী:
(১) কোন ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন সময়ে মারা গেলে সুরতহাল তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাবান নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেট অবশ্যই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত ছাড়াও বা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি করবেন এবং ধারা-১৭৪ এর উপধারা-(১) এর অনুচ্ছেদ-(ক), (খ) ও (গ) এ বর্ণিত অন্যান্য ক্ষেত্রে উক্তরূপে ক্ষমতাবান যে কোন ম্যাজিস্ট্রেট মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ কর্মকর্তা কর্তৃক অনুষ্ঠিত তদন্ত ব্যতীতও অথবা এরূপ তদন্তের পরিবর্তে ইনকোয়ারি সম্পন্ন করতে পারবেন এবং তিনি যদি এরূপ সম্পাদন করেন, সেক্ষেত্রে অপরাধ ইনকোয়ারীর বেলায়ও তাঁর যে পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে এক্ষেত্রেও তার একই পরিমাণ ক্ষমতা থাকবে। এরূপ ইনকোয়ারি পরিচালনাকালীন সময়ে ম্যাজিস্ট্রেট পরিস্থিতি অনুসারে অতঃপর উল্লিখিত পন্থাসমূহের যে কোন একটি অনুসারে গৃহীত সাক্ষ্য-প্রমাণ নথিবদ্ধ করবেন।

(২) কবর হতে লাশ তুলার ক্ষমতা: যখনই কোন ম্যাজিস্ট্রেট এরূপ কোন ব্যক্তির লাশ, যাকে ইতঃপূর্বে কবর দেয়া হয়েছে, পরীক্ষা করা যুক্তিযুক্ত মনে করেন তার মৃত্যুর কারণ আবিষ্কার করার জন্য, তখনই ওই ম্যাজিস্ট্রেট ওই লাশটি কবর হতে তোলাইয়া পরীক্ষা করাতে পারবেন।

৪২.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৪০ কোন বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত?
  1. জামিন
  2. আপিল
  3. তদন্ত
  4. রিভিশন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) রিভিশন।

• ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৪৪০:
কোন আদালত যেক্ষেত্রে তার রিভিশনের ক্ষমতা প্রয়োগ করেন, সেক্ষেত্রে উক্ত আদালতে কোন পক্ষেরই ব্যক্তিগতভাবে বা এডভোকেট কর্তৃক বক্তব্য দাখিলের অধিকার থাকবে নাঃ 

শর্ত থাকে যে, আদালত উপযুক্ত মনে করলে এরূপ ক্ষমতা প্রয়োগের সময় কোন পক্ষের বক্তব্য ব্যক্তিগতভাবে বা উকিলের কর্তৃক শ্রবণ করতে পারবেন; এবং এই ধারার কোন বিধান ধারা-৪৩৯ (২) কে প্রভাবিত করবে বলে গণ্য করা যাবে না।

৪৩.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারানুসারে ম্যাজিস্ট্রেট কোন আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবেন-
  1. স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে
  2. ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদন ক্রমে
  3. হাইকোর্টের নির্দেশে
  4. ক বা খ
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা বিধান-
(১) যে সকল ক্ষেত্রে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অথবা সরকার বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক এই ধারার অধীনে কাজ করার জন্য বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের (তৃতীয় শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট নয়) মতে এই ধারার অধীনে অগ্রসর হওয়ার মতো যথেষ্ট কারণ রয়েছে এবং আশু বা দ্রুত প্রতিকার বাঞ্ছনীয়—সেই সকল ক্ষেত্রে এরূপ ম্যাজিস্ট্রেট লিখিত আদেশে ঘটনার মূল বিষয়বস্তু বর্ণনা করে এবং তা ধারা ১৩৪-এ বর্ণিত পদ্ধতিতে জারি করে কোনো ব্যক্তিকে কোনো নির্দিষ্ট কাজ করা থেকে বিরত থাকতে অথবা কোনো নির্দিষ্ট সম্পত্তি তার দখলে কিংবা তার ব্যবস্থাধীনে না রাখতে নির্দেশ দিতে পারবেন, যদি উক্ত ম্যাজিস্ট্রেট বিবেচনা করেন যে তাঁর নির্দেশে আইনের দ্বারা নিযুক্ত কোনো ব্যক্তির প্রতি বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতি, অথবা বাধা, বিরক্তি বা ক্ষতির ঝুঁকি, অথবা মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার প্রতি বিপদ, অথবা জনশান্তির বিঘ্ন, কিংবা দাঙ্গা বা মারামারি প্রতিরোধের সম্ভাবনা আছে অথবা প্রতিরোধে সহায়তা করবে।

(২) জরুরি পরিস্থিতিতে অথবা যার ওপর আদেশ দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর সময়মতো নোটিশ জারি করার সুযোগ না থাকলে এই ধারার আদেশ একতরফাভাবে প্রদান করা যাবে।

(৩) এই ধারার আদেশ কোনো ব্যক্তি বিশেষের প্রতি অথবা কোনো বিশেষ স্থানে ঘনঘন গমনকারী বা সফরকারী জনসাধারণের প্রতিও নির্দেশিত হতে পারবে।

(৪) যে কোনো ম্যাজিস্ট্রেট স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে অথবা কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই ধারানুসারে তাঁর নিজের বা তাঁর অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা তাঁর পূর্ববর্তী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত কোনো আদেশ বাতিল বা পরিবর্তন করতে পারবেন।

(৫) এরূপ কোনো আবেদনপত্র পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট আবেদনকারীকে শীঘ্রই ব্যক্তিগতভাবে বা কৌঁসুলীর মাধ্যমে তাঁর নিকট হাজির হওয়ার এবং আদেশের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ দেবেন, এবং ম্যাজিস্ট্রেট যদি আবেদন সম্পূর্ণরূপে বা আংশিক বাতিল করেন, তাহলে তিনি তা করার কারণ লিখিতভাবে লিপিবদ্ধ করবেন।

(৬) মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার প্রতি বিপদ অথবা দাঙ্গা বা মারামারির আশঙ্কা থাকা অবস্থায় সরকার সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা অন্যরূপ নির্দেশ না দিলে, এই ধারানুসারে প্রদত্ত কোনো আদেশ দুই মাসের বেশি বলবৎ থাকবে না।

(৭) এই ধারার বিধানসমূহ মহানগর এলাকায় প্রযোজ্য হবে না।

৪৪.
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৮ ধারার অধীনে স্থানীয় তদন্তের ব্যয় কে বহন করবে তা নির্ধারণ করবে-
  1. তদন্তকারী কর্মকর্তা
  2. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
  3. পক্ষগণ নিজেরা
  4. কমিশনার
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির-১৪৮: স্থানীয় তদন্ত:
(১) যখন এই অধ্যায়ের উদ্দেশ্যে একটি স্থানীয় তদন্ত প্রয়োজন হয়, তখন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তার অধীনস্থ কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে এই তদন্ত পরিচালনার জন্য নিয়োগ করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনার জন্য তাকে লিখিত নির্দেশনা সরবরাহ করতে পারেন।তিনি নির্ধারণ করতে পারেন যে, তদন্তের সমস্ত বা আংশিক ব্যয় কার দ্বারা পরিশোধিত হবে।

(২) এভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির প্রতিবেদন মামলায় প্রমাণ হিসেবে পড়া যেতে পারে।

৪৫.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫গ কোন ধরনের মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. যা কেবল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারযোগ্য
  2. যা এককভাবে দায়রা আদালতে বিচারযোগ্য
  3. যা পুলিশ তদন্ত ছাড়া বিচারযোগ্য নয়
  4. যা কেবল হাইকোর্টে বিচারযোগ্য
ব্যাখ্যা

⇒ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২০৫গ:
যখন কোনো মামলার সূত্রপাত পুলিশ প্রতিবেদন বা অন্য কোনো উপায়ে হয়, এবং আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির হয় বা আনা হয়, তখন যদি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মনে হয় যে উক্ত অপরাধটি এককভাবে দায়রা আদালতে (Court of Session) বিচারযোগ্য, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট নিম্নোক্ত কাজসমূহ করবেন:
(ক) মামলাটি দায়রা আদালতে পাঠাবেন;
(খ) এই বিধি অনুযায়ী জামিন বা রিমান্ড সংক্রান্ত বিধানসমূহ অনুসারে, আসামিকে বিচার চলাকালীন ও বিচারের সমাপ্তি পর্যন্ত হেফাজতে (custody) রাখার আদেশ দিতে পারবেন;
(গ) মামলার নথিপত্র, এবং প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপনের জন্য যেসব দলিল ও বস্তু রয়েছে, তা দায়রা আদালতে প্রেরণ করবেন;
(ঘ) মামলাটি দায়রা আদালতে স্থানান্তরের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিকে (Public Prosecutor) অবহিত করবেন।

৪৬.
অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পেলে ওসি প্রথমে কী করবেন?
  1. ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করবেন
  2. ইনকোয়েস্ট করবেন
  3. ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করবেন
  4. মৃতদেহ হাসপাতালে পাঠাবেন
ব্যাখ্যা

ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮ এর ধারা ১৭৪: আত্মহত্যা ইত্যাদি সম্পর্কে পুলিশ কর্তৃক তদন্ত ও প্রতিবেদন:
১. যদি পুলিশ স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো পুলিশ অফিসার জানতে পারেন যে কোনো ব্যক্তি-
(ক) আত্মহত্যা করেছে, অথবা
(খ) অপর কোনো ব্যক্তি, পশু, যন্ত্রপাতি বা দুর্ঘটনার মাধ্যমে নিহত হয়েছে, অথবা
(গ) এমন পরিস্থিতিতে মারা গেছে যা থেকে সন্দেহ হয় যে কেউ অপরাধ করেছে,
তাহলে তিনি অবিলম্বে নিকটবর্তী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করবেন, যিনি ইনকোয়েস্ট (মৃতদেহ পরীক্ষার তদন্ত) পরিচালনায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

২. এরপর, যদি সরকারের কোনো নির্দেশ বা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কোনো সাধারণ/বিশেষ আদেশ না থাকে, তাহলে তিনি ঘটনাস্থলে যাবেন এবং এলাকার অন্তত দুইজন গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে তদন্ত করবেন এবং মৃত্যুর কারণ সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট তৈরি করবেন। রিপোর্টে শরীরে থাকা আঘাত, ক্ষত বা অন্য কোনো চিহ্নের বর্ণনা এবং এগুলো কীভাবে বা কী অস্ত্র দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে তা উল্লেখ করা হবে।
বিশেষ নির্দেশ: যদি মৃত্যুর কারণ শত্রুপক্ষের আক্রমণ হয়, তাহলে সরকারের নির্দেশ ছাড়া এই ধরনের তদন্ত ও প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক নয়।

৩. প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট পুলিশ অফিসার এবং অন্যান্য সাক্ষীদের দ্বারা স্বাক্ষরিত হবে (যারা একমত), এবং তা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পাঠানো হবে।

৪. যদি মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সন্দেহ থাকে, বা পুলিশ অফিসার মনে করেন যে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন, তবে তিনি নিকটস্থ সিভিল সার্জন বা সরকার কর্তৃক নিযুক্ত যোগ্য চিকিৎসকের কাছে মৃতদেহ পাঠাবেন, যদি আবহাওয়া ও দূরত্বজনিত কারণে মৃতদেহ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।

