বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

মোট প্রশ্ন৮০৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রয়োগ ও অপপ্রয়োগ

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৮০৫

.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) নাচতে না জানলে মঞ্চ বাঁকা।
  2. খ) একের লাঠি দশের বোঝা।
  3. গ) যদি হয় সুজন তেঁতুল পাতায় নয় জন।
  4. ঘ) ঝিকে মেরে ছেলেকে শেখান।
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো :
নাচতে না জনালে উঠান বাঁকা।
দশের লাঠি একের বোঝা।
ঝিকে মেরে বউকে শেখান।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
.
নিচের কোনটি বিশেষণের অপপ্রয়োগজনিত ভুল?
  1. ক) শুধুমাত্র গায়ের জোরে কাজ হয় না
  2. খ) উলুবনে সোনা ছড়িয়ে লাভ নেই
  3. গ) নিশ্চয় সংবাদ পেয়েছ কি?
  4. ঘ) আমি অপমান হয়েছি
ব্যাখ্যা
‘নিশ্চয় সংবাদ পেয়েছ কি?’ - বাক্যে বিশেষণের অপপ্রয়োগজনিত ভুল রয়েছে ।

বিশেষণের অপপ্রয়োগ 
- কতগুলো শব্দ আছে যা বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এগুলোকে বিশেষ্য ভেবে বিশেষণে রূপান্তর করতে গিয়ে ভুল প্রয়োগের মাধ্যমে অশুদ্ধ বাক্যের সৃষ্টি হয়।
- ‘আবশ্যক’ একটি বিশেষণবাচক শব্দ। এর পরিবর্তে ‘ঈয়’ প্রত্যয় যুক্ত করে ‘আবশ্যকীয়’ শব্দের ব্যবহার যথাযথ হয় না। 

• আবার কখনো বিশেষণ ভেবে বিশেষ্য প্রয়োগও শুদ্ধ নয়।
- ‘নিশ্চয়’ একটি বিশেষ্যবাচক শব্দ। একে বিশেষণ হিসেবে প্রয়োগ করা যায় না।
- এর বিশেষিত রূপ হবে ‘নিশ্চিত’।
যেমন - 
অশুদ্ধ: নিশ্চয় সংবাদ পেয়েছ কি?
শুদ্ধ: নিশ্চিত সংবাদ পেয়েছ কি?

অন্যদিকে,
⇒ ‘শুধুমাত্র গায়ের জোরে কাজ হয় না’- বাক্যটিতে অর্থ সামঞ্জস্যহীন বাক্যের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
এর শুদ্ধ রূপ - শুধু গায়ের জরে কাজ হয় না।

⇒ ‘উলুবনে সোনা ছরিয়ে লাভ নাই’ - বাক্যে বাগ্‌ধারায় শব্দের পরিবর্তনজনিত ভুল হয়েছে।
এর শুদ্ধ রূপ - উলুবনে মুক্তা ছড়িয়ে লাভ নেই।

⇒ আমি অপমান হয়েছি - বাক্যে বাচ্যজনিত ত্রুটি হয়েছে।
এর শুদ্ধ রূপ - আমি অপমানিত হয়েছি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
.
নিচের কোন শব্দে সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. অনটন
  2. পৃথকন্ন
  3. অদ্যাবধি
  4. বিপদুদ্ধার
ব্যাখ্যা
পৃথকন্ন - শব্দে সন্ধি বিষয়ক অশুদ্ধি ঘটেছে। 
- 'পৃথকন্ন' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - পৃথগন্ন
- শব্দের সন্ধিবিচ্ছেদ - পৃথক্ + অন্ন = পৃথগন্ন।

অন্যদিকে,
বিপদুদ্ধার,
অদ্যাবধি,
অনটন।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
.
নিচের কোনটিতে গুরুচণ্ডালী দোষ রয়েছে?
  1. ক) গরুর শকট
  2. খ) মড়া পোড়া
  3. গ) শবদাহ
  4. ঘ) দাবদাহ
ব্যাখ্যা

