পরীক্ষা – ৫২:
বাংলা পরীক্ষা - ৬
বিষয়: বাংলা
টপিক:
শব্দ প্রকরণ, বাংলা ভাষার শব্দভান্ডার ও পদ প্রকরণ।
উৎস: মাধ্যমিক ব্যাকরণ বই (উভয় সংস্করণ), বাংলা একাডেমি অভিধান, ভাষা শিক্ষা - ড. হায়াৎ মামুদ বা যেকোনো ভালো গাইড বই।
• 'পাউরুটি (বিশেষ্য): - পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ অর্থ: তন্দুরে সেঁকা ময়দার তৈরি ফাঁপা রুটিবিশেষ।
অন্যদিকে, • কেরানি - তৎসম বা সংস্কৃত ভাষা থেকে আগত শব্দ। • সেমাই - দেশি ভাষা থেকে আগত শব্দ। • কোর্মা - তুর্কি ভাষা থেকে আগত শব্দ।
উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২.
'পছন্দ' শব্দটি কোন পদ?
ক
বিশেষ্য
খ
বিশেষণ
গ
ক্রিয়া বিশেষণ
ঘ
ক এবং খ উভয়ই
সঠিক উত্তর: ঘ
ক এবং খ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
ক এবং খ উভয়ই
ঘ
ব্যাখ্যা
• 'পছন্দ' শব্দটি বিশেষ্য এবং বিশেষণ উভয়রূপে পাওয়া যায়।
পছন্দ (বিশেষণ): - শব্দটি ফারসি ভাষা থেকে আগত। অর্থ - - মনের মতো, মনঃপূত, ইচ্ছানুযায়ী মনোনীত, - নির্বাচিত।
পছন্দ (বিশেষ্য): অর্থ - - নির্বাচন, - মনোনয়ন, - রুচি।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩.
বাংলা শব্দভাণ্ডারে তদ্ভব শব্দ কত শতাংশ?
ক
২%
খ
৮%
গ
৬০%
ঘ
২৫%
সঠিক উত্তর: গ
৬০%
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
৬০%
গ
ব্যাখ্যা
• ড. মুহম্মদ এনামুল হকের মতে, বাংলা ভাষায়, ২৫% শব্দ - তৎসম, ৫% শব্দ অর্ধ-তৎসম, ৬০% শব্দ - তদ্ভব, ৮% শব্দ - বিদেশি, এবং মাত্র ২% শব্দ - দেশি।
• তদ্ভব শব্দ: প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা থেকে বিবর্তিত যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় একেবারেই স্বতন্ত্র, সেগুলোকে তদ্ভব শব্দ বলা হয়। সাহিত্যের ক্ষেত্রেও খ্যাতনামা লেখকদের রচনার শতকরা ৬০ ভাগ শব্দই তদ্ভব। উদাহরণ: হাত, পা, কান, নাক, জিভ, দাঁত; হাতি, ঘোড়া, সাপ, পাখি, কুমির ইত্যাদি।
উৎস: বাংলাপিডিয়া।
৪.
'জুডো' কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
ক
চীনা
খ
কোরিয়ান
গ
জাপানি
ঘ
ফরাসি
সঠিক উত্তর: গ
জাপানি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
জাপানি
গ
ব্যাখ্যা
• 'জুডো': - শব্দটি জাপানি ভাষা হতে আগত। - এটি একটি বিশেষ্য পদ। এর অর্থ: - একধরনের জাপানি মল্লযুদ্ধ যাতে প্যাঁচ ও কৌশল প্রয়োগ করে প্রতিপক্ষকে পরাভূত করা হয়।
• আরো কিছু জাপানি শব্দ: - সুনামি, ক্যারাটে, হাসনাহেনা, জুতো, রিক্সা, প্যাগোডা ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫.
অর্থানুসারে শব্দ কয় প্রকার?