৫. ইনকোয়েস্ট করার ক্ষমতা রাখেন:
- জেলা ম্যাজিস্ট্রেট;
- বা সরকার/জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

৪৭.
The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১০৭-এর অধীনে শান্তি রক্ষার জন্য bond সর্বোচ্চ কতদিনের জন্য হতে পারে?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ১০৭: শান্তি রক্ষার জন্য জামানত আদায় (Security for keeping the peace in other cases):
১। যখন একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা অন্য কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয় যে কোনো ব্যক্তি শান্তি ভঙ্গ বা জনশান্তি বিঘ্নিত করার সম্ভাবনা রাখে, অথবা কোনো অন্যায় কাজ করতে পারে যার ফলে শান্তি ভঙ্গ বা জনশান্তি বিঘ্নিত হতে পারে, তখন ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে, তাহলে তিনি নিচের বিধি অনুযায়ী সেই ব্যক্তিকে বাধ্য করতে পারেন যে, সে একটি জামিনপত্র (bond) দেবে, যেখানে জামিনদারসহ বা জামিনদারবিহীন হতে পারে, এবং যেটি শান্তি রক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় (সর্বোচ্চ এক বছর) পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

২। এই ধারা অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবশ্যই নিম্নলিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে:
- অভিযোগ করা ব্যক্তি অথবা যেই স্থান থেকে শান্তি ভঙ্গ বা বিঘ্নের আশঙ্কা করা হচ্ছে, তারা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ারের মধ্যে হতে হবে।
- এছাড়া, কোনো ম্যাজিস্ট্রেট এই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন না, যদি না উক্ত ব্যক্তি এবং স্থান উভয়ই তার এখতিয়ার এলাকার মধ্যে থাকে। এই ক্ষেত্রে, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ব্যতীত অন্য কেউ এ কাজ করতে পারবে না।

৪৮.
ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৯৪ অনুযায়ী কে মামলা প্রত্যাহার করতে পারে?
  1. অভিযোগকারী
  2. বিচারকারী আদালত
  3. পাবলিক প্রসিকিউটর
  4. আমল গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট
ব্যাখ্যা

• ফৌজদারি কার্যবিধি ধারা ৪৯৪: মামলা প্রত্যাহারের ফল:
পাবলিক প্রসিকিউটর রায় ঘোষণার পূর্বে আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত মামলা সাধারণভাবে বা যে সকল অপরাধে তার বিচার হচ্ছে, তার যেকোন এক বা একাধিক অপরাধ প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং উক্ত প্রত্যাহারের দরুন-
(ক) অভিযোগ প্রণয়নের পূর্বে তা করা হলে উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দান করতে হবে; এবং
(খ) অভিযোগ প্রণয়নের পর তা করা হলে বা এই বিধির অধীন কোন অভিযোগ প্রণয়ন প্রয়োজন না হলে, উক্ত এক বা একাধিক অপরাধ সম্পর্কে অভিযুক্তকে খালাস দিতে হবে।

৪৯.
The Code of Criminal Procedure,1898 এর ধারা ৫৪৪ এর অধীনে সুরক্ষা কার জন্য প্রযোজ্য হতে পারে?
  1. সাক্ষী
  2. ভুক্তভোগী
  3. অভিযোগকারী
  4. উপরোক্ত সকলের জন্য
ব্যাখ্যা

The Code of Criminal Procedure, 1898 এর ধারা ৫৪৪: অভিযোগকারী, সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের খরচ ও সুরক্ষা:
(১) সরকারের কোনো আদেশ থাকলে তার অন্তর্ভুক্ত, যে কোনো ফৌজদারি আদালত প্রয়োজন মনে করলে, অভিযোগকারী বা সাক্ষীর যুক্তিসঙ্গত খরচ প্রদানের নির্দেশ দিতে পারে। এটি সেই ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য যারা কোনো অনুসন্ধান, বিচার বা অন্য কোন কার্যক্রমে আদালতের সামনে উপস্থিত হন এই কোড অনুযায়ী।

(২) যে কোনো আদালত, অভিযোগকারী, ভুক্তভোগী বা সাক্ষীর আবেদন বা স্বপ্রণোদিত (suo moto) ভিত্তিতে, ফৌজদারি কার্যক্রমের যে কোনো পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ বা পদক্ষেপ নিতে পারে যাতে তাদের সুরক্ষা বা নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।

৫০.
দণ্ডবিধির ধারা ১০৯ প্রযোজ্য হতে হলে কোন শর্তটি থাকতে হবে?
  1.  প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হতে হবে
  2.  প্ররোচনাকারী ঘটনাস্থলে থাকতে হবে
  3. প্ররোচনাকারীর স্বীকারোক্তি প্রয়োজন
  4. অপরাধ পুলিশের সামনে ঘটতে হবে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হতে হবে।

⇒ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারা অনুসারে,
যদি কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধে প্ররোচনা (Abetment) দেয় এবং সেই প্ররোচনার ফলে অপরাধটি সংঘটিত হয়, তবে প্ররোচনাকারীকে অপরাধের জন্য নির্ধারিত শাস্তি দেওয়া হবে। এই ধারাটি তখন প্রযোজ্য হয় যখন দণ্ডবিধিতে প্ররোচনার জন্য আলাদা বা স্পষ্ট শাস্তির বিধান নেই।

উদাহরণ:
যদি A, B কে কোনো অপরাধ করতে প্ররোচনা দেয় এবং B সেই অপরাধটি করে, তবে A কেও B এর মতো একই শাস্তি দেওয়া হবে, যদি দণ্ডবিধিতে প্ররোচনার জন্য আলাদা শাস্তির বিধান না থাকে।

ধারা ১০৯-এর মূল ভিত্তি হলো- প্ররোচনা + সেই প্ররোচনার ফলে অপরাধ সংঘটন।

৫১.
মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে যদি কোনো নিরপরাধ মানুষের মৃত্যুদণ্ড হয় ,তাহলে উক্ত মিথ্যা সাক্ষ্যদানকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
  3. ৭ বছরের কারাদণ্ড
  4. ১০ বছরের কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৯৪ ধারার বিধান- মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা সাক্ষ্যদান বা মিথ্যা সাক্ষ্য তৈরি করা:
কোন ব্যক্তি যদি মিথ্যা সাক্ষ্যদান করে বা তৈরি করে এবং তদ্বারা কাউকে বর্তমানে বলবৎ কোন আইনবলে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধে দণ্ডিত করানোর উদ্দেশ্যেই তা করে থাকে কিংবা তার এইরূপ মিথ্যা সাক্ষ্য দান বা তৈরি করার ফলে কাউকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডনীয় অপরাধে দণ্ডিত করা হতে পারে জেনেই যদিও তা করে থাকে, তবে সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা দশ বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে; তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হবে।


⇒ যদি তার ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে সাজাপ্রাপ্ত হয় এবং সাজা বলবৎ হয়:
যদি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যের ফলে কোন নির্দোষ ব্যক্তি সাজাপ্রাপ্ত হয় ও সাজা বলবৎ হয়, তবে যে ব্যক্তি অনুরূপ মিথ্যা সাক্ষ্যদান করেছে, সে ব্যক্তি হয় মৃত্যুদণ্ডে, না হয় এই ধরায় ইতোপূর্বে বর্ণিত সাজায় সাজাপ্রাপ্ত হবে।

৫২.
দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ৩০০ ধারার ব্যতিক্রম ৫ কোন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য?
  1.  ভিকটিম যদি অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়
  2. ভিকটিম স্বেচ্ছায় মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করলে
  3. ভিকটিম বাধ্য হয়ে আত্মরক্ষা করলে
  4. হত্যাকারীর ভুলবশত মৃত্যু ঘটালে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: B. ভিকটিম স্বেচ্ছায় মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করলে।

দণ্ডবিধির ৩০০ ধারার বিধান- খুন:

⇒ ব্যতিক্রম ১:
যেক্ষেত্রে শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুন পরিগণিত হবে না-
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি মারাত্মক ও আকস্মিক প্ররোচনার ফলে অপরাধী আত্ম-সংযমশক্তি হারাইয়া ফেলে এবং যে ব্যক্তি প্ররোচনা দান করেছে, সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায় অথবা ভুলক্রমে বা দুর্ঘটনাক্রমে অপর কোন ব্যক্তির মৃত্যু ঘটায়।
উপরোক্ত ব্যতিক্রমটি নিম্নোক্ত শর্তাবলী সাপেক্ষে:-
প্রথমত, প্ররোচনাটি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করার বা তার ক্ষতি সাধনের অজুহাতস্বরূপ অপরাধী কর্তৃক স্বয়ং প্রার্থীত বা প্ররোচিত হতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত, উক্ত প্ররোচনাটি আইনানুসারে কৃত কোন কার্য দ্বারা বা কোন সরকারী কর্মচারীর সরকারী কর্মচারী হিসেবে যথাযোগ্য ক্ষমতাবলীর আইনসম্মত প্রয়োগসঞ্জাত হতে পারবে না।
তৃতীয়ত, প্ররোচনা আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের আইনসম্মত প্রয়োগক্রমে সম্পাদিত কোন কার্য পালন হতে পারবে না।
ব্যাখ্যা:- প্ররোচনাটি এমন মারাত্মক ও আকস্মিক ছিল কিনা, যার ফলে অপরাধটি খুনের শামিল হবে না, তা একটি ঘটনাগত প্রশ্ন।

⇒ ব্যতিক্রম ২:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধী সরল মনে তার আত্মরক্ষার অথবা সম্পত্তি রক্ষার ব্যক্তিগত অধিকার প্রয়োগক্রমে তাকে আইন প্রদত্ত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং যার বিরুদ্ধে সে এই অধিকার প্রয়োগ করে, কোনরূপ পূর্ব-পরিকল্পনা ব্যতীত অথবা অনুরূপ অধিকার রক্ষার জন্য যতটুকু ক্ষতিসাধন করা আবশ্যক, তদপেক্ষা বেশি ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা ব্যতিরেকে, তার মৃত্যু ঘটায়।

⇒ ব্যতিক্রম ৩:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি দোষী একজন সরকারী কর্মচারী হিসেবে অথবা সরকারী কর্মচারীর সহায়তাকারী হিসেবে তাকে প্রদত্ত আইনানুগ ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এবং এমন একটি কাজ সম্পাদন করে মত্যু ঘটায়, যা সে অনুরূপ সরকারী কর্মচারীর দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করার জন্য আবশ্যকীয় ও আইনসম্মত বলে সরল মনে বিশ্বাস করে এবং সে ব্যক্তির মৃত্যু ঘটলে তার প্রতি কোনরূপ দুরভিসন্ধি ছাড়াই কার্যটি করে।

⇒ ব্যতিক্রম ৪:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি অপরাধটি কোন আকস্মিক বিবাদের সময় আকস্মিক উত্তেজনার কারণে কোনরূপ পূর্ব পরিকল্পনা ছাড়াই সংঘটিত হয় এবং অপরাধী কোন অন্যায় সুযোগ গ্রহণ না করে থাকে অথবা নিষ্ঠুরভাবে বা অস্বাভাবিকভাবে কার্য না করে থাকে।
ব্যাখ্যা:- এইরূপ ক্ষেত্রে কোন পক্ষ প্রথম উস্কানি দেয় বা প্রথম আঘাত করে, তা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ নয়।

⇒ ব্যতিক্রম ৫:
শাস্তিযোগ্য নরহত্যা খুনের সামিল হবে না, যদি সে ব্যক্তির মৃত্যু হয়, সে ব্যক্তি আঠারো বৎসরের উর্ধ্ব বয়স্ক হলে স্বেচ্ছায় স্বীয় সম্মতিক্রমে মৃত্যুবরণ করে বা মৃত্যুর ঝুঁকি গ্রহণ করে।

৫৩.
দণ্ডবিধির ধারা ৩৪৪ প্রযোজ্য হতে হলে আটকের ন্যূনতম সময় কত হতে হবে?
  1. ৩ দিন
  2. ৭ দিন
  3. ১০ দিন
  4. ১৫ দিন
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৪৪ ধারার বিধান- দশ বা ততোধিক দিনব্যাপি অবৈধভাবে আটক:
কোন ব্যক্তি যদি কাউকে দশ বা ততোধিক দিনের জন্য অবৈধভাবে আটক করে রাখে; তবে উক্ত ব্যক্তি তিন বৎসর পর্যন্ত যে কোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 344. Wrongful confinement for ten or more days:
Whoever wrongfully confines any person for ten days, or more, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to three years, and shall also be liable to fine.

