পরীক্ষা আর্কাইভ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

পরীক্ষাGKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়07 minutes
মোট প্রশ্ন২০
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫ টপিক: বঙ্গভঙ্গ থেকে দেশভাগ বঙ্গভঙ্গ পরবর্তী রাজনীতি ও অন্যান্য, বাংলাদেশের কৃষিজ সম্পদ (ফসল, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি [Live Class - 8 & 9 ক্লাস মেন্টর: নিশাত রায়হান অমনি]
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি

GKPedia - বাংলাদেশ বিষয়াবলি · তারিখ অনির্ধারিত · ২০ প্রশ্ন

.
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনের সভাপতিত্ব কে করেছিলেন?
  1. অক্টোভিয়ান হিউম
  2. ফিরোজ শাহ মেহতা
  3. উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি
  4. এ টি তেলাঙ্গা
ব্যাখ্যা

- ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস হলো সর্বভারতীয় প্রথম রাজনৈতিক সংগঠন।
- এটি 
১৮৮৫ সালে তৎকালীন বড়লাট ডাফরিনের সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইংরেজ সিভিলিয়ান অ্যালান অক্টোভিয়ান হিউম।
- শুরুতে কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিলো শিক্ষিত ভারতীয় প্রতিনিধিদের মাধ্যমে ব্রিটিশ শাসন সম্পর্কে ভারতীয়দের অসন্তোষ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্রিটিশ শাসকদের নিকট তুলে ধরা।

- ১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে কংগ্র্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে মুম্বাইয়ে।
- এতে সভাপতিত্ব করেছিলেন বাঙালি ব্যারিস্টার উমেশচন্দ্র ব্যানার্জি।


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেম উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বঙ্গভঙ্গের ফলে গঠিত নতুন প্রদেশের রাজধানী কোথায় ছিল?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ঢাকা
  3. রাজশাহী
  4. আসাম
ব্যাখ্যা

• বঙ্গভঙ্গ :
- বঙ্গভঙ্গ অবিভক্ত বাংলায় তথা সমগ্র ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯০৫ সালের পূর্বে 'বাংলা প্রেসিডেন্সি' ছিল ভারতের সর্ববৃহৎ প্রদেশ।
- ১৯০৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর বঙ্গভঙ্গের ঘোষণা প্রদান করা হয় এবং ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর হয়।
- ঘোষনা করেন বড় লাট লর্ড কার্জন। 
- ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং আসাম নিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রদেশ'।
- ঢাকায় এ নতুন প্রদেশের রাজধানী স্থাপিত হয়।
- পশ্চিম বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় ‘পশ্চিমবঙ্গ’ প্রদেশ। এর রাজধানী হয় কলিকাতা । 

- বঙ্গভঙ্গের পর নবগঠিত ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত হন স্যার ব্যামফিল্ড ফুলার এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশের' গভর্নর নিযুক্ত হন এনডু ফ্রেজার।
- নবাব স্যার সলিমুল্লাহ্ বঙ্গভঙ্গের সমর্থনে পূর্ববঙ্গের মুসলমান জনগণকে সংগঠিত করেন। 

- ব্রিটিশ সরকার বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
- রাজা পঞ্চম জর্জ দিল্লী দরবারে এ ঘোষণা দেন।  

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং
           ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
নিখিল ভারত মুসলিম লীগ গঠনের প্রস্তাব করেন কে?
  1. খাজা নিজামুদ্দিন
  2. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
  3. স্যার সৈয়দ আহমদ খান
  4. নবাব খাজা সলিমুল্লাহ
ব্যাখ্যা

