উত্তর
ব্যাখ্যা
⇒মুহম্মদ বিন তুঘলক সিন্ধুর তাঘির বিদ্রোহ দমনরত অবস্থায় ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ থাট্টায় অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করেন।
-পরবর্তীতে তাকে দিল্লিতে দাফন করা হয়।
৪৯তম বিসিএস ⎯ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি [১৯১] · তারিখ অনির্ধারিত · ৪৩ প্রশ্ন
⇒মুহম্মদ বিন তুঘলক সিন্ধুর তাঘির বিদ্রোহ দমনরত অবস্থায় ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ থাট্টায় অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করেন।
-পরবর্তীতে তাকে দিল্লিতে দাফন করা হয়।
⇒ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন সুলতান গিয়াস উদ্দিন তুঘলকের ভ্রাতুষ্পুত্র এবং মুহম্মদ বিন তুঘলকের চাচাতো ভাই।
-মুহম্মদ বিন তুঘলক সিন্ধুর তাঘির বিদ্রোহ দমনরত অবস্থায় ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ থাট্টায় অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করলে আমির ও অভিজাতবর্গের অনুরোধে ফিরোজ ‘ফিরোজ শাহ তুঘলক’ উপাধি ধারণ করে সিংহাসন আরোহণ করেন।
⇒১৩৯৮ খ্রিস্টাব্দে তৈমুর লঙের ভারত অভিযান পরিচালনা করেন।
- এসময় দিল্লিতে তুঘলক বংশ শাসন করছিল।
-তুঘলক বংশের শেষ শাসক নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ এসময় ক্ষমতায় ছিল।
-তৈমুর লঙের আক্রমনের মধ্যদিয়ে তুঘলক বংশের পতন ঘটে।
⇒ফিরোজ শাহ তুঘলক দাসপ্রথা পুন:প্রবর্তন করেন।
-এ জন্যই তিনি ক্রীতদাসের রক্ষণাবেক্ষণ ও ভরণ-পোষণের জন্য ‘দিওয়ান-ই-বন্দেগান’ বিভাগ সৃষ্টি করেন।
- তার দাসপ্রথা পুন:প্রবর্তনের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রশাসনিক কাজে সহায়তা গ্রহন করা।
⇒খলজি বংশের সর্বশেষ শাসক ছিলেন নাসির উদ্দিন খসরু যার আসল নাম খসরু খান।
-খসরু খানকে পরাজিত ও নিহত করে গাজি মালিক 'গিয়াসউদ্দিন তুঘলক' উপাধি ধারণ করে ১৩২০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে উপবেশন করেন।
⇒অপরিনামদর্শী ও উচ্চভিলাষী ৫ টি পরিকল্পনার জন্য ঐতিহাসিকগণ মুহাম্মদ বিন তুঘলককে উন্মাদ শাসক বলে অভিহিত করেন।
-তার পাঁচটি পরিকল্পনাই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
⇒সৈয়দ বংশের সবর্শেষ সুলতান আলাউদ্দিন আলম শাহ এবং প্রধান মন্ত্রী হামিদ খানের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা দিলে সুলতানের আমন্ত্রণে বাহলুল লোদী দিল্লি দখল করে নেন।
-বাহলুল লোদী ১৪৫১-১৪৮৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন।
-বাহলুল লোদীর পিতার নাম ছিল মালিক বাহরাম ।
⇒১৩৫১ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ থাট্টায় অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করলে আমির ও অভিজাতবর্গের অনুরোধে ফিরোজ ‘ফিরোজ শাহ তুঘলক’ উপাধি ধারণ করে সিংহাসন আরোহণ করেন।
-তিনি ম্রাজ্যের উন্নয়ন ও জন কল্যানের জন্য বেশ কিছু সংস্কার সাধন করেন।
-তিনি ‘জৌনপুর’ নামক শহরের গোড়াপত্তন করেন।
⇒ তুঘলক বংশ ১৩২০-১৪১৩ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
