পরীক্ষা আর্কাইভ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

পরীক্ষা১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতিতারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়12 minutes
মোট প্রশ্ন২৬
সিলেবাস
পরীক্ষা – ৫২: বাংলা পরীক্ষা - ৬ বিষয়: বাংলা টপিক: শব্দ প্রকরণ, বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার ও পদ প্রকরণ। উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি

১৯তম জুডিসিয়াল সার্ভিস (BJS) প্রস্তুতি · তারিখ অনির্ধারিত · ২৬ প্রশ্ন

.
কোনটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. কেরানি
  2. সেমাই
  3. পাউরুটি
  4. কোর্মা
ব্যাখ্যা
• 'পাউরুটি (বিশেষ্য): 
- পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ
অর্থ: তন্দুরে সেঁকা ময়দার তৈরি ফাঁপা রুটিবিশেষ। 

অন্যদিকে,
কেরানি - তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ।
• সেমাই - দেশি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
• কোর্মা - তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
.
'পছন্দ' শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• 'পছন্দ' শব্দটি বিশেষ্য এবং বিশেষণ উভয়রূপে পাওয়া যায়। 

পছন্দ (বিশেষণ):

- শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত।
অর্থ -
- মনের মতো, মনঃপূত, ইচ্ছানুযায়ী মনোনীত,
- নির্বাচিত।

পছন্দ (বিশেষ্য):
অর্থ -
- নির্বাচন,
- মনোনয়ন,
- রুচি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
বাংলা শব্দভাণ্ডারে তদ্ভব শব্দ কত শতাংশ?
  1. ২%
  2. ৮%
  3. ৬০%
  4. ২৫%
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে,
বাংলা ভাষায়,
২৫% শব্দ - তৎসম,
৫% শব্দ অর্ধ-তৎসম,
৬০% শব্দ - তদ্ভব,
৮% শব্দ - বিদেশি,
এবং মাত্র ২% শব্দ - দেশি।

• তদ্ভব শব্দ:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও খ্যাতনামা লেখকদের রচনার শতকরা ৬০ ভাগ শব্দই তদ্ভব। 
উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
.
'জুডো' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. চীনা
  2. কোরিয়ান
  3. জাপানি
  4. ফরাসি
ব্যাখ্যা
'জুডো':
- শব্দটি জাপানি ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- একধরনের জাপানি মল্লযুদ্ধ যাতে প্যাঁচ ও কৌশল প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে পরাভূত করা হয়।

• আরো কিছু জাপানি শব্দ:
- সুনামি, ক্যারাটে, হাসনাহেনা, জুতো, রিক্সা, প্যাগোডা ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
অর্থানুসারে শব্দ কয় প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
- যৌগিক শব্দ,
- রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ ও
- যোগরূঢ় শব্দ।

যৌগিক শব্দ:
যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন: পড়্+উয়া = পড়ুয়া; ঢাকা+আই=ঢাকাই, কৃ+তব্য=কর্তব্য।

রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: ‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ। হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

যোগরূঢ় শব্দ:
সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে।
যেমন: ‘পঙ্কজ’ শব্দের আপেক্ষিক অর্থ হলো যা পঙ্কে জন্মে তা, অর্থাৎ শৈবাল, পদ্মফুল, কেঁচো প্রভৃতি।
কিন্তু পঙ্কজ বললে শুধু পদ্মফুলকেই বোঝায়। কাজেই ‘পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
সাধারণ পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
  1. পাঁচ
  2. দোসরা
  3. একাদশ
  4. পােয়া
ব্যাখ্যা
• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ- একাদশ।

• সংখ্যাবাচক শব্দ:
- যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে।
- এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয় প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে কথায় লেখা হয়েছে।
- আবার বিশেষ কিছু বর্ণ বা সংকেত দিয়ে এগুলো প্রকাশ করা যায়, যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে অঙ্কে বা সংখ্যাবর্ণে লেখা হয়েছে।
- দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।

• সংখ্যাশব্দ দুই রকমের:
১. ক্রমবাচক ও
২. পূরণবাচক।

• ক্রমবাচক: এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ
• পূরণবাচক: প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম।

--------------------------
পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার।
যথা -
- সাধারণ পূরণবাচক,
- তারিখ পূরণবাচক ও
- ভগ্নাংশ পূরণবাচক।

• সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই)।
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

• ভগ্নাংশ পূরণবাচক:
- কখনাে পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বােঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়।
- যেমন- আধ, সাড়ে, পােয়া, সােয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
.
নিচের কোনটিকে শব্দের আগন্তুক উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
  1. তদ্ভব
  2. তৎসম
  3. দেশি
  4. ক এবং খ উভয়ই
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ:
- উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়।
- তৎসম,
- তদ্ভব,
- দেশি ও
- বিদেশি।