 • মুসলিম লীগ:
- ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়।
- বঙ্গভঙ্গের গোঁড়াসমর্থক ঢাকার নওয়াব  খাজা সলিমুল্লাহ কংগ্রেস সমর্থকদের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বিক্ষোভ মোকাবিলা করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন।
- ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে তিনি এ সভায় একটি রাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের প্রস্তাব করেন।
- সভার সভাপতি নওয়াব ভিকার-উল-মুলক প্রস্তাবটি সমর্থন করেন এবং এভাবে সর্ব ভারতীয় মুসলিম লীগ সৃষ্টি হয়।
- নওয়াব খাজা সলিমুল্লাহ, নবাব ভিকার-উল মুলক, সুলতান মুহাম্মদ শাহ আগা খান প্রমুখের উদ্যোগে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। 
- নওয়াব আব্দুল লতিফ, স্যার সৈয়দ আহমদ খান, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সাথে জড়িত ছিলেন না। 
- মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
লক্ষ্ণৌ চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯১৫ সাল
  2. ১৯১৬ সাল
  3. ১৯১৩ সাল
  4. ১৯১৮ সাল
ব্যাখ্যা

• লক্ষ্ণৌ চুক্তি (১৯১৬ খ্রি.):

- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইন বা মর্লে-মিন্টো সংস্কার আইন ভারতবাসীর সব দাবি-দাওয়া পূরণে যথেষ্ট সহায়ক হয় নি। এ আইনে যদিও প্রত্যক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি স্বীকার করে নেয়া হয় এবং মুসলমানদের স্বতন্ত্র নির্বাচনের অধিকার প্রদান করা হয় তথাপি এতে মুসলিম সম্প্রদায় পরিপূর্ণভাবে সন্তুষ্ট হতে পারে নি।

-  ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘোষণা তাদেরকে বৃটিশ সরকারের প্রতি সন্দিহান করে তোলে। 

- তাছাড়া ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের জুলাই মাসে কানপুর মসজিদের ঘটনায় পুলিশের গুলিতে কয়েকজন মুসলমান নিহত হলে মুসলমানদের মধ্যে সরকার বিরোধী মনোভাব তীব হয়ে উঠে।

- ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ ও অসন্তোষ ভারতের মুসলমানদের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে। অভিজাত, রক্ষণশীল ও বৃটিশ অনুগত নেতাদের বদলে ১৯১২ খ্রিস্টাব্দের পর থেকে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলিম লীগের তরুন সদস্যগণ দলের মধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠে। 

- ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দের মার্চে মুসলিম লীগের লক্ষ্ণৌ অধিবেশনে দলের নতুন গঠনতন্ত্র প্রণীত হয়। এতে বলা হয় যে, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং স্বরাজ অর্জনই হচ্ছে লীগের অন্যতম উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। এর ফলে ভারতের হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সম্প্রীতি ও সদ্ভাব সৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

- অতঃপর লীগ ও কংগ্রেস প্রায় একই সময়ে ও স্থানে এদের বার্ষিক অধিবেশন আহবান করে। 

- ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে কংগ্রেস এবং মুসলিম লীগ এদের বার্ষিক সম্মেলন লক্ষ্ণৌ শহরে অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সময়ে উভয় সম্প্রদায় ভারতের শাসনতান্ত্রিক সংস্কারের নীতির প্রশ্নে একটা সমঝোতায় আসে।

- এটাই ইতিহাসে লক্ষ্ণৌ চুক্তি নামে পরিচিত। 

উৎস:  বাংলাপিডিয়া এবং ইতিহাস প্রথম পত্র, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
বেঙ্গল প্যাক্ট (১৯২৩) কোন উদ্দেশ্যে সম্পাদিত হয়েছিল?
  1. ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটানোর জন্য
  2. বাংলায় হিন্দু-মুসলিম ঐক্য স্থাপনের জন্য 
  3. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন লাভের জন্য
  4. ভারতের বিভাজন রোধের জন্য
ব্যাখ্যা

• বেঙ্গল প্যাক্ট, ১৯২৩: 

- বেঙ্গল প্যাক্ট (১৯২৩) বাংলার হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক বিভেদের সমাধানের লক্ষ্যে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি। 

- চিত্তরঞ্জন দাশ প্রদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার অংশীদারিত্বের নীতিতে আন্তরিকভাবে বিশ্বাস ছিলেন।  তিনি তাঁর ফরোয়ার্ড পত্রিকার সম্পাদকীয়তে লেখেন যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে বাংলার মুসলমানদেরকে তাদের নায্য হিস্যা দিতে হবে। তারা সুযোগ্য হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুক- এ দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এ যুক্তি দিয়েই বিদেশি শক্তি হিন্দু-মুসলমান উভয়কেই শাসন ক্ষমতা থেকে দূরে রেখেছে।