- গুরুচণ্ডালী দোষ বলতে বোঝায় তদ্ভব এবং তৎসম শব্দের মিশ্রণ। এমন হলে বাক্যে অপপ্রয়োগ হয়েছে বলা যায়৷
- গুরুচণ্ডালী দোষ গুলো হচ্ছে - গরুর শকট, মড়া দাহ, শব পোড়া, তাপদাহ।
শুদ্ধরূপঃ
- গরুর গাড়ি, মরা পোড়া, শবদাহ, দাবদাহ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

.
নিচের কোন শব্দটিতে সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. অদ্যাবধি
  2. অনাটন
  3. প্রাতরাশ
  4. উপর্যুপরি
ব্যাখ্যা
• "অনাটন" শব্দটি বাংলা ভাষায় একটি অপপ্রয়োগ। এখানে সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- এর সঠিক শব্দ হলো "অনটন"।

অন্য শব্দগুলো শুদ্ধ:
• অদ্যাবধি → সঠিক, অর্থ: আজ পর্যন্ত।
• উপর্যুপরি → সঠিক, অর্থ: একটার পর একটা (বারবার)।
• প্রাতরাশ → সঠিক, অর্থ: সকালের নাশতা (সংস্কৃতমূলে গঠিত)।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
.
নিচের কোন শব্দের প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. অধীনস্থ
  2. শ্রেষ্ঠতর
  3. সারল্যতা
  4. সৌন্দর্য
ব্যাখ্যা

সৌন্দর্য শব্দের প্রয়োগ শুদ্ধ।
- অধীনস্থ শব্দে শুদ্ধরূপ অধীন
- শ্রেষ্ঠতর শব্দের শুদ্ধরূপ শ্রেষ্ঠ
- সারল্যতা শব্দের শুদ্ধরূপ সারল্য/সরলতা
উৎস : ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ

.
নিচের কোন বাক্য অশুদ্ধ?
  1. ক) চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।
  2. খ) চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
  3. গ) কুত্তা রাজা হলেও জুতা খায়।
  4. ঘ) এক পৌষে শীত যায় না।
ব্যাখ্যা
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো : এক মাঘে শীত যায় না। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. ক) সদৃশতা
  2. খ) উৎকর্ষ
  3. গ) সৌহার্দ্যতা
  4. ঘ) কার্পণ্য
ব্যাখ্যা
'সৌহার্দ্যতা'- প্রত্যয়জনিত  অপপ্রয়োগ।
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'সৌহার্দ'  

তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
.
নিচের কোন বাক্য অশুদ্ধ?
  1. ক) ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।
  2. খ) চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনি।
  3. গ) কুত্তা রাজা হলেও জুতা খায়।
  4. ঘ) কয়লা ধুলে ময়লা যায় না।
ব্যাখ্যা
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো : কয়লা ধুইলেও ময়লা যায় না।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
১০.
‘শ্রাবণের কালো মেঘ ছাইল গগনে
আঁখি জল বরষিল রাধিকা নয়নে।’ এখানে কী ধরনের অলঙ্কার এর প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) কাব্যিক
  2. খ) বিভাবনা
  3. গ) অসঙ্গতি
  4. ঘ) বিষম
ব্যাখ্যা
কার্য এবং কারণের ঘটনাস্থান যদি ভিন্ন হয় অর্থাৎ একস্থানে কারণ ঘটেছেএবং অপর স্থানে তার ফল দেখা যাচ্ছে, তখন তাকে অসঙ্গতি অলঙ্কার বলে।
যেমনঃ হৃদয়ের মাঝে মেঘ উদয় করি। নয়নের মাঝে ঝরিল বারি।
‘শ্রাবণের কালো মেঘ ছাইল গগনে / আঁখি জল বরষিল রাধিকা নয়নে।’
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা-ড. সৌমিত্র শেখর।
১১.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. দীনতা
  2. বৈচিত্র্যতা
  3. দরিদ্রতা
  4. গম্ভীরতা
ব্যাখ্যা

