পরীক্ষা আর্কাইভ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

পরীক্ষাবার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]তারিখতারিখ অনির্ধারিতসময়14 minutes
মোট প্রশ্ন৩১
সিলেবাস
Exam - 20 The Evidence Act, 1872: Test-1 Topic: Section 1-55 • Preliminary • The relevancy of facts • Admissions • Statements by persons who cannot be called as witnesses • Statements made under special circumstances • How much of a statement is to be proved • Judgments of courts of justice when relevant • Opinions of third persons when relevant • Character when relevant
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ]

বার কাউন্সিল প্রস্তুতি - লং কোর্স [আর্কাইভ] · তারিখ অনির্ধারিত · ৩১ প্রশ্ন

.
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর কোন ধারায় সাক্ষ্য আইনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ বা বিষয়ের সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে?
  1. ২ ধারায়
  2. ৩ ধারায়
  3. ৪ ধারায়
  4. ৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩ ধারায় এই আইনে ব্যবহৃত বিভিন্ন শব্দ বা বিষয়ের সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। এটি "Interpretation clause" নামে পরিচিত, যেখানে "সাক্ষ্য", "প্রমাণ", "প্রাসঙ্গিক তথ্য" ইত্যাদির সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

১. আদালত (Court):
এটি বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট এবং অন্যান্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, যারা আইনত সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা রাখেন। তবে সালিস (Arbitrator) আদালতের অন্তর্ভুক্ত নয়।

২. তথ্য (Fact):
তথ্য বলতে বোঝানো হয়েছে – ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত হতে পারে এমন বস্তু, ঘটনা বা অবস্থা। কোন ব্যক্তির মানসিক অবস্থা, যেমন—ইচ্ছা, বিশ্বাস, প্রতারণা বা সৎ উদ্দেশ্য।

৩. প্রাসঙ্গিক তথ্য (Relevant Fact):
যে তথ্য অন্য তথ্যের সাথে সম্পর্কিত এবং মামলার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

৪. বিচারাধীন তথ্য (Facts in Issue):
যে তথ্যের সত্যতা বা মিথ্যতা আদালতের সামনে প্রমাণ করতে হয়, যা মামলার ফলাফলে প্রভাব ফেলে।

৫. দলিল (Document):
লেখা, চিত্র, মানচিত্র, খোদাই করা শিলালিপি, কার্টুন ইত্যাদি, যা কোনো বিষয় রেকর্ড করতে ব্যবহৃত হয়।

৬. সাক্ষ্য (Evidence):
মৌখিক সাক্ষ্য: আদালতে সাক্ষীর দেওয়া বক্তব্য।
দলিলগত সাক্ষ্য: আদালতে উপস্থাপিত কাগজপত্র বা নথি।
ফরেনসিক সাক্ষ্য: রক্ত, ডিএনএ, আঙুলের ছাপ ইত্যাদি।

৭. প্রমাণ (Proof):
প্রমাণিত (Proved): যখন আদালত কোনো তথ্যকে সত্য বলে ধরে নেয়।
অপ্রমাণিত (Disproved): যখন আদালত কোনো তথ্যকে মিথ্যা বলে ধরে নেয়।
প্রমাণিত নয় (Not Proved): যখন তথ্য প্রমাণ বা অপ্রমাণ – কোনো অবস্থাতেই পৌঁছায় না।
.
সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ সালের কত নং আইন?
  1. ১ নং আইন
  2. ৫ নং আইন
  3. ১০ নং আইন
  4. ৪৫ নং আইন
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর প্রাথমিক তথ্য:
আইন নং: ১৮৭২ সালের ১নং আইন।
প্রকাশিত : ১৫ মার্চ, ১৮৭২।
কার্যকর : ১ লা সেপ্টেম্বর, ১৮৭২।
ধারা : ১৬৭ টি।
অধ্যায়: ১১টি।

খন্ড : ৩টি
১ম খন্ড : ১ - ৫৫ ধারা - ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা,
২য় খন্ড : ৫৬ - ১০০ ধারা - ঘটনার প্রমাণ,
৩য় খন্ড : ১০১ - ১৬৭ ধারা - সাক্ষ্য উপস্থাপন ও ইহার ফলাফল।

⇒ স্যার জেমস স্টিফেনকে সাক্ষ্য আইনের জনক বলা হয়।
.
নিম্নের কোন বিষয়ে স্বীকৃতি প্রদান করা যায়?
  1. যেকোনো বিষয়ে স্বীকৃতি প্রদান করা যায়
  2. শুধুমাত্র বিচার্য বিষয়ের উপরে স্বীকৃতি প্রদান করা যায়
  3. শুধুমাত্র প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে স্বীকৃতি প্রদান করা যায়
  4. বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় উভয় সম্পর্কে স্বীকৃতি প্রদান করা যায়
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারায় স্বীকৃতির সংজ্ঞা রয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ১৭ ধারামতে মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি যা মামলার বিচার্য বিষয় বা প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্তের সূচনা করে,তাকে স্বীকৃতি বা admission বলে। সাক্ষ্য আইনের ১৭ থেকে ৩১ ধারা এবং দেওয়ানি কার্যবিধির ১২ নং আদেশে স্বীকৃতি সংক্রান্ত বিভিন্ন বিধান রয়েছে।


 স্বীকৃতির প্রকারভেদ- স্বীকৃতি সাধারনত ২ প্রকার। যথা-
i) মৌখিক স্বীকৃতি (oral admission); এবং
ii) লিখিত স্বীকৃতি (written admission)।

.
একজন মৃত ব্যক্তির আর্থিক বিষয়ে কোনো বিবৃতি গ্রহণযোগ্য হবে যদি উক্ত বিবৃতিটি-
  1. মামলার সাথে অপ্রাসঙ্গিক হয়
  2. ব্যক্তিটির নিজ স্বার্থের অনুকুলে হয়
  3. ব্যক্তিটির নিজ আর্থিক স্বার্থের পরিপন্থি হয়
  4. মামলার প্রতিপক্ষ উক্ত বিবৃতি অস্বীকার করলে
ব্যাখ্যা
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৩২ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি মৃত, নিখোঁজ বা সাক্ষ্য প্রদানে অযোগ্য হলে অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হাজিরা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ হলে, আদালতে উপস্থিতি ছাড়াও তাদের মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি ৮টি ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হয়। যথা-
ⅰ) ৩২(১) ধারার অধীন মৃত্যুর কারণ সংবলিত বিবৃতি অর্থাৎ মৃত্যুকালীন ঘোষণা (dying declaration);
ii) ৩২(২) ধারার অধীন দৈনন্দিন বা স্বাভাবিক কাজ কর্মের বিবৃতি (statement made in course of business);
iii) ৩২(৩) ধারার অধীন আর্থিক অথবা স্বত্ব সম্বন্ধীয় (as to title) স্বার্থের পরিপন্থীমূলক বিবৃতি যা ফৌজদারি বা ক্ষতিপূরণের মামলার উদ্ভব করতে পারে (statement against interest of maker);
iv) সর্বসাধারণের অধিকার বা প্রথা বিষয়ক মতামত (opinion as to public right or custom, or matters of general interest);
v) পারিবারিক দলিল বা উইল (statement made in will or deed relating to family affairs);
vi) আত্মীয়তার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিবৃতি (relates to existence of relationship);
vii) ১৩(ক) ধারায় উল্লিখিত কার্য সংক্রান্ত; অথবা
viii) কয়েকজন কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি (Statement made by several persons, and expresses feelings relevant to matter in question).
.
সাক্ষ্য আইনের ২৪ ও ২৮ ধারায় বর্ণিত বিধান কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
  1. শুধুমাত্র ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে
  2. শুধুমাত্র দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে
  3. দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলার ক্ষেত্রে
  4. উপরের কোনোটিই সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ২৪ ও ২৮ ধারা মূলত ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এগুলো স্বীকারোক্তির গ্রহণযোগ্যতা সংক্রান্ত বিধান নির্ধারণ করে, যা সাধারণত অপরাধমূলক কার্যকলাপের স্বীকারোক্তি সংক্রান্ত।

সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা:
এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো স্বীকারোক্তি প্ররোচনা, ভয় বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আদায় করা হয় এবং তা যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা (পুলিশ বা বিচারক) দ্বারা প্রভাবিত হয়, তাহলে সেই স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হবে না।

মূল পয়েন্ট:
- যদি আসামি ভয় পান যে স্বীকারোক্তি দিলে ক্ষতি হবে বা না দিলে সুবিধা পাবে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
- শুধুমাত্র ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য, কারণ দেওয়ানি মামলায় সাধারণত স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দণ্ড দেওয়া হয় না।

সাক্ষ্য আইনের ২৮ ধারা:
এই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো স্বীকারোক্তি প্ররোচনা, ভয় বা প্রতিশ্রুতির ফলে দেওয়া হয় এবং পরে তা স্বেচ্ছায় দেওয়া হয়, তবে আদালত তা গ্রহণ করতে পারে।

মূল পয়েন্ট:
- যদি কোনো ব্যক্তি প্রথমে ভয় বা প্রতিশ্রুতির কারণে স্বীকারোক্তি দেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
- কিন্তু পরে যদি তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকারোক্তি দেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
- এটি শুধুমাত্র ফৌজদারি মামলার জন্য প্রযোজ্য, কারণ দেওয়ানি মামলায় সাধারণত অপরাধমূলক স্বীকারোক্তির প্রশ্ন আসে না।
.
নিম্নের কোনটি "Conclusive Proof" এর বৈশিষ্ট্য?
  1. আদালত অনুমান করবে না
  2. আদালত অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবেন
  3. আদালত অনুমিত বিষয় যাচাই করার অনুমতি দেবেন
  4. আদালত অনুমানকৃত বিষয়কে মিথ্যা প্রমাণের সুযোগ দেবেন না
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪ ধারার মতে- অনুমান (Presumption) ৩ প্রকার:
১) অনুমান করতে পারে (May presume);
২) অনুমান করবে (Shall presume);
৩) চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof)।

অনুমান করতে পারে (May presume):
যেখানেই এই আইনের বিধান আছে যে, আদালত কোন বিষয় ধরে নিতে পারেন, সেখানে আদালত হয় সেই বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন; না হয় তা প্রমাণ করার আহ্বান জানাবেন।

অনুমান করবে (Shall presume):
যেখানেই এই আইনের নির্দেশ আছে যে, আদালত কোন বিষয় অবশ্যই ধরে নিবেন, সেখানে উক্ত বিষয় মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আদালত তা প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন।

চূড়ান্ত প্রমাণ (Conclusive proof):
এই আইনে যখন একটি বিষয়কে অপর একটি বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ বলে গণ্য করা হয়, তখন আদালত প্রথমোক্ত বিষয় প্রমাণিত হলে অপর বিষয়ও প্রমাণিত বলে গণ্য করবেন এবং তা মিথ্যা প্রমাণিত করার জন্য সাক্ষ্যদানের অনুমতি দিবেন না।
.
A নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রামে একটি অপরাধ করেছে কিনা তা নির্ধারণে, Plea of alibi নীতি অনুসারে কোন তথ্যটি প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. A একজন সৎ ব্যক্তি
  2. A ঐ দিন ঢাকায় ছিল
  3. A এর কোনো শত্রু নেই
  4. A অতীতে কখনো অপরাধ করেনি
ব্যাখ্যা
⇒ 'Plea of alibi' হল একটি আইনগত জবাব, যা কোনো অপরাধীকে নিজেকে দোষমুক্ত প্রমাণ করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এর অর্থ হল "অন্যত্র উপস্থিতি"। এটি হল একটি বিশেষ প্রকৃতির অপরাধমুক্তির প্রমাণ যেখানে প্রসিকিউটরদের দাবিকৃত অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণিত হয়। সাক্ষ্য আইনের ১১ ধারায় Plea of Alibi-কে প্রাসঙ্গিক করা হয়েছে। সাক্ষ্য আইনের ধারা ১১ অনুসারে, অপরাধের স্থান ও সময়ে অপরাধীর অনুপস্থিতি প্রমাণ করা হলে, তা ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে পারে।

সাক্ষ্য আইন, ধারা ১১:
যে ঘটনা সাধারণত প্রাসঙ্গিক নয়, তা তখনই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে—
- যদি এটি কোনো মূল বিতর্কিত বা প্রাসঙ্গিক ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হয়।
- যদি এটি এককভাবে বা অন্যান্য ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে কোনো মূল বিতর্কিত বা প্রাসঙ্গিক ঘটনার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বকে অত্যন্ত সম্ভাব্য বা অসম্ভাব্য করে তোলে।

উদাহরণ:
(ক) প্রশ্ন উঠেছে, A নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রামে কোনো অপরাধ করেছে কিনা।
যদি প্রমাণিত হয় যে ওই দিনে A ঢাকায় ছিল, তাহলে এটি একটি প্রাসঙ্গিক ঘটনা।
এছাড়াও, যদি দেখা যায় যে অপরাধ সংঘটনের সময় A এমন একটি স্থানে ছিল, যেখান থেকে অপরাধস্থলে পৌঁছানো অত্যন্ত অসম্ভব, তবে সেটিও প্রাসঙ্গিক হবে।

(খ) প্রশ্ন উঠেছে, A কোনো অপরাধ করেছে কিনা।
পরিস্থিতি এমন যে, অপরাধটি হয় A, B, C অথবা D—এদের মধ্যে কেউ করেছে।
যে কোনো ঘটনা যা প্রমাণ করে যে অপরাধটি B, C বা D করেনি এবং অপরাধী শুধুমাত্র A হতে পারে, তা প্রাসঙ্গিক হবে।
.
দোষ স্বীকার কখন গ্রহণযোগ্য হয় না?
  1. দোষ স্বীকার যদি স্বেচ্ছামূলক হয়
  2. দোষ স্বীকার যদি স্বেচ্ছামূলক না হয়
  3. ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
  4. ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট দোষ স্বীকারোক্তি
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা - প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা সৃষ্ট স্বীকারোক্তি, যখন ফৌজদারি কার্যবিধিতে অপ্রাসঙ্গিক: যদি কোনো আসামী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সাথে সম্পর্কিত কোনো প্রলোভন, ভীতি বা প্রতিশ্রুতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে স্বীকারোক্তি প্রদান করেন এবং আদালত মনে করেন যে, এই স্বীকারোক্তি কোনো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আসামীকে লাভ বা ক্ষতি থেকে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখানোর জন্য প্রদান করা হয়েছে, তবে সেই স্বীকারোক্তি ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্রাসঙ্গিক হবে না।