-খসরু খানকে পরাজিত ও নিহত করে গাজি মালিক 'গিয়াসউদ্দিন তুঘলক' উপাধি ধারণ করে ১৩২০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সিংহাসনে উপবেশন করেন।
-তার প্রতিষ্ঠিত এই বংশ পরবর্তীতে প্রায় ১০০ বছর শাসন করে।
⇒খিজির খান ১৪১৪ খ্রিস্টাব্দে দৌলত খানকে পরাজিত করে ভারতীয় উপমহাদেশে সৈয়দ বংশ প্রতিষ্ঠা করে দিল্লির সিংহাসনে উপবেশন করেন।
-সৈয়দ বংশের সবর্শেষ সুলতান আলাউদ্দিন আলম শাহ এবং প্রধান মন্ত্রী হামিদ খানের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব দেখা দিলে সুলতানের আমন্ত্রণে বাহলুল লোদী দিল্লি দখল করে নেন।
⇒১৩৫১ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ থাট্টায় অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করলে আমির ও অভিজাতবর্গের অনুরোধে ফিরোজ ‘ফিরোজ শাহ তুঘলক’ উপাধি ধারণ করে সিংহাসন আরোহণ করেন।
-তিনি সাম্রাজ্যের উন্নয়ন ও জন কল্যানের জন্য বেশ কিছু সংস্কার সাধন করেন।
-তিনিই ছিলেন দিল্লি সালতানাতের সর্বশেষ ক্ষমতাধর শাসক।
-তার মৃত্যের পর দিল্লি সালতানাতের দুর্বলতা প্রকট হয়।
⇒ফিরোজ শাহ তুঘলক ২৩ প্রকার কর রহিত করেন।
- এই ২৩ প্রকার করের বদলে তিনি (১) খারাজ (২) যাকাত, (৩) জিজিয়া ও (৪) খুমস কর ধার্য করেন।
-এর পর তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাবে জিজিয়া কর আরোপ করেছিলেন।
- মা হুয়ান একজন চীনা পরিব্রাজক।
- তার বাংলায় আগমনের সময় বাংলার শাসক ছিলেন গিয়াস উদ্দীন আজম শাহ।
- মা হুয়ান পনের শতকের প্রথমার্ধে বাংলায় আসেন।
- ফা হিয়েন বাংলায় আগমনের সময় বাংলার শাসক ছিলেন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত।
তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
⇒মুহাম্মদ বিন তুঘলক ১৩২৬-২৭ খ্রি. দিল্লি হতে ৭০০ মাইল দূরে অবস্থিত দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তর করেন।
-তিনি দেবগিরির নতুন নামকরণ করেন দৌলতাবাদ।
-তার রাজধানী স্থানান্তরের উদ্দেশ্য ছিল দাক্ষিণাত্যে শাসন সুদৃঢ় করা।
-যদিও তার এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছিল।
⇒মরক্কোবাসী মুসলিম পরিব্রাজক ইবনে বতুতা সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনামলে ১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে আগমন করেন। -তার বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ‘রিহালা-ই-ইবনে বতুতা’ নামক গ্রন্থে ’সুলতানি আমলে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থার কথা উল্লেখ করেছন।
⇒সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক জ্ঞানী-গুণী ও পন্ডিত ব্যক্তিদের উদার পৃষ্ঠপোষকতা ছিলেন।
-সুলতানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ’‘ফুতুহাত-ই-ফিরোজ শাহী’ রচনায় লেখকের প্রতি তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
⇒১৩১৬ খ্রিস্টাব্দের ২ জানুয়ারি মালিক কাফুর আলাউদ্দিনের শিশুপুত্র শিহাবউদ্দিন ওমরকে দিল্লির মসনদে বসিয়ে অভিভাবক নিযুক্ত হন।
-তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে আলাউদ্দিন খলজির তৃতীয় পুত্র ‘কুতুবউদ্দিন মুবারক শাহ’ সিংহাসনে আরোহণ করেন।
