পরীক্ষা আর্কাইভ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

পরীক্ষাডেইলি কুইজ [২০০ দিন]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়09 minutes
মোট প্রশ্ন১৮
সিলেবাস
বিষয় - বাংলাদেশ বিষয়াবলি টপিক - বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থা (বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের বিখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক।)
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন]

ডেইলি কুইজ [২০০ দিন] · তারিখ অনির্ধারিত · ১৮ প্রশ্ন

.
কোন বছর সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন?
  1. ১৯৫৬-১৯৫৭
  2. ১৯৫৮-১৯৫৯
  3. ১৯৬০-১৯৬১
  4. ১৯৬২-১৯৬৩
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬-১৯৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৯৫৬-১৯৫৭
ব্যাখ্যা
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন অবিভক্ত বাংলার শেষ মুখ্যমন্ত্রী ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকারী এক প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ, যিনি মানবিক মূল্যবোধ ও গণতন্ত্রের জন্য নিরলস কাজ করে গেছেন।

সংক্ষিপ্ত জীবনী:
জন্ম: ৮ সেপ্টেম্বর ১৮৯২, মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ।
শিক্ষা: বিলেত থেকে বার-এট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে দেশে ফিরে আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন।
মৃত্যু: ১৯৬৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

রাজনৈতিক জীবন:
• ১৯২১ সালে বঙ্গীয় ব্যবস্থাপক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে অনুপ্রাণিত হন।
• হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য 'বেঙ্গল প্যাক্ট' চুক্তিতে (১৯২৩) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
• ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং পরবর্তীতে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে সহায়তা করেন।
• ১৯৫৬-১৯৫৭ সালে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিশেষ অবদান:
• পাকিস্তানে গণতন্ত্র ও শিক্ষিত মানুষের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন।
• রাজনীতিতে মানবিক মূল্যবোধ এবং মেধার গুণগত মান বজায় রাখতে আপোস করেননি।
• বাংলাদেশে তাকে ‘গণতন্ত্রের মানসপুত্র’ নামে আখ্যায়িত করা হয় এবং তার দেশপ্রেম ও মানবকল্যাণের জন্য তিনি একনিষ্ঠ সাধক হিসেবে স্মরণীয়।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী দেশপ্রেম, গণতন্ত্র এবং মানবিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে চিরকাল বিরাজমান থাকবেন।

উৎস:
- সিভিক এডুকেশন-২, বিএসএস প্রোগ্রাম ও পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
মুক্তিযুদ্ধকালীন সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না কে?
  1. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  2. এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান
  3. সৈয়দ নজরুল ইসলাম
  4. খন্দকার মোশতাক আহমদ
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ নজরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
• সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটি:
- মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ।
- দেশের সর্বস্তরের মানুষ এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে।
- মুজিবনগর সরকারকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে উপদেশ প্রদান করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে সমর্থনদানকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠিত হয় (৯ সেপ্টেম্বর ১৯৭১)।
- মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এই কমিটির নেতা।
- এর আহ্বায়ক ছিলেন তাজউদ্দীন আহমেদ।

⇒ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা ছিলেন:
- অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (মস্কোপন্থী ন্যাপ এর প্রতিনিধি),
- মনিসিংহ (কমিউিনিস্ট পার্টির প্রতিনিধি),
- মনোরঞ্জন ধর (কংগ্রেস দলের নেতা),
- ক্যাপ্টেন মনসুর আলী (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান (আওয়ামী লীগ দলের প্রতিনিধি),
- খন্দকার মোশতাক আহমদ (মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি)।