⇒সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো প্ররোচনা, ভয়ভীতি বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছ থেকে দোষ স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।
- স্বেচ্ছামূলক দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য, তবে এটি হতে হবে স্বতঃস্ফূর্ত ও বিনা প্ররোচনায়।
- যদি দোষ স্বীকারোক্তি বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি বা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে নেওয়া হয়, তাহলে তা অগ্রহণযোগ্য।
- ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বেচ্ছামূলক দোষ স্বীকারোক্তি (ধারা ১৬৪, ফৌজদারি কার্যবিধি) গ্রহণযোগ্য, কিন্তু পুলিশের কাছে করা দোষ স্বীকারোক্তি সাধারণত গ্রহণযোগ্য নয় (ধারা ২৫, সাক্ষ্য আইন)।
- ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে পুলিশের নিকট করা দোষ স্বীকারোক্তিও গ্রহণযোগ্য (ধারা ২৬, সাক্ষ্য আইন)।
.
সাক্ষ্য আইনের ১৩ ধারার শিরোনাম হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. Facts relevant when right or custom is in question
  2. Facts which are the occasion cause or effect of facts in issue
  3. Motive, preparation and previous or subsequent conduct
  4. Things said or done by conspirator in reference to common design
ব্যাখ্যা
Section 13- Facts relevant when right or custom is in question:
Where the question is as to the existence of any right of custom, the following facts are relevant:–
(a) any transaction by which the right or custom in question was created, claimed, modified, recognized, asserted or denied, or which was inconsistent with its existence;
(b) particular instances in which the right or custom was claimed, recognized or exercised, or in which its exercise was disputed, asserted or departed from.

Illustration-
The question is whether A has a right to a fishery. A deed conferring the fishery on A's ancestors, a mortgage of the fishery by A's father, a subsequent grant of the fishery by A's father, irreconcilable with the mortgage, particular instances in which A's father exercised the right, or in which the exercise of the right was stopped by A's neighbours, are relevant facts.

সাক্ষ্য আইন (ধারা ১৩): অধিকার বা প্রথা সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য:
যখন কোনো অধিকার বা প্রথার অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন নিম্নলিখিত তথ্যসমূহ প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে—
(ক) যে কোনো লেনদেন যার মাধ্যমে উক্ত অধিকার বা প্রথা সৃষ্টি, দাবি, পরিবর্তিত, স্বীকৃত, প্রতিষ্ঠিত বা অস্বীকৃত হয়েছে, অথবা যা এর অস্তিত্বের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
(খ) নির্দিষ্ট ঘটনা যেখানে উক্ত অধিকার বা প্রথা দাবি, স্বীকৃত বা প্রয়োগ করা হয়েছিল, অথবা যেখানে এর প্রয়োগ বিতর্কিত, প্রতিষ্ঠিত বা পরিত্যাগ করা হয়েছিল।
১০.
ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের মূল দায়িত্ব কী?
  1. আদালতকে সাহায্য করা
  2. আসামিকে দোষী প্রমাণ করা
  3. সরকারি পক্ষের পক্ষে সাক্ষ্য দেওয়া
  4. যে পক্ষ তার সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছে, তাদের সাহায্য করা
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৪৫ক ধারা- শারীরিক বা ফরেনসিক প্রমাণ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞদের মতামত:
(১) আদালতের অনুমতি ব্যতীত একজন সাক্ষী শারীরিক বা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ হিসাবে সাক্ষ্য দিতে পারবেন না যদি না তার রিপোর্টের একটি অনুলিপি, উপ-ধারা (২) অনুসারে সমস্ত পক্ষকে দেওয়া না হয়।
(২) একজন বিশেষজ্ঞের প্রতিবেদন আদালতের কাছে পাঠানো হবে এবং সেই পক্ষের কাছে নয় যার পক্ষে তাকে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং আদালতকে সাহায্য করাই তার কর্তব্য হবে।

Section 45A: Opinion of experts on physical or forensic evidence.-
( 1) Except by leave of the Court a witness shall not testify as an expert on physical or forensic unless a copy of his report has, pursuant to sub-section (2), been given to all the parties.
(2) An expert’s report shall be addressed to the Court and not to the party on whose behalf he is examined and he shall owe a duty to help the Court.
১১.
একটি মোকদ্দমায় আদালতে এমন প্রশ্ন উঠেছে যে, ‘খ’-এর নিকট থেকে অর্ডার দেওয়া কিছু মাল 'ক'-এর নিকট অর্পিত হয়েছে কি না। সংশ্লিষ্ট মালগুলি পর্যায়ক্রমিকভাবে কতিপয় মধ্যবর্তী ব্যক্তির নিকট অর্পণ করা হয়েছিল। এখানে-
  1. যেকোনো একটি অর্পণ সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রাসঙ্গিক হবে
  2. প্রত্যেকটি অর্পণ সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান প্রাসঙ্গিক হবে
  3. এইরূপ পর্যায়ক্রমিক অর্পণের কোনো সাক্ষ্যগত মূল্য নেই
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ৬: একই লেনদেনের অংশ হিসেবে গঠিত ঘটনার প্রাসঙ্গিকতা-
যে সমস্ত ঘটনা, যদিও মূল বিষয়ে অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে মূল বিষয়ের সাথে এমনভাবে সংযুক্ত যে তারা একই লেনদেনের অংশ গঠন করে, সেগুলো প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে—সেগুলো একই সময় ও স্থানে হোক বা ভিন্ন সময় ও স্থানে ঘটুক।

উদাহরণ:
(ক) A-এর বিরুদ্ধে B-কে প্রহারের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। মারধরের সময় বা এর ঠিক আগে-পরে A, B বা উপস্থিত ব্যক্তিদের বলা বা করা যেকোনো কিছু এই ঘটনার অংশ হিসেবে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে।

(খ) A-এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার অভিযোগ রয়েছে। এই বিদ্রোহের সময় সম্পত্তি ধ্বংস, সৈন্যদের উপর আক্রমণ এবং কারাগার ভেঙে ফেলার মতো ঘটনা ঘটেছে। A প্রত্যক্ষভাবে সব ঘটনার সাথে যুক্ত না থাকলেও, বিদ্রোহের অংশ হিসেবে এগুলো প্রাসঙ্গিক ঘটনা বলে বিবেচিত হবে।

(গ) A, B-এর বিরুদ্ধে একটি চিঠির মাধ্যমে মানহানির অভিযোগ করেছে। যদি চিঠিটি একটি ধারাবাহিক যোগাযোগের অংশ হয়ে থাকে, তবে মানহানির মূল চিঠি না থাকলেও, সংশ্লিষ্ট অন্যান্য চিঠিগুলোও প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

