ব্যাখ্যা
⇒ বখতিয়ার খলজী ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস- ফোর ডক্টরস
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইতিহাস [১৮১] · তারিখ অনির্ধারিত · ২৯ প্রশ্ন
⇒ বখতিয়ার খলজী ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া জয় করেন এবং বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা করেন।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস- ফোর ডক্টরস
⇒ সেন বংশের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলায় মুসলিম শাসনের শুরু হয়।
- ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের শীতকালে বখতিয়ার খলজী ঝাড়খন্ডের দুর্গম অরণ্যাঞ্চলের মধ্য দিয়ে লক্ষ্মণসেন এর অবকাসকালীন রাজধানী নদীয়া আক্রমন করেন।
- বলা হয়ে থাকে যে, মাত্র সতের জন ঘোড় সওয়ার সৈন্য লক্ষণসেনের সঙ্গে নগরে প্রবেশ করেছিল এবং অতর্কিতে আক্রমণ চালিয়ে সহজেই রাজপ্রাসাদ দখল করতে পেরেছিলেন।
- রাজা লক্ষ্মণসেন নৌপথে তাঁর রাজধানী বিক্রমপুরে পালিয়ে গেলে নদীয়া মুসলমানদের অধিকারে আসে।-
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী বিহার আক্রমণ করেন এবং তাঁর সৈন্যদল বৌদ্ধদের শিক্ষাকেন্দ্র ওদন্তপুরী বৌদ্ধবিহারটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে।
- অতঃপর তারা সে স্থান থেকে মূল্যবান সম্পদ লুণ্ঠন করে প্রত্যাবর্তন করে।
উৎস:-বাংলাপিডিয়া
⇒ তিব্বত আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে বখতিয়ার খলজী দশ হাজার অশ্বারোহী সৈন্য নিয়ে ১২০৬ খ্রি. প্রথম দিকে দেবকোট হতে বেগমতী নদী বরাবর যাত্রা করেন।
- তিনি প্রাচীন একটি সেতুর মাধ্যমে নদী অতিক্রম করে পার্বত্য এলাকার দিকে অগ্রসর হন।
- সেখানে স্থানীয় লোকদের সাথে তাঁর যুদ্ধ হয়।
- যুদ্ধে তিনি ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং অবশেষে প্রত্যাবর্তন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
- কিন্তু তাঁর প্রত্যাগমন ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক।
- তিনি একশত জনের কিছু বেশি সংখ্যক সহচর নিয়ে দেবকোটে পৌঁছেন।
- দেবকোটে বখতিয়ার খলজী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অসুস্থ অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
- মিনহাজ ই সিরাজের বর্ণনানুসারে, তিনি আলী মর্দান খলজী কর্তৃক ছুরিকাঘাতে ৬০২ হিজরিতে (১২০৬ খ্রি.) নিহত হন।
উৎস:-বাংলাপিডিয়া
⇒ বখতিয়ার খলজী তুর্কি জাতির খলজী সম্প্রদায়র্ভুক্ত ছিলেন।
- গজনীতে তিনি তাঁকে সৈনিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য মুহম্মদ ঘুরীর নিকট আবেদন করেন।
- কিন্তু খর্বাকৃতি ও বাহুদ্বয় হাঁটুর নিচ পর্যন্ত লম্বা হওয়ার কারণে তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়।
- ভগ্নমনোরথ হয়ে বখতিয়ার অতঃপর দিল্লির দিকে অগ্রসর হন এবং কুতুবউদ্দীন আইবকের অধীনে চাকরি প্রার্থী হন।
- কিন্তু সেখানেও তাঁর ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো না।
- এরপর তিনি বদাউনে যান এবং সেখানে তিনি মালিক হিজবরউদ্দীন কর্তৃক নগদ বেতনে চাকুরিতে নিযুক্ত হন।
- কিন্তু উচ্চভিলাসি বখতিয়ার সামান্য বেতনভোগী সৈনিকের পদে তৃপ্ত থাকতে পারেননি।
- অল্পকাল পরেই তিনি বদাউন পরিত্যাগ করে অযোধ্যায় উপস্থিত হন।
- বাদাউনের শাসনকর্তা মালিক হুসামউদ্দীনের অধীনে তিনি মির্জাপুর জেলার ভাগওয়াত ও ভিউলী নামে দুটি পরগণার জায়গির প্রাপ্ত হন ।
উৎস:-বাংলাপিডিয়া
⇒ তাঁর গৃহীত প্রাথমিক পদক্ষেপগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল দেবকোট হতে লখনৌতিতে (গৌড়) রাজধানী পুনঃস্থানান্তরিত করে এখানে সম্পূর্ণ নতুন একটি নগরের পত্তন ঘটানো।
