ব্যাখ্যা
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর
PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন
PrepBank · পাতা ৫ / ৮ · ৪০১–৫০০ / ৮০৫
স্বত্ব, সত্ত্ব, সত্তা:
স্বত্ব: 'স্ব' মানে নিজে। শব্দটি বিশেষণ, এর সঙ্গে ত্ব যোগ করে একে বিশেষ্য পদে রূপান্তরিত করা হয়েছেমানে দাঁড়াল নিজত্ব, অর্থাৎ নিজের অধিকার যেখানে আছে; এক কথায় এর অর্থ 'মালিকানা'। যেমন- মনুজান নিজের সমস্ত বিষয়সম্পত্তি স্বত্ব ত্যাগ করে তাঁর ভাই হাজি মুহম্মদ মহসীনকে দিয়ে দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে,
সত্ত্ব: (< সৎ+ ত্ব)। ৎ আর ত সন্ধির ফলে ত্ত হয়েছে, সেইসঙ্গে ব-ফলা তার নিজের জায়গাতেই আছে।
এ কাজ করলে কেন।
ক. 'সৎ' শব্দের এক অর্থ হচ্ছে 'বিদ্যমান'। 'সত্ত্ব' শব্দের অর্থ এর ফলে- অস্তিত্ব বা বিদ্যমানতা। যে-মেয়ে মা হতে যাচ্ছে তাকে আমরা বলি, 'মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা', অর্থাৎ মেয়েটির 'অন্তঃ'তে (অভ্যন্তরে, ভেতরে) আরেকটি প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। 'সত্ত্বেও' কথাটা এখান থেকেই এসেছে; যেমন- নিষেধ সত্ত্বেও (অর্থাৎ নিষেধ বিদ্যমান থাকতেও)
খ. 'সত্ত্ব' শব্দের দ্বিতীয় অর্থ- প্রকৃতির তিনটি গুণের (সত্ত্ব রজঃ তমঃ) মধ্যে শ্রেষ্ঠ গুণ। মানুষের মনের যে-সব শ্রেষ্ঠ অনুভূতি আছে, যেমন দয়া প্রেম ন্যায়নিষ্ঠা মনুষ্যত্ববোধ বিবেক ইত্যাদি সব সম্মিলিত করলে যা দাঁড়ায় তা-ই সত্ত্বগুণ। যাঁর এইগুণ আছে তাঁকে বলি 'সাত্ত্বিক' লোক। 'সাত্ত্বিক' বিশেষণ পদে তা যোগ করে (সাত্ত্বিক+তা=) 'সাত্ত্বিকতা' বিশেষ্য পদ তৈরি করা যায়।
গ. 'সত্ত্ব' শব্দের তৃতীয় অর্থ- রস, ফলের রস। 'আমসত্ত্ব' তো আসলেই আমের রস, তবে জ্বাল দিয়ে-দিয়ে ঘন করে তারপরে শুকিয়ে নেওয়া। ['সত্ত্ব' শব্দের মতো আরেকটি শব্দ তৈরি হয়েছে। তৎ+ ত্ব = তত্ত্ব। অর্থাৎ তার স্বরূপ বা প্রকৃতি। তত্ত্ব, তাত্ত্বিক, তত্ত্বীয়-এগুলো পরস্পরসম্পৃক্ত শব্দ।
সত্তা: (সৎ + তা)। 'সৎ' শব্দের এক অর্থ যে 'বিদ্যমান' তা আগেই বলেছি; 'তা' হলো বিশেষ্যে রূপান্তরিত হওয়ার চিহ্ন। মানে দাঁড়াল বিদ্যমানতা, অস্তিত্ব। যেমন- সত্তা হারিয়ে ফেলা। এই 'সত্তা' আর আগের ডালতা অর্থের দিক থেকে একই, তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে তফাত আছে। এই সত্তা থেকেই সততা শব্দের উৎপত্তি। সততা ব্যাকরণসিদ্ধ শব্দ নয়।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অদ্যাবধি - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
নিম্নরূপ শব্দগুলোতে সন্ধিজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে:
শুদ্ধ: বিপদুদ্ধার।
অশুদ্ধ: বিপদোদ্ধার।
শুদ্ধ: দুরবস্থা।
অশুদ্ধ: দুরাবস্থা।
শুদ্ধ: বাগীশ্বরী।
অশুদ্ধ: বাগেশ্বরী।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় ভুল:
অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।
অশুদ্ধ: আপনি স্বপরিবারে আমন্ত্রিত।
শুদ্ধ: আপনি সপরিবার আমন্ত্রিত।
অশুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান।
শুদ্ধ: পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।
যেমন-
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোড়া প্রভৃতি হলো তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং ভাষা ও শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।
• 'মাত্র' এর অপপ্রয়োগ ঘটেছে- কেবলমাত্র শব্দে।
• 'মাত্র' শব্দের ব্যবহার:
মাত্র শব্দে প্রত্যেক/ শুধু/ পর্যন্ত/ তখনই ইত্যাদি অর্থ বোঝালে এর পূর্ববর্তী শব্দ পৃথক বসবে না।
যেমন: আসামাত্র, এইমাত্র, একমাত্র, একটিমাত্র, কিছুমাত্র, প্রাণিমাত্র, বলামাত্র, মনুষ্যমাত্র, ইত্যাদি।
লক্ষণীয়, মাত্র দশ টাকা, মাত্র পাঁচ মিনিট, মাত্র একটা কলম ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে মাত্র আলাদাভাবে বসছে।
অন্যদিকে,
--------------
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
অদ্যাপিও - অদ্যাপি/অদ্যও।
কদাপিও - কদাপি।
সময়কাল - সময়/কাল।
বিবিধপ্রকার - বিবিধ।
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান।
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন।
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র।
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র।
সমূলসহ - সমূল/মূলসহ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ - নিরভিমানী।
- শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরভিমান।
অন্যদিকে,
- দৌর্বল্য,
- অর্ধরাত্র,
- সমূল,
শব্দগুলো সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'বিবিধপ্রকার', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ - বিবিধ।
অন্যদিকে,
- রক্তিম,
- সমূল,
- কদাপি।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'স্বত্ত্ব' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: স্বত্ব।
অন্যদিকে,
- দরিদ্রতা; দুর্বলতা, একত্র - শব্দগুলোর প্রয়োগ শব্দ।
তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ হবে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• অশুদ্ধ শব্দ- পৌরুষত্ব।
- 'পুরুষত্ব' শব্দটি শুদ্ধ।
অন্যদিকে,
'কনিষ্ঠতর' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে কনিষ্ঠ।
'বিবিধপ্রকার' - সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে বিবিধ।
'নিরভিমানী'- সমাস ঘটিত অশুদ্ধি ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে নিরভিমান।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'গাম্ভীর্যতা' শব্দে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ হয়েছে।
অন্যদিকে,
চঞ্চলতা, কৃপণতা, ধীরতা শব্দগুলো শুদ্ধ।
• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
'তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে। যেমন 'ধীর' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে 'তা' যোগ করে বিশেষ্যবাচক শব্দ 'ধীরতা' হয়। কিন্তু 'ধীর' এর সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'ধৈর্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে 'ধৈর্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে। এরকম-
শুদ্ধ: অপকর্ষ, অপকৃষ্টতা
অশুদ্ধ:অপকর্ষতা
শুদ্ধ: আলস্য, অলসতা
অশুদ্ধ: আলস্যতা
শুদ্ধ: উৎকর্ষ, উৎকৃষ্টতা
অশুদ্ধ:উৎকর্ষতা
শুদ্ধ: কার্পণ্য, কৃপণতা
অশুদ্ধ: কার্পণ্যতা
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি:
অশুদ্ধ - শুদ্ধ:
সময়কাল - সময়/কাল।
বিবিধপ্রকার - বিবিধ।
সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান।
আয়ত্তাধীন - আয়ত/অধীন।
শুধুমাত্র - শুধু/মাত্র।
কেবলমাত্র - কেবল/মাত্র।
----------------------
• 'মাত্র' শব্দের ব্যবহার:
মাত্র শব্দে প্রত্যেক/ শুধু/ পর্যন্ত/ তখনই ইত্যাদি অর্থ বোঝালে এর পূর্ববর্তী শব্দ পৃথক বসবে না।