৫৪.
দণ্ডবিধির ধারা ১৮৮ কোন অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত?
  1. সরকারি সম্পত্তি ক্ষতি করা
  2. সরকারি নথি জাল করা
  3. সরকারি কর্মচারীর আদেশ অমান্য করা
  4. সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেয়া
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধি ১৮৮ ধারা: সরকারি কর্মচারীর বিধিসম্মত ঘোষিত আদেশ অমান্য করা-
যে কেউ, যদি জানে যে কোনো সরকারি কর্মচারী, যিনি আইনানুযায়ী কোনো আদেশ ঘোষণার ক্ষমতা রাখেন, তাকে (অর্থাৎ ওই ব্যক্তিকে) কোনো বিশেষ কাজ থেকে বিরত থাকতে বা তার দখলে বা তত্ত্বাবধানে থাকা কোনো সম্পত্তির বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং সে ব্যক্তি সেই আদেশ লঙ্ঘন করে—

তাহলে: যদি তার এই অবাধ্যতা কোনো বৈধভাবে নিযুক্ত ব্যক্তির জন্য বাধা, বিরক্তি, ক্ষতি বা তার সম্ভাবনা সৃষ্টি করে, তাহলে:
- সর্বোচ্চ এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, বা
- ২০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা
- উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

আর যদি এই অবাধ্যতা মানবজীবন, স্বাস্থ্য বা নিরাপত্তার জন্য বিপদ সৃষ্টি করে বা এর সম্ভাবনা থাকে, অথবা দাঙ্গা বা সংঘর্ষের কারণ হয় বা তার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে:
- সর্বোচ্চ ছয় মাসের যে কোনো ধরণের (সাধারণ বা সশ্রম) কারাদণ্ড, বা
- ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা
- উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারে।

৫৫.
‘ক’ দণ্ডবিধির ৩২৫ ধারার অধীন গুরুতর আঘাত করার অপরাধে অভিযুক্ত হলো। 'ক' আদালতে প্রমাণ করলো যে, সে মারাত্মক ও আকস্মিক উস্কানিতে উক্ত আঘাত করেছিল। এক্ষেত্রে তাকে দণ্ডবিধির কোন ধারার অধীনে দণ্ডিত করা যেতে পারে?
  1. ৩৩৪ ধারা 
  2. ৩৩৫ ধারা
  3. ৩৩৬ ধারা
  4. উত্তেজনাবশত হওয়ায় তাকে দণ্ডিত করা যাবে না
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : ৩৩৫ ধারা। 

দণ্ডবিধির
ধারা ৩৩৫: উসকানির কারণে স্বেচ্ছায় দেওয়া গুরুতর আঘাত-
যে ব্যক্তি গুরুতর এবং আকস্মিক উসকানির কারণে স্বেচ্ছায় গুরুতর আঘাত প্রদান করবে, যদি সে এই আঘাত দেওয়ার উদ্দেশ্য না থাকে বা তার জানা না থাকে যে, সে অন্য কোনো ব্যক্তিকে আঘাত করতে পারে, যিনি উসকানি দিয়েছেন, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ চার বছরের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ড, অথবা সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অথবা উভয়ই দণ্ড দেওয়া হতে পারে।

৫৬.
৭ বছর বা তদূর্ধ্ব দণ্ডযোগ্য অপরাধ সম্পর্কিত মিথ্যা অভিযোগ রুজু করা হলে, দণ্ডবিধির ২১১ ধারার বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি-
  1. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড + অর্থদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড + অর্থদণ্ড
  3. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড + অর্থদণ্ড
  4. ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড + অর্থদণ্ড
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ২১১ ধারা বিধান- ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে অপরাধ বিষয়ক মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন:
কোন ব্যক্তি যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে ক্ষতিসাধনের জন্য উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু করার বা অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ উত্থাপন করার কোন সংগত বা আইনানুগ যুক্তি নাই বলে জানা সত্ত্বেও উক্ত অন্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারি মামলা রুজু করে বা অনুরূপ মামলা রুজু করায়, কিংবা উক্ত অন্য ব্যক্তির কোন অপরাধ করেছে বলে মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপন করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে, অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয় দণ্ডেই দণ্ডিত হবে;

এবং যদি অনুরূপ ফৌজদারি মামলায়, মৃত্যুদণ্ডে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে, কিংবা সাত বৎসর বা তদূর্ধ্ব মেয়াদের কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় কোন অপরাধ সংঘটনের মিথ্যা অভিযোগ রুজু করা হয়, তবে সে ব্যক্তি সাত বৎসর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং এতদ্‌ব্যতীত তাকে অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা যাবে।

৫৭.
'ক' জানে যে, তার বিরুদ্ধে একজন ব্যবসায়ী পাওনা টাকার মামলা করতে পারেন। তাই ''ক' তার মূল্যবান মোটরসাইকেল বন্ধুর বাসায় লুকিয়ে রাখে, যাতে আদালত মোটরসাইকেল বাজেয়াপ্ত করতে না পারে। এক্ষেত্রে 'ক' এর কাজ কোন অপরাধের মধ্যে পড়ে?
  1. জালিয়াতি
  2. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  3. অসাধুভাবে সম্পত্তি আত্মসাৎ
  4. অসাধুভাবে সম্পত্তি গোপন করা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) অসাধুভাবে সম্পত্তি গোপন করা।

⇒ মিজান ইচ্ছাকৃতভাবে তার সম্পত্তি (মোটরসাইকেল) গোপন করেছে, যাতে আদালত তা বাজেয়াপ্ত করতে না পারে। এটি দণ্ডবিধি ধারা ৪২৪–এর অসাধু বা প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি গোপন করা বা অপসারণ করা— অপরাধের মধ্যে পড়ে।

দণ্ডবিধির ৪২৪ ধারা: অসাধু বা প্রতারণামূলকভাবে সম্পত্তি অপসারণ বা গোপন করা:
যে ব্যক্তি অসাধু বা প্রতারণামূলকভাবে নিজের বা অন্যকারো সম্পত্তি গোপন করে অথবা অপসারণ করে, অথবা এমন কাজে সহায়তা করে যা সম্পত্তি গোপন বা অপসারণে সহায়তা করে, অথবা নিজের কোনো দাবি বা দাবির ছেড়ে দেয় যা তার অধিকারভুক্ত, তাকে দুই বছর পর্যন্ত মেয়াদের জন্য কারাদণ্ড, অথবা অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

৫৮.
নিম্নের কোনটি চুরির অপরিহার্য উপাদান নয়?
  1. সম্পত্তি অস্থাবর হওয়া
  2. অসাধুভাবে গ্রহণের উদ্দেশ্য
  3. মালিকের উপস্থিতি
  4. সম্পত্তি স্থানান্তর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) মালিকের উপস্থিতি।

⇒ দণ্ডবিধির ৩৭৮ ধারার বিধান- চুরি:
কোন ব্যক্তি যদি কারো দখল হতে তার সম্মতি ব্যতীত কোন অস্থাবর সম্পত্তি অসাধুভাবে গ্রহণ করার উদ্দেশ্য নিয়ে উক্ত সম্পত্তি অনুরূপভাবে গ্রহণের জন্য স্থানান্তর করে, তবে উক্ত ব্যক্তি চুরি করেছে বলে গণ্য হবে।

দণ্ডবিধির ধারা ৩৭৮ অনুযায়ী চুরি (Theft) সম্পন্ন হতে ৪টি অপরিহার্য উপাদান থাকতে হয়-
- অস্থাবর সম্পত্তি হতে হবে;
- মালিক বা দখলদারের সম্মতি ছাড়া হতে হবে;
- অসাধু উদ্দেশ্যে গ্রহণের অভিপ্রায় থাকতে হবে;
- সম্পত্তি স্থানান্তর করতে হবে।

কিন্তু মালিকের উপস্থিতি- চুরির অপরিহার্য উপাদান নয়। মালিক উপস্থিত থাকুক বা না থাকুক—চুরি হতে পারে।

৫৯.
'ক' একজন সরকারি কর্মচারী। তার সরকারি কর্তব্যপালনে বাধা দেবার উদ্দেশ্যে 'খ', 'ক' কে আক্রমণ করলে 'খ' এর সর্বোচ্চ শাস্তি নিচের কোনটি হতে পারে?
  1. ৬ মাস কারাদণ্ড
  2. ১ বছর কারাদণ্ড
  3. ২ বছর কারাদণ্ড
  4. ৩ বছর কারাদণ্ড 
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : ৩ বছর কারাদণ্ড।

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৩৫৩ অনুসারে, সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনের সময় বা তাকে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করলে শাস্তি ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, বা উভয়ই।


⇒ দণ্ডবিধির ৩৫৩ ধারার বিধান:
কোনো ব্যক্তি যদি এমন অন্য কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ করে বা তার ওপর বল প্রয়োগ করে, যে ব্যক্তি সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী হিসেবে কর্তব্য সম্পাদনরত অথবা অনুরূপ কর্মচারীকে তার সরকারি কর্মচারী হিসেবে করণীয় কর্তব্য সম্পাদনে বাধা দানের উদ্দেশ্যে তার ওপর অনুরূপ আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ করে তিন বছর বা যেকোনো মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে, এমনকি উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৬০.
কোন অভিপ্রায় থাকলে দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ১৬৬ এর দায় সৃষ্টি হয়?
  1. নিজের সুবিধা লাভের উদ্দেশ্য
  2. রাষ্ট্রের ক্ষতি করার উদ্দেশ্য
  3. অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতি হওয়ার জ্ঞান বা ধারণা থাকা
  4. অন্য কোনো ব্যক্তির সুবিধা লাভের উদ্দেশ্য
ব্যাখ্যা

দণ্ডবিধির, ১৮৬০ এর ধারা ১৬৬: আইন লঙ্ঘনকারী সরকারি কর্মচারী, যার উদ্দেশ্য অন্য কোনো ব্যক্তির ক্ষতি করা:
যে ব্যক্তি, সরকারি কর্মচারী হিসেবে, আইন অনুযায়ী যে ভাবে তার কর্তব্য পালন করতে হবে তা জানার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে আইন লঙ্ঘন করে, এবং জানে বা ধারণা করে যে তার এই অমান্যতার ফলে কোনো ব্যক্তির ক্ষতি হতে পারে, সে ব্যক্তি এক বছরের জন্য বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবে, অথবা উভয়ই হতে পারে।

উদাহরণ:
ক, একজন কর্মকর্তা, আইন অনুযায়ী কোনো সম্পত্তি কার্যকর করতে নির্দেশপ্রাপ্ত, যাতে খ এর পক্ষে আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ঘটাতে পারে, যদি সে সচেতনভাবে সেই নির্দেশ অমান্য করে এবং জানে যে এর ফলে খ এর ক্ষতি হতে পারে, তাহলে এ ব্যক্তি উক্ত ধারায় অপরাধ করেছেন।

৬১.
The Penal Code, 1860 এর ধারা ৮২ কাদের সুরক্ষা দেয়?
  1. ৯–১২ বছরের শিশুদের
  2. কেবল ৯ বছরের নিচের শিশুদের
  3. মানসিক অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তিদের
  4. কিশোর অপরাধীদের
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৮২ ধারার বিধান- নয় বৎসরের কম বয়সের শিশু দ্বারা সম্পাদিত কাজ:
নয় বৎসরের কম বয়স্ক শিশুর কোন কার্যই অপরাধ নয়।

Section 82- Act of a child under nine years of age:
Nothing is an offence which is done by a child under nine years of age.