- চিত্তরঞ্জন দাস বাংলার মুসলমানদের নেতা ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে বাংলার রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেন এবং হিন্দু-মুসলমানদের দাবি দাওয়ার ব্যাপারে একটি চুক্তি সম্পন্ন করেন। এ চুক্তি 'বেঙ্গল প্যাক্ট' বা 'বাংলা চুক্তি' নামে পরিচিত।

-  ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের গয়া অধিবেশনে তাঁর দেয়া উক্ত প্রস্তাব বাতিল হয়ে যায়। এতে ব্যর্থ হয়ে তিনি মতিলাল নেহেরু ও হাকিম আজমল খানকে নিয়ে ১৯২২ খ্রিস্টাব্দের ৩১ ডিসেম্বর 'স্বরাজ্য পার্টি' নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যে স্বরাজ্য পার্টির সমর্থকগণ বাংলা প্রাদেশিক কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে এবং সি.আর. দাস ও সুভাষ বসু যথাক্রমে এর সভাপতি ও সেক্রেটারি নির্বাচিত হন।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
১৯৩৭ সালের বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মোট আসন সংখ্যা কত ছিল?
  1. ২২৩টি
  2. ২৫০টি
  3. ৩৫৫টি
  4. ২০৪টি
ব্যাখ্যা

• ১৯৩৭ সালের নির্বাচন ও রাজনৈতিক দলসমূহ:
- ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
- ১৯৩৫ সালের ভারত শাসন আইন অনুযায়ী ১৯৩৭ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১৯৩৬ সাল হতে ভারতের অন্যান্য প্রদেশের মতো সারা বাংলায় নির্বাচনের তোড়জোর আরম্ভ হয়।
- নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলায় তিনটি প্রধান রাজনৈতিক দলের তৎপরতা বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়।
- বঙ্গীয় প্রাদেশিক পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ছিল ২৫০টি। 

•  রাজনৈতিক দল তিনটি হচ্ছে-
ক. জিন্নাহর নেতৃত্বাধীন পুনর্গঠিত মুসলিম লীগ;
খ. এ.কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন কৃষক-প্রজা পার্টি এবং
গ. ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
লাহোর প্রস্তাবে মুসলমানদের জন্য কী ধরনের রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়েছিল?
  1. একক ফেডারেল রাষ্ট্র
  2. প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসনযুক্ত একক রাষ্ট্র
  3. স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ 
  4. ব্রিটিশ শাসনের অধীন রাষ্ট্র
ব্যাখ্যা

- ১৯৩৭ সালের সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশসমূহে  মুসলিম লীগের পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণের জন্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪০ সালে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাধারণ অধিবেশন আহবান করেন।

- মুসলিম লীগের কর্মীদের একটি ক্ষুদ্র দল নিয়ে হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী ১৯৪০ সালের ১৯ মার্চ লাহোরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

- অধিবেশনে যোগদানের জন্য বাংলার মুসলিম লীগ দলের নেতৃত্ব দেন এ.কে ফজলুল হক এবং তাঁরা ২২ মার্চ লাহোরে পৌঁছেন।
- জিন্নাহ তাঁর দুঘণ্টারও অধিক সময়ব্যাপী বক্তৃতায় কংগ্রেস ও জাতীয়তাবাদী মুসলমানদের সমালোচনা করেন এবং দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি দাবি করার পেছনের যুক্তিসমূহ তুলে ধরেন।
- তাঁর যুক্তিসমূহ সাধারণ মুসলিম জনতার মন জয় করে।
- পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী সিকান্দার হায়াত খান লাহোর প্রস্তাবের প্রারম্ভিক খসড়া তৈরি করেন, যা আলোচনা ও সংশোধনের জন্য নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সাবজেক্ট কমিটি সমীপে পেশ করা হয়।
- সাবজেক্ট কমিটি এ প্রস্তাবটিতে আমূল সংশোধন আনয়নের পর ২৩ মার্চ সাধারণ অধিবেশনে ফজলুল হক সেটি উত্থাপন করেন এবং চৌধুরী খালিকুজ্জামান ও অন্যান্য মুসলিম নেতৃবৃন্দ তা সমর্থন করেন।