যেমন: আসামাত্র, এইমাত্র, একমাত্র, একটিমাত্র, কিছুমাত্র, প্রাণিমাত্র, বলামাত্র, মনুষ্যমাত্র ইত্যাদি।
লক্ষণীয়, মাত্র দশ টাকা, মাত্র পাঁচ মিনিট, মাত্র একটা কলম ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে মাত্র আলাদাভাবে বসছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'আতিশয্যতা' - শব্দে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে - আতিশয্য।
অন্যদিকে,
- একতা, দরিদ্রতা এবং চতুরতা - শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• 'মৈত্রতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - মৈত্র, মিত্রতা।
অন্যদিকে,
- লাঘব,
- সখ্য,
- আলস্য।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধরূপ: উৎকর্ষ, উৎকৃষ্টতা।
তাই বলা চলে, "বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথের উৎকর্ষতা অপ্রতিদ্বন্দ্বী।" - বাক্যটিতে প্রত্যয়জনিত ভুল রয়েছে।
• '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ:
- '-তা' এবং 'ত্ব' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো '-তা' বা 'ত্ব' যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন -
• 'উৎকর্ষ' শব্দটি বিশেষ্য।
- ‘উৎকর্ষ' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘-তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
অর্থাৎ 'উৎকর্ষতা' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
ঐক্যতা: এটি বিশেষ্য হিসেবে ভুল প্রয়োগ।
কারণ,
‘ঐক্য’ শব্দটি নিজেই একটি বিশেষ্য (অর্থ: একতা বা মিলন)। বাংলায় ‘ঐক্য’ শব্দের সঙ্গে -তা প্রত্যয় যুক্ত করে ‘ঐক্যতা’ গঠন করা অপ্রচলিত এবং অপ্রয়োজনীয়, কারণ ‘ঐক্য’ নিজেই একটি সম্পূর্ণ বিশেষ্য। ‘ঐক্যতা’ শব্দটি বাংলা ভাষায় প্রমিত বা সাধারণ ব্যবহারে দেখা যায় না। সঠিক শব্দ হবে ‘ঐক্য’। তাই এটি বিশেষ্যের ভুল প্রয়োগ।
অন্য শব্দগুলো শুদ্ধ:
ক) দীনতা = দীন + তা = সঠিক।
খ) অলসতা = অলস + তা = সঠিক।
ঘ) দারিদ্র্য = দরিদ্র + য = সঠিক।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
• শুদ্ধরূপ- সৌজন্য।
• প্রয়োগ - অপপ্রয়োগ:
- বাংলা ভাষায় কিছু প্রত্যয় (যেমন: ই, তা, ত্ব) মূলত বিশেষণকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কিন্তু যদি এগুলো ইতিমধ্যেই বিশেষ্য হিসেবে থাকা শব্দের সঙ্গে যুক্ত করা হয়, তবে তা অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ হয়।
- নিয়ম:
- বিশেষণ + 'তা' → সঠিক, যেমন: 'গভীর' + 'তা' → গভীরতা;
- এখানে গভীর বিশেষণকে তা প্রত্যয়যোগে বিশেষ্যে রুপান্তর করা হয়েছে।
- বিশেষ্য + 'তা' → অশুদ্ধ, যেমন: 'রক্তিমতা'- এখানে 'তা' প্রত্যয়টি অতিরিক্ত।
- শুদ্ধ হবে 'রক্তিমা', কারণ 'রক্তিমা' নিজেই বিশেষ্য।
- “সৌজন্যতা” শব্দে ‘তা’ সংযোজন করা হয়েছে।
- বাংলায় ‘তা’ বা ‘ই’ প্রত্যয় মূলত বিশেষণকে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করার জন্য ব্যবহৃত হয়।
- কিন্তু "সৌজন্য" ইতিমধ্যেই বিশেষ্য।
- তাই "সৌজন্যতা" শব্দটি ব্যাকরণগত ভুল।
-' সুজন’ থেকে ‘য’ প্রত্যয় যোগে গঠিত সৌজন্য শব্দের সাথে অতিরিক্ত ‘তা’ যোগ করা ব্যাকরণগতভাবে অপ্রয়োজনীয় এবং অশুদ্ধ।
- তাই সৌজন্যতার শুদ্ধরূপ হচ্ছে- সৌজন্য।
অন্যদিকে,
- "সৌজন্যপূর্ণ" শব্দটি বিশেষণ।
উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি – ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
অশ্ব (ঘোড়া) কিন্তু অশ্ম (পাথর) তাই সঠিক বাক্যের রূপ - 'এরকম অশ্বের মতো শব্দ করছো কেন?
