ব্যাখ্যা
সঠিক উত্তর: খ) ম্যাজিস্ট্রেট।
ধারা ১৬৭- যখন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করা যায় না:
(১) যদি কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে রাখা হয় এবং দেখা যায় যে, ধারা ৬১-তে নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করা সম্ভব নয়, তবে এবং যদি অভিযোগ বা তথ্যকে সত্য বলে মনে করার যৌক্তিক কারণ থাকে, তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা তদন্তকারী পুলিশ অফিসার (যিনি সাব-ইন্সপেক্টরের নিচে নন) অবিলম্বে ডায়েরির প্রাসঙ্গিক অংশের কপি নিকটস্থ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাবেন এবং একই সঙ্গে অভিযুক্তকে ঐ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করবেন।
(২) যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযুক্তকে হাজির করা হলো (তিনি মামলা বিচার করার এখতিয়ার রাখুন বা না-ই রাখুন) তিনি প্রয়োজনে অভিযুক্তকে পুলিশ বা বিচারিক হেফাজতে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে আটক রাখার আদেশ দিতে পারেন। যদি তিনি মামলা বিচার করার এখতিয়ার না রাখেন এবং মনে করেন অতিরিক্ত আটক দরকার নেই, তবে অভিযুক্তকে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাবেন।
তৃতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট এবং দ্বিতীয় শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট (যদি সরকার কর্তৃক বিশেষভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত না হন), তাঁরা পুলিশ হেফাজতের আদেশ দিতে পারবেন না।
কোনো অবস্থাতেই পুলিশ হেফাজত সর্বমোট ১৫ দিনের বেশি দেওয়া যাবে না। ১৫ দিনের পর আটক দরকার হলে তা শুধু বিচারিক হেফাজতে হতে হবে।
বিচারিক হেফাজত বলতে বোঝানো হয়েছে—ম্যাজিস্ট্রেট বা আদালতের আদেশে অভিযুক্তকে জেল বা অন্য কোনো পুলিশবহির্ভূত হেফাজতে রাখা।
(২ক) যদি কোনো ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ হেফাজতের অনুমতি দেন, তবে তিনি অভিযুক্তকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করার নির্দেশ দিতে পারেন। পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষ হলে অভিযুক্তকে অবিলম্বে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।
যদি শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায় বা অভিযুক্ত অভিযোগ করে যে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে, তবে আবারও সরকারি ডাক্তার দিয়ে পরীক্ষা করতে হবে। যদি ডাক্তারি রিপোর্টে নির্যাতনের প্রমাণ মেলে, তবে ম্যাজিস্ট্রেট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন।
(৩) পুলিশ হেফাজতের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটকে কারণ লিখে উল্লেখ করতে হবে।
(৪) যদি কোনো সাধারণ ম্যাজিস্ট্রেট (প্রধান মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া) পুলিশ হেফাজতের অনুমতি দেন, তবে তাঁকে তাঁর আদেশের কপি ও কারণ প্রধান মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটকে পাঠাতে হবে।
(৪ক) যদি প্রধান মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট বা প্রধান বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট নিজে এই আদেশ দেন, তবে তাঁকে তাঁর আদেশের কপি ও কারণ প্রধান মহানগর দায়রা জজ বা দায়রা জজকে পাঠাতে হবে।
(৫) যদি তদন্ত ১২০ দিনের মধ্যে শেষ না হয়—
ক) যদি অপরাধের শাস্তি মৃত্যু, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছরের বেশি কারাদণ্ড না হয়, তবে ম্যাজিস্ট্রেট অভিযুক্তকে জামিনে মুক্তি দিতে পারেন।
খ) যদি অপরাধের শাস্তি মৃত্যু, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১০ বছরের বেশি কারাদণ্ড হয়, তবে দায়রা আদালত জামিন দিতে পারে।
জামিন না দিলে ম্যাজিস্ট্রেট বা দায়রা আদালতকে এর লিখিত কারণ উল্লেখ করতে হবে। যদি মামলায় সরকারের অনুমোদন (Sanction) প্রয়োজন হয়, তবে অনুমোদন পেতে যে সময় লাগবে তা ১২০ দিনের মধ্যে গণনা করা হবে না।
৮) এই জামিন সংক্রান্ত বিধান (উপ-ধারা ৫) দণ্ডবিধির ১৮৬০ সালের ৪০০ ও ৪০১ ধারার অপরাধের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।