ক
দুই
খ
তিন
গ
চার
ঘ
পাঁচ
সঠিক উত্তর: খ
তিন
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
তিন
খ
ব্যাখ্যা
• অর্থগতভাবে বাংলা ভাষার শব্দসমূহকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: - যৌগিক শব্দ, - রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ ও - যোগরূঢ় শব্দ।
যৌগিক শব্দ: যেসব শব্দের অর্থ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থানুযায়ী নির্ধারিত হয়ে থাকে তাদের যৌগিক শব্দ বলে। যেমন: পড়্+উয়া = পড়ুয়া; ঢাকা+আই=ঢাকাই, কৃ+তব্য=কর্তব্য।
রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন: ‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ। হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।
যোগরূঢ় শব্দ: সমাসবদ্ধ অথবা একাধিক শব্দ বা ধাতুর দ্বারা নিষ্পন্ন শব্দ যখন কোনো আপেক্ষিক অর্থ না বুঝিয়ে অন্য বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাদের যোগরূঢ় শব্দ বলে। যেমন: ‘পঙ্কজ’ শব্দের আপেক্ষিক অর্থ হলো যা পঙ্কে জন্মে তা, অর্থাৎ শৈবাল, পদ্মফুল, কেঁচো প্রভৃতি। কিন্তু পঙ্কজ বললে শুধু পদ্মফুলকেই বোঝায়। কাজেই ‘পঙ্কজ’ যোগরূঢ় শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬.
সাধারণ পূরণবাচক শব্দ কোনটি?
ক
পাঁচ
খ
দোসরা
গ
একাদশ
ঘ
পােয়া
সঠিক উত্তর: গ
একাদশ
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
একাদশ
গ
ব্যাখ্যা
• সাধারণ পূরণবাচক শব্দ- একাদশ।
• সংখ্যাবাচক শব্দ: - যেসব শব্দ দিয়ে সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে সংখ্যাবাচক শব্দ বা সংখ্যাশব্দ বলে। - এক, দুই, তিন, চার, পাঁচ, ছয় প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে কথায় লেখা হয়েছে। - আবার বিশেষ কিছু বর্ণ বা সংকেত দিয়ে এগুলো প্রকাশ করা যায়, যথা: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬ প্রভৃতি সংখ্যাশব্দ – এগুলো এখানে অঙ্কে বা সংখ্যাবর্ণে লেখা হয়েছে। - দূরত্ব, দৈর্ঘ্য, আয়তন, খণ্ড, তাপমাত্রা ইত্যাদি পরিমাপের ক্ষেত্রে সংখ্যাশব্দের ব্যাপক ব্যবহার হয়।
• সংখ্যাশব্দ দুই রকমের: ১. ক্রমবাচক ও ২. পূরণবাচক।
-------------------------- পূরণবাচক শব্দ ৩ প্রকার। যথা - - সাধারণ পূরণবাচক, - তারিখ পূরণবাচক ও - ভগ্নাংশ পূরণবাচক।
• সাধারণ পূরণবাচক: - ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে। - যেমন- প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি। - সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।
• তারিখ পূরণবাচক: - বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়। - যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), ছয়ই (৬ই)। - তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়। - বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।
• ভগ্নাংশ পূরণবাচক: - কখনাে পূর্ণসংখ্যার থেকে খানিকটা কম বা খানিকটা বেশি বােঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। - যেমন- আধ, সাড়ে, পােয়া, সােয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই, চৌথ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
৭.
নিচের কোনটিকে শব্দের আগন্তুক উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়?
ক
তদ্ভব
খ
তৎসম
গ
দেশি
ঘ
ক এবং খ উভয়ই
সঠিক উত্তর: গ
দেশি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
দেশি
গ
ব্যাখ্যা
• উৎস বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ: - উৎস বিবেচনায় বাংলা শব্দভান্ডারকে চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা যায়। - তৎসম, - তদ্ভব, - দেশি ও - বিদেশি।
এর মধ্যে, তৎসম ও তদ্ভব শ্রেণিকে নিজস্ব উৎসের এবং দেশি ও বিদেশি শ্রেণিকে আগন্তুক উৎসের শব্দ হিসেবে গণ্য করা হয়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৮.
