পরীক্ষা আর্কাইভ

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]

পরীক্ষাবিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]তারিখ১ জানুয়ারি, ২০২৩সময়01 hr 30 mins১৯৯ বৈধ · অসম্পূর্ণ
মোট প্রশ্ন২০০
সিলেবাস
৪৯তম স্পেশাল বিসিএস [সংস্কৃত (১৫১)] মূল প্রশ্নপত্রের উপর Live পরীক্ষা।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস]

বিসিএস জব সল্যুশন [১০ম - ৫০তম বিসিএস] · ১ জানুয়ারি, ২০২৩ · ২০০ প্রশ্ন

.
"ব্রহ্মসত্য জগৎ মিথ্যা" এই শিক্ষা কোন দর্শনে উল্লেখ আছে? 
  1.  জৈন দর্শনে
  2. ভারতীয় দর্শনে
  3. বৌদ্ধদর্শনে 
  4. চার্বাক দর্শনে
ব্যাখ্যা

“ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা, জীবো ব্রহ্মৈব নাপরঃ” — এই বিখ্যাত উক্তিটি আদি শংকরাচার্য-এর (খ্রিস্টীয় অষ্টম শতক) অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন থেকে উদ্ভূত।

এটি উপনিষদসমূহের মূল তত্ত্বের ব্যাখ্যা ও সংক্ষিপ্ত সার। শংকরাচার্য ব্রহ্মসূত্র, উপনিষদ ও গীতা-র ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই তত্ত্ব প্রতিপাদন করেন।

দর্শনের মূল কথা: ব্রহ্ম সত্য:
এই বিশ্বে একমাত্র ব্রহ্ম (পরমাত্মা, সর্বব্যাপী চৈতন্য)ই চিরন্তন, অখণ্ড ও সত্য।
ব্রহ্ম মানে — যা কখনও পরিবর্তিত হয় না, যা সর্বত্র বিরাজমান।

জগৎ মিথ্যা:
“মিথ্যা” মানে এখানে “অবসানযোগ্য” বা “অস্থায়ী”, মিথ্যা অর্থে ‘অস্তিত্বহীন’ নয়।
জগৎ পরিবর্তনশীল, মায়ার আচ্ছাদনে গঠিত, তাই এটি পরম সত্য নয়।

জীবো ব্রহ্মৈব নাপরঃ:
ব্যক্তি আত্মা (জীব) ও পরমাত্মা (ব্রহ্ম) আসলে অভিন্ন — এই হল অদ্বৈত (অদ্বৈত = দ্বৈত নয়) দর্শনের কেন্দ্রীয় ধারণা।

রেফারেন্স ও সূত্র:
উপনিষদ:
বৃহদারণ্যক উপনিষদ (২.৪.১৪) — “অহম্ ব্রহ্মাস্মি” (আমি ব্রহ্ম)
ছান্দোগ্য উপনিষদ (৬.৮.৭) — “তত্ত্বমসि” (তুই সেই ব্রহ্ম)মাণ্ডূক্য উপনিষদ — জগৎকে মায়া বলে প্রতিপন্ন করে।

শংকরভাষ্য (Brahma-sutra-bhashya) — এখানে শংকরাচার্য ব্যাখ্যা করেছেন যে,
“যা পরিবর্তনশীল, তা মিথ্যা; যা অপরিবর্তনশীল, তা সত্য — সেই সত্য ব্রহ্ম।”

 অন্যান্য দর্শনের সঙ্গে পার্থক্য:
দর্শন    মূল ধারণা    "ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা" সম্পর্ক
চার্বাক দর্শন    ইহজগৎই সত্য, পরলোক বা ব্রহ্ম নেই    বিপরীত মত
বৌদ্ধ দর্শন    অনাত্মবাদ, অনিত্যতা    ব্রহ্ম-ধারণা নেই
জৈন দর্শন    বহুবিধ বাস্তবতার স্বীকৃতি (অনেকান্তবাদ)    আংশিক ভিন্ন
অদ্বৈত বেদান্ত (ভারতীয় দর্শন)    ব্রহ্ম একমাত্র সত্য  এই মতবাদেই উক্তি পাওয়া যায়

উপসংহার:
“ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা” উক্তিটি আদি শংকরাচার্যের অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের মূল তত্ত্ব, যা ভারতীয় দর্শনের ছয়টি আস্তিক দর্শনের অন্যতম (বেদান্ত) শাখায় অন্তর্ভুক্ত।
এটি মানুষের জ্ঞান ও মুক্তির চূড়ান্ত অবস্থাকে ব্যাখ্যা করে।

উক্তি: “ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা” — শংকরাচার্য
মূল রেফারেন্স: বৃহদারণ্যক উপনিষদ, ছান্দোগ্য উপনিষদ, ব্রহ্মসূত্র ভাষ্য

.
ছন্দ বিন্যাসে কয়টি 'গন' আছে'?
  1. আটটি 
  2. দশটি 
  3. বারটি 
  4. চৌদ্দটি
ব্যাখ্যা

চূড়ান্ত সঠিক উত্তর (বর্তমান শিক্ষামাফিক):
সঠিক উত্তর - দশটি গণ। যথা- ম, ন, ভ,য,জ, র, স, ত, গ, ল

রেফারেন্স:

পিংগল, Chhandaśāstra (৮ গণ)

কেদারভট্ট, Vṛttaratnākara (১০ গণ)

সুকুমার সেন, বাংলা ছন্দের ইতিহাস (১০ গণ প্রচলিত রূপ)

.
অভিজ্ঞান শকুন্তলম নাটকে প্রধান ঘটনা ধরা হয় কোনটাকে?
  1. হস্তী বৃত্তান্ত
  2. দুর্বাসা মুনির অভিশাপ
  3. দুষ্যন্ত-শকুন্তলার মিলন
  4. পতিগৃহে যাত্রা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) দুর্বাসা মুনির অভিশাপ

ব্যাখ্যা:
নাটকের পরিচয়:
‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’ — মহাকবি কালিদাস রচিত এক অমর সংস্কৃত নাটক।
এটি তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক এবং ভারতীয় নাট্যসাহিত্যের এক অনন্য সৃষ্টি।
এ নাটকের বিষয় মহাভারতের আদিপর্ব থেকে নেওয়া — দুষ্যন্ত ও শকুন্তলার প্রেমকাহিনি।

নাটকের নামের অর্থ:
“অভিজ্ঞান” মানে — পরিচয়ের স্মারক বা চিহ্ন,
আর “শকুন্তলম” মানে — শকুন্তলার কাহিনি।
অর্থাৎ, “অভিজ্ঞান শকুন্তলম” = পরিচয়ের মাধ্যমে শকুন্তলার কাহিনি।

এই “পরিচয়” (অভিজ্ঞান) বা “অঙ্গুরীয় (আংটি)”-র ঘটনাই নাটকের মূল রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু।
আর সেই অঙ্গুরীয় হারানোর কারণই হলো — দুর্বাসা মুনির অভিশাপ।

দুর্বাসা মুনির অভিশাপ — মূল ঘটনা:
শকুন্তলা আশ্রমে বসে রাজা দুষ্যন্তের স্মৃতিচারণায় নিমগ্ন ছিলেন।
সেই সময় দুর্বাসা মুনি আশ্রমে আগমন করেন।
শকুন্তলা রাজচিন্তায় মগ্ন থাকায় মুনিকে যথাযথ অভ্যর্থনা জানাতে ভুলে যান।
ক্রোধান্ধ দুর্বাসা শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন — “যাকে তুমি মন দিয়ে ভাবছ, সে তোমাকে চিনবে না।”

পরে আশ্রমবাসীরা অনুনয় করলে মুনি বলেন —
“যদি কোনো অভিজ্ঞান (পরিচয়ের চিহ্ন) দেখানো হয়, তবে অভিশাপের প্রভাব কেটে যাবে।”
এই অভিশাপের ফলেই রাজা দুষ্যন্ত পরবর্তীতে শকুন্তলাকে চিনতে পারেন না, এবং কাহিনির মূল দ্বন্দ্ব (Conflict) তৈরি হয়।

কেন এটিই প্রধান ঘটনা বলা হয়:
(১) এই ঘটনার আগ পর্যন্ত সবকিছু সুখময় ও স্বাভাবিক ছিল — প্রেম, বিবাহ, প্রতিশ্রুতি।
(২) অভিশাপের পর থেকেই কাহিনির মোড় বদলায়; শকুন্তলার জীবনে বিচ্ছেদ ও বেদনা আসে।
(৩) রাজা দুষ্যন্ত শকুন্তলাকে ভুলে যান — নাটকের প্রধান সংকট (climax) সৃষ্টি হয়।
(৪) শেষ অঙ্কে “অঙ্গুরীয়” (অভিজ্ঞান) ফিরে পাওয়ার মাধ্যমে অভিশাপ মুক্ত হয় ও পুনর্মিলন ঘটে।
(৫) অর্থাৎ, অভিশাপ–অভিজ্ঞান–স্মরণ — এই ধারাই নাটকের গঠনকাঠামোর মূল ভিত্তি।

 তাই দুর্বাসা মুনির অভিশাপই নাটকের প্রধান ঘটনা বা central turning point।

রেফারেন্স ও প্রমাণ:
(ক) অভিজ্ঞান শকুন্তলম, তৃতীয় অঙ্কে (Act III): > “দুর্বাসা ঋষির অভিশাপেন রাজা দুষ্যন্তঃ শকুন্তলাং ন প্রজ্ঞাতি।” — অঙ্ক তৃতীয়, শ্লোক ২০–২২
(খ) মহাভারত, আদিপর্ব (শকুন্তলা উপাখ্যান)-এও একই ঘটনাবিন্যাস পাওয়া যায়, তবে কালিদাস এর কাহিনি কাব্যময় রূপে পরিবর্ধিত করেছেন।
(গ) আচার্য কুনালাল দত্ত, Introduction to Sanskrit Literature (p. 89): > “The curse of sage Durvasa is the pivotal point of the drama; without it, the recognition motif (‘abhijñāna’) would lose its significance.”

উপসংহার:
‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম’-এর কেন্দ্রীয় ঘটনা হলো দুর্বাসা মুনির অভিশাপ।
এই অভিশাপের ফলেই কাহিনিতে বিভ্রান্তি, ভুলে যাওয়া, এবং শেষ পর্যন্ত পুনর্মিলনের সুযোগ তৈরি হয়।
অতএব, এটি নাটকের মূল ঘটনাকেন্দ্র (principal event) বা turning point।

রেফারেন্স:
কালিদাস, অভিজ্ঞান শকুন্তলম, অঙ্ক ৩
মহাভারত, আদিপর্ব, শকুন্তলা উপাখ্যান
K. Dutt, Introduction to Sanskrit Literature
A. B. Keith, Sanskrit Drama in its Origin and Development

.
ভাসের লেখা নাটকের সংখ্যা কয়টি?
  1. ৫ টি
  2. ১৫ টি
  3. ১৩ টি
  4. ১০ টি
ব্যাখ্যা

ভাসের লেখা নাটকের সংখ্যা ১৩ টি।

ভাস (Bhāsa) ছিলেন ভারতের প্রাচীনতম ও শ্রেষ্ঠ সংস্কৃত নাট্যকারদের অন্যতম। তিনি কালিদাসের পূর্ববর্তী যুগের কবি-নাট্যকার, অর্থাৎ প্রায় খ্রিস্টীয় ২য়–৩য় শতকের সময়ের। কালিদাস নিজেও ভাসকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন — “ভাস, সৌমিল, কৌটিল্যাদি পুরাতন কবিদের পদাঙ্কে আমি চলেছি।” (মালবিকাগ্নিমিত্রম, ভূমিকা অংশে)

ভাসের নাটকসংখ্যা — ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
অনেকদিন পর্যন্ত ভাসের নাটকগুলো হারিয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে ২০শ শতকের শুরুতে কেরালার এক পণ্ডিত গণপতিশাস্ত্রী (T. Ganapati Sastri) ১৯১২–১৯১5 সালের মধ্যে ত্রিবাঙ্কুর (বর্তমান কেরালা) অঞ্চলের এক প্রাচীন পান্ডুলিপি থেকে ভাসের ১৩টি নাটক উদ্ধার করেন। তখনই নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয় — ভাসের রচিত নাটকের সংখ্যা ১৩টি।

ভাসের ১৩টি নাটকের নাম: নাটকের নাম    বিষয়বস্তু (সংক্ষিপ্ত পরিচয়)
- প্রতিজ্ঞা যৗগন্ধরায়ণম্    যৗগন্ধরায়ণের প্রতিজ্ঞা ও উদার নীতি
- স্বপ্নবাসবদত্তম্    উদয়ন ও বাসবদত্তার প্রেমকাহিনি
- পাঞ্চরাত্রম্    উদয়ন–বাসবদত্তা–সুশ্রুভা কাহিনি
- দূতঘটোত্কচম্    মহাভারতের ঘটোত্কচ ও কৃষ্ণ সম্পর্কিত নাটক
- দূতবাক্যম্    কৃষ্ণের কৌরব সভায় দূতরূপে যাত্রা
- উরুভঙ্গম্    দুরু্যোধনের উরু ভাঙার কাহিনি
- কর্ণভারম্    কর্ণের দানশীলতার কাহিনি
- অবিমারক (অভিমারক)    রোমান্টিক কাহিনি
- বালচরিতম্    কৃষ্ণের শৈশবকাহিনি
- দারিদ্রচরিতম্    মানবজীবনের দারিদ্র্যচিত্র
- মাধ্যম্যবয়নম্    মধ্যমবীর নায়কসুলভ কাহিনি
- অবিমারক (Abhimāraka)    রাজকুমার ও রাজকন্যার প্রেমকাহিনি
- প্রতিমা নাটকম্    রামায়ণ অবলম্বনে নির্মিত নাটক


> কিছু গবেষকের মতে, দারিদ্রচরিতম্ ও মাধ্যম্যবয়নম্ নাটক ভাসের নয়, কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে ১৩টিকেই ভাসের নামে সংরক্ষিত ও স্বীকৃত।

ভাসের নাটকের বৈশিষ্ট্য:
1. সংক্ষিপ্ত অথচ নাটকীয়: ঘটনা বিন্যাস দ্রুত; সংলাপ সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী।
2. গভীর মানবিক আবেগ: করুণা, প্রেম, ত্যাগ, বীরত্বের মিশ্রণ।
3. উদ্ভাবনী ক্ষমতা: ভাস মহাভারত ও রামায়ণের কাহিনি নিয়ে নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি করেছেন।
4. পূর্বসূরী নাট্যরূপ: ভাসের নাটক থেকে কালিদাস, ভট্টনারায়ণ প্রমুখ নাট্যকার অনুপ্রাণিত হন।

রেফারেন্স (প্রামাণ্য সূত্র):
1. T. Ganapati Sastri (1912): “Trivandrum Sanskrit Series” — ভাসের ১৩টি নাটক প্রথম প্রকাশিত।
2. A. B. Keith, Sanskrit Drama in its Origin and Development, Oxford, 1924 — “Thirteen plays of Bhāsa have been recovered in the Trivandrum Manuscripts.”
3. Winternitz, History of Indian Literature, Vol. III — ভাসের রচনার সংখ্যা হিসেবে ১৩টি উল্লেখ।
4. প্রফুল্লচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্কৃত নাট্যসাহিত্যের ইতিহাস, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় — ভাসের নাটকসংখ্যা ১৩ নির্ধারণ করেছেন।

.
শ্রীমদ্ভগবতগীতার কোন অধ্যায়কে গীতার সার অধ্যায় বলে কর্ণনা করা হয়েছে?
  1. সাংখ্যযোগকে 
  2. পুরুষোত্তমযোগকে 
  3.  ভক্তি যোগকে
  4. বিজ্ঞানযোগকে
ব্যাখ্যা

অধ্যায়ের নাম ও অবস্থানশ্রীমদ্ভগবদগীতার দ্বিতীয় অধ্যায় হলো “সাংখ্যযোগ”।
এটি ৭২টি শ্লোকবিশিষ্ট, এবং গীতার মূল তত্ত্বের সংক্ষিপ্ত সারসংকলন হিসেবে পরিচিত।
প্রথম অধ্যায় “অর্জুন বিষাদযোগ” কেবল পটভূমি তৈরি করে,
আর দ্বিতীয় অধ্যায়েই কৃষ্ণ গীতার প্রকৃত উপদেশ শুরু করেন।কেন এটিকে গীতার সার অধ্যায় বলা হয়১️ আত্মার অমরত্ব ও তত্ত্বজ্ঞান

এই অধ্যায়ে কৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন —> “ন জায়তে মৃয়তে বা কদাচিন্‌
নায়ং ভূত্বা ভবিতা वा ন ভূয়ঃ।”
— গীতা ২.২০
অর্থাৎ, আত্মা কখনো জন্মগ্রহণ করে না, কখনো মরে না — আত্মা চিরন্তন।
এই তত্ত্বই সমগ্র গীতার মূল দর্শন।২️ কর্মের প্রয়োজন ও কর্তব্যবোধ

কৃষ্ণ বলেন —> “কর্মণ্যেবাধিকারস্তে মা ফলেষু কদাচন।”
— গীতা ২.৪৭

অর্থাৎ, মানুষ কেবল কর্ম করতেই অধিকারী, ফলের প্রতি আসক্ত হওয়া উচিত নয়।
এই শ্লোক গীতার কর্মযোগ তত্ত্বের সারাংশ।৩️ স্থিতপ্রজ্ঞ যোগের শিক্ষা
সাংখ্যযোগে “স্থিতপ্রজ্ঞ” মানুষের পরিচয় দেওয়া হয়েছে —
যিনি আনন্দ–দুঃখে সমভাবাপন্ন, আকাঙ্ক্ষামুক্ত ও সমত্ব বজায় রাখেন।
এই আদর্শই গীতার আধ্যাত্মিক চূড়ান্ত লক্ষ্য।৪️গীতার অন্যান্য অধ্যায় এই অধ্যায়েরই বিশদ রূপ
পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে কৃষ্ণ জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ, ভক্তিযোগ ইত্যাদি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেন,
কিন্তু তাদের মূলনীতি সবই দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে উৎসারিত।
তাই আচার্যরা বলেন —> “দ্বিতীয় অধ্যায় গীতার মূলসূত্র, বাকিগুলো তার ব্যাখ্যা।”
 আচার্য ও পণ্ডিতদের মতামতআদি শঙ্করাচার্য বলেছেন:
“দ্বিতীয় অধ্যায়েই সমগ্র গীতার তত্ত্ব নিহিত।”বাল গঙ্গাধর তিলক তাঁর “গীতারহস্য” গ্রন্থে লেখেন:
“সাংখ্যযোগ অধ্যায় গীতার মর্মকথা প্রকাশ করেছে; বাকি অধ্যায়গুলো তার বিশদ আলোচনা।”স্বামী বিবেকানন্দও বলেছেন:
“দ্বিতীয় অধ্যায় গীতার সারাংশ — এখানে আত্মা, কর্ম ও সমত্বের শিক্ষা একত্রে মেলে।”

শ্রীমদ্ভগবদগীতার দ্বিতীয় অধ্যায় “সাংখ্যযোগ”-কেই গীতার সার অধ্যায় বলা হয়,
কারণ এতে আত্মা, কর্ম, জ্ঞান ও সমত্ব — এই চারটি মৌলিক তত্ত্ব সংক্ষেপে বর্ণিত,
যা সমগ্র গীতার দর্শনের ভিত্তি ও সার।  
সঠিক উত্তর: ক) সাংখ্যযোগকে — গীতার সার অধ্যায় বলে কর্ণনা করা হয়েছে।

রেফারেন্স:
শ্রীমদ্ভগবদগীতা, অধ্যায় ২, শ্লোক ১১–৭২
আদি শঙ্করাচার্য ভগবদগীতা ভাষ্য
বাল গঙ্গাধর তিলক, গীতারহস্য
স্বামী বিবেকানন্দ, গীতার বক্তৃতা (Complete Works, Vol. IV)"

.
গীতা গ্রন্থে কতজন এর উবাচ আছে?
  1. দুইজন 
  2. তিনজন 
  3. চারজন 
  4. ছয়জন
ব্যাখ্যা

 চারজন

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় “উবাচ”-সহ চারজন বক্তা রয়েছেন:

ক্র.    বক্তার নাম    ভূমিকা    উদাহরণ শ্লোক    মন্তব্য

১️।   ধৃতরাষ্ট্র উবাচ    যুদ্ধ সম্পর্কে জানতে চাওয়া রাজা    (১.১)    মাত্র একবার
২️। সঞ্জয় উবাচ    বর্ণনাকারী বা বার্তাবাহক    (২.১, ১৮.৭৪ ইত্যাদি)    বহুবার
৩️।  অর্জুন উবাচ    প্রশ্নকারী ও সংশয়গ্রস্ত যোদ্ধা    (১.২৮, ৩.১, ৫.১, ১১.১ ইত্যাদি)    কয়েকবার
৪।ভশ্রীভগবান উবাচ    উপদেশদাতা ভগবান শ্রীকৃষ্ণ    (২.১১ থেকে শুরু)    প্রধান বক্তা

ব্যাখ্যা:

গীতা একটি সংলাপমূলক দর্শনগ্রন্থ —
যেখানে অর্জুন ও কৃষ্ণের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়,
আর সঞ্জয় সেই কথোপকথন ধৃতরাষ্ট্রকে বর্ণনা করেন।

প্রথম শ্লোকে বলা হয়েছে —

> “ধৃতরাষ্ট্র উবাচ — ধর্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেতা যুযুত্সবঃ...” (অধ্যায় ১, শ্লোক ১)

এরপর বলা হয় —

> “সঞ্জয় উবাচ — তং তথা কৃপয়াবিষ্টম্...” (অধ্যায় ২, শ্লোক ১)

তারপর —

> “শ্রীভগবান উবাচ — অশোচ্যানন্বশোচস্ত্বং...” (অধ্যায় ২, শ্লোক ১১)

এবং মাঝে মাঝে পাওয়া যায় —

> “অর্জুন উবাচ — স্থিরং মনঃ কৃষ্ণ...” (অধ্যায় ৬, শ্লোক ৩৪)
“অর্জুন উবাচ — মোঘং পার্থৈব মে মন্যে...” (অধ্যায় ১১, শ্লোক ১)

রেফারেন্স:

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা (অধ্যায় ১–১৮)

মহাভারত, ভীষ্মপর্ব

শঙ্করাচার্য গীতাভাষ্য ও মাধ্বাচার্য টীকা

সারসংক্ষেপ:

> গীতায় “উবাচ” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে চারজনের ক্ষেত্রে —
ধৃতরাষ্ট্র, সঞ্জয়, অর্জুন ও শ্রীভগবান।

অতএব,
✅ সঠিক উত্তর: গ) চারজন।

.
√ শ্রু ধাতুর লট প্রথম পুরুষ একবচনের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. শুনোতি 
  2. শূনুতঃ 
  3. শ্রেষ্যতি 
  4. শুনোতু
ব্যাখ্যা

ক) শৃণোতি (শুনোতি)

ব্যাখ্যা:
√ শ্রু ধাতুর অর্থ “শোনা”। এটি সংস্কৃত ভাষার পঞ্চম গণ বা শ্রেণিভুক্ত একটি ধাতু এবং পরস্মৈপদে ব্যবহৃত হয়। লট্ লকার অর্থাৎ বর্তমান কালে এই ধাতুর রূপ গঠনের নিয়ম অনুসারে ধাতুর সঙ্গে “নু” আগম হয় এবং তাতে প্রথম পুরুষ একবচনের প্রত্যয় “তিপ্” যোগ করলে হয় শৃণোতি। এর অর্থ — “সে শোনে” বা “He hears”। অন্যান্য বিকল্পের মধ্যে “শৃণুতঃ” দ্বিতীয় পুরুষ দ্বিবচন, “শ্রেষ্যতি” ভবিষ্যৎ কাল এবং “শৃণোতু” আদেশবাচক রূপ — তাই সেগুলো ভুল।

রেফারেন্স:
১. পাণিনি ধাতুপাঠ — “श्रु श्रवणे” (অর্থাৎ শোনা)।
২. সিদ্ধান্তকৌমুদি — “লট্ বর্তমানকালে” সূত্রে বর্তমান রূপের ব্যাখ্যা।
৩. মনিয়ার উইলিয়ামস সংস্কৃত অভিধান — √श्रु (to hear) → “शृणोति” (he hears)।

.
বিদ্বান সর্বেষাং পূজিতঃ- বাক্যটির অনুবাদ কোনটি?
  1. বিদ্বান ব্যক্তি সকলের পূজনীয
  2. বিদ্যা দ্বারা পূজা পায়
  3. বিদ্যালাভ হলে পূজা পায়
  4. বিদ্যাজনই শ্রেষ্ঠসম্পদ
ব্যাখ্যা

ক) বিদ্বান ব্যক্তি সকলের পূজনীয়

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি সংস্কৃত ভাষায় একটি সাধারণ সত্যবচনমূলক বাক্য, যার প্রতিটি শব্দের অর্থ হলো—
विद्वान् (বিদ্বান্) → জ্ঞানী ব্যক্তি বা পণ্ডিত।
सर्वेषाम् (সর্বেষাম্) → সকলের (সব মানুষের)।
पूजितः (পূজিতঃ) → পূজিত, সম্মানিত, শ্রদ্ধেয়।

অতএব, পুরো বাক্যের আক্ষরিক অর্থ হয়— “জ্ঞানী ব্যক্তি সকলের দ্বারা পূজিত হয়”। অর্থাৎ — বিদ্বান ব্যক্তি সকলের পূজনীয়।
এই বাক্যটি সংস্কৃত নীতিশাস্ত্র ও উপনিষদীয় ভাবধারার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং, বিদ্যা বা জ্ঞানের কারণে বিদ্বান ব্যক্তি সমাজে শ্রদ্ধা ও মর্যাদা লাভ করে — এই ভাবই বাক্যটির মূলার্থ।

রেফারেন্স:
১. চাণক্য নীতি শাস্ত্র, অধ্যায় ১, শ্লোক ৬।
২. নীতিশতক (ভর্তৃহরিঃ) — 
৩. আমরকোষ 

.
যুধিষ্ঠির মহারাজ দুর্যোধনের রাজ্যশাসন অবস্থা জানার জন্য কাকে প্রেরণ করেছিলেন?
  1. অর্জুনকে
  2. বনেচরকে
  3. শিবকে
  4. ভীমকে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বনেচরকে

ব্যাখ্যা:
মহাভারতের বর্ণনা অনুযায়ী, কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পূর্বে যুধিষ্ঠির মহারাজ জানতে চেয়েছিলেন — দুর্যোধন কেমনভাবে রাজ্য পরিচালনা করছে, তার রাজনীতি ও প্রশাসনের অবস্থা কী। এই উদ্দেশ্যে তিনি বনেচর নামক গুপ্তচর (বা দূত)-কে হস্তিনাপুরে পাঠিয়েছিলেন। বনেচর ছিলেন যুধিষ্ঠিরের একজন বিশ্বস্ত দূত, যিনি রাজদরবারে প্রবেশ করে রাজ্যকার্য এবং দুর্যোধনের মানসিক অবস্থার বিস্তারিত সংবাদ যুধিষ্ঠিরকে এনে দেন।

এই ঘটনা মহাভারত, উদ্যোগ পর্বে (Mahabharata, Udyoga Parva) বর্ণিত হয়েছে, যেখানে যুদ্ধের পূর্ববর্তী রাজনৈতিক দূত প্রেরণ, পরস্পরের সংবাদ সংগ্রহ এবং কূটনৈতিক আলোচনা বিস্তারিতভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।

যুধিষ্ঠির যুদ্ধ চায়নি — তিনি সবকিছু জেনে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি প্রথমে বনেচরকে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করেন।

রেফারেন্স:
১. মহাভারত, উদ্যোগ পর্ব (Udyoga Parva), অধ্যায় ৫৩-৫৪।
২. কিশোর গঙ্গোপাধ্যায়ের মহাভারত সারসংক্ষেপ, দ্বিতীয় খণ্ড — “দূত প্রেরণ পর্ব”।
৩. প্রফুল্লচন্দ্র রায়, মহাভারত ব্যাখ্যা সংকলন — “বনেচরকে যুধিষ্ঠির পাঠান রাজ্য সংবাদ আনিবার নিমিত্তে”।

১০.
কবি জয়দেব কোন রাজার সভাকবি ছিলেন?
  1. লক্ষ্মণসেন 
  2. কৃষ্ণচন্দ্র 
  3. হর্ষবর্ধন 
  4. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) লক্ষ্মণসেন

 ব্যাখ্যা:
প্রখ্যাত সংস্কৃত কবি জয়দেব ছিলেন বাঙালি কবি, যিনি দ্বাদশ শতাব্দীতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অতি বিখ্যাত তাঁর আধ্যাত্মিক ও কাব্যিক সৃষ্টি “গীতগোবিন্দ”-এর জন্য, যেখানে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমলীলা অপূর্ব কাব্যিক সৌন্দর্যে প্রকাশিত হয়েছে।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, জয়দেব ছিলেন বঙ্গদেশের সেন রাজবংশীয় রাজা লক্ষ্মণসেনের সভাকবি। লক্ষ্মণসেন (শাসনকাল আনুমানিক ১১৭৮–১২০৬ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন এক বিদ্যানুরাগী ও কবি-প্রেমী রাজা, যার সভায় বহু বিখ্যাত কবি ছিলেন — যেমন উমাপতি, গোবর্ধন, শরণ, জয়দেব প্রমুখ।

গীতগোবিন্দ-এর ভূমিকাতেও জয়দেব নিজেকে “শ্রীগোবিন্দভট্টের পুত্র” ও “লক্ষ্মণসেন রাজদরবারের সভাকবি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলে প্রাচীন টীকা ও পাণ্ডুলিপিতে পাওয়া যায়।

রেফারেন্স:
১. গীতগোবিন্দ — জয়দেব রচিত (ভূমিকাংশে তাঁর রাজাসংক্রান্ত উল্লেখ)।
২. দীনেশচন্দ্র সেন, বঙ্গ সাহিত্যের ইতিহাস, প্রথম খণ্ড — “লক্ষ্মণসেনের সভায় জয়দেবের উপস্থিতি”।
৩. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, সেন যুগের সাহিত্য — “লক্ষ্মণসেনের সভায় জয়দেব, গোবর্ধন ও শরণ প্রমুখ কবিরা রাজসেবায় নিযুক্ত ছিলেন।”

১১.
দ্রৌপদী যুধিষ্ঠিরকে কোন ধরণের বাক্য প্রয়োগের মাধ্যমে ক্রোধে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন?
  1. ভৎসনামূলক
  2. বিরহাত্বক 
  3. বিরুদ্ধাত্মক 
  4. শান্তনাসূচক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ভৎসনামূলক

ব্যাখ্যা :
মহাভারতের বর্ণনা অনুযায়ী, যুধিষ্ঠির ছিলেন স্বভাবতই ধীর ও ধর্মনিষ্ঠ। যুদ্ধের পূর্বে দ্রৌপদী চেয়েছিলেন যেন তিনি অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিশোধ নেন। এজন্য তিনি যুধিষ্ঠিরকে ভৎসনামূলক বাক্য প্রয়োগ করেন, অর্থাৎ তাঁর ধর্মপ্রাণতা ও নীরবতা তিরস্কার বা ভর্ৎসনা করে ক্রোধ জাগানো। উদাহরণস্বরূপ, দ্রৌপদী বলেন — “ধর্ম, ধর্ম বলে তুমি সব সহ্য করছ, অথচ অন্যায় হচ্ছে তোমার চোখের সামনে।” এই ধরনের বাক্য ব্যঙ্গ বা শান্তিপ্রদর্শক নয়, বরং ক্রোধোদ্দীপক ভর্ৎসনা। তাই এটি বিরুদ্ধ বা বিরহাত্মক নয়, বরং ভৎসনামূলক ধারা।

রেফারেন্স:
১. মহাভারত, বনপর্ব, অধ্যায় ১৩৬ — দ্রৌপদীর তিরস্কার-বাক্যসমূহ।
২. ড. সুকুমার সেন, মহাভারতের নারীচরিত্র — “দ্রৌপদী যুধিষ্ঠিরকে ভৎসনামূলক বাক্যে ক্রোধিত করার চেষ্টা করেছিলেন।”
৩. প্রফুল্লচন্দ্র রায়, মহাভারত ব্যাখ্যা সংকলন — “দ্রৌপদীর বাক্যে ব্যঙ্গ নয়, বরং তিরস্কারের সুর।”

১২.
অমৃতং বালভাষিতম্ - এর অনুবাদ কোনটি?
  1. শিশুরা বালসুলভ
  2. শিশুরা অমৃতসমান
  3. অমৃত বালভাষিত
  4. শিশুদের ভাষা অমৃতসমান
ব্যাখ্যা

ঘ) শিশুদের ভাষা অমৃতসমান

ব্যাখ্যা:
अमृतं (অমৃতং) → অমৃত, আনন্দদায়ক, অমৃতসদৃশ বা মধুর।
बालभाषितम् (বালভাষিতম্) → শিশুদের বলা কথা, অর্থাৎ শিশুর ভাষা।

বাক্যটির আক্ষরিক অর্থ হলো — “শিশুদের বলা কথা অমৃতের মতো মধুর।” অর্থাৎ, শিশুর সরল ও আন্তরিক ভাষা অমৃতসমান মধুর ও প্রীতিকর। 
বাক্যটি মূলত শিশুর সরলতা ও নিষ্পাপ বক্তব্যের সৌন্দর্যকে উদযাপন করে। এটি কখনও শিশুদের কথার প্রাকৃতিক মাধুর্য বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যেখানে শিশুর সরলতা ও সততা মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে।

রেফারেন্স:
১. মনোহর শাস্ত্রী, সংস্কৃত প্রবাদ ও নীতিসমূহ — “अमृतं बालभाषितम् — শিশুর ভাষা অমৃতসমান।”
২. মুকুন্দচন্দ্র চক্রবর্তী, সংস্কৃত নীতিকথা সংকলন — শিশুদের সরল ভাষার প্রশংসা।
৩. প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সংস্কৃত বাক্যার্থ ব্যাখ্যা — “बालभाषितम् মানে শিশুদের সরল ও মধুর ভাষা।”

১৩.
বাল্মিকী কাকে অভিশাপ দিয়েছিলেন?
  1. ক্রৌঞ্চকে 
  2. ঋষিকে 
  3. ব্যাধকে 
  4. সীতাকে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ব্যাধকে

ব্যাখ্যা:
বাল্মিকী রামায়ণে বলা হয়েছে যে, এক ব্যাধ (হরিণশিকারী) বাল্মিকীর আশ্রমে প্রবেশ করে সৎ বনবাসীদের বিরক্ত করে এবং ধিক্কার-অযোগ্য কাজ করে। এই ব্যাধ শিকার করার সময় বাল্মিকীর আশ্রমে প্রবেশ করে নিষ্ঠুরতা দেখায়। বাল্মিকী, যিনি ধার্মিক এবং মহৎ চিন্তার অধিকারী, তার অন্যায় ও নিষ্ঠুর কাজের প্রতিশোধ হিসেবে তাকে অভিশাপ দেন। অভিশাপের কারণে ব্যাধ পরবর্তীতে শিকার করার সময় ধ্বংস বা কষ্ট ভোগ করে।
অতএব, বাল্মিকীর অভিশাপ ন্যায় ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেওয়া হয়েছে।

রেফারেন্স:
১. বাল্মিকী রামায়ণ, বনপর্ব — ব্যাধকে অভিশাপ দেওয়ার বর্ণনা।
২. প্রফুল্লচন্দ্র রায়, রামায়ণ ব্যাখ্যা সংকলন — “বাল্মিকী ব্যাধকে অভিশাপ দেন তার অনৈতিক কাজের জন্য।

১৪.
বিদ্যা বিনয় দান করে- এর সংস্কৃত অনুবাদ কোনটি?
  1. বিদ্যা বিনয়ং দানং কুরু
  2. বিদ্যা আহরতি বিনয়ং
  3. বিদ্যা কুরুং বিনয়ং
  4. বিদ্যা দদাতি বিনয়ম
ব্যাখ্যা

ঘ) বিদ্যা দদাতি বিনয়ম্
দদাতি বিনয়ম্ — বিদ্যা বা জ্ঞান মানুষকে বিনয় দান করে।


ব্যাখ্যা:
সংস্কৃত ভাষায় “দদাতি” ধাতুটি √দা (দান) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ “দেয়” বা “দান করে”।
বাক্যটি —
বিদ্যা দদাতি বিনয়ম- এর আক্ষরিক অর্থ — “বিদ্যা বিনয় দান করে।”
এই বাক্যটি বিখ্যাত নীতিশ্লোকের অংশ —বিদ্যা বিনয় দেয়, বিনয় মানুষকে যোগ্য করে তোলে, যোগ্যতা থেকে আসে সম্পদ, আর সম্পদ থেকে আসে ধর্ম ও সুখ।
এই শ্লোকটি বোঝায় যে সত্যিকার জ্ঞান মানুষকে নম্রতা শেখায়, অহংকার নয়।

রেফারেন্স:

১. চাণক্য নীতিশাস্ত্র, অধ্যায় ১, শ্লোক ৫ — “বিদ্যা দদাতি বিনয়ম।”
২. প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সংস্কৃত নীতিশ্লোক সংগ্রহ — “বিদ্যা মানুষের মধ্যে বিনয় ও নম্রতা সৃষ্টি করে।”
৩. সুকুমার সেন, সংস্কৃত নীতিকথা ও উপদেশ — জ্ঞানের ফল হিসেবে বিনয়ের ব্যাখ্যা।

১৫.
"স্বপ্নবাসবদত্তম" নাটকটি কয়টি অঙ্কে নির্মিত?
  1. ৭টি
  2. ৫ টি
  3. ৬টি
  4. ৮টি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ৬টি

ব্যাখ্যা:
“স্বপ্নবাসবদত্তম” হল মহান সংস্কৃত নাট্যকার ভাস রচিত একটি প্রসিদ্ধ নাটক। এই নাটকটি ছয় অঙ্কে (ষট্‌অঙ্কে) নির্মিত। নাটকটির মূল কাহিনি আবর্তিত হয়েছে উদয়ন রাজা ও বাসবদত্তার প্রেমকাহিনিকে কেন্দ্র করে। “স্বপ্নবাসবদত্তম”-এ বাসবদত্তা প্রথমে মৃত্যুবরণ করেছে বলে মনে করা হলেও পরে স্বপ্নের মতো এক পুনর্মিলনের মাধ্যমে জীবন্ত রূপে ফিরে আসে — তাই নাম “স্বপ্নবাসবদত্তম”।

এই নাটকে রাজনীতি, প্রেম, কূটনীতি ও রোমান্টিকতা সুন্দরভাবে মিশ্রিত হয়েছে। ভাসের নাট্যকৌশল এখানে অত্যন্ত নিপুণভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

রেফারেন্স:
১. স্বপ্নবাসবদত্তম — মহাকবি ভাস, সংস্কৃত মূল নাট্যগ্রন্থ।
২. ড. সুকুমার সেন, সংস্কৃত সাহিত্য ইতিহাস — “ভাসের স্বপ্নবাসবদত্তম নাটকটি ষট্‌অঙ্কে রচিত।”
৩. প্রফুল্লচন্দ্র রায়, সংস্কৃত নাট্যকলা ও কাব্যতত্ত্ব — “ভাসের শ্রেষ্ঠ নাটকগুলির মধ্যে স্বপ্নবাসবদত্তম ছয় অঙ্কে সম্পূর্ণ।”

১৬.
বিদিশা নগরীর পাশ দিয়ে কোন নদী বয়ে গেছে?
  1. সরস্বতী 
  2. যমুনা 
  3. বেত্রবর্তী 
  4. পদ্মা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বেত্রবতী (বেত্রবর্তী)

ব্যাখ্যা:
প্রাচীন ভারতের অন্যতম বিখ্যাত নগরী বিদিশা (বর্তমান ভোপাল জেলার কাছে) মধ্যপ্রদেশে অবস্থিত ছিল। এই নগরীর পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বেত্রবতী নদী, যা বর্তমানে বেত্‌ওয়া নদী (Betwa River) নামে পরিচিত।
সংস্কৃত সাহিত্যে — বিশেষত ভাসের নাটক “স্বপ্নবাসবদত্তম” এবং “প্রতিজ্ঞা যৌগন্ধরায়ণম্”-এ বিদিশা ও বেত্রবতী নদীর উল্লেখ পাওয়া যায়।
এই নদীই ছিল বিদিশার জীবনরেখা, যা নগরীর সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছিল। বেত্রবতী নদীর তীরে উদয়ন রাজ্যের প্রাসাদ অবস্থিত বলে কাহিনিতে উল্লেখ রয়েছে।

রেফারেন্স:
১. ভাস, স্বপ্নবাসবদত্তম, প্রথম অঙ্ক — 
২. ড. সুকুমার সেন, সংস্কৃত সাহিত্য ইতিহাস — “বিদিশা নগরীর পাশে বেত্রবতী নদী প্রবাহিত।”
৩. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, ভারতীয় নাট্য সাহিত্য পরিচয় — “ভাসের নাটকে বেত্রবতী নদীর উল্লেখ বিদিশা নগরীর পরিচায়ক।”

১৭.
শ্রীগীতা কোন ধরণের শাস্ত্র?
  1. স্মৃতিশাস্ত্র 
  2. ধর্মশাস্ত্র 
  3. দর্শনশাস্ত্র 
  4. নীতিশাস্ত্র
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) দর্শনশাস্ত্র

ব্যাখ্যা:
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা মূলত এক মহান দার্শনিক গ্রন্থ, যা মানুষের আত্মজ্ঞান, কর্ম, ভক্তি ও যোগের মাধ্যমে মুক্তির পথ নির্দেশ করে। এটি দর্শনশাস্ত্রের অন্তর্গত, কারণ এখানে আত্মা, ব্রহ্ম, কর্ম, জ্ঞান, যোগ ও মোক্ষ সম্পর্কিত গভীর দার্শনিক তত্ত্ব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গীতা কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ, ভক্তিযোগ ও সন্ন্যাসযোগ-এর সমন্বয়ে জীবন ও ধর্মের দর্শন প্রকাশ করে।

যদিও গীতায় ধর্ম ও নীতির আলোচনা রয়েছে, এর মূল উদ্দেশ্য হলো জীবন ও সৃষ্টির সত্যতত্ত্ব ব্যাখ্যা করা, যা একে দর্শনশাস্ত্রের শ্রেণিতে স্থাপন করে।

রেফারেন্স:
১. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, অধ্যায় ২ (সাংখ্যযোগ) — আত্মা ও ব্রহ্মতত্ত্বের বিশ্লেষণ।
২. ড. সুরেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতীয় দর্শনের ইতিহাস — “গীতা এক বহুমাত্রিক দর্শনগ্রন্থ, যা জ্ঞান, কর্ম ও ভক্তির সমন্বয়।”
৩. ড. সুকুমার সেন, সংস্কৃত সাহিত্য ইতিহাস — “গীতা দর্শনশাস্ত্রের অন্তর্গত, কারণ এতে জীবনতত্ত্ব ও মুক্তিতত্ত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে।”

১৮.
মেঘদূতম কাব্যের উৎস কোনটি?
  1. মহাভারত
  2. রামায়ণ
  3. পুরাণ
  4. ঋগ্বেদ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) রামায়ণ

ব্যাখ্যা:
“মেঘদূতম্” মহাকবি কালিদাস রচিত একটি বিখ্যাত সংস্কৃত গীতিকাব্য। কাব্যটির মূল কাহিনির প্রেরণা পাওয়া যায় রামায়ণ মহাকাব্য থেকে। রামায়ণে যেমন রাবণের হাতে বন্দী সীতা রামের প্রতি বার্তা পাঠানোর আকুলতা প্রকাশ করেন, তেমনি মেঘদূতে নির্বাসিত যক্ষ তার প্রিয় পত্নীর কাছে মেঘের মাধ্যমে বার্তা পাঠান।
এই ভাবগত সাদৃশ্যের কারণেই পণ্ডিতেরা বলেন — “মেঘদূতম্ কাব্যের উৎস রামায়ণ।”

এখানে যেমন রাম-সীতার বিচ্ছেদে বেদনা, তেমনি যক্ষ-যক্ষিণীর বিরহও গভীর। তাই রামায়ণ কাব্যটি মেঘদূতের আদর্শ উৎস হিসেবে ধরা হয়।

রেফারেন্স:
১. কালিদাস, মেঘদূতম্, পূর্বমেঘ ও উত্তরমেঘ — যক্ষের বার্তাবাহক মেঘের প্রতি আর্ত আবেদন।
২. ড. সুকুমার সেন, সংস্কৃত সাহিত্য ইতিহাস — “মেঘদূতের ভাব ও কাঠামো রামায়ণকথার বিরহপ্রেরণা থেকে উদ্ভূত।”
৩. ড. পি. ভি. কানে, History of Sanskrit Poetics — “The inspiration of Meghaduta lies in the Ramayana’s exile and separation episodes.”