অন্যদিকে,
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম সর্বদলীয় উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন না।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
.
'ভারতে রাজভক্ত মুসলমান' নামক বইটির লেখক কে?
  1. এ.কে. ফজলুল হক
  2. নওয়াব আব্দুল লতিফ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. স্যার সৈয়দ আহমদ
সঠিক উত্তর:
স্যার সৈয়দ আহমদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্যার সৈয়দ আহমদ
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আহমদ খান:
- সিপাহী বিদ্রোহের জন্য ইংরেজ সরকার মুসলমানদের এককভাবে দায়ী করে তাদের বিরুদ্ধে নানা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে।
- ভারতীয় মুসলমানদের দুর্দশা সৈয়দ আহমদ খানকে ব্যথিত করে।
- এমতাবস্থায় সৈয়দ আহমদ খান ভারতীয় মুসলমানদের প্রতি ইংরেজ সরকারের মনোভাব পরিবর্তনের জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।

- তিনি ‘ভারতে সিপাহী বিদ্রোহের কারণ’ এবং ‘ভারতের রাজভক্ত মুসলমান' নামক দুটি বই রচনা করেন।
- তিনি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেন যে, সিপাহী বিদ্রোহের জন্য মুসলমানরা দায়ী ছিল না।
- বরং বিদ্রোহকালে অধিকাংশ মুসলমান ইংরেজদের পক্ষে ছিল।
- তাঁর যৌক্তিক আলোচনায় মুসলমানদের প্রতি ইংরেজদের দৃষ্টিভঙ্গি যথেষ্ট পরিবর্তন ঘটে।
- উল্লেখ্য যে, সৈয়দ আহমদ খান নিজে ইংরেজ অনুগত ছিলেন।
- তিনি ভারতের মুসলমানদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য তাদেরকেও ইংরেজ অনুগত হওয়ার এবং তাদের সহযোগিতা করার উপদেশ দেন।

সূত্র: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিলো কোনটি?
  1. ঢাকা
  2. ফরিদপুর
  3. চট্টগ্রাম
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফরিদপুর
ব্যাখ্যা
• হাজী শরিয়ত উল্লাহ (১৭৮১-১৮৪০ খ্রি.): 
- বর্তমান শরিয়তপুর জেলার শ্যামাইল গ্রামে ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে শরিয়তউল্লাহর জন্ম হয়।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ হজ্জ করতে মক্কা গমন করেন- ১৭৯৯ সালে
- ১৮১৮ সালে দেশে ফিরে তিনি ফরায়েজি আন্দোলন নামে ইসলামি সংস্কার আন্দোলনের সূচনা করেন।
- ফরায়েজী আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র ছিল- ফরিদপুর।
- হাজী শরীয়ত উল্লাহর মৃত্যুর পর ফরায়েজী আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন- তার একমাত্র পুত্র দুদু মিয়া।
- হাজী শরিয়ত উল্লাহ পরিচালিত ফরায়েজি আন্দোলন ছিল- ধর্ম সংস্কার আন্দোলন।

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা কে?
  1. জওহরলাল নেহরু
  2. এ কে ফজলুল হক
  3. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
  4. স্যার সলিমুল্লাহ
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ব্যাখ্যা
জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব: 
• জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
• তবে মুসলিম লীগ সভাপতি এবং পরবর্তীতে পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বা 'Two Nations Theory' র মূলকথা।
• জিন্নাহর ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ ছিল ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাব বা পাকিস্তান প্রস্তাবের মূলভিত্তি। যদিও লাহোর প্রস্তাবে ‘পাকিস্তান’
কিংবা ‘দ্বিজাতি তত্ত্বের’ কথা উল্লেখ ছিল না।

তথ্যসূত্র:- পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
বাংলাদেশে নৃশংস জেলহত্যা সংঘটিত হয়েছিল কবে?
  1. ৪রা নভেম্বর, ১৯৭৬
  2. ৩রা নভেম্বর, ১৯৭৫
  3. ১৫ আগস্ট, ১৯৭৬
  4. ৩রা নভেম্বর, ১৯৭৬
সঠিক উত্তর:
৩রা নভেম্বর, ১৯৭৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩রা নভেম্বর, ১৯৭৫
ব্যাখ্যা
• ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর রাতে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি অবস্থায় জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে।