৬২.
চাকর বা কর্মচারী কর্তৃক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি অসৎভাবে আত্মসাৎ এর সর্বোচ্চ কারাদণ্ড-
  1. ১ বছর
  2. ৩ বছর
  3. ৫ বছর
  4. ৭ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ধারা ৪০৪: মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তাঁর অধিকারে থাকা সম্পত্তি অসৎভাবে আত্মসাৎ-
যে ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে কোনো সম্পত্তি আত্মসাৎ করে বা নিজের কাজে ব্যবহার করে, এই জেনে যে উক্ত সম্পত্তি মৃত ব্যক্তির মৃত্যুর সময় তার অধিকারে ছিল এবং এখনো সেই সম্পত্তি কোনো আইনগতভাবে অধিকারে থাকা ব্যক্তির হেফাজতে যায়নি—তাহলে সে ব্যক্তি অনধিক তিন বছর মেয়াদের যেকোনো প্রকার কারাদণ্ডে (সশ্রম বা বিনাশ্রম) দণ্ডিত হবে এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হতে পারে। যদি অপরাধী ঐ মৃত ব্যক্তির চাকর বা কর্মচারী হয়ে থাকে, তাহলে কারাদণ্ডের মেয়াদ সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত হতে পারে।

উদাহরণ:
Z মারা যায় এবং তার মৃত্যুর সময় তার হেফাজতে আসবাবপত্র ও অর্থ ছিল। তার চাকর A, সেই অর্থ এমন অবস্থায় অসৎভাবে আত্মসাৎ করে যখন তা এখনো কোনো বৈধ উত্তরাধিকারীর হেফাজতে যায়নি। এই অবস্থায়, A দণ্ডবিধির ৪০৪ ধারায় অপরাধ করেছে।

৬৩.
নিচের কোনটি দণ্ডবিধির ধারা ৫৩-এর আওতাভুক্ত শাস্তি নয়?
  1. মৃত্যুদণ্ড
  2. অর্থদণ্ড
  3. সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত
  4. বেত্রাঘাত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) বেত্রাঘাত।

⇒ দণ্ডবিধির ৫৩ ধারায় পাঁচ প্রকার শাস্তি উল্লেখ আছে। যথা:
(i) মৃত্যুদণ্ড (Death penalty);
(ii) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (Imprisonment for life);
(iii) কারাদণ্ড (Imprisonment) দুই প্রকার:
ক) সশ্রম( Rigorous, that is, with hard labour) এবং
খ) বিনাশ্রম (Simple);
(iv) সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত (forfeiture of property);
(v) অর্থদণ্ড (fine).

ব্যাখ্যা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সর্বদায় সশ্রম কারাদণ্ড হবে। 

⇒ বেত্রাঘাত (whipping) ধারা ৫৩-এর আওতাভুক্ত নয়।

৬৪.
‘ভুল তথ্য ইচ্ছাকৃত গোপন করা’- এটি কোন অপরাধের অংশ?
  1. জালিয়াতি
  2. প্রতারণা
  3. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ
  4. অনিষ্ট সাধন
ব্যাখ্যা

The Penal Code, 1860 এর ধারা ৪১৫ - প্রতারণা (Cheating):
যে কেউ, কোনো ব্যক্তিকে প্রতারণা করে এবং সেই প্রতারণার মাধ্যমে সেই প্রতারিত ব্যক্তিকে কাউকে কোনো সম্পত্তি দিতে বা কাউকে সেই সম্পত্তি ধরে রাখতে সম্মতি জানাতে প্ররোচিত করে, অথবা এমন কিছু করতে বা না করতে প্ররোচিত করে, যা সে প্রতারিত না হলে করত না বা বাদ দিত না, এবং যার ফলে সেই ব্যক্তির দেহ, মন, সুনাম বা সম্পত্তির ক্ষতি বা ক্ষতির সম্ভাবনা ঘটে, তাহলে ঐ ব্যক্তিকে “প্রতারক” বলা হয়।

ব্যাখ্যা: যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে, তবে সেটিও এই ধারার অধীনে প্রতারণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণসমূহ:
(ক) A মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বলে যে সে সরকারি চাকরিজীবী। এভাবে সে Z-কে প্রতারিত করে এবং Z তাকে পণ্য দেয়, যা A আসলে পরিশোধ করার ইচ্ছা রাখে না। → A প্রতারণা করেছে।

(খ) A একটি জিনিসে নকল চিহ্ন লাগিয়ে Z-কে এই বিশ্বাসে ঠকায় যে এটা কোনো বিখ্যাত কোম্পানির তৈরি, এবং Z সেটি কিনে ফেলে। → A প্রতারণা করেছে।

(গ) A একটি ভুয়া নমুনা দেখিয়ে Z-কে বিশ্বাস করায় যে পুরো মাল সে রকমই, এবং Z তাকে দাম দিয়ে পণ্য কিনে। → A প্রতারণা করেছে।

৬৫.
“রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ” দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর কোন অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে?
  1. পঞ্চম অধ্যায়
  2. ষষ্ঠ অধ্যায়
  3. নবম অধ্যায়
  4. নবম-ক অধ্যায়
ব্যাখ্যা

 ⇒ দণ্ডবিধি, ১৮৬০ আইনে মোট অধ্যায় ২৩ টি এবং মোট ধারা ৫১১টি।

- গুরুত্বপূর্ণ কিছু অধ্যায়ের নাম:

দ্বিতীয় অধ্যায়: সাধারণ ব্যাখ্যা সমূহ,
তৃতীয় অধ্যায়: শাস্তি,
চতুর্থ অধ্যায়: সাধারণ ব্যতিক্রম সমূহ,
পঞ্চম অধ্যায়: অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনা,
পঞ্চম-ক অধ্যায়: অপরাধ মূলক ষড়যন্ত্র,
ষষ্ঠ অধ্যায়: রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ,
নবম অধ্যায়: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংক্রান্ত অপরাধ,
নবম-ক অধ্যায়: নির্বাচন সংক্রান্ত অপরাধ,
ষোড়শ অধ্যায়: মানবদেহ সংক্রান্ত অপরাধ,
সপ্তদশ অধ্যায়: সম্পত্তির বিরুদ্ধে অপরাধ,
বিংশ অধ্যায়: বিবাহ সংক্রান্ত অপরাধ,
একবিংশ অধ্যায়: মানহানি,
ত্রয়োবিংশ অধ্যায়: অপরাধ সংগঠনের উদ্যোগ।

৬৬.
চোরাই মাল কেউ অসাধুভাবে গ্রহণ করলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি কী?
  1. ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  2. ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড 
  3. ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
  4. ৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড
ব্যাখ্যা

• চোরাই মাল (Stolen Property):
দণ্ডবিধির ৪১০ ধারা অনুযায়ী- যে সম্পত্তির দখল চুরি বা জোরপূর্বক আদায় বা দস্যুতার ফলে হস্তান্তরিত হয়েছে এবং যে সম্পত্তি অপরাধমূলকভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছে বা অপরাধমূলকভাবে বিশ্বাসভঙ্গ করা হয়েছে, সে সম্পত্তিকে “চোরাই সম্পত্তি” বলে গণ্য করতে হবে। অর্থাৎ, যে সম্পত্তি নিম্নোক্ত উপায়ে অর্জিত হয়েছে তাকে "চোরাই সম্পত্তি" বলে গণ্য করা হবে:
১. চুরি করে অর্জিত সম্পত্তি;
২. জোরপূর্বক আত্মসাৎ করে অর্জিত সম্পত্তি;
৩. দস্যুতা করে আনীত সম্পত্তি;
৪. অপরাধমূলক উপায়ে অর্জিত সম্পত্তি;
৫. অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্জিত সম্পত্তি।

শাস্তি:
দণ্ডবিধির ৪১১ ধারা অনুসারে, যে ব্যক্তি চোরাই মাল গ্রহণ করে, সেই ব্যক্তি ৩ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে।

৬৭.
দণ্ডবিধির ধারা ৩৯২ কোন অপরাধের শাস্তি নির্ধারণ করে?
  1. চুরি
  2. ডাকাতি
  3. দস্যুতা
  4. বলপূর্বক গ্রহণ
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারার বিধান- দস্যুতার সাজা:
কোন ব্যক্তি যদি দস্যুতা সংঘটন করে তবে সে ব্যক্তি দশ বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থ দণ্ডেও দণ্ডিত হবে। এবং যদি সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মধ্যবর্তী সময় রাজপথে দস্যুতা অনুষ্ঠিত হয়, 
তবে কারাদণ্ডের মেয়াদ চৌদ্দ বৎসর পর্যন্ত হতে পারে।

Section 392- Punishment for robbery:
Whoever commits robbery shall be punished with rigorous imprisonment for a term which may extend to ten years, and shall also be liable to fine; and,
 if the robbery be committed on the highway between sunset and sunrise, the imprisonment may be extended to fourteen years.

৬৮.
মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি সমাবেশে যোগদান করার সর্বোচ্চ কারাদণ্ড কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ২ বছর
  4. ৫ বছর
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা- মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বেআইনি সমাবেশে যোগদান করা:
কোন ব্যক্তি যদি মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অথবা যে বস্তু অপরাধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে মৃত্যু ঘটতে পারে তা কর্তৃক সজ্জিত হয়ে কোন বেআইনি সমাবেশে যোগদান করে, তবে সে ব্যক্তি দুই বৎসর পর্যন্ত যেকোন মেয়াদের সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদণ্ডে অথবা অর্থদণ্ডে অথবা উভয়বিধ দণ্ডেই দণ্ডিত হবে।

⇒ The Penal Code, 1860- Section 144- Joining unlawful assembly armed with deadly weapon:
Whoever, being armed with any deadly weapon, or with anything which, used as a weapon of offence, is likely to cause death, is a member of an unlawful assembly, shall be punished with imprisonment of either description for a term which may extend to two years, or with fine, or with both.