-
প্রস্তাবটি ছিল নিম্নরূপ:

- ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব এলাকাসমূহের মতো যে সকল অঞ্চলে মুসলমানগণ সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে সব অঞ্চলে ‘স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ’ (স্টেটস্) গঠন করতে হবে যার মধ্যে গঠনকারী এককগুলি হবে স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম।


উৎস: বাংলাপিডিয়া।

.
ভারত শাসন আইন-১৯৩৫ - এ কী ধরনের সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়?
  1. রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার
  2. কেন্দ্র শাসিত সরকার
  3. ব্রিটিশ শাসিত সরকার
  4. যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার 
ব্যাখ্যা

• ভারত শাসন আইনের বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- ভারত শাসনে যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার পদ্ধতি এবং প্রদেশে স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন ছিল ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের ভারত শাসন আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
- এ আইনে স্থির হয় যে, বৃটিশ ভারতের প্রদেশসমূহ ও দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটা যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হবে।
- যুক্তরাষ্ট্রের শাসনভার গভর্নর জেনারেল ও তাঁর মন্ত্রীসভার হাতে ন্যস্ত থাকবে।
- মন্ত্রীগণ আইন সভার মধ্য থেকে গভর্নর জেনারেল কর্তৃক নিয়োজিত হবেন এবং তাঁরা আইন সভার নিকট দায়ী থাকবেন।

- ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দের আইনে কেন্দ্রে একটা দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা গঠনের ব্যবস্থা ছিল।
- উচ্চ কক্ষটি রাষ্ট্রসভা এবং নিম্নকক্ষ ফেডারেল পরিষদ নামে অভিহিত হবে স্থির হয়।
- মোট এগারটি গভর্নর শাসিত প্রদেশের মধ্যে ছয়টিতে দ্বি-কক্ষ বিশিষ্ট আইন সভা এবং অবশিষ্ট পাঁচটিতে এক কক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রবর্তিত হয়।
- ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ অনুযায়ী কেন্দ্রের ন্যায় বিভিন্ন প্রদেশেও মুসলিম ও অনুন্নত শ্রেণির জন্য পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করা হয়।

- এ আইনে প্রদেশগুলোতে দ্বৈত শাসনের পরিবর্তে স্বায়ত্তশাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
- নতুন আইন অনুযায়ী প্রদেশের শাসন ব্যবস্থার প্রধান হবেন একজন গভর্নর।
- জনগণের নির্বাচনে গঠিত হবে একটি আইন সভা।
- ঐ আইন সভার সদস্যদের মধ্য থেকে গভর্নরকে পরামর্শ দান ও সাহায্যের জন্য একটি মন্ত্রীসভা গঠিত হবে।
- আইন-শৃংখলা প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গভর্নরের এখতিয়ারে থাকবে।
- মন্ত্রীগণ তাদের কাজের জন্য দায়ী থাকবেন প্রাদেশিক আইন সভার নিকট।
- গভর্নরকে বিশেষ ক্ষমতাও দেয়া হয়।
- সে ক্ষমতা বলে তিনি ইচ্ছা করলে আইনসভা ও মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দিতে পারবেন। তাছাড়া যেকোন অর্ডিন্যান্স বা জরুরী আইন প্রণয়নের ক্ষমতাও তাঁর ছিল।

উৎস: ইতিহাস প্রথম পত্র, বাংলাদেশে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

.
১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন?
  1. লর্ড ক্যানিং
  2. লর্ড ক্লাইভ
  3. লর্ড কর্নওয়ালিস
  4. লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক
ব্যাখ্যা

• লর্ড ক্যানিং, 

- লর্ড ক্যানিং, (১৮১২-১৮৬২)  ১৮৫৬ থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল ছিলেন।
- ১৮৫৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ভারতে প্রথম ভাইসরয়। 
- বিখ্যাত রাজনীতিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব জর্জ ক্যানিংয়ের তৃতীয় পুত্র চার্লস জন ক্যানিং ১৮১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং পাটনী, ইটন ও অক্সফোর্ডের ক্রাইস্ট চার্চে শিক্ষা লাভ করেন।