-খসরু খান মুবারক শাহকে হত্যা করলে শাসন শুরু করলে তার দুঃশাসনে অতিষ্ঠ হয়ে দিল্লির অভিজাত আমির উমারাহগণ পাঞ্জাবের অন্তর্গত দীপালপুরের শাসক গাজী মালিককে দিল্লির মসনদ দখলের জন্য আহ্বান করেন।
⇒১২০৬ সালে কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লি সানতানাতের গোড়া পত্তন করেন।
- পরবর্তীতে ৫ টি আলাদা আলাদা রাজবংশ ১৫২৬ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
-দীর্ঘ ৩২০ বছরের সালতানাতের শাসনের সময় প্রধান ভাষা ছিল ফারসি।
⇒মুসলিম পরিব্রাজক ইবনে বতুতা সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলকের শাসনামলে ১৩৩৩ খ্রিস্টাব্দে ভারতবর্ষে আগমন করেন।
-তার বিখ্যাত ভ্রমণকাহিনী ‘রিহালা-ই-ইবনে বতুতা’ নামক গ্রন্থে ’সুলতানি আমলে বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থার কথা উল্লেখ করেছন।
-তিনি মরক্কোর অধিবাসি ছিলেন।
⇒ আলাউদ্দিন খলজি আমির খসরু (তোতা পাখী), শেখসাদি, নিজাম উদ্দিন আউলিয়া, ও রুকুনুদ্দিনের মত মনিষিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
- এ সময় থেকেই আমির খসরু সংগীতে নতুন ধারার সুত্রপাত ঘটান।
- তাকে ভারতের তোতা পাখী বলা হয়।
⇒ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন সুলতান গিয়াস উদ্দিন তুঘলকের ভ্রাতুষ্পুত্র।
- তার পিতার নাম ছিল রজব।
- ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দের ২০ মার্চ থাট্টায় অকস্মাৎ মৃত্যুবরণ করলে আমির ও অভিজাতবর্গের অনুরোধে ফিরোজ ‘ফিরোজ শাহ তুঘলক’ উপাধি ধারণ করে সিংহাসন আরোহণ করেন।
১২০৬ সালে কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লি সানতানাতের গোড়া পত্তন করেন।
- পরবর্তীতে ৫ টি আলাদা আলাদা রাজবংশ ১৫২৬ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
১) মামলুক বংশ ১২০৬-১২৯০খ্রি.
২) খলজি বংশ ১২৯০-১৩২০ খ্রি.
৩) তুঘলক বংশ ১৩২০-১৪১৪ খ্রি.
৪) সৈয়দ বংশ ১৪১৪-১৪৫১ খ্রি.
৫) লোদী বংশ ১৪৫১-১৫২৬ খ্রি.
⇒সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক পুত্র জুনা খানকে‘উলুঘ খান’উপাধি প্রদান করে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।
-১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে জুনা খান মুহম্মদ বিন তঘুলক উপাধি ধারণ করে সিংহাসনে আরোহন করেন।
-তিনি ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর দিল্লির ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
১২০৬ সালে কুতুবউদ্দিন আইবেক দিল্লি সানতানাতের গোড়া পত্তন করেন।
- পরবর্তীতে ৫ টি আলাদা আলাদা রাজবংশ ১৫২৬ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
১) মামলুক বংশ ১২০৬-১২৯০খ্রি.
২) খলজি বংশ ১২৯০-১৩২০ খ্রি.
৩) তুঘলক বংশ ১৩২০-১৪১৪ খ্রি.
৪) সৈয়দ বংশ ১৪১৪-১৪৫১ খ্রি.
৫) লোদী বংশ ১৪৫১-১৫২৬ খ্রি.
⇒ দিল্লি সানতানাতে ৫ টি আলাদা আলাদা রাজবংশ ১৫২৬ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
১) মামলুক বংশ ১২০৬-১২৯০খ্রি.
২) খলজি বংশ ১২৯০-১৩২০ খ্রি.
৩) তুঘলক বংশ ১৩২০-১৪১৪ খ্রি.
৪) সৈয়দ বংশ ১৪১৪-১৪৫১ খ্রি.
৫) লোদী বংশ ১৪৫১-১৫২৬ খ্রি.