৬৯.
কত বয়সের নিচে কোনো ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা করলে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর ধারা ৩০৫ প্রযোজ্য হবে?
  1. ১৪ বছর
  2. ১৬ বছর
  3. ১৮ বছর
  4. বয়স নির্ধারিত নেই
ব্যাখ্যা

⇒ দণ্ডবিধির ৩০৫ ধারার বিধান- শিশুর বা উন্মাদ ব্যক্তির আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান:
যদি আঠারো বৎসরের কম বয়স্ক কোন ব্যক্তি, কোন  ব্যক্তি, প্রলাপগ্রস্ত ব্যক্তি, নির্বোধ ব্যক্তি, বা কোন ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আত্মহত্যা করে, তবে যে ব্যক্তি এই আত্মহত্যায় সহায়তা বা প্ররোচনা দান করে, সে ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে অথবা অনধিক দশ বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে, এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবে।

The Penal Code, 1860: Section 305: Abetment of suicide of child or insane person:
If any person under eighteen years of age, any insane person, any delirious person, any idiot, or any person in a state of intoxication commits suicide, whoever abets the commission of such suicide shall be punished with death or imprisonment for life, or imprisonment for a term not exceeding ten years, and shall also be liable to fine.

৭০.
In civil cases, character to prove conduct imputed, irrelevant- এটি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার বিষয়বস্তু?
  1. ৫০ ধারা
  2. ৫২ ধারা
  3. ৫৪ ধারা
  4. ৫৫ ধারা
ব্যাখ্যা

ধারা ৫২: দেওয়ানী মামলায় আচরণ প্রমাণের জন্য চরিত্র অপ্রাসঙ্গিক (In civil cases, character to prove conduct imputed, irrelevant):
দেওয়ানী মামলায় সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির চরিত্র এমন যে তার প্রতি আরোপিত কোনো আচরণকে সম্ভাব্য বা অসম্ভাব্য বলে মনে হয়, এই বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক, তবে ততটুকু ব্যতীত যতটুকু এই চরিত্র অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য থেকে প্রকাশিত হয়।

সহজ ভাষায়:
দেওয়ানী মামলায় কোনো ব্যক্তির চরিত্র কেমন তা দিয়ে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য কিনা তা প্রমাণ করা যাবে না। তবে যদি মামলার অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য থেকে তার চরিত্র সম্পর্কে কিছু জানা যায়, তাহলে সেটি বিবেচনা করা যাবে।

৭১.
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮৯ক কোন বিষয়ের উপর আদালতকে অনুমান করার অধিকার দেয়?
  1. ডিজিটাল রেকর্ড
  2. ফরেনসিক প্রমাণ
  3. ডিজিটাল স্বাক্ষর
  4. ডিজিটাল চুক্তি
ব্যাখ্যা

ধারা ৮৯ক: শারীরিক বা ফরেনসিক সাক্ষ্য হিসাবে অনুমান:
আদালত অনুমান করতে পারে যদি না বিপরীত প্রমাণিত হয় যে, শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণগুলি সেই ব্যক্তির অন্তর্গত বা তৈরি করা হয়েছে যার কাছ থেকে এটি সংগ্রহ করা হয়েছে।

Section- 89A. Presumption as to physical or forensic evidence-
The Court may presume unless contrary is proved that the physical or forensic evidence belongs to or is created by that person from whom it purports to have been collected.

৭২.
কোন পরিস্থিতিতে ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক? 
  1. যখন ডিজিটাল রেকর্ড আদালতে দাখিল করা হয়
  2. যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উঠে
  3. যখন ডিজিটাল রেকর্ড কপি করা হয়
  4. যখন ডিজিটাল রেকর্ডকে সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২২ক ধারার বিধান: যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক:
দাখিলকৃত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা নিয়ে কোন প্রশ্ন উত্থাপন না হলে, ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু হিসাবে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়।

⇒ অর্থাৎ, ডিজিটাল রেকর্ডের authenticity (বিশুদ্ধতা) চ্যালেঞ্জ করা হলে তবেই মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হয়।

৭৩.
The Evidence Act, 1872 এর ধারা ২৫ কোন নিয়মের ব্যতিক্রম?
  1. Res gestae rule
  2. Hearsay rule
  3. Confession rule
  4. Opinion rule
ব্যাখ্যা

সাধারণত Confession Rule অনুযায়ী-
একজন অভিযুক্ত যদি নিজের অপরাধ স্বীকার করে (confession), তবে সেই স্বীকারোক্তি আদালতে অত্যন্ত শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে গণ্য। অর্থাৎ, অভিযুক্তের নিজের মুখে বলা দোষ স্বীকার- সাধারণত স্বীকারোক্তির (confession) নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য প্রমাণ।

কিন্তু Evidence Act-এর ধারা ২৫ একটি ব্যতিক্রম সৃষ্টি করে। ধারা ২৫ বলে-
“কোনো পুলিশ অফিসারের নিকট প্রদত্ত স্বীকারোক্তি আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।”

অর্থাৎ, অভিযুক্ত নিজের মুখে অপরাধ স্বীকার করলেও ➡ যদি তা পুলিশের সামনে করা হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। এটাই Confession Rule-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রম।

৭৪.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় যদি দু’পক্ষের মধ্যে চুক্তি থাকে যে কোনো স্বীকৃতি সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া হবে না, তাহলে সেই স্বীকৃতি-
  1. যেকোনো পক্ষের ইচ্ছায় গ্রহণযোগ্য
  2. আদালতের ইচ্ছায় গ্রহণযোগ্য
  3. অপ্রাসঙ্গিক
  4. সর্বদাই প্রমাণ হিসাবে গ্রহণযোগ্য
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ২৩ ধারার বিধান: দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক:
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি যদি এরূপ প্রকাশ্য শর্তাধীন করা হয় যে, ঐ সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না অথবা যদি এরূপ পরিস্থিতিতে করা হয় যে, তা সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বলে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে আদালত অনুমান করতে পারেন, তবে তা প্রাসঙ্গিক হবে না।

ব্যাখ্যা: কোন অ্যাডভোকেট ১২৬ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য থাকলে এই ধারার কোন বিধান অনুসারে তিনি সাক্ষ্য দেওয়া হতে অব্যাহতি পাবে না।

⇒ দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয় যদি-
- স্বীকৃতিটি এই শর্তে করা হয় যে উক্ত স্বীকৃতি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
- সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য পক্ষগণের মধ্যে কোন চুক্তি থাকলে।

৭৫.
অভিযুক্ত দাবি করে যে, গুরুতর ও আকস্মিক উস্কানির কারণে আত্মসংযম হারিয়েছিল। এটি প্রমাণের দায়িত্ব-
  1. ভুক্তভোগীর
  2. আদালতের
  3. রাষ্ট্রপক্ষের
  4. অভিযুক্তের
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১০৫ ধারার বিধান: আসামীর মোকদ্দমা যে ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়ে তা প্রমানের দায়িত্ব:
কোন অপরাধে কোন ব্যক্তি অভিযুক্ত হলে মোকদ্দমাটি যাতে দণ্ডবিধিতে বর্ণিত কোন বিশেষ ব্যতিক্রম বা এর অন্য কোন অংশে বর্ণিত কোন শর্তের মধ্যে পড়তে পারে, এরূপ কোন পরিস্থিতির অস্তিত্ব প্রমাণ করার দায়িত্ব অভিযুক্ত ব্যক্তির অর্পিত থাকে এবং এ রূপ ক্ষেত্রে অবশ্যই আদালত অনুরূপ পরিস্থিতি অনুপস্থিত বলে ধরে নিবেন।

উদাহরণ:
(ক) হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' দাবি করে যে; মানসিক অপ্রকৃতিস্থতার কারণে সে তার কৃতকার্যের বিষয় জ্ঞাত ছিল না 'ক'-এর উপর এটা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত।

(খ) হত্যার দায়ে অভিযুক্ত 'ক' নালিশ করে যে, আত্মনিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা সে গুরুতর ও আকস্মিক উস্কানির কারণে হারিয়ে ফেলেছিল। 'ক'-এর উপর এটা প্রমাণের দায়িত্ব ন্যস্ত। 

৭৬.
কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা সাক্ষ্য আইনের ৪৮ ধারার অর্থ অনুযায়ী ____________ বলে বিবেচিত হবে।
  1. সাধারণ অধিকার
  2. ব্যক্তিগত অধিকার
  3. বিশেষ অধিকার
  4. ব্যতিক্রমী অধিকার
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইনের ধারা ৪৮- অধিকার অথবা প্রথার অস্তিত্ব সম্বন্ধে অভিমত যখন প্রাসঙ্গিক:
কোন সাধারণ প্রথা অথবা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেক্ষেত্রে আদালতকে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব থাকলে যে সমস্ত ব্যক্তির পক্ষে তা জানা স্বাভাবিক, এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তার অভিমত প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যাঃ "সাধারণ প্রথা অথবা অধিকার" কথাটি বলতে যথেষ্ঠ সংখ্যক ব্যক্তির একটি শ্রেণীর ভিতর সাধারণভাবে প্রচলিত প্রথা বা অধিকারও বুঝায়।

উদাহরণ
কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা এ ধারার অর্থ অনুযায়ী সাধারণ অধিকার বলে বিবেচিত হবে।

৭৭.
সাক্ষ্য আইনের কত ধারা অনুযায়ী কোনো জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষ্য দিতে পারবেন?
  1. ১২০ ধারা
  2. ১২১ ধারা
  3. ১২২ ধারা
  4. ১২৩ ধারা
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইনের ধারা ১২১: জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটগণ [Judges and Magistrates]:
জজ এবং ম্যাজিস্ট্রেট যোগ্য সাক্ষী এবং তারা ইচ্ছা করলে সাক্ষ্য দিতে পারে। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেট এবং জজ হিসাবে সম্পাদন করেছে এমন কোন কার্যসম্পর্কে সাক্ষ্য দিতে তাদের বাধ্য করা যাবে না। কারণ ১২১ ধারায় জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটকে কতিপয় বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

১২১ ধারা অনুযায়ী জজ ও ম্যাজিস্ট্রেটগণ যে, আদালতের অধীন, সেই আদালতের বিশেষ আদেশ ব্যতীত নিম্নলিখিত ২টি বিষয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে তাকে বাধ্য করা যাবে নাঃ
১. জজ বা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে উক্ত আদালতে তার নিজস্ব কোনো কার্য সম্পর্কে; বা
২. যে কোনো কিছু যা বিচারক বা ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে সে আদালতে জানতে পারে।

⇒ যে ক্ষেত্রে জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটকে বাধ্য করা যায়:
জজ এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে আদালতে তার নিজস্ব কার্য ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে তাকে জিজ্ঞাসিত প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য করা যেতে পারে বা উক্ত পদের কর্তব্য পালনের সময় যে সব ঘটনা তার উপস্থিতিতে ঘটেছে, সেই গুলি সম্পর্কে তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা যেতে পারে। যেমন আদালতে জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে খুন সংঘটিত হয়, সেই ক্ষেত্রে উক্ত খুন সম্পর্কে যেকোন প্রশ্নের উত্তর দিতে উক্ত জজ বা ম্যাজিস্ট্রেটকে বাধ্য করা যেতে পারে।