- তাঁর প্রশাসনের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লব-এর শুরু।
- লর্ড ক্যানিং বিদ্রোহটি দমন করেন এবং এ ঘটনার পর ১৮৫৮ সালে পার্লামেন্টারি আইন পাস হয়।
- রানী প্রকাশ্য ঘোষণা দ্বারা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এর শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করেন।
- যারা এ অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে তাদেরকে যদিও তিনি শাস্তি প্রদান করেন, তবুও তিনি যতদূর সম্ভব ভারতীয়দের বিরুদ্ধে বাছবিচারহীন প্রতিহিংসামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ পরিহার করেন, এবং এভাবে তিনি ‘ক্ষমাশীল ক্যানিং’ এর উপাধি অর্জন করেন।

- তিনি ইঙ্গ-ভারতীয় সেনাবাহিনীকে পুনর্গঠিত করেন।
- আয়কর প্রবর্তন, শতকরা দশভাগ হারে সমশুল্ক আরোপ ও বিনিমেয় কাগজের মুদ্রার প্রচলন দ্বারা আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করেন।
- চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এর মাধ্যমে বাংলার চাষীদের যে দুর্দশা ছিল তার কিছুটা দূর করে প্রজাদের অধিক নিরাপত্তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ১৮৫৯ সালে বাংলায় খাজনা আইন পাস হয়।

- লর্ড ক্যানিং-এর প্রশাসনের শেষদিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো ১৮৬১ সালে ভারতীয় কাউন্সিল আইন পাস যার দ্বারা বেসরকারি ভারতীয় সদস্যগণ ভাইসরয়ের আইনসভায় মনোনীত হতে পারতেন।

- ১৮৫৭ সালের যুদ্ধের সময়কার গুরুভার ও কঠিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ক্লান্ত ক্যানিং অবসর গ্রহণ করে ১৮৬২ সালের ১৮ মার্চ ভগ্নস্বাস্থ্যে ভারত ত্যাগ করেন। 

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১০.
স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি উত্থাপন করেন কে?
  1.  আবুল কালাম আজাদ
  2. সত্যরঞ্জন বখসী
  3. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
  4. কিরণ শংকর রায়
ব্যাখ্যা

• অখণ্ড বাংলার উদ্যোগ:
- ১৯৪৭ সালে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক এক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নেয়।
- এরকম চরম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা ঘোষণা করে।
- ঠিক এই রকম পরিস্থিতিতে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এ প্রস্তাবের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন শরৎচন্দ্র বসু।
- প্রস্তাবটি উপমহাদেশের ইতিহাস 'বসু-সোহরাওয়ার্দী' প্রস্তাব নামে খ্যাত।
- ১৯৪৭ সালের ২৭শে এপ্রিল দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী তাঁর বক্তব্যে স্বাধীন-সার্বভৌম অখণ্ড বাংলা রাষ্ট্র গঠনের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং এর পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন।
- মুসলিম লীগ নেতা আবুল হাশিম বৃহত্তর বাংলা রাষ্ট্রের একটি রূপরেখা প্রণয়ন করেন।
- পরবর্তীকালে শরৎচন্দ্র বসু তাঁর এক প্রস্তাবে অখণ্ড বাংলাকে একটি 'সোস্যালিস্ট রিপাবলিক' হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১১.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪ অনুসারে, মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমান-
  1. ২,৫৯,০৩,০০০ হেক্টর
  2. ১,৫৯,০৩,০০০ হেক্টর
  3. ৩,৫৯,০৩,০০০ হেক্টর
  4. ৪,৫৯,০৩,০০০ হেক্টর
ব্যাখ্যা

• কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪ অনুসারে,

• মোট আবাদযোগ্য জমি পরিমান =
- ৩,৯২,৯৬,০০০ একর;
- ১,৫৯,০৩,০০০ হেক্টর।

• মোট আবাদী জমির পরিমান=
- ১,৯৮,২৯,০০০ একর।
- ৮০,২৮,০০০ হেক্টর।

• এক ফসলি জমি = ৫০,৪৯,০০০ একর (২০,৪৪,০০০ হেক্টর)।
• দুই ফসলি জমি = ১,০১,৪০,০০০ একর (৪১,০৫,০০০ হেক্টর)।
• তিন ফসলি জমি = ৪৫,৯৩,০০০ একর (১৮,৫৯,০০০ হেক্টর)।
• চার ফসলি জমি = ৪৭,০০০ একর (১৯,০০০ হেক্টর)।