'কুচকাওয়াজ' কোন কোন ভাষার শব্দ নিয়ে গঠিত?
ক
ফরাসি + তৎসম
খ
ফারসি + আরবি
গ
আরবি + তৎসম
ঘ
আরবি + ফারসি
সঠিক উত্তর: খ
ফারসি + আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ফারসি + আরবি
খ
ব্যাখ্যা
• মিশ্র শব্দ: - কোন কোন সময় দেশী ও বিদেশী শব্দের মিলনে শব্দদ্বৈত সৃষ্টি হয়ে থাকে তাকে মিশ্র শব্দ বলে।
• 'কুচকাওয়াজ' শব্দটি - ফারসি 'কুচ' এবং আরবি 'কাওয়াজ' এর সমন্বয়ে গঠিত।
রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: যেসব প্রত্যয় নিষ্পন্ন শব্দ তাদের প্রকৃতি ও প্রত্যয়ের অর্থ না বুঝিয়ে অন্য কোনো বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তাদের রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে। যেমন: ‘সন্দেশ’ শব্দের শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থ ‘সংবাদ’। কিন্তু এর প্রচলিত অর্থ ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’। কাজেই ‘সন্দেশ’ রূঢ়ি শব্দ।
এরূপ: হস্তী, তৈল, বাঁশি ইত্যাদি রূঢ়ি শব্দের উদাহরণ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১০.
যে সমস্ত শব্দ দ্বারা কোনো কর্ম বা গুণের নাম বোঝায় তাকে কোন পদ বলে?
ক
বিশেষ্য পদ
খ
বিশেষণ পদ
গ
ক্রিয়া বিশেষণ পদ
ঘ
বিশেষণের বিশেষণ পদ
সঠিক উত্তর: ক
বিশেষ্য পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
বিশেষ্য পদ
ক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য পদ: যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা, কর্ম ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য পদ বলে। যেমন, নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি।
বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার। যথা - ১. নাম-বিশেষ্য, ২. জাতি-বিশেষ্য, ৩. বস্তু-বিশেষ্য, ৪. সমষ্টি-বিশেষ্য, ৫. গুণ-বিশেষ্য এবং ৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১১.
'সবটুকু ওষুধই খেয়ে ফেলো।' - এখানে 'সবটুকু' শব্দের 'টুকু' কী?
ক
অনুসর্গ
খ
অব্যয়
গ
প্রত্যয়
ঘ
পদাশ্রিত নির্দেশক
সঠিক উত্তর: ঘ
পদাশ্রিত নির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
পদাশ্রিত নির্দেশক
ঘ
ব্যাখ্যা
• 'সবটুকু' শব্দে - 'টুকু' হলো পদাশ্রিত নির্দেশক। এটি সাধারণত অল্প পরিমাণ অংশ নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হয়।
• পদাশ্রিত নির্দেশক পদ বা শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে তার অর্থকে সীমাবদ্ধ বা বিশেষভাবে নির্দেশ করে।
• টাক, টুক, টুকু, টো ইত্যাদি পদাশ্রিত নির্দেশক নির্দিষ্টতা ও অনির্দিষ্টতা উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। যেমন: - পোয়াটাক দুধ দাও (অনির্দিষ্টতা)। - সবটুকু ওষুধই খেয়ে ফেলো (নির্দিষ্টতা)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
১২.
ফারসি ভাষা থেকে আগত শব্দ কোনটি?
ক
আমির
খ
আমানত
গ
দারোগা
ঘ
কুপন
সঠিক উত্তর: গ
দারোগা
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
দারোগা
গ
ব্যাখ্যা
• ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো: গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, সাদা, আসমান, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চারপায়া, ছয়লাপ ইত্যাদি।
অন্যদিকে, • ফরাসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ: এস্টেট, কার্নিশ, কার্টিজ, কার্পেট, কার্বুরেটর, কুপন, ডিপো, ফসিল, লিস্ট, রেস্টুরেন্ট, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি
• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ: কলম, খাতা, আসবাব, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৩.