৭৮.
কোনো ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টা মামলার অভিযোগকারীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে চাইলে, নিচে বর্ণিত কোন ধরণের প্রশ্ন করা থেকে বারিত করা হয়েছে?
  1. শুধুমাত্র সাধারণ অনৈতিক চরিত্র
  2. শুধুমাত্র পূর্ববর্তী যৌন আচরণ
  3. পূর্ববর্তী একই ধরণের মামলার রায় আছে কী না
  4. সাধারণ অনৈতিক চরিত্র ও পূর্ববর্তী যৌন আচরণ 
ব্যাখ্যা

⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ ধারার বিধান- জেরায় আইনসঙ্গত প্রশ্ন: যখন সাক্ষীকে জেরা করা হয় তখন ইতিপূর্বে উল্লেখিত প্রশ্নসমূহ ছাড়াও এমন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যা দ্বারা:
১) তার সত্যবাদিতা পরীক্ষা করা যায়।
২) তার পরিচয় ও মর্যাদা জানা যায়, অথবা
৩) তার চরিত্রের প্রতি আঘাত করে তার বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করা যায়, যদিও এরূপ প্রশ্নের উত্তরের দ্বারা তিনি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অপরাধের সাথে জড়িত হতে পারে অথবা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে তার দণ্ড বা বাজেয়াপ্তির সম্ভাবনা থাকে।

তবে শর্ত থাকে যে, ধর্ষণের অপরাধ বা ধর্ষণের চেষ্টার জন্য একটি মামলায়, দফা (৩) এর অধীনে ভিক্টিমের সাধারণ অনৈতিক চরিত্র বা পূর্ববর্তী যৌন আচরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে কোন প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা যাবে না:

আরও শর্ত থাকে যে, এই ধরনের প্রশ্ন শুধুমাত্র আদালতের অনুমতি নিয়েই জিজ্ঞাসা করা যেতে পারে, যদি এটি ন্যায়বিচারের জন্য আদালতের কাছে প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়।

৭৯.
The Evidence Act, 1872 এর ধারা ১৫২ অনুযায়ী আদালত কোন ধরনের প্রশ্ন নিষিদ্ধ করবে?
  1. আইনগত প্রশ্ন
  2. চরিত্র সম্পর্কিত প্রশ্ন
  3. অশ্লীল বা কুৎসাজনক প্রশ্ন
  4. অপমান বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে করা প্রশ্ন
ব্যাখ্যা

• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৫২ ধারা অনুসারে,
আদালত এমন কোনো প্রশ্ন করতে নিষেধ করবে, যা তার দৃষ্টিতে কাউকে অপমান বা বিরক্ত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, অথবা যা প্রশ্ন হিসাবে যথাযথ হলেও, তার ভাষা বা উপস্থাপন অপ্রয়োজনীয়ভাবে আক্রমণাত্মক বলে আদালতের কাছে প্রতীয়মান হয়।

Section 152- Questions intended to insult or annoy:
The Court shall forbid any question which appears to it to be intended to insult or annoy, or which, though proper in itself, appears to the Court needlessly offensive in form.

৮০.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৪৫ক ধারার অধীনে বিশেষজ্ঞের রিপোর্টের অনুলিপি কার কাছে প্রদান করতে হবে?
  1. মামলার সকল পক্ষকে
  2. শুধুমাত্র বাদী পক্ষকে
  3. শুধুমাত্র অভিযুক্ত পক্ষকে
  4. শুধু যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে সেই পক্ষকে
ব্যাখ্যা

 ⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারার বিধান- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত: -
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।

(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।

৮১.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৩৩ অনুযায়ী, একজন accomplice-
  1. incompetent witness
  2. competent witness
  3. illegal witness
  4. untrustworthy witness
ব্যাখ্যা

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৩৩ অনুযায়ী:
“An accomplice shall be a competent witness against an accused person; and a conviction is not illegal merely because it proceeds upon the uncorroborated testimony of an accomplice.”

ধারা ১৩৩ বলছে: যদি একজন দুষ্কর্মের সহযোগী (accomplice) আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন এবং সেই সাক্ষ্য কোনো অতিরিক্ত প্রমাণ ছাড়া (i.e., uncorroborated) হয়, তবুও শুধু এই কারণে আদালতের দেওয়া সাজা বেআইনী (illegal) বলা যাবে না।

আদালত যদি একমাত্র সহযোগীর সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে, সেটা আইনত valid বা বৈধ। যদিও বাস্তবে আদালত সাধারণত corroboration (অর্থাৎ, অন্য কোনো প্রমাণ বা সাক্ষ্যের মাধ্যমে সমর্থন) খোঁজে - কারণ accomplice-এর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে। কিন্তু আইনগতভাবে আদালত একা সেই সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই সাজা দিতে পারে।

৮২.
'Nemo moriturus praesumitur mentiri' নীতি সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার সাথে সম্পর্কিত?
  1. ধারা ২৭
  2. ধারা ৩২
  3. ধারা ৩৮
  4. ধারা ৪১
ব্যাখ্যা

⇒ 'মৃত্যুকালীন ঘোষণা' ধারণাটি এসেছে ল্যাটিন বাক্যাংশ “Extremum Letem Mortem” থেকে, যার অর্থ— “মৃত্যুর পূর্বে উচ্চারিত কথা”। মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলতে এমন একটি বিবৃতিকে বোঝায়, যা কোনো ব্যক্তি মৃত্যুর আগে তার মৃত্যুর কারণ বা সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বর্ণনা করে প্রদান করেন। একজন ব্যক্তি যখন মৃত্যুর সন্নিকটে, তখন তার মৃত্যুর কারণ বা পরিস্থিতি সম্পর্কে যে কোনো বক্তব্যকে মৃত্যুকালীন ঘোষণা বলা হয়।

⇒ এই নীতির ভিত্তি গড়ে উঠেছে প্রাচীন বৈধ নীতিবাক্য “Nemo Moriturus Praesumitur Mentiri”—যার অর্থ, “যে মানুষ মৃত্যুর প্রান্তে পৌঁছেছে, সে মিথ্যা বলে না।” Evidence Act, 1872-এর ধারা ৩২ মৃত্যুকালীন ঘোষণা বিষয়ে আইনগত বিধান প্রণয়ন করা হয়। মৃত্যু আসন্ন হলে মিথ্যা বলার সব প্রলোভন লোপ পায়, এবং মানুষ সত্য বলার প্রতি প্রবলভাবে প্রবণ হয়ে ওঠে। জীবনের শেষ মুহূর্তে দেওয়া বক্তব্য তাই একটি গভীর বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে, যা আইনকে এর সত্যতা গ্রহণে বাধ্য করে। 

মৃত্যুকালীন ঘােষণা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণীয় হওয়ার ক্ষেত্রসমূহ-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারন সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যু কালীন ঘোষনা;
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি;
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরনের মামলার উদ্ভব করতে পারে;
iv) সর্বসাধারনের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত;
ⅴ) পারিবারিক দলিল বা উইল;
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি;
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি;

⇒ মৃত্যুকালীন ঘােষণা দানকারী যদি দৈবাৎ বেঁচে যায় তাহলে ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনে অনুযায়ী তার ঘােষণা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণীয় হবে না। কারণ উক্ত ব্যক্তি বেঁচে থাকলে পরবর্তীতে তার ঘােষণা পরিবর্তন করতে পারে। কিন্তু মৃত্যুকালীন ঘােষণা দানকারী দৈবাৎ বেঁচে গেলে বাংলাদেশী আইন অনুযায়ী তার ঘােষণা একেবারে বাতিল হয় না। উক্ত বিবৃতি বা ঘোষণা সাক্ষ্য আইনের ১৫৭ ধারানুযায়ী সমর্থনমূলক সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

৮৩.
Plea of alibi কী প্রমাণ করার চেষ্টা করে?
  1. অপরাধ হয়েছে কিনা
  2. অপরাধের উদ্দেশ্য
  3. সাক্ষীর বক্তব্য দুর্বল
  4. অপরাধের সময় অভিযুক্ত উপস্থিত ছিলেন না
ব্যাখ্যা

⇒ "Plea of alibi" শব্দবন্ধটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ "alibi" থেকে, যার অর্থ "অন্য কোথাও"।
সাধারণভাবে, Plea of alibi হল একটি প্রতিরক্ষামূলক বক্তব্য, যেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেন যে অপরাধ সংঘটনের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না, বরং অন্য কোনো স্থানে ছিলেন। অর্থাৎ, তিনি অপরাধ সংঘটনে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে পারতেন না, তাই তিনি দায়ী নন। সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায় Plea of Alibi-কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১ অনুসারে, অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণ করা হলে, তা ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে পারে।

সাক্ষ্য আইন, ধারা ১১:
যে ঘটনা সাধারণত প্রাসঙ্গিক নয়, তা তখনই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে-
- যদি এটি কোনো মূল বিতর্কিত বা প্রাসঙ্গিক ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়।
- যদি এটি এককভাবে বা অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে কোনো মূল বিতর্কিত বা প্রাসঙ্গিক ঘটনার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বকে অত্যন্ত সম্ভাব্য বা অসম্ভাব্য করে তোলে।

উদাহরণ:
(ক) প্রশ্ন উঠেছে, A নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রামে কোনো অপরাধ করেছে কিনা।
যদি প্রমাণিত হয় যে ওই দিনে A ঢাকায় ছিল, তাহলে এটি একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা।
এছাড়াও, যদি দেখা যায় যে অপরাধ সংঘটনের সময় A এমন একটি স্থানে ছিল, যেখান থেকে অপরাধস্থলে পৌঁছানো অত্যন্ত অসম্ভব, তবে সেটিও প্রাসঙ্গিক হবে।

(খ) প্রশ্ন উঠেছে, A কোনো অপরাধ করেছে কিনা।
পরিস্থিতি এমন যে, অপরাধটি হয় A, B, C অথবা D—এদের মধ্যে কেউ করেছে।
যে কোনো ঘটনা যা প্রমাণ করে যে অপরাধটি B, C বা D করেনি এবং অপরাধী শুধুমাত্র A হতে পারে, তা প্রাসঙ্গিক হবে।

৮৪.
সাক্ষীকে Hostile ঘোষণা করার ক্ষমতা কার?
  1. পুলিশের
  2. সাক্ষী আহবানকারী পক্ষের
  3. অভিযুক্ত পক্ষের
  4. আদালতের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: আদালত।

 বৈরী সাক্ষী (Hostile Witness) হলো সেই সাক্ষী যাকে কোনো পক্ষ (বাদী বা বিবাদী) আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থাপন করে, কিন্তু সে যদি নিজের পক্ষের বিরুদ্ধে বা প্রতিপক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য প্রদান করে, তাহলে তাকে বৈরী সাক্ষী হিসেবে গণ্য করা হয়।

কখন সাক্ষীকে বৈরী ঘোষণা করা হয়?
১) যখন সাক্ষী তার নিজ পক্ষের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়।
২) যখন সাক্ষী প্রতিপক্ষের পক্ষে কথা বলে।
৩) যখন সাক্ষী তার আগের দেওয়া বক্তব্য থেকে সরে আসে বা বিপরীত কথা বলে।

- সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ১৫৪ অনুযায়ী, আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষ তার নিজের সাক্ষীকে জেরা করতে পারে যদি সাক্ষী বৈরী হয়ে যায়। সাধারণত, জেরা করার অধিকার প্রতিপক্ষের থাকে, তবে যদি আদালত মনে করে যে একজন সাক্ষী ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীতমুখী বক্তব্য দিচ্ছে, তবে সাক্ষী আহ্বানকারী পক্ষও তাকে জেরা করতে পারে।

৮৫.
চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ কত?
  1.  ৬ মাস
  2. ৩ মাস
  3. ৬ বছর 
  4. ৩ বছর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর : ৬ বছর।

Specific Relief Act, 1877 এর ধারা ৫৪–এ ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে আদালত কবে এবং কোন অবস্থায় চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা (Permanent Injunction) দিতে পারে।

Limitation Act, 1908 – First Schedule, Article 120:
“Suit for which no period of limitation is provided elsewhere in this Schedule— Limitation: 6 years— Time from when the right to sue accrues.”