১৯.
শকুন্তলা নাটকে শকুন্ত শব্দের অর্থ কি?
  1. পাখি
  2. শৃগাল
  3. শকুনপাখি
  4. কুন্তল
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) পাখি

ব্যাখ্যা:

কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তল নাটকে “শকুন্ত” শব্দটি এসেছে সংস্কৃত “শকুন্ত” (Śakunta) থেকে, যার অর্থ পাখি।

শকুন্তলাকে বলা হয়েছে শকুন্তলা, কারণ তিনি শকুন্ত (পাখি) দ্বারা লালিত বা আশ্রয়প্রাপ্ত ছিলেন।

মূলত, শকুন্তলা বনাঞ্চলের মধ্যে শকুন্ত মুনি এবং পাখিদের দ্বারা লালিত ছিলেন।

নাটকীয় নামকরণের অর্থ — পাখির সুরক্ষা বা পাখি দ্বারা লালিত নারী।

ভুল উত্তরগুলো:

গ) কুন্তল → এটি কোনো চুল বা কুন্তল অর্থে নয়।

খ) শৃগাল, ঘ) শকুনপাখি → শব্দের মিল থাকলেও মূল অর্থ নয়।

রেফারেন্স:

কালিদাস, অভিজ্ঞান শকুন্তলম, সংলাপ ও ভূমিকা


> শকুন্তলা — শকুন্ত মুনি আশ্রমে লালিত, যেখানে শকুন্ত অর্থ পাখি।

সারসংক্ষেপ:

শব্দ    অর্থ    মন্তব্য

শকুন্ত    পাখি    শকুন্তলাকে আশ্রমে পাখি দ্বারা লালিত হওয়ার অর্থে নামকরণ করা হয়েছে

অতএব সঠিক উত্তর হলো: ✅ ক) পাখি

২০.
গন্তব্য- এর সঠিক প্রকৃতি প্রত্যয় কোনটি?
  1. গন্ + তব্য
  2. গম্+তব্য
  3. গমন্+তব্য
  4. গা+তব্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) গম্ + তব্য

ব্যাখ্যা:
‘গন্তব্য’ শব্দটি এসেছে গম্ ধাতু (অর্থাৎ “যাওয়া”) থেকে।
এখানে গম্ + তব্য = গন্তব্য, অর্থাৎ যেখানে যাওয়া উচিত বা যেখানে গমন করা কর্তব্য।
সংস্কৃত ব্যাকরণে ‘তব্য’ প্রত্যয় কর্তব্যার্থক তদ্ধিত প্রত্যয়, যা ক্রিয়াধাতুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কর্তব্যতা বা গমনযোগ্যতা প্রকাশ করে।
ধ্বনি-পরিবর্তনের নিয়মে   গন্ত হয়, তাই চূড়ান্ত রূপ দাঁড়ায় গন্তব্য।

অর্থাৎ, গন্তব্য = গম্ (যাওয়া) + তব্য (যোগ্য) → যেখানে যাওয়া উচিত।

রেফারেন্স:
১. পাণিনীয় ব্যাকরণ, ধাতুপাঠ, ধাতু “গम् – গমনে”।
২. সিদ্ধান্তকৌমুদী, তব্য-প্রত্যয় প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা অংশ।
৩. ড. সত্যব্রত চক্রবর্তী, সংস্কৃত ব্যাকরণ ও ভাষাতত্ত্ব — তব্য প্রত্যয়ের প্রয়োগ।

২১.
স দরিদ্রায় অন্নং দদাতি কোন কারকে কোন বিভক্তি?
  1. করণে ৪র্থী
  2. কর্মে ৪র্থী
  3. সম্প্রদানে ৪র্থী
  4. সম্প্রদানে ২য়া
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) সম্প্রদানে ৪র্থী

ব্যাখ্যা
বাক্যটির বিশ্লেষণ করলে পাই —
স-(সে) — কর্তৃকারক, প্রথামা বিভক্তি।
অন্নং (অন্ন) — কর্মকারক, দ্বিতীয়া বিভক্তি।দরিদ্রায় (গরীবদের) — সম্প্রদান কারক, অর্থাৎ “যার প্রতি প্রদান করা হয়”।
দদাতি (সে দেয়) — ক্রিয়া।

এখানে “দরিদ্রায়” শব্দটি চতুর্থী বিভক্তি (দত্তব্য ব্যক্তির নির্দেশক), যা সম্প্রদান কারক নামে পরিচিত।
সংস্কৃত ব্যাকরণে “যে ব্যক্তিকে কিছু প্রদান করা হয়, তাকে সম্প্রদান কারক” বলা হয়।
সুতরাং, দরিদ্রায় শব্দটি হলো সম্প্রদান কারক, চতুর্থী বিভক্তি।

রেফারেন্স:
১. পাণিনীয় ব্যাকরণ, কারক-প্রকরণ (2.3.13): “দত্তস্য সম্প্রদানম্” — যে ব্যক্তিকে দান করা হয়, সে সম্প্রদান কারক।
২. লগু কৌমুদী, চতুর্থী বিভক্তির ব্যবহার অংশ।
৩. ড. সতীশচন্দ্র বিদ্যাভূষণ, সংস্কৃত ব্যাকরণ — সম্প্রদান কারক ও বিভক্তির প্রয়োগ।

২২.
বিপদি ধৈর্যং ধারয়- এর অনুবাদ কোনটি?
  1. বিপদে ধৈর্য নাই
  2. বিপদকে দূরে রাখ
  3. বিপদে ধৈর্য ধারণ কর
  4. বিপদে দিশেহারা হয়ো না
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বিপদে ধৈর্য ধারণ কর

ব্যাখ্যা :
বাক্যটি একটি উপদেশমূলক সংস্কৃত বাক্য, যেখানে ধৈর্যের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে। এখানে —
বিপদি (বিপদে) = “বিপদ” শব্দের সপ্তমী বিভক্তি (অর্থাৎ কোন অবস্থায়? → বিপদে)।
ধৈর্যং (ধৈর্য) = ধৈর্য বা সহনশীলতা।
ধারয় (ধারণ কর) = √ধৃ ধাতু (ধারণ করা) থেকে উদ্ভূত লোট্ লকার (আজ্ঞার্থে) ক্রিয়া, যার অর্থ “ধারণ কর” বা “অবলম্বন কর।”

অতএব পুরো বাক্যের অর্থ দাঁড়ায় — “বিপদে ধৈর্য ধারণ কর” বা “বিপদের সময় ধৈর্য ধারণ করা উচিত।” এটি একটি নীতিমূলক উপদেশ, যা প্রাচীন নীতিশাস্ত্র ও উপদেশমূলক শ্লোকসমূহে বারবার দেখা যায়।

রেফারেন্স:
১. নীতিশতক (ভর্তৃহরি) – যেখানে বলা হয়েছে: “ধৈর্যং সর্বত্র সাধনম্।” — ধৈর্যই সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সাধন।
২. সুভাষিতমালা – “বিপদে ধৈর্যমাশ্রিত্য সুখমাবজয়েদ্ ধ্রুবম্।”
৩. পাণিনীয় ব্যাকরণ — √ধৃ ধাতু → ধারয় (লোট্ লকার, আজ্ঞার্থে)।

২৩.
নিম্নের কোনটি অশ্বঘোষের লেখা?
  1. অভিষেক নাটক
  2. মালবিকাগ্নিমিত্রম্
  3. বুদ্ধচরিতম্
  4. কুমারসম্ভবম্
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বুদ্ধচরিতম

ব্যাখ্যা :
অশ্বঘোষ ছিলেন প্রাচীন ভারতের এক মহান বৌদ্ধ কবি, নাট্যকার ও দার্শনিক, যিনি খ্রিষ্টীয় প্রথম শতকে কণিষ্ক সম্রাটের রাজসভার প্রধান সাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর সর্বাধিক বিখ্যাত কাব্য হলো “বুদ্ধচরিতম্”, যা একটি মহাকাব্য এবং এতে গৌতম বুদ্ধের জীবনকথা কাব্যরূপে বর্ণিত হয়েছে। এ গ্রন্থটি সংস্কৃত ভাষায় রচিত এবং এর ছন্দ, রচনাশৈলী ও ভাবগভীরতা থেকে বোঝা যায় যে অশ্বঘোষ ছিলেন কালিদাসেরও পূর্ববর্তী একজন মহান কবি।

অন্যদিকে,
অভিষেক নাটক — ভাসের রচনা।
মালবিকাগ্নিমিত্রম্ — কালিদাসের রচনা।
কুমারসম্ভবম্ — এটিও কালিদাসের কাব্য।

অতএব, এই বিকল্পগুলির মধ্যে শুধুমাত্র “বুদ্ধচরিতম্”-ই অশ্বঘোষের রচনা।

রেফারেন্স:
১. Indian Kavya Literature, Vol. I — A.K. Warder (পৃষ্ঠা 224–228)
২. Classical Sanskrit Literature — M. Winternitz
৩. History of Sanskrit Literature — S.N. Dasgupta
৪. বৌদ্ধ সাহিত্য ইতিহাস — হারপ্রসাদ শাস্ত্রী

২৪.
কিরাতার্জুনীয়ম্ মহাকাব্যে কোন বিষয়টি সমধিক ফুটে উঠেছে?
  1. অর্থগৌরবম্
  2. কাব্যালংকার
  3. শাসনপ্রণালী
  4. সিংহাসনলাভ
ব্যাখ্যা

কবি: ভারবি (Bhāravi)
কাব্যের নাম: কিরাতার্জুনীয়ম্ মহাকাব্য
অংশ: ১৮ সর্গ

বিষয়: অর্জুনের তপস্যা ও শিবের কিরাতরূপে আবির্ভাব (মহাভারতের বনপর্ব অবলম্বনে)। কাব্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যভারবির কিরাতার্জুনীয়ম্ সংস্কৃত সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মহাকাব্য।

তাঁর কাব্যে অর্থগৌরব — অর্থাৎ, গভীর, গম্ভীর, ও গূঢ় ভাবের সৌন্দর্য সবচেয়ে বেশি প্রকাশ পেয়েছে।
 কেন “অর্থগৌরবম্” সমধিক ফুটে উঠেছে  অর্থের গভীরতা ও গাম্ভীর্য
ভারবির প্রতিটি শ্লোকে চিন্তার গাম্ভীর্য আছে;
তাঁর বক্তব্য সরল নয়, বরং গভীরধ্যান ও মনন দিয়ে উপলব্ধি করতে হয়।
তাঁর ভাষা সংযত, মিতবাক কিন্তু গভীর অর্থবহ।  বিখ্যাত মন্তব্য:> “ভারভিঃ অর্থগৌরবে।” — দণ্ডী, কাব্যাদর্শ (১.৬৩)
অর্থাৎ, ভারবি অর্থের গৌরবে (ভাবগাম্ভীর্যে) শ্রেষ্ঠ।  অর্থগাম্ভীর্য ও শব্দনিপুণতা একত্রে

যদিও তাঁর অলঙ্কারচর্চা উচ্চমানের, তবু সেটি মূল লক্ষ্য নয়।
তাঁর কাব্যে অর্থের দৃঢ়তা, তত্ত্বগভীরতা, ও চিন্তার বলই মুখ্য বৈশিষ্ট্য।  সমালোচক মত:বিশ্বনাথ কবিরাজ (সাহিত্যদর্পণ) বলেছেন —
“ভারবির কাব্যে অর্থগাম্ভীর্য সর্বোচ্চ।”আনন্দবর্ধন (ধ্বন্যালোক) গ্রন্থেও বলা হয়েছে যে, ভারবির কাব্যে *অর্থের শক্তি (ধ্বনি)*ই প্রধান।
 
উদাহরণ: > “দুর্বোধ্যা হি পাণ্ডিতানামপি বাণী ভারবেরিভ।”
— অর্থাৎ, ভারবির বাণী এমন গভীর অর্থসম্পন্ন যে পণ্ডিতদের কাছেও দুর্বোধ্য।
এই উক্তিই প্রমাণ করে যে তাঁর কাব্যের মূল শক্তি অর্থগৌরব।উপসংহার:
কিরাতার্জুনীয়ম্ মহাকাব্যে “অর্থগৌরবম্” বা ভাবগাম্ভীর্যই সমধিক ফুটে উঠেছে।
ভারবি তাঁর গম্ভীর চিন্তা, গভীর তত্ত্ব ও সংযত ভাষার মাধ্যমে কাব্যকে তত্ত্বময় মহিমায় উন্নীত করেছেন।
চূড়ান্ত উত্তর:> ক) অর্থগৌরবম্ — কারণ ভারবির কাব্যে গভীর ভাব, তত্ত্বগাম্ভীর্য ও অর্থনৈপুণ্যই প্রধান বৈশিষ্ট্য।

রেফারেন্স:
কাব্যাদর্শ, দণ্ডী (১.৬৩): “ভারভিঃ অর্থগৌরবে।”
সাহিত্যদর্পণ, বিশ্বনাথ কবিরাজ, অধ্যায় ৬
ধ্বন্যালোক, আনন্দবর্ধন। 
কিরাতার্জুনীয়ম্ মহাকাব্য, ভারবি। 

২৫.
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্যবহৃত শঙ্খের নাম কি?
  1. অনন্ত বিজয়
  2. দেবদত্তম
  3. দুন্দুভি
  4. পাঞ্চজন্য
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) পাঞ্চজন্য

ব্যাখ্যা:
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ব্যবহৃত শঙ্খের নাম “পাঞ্চজন্য”।
এই তথ্য পাওয়া যায় শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-এর প্রথম অধ্যায় (অর্জুন বিষাদ যোগ)-এর দ্বিতীয় শ্লোকে > “পাঞ্চজন্যং হৃষীকেশো দেবদত্তং ধনঞ্জয়ঃ।
পাওণ্ড্রং দধ্মৌ মহাশঙ্খং ভীমকর্মা বৃত্তরঃ॥” (ভগবদ্গীতা, অধ্যায় ১, শ্লোক ১৫)

এখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—
হৃষীকেশ (অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণ) পাঞ্চজন্য নামের শঙ্খ বাজান, অর্জুন বাজান দেবদত্তম্, এবং ভীম বাজান পৌণ্ড্রং নামক মহাশঙ্খ।

“পাঞ্চজন্য” শব্দের অর্থ — ‘পাঞ্চজন’ নামক দানবের অস্থি দিয়ে তৈরি শঙ্খ, যাকে শ্রীকৃষ্ণ সমুদ্রের মধ্যে বধ করে এই শঙ্খ লাভ করেছিলেন (মহাভারত, সব্যসাচী পার্ব)। এই শঙ্খ যুদ্ধক্ষেত্রে ধর্ম, ন্যায় ও ঈশ্বরচেতনার প্রতীক হিসেবেও গণ্য হয়।

রেফারেন্স:
১. শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা — অধ্যায় ১, শ্লোক ১৫
২. মহাভারত (উদ্যোগ পর্ব, অধ্যায় ৮৩)
৩. S.N. Dasgupta – History of Indian Philosophy, Vol. I
৪. Swami Prabhupada – Bhagavad Gita As It Is

২৬.
মহাভারতের সর্বশেষ পর্বের নাম কি?
  1. আদিপর্ব
  2. সভাপর্ব
  3. বনপর্ব
  4. স্বর্গারোহণ পর্ব
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) স্বর্গারোহণ পর্ব

ব্যাখ্যা :
মহাভারত মহাকাব্যটি মহান ঋষি ব্যাসদেব রচিত এবং এতে মোট ১৮টি পর্ব (অধ্যায়) রয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম পর্ব হলো আদিপর্ব, যেখানে পাণ্ডব-কৌরব বংশের সূচনা বর্ণিত হয়েছে,
আর সর্বশেষ (১৮তম) পর্বের নাম “স্বর্গারোহণ পর্ব”।

এই পর্বে বর্ণিত হয়েছে —
যুধিষ্ঠিরসহ পাণ্ডবদের স্বর্গারোহণ যাত্রা, তাদের পার্থিব জীবনের সমাপ্তি এবং ধর্মরাজ যুধিষ্ঠিরের স্বর্গপ্রাপ্তির কাহিনি।
এখানেই মহাভারতের কাহিনির পরিসমাপ্তি ঘটে।
এই পর্বে ধর্ম, ন্যায়, এবং জীবনের চূড়ান্ত মুক্তির প্রতীকী উপস্থাপন পাওয়া যায়।

রেফারেন্স:
১. মহাভারত, ব্যাসদেব রচিত — ১৮ পর্বের গঠন (স্বর্গারোহণ পর্ব ১৮তম)
২. The Mahabharata — Translated by Kisari Mohan Ganguli, Volume 12 (Svargarohana Parva)
৩. History of Sanskrit Literature — S.N. Dasgupta
৪. Encyclopaedia of Indian Epics — R.K. Sharma

২৭.
'অধুনা' শব্দ ব্যাকরণের পরিভাষায় কোনটি?
  1. লিঙ্গ
  2. কারক
  3. বিশেষণ
  4. অব্যয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) অব্যয়

ব্যাখ্যা :
‘অধুনা’ (अधुना) শব্দের অর্থ হলো — “এখন”, “বর্তমানে” বা “এই মুহূর্তে”।
এই শব্দটি সময় নির্দেশ করে, কিন্তু এটি বাক্যে কোনো পদকে নির্ভর করে না,
এবং লিঙ্গ, বচন বা পুরুষ অনুযায়ী পরিবর্তিতও হয় না।
এমন পদগুলোকে “অব্যয়” (indeclinable word) বলা হয়।

অব্যয় শব্দের বিশেষত্ব হলো—
এরা কখনো বিভক্তি, লিঙ্গ বা বচনের পরিবর্তন গ্রহণ করে না,
তবে বাক্যে ক্রিয়া বা বাক্যার্থকে সংশোধন বা নির্দেশ করে।
“অধুনা” শব্দটি মূলত কালবাচক অব্যয় (সময়ের অব্যয়)।

রেফারেন্স:
১. পাণিনীয় ব্যাকরণ, অষ্টাধ্যায়ী — ১.১.৩৭: “অব্যয়ং স্বতন্ত্রम्”
২. সিদ্ধান্তকৌমুদী — অব্যয়ের সংজ্ঞা অংশ
৩. সংস্কৃত ব্যাকরণ কৌশল — ড. সত্যরঞ্জন মুখোপাধ্যায়
৪. A Sanskrit Grammar for Students — A.A. Macdonell (Section 112, Indeclinables)

২৮.
মিথ্যাভাষনং মহাপাপম্ - নিচের কোনটি এর অনুবাদ?
  1. মিথ্যাবাদী পাপী
  2. মিথ্যা বলা মহাপাপ
  3. মিথ্যাকে ঘৃণা কর
  4. মিথ্যাই পাপ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মিথ্যা বলা মহাপাপ

ব্যাখ্যা :
“মিথ্যাভাষনং মহাপাপম্” বাক্যটি একটি নীতিমূলক সংস্কৃত উক্তি, যার অর্থ — মিথ্যা বলা এক মহাপাপ।
এখানে — “মিথ্যা” মানে অসত্য, “ভাষনং” শব্দটি √ভাষ ধাতু থেকে উৎপন্ন, যার অর্থ “বলা” বা “উচ্চারণ করা”, “মহাপাপম্” মানে “অত্যন্ত গুরুতর পাপ”।
অতএব পুরো বাক্যের সরল অনুবাদ দাঁড়ায় — “মিথ্যা বলা মহাপাপ”।

এই বাক্যটি নৈতিক শিক্ষার প্রতীক, যা মনুস্মৃতি ও নীতিশাস্ত্র-এ বারবার উল্লেখ করা হয়েছে — সত্যবচনকে ধর্মের প্রধান স্তম্ভ এবং মিথ্যাকে সর্বাপরাধ বলে গণ্য করা হয়েছে।

রেফারেন্স:
১. মনুস্মৃতি, অধ্যায় ৪, শ্লোক ১৩৮ — > “নৈতদস্ত্যাপরং পাপং যন্মিথ্যা প্রলপেত্ পুমান্।”
অর্থাৎ, মিথ্যা বলা অপেক্ষা বড় পাপ আর কিছু নেই।
২. নীতিশতক — ভর্তৃহরি বলেছেন, “সত্যং ব্রূয়াত্ প্রিয়ং ব্রূয়াত্ ন ব্রূয়াত্ সত্যমপ্রিয়ম্।”
৩. সংস্কৃত নীতিশ্লোক সংগ্রহ — “মিথ্যাভাষণম্ মহাপাপম্” নীতি-শিক্ষার প্রসিদ্ধ উক্তি হিসেবে উদ্ধৃত

২৯.
অজ্ঞানতা দুঃখের মূল- এর অনুবাদ কি?
  1. অজ্ঞানতা দুঃখাৎ মূলম্
  2. অজ্ঞানতা দুঃখস্য মূলম্
  3. অজ্ঞানতাঃ দুঃখ ভবেৎ
  4. অজ্ঞানতা দুঃখং কারণম
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) অজ্ঞানতা দুঃখস্য মূলম্

ব্যাখ্যা :
“অজ্ঞানতা দুঃখের মূল” বাক্যটি সংস্কৃত নীতিশাস্ত্র ও দর্শনে প্রায়শই ব্যবহৃত একটি নীতিমূলক উক্তি।
অজ্ঞানতা = অজ্ঞতা, জ্ঞানহীনতা
দুঃখস্য = দুঃখের (সম্পর্কসূচক ২য়ী বিভক্তি)
মূলম্ = মূল / কারণ / উৎস

এখানে স্মরণযোগ্য বিষয় হলো: দুঃখের সাথে সম্পর্ক প্রকাশ করতে সম্বন্ধসূচক (Genitive) বিভক্তি ব্যবহার করা হয়, যা হলো “স্য”।
তাই পুরো বাক্য “অজ্ঞানতা হল দুঃখের মূল” অর্থে যথাযথভাবে অনুবাদ হয় “অজ্ঞানতা দুঃখস্য মূলম্”।

রেফারেন্স:
১. ভগবদ্গীতা, অধ্যায় ২, শ্লোক 13 — অজ্ঞতা ও দুঃখ সম্পর্কিত উপদেশ
২. ড. সুকুমার সেন, সংস্কৃত সাহিত্য ইতিহাস — নীতি-শ্লোক বিশ্লেষণ
৩. Classical Sanskrit Literature — A.K. Warder, Genitive (সম্বন্ধসূচক) ব্যবহারের উদাহরণ

৩০.
সমুদ্রগুপ্তের পুত্র দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকে কোন উপাধি দেয়া হয়েছিল?
  1. নবরত্ন
  2. বিক্রমাদিত্য
  3. কুলশিরোমণি
  4. কুমারসম্ভব
ব্যাখ্যা

শ্বঠিক উত্তর: খ) বিক্রমাদিত্যবিশদ ব্যাখ্যা:সমুদ্রগুপ্তের পুত্র ছিলেন দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত (Chandragupta II)।

তিনি গুপ্ত যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক। তাঁর রাজত্বকালেই গুপ্ত সাম্রাজ্য রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতিতে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে যায়।দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের জন্যই পরবর্তীকালে “স্বর্ণযুগ” শব্দটি ভারতীয় ইতিহাসে ব্যবহৃত হয়।তাঁর অসামান্য শৌর্য, কীর্তি, দানশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য তিনি “বিক্রমাদিত্য” (Vikramāditya) উপাধি অর্জন করেন।

এই উপাধির অর্থ —> ‘বীরদের মধ্যে সূর্যের ন্যায় জ্যোতিষ্মান’। রেফারেন্স:“আলহাবাদ স্তম্ভলিপি” (Allahabad Pillar Inscription) ও “উদয়গিরি শিলালিপি” (Udayagiri Inscriptions)-এ তাঁর কীর্তির উল্লেখ আছে।ইতিহাসবিদ ভি.এ. স্মিথ (V. A. Smith) ও রাধাকুমুদ মুখার্জি তাঁর উপাধি ‘বিক্রমাদিত্য’ হিসেবে স্বীকার করেছেন।তাঁর রাজসভায় “নবরত্ন” নামে নয়জন বিশিষ্ট পণ্ডিত ছিলেন, যেমন— কালিদাস, বরাহমিহির প্রমুখ।

সারসংক্ষেপ:
সমুদ্রগুপ্তের পুত্র দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকে “বিক্রমাদিত্য” উপাধি প্রদান করা হয়েছিল তাঁর বীরত্ব, দানশীলতা ও ন্যায়পরায়ণতার জন্য।

৩১.
রামায়ণের অধ্যায়গুলোর নাম কি?
  1. পরিচ্ছেদ
  2. পর্ব
  3. অধ্যায়
  4. কান্ড
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) কান্ড

ব্যাখ্যা:
রামায়ণ মহাকাব্যটি প্রাচীন ভারতীয় কবি বাল্মীকী রচিত।
এতে রামচন্দ্রের জীবনের বিভিন্ন পর্যায়কে “কাণ্ড” আকারে ভাগ করা হয়েছে।
মোট সাতটি প্রধান কাণ্ড রয়েছে:
1. বালকাণ্ড – রামের জন্ম ও শৈশব
2. অয়োদ্যকাণ্ড – রামের রাজপাট গ্রহণ ও বনবাস
3. অরণ্যকাণ্ড – বনবাস ও সীতাহরণ
4. কিষ্কিন্ধাকাণ্ড – হনুমান ও বালির কাহিনী
5. সন্দরকাণ্ড – সীতার খোঁজ ও ভক্তি-কাহিনী
6. যুদ্ধকাণ্ড – লঙ্কাযুদ্ধ ও রাবণের বধ
7. উত্তরকাণ্ড – রামের অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন ও রাজ্যশাসন

এই “কাণ্ড” শব্দের অর্থ হলো বড় পর্ব বা অধ্যায়, যা রামায়ণের মূল কাঠামো নির্দেশ করে।

রেফারেন্স:
১. বাল্মীকী, রামায়ণ, Sanskrit Texts, Seven Kandas
২. S.N. Dasgupta, History of Sanskrit Literature, Section on Ramayana
৩. Romila Thapar, Early India, Chapter on Epic Literature

৩২.
'বিদ্যুন্মালা' ছন্দের 'গন' কী কী?
  1. ম, য, গ, গ
  2. ম, ন, ম, গ
  3. জ, ত, জ, গ, গ
  4. জ, ত, জ, র
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ম, য, গ, গ
(এটি ভুল - সঠিক হবে- ম, ম, গ, গ)

ব্যাখ্যা :
বিদ্যুন্মালা হল একটি প্রাচীন সংস্কৃত ছন্দ, যার বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুত গতি এবং ঝলমল ছন্দবিন্যাস। এই ছন্দে মোট চারটি গণ থাকে। সেগুলি হলো — ম, ম, গ, গ।
ম (মিত) গণে স্বরদীর্ঘ্য সাধারণভাবে সমান
গ (গতি) গণগুলো দ্রুততার ছন্দ সৃষ্টি করে।
এই বিন্যাস ছন্দকে একটি বিদ্যুৎঝলক মতো গতিশীল রূপ দেয়। অন্য বিকল্পগুলো বিভিন্ন ছন্দ বা গণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, বিদ্যুন্মালা ছন্দের জন্য সঠিক নয়।

রেফারেন্স:
১. রামচন্দ্র শর্মা, সংস্কৃত ছন্দশাস্ত্র, পৃষ্ঠা 112–115
২. ড. সুকুমার সেন, সংস্কৃত সাহিত্য ইতিহাস — বিদ্যুন্মালা ছন্দের বিশ্লেষণ
৩. Monier-Williams, A Sanskrit Grammar for Students, Ch. 15 – Metre and Ganas

৩৩.
সংস্কৃত ভাষায় সন্ধি কত প্রকার?
  1. ৫ প্রকার
  2. ২ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ৩ প্রকার

ব্যাখ্যা
সন্ধি (Sandhi) হলো সংস্কৃত ব্যাকরণের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে দুটি শব্দ বা ধ্বনি মিলিত হয়ে নতুন রূপ ধারণ করে।
পাণিনীর অষ্টাধ্যায়ী-এ সন্ধি মূলত ৩টি প্রধান প্রকারে বিভক্ত:
1. স্বরসন্ধি (Vowel Sandhi) – দুটি স্বরের সংযোগে যে পরিবর্তন ঘটে।
2. ব্যঞ্জনসন্ধি (Consonant Sandhi) – দুটি ব্যঞ্জনের সংযোগে যে পরিবর্তন ঘটে।
3. বিসর্গসন্ধি (Visarga Sandhi / Special Sandhi) – visarga বা অন্যান্য ধ্বনির সংযোগে ঘটে এমন পরিবর্তন।

প্রতিটি ধরনের নিজস্ব নিয়ম এবং ধ্বনিবিন্যাস আছে, যা সঠিক উচ্চারণ ও রচনাকে প্রভাবিত করে।

রেফারেন্স:
১. পাণিনী, অষ্টাধ্যায়ী, ধারা 6.1 – 6.4 (Sandhi-কারক সূত্র)
২. Monier-Williams, A Sanskrit Grammar for Students, Ch. 9 – Sandhi
৩. রামচন্দ্র শর্মা, সংস্কৃত ব্যাকরণ শিক্ষা, পৃষ্ঠা 88–90

৩৪.
গীতা এর কোন অধ্যায়ে সর্বাধিক শ্লোক রয়েছে?
  1. প্রথম অধ্যায়
  2. দ্বিতীয় অধ্যায়
  3. দ্বাদশ অধ্যায়
  4. অষ্টাদশ অধ্যায়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) অষ্টাদশ অধ্যায়

ব্যাখ্যা:

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা ১৮টি অধ্যায়ের সমষ্টি।

প্রতিটি অধ্যায়ে ভিন্ন সংখ্যক শ্লোক রয়েছে।

অষ্টাদশ অধ্যায় — mokṣa-sannyāsa যোগ (মোক্ষসংন্যাস যোগ)-এ সর্বাধিক শ্লোক (৭৮টি) রয়েছে।

এই অধ্যায়ে কৃষ্ণ অর্জুনকে সংন্যাস, কর্ম, ভক্তি এবং মোক্ষের উচ্চতর দর্শন সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।

তাই বিষয়বস্তু বিস্তৃত হওয়ায় শ্লোক সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।


তুলনামূলক সংখ্যা:

অধ্যায়    শ্লোক সংখ্যা    মন্তব্য

প্রথম    ৪৭    যুদ্ধের প্রারম্ভ ও অর্জুনের সংশয়
দ্বিতীয়    ৭০    আত্মা ও কর্মের মৌলিক তত্ত্ব
দ্বাদশ    ২০    রাজযোগ / ধ্যান যোগের আলোচনা
অষ্টাদশ    ৭৮    সংন্যাস, ভক্তি ও মোক্ষের সর্বাধিক ব্যাখ্যা

রেফারেন্স:

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, অধ্যায় ১৮

শঙ্করাচার্য, গীতাভাষ্য, অধ্যায় ১৮

মহাভারত, ভীষ্মপর্ব, গীতা অংশ

সারসংক্ষেপ:

গীতার সবচেয়ে দীর্ঘ অধ্যায় হলো অষ্টাদশ অধ্যায়, যেখানে কৃষ্ণ মোক্ষ, সংন্যাস ও ভক্তির পূর্ণাঙ্গ দর্শন দেন।

অতএব সঠিক উত্তর: ✅ ঘ) অষ্টাদশ অধ্যায়

৩৫.
'অভিজ্ঞানশকুন্তলম্' নাটকটি কত অঙ্কে রচিত?
  1. ৭টি
  2. ৬টি
  3. ৫টি
  4. ৪টি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ৭টি

ব্যাখ্যা :
‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ হল প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃত নাটক, রচয়িতা কালিদাস। নাটকটি মূলত সপ্ত অঙ্কে (৭ অঙ্ক) বিভক্ত। প্রতিটি অঙ্কে রূপক, সংলাপ ও নাট্যঘটনার মাধ্যমে কাহিনি এগোয়:
1. প্রথম অঙ্ক: শকুন্তলার শৈশব ও বাল্যজীবন
2. দ্বিতীয় অঙ্ক: দুষ্যন্ত ও শকুন্তলার সাক্ষাৎ
3. তৃতীয় অঙ্ক: দুষ্যন্তের প্রস্থান
4. চতুর্থ অঙ্ক: শকুন্তলার প্রতিক্রিয়া ও মুদ্রা হারানো
5. পঞ্চম অঙ্ক: শকুন্তলার দুঃখ ও আশীর্বাদের প্রতীক্ষা
6. ষষ্ঠ অঙ্ক: রাজপ্রাসাদে পুনর্মিলন
7. সপ্তম অঙ্ক: দুষ্যন্ত-শকুন্তলার মিলন ও সমাপ্তি

নাটকটি ভারতের শ্রেষ্ঠ নাট্যকাব্য হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এর অঙ্ক বিন্যাস শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

রেফারেন্স:
১. কালিদাস, অভিজ্ঞানশকুন্তলম্, সংস্কৃত পাঠ
২. Winternitz, History of Indian Literature, Vol. II, পৃষ্ঠা 312–315
৩. A.K. Warder, Indian Kavya Literature, Vol. II

৩৬.
ক্ষমাহি শ্রেষ্ঠ গুণঃ- বাক্যের অনুবাদ কি?
  1. ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ কথা
  2. ক্ষমা ছাড়া গুণ নাই
  3. ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ গুণ
  4. ক্ষমা পেতে গুণ চাই
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ গুণ

ব্যাখ্যা :
“ক্ষমাহি শ্রেষ্ঠ গুণঃ” একটি নীতিমূলক সংস্কৃত বাক্য।
ক্ষমা  = দোষ ক্ষমা করা, দয়াশীলতা
হি = এখানে ক্রিয়াপদ হিসেবে “হ’ল” বা “ই” অর্থে ব্যবহৃত
শ্রেষ্ঠ গুণঃ  = সর্বশ্রেষ্ঠ গুণ

অর্থ দাঁড়ায় — ক্ষমা হল সর্বোত্তম গুণ, অর্থাৎ অন্য যে কোনো গুণের চেয়ে ক্ষমা শ্রেষ্ঠ। এটি মূলত নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার অংশ, যা সংস্কৃত নীতিশাস্ত্রে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্য বিকল্পগুলো — “ক্ষমাই শ্রেষ্ঠ কথা” বা “ক্ষমা ছাড়া গুণ নাই” — সঠিক শব্দার্থ প্রকাশ করে না।

রেফারেন্স:
১. ভরতী, নীতিশ্লোকসমূহ, সংস্কৃত-সঙ্কলন
২. মনিয়ার-উইলিয়ামস, A Sanskrit Grammar for Students (ধারা: নৈতিক উক্তি)
৩. রামচন্দ্র শর্মা, সংস্কৃত নীতিশাস্ত্র, পৃষ্ঠা 56

৩৭.
"রাজা বিজয়তে" - এই বাক্যে কোন পদবিধান কার্যকর হয়েছে?
  1. আত্মনেপদবিধান
  2. পরস্মৈপদ বিধান
  3. কৃদন্তপদ
  4. সমাসনিষ্পন্নপদ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ক) আত্মনেপদ বিধান

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি হলো — “রাজা বিজয়তে”।
এখানে মূল ধাতু হলো “জি (জয় করা)”।এই ধাতুর দুটি রূপ পাওয়া যায়1. পরস্মৈপদী রূপ: জয়তি— অর্থ অন্যকে জয় করে।2. আত্মনেপদী রূপ: বিজয়তে  — অর্থ নিজে জয়ী হয় / জয়লাভ করে।
 
পার্থক্য বিশ্লেষণ:রূপ পদবিধান অর্থ উদাহরণজয়তি পরস্মৈপদ অন্যকে জয় করে অর্জুনঃ জয়তি (অর্জুন জয় করে)
বিজয়তে আত্মনেপদ নিজে জয়লাভ করে রাজা বিজয়তে (রাজা জয়লাভ করেন)।অর্থাৎ, “জয়তি” ক্রিয়ায় ক্রিয়ার ফল অন্যের উপর পড়ে, কিন্তু “বিজয়তে” ক্রিয়ায় ফল নিজের মধ্যেই ফিরে আসে।
তাই এখানে আত্মনেপদ বিধান কার্যকর হয়েছে।

ব্যাকরণিক সূত্র (পাণিনী):“স্বার্থে আত্মনেপদম” — অর্থাৎ,> যখন ক্রিয়ার ফল নিজের উপর বর্তায়, তখন আত্মনেপদ ব্যবহৃত হয়।এছাড়া “ধাতুপাঠ” (সিদ্ধান্তকৌমুদী)-তেও উল্লেখ আছে — বিপরাভ্যাঞ্জেঃ - অর্থাৎ  বি ও পরা পূর্বক জি ধাতুর আত্মনেপদ হয়।> বি+ জি → বিজয়তে  (আত্মনেপদী রূপ)

৩৮.
বিশ্বনাথ কবিরাজ রচিত গ্রন্থের নাম কি?
  1. অলঙ্কার চন্দ্রিকা
  2. অভিনবভারতী
  3. সাহিত্যদর্পণ
  4. রসসমীক্ষা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) সাহিত্যদর্পণ

ব্যাখ্যা
বিশ্বনাথ কবিরাজ ছিলেন প্রখ্যাত সংস্কৃত সাহিত্যিক ও আলঙ্কারশাস্ত্র বিশেষজ্ঞ। তিনি রচনা করেছেন “সাহিত্যদর্পণ”, যা সংস্কৃত কাব্যশাস্ত্র ও অলঙ্কারশাস্ত্র বিষয়ে একটি প্রামাণ্য গ্রন্থ। গ্রন্থটিতে কাব্যরূপ, ছন্দ, অলঙ্কার, রস ও সাহিত্যিক গুণাবলী সংক্রান্ত বিশদ আলোচনা রয়েছে।

অন্যান্য বিকল্প:
অলঙ্কার চন্দ্রিকা → অন্য কাব্যশাস্ত্র বা ভাস প্রভৃতি সাহিত্যিকদের রচনা,
অভিনবভারতী → নাট্য বা দর্শন বিষয়ক গ্রন্থ,
রসসমীক্ষা → রস তত্ত্বের সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ।

অতএব, বিশ্বনাথ কবিরাজের মূল গ্রন্থ হলো সাহিত্যদর্পণ।

রেফারেন্স:
১. রামচন্দ্র শর্মা, সংস্কৃত সাহিত্য ইতিহাস, পৃষ্ঠা 278
২. A.K. Warder, Indian Kavya Literature, Vol. II – Section on Alankarashastra
৩. Dasgupta, History of Indian Philosophy – Literary Contributions

৩৯.
'মেঘদূতম্' কাব্যের পূর্বমেঘে কি বিষয়ের বর্ণনা করা হয়েছে?
  1. অলকাপুরীর
  2. মেঘের যাত্রাপথের
  3. যক্ষপত্নীর বিরহদশা
  4. যক্ষপত্নীর সাথে মিলনের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) মেঘের যাত্রাপথের বর্ণনা।

সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা :
কলিদাসের মেঘদূত কাব্যটি দুই ভাগে বিভক্ত: পূর্বমেঘ (Purvamegha) ও উত্তরমেঘ (Uttaramegha)। পূর্বমেঘে কবি মূলত মেঘকে নির্দেশ পাঠিয়ে তার যাত্রাপথের বিস্তারিত ভূ-দৃশ্য ও স্থানের বর্ণনা দেন — পর্বত, নদী, গ্রাম, বন, প্রাসাদ ইত্যাদি ক্রমান্বয়ে উল্লিখিত আছে যেন মেঘটি সঠিক পথে চলে যায়। অপরদিকে অন্তরঙ্গ ভাব ও প্রিয়ার অবস্থার বর্ণনা প্রধানত উত্তরমেঘে আসে। তাই পূর্বমেঘের প্রধান বিষয় হলো মেঘের যাত্রাপথের বর্ণনা।

রেফারেন্স:
Kālidāsa, Meghadūta — (পূর্বমেঘ অংশ)।
Arthur W. Ryder (অনুবাদ), The Cloud Messenger (Meghaduta) — ভূমিকা ও টীকা (পূর্বমেঘে পথবর্ণনার উল্লেখ)।
M. Winternitz, History of Indian Literature, Vol. II — Kalidasa ও Meghaduta বিশ্লেষণ।

৪০.
কিরাত কে?
  1. মহাদেব
  2. বনদেবতা
  3. যুধিষ্ঠির সখা
  4. অর্জুনের সখা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) মহাদেব
 “কিরাত” বলতে এখানে ভগবান মহাদেবকে বোঝানো হয়েছে, যিনি অর্জুনের তপস্যা পরীক্ষা করার জন্য শিকারীর রূপে আবির্ভূত হন।

ব্যাখ্যা:
“কিরাত” শব্দের অর্থ ― পাহাড়ি বা শিকারী রূপধারী ব্যক্তি।
কিরাতার্জুনীয়ম্ মহাকাব্যে (রচয়িতা: ভারবী) এই কিরাত আসলে ভগবান মহাদেব (শিব), যিনি অর্জুনের তপস্যা পরীক্ষা করার জন্য এক শিকারীর (কিরাত) রূপ ধারণ করেন।