অন্ত (শেষ) কিন্তু অন্ত্য ( যা অন্তে আছে) তাই সঠিক বাক্যের রূপ - 'সংসারে কাজের অন্ত নেই।'
অবদান (সৎকর্ম) কিন্তু অবধান (মনযোগ) তাই বাক্যটি সঠিক - 'পড়ালেখায় অবধান না দিলে ভালো করতে পারবে না।'
কূল (তট) কিন্তু কুল (বংশ) তাই সঠিক বাক্যের রূপ - 'আমরা সন্ধ্যায় সমূদ্র কূলে গেলাম।'
উৎস:এসএসসি বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
অত্র:
'অত্র' শব্দের অর্থ 'এখানে'।
- যত্র- যেখানে,
- তত্র- সেখানে,
- যত্রতত্র- যেখানে সেখানে।
তাই অত্র বললে' এই' বোঝাবার কারণ নেই।
যেমন: 'এই অফিস' অর্থে 'অত্র অফিস' লিখলে ভুল হবে।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• অপশনের সবগুলো নিয়ম 'উ'-কার এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাই সঠিক উত্তর কোনোটিই নয়।
• উ-কারের নিয়ম:
• যেসব শব্দ তদ্ভব (অর্থাৎ সংস্কৃত থেকে এসেছে, তাদের উচ্চারণ যেমনই হোক, বানানে কিন্তু হ্রস্ব উ বা হ্রস্ব উ-কার দিতে হবে।
- দেশি শব্দের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। যেমন:উনিশ, কুয়ো, তুলো ইত্যাদি।
• বিদেশি ভাষা (যেমন: আরবি, ফার্সি, তুর্কি, ইংরেজি ইত্যাদি) থেকে যেসব শব্দ বাংলা ভাষায় চালু হয়ে সেসব শব্দে সর্বদা হ্রস্ব উ-কার হয়। যেমন: কানুন, কার্তুজ, কুকার, কুপন, গুজরান।
• ক্রিয়ার রুপে অনুজ্ঞাসূচক ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে উ-ধ্বনি থাকলে সর্বদা উ-কার হবে।
যেমন- আঁকুক, উঠুক, উঠুন, করুক, গলুক, ঘষুক ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।
• 'সখ্যতা' শব্দটিতে প্রত্যয়জনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- 'সখ্যতা' এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: সখ্য।
তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ হবে।
অন্যদিকে,
• 'সুস্বাস্থ্য' শব্দটিতে সমাসজনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- 'সুস্বাস্থ্য' এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: স্বাস্থ্য।
• 'প্রাতঃরাশ' শব্দটিতে সন্ধিজনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- 'প্রাতঃরাশ' এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: প্রাতরাশ।
• 'প্রাতঃরাশ' শব্দটিতে সন্ধিজনিত 'অপপ্রয়োগ' ঘটেছে।
- 'প্রাতঃরাশ' এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: প্রাতরাশ।
• 'প্রতিদ্বন্দ্বিতা' শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
• সঠিক উত্তর - কোনটিই নয়। অপশনের সবগুলো শব্দই অশুদ্ধ।
• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।
• 'আবশ্যকীয়' শব্দটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত কারণে অশুদ্ধ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - আবশ্যক।
• 'সুস্বাগত', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: স্বাগত।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
- সমূলসহ শব্দের সঠিক প্রয়োগ মূলসহ/সমূল।
- অধীনস্থ শব্দের সঠিক প্রয়োগ অধীন।
- ছায়ামুর্তি শব্দের সঠিক প্রয়োগ ছায়ামূর্তি।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান রীতি ও বাংলা একাডেমির অভিধান।
শুদ্ধ বাক্য- আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত।
অন্যান্য অপশনের বিশ্লেষণ:
ক) মাছ আকাশে উড়ে।
[প্রদত্ত বাক্যটিতে যোগ্যতা গুণের অভাব রয়েছে। বাক্যের অন্তর্গত পদ সমুহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নামই যোগ্যতা। এই বাক্যে কোন বিশ্বাস যোগ্যতা নেই কারণ মাছ কখনো আকাশে উড়ে না। এটি প্রয়োগগতভাবে অশুদ্ধ।]
খ) তাঁর খুব আনন্দ পেল।
["আনন্দ পাওয়া" এভাবে প্রয়োগ করা অপ্রচলিত ও অশুদ্ধ।]
শুদ্ধ রূপ: 'তাঁর খুব আনন্দ হলো' বা 'তিনি খুব আনন্দিত হলেন'।
ঘ) সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী।