হত্যাকাণ্ডের শিকার জাতীয় চার নেতা হলেন:
- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, 
- তাজউদ্দীন আহমদ, 
- এম মনসুর আলী,  এবং
- এ এইচ এম কামারুজ্জামান।
এই হত্যাকাণ্ড ইতিাহসে জেলহত্যা নামে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- প্রতিবছর ৩ নভেম্বর 'জাতীয় জেলহত্যা দিবস' হিসেবে পালিত হয়।

তথ্যসূত্র:
- বাংলাপিডিয়া ও বিবিসি বাংলা রিপোর্ট।
.
'Making of a Nation-Bangladesh' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. নুরুল ইসলাম
  2. ড. কামাল হোসেন
  3. শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নুরুল ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নুরুল ইসলাম
ব্যাখ্যা
নুরুল ইসলাম:
- প্রফেসর নুরুল ইসলাম ছিলেন একজন অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এবং লেখক।
- নুরুল ইসলাম জন্মেছিলেন ১৯২৯ সনের ১লা এপ্রিল।

উল্লেখ্য,
- নুরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
- তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাম্পেইন করেন।
- এছাড়া, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ‘মুজিবনগর সরকার’ কর্তৃক গঠিত পরিকল্পনা কমিশনের তিনি অন্যতম সদস্য ছিলেন।
- স্বাধীনতার পর তিনি পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন।
- ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম স্থাীয়ভাবে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যান।

⇒ নুরুল ইসলাম মোট ২৯টি বই লিখেছেন:
- Corruption, Its Control and Drivers of Change, India, Pakistan, Bangladesh: A Primer on Political History, Development Planning in Bangladesh: A Study in Political Economy (UPL, 1979, reprint 1993), Development Strategy of Bangladesh (Pergamon, 1978), Foodgrain Price Stabilization in Developing Countries: Issues and Experiences in Asia (IFPRI, 1996), Exploration in Development Issues: Selected Articles of Nurul Islam (Ashgate, 2003) and Making of a Nation-Bangladesh: An Economist Tale (UPD 2003) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

উৎস: i) Rokomari.com
ii) বাংলাপিডিয়া।
.
রাজা রামমোহন রায়ের 'গোস্বামীর সহিত বিচার' বইটি মূলত কোন বিষয়ের উপর লেখা?
  1. বিধবা বিবাহ প্রথার প্রচলন
  2. সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা
  3. সমাজে নারী অধিকার ও বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গ
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়: 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম = গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান।
 
সতীদাহ প্রথার প্রসঙ্গে রচিত গ্রন্থ:
উনিশ শতকের যুক্তিবাদী মননশীলতায় রামমোহন সহমরণ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিজস্ব মত প্রচারের জন্য হিন্দু সমাজের গোঁড়া সংস্কারের যুক্তিহীনতা দেখাবার জন্য তিনি দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
এগুলো হলো - 
১. প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ,
২. গোস্বামীর সহিত বিচার।

তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,
- গোস্বামীর সহিত বিচার ( সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে)। 

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
.
স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে যে আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল, তার নাম কী?
  1. খিলাফত আন্দোলন
  2. আলীগড় আন্দোলন
  3. ফরায়েজি আন্দোলন
  4. ফকির বিদ্রোহ আন্দোলন
সঠিক উত্তর:
আলীগড় আন্দোলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলীগড় আন্দোলন
ব্যাখ্যা
স্যার সৈয়দ আহমদ খান:
- ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে সৈয়দ আহমদ খানের জন্ম হয়।
- কোম্পানির অধীনে ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি সেরেস্তাদারের চাকুরী গ্রহণ করেন এবং পরে সাব জজ পদে উন্নীত হন।
- তাঁর কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বৃটিশ সরকার ১৮৮৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- সৈয়দ আহমদ খান ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে আলীগড়ে ‘মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল’ প্রতিষ্ঠা করেন।
- দু’বছর পরে এটি কলেজে উন্নীত হয়।

• আলীগড় আন্দোলন:
- আলীগড় আন্দোলন হচ্ছে আলীগড়ভিত্তিক সমাজ সংস্কারমূলক আন্দোলন।
- স্যার সৈয়দ আহমদ খানের নেতৃত্বে আলীগড় আন্দোলন সংঘটিত হয়।