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধ- বৈচিত্র্যতা।
- শব্দটির শুদ্ধরূপ- বিচিত্রতা, বৈচিত্র্য; 

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত আরোকিছু শব্দ:
অপপ্রয়োগ - প্রয়োগ:
দারিদ্র্যতা = দারিদ্র্য, দরিদ্রতা;
সৌজন্যতা = সৌজন্য;
দৈন্যতা = দীনতা, দৈন্য;
কার্পণ্যতা = কার্পণ্য, কৃপণতা;
গাম্ভীর্যতা = গাম্ভীর্য, গম্ভীরতা;
চাঞ্চল্যতা = চাঞ্চল্য, চঞ্চলতা;
চাতুর্যতা = চাতুর্য, চতুরতা;
চাপল্যতা = চাপল্য, চপলতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১২.
'পুজ্য' কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. বিভক্তিজনিত
  3. প্রত্যয়জনিত
  4. উপসর্গজনিত
ব্যাখ্যা
• 'পুজ্য' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের কারণে অশুদ্ধ।

প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধশুদ্ধ
• আবশ্যকীয় - আবশ্যক।
• একত্রিত - একত্র।
• পুজ্য - পূজ্য।
• বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
১৩.
নিচের কোন বাক্যটি সঠিক নয়?
  1. ক) তাহার অপরিসীম আনন্দ হইল।
  2. খ) অধ্যয়নই ছাত্রদের তপস্যা
  3. গ) মুমুর্ষূ রোগীকে শুশ্রূষা কর।
  4. ঘ) বৃক্ষটি মূলসহ উৎপাটিত হইয়াছে।
ব্যাখ্যা
'মুমুর্ষূ রোগীকে শুশ্রসা কর।'-  বাক্যটি সঠিক নয়।
এখানে বানানজনিত ভুল রয়েছে। 
- 'মুমুর্ষূ' এবং 'শুশ্রসা' বানান ভুল। 
 
এর শুদ্ধ বাক্য: 'মুমূর্ষু রোগীকে শুশ্রূষা কর।'  

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
১৪.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) ওইখানে যেয়ো না সখী, দিলে চোট লাগে।
  2. খ) আর কোনও অন্যায় আবদার মানব না।
  3. গ) এ হল রুমে জায়গা হলে ভালো হতো।
  4. ঘ) তোমার হলো শুরু আমার হলো সাড়া।
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো : আর কোনও অন্যায় আবদার মানবো না।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
১৫.
কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বাগীশ্বরী
  2. অনটন
  3. পৃথগন্ন
  4. বিপদুম্বার
ব্যাখ্যা
বিপদুম্বারশব্দটি সঠিক নয়।

অন্যদিকে -
- বাগীশ্বরী,
- পৃথগন্ন,
- অনটন।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
১৬.
কোন শব্দটিতে অপপ্রয়োগ জনিত ভুল নাই?
  1. ক) অশ্রুজল
  2. খ) ভাষাভাষী
  3. গ) ফলশ্রুতি
  4. ঘ) জন্মবার্ষিক
ব্যাখ্যা

- ভাষা ব্যবহারকারী অর্থে ভাষীই যথার্থ ও যথেষ্ট। ভাষাভাষী প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- ফলশ্রুতি শব্দটির আভিধানিক অর্থ পুণ্যকর্ম করলে যে ফল হয় তার বিবরণ বা তা শুনা। অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজে যে অর্থে ফলশ্রুতি লেখা হচ্ছে তা ভুল। তার বদলে ফল, ফলাফল, পরিণতি ব্যবহার শুদ্ধ।
- অশ্রুজল চোখের জল অর্থে ব্যবহার অশুদ্ধ। অশ্রু অর্থই চোখের জল।
- জন্মবার্ষিক শব্দই যথেষ্ট। এক্ষেত্রে স্ত্রী প্রত্যয় যোগ বহুল প্রচলিত হলেও অশুদ্ধ।