যেসব মামলা কোনো নির্দিষ্ট তামাদি বিধানের অধীনে পড়ে না, সেক্ষেত্রে Article 120 প্রযোজ্য হয়। চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মামলা (Permanent Injunction Suit)–এর জন্য আলাদা কোনো Article নেই। সুতরাং এর তামাদি মেয়াদ Article 120 অনুযায়ী ৬ বছর।

চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে “right to sue” তখনই সৃষ্টি হয় যখন- কোনো ব্যক্তি তার অধিকারে স্থায়ীভাবে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বা প্রকৃত হস্তক্ষেপ অনুভব করে।

৮৬.
তামাদি আইনে কয়টি আইনগত অপারগতার উল্লে­খ আছে?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৬টি
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী ৩টি বিষয়কে আইনগত অপারগতা (Legal Disability) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১. নাবালকত্ব [Minority];
২. উন্মাদ [Insanity];
৩. জড়বুদ্ধি বা চরম বুদ্ধিহীনতা [Idiocy]।


⇒ মােকদ্দমা করার অধিকারী ব্যক্তি যে সময়ে মামলা করার অধিকারী হয়, তখন সে নাবালক বা উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি সম্পন্ন থাকলে, তার মামলা দায়ের করার ও তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে, যে সময় থেকে তার আইনগত অপারগতার অবসান ঘটবে।

⇒ যদি উক্ত ব্যক্তির একটি আইনগত অপারগতা থাকাকালীন সময়ে আরাে একটি অপারগতায় আক্রান্ত হয়, সেক্ষেত্রে দুটি আইনগত অপারগতার অবসান হওয়ার পর তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

⇒ যদি উক্ত ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তার অপারগতা অব্যাহত থাকে, সেইক্ষেত্রে তার আইনানুগ প্রতিনিধি, যদি তার আবার কোন অপারগতা না থাকে, তাহলে তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

৮৭.
অবিরাম চুক্তিভঙ্গের ক্ষেত্রে তামাদি (limitation) কখন শুরু হয়?
  1. প্রথমবার চুক্তিভঙ্গ হলে
  2. চুক্তি সম্পাদনের দিন থেকে
  3. চুক্তিভঙ্গ চলমান থাকলে প্রতি মুহূর্তে নতুন করে
  4. চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে
ব্যাখ্যা

 The Limitation Act, 1908 এর ২৩ ধারার বিধান অবিরাম চুক্তিভঙ্গ-
যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করা হয়, সেক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নতুন করে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হতে শুরু করে।

Section 23: Continuing breaches and wrongs
In the case of a continuing breach of contract and in the case of a continuing wrong independent of contract, a fresh period of limitation begins to run at every moment of the time during which the breach or the wrong, as the case may be, continues.

৮৮.
তামাদি আইন, ১৯০৮-এর প্রথম তফসিল মোট কয়টি ভাগে বিভক্ত?
  1. দুইটি
  2. তিনটি
  3. চারটি
  4. পাঁচটি
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ (The Limitation Act, 1908)-এর প্রথম তফসিল (First Schedule) তিনটি মূল ভাগে বিভক্ত।
- প্রতিটি বিভাগে নির্দিষ্ট ধরনের মামলা, আপীল, অথবা দরখাস্তের জন্য তামাদির মেয়াদ (limitation period) নির্ধারিত রয়েছে।
→ প্রথম বিভাগ (First Division):
বিষয়: মোকদ্দমা (Suit) দায়েরের তামাদি সময়সীমা।
ধারা: অনুচ্ছেদ ১ থেকে ১৪৯।

→ দ্বিতীয় বিভাগ (Second Division):
বিষয়: আপীল (Appeal) দায়েরের তামাদি সময়সীমা।
ধারা: অনুচ্ছেদ ১৫০ থেকে ১৫৭।

→ তৃতীয় বিভাগ (Third Division):
বিষয়: দরখাস্ত (Application) দাখিলের তামাদি সময়সীমা।
ধারা: অনুচ্ছেদ ১৫৮ থেকে ১৮৩।

৮৯.
তামাদি আইনের ধারা ২৮ কোন নীতিকে প্রতিফলিত করে?
  1. Criminal liability never ends
  2. Delay defeats equity
  3. Justice delayed is justice denied
  4. Possession is nine-tenths of the law
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের ধারা ২৮ “Delay defeats equity” নীতিকে প্রতিফলিত করে।

এই নীতির অর্থ হলো-
যে ব্যক্তি দীর্ঘসময় ধরে নিজের অধিকার দাবি করেন না, আইনও আর তাকে সহায়তা করে না। তাই সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য নির্ধারিত তামাদি সময়সীমা (limitation period) অতিক্রম করলে— শুধু মামলা করার অধিকার নয়, সম্পত্তির অধিকারই বিলুপ্ত হয়ে যায়।

⇒ তামাদি আইনের ধারা ২৮: সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি:
কোনো সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করার ব্যাপারে এই আইনে যে মেয়াদ নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, তা উত্তীর্ণ হওয়ার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকার বিলুপ্ত হয়ে যাবে।

৯০.
তামাদি আইনের ধারা ৪ কোন পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য?
  1. মামলার পক্ষ পরিবর্তন হলে
  2. নোটিশ প্রদান না হলে
  3. আদালত স্থানান্তর হওয়া অবস্থায় তামাদি মেয়াদ শেষ হলে
  4. আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় তামাদি মেয়াদ শেষ হলে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদির আইনের ৪ ধারার বিধান- আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে:
যেক্ষেত্রে কোন আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় কোন মামলা, আপিল বা আবেদনের জন্য তামাদির নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে আদালত যেদিন খুলবে সেদিন উক্ত মামলা, আপিল বা আবেদন দাখিল করা যাবে।
------------------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 4- Where Court is closed when period expires:
Where the period of limitation prescribed for any suit, appeal or application expires on a day when the Court is closed, the suit, appeal or application may be instituted, preferred or made on the day that the Court re-opens.

৯১.
তামাদি আইনের ধারা ২৫ কোন ধরনের দলিলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. সকল দলিল
  2. কেবল রেজিস্টার্ড দলিল
  3. শুধুমাত্র চুক্তিপত্র
  4. কেবল সরকারি দলিল
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ২৫ ধারায় দলিলে উল্লিখিত সময় গণনার বিধান রয়েছে। তামাদি আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় সকল দলিল গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি (Gregorian calendar) অনুসারে প্রণীত বলে বিবেচিত হবে।
--------
⇒ The Limitation Act, 1908, Section 25. Computation of time mentioned in instruments:
- All instruments shall, for the purposes of this Act, be deemed to be made with reference to the Gregorian calendar.

৯২.
তামাদি আইনের ধারা ২৪ অনুসারে তামাদি মেয়াদ শুরু হয়-
  1. যখন অন্যায় প্রথম ঘটে
  2. যখন ক্ষতি বাস্তবে ঘটে
  3. সম্পত্তি হস্তান্তরের দিন
  4. যখন বাদী আদালতে আবেদন করে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইনের ২৪ ধারার বিধান: বিশেষ ক্ষতির কারণ না হইলে যে কাজের জন্য মামলা করা যায় না তাহার জন্য ক্ষতিপূরণের মামলা:
যে কার্যের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোন নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হইলে কোন মামলার কারণ উদ্ভূত হয় না, তদ্রূপ কার্যের দরুন ক্ষতিপূরণের মামলার জন্য যখন ক্ষতি হয়, তখন হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।

উদাহরণ:
'ক' একটি জমির উপরিভাগের মালিক। 'খ' ঐ জমির ভূগর্ভের মালিক। উপরিভাগের তাৎক্ষণিক স্পষ্ট কোন ক্ষতি না করিয়া ভূ-গর্ভ হইতে কয়লা খনন ও উত্তোলন করে। কিন্তু অবশেষে জমিটির উপরিভাগ ধসে পড়ে। এইক্ষেত্রে 'ক' কর্তৃক 'খ' এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের তামাদির মেয়াদ ধসিয়া পড়ার সময় হইতে শুরু হইবে।

৯৩.
কোনো আইনের আওতায় জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি সম্পর্কিত মামলার তামাদি মেয়াদ কত?
  1. ৬ মাস
  2. ১ বছর
  3. ৩ বছর
  4. ৬ বছর
ব্যাখ্যা

তামাদি আইনের প্রথম তফসিলের অনুচ্ছেদ ৬ অনুসারে,
যখন কোনো বিধি, আইন, প্রবিধান বা উপ-আইনের আওতায় কোনো জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি আরোপিত হয়, তখন সেই জরিমানা বা বাজেয়াপ্তি আরোপিত হওয়ার ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।

৯৪.
The Limitation Act, 1908 এর ধারা ১৯ কোন বিষয়ে প্রযোজ্য?
  1. মৌখিক স্বীকারোক্তি
  2. লিখিত স্বীকারোক্তি
  3. আদালতের আদেশ
  4. ক এবং খ উভয় ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা

⇒ তামাদি আইন, ১৯০৮ ধারা-১৯: লিখিত স্বীকারোক্তির প্রভাব:
(১) কোনো সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কিত মামলার বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পূর্বে, যদি সেই সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে দায় স্বীকার করে লিখিতভাবে কোনো স্বীকারোক্তি করা হয় এবং তা সেই ব্যক্তির দ্বারা স্বাক্ষরিত হয় যার বিরুদ্ধে দাবি করা হয়েছে, বা এমন কারো দ্বারা স্বাক্ষরিত হয় যার মাধ্যমে সে ব্যক্তি ঐ অধিকার বা দায়িত্ব অর্জন করেছে—তাহলে, ঐ স্বীকারোক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় থেকে নতুন করে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।

(২) যদি স্বীকারোক্তিপত্রে তারিখ উল্লেখ না থাকে, তবে তা কখন স্বাক্ষরিত হয়েছে সে বিষয়ে মৌখিক সাক্ষ্য প্রদান করা যাবে; তবে সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর বিধান সাপেক্ষে, সেই স্বীকারোক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে না।

ব্যাখ্যা-১: এই ধারার উদ্দেশ্যে, একটি স্বীকারোক্তি যথেষ্ট বলেই বিবেচিত হবে, যদিও তাতে সম্পত্তি বা অধিকারটির প্রকৃত প্রকৃতি নির্দিষ্ট করে উল্লেখ না থাকে, বা তাতে বলা হয়ে থাকে যে অর্থ প্রদান, প্রদান, সম্পাদন বা ভোগের সময় এখনো আসেনি, কিংবা অর্থ প্রদান, সম্পাদন বা ভোগের অনুমতি দেওয়ার অস্বীকৃতির সাথে যুক্ত থাকে, অথবা তা যদি সেট-অফ দাবির সাথে যুক্ত থাকে, এমনকি যদি তা সম্পত্তি বা অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিবর্তে অন্য কাউকে উদ্দেশ্য করেও লেখা হয়।