⇒ ১৮৭৫ সালে সৈয়দ আহমদ খান আলীগড়ে 'মোহামেডান এ্যাংলো ওরিয়েন্টাল স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৮৭৭ সালে এটি কলেজে উন্নীত হয়।
- এ কলেজ প্রতিষ্ঠার পর আলীগড় ভারতীয় মুসলমানদের ধর্মীয়, সামাজিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।
- সৈয়দ আহমদ খান এ আলীগড় কলেজকে কেন্দ্র করে অধঃপতিত অবস্থা থেকে মুসলমানদের পুনরুদ্ধার ও তাদের পুনর্জাগরণের জন্য একটি আন্দোলন পরিচালনা করেন।
- ইতিহাসে এটিই 'আলীগড় আন্দোলন' নামে প্রসিদ্ধ।
- এ আন্দোলন মুসলমানদের মধ্যে আধুনিক ভাবধারা ও চিন্তা-চেতনা জাগ্রত করে।
- পরবর্তীকালে আলীগড় কলেজ ভারতীয় মুসলমানদের রাজনৈতিক জীবনকেও প্রভাবিত করেছিল।

অন্যদিকে -
- মাওলানা মুহাম্মদ আলী খিলাফত আন্দোলনের নেতা ছিলেন।
- মজনু শাহ ফকির বিদ্রোহের নেতা ছিলেন।
- ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরিয়ত উল্লাহ।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১০.
বাংলার নওয়াব উপাধি প্রাপ্ত প্রথম বাঙালি মহিলা কে?
  1. ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
  2. বেগম রোকেয়া
  3. নীলিমা ইব্রাহীম
  4. সুফিয়া কামাল
সঠিক উত্তর:
ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী
ব্যাখ্যা
• নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী ছিলেন নারীশিক্ষার পথিকৃৎ।
- দানশীলতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে ‘নওয়াব’ উপাধিতে ভূষিত করেন।
- তিনিই বাংলার প্রথম মহিলা যিনি এই উপাধি লাভ করেন।
- 'রুপজালাল' নওয়াব ফয়জুন্নেসা রচিত গদ্য ও কবিতায় আত্মজীবনী মূলক রচনা।
- গ্রন্থটি ১৮৭৬ খ্রিষ্টাব্দে।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলাপিডিয়া।
১১.
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের উদ্যোগে ভারতবর্ষে কোন বিষয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিলো?
  1. নারীশিক্ষা প্রসার আইন
  2. বাল্যবিবাহ নিষেধাজ্ঞা আইন
  3. হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন
  4. সামাজিক সংস্কার আইন
সঠিক উত্তর:
হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হিন্দু বিধবা বিবাহ আইন
ব্যাখ্যা
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর:
- তিনি ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়।
- ১৮৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে সংস্কৃত কলেজ ত্যাগ করার অল্প পরেই তিনি ফোর্ট উইলিয়ম কলেজের বাংলা ভাষার প্রধান পন্ডিতের পদ লাভ করেন।
- ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে ওই কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- শিক্ষা বিস্তারে তাঁর কৃতিত্ব অসাধারণ।

সমাজ সংস্কারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: 
- সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার, শিক্ষার সংস্কার, বাংলা শিক্ষার ভিত্তিস্থাপন এবং নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা তাঁর কীর্তি।
- স্কুল পরিদর্শক থাকাকালে গ্রামে গঞ্জে তিনি ২০টি মডেল স্কুল, ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন।
- তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'মেট্রোপলিটন ইনস্টিটিউশন', এখন এটি বিদ্যাসাগর কলেজ নামে খ্যাত।
- বাল্যবিয়ের কুফল এবং বিধবাদের করুণ জীবন ঈশ্বরচন্দ্রকে ব্যাথিত করে। 
- ঈশ্বরচন্দ্রের চেষ্টায় ভারত সরকার এগিয়ে আসে। অবশেষে ১৮৫৬ সালে বিধবা পুনর্বিবাহ আইন পাশ হয়।
-  তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়।