(ঘ) প্রশ্ন উঠেছে, B-এর কাছ থেকে অর্ডারকৃত পণ্য A-এর কাছে পৌঁছানো হয়েছিল কি না। যদি পণ্যটি একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে ধাপে ধাপে পৌঁছানো হয়ে থাকে, তবে প্রতিটি ধাপে ডেলিভারি হওয়া ঘটনাগুলো প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হবে।
১২.
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি কখন প্রাসঙ্গিক নয়?
  1. যদি এটি প্রকাশ্যে করা হয়
  2. যদি এটি আদালতের আদেশে লেখা হয়
  3. যদি এটি একজন সাক্ষীর মাধ্যমে আদালতে উপস্থাপিত হয়
  4. যদি এটি এমন শর্তসাপেক্ষে করা হয় যে, এ সম্পর্কে কোনো সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না
ব্যাখ্যা
ধারা ২৩- দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি যখন প্রাসঙ্গিক (Admissions in civil cases when relevant):
দেওয়ানি মোকদ্দমায় কোন স্বীকৃতি যদি এরূপ প্রকাশ্য শর্তাধীন করা হয় যে, ঐ সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না অথবা যদি এরূপ পরিস্থিতিতে করা হয় যে, তা সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া হবে না বলে পক্ষগণের মধ্যে চুক্তি হয়েছে বলে আদালত অনুমান করতে পারেন, তবে তা প্রাসঙ্গিক হবে না।
ব্যাখ্যাঃ কোন অ্যাডভোকেট ১২৬ ধারা অনুসারে কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য থাকলে এই ধারার কোন বিধান অনুসারে তিনি সাক্ষ্য দেওয়া হতে অব্যাহতি পাবে না। 

⇒ অর্থাৎ, দেওয়ানি মোকদ্দমায় স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয় যদি-
১. স্বীকৃতিটি এই শর্তে করা হয় যে উক্ত স্বীকারোক্তি সম্পর্কে কোন সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
২. সাক্ষ্য না দেয়ার জন্য পক্ষগণের মধ্যে কোন চুক্তি থাকলে।

Section 23- Admissions in civil cases when relevant:
In civil cases no admission is relevant, if it is made either upon an express condition that evidence of it is not to be given, or under circumstances from which the Court can infer that the parties agreed together that evidence of it should not be given.

Explanation.–Nothing in this  section shall be taken to exempt any 17[Advocate] from giving evidence of any matter of which he may be compelled to give evidence under section 126.
১৩.
কোন কাজ দূর্ঘটনামূলক, না ইচ্ছাকৃত - এই প্রশ্নের নির্ধারণে ঘটনাবলী সাক্ষ্য আইনের কোন ধারামতে প্রাসঙ্গিক বলে বিবেচিত হয়?
  1. ১২ ধারা
  2. ১৩ ধারা
  3. ১৪ ধারা
  4. ১৫ ধারা
ব্যাখ্যা

কোনো কাজ দুর্ঘটনাবশত নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘটিত হয়েছে তা নির্ধারণে প্রাসঙ্গিক ঘটনা (সাক্ষ্য আইন, ধারা ১৫):
যদি প্রশ্ন ওঠে যে কোনো কাজ দুর্ঘটনাবশত ঘটেছে নাকি তা ইচ্ছাকৃতভাবে বা নির্দিষ্ট জ্ঞান ও উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে, তাহলে সেই কাজটি একই ব্যক্তি দ্বারা পূর্বে বা পরে সংঘটিত অনুরূপ ঘটনাগুলোর অংশ হলে তা প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

উদাহরণ:
(ক) A তার বাড়িতে ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়ে বিমার টাকা দাবি করেছে কিনা, তা প্রশ্নবিদ্ধ।
যদি দেখা যায় যে, A ধারাবাহিকভাবে একাধিক বাড়িতে বসবাস করেছে, প্রতিটি বাড়ি বিমাকৃত ছিল, প্রতিটি বাড়িতে আগুন লেগেছে এবং প্রত্যেকবার A বিমার টাকা পেয়েছে, তাহলে এসব ঘটনা প্রাসঙ্গিক, যা প্রমাণ করতে পারে যে আগুন লাগানো দুর্ঘটনাবশত ছিল না।

(খ) A, B-এর দেনাদারদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের কাজে নিযুক্ত ছিল এবং তার দায়িত্ব ছিল সংগ্রহ করা অর্থ হিসাব বইয়ে লিপিবদ্ধ করা।
একবার সে বইয়ে ভুল এন্ট্রি দেয়, যেখানে প্রকৃত অর্থের তুলনায় কম টাকা গ্রহণ দেখানো হয়।
প্রশ্ন হলো, এন্ট্রিটি ইচ্ছাকৃত নাকি ভুলবশত করা হয়েছে।
যদি দেখা যায়, A একই বইয়ে একাধিকবার ভুল এন্ট্রি দিয়েছে এবং প্রতিবারই এই ভুল তার নিজের পক্ষে গেছে, তাহলে এটি প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

(গ) A-কে জাল নোট সরবরাহ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, সে ইচ্ছাকৃতভাবে নাকি ভুলবশত জাল নোট দিয়েছে?
যদি প্রমাণ হয় যে, B-কে জাল নোট দেওয়ার ঠিক আগে বা পরে সে C, D, এবং E-কেও জাল নোট সরবরাহ করেছে, তাহলে এটি প্রমাণ করতে পারে যে ঘটনাটি দুর্ঘটনাবশত ঘটেনি, বরং ইচ্ছাকৃত ছিল।

১৪.
‘মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ হতে হবে’ - এই সাধারণ নীতির ব্যতিক্রম সাক্ষ্য আইনের কোন ধারায় আছে?
  1. ৩০ ধারায়
  2. ৩১ ধারায়
  3. ৩৩ ধারায়
  4. ৩৪ ধারায়
ব্যাখ্যা
• সাধারণত মৌখিক সাক্ষ্য প্রত্যক্ষ হতে হয়, অর্থাৎ সাক্ষীকে আদালতে উপস্থিত হয়ে স্বচক্ষে দেখা বা শোনা ঘটনা বর্ণনা করতে হয়। কিন্তু ৩৩ ধারার অধীনে, যদি সাক্ষী উপস্থিত হতে না পারে, তবে পূর্ববর্তী বিচারিক কার্যক্রমে প্রদত্ত তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদিও এটি প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য নয়।

সাক্ষ্য আইন, ধারা ৩৩: পরবর্তী মামলায় পূর্বে দেওয়া সাক্ষ্যের প্রাসঙ্গিকতা-
যদি কোনো সাক্ষী পূর্বে কোনো বিচারিক কার্যধারায় বা আইনের দ্বারা স্বীকৃত কোনো ব্যক্তির সামনে সাক্ষ্য প্রদান করে থাকেন, তবে সেই সাক্ষ্য পরবর্তী বিচারিক কার্যধারায় বা একই বিচারিক কার্যধারার পরবর্তী পর্যায়ে প্রাসঙ্গিক হবে, যদি নিম্নলিখিত শর্তগুলোর যেকোনো একটি প্রযোজ্য হয়—
- সাক্ষী মারা গেছেন,
- সাক্ষীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না,
- সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে অক্ষম,
- প্রতিপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেওয়া থেকে বিরত রেখেছে,
- সাক্ষীকে হাজির করতে এত বিলম্ব বা খরচ হবে, যা আদালতের দৃষ্টিতে অযৌক্তিক।