১৭.
'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. অলসতা
  2. একতা
  3. কৃপণতা
  4. দৈন্যতা
ব্যাখ্যা

• 'দৈন্যতা' শব্দে 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: দৈন্য, দীনতা।

বানানের নিয়ম:
'তা' 'ত্ব' এবং 'য' হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো 'তা' 'ত্ব' বা য যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন:
- দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ 'দীন' বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-বিশেষ্যবাচক 'য' প্রত্যয় যোগ করে 'দৈন্য' বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। - ফলে 'দৈন্য' শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

অন্যদিকে, 
- অলসতা, 
- একতা, 
- কৃপণতা। 
শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

১৮.
সন্ধিজনিত অপ্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. ক) মনোকষ্ট
  2. খ) তপোবন
  3. গ) মনােযােগ
  4. ঘ) তিরােধান
ব্যাখ্যা
'মনোকষ্ট' শব্দে সন্ধিজনিত অপ্রয়োগ ঘটেছে। 
সন্ধিযোগে সঠিক শব্দটি হবে = মনঃকষ্ট

বিসর্গসন্ধি
বিসর্গসন্ধিতে বিসর্গের কয়েক ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়:
বিসর্গ বিদ্যমান থাকে: মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট, অধঃ + পতন = অধঃপতন, বয়ঃ + সন্ধি = বয়ঃসন্ধি
বিসর্গ ও হয়ে যায়; মনঃ + যােগ = মনােযােগ, তিরঃ + ধান = তিরােধান, তপঃ + বন = তপোবন
বিসর্গ র’ হয়ে যায়: নিঃ + আকার = নিরাকার, পুনঃ + মিলন = পুনর্মিলন, আশীঃ + বাদ = আশীর্বাদ
বিসর্গ শ/ষ/ হয়: নিঃ + চয় = নিশ্চয়, দুঃ + কর = দুষ্কর, পুরঃ + কার = পুরস্কার
কিছু কিছু সন্ধিতে পূর্ববর্তী স্বর দীর্ঘ হয়: নিঃ + রব = নীরব, নিঃ + রস = নীরস, নিঃ + রােগ = নীরােগ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
১৯.
কোন বাক্যে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) অনভ্যাসের ফোঁটা কপাল চড়চড় করে।
  2. খ) এক পোষে শীত যায় না৷
  3. গ) উঠন্তি মূল পত্তনেই চেনা যায়৷
  4. ঘ) দুষ্টু গরুর চেয়ে শুন্য গোয়াল ভালো৷
ব্যাখ্যা

- সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
- যেমনঃ 'এক পৌষে শীত যায় না' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না)।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. স্বস্ত্রীক আসবেন।
  2. জাপান উন্নতশীল দেশ।
  3. অপব্যয় একটি মারাত্মক অভ্যাস।
  4. আমার সন্তান যেন থাকে দুধ ভাতে।
ব্যাখ্যা
• "অপব্যয় একটি মারাত্মক অভ্যাস।" - বাক্যটি শুদ্ধ। 

অন্য অপশনের বাক্যগুলো:

অশুদ্ধ বাক্য--- শুদ্ধ বাক্য:
• স্বস্ত্রীক আসবেন- সস্ত্রীক আসবেন। 
• জাপান উন্নতশীল দেশ- জাপান উন্নত দেশ। 
• আমার সন্তান যেন থাকে দুধ ভাতে- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে- ভাতে।

উৎস: উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২১.
'আমি প্রাতকালে প্রার্থনা করতে ভালোবাসি।'- বাক্যটিতে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. যোগ্যতা জনিত
  2. বানান জনিত 
  3. পদক্রম জনিত
  4. বাহুল্য জনিত
ব্যাখ্যা

• 'আমি প্রাতকালে প্রার্থনা করতে ভালোবাসি।' বাক্যটিতে বানান জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে।
শুদ্ধ রূপ: আমি প্রাতঃকালে প্রার্থনা করতে ভালোবাসি।