- অতি অল্পকালের মধ্যেই ইওজ খলজী লখনৌতিতে তাঁর ক্ষমতা সুদৃঢ় করেন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮) মধ্যযুগীয় বাংলার সুলতানদের মধ্যে এক বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ বাংলার স্বাধীন সালতানাতকে সুদৃঢ় প্রাথমিক জীবনে তিনি দিল্লির মালিক ফিরুজের অধীনে চাকরি করতেন।
- কিন্তু সেখানে কোনো এক অপরাধ করে তিনি বাংলায় পালিয়ে আসেন এবং সাতগাঁওএর তুগলক শাসনকর্তা ইজ্জউদ্দীন ইয়াহিয়ার অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন।
- নিজ যোগ্যতা বলে তিনি মালিক পদে উন্নীত হন।
- ইজ্জউদ্দীন ইয়াহিয়ার মৃত্যুর পর তিনি ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সাতগাঁওয়ের অধীশ্বর হন।
উৎস:-বাংলাপিডিয়া
⇒ ইলিয়াস শাহ (১৩৪২-১৩৫৮) মধ্যযুগীয় বাংলার সুলতানদের মধ্যে এক বিশিষ্ট স্থানের অধিকারী ইলিয়াস শাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ বাংলার স্বাধীন সালতানাতকে সুদৃঢ় প্রাথমিক জীবনে তিনি দিল্লির মালিক ফিরুজের অধীনে চাকরি করতেন।
- কিন্তু সেখানে কোনো এক অপরাধ করে তিনি বাংলায় পালিয়ে আসেন এবং সাতগাঁওএর তুগলক শাসনকর্তা ইজ্জউদ্দীন ইয়াহিয়ার অধীনে চাকরি গ্রহণ করেন।
- নিজ যোগ্যতা বলে তিনি মালিক পদে উন্নীত হন।
- ইজ্জউদ্দীন ইয়াহিয়ার মৃত্যুর পর তিনি ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে সাতগাঁওয়ের অধীশ্বর হন।
উৎস:বাংলাপিডিয়া
⇒ শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে ইখতিয়ারউদ্দিন গাজী শাহকে পরাজিত করে সোনারগাঁও অধিকার করেন।
- এরমধ্যে দিয়ে তিনি সমগ্র বাংলার অধিপতি হন।
- ১৩৫২ খ্রিস্টাব্দে সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহের হাতে ফখরুদ্দীনের রাজবংশের পতনের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ চৌদ্দ বছর সোনারগাঁও সমগ্র পূর্ববঙ্গ ও দক্ষিণপূর্ব বঙ্গের সুলতানি শাসনের রাজধানীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত ছিল।
- সুলতান শামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ ও সিকান্দর শাহের শাসনামলে সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গ প্রদেশের রাজধানী।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ ১৩৫২ খ্রি: তিনি সমগ্র বাংলাদেশের অধিপতি হন।
- ইতিপূর্বে বাংলার অন্য কোন মুসলমান সুলতান সমগ্র বাংলাদেশের সুলতান হবার গৌরব লাভ করতে পারেননি।
- এ কারণে ঐতিহাসিক শামস-ই-সিরাজ আফীফ ইলিয়াস শাহকে শাহ-ই-বাঙ্গালাহ, শাহ-ই-বাঙ্গালিয়ানা ও ‘সুলতান-ই-বাঙ্গালাহ’ বিশেষণে ভূষিত করেন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া, ফোর ডক্টরস
⇒ গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ (১৩৮৯-১৪১০ খ্রি:/৭৯২-৮১৩ হিজরি) বাংলার প্রথম ইলিয়াস শাহী বংশের তৃতীয় সুলতান।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ তাঁর আদর্শ চরিত্র, শিক্ষার পৃষ্ঠপোষকতা এবং সুশাসনের জন্য যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেন।
- সুলতান গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ নিজে বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- তিনি বিদ্বান লোকদের খুব সমাদর করতেন।
- মাঝে মাঝে তিনি আরবি ও ফারসি ভাষায় কবিতা লিখতেন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ তিনি সমসাময়িক চীন সম্রাট ইয়ংলোর সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেন।
- তিনি ১৪০৫, ১৪০৮ ও ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দে চীনে দূত পাঠিয়েছিলেন।
- চীন সম্রাট দূতদেরকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান এবং প্রতিদানে তিনিও বাংলার সুলতানের নিকট দূত ও উপঢৌকন প্রেরণ করেন।