শর্তাবলী:
এই ক্ষেত্রে, নিম্নলিখিত শর্তগুলো পূরণ হলে পূর্ববর্তী সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে—
- প্রথম ও পরবর্তী মামলাটি একই পক্ষ বা তাদের স্বার্থের প্রতিনিধিদের মধ্যে হতে হবে।
- প্রথম মামলায় প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে সাক্ষীকে জেরা করার সুযোগ থাকতে হবে।
- প্রথম ও পরবর্তী মামলার বিষয়বস্তু মূলত একই হতে হবে।

এটি মৌখিক সাক্ষ্যের ব্যতিক্রম কারণ এতে সাক্ষীর অনুপস্থিতিতে তার পূর্ববর্তী সাক্ষ্য প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হয়। তাই প্রশ্নের সঠিক উত্তর "৩৩ ধারায়"।
১৫.
‘ক’,‘খ’- কে হত্যার অভিযোগে পুলিশ কতৃর্ক গ্রেফতার হলে সে পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং তার দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে। ‘ক’-এর প্রদত্ত স্বীকারোক্তি কত ধারায় প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. ২৫ ধারায়
  2. ২৬ ধারায়
  3. ২৭ ধারায়
  4. ২৮ ধারায়
ব্যাখ্যা
ধারা ২৭: অভিযুক্তের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য কতটুকু প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য:
সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো তথ্য প্রদান করে এবং তার ফলে কোনো নতুন তথ্য বা প্রমাণ আবিষ্কৃত হয়, তাহলে শুধুমাত্র সেই অংশটুকু প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে, যা সরাসরি উক্ত আবিষ্কৃত তথ্যের সাথে সম্পর্কিত।

মূল ব্যাখ্যা:
- অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে থাকলে তার দেওয়া পুরো স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
- তবে যদি তার দেওয়া তথ্যের মাধ্যমে কোনো বস্তু (যেমন: অস্ত্র, লাশ বা চুরি যাওয়া দ্রব্য) উদ্ধার করা হয়, তাহলে শুধুমাত্র সেই উদ্ধার সংক্রান্ত অংশটুকু আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে।

উদাহরণ ১:
একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের হেফাজতে বলে— "আমি হত্যার অস্ত্রটি লুকিয়ে রেখেছি" এবং তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ অস্ত্র উদ্ধার করে।
- এখানে "অস্ত্রটি লুকিয়ে রেখেছি" এই তথ্যটি গ্রহণযোগ্য, কারণ এর ফলে অস্ত্র পাওয়া গেছে।

উদাহরণ ২:
একজন অভিযুক্ত পুলিশকে বলে— "আমি লুকিয়ে রাখা টাকা বের করতে পারি" এবং তার নির্দেশনায় পুলিশ টাকা উদ্ধার করে।
- এখানে শুধুমাত্র টাকা উদ্ধার সংক্রান্ত তথ্যটি গ্রহণযোগ্য, কিন্তু তার আগে দেওয়া কোনো অপরাধ স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।
১৬.
ধারা ৪৮-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, "সাধারণ প্রথা বা অধিকার" বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অধিকারের বিষয়
  2. শুধুমাত্র ঐতিহাসিক অধিকার
  3. শুধুমাত্র আদালতের দ্বারা স্বীকৃত অধিকার
  4. যথেষ্ট সংখ্যক ব্যক্তির একটি শ্রেণীর মধ্যে প্রচলিত প্রথা বা অধিকার
ব্যাখ্যা
• ধারা ৪৮- অধিকার অথবা প্রথার অস্তিত্ব সম্বন্ধে অভিমত যখন প্রাসঙ্গিক:
কোন সাধারণ প্রথা অথবা অধিকারের অস্তিত্ব সম্পর্কে যেক্ষেত্রে আদালতকে কোন অভিমত গ্রহণ করতে হয়, সেক্ষেত্রে উক্ত প্রথা বা অধিকারের অস্তিত্ব থাকলে যে সমস্ত ব্যক্তির পক্ষে তা জানা স্বাভাবিক, এর অস্তিত্ব সম্বন্ধে তার অভিমত প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যাঃ "সাধারণ প্রথা অথবা অধিকার" কথাটি বলতে যথেষ্ঠ সংখ্যক ব্যক্তির একটি শ্রেণীর ভিতর সাধারণভাবে প্রচলিত প্রথা বা অধিকারও বুঝায়।

উদাহরণ-
কোন একটি গ্রামের অধিবাসীদের নির্ধারিত কোন একটি কূপের পানির ব্যবহার করার অধিকার থাকলে, তা এ ধারার অর্থ অনুযায়ী সাধারণ অধিকার বলে বিবেচিত হবে।

Section 48- Opinion as to existence of right or custom, when relevant:
When the Court has to form an opinion as to the existence of any general custom or right, the opinions, as to the existence of such custom or right, of persons who would be likely to know of its existence if it existed, are relevant.
Explanation. The expression "general custom or right" includes customs or rights common to any considerable class of persons.

Illustration-
The right of the villagers of a particular village to use the water of a particular well is a general right within the meaning of this section.
১৭.
ফৌজদারি কার্যধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির খারাপ চরিত্র সাধারণত কখন প্রাসঙ্গিক হয়?
  1. আদালত ইচ্ছা করলে
  2. যদি সে কোনো গুরুতর অপরাধ করে
  3. যদি তার ভালো চরিত্র সম্পর্কে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়
  4. কোনো ক্ষেত্রেই নয়
ব্যাখ্যা
ধারা ৫৪: আগের খারাপ চরিত্র সম্পর্কিত তথ্য অপ্রাসঙ্গিক, তবে প্রতিক্রিয়াস্বরূপ প্রাসঙ্গিক হতে পারে:ণ
ফৌজদারি কার্যধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তির পূর্বের খারাপ চরিত্র সাধারণত অপ্রাসঙ্গিক। তবে, যদি তার ভালো চরিত্র সম্পর্কে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়, তাহলে তার খারাপ চরিত্র সম্পর্কিত প্রমাণও প্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।

ব্যাখ্যা ১:
এই ধারা সেইসব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় যেখানে কোনো ব্যক্তির খারাপ চরিত্র নিজেই একটি বিবেচ্য বিষয় (Fact in Issue)।