'দহন'এর বিশেষণ কোনটি?
ক
দাহন
খ
দহনীয়
গ
দহনক্রিয়া
ঘ
দাহ্যনীয়
সঠিক উত্তর: খ
দহনীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
দহনীয়
খ
ব্যাখ্যা
• 'দহন' - বিশেষ্য পদ। অর্থ - দগ্ধকরণ; জ্বলন।
• 'দহন'এর বিশেষণ পদ - দহনীয়।
• দাহন, দহনক্রিয়া - বিশেষ্য পদ। • 'দাহ্যনীয়' বলতে কোনো শব্দ নেই।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৪.
যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে কী বলে?
ক
বিশেষণ
খ
ভাব বিশেষণ
গ
ভাববাচক বিশেষ্য
ঘ
নাম বিশেষণ
সঠিক উত্তর: খ
ভাব বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
ভাব বিশেষণ
খ
ব্যাখ্যা
ভাব বিশেষণ: - যে পদ বিশেষ্য ও সর্বনাম ভিন্ন অন্য পদকে বিশেষিত করে তাকে ভাব বিশেষণ বলে। - ভাব বিশেষণ ৪ প্রকার।
অন্যদিকে, বিশেষণ: - যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে।
• ভাববাচক বিশেষ্য: যে বিশেষ্য পদের কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয় তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- গমন (যাওয়ার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভোজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শোয়ার কাজ) দেখা, শোনা ইত্যাদি ভাববাচক বিশেষ্য।
নাম বিশেষণ: যে বিশেষণ পদ কোনো বিশেষ্য বা সর্বনাম পদকে বিশেষিত করে, তাকে নাম বিশেষণ বলে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৫.
'আলামত' কোন ভাষার শব্দ?
ক
আরবি
খ
ফারসি
গ
উর্দু
ঘ
তুর্কি
সঠিক উত্তর: ক
আরবি
উত্তর
সঠিক উত্তর: ক
আরবি
ক
ব্যাখ্যা
• 'আলামত' আরবি ভাষার শব্দ। অর্থ: প্রমাণরূপে উপস্থাপিত অপরাধ করার সময় ব্যবহৃত বস্তুসামগ্রী; - চিহ্ন; - লক্ষণ।
• আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ: কলম, খাতা, আসবাব, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৬.
উপসর্গ সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
ক
সলাজ
খ
দুর্নাম
গ
নিরেট
ঘ
নিশপিশ
সঠিক উত্তর: ঘ
নিশপিশ
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
নিশপিশ
ঘ
ব্যাখ্যা
• নিশপিশ: এটি উপসর্গ সাধিত শব্দ নয়; কারণ এখানে কোনো ধরনের উপসর্গ ব্যবহৃত হয়নি।
অন্যদিকে, - সলাজ - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'স' রয়েছে। - 'দুর্নাম' শব্দটি তৎসম উপসর্গ ‘দুর’ যোগে গঠিত। • নিরেট শব্দে - খাঁটি বাংলা উপসর্গ 'নি' রয়েছে।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৭.
“ফুঙ্গি” কোন ভাষা থেকে আগত শব্দ?
ক
পাঞ্জাবি
খ
উর্দু
গ
বর্মি
ঘ
তৎসম
সঠিক উত্তর: গ
বর্মি
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
বর্মি
গ
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে, 'ফুঙ্গি' - মায়ানমার (বর্মি/বার্মিজ) ভাষা থেকে আগত শব্দ।
• 'ফুঙ্গি' বলতে বোঝায়: - বৌদ্ধ সন্ন্যাসী বা পুরোহিত।
উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
১৮.
কৃৎ প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় কোনটি?