- এই ৫ টি রাজবংশের মধ্যে সবচেয়ে বেশিদিন শাসন করেন তুঘলক বংশ।
-যারা ১৩২০-১৪১৪ খ্রি.পর্যন্ত মোট ৯৫ বছর শাসন করেন।
⇒বাহলুল লোদী ১৪৫১ খ্রিস্টাব্দের ১৯ এপ্রিল সৈয়দ বংশের অবসান ঘটিয়ে লোদী বংশের গোড়াপত্তন করেন।
-তিনি ১৪৫১-১৪৮৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন।
-মুহম্মদ শাহ তাকে 'খান-ই-খানান’ উপাধি প্রদান করেন।
⇒ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন দিল্লি সালতানাতের সর্বশেষ ক্ষমতাধর শাসক।
-তিনি ১৩৮৮ সালে ৮০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
-তার মৃত্যের পর দিল্লি সালতানাতের দুর্বলতা প্রকট হয়।
-এই সুযোগে মোঙ্গল নেতা হালাকু খান ১৩৯৮ সালে ভারত অভিযান করে দিল্লি দখল করেন।
⇒১৩২০ খ্রিস্টাব্দে গাজি মালিক খসরু খানকে পরাজিত ও নিহত করে গিয়াসউদ্দিন তুঘলক উপাধি ধারণ করে দিল্লির সিংহাসনে উপবেশন করেন।
- এ বংশের সর্বশেষ শাসক কে ছিলেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ শাহ।
⇒খিজির খান ১৪১৪ খ্রিস্টাব্দে দৌলত খানকে পরাজিত করে ভারতীয় উপমহাদেশে সৈয়দ বংশ প্রতিষ্ঠা করে দিল্লির সিংহাসনে উপবেশন করেন।
-সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান খিজির খান নিজেকে হজরত মুহাম্মদ (স.) এর বংশধর বলে দাবি করতেন। তাই ইতিহাসে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশ সৈয়দ বংশ নামে পরিচিত।
-খিজির খান, মুবারক শাহ, মুহাম্মদ শাহ এবং আলাউদ্দিন আলম শাহ ছিলেন সৈয়দ বংশের চারজন সুলতান ছিলেন।
⇒সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক জালাল উদ্দিন রুমি,জিয়াউদ্দিন বারানী,শামস-ই- সিরাজী আফিফ সহ জ্ঞানী-গুণী ও পন্ডিত ব্যক্তিদের উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
-সুলতানের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ’‘ফুতুহাত-ই-ফিরোজ শাহী’ রচনায় লেখকের প্রতি তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- তার শাসনামলে জিয়াউদ্দিন বারানী' তারিক-ই-ফিরোজশাহী' নামক ইতিহাসের গ্রন্থটি রচনা করেন।
⇒ সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলক নির্মাতা হিসেবেও ইতিহাসে প্রসিদ্ধি অজর্ন করেন।
-বাংলা অভিযানের সময় তিনি এলাকার নামকরণ করেন আজাদপুর এবং পান্ডুয়া বিজয় করে নামকরণ করেন ফিরোজাবাদ। এছাড়াও তিনি বেশ কয়েকটি নতুন শহর স্থাপন করেন যেগুলোর মধ্যে ফতেহাবাদ, হিসার, জৌনপুর, ফিরোজপুর পভ্রৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
⇒সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক পুত্র জুনা খানকে‘উলুঘ খান’উপাধি প্রদান করে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করেন।
-১৩২৫ খ্রিস্টাব্দে জুনা খান মুহম্মদ বিন তঘুলক উপাধি ধারণ করে সুলতান হয়ে ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দে পর্যন্ত দীর্ঘ ২৬ বছর দিল্লির ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন।
⇒ ফিরোজ শাহ তুঘলোক ২৩ প্রকার কর রহিত করেন।
-তিনি (১) খারাজ (২) যাকাত, (৩) জিজিয়া ও (৪) খুমস সহ মোট ০৪ ধরনের কর ধার্য করেন।
দিল্লি সালতানাতের পতনের বেশ কিছু কারণ রয়েছে:
*সুলতানদের সেচ্ছাতন্ত্র
*সুষ্ঠ উত্তরাধিকার নীতির অভাব
*প্রাদেশিক শাসনকর্তাদের স্বাধীনতার চেষ্টা
*অভিজাত শেণ্রীর দৌরাত্ম
প্রভৃতি।