- ১৮৯১ সালের ২৯ জুলাই তিনি মৃত্যু বরণ করেন।
 
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া  ও ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২.
বেগম রোকেয়া মুসলিম নারীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশের উদ্দেশ্যে ১৯১৬ সালে কোন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. বঙ্গ মহিলা সমিতি
  2. নারী মুক্তি সমিতি
  3. আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম
  4. মুসলিম নারী সংস্থা
সঠিক উত্তর:
আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম
ব্যাখ্যা
• সমাজসেবায় বেগম রোকেয়া:
- মুসলিম নারী জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রতিষ্ঠা লাভ করুক, আত্মনির্ভরশীল হয়ে মাথা তুলে দাড়াক, সামাজিক কর্মকান্ডে পুরুষের মত নারীও সমান অবদান রাখতে সক্ষম হোক এটা ছিল তাঁর স্বপ্ন।
- মুসলিম নারীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ, স্বাবলম্বী মনোভাব সৃষ্টি সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকার সচেতনতা সৃষ্টির জন্য বেগম রোকেয়া ১৯১৬ সালে "আঞ্জুমানে খাওয়াতীনে ইসলাম" বা মুসলিম মহিলা সমিতি নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন।
- এ সংস্থার মাধ্যমে তিনি নারী মুক্তি আন্দোলন শুরু করেন।

উৎস: সমাজকল্যাণ ১ম পত্র- এইচএসসি প্রোগ্রাম-উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাপিডিয়া।
১৩.
"দি স্পিরিট অব ইসলাম" গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. আবুল মনসুর আহমদ
  2. সৈয়দ আমীর আলী
  3. হাজী শরীয়তুল্লাহ
  4. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
• মুসলিম রেঁনেসার অগ্রদূত:
- সৈয়দ আমীর আলী ছিলেন মুসলিম রেনেসাঁর অগ্রদূত।
- ইসলামী ও পাশ্চাত্য জ্ঞানের অধিকারী আমীর আলী ছিলেন একজন সুলেখক।
- তিনি ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা করেন।

এসব গ্রন্থের মধ্যে দুটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে:
(১) দি স্পিরিট অব ইসলাম এবং, 
(২) এ সর্ট হিস্টরি অব দি স্যারাসিন।
- এ গ্রন্থ দুটি পণ্ডিত হিসেবে আমীর আলীকে অমরত্ব দান করেছে।