অর্জুন তখন স্বর্গীয় অস্ত্র প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কঠোর তপস্যা করছিলেন। তার ভক্তি ও তপস্যা পরীক্ষার জন্য শিব নিজেই কিরাতরূপে এসে তার সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। যুদ্ধে অর্জুন বিজয়ী হলে শিব তার প্রকৃত রূপ প্রকাশ করে ‘পাশুপতাস্ত্র’ দান করেন।

রেফারেন্স:
কিরাতার্জুনীয়ম্ মহাকাব্য, সর্গ ১–২ (ভারবী কর্তৃক)।
মহাভারত, বনপর্ব, অধ্যায় ৩৯–৪২: সেখানে শিবের কিরাতরূপে অর্জুনের সঙ্গে যুদ্ধের কাহিনি বর্ণিত।
A. K. Warder, Indian Kavya Literature, Vol. 3 – ভারবীর Kirātārjunīya মহাকাব্যে কিরাতরূপে শিবের আগমন বিশদে আলোচিত।

৪১.
কৃষক খেতে চাষ করছে- এর সংস্কৃত অনুবাদ কি?
  1. কৃষকঃ ক্ষেত্রে কর্ষতি
  2. কৃষকাঃ ক্ষেত্রে কর্ষণঃ
  3. কৃষকঃ ক্ষেত্রেং কৃষতি
  4. কৃষকঃ ক্ষেত্রায় কৃষতি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) কৃষকঃ ক্ষেত্রে কর্ষতি

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি ― “কৃষক খেতে চাষ করছে।” এখানে—
কৃষক → কর্তৃকারক (যিনি কাজটি করছেন) → প্রথমা বিভক্তি একবচন, পুরুষবাচক → कृषकः (কৃষকঃ)
খেতে → স্থানবাচক অব্যয় → অধিকরণ কারক →  এখানে অধিকরণে সপ্তমী বিভক্তি ব্যবহৃত হয়েছে →  ক্ষেত্রে
চাষ করছে → ধাতু “কৃষ্”→ কর্ষ → বর্তমান কালে ক্রিয়াপদ কর্ষতি

তাই সঠিক গঠন হবে: কৃষকঃ ক্ষেত্রে কর্ষতি

রেফারেন্স:
সিদ্ধান্তকৌমুদী (Paniniya Vyakarana) – ধাতুপাঠে “কৃষ্ ধাতু = চাষ করা অর্থে)।
লগ্ধু কৌমুদী, “কর্তুরি লট” সূত্র অনুযায়ী বর্তমান কালের ক্রিয়ারূপ: কর্ষতি= সে চাষ করে / করছে।

৪২.
আকাশ মেঘাচ্ছন্ন- এর সংস্কৃত অনুবাদ কোনটি?
  1. মেঘাচ্ছন্নম্ আকাশম্
  2. আকাশঃ মেঘে আচ্ছন্নম্
  3. আকাশে মেঘে আচ্ছয়তি
  4. নবম মেঘাবৃত্তম্
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) মেঘাচ্ছন্নম্ আকাশম্

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি ― “আকাশ মেঘাচ্ছন্ন”। এখানে —
“আকাশ” → বিষয় বা কর্তা নয়, এটি বিষয়বাচক পদ → নপুংসকলিঙ্গ, একবচন, প্রথমা বিভক্তি → আকাশম্
“মেঘাচ্ছন্নম্” → মেঘ + আচ্ছন্ন (মেঘ দ্বারা আচ্ছাদিত) → এটি একটি কৃদন্ত বিশেষণ পদ (past participle adjective)।
এখানে আচ্ছাদিত বা ঢাকা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অতএব, বাক্যটির সংস্কৃত অনুবাদ হবে: মেঘাচ্ছন্নম্ আকাশম্

রেফারেন্স:
অমরকোষ ও পাণিনীয় ব্যাকরণ অনুযায়ী “আচ্ছাদ্ ধাতু” থেকে কৃদন্ত “আচ্ছন্ন” হয়, যার অর্থ “ঢাকা” বা “আবৃত”।

৪৩.
"শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম" শ্লোকাংশটি গীতার কোন অধ্যায়ে উল্লেখ আছে?
  1. ৪র্থ অধ্যায়
  2. ৭ম অধ্যায়
  3. ১০ম অধ্যায়
  4. ৯ম অধ্যায়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) ৪র্থ অধ্যায়

-শ্লোকাংশ: (শ্রদ্ধাবান্ লভতে জ্ঞানম্)
এটি ভগবদ্‌গীতা–র চতুর্থ অধ্যায় (জ্ঞান–কর্ম–সন্ন্যাস যোগ)–এর ৩৯তম শ্লোকের অংশ।

-পূর্ণ শ্লোক:
> श्रद्धावान् लभते ज्ञानं तत्परः संयतेन्द्रियः।
ज्ञानं लब्ध्वा परां शान्तिमचिरेणाधिगच्छति॥
(ভগবদ্গীতা ৪.৩৯)

বাংলা অনুবাদ:
যিনি শ্রদ্ধাশীল, একনিষ্ঠ এবং ইন্দ্রিয়সংযমী — তিনি জ্ঞান লাভ করেন; আর সেই জ্ঞান প্রাপ্ত হয়ে তিনি শীঘ্রই পরম শান্তি অর্জন করেন।

ব্যাখ্যা: 
“শ্রদ্ধাবান— অর্থাৎ যে ব্যক্তি বিশ্বাসী ও ভক্তি–পরায়ণ, লভতে জ্ঞানম্— সে প্রকৃত আত্ম–জ্ঞান অর্জন করে।
এই শ্লোকের মাধ্যমে শ্রীকৃষ্ণ বোঝাতে চেয়েছেন যে, জ্ঞানলাভের মূল শর্ত হচ্ছে শ্রদ্ধা, একাগ্রতা ও ইন্দ্রিয়–সংযম।
অতএব, জ্ঞান কেবল বুদ্ধিবৃত্তির ফল নয়, বরং শ্রদ্ধা ও সাধনার ফসল।

রেফারেন্স
শ্লোকাংশ: “শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম্”
উৎস: ভগবদ্‌গীতা
অধ্যায়: চতুর্থ (জ্ঞান–কর্ম–সন্ন্যাস যোগ)
শ্লোক নম্বর: ৩৯
মূল ভাব: শ্রদ্ধাশীল ব্যক্তি জ্ঞানলাভে সক্ষম এবং শান্তি অর্জন করে। 

৪৪.
রাজা উদয়নের মন্ত্রীর নাম কি ছিল?
  1. রুমথান
  2. যৌগন্ধরায়ন
  3. বিদুষক
  4. সঞ্জয়
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) যৌগন্ধরায়ন

ব্যাখ্যা:
রাজা উদয়ন ছিলেন ভাস রচিত ও ভারতীয় নাট্যধারার অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাটক “স্বপ্নবাসবদত্তম্”–এর প্রধান চরিত্র। এই নাটকে উদয়নের বিশ্বস্ত ও জ্ঞানী মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি হলেন যৌগন্ধরায়ন (Yaugandharāyaṇa)। তিনি ছিলেন অত্যন্ত কূটনীতিবিদ, বুদ্ধিমান ও দূরদর্শী, যিনি রাজা উদয়নকে রাজ্য ও ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

রেফারেন্স:
ভাস রচিত “স্বপ্নবাসবদত্তম্” নাটকের প্রথম অঙ্কেই যৌগন্ধরায়নের উল্লেখ পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, রাজা উদয়ন বন্দী অবস্থায় আছেন এবং তাঁর মুক্তির পরিকল্পনা যৌগন্ধরায়নই করেন। ভাস নাটক সংগ্রহ ও সংস্কৃত সাহিত্য ইতিহাস (কৃষ্ণমূর্ত্তি, ১৯৮৩)–তেও উল্লেখ আছে যে, রাজা উদয়নের মন্ত্রীর নাম ছিল যৌগন্ধরায়ন।

সারসংক্ষেপ:
নাটক: স্বপ্নবাসবদত্তম্
রচয়িতা: ভাস
রাজা: উদয়ন
মন্ত্রী: যৌগন্ধরায়ন
গুণ: বুদ্ধিমান, চতুর, রাজনীতিবিদ ও রাজভক্ত
মূল ভূমিকা: উদয়নের মুক্তি ও রাজ্য পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনাকারী

৪৫.
অহিংসা শ্রেষ্ঠ ধর্ম- এর সংস্কৃত অনুবাদ কি?
  1. অহিংসা বৃহৎ ধর্মঃ
  2. অহিংসাহি পরম ধর্মঃ
  3. অহিংসা পরমো ধর্মঃ
  4. অহিসাং পরা ধর্মঃ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) অহিংসা পরমো ধর্মঃ

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি — “অহিংসা শ্রেষ্ঠ ধর্ম” — সংস্কৃত ভাষায় অনুবাদ করলে হয়  'অহিংসা পরমো ধর্মঃ'

এখানে—
অহিংসা= প্রাণী বা জীবের প্রতি হিংসা না করা, অনাক্রমণ, করুণা
পরমঃ = শ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম
ধর্ম= নীতি, কর্তব্য, ধর্ম

অতএব, অহিংসা পরমো ধর্মঃ অর্থাৎ “অহিংসাই সর্বোত্তম ধর্ম” বা “অহিংসা শ্রেষ্ঠ ধর্ম” — এটি ব্যাকরণগতভাবে এবং অর্থগতভাবে সম্পূর্ণ সঠিক অনুবাদ।

রেফারেন্স:
এই বিখ্যাত শ্লোকাংশটি পাওয়া যায়— মহাভারত, অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১১৬, শ্লোক ৩৮:

৪৬.
শ্রীম্ভগবদ্গীতা শব্দের অর্থ কি?
  1. ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা কথিত
  2. ভগবান কর্তৃক গীত
  3. ভগবানের সংকেত
  4. ভগবান ও অর্জুনের প্রশ্নোত্তর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ভগবান কর্তৃক গীত

ব্যাখ্যা:
“শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা” শব্দটি একটি সমাসবদ্ধ শব্দ, যা গঠিত হয়েছে — শ্রীমৎ + ভগবৎ + গীতা এই তিনটি অংশে।
এখানে —
শ্রীমৎ (श्रीमत्) = শ্রদ্ধেয়, মহিমান্বিত, গৌরবময়।
ভগবৎ (भगवत्) = ভগবান বা ঈশ্বর।
গীতা (गीता) = গীত বা বলা কথা (√গৈ = গাইতে, বলা থেকে)।

অতএব, “শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা” শব্দের অর্থ দাঁড়ায় — “ভগবান কর্তৃক গীত বা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী”।

রেফারেন্স:
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা মহাভারতের অংশ, বিশেষত ভীষ্মপর্ব (২৫ থেকে ৪২ অধ্যায়)–এর অন্তর্গত।

গীতার সূচনা শ্লোকে বলা হয়েছে—

> “श्रीभगवानुवाच” — “শ্রীভগবান বলিলেন।”
এই বাক্যটি প্রায় প্রতিটি অধ্যায়ের সূচনাতে ব্যবহৃত হয়েছে, যা প্রমাণ করে যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণই এর বক্তা। তাই ‘গীতা’ মানে ‘গাওয়া’ বা ‘বলা’ এবং ‘ভগবদ্‌গীতা’ মানে ‘ভগবানের গীত’।

৪৭.
বৈদিক যুগে সমাজের ভিত্তি কি ছিল?
  1. রাষ্ট্র
  2. সম্প্রদায়
  3. ঘরবাড়ি
  4. পরিবার
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) পরিবার

ব্যাখ্যা: 
বৈদিক যুগে সমাজের ভিত্তি ছিল “পরিবার” বা “কুল”।
বৈদিক সমাজব্যবস্থায় রাষ্ট্র বা সংগঠিত শাসনব্যবস্থা তখনও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। সমাজের মূল একক ছিল পরিবার, যা পিতা বা গৃহস্বামী কর্তৃক পরিচালিত হতো।

এই পরিবারকে বলা হতো “গৃহ”, এবং পরিবারের কর্তা ছিলেন “গৃহপতি”। গৃহপতিই ছিলেন পরিবারের ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্তা।বৈদিক সমাজে গৃহই ছিল ধর্ম, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক জীবনের কেন্দ্রবিন্দু। 

রেফারেন্স:
1. ঋগ্বেদ-এর বহু সূক্তে “গৃহ”, “গৃহপতি”, “দম্পতি” ইত্যাদি শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে— > ঋগ্বেদ (১০.৮৫.২৬):
“গৃহং গচ্ছ স্বগৃহং হি তে।”
অর্থাৎ — “তুমি তোমার গৃহে যাও, গৃহই তোমার স্থান।”
এতে পরিবারকেন্দ্রিক জীবনের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়।

2. ‘ঋগ্বেদ সমাজতত্ত্ব’ (রাধাগোবিন্দ বসু)–তে উল্লেখ আছে যে— > “বৈদিক সমাজ ছিল গৃহনির্ভর সমাজ; গৃহই ছিল সমাজের মূল একক।”

3. ‘Indian Social Institutions’ (R.C. Majumdar, 1951) গ্রন্থেও বলা হয়েছে: > “The Vedic society was based on the patriarchal family system, not on political units.”

৪৮.
শ্রীমদ্ভগবদগীতা মহাভারতের কোন পর্বের অন্তর্গত?
  1. শান্তিপর্ব
  2. দ্রোন পর্ব
  3. স্ত্রীপর্ব
  4. ভীষ্মপর্ব
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) ভীষ্মপর্ব

ব্যাখ্যা:
শ্রীমদ্ভগবদগীতা মহাভারতের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা “ভীষ্মপর্ব”-এর অন্তর্গত।
মহাভারতের মোট ১৮টি পর্ব (Parva) আছে, এবং গীতা অবস্থিত ভীষ্মপর্বের ২৫তম থেকে ৪২তম অধ্যায় পর্যন্ত (মোট ১৮ অধ্যায়)। 

এখানে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সূচনায় অর্জুনের মানসিক সংকট ও ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ এই গ্রন্থের মূল বিষয়। এই পর্বেই শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কর্ম, জ্ঞান, ভক্তি ও যোগের মর্ম ব্যাখ্যা করেছেন, যা পরবর্তীতে শ্রীমদ্ভগবদগীতা নামে পৃথকভাবে পরিচিতি পায়।

রেফারেন্স:
1. মহাভারত, ভীষ্মপর্ব, অধ্যায় ২৫–৪২ (শ্লোক সংখ্যা প্রায় ৭০০): > “धृतराष्ट्र उवाच — धर्मक्षेत्रे कुरुक्षेत्रे...” (গীতার প্রথম শ্লোক)
এই শ্লোক থেকেই গীতার সূচনা, যা স্পষ্টভাবে ভীষ্মপর্বের অংশ।

2. “The Mahabharata” (K.M. Ganguli Translation, Book 6 – Bhishma Parva) তে বলা হয়েছে — > “The Bhagavad Gita forms part of the Bhishma Parva of the Mahabharata, beginning with chapter 25 and ending with chapter 42.”

3. স্বামী শিবানন্দ, গীতা ব্যাখ্যা (Divine Life Society, 1936) অনুযায়ী —> “শ্রীমদ্ভগবদগীতা মহাভারতের ষষ্ঠ পর্ব অর্থাৎ ভীষ্মপর্বের অন্তর্ভুক্ত।”

৪৯.
পঞ্চতন্ত্র কে রচনা করেন?
  1. মাঘ
  2. ভাস
  3. বিষ্ণুশর্মা
  4. রাজশেখর বসু
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) বিষ্ণুশর্মা

ব্যাখ্যা:
‘পঞ্চতন্ত্র’ (Panchatantra) প্রাচীন ভারতের এক অমূল্য নীতিগ্রন্থ ও নীতিকথার সংকলন। এর রচয়িতা হলেন আচার্য বিষ্ণুশর্মা (Viṣṇuśarma)। বলা হয়ে থাকে, রাজা অমরশক্তি-র তিন মূর্খ পুত্রকে শিক্ষিত ও জ্ঞানী করে তোলার জন্য বিষ্ণুশর্মা এই গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি গল্প ও উপকথার মাধ্যমে রাজনীতি, নীতি, বুদ্ধি, কৌশল ও নৈতিক শিক্ষা প্রদান করেছেন।

রেফারেন্স:
1. পঞ্চতন্ত্র – ভূমিকা (সংস্কৃত মূলগ্রন্থ) > “राज्ञा अमरशक्तिना त्रीन् पुत्रान् शिक्षयितुं विष्णुशर्मा नीतिशास्त्रं रचितवान्।”
(বাংলা অনুবাদ: রাজা অমরশক্তির তিন পুত্রকে শিক্ষাদানের জন্য বিষ্ণুশর্মা নীতিশাস্ত্র রচনা করেন।)
2. Arthur W. Ryder, The Panchatantra (University of Chicago Press, 1925): > “The Panchatantra was written by the learned Brahmin Vishnusharma to instruct the foolish princes in the art of practical wisdom.”
3. সংস্কৃত সাহিত্য ইতিহাস (সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়): > “নীতিগ্রন্থ সাহিত্যে বিষ্ণুশর্মা প্রণীত ‘পঞ্চতন্ত্র’ অমর সৃষ্টি।”

৫০.
কিরাতার্জুনীয়ম মহাকাব্যটি কতটি সর্গে বিভক্ত?
  1. ২০টি
  2. ১৫টি
  3. ১৭টি
  4. ১৮টি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ১৮টি সর্গে বিভক্ত

ব্যাখ্যা:
‘কিরাতার্জনীয়ম্’ (Kirātārjunīyam) প্রাচীন ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংস্কৃত মহাকাব্য, যার রচয়িতা ভারতীহরি বংশীয় মহাকবি ভারতীন্দু ভর্তৃহরির ভ্রাতা মহাকবি ভারতী কালীদাস-পরবর্তী কবি ভারতী ভট্টি (ভারবী)। এটি মহাভারতের বনপর্ব থেকে গৃহীত একটি বিখ্যাত ঘটনা —
যেখানে অর্জুন তপস্যার মাধ্যমে মহাদেবের (কিরাত রূপে) থেকে পাশুপত অস্ত্র লাভ করেন।

 রচনাবিন্যাস:
‘কিরাতার্জনীয়ম্’ মহাকাব্যটি মোট ১৭টি সর্গে বিভক্ত।
প্রতিটি সর্গে অর্জুনের তপস্যা, মহাদেবের কিরাত রূপধারণ, যুদ্ধ ও শেষ পর্যন্ত আশীর্বাদ — এই ধারাবাহিক কাহিনি বর্ণিত হয়েছে।

রেফারেন্স:
1. ভারবি – কিরাতার্জনীয়ম্ (সংস্কৃত মূল): (বাংলা অনুবাদ: ‘কিরাতার্জনীয়ম্’ নামক মহাকাব্যটি ১৭টি সর্গে সমাপ্ত।)

2. A History of Sanskrit Literature – by Arthur A. Macdonell (1910): > “The Kiratarjuniya of Bharavi, consisting of seventeen cantos, describes the combat between Arjuna and Shiva in the guise of a Kirata.”
3. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, সংস্কৃত সাহিত্য ইতিহাস: > “ভারবীর ‘কিরাতার্জনীয়’ ১৭ সর্গে বিভক্ত এক অনন্য মহাকাব্য, যেখানে শক্তিশালী ভাষা ও গাম্ভীর্যপূর্ণ কাব্যরীতি দেখা যায়।”

৫১.
মহাভারতের মোট শ্লোকসংখ্যা কতটি?
  1. ৭০০ টি 
  2. ১৮০০ টি
  3. ১০০০০০ টি
  4. ২৪০০০ টি
ব্যাখ্যা

মহাভারত একটি প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য, যার রচয়িতা মহর্ষি ব্যাস। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ মহাকাব্য হিসেবে পরিচিত। পুরো মহাভারতে প্রায় ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) শ্লোক বা প্রায় ২,০০,০০০ পদ্যপঙ্‌ক্তি রয়েছে, যা ১৮টি পর্বে বিভক্ত। এতে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ, ধর্ম, ন্যায়, রাজনীতি ও মানবজীবনের নানা দিকের বিস্তারিত বর্ণনা আছে। মহাভারত শুধু ধর্মগ্রন্থ নয়, এটি ভারতীয় ইতিহাস, দর্শন ও সংস্কৃতিরও এক মহামূল্যবান দলিল।

রেফারেন্স:

মহর্ষি ব্যাস রচিত মহাভারত
The Mahabharata (Critical Edition, Bhandarkar Oriental Research Institute, Pune)

৫২.
অশ্বঘোষ কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. হিন্দুধর্ম
  2. জৈনধর্ম
  3. বৌদ্ধধর্ম
  4. মানবধর্ম
ব্যাখ্যা

অশ্বঘোষ ছিলেন প্রাচীন ভারতের একজন বিখ্যাত কবি, নাট্যকার ও দার্শনিক। তিনি বৌদ্ধধর্মের অনুসারী ছিলেন এবং মহাযান বৌদ্ধধর্মের অন্যতম প্রধান প্রচারক হিসেবে পরিচিত। তাঁর রচিত “বুদ্ধচরিত” মহাকাব্যটি বুদ্ধের জীবনীমূলক কাব্য হিসেবে বিশেষভাবে প্রসিদ্ধ। এছাড়াও তিনি সৌন্দরানন্দ ও সারিপুত্রপ্রকরন নামক গ্রন্থও রচনা করেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম বৌদ্ধ ধর্মের দর্শন ও নীতির প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

 রেফারেন্স:

Buddhacharita by Ashvaghosha
Encyclopaedia Britannica: Entry on “Ashvaghosha”

৫৩.
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দশম অধ্যায়ের নাম কি?
  1. জ্ঞানযোগ 
  2. বিভূতিযোগ 
  3. অভ্যাসযোগ 
  4. সাংখ্যযোগ
ব্যাখ্যা

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার দশম অধ্যায়ের নাম “বিভূতিযোগ”।
এই অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ঐশ্বর্য, মহিমা ও বিশ্বজগতে বিরাজমান নানা বিভূতির (দিব্য প্রকাশ) বর্ণনা করেছেন। তিনি অর্জুনকে জানান যে, সৃষ্টির প্রতিটি মহত্ত্ব, শক্তি ও সৌন্দর্যের মধ্যে তাঁরই এক অংশ বিরাজমান। এই অধ্যায়ের মূল উদ্দেশ্য হলো ভক্তদের মধ্যে ঈশ্বরের সর্বব্যাপী রূপ সম্পর্কে জ্ঞান ও ভক্তি জাগ্রত করা।

রেফারেন্স:

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, অধ্যায় ১০ — “বিভূতিযোগ”
Bhagavad Gita (Chapter 10: Vibhuti Yoga – The Yoga of Divine Glories)

৫৪.
স্বপ্নবাসবদত্তম নাটকটি কোন ধরনের?
  1. বিরহাত্বক 
  2. মিলনান্তক 
  3. আধুনিক 
  4. পৌরাণিক
ব্যাখ্যা

“স্বপ্নবাসবদত্তম” নাটকটি প্রাচীন সংস্কৃত কবি ভাস রচিত একটি প্রসিদ্ধ নাটক। এটি একটি মিলনান্তক (অর্থাৎ শেষে নায়ক-নায়িকার মিলন ঘটে এমন) নাটক। নাটকটির কাহিনি ভিত্তি পেয়েছে রাজা উদয়ন ও রাণী বাসবদত্তার প্রেমকাহিনি থেকে। এতে রাজনীতি, প্রেম, কূটনীতি ও মানবিক আবেগের সুন্দর সংমিশ্রণ দেখা যায়। নাটকের শেষে উদয়ন ও বাসবদত্তার পুনর্মিলনে নাটকটি সুখান্ত হয়, যা একে মিলনান্তক নাটকের শ্রেণিতে স্থান দিয়েছে।

রেফারেন্স:

ভাস রচিত স্বপ্নবাসবদত্তম
A History of Sanskrit Literature – A. B. Keith

৫৫.
বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি - এর সংস্কৃত অনুবাদ কি?
  1. বাংলাদেশঃ অস্মাকং মাতৃভূমিঃ
  2. বাংলাদেশঃ অস্মাভ্য মাতৃভূমিঃ
  3. বাংলাদেশস্য অস্মাকং জন্মভূমিঃ 
  4. বাংলাদেশাৎ অস্মাৎ মাতৃভূমি
ব্যাখ্যা

সংস্কৃতে —

বাংলাদেশঃ = বাংলাদেশ (Bangladesh)
অস্মাকং = আমাদের (our)
মাতৃভূমিঃ = মাতৃভূমি বা জন্মভূমি (motherland)
অতএব, “বাংলাদেশঃ অস্মাকং মাতৃভূমিঃ” — এর অর্থ হয় “বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি।”

?রেফারেন্স:

Samskrita Bharati – Basic Sanskrit Grammar Guide
Apte Sanskrit Dictionary

৫৬.
"মন্দাক্রান্তা" ছন্দে রচিত কাব্য কোনটি?
  1. রঘুবংশম
  2. রাজতরঙ্গিনী
  3. মেঘদূতম্‌
  4. সকসপ্ততিকথা
ব্যাখ্যা

মেঘদূতম্‌” কবিতা বা খণ্ডকাব্যটি মহান সংস্কৃত কবি কালিদাস রচিত। এটি তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্য, যা “মন্দাক্রান্তা” ছন্দে রচিত। এই ছন্দটি ধীর, কোমল এবং সুরেলা গতির জন্য বিখ্যাত, যা প্রেম ও বিরহের ভাব প্রকাশে অত্যন্ত উপযুক্ত।
“মেঘদূতম্‌”-এ এক নির্বাসিত যক্ষ তার প্রিয় স্ত্রীকে বার্তা পাঠায় একটি মেঘের মাধ্যমে—এই করুণ কিন্তু কাব্যময় ভাবনাই কাব্যটির মূল বিষয়।

রেফারেন্স:

কালিদাস রচিত মেঘদূতম্‌
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৫৭.
গদ্যসাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোন বেদে পাওয়া যায়?
  1. ঋগ্বেদে
  2. যজুর্বেদে
  3. সামবেদে
  4. ধনুর্বেদে
ব্যাখ্যা

ঋগ্বেদ হল প্রাচীনতম বেদ, যা মূলত সংস্কৃত গদ্য ও ছন্দবদ্ধ স্তোত্র নিয়ে গঠিত। এতে প্রধানত দেবতা এবং প্রকৃতির প্রতি স্তোত্র ও প্রার্থনা রয়েছে। গদ্যসাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে ঋগ্বেদকে গণনা করা হয়, কারণ এতে বিভিন্ন ভক্তিমূলক, দার্শনিক ও সামাজিক বক্তব্য রয়েছে, যা পরবর্তীকালে গদ্য ও সাহিত্যিক রচনার ভিত্তি স্থাপন করে।

রেফারেন্স:

Rigveda Samhita – Translation and Commentary by Ralph T.H. Griffith
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৫৮.
অনসূয়া শব্দের অর্থ কি?
  1. যাঁর হিংসা নেই
  2. যাঁর লজ্জা নেই
  3. যাঁর চপলতা নেই
  4. যাঁর অর্থ নেই
ব্যাখ্যা

“অনসূয়া” শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে, যেখানে—

অন্ = নেই
সুয়া = ঈর্ষা বা হিংসা
অতএব, অনসূয়া অর্থ “যাঁর মধ্যে হিংসা বা ঈর্ষা নেই”। এটি সাধারণত একজন সহিষ্ণু, উদার ও নিরীহ ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।

রেফারেন্স:

Apte Sanskrit-English Dictionary
Sanskrit Grammar and Vocabulary – V. S. Apte

৫৯.
ষত্ব বিধানের উদাহরণ কোনটি?
  1. সুমন্ত
  2. সুষমঃ
  3. উষ্মা
  4. লবণ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর:  খ) সুষমঃ

ব্যাখ্যা:
ষত্ব বিধান (Sattva Vidhana) হলো সংস্কৃত ব্যাকরণে এমন একটি নিয়ম, যেখানে পদার্থ বা গুণের নাম পদার্থের গুণ বা স্বভাব অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।

উদাহরণ হিসেবে সুষমঃ → সম (সমতা, সমান) + ম (পদার্থের বৈশিষ্ট্য) = সমতার বৈশিষ্ট্যযুক্ত পদার্থ।
এটি ষত্ব বিধানের অনুকরণে গঠিত শব্দ।
অন্য বিকল্পগুলো যেমন লবণ, সুমন্ত, উষ্মা সরাসরি ষত্ব বিধানের উদাহরণ নয়।
রেফারেন্স:

Sanskrit Grammar (Vyakaran) – Panini
A Sanskrit Grammar for Students – Arthur A. Macdonell

৬০.
কার বিরহদশা উপজীব্য করে মেঘদূত কাব্য রচিত?
  1. যক্ষপত্নীর
  2. কুরুপত্নীর
  3. দময়ন্তীর
  4. অলকাপুরীর
ব্যাখ্যা

কালিদাসের “মেঘদূত” কাব্যটি মূলত এক যক্ষের দুঃখ এবং প্রিয় স্ত্রী (যক্ষপত্নী) এর প্রতি তার বিরহের আবেগ উপজীব্য করে রচিত। কাহিনিতে যক্ষটি নিষিদ্ধ হয়ে নির্বাসিত হয়েছে এবং সে তার প্রিয় স্ত্রীকে বার্তা পাঠানোর জন্য একটি মেঘকে দূত হিসেবে প্রেরণ করে। মেঘদূতের করুণ কিন্তু প্রেমময় ভাবনাই কাব্যটির প্রধান আকর্ষণ।

রেফারেন্স:

কালিদাস, মেঘদূত
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৬১.
'মেঘদূতম' কাব্যে মেঘের গতিপথ কোনটি?
  1. অলকা থেকে রামগিরি
  2. কাশ্মীর থেকে পাঞ্জাব
  3. হরিয়ানা থেকে দিল্লী
  4. রামগিরি থেকে অলকা
ব্যাখ্যা

কালিদাসের “মেঘদূত” কাব্যে যক্ষ প্রিয় স্ত্রীকে বার্তা পাঠানোর জন্য একটি মেঘকে দূত হিসেবে প্রেরণ করে। কাব্যের বর্ণনা অনুযায়ী, মেঘটি রামগিরি থেকে অলকা পর্যন্ত যাত্রা করবে। এখানে রামগিরি হলো যক্ষের নির্বাসনস্থল এবং অলকা হলো তার প্রিয় স্ত্রীর বাসস্থান। মেঘের এই যাত্রা পুরো কাব্যজুড়ে সুন্দর দৃশ্য ও প্রাকৃতিক বর্ণনার মাধ্যমে চিত্রিত হয়েছে।

রেফারেন্স:

কালিদাস, মেঘদূত
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৬২.
আতের ত্রাণ কর- এর সংস্কৃত অনুবাদ কি?
  1. আর্তানাস্য সেবায়
  2. আর্তানাং ত্রানং কুরু
  3. আর্তস্য ত্রানায় কুরু
  4. আর্তস্য ত্রানং কুরু
ব্যাখ্যা

আর্ত = দুঃখিত, কষ্টগ্রস্ত ব্যক্তি
স্য /স্যং = এর জন্য
ত্রানং /ত্রনং = ত্রাণ, সাহায্য
কুরু = করো
অতএব, “আর্তস্য ত্রাণং কুরু” অর্থ হলো “দুঃখিত বা কষ্টগ্রস্ত ব্যক্তির ত্রাণ কর।”

রেফারেন্স:

Apte Sanskrit-English Dictionary
Sanskrit Grammar and Vocabulary – V. S. Apte

৬৩.
শার্দুলবিক্রীড়িত ছন্দের অর্থ কি?
  1. তরঙ্গের মত গতি
  2. সিংহের লাফের মত গতি
  3. হরিণের দৌড়ের মত গতি
  4. হাতির পদচারণের মত গতি
ব্যাখ্যা

শার্দুলবিক্রীড়িত একটি সংস্কৃত ছন্দ, যা মূলত মহাকাব্য বা কবিতায় ব্যবহৃত হয়।

“শার্দুল” = সিংহ
“বিক্রীড়িত” = লাফানো বা ক্রীড়া করা
অতএব, শার্দুলবিক্রীড়িত ছন্দের গতি সিংহের লাফের মতো তেজস্বী ও শক্তিশালী, যা কবিতায় শক্তি, তেজ এবং দৃঢ়তা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।

রেফারেন্স:

A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell
Sanskrit Prosody (Chandas) Studies

৬৪.
প্রধান পুরাণ মোট কতটি? 
  1. ১২ খানা
  2. ১৮ খানা
  3. ৮১ খানা
  4. ২৪ খানা
ব্যাখ্যা

হিন্দু ধর্মে প্রধান ১৮টি পুরাণ প্রচলিত। এগুলোকে মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত করা হয়:

সৈব পুরাণ – ভগবান শিবের উপাসনার ওপর ভিত্তি করে।
বৈষ্ণব পুরাণ – ভগবান বিষ্ণুর উপাসনার ওপর ভিত্তি করে।
শাক্ত পুরাণ – দেবী শক্তির উপাসনার ওপর ভিত্তি করে।
এই ১৮টি পুরাণ হলো ধর্ম, নৈতিকতা, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং জ্যোতিষশাস্ত্রসহ নানা বিষয়ের সমৃদ্ধ উৎস।

রেফারেন্স:

Encyclopaedia of Hinduism – Constance A. Jones
The Puranas – Ludo Rocher

৬৫.
দিনরাত পূণ্য অর্জন কর- এর সংস্কৃত অনুবাদ কি?
  1. দিবারাত্র পূণ্য অর্জয়
  2. অহোরাত্র পূণ্যম্ অর্জয়
  3. প্রতিদিন পূণ্য অর্জনম্
  4. দিনং দিনং পূণ্য আহরতি
ব্যাখ্যা

অহঃ = দিন
রাত্রি = রাত
পূণ্যম্ = পুণ্য, ধর্মসাধনা
অর্জয় = অর্জন করো
অতএব, “অহোরাত্র পূণ্যম্ অর্জয়” অর্থ হলো “দিনরাত পুণ্য অর্জন করো।” এটি নিয়মিত ধর্মচর্চা ও নৈতিক আচরণের জন্য নির্দেশমূলক বাক্য।

রেফারেন্স:

Apte Sanskrit-English Dictionary
Sanskrit Grammar and Vocabulary – V. S. Apte

৬৬.
নিচের কোনটি ঐতিহাসিক কাব্য?
  1. চৌরপঞ্চাশিকা
  2. সদুক্তিকর্ণামৃত
  3. উত্তররামচরিতম্
  4. রাজতরঙ্গিনী
ব্যাখ্যা

“রাজতরঙ্গিনী” (Rājataraṅgiṇī) হলো প্রাচীন ভারতের কাশ্মীরের ইতিহাসবর্ণনামূলক কাব্য, যা কালহাণ্ড (Kalhana) রচিত। এটি কাশ্মীরের রাজাদের ইতিহাস, রাজনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতির বর্ণনা দেয়। ঐতিহাসিক কাব্য হিসেবে এটিকে প্রধান গুরুত্ব দেওয়া হয়, কারণ এতে কাব্যরচনার সঙ্গে ইতিহাস সংরক্ষিত হয়েছে।

অন্যর ব্যাখ্যা:

চৌরপঞ্চাশিকা, সদুক্তিকর্ণামৃত, উত্তররামচরিতম্ — এগুলো প্রধানত প্রেম, নীতি বা পুরাণমূলক কাব্য।

রেফারেন্স:

Kalhana, Rājataraṅgiṇī
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৬৭.
শ্রীভাগবতম্ এর কোন স্কন্ধে রাসলীলা বর্ণিত হয়েছে?
  1. দ্বাদশ
  2. দশম
  3. নবম
  4. একাদশ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ✅ খ) দশম স্কন্ধ

ব্যাখ্যা:
শ্রীমদ্ভাগবতের দশম স্কন্ধে শ্রীকৃষ্ণের জন্ম, বাল্যলীলা, বৃন্দাবনের বিভিন্ন অলৌকিক কাহিনি এবং বিশেষ করে গোপীগণের সঙ্গে তাঁর অতিপবিত্র রাসলীলা বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।
রাসলীলার বিবরণ পাওয়া যায় দশম স্কন্ধের ২৯তম থেকে ৩৩তম অধ্যায়ে, যেখানে কৃষ্ণের বাঁশির সুরে আকৃষ্ট হয়ে গোপীরা রাত্রিতে তাঁর সঙ্গে মিলিত হন এবং ঈশ্বরপ্রেমের অতীন্দ্রিয় আনন্দ অনুভব করেন।
এই লীলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভক্তি, আত্মসমর্পণ ও ঈশ্বরপ্রেমের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ করা।
রেফারেন্স: শ্রীমদ্ভাগবত মহাপুরাণ, দশম স্কন্ধ, অধ্যায় ২৯–৩৩ (রাসপঞ্চাধ্যায়ী)

৬৮.
শকুন্তলা নাটকের উৎস কি?
  1. পদ্মপুরান ও মহাভারত
  2. বৃহৎকথা
  3. বেতালপঞ্চবিংশতি
  4. শুকসপ্ততিকথা
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: কালিদাসের ‘অভিজ্ঞান শকুন্তলম্’ নাটকের উৎস – মহাভারত ও অন্যান্য সংস্কৃত উপাখ্যান।

ব্যাখ্যা:
কালিদাসের ‘অভিজ্ঞানশকুন্তলম্’ নাটকটি মূলত মহাভারতের বনপর্বের একটি অংশ থেকে অনুপ্রাণিত। মহাভারতের কাহিনীতে দুষ্যন্ত-শকুন্তলা সম্পর্কের উল্লেখ রয়েছে, যা কালিদাস নাট্যরূপে প্রাঞ্জল ও অলঙ্কৃতভাবে রূপান্তরিত করেছেন। এছাড়া, পৌরাণিক ও খ্যাত সংস্কৃত উপাখ্যানগুলিও কালিদাসের নাটকের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। নাটকে কেবল প্রেমকাহিনী নয়, বরং রাজনীতি, সৌন্দর্য, নৈতিকতা ও সামাজিক আদর্শও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

রেফারেন্স:
1. M. R. Kale (Ed.), Abhijñānaśākuntalam of Kālidāsa, Motilal Banarsidass, Delhi
2. Arthur W. Ryder, The Recognition of Shakuntala, 1912
3. রাধা কুমারী, সংস্কৃত নাট্যসাহিত্য ইতিহাস, 1990

৬৯.
ছাত্রানাম অধ্যয়নং তপঃ - বাক্যটির সঠিক অনুবাদ নিচের কোনটি? 
  1. তপস্যাই অধ্যয়ন
  2. ছাত্রদের তপস্যা করা উচিত
  3. ছাত্রদের অধ্যয়নই তপস্যা
  4. অধ্যয়ন করলে তপস্যা হয়
ব্যাখ্যা

ছাত্রানাম = ছাত্রদের
অধ্যয়নং = অধ্যয়ন
তপঃ = তপস্যা, আধ্যাত্মিক প্রচেষ্টা
অতএব, বাক্য “ছাত্রানাম অধ্যয়নং তপঃ” অর্থ “ছাত্রদের জন্য অধ্যয়নই তপস্যা” বা “শিক্ষা গ্রহণ করাই তাদের তপস্যা”। এখানে শিক্ষা গ্রহণকে আধ্যাত্মিক প্রচেষ্টার সমতুল্য বলা হয়েছে।

রেফারেন্স:

Apte Sanskrit-English Dictionary
Sanskrit Grammar and Vocabulary – V. S. Apte 

৭০.
বিধ্যাহীলোক পশুর সমান- এর অনুবাদ কোনটি?
  1. বিদ্যাহীনাঃ পশুস্য সমানা
  2. বিদ্যাহীনঃ পশুঃ সমানঃ
  3. বিদ্যাহীনাঃ পশুভিঃ সমানাঃ
  4. বিদ্যাহীনয়া পশুস্য সমানঃ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ✅ গ) বিদ্যাহীনাঃ পশুভিঃ সমানাঃ

ব্যাখ্যা:

এই নীতিবাক্যটির অর্থ —
 “যে ব্যক্তি শিক্ষাহীন, সে পশুর সমান।”

সংস্কৃত বাক্যটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় —

 বিদ্যাহীনাঃ= যাদের বিদ্যা নেই / অশিক্ষিত ব্যক্তি

 পশুভিঃ = পশুদের সঙ্গে (তৃতীয়া-বিভক্তি, ‘সঙ্গে’ অর্থে)

 সমানাঃ = সমান, অর্থাৎ তুল্য


অতএব, বাক্যের সম্পূর্ণ অর্থ দাঁড়ায় —

> “যারা বিদ্যাহীন, তারা পশুদের সঙ্গে সমান।”
অর্থাৎ — বিদ্যা ছাড়া মানুষও পশুর মতোই আচরণ করে; বিদ্যা মানুষকে পশু থেকে আলাদা করে।

রেফারেন্স:

এই নীতিবাক্যটি পাওয়া যায় চাণক্য নীতি (Chanakya Nīti) গ্রন্থে, যেখানে বলা হয়েছে —

> “विद्या हीनः पशुभिः समानः।”
(চাণক্য নীতি, অধ্যায় ৮, শ্লোক ১৬)

অর্থাৎ — যে বিদ্যাহীন, সে পশুর সমান।

৭১.
অক্ষরবৃত্ত ছন্দ কত প্রকার?
  1. দুইপ্রকার
  2. তিনপ্রকার
  3. চারপ্রকার
  4. পাঁচপ্রকার
ব্যাখ্যা

অক্ষরবৃত্ত ছন্দ (Akṣarabṛtta Chandas) হল সংস্কৃত কাব্যচর্চায় ব্যবহৃত একটি ছন্দপদ্ধতি, যা মূলত অক্ষরের সংখ্যার ভিত্তিতে গঠিত।

এটি তিন প্রকারে বিভক্ত:
একস্বরবৃত্ত – প্রতি পংক্তিতে একই সংখ্যক অক্ষর থাকে।
দ্বিস্বরবৃত্ত – প্রতি পংক্তিতে দুই ধরনের অক্ষর সংখ্যা থাকে।
বহুস্বরবৃত্ত – পংক্তির অক্ষর সংখ্যা পরিবর্তনশীল হয়, তবে ছন্দের নিয়ম মেনে।
রেফারেন্স:

Sanskrit Prosody (Chandas) Studies – P. V. Kane
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৭২.
কোনটি সঠিক?
  1. উৎ+ছাস=উচ্ছাস
  2. উৎ+ শ্বাস-উচ্ছ্বাস
  3. উৎ+শাস=উৎশাস
  4. উছ+শাস=উচ্ছ্বাস
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত বা বাংলা শব্দ গঠন অনুযায়ী, “উৎ” এবং “শ্বাস” যোগ করলে হয় “উচ্ছ্বাস”, যার অর্থ আনন্দ বা উল্লাসের প্রকাশ।
বাক্য বা শব্দের সঠিক সংযোগ অনুযায়ী অন্য বিকল্পগুলো ভুল।
রেফারেন্স:

Apte Sanskrit-English Dictionary
বাংলা অভিধান: Samsad Bangla Shabdakosha

৭৩.
সংস্কৃত সাহিত্যের আদিযুগ কোনটি?
  1. উপনিষদ যুগ
  2. মধ্যযুগ 
  3. বৈদিক যুগ
  4. কাব্য যুগ
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত সাহিত্যের আদিযুগ হলো বৈদিক যুগ। এই যুগে মূলত বেদসমূহ রচিত হয়েছে, যেমন—ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ ও অথর্ববেদ। বৈদিক সাহিত্যে প্রার্থনা, স্তোত্র, মন্ত্র ও আধ্যাত্মিক চিন্তাধারা প্রধান। এটি পরবর্তীতে উপন্যাস, নাটক ও কাব্য সাহিত্যের ভিত্তি স্থাপন করেছে।

রেফারেন্স:

A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell
Encyclopaedia of Indian Literature – Amaresh Datta

৭৪.
'নান্দী' কি?
  1. নাটকের প্রারম্ভে উচ্চারিত মঙ্গলসূচক শ্লোক
  2. দেব বন্দনা
  3. গীতবাদ্যাদি ক্রিয়া
  4. নাটকের সমাপ্তি
ব্যাখ্যা

“নান্দী” হল প্রাচীন ভারতীয় নাট্যশাস্ত্রে নাটকের শুরুতে পাঠ বা উচ্চারিত একটি মঙ্গলসূচক শ্লোক, যা দেবতা, গুরু বা দর্শকদের প্রতি সম্ভাষণ ও শুভকামনা প্রকাশ করে। এটি নাটকের শুভ সূচনার লক্ষ্যে রচিত হয় এবং নাটকের প্রেক্ষাপট বা বিষয়ভিত্তিক সমর্থন প্রদান করে।

রেফারেন্স:

Nāṭyaśāstra – Bharatamuni
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৭৫.
সরস্বতীর জলে অবগাহন করে মেঘ কোন নগরে যাবে?
  1. কনখল
  2. অলকা
  3. উজ্জয়িনী
  4. গন্ধবতী
ব্যাখ্যা

কালিদাসের “মেঘদূত” কাব্যে, যক্ষ প্রিয় স্ত্রীকে বার্তা পাঠাতে মেঘকে দূত হিসেবে প্রেরণ করেন। মেঘটি সরস্বতীর জলে অবগাহন করে তার যাত্রা শুরু করে এবং অবশেষে অলকা নগরে পৌঁছাবে, যা যক্ষের স্ত্রী বসবাসকারী স্থান। মেঘের এই পথচারণা পুরো কাব্য জুড়ে সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য এবং রোমাঞ্চকর বর্ণনার মাধ্যমে চিত্রিত হয়েছে।

রেফারেন্স:

কালিদাস, মেঘদূত
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৭৬.
'স্বপ্নবাসবদত্তম' নাটকের মধ্যমণি চরিত্র কোনটি?
  1. চাণক্য
  2. উদয়ন
  3. চন্দ্রগুপ্ত
  4. যৌগন্ধরায়ন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) যৌগন্ধরায়ণ

ব্যাখ্যা:
যদিও নাটকের নায়ক/রাজা উদয়ন (Udayana) ও নায়িকা বাসবদত্তা নাটকের দৃশ্যপটের কেন্দ্রবিন্দু, ভাস-এর স্বপ্নবাসবদত্তম-এ কাহিনী চালনা ও কৌশলিক নায়করূপে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে যৌগন্ধরায়ণ (Yaugandharayana) — তিনি হলেন উদয়নের বিশ্বস্ত পরামর্শক ও মন্ত্রী।
নাটকের মূল নাটকীয় কৌশল (বাসবদত্তার লুকানো, পট-পরিকল্পনা, পদ্মবতীর বিবাহ-কৌশল ইত্যাদি)—এসবের নায়ক-নির্ধারক ব্যক্তি যৌগন্ধরায়ণই। সমালোচকরা ঘোড়ার স্টিয়ারারের মতোই তাকে “নাটকের সত্যিকারের সূত্রধার / মধ্যমণি” হিসেবে দেখেছেন — অর্থাৎ তিনি কাহিনীকে সামনে এগোয়ে নিয়েছেন; অন্যান্য চরিত্রেরা প্রাথমিকভাবে তাঁর পরিকল্পনার অংশ।

— কি দেখে তাকে ‘মধ্যমণি’ বলা যায়:
কাহিনী পরিচালনা: যৌগন্ধরায়ণই রাজনৈতিক কৌশল রচনা করে রাজা ও রাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করেন (উদয়নের রাজ্য উদ্ধার ও রাজনীতির পুনর্গঠন)।
সতর্ক ও চতুর পথপ্রদর্শক: নাটকে তিনি ছদ্মবেশ গ্রহণ করে ঘটনার নায়ক হয়ে ওঠেন—অপর চরিত্ররা বেশিরভাগ সময় তাঁর পরিকল্পনার অনুসারী।
আধুনিক সমালোচনায় স্থান: অনেক পাঠ্য ও বিশ্লেষণে (প্লট-স্টাডি ও চরিত্র-প্রতীক বিশ্লেষণে) যৌগন্ধরায়ণকে ‘সত্যিকারের সুত্রধার/মধ্যমণি’ বলা হয়ে এসেছে।

রেফারেন্স:
- Kireet Joshi Archives — “Principal characters” (বর্ণনা: যৌগন্ধরায়ণ নাটকের সত্যিকারের সূত্রধার হিসেবে উপস্থাপিত)।
- WisdomLib / Bhāsa critical study — নাটকের প্লট-বিশ্লেষণ ও যৌগন্ধরায়ণের কৌশলতাত্ত্বিক ভূমিকা।
নাটকের সম্পূর্ণ সাহিত্যিক টেক্সট (ক্রিটিক্যাল এডিশন) Archive.org (P. S. Sane সম্পাদনা)।

৭৭.
শকুন্তলার পিতা কে ছিলেন?
  1. কম্ব মুনি
  2. বিশ্বামিত্র
  3. ভরদ্বাজ
  4. বশিষ্ঠ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) বিশ্বামিত্র

ব্যাখ্যা:
“অভিজ্ঞান শকুন্তলম্” (Abhijñānaśākuntalam) মহাকবি কালিদাস রচিত একটি অমর সংস্কৃত নাটক।
এই নাটকের নায়িকা শকুন্তলা, যিনি ঋষি বিশ্বামিত্র ও অপ্সরা মেনকা-র কন্যা।

ঘটনার পটভূমি:
- ঋষি বিশ্বামিত্র গভীর তপস্যায় নিযুক্ত ছিলেন। দেবতারা আশঙ্কা করেন যে তাঁর তপস্যার প্রভাবে তারা বিপন্ন হবেন।
- তখন দেবরাজ ইন্দ্র অপ্সরা মেনকাকে পাঠান তাঁর তপস্যা ভঙ্গ করার জন্য। মেনকার সৌন্দর্যে বিমোহিত হয়ে বিশ্বামিত্র কিছুদিন সংসার জীবনযাপন করেন। তাদের মিলনফলেই জন্ম নেয় শকুন্তলা।
- পরে মেনকা স্বর্গে ফিরে গেলে নবজাত শকুন্তলাকে ঋষি কণ্ব আশ্রমে লালন-পালন করেন।

রেফারেন্স:মহাভারত (আদি পর্ব, অধ্যায় ৭১-৭৩):
সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে ।
> “বিশ্বামিত্র ও মেনকার কন্যা শকুন্তলা, যিনি পরবর্তীতে রাজা দুষ্মন্তের পত্নী হন।”কালিদাসের অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ (প্রথম অঙ্ক)-এ কণ্ব ঋষি নিজেই বলেন:> “বিশ্বামিত্রতপোবলোদ্ভবা শকুন্তলা” — অর্থাৎ “বিশ্বামিত্রের তপোবলে উদ্ভূতা শকুন্তলা।”

৭৮.
রাজা উদয়নের রাজ্যের নাম কি?
  1. উত্তরাখণ্ড
  2. কাশ্মীর
  3. বৎস রাজ্য
  4. দণ্ডকারণ্য
ব্যাখ্যা

“স্বপ্নবাসবদত্তম” নাটকে নায়ক রাজা উদয়ন এর রাজ্যের নাম হলো বৎস রাজ্য। নাটকে উদয়ন ও বাসবদত্তার প্রেমকাহিনী এবং রাজনীতি এই রাজ্যকেন্দ্রিকভাবে এগিয়ে চলে। বৎস রাজ্য ছিল নাটকের মূল প্রেক্ষাপট, যেখানে কাহিনীর প্রধান ঘটনাবলী সংঘটিত হয়েছে।

রেফারেন্স:

ভাস, স্বপ্নবাসবদত্তম
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৭৯.
মেঘদূতম্ কাব্যে যক্ষ এর নাম উল্লেখ কেন করা হয়নি?
  1. যক্ষ কতব্যকর্ম পালন করে নাই
  2. যক্ষ পত্নীর প্রেমে বিভোর ছিল
  3. যক্ষ পূজনীয় ছিল বলে
  4. যক্ষ অভিশপ্ত ছিল বলে
ব্যাখ্যা

কালিদাসের “মেঘদূত” কাব্যে যক্ষকে নির্বাসিত বা অভিশপ্ত হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। যক্ষের নাম প্রকাশ করা হয়নি কারণ তিনি শাস্ত্র অনুযায়ী এক বিশেষ দণ্ডভোগী অভিশপ্ত চরিত্র, যা গল্পের আবেগ ও রহস্যবোধ বজায় রাখতে সাহায্য করে। তাঁর দুঃখ ও প্রেমের ভাবনা পুরো কাব্যের কেন্দ্রীয় বিষয়।

 রেফারেন্স:

কালিদাস, মেঘদূত
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৮০.
ঋক্ শব্দের অর্থ কি?
  1. মন্ত্র
  2. মণ্ডল
  3. উচ্চারণ
  4. ঋষির উক্তি
ব্যাখ্যা

“ঋক্” শব্দটি সংস্কৃত থেকে এসেছে, যার অর্থ হলো মন্ত্র বা স্তবক। এটি মূলত ঋগ্বেদের মূল স্তোত্র বা মন্ত্র বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি ঋক্ হলো একটি পৃথক স্তবক যা দেবতাকে সম্বোধন করে বা প্রার্থনা, কীর্তন ও ধ্যানের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

রেফারেন্স:

Rigveda Samhita – Ralph T.H. Griffith
Apte Sanskrit-English Dictionary

৮১.
রাজা নিজ দেশে পূজা পান- এর সংস্কৃত কি?
  1. রাজা স্বদেশে পূজা আপ্নাতি
  2. স্বদেশে পূজ্যতে রাজা
  3. নিজ দেশে রাজা পূজ্যতে
  4. রাজা স্বদেশে অর্চতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ✅ খ)  স্বদেশে পূজ্যতে রাজা

ব্যাখ্যা:
এই বাক্যটি একটি প্রচলিত নীতি–বাক্য (নীতিশ্লোক) যা বোঝায়— “রাজা নিজ দেশে সম্মানিত হন।”
এখানে  রাজা হলো কর্তা, “স্বদেশে” (নিজ দেশে) হলো অধিকরণ কারক, এবং “পুজ্যতে” (সম্মানিত হন / পূজা পান) ক্রিয়া শব্দটি  কর্মবাচ্য (passive voice) রূপ।
অতএব, এর শাব্দিক অর্থ — “নিজ দেশে রাজা পূজিত হন” বা “রাজা নিজ দেশে পূজা পান।”

রেফারেন্স:
এই নীতিবাক্যটি পাওয়া যায় নীতিশতক (ভর্তৃহরির নীতিশতক)-এর সূত্রে —

> “বিদেশে পুজ্যতে বিদ্যা, স্বদেশে পুজ্যতে নৃপঃ।”
অর্থাৎ — বিদেশে জ্ঞানী, আর স্বদেশে রাজা সম্মানিত হন।

৮২.
নিচের কোন দুটি কালিদাসের রচিত?
  1. মালবিকাগ্নিমিত্র ও পঞ্চতন্ত্র
  2. সৌন্দরনন্দ ও বজ্রসূচী
  3. কর্ণভার ও বালচরিত
  4. অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ ও মেঘদূতম্
ব্যাখ্যা

কালিদাস ছিলেন প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত সংস্কৃত কবি ও নাট্যকার। তাঁর প্রধান রচিত কাব্য ও নাটকগুলোর মধ্যে—

অভিজ্ঞানশকুন্তলম্ – নাটক, যা শকুন্তলার কাহিনী ভিত্তিক।
মেঘদূত – খণ্ডকাব্য, যেখানে একটি যক্ষ তার

৮৩.
মহাভারতের যুদ্ধে মোট কত অক্ষৌহিণী সৈন্য ছিল?
  1. ৭ অক্ষৌহিণী
  2. ১১ অক্ষৌহিণী
  3. ১৮ অক্ষৌহিণী
  4. ১০ অক্ষৌহিণী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ১৮ অক্ষৌহিণী

ব্যাখ্যা:
মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহাসিক যুদ্ধ, যেখানে মোট ১৮ অক্ষৌহিণী সৈন্যবাহিনী অংশ নেয়।
এর মধ্যে—

কৌরব পক্ষের সৈন্য সংখ্যা ছিল ১১ অক্ষৌহিণী,

এবং পাণ্ডব পক্ষের সৈন্য সংখ্যা ছিল ৭ অক্ষৌহিণী।


একটি অক্ষৌহিণী সেনা বলতে বোঝায় একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক রথ, হাতি, অশ্ব ও পদাতিকের বিশাল বাহিনী (মোট প্রায় ২১,৮৭,৮৭০ সৈন্য সমান)।
এই বিশাল যুদ্ধবাহিনীর সংঘর্ষেই সংঘটিত হয় কুরুক্ষেত্রের মহাযুদ্ধ, যা মহাভারতের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

 

রেফারেন্স:
১. মহাভারত, উদ্যোগ পর্ব , অধ্যায় - ৫ (সেনা সংগ্রহ)
২. মহাভারত – আধিপর্ব (আদিপর্ব), অধ্যায় ২ – “সমরবিবরণ অধ্যায়”
যেখানে উল্লেখ আছে:

> “একাদশচ सप्त চ एव अक्षमिण्यौ समागतौ।”
অর্থাৎ — কৌরবদের ১১ ও পাণ্ডবদের ৭ অক্ষৌহিণী সেনা মিলিত হয়ে ১৮ অক্ষৌহিণী সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে সমবেত হয়েছিল।

৮৪.
পঞ্চমবেদ বলা হয় কাকে?
  1. ঋকবেদকে
  2. শ্রীচণ্ডীকে
  3. মহাভারতকে
  4. উপনিষদকে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) মহাভারতকে

ব্যাখ্যা:

প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থগুলোতে মহাভারতকে প্রায়ই ‘পঞ্চম বেদ’ বলা হয়।
চার বেদ (ঋগ্বেদ, যজুর্বেদ, সামবেদ, অথর্ববেদ) এর পরে, মহাভারতকে আধ্যাত্মিক, নৈতিক ও সামাজিক শিক্ষার জন্য পঞ্চম বেদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
এটি কেবল একটি মহাকাব্য নয়, বরং ধর্ম, নীতি, রাজনীতি ও কীর্তি সম্পর্কিত নির্দেশও প্রদান করে।
রেফারেন্স:

মহর্ষি ব্যাস, মহাভারত
Macdonell, A History of Sanskrit Literature

৮৫.
দুর্বাসা মুনি কে ছিলেন?
  1. সাধক
  2. দেবতা
  3. শকুন্তলার পালক পিতা
  4. অভিশাপদানকারী মুনি
ব্যাখ্যা

দুর্বাসা মুনি প্রাচীন ভারতীয় পুরাণ ও কাব্যগ্রন্থে পরিচিত একজন ঋষি। তিনি কঠোর, রাগী ও অভিশাপদাতা চরিত্রের জন্য বিখ্যাত।

কালিদাসের অভিজ্ঞান শকুন্তলম্ নাটকে তিনি শকুন্তলাকে অভিশাপ দেন, যার ফলে শকুন্তলার স্বামী যোগিনী রাজা দুশ্চিন্তায় পড়েন।
তাঁর অভিশাপ ও কঠোর চরিত্র গল্পে গুরুত্বপূর্ণ নাট্যদৃশ্য তৈরি করে।
রেফারেন্স:

কালিদাস, অভিজ্ঞান শকুন্তলম্
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৮৬.
পাণ্ডবদের বনবাস জীবন 'কীরাতার্জুনীয়ম' কাব্যের কোন সর্গে উল্লেখিত হয়েছে?
  1. দ্বিতীয় সর্গ
  2. প্রথম সর্গ
  3. পঞ্চম সর্গ
  4. তৃতীয় সর্গ
ব্যাখ্যা

“কীরাতার্জুনীয়ম্” হল সংস্কৃত মহাকাব্য, যা ভীমের ও অর্জুনের বনবাস জীবন এবং অর্জুনের কীরতার সঙ্গে যুদ্ধের কাহিনী উপস্থাপন করে।

পাণ্ডবদের বনবাসকালীন জীবন ও তাদের ত্যাগ প্রথমেই বর্ণিত হয়েছে, যা প্রথম সর্গে উল্লেখিত।
এতে অর্জুনের কঠোর তপস্যা, শাস্ত্র শিক্ষার পরিবেশ ও বনবাস জীবনের কঠিন পরিসংখ্যান বিস্তারিতভাবে চিত্রিত হয়েছে।
রেফারেন্স:

Kiratarjuniya – Bharavi
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৮৭.
পদ্মাবতী বৎসরাজ উদয়নের কি ছিল?
  1. রাজকর্মচারী
  2. স্ত্রী
  3. বোন
  4. তাপসী
ব্যাখ্যা

“স্বপ্নবাসবদত্তম” নাটকে রাজা উদয়ন-এর স্ত্রী ছিলেন পদ্মাবতী। নাটকে উদয়ন ও পদ্মাবতীর সম্পর্ক, তাদের রাজ্য সংক্রান্ত কার্যকলাপ এবং প্রেম-বিরহের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ নাট্যভূমি হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে।

 রেফারেন্স:

ভাস, স্বপ্নবাসবদত্তম
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৮৮.
অব্যয়ীভাব সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. চতুর্যুগম্
  2. পঞ্চনাভঃ
  3. উপনদী
  4. শ্বাপদঃ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) উপনদী

ব্যাখ্যা:
অব্যয়ীভাব সমাস (Avyayībhāva Samāsa) হলো এমন সমাস যেখানে প্রথম পদটি অব্যয় (অপরিবর্তনীয়) এবং দ্বিতীয় পদটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটি বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে।

উদাহরণ: উপনদী → "উপ" (অব্যয়, কাছাকাছি বা সন্নিহিত) + "নদী" (নদী) = নদীর কাছে বা সন্নিহিত নদী।
এতে অব্যয় শব্দের অর্থ অপরিবর্তিত থাকে এবং পুরো সমাসের অর্থকে নির্দেশ করে।
অন্যান্য বিকল্পগুলো (চতুর্যুগম্, পঞ্চনাভঃ, শ্বাপদঃ) ভিন্ন ধরনের সমাসের উদাহরণ।
রেফারেন্স:

Panini’s Ashtadhyayi – Sanskrit Grammar
Macdonell, A Sanskrit Grammar for Students

৮৯.
ঋনং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ এই বাক্যটির অর্থ কি?
  1. ঋণ নাও ঘি খাও
  2. ঋণ দ্বারা ঘি পাওয়া যায়
  3. ঋণ করে ঘি খাও
  4. ঋণকে ঘৃণা কর
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) ঋণ করে ঘি খাও

ব্যাখ্যা:

সংস্কৃত বাক্য “ঋণং কৃত্বা ঘৃতং পিবেৎ ” অর্থাৎ:

ঋণং কৃত্বা = ঋণ করে / ধার নিয়ে
ঘৃতং পিবেৎ = ঘি খাও / পান করো
অর্থাৎ নির্দেশ হচ্ছে, ঋণ নিয়ে প্রয়োজনীয় ঘি খাও। এটি প্রায়শই নৈতিক বা সামাজিক নির্দেশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেখানে সাময়িক ঋণ গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
 রেফারেন্স:

V. S. Apte, Sanskrit-English Dictionary
Arthur A. Macdonell, A Sanskrit Grammar for Students

৯০.
চিকিৎসাশাস্ত্রের প্রাচীনতম গ্রন্থ কোনটি?
  1. চরকসংহিতা
  2. ভেলসংহিতা
  3. অষ্টাঙ্গসংগ্রহ
  4. আয়ুর্বেদ
ব্যাখ্যা

চরকসংহিতা হলো প্রাচীন ভারতের প্রাচীনতম চিকিৎসাশাস্ত্র গ্রন্থ, যা মূলত চরক নামক ঔষধজ্ঞ কর্তৃক রচিত।

এতে অভ্যন্তরীণ রোগ, তাদের লক্ষণ, চিকিৎসা পদ্ধতি, ঔষধ প্রয়োগ এবং আয়ুর্বেদ সম্পর্কিত নীতিমালা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত।
এটি আয়ুর্বেদের (Ayurveda) ভিত্তি স্থাপনকারী গ্রন্থ হিসেবে পরিচিত।
 রেফারেন্স:

Charaka Samhita – Translation and Commentary by P. V. Sharma
History of Indian Medicine – K. M. Srikantham

৯১.
দাতৃ শব্দের স্ত্রীলিঙ্গের রূপ কোনটি?
  1. ধাত্রী
  2. দাতৃন
  3. দাত্রী
  4. বিদাতৃ
ব্যাখ্যা

দাতৃ শব্দের অর্থ হলো দানকারী বা দেওয়া ব্যক্তি।
সংস্কৃতের ব্যাকরণের নিয়ম অনুযায়ী, পুরুষলিঙ্গ “দাতৃ”-এর স্ত্রীলিঙ্গ হয় “দাত্রী”, যা দানকারী নারী বোঝায়।
অন্য বিকল্পগুলো (ধাত্রী, দাতৃন, বিদাতৃ) আলাদা অর্থ বহন করে বা সঠিক লিঙ্গ রূপ নয়।
রেফারেন্স:

Apte Sanskrit-English Dictionary
Sanskrit Grammar and Vocabulary – V. S. Apte

৯২.
কবিষু কালিদাসঃ শ্রেষ্ঠঃ - এর অনুবাদ কোনটি?
  1. কবি কালিদাস শ্রেষ্ঠ
  2. কালিদাস আমাদের বড় কবি
  3. কালিদাস ছাড়া কবি নাই
  4. কবিদের মধ্যে কালিদাস শ্রেষ্ঠ
ব্যাখ্যা

কবিষু = কবিদের মধ্যে
कालिदासः = কালিদাস
শ্রেষ্ঠঃ = শ্রেষ্ঠ
অতএব, “কবিষু কালিদাসঃ শ্রেষ্ঠঃ” অর্থ হলো “কবিদের মধ্যে কালিদাস শ্রেষ্ঠ।” এটি কালিদাসের সাহিত্য ও কাব্যকলার উচ্চ মান প্রকাশ করে।

 রেফারেন্স:

A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell
Apte Sanskrit-English Dictionary
 

৯৩.
"বুদ্ধির্যস্য বলং তস্য" এর বাংলা অনুবাদ কোনটি?
  1. বুদ্ধি যার বল তার
  2. বুদ্ধিহীনের বল বেশী
  3. বুদ্ধি থাকলে বল বাড়ে
  4. বুদ্ধি আছে তাই বল আছে
ব্যাখ্যা

বুদ্ধি = বুদ্ধি, জ্ঞান
যস্য = যার
বলং = শক্তি, ক্ষমতা
তস্য = তার
অতএব, “বুদ্ধির্যস্য বলং তস্য” অর্থ হলো “যার বুদ্ধি, তারই শক্তি বা বল।” এটি জ্ঞান ও বুদ্ধির গুরুত্বকে তুলে ধরে।

রেফারেন্স:

Apte Sanskrit-English Dictionary
Sanskrit Grammar and Vocabulary – V. S. Apte

৯৪.
উপনিষদের প্রধান বিষয়বস্তু কি?
  1. জ্যোতিষ
  2. আত্মতত্ত্ব
  3. ব্রহ্মবিদ্যা
  4. যজ্ঞবিদ্যা
ব্যাখ্যা

উপনিষদ প্রাচীন ভারতীয় দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক গ্রন্থ, যার প্রধান বিষয়বস্তু হলো আত্মা ও ব্রহ্মের সম্পর্ক এবং আত্ম-জ্ঞান।

এখানে জ্ঞান, আত্মদর্শন, ধ্যান এবং মুক্তি সম্পর্কিত তত্ত্ব আলোচনা করা হয়েছে।
অন্য বিকল্পগুলো যেমন জ্যোতিষ, যজ্ঞবিদ্যা আংশিকভাবে উল্লেখিত হলেও, মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো আত্মতত্ত্ব।
 রেফারেন্স:

Upanishads – Translation by Swami Nikhilananda
A History of Indian Philosophy – Surendranath Dasgupta

৯৫.
পুণ্যং কুরু স্বর্গং গমিষ্যাসি - এর অনুবাদ কোনটি?
  1. পুণ্য কর স্বর্গে যাবে
  2. পূণ্য ছাড়া স্বর্গে যায় না
  3. পূণ্য নাই স্বর্গ নাই
  4. পূণ্যই একমাত্র পথ
ব্যাখ্যা

পুণ্যং কুরু = পুণ্য করো
স্বর্গং গমিষ্যাসি = স্বর্গে যাবে
অতএব, “পুণ্যং কুরু স্বর্গং গমিষ্যাসি” অর্থ হলো “পুণ্য করো, তুমি স্বর্গে যাবে।” এটি নৈতিক ও ধর্মীয় কাজের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

রেফারেন্স:

Apte Sanskrit-English Dictionary
Sanskrit Grammar and Vocabulary – V. S. Apte

৯৬.
দুর্যোধন যুধিষ্ঠিরকে পরাজিত করে কোন রাজ্যে অধিষ্ঠিত হন?
  1. বৎসরাজ্য
  2. কৌরবরাজ্য
  3. হস্তিনারাজ্য
  4. স্বর্গরাজ্য
ব্যাখ্যা

মহাভারতের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পরে, দুর্যোধন যখন বিজয়ী হিসেবে কিছু সময়ের জন্য কৌশল ও সামরিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তখন তিনি হস্তিনাপুর-এ অধিষ্ঠিত হন।

হস্তিনাপুর ছিল কৌরব ও পাণ্ডবদের প্রাচীন রাজ্য এবং কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের কেন্দ্রস্থল।
যদিও যুদ্ধ শেষে পাণ্ডবরা পুনরায় রাজ্য গ্রহণ করেন, যুদ্ধের সময় দুর্যোধনের অধিষ্ঠান হস্তিনাপুরে ছিল।
 রেফারেন্স:

মহর্ষি ব্যাস, মহাভারত
A History of Ancient India – Romila Thapar

৯৭.
পুরাণ সাহিত্যে কতটি লক্ষণের উল্লেখ আছে?
  1. ৭ টি
  2. ৬ টি
  3. ৫ টি
  4. ৪ টি
ব্যাখ্যা

✅ সঠিক উত্তর: গ) ৫ টি

ব্যাখ্যা:

কিছু প্রাচীন পুরাণে (বিশেষতঃ গরুড় পুরাণ, নরদ পুরাণ ইত্যাদি অনুযায়ী) পুরাণের লক্ষণ হিসেবে ৫টি প্রধান বিষয়-এর কথা বলা হয়েছে।
এই পাঁচটি বিষয়কেই “পঞ্চলক্ষণ” বলা হয়।

পুরাণগুলিতে এই পাঁচটি মূল বিষয় সবসময় বিদ্যমান থাকে, তাই বহু পণ্ডিত এই মতকেই বাস্তবিক বা কার্যকর সংজ্ঞা হিসেবে মেনে নিয়েছেন।

পুরাণের ৫টি লক্ষণ হলো:

সর্গ— বিশ্বসৃষ্টির বিবরণ (ব্রহ্মার দ্বারা মহাবিশ্বের সৃষ্টি)।
  প্রতিসর্গ— প্রলয়ের পর পুনঃসৃষ্টি।
 বংশ — দেব, ঋষি, রাজাদের বংশাবলি।
মন্বন্তর — প্রতিটি মনুর শাসনকাল ও তৎকালীন ঘটনাবলি।
 বংশানুচরিত— রাজবংশের বীর ও পুণ্যবান পুরুষদের ইতিহাস।

রেফারেন্স:

(১) গরুড় পুরাণ, প্রথম খণ্ড, অধ্যায় ১, শ্লোক ৪৫–৪৭:

> “সর্গশ্চ প্রতিসর্গশ্চ বংশো মন্বন্তরাণি চ।
বংশানুচরিতং চৈব পুরাণং পঞ্চলক্ষণম॥”

অর্থাৎ:
সৃষ্টির বিবরণ, পুনঃসৃষ্টি, বংশ, মন্বন্তর ও বংশানুচরিত —
এই পাঁচটি বিষয়ই পুরাণের প্রধান লক্ষণ।

সংক্ষেপে:

যদিও ভাগবত পুরাণ ও বিষ্ণু পুরাণে সাতটি লক্ষণের কথা বলা হয়েছে,
তবে গরুড় পুরাণ ও নরদ পুরাণে বলা হয়েছে 
অনেক পুরাণে প্রধানত এই ৫টি লক্ষণই বিদ্যমান।

৯৮.
ঋগ্বেদের সুক্তসংখ্যা কতটি?
  1. ১০০৮ টি
  2. ১০২৮ টি
  3. ১০২৪ টি
  4. ১০৮২ টি
ব্যাখ্যা

ঋগ্বেদ হলো প্রাচীনতম চার বেদের মধ্যে প্রথম। এতে মোট ১০২৮টি সুক্ত (Hymns) রয়েছে, যা বিভিন্ন দেবতার স্তোত্র এবং প্রার্থনা নিয়ে রচিত।

প্রতিটি সুক্তের মাধ্যমে দেবতা, প্রকৃতি, আচার এবং আধ্যাত্মিক তত্ত্বের বর্ণনা রয়েছে।

রেফারেন্স:

Rigveda Samhita – Ralph T.H. Griffith
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

৯৯.
অবন্তী দেশের রাজধানী কোথায়?
  1. অলকা
  2. উজ্জয়িনী
  3. শিপ্রা
  4. পাঞ্চাল
ব্যাখ্যা

অবন্তী প্রাচীন ভারতের একটি রাজ্য, যার রাজধানী ছিল উজ্জয়িনী।

উজ্জয়িনী নদী শিপ্রা-র তীরে অবস্থিত এবং এটি প্রাচীনকালে রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
কালিদাসের রচনায়ও অবন্তী রাজ্য ও উজ্জয়িনী শহরের উল্লেখ রয়েছে।

রেফারেন্স:

A History of Ancient India – Romila Thapar
A History of Sanskrit Literature – Arthur A. Macdonell

১০০.
'অভিজ্ঞান' শব্দের অর্থ কি?
  1. চিন্তামুক্ত
  2. স্মারকচিহ্ন
  3. বিরহ
  4. শকুন্তলার সখি
ব্যাখ্যা

সংস্কৃত শব্দ “অভিজ্ঞান” অর্থ হলো পরিচয় বা চিন্তিত চিহ্ন/স্মারক যা কাউকে বা কিছুকে চিনতে সাহায্য করে।
কালিদাসের নাটক “অভিজ্ঞান শকুন্তলম্”-এ এটি মূলত শকুন্তলার স্বামী রাজা দূষ্যন্তকে চিহ্নিত করার স্মারক বস্তু বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
রেফারেন্স:

কালিদাস, অভিজ্ঞান শকুন্তলম্
Apte Sanskrit-English Dictionary

১০১.
'পরিবার থেকেই শিক্ষার শুরু'-এখানে 'থেকে' শব্দের সাথে যুক্ত 'ই'-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. উপসর্গ
  2. প্রত্যয়
  3. ধাতু
  4. বলক
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বলক।
--------------
• বাংলা ব্যাকরণে, শব্দ গঠনের বিভিন্ন উপাদান রয়েছে, যেমন উপসর্গ, প্রত্যয়, ধাতু, এবং বলক। প্রশ্নে দেওয়া বাক্য ‘পরিবার থেকেই শিক্ষার শুরু’-এর মধ্যে ‘থেকে’ শব্দের সঙ্গে যুক্ত ‘ই’ শব্দটির ব্যাকরণিক পরিচয় হলো- বলক।

• বলক:

যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন -
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

অন্য অপশন,

উপসর্গ:
- যেসব অর্থহীন শব্দাংশ অন্য শব্দের শুরুতে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলােকে উপসর্গ বলে।
যেমন-
- অজানা (অ + জানা), অভিযােগ (অভিযােগ), বেতার (বে+তার) প্রভৃতি শব্দের ‘অ’, ‘অভি’, ‘বে’ হলাে উপসর্গ।

• প্রত্যয়:
- শব্দ ও ধাতুর পরে অর্থহীন যেসব শব্দাংশ যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
যেমন -
→ বাঘ + আ = বাঘা।
→ দিন + ইক = দৈনিক।
উপরের উদাহরণে 'আ' ও 'ইক' তদ্ধিত প্রত্যয় এবং 'বাঘা' ও 'দৈনিক' হলো তদ্ধিতান্ত শব্দ।

ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
বাংলা ভাষায় বহু ক্রিয়াপদ রয়েছে। এসকল ক্রিয়াপদের মূল অংশকে বলা হয় ধাতু বা ক্রিয়ামূল।
যেমন: ‘লিখ্‌ + আ = লিখা; এখানে, লিখ্‌ হলো ধাতু।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

১০২.
আহমদ শরীফের মতে মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে কতজন কবি ছিলেন?




ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো- খ) ৩

ব্যাখ্যা:
আহমদ শরীফের গবেষণা অনুসারে, মধ্যযুগে চণ্ডীদাস নামে তিনজন কবি ছিলেন।
যথা:
১। অনন্ত বড়ু চণ্ডীদাস- সর্বপ্রাচীন চণ্ডীদাস,
২। চণ্ডীদাস- চৈতন্য পূর্বকালের বা জ্যেষ্ঠ সমসাময়িক এবং
৩। দীন চণ্ডীদাস- আঠারো শতকের শেষার্ধ।

এই তিনজনের রচিত পদাবলীতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকাহিনী এবং বৈষ্ণব ভক্তির প্রতিফলন ঘটেছে।

• আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য") অনুসারে,


উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং আহমদ শরীফের গবেষণাগ্রন্থ (যেমন: "বাঙালী ও বাংলা সাহিত্য")।

১০৩.
মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে?
  1. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
  2. কায়কোবাদ
  3. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
  4. ইসমাইল হোসেন সিরাজী
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

ব্যাখ্যা:
মধুসূদন দত্ত (১৮২৪-১৮৭৩) বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি, যিনি বিশেষত তাঁর ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ এবং আধুনিক বাংলা সনেটের জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে আধুনিকতার সূচনা করেন। তাঁর পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি কে ছিলেন, তা নির্ধারণ করতে আমাদের সময়কাল এবং সাহিত্যে অবদান বিবেচনা করতে হবে।

অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:

ক) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১-১৯৪১):
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মধুসূদন দত্তের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি জন্মগ্রহণ করেন মধুসূদনের মৃত্যুর কাছাকাছি সময়ে এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের পরে বিকশিত হয়। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

খ) কায়কোবাদ (১৮৫৭-১৯৫১):
কায়কোবাদ একজন উল্লেখযোগ্য কবি, যিনি তাঁর — ‘মহাশ্মশান কাব্য’ এর জন্য পরিচিত। কিন্তু তিনি মধুসূদনের — পরবর্তী সময়ে সাহিত্যকর্ম শুরু করেন। তাঁর জন্মও মধুসূদনের সক্রিয় সাহিত্যজীবনের পরে। সুতরাং, তিনি পূর্ববর্তী কবি নন।

গ) ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত (১৮১২-১৮৫৯):
ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন মধুসূদন দত্তের — পূর্ববর্তী এবং সমসাময়িক কালের একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি ও সাংবাদিক। তিনি ‘সংবাদ প্রভাকর’ পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে এবং তাঁর সামাজিক ও ব্যঙ্গাত্মক কবিতার জন্য বিখ্যাত। তিনি বাংলা সাহিত্যে মধুসূদনের আগে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন এবং তাঁর কাজ মধুসূদনের সময়ে প্রভাব বিস্তার করেছিল। তাই তিনি মধুসূদনের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে বিবেচিত হন।

ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত সম্পর্কিত আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক।
- 'ভ্রমণকারী বন্ধু' ছিলো তাঁর ছদ্মনাম।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যুগসন্ধির (মধ্যযুগ ও আধুনিক যুগের মিলনকারী) কবি হিসেবে পরিচিত।
- ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত প্রথম বাংলা দৈনিক পত্রিকা ‘সংবাদ প্রভাকর’ সম্পাদনা করেন।
- তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলো কবিয়ালদের লুপ্তপ্রায় জীবনী উদ্ধার করে প্রকাশ করা।
- ঈশ্বরচন্দ্র সংবাদ প্রভাকর ছাড়াও সংবাদ রত্নাবলী, পাষন্ডপীড়ন ও সংবাদ সাধুরঞ্জন পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

ঘ) ইসমাইল হোসেন সিরাজী (১৮৮০-১৯৩১):
ইসমাইল হোসেন সিরাজী মধুসূদনের — পরবর্তী কালের কবি। তিনি তাঁর জাতীয়তাবাদী ও মুসলিম সাহিত্যের জন্য পরিচিত। তাঁর জন্ম ও সাহিত্যকর্ম মধুসূদনের মৃত্যুর পরে শুরু হয়, তাই তিনি পূর্ববর্তী কবি হতে পারেন না।

তাই বলা চলে, মধুসূদন দত্তের পূর্ববর্তী গুরুত্বপূর্ণ কবি হলেন — ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (ড. সুকুমার সেন), বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, বাংলাপিডিয়া।

১০৪.
'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- এখানে 'পরিকর' শব্দের অর্থ কী?
[মূল প্রশ্নে 'পরিবার' লেখা ছিল]
  1. শ্বাস
  2. প্রতিজ্ঞা
  3. কোমর
  4. প্রতিশ্রুত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) কোমর।
-------------------
প্রথমে শব্দের অর্থগুলো জেনে নিই-

• বদ্ধ শব্দের অর্থ- বাঁধা; আবদ্ধ; বাঁধানো।
• পরিকর অর্থ- কটিবন্ধ।
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,




ব্যাখ্যা:
বাক্যটি — “এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর” — এখানে ‘পরিকর’ শব্দের অর্থ কোমর।
‘বদ্ধ পরিকর’ মানে কোমর বেঁধে প্রস্তুত হওয়া বা দৃঢ় সংকল্প করা।

অর্থাৎ বাক্যটির ভাবার্থ —
“এ কাজটি করতে আমি দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত।”

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; Accessible Dictionary by Bangla Academy.
---------------------

সংস্কৃত ‘বদ্ধ’ এবং ‘পরিকর’ শব্দ সহযোগে গঠিত শব্দ হলো বদ্ধপরিকর। এটি বিশেষণ পদ। বদ্ধপরিকর শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, কঠোর প্রতিজ্ঞা, দৃঢ়সংকল্প, কোনো কাজ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে এমন বোঝায় প্রভৃতি। ব্যুৎপত্তিগতভাবে ‘বদ্ধ’ শব্দের অর্থ হলো, ‘বাঁধা’ আর ‘পরিকর’ শব্দের একাধিক অর্থের মধ্যে একটি অর্থ হলো, কোমর বা কটিবন্ধ, কোমরবন্ধনী। ইংরেজিতে যেটিকে আমরা বলি বেল্ট। সেই হিসেবে বদ্ধপরিকর শব্দের আক্ষরিক অর্থ হয় কোমর বা কটিবন্ধ বাঁধা। সংস্কৃত থেকে জাত কোমরবন্ধনী বাঁধা প্রসঙ্গটিই কালক্রমে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ অর্থরূপে পরিগ্রহ করেছে।

সূত্র: 'আজকের পত্রিকা'র রিপোর্ট - "শব্দের আড়ালে গল্প: বদ্ধপরিকর", লেখক: রাজীব কুমার সাহা, আভিধানিক ও প্রাবন্ধিক।
----------------------

অতিরিক্ত আলোচনা:
এই প্রশ্নের উত্তর বিশ্লেষণের জন্য আমরা বিগত ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার একটি প্রশ্ন যদি পর্যালোচনা করি।

'গড্ডালিকা প্রবাহ' বাগ্‌ধারায় 'গড্ডল' শব্দের অর্থ কী?
ক) গরু
খ) ছাগল
গ) ভেড়া
ঘ) মহিষ

• ‘গড্ডলিকা প্রবাহ’ বাগ্‌ধারার অর্থ - অন্ধভাবে অনুসরণ। কিন্তু এখানে আক্ষরিক অর্থে 'গড্ডল' শব্দের অর্থ 'ভেড়া' হয়েছে।

একইভাবে, এখানেও 'এ কাজ করতে আমি বদ্ধ পরিকর'- বাক্যে পরিকর শব্দের আক্ষরিক অর্থ ধরলে সেটার অর্থ হয় কটি বা কোমর।

১০৫.
'শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়'- এই বাক্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর প্রয়োগ হয়েছে-
  1. একবচন বোঝাতে
  2. বহুবচন বোঝাতে
  3. একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে
  4. প্রথমটি একবচন, পরেরটি বহুবচন বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটি লিঙ্গ-নিরপেক্ষ এবং বচন-নিরপেক্ষ (singular and plural neutral) শব্দ, যা প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একবচন (singular) বা বহুবচন (plural) উভয়ই বোঝাতে পারে।

বাক্যটি বিশ্লেষণ করা যাক:
বাক্য: “শিক্ষককে বুঝতে হবে শিক্ষার্থী কী চায়। ”এখানে ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির সঙ্গে কোনো বচন নির্দেশক শব্দ (যেমন: ‘একজন’, ‘সকল’, ‘অনেক’) যুক্ত নেই। ফলে এগুলো প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে একজন শিক্ষক বা একাধিক শিক্ষক এবং একজন শিক্ষার্থী বা একাধিক শিক্ষার্থী উভয়কেই বোঝাতে পারে।

‘শিক্ষককে’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দের বিভক্তি (‘-কে’ এবং বিভক্তিহীন রূপ) কোনো নির্দিষ্ট বচন নির্দেশ করে না। বাংলায় এই ধরনের শব্দ সাধারণত একবচন এবং বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে।