ব্যাখ্যা-২: এই ধারার উদ্দেশ্যে "স্বাক্ষর" বলতে নিজ হাতে স্বাক্ষর বা যথাযথভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে স্বাক্ষর বোঝানো হয়।

ব্যাখ্যা-৩: এই ধারার উদ্দেশ্যে, ডিক্রি বা আদেশ কার্যকর করার দরখাস্তকে একটি অধিকার সংক্রান্ত দরখাস্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

৯৫.
'কোন আইনজীবী যদি কোন বিষয়ে পূর্বে বিচারক পদমর্যাদায় কাজ করেন, তাহলে তিনি সেই বিষয়ে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ লাভ করবেন না।’- এটি কার প্রতি একজন আইনজীবীর আচরণ হওয়া উচিত?
  1. আদালত
  2. মক্কেল
  3. অন্যান্য আইনজীবী
  4. জনগণ 
ব্যাখ্যা

একজন আইনজীবীর জনসাধারণের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য- ৮টি:
[বিধি-১]-কোন ব্যক্তিকে হয়রানির উদ্দেশ্যে নিযুক্তি না নেওয়া: কোন ব্যক্তিকে বিরক্ত করা, হয়রানি করা বা মোকদ্দমা বিলম্বিত করা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে বাদী বা বিবাদী কোন পক্ষে একজন আইনজীবী নিযুক্ত হবেন না।
[বিধি-২]- ভিন্ন পক্ষের সাথে ভালো আচরণ করা: একজন আইনজীবী সর্বদা তার ভিন্ন পক্ষের সাথে ভালো আচরণ করবেন। বিচার চলাকালে আইন বহির্ভুত কাজ করবেন না।
[বিধি-৩]- ক্ষতির উদ্দেশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করা: একজন আইনজীবী কোন ব্যক্তির ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে মোকদ্দমা দায়ের বা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
[বিধি ৪]- পরামর্শ প্রদানে বাধ্যবাধকতা: কোন আইনজীবী প্রত্যেককে পরামর্শ প্রদান করতে বা আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য নন।
[বিধি-৫]-  মোকদ্দমা গ্রহণ বা বর্জন করতে পারেন: একজন আইনজীবী কোন ব্যক্তি বা সংস্থা যতই ক্ষমতাবান হোক অথবা রাজনৈতিক মোকদ্দমা যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক তিনি পেশাগত নিযুক্তি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাতে পারেন।
[বিধি-৬]- পরিচয় প্রকাশ করা: কোন আইনজীবী কোন সরকারি অফিসার, বোর্ড কমিটি ইত্যাদির নিকট পেশাগত দায়িত্বে উপস্থিত হলে প্রথমে তিনি তার পরিচয় দিবেন।
[বিধি-৭]- পূর্বে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেকোন আইনজীবী যদি কোন বিষয়ে পূর্বে বিচারক পদমর্যাদায় কাজ করেন তাহলে তিনি সেই বিষয়ে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ লাভ করবেন না।
[বিধি-৮]- ব্যবসা, চাকুরি বা অন্য পেশার সাথে জড়িত না হওয়া: একজন আইনজীবী নিজের আইন পেশা ব্যতীত অন্য কোন ব্যবসা, চাকুরি বা পেশার সাথে জড়িত হবে না।

৯৬.
বার কাউন্সিলের ভাইস-চেয়ারম্যান কীভাবে নির্বাচিত হন?
  1. বার অ্যাসোসিয়েশন মনোনীত করে
  2. বার কাউন্সিল সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচন হয়
  3. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেন
  4. এটর্নি জেনারেল নিয়োগ দেন
ব্যাখ্যা

The Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 অনুচ্ছেদ ৬- বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান এর বিষয়ে আলোচনা করা আছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী-
১- বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হবেন।
২- বার কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে ভাইস চেয়ারম্যন নির্বাচিত হবেন।
৩- চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান এর কাজ ও ক্ষমতা এই বিধি দ্বারা নির্ধারিত হবে।

৯৭.
বিচারক নিয়োগে কোন বিষয়টি প্রতিহত করা আইনজীবীদের কর্তব্য?
  1. প্রশাসনিক প্রক্রিয়া
  2. নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
  3. রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা
  4. নিয়োগ বোর্ড গঠন
ব্যাখ্যা

• "Canons of Professional Conduct and Etiquette" হলো বাংলাদেশের আইনজীবীদের জন্য প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা যা তাদের পেশাগত আচরণ ও শালীনতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এটি একটি সামগ্রিক নিয়মাবলী যা আইনজীবীদের কর্তব্য, দায়িত্ব এবং নৈতিক আচরণের বিভিন্ন দিকগুলো আওতাভুক্ত করে। Canons of Professional Conduct and Etiquette- এ মোট ৪টি অধ্যায়ে ৪২টি বিধি আছে। অধ্যায়সমূহ:
১ম অধ্যায়- আইনজীবীদের পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য;
২য় অধ্যায়- মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য;
৩য় অধ্যায়- আদালতের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য;
৪র্থ অধ্যায়- জনসাধারনের প্রতি দায়িত্ব।

আদালতের প্রতি কর্তব্য-
১. আদালতে ভদ্রতার সাথে উপস্থিত হতে হবে।
২. মামলার বিরুদ্ধে উপদেশ দিবেন না।
৩. কখনো কোনো ভুল তথ্য বা অপব্যাখ্যা দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করবেন না।
৪. বিচারকের খাস কামরায় মামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন না।
৫. সরকারি আইনজীবীর দায়িত্ব ন্যায় বিচারের সহায়তা করা, অপরাধীকে শাস্তি দেওয়া নয়। তাই সরকারি আইনজীবী সাক্ষ্য গোপন বা চাপিয়ে রাখবেন না।
৬. বিচারাধীন কোনো বিষয় সম্পর্কে খবরের কাগজে কোনো তথ্য প্রকাশ না করা।
৭. বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে যাতে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা না হয় সেই দিকে আইনজীবীদের চেষ্টা বা তা প্রতিহত করা উচিত।
৮. আইনজীবীর সময়মতো আদালতে উপস্থিত হওয়া উচিত।
৯. আদালত আহ্বান করলে নিরপেক্ষ আইনগত মতামত উপস্থাপন করা।

৯৮.
মক্কেল একাধিক আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে কী করা উচিত?
  1. বাধা দেওয়া
  2. তাকে নিরুৎসাহিত করা
  3. স্বাধীনভাবে নিয়োগ করতে দেওয়া
  4. বিচারকের কাছে অভিযোগ করা
ব্যাখ্যা

• "Canons of Professional Conduct and Etiquette" হলো বাংলাদেশের আইনজীবীদের জন্য প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা যা তাদের পেশাগত আচরণ ও শালীনতার মানদণ্ড নির্ধারণ করে। এটি একটি সামগ্রিক নিয়মাবলী যা আইনজীবীদের কর্তব্য, দায়িত্ব এবং নৈতিক আচরণের বিভিন্ন দিকগুলো আওতাভুক্ত করে। Canons of Professional Conduct and Etiquette- এ মোট ৪টি অধ্যায়ে ৪২টি বিধি আছে। অধ্যায়সমূহ:
১ম অধ্যায়- আইনজীবীদের পারস্পরিক দায়িত্ব ও কর্তব্য;
২য় অধ্যায়- মক্কেলের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য;
৩য় অধ্যায়- আদালতের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য;
৪র্থ অধ্যায়- জনসাধারনের প্রতি দায়িত্ব।

অন্যান্য আইনজীবীদের প্রতি আচরণ:
১. আইনজীবী হিসেবে নিজের ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং পেশার মর্যাদা সমুন্নত রাখা আইনজীবীর কর্তব্য।

২. নিজের পেশাগত কোনো বিজ্ঞাপণ প্রচার করতে পারবে না; তবে, পেশাগত কার্ড, নামফলক বা ডাইরেক্টরিতে নাম তালিকাভুক্তিতে বাধা নিন।

৩. পেশাগত কাজের যোগান দেয়ার জন্য কোনো ব্যক্তিকে নিয়োগ বা বেতন দিতে পারবে না।

৪. আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের সাথে মামলার বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে না।

৫. প্রতিপক্ষের আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে বা মামলার বিচারাধীন বিষয়ের কপি বা নথি প্রদান করে তা আদালতের সামনে উপস্থাপন করবে না।

৬. মক্কেল একটি মামলার ক্ষেত্রে একাধিক আইনজীবী নিয়োগ করতে চাইলে, আইনজীবী নিয়োগের ক্ষেত্রে মক্কেলকে বাধা দেওয়া যাবে না।

৭. আইনজীবীগণ নিজেদের মধ্যে বিবাদ পরিহার করে চলবে।

৮. আইনজীবীগণ কাজের বিষয়ে সম্পাদিত সুস্পষ্ট চুক্তির নীতিমালা অনুযায়ী নিজেদের মধ্যে ফিস বণ্টন করবেন।

৯. এটর্নি জেনারেলের কার্যাবলী সমুন্নত রাখা প্রত্যেক আইনজীবীর কর্তব্য।

১০. জুনিয়র আইনজীবীগণ সিনিয়র আইনজীবীদের সম্মান করবে এবং সিনিয়র আইনজীবীগণ জুনিয়র আইনজীবীদের কাজের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

১১. একটি মামলায় একাধিক আইনজীবী থাকলে জৈষ্ঠ্য আইনজীবী মামলা পরিচালনা করবে।

৯৯.
বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান কে হন?
  1. এটর্নি জেনারেল
  2. মনোনীত আইনজীবী
  3. বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান
  4. সদস্যদের মধ্যে যিনি বয়োঃজ্যেষ্ঠ
ব্যাখ্যা

The Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972 এর অনুচ্ছেদ ৩৩ অনুযায়ী-
১. বার কাউন্সিল ট্রাইবুনাল গঠন হবে ৩ সদস্যের সমন্বয়ে।
২. তিনজন সদস্যদের মধ্যে ২ জন থাকবে বার কাউন্সিলের সদস্য যারা বার কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্য দ্বারা নির্বাচিত হবে।
৩. অপর একজন সদস্য হবে বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবীদের মধ্যে থেকে একজন যাকে মনোনয়ন দিবে বার কাউন্সিল।
৪. তিন সদস্যদের মধ্যে যিনি বয়োঃজ্যেষ্ঠ হবেন তিনি হবেন ট্রাইবুনালের চেয়ারম্যান।
৫. বাংলাদেশের এটর্নি জেনারেল কোনো ট্রাইব্যুনালের সদস্য হতে পারবেন না।

⇒ 33 (1)- The Bar Council may constitute one or more Tribunals and each such Tribunal shall consist of three persons of whom two shall be persons elected by the Council from amongst its members and the other shall be a person co-opted by the Council from amongst the advocates on the roll, and the senior-most advocate amongst the members of a Tribunal shall be its Chairman: Provided that the Attorney-General for Bangladesh shall not be a member of any Tribunal.