- আমীর আলী তাঁর লেখায় ইসলাম ধর্মের বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা দান করেছেন।
- মুসলমানদের গৌরবময় অতীতের প্রতি বারংবার অঙ্গুলি নির্দেশ করে মুসলিম সমাজকে আত্মসচেতন করার চেষ্টা করেছেন।
- তাঁর এ চেষ্টায় হতাশাগ্রস্ত মুসলিম সমাজে প্রাণের সঞ্চার ঘটে।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪.
নবাব স্যার সলিমুল্লাহর উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক অবদান কী ছিল?
  1. সিপাহী বিদ্রোহে নেতৃত্ব
  2. মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
  3. মোহামেডান লিটারেরী সোসাইটি প্রতিষ্ঠা
  4. কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা
সঠিক উত্তর:
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠা
ব্যাখ্যা
• নবাব স্যার সলিমুল্লাহ:
- ১৮৭১ সালের ৭ জুন ঢাকার বিখ্যাত নবাব পরিবারে খাজা সলিমুল্লাহ জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর পিতার নাম নবাব খাজা আহসানউল্লাহ।
- নবাব পরিবারের মধ্যে সলিমুল্লাহ ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
- যৌবনকালে তিনি কিছুকাল ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সরকারি চাকুরি করলেও পরে চাকুরিতে ইস্তফা দিয়ে সমাজকল্যাণমূলক কাজে আত্মনিয়োগ করেন।
- ১৯০১ সালে তাঁর পিতার মৃত্যু হলে জ্যেষ্ঠ পুত্র হিসেবে তিনি নবাবের পদসহ পারিবারিক কর্তত্ব লাভ করেন।
- ব্যক্তিগত জীবনে তিনি সৎ, সাহসী ও ধার্মিক ছিলেন।
- ১৯০৬ সালে ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে নবাব সলিমুল্লাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নবাব সলিমুল্লাহ নানামুখী অবদান রাখেন।
- নবাব সলিমুল্লাহ ১৯১৫ সালের ১৬ জানুয়ারি কলকাতায় মারা যান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
'দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া' গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. এ পি জে আব্দুল কালাম
  2. রাজেন্দ্র প্রাসাদ
  3. জওহরলাল নেহেরু
  4. লাল বাহাদুর শাস্ত্রী
সঠিক উত্তর:
জওহরলাল নেহেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জওহরলাল নেহেরু
ব্যাখ্যা
জওহরলাল নেহেরু:
- জওহরলাল নেহরু ১৪ নভেম্বর, ১৮৮৯ সালে ভারতের এলাহাবাদে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
- জওহরলাল যখন ১৬ বছর বয়সী তখন তিনি হ্যারো এবং পরে কেমব্রিজে পড়ার জন্য ইংল্যান্ডে যান।
- তিনি ১৯১২ সালে ভারতে ফিরে আসেন এবং এলাহাবাদে আইনজীবী হন।
- ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতকে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত করতে মহাত্মা গান্ধীর সাথে কাজ করেছিলেন।
- নেহেরু নতুন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন।
- 'গ্লিম্পসেস অফ ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রি' জওহরলাল নেহরুর লেখা আত্মজীবনী।
- 'দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া' তাঁর লেখা অন্যতম বই।
- তিনি ২৭ মে, ১৯৬৪ তারিখে নয়াদিল্লিতে মারা যান।

তথ্যসূত্র - Britannica Kids.com
১৬.
কলকাতায় "মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি" প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কে?
  1. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  2. নওয়াব আবদুল লতিফ
  3. সৈয়দ আমীর আলী
  4. হাজী মুহম্মদ মুহসীন
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নওয়াব আবদুল লতিফ
ব্যাখ্যা
মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি:
- মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি একটি সামাজিক সংগঠন।
- ১৮৬৩ সালে ঢাকার নওয়াব আবদুল লতিফের উদ্যোগে কলকাতায় 'মোহামেডান লিটারেরি সোসাইটি' প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সোসাইটির কমিটির মোট ১২ জন সদস্য ছিলেন। বাংলার ছোটলাটকে সোসাইটির পৃষ্ঠপোষক করা হয়েছিল।
- সমগ্র ভারতবর্ষের পাঁচ শ’রও বেশি মুসলমান সোসাইটির সাধারণ সদস্যভুক্ত ছিল।
- আবদুল লতিফের ভাষায় ‘মুসলমানদের ইংরেজি ভাষার মাধ্যমে আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং সামাজিক আচরণ ও আদান-প্রদানে শিক্ষিত হিন্দু ও ইংরেজদের সমকক্ষ করে তোলাই ছিল সোসাইটি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১৭.
স্বরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা নেতারা ছিলেন?
  1. মহাত্মা গান্ধী ও সুভাষ চন্দ্র বোস
  2. চিত্তরঞ্জন দাস ও মতিলাল নেহেরু
  3. লালা লাজপত রাই ও বাল গঙ্গাধর তিলক
  4. বীর সাভারকার ও মুজাফফর আহমদ
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাস ও মতিলাল নেহেরু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিত্তরঞ্জন দাস ও মতিলাল নেহেরু
ব্যাখ্যা
স্বরাজ পার্টি:
স্বরাজ পার্টি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল ছিল, যা ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় ১৯২০-এর দশকের গোড়ার দিকে আত্মপ্রকাশ করেছিল। এটি বিশেষত ব্রিটিশ ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিক্রিয়া হিসেবে গঠিত হয়েছিল। পার্টির নামটি স্বরাজ শব্দটি থেকে নেওয়া হয়েছে , যার অর্থ "স্ব-শাসন", যা ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভের আন্দোলনে ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠা:
- ১৯২৩ সালে এই দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- প্রতিষ্ঠাতা: মতিলাল নেহেরু এবং চিত্তরঞ্জন দাস।