[বাক্যটি বাহুল্যদোষ দুষ্ট। "সকল" শব্দটিই বহুবচন বোঝায়, তাই আবার "ছাত্রগণ" যোগ করা ভুল। শুদ্ধ রূপ: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী / ছাত্ররা পাঠে মনোযোগী।]
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে 'দিবারাত্রি' শব্দে।
শুদ্ধ প্রয়োগ: দিবারাত্র।
কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।
কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
নিরপরাধী - নিরপরাধ;
অহর্নিশি - অহর্নিশ;
নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী- নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'কেবলমাত্র' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থক শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ।
- এখানে কেবল ও মাত্র দুটি একই শব্দ।
- একই সাথে কেবলমাত্র তাই অশুদ্ধ।
অন্যদিকে,
অন্য অপশনের শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হয়েছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অপপ্রয়োগজনিত শব্দের শুদ্ধরূপ হলো-
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
নিরপরাধী ------ নিরপরাধ
অহর্নিশি ----- অহর্নিশ
নিরহঙ্কারী ----- নিরহঙ্কার
নির্দোষী ----- নির্দোষ
পিতাহারা ------ পিতৃহারা
অর্ধরাত্রি ----- অর্ধরাত্র
নিরভিমানী ---- নিরভিমান
দিবারাত্রি ----- দিবারাত্র
নীরোগী ------ নীরোগ ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
অশুদ্ধ: চোরে চোরে চাচাতো ভাই।
শুদ্ধ: চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।
অন্যদিকে,
শুদ্ধ: এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
শুদ্ধ: আকণ্ঠ খেয়ে এখন হাঁসফাঁস লাগছে।
শুদ্ধ: পাতায় পাতায় পড়ে নিশির শিশির।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সমাস-ঘটিত অশুদ্ধি - সুবুদ্ধিমান।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি।
অন্যদিকে,
- ‘তা’ প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে - 'অধৈর্যতা' শব্দে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অধৈর্য, ধীরতা।
- 'স্বতন্ত্রতা এবং কৃপণতা' শব্দে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে - সব মাছগুলোর দাম কত?
সঠিক রূপঃ সব মাছের দাম কত?
অন্যান্য অপশনের সঠিক রূপঃ
- এটি লজ্জাকর ব্যাপার (বানান জনিত)।
- অন্যায়ের ফল অনিবার্য (সঠিক শব্দ প্রয়োগ না করায়)।
- অনাবশ্যক ব্যাপারে কৌতূহল ভালো নয়। (বিশেষ্য-বিশেষণ এর বাহুল্য জনিত)।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ - দুরাদৃষ্ট।
- 'দুরাদৃষ্ট' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - দুরদৃষ্ট।
অন্যদিকে,
- তরুছায়া,
- দুরবস্থা,
- মুখচ্ছবি।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
• 'বাবা শিরপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছেন।' বাক্যটিতে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
শুদ্ধ রূপ: বাবা শিরঃপীড়ায় কষ্ট পাচ্ছেন।
• বিসর্গ সন্ধিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায় না।
যেমন:
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।
উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
• 'সুস্বাস্থ্য' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - স্বাস্থ্য।
অন্যদিকে,
• অপপ্রয়োগ - গাম্ভীর্যতা।
- এটি '-তা' এবং 'ত্ব' প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা।
• 'অর্ধরাত্রি' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমাস ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - অর্ধরাত্র।
• 'মৈত্রতা' শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - মৈত্র, মিত্রতা।
উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।