ব্যাখ্যা ২:
আগের কোনো দণ্ডাদেশ (Conviction) খারাপ চরিত্রের প্রমাণ হিসেবে প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
১৮.
সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারা প্রযোজ্য হতে হলে অভিযুক্তদের কী শর্ত থাকতে হবে?
  1. যৌথভাবে বিচারাধীন হতে হবে
  2. পৃথক বিচারের মুখোমুখি হতে হবে
  3. আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হতে হবে
  4. একাধিক অপরাধে অভিযুক্ত হতে হবে
ব্যাখ্যা
• ধারা ৩০- যখন দোষ স্বীকারোক্তি সহ-অভিযুক্তদের [co-accused) বিরুদ্ধে সাক্ষ্যে ব্যবহার করা যায়:
সাক্ষ্য আইনের সাধারণ নিয়ম হলো যে ব্যক্তি দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করে উক্ত দোষ স্বীকারোক্তি তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে অন্যকোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে না। কিন্তু সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারা এই নিয়মের ব্যতিক্রম।

সাক্ষ্য আইনের ৩০ ধারায় বলা হয়েছে-
যেখানে একের অধিক ব্যক্তিকে একই অপরাধের জন্য যৌথ বিচার করা হচ্ছে, সেখানে কোন একজন অভিযুক্ত নিজেকে সহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করলে, উক্ত স্বীকারোক্তি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হলে তা স্বীকারোক্তি প্রদানকারীসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

শর্তসমূহ:
১. একই অপরাধের জন্য একাধিক ব্যক্তি অভিযুক্ত হতে হবে;
২. উক্ত একই অপরাধের জন্য তাদের যৌথ বিচার (Tried jointly) করা হবে;
৩. উক্ত অভিযুক্তদের মধ্যে কোন একজন অভিযুক্ত নিজেকেসহ অন্যান্য অভিযুক্তকে জড়িয়ে কোন দোষ স্বীকারোক্তি প্রদান করবে;
৪. এমন দোষ স্বীকারোক্তি প্রমাণিত হলে আদালত উক্ত দোষ স্বীকারোক্তি প্রদানকারীসহ অন্যান্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসাবে আমলে নিতে পারে।
১৯.
কোন ব্যক্তি সাক্ষ্য আইনের ১৮ ধারার অধীনে "Admission" দিতে পারে?
  1. মামলার পক্ষ নিজে
  2. মামলার পক্ষের অনুমোদিত প্রতিনিধি
  3. মামলার ৩য় পক্ষ
  4. ক ও খ
ব্যাখ্যা

ধারা ১৮- কার্যধারার পক্ষ বা তার প্রতিনিধির স্বীকৃতি (Admission):
যেকোনো বিচারিক কার্যধারার পক্ষ (Party to the proceeding) বা তার কোনো প্রতিনিধি (Agent), যাকে আদালত উক্ত পরিস্থিতিতে স্পষ্ট বা পরোক্ষভাবে অনুমোদিত ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করে, তার দ্বারা প্রদত্ত কোনো বক্তব্য (Statement) স্বীকৃতি (Admission) হিসেবে গণ্য হবে।

[Statements made by a party to the proceeding, or by an agent to any such party, whom the Court regards, under the circumstances of the case, as expressly or impliedly authorized by him to make them, are admissions.]

অর্থাৎ, মামলার পক্ষ নিজে বা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি যদি কোনো তথ্য স্বীকার করে, তবে তা আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
২০.
'ক' একজন অতি ন্যায়বান, নিরীহ এবং ধার্মিক মানুষ। 'ক' এর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ আদালতে উঠেছে। সেখানে তার আইনজীবী সাক্ষ্য শুনানীর সময় 'ক' এর সচ্চরিত্রের পরিচয় বিস্তারিত তুলে ধরতে চাইলে এর পরিণতি হিসেবে নিচের কোনটি সঠিক?
  1. আদালতে সচ্চরিত্র তুলে ধরতে কোনো বাধা নেই
  2. সচ্চরিত্র তুলে ধরতে আদালত বাধা প্রদান করবে
  3. সচ্চরিত্র তুলে ধরতে বিপক্ষ আইনজীবী তাকে বাধা প্রদান করবে
  4. কোনটি সঠিক নয়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ৫৩ ধারার- ফৌজদারী মোকদ্দমায় পূর্ববর্তী সচ্চরিত্র প্রাসঙ্গিক:
ফৌজদারী মোকদ্দমার অপরাধী ব্যক্তির চরিত্র যে উত্তম, এটা প্রাসঙ্গিক বিষয়।

Section 53: In criminal cases, previous good character relevant:
In criminal proceedings the fact that the person accused is of a good character is relevant.

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৫৩ ধারা অনুযায়ী,
ফৌজদারি মামলায় আসামি তার সচ্চরিত্র আদালতে পেশ করতে পারেন। অর্থাৎ, আসামি চাইলে তার সচ্চরিত্র আদালতে তুলে ধরতে পারেন, এতে আদালত বা বিপক্ষ আইনজীবীর সরাসরি বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে বিপক্ষ আইনজীবী তখন তার চরিত্রের বিরুদ্ধেও প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারবে।
২১.
কোনো একটি দলিল ‘ক’-এর উইল কি না তার বিচারে, তর্কিত উইলের তারিখে ‘ক’ এর সম্পত্তি ও তার পরিবারের অবস্থা- সাক্ষ্য হিসেবে কত ধারায় প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
  1. ৯ ধারায়
  2. ১০ ধারায়
  3. ১১ ধারায়
  4. ১২ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন (ধারা ৯): প্রাসঙ্গিক তথ্য ব্যাখ্যা বা উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য:
যে তথ্যগুলো প্রাসঙ্গিক তথ্য বা বিরোধপূর্ণ বিষয় ব্যাখ্যা বা উপস্থাপন করতে সহায়তা করে, অথবা- কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর পরিচয় নির্ধারণ করে, কোনো ঘটনা সংঘটিত হওয়ার সময় বা স্থান নির্ধারণ করে, যে পক্ষগুলোর মাধ্যমে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে, তাদের সম্পর্ক স্পষ্ট করে, সেই সকল তথ্য প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে, যদি তা এই উদ্দেশ্যের জন্য অপরিহার্য হয়।

উদাহরণ:
(ক) প্রশ্ন হলো, একটি নির্দিষ্ট নথি A-এর উইল কিনা।
উইল তৈরির সময় A-এর সম্পত্তি ও পরিবারের অবস্থা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

(খ) A, B-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছে। B দাবি করেছে যে অভিযোগ সত্য।
মানহানির সময় A ও B-এর পারস্পরিক সম্পর্ক প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি মূল বিষয়টি বোঝাতে সাহায্য করবে।
কিন্তু A ও B-এর পূর্ববর্তী অপ্রাসঙ্গিক কোনো বিতর্ক প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না তা তাদের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে থাকে।

(গ) A একটি অপরাধের জন্য অভিযুক্ত।
অপরাধ সংঘটনের পর A-এর আকস্মিকভাবে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রাসঙ্গিক। যদি প্রমাণিত হয় যে জরুরি ব্যবসার কারণে সে চলে গিয়েছিল, তাহলে সেটিও প্রাসঙ্গিক, কারণ এটি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ব্যাখ্যা করতে পারে। তবে ব্যবসার বিস্তারিত বিবরণ প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না তা প্রমাণ করে যে ব্যবসাটি হঠাৎ ও জরুরি ছিল।
২২.
ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি কখন প্রাসঙ্গিক হবে?
  1. সর্বদা
  2. যখন আদালত চায়
  3. যখন কোনো পক্ষ স্বীকার করে
  4. যখন ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়
ব্যাখ্যা
• The Evidence (Amendment) Act, 2022 দ্বারা ২২ক ধারাটি নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কে মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হওয়ার শর্ত ২২ক ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে।

২২ক ধারায় বলা হয়েছে,
ডিজিটাল রেকর্ডের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক নয়, যদি না উত্থাপিত ডিজিটাল রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
[Oral admissions as to contents of digital records are not relevant, unless the genuineness of the digital record produced is in question].