এর মধ্যে,
তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
.
'কুচকাওয়াজ' কোন কোন ভাষার শব্দ নিয়ে গঠিত?
  1. ফরাসি + তৎসম
  2. ফারসি + আরবি
  3. আরবি + তৎসম
  4. আরবি + ফারসি
ব্যাখ্যা
• মিশ্র শব্দ:
- কোন কোন সময় দেশী ও বিদেশী শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে তাকে মিশ্র শব্দ বলে।

• 'কুচকাওয়াজ' শব্দটি - ফারসি 'কুচ' এবং আরবি 'কাওয়াজ' এর সমন্বয়ে গঠিত।

• 'কুচকাওয়াজ' শব্দটির অর্থ:
- সৈনিকদের দলবদ্ধ ব্যায়াম ও রণ- কঊশলাদি অনুশীলন। 
- সৈনিকদের রণশিক্ষা; লড়াইয়ের প্রস্তুতিমূলক ব্যায়াম ও কৌশলাদি শিক্ষা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
.
‘সন্দেশ’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. মৌলিক
  2. যৌগিক
  3. রূঢ়
  4. যোগরূঢ়
ব্যাখ্যা
রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন:
‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ।

এরূপ:
হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
যে সমস্ত শব্দ দ্বারা কোনো কর্ম বা গুণের নাম বোঝায় তাকে কোন পদ বলে?
  1. বিশেষ্য পদ
  2. বিশেষণ পদ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ পদ
  4. বিশেষণের বিশেষণ পদ
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা, কর্ম ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য পদ বলে।
যেমন,
নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। 

বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার।
যথা - 
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
'সবটুকু ওষুধই খেয়ে ফেলো।' - এখানে 'সবটুকু' শব্দের 'টুকু' কী?
  1. অনুসর্গ
  2. অব্যয়
  3. প্রত্যয়
  4. পদাশ্রিত নির্দেশক
ব্যাখ্যা
• 'সবটুকু' শব্দে - 'টুকু' হলো পদাশ্রিত নির্দেশক। এটি সাধারণত অল্প পরিমাণ অংশ নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।

• পদাশ্রিত নির্দেশক পদ বা শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে তার অর্থকে সীমাবদ্ধ বা বিশেষভাবে নির্দেশ করে।

• টাক, টুক, টুকু, টো ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পোয়াটাক দুধ দাও (অনির্দিষ্টতা)।
- সবটুকু ওষুধই খেয়ে ফেলো (নির্দিষ্টতা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১২.
ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
  1. আমির
  2. আমানত
  3. দারোগা
  4. কুপন
ব্যাখ্যা
• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, সাদা, আসমান, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ফরাসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
এস্টেট, কার্নিশ, কার্টিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
কলম, খাতা, আসবাব, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩.
'দহন'এর বিশেষণ কোনটি?
  1. দাহন
  2. দহনীয়
  3. দহনক্রিয়া
  4. দাহ্যনীয়
ব্যাখ্যা
• 'দহন' - বিশেষ্য পদ।
অর্থ - দগ্ধকরণ; জ্বলন।

• 'দহন'এর বিশেষণ পদ - দহনীয়

• দাহন, দহনক্রিয়া - বিশেষ্য পদ।
• 'দাহ্যনীয়' বলতে কোনো শব্দ নেই।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪.
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে কী বলে?
  1. বিশেষণ
  2. ভাব বিশেষণ
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. নাম বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ভাব বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে।
- ভাব বিশেষণ ৪ প্রকার।

যথা:
১. ক্রিয়া বিশেষণ,
২. বিশেষণের বিশেষণ,
৩. অব্যয়ের বিশেষণ ও
৪. বাক্যের বিশেষণ।

অন্যদিকে,
বিশেষণ:
- যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।

• ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদের কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ) দেখা, শোনা ইত্যাদি ভাববাচক বিশেষ্য।

নাম বিশেষণ:
যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
'আলামত' কোন ভাষার শব্দ?
  1. আরবি
  2. ফারসি
  3. উর্দু
  4. তুর্কি
ব্যাখ্যা
• 'আলামত' আরবি ভাষার শব্দ।
অর্থ:
প্রমাণরূপে উপস্থাপিত অপরাধ করার সময় ব্যবহৃত বস্তুসামগ্রী;
- চিহ্ন;
- লক্ষণ।

• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ:
কলম, খাতা, আসবাব, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. সলাজ
  2. দুর্নাম
  3. নিরেট
  4. নিশপিশ
ব্যাখ্যা
নিশপিশ: এটি উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়; কারণ এখানে কোনো ধরনের উপসর্গ ব্যবহৃত হয়নি।

অন্যদিকে,
- সলাজ - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'স' রয়েছে।
- 'দুর্নাম' শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘দুর’ যোগে গঠিত।
• নিরেট শব্দে - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'নি' রয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
“ফুঙ্গি” কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
  1. পাঞ্জাবি
  2. উর্দু
  3. বর্মি
  4. তৎসম
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'ফুঙ্গি' - মায়ানমার (বর্মি/বার্মিজ) ভাষা থেকে আগত শব্দ।