উৎস:বাংলাপিডিয়া
⇒ গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ বাংলা সাহিত্যের উন্নতির ক্ষেত্রেও যথেষ্ট অবদান রাখেন।
- তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় শাহ মুহম্মদ সগীর তাঁর বিখ্যাত কাব্য ‘ইউসুফ জোলেখা’ রচনা করেন।
- সম্ভবত সুলতান কৃত্তিবাসকেও বাংলায় রামায়ণ লেখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
উৎস:বাংলাপিডিয়া
⇒ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ শিল্পানুরাগী মানুষ ছিলেন।
- তার রাজত্বকালে নির্মিত মসজিদসমূহের মধ্যে গৌড়ের ছোট সোনা মসজিদ এবং গুমতি দ্বার শিল্প সৌন্দর্যে বিশিষ্ঠ স্থান অধিকার করে আছে।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাসের রূপরেখা- ড. আশফাক হোসেন
⇒ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ (১৪৯৪-১৫১৯) বাংলার হোসেনশাহী বংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- তিনি হাবশী সুলতান শামসুদ্দীন মুজাফফর শাহের উজির ছিলেন।
- তিনি সুলতানকে হত্যা করে সিংহাসন অধিকার করেন।
- ১৪৯৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি নেতৃস্থানীয় আমীরদের দ্বারা সুলতান নির্বাচিত হন।
উৎস:বাংলাপিডিয়া
⇒ ইবনে বতুতা (১৩০৪-১৩৭৮) মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন।
- তার ভ্রমণকাহিনীর নাম কিতাবুল রেহালা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন এবং তা ছিল কামরূপের পার্বত্য অঞ্চলে বিখ্যাত সুফিসাধক শেখ জালালউদ্দিনের (হযরত শাহজালাল মুজার্রদ-ই-ইয়েমেনী) দর্শন লাভ।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ হিউয়েন-সাং সাত শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন-সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য-এশিয়ার কুচ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
- কনৌজ নগরে পৌঁছে তিনি মহান ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন।
- তিনি মগধের বিভিন্ন বৌদ্ধ তীর্থস্থান পরিদর্শন করেন এবং অনেক সময় তৎকালীন বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র নালন্দা মহাবিহারে পড়াশোনায় অতিবাহিত করেন।
- এরপর তিনি বাংলার বিভিন্ন অংশ (পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশ) এবং দক্ষিণ ও পশ্চিম ভারত ভ্রমণ করে পুনরায় মধ্য এশিয়া হয়ে চীনে প্রত্যাবর্তন করেন।
- তখন বাংলার সিংহাসনে ছিলেন শশাঙ্ক।
উৎস:বাংলাপিডিয়া
⇒ ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন-সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য-এশিয়ার কুচ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
- কনৌজ নগরে পৌঁছে তিনি মহান ভারতীয় সম্রাট হর্ষবর্ধনের আতিথ্য লাভ করেন।
- তিনি মগধের বিভিন্ন বৌদ্ধ তীর্থস্থান পরিদর্শন করেন এবং অনেক সময় তৎকালীন বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র নালন্দা মহাবিহারে পড়াশোনায় অতিবাহিত করেন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ ইবনে বতুতা (১৩০৪-১৩৭৮) মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন ।
- তার ভ্রমণকাহিনীর নাম কিতাবুল রেহালা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ ইবনে বতুতা (১৩০৪-১৩৭৮) মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলায় সফর করেন।
- তাঁর পুরো নাম শেখ আবু আবদুল্লাহ মুহম্মদ।
- বাংলায় সফরের উদ্দেশ্য তিনি নিজেই তাঁর ভ্রমন কাহিনীতে উল্লেখ করেছেন।
- তার ভ্রমণকাহিনীর নাম কিতাবুল রেহালা।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ গিয়াসউদ্দীন আজম শাহের রাজত্বকালের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো যে, তাঁর সময় হিন্দুরা তাঁর দরবারে বেশ প্রাধান্য লাভ করে ছিল।