• বনাঞ্চল - ৬৩,৬৩,০০০ একর (প্রায়)।

উৎস: বিবিএস ( কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ– ২০২৪)।

১২.
বাংলাদেশের কৃষি মৌসুম কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. তিনটি মৌসুমে
  2. দুটি মৌসুমে
  3. চারটি মৌসুমে
  4. একটি মৌসুমে
ব্যাখ্যা

• কৃষি মৌসুম: 
• কৃষি ঋতু তিনটি। 
যথা-
- রবি (শীতকাল), 
- খরিপ-১ (গ্রীষ্মকাল) ও 
- খরিপ-২ (বর্ষাকাল)। 

• ঋতু ভেদে ফসল উৎপাদনে ভিন্নতা দেখা যায়।
- যেমন- শীতকালে, শাক সবজি ও গ্রীষ্মকালে ফলমূলের উৎপাদন বেশি হয়।
- বিশেষ করে জৈষ্ঠ্য মাসে দেশীয় নানা সুমিষ্ট ফলমূলের সমাহার বেশি থাকে বলে একে মধু মাসও বলা হয়।

উৎস: কৃষিশিক্ষা, ৭ম শ্রেণি।

১৩.
বোরো ধান উত্তোলনের সময় কখন?
  1. ডিসেম্বর – জানুয়ারি
  2. এপ্রিল – মে
  3. জুলাই – আগস্ট
  4. জুন – সেপ্টেম্বর
ব্যাখ্যা

• ফসল রোপন ও উত্তোলনের সময়সূচি:

• রোপনের সময়:
-------------------
আউশ ধান = মধ্য মার্চ - মধ্য এপ্রিল।
আমন ধান =  জুনের শেষ  -সেপ্টেম্বরের শুরু।
বোরো ধান = মধ্য নভেম্বর - মধ্য জানুয়ারি।

• উত্তোলনের সময়:
-----------------------
আউশ ধান = মধ্য জুলাই - আগস্টের শুরু।
আমন ধান = ডিসেম্বর - জানুয়ারির শুরু।
বোরো ধান =  এপ্রিল - মে।

উৎস: বিবিএস ( কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ– ২০২৪)।

১৪.
ভুট্টার উন্নত জাত কোনটি?
  1. আনন্দ
  2. বর্ণালি
  3. সুমাত্রা
  4. সিন্দুরী
ব্যাখ্যা

• আমরে উন্নত জাত - ল্যাংড়া, গোপালভাগ, মহানন্দা, মোহনভাগ, হিমসাগর, হাড়িভাঙ্গা, রূপালি।
• গমের উন্নত জাত- আনন্দ, আকবর, দোয়েল, বরকত, বলাকা, সোনালিকা, জোপাটিকা, ইনিয়া-৬৬।
• আলুর উন্নত জাত - ডায়মন্ড, সিন্দুরী, কুফরী, চমক, কার্ডিনাল।
• ভুট্টার উন্নত জাত- বর্ণালি, শুভ্র, খইভুট্টা, মোহর উত্তরণ।
• তামাকের উন্নত জাত - সুমাত্রা, ম্যানিলা।

উৎস: কৃষি মন্ত্রনালয়।

১৫.
সার্বিক ভাবে জেলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয় কোন জেলায়? (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪)
  1. ঠাকুরগাঁও
  2. ফরিদপুর
  3. ময়মনসিংহ 
  4. পাবনা
ব্যাখ্যা

• কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪ অনুসারে, 

- বাংলাদেশে মোট ধানের (আউশ + আমন বোরো) উৎপাদন- ৪,০৬,৯৭,৪৬৯ মে. টন। 
- মোট ধানের আবাদ হয়েছে- ২৮,৮১,৯৮,০৮ একর।