গঠনের পটভূমি:
- স্বরাজ পার্টির গঠন ছিল ১৯১৯ সালের মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কারের প্রতিক্রিয়া।
- এই সংস্কারের মাধ্যমে ভারতে সীমিত স্ব-শাসন প্রবর্তিত হয়েছিল, কিন্তু ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের আকাঙ্ক্ষা ছিল ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন থেকে পূর্ণ স্বাধীনতা।
- মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কার সীমিত স্ব-শাসন প্রদান করলেও, অনেক ভারতীয় নেতা এটিকে যথেষ্ট মনে করেননি, ফলে স্বরাজ পার্টির গঠন হয়েছিল।

স্বরাজ পার্টির উদ্দেশ্য:
- ১৯১৯ সালের মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কারের অধীনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।
- ভারতের প্রথম কংগ্রেসের বিপরীতে, যারা এই সংস্কারের অধীনে আইন পরিষদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, স্বরাজ পার্টির লক্ষ্য ছিল আইন পরিষদে প্রবেশ করে বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন এবং স্বশাসনের জন্য কাজ করা।

উৎস: বাংলাপিডিয়া, ব্রিটানিকা।
১৮.
রাজা রামমোহন রায় কোন শতকের ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন?
  1. সতেরো শতক
  2. ষোল শতক
  3. উনিশ শতক
  4. বিশ শতক
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উনিশ শতক
ব্যাখ্যা
• রাজা রামমোহন রায়:
- বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা, ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ ছিলেন রাজা রামমোহন রায়।
- ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তিনি জন্মগ্রহন করেন। 
- অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী রামমোহন, বিশেষ করে আরবি, ফারসি, উর্দু, ল্যাটিন ও গ্রিক ভাষায় অসামান্য দক্ষতা অর্জন করেন।

- তিনি 'সম্বাদ কৌমুদী', ‘মিরাত-উল-আখবার' ও 'ব্রাহ্মনিকাল ম্যাগাজিন' নামে তিনটি পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন।
- তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলিন্য প্রথা, মূর্তিপূজা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের ভিত্তিতে হিন্দুধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন।
- রাজা রামমোহন ১৮২২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ‘এ্যাংলো হিন্দু কলেজ' প্রতিষ্ঠা করেন। 
- ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে এই মহাপুরুষ, ভারতীয় নবজাগরণের স্রষ্টা, রাজা রামমোহন রায়ের মৃত্যু হয়।
 
উপর্যুক্ত আলোচনা হতে বলা যায়,
রাজা রামমোহন রায় - উনিশ শতকের ধর্ম ও সমাজ সংস্কারক ছিলেন।

------------------------
- রাজা রামমোহন রায় রচিত ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম - গৌড়ীয় ব্যাকরণ।  
- রাজা রামমোহন রায় প্রথম বাঙালি যিনি বাংলা ভাষায় প্রথম বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। 
- রাজা রামমোহন রায় রচিত বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম বাংলা ব্যাকরণ গ্রন্থের নাম- 'গৌড়ীয় ব্যাকরণ'।             
-  রাজা রামমোহন রায় ছিলেন একাধারে সমাজ, শিক্ষা ও ধর্ম সংস্কারক ।
- সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে তিনি জোর প্রচারণা চালান । 
- সতীদাহ প্রথার অযৌক্তিকতা প্রসঙ্গে 'গোস্বামীর সহিত বিচার' ও 'প্রবর্তক ও নিবর্তকের সম্বাদ' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
 
তার রচিত অন্যান্য গ্রন্থ:
- বেদান্ত গ্রন্থ, 
- বেদান্তসার, 
- পথ্য প্রদান,

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।