উত্তর
ব্যাখ্যা
“ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা, জীবো ব্রহ্মৈব নাপরঃ” — এই বিখ্যাত উক্তিটি আদি শংকরাচার্য-এর (খ্রিস্টীয় অষ্টম শতক) অদ্বৈত বেদান্ত দর্শন থেকে উদ্ভূত।
এটি উপনিষদসমূহের মূল তত্ত্বের ব্যাখ্যা ও সংক্ষিপ্ত সার। শংকরাচার্য ব্রহ্মসূত্র, উপনিষদ ও গীতা-র ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে এই তত্ত্ব প্রতিপাদন করেন।
দর্শনের মূল কথা: ব্রহ্ম সত্য:
এই বিশ্বে একমাত্র ব্রহ্ম (পরমাত্মা, সর্বব্যাপী চৈতন্য)ই চিরন্তন, অখণ্ড ও সত্য।
ব্রহ্ম মানে — যা কখনও পরিবর্তিত হয় না, যা সর্বত্র বিরাজমান।
জগৎ মিথ্যা:
“মিথ্যা” মানে এখানে “অবসানযোগ্য” বা “অস্থায়ী”, মিথ্যা অর্থে ‘অস্তিত্বহীন’ নয়।
জগৎ পরিবর্তনশীল, মায়ার আচ্ছাদনে গঠিত, তাই এটি পরম সত্য নয়।
জীবো ব্রহ্মৈব নাপরঃ:
ব্যক্তি আত্মা (জীব) ও পরমাত্মা (ব্রহ্ম) আসলে অভিন্ন — এই হল অদ্বৈত (অদ্বৈত = দ্বৈত নয়) দর্শনের কেন্দ্রীয় ধারণা।
রেফারেন্স ও সূত্র:
উপনিষদ:
বৃহদারণ্যক উপনিষদ (২.৪.১৪) — “অহম্ ব্রহ্মাস্মি” (আমি ব্রহ্ম)
ছান্দোগ্য উপনিষদ (৬.৮.৭) — “তত্ত্বমসि” (তুই সেই ব্রহ্ম)মাণ্ডূক্য উপনিষদ — জগৎকে মায়া বলে প্রতিপন্ন করে।
শংকরভাষ্য (Brahma-sutra-bhashya) — এখানে শংকরাচার্য ব্যাখ্যা করেছেন যে,
“যা পরিবর্তনশীল, তা মিথ্যা; যা অপরিবর্তনশীল, তা সত্য — সেই সত্য ব্রহ্ম।”
অন্যান্য দর্শনের সঙ্গে পার্থক্য:
দর্শন মূল ধারণা "ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা" সম্পর্ক
চার্বাক দর্শন ইহজগৎই সত্য, পরলোক বা ব্রহ্ম নেই বিপরীত মত
বৌদ্ধ দর্শন অনাত্মবাদ, অনিত্যতা ব্রহ্ম-ধারণা নেই
জৈন দর্শন বহুবিধ বাস্তবতার স্বীকৃতি (অনেকান্তবাদ) আংশিক ভিন্ন
অদ্বৈত বেদান্ত (ভারতীয় দর্শন) ব্রহ্ম একমাত্র সত্য এই মতবাদেই উক্তি পাওয়া যায়
উপসংহার:
“ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা” উক্তিটি আদি শংকরাচার্যের অদ্বৈত বেদান্ত দর্শনের মূল তত্ত্ব, যা ভারতীয় দর্শনের ছয়টি আস্তিক দর্শনের অন্যতম (বেদান্ত) শাখায় অন্তর্ভুক্ত।
এটি মানুষের জ্ঞান ও মুক্তির চূড়ান্ত অবস্থাকে ব্যাখ্যা করে।
উক্তি: “ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা” — শংকরাচার্য
মূল রেফারেন্স: বৃহদারণ্যক উপনিষদ, ছান্দোগ্য উপনিষদ, ব্রহ্মসূত্র ভাষ্য