উত্তর
ব্যাখ্যা
• মুহম্মদ খানের 'মুক্তল হোসেন' কারবালার কাহিনি বিষয়ক মর্সিয়া সাহিত্য। কারবালায় শহীদ ইমাম হোসেন ও অন্যান্য শহীদদের উদ্দেশে লিখিত শোকগাথা ও প্রশংসামূলক কবিতা মর্সিয়া সাহিত্য নামে অভিহিত হয়েছে।
• মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ মর্সিয়া কাব্য মক্তুল হোসেন। এ কাব্যের রচয়িতা চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার জোবরা গ্রামের অধিবাসী মুহম্মদ খান (১৫৮০-১৬২০ খ্রি.)। এ কাব্যটি ফারসি কাব্য মক্তুল হোসেন এর ভাবানুবাদ হলেও এতে কবির নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা ও কল্পনার প্রাধান্য আছে।
অন্যদিকে,
• গুলে বকাওলী, সয়ফুলমুলুক বদিউজ্জামাল ও হানিফা কয়রাপরী রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান ধারার কাব্য।
-----------------
• 'জঙ্গনামা':
- জঙ্গনামা মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে মুসলিম ঐতিহ্যভিত্তিক যুদ্ধবিষয়ক কাব্য।
- ফারসি 'জঙ্গ' শব্দের অর্থ যুদ্ধ, আর 'জঙ্গনামা' শব্দের অর্থ যুদ্ধ বা তদ্বিষয়ক গ্রন্থ বা রচনা। অর্থ্যাৎ 'জঙ্গনামা' কাব্যের বিষয় যুদ্ধ-বিগ্রহ।
- বিশেষত হযরত মুহম্মাদ (স.) ও তাঁর স্বজনদের যুদ্ধই এ শ্রেণীর কাব্যের মূল বিষয়। যেসব যুদ্ধের ঘটনা ও পরিণাম অত্যন্ত করুণ ও মর্মান্তিক, সাধারণত সেসব যুদ্ধের কথাই মানুষকে বেশি আলোড়িত করে। বাংলা সাহিত্যে 'জঙ্গনামা' বলতে বিশেষভাবে কারবালার যুদ্ধ ও তার বিষাদময় ঘটনাবলি সংক্রান্ত রচনাকেই বোঝায়।
জঙ্গনামা শ্রেণির কাব্যধারার উল্লেখযোগ্য কবি ও কাব্যের নাম হলো:
• শেখ ফয়জুল্লাহ, (জয়নবের চৌতিশা),
• দৌলত উজির বাহরাম খান (জঙ্গনামা),
• মুহম্মদ খান (মক্তুল হোসেন),
• শেরবাজ (কাশিমের লড়াই ও ফাতিমার সুরতনামা),
• হেয়াত মামুদ (জারি-জঙ্গনামা),
• জাফর (শহীদ-ই-কারবালা ও সখিনার বিলাপ),
• হামিদ (সংগ্রাম হুসেন),
• ফকির গরিবুল্লাহ (জঙ্গনামা ও সোনাভান),
• মুহম্মদ হামিদুল্লাহ খান (গুলজার-ই-সাহাদৎ) এবং
• ওয়াহিদ আলী (বড় জঙ্গনামা)।
উৎস: বাংলাপিডিয়া এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ড. মাহাবুবুল আলম ।