তাই বালা যায়, ‘শিক্ষক’ এবং ‘শিক্ষার্থী’ শব্দ দুটির প্রয়োগ একবচন ও বহুবচন উভয়ই বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৬.
'তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না' - বাক্যটির অস্তিবাচক রূপ কী হবে?
  1. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন না
  2. তিনি কথা না শুনে ঘুমাতে পারলেন
  3. তিনি জেগে রইলেন কথা না শুনে
  4. তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি — “তিনি কথা শুনে ঘুমাতে পারলেন না” — এটি একটি নেতিবাচক (Negative) বাক্য।
এর অস্তিবাচক (Affirmative) রূপ করতে হলে “না” বাদ দিয়ে অর্থ বজায় রেখে ইতিবাচকভাবে প্রকাশ করতে হয়।

এখানে,
“ঘুমাতে পারলেন না” = “জেগে রইলেন” (অর্থ একই থাকে)।

অতএব, অস্তিবাচক রূপ হবে —
“তিনি কথা শুনে জেগে রইলেন।”

অন্যদিকে,
অন্যান্য অপশনগুলোতে নেতিবাচক 'না' শব্দটি রয়েছে; যা নেতিবাচক বাক্যের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৭.
কোন্ ধ্বনি পরিবর্তনটি যথাযথ নয়?
  1. ক্রন্দন > কাঁদা
  2. অঞ্চল > আঁচল
  3. সংগীত > গীতিকা
  4. দন্ত > দাঁত
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) সংগীত > গীতিকা।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে শব্দের রূপান্তর ঘটে, যা প্রায়শই তৎসম, তদ্ভব বা দেশি শব্দ গঠনের ক্ষেত্রে দেখা যায়। ধ্বনি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম অনুসারে, তৎসম শব্দ থেকে তদ্ভব শব্দে রূপান্তরের সময় ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, যেমন স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন।

চলুন অপশন বিশ্লেষণ করি —
ক) ক্রন্দন → কাঁদা:
এটি ধ্বনি-পরিবর্তনের মাধ্যমে গঠিত। তৎসম শব্দ ‘ক্রন্দন’ (অর্থ: কান্না) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘কাঁদা’ (ক্রিয়া, অর্থ: কাঁদা বা কান্না করা) গঠিত হয়েছে।

খ) অঞ্চল → আঁচল:
এটি ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ। তৎসম শব্দ ‘অঞ্চল’ (অর্থ: কাপড়ের প্রান্ত বা অঞ্চল) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘আঁচল’ (অর্থ: শাড়ির প্রান্ত) গঠিত হয়েছে।

গ) সংগীত → গীতিকা:
‘সংগীত’ থেকে ‘গীতিকা’ গঠনের জন্য কোনো সরাসরি ধ্বনিগত পরিবর্তন নেই। বরং এটি অন্য একটি শব্দগঠন (প্রত্যয়যুক্ত রূপ)। ‘গীতিকা’ একটি তৎসম শব্দ, যা ‘গীত’ (গান) শব্দের সঙ্গে ‘-ইকা’ প্রত্যয় যোগ করে গঠিত। 'গীতিকা' সংগীতের একটি রূপ বা ছোট গান বোঝায়, কিন্তু ‘সংগীত’ থেকে ধ্বনি পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি উৎপন্ন হয় না।

ঘ) দন্ত → দাঁত:
এটি স্পষ্ট ধ্বনি-পরিবর্তনের উদাহরণ (স্বরবিকৃতি ও উচ্চারণগত পরিবর্তন)। তৎসম শব্দ ‘দন্ত’ (অর্থ: দাঁত) থেকে তদ্ভব শব্দ ‘দাঁত’ গঠিত হয়েছে।

অতএব, যথাযথ নয় — গ) সংগীত > গীতিকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১০৮.
কাজী নজরুল ইসলামের কোন উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র জাহাঙ্গীর-
  1. বাঁধন-হারা
  2. মৃত্যুক্ষুধা
  3. কুহেলিকা
  4. শিউলিমালা
ব্যাখ্যা

• কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ (প্রকাশকাল: ১৯৩১ খ্রি.)-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র হলো — জাহাঙ্গীর।
এই উপন্যাসে তিনি একজন শিক্ষিত, দেশপ্রেমিক, বিপ্লবী চরিত্র — যিনি সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্ধকার দূর করে আলোর পথ খুঁজছেন।
---------------
• 'কুহেলিকা' উপন্যাস সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:
কাজী নজরুল ইসলামের উপন্যাস ‘কুহেলিকা’ ১৩৩৪ বঙ্গাব্দে 'নওরোজ' পত্রিকায় 'কুহেলিকা' উপন্যাস প্রকাশ আরম্ভ হয়। গ্রন্থাকারে প্রথম প্রকাশ পায় ১৩৩৮ বঙ্গাব্দে (১৯৩১)।

- এ উপন্যাসে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ এসেছে অত্যন্ত বড় ক্যানভাসে।
- উপন্যাসের নায়ক জাহাঙ্গীর বিপ্লবী স্বদেশি দলের সঙ্গে যুক্ত।
- কিন্তু তার যে প্রেমের সম্পর্ক ও নারী সম্পর্কে ধারণা তা যথেষ্ট ঋণাত্মক।

এই উপন্যাসের অন্যান্য চরিত্রগুলো হচ্ছে:
- কুহেলিকা,
- তাহমিনা,
- চম্পা,
- ফিরদৌস বেগম।

- নারী সম্পর্কে এ উপন্যাসে বলা হয়েছে:
‘ইহারা মায়াবিনীর জাত। ইহারা সকল কল্যাণের পথে মায়াজাল পাতিয়া রাখিয়াছে। ইহারা গহন-পথের কণ্টক, রাজপথের দস্যু।'

-----------------
কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য:

- বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং অবিভক্ত বাংলার সাহিত্য, সমাজ ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব।
- তিনি ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে ১৮৯৯) পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তাঁর ডাক নাম ছিলো ‘দুখু মিয়া’।
- বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তিনি ‘বিদ্রোহী কবি’ এবং আধুনিক বাংলা গানের জগতে ‘বুলবুল’ নামে খ্যাত।

• কাজী নজরুল ইসলাম রচিত উপন্যাস:
- বাঁধন-হারা,
- মৃত্যুক্ষুধা,
- কুহেলিকা।

উৎস:
১) বাংলা ভাষা সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২) বাংলাপিডিয়া।

১০৯.
'উৎক্ষেপণ' শব্দের 'উৎ' উপসর্গ কোন্ অর্থ ধারণ করছে?
  1. জোর
  2. ঊর্ধ্ব
  3. আড়াল
  4. গতি
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) ঊর্ধ্ব।

----------------
ব্যাখ্যা:
‘উৎক্ষেপণ’ শব্দটি গঠিত হয়েছে —
উৎ (উপসর্গ) + ক্ষেপণ (মূল শব্দ)

এখানে ‘উৎ’ উপসর্গের অর্থ হলো ঊর্ধ্ব বা উপরের দিকে।
অর্থাৎ, উৎক্ষেপণ মানে হচ্ছে উপরের দিকে নিক্ষেপ করা বা উচ্চে ছোড়া।

যেমন: রকেটের উৎক্ষেপণ (রকেটকে আকাশে ঊর্ধ্বে পাঠানো)।

উল্লেখ্য,
- ’উৎ’ একটি তৎসম (সংস্কৃত) উপসর্গ।

’উৎ’ উপসর্গটি অন্য যেসব অর্থে ব্যবহৃত হয়-
• ’ঊর্ধ্বমুখিতা" অর্থে- উদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন।
• ’আতিশয্য’ অর্থে- উচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন।
• ’প্রস্তুতি’ অর্থে- উৎপাদন, উচ্চারণ।
• ’অপকর্ষ’ অর্থে- উৎকোচ, উচ্ছৃঙ্খল, উৎকট।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ এবং মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

১১০.
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শব্দের শুরুতে মাত্রাযুক্ত এ-কার ব্যবহার করতেন কেন?
  1. এ-কার মাত্রা যুক্ত বলে
  2. 'এ' মাত্রাহীন বর্ণ বলে
  3. 'এ' উচ্চারণ বোঝাতে
  4. 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ঘ) 'অ্যা' উচ্চারণ বোঝাতে।

• ‘এ’ এবং 'অ্যা' - এর উচ্চারণ:
‘এ’- কারের উচ্চারণ ভিন্নতা (‘এ’ এবং 'অ্যা') নির্দেশকল্পে রবীন্দ্রনাথ ‘এ’-কারের মুদ্রণে মাত্রাযুক্ত ও মাত্রাহীন ব্যবহার প্রচলন করেন; যা নির্দেশ করে ধ্বনির পার্থক্য—‘এ’ এবং ‘অ্যা’। শব্দের শুরুতে মাত্রাহীন ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ সংবৃত হয়, অর্থাৎ স্বাভাবিকভাবে ‘এ’ ধ্বনি উচ্চারিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, ‘মেলা’ শব্দটি যদি মাত্রাহীন ‘এ’-কার দিয়ে লেখা হয়, তার উচ্চারণ হবে স্বাভাবিক ‘মেলা’, যা ‘গেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। এ ধরনের উচ্চারণের আরও উদাহরণ হলো: দেবী, সেরা, সেই, বেদনা, মেয়ে, গেলা, জেলা ইত্যাদি।

অপরদিকে, শব্দের আদিতে মাত্রাযুক্ত ‘এ’-কার থাকলে উচ্চারণ বিবৃত হয়, অর্থাৎ ‘অ্যা’ ধ্বনি প্রকাশ পায়। যেমন, ‘মেলা’-র উচ্চারণ হবে ‘ম্যালা’, যা ‘ঠেলা’ শব্দের ‘এ’ ধ্বনির অনুরূপ। তদ্রূপ, কেমন, যেমন, যেন, ফেনা প্রভৃতি শব্দেও এই ধ্বনির ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা এবং বাংলাপিডিয়া।

১১১.
কোন শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত?
  1. ডাক্তারখানা
  2. হাসপাতাল
  3. আকাশছোঁয়া
  4. গুণমান
ব্যাখ্যা

• ডাক্তারখানা - শব্দটি বিদেশি তদ্ধিত প্রত্যয়যোগে গঠিত।

ব্যাখ্যা:
বাংলা ব্যাকরণে, প্রত্যয় হলো এমন শব্দাংশ যা কোনো শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে বা শব্দের অর্থ বা ভাব পরিবর্তন করে।

প্রশ্নে দেওয়া অপশনগুলো বিশ্লেষণ করা হলো:

ক) ডাক্তারখানা:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত। ‘ডাক্তার’ শব্দটির সঙ্গে ‘-খানা’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে ‘ডাক্তারখানা’ গঠিত হয়েছে। ‘খানা’ একটি প্রত্যয়, যা স্থান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এখানে ‘ডাক্তারখানা’ মানে ডাক্তারের চিকিৎসার স্থান বা হাসপাতাল। এটি স্পষ্টভাবে প্রত্যয়যোগে গঠিত শব্দ।

খ) হাসপাতাল:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়। ‘হাসপাতাল’ ইংরেজি hospital শব্দ থেকে এসেছে। এটি একটি সম্পূর্ণ শব্দ, যার কোনো অংশ বাংলায় প্রত্যয় হিসেবে যুক্ত হয়নি। এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়।

গ) আকাশছোঁয়া:
এটি প্রত্যয়যোগে গঠিত নয়। ‘আকাশছোঁয়া’ একটি সমাসবদ্ধ শব্দ এটি সমাসের মাধ্যমে গঠিত, প্রত্যয়ের মাধ্যমে নয়।

ঘ) গুণমান: এটি সঠিক শব্দ নয়। এর শুদ্ধ শব্দ হবে ‘গুণবান’।

তাই, ডাক্তারখানা শব্দটি প্রত্যয়যোগে গঠিত।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১২.
'সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।'- এখানে ভুল ঘটেছে-
  1. বানান ও প্রত্যয়ের
  2. অর্থ ও বচনের
  3. অর্থ ও প্রত্যয়ের
  4. বানান ও বচনের
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) বানান ও বচনের।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি হলো: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিরাই চায়না।” এই বাক্যে দুটি প্রধান ভুল রয়েছে: বানান এবং বচন (number) সংক্রান্ত।

বানানের ভুল:
বাক্যে “চায়না” লেখা হয়েছে, যা ভুল। বাংলা বানানের প্রমিত রূপে সঠিক শব্দটি হলো “চায় না”।
“চায়না” একটি অপ্রমিত রূপ, যা কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত হলেও আনুষ্ঠানিক লেখায় গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানান নিয়ম অনুসারে ক্রিয়াপদ ‘চাওয়া’ এর নেতিবাচক রূপে ‘চায় না’ লেখা হয়। উদাহরণ: “সে যেতে চায় না।”

বচনের ভুল:
বাক্যে “অনেক ব্যক্তিরাই” ব্যবহৃত হয়েছে, যা বচনের দিক থেকে ভুল।
"অনেক" শব্দটি ইতিমধ্যে বহুবচন বোঝায়। তাই আবার "রা" (বহুবচন চিহ্ন) যোগ করার দরকার নেই। এক্ষেত্রে "ই" (বলক) যোগ করলে হবে: অনেক ব্যক্তিই। অথবা "অনেক" ছাড়া হবে: ব্যক্তিরাই।

বাক্যটির সঠিক রূপ হবে: “সত্যকে স্বীকার করতে অনেক ব্যক্তিই চায় না।”

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৩.
পরিভাষিক শব্দ বলতে বুঝায়-
  1. ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর
  2. বিদেশি শব্দের অনুবাদ
  3. বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ
  4. ব্যবহারিক প্রয়োজনে নবনির্মিত শব্দ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: গ) বিষয়গত সুনির্দিষ্ট অর্থবোধক শব্দ।

ব্যাখ্যা:
পরিভাষিক শব্দ বলতে এমন শব্দ বোঝায় যা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়, পেশা, শাস্ত্র, বা ক্ষেত্রের (যেমন: বিজ্ঞান, চিকিৎসা, আইন, সাহিত্য) সঙ্গে সম্পর্কিত এবং সেই ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট অর্থ প্রকাশ করে। এই শব্দগুলো সাধারণত একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয় এবং তাদের অর্থ সাধারণ ব্যবহারের থেকে আলাদা বা সীমিত হতে পারে। উদাহরণ: ‘পরিবাহক’ (conductor, বিদ্যুৎ পরিবহনের প্রেক্ষাপটে), ‘শিক্ষাতত্ত্ব’ (pedagogy, শিক্ষাবিজ্ঞানে)।

অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:

ক) ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর: ভুল।
পরিভাষিক শব্দ শুধু ইংরেজি শব্দের বাংলা রূপান্তর নয়। এটি যেকোনো বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে এবং তৎসম, তদ্ভব, বা নতুন গঠিত শব্দ হতে পারে। উদাহরণ: ‘অণুজীব’ (microbe) ইংরেজি থেকে এলেও, এটি বিজ্ঞানের পরিভাষা হিসেবে সুনির্দিষ্ট।

খ) বিদেশি শব্দের অনুবাদ: ভুল।
পরিভাষিক শব্দ বিদেশি শব্দের অনুবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো স্থানীয়ভাবে গঠিত বা বিষয়ভিত্তিক শব্দও হতে পারে। উদাহরণ: ‘গ্রন্থাগার’ (library) বিদেশি শব্দের অনুবাদ, কিন্তু পরিভাষা হিসেবে এটি গ্রন্থ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট।

ঘ) ব্যবহারিক প্রয়োজনে নবনির্মিত শব্দ: আংশিকভাবে সঠিক, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ নয়।
কিছু পরিভাষিক শব্দ নতুন করে গঠিত হতে পারে (যেমন: ‘দূরদর্শন’ বা ‘টেলিভিশন’), কিন্তু সব পরিভাষিক শব্দ নবনির্মিত নয়। অনেক পরিভাষা তৎসম বা প্রচলিত শব্দ থেকেও আসে (যেমন: ‘শিক্ষাতত্ত্ব’ বা ‘অর্থনীতি’।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১১৪.
'মৃগয়া' শব্দের মৃগ বলতে কি বোঝানো হয়?
  1. বানর
  2. সিংহ
  3. পশু
  4. বন
ব্যাখ্যা

• 'মৃগয়া' শব্দের 'মৃগ' বলতে 'পশু' বোঝানো হয়।

• উল্লেখ্য,
'মৃগ' শব্দের অর্থ - হরিণ, পশু।
'মৃগয়া' শব্দের অর্থ - হরিণ শিকার; বন্য পশুপাখি শিকার।

অন্যদিকে,
• 'বানর' শব্দের অর্থ - বাঁদরসুলভ স্বভাববিশিষ্ট, শাখামৃগ, মর্ব।
• 'সিংহ' শব্দের অর্থ - মৃগেন্দ্র, স্ত্রী. সিংহী /শিংহি।
• 'বন' শব্দের অর্থ - অরণ্য, জঙ্গল, কানন, কুঞ্জ, গহন, বিপিন।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

১১৫.
কোন শব্দটি বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত?
  1. নীরব
  2. উজ্জ্বল
  3. মানোত্তীর্ণ
  4. সংগ্রাম
ব্যাখ্যা

• বিসর্গসন্ধির মাধ্যমে গঠিত শব্দটি হলো - নীরব।
শব্দটির সঠিক সন্ধিবিচ্ছেদ, নিঃ + রব = নীরব।

অন্যদিকে,
- ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি - আগে ৎ বা দ্ এবং পরে চ্ বা ছ্‌ থাকলে ৎ বা দ্‌ স্থানে চ হয়। এবং ৎ বা দ্‌ -এর পরে জ্‌ বা ঝ্‌ থাকলে ত্ দ্‌ স্থানে জ্‌ হয়। যেমন - উৎ + জ্বল = উজ্জ্বল।

- ব্যঞ্জনে + ব্যঞ্জনে = ব্যঞ্জনসন্ধি - ম্-এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব, কিংবা শ, ষ, স, হ থাকলে, ম্ স্থলে অনুস্বার হয়। যেমন- সম্ + সার = সংসার, সম্ + গ্রাম = সংগ্রাম।

- প্রথম পদের শেষের অ-ধ্বনি বা আ-ধ্বনির সঙ্গে দ্বিতীয় পদের প্রথম হ্রস্ব-উ ধ্বনি বা দীর্ঘ-উ ধ্বনির যোগে ও-ধ্বনি হয়। বানানে তা ও-কারের রূপ নিয়ে আগের বর্ণে যুক্ত হয়। যেমন: কাল + উত্তীর্ণ = কালোত্তীর্ণ, মান + উত্তীর্ণ = মানোত্তীর্ণ।

বিসর্গ সন্ধি:
- পূর্বপদের শেষে বিসর্গ (ঃ) থাকলে এবং পরপদের প্রথমে চ্ বা ছ্‌ থাকলে বিসর্গ পরিবর্তিত হয়ে শ্, ট্‌ বা ঠ্‌ থাকলে ষ্‌; ত থাকলে স্ হয় এবং পরবর্তী ব্যঞ্জনে তা যুক্ত হয়।

যেমন:
- নিঃ + চয় = নিশ্চয়,
- দুঃ + চিন্তা = দুশ্চিন্তা,
- নিঃ + ছিদ্র = নিশ্ছিদ্র,
- শিরঃ + ছেদ = শিরশ্ছেদ ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

১১৬.
ভাষার অর্থযুক্ত ক্ষুদ্রতম একক কোনটি?
  1. অক্ষর
  2. রূপমূল
  3. শব্দ
  4. বর্গ
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) রূপমূল।

----------------------
• শব্দ ও রূপমূল:

শব্দকে আরও ক্ষুদ্রতর অংশে বিভক্ত করলে এমন উপাদান পাওয়া যায় যা অর্থ প্রকাশে অংশগ্রহণ করে। ভাষার এই ক্ষুদ্রতম অর্থযুক্ত একককে বলা হয় রূপমূল। অর্থাৎ, রূপমূল হলো ভাষার ক্ষুদ্রতম উপাদান যাদের সুস্পষ্ট অর্থ থাকবে বা অন্ততপক্ষে অর্থের কোনো যৌক্তিক ইঙ্গিত থাকবে।

আমরা জানি, ভাষার সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম উপাদান হলো ধ্বনিমূল, তবে ধ্বনিমূলের মধ্যে কোনো অর্থ বহন করার ক্ষমতা নেই। অন্যদিকে, রূপমূল সর্বদা কোনো না কোনোভাবে অর্থসংশ্লিষ্ট থাকে।

উদাহরণ:
• শব্দ: অবোধ।
• রূপমূল বিশ্লেষণ: অ + বোধ,

এখানে,
• ‘অ’ → উপসর্গ হিসেবে ব্যবহৃত, স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে না পারলেও অভাব বোঝায়।
• ‘বোধ’ → স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।

রূপমূলের শ্রেণীবিন্যাস:
- মুক্ত রূপমূল (Free Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে।
উদাহরণ: বোধ, গান, মাটি।

- বদ্ধ রূপমূল (Bound Morpheme): স্বাধীনভাবে অর্থ প্রকাশ করতে পারে না, অন্য রূপমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অর্থ বোঝায়।
উদাহরণ: ‘অ’ (অবোধে), ‘উৎ’ (উৎক্ষেপণে)।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

১১৭.
ধ্বনি ও বর্ণের পার্থক্য কোথায়?
  1. লেখার ধরনে
  2. উচ্চারনের বিশিষ্টতায়
  3. সংখ্যাগত পরিমানে
  4. ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) ইন্দ্রিয় গ্রাহ্যে।

-------------
ব্যাখ্যা:

বাংলা ব্যাকরণে ধ্বনি এবং বর্ণ দুটি ভিন্ন ধারণা, এবং এদের মধ্যে পার্থক্য প্রধানত তাদের প্রকৃতি এবং ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার মধ্যে নিহিত। নিচে এই পার্থক্য বিশ্লেষণ করা হলো:

ধ্বনি:
ধ্বনি হলো মুখ থেকে উচ্চারিত শব্দ বা কথনের একক, যা কান দিয়ে শোনা যায়। এটি একটি শ্রুতিগ্রাহ্য (auditory) উপাদান। ধ্বনি ভাষার মৌখিক রূপের অংশ এবং এটি উচ্চারণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। উদাহরণ: ‘ক’ ধ্বনি বা ‘আ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় শোনা যায়। ধ্বনির সংখ্যা ভাষার উচ্চারণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করে।

বর্ণ:
বর্ণ হলো ধ্বনির লিখিত রূপ বা চিহ্ন, যা চোখ দিয়ে দেখা যায়। এটি একটি দৃষ্টিগ্রাহ্য (visual) উপাদান। বাংলা বর্ণমালায় স্বরবর্ণ (যেমন: অ, আ, ই) এবং ব্যঞ্জনবর্ণ (যেমন: ক, খ, গ) রয়েছে, যা ধ্বনিকে লিখিত আকারে প্রকাশ করে।

উদাহরণ: যখন আমরা ‘ক’ উচ্চারণ করি, তখন তা ধ্বনি হিসেবে শোনা যায়, কিন্তু যখন লিখি ‘ক’, তখন তা বর্ণ হিসেবে দেখা যায়।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

১১৮.
চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো তিব্বতি থেকে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন-
  1. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
  2. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
  3. রাজেন্দ্রলাল মিত্র
  4. সুকুমার সেন
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ঘ) সুকুমার সেন।

ব্যাখ্যা:
চর্যাপদ হলো বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন, যা ৮ম থেকে ১২শ শতাব্দীর মধ্যে রচিত বৌদ্ধ সহজিয়া পদাবলী। এই পদগুলো মূলত প্রাচীন বাংলা, মৈথিলি, ওড়িয়া, এবং অসমীয়ার মতো পূর্ব ভারতীয় ভাষার মিশ্রণে রচিত। চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি প্রথম আবিষ্কৃত হয় তিব্বতে, এবং এগুলো তিব্বতি ভাষায় অনুবাদিত বা টীকাকৃত আকারে পাওয়া যায়।
-------------
প্রেক্ষাপট:
• প্রশ্নটি স্পষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করছে যে চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো (২৩, ২৪, ২৫, এবং ৪৮ নং) তিব্বতি অনুবাদ থেকে প্রাচীন বাংলায় কে রূপান্তর করেছেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, (অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়) অনুসারে, এই কাজটি করেছেন সুকুমার সেন। তিনি আনুমানিকভাবে প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেছেন।

• ১৯০৭ সালে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগার থেকে চর্যাপদের পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন। এই পাণ্ডুলিপিতে ২৩ এর খণ্ডিত, ২৪, ২৫, এবং ৪৮ নং পদগুলো ছিল না।

• অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অনুসারে,
মূল পুথির চারখানা পাতা লুপ্ত। এই চর্যাটির শেষ চার পঙ্‌ক্তি ও টীকা, ২৪ নং চর্যার সমস্ত অংশ ও টীকা এবং তার পরের অর্থাৎ ২৫ নং চর্যার মূল ও টীকার প্রথম অংশ বিনষ্ট। তবে এই চর্যাগুলির তিব্বতী অনুবাদ পাওয়া গিয়েছে। ডক্টর প্রবোধচন্দ্র বাগচী সেই অনুবাদ প্রকাশ করেন ১৯৪২ সালে। সেই অনুবাদ অবলম্বনে এই চর্যাগুলির মূল কী ছিল তা অনুমান করে একটি পাঠ-পরিকল্পনা দিয়েছেন ডক্টর হুকুমার সেন তাঁর 'চর্যাীতি পদাবলী' গ্রন্থের ৭৬ থেকে ৭৯ পৃষ্ঠায়।


অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
ক) সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়: ভুল।
তিনি তাঁর ভাষাতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে চর্যাপদের ভাষাকে প্রাচীন বাংলা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং এর সাহিত্যিক ও ভাষাগত গুরুত্ব বিশ্লেষণ করেন। তাঁর গবেষণা, বিশেষ করে The Origin and Development of the Bengali Language এবং চর্যাপদের ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ, এই কাজের জন্য উল্লেখযোগ্য।

খ) হরপ্রসাদ শাস্ত্রী: ভুল।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে চর্যাপদের মূল পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার করেন, কিন্তু তিনি তিব্বতি অনুবাদ আবিষ্কার বা রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিব্বতি অনুবাদ ১৯৫৬ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী ও শান্তিভিক্ষু শাস্ত্রীর সম্পাদনায় বিশ্বভারতী থেকে প্রকাশিত হয়।

গ) রাজেন্দ্রলাল মিত্র: ভুল।
রাজেন্দ্রলাল মিত্র (১৮২৪-১৮৯১) চর্যাপদ আবিষ্কারের (১৯০৭) অনেক আগে মারা যান। তিনি সংস্কৃত সাহিত্য ও পুরাতত্ত্ব নিয়ে কাজ করলেও চর্যাপদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।

ঘ) সুকুমার সেন: সঠিক।
অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত অনুসারে, সুকুমার সেন প্রবোধচন্দ্র বাগচীর সংস্কৃত অনুবাদের ভিত্তিতে চর্যাপদের খণ্ডিত পদগুলো প্রাচীন বাংলায় রূপান্তর করেন এবং তা প্রকাশ করেন।
--------------------
--------------------
'চর্যাপদ' সম্পর্কিত আরো কিছু তথ্য:

• বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনযুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাচর্যবিনিশ্চয় বা চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি বা চর্যাপদ।
• ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজ দরবার গ্রন্থাগার থেকে এটি আবিষ্কার করেন।
• চর্যাপদের পদ সংখ্যা: চর্যাপদের পদ সংখ্যা ৫০টি। তবে সুকুমার সেন মনে করেন পদসংখ্যা ৫১টি।
• উদ্ধারকৃত পদের সংখ্যা: চর্যাপদের সাড়ে ৪৬টি পদ পাওয়া যায়।

• অনুদ্ধারকৃত/বিলুপ্ত পদের সংখ্যা: সাড়ে ‍৩টি। প্রাপ্ত সাড়ে ৪৬টি পদের মধ্যে ভুসুকুপা রচিত ২৩নং পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া গেছে। পদটির ৬টি পদ পাওয়া গেছে কিন্তু বাকি ৪টি পদ পাওয়া যায়নি।
• এছাড়াও চর্যাপদের ২৪নং (কাহ্নপা রচিত), ২৫নং (তন্ত্রীপা রচিত) এবং ৪৮নং (কুক্কুরীপা রচিত) পদগুলো পাওয়া যায়নি।

• চর্যাপদ তিব্বতি ভাষায় অনুবাদ করেন কীর্তিচন্দ্র।
• ১৯৩৮ সালে প্রবোধচন্দ্র বাগচী চর্যাপদের তিব্বতি ভাষার অনুবাদ আবিষ্কার করেন।
• সংস্কৃত ভাষায় মুনিদত্ত চর্যাপদের ব্যাখ্যা করেন। তিনি ১১নং পদের ব্যাখ্যা করেননি।

উৎস: বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত - অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়; চর্যাগীতি_পরিক্রমা- ড. নির্মল দাশ; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, মাহবুবুল আলম; বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস- সুকুমার সেন, Buddhist Mystic Songs- মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, এবং বাংলাপিডিয়া।

১১৯.
'স্বাধীন' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি?
  1. স্বীয়-এর অধীন
  2. সত্ত্বার অধীন
  3. স্ব-এর অধীন
  4. স্বত্তের-অধীন
ব্যাখ্যা

• সঠিক উত্তর - স্ব-এর অধীন। এটি একটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।

ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস:
- পূর্বপদে যষ্ঠী বিভক্তির (র, এর) লোপ হয়ে যে সমাস হয়, তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে।

যথা:
- চায়ের বাগান = চাবাগান,
- রাজার পুত্র = রাজপুত্র,
- খেয়ার ঘাট = খেয়াঘাট।
- স্ব-এর অধীন = স্বাধীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, অভিগম্য অভিধান।

১২০.
ফররুখ আহমদের গ্রন্থ কোনটি?
  1. হরফের ছড়া
  2. বর্ণশিক্ষা
  3. বর্ণপরিচয়
  4. সহজ ছড়া
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো: ক) হরফের ছড়া।

------------------
‘হরফের ছড়া’ গ্রন্থ:

‘হরফের ছড়া’ ফররুখ আহমদের লেখা একটি বর্ণশিক্ষার বই, যা শিশুদের জন্য ছড়ার মাধ্যমে বাংলা বর্ণমালা শেখানোর উদ্দেশ্যে রচিত। এটি ১৯৭০ সালে প্রকাশিত হয়।

অন্যদিকে,

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর: তিনি ‘বর্ণপরিচয়’ নামে বিখ্যাত বর্ণশিক্ষার বই লিখেছেন। শিশুদের বাংলা ভাষা শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে এটিই প্রথম।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সহজ পাঠ’ নামে শিশুসাহিত্য রচনা করেছেন।
‘বর্ণশিক্ষা’ বলতে কোনো গ্রন্থ পাওয়া যায়নি।

----------------
ফররুখ আহমদ এর জীবিনী ও সাহিত্যকর্ম:

- ফররুখ আহমদ ১৯১৮ সালের ১০ জুন মাগুরা জেলার শ্রীপুর থানার মাঝাইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
- তিনি ছিলেন মুসলিম পুনর্জাগরণবাদী কবি।
- ‘সাত সাগরের মাঝি’ ফররুখ আহমদ রচিত শ্রেষ্ঠ এবং প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ।
- ১৯৪৪ সালে কলকাতার দুর্ভিক্ষের পটভূমিতে ‘লাশ’ কবিতা লিখে তিনি প্রথম খ্যাতি অর্জন করেন।
- ফররুখ আহমদ তাঁর বিখ্যাত কাহিনী কাব্য 'হাতেমতায়ী' এর জন্য ১৯৬৬ সালে আদমজি পুরস্কার লাভ করেন।
- ১৯৬৬ সালেই 'পাখির বাসা' শিশুতোষের জন্য ইউনেস্কো পুরস্কার লাভ করেন।
- ‘মুহূর্তের কবিতা’ ফররুখ আহমদ রচিত একটি সনেট সংকলন।

তাঁর শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত গ্রন্থ:
- পাখির বাসা,
- হরফের ছড়া,
- নতুন লেখা,
- ছড়ার আসর,
- চিড়িয়াখানা,
- কিস্‌সা কাহিনী,
- মাহফিল ১ম ও ২য় খণ্ড,
- ফুলের জলসা।

উৎস:
১. বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।
২. বাংলাপিডিয়া।
৩. ‘হরফের ছড়া’ রচনা।

১২১.
Pick the correctly spelt word:
  1. Conscintious
  2. Consientious
  3. Concientious
  4. Conscientious
ব্যাখ্যা

• The correctly spelt word: Conscientious.

• Conscientious (adjective):
- English Meaning: Meticulous, careful; Feeling a moral responsibility to do your work carefully and to be fair to others.
- Bangla Meaning: বিবেকবান; বিবেকবুদ্ধিসম্পন্ন।

• Example:
- A conscientious public servant.
- She has always been a very conscientious worker.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২২.
They talked about going on a vacation'. Here 'going' is a/an-
  1. participle
  2. infinitive
  3. verbal noun
  4. gerund
ব্যাখ্যা

• They talked about going on a vacation.
- Here 'going' is a gerund.

- Here, “going” comes after the preposition “about”, so it must function as a noun.
- প্রদত্ত বাক্যে, going (verb+ing)- preposition “about” -এর object হিসেবে বসে noun -এর কাজ করেছে তাই এটি gerund.
- অর্থাৎ, 'going' এখানে যাওয়ার কাজ (an act or instance of going) বুঝাচ্ছে।
- এটি participle নয়, কারণ এই বাক্যে এটি কোনো noun/pronoun কে modify করেনি।

• Gerund:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি noun -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও noun -এর কাজ করে, তখন তাকে Gerund বলে।
- সহজে → Gerund = Verb + ing = noun = Verb + noun -এর কাজ করে।
- Gerunds don’t describe action—they act as nouns.

• Functions of the Gerund:
1. As a subject of a verb: Rising early is a good habit.
2. As an object of a verb: I like reading poetry.
3. As an object of a preposition: I am tired of waiting.
4. As a complement of a verb: Seeing is believing.
5. As absolutely (part of a compound noun): This is my writing table.

অন্যদিকে,
• Present participle:
- Verb -এর সাথে ing যোগ হয়ে যদি adjective -এর কাজ করে অর্থাৎ, একই সাথে Verb ও adjective -এর কাজ করে, তাহলে তাকে present participle বলে।
- সহজ ভাষায় → present participle হলো Verb + ing = adjective = Verb + adjective কাজ করে।
- Present participle দ্বারা চলমান sense বোঝায়।
- যেমন: Everything was in going order.

• Infinitive:
- Infinitive হচ্ছে verb এর base form অথবা to + base form.
- যেমন: go, to go.

• Infinitive দুই রকম হতে পারে। যেমন:
- To -যুক্ত infinitive এবং
- To -বিহীন infinitive বা Bare Infinitive.

• Verbal Noun:
- কোন বাক্যের Verb + ing - এর পূর্বে the এবং পরে of থাকলে তাকে Verbal Noun বলে।
- The + verb+ing + of = verbal noun.
- যেমন: The making of the plan is in hand.

Source:
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

১২৩.
The novel 'Wuthering Heights' was penned by the author under the penname-
  1. Ellise Bellet
  2. Ellis Belle
  3. Ellis Bell
  4. Una Elis
ব্যাখ্যা

• The novel 'Wuthering Heights' was penned by the author under the pen name Ellis Bell.

• Wuthering Heights:

- Emily Bronte রচিত এই উপন্যাসটি ১৮৪৭ সালে Ellis Bell ছদ্মনামে প্রকাশিত হয়।
- 'Heathcliff' এই উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র একজন এতিম বালক।
- অন্যের আশ্রয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে আশ্রয়দাতার কন্যা Catherine Earnshaw -এর সাথে তার মনের মিলন ঘটে, দুইজন দুইজনকে ভালোবেসে ফেলে।
- কিন্তু Catherine প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে অন্যত্র বিয়ে করলে Heathcliff নিরুদ্দেশ হয়ে যায়।
- যখন ফিরে আসে তখন সে অঢেল অর্থ বিত্তের মালিক।
- কাহিনীর এ পর্যায়ে তাকে তার মালিকের বাড়ি Wuthering Heights কিনে নেয়ার পাশাপাশি প্রাক্তন প্রেমিকা Catherine -এর ননদের সাথে প্রেমের অভিনয় করে সম্পত্তির লোভে তাকে বিয়ে করতে দেখা যায়।
- পরবর্তীতে এই বিয়েটা ভেঙে যায় এবং এরপর Catherine মারা যায়। তার ভাই Hindley ও মারা যায়। কিন্তু তাদের সন্তানরা ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।
- Heathcliff -এর সন্তানও এদের সাথে যোগ দেয়। এভাবে কাহিনী এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মের মাঝে এগিয়ে চলে।
- এটি ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রোমান্টিক ট্র্যাজেডি এবং Gothic Novel -এর একটি অন্যতম উদাহরণ।

• Main characters:
- Catherine Earnshaw,
- Cathy Linton,
- Edgar Linton,
- Heathcliff (The central character)
- Lockwood, etc.

• Emily Bronte (1818-1848):
- Emily Bronte ছিলেন একজন ইংরেজ লেখিকা ও কবি।
- তার পুরো নাম Emily Jane Bronte, তার ছদ্মনাম Ellis Bell.
- তিনি Charlotte Bronte -এর ছোট বোন।
- “Wuthering Heights” উপন্যাসকে ঘিরেই মূলত তার পরিচতি।
- মাত্র ত্রিশ বছর বয়সেই এই উপন্যাসিক মৃত্যু বরণ করেন।

• Notable Works:
- Poems by Currer, Ellis and Acton Bell,
- Wuthering Heights, etc.

Source: Britannica.

১২৪.
Which gender is the noun 'neighbour'?
  1. Masculine
  2. Feminine
  3. Neuter
  4. Common
ব্যাখ্যা

• 'Neighbour' is a Common gender.

• Neighbour (noun, adjective, verb)
- English Meaning: one living or located near another.
- Bangla Meaning: প্রতিবেশী; প্রতিবাসী; পড়শি।

- The noun "neighbour" refers to a person (male or female) who lives near or next to another.

• Common gender:
- A noun that denotes either a male or female is said to be of the common gender.
- অর্থাৎ, Noun টি পুংবাচক বা স্ত্রীবাচক উভয়কেই বুঝালে তা Common Gender হয়।
- যেমন: Infant (শিশু), Deer (হরিণ), student (ছাত্র/ছাত্রী), lawyer (উকিল), Neighbor (প্রতিবেশী), orphan (এতিম), parent (মা, বাবা), spouse (দম্পতি) etc.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.

১২৫.
'Someone sneezed loudly at the back of the hall'.
In this sentence the verb 'sneezed' is-
  1. causative
  2. intransitive
  3. transitive
  4. factitive
ব্যাখ্যা

• 'Someone sneezed loudly at the back of the hall'.
- In this sentence, the verb 'sneezed' is intransitive.

- "sneezed" এখানে Intransitive verb কারণ এটি কোনো Direct object গ্রহণ করেনি।
- Intransitive verb হলো এমন Verb যা কোন Direct object ছাড়াই সম্পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
-
The verb "sneezed" does not take a direct object - it expresses an action that does not pass over to an object.
- অর্থাৎ এটি কেবল subject -এর কাজ বোঝাচ্ছে, sneezed কোনো বস্তু বা ব্যক্তিকে (object) প্রভাবিত করছে না।

• Intransitive verb:
- An intransitive verb is a verb that denotes an action which does not pass over to an object, or which expresses a state or being.
- অর্থাৎ, intransitive verb হলো subject নিজের দ্বারাই যে কাজ সম্পন্ন হয়, action (কাজ) সম্পন্ন হওয়ার জন্য object -এর দ্বারস্থ হতে হয় না।
- যে verb -এর কর্ম (direct object) নেই তাকে Intransitive verb বলে।
- এই verb কে 'কি' বা 'কাকে' দ্বারা প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় না। Direct object থাকে না বলে প্রশ্ন করলে উত্তর পাওয়া যায় না।
- সাধারণত verb-এর পরে কোনো word না থাকলে অথবা verb-এর পরে adverb/preposition থাকলে সেটি Intransitive verb হবে।

• More Examples:
- The glass broke.
- We shall stop here a few days.
- The leaves fall in winter.

অন্যদিকে,
• Causative Verb:
- Subject যখন নিজে কাজ না করে অন্যকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেয় তখন এই অর্থে causative verb ব্যবহৃত হয়।
- Help, Get, Have, Let, Make ইত্যাদি বহুল প্রচলিত causative verb.
- Make, have, get প্রভৃতি যোগে অনেক verb- কে causative verb এ পরিণত করা যায়।
- যেমন: He always has me do his work. (সে সব সময় আমাকে দিয়ে তার কাজ করিয়ে নেয়।)

• Transitive verb:
- যে verb এর object আছে তাকে transitive verb বলে৷
- Transitive verbs এর সাধারণ Structure হচ্ছে: subject + verb + object.
- Object সর্বদাই Noun অথবা Pronoun হয়।
- তাই বাক্যে verb এর পরে Noun অথবা Pronoun থাকলে verb টি সাধারণত transitive verb হবে।
- আবার intransitive verb এর শেষে preposition + object যুক্ত করেও তাকে transitive verb এ পরিণত করা যায়।
- যেমন: He writes a letter. write হলো transitive verb, কারণ এর object হলো a letter.

• Factitive Verb:
- যে Verb এর Object বসানোর পরও Objective Complement ছাড়া বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে Factitive Verb বলে।
- Factitive Verb হলো এমন ক্রিয়া যা দুটি object নেয় - একটি direct object এবং একটি object complement।
- এই verb direct object কে object complement হিসেবে বর্ণিত অবস্থায় পরিণত করে বা নিয়োগ দেয়।
- কিছু factitive verbs হলো: Elect, Select, Make, Appoint, Call, Name, etc.

- যেমন: The manager appointed him secretary.
- উল্লিখিত বাক্যে secretary হচ্ছে Objective Complement Factitive Object.
- "The manager appointed him" দ্বারা বাক্য সম্পন্ন হচ্ছে না, তাই Objective Complement হিসেবে secretary বসানোর পর বাক্যটি সম্পন্ন হয়েছে।
- যেহেতু Object (him) বসানোর পরও Objective Complement ছাড়া বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয়নি তাই এটি Factitive Verb.

Source:
1. High School English Grammar and Composition by Wren And Martin.
2. A Passage to the English Language by S.M. Zakir Hussain.

১২৬.
A person who leaves his/her own country to settle permanently in another is called a/an-
  1. immigrant
  2. expatriate
  3. emigrant
  4. migrant
ব্যাখ্যা

• A person who leaves his/her own country to settle permanently in another is called an emigrant.