- এর ফলে ভাতুরিয়ার (দিনাজপুর জেলায়) জমিদার রাজা গণেশের উত্থান ঘটে।
- ১৪১০ খ্রিস্টাব্দে (৮১৩ হিজরি) গিয়াসউদ্দীন আজম শাহ এর মৃত্যু হয়।
- রাজা গণেশ সুলতানকে হত্যা করেন বলে ধারনা করা হয়।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ তিনি সমসাময়িক চীন সম্রাট ইয়ংলোর সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেন।
- তিনি ১৪০৫, ১৪০৮ ও ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দে চীনে দূত পাঠিয়েছিলেন।
- চীন সম্রাট দূতদেরকে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানান এবং প্রতিদানে তিনিও বাংলার সুলতানের নিকট দূত ও উপঢৌকন প্রেরণ করেন।
- চীন সম্রাটের প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন মাহুয়ান।
উৎস:বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
⇒ তিনি ক্ষমতায় আরোহন করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য পাইকদের দল ভেঙ্গে দেন, হাবশীদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন এবং সৈয়দ, আফগান ও পাঠানদেরকে উচ্চপদে নিযুক্ত করেন।
- অরাজক পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে তিনি যে সাফল্যের পরিচয় দেন সে জন্য তাকে মধ্যযুগের ‘গোপাল’ বলা হয়।
উৎস:বাংলাদেশের ইতিহাসের রূপরেখা- ড. আশফাক হোসেন
⇒ প্রাক মোগল যুগে বাংলার শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহ।
- মোগল আমলের মহামতী আকবরের শাসনের সাথে তুলনা করা হয় তাঁর শাসনকালকে।
- একজন মহান শাসকের ন্যায় বহু প্রতিভার উপস্থিতি ছিলো তাঁর মধ্যে।
- বাংলা সালতানাতকে এক শক্তিশালী ভিত্তির উপর দাড় করিয়ে যান তিনি।
- পাশাপাশি সাংস্কৃতিক সামাজিক ও অর্থনৈতিকদিক থেকে বাংলা আরোও সমৃদ্ধ হয়।
- তাই তাঁকে আখ্যায়িত করা হয় “ বাংলার আকবর” হিসেবে।
উৎস:বাংলাদেশের ইতিহাস-ফোর ডক্টরস
⇒ ১৫২১ খ্রিস্টাব্দের শেষদিকে বাংলার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের উদ্দেশ্যে দুটি পর্তুগিজ প্রতিনিধিদল নুসরতের দরবারে আসেন।
- তাঁর রাজত্বকালে পর্তুগিজগণ বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় ছিল।
- এ প্রতিনিধিদলের সদস্য গনসেলো টেভারেজ বাংলায় পর্তুগিজ ব্যবসায়ীদের জন্য শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা লাভে সমর্থ হন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া
⇒ স্থাপত্য শিল্পে নুসরাত শাহ এর অবদান আছে।
- তিনি ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে গৌড় (শহর) –এ বারদুয়ারি বা বড় সোনা মসজিদের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন ।
- গৌড়ের কদমরসুল ভবনে তিনি একটি মঞ্চ নির্মাণ করেন।
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস-ফোর ডক্টরস
⇒ হিন্দুদের প্রতি তিনি সহনশীল ও উদারনীতি পোষণ করতেন।
- হিন্দুরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন।
- রূপ গোস্বামী ছিলেন সাকার মালিক, সনাতন গোস্বামী ছিলেন দবির-ই-খাস, জগাই ও মাধাই ছিলেন নবদ্বীপের কোতোয়াল, গোপীনাথ বসু ছিলেন তাঁর মন্ত্রী, মুকুন্দদাস ব্যক্তিগত চিকিৎসক, কেশব খান ছত্রী ছিলেন তাঁর দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান এবং অনুপ ছিলেন টাকশালের দায়িত্বে নিয়োজিত।
- তাঁর অধীনস্থ প্রাদেশিক শাসনকর্তা পরাগল খান ও ছুটি খান মহাভারতের বাংলা অনুবাদক কবীন্দ্র পরমেশ্বর এবং শ্রীকর নন্দীর পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- সমকালীন কবি বিজয়গুপ্ত তাঁকে নৃপতিতিলক, জগৎভূষণ ও কৃষ্ণ-অবতার বলে উল্লেখ করেছেন।
উৎস: বাংলাপিডিয়া , বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।