- জেলা হিসেবে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে - ময়মনসিংহ জেলা (১৮,২৯,৯৪৩ মে. টন)।
- বিভাগ হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয়েছে- রংপুর বিভাগে।

উল্লেখ্য,
-  লিচু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা-পাবনা জেলা।
- ধান উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ময়মনসিংহ।
- গম উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঠাকুরগাঁও।
- তুলা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ঝিনাইদহ।
- চা উৎপাদনে শীর্ষ জেলা মৌলভীবাজার।
- তামাক উৎপাদনে শীর্ষ জেলা কুষ্টিয়া।
- পাট উৎপাদনে শীর্ষ জেলা ফরিদপুর।
- আলু উৎপাদনে শীর্ষ জেলা রংপুর।

উৎস: কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪।

১৬.
কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪ অনুসারে, বাংলাদেশের সর্বাধিক বনাঞ্চল সম্পন্ন জেলা কোনটি?
  1. বাগেরহাট
  2. খুলনা
  3. রাঙ্গামাটি 
  4. বান্দরবান
ব্যাখ্যা

• কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪ অনুসারে, 

• সর্বাধিক বনাঞ্চল সম্পন্ন জেলা (৫টি)
- রাঙ্গামাটি = ১৩,৭৮,৫৬৪.১৩ একর।
- বান্দরবান = ৭,৯৭,৫৪১.৪৯ একর।
- বাগেরহাট = ৫,৬৬,৫১২.৯৫ একর।
- খাগড়াছড়ি = ৫৫৪,১১৬.২১ একর।
- খুলনা = ৫,৬৪,০৮১.৬১ একর।

উৎস: বিবিএস (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪)।

১৭.
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) কত সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে?
  1. ১৯৭৩ সালে 
  2. ১৯৯৬ সালে 
  3. ১৯৮৩ সালে 
  4. ১৯৯৭ সালে 
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি):

- বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত কৃষি-নির্ভর। মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮০ শতাংশ লোক গ্রামাঞ্চলে বাস করে এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষিকাজের সংগে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।।

 - ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং জমির ফসল নিবিড়তা অধিকতর বৃদ্ধি পাওয়ায় গতানুগতিক চাষাবাদ পদ্ধতির মাধ্যমে বর্ধিত খাদ্য চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। কৃষক সমাজের সমৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র দূরীকরণ, গ্রামীণ সম্প্রদায়ের টেকসই স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি এবং সম্পদের সুষ্ঠু ও সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিকল্পিত সমন্বয়ের প্রয়োজন ছিল।

- এরই ধারাবাহিকতায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির এক অধ্যাদেশ বলে ১৯৭৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে কৃষি গবেষণা সমন্বয়, পরিকল্পনা, গবেষণার বাস্তবায়ন ও মূল্যায়নের জন্য সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসাবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

- পরবর্তিতে জাতীয় পর্যায়ে কৃষি গবেষণার গুরুত্ব ও সাফল্য বিবেচনায় এ্যাক্টের আওতায় কার্যপরিধি অধিকতর বৃদ্ধি, সুসংহত ও জোরদার করে ১৯৯৬ সালে কাউন্সিলকে সমন্বয়কারীর দায়িত্ব প্রদান পূর্বক “বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন ১৯৯৬” পুনঃপ্রণয়ন করা হয়।

- এই আইনের আওতায় কৃষি খাতের অধীন শস্য, প্রাণিসম্পদ, মৎস্য ও বন বিষয়ক উপখাতের সংগে সংশ্লিষ্ট দশটি জাতীয় গবেষণা ইনষ্টিটিউট ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলকে নিয়ে জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেম (NARS) পূনর্গঠিত হয়। 

- কৃষি গবেষণা সিস্টেম এর কার্যকর সমন্বয় সাধনে বিএআরসির ভূমিকা অধিকতর জোরদার করার লক্ষ্যে ২০১২ সালের ৮ মার্চ সংসদ কর্তৃক “বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন, ২০১২” অনুমোদন করা হয়। কৃষি গবেষণা কর্মসূচী সমন্বয়কল্পে “বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল আইন, ২০১২” বিএআরসিকে গবেষণা সম্পদ বরাদ্দকরণে ক্ষমতা প্রদান করেছে।