অর্থাৎ, রেকর্ডের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হলেই মৌখিক স্বীকৃতি প্রাসঙ্গিক হবে।
২৩.
নিচের কোনটি সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩৫ ধারায় সাক্ষ্য হিসেবে প্রাসঙ্গিক হবে না?
  1. জমির খতিয়ান
  2. ব্যক্তিগত ডায়েরি
  3. জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেকর্ড
  4. জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য
ব্যাখ্যা
সরকারি বা ডিজিটাল রেকর্ডে সংরক্ষিত তথ্যের প্রাসঙ্গিকতা (সাক্ষ্য আইন, ধারা ৩৫):
যেকোনো সরকারি বা অন্যান্য অফিসিয়াল বই, রেজিস্টার, রেকর্ড বা ডিজিটাল রেকর্ডে সংরক্ষিত তথ্য, যা সরকারি কর্মচারী তার দায়িত্ব পালনকালে অথবা আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ব্যক্তি লিপিবদ্ধ করেছেন, তা প্রাসঙ্গিক তথ্য হিসেবে গণ্য হবে।

সহজ ভাষায়:
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৩৫ ধারা অনুযায়ী, সরকারি বা ডিজিটাল রেকর্ড তখনই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে যখন তা কোনো সরকারি কর্মচারী কর্তৃক তাঁর দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়।

প্রাসঙ্গিক রেকর্ড:
- জমির খতিয়ান (সরকারি রেকর্ড)।
- জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেকর্ড (সরকারি রেকর্ড)।
- জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য (সরকারি সংরক্ষিত তথ্য)।

অপ্রাসঙ্গিক:
ব্যক্তিগত ডায়েরি (এটি ব্যক্তিগত নথি এবং কোনো সরকারি দায়িত্ব পালনের অংশ নয়, তাই এটি প্রাসঙ্গিক সাক্ষ্য নয়)।
২৪.
সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারা অনুসারে - 'Admissions are __________ of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.'
  1. final proof
  2. conclusive proof
  3. not conclusive proof
  4. None of above
ব্যাখ্যা
⇒ Section-31- Admissions not conclusive proof, but may stop: 
Admissions are not conclusive proof of the matters admitted but they may operate as estoppels under the provisions hereinafter contained.

সাক্ষ্য আইনের ৩১ ধারার বিধান: স্বীকৃতি চূড়ান্ত প্রমাণ নয়, কিন্তু প্রতিবন্ধক হতে পারে: 
কোন বিষয়ে স্বীকৃতি সেই বিষয়ের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। কিন্তু এই আইনে অতঃপর বর্ণিত বিধানসমূহ অনুসারে এগুলি প্রতিবন্ধক হিসেবে কার্যকর হতে পারে।
২৫.
নিচের কোনটি সাক্ষ্য আইনের ৪৪ ধারার আওতায় পড়ে?
  1. আদালত রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্ষমতাসম্পন্ন ছিল না
  2. আদালতের রায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নেওয়া হয়েছিল
  3. আদালতের রায় প্রতারণামূলকভাবে নেওয়া হয়েছিল
  4. উল্লিখিত সব
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৪৪ ধারা-
যে কোনো মামলা বা অন্যান্য কার্যধারার পক্ষ নিজেকে প্রমাণ করার জন্য দেখাতে পারে যে, যে কোনো রায়, আদেশ বা ডিক্রি, যা ৪০, ৪১ বা ৪২ ধারার অধীনে প্রাসঙ্গিক, এবং যা বিপক্ষ পক্ষ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে, তা হয় একটি অযোগ্য আদালত দ্বারা প্রদান করা হয়েছে অথবা প্রতারণা (Fraud) বা ষড়যন্ত্র (Collusion) করে প্রাপ্ত হয়েছে।

[Any party to a suit or other proceeding may show that any judgment, order or decree which is relevant under section 40, 41 or 42, and which has been proved by the adverse party, was delivered by a Court not competent to deliver it, or was obtained by fraud or collusion.]
২৬.
‘ক’-কতৃর্ক ‘খ’-এর নিকট বিক্রিত একটি ঘোড়া সুস্থ কি না এই প্রশ্নে, ‘ক’,‘খ’-কে বলল, ‘গ’-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা কর, ‘গ’-এ সম্পর্কে সবকিছু জানে। ‘গ’ এর প্রদত্ত বিবৃতি-
  1. স্বীকৃতি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়
  2. স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে
  3. আদালত মনে করলে তা গ্রহণ করতে পারে
  4. ‘গ’-কোনো বিবৃতি প্রদান করার অধিকার রাখে না
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন (ধারা ২০): পক্ষের দ্বারা স্পষ্টভাবে উল্লেখিত ব্যক্তির স্বীকৃতি [Admissions by persons expressly referred to by party to suit]:

যদি কোনো মামলার পক্ষ নিজেই কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রতি তথ্য জানার জন্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে, তাহলে ঐ ব্যক্তির প্রদত্ত বিবৃতি স্বীকৃতি (Admission) হিসেবে গণ্য হবে।
[Statements made by persons to whom a party to the suit has expressly referred for information in reference to a matter in dispute are admissions.]

উদাহরণ:
A, B-কে একটি ঘোড়া বিক্রি করেছে এবং প্রশ্ন উঠেছে যে ঘোড়াটি সুস্থ ছিল কি না। A যদি B-কে বলে, "C-কে জিজ্ঞাসা কর, C এ সম্পর্কে সব জানে," তাহলে C-এর বক্তব্য স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য হবে।
[The question is whether a horse sold by A to B is sound. A says to B–"Go and ask C; C knows all about it." C's statement is an admission.]
২৭.
'ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪ ও ৫৫-এ "চরিত্র" বলতে খ্যাতি (reputation) ও স্বভাব (disposition) উভয়কেই বোঝায়'- এই সংজ্ঞা সাক্ষ্য আইনের কোন ধারার ব্যাখ্যায় দেওয়া আছে?
  1. ৫০ ধারায়
  2. ৫২ ধারায়
  3. ৫৪ ধারায়
  4. ৫৫ ধারায়
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইনের ধারা ৫৫: ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণে চরিত্রের প্রাসঙ্গিকতা:
দেওয়ানি মামলায়, কোনো ব্যক্তির চরিত্র এমন হতে পারে যা তার প্রাপ্য ক্ষতিপূরণের পরিমাণকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং এ সংক্রান্ত বিষয়টি প্রাসঙ্গিক।