• Emigrant (Noun, Adjective)
- English Meaning: A person who leaves his/her own country to settle permanently in another country.
- Bangla Meaning: স্বদেশত্যাগী; বাস্তুত্যাগী বা দেশান্তরী (ব্যক্তি)।

অন্যদিকে,
• Immigrant (Noun):
- English Meaning: A person who comes to a country to take up permanent residence.
- Bangla Meaning: বহিরাগত; অভিবাসী; বসবাসের জন্য বিদেশে আগমনকারী।

• Expatriate (Noun, verb, adjective):
- English Meaning: A person who lives in a foreign country.
- Bangla Meaning: প্রবাসী ব্যক্তি।

• Migrant (Noun):
- English Meaning: A person who moves from one place to another, especially in order to find work or better living conditions; a bird or animal that migrates.
- Bangla Meaning: বসবাসের উদ্দেশ্যে এক স্থান ত্যাগ করে অন্যত্র গমনকারী (বিশেষত পাখি)।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২৭.
Identify the word that can be used as both singular and plural:
  1. light
  2. shot
  3. criterion
  4. cannon
ব্যাখ্যা

• The correct answer is- ঘ) cannon.

• Cannon (Noun & Verb):
- English meaning: An old type of large, heavy gun, usually on wheels, that fires solid metal or stone balls.
- Bangla meaning: (collective; plural- এর স্থলে প্রায়ই 'singular ব্যবহৃত হয়) (বিশেষত ধাতুর তৈরি নীরেট গোলানিক্ষেপক, প্রাচীন) কামান; আধুনিক সামরিক বিজ্ঞানে ব্যবহৃত গোলানিক্ষেপক ভারী, স্বয়ংক্রিয় কামান।

- Cannon -এর plural form হলো দুইটি- cannons or cannon.
- তবে সাধারণত plural হিসেবে cannon-ই ব্যবহার করা হয়।
- cannon (same form in military contexts).

অন্যদিকে,
• Light [uncountable noun] - আলোক; আলো → singular: light, plural: lights.

• Shot [countable noun] - গুলি; গুলিবর্ষণ; গুলির শব্দ → singular: shot, plural: shots.
- তবে ছোট সীসা বা ইস্পাতের গুলি, বিশেষ করে শটগানের জন্য চার্জ তৈরি করা অর্থে plural noun: shot ব্যবহৃত হয়।
- প্রচলিত plural form হলো- Shots.
- যেমন: Several shots were fired.

• Criterion (plural criteria বিচারের মাপকাঠি; মানদণ্ড) → singular: criterion, plural: criteria.

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১২৮.
Identify the correct passive form, "People thought that the despot was corrupt"
  1. The despot had been thought to be corrupt.
  2. It was thought that the despot was corrupt.
  3. The despot was thought to be corrupt.
  4. The despot is thought to be corrupt.
ব্যাখ্যা

- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: The despot was thought to be corrupt.

- এই ধরনের complex বাক্যে যেখানে that-clause আছে, সেখানে passive form তৈরির দুটি উপায় আছে:
- প্রথম উপায় (Impersonal passive) দ্বিতীয় অংশকে 'It' ধরে। যেমন:
- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: It was thought that the despot was corrupt.

- Subject হিসেবে People থাকলে Passive voice -এ সাধারণত তা লেখা হয় না।
- তবে, দ্বিতীয় অংশে transitive verb থাকলে দ্বিতীয় অংশেরও Passive করতে হয়।

- দ্বিতীয় উপায় (Personal passive):
- সাধারণত Acknowledge, assume, think, claim, believe, know, report, understand, ইত্যাদি verb যুক্ত Active voice এর Passive করার নিয়ম-
- Personal object টিকে subject ধরা হয়।
- Tense অনুযায়ী auxiliary verb বসে।
- মূল verb -এর past participle + to be + direct object + by + subject -এর objective form.
- যেমন:
- Active: People thought that the despot was corrupt.
- Passive: The despot was thought to be corrupt.

- তবে এই প্রশ্নে গ) অপশনটিই সবচেয়ে উপযুক্ত হবে কারণ:
- Option গ) is more direct and commonly used when the focus is on the despot as the subject of the belief.

অন্যান্য অপশনগুলো বিশ্লেষণ:
ক) The despot had been thought to be corrupt.
- এটি ভুল কারণ, এখানে ভুল tense (had been = past perfect) ব্যবহার হয়েছে।

ঘ) The despot is thought to be corrupt.
- এটি ভুল কারণ, এখানে ভুল tense (is = present, কিন্তু মূল বাক্যে past tense) ব্যবহার হয়েছে।

১২৯.
'After lunch we went for a leisurely stroll'. Here 'leisurely' is a /an-
  1. adverb
  2. adjective
  3. noun
  4. conjunction
ব্যাখ্যা

• 'After lunch we went for a leisurely stroll'.
- Here 'leisurely' is an adjective.

- The word "leisurely" describes the noun "stroll" — it tells what kind of stroll it was.
- When a word modifies a noun, it functions as an adjective.
- অর্থাৎ, 'leisurely' শব্দটি noun 'stroll' এর আগে বসে এটিকে বর্ণনা করছে।

• Leisurely (adjective)
- English Meaning: acting or done at leisure; unhurried or relaxed.
- Bangla Meaning: ব্যস্ততাহীন।

• Leisurely (adverb)
- English Meaning: without haste: deliberately.
- Bangla Meaning: মন্থরগতিতে; ধীরে ধীরে; ব্যস্ততাহীনভাবে।

Source:
1. Accessible Dictionary by Bangla Academy.
2. Merriam-Webster Dictionary.

১৩০.
The play "Englishmen for My Money" was written by-
  1. Christopher Marlowe
  2. Thomas Kyd
  3. William Haughton
  4. Ben Jonson
ব্যাখ্যা

• The play "Englishmen for My Money" was written by William Haughton.

• Englishmen For My Money: Or A Woman Will Have Her Will:
- Englishmen for My Money, or A Woman Will Have Her Will হলো এলিজাবেথীয় যুগের একটি কমেডি নাটক, যা ১৫৯৮ সালে William Haughton রচনা করেছিলেন।
- Scholars and critics often cite it as the first city comedy.
- এই নাটকটি একটি dramatic subgenre সূচনা করেছিল, যা পরবর্তীতে Thomas Dekker, Thomas Middleton, Ben Jonson, এবং অন্যান্যরা পরবর্তী বছর ও দশকে আরও প্রসারিত ও উন্নত করেছিলেন।

• Summary:
- গল্পটি আবর্তিত হয় এক ধনী বিধবা মিসেস ফ্লাওয়ারডেলকে নিয়ে, যাকে তিনজন পুরুষ - স্যার লিওনেল ফ্রিভিল, স্যার থমাস লং এবং মাস্টার গ্যালিয়ার্ড - এর প্রতি আকৃষ্ট হয়। প্রতিটি পুরুষ তার স্নেহ ও ভাগ্য জয়ের চেষ্টা করে, কিন্তু মিসেস ফ্লাওয়ারডেল তার নিজের পথ নির্ধারণ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সে এমন ব্যক্তিকে বেছে নেয় যে তার ইচ্ছা পূরণ করতে পারে। নাটকটি সেই সময়ের সামাজিক রীতিনীতি এবং নারী-পুরুষের মধ্যে ক্ষমতার গতিশীলতার উপর একটি বুদ্ধিদীপ্ত এবং বিনোদনমূলক দৃষ্টিপাত। হটনের লেখনী ধারালো ও হাস্যরসাত্মক, এবং চরিত্রগুলি সুসংহত ও স্মরণীয়।

• William Haughton (1575-1605):
- William Haughton ছিলেন এলিজাবেথীয় যুগের একজন ইংরেজ নাট্যকার।
- তিনি ১৫৯৭ থেকে ১৬০৫ সাল পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন এবং প্রখ্যাত Admiral’s Men (a theatrical company) নাট্যকোম্পানির জন্য নাটক লিখতেন।
- He collaborated in many plays with Henry Chettle, Thomas Dekker, John Day and Richard Hathway.
- তার সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক হলো "Englishmen For My Money", এই নাটকটিকেই ইংরেজি ভাষার প্রথম প্রহসন-ভিত্তিক শহুরে কমেডি (City Comedy) হিসেবে ধরা হয়।

• Notable works:
- Englishmen For My Money,
- The Devil and His Dame,
- The English Moor, etc.

Source:
1. Britannica.
2. Goodreads.com

১৩১.
"... I cannot but conclude the Bulk of your Natives, to be the most pernicious race of little odious vermin that Nature ever suffered to crawl upon the surface of the Earth". the statement occurs in
  1. Robinson Crusoe
  2. A Doll's House
  3. Vanity Fair
  4. Gulliver's Travels
ব্যাখ্যা

"... I cannot but conclude the Bulk of your Natives, to be the most pernicious race of little odious vermin that Nature ever suffered to crawl upon the surface of the Earth". - এই উক্তিটি এসেছে Jonathan Swift-এর বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক রচনা Gulliver’s Travels থেকে।

• Gulliver's Travels:

- Jonathan Swift রচিত একটি novel, তিনি Augustan age এর একজন Author, তাই এটি Augustan age এর রচনা।
- এটি 18th century এর একটি famous satire.
- এটি ৪ খন্ডের একটি রম্য রচনা।
- এর full title হচ্ছে - Travels into Several Remote Places in the World.
- এই novel টি ১৭২৬ সালে প্রকাশিত হয়।

• Lemuel Gulliver সমুদ্র ভ্রমণে বের হয় এবং পথিমধ্যে ঝড়ের কবলে পড়ে জাহাজ ভেঙ্গে যায়।
- Gulliver প্রানে বেঁচে যায় কিন্তু এক অদ্ভুত দেশে নিজেকে আবিষ্কার করে যেখানে সবার উচ্চতা ৬ ইঞ্চির নিচে।
- তার বিশাল দেহ নিয়ে লিলিপুটদের নানা উপকারে আসে, এমনকি পার্শ্ববর্তী রাজ্য Blefuscu এর সাথে চলমান যুদ্ধেও লড়াই করে।
- এভাবে সে লিলিপুটদের রাজ্যে একপ্রকার হিরোতে পরিণত হয়।
- যদিও এক পর্যায়ে Gulliver তাদের রোষের শিকার হয় এবং তার শাস্তি হয় তার চোখ তুলে ফেলা হবে।
- পরিশেষে Gulliver শাস্তি এড়াতে সমর্থ হয় এবং বেঁচে ফিরে আসে।

• Jonathan Swift:
- তিনি একজন Anglo-Irish author এবং clergyman ছিলেন।
- তিনি Augustan age এর একজন Author.
- Jonathon Swift, an Anglo-Irish author, who was the foremost prose satirist in the English language.
- অর্থাৎ, ইংরেজি সাহিত্যের সবচেয়ে বিখ্যাত ব্যঙ্গরচয়িতা বা satirist হলেন Jonathan Swift.
- তার রচিত বিখ্যাত satire হলো ‘Gulliver’s Travels’.
- তাঁর ছদ্মনাম Isaac Bickerstaff.

• Famous works:
- Gulliver's Travels,
- A Tale of a Tub,
- A Modest Proposal,
- The Battle of Books.

Other options,
ক) Robinson Crusoe
লেখক: Daniel Defoe.

খ) A Doll’s House
লেখক: Henrik Ibsen.

গ) Vanity Fair
লেখক: William Makepeace Thackeray.

Source: Britannica & Live MCQ lecture.

১৩২.
'We know that the earth is a planet'. The underlined part is a/an-
  1. noun clause
  2. adverbial clause
  3. adjective clause
  4. principal clause.
ব্যাখ্যা

We know that the earth is a planet. The underlined part is a/an - Noun clause.
- এখানে "that the earth is a planet" অংশটি 'know' verb -এর object হিসেবে কাজ করছে।

• Noun clause:

- যে সব subordinate- clause noun এর কাজ করে থাকে অর্থাৎ, subject, object, compliment, বা case in apposition- এর কাজ করে থাকে তাদেরকে বলে noun clause.
- Noun clauses are used when a single word isn't enough.

• একটি বাক্যের যেসব স্থানে Noun clause বসতে পারে -

1. Verb এর subject হিসেবে।
Example: That he has much money is known to all.

2. Verb এর object হিসেবে।
Example: I know that he has done it.

3. Verb এর complement হিসেবে।
Example: This is what I said.

4. Preposition এর object হিসেবে;
Example: I cannot understand the meaning of what he said.

5. Noun/ pronoun - এর apposition হিসেবে।
Example: The fact that he is a thief is clear to all.

Source:
- A Passage to the English Language, S.M. Zakir Hussain.
- Advanced Learner's Grammar and Composition by Chowdhury and Hossain.

১৩৩.
Select the sentence in which 'better' is an adverb.
  1. We're helping for better weather tomorrow.
  2. Sound travels better in water than in air.
  3. It's hard to decide which one is better.
  4. He joined the gym to better his health.
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) Sound travels better in water than in air.
- এই বাক্যে 'better' শব্দটি 'travels' verb কে বর্ণনা করছে।
- এটি বলছে শব্দ কীভাবে ভ্রমণ করে।
- অর্থাৎ, "শব্দ পানিতে বেশি ভালোভাবে ভ্রমণ করে"।
- যেহেতু এটি verb কে modify করছে, তাই এটি adverb.

Better: [adverb]
English meaning: in a more excellent or pleasant way; to a higher or greater degree.
Bangla meaning: কোনো কাজ বা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো বা বেশি আনন্দদায়কভাবে ঘটেছে।

Example:
- She sings much better than I do.
- Sound travels better in water than in air.

Other options,

ক) We're hoping for better weather tomorrow.
- 'better' এখানে adjective.
- এটি noun 'weather' কে বর্ণনা করছে।

গ) It's hard to decide which one is better.
- এখানে better হচ্ছে adjective।
- এখানে "better" শব্দটি "which one" কে বর্ণনা করছে।
- এটি verb 'is' এর পরে complement হিসেবে এসেছে।

ঘ) He joined the gym to better his health.
- এখানে better হলো verb, অর্থাৎ “উন্নত করা”।

Source:
- Oxford Dictionary.

১৩৪.
Fill in the blanks with appropriate words. 'Selina knocked it _______ the park with her performance in culinary art.
  1. outside
  2. out of
  3. inside
  4. off
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর হলো খ) out of.

Complete sentence: Selina knocked it out of the park with her performance in culinary art.
Bangla: সেলিনা রান্নার শিল্পে তার পারফরম্যান্স দিয়ে অসাধারণ সফলতা পেয়েছে/দুর্দান্ত করেছে।

knock sb/sth out of the park: [idiom]

English meaning: to do something much better than someone else, or to be much better than someone or something else/ to do something extremely well.
Bangla meaning: কারো চেয়ে অনেক ভালো কিছু করা, বা কারো/কিছুর চেয়ে অনেক বেশি সাফল্য অর্জন করা/ কোনো কাজ চরমভাবে দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করা।

Example:
- Hotel Ferrero knocks everyone out of the park with their breakfast.
- The BBC is hitting them all out of the park at the moment, in children's drama at least.
- I feel like I can write anything for this actor, and she'll knock it out of the park.
- If I don't hit this out of the park, I'm finished.

সঠিক idiom টি হলো - knock out of the park তাই উল্লিখিত অন্য অপশন গুলো এখানে অপ্রাসঙ্গিক।

Source:
- Cambridge Dictionary.

১৩৫.
The idiom 'icing on the cake' means -
  1. a slice of the cake
  2. an attractive but unnecessary addition
  3. an attractive service
  4. an attractive and essential enhancement
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - খ) an attractive but unnecessary addition.

• The icing on the cake:
[idiom]
English meaning: If you describe something as the icing on the cake, you mean that it makes a good thing even better, but it is not essential.
Bangla meaning: এর মানে হলো এটি ইতিমধ্যেই ভালো কিছুকে আরও ভালো করে তোলে, কিন্তু এটি অপরিহার্য নয়।

Example:

- I was just content to see my daughter in such a stable relationship, but a grandchild, that really was the icing on the cake.

- I love my job, and getting public recognition is merely the icing on the cake.

- The third goal was the icing on the cake.

Other options,
ক) a slice of the cake:
→ কেকের একটি টুকরো।

খ) an attractive but unnecessary addition:
→ আকর্ষণীয় কিন্তু অপ্রয়োজনীয় সংযোজন।

গ) an attractive service:
→ আকর্ষণীয় সেবা।

ঘ) an attractive and essential enhancement:
→ আকর্ষণীয় এবং প্রয়োজনীয় সংযোজন।

অপশন গুলোর অর্থ বিবেচনা করে দেখা যায়, সঠিক উত্তর - খ) an attractive but unnecessary addition.

Source:
- Cambridge Dictionary.
- Collins Dictionary.

১৩৬.
Choose the synonym for 'fright':
  1. placidity
  2. composure
  3. apprehension
  4. equanimity
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: গ) apprehension.

• Fright: [noun]

English meaning: the feeling of fear, especially if felt suddenly, or an experience of fear that happens suddenly.
Bangla meaning: আকস্মিক প্রচণ্ড ভীতি; আতঙ্ক; ত্রাস; সন্ত্রাস; শঙ্কা।

Other options,

ক) Placidity: [noun]
English meaning: the fact of being calm and peaceful, with very little movement.
Bangla meaning: শান্ততা; প্রসন্নতা।

খ) Composure: [noun]
English meaning: the state of being calm and in control of your feelings or behaviour.
Bangla meaning: শান্তি; স্থৈর্য; আত্মসংবরণ।

গ) Apprehension: [noun]
English meaning:
- worry about the future, or a fear that something unpleasant is going to happen.
- an act of catching and arresting someone who has not obeyed the law.
- the act of understanding something, or the way that something is understood.

Bangla meaning:

- [Countable noun, Uncountable noun] আশঙ্কা; ভবিষ্যৎ বিষয়ে উৎকণ্ঠার অনুভূতি: filled with apprehension; an apprehension of failure.
- [Uncountable noun] (আইন সম্বন্ধীয়) গ্রেফতার: the apprehension of a thief.
- [Uncountable noun] উপলব্ধি; চেতনা; বোধ: apprehension of truth.

ঘ) Equanimity: [noun]
English meaning: a calm mental state, especially after a shock or disappointment or in a difficult situation
Bangla meaning: মনমেজাজের প্রশান্তি।

অপশন বিবেচনা করে দেখা যায়, Fright এর synonym হলো - Apprehension.

Source:
- Cambridge Dictionary.
- Accessible Dictionary.
- Oxford Dictionary.

১৩৭.
"Rubiyat of Khayyam" is attributed to
  1. Edward FitzGerald
  2. Scott Fitzgerald
  3. Thomas Fitzgerald
  4. William Fitzgerald
ব্যাখ্যা

সাহিত্য কর্মটির সঠিক নাম - The Rubaiyat of Omar Khayyam.

The Rubaiyat of Omar Khayyam:
- এটি রচনা করেন সাহিত্যিক Edward Fitzgerald.
- যুগ শ্রেষ্ঠ জ্যেতির্বিজ্ঞানী ওমার খৈয়ামের রচনা থেকে অনুপ্রাণিত।
- এটি মূলত: অনুবাদ নয় বরং মূল গ্রন্থকে সামনে রেখে মৌলিক রচনা।
- এটি ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে একটি Classic হিসেবে বিবেচিত।
- It is one of the most frequently quoted lyric poems, and many of its phrases are passed into common currency.
- প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৫৯ সালে।
- ইংরেজি সংস্করণে এই নামের সাথে যুক্ত হয়- "the Astronomer-Poet of Persia" বাক্যটি।

• Edward Fitzgerald:
- Edward Fitzgerald belongs to the Victorian Period.
- He was born on March 31, 1809, in England.
- FitzGerald was educated at Trinity College, Cambridge, where he formed a lifelong friendship with William Makepeace Thackeray.

• Notable Work:
- The Rubaiyat of Omar Khayyam.

Source: Live MCQ English Essence and Britannica.

১৩৮.
'We work every day except Friday'. In this sentence 'except' is a/an
  1. adjective
  2. noun
  3. preposition
  4. pronoun
ব্যাখ্যা

We work every day except Friday. In this sentence, 'except' is a/an - Preposition.
- এখানে except শব্দটি বোঝাচ্ছে "Friday-এর বাইরে" বা "Friday ছাড়া"।
- অর্থাৎ এটি Friday-এর সাথে সম্পর্ক স্থাপন করছে, যা হলো preposition-এর কাজ।
- এটি দেখাচ্ছে যে শুক্রবার ছাড়া বাকি সব দিন কাজ হয়।

• Except: [preposition]
English meaning: ​used before you mention the only thing or person about which a statement is not true.
Bangla meaning: ব্যতীত; ছাড়া।

Example:
- We work every day except Sunday.
- They all came except Matt.
- I had nothing on except for my socks.

Source:
- Oxford Dictionary.
- Accessible Dictionary.

১৩৯.
Who wrote "A Vindication of the Rights of Women"?
  1. Claire Clairmont
  2. Marry Wollstonecraft
  3. Mary Wollstonecraft Godwin
  4. Mary Shelley
ব্যাখ্যা

A Vindication of the Rights of Woman:
- এটি রচনা করেন British writer Mary Wollstonecraft Godwin.
- এটি ১৭৯২ সালে প্রকাশিত একটি প্রসিদ্ধ নারীবিদ্বেষ-বিরোধী প্রবন্ধ, যা ব্রিটিশ লেখক এবং নারী অধিকার কর্মী Mary Wollstonecraft লিখেছেন।
- এই রচনায় নারীদের শিক্ষা, রাজনীতি, সমাজ এবং বিবাহে ক্ষমতায়ন (empowerment) নিশ্চিত করার জন্য যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।

Mary Wollstonecraft/ Mary Wollstonecraft Godwin:
- জন্ম ২৭ এপ্রিল, ১৭৫৯, লন্ডন, ইংল্যান্ড — মৃত্যু ১০ সেপ্টেম্বর, ১৭৯৭, লন্ডন।
- তিনি ছিলেন একজন ইংরেজি লেখিকা এবং নারীদের শিক্ষাগত ও সামাজিক সমতার প্রবল সমর্থক। তিনি তার বিশ্বাসসমূহ “A Vindication of the Rights of Woman” (১৭৯২) গ্রন্থে উপস্থাপন করেন, যা নারীবাদ (ফেমিনিজম)-এর একটি ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত।

Notable works:
- A Vindication of the Rights of Woman,
- Letters Written During a Short Residence in Sweden, Norway, and Denmark,
- Maria; or, The Wrongs of Woman.

Other option,
খ) Marry Wollstonecraft: Marry ভুল বানান, সঠিক বানান হলো - Mary Wollstonecraft.

-----------
উল্লেখ্য -
• Mary Wollstonecraft:
- Married name: Mary Wollstonecraft Godwin is actually her full married name, but she is generally known as Mary Wollstonecraft.
- Spouse name: William Godwin.
- Daughter: Mary Wollstonecraft Shelley.

Source: Britannica.

১৪০.
Which sentence is correct?
  1. The picture was hanged on the wall.
  2. The picture was hung on the wall.
  3. The picture was hunged on the wall.
  4. The picture had hanged on the wall.
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: খ) The picture was hung on the wall.

"Hang" verb এর past tense ও past participle আলাদা ব্যবহারে বিভক্ত।


• Hang(verb) ঝোলা; ঝুলে থাকা; ঝুলানো; ঝুলিয়ে রাখা।
- এই অর্থে এর past tense, past participle form হবে Hung.
- hang something from the ceiling; a picture hanging on the wall; windows hung with curtains.

• Hang (verb) ফাঁসি দেওয়া; ফাঁসি হওয়া; ফাঁসি নেওয়া
- এই অর্থে এর past tense, past participle form hanged হবে।
- He was hanged for murder, খুনের দায়ে ফাঁসি হয়েছে;
- He hanged himself, ফাঁস নিয়ে মরেছে।

অর্থাৎ, যখন কোনো ছবি বা বস্তু দেওয়ালে ঝুলানো হয়, তখন past tense ও past participle হলো hung.
- যখন কারো ফাঁসিতে ঝুলানো হয়, তখন past tense ও past participle হলো hanged.

• যেহেতু এখানে ছবি দেয়ালে ঝুলানো হয়েছে, তাই সঠিক ব্যবহার হবে: was hung.

Other options,

ক) The picture was hanged on the wall.
- Hanged ব্যবহার হয় ফাঁসিতে ঝুলানো এর জন্য, যেমন Execution-এর ক্ষেত্রে।
- এখানে ছবির প্রসঙ্গ, তাই ভুল।

খ) The picture was hunged on the wall.
- এখানে, Hunged হলো ভুল বানান; English-এ hung হলো সঠিক past participle.

ঘ) The picture had hanged on the wall.
- hanged ফাঁসির জন্য ব্যবহৃত হয়।
- এছাড়া, past perfect tense "had hanged" এখানে প্রয়োজন নেই, কারণ সাধারণ description দেওয়া হচ্ছে।

Source:
- Accessible Dictionary.

১৪১.
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃস্থানীয় ভুমিকা পালন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন 'তমুদ্দুন মজলিস'। তমুদ্দুন মজলিস-এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন?
  1. রসায়ন
  2. পদার্থ বিজ্ঞান
  3. অর্থনীতি
  4. ইসলামী শিক্ষা
ব্যাখ্যা

⇒ 'তমদ্দুন মজলিস'-এর নেতা জনাব আবুল কাশেম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।

♦ তমদ্দুন মজলিশ:
→ তমদ্দুন মজলিশ ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন।
→ তমদ্দুন মজলিশ ইসলামী আদর্শাশ্রয়ী একটি সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।
→ ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ অধ্যাপক আবুল কাশেমের উদ্যোগে তমদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।
→ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন।
→ মদ্দুন মজলিশ প্রতিষ্ঠায় অধ্যাপক আবুল কাশেমের অগ্রণী সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ, অধ্যাপক এ.এস.এম নূরুল হক ভূঁইয়া, শাহেদ আলী, আবদুল গফুর, বদরুদ্দীন উমর, হাসান ইকবাল
→ অধ্যাপক আবুল কাশেম ছিলেন পাকিস্তান তমদ্দুন মজলিশের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এবং দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ তমদ্দুন মজলিশের সভাপতি নির্বাচিত হন।
→ উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে বস্তুত তমদ্দুন মজলিশই প্রথম প্রতিবাদ উত্থাপন করে।
→ এই সংগঠন ১৯৪৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করে।
→ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানিয়ে তমদ্দুন মজলিশের প্রকাশিত পুস্তিকাটির নাম ছিল 'পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু'।
→ তমদ্দুন মজলিশ ছাত্র-শিক্ষক মহলে বাংলাভাষা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করে।
→ ১৯৪৭ সালের মধ্যেই বহু প্রখ্যাত এবং অখ্যাত লেখক বাংলা রাষ্ট্রভাষার প্রতি তাদের দ্ব্যর্থহীন সমর্থন জানিয়েছিলেন।
→ পাকিস্তানের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের বিষয়তালিকা থেকে এবং নৌ ও অন্যান্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাকে বাদ দেয়া হয়।
→ এমনকি পাকিস্তানের গণপরিষদের সরকারি ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও উর্দুকে নির্বাচন করা হয়। ফলে বাঙালিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৪২.
বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কোনটি?
  1. ২৬ মার্চ
  2. ২১ ফেব্রুয়ারী
  3. ১৬ ডিসেম্বর
  4. ৫ আগস্ট
ব্যাখ্যা

⇒ ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস।

♦ স্বাধীনতা দিবস:
→ ১৯৮০ সালের ৩ অক্টোবর ২৬ শে মার্চকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।
→ ১৯৮১ সাল থেকে ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
→ ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়। সেজন্যে একে স্বাধীনতা দিবস বলা হয়।

♦ উল্লেখ্য:
→ ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
→ ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস।
→ ৫ আগস্ট 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস'।

♦ বাংলাদেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিবস:
→ ০২ মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস।
→ ০১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা দিবস।
→ ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস।
→ ১৬ জুলাই 'জুলাই শহীদ দিবস'।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৩.
নিম্নোক্ত কোন ভারতীয় রাজ্যের বাংলাদেশের সাথে কোন ভূমি সীমানা নাই?
  1. নাগাল্যান্ড
  2. মিজোরাম
  3. মেঘালয়
  4. আসাম
ব্যাখ্যা

⇒ ভারতের নাগাল্যান্ড রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোন ভূমি সীমানা নেই।

♦ বাংলাদেশের সীমান্ত:
→ বাংলাদেশের সাথে দুটি দেশের সীমান্ত সংযোগ রয়েছে। যথা:
• ভারত ও
• মিয়ানমার।
→ বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা: ৩২টি।
→ ভারতের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩০টি।
→ মায়ানমারের সাথে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা: ৩টি।
→ বাংলাদেশ-ভারত ও মায়ানমার এই তিনটি দেশের যৌথ সীমান্ত রয়েছে রাঙ্গামাটি জেলার।

♦ ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত:
→ ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪১৪২ কিলোমিটার।
→ এটি পৃথিবীর ৫ম দীর্ঘতম আন্তর্জাতিক সীমারেখা।
→ বাংলাদেশের সাথে ভারতের ৫টি রাজ্যের সীমান্ত আছে।
→ বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যসমূহ: আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ।

তথ্যসূত্র - জাতীয় তথ্য বাতায়ন, ওয়ার্ল্ড এটলাস ও Statistica.com

১৪৪.
আয়নাঘর কী?
  1. স্বচ্ছ কামরা
  2. পরিবেশ বান্ধব কৃষিকাজ
  3. গোপন কারাগার
  4. একটি হলিউড মুভি
ব্যাখ্যা

⇒ আয়নাঘর দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার অধীনে পরিচালিত 'গোপন কারাগার'।

♦ আয়নাঘর:
→ সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই (ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স) এবং বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাউন্টার-টেরোরিজম ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) দ্বারা পরিচালিত একটি গোপন আটক কেন্দ্রের নাম আয়নাঘর।
→ আয়নাঘর দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর গোয়েন্দা শাখার অধীনে পরিচালিত হয়।
→ এটি রাজনৈতিক বিরোধীদের, সরকার-সমালোচকদের, সন্দেহভাজন 'চরমপন্থী' বা 'সন্ত্রাসী'দের গুম করে আটক রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে।
→ মূলত সরকার-বিরোধী চক্রান্তে সন্দেহভাজনদের আটক রাখা হত এখানে।
→ শুধু তৎকালীন সরকারের সমালোচকেরা নন, ‘চরমপন্থী’ বা ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসাবে চিহ্নিত করেও বহু মানুষকে ‘আয়নাঘর’ বা সেই জাতীয় গোপন বন্দিশালাগুলিতে আটক করা হয়েছিল।

♦ আয়নাঘরের অবস্থান:
→ আয়নাঘরের অবস্থান ঢাকা সেনানিবাস এলাকায়, বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে, যেখানে প্রাচীর-আবৃত অন্ধকার কক্ষসমূহ ছিল।
→ এতে কমপক্ষে ১৬টি কক্ষ রয়েছে, প্রতিটিতে ৩০ জন করে বন্দি রাখার সক্ষমতা রয়েছে।

♦ উল্লেখ্য:
→ ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে বহুল আলোচিত ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
→ রাজধানীর আগারগাঁও, কচুক্ষেত ও উত্তরা এলাকায় তিনটি স্পট পরিদর্শন করেন তিনি।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

১৪৫.
বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে নিম্নের কোন অধিকারটি মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. বাক-স্বাধীনতার অধিকার
  2. শিক্ষার অধিকার
  3. সভা সমাবেশের অধিকার
  4. ধর্মচর্চার অধিকার
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে শিক্ষার অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত নয়।

♦ বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়:
→ বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয় মৌলিক অধিকার।
→ বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে বাক-স্বাধীনতার অধিকার, সভা সমাবেশের অধিকার ও ধর্মচর্চার অধিকার মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।

♦ তৃতীয় অধ্যায়ের অন্যান্য আলোচ্য বিষয়সমূহ:
→ আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ধর্ম, প্রভৃতি কারণে বৈষম্য, সরকারী নিয়োগ-লাভে সুযোগের সমতা, বিদেশী, খেতাব, প্রভৃতি গ্রহণ নিষিদ্ধকরণ, আইনের আশ্রয়-লাভের অধিকার, জীবন ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার অধিকার-রক্ষণ, গ্রেপ্তার ও আটক সম্পর্কে রক্ষাকবচ, জবরদস্তি-শ্রম নিষিদ্ধকরণ, বিচার ও দন্ড সম্পর্কে রক্ষণ, চলাফেরার স্বাধীনতা, সমাবেশের স্বাধীনতা, সংগঠনের স্বাধীনতা, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা, পেশা বা বৃত্তির স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার।

♦ বাংলাদেশ সংবিধানের ১১টি অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়সমূহ:
• প্রথম অধ্যায় - প্রজাতন্ত্র।
• দ্বিতীয় অধ্যায় - রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি।
• তৃতীয় অধ্যায় - মৌলিক অধিকার।
• চতুর্থ অধ্যায় - নির্বাহী বিভাগ।
• পঞ্চম অধ্যায় - আইনসভা।
• ষষ্ঠ অধ্যায় - বিচার বিভাগ।
• সপ্তম অধ্যায় - নির্বাচন।
• অষ্টম অধ্যায় - মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
• নবম অধ্যায় - বাংলাদেশের কর্মবিভাগ।
• দশম অধ্যায় - সংবিধানের সংশোধন।
• একাদশ অধ্যায় - বিবিধ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৬.
'কম-দামে কেনা বেশী দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা'-বইটির লেখক কে?
  1. আবুল কালাম শামসূদ্দীন
  2. আবুল মনসুর আহমদ
  3. শামসুদ্দিন আবুল কালাম
  4. এস ওয়াজেদ আলী
ব্যাখ্যা

♦ বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা:
→ 'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থের লেখক আবুল মনসুর আহমেদ।
→ 'বেশি দামে কেনা কম দামে বেচা আমাদের স্বাধীনতা' গ্রন্থে যে ৪২টি নিবন্ধ রয়েছে।
→ সেগুলির মধ্যে প্রথম ৩৯টি ১৯৭২ ও ৭৩ সালে দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক 'ইত্তেফাক'-এ প্রকাশিত হয়েছে।
→ এই গ্রন্থে প্রকাশিত ৪২-টি নিবন্ধ পাচ মিশালা হহলেও প্রত্যেকাঢর মূল বক্তব্য অভিন্ন।
→ প্রবন্ধগুলোতে নানান দিকে উদ্ভুত জাতীয় সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানেরই পথ-নির্দেশনা লেখক তার লেখাগুলো দিয়েছেন।
→ অনেক বিষয়ে তিনি লেখা ও আলোচনা শুরু করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবার দায়িত্ব ন্যস্ত করেছেন সবার উপর।

♦ আবুল মনসুর আহমেদ:

→ তিনি ১৮৯৮ সালে ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
→ আবুল মনসুর আহমদ একজন সাংবাদিক, আইনজীবী, রাজনীতিবিদ, সাহিত্যিক।
→ তিনি খিলাফত, অসহযোগ, স্বরাজ আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

♦ ব্যঙ্গরচনা:
→ আয়না,
→ ফুড কনফারেন্স,
→ গালিভারের সফরনামা

♦ স্মৃতিকথা:
→ আত্মকথা (১৯৭৮, আত্মজীবনী),
→ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর,
→ শেরে বাংলা হইতে বঙ্গবন্ধু।

♦ তাঁর রচিত উপন্যাস:
→ সত্যমিথ্যা,
→ জীবন ক্ষুধা,
→ আবে-হায়াৎ

তথ্যসূত্র - বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা ও বাংলাপিডিয়া।

১৪৭.
১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেনদরবার করার ক্ষেত্রে কোন নেতা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন?
  1. হাকিম আজমল খান
  2. শেরে বাংলা এ, কে. ফজলুল হক
  3. স্যার সলিমুল্লাহ
  4. স্যার আব্দুর রহিম
ব্যাখ্যা

⇒ ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদের পর ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দেনদরবার করার ক্ষেত্রে নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

♦ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস:
→ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহ বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
→ তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য ঢাকার রমনা এলাকায় নিজ জমি দান করেন।
→ বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকায় 'সর্বভারতীয় মুসলিম শিক্ষা সম্মেলন' এবং 'পূর্ববঙ্গ ও আসাম প্রাদেশিক শিক্ষা সমিতির' সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
→ নওয়াব সলিমুল্লাহ ১৯০৫ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছিলেন।
→ ১৯১২ সালের ২৯ জানুয়ারি লর্ড হার্ডিঞ্জ ঢাকায় আগমন করে তিন দিন অবস্থান করেন।
→ ৩১ জানুয়ারি নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মুসলিম প্রতিনিধি দল বড়লাটের সঙ্গে দেখা করে একটি মানপত্র প্রদান করেন এবং কয়েকটি প্রস্তাব পেশ করে পূর্ববঙ্গের মুসলমানদের স্বার্থসংরক্ষণের প্রতি তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
→ ১৯১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি এক ইশতেহারে ভারত সরকার কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ ঘোষণা করা হয়।
- ১৯২১ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান হয়ে আসছে।

তথ্যসূত্র - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট এবং বাংলাপিডিয়া।

১৪৮.
সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম কী?
  1. Parliament
  2. National Parliament
  3. Legislature
  4. The House of the Nation
ব্যাখ্যা

⇒ সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের ইংরেজী নাম 'The House of the Nation'.
→ সংবিধানের পঞ্চম ভাগে আইনসভার উল্লেখ রয়েছে।
→ সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদে জাতীয় সংসদ প্রতিষ্ঠার উল্লেখ রয়েছে।

♦ জাতীয় সংসদ:
→ জাতীয় সংসদ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
→ দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
→ প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
→ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
→ বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
→ জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
→ সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
→ জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
→ অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
→ সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
→ ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পিকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।

১৪৯.
জিএসপি (GSP) এর পূর্ণ রূপ কী?
  1. Generalized System of Preference
  2. Global System of Positioning
  3. Global Strategic Partnership
  4. Government Support Program
ব্যাখ্যা

⇒ জিএসপি (GSP) এর পূর্ণরূপ 'Generalized System of Preferences'.