উৎস: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।

১৮.
”মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামার” কোথায় অবস্থিত?
  1. বাগেরহাট
  2. কক্সবাজার
  3. চাঁদপুর
  4. গাজীপুর
ব্যাখ্যা

”মহিষ প্রজনন ও উন্নয়ন খামার” বাগেরহাটে অবস্থিত।

• এছাড়া ও অন্যান্য প্রাণীর নাম প্রজনন কেন্দ্র সমূহ।
• হরিণ- চকোরিয়া, কক্সবাজার।
• বন্যপ্রাণী- ডুলাহাজরা, কক্সবাজার।
• গরু- সাভার, ঢাকা।
• ছাগল- টিলাগড়, সিলেট।
• মহিষ- ফকিরহাট, বাগেরহাট।
• কুমির- করমজল, সুন্দরবন।

উৎস: সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট।

১৯.
মোট মৎস্য উৎপাদনে ইলিশের পরিমাণ কত শতাংশ? (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪)
  1. ৯.৫৫%
  2. ১০.৩২%
  3. ৮.৩৪%
  4. ১০.৫৫%
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন প্রজাতির মৎস্য উৎপাদনের পরিমাণ ও শতকরা পরিমাণ:

• ইলিশ=  ৫,২৯,৪৮৭ (১০.৫৫%)।
• চিংড়ি= ২,৬০,৪৮৬ (৫.১৯%)।
• মেজরকার্প (রুই, কাতলা, মৃগেল)= ১১,৩৬,০৯৫ (২২.৬৪%)।
• এক্সটিককার্প (সিলভারকার্প, গ্রাসকার্প, ইত্যাদি)= ৫,৬৭,২৪২ (১১.৩০%)।
• অন্যান্যকার্প (কালিবাউস, বাটা, ঘনিয়া) = ১,৫৬,৯৯৮ (৩.১৩%)।
• তেলাপিয়া= ৪,৩৯,৬৭৮ (৮.৭৬%)।
• পাঙ্গাস = ৪,১৮,৬২৯ (৮.৩৪%)।

উৎস: বিবিএস (কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থ-২০২৪)।

২০.
”তুলা উন্নয়ন বোর্ড” কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে?
  1. শিল্প মন্ত্রণালয়
  2. বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
  3. কৃষি মন্ত্রণালয়
  4. অর্থ মন্ত্রণালয়
ব্যাখ্যা

- তুলা এবং বস্ত্র উৎপাদনে বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্য আছে। 
 - এ দেশে তুলা উৎপাদনের প্রচেষ্টা খুব সীমিত ছিল।
- স্বাধীনতার আগে স্থানীয় বস্ত্র কলের জন্য কাঁচামালের যোগান দেয়া হতো পশ্চিম পাকিস্তান থেকে। 
- ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তান কাঁচামাল সরবরাহ বন্ধ করে করে দিলে স্থানীয়ভাবে তুলার উৎপাদনের গুরুত্ব অনুভূত হয়েছিল।
- এসময় আমাদের বস্ত্র শিল্পগুলো কাঁচামালের অভাবে মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল।
- এই অবস্থায় ১৯৭২ সালে দেশে তুলার চাষ সম্প্রসারণ করার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে তুলা উন্নয়ন বোর্ড গঠিত হয় । 
- তুলা উন্নয়ন বোর্ড ১৯৭৪-৭৫ সালে মাঠ পর্যায়ে আমেরিকান আপল্যান্ড তুলা দিয়ে পরীক্ষামূলক তুলার চাষ শুরু করে।
- ১৯৭৬-৭৭ সালে আমেরিকা হতে নতুন তুলার জাত প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশে ব্যপক পরিমানে তুলা চাষ শুরু হয়।
- ১৯৯১ সালে তুলা গবেষনার দায়িত্ব বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান হতে তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নিকট স্থানান্তর করা হয়। 
- বর্তমানে তুলা গবেষণা ও সম্প্রসারণ কাজ তুলা উন্নয়ন বোর্ড সম্পাদন করছে।

উৎস: তুলা উন্নয়ন বোর্ড।