ক
চালানো
খ
নিন্দক
গ
মিশুক
ঘ
বেতানো
সঠিক উত্তর: ঘ
বেতানো
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
বেতানো
ঘ
ব্যাখ্যা
- কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ নয় - বেতানো। • তদ্ধিত প্রত্যয় সাধিত শব্দ - বেতানো (বেত + আনো)।
কৃৎ-প্রত্যয়: - ধাতুর পরে যেসব প্রত্যয় যুক্ত হয়, সেগুলোকে কৃৎ-প্রত্যয় বলে। - কৃৎ-প্রত্যয় দিয়ে সাধিত শব্দকে বলে কৃদন্ত শব্দ। যেমন - - √ চড়্ + ক = চড়ক, - √ নিন্দ্ + অক = নিন্দক, - √ মিশ + উক = মিশুক।
• কৃৎ-প্রত্যয় সাধিত শব্দ - চালানো (√চাল্ + আনো)।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
নিচের কোনটি রূঢ়ি শব্দ?
ক
বাবুয়ানা
খ
গবেষণা
গ
মহাযাত্রা
ঘ
গায়ক
সঠিক উত্তর: খ
গবেষণা
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
গবেষণা
খ
ব্যাখ্যা
• রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ: যে শব্দ প্রত্যয় বা উপসর্গযোগে মূল শব্দের অর্থের অনুগামী না হয়ে অন্য কোনো বিশিষ্ট অর্থ জ্ঞাপন করে, তাকে রূঢ়ি শব্দ বলে।
যেমন: - হস্তী: হস্ত + ইন, অর্থ -হস্ত আছে যার; কিন্তু হস্তী বলতে একটি পশুকে বোঝায়। - গবেষণা (গো+এষণা) অর্থ - গরু খোঁজা। বর্তমান অর্থ ব্যাপক অধ্যয়ন ও পর্যালোচনা। এ রকম - - বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। - তৈল: শুধু তিলজাত স্নেহ পদার্থ নয়, শব্দটি যে কোনো উদ্ভিজ্জ পদার্থজাত স্নেহ পদার্থকে বোঝায়। যেমন - বাদাম তেল। - প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়। - সন্দেশ: শব্দ ও প্রত্যয়গত অর্থে ‘সংবাদ’। কিন্তু রূঢ়ি অর্থে ‘মিষ্টান্ন বিশেষ’।
অন্যদিকে, - বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব: যৌগিক শব্দ। - গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে: যৌগিক শব্দ। - মহাযাত্রা: ‘মহাসমারোহে যাত্রা’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দরূপে অর্থ ‘মৃত্যু’: যোগরূঢ় শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২০.
নিচের কোনটি কালবাচক ক্রিয়া বিশেষণ?
ক
একটু ঘুরে আসুন না।
খ
তিনি এখানে এসেছিলেন।
গ
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ঘ
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
সঠিক উত্তর: গ
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
গ
ব্যাখ্যা
• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: - এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। যেমন- - আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি - যথাসময়ে সে হাজির হয়। - গতকাল তিনি এসেছেন।
অন্যদিকে, একটু ঘুরে আসুন না। - পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ। তিনি এখানে এসেছিলেন। - স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ। ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়। - ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
২১.
ওলন্দাজ ভাষা হতে আগত শব্দ -
ক
বালতি
খ
কার্তুজ
গ
হরতন
ঘ
বারুদ
সঠিক উত্তর: গ
হরতন
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
হরতন
গ
ব্যাখ্যা
• 'হরতন': - শব্দটি ওলন্দাজ ভাষা হতে আগত। - এটি একটি বিশেষ্য পদ। এর অর্থ: - তাসেত্র রংবিশেষ।
অন্যদিকে, - 'বালতি' পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত শব্দ। - 'কার্তুজ' শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা হতে আগত। - 'বারুদ' শব্দটি তুর্কি ভাষা হতে আগত।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৩.
কোন শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ অভিন্ন?