• 'ফুঙ্গি' বলতে বোঝায়:
- বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বা পুরোহিত। 

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
  1. চালানো
  2. নিন্দক
  3. মিশুক
  4. বেতানো
ব্যাখ্যা
- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - বেতানো।
• তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বেতানো (বেত + আনো)।

কৃৎ-প্রত্যয়:
- ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে।
- কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ।
যেমন -
- √ চড়্‌ + ক = চড়ক,
- √ নিন্দ্‌ + অক = নিন্দক,
- √ মিশ + উক = মিশুক

• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চালানো (√চাল্‌ + আনো)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
  1. বাবুয়ানা
  2. গবেষণা
  3. মহাযাত্রা
  4. গায়ক
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ:
যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।

যেমন:
- হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়।
- গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা।
এ রকম -
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়।
- তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়।
যেমন - বাদাম তেল।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়।
- সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।

অন্যদিকে,
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব: যৌগিক শব্দ।
- গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে: যৌগিক শব্দ।
- মহাযাত্রা: ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’: যোগরূঢ় শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২০.
নিচের কোনটি কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ?
  1. একটু ঘুরে আসুন না
  2. তিনি এখানে এসেছিলেন।
  3. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
  4. ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
ব্যাখ্যা
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
গতকাল তিনি এসেছেন। 

অন্যদিকে,
একটু ঘুরে আসুন না।  - পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ।
তিনি এখানে এসেছিলেন। - স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়। - ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
২১.
ওলন্দাজ ভাষা হতে আগত শব্দ -
  1. বালতি
  2. কার্তুজ
  3. হরতন
  4. বারুদ
ব্যাখ্যা
• 'হরতন':
- শব্দটি ওলন্দাজ ভাষা হতে আগত।
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
 এর অর্থ:
- তাসেত্র রংবিশেষ।

অন্যদিকে,
- 'বালতি' পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ। 
- 'কার্তুজ' শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত।
- 'বারুদ' শব্দটি তুর্কি ভাষা হতে আগত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২২.
'মজুর' এর স্ত্রীবাচক শব্দ কোনটি?
  1. মজুরিনী
  2. মজুরী
  3. মজুরানী
  4. মজুরনী
ব্যাখ্যা
• নী-প্রত্যয় যোগে বাংলা স্ত্রীবাচক শব্দ:
- মজুর - মজুরনী,
- কামার - কামারনী,
- জেলে - জেলেনী,
- কুমার - কুমারনী,
- ধোপা - ধোপানী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
কোন শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন?
  1. বাঁশি
  2. রাজপুত
  3. প্রবীণ
  4. দৌহিত্র
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ:
যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ,
শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
যেমন:
- গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে।
- কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত।
- বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব।
- মধুর = মধু + র ; অর্থ; মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত।
- দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি। 'দৌহিত্র' শব্দটি 'দুহিতা' (কন্যা) থেকে উদ্ভূত, যা নাতিকে নির্দেশ করে।
- চিকামারা = চিকা + মারা; অর্থ: দেওয়ালের লিখন।

অন্যদিকে,
- বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। - রুঢ়ি শব্দ।
- রাজপুত: ‘রাজার পুত্র’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে ‘জাতিবিশেষ’।- যোগরুঢ় শব্দ।
- প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়। - রুঢ়ি শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২৪.
হিন্দি ভাষা থেকে আগত শব্দ -
  1. আর্জি
  2. দারোয়ান
  3. ঢাকনা
  4. কাগজ
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকনা' - হিন্দি শব্দ।
--------------
• হিন্দি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো:

- ঝাড়ু, জোখ, জুতা, জুড়ি, তরাই, ঢাকনা, ঝিলমিল, ঝিল, ঝুমকা, চৌপট, চৌপল, চৌতাল, চাঁটি, কুঁজড়া ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:
তফসির, তবিয়ত, তম্বি, তরজমা, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।

অন্যদিকে,
⇒ ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো: 
গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদযোগে গঠিত দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ভালো ভালো আম
  2. বাড়ি বাড়ি যাব
  3. ছোট ছোট ডাল
  4. লাল লাল ফুল
ব্যাখ্যা
• বাড়ি বাড়ি যাব - বিশেষ্য পদযোগে দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ।

দ্বিরুক্ত শব্দ:

বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন:
- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

⇒ বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
• আধিক্য বোঝাতে:
ভালো ভালো আম নিয়ে এসো।
- ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
- লাল লাল ফুল। 

⇒ বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ )।
২৬.
'উজ্জ্বলতা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• 'উজ্জ্বলতা':
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
এর অর্থ:
- প্রভা, দীপ্তি, নির্মলতা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।