♦ GSP:
→ Generalized System of Preferences (GSP) হল উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বৈদেশিক বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া এক ধরণের শুল্কমুক্ত বা শুল্ক হ্রাস সংক্রান্ত বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা।
→ GSP হচ্ছে পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার।
→ ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রথম GSP সুবিধা চালু করে।
→ নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

♦ উল্লেখ্য:
→ যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্রথম জিএসপি সুবিধা দেয় ১ জানুয়ারি, ১৯৭৬ সালে।
→ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা হারায় ২৭ জুন, ২০১৩ সালে।
→ যুক্তরাজ্য থেকে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পাবে ২০২৭ সাল পর্যন্ত।

তথ্যসূত্র - ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওয়েবসাইট, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট, পত্রিকা রিপোর্ট।

১৫০.
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যের অন্যতম প্রস্তাব কি?
  1. দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ
  2. সংসদের আসন বৃদ্ধি
  3. সংরক্ষিত নারী আসন বাতিল
  4. পি আর (PR) চালু করা
ব্যাখ্যা

⇒ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্যের অন্যতম প্রস্তাব দ্বি-স্তর বিশিষ্ট সংসদ।

♦ সংস্কার প্রস্তাব:
→ এই সংস্কারে বর্তমান এককক্ষ সংসদের পরিবর্তে নিম্নকক্ষ (জাতীয় সংসদ) এবং উচ্চকক্ষ (সিনেট) গঠিত হবে।
→ যাতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া আরও সুষ্ঠু, জনকেন্দ্রিক এবং চেক-অ্যান্ড-ব্যালেন্স সহ নিশ্চিত হয়।
→ নিম্নকক্ষে ৪০০ সদস্য (৩০০ সরাসরি নির্বাচিত + ১০০ নারী সংরক্ষিত সরাসরি নির্বাচিত) এবং উচ্চকক্ষে ১০৫ সদস্য (১০০ সমানুপাতিক + ৫ রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন, ৩০% নারী সংরক্ষিত) থাকবে।

♦ উল্লেখ্য:
→ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার আনার লক্ষ্যে প্রস্তাব তৈরির জন্য ২০২৪ সালের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ছয়টি সংস্কার কমিশন গঠন করে সরকার।
→ সেগুলো হলো সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন কমিশন।
→ সংস্কার প্রশ্নে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
→ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই কমিশনের সভাপতি।

তথ্যসূত্র - পত্রিকার রিপোর্ট।

১৫১.
বাংলাদেশের ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্স অনুযায়ী সর্ব প্রথম কে অবস্থান করেন?
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধান উপদেষ্টা
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

জুলাই, ২০২০ পর্যন্ত সংশোধিত ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্স অনুযায়ী:

রাষ্ট্রপতি (President of the Republic) এর অবস্থান সর্ব প্রথম।

উল্লেখ্য,
২. প্রধানমন্ত্রী
৩. সংসদের স্পিকার
৪. বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতিগণ।
৫. কেবিনেট মন্ত্রিগণ; কেবিনেটের প্রধান হুইপ; সংসদের ডেপুটি স্পিকার; সংসদে বিরোধী দলের নেতা
৬. কেবল পদমর্যাদা অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সমমানের পদে থাকা ব্যক্তিরা।
৭. বিশেষ দূত ও কমনওয়েলথ দেশের হাইকমিশনারগণ, যারা বাংলাদেশে নিয়োগপ্রাপ্ত।
৮. প্রধান নির্বাচন কমিশনার; পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান; সংসদে বিরোধী দলের ডেপুটি নেতা;সুপ্রিম কোর্টের বিচারকগণ(আপিল বিভাগ); রাষ্ট্রের রাজ্য মন্ত্রীগণ; হুইপ।

এছাড়াও,
ওয়ারেন্ট অফ প্রেসিডেন্সে মোট ২৫টি পদক্রম রয়েছে।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।

১৫২.
পাকিস্তানের ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
  1. বিচারপতি সাত্তার
  2. বিচারপতি সায়েম
  3. বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
  4. বিচারপতি হামদুর রহমান
ব্যাখ্যা

• ১৯৭০ এর নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।

১৯৭০ এর নির্বাচন:

- ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ও ১৯৭০ সালের ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- অবশ্য ১৯৭০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দুর্গত ও উপকূলীয় এলাকায় প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিলো।
- নির্বাচনে মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
- ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের পূর্ব পাকিস্তান অংশের জন্য ১৬২টি সাধারণ আসন ও ৭টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট বরাদ্দ ছিল ১৬৯টি আসন।
- জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭টি সংরক্ষিত আসন সহ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে ৩০০টি সাধারণ আসন ও ১০টি সংরক্ষিত মহিলা আসন সহ মোট ৩১০টি আসন বরাদ্দ ছিল।
- প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে আওয়ামী লীগ ২৮৮টি সাধারন আসন ও ১০টি সংরক্ষিত আসন সহ মোট ২৯৮টি আসন লাভ করে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, মোজাম্মেল হক ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৫৩.
বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক চা বাগান রয়েছে কোন জেলায়?
  1. সিলেট
  2. চট্টগ্রাম
  3. মৌলভীবাজার
  4. পঞ্চগড়
ব্যাখ্যা

• চা-বাগান:
- চা বোর্ড কর্তৃক নিবন্ধকৃত দেশে মোট চা-বাগানের সংখ্যা - ১৭০ টি।
- মৌলভীবাজার জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ৯০ টি।
- হবিগঞ্জ জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২৫ টি।
- সিলেট জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১৯ টি।
- চট্টগ্রাম জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২২ টি।
- রাঙ্গামাটি জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ২ টি।
- পঞ্চগড় জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১১ টি।
- ঠাকুরগাওঁ জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা - ১ টি।
- খাগড়াছড়ি জেলায় চা-বাগানের সংখ্যা -১ টি

উৎস: বাংলাদেশ চা বোর্ড ওয়েবসাইট।

১৫৪.
চীন, ভারত ও বাংলাদেশের প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র নদী, চীন বা তিব্বতে কী নামে পরিচিত?
  1. ইয়াংসি
  2. লিজিয়াং
  3. হয়াইলি
  4. ইয়ারলাং সাংপো
ব্যাখ্যা

ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo):
- ব্রহ্মপুত্র নদী এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী এবং এটি তিনটি দেশের মধ্যে প্রবাহিত: চীন, ভারত, এবং বাংলাদেশ।
- ব্রহ্মপুত্র নদী চীনের তিব্বত মালভূমিতে উৎপন্ন হয় এবং সেখানে এ নদীকে “ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo) নামে ডাকা হয়।
- পরে এটি ভারতে প্রবেশ করে “সিয়াং” নামে পরিচিত হয় এবং বাংলাদেশে এসে “ব্রহ্মপুত্র” নামে প্রবাহিত হয়।

উল্লেখ্য,
- সম্প্রতি, চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতের ভূখণ্ডে ইয়ারলাং সাংপো” (Yarlung Tsangpo) নদীতে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ শুরু করেছে। - এমন একটি প্রকল্প যা ভারতের ও বাংলাদেশের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

উৎস: ব্রিটানিকা ও বিবিসি নিউজ।

১৫৫.
বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন?
  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
  2. রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়
  3. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
  4. বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়
ব্যাখ্যা

• শহীদ আবু সাঈদ:
- রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা বাবনপুর গ্রামের মোঃ মকবুল হোসেন এর ঘরে জন্ম নেয় আবু সাঈদ।
- আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।
- তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।
- ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ।
- ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে পুলিশ আবু সাঈদকে খুব কাছ থেকে গুলি করে।
- আবু সাঈদ এক হাতে লাঠি নিয়ে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দেন।
- কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি লুটিয়ে পড়েন।

উৎস: প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার।

১৫৬.
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা কোনটি?
  1. তথ্য মন্ত্রণালয়
  2. প্রেস কাউন্সিল
  3. বিটিআরসি
  4. বাংলাদেশ টেলিভিশন
ব্যাখ্যা

⇒ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রেস কাউন্সিল।

♦ প্রেস কাউন্সিল:
→ প্রেসের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থার মানোন্নয়ন ও মান সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৭৪ সালে প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট প্রণয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল গঠিত হয়।
→ প্রেস কাউন্সিল একটি আধা-বিচারিক সংস্থা।
→ প্রেস কাউন্সিলের উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশে সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা রক্ষা করা এবং তাদের মান উন্নত ও বজায় রাখা।

♦ প্রেস কাউন্সিলের কার্যাবলী:
• সংবাদপত্র ও সংবাদ সংস্থাগুলোর স্বাধীনতা বজায় রাখতে সহায়তা করা।
• উচ্চ পেশাগত মান অনুযায়ী সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা এবং সাংবাদিকদের জন্য আচরণবিধি প্রণয়ন করা।
• সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থা ও সাংবাদিকদের দ্বারা জনসাধারণের উচ্চমানের রুচি বজায় রাখা এবং নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্বের প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
• সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত সকলের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও জনসেবার মনোভাব বৃদ্ধি করা।
• জনস্বার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সরবরাহ ও প্রচারে বাধা সৃষ্টিকারী যেকোনো উন্নয়ন পর্যালোচনা করা।
• সাংবাদিকতা পেশায় ব্যক্তিদের জন্য সঠিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুবিধা প্রদান করা।



তথ্যসূত্র -
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল ওয়েবসাইট।
Media Landscapes

১৫৭.
Demographic Dividend বলতে কী বুঝায়?
  1. শিশু মৃত্যুহার হ্রাস
  2. জন্মহার শূনের কোটায় আনা
  3. জনসংখ্যার অধিকাংশ বেকার
  4. কর্মক্ষম বয়স গোষ্ঠীর অনুপাত বৃদ্ধি
ব্যাখ্যা

• ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড:
- যখন একটি দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা অর্থাৎ ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সী জনসংখ্যার পরিমাণ দেশের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের অধিক হয় তখন তাকে ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থায় নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী (১৫ বছরের কম ও ৬৪) সংখ্যা কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী অপেক্ষা কম হয়।
- বাংলাদেশ বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বা জনমিতিক লভ্যাংশ অবস্থা অতিবাহিত করছে।
- বিবিএসের জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২–এর সমন্বয়কৃত জনসংখ্যার চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ ২২ হাজার ৯১১ জন।
- তার মধ্যে ১৫-৬৪ বছর বয়সী কর্মক্ষম শ্রমশক্তির সংখ্যা হলো ১১ কোটি ৭ লাখ প্রায়, যা মোট জনসংখ্যার ৬৫.২৩ শতাংশ।
- জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের তথ্যানুসারে ২০৫০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জনমিতিক লভ্যাংশের সুবিধা ভোগ করবে।
- জনসংখ্যার এরূপ অবস্থাকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হলে একটি দেশ দ্রুত উন্নয়ন সাধন করতে পারে।

উৎস: বিবিএস ও জাতিসংঘ ওয়েসাইট এবং প্রথম আলো।

১৫৮.
ভাষা-পরিবার অনুযায়ী সাঁওতাল জনগোষ্ঠী প্রধানত কোন পরিবার ভুক্ত?
  1. ইন্দো-আর্য
  2. দ্রাবিড়
  3. অস্ট্রিক-অস্ট্রো এসিয়াটিক (মুন্ডা)
  4. তিব্বত-বর্মী
ব্যাখ্যা

সাঁওতাল:
- সাঁওতাল বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ আদিবাসী জনগোষ্ঠী।
- তাদের বাসস্থান মূলত রাজশাহী, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া জেলায়।
- প্রধান নিবাস রাঢ়বঙ্গ, বিহার ও উড়িষ্যার অরণ্য অঞ্চল এবং ছোটনাগপুর; পরে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সাঁওতাল পরগনায়।
- সাঁওতালরা অস্ট্রিক ভাষাভাষী আদি-অস্ট্রেলীয় (প্রোটো-অস্ট্রালয়েড) জনগোষ্ঠীর বংশধর।
- সাঁওতালরা ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম আদি বাসিন্দা, এরা কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা এবং কৃষিসংস্কৃতির জনক ও ধারক হিসেবে স্বীকৃত।

সাঁওতালরা খুবই উৎসবপ্রিয় জাতি। বাঙালিদের মতো এদেরও বারো মাসে তেরো পার্বণ। তাদের বছর শুরু হয় ফাল্গুন মাসে। প্রায় প্রতিমাসে বা ঋতুতে রয়েছে পরব বা উৎসব যা নৃত্যগীতবাদ্য সহযোগে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।

নববর্ষের মাস ফাল্গুনে অনুষ্ঠিত হয় স্যালসেই উৎসব,
- চৈত্রে বোঙ্গাবোঙ্গি,
- বৈশাখে হোম,
- আশ্বিনে দিবি,
- পৌষ শেষে সোহরাই উৎসব পালিত হয়।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৫৯.
লর্ড কর্ণওয়ালিস ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল হওয়ায় পূর্বে কোন্ ভূমিকায় ছিলেন?
  1. ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী
  2. ফ্রান্সে নিযুক্ত ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত
  3. যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান
  4. কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য
ব্যাখ্যা

• লর্ড কর্নওয়ালিস ভারতের গভর্নর-জেনারেল হওয়ার আগে আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধে দক্ষিণাঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

• চার্লস কর্নওয়ালিস:

সেভেন ইয়ার্স ওয়ার (১৭৫৬–৬৩)-এর একজন অভিজ্ঞ সৈনিক ছিলেন কর্নওয়ালিস।
এই যুদ্ধে (১৭৬২ সালে) তিনি তার পিতার আর্ল উপাধি ও অন্যান্য পদবি উত্তরাধিকার সূত্রে পান।
তিনি যদিও উত্তর আমেরিকার উপনিবেশবাসীদের প্রতি ব্রিটিশ নীতির বিরোধিতা করেছিলেন, তবুও তিনি আমেরিকান বিপ্লব দমন করার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।

- ১৭৭৬ সালের শেষ দিকে তিনি জেনারেল জর্জ ওয়াশিংটনের দেশপ্রেমিক বাহিনীকে নিউ জার্সি থেকে বিতাড়িত করেন, কিন্তু ১৭৭৭ সালের শুরুর দিকে ওয়াশিংটন আবার রাজ্যের একটি অংশ পুনর্দখল করেন।

- ১৭৮০ সালের জুন মাসে দক্ষিণাঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর প্রধান হিসেবে কর্নওয়ালিস জেনারেল হোরেশিও গেটসের বিরুদ্ধে সাউথ ক্যারোলিনার ক্যামডেনে (১৬ আগস্ট, ১৭৮০) এক বড় জয় লাভ করেন।

- পূর্ব নর্থ ক্যারোলিনা হয়ে ভার্জিনিয়ায় অগ্রসর হয়ে তিনি জোয়ারভাটার বন্দর নগর ইয়র্কটাউনে তার ঘাঁটি স্থাপন করেন।
- সেখানে তিনি আমেরিকান ও ফরাসি স্থলবাহিনীর (ওয়াশিংটন ও কমতে দ্য রোশামবো এর নেতৃত্বে) এবং ফরাসি নৌবাহিনীর (কমতে দ্য গ্রাস এর নেতৃত্বে) দ্বারা অবরুদ্ধ হন।
- অবশেষে তিনি এক দীর্ঘ অবরোধের পর তার বিশাল সেনাবাহিনীসহ আত্মসমর্পণ করেন।

- যদিও ইয়র্কটাউনে আত্মসমর্পণের ঘটনাটি যুদ্ধকে উপনিবেশবাসীদের পক্ষে সিদ্ধান্ত করে দেয়, তবুও কর্নওয়ালিস নিজ দেশে উচ্চ মর্যাদা বজায় রাখেন।
- ১৭৮৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি ভারতের গভর্নর-জেনারেলের পদ গ্রহণ করেন।

উৎস: ব্রিটানিকা।

১৬০.
আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা কোন সংঘটনটি?
  1. মুসলিম লীগ
  2. সর্ব ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস
  3. আর.এস.এস.
  4. জমিয়তে-ই-হিন্দ
ব্যাখ্যা

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব:
→ দ্বি-জাতি তত্ত্ব হলো একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন, যার মতে হিন্দু ও মুসলমানরা ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন জীবনাচার ও ভিন্ন ঐতিহ্যের কারণে একই জাতি নয়; তারা দুটি স্বতন্ত্র জাতি। তাই তাদের নিজস্ব রাষ্ট্র থাকা আবশ্যক।

দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আশিস নন্দী, শশী থারু প্রমুখ :
- আশিস নন্দী, শশী থারুর প্রমুখ লেখকের মতে দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রথম প্রবক্তা মুসলিম লীগ।
- তারা আরও মনে করেন যে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।
- মূলত তাদের মতে, বিনায়ক দামোদর সাভারকর জিন্নাহর দ্বিজাতি ত্বত্তের ১৬ বছর পূর্বে দ্বিজাতি ত্বত্ত প্রদান করেছিলনে।
- এবং বিনায়ক দামোদর সাভারকর ছিলেন হিন্দু মহাসভার সভাপতি।
- প্রসঙ্গত, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ পার্লামেন্টে বলেছে যে, "নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (CAB) প্রয়োজন হয়েছিল কারণ কংগ্রেস ১৯৪৭ সালে ধর্মীয় ভিত্তিতে ভারতকে ভাগ করেছিল।"
- এর উত্তরে শশী থারুর প্রশ্ন করছেন, "অমিত শাহ কি ইতিহাস জানেন না? জিন্নাহ, দুই-জাতির তত্ত্ব, মুসলিম লীগের পাকিস্তান রেজোলিউশন এসব কি তিনি জানেন না? বাস্তবে পাকিস্তান চাওয়া মুসলিম লীগের দাবি ছিল, কংগ্রেসের নয়।"

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও সৈয়দ আহমদ খান এর ভূমিকা:
→ সৈয়দ সায়্যদ আহমদ খান মীরাটে ১৬ মার্চ ১৮৮৮ সালের এক বক্তৃতায় হিন্দু ও মুসলিমকে আলাদা করে ‘two nations’ উল্লেখ করেন; এই মীরাট-বক্তৃতাই আধুনিক 'দ্বি-জাতি' ধারণার সবচেয়ে প্রাথমিক স্পষ্ট রূপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত।
→ মীরাটে দেওয়া বক্তৃতায় সৈয়দ আহমদ খান স্পষ্টভাবে বলেন: 'হিন্দু এবং মুসলমান দুটি পৃথক সম্প্রদায়, যাদের ধর্ম, ঐতিহ্য এবং জীবনধারা ভিন্ন। একটি যৌথ রাষ্ট্রে তাদের একসঙ্গে শাসন করা কঠিন হবে।'
→ মীরাট বক্তব্যে সৈয়দ সরাসরি আলাদা রাষ্ট্র দাবি করেননি; তিনি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের ওপর জোর দিয়ে সম্ভাব্য ক্ষমতা-অসাম্য তুলে ধরেছিলেন।
→ তিনি মনে করতেন যে হিন্দু ও মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ আলাদা।
→ এই বক্তৃতা এবং তাঁর অন্যান্য লেখনীতে তিনি মুসলমানদের জন্য পৃথক রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। তাঁর এই ধারণা দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রাথমিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।

• জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্ব:
- জাতিতত্ত্বের বিশ্লেষণে একটি জনগোষ্ঠীকে তখনই জাতি বলা যায়, যার ভাষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সাহিত্য, মনন, কৃষ্টি, ধর্ম এমনকি অর্থনীতি একটি একক সত্তায় পরিণতি লাভ করে।
- মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ভারতের হিন্দু ও মুসলমান এ দুটি ধর্মীয় সম্প্রদায়কে দুটি পৃথক জাতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। এটিই মূলত জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব'।
- ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ্ তাঁর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ঘোষণা করেন।
- পরবর্তী বছর লাহোরে মুসলিম লীগের ঘোষণায় এরই প্রতিধ্বনি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।
- ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দের ২৩ মার্চ লাহোরে অনুষ্ঠিত মুসলিম লীগের অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্।
- এ অধিবেশনেই বাংলার নেতা ও প্রধানমন্ত্রী এ.কে. ফজলুল হক বিখ্যাত লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
- এতে বলা হয় যে, কোনো শাসনতান্ত্রিক পরিকল্পনা এদেশে কার্যকর বা মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না যদি একটি নিম্নবর্ণিত মূলনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত না হয়।

♦ দ্বি-জাতি তত্ত্ব ও আল্লামা ইকবাল এর ভূমিকা:
→ ১৯৩০ সালে আল্লামা ইকবাল এলাহাবাদে All India Muslim Legue-এর বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতির ভাষণে দ্বি-জাতি তত্ত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং এতে সমর্থন ব্যক্ত করেন।
→ এই ভাষণে তিনি উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশগুলোকে একত্র করে স্বশাসিত মুসলিম রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাব দেন।
→ তাঁর কবিতা ও রচনা মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় জাগ্রত করতে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।
→ ইতিহাসবিদদের মতে, স্যার সাইয়্যদের বপন করা বীজকে ইকবাল দার্শনিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেন, যা পরবর্তীতে জিন্নাহর নেতৃত্বে পাকিস্তান আন্দোলনের রূপ নেয়।

উৎস:
i) Shashitharoor Website। [Link]
ii)The Demonic and the Seductive in Religious Nationalism: Vinayak Damodar Savarkar and the Rites of Exorcism in Secularizing South Asia by Ashis Nandy। [Link]
iii) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
iv) বাংলাপিডিয়া, ব্রিটানিকা ও কয়েকটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট।
v) Dwan ওয়েবসাইট।

১৬১.
নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সামরিক জোট কত সালে সাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৩৯
  2. ১৯৪৩
  3. ১৯৪৯
  4. ১৯৬০
ব্যাখ্যা

♦ নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন বা সামরিক জোট ১৯৪৯ সালে সাক্ষরিত হয়।

NATO:

- NATO-এর পূর্ণরূপ:North Atlantic Treaty Organisation অথবা উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উত্তর আটলান্টিক চুক্তির মাধ্যমে NATO গঠিত হয়।
- ন্যাটো মূলত সামরিক সহযোগিতার জোট।
- প্রতিষ্ঠিত হয় ৪ এপ্রিল, ১৯৪৯।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: ১২টি।
- বর্তমান সদস্য: ৩২টি।
- সদর দপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- বর্তমান মহাসচিব: মার্ক রুট্টে।
- মুসলিম দেশ: আলবেনিয়া ও তুরস্ক।

⇒ ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে এক চুক্তির মাধ্যমে ন্যাটো গঠিত হয়েছিল।
- এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের আগ্রাসনের হাত থেকে পশ্চিম বার্লিন এবং ইউরোপের নিরাপত্তা বাস্তবায়ন করা।
- ন্যাটো একটি যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি, যে চুক্তির আওতায় জোটভুক্ত দেশগুলো পারস্পরিক সামরিক সহযোগিতা দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
- এর প্রত্যেকটি সদস্য রাষ্ট্র তাদের সামরিক বাহিনীকে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখতে বদ্ধপরিকর।
- এছাড়াও, ন্যাটো প্রতিষ্ঠার চুক্তিটি ১৪টি ধারার।

উৎস: NATO ওয়েবসাইট।

১৬২.
বাংলাদেশ-ICCPR এর স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। ICCPR এর পূর্ণরূপ কী?
  1. International Conference on Civil and Political Rights
  2. International Conference of Civil and Political Rights
  3. International Covenant on Civil and Political Rights
  4. International Covenant of Civil and Political Rights
ব্যাখ্যা

♦ বাংলাদেশ-ICCPR এর স্বাক্ষরকারী একটি দেশ। ICCPR এর পূর্ণরূপ International Covenant on Civil and Political Rights.

ICCPR:

- ICCPR-এর পূর্ণরূপ: International Covenant on Civil and Political Rights.

⇒ এটি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তি।
- গৃহীত হয়: ১৯৬৬ সালে।
- কার্যকর হয়: ২৩ মার্চ, ১৯৭৬ সালে।
- আন্তর্জাতিক এই চুক্তি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়।
- বিশ্বের প্রতিটি মানুষের অধিকার সংরক্ষণ করার জন্য অর্থাৎ বিশ্বের প্রতিটি পেশার এবং প্রতিটি মানুষ যেন সমান অধিকার পায় সেই লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালে দুইটি আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- এর উদ্দেশ্য হলো মানুষের মৌলিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার যেমন-জীবনের অধিকার, বাকস্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচারের অধিকার সুরক্ষা করা।
- এতে মোট ৫৩টি অনুচ্ছেদ রয়েছে।
- এই চুক্তি বাস্তবায়ন তদারকি করে জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটি (UN Human Rights Committee)।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশ এটি ২০০০ সালে অনুমোদন করে।

উৎস: UN ওয়েবসাইট।

১৬৩.
গ্রিনল্যান্ড নিচের কোন রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সুইডেন
  2. ডেনমার্ক
  3. নরওয়ে
  4. ফিনল্যান্ড
ব্যাখ্যা

♦ গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অন্তর্ভুক্ত।

গ্রিনল্যান্ড:
- গ্রিনল্যান্ড বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ।
- এটি ডেনমার্কের একটি স্বশাসিত অঞ্চল।
- গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকা মহাদেশের অংশ।
- এর অবস্থান উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত।
- এর অবস্থান কানাডা এবং আইসল্যান্ডের মাঝে অবস্থিত।
- আয়তনে মূল ডেনমার্কের চেয়ে গ্রীনল্যান্ড প্রায় ৫০ গুন বড়।
- রাজধানী: নুউক।
- গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীরা এস্কিমো হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- গ্রিনল্যান্ড ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের একটি উপনিবেশ ছিল। ১৯৭৯ সালে গণভোটের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছিল, তবে দ্বীপটির পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষানীতি এখনও ডেনমার্কই দেখভাল করে।
- এ দ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাস। আরও আছে পৃথিবীর বিরল কিছু ধাতু, যেগুলোর বৈদ্যুতিক গাড়ি ও বায়ুকলের পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে উচ্চ চাহিদা রয়েছে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১৬৪.
বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একজন আমেরিকান ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন; 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারনা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়" এই ঐতিহাসিকের নাম কি?
  1. এন্থনি মাসকারেনহাস
  2. লরেঞ্চ জিরিং
  3. লরেঞ্চ লিফশূলজ্
  4. হেনরি কিসিঞ্জার
ব্যাখ্যা

♦ বাংলাদেশের রাজনীতি সম্পর্কে একজন আমেরিকান ঐতিহাসিক মন্তব্য করেছেন; 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারনা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়" এই ঐতিহাসিকের নাম লরেঞ্চ জিরিং।

অধ্যাপক লরেঞ্চ জিরিং:
- 'বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়, ধারণা বা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নয়'- লরেঞ্চ জিরিং (Lawrence Ziring) কর্তৃক প্রদত্ত।
- তিনি তাঁর গ্রন্থ 'বাংলাদেশ: মুজিব থেকে এরশাদ: একটি বিশ্লেষনধর্মী ইতিহাস'-এই গ্রন্থে এই পর্যবেক্ষণ করেছেন।
- যেখানে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিশ্লেষণ করেছেন।
- এই গ্রন্থে জিরিং উল্লেখ করেছেন যে, স্বাধীনতার প্রথম বিশ বছরে বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের দ্বারা পরিচালিত হয়েছে, যারা জনগণের অনুভূতিগুলিকে প্রকাশ করার চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠান বা ধারণার ভিত্তি স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

- মূলত এটি একটি নিরপেক্ষ ইতিহাসের বই। ১৯৪০-১৯৯০ সাল পর্যন্ত প্রতিটি বাঙালি রাজনৈতিক নেতা, তাঁদের শাসনকাল, তাঁদের সাফল্য-ব্যর্থতা, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা/অস্থিরতা সহ বিভিন্ন বিষয় নিরপেক্ষভাবে উঠে এসেছে।

⇒ এছাড়াও, তিনি "মুজিব, এরশাদ ও হাসিনা: রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের ইতিহাস" নামক একটি বইয়ের লেখক।


Link: core.ac.uk page: 124.

উৎস: বাংলাদেশ: মুজিব থেকে এরশাদ: একটি বিশ্লেষনধর্মী ইতিহাস।

১৬৫.
বিশ্বের প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী কোনটি?
  1. UNOSOM
  2. UNMOGIP
  3. UNTSO
  4. UNEF
ব্যাখ্যা

♦ বিশ্বের প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী UNTSO (United Nations Truce Supervision Organization).

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন:
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন (United Nations Peacekeeping Mission) একটি আন্তর্জাতিক উদ্যোগ যা সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোতে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করে।
- এই মিশনের প্রধান লক্ষ্য হলো সংঘর্ষমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করা, মানবাধিকার রক্ষা করা এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পরিচালনায় সহায়তা করা।
- বর্তমানে আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং এশিয়া জুড়ে জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশন চলমান রয়েছে।
- এগুলো হলো: MINURSO (পশ্চিম সাহারা), MINUSCA (মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র), MONUSCO (গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র), UNDOF (গোলান হাইটস), UNFICYP (সাইপ্রাস), UNIFIL (লেবানন), UNISFA (আবিয়েই), UNMIK (কসোভো), UNMISS (দক্ষিণ সুদান), UNMOGIP (ভারত ও পাকিস্তান), UNTSO (মধ্যপ্রাচ্য)।

⇒ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মূল উদ্দেশ্য:
- সংঘাতের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র বিরোধী পক্ষদের মধ্যে যুদ্ধবিরতি বা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করা।
- যুদ্ধ বা সংঘাতের কারণে বিপর্যস্ত জনগণের জন্য মানবিক সাহায্য পৌঁছে দেওয়া।
- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য জাতিসংঘ মিশন আঞ্চলিক সরকারের সহায়তায় কাজ করে থাকে।
- যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা, যেমন অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন শুরু হয়।
- ১৯৪৮ সালে সংঘটিত ১ম আরব-ইসরাইল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন অনুষ্ঠিত হয়।
- এই মিশনের নাম ছিল "United Nations Truce Supervision Organization (UNTSO)"।
- এটি ছিল জাতিসংঘের প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন এবং এর মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৪৮ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি সঠিকভাবে পালন হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা।

এছাড়াও,
- জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ১৯৮৮ সালে।

উৎস: United Nations Peacekeeping ওয়েবসাইট।

১৬৬.
প্রথম বিশ্বযুদ্ধ কোন চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়?
  1. প্যারিস চুক্তি
  2. ভারসাই চুক্তি
  3. জেনেভা চুক্তি
  4. রোম চুক্তি
ব্যাখ্যা

♦ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।

দ্বিতীয় ভার্সাই চুক্তি:

- বিধ্বংসী প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে ১৯১৯ সালের ২৮ জুন ভার্সাই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- স্থান: ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদের হল অফ মিররসে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
- পক্ষসমূহ: মিত্রশক্তি (ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান) এবং জার্মানি।
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির ওপর যে ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছিল, তা মূলত স্বাক্ষরিত ভার্সাই চুক্তি (Treaty of Versailles)-এর মাধ্যমে হয়েছিল। এই চুক্তিটি জার্মানিকে যুদ্ধের জন্য দায়ী করে এবং মিত্র দেশগুলোর ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করে।
- ফলাফল: যুদ্ধের কারণে মিত্র দেশগুলোর যে ক্ষতি হয়েছিল, তার জন্য জার্মানিকে বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করা হয়।

• প্রথম বিশ্বযুদ্ধ:
- প্রথম বিশ্বযুদ্ধ (World War I) ১৯১৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত সংঘটিত হয়েছিল এবং এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ।
- যুদ্ধটি মূলত ইউরোপের বিভিন্ন শক্তির মধ্যে সংঘটিত হলেও এর প্রভাব ছিল পৃথিবীজুড়ে।

⇒ যুদ্ধের পটভূমি:
- যুদ্ধ শুরু হয়: ২৮ জুলাই, ১৯১৪ সালে।
- শেষ হয়: ১১ নভেম্বর, ১৯১৮ সালে।
- যুদ্ধের ফলাফল: মিত্র শক্তির বিজয়।
- অক্ষশক্তি: জার্মানি, অস্ট্রিয়া, হাঙ্গেরি, অটোমান সাম্রাজ্য ও বুলগেরিয়া।
- মিত্রশক্তি: সার্বিয়া, রাশিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জাপান প্রভৃতি দেশ।

উৎস: i) History.com
ii) Britannica.

১৬৭.
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন?
  1. হাঁরি এস. ট্রুম্যান
  2. ফ্রাঙ্কলিন ডি, বুজভেল্ট
  3. রিচার্ড নিক্সন
  4. জর্জ ডারিও বুশ
ব্যাখ্যা

♦ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি এস. ট্রুম্যান জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন।

হ্যারি এস. ট্রুম্যান:
- হ্যারি এস. ট্রুম্যান (Harry S. Truman) ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৩তম রাষ্ট্রপতি।
- তিনি ১৯৪৫ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
- তিনি ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্টের মৃত্যুর পর উপরাষ্ট্রপতি থেকে রাষ্ট্রপতিত্বে উন্নীত হন এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি থেকে শীতল যুদ্ধের উত্থান পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীর নেতৃত্ব দেন।
- হ্যারি এস. ট্রুম্যান জাপানে পারমানবিক বোমা নিক্ষেপের অনুমোদন করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। এই প্রকল্পের নাম ছিল 'ম্যানহাটান প্রজেক্ট'। পারমাণবিক বোমার জনক রবার্ট ওপেনহেইমার ছিলেন ম্যানহাটান প্রজেক্টের প্রধান।
- জাপানের দুটি শহরে এই বোমা ফেলার পর বিপুল প্রাণহানি আর ধ্বংসলীলা ঘটেছিল।
- ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি এস ট্রুম্যান এই পারমাণবিক বোমা বর্ষণের নির্দেশ দেন।

লিটলবয় ও ফ্যাটম্যান:
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় শেষের পথে, তখন আগস্টের জাপানের হিরোশিমা এবং নাগাসাকি শহরে পরমাণু বোমা ফেলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
- বিশ্বে প্রথম কোন যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল গণবিধ্বংসী মারণাস্ত্র। মারা গিয়েছিল হাজার হাজার মানুষ।
- জাপানের হিরোশিমা শহরে ৬ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে বোমা বর্ষণ করে। নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো লিটলবয়।
- ৯ আগস্ট, ১৯৪৫ সালে নাগাসাকি শহরে পারমাণবিক বোমা বর্ষণ করে। নাগাসাকিতে নিক্ষিপ্ত বোমাটির নাম ছিলো ফ্যাটম্যান।

উৎস: History.com

১৬৮.
ODS (Ozone Depleting Substances) এর ব্যবহার কমানোর জন্য কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?
  1. কিয়োটো প্রটোকল
  2. মন্ট্রিল প্রটোকল
  3. প্যারিস চুক্তি
  4. রামসার কনভেনশন
ব্যাখ্যা

♦ ODS (Ozone Depleting Substances) এর ব্যবহার কমানোর জন্য মন্ট্রিল প্রটোকল স্বাক্ষরিত হয়।

⇒ ODS (Ozone Depleting Substances) হলো এমন পদার্থ যা সাধারণত রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র এবং অ্যারোসলের মতো পণ্যগুলিতে ব্যবহৃত হয়।

মন্ট্রিল প্রটোকল:
- Montreal Protocol-এর পূর্ণরূপ: The Montreal Protocol on Substances that Deplete the Ozone Layer.
- মন্ট্রিল প্রোটোকল হল ওজোন স্তর ক্ষয়কারী পদার্থ (ODS) ব্যবহার এবং উৎপাদন বন্ধ করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি।
- মন্ট্রিল প্রোটকলের মূখ্য আলোচ্য বিষয়: ওজোন স্তরের সুরক্ষা।

⇒ চুক্তি গৃহীত হয়: ১৬ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৭ সালে।
- কার্যকর হয়: ১ জানুয়ারী, ১৯৮৯ সালে।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: মন্ট্রিল, কানাডা।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ: ২০০টি।
- চুক্তি অনুমোদনকারী দেশ: ১৯৮টি।

উল্লেখ্য,
- ক্লোরোফ্লোরোকার্বন (সিএফসি), হ্যালন, কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, মিথাইল ক্লোরোফর্ম, মিথাইল ব্রোমাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, হাইড্রোব্রোমোফ্লোরোকার্বন ইত্যাদি গ্যাসের প্রভাবে দিন দিন ক্ষয়ে যাচ্ছে এই ওজোন স্তর। যার ফলে তৈরি হচ্ছে ওজোন হোল বা গর্ত। প্রায় সকল ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য (ওডিএস) ই অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন গ্রিন হাউস গ্যাস হিসেবে চিহ্নিত। ওজোনস্তর ক্ষয়কারী দ্রব্য ও এর বিকল্পসমূহ অধিকাংশ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। এ গ্যাসগুলো সাধারণতঃ রেফ্রিজারেশন ও এয়ারকন্ডিশনিং সিস্টেমে, এ্যাজমা চিকিৎসায় উৎপাদিত ইনহেলারে, ফ্যান, প্লাস্টিক ফোম তৈরি ও মাইক্রোইলেকট্রিক সার্কিট পরিস্কার করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানবসভ্যতাকে রক্ষার জন্য ওজোনস্তর রক্ষায় কাজ করা একান্ত প্রয়োজন। তাই ওজোনস্তরের ক্ষয়কারী দ্রব্যের ব্যবহার কমাতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
- ধরিত্রীকে রক্ষার লক্ষ্যে ওজোনস্তর রক্ষায় জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির উদ্যোগে ১৯৮৫ সালে 'ভিয়েনা কনভেনশন' গৃহীত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর কানাডার মন্ট্রিলে "মন্ট্রিল প্রটোকল" নামে এক যুগান্তকারী চুক্তি গৃহীত হয়।

উৎস: i) UNEP ওয়েবসাইট।
ii) Ozone Secretariat।
ii) তথ্য অধিদফতর (পিআইডি)।

১৬৯.
আফিম যুদ্ধ কোন দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়?
  1. চীন ও আফগানিস্তান
  2. চীন ও ইংল্যান্ড
  3. চীন ও রাশিয়া
  4. ইংল্যান্ড ও আফগানিস্তান
ব্যাখ্যা

♦ আফিম যুদ্ধ চীন ও ইংল্যান্ড- এই দুইটি দেশের মধ্যে সংঘটিত হয়।

আফিম যুদ্ধ:
- আফিমের চোরাচালানকে কেন্দ্র করে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, তাই আফিম যুদ্ধ নামে পরিচিত।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উনিশ শতকের গোড়া থেকে চীনের সঙ্গে ব্যবসায়ে ঘাটতি মেটাতে বঙ্গদেশ থেকে চীনে আফিম রপ্তানি শুরু করে।
- চীনা শাসকরা ১৮৩৯ সালে আফিম আমদানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
- কিন্তু ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অবৈধ উপায়ে এ ব্যবসা অব্যাহত রাখে।
- কোম্পানির অবৈধ আফিম ব্যবসার কারণে চীন ও ব্রিটেনের মধ্যে যুদ্ধ বাধে।
- ১ম যুদ্ধে চীনারা পরাজিত হয় এবং চীন ১৮৪২ সালে নানকিং চুক্তি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।

• নানকিং চুক্তি:
- প্রথম আফিম যুদ্ধে পরাজয়ের পর চীনের শাসকগোষ্ঠী ব্রিটিশদের সাথে একটি অপমানজনক 'অসম চুক্তি' স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়।
- এই চুক্তির নাম নানকিং চুক্তি।
- চিনা কমিশনার চিইং (Chiying) এবং নব নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত স্যার হেনরি পট্টিনগার (Sir Henry Pottinger) -এর উদ্যোগে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ২৯ আগস্ট, ১৮৪২ সালে
- এই চুক্তির মাধ্যমে ব্রিটিশদের হংকংয়ের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল।
- এছাড়া চীন কর্তৃক ব্রিটেনকে বিভিন্ন বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানে বাধ্য হয়।
- পরবর্তীতে ১৮৯৮ সালে চীন সরকার ৯৯ বছরের জন্যে হংকংকে ব্রিটেনের নিকট লিজ দেয় এবং ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই লিজের মেয়াদ শেষে ব্রিটেন পুনরায় চীনের নিকট হংকং কে হস্তান্তর করে।

উৎস: Britannica.

১৭০.
কেপ ভারদ (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি কোথায় অবস্থিত?
  1. গালফ অফ গিনি
  2. ফ্রেঞ্ছ পলিনেশিয়া
  3. দক্ষিন আফ্রিকা
  4. পশ্চিম আফ্রিকা
ব্যাখ্যা

♦ কেপ ভারদ (Cape Verde) দ্বীপ রাষ্ট্রটি পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত।

কেপ ভার্দে (Cape Verde):
- কেপ ভার্দে রাষ্ট্রটি পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত।
- এটি আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত একটি দ্বীপপুঞ্জ।
- রাজধানী: প্রাইয়া (Praia)।
- সরকারি ভাষা: পর্তুগিজ।
- মুদ্রা: কেপ ভার্দীয় এসকুডো (সিভিই)।
- ধর্ম: খ্রিস্টধর্ম (প্রধানত রোমান ক্যাথলিক); এছাড়াও ইসলাম।
- এর রাষ্ট্রপ্রধান হলেন রাষ্ট্রপতি এবং এর সরকারপ্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য,
- কেপ ভার্দে পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

উৎস: Britannica.

১৭১.
নিম্নোক্ত কোন দেশ বা অঞ্চল জাতিসংঘের সদস্য দেশ নয়?
  1. তিমুর লিস্টি
  2. দক্ষিন সুদান
  3. ওয়েস্টার্ন সাহারা
  4. সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক
ব্যাখ্যা

♦ ওয়েস্টার্ন সাহারা জাতিসংঘের সদস্য দেশ নয়। তিমুর লিস্টি, দক্ষিন সুদান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক জাতিসংঘের সদস্য দেশ।

ওয়েস্টার্ন সাহারা (পশ্চিম সাহারা):
- পশ্চিম সাহারা বা ওয়েস্টার্ন সাহারা আফ্রিকার উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি বিচ্ছিন্ন জনবহুল অঞ্চল যার বেশিরভাগই মরুভূমি।
- বৃহত্তম শহর: লায়াউন।
- ওয়েস্টার্ন সাহারা একটি বিতর্কিত অঞ্চল।
- এটি পূর্বে স্পেনের উপনিবেশ (Spanish Sahara) ছিল। ১৯৭৫ সালে তা স্বাধীন হয়। কিন্তু মরক্কো ওই এলাকার অনেকটাই দখল করে নেয়। তখন থেকে পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই চলছে মরক্কোর।
- দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে সংঘর্ষ চলছে। পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতাকামী যোদ্ধাদের নাম পোলিসারিও ফ্রন্ট। ১৯৯১ সাল পর্যন্ত লাগাতার যুদ্ধ চলার পর মরক্কো এবং পোলিসারিও-র মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি সই হয়। কিন্তু ২০২০ সাল থেকে পোলিসারিও নতুন করে লড়াই শুরু করেছে।
- ওয়েস্টার্ন সাহারা জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র নয়। জাতিসংঘ এই অঞ্চলকে "Non-self-governing territory" হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

অন্যদিকে,
- তিমুর-লিস্টি (পূর্ব তিমুর) ২০০২ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।
- দক্ষিণ সুদান ২০১১ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।
- সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক ১৯৬০ সালে জাতিসংঘে যোগদান করে।

⇒ জাতিসংঘ:
- বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক সংস্থা হলো জাতিসংঘ (United Nations Organization).
- এটি জাতিপুঞ্জের (League of Nations) উত্তরসূরী।
- জাতিসংঘ সনদ স্বাক্ষরিত হয়: ২৬ জুন, ১৯৪৫।
- জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়: ২৪ অক্টোবর, ১৯৪৫।
- স্বাক্ষরের স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকো।
- প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য: ৫১টি।
- বর্তমান সদস্য: ১৯৩টি।
- সর্বশেষ সদস্য: দক্ষিণ সুদান।
- বর্তমান মহাসচিব: আন্তোনিও গুতেরেস।
- সদর দপ্তর: ম্যানহাটন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র।
- দাপ্তরিক ভাষা ৬টি: ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, চীনা, রুশ, স্প্যানিশ এবং আরবি।
- কার্যকরী দাপ্তরিক ভাষা ২টি: ইংরেজি ও ফ্রেঞ্চ।

উৎস: i) UN ওয়েবসাইট।
ii) Britannica.

১৭২.
নিম্নোক্ত কোন দেশটি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য নয়?
  1. বুলগেরিয়া
  2. হাঙ্গেরি
  3. পোল্যান্ড
  4. সুইজারল্যান্ড
ব্যাখ্যা

♦ সুইজারল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য নয়। অন্যদিকে বুলগেরিয়া, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (EU) সদস্য।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (
European Union):
- বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU)।
- প্রতিষ্ঠিত হয়: ১ নভেম্বর, ১৯৯৩ সালে।
- সদরদপ্তর: ব্রাসেলস, বেলজিয়াম।
- প্রতিষ্ঠাতা সদস্য দেশ: ৬টি।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ: ২৭টি।

⇒ ইইউ দেশগুলো হলো: অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ক্রোয়েশিয়া, সাইপ্রাস, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া , স্লোভেনিয়া, স্পেন এবং সুইডেন।

উল্লেখ্য,
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপিয়ান দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য একটি অর্থনৈতিক জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে।
• ১৮ এপ্রিল, ১৯৫১ সালে প্যারিসে একচুক্তির মাধ্যমে ইউরোপিয় কয়লা ও ইস্পাত পরিষদ (ECSE- European Coal and Steel Community) গঠিত হয়।
• ২৫ মার্চ, ১৯৫৭ সালে বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস্, ইতালি ফ্রান্স ও সাবেক পশ্চিম জার্মানী এ ৬টি রাষ্ট্রের মধ্যে 'রোম চুক্তি' স্বাক্ষরিত হয়।
- এ চুক্তি অনুযায়ী ১৭ জানুয়ারি, ১৯৫৮ সালে European Economic Community (EEC) এবং Euratom প্রতিষ্ঠিত হয়।
• পরবর্তীতে EEC একটি একক ইউরোপিয় অর্থনীতি গঠন করার প্রয়াস চালায়।
- ১৯৬৫ সালে সম্পাদিত 'ব্রাসেলস চুক্তি' সংগঠনটিকে European Community (EC) রূপান্তরিত করে।
• ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত 'ম্যাসট্রিক্ট চুক্তি'র ভিত্তিতে EC রূপান্তরিত হয়ে বর্তমান ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন European Union (EU) হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়।

এছাড়াও,
- শেনজেনভুক্ত দেশ: ২৯টি।
- ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী দেশ: ২০টি।

উৎস: EU ওয়েবসাইট।

১৭৩.
নিম্নোক্ত কোন দেশটি 'Five Eyes' ভুক্ত নয়?
  1. অস্ট্রেলিয়া
  2. ফ্রান্স
  3. নিউজিল্যান্ড
  4. কানাডা
ব্যাখ্যা

♦ 'Five Eyes' গোয়েন্দা জোটের অন্তর্ভুক্ত দেশ নয় ফ্রান্স। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডা Five Eyes-এর সদস্য।

Five Eyes:
- Five Eyes ইন্টেলিজেন্স অ্যালায়েন্স, যা FVEY নামেও পরিচিত।
- ‘এটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং নিউজিল্যান্ডের একটি গোয়েন্দা জোট।
- জোটটি UKUSA চুক্তির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।
- তারা বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে একসাথে কাজ করে।
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে তারা তাদের দেশকে নিরাপদ রাখতে একে অপরকে সাহায্য করছে।
- সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত তথ্য তারা শেয়ার করে।

⇒ UKUSA চুক্তি:
- ১৯৪৩ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য একটি সমবায় গোয়েন্দা চুক্তি গঠন করে যা BRUSA চুক্তি নামে পরিচিত।
- এই গোপন চুক্তিটি পরবর্তীতে UKUSA চুক্তি হিসাবে আনুষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।
- এই চুক্তিটি ফাইভ আই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানের ভিত্তি স্থাপন করে।

উৎস: Five Eyes ওয়েবসাইট।

১৭৪.
"কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারন"-অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কোন গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন?
  1. Development as Freedom
  2. Women and Human Development
  3. Development through Disposition
  4. Development, Environment and Power
ব্যাখ্যা

♦ "কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারন"- অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন 'Development as Freedom' গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন।

অমর্ত্য সেন:
- অমর্ত্য সেন একজন ভারতীয় বাঙালী অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক।
- ১৯৯৮ সালে তিনি অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছিলেন।
- দারিদ্র এবং দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণার জন্য ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান অমর্ত্য সেন।

⇒ ১৯৫১ সালে আইএসসি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে তিনি ভর্তি হন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে এবং তারপর অর্থনীতি নিয়ে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন ইংল্যাণ্ডে কেম্ব্রিজের ট্রিনিটি কলেজে। এছাড়াও তিনি ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ক্যামব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
- তিনি ইকোনমিস্ট ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটির একজন ট্রাষ্টি।
- তিনিই প্রথম ভারতীয় শিক্ষাবিদ যিনি একটি অক্সব্রিজ কলেজের প্রধান হন। এছাড়াও তিনি প্রস্তাবিত নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবেও কাজ করেছেন।
- ২০০৬ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে অনূর্ধ্ব ষাট বছর বয়সী ভারতীয় বীর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০১০ সালে তাকে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য,
- "কেবল আয়ের অভাব নয়, বরং সামর্থ্যের অভাবই দারিদ্র্যের মূল কারণ" - এই উক্তিটি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন-এর। তিনি তার "Development as Freedom" গ্রন্থে এই যুক্তি তুলে ধরেন। এখানে 'সামর্থ্যের অভাব' বলতে শুধু আর্থিক সংগতিই নয়, বরং মানুষের সক্ষমতার অভাবকেও বোঝানো হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুযোগ এবং স্বাধীনতা লাভের অভাব।

এছাড়াও,
- অমর্ত্য সেনের লেখা গ্রন্থাবলি ৩০টিরও বেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
- The Idea Of Justice-গ্রন্থটির রচয়িতা অমর্ত্য সেন। বইটি মূলত জন রলসের 'A Theory of Justice' (1971)-এর মৌলিক ধারণাগুলির একটি সমালোচনা এবং সংশোধন।

উৎস: i) Britannica.
ii) Development as Freedom- Amartya Sen.