দিল্লি সুলতানতের পতনের অভ্যন্তরীণ কারণের মধ্যে ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে উত্তরাধিকারের লড়াই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
⇒সৈয়দ বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান খিজির খান নিজেকে হজরত মুহাম্মদ (স.) এর বংশধর বলে দাবি করতেন।
-তাই ইতিহাসে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বংশ সৈয়দ বংশ নামে পরিচিত।
⇒কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান, উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে ক্রমাগত মোঙ্গল আক্রমণের আশঙ্কা, দাক্ষিণাত্যের ধন-দৌলত, মুসলিম সভ্যতা ও সংস্কৃৃতির প্রসার এবং সর্বোপরি সাম্রাজ্যের মধ্যস্থেল অবস্থানের কারণে ১৩২৬-২৭ খ্রি. সুলতান মুহম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি হতে ৭০০ মাইল দূরে অবস্থিত দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তর করেন।
-প্রায় ৮ বছর দৌলতাবাদে অবস্থানের পর দূরত্ব ও জলবায়ুর বৈপরীত্যের কারণে সুলতান সবাইকে নিয়ে পুনরায় দিল্লিতে প্রত্যাবর্তন করেন।
-ফলে সুলতানের রাজধানী স্থানান্তর পরিকল্পনা ব্যর্থতায় পযর্বসিত হয়।
⇒খিজির খান ১৪১৪ খ্রিস্টাব্দে দৌলত খানকে পরাজিত করে সৈয়দ বংশের গোড়াপত্তন করেন।
-কোন ধরণের রাজকীয় উপাধি গহ্রণ না করে শুধুমাত্র ‘মসনদ-ই-আলা’ বা 'রায়ত-ই-আলা 'উপাধি গ্রহন করে সিংহাসনে বসেন।
⇒দিল্লি সালতানাতের সবর্শেষ রাজবংশ ছিল লোদী বংশ।
-এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বাহলুল খান লোদী।
-তিনি সহ তার বংশ জাতীতে আফগান ছিল।
⇒লোদী বংশের দ্বিতীয় সুলতান সিকান্দার লোদী ছিলেন। তাঁর বাল্যনাম ছিল নিজাম খান।
- আমির উমারাহদের প্রাথমিক বিরোধিতা সত্ত্বেও নিজাম খান ‘সিকান্দার শাহ লোদী’ উপাধি ধারণ করে ১৪৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৭ জুলাই দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
-১৫০৪ খিস্ট্রাব্দে তিনি ইতিহাস প্রসিদ্ধ আগ্রা নগরীর গোড়াপত্তন করে সেখানে রাজধানী স্থানান্তর করেন।
⇒লোদী বংশের সর্বশেষ শাসক ছিলেন ইব্রাহিম লোদী (১৫১৭-১৫২৬খ্রি.)।
-তিনি কাবুলের শাসক জহিরুদ্দিন মুহম্মদ বাবরের নিকট পানি পথের ১ম যুদ্ধে(১৫২৬) পরাজিত হয়।
- যার ফলে দিল্লি সালতানাতের অবসান ঘটে এবং মুঘল বংশের শাসন শুরু হয়।
⇒১৩২০ খ্রিস্টাব্দের ৮ সেপ্টেম্বর নাসিরউদ্দিন খসরু শাহকে পরাজিত ও নিহত করেন।
-গাজী মালিক সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক উপাধি ধারণ করে ভারতীয় উপমহাদেশে তুঘলক বংশের প্রতিষ্ঠা
করেন।
-১৩২৫ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে দিল্লির ছয় মাইল অদূের আফগানপুর নামকস্থানে তোরণ ধ্বংসের কারণে সুলতান গিয়াসউদ্দিন তুঘলক মৃত্যুবরণ করেন।
⇒ফিরোজ শাহ তুঘলক ২৩ প্রকার কর রহিত করেন।
-তিনি (১) খারাজ (২) যাকাত, (৩) জিজিয়া ও (৪) খুমস সহ ৪ ধরনের কর ধার্য করেন।
-তার কর হ্রাসের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে কৃষকের উন্নয়ন করা।
⇒দিল্লি সানতানাতে ৫ টি আলাদা আলাদা রাজবংশ ১৫২৬ খ্রি. পর্যন্ত শাসন করেন।
১) মামলুক বংশ ১২০৬-১২৯০খ্রি.
২) খলজি বংশ ১২৯০-১৩২০ খ্রি.
৩) তুঘলক বংশ ১৩২০-১৪১৪ খ্রি.
৪) সৈয়দ বংশ ১৪১৪-১৪৫১ খ্রি.
৫) লোদী বংশ ১৪৫১-১৫২৬ খ্রি.
-এ ৫টি রাজবংশের মধ্যে সবচেয়ে কম সময়ে শাসন করেন সৈয়দ বংশ ১৪১৪-১৪৫১ খ্রি.।
- এ বংশকে দিল্লি সুলতানতের সবচেয়ে দুর্বল রাজবংশ বলা হয়।