ব্যাখ্যা: ধারা ৫২, ৫৩, ৫৪ ও ৫৫-এ "চরিত্র" বলতে খ্যাতি (reputation) ও স্বভাব (disposition) উভয়কেই বোঝায়। তবে, ৫৪ ধারায় নির্দিষ্ট যে ব্যতিক্রম রয়েছে তা ছাড়া, শুধুমাত্র সাধারণ খ্যাতি ও সাধারণ স্বভাব সম্পর্কিত সাক্ষ্য দেওয়া যাবে, বিশেষ কোনো কার্য বা আচরণের মাধ্যমে প্রমাণিত খ্যাতি বা স্বভাবের সাক্ষ্য দেওয়া যাবে না।
২৮.
The Evidence Act, 1872 এর ৫১ ধারা অনুযায়ী নিচের কোনটি সঠিক?
  1. শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণযোগ্য
  2. সাধারণ সাক্ষীদের মতামত আদালতে গৃহীত হবে
  3. শুধুমাত্র পুলিশ কর্মকর্তার মতামত গ্রহণযোগ্য
  4. বিশেষজ্ঞের মতামতের ভিত্তি বা কারণও আদালতে প্রাসঙ্গিক
ব্যাখ্যা
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ৫১ ধারা- মতামতের ভিত্তি, কখন প্রাসঙ্গিক:
যখন কোনো জীবিত ব্যক্তির মতামত প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হয়, তখন সেই মতামতের ভিত্তি বা কারণও প্রাসঙ্গিক হিসেবে বিবেচিত হবে।

উদাহরণ:
একজন বিশেষজ্ঞ (Expert) তার মতামত গঠনের জন্য যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন, তা আদালতে ব্যাখ্যা করতে পারেন।
২৯.
আদালতের রায়ের প্রতিবেদন কোন ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে?
  1. যদি এটি কোনো সংবাদ মাধ্যমে প্রচারিত হয়
  2. যদি এটি কোনো আইনজীবীর ব্যাখ্যা সম্বলিত হয়
  3. যদি এটি কোনো অনুমোদিত বইতে প্রকাশিত হয়
  4. যদি এটি কেবলমাত্র কোনো ব্যক্তির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তৈরি হয়
ব্যাখ্যা
ধারা ৩৮ - আইনগ্রন্থে থাকা কোনো আইনের বিবৃতি কতটা প্রাসঙ্গিক:
যখন কোনো আদালতকে কোনো দেশের আইনের বিষয়ে মতামত গঠন করতে হয়, তখন সেই দেশের সরকারের অনুমোদনে মুদ্রিত বা প্রকাশিত কোনো আইনগ্রন্থে উক্ত আইন সম্পর্কিত বিবৃতি থাকলে তা প্রাসঙ্গিক বলে গণ্য হবে।

এছাড়াও,
সেই দেশের আদালতের কোনো রায়ের প্রতিবেদন যদি এমন কোনো গ্রন্থে থাকে যা আদালতের রায়ের প্রতিবেদন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, তবে সেটিও প্রাসঙ্গিক বিবেচিত হবে।
৩০.
A তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করে ঢাকায়। মামলায় রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে সে তার বাবার বাড়িতে গিয়ে একই বিষয়ে আরেকটি মামলা করে। উক্ত স্বামী আদালতকে জানায় যে, এই মামলাটি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে তাই এই মামলা চলতে পারে না। এক্ষেত্রে, উক্ত স্বামীর দাবি করা বিষয় সাক্ষ্য আইনের কোন ধারা অনুযায়ী আদালতে প্রাসঙ্গিক?
  1. ৩৮ ধারা
  2. ৩৯ ধারা
  3. ৪০ ধারা
  4. ৪২ ধারা
ব্যাখ্যা
• সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় ২টি নীতির প্রতিফলন হয়েছে। তা হলো:
i) Res-judicata (দেওয়ানি কার্যবিধির ধারা: ১১);
ii) Double Jeopardy (ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা: ৪০৩)।

সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারার বিধান:
দ্বিতীয় মোকদ্দমা বা বিচার বন্ধ করার জন্য পূর্ববর্তী রায় প্রাসঙ্গিক: যে রায়, আদেশ বা ডিক্রি আদালতকে আইনত অন্য একটি মামলাকে বিচারার্থে গ্রহণ করতে বা এর বিচার করতে বাধা দেয়, সেই রায় বা আদেশ বা ডিক্রির অস্তিত্ব তখনই প্রাসঙ্গিক বিষয়, যখন প্রশ্ন উঠে যে, উক্ত মোকদ্দমা বিচারার্থে গ্রহণ করা বা এর বিচার করা সেই আদালতের পক্ষে উচিত কি না।

⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারায় যে বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে সেটিকে Judgment in personam (ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) বলে।
⇒ এই ধারানুযায়ী পূর্ববর্তী মামলার রায়, ডিক্রি বা আদেশ পরবর্তী মামলার ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক হবে।
⇒ এই ধারার বিধান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(২) এবং General Clauses Act, 1897 এর ২৬ ধারার সাথে প্রাসঙ্গিক।
⇒ সাক্ষ্য আইনের ৪০ ধারা দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
৩১.
যদি কোনো স্বীকারোক্তি অন্যথায় প্রাসঙ্গিক হয়, তাহলে সাক্ষ্য আইনের ২৯ ধারার মতে কোন পরিস্থিতিতে উক্ত স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য হবে?
  1. অভিযুক্তকে প্রতারণার মাধ্যমে স্বীকারোক্তি গ্রহণ করা হলে
  2. অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষ স্বীকার করার সময় নেশাগ্রস্ত থাকলে
  3. স্বীকারোক্তি এমন প্রশ্নের উত্তরে দেওয়া হলে, যার উত্তর দেওয়ার জন্য সে বাধ্য ছিল না
  4. উপরের সকল ক্ষেত্রে
ব্যাখ্যা
ধারা ২৯: দোষ স্বীকারোক্তি গোপনীয়তার প্রতিশ্রুতি ইত্যাদির কারণে অপ্রাসঙ্গিক হবে না-

যদি কোনো স্বীকারোক্তি অন্যথায় প্রাসঙ্গিক হয়, তবে এটি নিম্নলিখিত কারণগুলোর জন্য অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে না—
- এটি গোপন রাখার প্রতিশ্রুতির অধীনে করা হয়েছে।
- এটি অভিযুক্ত ব্যক্তির সাথে প্রতারণা করে গ্রহণ করা হয়েছে।
- এটি অভিযুক্ত ব্যক্তি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় দিয়েছে।
- এটি এমন প্রশ্নের উত্তরে দেওয়া হয়েছে, যার উত্তর দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি বাধ্য ছিল না।
- প্রশ্নগুলোর কাঠামো যাই হোক না কেন, স্বীকারোক্তিটি প্রাসঙ্গিক থাকবে।
- অভিযুক্ত ব্যক্তিকে সতর্ক করা হয়নি যে, সে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য নয় এবং এটি তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।

অর্থাৎ, উপরোক্ত কোনো কারণের জন্য দোষ স্বীকারোক্তি অগ্রহণযোগ্য বা অপ্রাসঙ্গিক হবে না, যদি তা আইনের দৃষ্টিতে প্রাসঙ্গিক হয়।