ক
বাঁশি
খ
রাজপুত
গ
প্রবীণ
ঘ
দৌহিত্র
সঠিক উত্তর: ঘ
দৌহিত্র
উত্তর
সঠিক উত্তর: ঘ
দৌহিত্র
ঘ
ব্যাখ্যা
• যৌগিক শব্দ: যে সকল শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই রকম, সেগুলোকে যৌগিক শব্দ বলে। অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে। যেমন: - গায়ক = গৈ + ণক (অক); অর্থ: গান করে যে। - কর্তব্য = কৃ + তব্য; অর্থ: যা করা উচিত। - বাবুয়ানা = বাবু + আনা; অর্থ: বাবুর ভাব। - মধুর = মধু + র ; অর্থ; মধুর মতো মিষ্টি গুণযুক্ত। - দৌহিত্র = দুহিতা + ষ্ণ্য; অর্থ: কন্যার পুত্র, নাতি। 'দৌহিত্র' শব্দটি 'দুহিতা' (কন্যা) থেকে উদ্ভূত, যা নাতিকে নির্দেশ করে। - চিকামারা = চিকা + মারা; অর্থ: দেওয়ালের লিখন।
অন্যদিকে, - বাঁশি: বাঁশ দিয়ে তৈরি যে কোনো বস্তু নয়, শব্দটি সুরের বিশেষ বাদ্যযন্ত্র, বিশেষ অর্থে প্রযুক্ত হয়। - রুঢ়ি শব্দ। - রাজপুত: ‘রাজার পুত্র’ অর্থ পরিত্যাগ করে যোগরূঢ় শব্দ হিসেবে অর্থ হয়েছে ‘জাতিবিশেষ’।- যোগরুঢ় শব্দ। - প্রবীণ: শব্দটির অর্থ হওয়া উচিত ছিল প্রকৃষ্ট রূপে বীণা বাজাতে পারেন যিনি। কিন্তু শব্দটি ‘অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বয়স্ক ব্যক্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়। - রুঢ়ি শব্দ।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
২৪.
হিন্দি ভাষা থেকে আগত শব্দ -
ক
আর্জি
খ
দারোয়ান
গ
ঢাকনা
ঘ
কাগজ
সঠিক উত্তর: গ
ঢাকনা
উত্তর
সঠিক উত্তর: গ
ঢাকনা
গ
ব্যাখ্যা
• 'ঢাকনা' - হিন্দি শব্দ। -------------- • হিন্দি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো: - ঝাড়ু, জোখ, জুতা, জুড়ি, তরাই, ঢাকনা, ঝিলমিল, ঝিল, ঝুমকা, চৌপট, চৌপল, চৌতাল, চাঁটি, কুঁজড়া ইত্যাদি।
অন্যদিকে, আরবি ভাষা থেকে আগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো: তফসির, তবিয়ত, তম্বি, তরজমা, আমানত, আমামা, আমিন, আমির, আমিরাত, আম্বর, আয়াত, আয়েশ, আরশ, আর্জি, আলামত, আলিশান, আলেম, আশেক, আসর।
অন্যদিকে, ⇒ ফারসি ভাষা থেকে আগত কিছু শব্দ হলো: গ্রেপ্তারি, গ্রেফতার, দারোগা, লুঙ্গি, দারোয়ান, সাদা, আসমান, কাজি, খোয়াব, চেহারা, কাগজ, চশমা, চাকর, চারপায়, ছয়লাপ ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫.
নিচের কোনটি বিশেষ্য পদযোগে গঠিত দ্বিরুক্ত শব্দ?
ক
ভালো ভালো আম
খ
বাড়ি বাড়ি যাব
গ
ছোট ছোট ডাল
ঘ
লাল লাল ফুল
সঠিক উত্তর: খ
বাড়ি বাড়ি যাব
উত্তর
সঠিক উত্তর: খ
বাড়ি বাড়ি যাব
খ
ব্যাখ্যা
• বাড়ি বাড়ি যাব - বিশেষ্য পদযোগে দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ।
দ্বিরুক্ত শব্দ: বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়। যেমন: - আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।
⇒ বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার: • আধিক্য বোঝাতে: - ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। - ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল। - লাল লাল ফুল।