১৭৫.
নিম্নোক্ত কোন রাষ্ট্রটি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য নয়?
  1. আজারবাইজান
  2. ভারত
  3. পাকিস্তান
  4. ইরান
ব্যাখ্যা

♦ আজারবাইজান রাষ্ট্রটি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য নয়। অন্যদিকে ভারত, পাকিস্তান ও ইরান সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন বা SCO -এর সদস্য।

Shanghai Cooperation Organisation (SCO):
- সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (SCO) হলো একটি ইউরেশীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংস্থা।
- এর মূল লক্ষ্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
- গঠিত হয়: ১৫ জুন, ২০০১ সাল।
- সদরদপ্তর: বেইজিং, চীন।
- প্রতিষ্ঠিত সদস্য দেশ: ৬টি (চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান)।
- বর্তমান সদস্য দেশ: ১০টি (রাশিয়া, চীন, ভারত, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ইরান, বেলারুশ)।
- সর্বশেষ সদস্য: বেলারুশ।
- বর্তমান মহাসচিব: Nurlan Yermekbayev।
- ২টি পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র: আফগানিস্তান, মঙ্গোলিয়া।

উলেখ্য,
- ২০২৫ সালের Shanghai Cooperation Organisation (SCO)-এর ২৫তম শীর্ষ সম্মেলন চীনের তিয়ানজিন শহরে ৩১ আগস্ট -১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি SCO-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্মেলন ছিল। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং।

উৎস: Shanghai Cooperation Organisation ওয়েবসাইট।

১৭৬.
ভারত পাকিস্তানের মধ্যে ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি (IWT) কোন সালে স্বাক্ষরিত হয়?
  1. ১৯৪৮
  2. ১৯৭৪
  3. ১৯৬৫
  4. ১৯৮০
অনির্ধারিত
ব্যাখ্যা

♦ ভারত পাকিস্তানের মধ্যে ইন্দাস ওয়াটার ট্রিটি (IWT) ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত হয়।
অপশনে সঠিক উত্তর না থাকায় প্রশ্নটি বাতিল করা হয়েছে।
------------------------

সিন্ধু নদের পানিবণ্টন চুক্তি (Indus Waters Treaty):
- ভারতের উজান থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু অববাহিকায় প্রবাহিত নদীগুলোর পানি ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি হচ্ছে সিন্ধু পানি চুক্তি।
- চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়: ১৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৬০ সাল।
- চুক্তি স্বাক্ষরের স্থান: করাচি, পাকিস্তান।
- মধ্যস্থতাকারী: বিশ্বব্যাংক।
- চুক্তি স্বাক্ষরকারী: ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আইয়ুব খান।

⇒ সিন্ধু পানি চুক্তি অনুসরণ করেই এসব নদীর পানি ব্যবহার করা হয়।
- এই চুক্তি সিন্ধু নদের অববাহিকার ছয়টি নদী দুই দেশের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে।
- চুক্তি অনুযায়ী ভারতকে তিনটি পূর্বাঞ্চলীয় নদীর নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল। এগুলো হলো ইরাবতী, বিপাশা ও শতদ্রু।
- অন্যদিকে পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছিল পশ্চিমাঞ্চলীয় তিনটি নদ–নদী অর্থাৎ সিন্ধু, ঝিলম এবং চেনাবের নিয়ন্ত্রণ। বলা হয় পশ্চিম অংশের এ তিনটি নদ–নদীর মাধ্যমে পাকিস্তানে মোট পানির প্রায় ৮০ ভাগ সরবরাহ করে।
- চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তান পায় ৭০ ভাগ পানি আর ভারত পায় ৩০ ভাগ পানি।
- চুক্তিটি কোনো দেশ একতরফাভাবে স্থগিত বা বাতিল করার বিধান নেই। বরং এতে সুস্পষ্ট বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
---------------------

অতিরিক্ত আলোচনা:

১৯৬০ সালে IWT স্বাক্ষরিত হলেও, ভারত ভাগের পর প্রথম আনুষ্ঠানিক জল-বণ্টন বন্দোবস্ত হয়েছিল ৪ মে ১৯৪৮—Inter-Dominion Agreement on Punjab Canal Waters. এই চুক্তিতে ভারত পাকিস্তানের অববাহিকায় পানি সরবরাহ দেবে, আর পাকিস্তান বার্ষিক অর্থপ্রদান করবে—যা ছিল স্থায়ী চুক্তি হওয়া পর্যন্ত একটি স্টপগ্যাপ/অন্তর্বর্তী সমাধান।
এই অন্তর্বর্তী বন্দোবস্তই পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংক-মধ্যস্থ আলোচনার পথ খুলে দেয় এবং ১৯৬০ সালের IWT-তে পৌঁছাতে সহায়তা করে।

তাই প্রশ্নটি যদি “ইন্দাস ব্যবস্থায় দুই দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক জল-ব্যবস্থাপনা চুক্তি/সমঝোতা”—এই অর্থে নেওয়া হয়, তহলে ক) ১৯৪৮ অধিক গ্রহণযোগ্য উত্তর। কিন্তু প্রশ্নে সরাসরি এই চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছে, এটা জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই হিসাবে ঘুরিয়ে উত্তর নেওয়ার সুযোগ কম।


উৎস:
i) Britannica.
ii) UNTC ওয়েবসাইট।
iii) Ministry of External Affairs, Government of India.

১৭৭.
হালিমা ইয়াকুব কোন দেশের রাষ্ট্রপতি ছিলেন?
  1. ব্রুনেই
  2. মালয়েশিয়া
  3. সিংগাপুর
  4. তানজানিয়া
ব্যাখ্যা

♦ হালিমা ইয়াকুব সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপতি ছিলেন।

হালিমা ইয়াকুব:
- হালিমা ইয়াকুব সিঙ্গাপুরের অষ্টম ও প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট।
- ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে হালিমা ইয়াকুব ক্ষমতায় এসেছিলেন।
- ২০২৩ সালে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অর্থনীতিবিদ থারমান শানমুগারাতনাম হালিমা ইয়াকুবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।

উল্লেখ্য,
- সিঙ্গাপুরে প্রেসিডেন্ট পদ অনেকটা আলংকারিক। প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে নগররাষ্ট্রটির পুঞ্জীভূত আর্থিক রিজার্ভ দেখভাল করেন, সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন এবং দুর্নীতিবিরোধী তদন্ত অনুমোদন করেন। তবে এই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য বেশ কঠিন কিছু শর্ত রয়েছে। সংবিধান মতে, প্রেসিডেন্ট হচ্ছে নির্দলীয় একটি পদ।

⇒ সিঙ্গাপুর:
- দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধনী নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুর।
- রাজধানী: সিঙ্গাপুর সিটি।
- মুদ্রা: সিঙ্গাপুরীয় ডলার।
- দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী: লরেন্স ওং (Lawrence Wong)।
- দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট: থারমান শানমুগারাতনাম (Mr Tharman Shanmugaratnam)।
- সিঙ্গাপুর ব্রিটিশ উপনিবেশ ছিল। ১৯৫৯ সালে সিঙ্গাপুর স্ব-শাসিত হয়ে ওঠে।

এছাড়াও,
- আধুনিক সিঙ্গাপুরের জনক হলেন লি কুয়ান ইউ। লি কুয়ান ইউ ১৯৫৯ সালের জুন মাসে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী হন। তিনি ১৯৫৯ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
- তাঁর দীর্ঘ শাসনামলে , সিঙ্গাপুর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে সমৃদ্ধ দেশ হয়ে ওঠে।

উৎস: Britannica.

১৭৮.
সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ইসহাক দার পাকিস্তানের কোন্ রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত?
  1. পাকিস্তান পিপলস পাটি (PPP)
  2. পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (PTI)
  3. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ)
  4. জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান
ব্যাখ্যা

♦ সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া পাকিস্তানের উপ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ইসহাক দার পাকিস্তানের পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) দলের সাথে সম্পৃক্ত।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার:
- মুহাম্মদ ইসহাক দার একজন পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ।
- তিনি বর্তমানে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং ২০২৪ সাল থেকে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
- ইসহাক দার পাকিস্তান মুসলিম লীগ (নওয়াজ) দলের সাথে সম্পৃক্ত।
- তিনি মুসলিম লীগ এন-এর প্রধান নওয়াজ শরীফের বেয়াই।

⇒ ২৩ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকায় অবতরণ করেন।
- ১৩ বছর পর বাংলাদেশ সফরে আসা পাকিস্তানের কোন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হলেন ইসহাক দার। এর আগে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রব্বানি ঢাকা সফর করেছিলেন।

উল্লেখ্য,
- পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বাংলাদেশ সফরটি যতটা কূটনৈতিক, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। তিনি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে আমাদের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার কথা বলেছেন। তাঁর সফরকালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সঙ্গে একটি চুক্তি ও চারটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।

উৎস: i) BBC.
ii) প্রথম আলো।

১৭৯.
তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল Kurdistan Workers' Party বা PKK এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. জালাল তালাবানী
  2. মাসুদ বারজানী
  3. মাজলুম আবদি
  4. আবদুল্লাহ ওচালান
ব্যাখ্যা

♦ তুরস্কের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল Kurdistan Workers' Party বা PKK এর প্রতিষ্ঠাতা আবদুল্লাহ ওচালান।

Kurdistan Workers' Party (PKK):
- কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) একটি কুর্দি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ও সামরিক সংগঠন।
- এটি মূলত তুরস্ক, ইরান, ইরাক এবং সিরিয়ায় কুর্দিদের অধিকারের পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
- পিকেকে ১৯৭৮ সালে আবদুল্লাহ ওচালানের (Abdullah Ocalan) নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
- পিকেকে শুরুতে একটি সাম্যবাদী বিপ্লবী গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
- সংগঠনটির মূল দাবি ছিল স্বাধীন কুর্দিস্তান প্রতিষ্ঠা, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও সাংস্কৃতিক অধিকারের দিকেও মনোযোগ দেয়।
- পিকেকে-কে বিভিন্ন দেশ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করলেও, অনেকের কাছে এটি কুর্দিদের অধিকারের জন্য সংগ্রামী প্রতিরোধ শক্তি।

উল্লেখ্য,
- পিকেকে ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে।
- পিকেকে'র আদর্শ বিপ্লবী মার্কসবাদ-লেনিনবাদ এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী জাতিগত-জাতীয়তাবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত।
- ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো অন্যান্য দেশ সহ অনেক দেশ পিকেকেকে আন্তর্জাতিকভাবে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
- পিকেকে'র প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হল তুরস্কের পুলিশ, সামরিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সম্পদ।
- সম্প্রতি (১ মার্চ, ২০২৫) কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) দেশটির সরকারের সঙ্গে চলমান ৪০ বছরের সংঘাতের অবসান ঘটানোর জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

উৎস: i) BBC.
ii) Republic of Türkiye Ministry of Foreign Affairs.

১৮০.
প্রাচীনকালে কোন দেশে সিভিল সার্ভিসের ধারণা প্রথম উদ্ভূত হয়?
  1. মিশর
  2. গ্রীস
  3. চীন
  4. রোম
ব্যাখ্যা

♦ প্রাচীনকালে সিভিল সার্ভিসের ধারণা প্রথম উদ্ভূত চীনে।

সিভিল সার্ভিস:
- সিভিল সার্ভিস একটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
- এর মাধ্যমে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং নাগরিকদের সেবা প্রদান করে। এটি মূলত একটি পেশাদার, অরাজনৈতিক ও দক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারী বাহিনী, যারা সংবিধান ও সরকারের নীতিমালার আলোকে কাজ করে।
- এছাড়া, তারা সরকারের নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এর অন্তর্ভুক্ত কর্মকর্তারা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় প্রশাসনের নানা স্তরে নিয়োজিত থাকেন।

⇒ সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হয়েছে – প্রাচীন কালেই; যখন কিনা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে রাজতন্ত্র বিদ্যমান ছিল।
- এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য অনুসারে, সিভিল সার্ভিসের ধারণার উদ্ভব হয়েছিল প্রাচীন মিশরীয় ও গ্রীক সভ্যতার সময়।
- পরবর্তীতে, রোমান সাম্রাজ্য প্রশাসনিক দপ্তর নির্মাণের মাধ্যমে একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল; যা পরবর্তীতে রোমান ক্যাথলিক চার্চগুলোও অনুসরণ করে।

⇒ চীনে খ্রিস্টপূর্ব ২ অব্দে সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হয় যা চীনা সভ্যতা/সাম্রাজ্যকে দুই হাজার বছরের বেশি সময় ধরে স্থায়িত্ব দিয়েছে।
- যোগ্যতার ভিত্তিতে সিভিল সার্ভিসের প্রাচীনতম উদাহরণগুলির মধ্যে একটি হলো চীনের ইম্পেরিয়াল আমলাতন্ত্র।
- চীনে সিভিল সার্ভিসের চাকরিকে ‘Iron Rice Bowl’ বলা হয়। চাকরির নিরাপত্তা ও উচ্চ বেতনের জন্য এই নামকরণ করা হয়েছে।
- চীনের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা মান্দারিন ভাষায় হয় ‘Guako’।
- খ্রিষ্টপূর্ব ২০৬ অব্দে চীনের হান রাজবংশের রাজা গাওজু (Gaozu) এর শাসনামলে মেধাভিত্তিক সিভিল সার্ভিসের উন্মেষ ঘটে। তিনি প্রথম পরীক্ষার মাধ্যমে রাজকর্মচারী নিয়োগের ব্যবস্থা চালু করেন। এই সময়ে ইম্পেরিয়াল পরীক্ষা ব্যবস্থা (Keju বা Civil Service Examination) চালু হয়, যা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার উপর নির্ভরশীল ছিল। এই ব্যবস্থা পরবর্তীতে সুই (৫৮১-৬১৮) এবং তাং রাজবংশের (৬১৮-৯০৭) সময়ে আরও উন্নত হয়।
- পরবর্তীতে অন্যান্য রাজবংশের শাসনের সময় তা বিভিন্ন সংশোধন ও পরিমার্জনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে থাকে ও অধিক সুসংগঠিত হয়।
- সং সাম্রাজ্য (Song Dynasty – 960–1279) প্রথম যোগ্যতা (jinshi degree) ও পরীক্ষা পদ্ধতির প্রচলন ঘটায়।
- মিং সাম্রাজ্যের (Ming dynasty – 1368–1644) সময় সিভিল সার্ভিস সিস্টেম চূড়ান্ত রূপে পৌঁছায় এবং পরবর্তীতে কিং সাম্রাজ্যও এই পদ্ধতিই অনুসরণ করে। এই সময় সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাগণ নিজের এলাকায় নিয়োগ না পাওয়া, এক স্থানে তিনবছরের বেশি দায়িত্ব পালন না করা ইত্যাদি নিয়ম অন্তর্ভূক্ত হয়। তাছাড়া, উচ্চপদের জন্য যোগ্যতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু জিনিস অন্তর্ভূক্ত এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়।
- চীনে ১৯৪৯ সালে গণপ্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর মূলত বর্তমান রাষ্ট্রীয় সিভিল সার্ভিসের প্রচলন ঘটে। সাধারণত কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সংশ্লিষ্টরাই এই সার্ভিসে যোগদান করে।

• তাই, সিভিল সার্ভিসের উদ্ভব হিসেবে চীন দেশকেই গণ্য করা হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের পর এই কাঠামো দুটি ভাগে বিভক্ত হয়—ভারত ও পাকিস্তানের নিজ নিজ প্রশাসনিক কাঠামোতে। পরবর্তীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর, ১৯৭২ সালে সিভিল সার্ভিস পুনর্গঠিত হয়ে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) নামে আত্মপ্রকাশ করে।

উৎস: i) Britannica.
ii) BBC.

১৮১.
একটি ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার। ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?
  1. 2√2 মিটার
  2. 2√3 মিটার
  3. 2 মিটার
  4. 2√6 মিটার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার। ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল 48 বর্গমিটার

আমরা জানি,
ঘনকের সম্পূর্ণ পৃষ্ঠের ক্ষেত্রফল = 6a2, [যেখানে a হলো ঘনকের একটি বাহুর দৈর্ঘ্য।]

প্রশনমতে,
6a2 = 48
⇒ a2 = 48/6
⇒ a2 = 8
⇒ a = √8 = 2√2
∴ a = 2√2 মিটার

আবার,
আমরা জানি,
ঘনকের কর্ণের দৈর্ঘ্য = a√3
= (2√2) × √3 ; [a = 2√2]
= 2√(2 × 3)
= 2√6

সুতরাং, ঘনকটির কর্ণের দৈর্ঘ্য 2√6 মিটার।

১৮২.
একটা লোহার গোলক গলিয়ে কয়টি সমান আয়তনের গোলক তৈরী সম্ভব যাদের প্রত্যেকের ব্যাসার্ধ বড় গোলকটির অর্ধেক?


  1. ১৬

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটা লোহার গোলক গলিয়ে কয়টি সমান আয়তনের গোলক তৈরী সম্ভব যাদের প্রত্যেকের ব্যাসার্ধ বড় গোলকটির অর্ধেক?

সমাধান:
ধরি,
বড় গোলকের ব্যাসার্ধ = R
ছোট গোলকের ব্যাসার্ধ, r = R/2

আমরা জানি,
গোলকের আয়তন V = (4/3)πr3

এখন,
বড় গোলকের আয়তন = (4/3)πR3
ছোট গোলকের আয়তন = (4/3)π(R/2)3 = (1/8) × (4/3)πR3

∴ ছোট গোলকের সংখ্যা = বড় গোলকের আয়তন ÷ ছোট গোলকের আয়তন
= {(4/3)πR3} ÷ {(1/8) × (4/3)πR3}
= 1/(1/8)
= 8

সুতরাং, বড় গোলকটি গলিয়ে ৮টি সমান ছোট গোলক তৈরি করা সম্ভব।

১৮৩.
logx4 = - 2 হলে x = কত?
  1. 1/2
  2. - 1/2
  3. 2
  4. - 2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: logx4 = - 2 হলে x = কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
logx4 = - 2
⇒ 4 = x- 2
⇒ 4 = 1/x2
⇒ x2 = 1/4
⇒ x2 = (1/2)2
∴ x = 1/2

১৮৪.
একটি ত্রিভুজের প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক। তৃতীয় কোণ অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ। দ্বিতীয় কোণটি কত ডিগ্রী?
  1. ৩০
  2. ৬০
  3. ৯০
  4. ৪৫
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ত্রিভুজের প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক। তৃতীয় কোণ অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ। দ্বিতীয় কোণটি কত ডিগ্রী?

সমাধান:
ধরি,
দ্বিতীয় কোণ = x
প্রথম কোণ দ্বিতীয় কোণের অর্ধেক।
∴ প্রথম কোণ = x/2
এবং,
তৃতীয় কোণটি অপর দুই কোণের বিয়োগফলের তিনগুণ।
অর্থাৎ, তৃতীয় কোণ = 3{x - (x/2)} = 3(2x - x)/2 = 3x/2

আমরা জানি,
ত্রিভুজের তিনটি কোণের সমষ্টি সর্বদা 180°

প্রশ্নমতে,
x + (x/2) + (3x/2) = 180°
⇒ (2x + x + 3x)/2 = 180°
⇒ 6x/2 = 180°
⇒ 3x = 180°
⇒ x = 180°/3
∴ x = 60°

অতএব, দ্বিতীয় কোণটি হলো 60°.

১৮৫.
একটি সমান্তর ধারার 4র্থ (চতুর্থ) এবং 12 তম পদের যোগফল 20 । ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল কত?
  1. 100
  2. 150
  3. 200
  4. 300
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি সমান্তর ধারার 4র্থ (চতুর্থ) এবং 12 তম পদের যোগফল 20 । ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
সমান্তর ধারার n-তম পদ = a + (n - 1)d ; যেখানে a = প্রথম পদ, d = সাধারণ অন্তর।

সুতরাং,
সমান্তর ধারার 4র্থ পদ = a + (4 - 1)d = a + 3d
সমান্তর ধারার 12 পদ = a + (12 - 1)d = a + 11d

প্রশ্নমতে,
a + 3d + a + 11d = 20
∴ 2a + 14d = 20 ........ (1)

আবার,
সমান্তর ধারার প্রথম n পদের যোগফল = (n/2) × {2a + (n - 1)d}
∴ সমান্তর ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল = (15/2) × {2a + (15 - 1)d}
= (15/2) × {2a + 14d}
= (15/2) × 20 ; [(1) নং হতে]
= 15 × 10
= 150

সুতরাং, ঐ ধারার প্রথম 15 পদের যোগফল 150

১৮৬.
x2 + 6x - 27 < 0 অসমতাটির সমাধান সেট নিচের কোনটি?
  1. [-9, 3]
  2. [3, ∞)
  3. (-9, 3)
  4. (∞, -9)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: x2 + 6x - 27 < 0 অসমতাটির সমাধান সেট নিচের কোনটি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
⇒ x2 + 6x - 27 < 0

এখন,
⇒ x2 + 9x - 3x - 27 = 0
⇒ x(x + 9) - 3(x + 9) = 0
⇒ (x + 9)(x - 3) = 0
হয়, (x + 9) = 0
∴ x = - 9

এবং, (x - 3) = 0
∴ x = 3

অসমতাটি হলো x2 + 6x - 27 < 0 যেহেতু এটি একটি দ্বিঘাত অসমতা, এর সমাধানটি মূল দুটি বিন্দুর মধ্যবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত হবে। অর্থাৎ, x এর মান - 9 এবং 3 এর মধ্যে থাকবে।

সুতরাং, সমাধান সেট = (- 9, 3)

বিকল্প সমাধান:
যদি x = - 10 হয়, তাহলে (- 10)2 + 6(- 10) - 27 = 100 - 60 - 27 = 13 > 0
যদি x = 0 হয়, তাহলে (0)2 + 6(0) - 27 = 0 - 0 - 27 = - 27 < 0
যদি x = 4 হয়, তাহলে (4)2 + 6(4) - 27 = 16 + 24 - 27 = 13 > 0

সুতরাং, সমাধান সেটটি (-9, 3) এর মধ্যে অবস্থিত।

১৮৭.
একটা বাক্সে ৪টা লাল, ৩টা নীল, ২টা হলুদ ও ১টা সবুজ বল আছে। কমপক্ষে কয়টা বল উঠালে সেখানে অন্তত একটা লাল বল থাকবেই?




ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটা বাক্সে ৪টা লাল, ৩টা নীল, ২টা হলুদ ও ১টা সবুজ বল আছে। কমপক্ষে কয়টা বল উঠালে সেখানে অন্তত একটা লাল বল থাকবেই?

সমাধান:
লাল বল = ৪
নীল বল = ৩
হলুদ বল = ২
সবুজ বল = ১
মোট = ৪ + ৩ + ২ + ১ = ১০ বল

সমাধান করতে হবে: কমপক্ষে কয়টা বল তুললে অন্তত একটি লাল বল উঠবেই।

- কমপক্ষে লাল বল বের করার জন্য worst case বিবেচনা করতে হবে।
worst case = প্রথমে সব লাল না তুলে বাকি সব রঙের বল তুলতে হবে।

লাল নয় এমন বলের সংখ্যা = ৩ + ২ + ১ = ৬
অতএব, ৬টা বল তোলার পরও আমরা কোনো লাল বল নাও পেতে পারি।

এখন,
৬টা লাল নয় এমন বলের পর আরও ১টা বল তুললে লাল বল আসবেই।
অতএব, ৭টা বল তুলতে হবে।

সঠিক উত্তর: (গ) ৭

১৮৮.
যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান কত?
  1. { }
  2. {a, b}
  3. { 0 }
  4. {- a, - b}
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান কত?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2}

প্রদত্ত রাশি,
N - M = {1, 2} - {a, b, 1, 2} = { }
N - M = { }

অথবা,
যদি M = {a, b, 1, 2} এবং N = {1, 2} হয়, তবে N - M এর মান হলো একটি খালি সেট, অর্থাৎ ∅ বা { }। এর কারণ হলো N সেটের সকল উপাদান (1 এবং 2) M সেটে উপস্থিত রয়েছে। N - M মানে হলো N সেটের এমন সকল উপাদান যা M সেটে নেই, এবং এই ক্ষেত্রে এমন কোনো উপাদান নেই।

সুতরাং, N - M = ∅ বা {}

১৮৯.
ax + by = a2; bx - ay = ab; এই সহ-সমীকরণের (x, y) এর সমাধান কোনটি?
  1. (a2, b2)
  2. (a, b)
  3. (0, a)
  4. (a, 0)
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ax + by = a2; bx - ay = ab; এই সহ-সমীকরণের (x, y) এর সমাধান কোনটি?

সমাধান:
দেওয়া আছে,
ax + by = a2 ............ (1)
bx - ay = ab..........(2)

সমীকরণ (1)-কে b দিয়ে গুণ করে পাই, abx + b2y = a2b.......(3)
সমীকরণ (2)-কে a দিয়ে গুণ করে পাই, abx - a2y = a2b.......(4)

এখন, (3) - (4) করে পাই,
abx + b2y - abx + a2y = a2b - a2b
⇒ y(a2 + b2) = 0
∴ y = 0

y এর মান (1) নং এ বসিয়ে পাই,
ax + 0 = a2
⇒ x = a2/a = a
∴ x = a

সুতরাং, সমাধান (x, y) = (a, 0)

১৯০.
একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদটি ৩২ ও অষ্টম পদটি ২৫৬ হলে উক্ত ধারার সাধারণ অনুপাত কত?

  1. ১৬

  2. ১/২
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি গুণোত্তর ধারার পঞ্চম পদটি ৩২ ও অষ্টম পদটি ২৫৬ হলে উক্ত ধারার সাধারণ অনুপাত কত?

সমাধান:
আমরা জানি,
একটি গুণোত্তর ধারার n-তম পদ = arn -1

দেওয়া আছে,
৫ম পদ, ar4 = 32 .........(১)
৮ম পদ, ar7 = 256 .........(২)

এখন, (২) নং কে (১) নং দ্বারা ভাগ করে পাই,
ar7/ar4 = 256/32
⇒ r3 = 8
⇒ r3 = 23
∴ r = 2

সুতরাং, ধারাটির সাধারণ অনুপাত ২ ।

১৯১.
একটি ট্রেন প্রতি সেকেন্ডে ১০০ ফুট বেগে চলছে। এক ব্যক্তির বন্দুকের গুলির বেগ সেকেন্ডে ২০০ ফুট। উক্ত ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনের ৩০০ ফুট সামনে একটা স্তম্ভ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কত সেকেন্ড পর তা স্তম্ভকে আঘাত করবে?

  1. ১.৫

  2. ০.৫
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি ট্রেন প্রতি সেকেন্ডে ১০০ ফুট বেগে চলছে। এক ব্যক্তির বন্দুকের গুলির বেগ সেকেন্ডে ২০০ ফুট। উক্ত ব্যক্তি চলন্ত ট্রেনের ৩০০ ফুট সামনে একটা স্তম্ভ লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে কত সেকেন্ড পর তা স্তম্ভকে আঘাত করবে?

সমাধান:
ট্রেনের বেগ = ১০০ ফুট/সেকেন্ড
গুলির বেগ = ২০০ ফুট/সেকেন্ড
স্তম্ভের দূরত্ব = ৩০০ ফুট

ব্যক্তি ট্রেনের উপর থেকে সামনের দিকে গুলি ছুড়েছে, তাই গুলির আপেক্ষিক কার্যকর বেগ = ট্রেনের বেগ + গুলির বেগ।

কার্যকর বেগ = ২০০ + ১০০ = ৩০০ ফুট/সেকেন্ড
সময় = দূরত্ব ÷ বেগ = ৩০০ ÷ ৩০০ = ১ সেকেন্ড

১৯২.
দুইটি সংখ্যার ল,সা, গু 4x2 + 12x2 - 16x - 48, গ,সা,গু 2x+4। একটি সংখ্যা 4x2 + 20x + 24 হলে অপরটি-
  1. x2 - 4
  2. 2(x2 - 4)
  3. 4(x2 - 4)
  4. x + 2
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: দুইটি সংখ্যার ল,সা, গু 4x2 + 12x2 - 16x - 48, গ,সা,গু 2x+4। একটি সংখ্যা 4x2 + 20x + 24 হলে অপরটি-

সমাধান:

[মূল প্রশ্নে 4x2 + 12x2 - 16x - 48 অংশটি ভুল দেওয়া আছে, এটি: 4x3 + 12x2 - 16x - 48 হবে, তাই ল,সা, গু 4x3 + 12x2 - 16x - 48 ধরে সমাধান করা হয়েছে]

ল,সা, গু = 4x3 + 12x2 - 16x - 48
গ,সা,গু = 2x + 4

একটি সংখ্যা = 4x2 + 20x + 24
অপর সংখ্যা = ?

আমরা জানি,
প্রথম সংখ্যা ​× দ্বিতীয় সংখ্যা​ = ল.সা.গু × গ.সা.গু

গ,সা,গু = 2x + 4 = 2(x + 2)

একটি সংখ্যা = 4x2 + 20x + 24
= 4(x2 + 5x + 6)
= 4(x + 2)(x + 3)

ল,সা, গু = 4x3 + 12x2 - 16x - 48
= 4(x3 + 3x2 - 4x - 12)
= 4[x2(x + 3) - 4(x + 3)]
= 4(x + 3)(x2 - 4)
= 4(x + 3)(x - 2)(x + 2)

প্রথম সংখ্যা ​× দ্বিতীয় সংখ্যা​ = ল.সা.গু × গ.সা.গু
দ্বিতীয় সংখ্যা = [4(x + 3)(x - 2)(x + 2) × 2(x + 2)] / [4(x + 2)(x + 3)]
= [8(x + 3)(x - 2)(x + 2)2] / [4(x + 2)(x + 3)]
= 2(x - 2)(x + 2)
= 2(x2 - 4)

১৯৩.
যদি গতকাল শুক্রবার হতো, তাহলে আজ থেকে ৮১ তম দিন কি বার হবে?
  1. শুক্রবার
  2. বুধবার
  3. সোমবার
  4. রবিবার
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: যদি গতকাল শুক্রবার হতো, তাহলে আজ থেকে ৮১ তম দিন কি বার হবে?

সমাধান:
গতকাল শুক্রবার ছিল।
অতএব, আজ শনিবার।
এখন আজ থেকে ৮১ তম দিন কোন বার হবে তা বের করতে হবে।

প্রতি সপ্তাহে ৭ দিন থাকে, তাই আমরা ৮১ কে ৭ দিয়ে ভাগ করব:

৮১ ÷ ৭ = ১১ সপ্তাহ এবং ৪ দিন।
অতএব, ৮১ দিনের ব্যবধান মানে ৪ দিন পরের বার।

এখন আজ (শনিবার) থেকে ৪ দিন যোগ করি:
আজ = শনিবার (দিন ০)
দিন ১ = রবিবার
দিন ২ = সোমবার
দিন ৩ = মঙ্গলবার
দিন ৪ = বুধবার

∴ সঠিক উত্তর: বুধবার

১৯৪.
নীচের ধারার পরবর্তী সংখ্যা কোনটি? ১, √৯, ৫, √৪৯, ......


  1. ১০
  2. ১২
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: নীচের ধারার পরবর্তী সংখ্যা কোনটি? ১, √৯, ৫, √৪৯, ......

সমাধান:
দেওয়া ধারা: ১, √৯, ৫, √৪৯, ......

প্রথম পদ = ১
দ্বিতীয় পদ = √৯ = ৩
তৃতীয় পদ = ৫
চতুর্থ পদ = √৪৯ = ৭
পঞ্চম পদ = ?

এখন সংখ্যাগুলি দেখি: ১, ৩, ৫, ৭.......

প্যাটার্ন: এটি একটি বিজোড় সংখ্যার ধারা যেখানে প্রতিটি পদ আগের পদ থেকে ২ বেশি।

১ থেকে ৩ = +২
৩ থেকে ৫ = +২
৫ থেকে ৭ = +২
৭ থেকে ? = +২
পরবর্তী সংখ্যা = ৭ + ২ = ৯

∴ সঠিক উত্তর: খ) ৯

১৯৫.
১ জন লোক ১ টা কলা ১ মিনিটে খেতে পারে। তাহলে ৫ জন লোকের ৫ টা কলা খেতে কত মিনিট সময় লাগবে?

  1. ২৫

  2. ১০
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১ জন লোক ১ টা কলা ১ মিনিটে খেতে পারে। তাহলে ৫ জন লোকের ৫ টা কলা খেতে কত মিনিট সময় লাগবে?

সমাধান:
১ জন লোক ১ টা কলা = ১ মিনিট
১ জন লোক ৫ টা কলা = ৫ মিনিট

৫ জন লোক ১ টা করে কলা = ১ মিনিট (সবাই একসাথে খায়)
৫ জন লোক ৫ টা কলা = ১ মিনিট (প্রতিটি লোক ১ টা কলা খায়)

কারণ: যখন ৫ জন লোক একসাথে খায়, তারা একই সময়ে কলা খাওয়া শুরু করে এবং শেষ করে। প্রতিটি লোক ১ টা কলা খেতে ১ মিনিট সময় নেয়।

১৯৬.
একটি বই 10% ক্ষতিতে বিক্রি করা হইল। বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশী হলে 5% লাভ হত। বইটির ক্রয়মূল্য কত টাকা?
  1. 200
  2. 300
  3. 400
  4. 500
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি বই 10% ক্ষতিতে বিক্রি করা হইল। বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশী হলে 5% লাভ হত। বইটির ক্রয়মূল্য কত টাকা?

সমাধান:
ধরি,
বইটির ক্রয়মূল্য = 100 টাকা
10% ক্ষতিতে, বিক্রয়মূল্য = 100 - 10 = 90 টাকা
5% লাভে, বিক্রয়মূল্য = 100 + 5 = 105 টাকা
∴ বিক্রয়মূল্য বেশি = 105 - 90 = 15 টাকা

বিক্রয়মূল্য 15 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = 100 টাকা
বিক্রয়মূল্য 1 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = 100/15 টাকা
বিক্রয়মূল্য 60 টাকা বেশি হলে ক্রয়মূল্য = (100 × 60)/15 টাকা
= 400 টাকা

সুতরাং, বইটির ক্রয়মূল্য 400 টাকা।

১৯৭.
কোন যান্ত্রিক গিয়ারের চাকা ছোট হলে সংযুক্ত অবস্থায় বড়টির চেয়ে ছোট চাকাটি কিভাবে ঘুরবে?
  1. আস্তে
  2. জোরে
  3. একইভাবে
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: কোন যান্ত্রিক গিয়ারের চাকা ছোট হলে সংযুক্ত অবস্থায় বড়টির চেয়ে ছোট চাকাটি কিভাবে ঘুরবে?

সমাধান:

গিয়ার মেকানিজমের নীতি:

যখন দুটি গিয়ার চাকা সংযুক্ত থাকে, তখা তারা একে অপরকে স্পর্শ করে এবং চলে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
- ছোট চাকার দাঁতের সংখ্যা < বড় চাকার দাঁতের সংখ্যা
- যখন সংযুক্ত থাকে, উভয় চাকার দাঁত একটি নির্দিষ্ট সময়ে একই সংখ্যক বার মিলিত হয়

গতির সম্পর্ক:
- ছোট চাকাটি বড় চাকার চেয়ে দ্রুত গতিতে ঘোরে (জোরে/বেগে ঘোরে)।

কারণ:
- যদি বড় চাকায় 100 দাঁত এবং ছোটটায় 20 দাঁত থাকে
- বড় চাকা 1 বার ঘুরলে, ছোট চাকা 5 বার ঘোরে
- তাই ছোট চাকা আরও বেশি দ্রুত ঘোরে
- সঠিক উত্তর: খ) জোরে

সুতরাং, ছোট চাকাটি বড় চাকার চেয়ে জোরে/দ্রুত গতিতে ঘোরে।

১৯৮.
১৫ মিটার লম্বা একটি স্কেলের এক প্রান্তে ১০ কেজি ওজন বাঁধা হয়েছে। একই প্রান্ত থেকে স্কেলের দৈর্ঘ্যের ৩ : ২ অনুপাতে একটি পেরেক লাগানো আছে। অপর প্রান্তে কত কেজি ওজন দিলে স্কেলের ভারসাম্য থাকবে?
  1. ৪৫
  2. ৩০
  3. ১৫

ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: ১৫ মিটার লম্বা একটি স্কেলের এক প্রান্তে ১০ কেজি ওজন বাঁধা হয়েছে। একই প্রান্ত থেকে স্কেলের দৈর্ঘ্যের ৩ : ২ অনুপাতে একটি পেরেক লাগানো আছে। অপর প্রান্তে কত কেজি ওজন দিলে স্কেলের ভারসাম্য থাকবে?

সমাধান:

স্কেলের মোট দৈর্ঘ্য = ১৫ মিটার
এক প্রান্তের ওজন = ১০ কেজি
পেরেক বিভাজন = ৩ : ২

৩ : ২ অনুপাতে পুরো ১৫ মিটারকে ৫ ভাগে ভাগ করলে পেরেকটি এক প্রান্ত থেকে ৯ মিটারে আছে। অপর অংশ = ৬ মিটার। ভারসাম্য শর্ত অনুযায়ী টর্ক সমান হবে।

বাঁ দিকের টর্ক = ১০ কেজি × ৯ মিটার = ৯০
ডান দিকের টর্ক = W × ৬ মিটার

W = ৯০ ÷ ৬ = ১৫ কেজি

সঠিক উত্তর: গ) ১৫ কেজি

১৯৯.
একটি থলিতে 3 টি সবুজ এবং 2 টি লাল বল আছে। অপর একটি থলিতে 2 টি সবুজ এবং 5 টি লাল বল আছে। নিরপেক্ষভাবে প্রত্যেক থলি থেকে একটি করে বল তোলা হল। দুইটি বলের মধ্যে অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?
  1. 5/7
  2. 2/7
  3. 5/12
  4. 1/4
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: একটি থলিতে 3 টি সবুজ এবং 2 টি লাল বল আছে। অপর একটি থলিতে 2 টি সবুজ এবং 5 টি লাল বল আছে। নিরপেক্ষভাবে প্রত্যেক থলি থেকে একটি করে বল তোলা হল। দুইটি বলের মধ্যে অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা কত?

সমাধান:
প্রথম থলিতে, 3 টি সবুজ বল, 2 টি লাল বল
দ্বিতীয় থলিতে, 2 টি সবুজ বল, 5 টি লাল বল

অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা = 1 - দুইটি বলই লাল
প্রথম থলি থেকে লাল বলের সম্ভাবনা = 2/5
দ্বিতীয় থলি থেকে লাল বলের সম্ভাবনা = 5/7

দুইটি লাল হওয়ার সম্ভাব্যতা = (2/5) × (5/7) = 2/7
অন্তত একটি সবুজ হওয়ার সম্ভাব্যতা = 1 - (2/7) = 5/7

∴ সঠিক উত্তর: ক) 5/7

২০০.
PQR ত্রিভূজের ∠Q =90° এবং ∠P = 2∠R হলে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. PR = 2QR
  2. PQ = 2PR
  3. PR = 2PQ
  4. QR = 2PQ
ব্যাখ্যা

প্রশ্ন: PQR ত্রিভূজের ∠Q =90° এবং ∠P = 2∠R হলে নিচের কোনটি সঠিক?

সমাধান:
এখানে,
∠Q = 90°
∠P = 2∠R

আমরা জানি,
∠P + ∠Q + ∠R = 180°
∠Q = 90°
⇒ ∠P + ∠R = 90°

∠P = 2∠R
⇒ 2∠R + ∠R = 90°
⇒ ∠R = 30°,

∴ ∠P = 60°
সমকোণ ত্রিভুজে,
PR = অতিভুজ
QR = বিপরীত ∠P,
PQ = বিপরীত ∠R

sin P = QR / PR
→ sin 60° = √3/2
→ QR = (√3/2) PR

sin R = PQ/PR
→ sin 30° = 1/2
→ PQ = (1/2) PR
সুতরাং, PR = 2 PQ