 বিসর্গ সন্ধিতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিসর্গ লোপ পায় না।
যেমন:
- প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল,
- মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট,
- শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২২.
নিচের কোন বাক্যটি অপপ্রয়োগ?
  1. ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
  2. এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।
  3. তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে। 
  4. আমি এ ঘটনা চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করেছি।
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগ: 'আমি এ ঘটনা চাক্ষুস প্রত্যক্ষ করেছি।'
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো: 'আমি এ ঘটনা  প্রত্যক্ষ করেছি।' / 'আমি এ ঘটনা স্বচক্ষে দেখেছি।' 

তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে। - বাক্যে বাচ্যজনিত অপ্রয়োগ ঘটেছে।
শুদ্ধ: তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে। 

ভুল বাক্য: এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
শুদ্ধ বাক্য: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

অশুদ্ধ: ঘটনা বর্ণনা হয়েছে।
শুদ্ধ: ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
২৩.
অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. তরুছায়া
  2. নির্ধনী
  3. রূপণ
  4. শ্রেষ্ঠতর
ব্যাখ্যা
• অপপ্রয়োগের উদাহরণ নয় - রূপণ
- 'রূপণ' শব্দের অর্থ - বর্ণন; নিরূপণ; অভিনয়। 
 
অন্যদিকে,
• 'তরুছায়া', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: তরুচ্ছায়া। 

• 'নির্ধনী', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: নির্ধন। 

• 'শ্রেষ্ঠতর', উৎকর্ষবাচক '-তর' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ, সর্বশ্রেষ্ঠ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৪.
যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় ভুল হয়েছে কোন বাক্যটি?
  1. ক) পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান
  2. খ) রাঙামাটি পার্বতীয় এলাকা।
  3. গ) তোমাকে দেখে সে আশ্চর্য হয়েছে।
  4. ঘ) শুধুমাত্র এই কটা টাকা দিলে?
ব্যাখ্যা

পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণীয়মান- এই বাক্যটিতে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় ভুল হয়েছে।
এর সঠিক রূপঃ পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।

অন্যান্য বাক্যের সঠিক রূপঃ
রাঙামাটি পার্বত্য এলাকা (বিশেষ্য-বিশেষণের বাহুল্য)।
তোমাকে দেখে সে আশ্চর্যান্বিত হয়েছে (বাচ্যজনিত)।
শুধু এই কটা টাকা দিলে? (বাহুল্যজনিত)।

উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৫.
'অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।'- এখানে কোন ধরনের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. বানানের অশুদ্ধি 
  2. বাচ্যজনিত অশুদ্ধি 
  3. গুরুচণ্ডালী দোষ 
  4. বহুবচনের অশুদ্ধি 
ব্যাখ্যা

• 'অনেক ছাত্রছাত্রীরা ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।' বাক্যটিতে বহুবচনের অশুদ্ধি ঘটেছে। 
• বাক্যটির শুদ্ধরূপ- অনেক ছাত্রছাত্রী ভালো পড়াশোনা করেও পরীক্ষায় ভালো ফল করে না।

-----------------------------
• বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
বহু বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এরা ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। মনে রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে এক বার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা  ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

যেমন:
অশুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রীরা এসেছিল।
শুদ্ধ: ক্লাসে অনেক ছাত্রছাত্রী এসেছিল।

অশুদ্ধ: সকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী নয়।
শুদ্ধ: সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী নয়।

অশুদ্ধ: অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ: অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

২৬.
‘অতএব, আপনার নিকট বিনীত বাক্যে প্রার্থনা এই, আপনি অনুগ্রহ করিয়া আমার পরিবারবর্গের নিকট এই সংবাদ পাঠাইয়া দিবেন।'- এই বাক্যে নিচের কোন ধরনের অসংগতি লক্ষ্য করা যায়?
  1. ক) দূরান্বয় দোষ
  2. খ) অতি বিনয়ের প্রকাশ
  3. গ) বচনের ভুল প্রয়োগ
  4. ঘ) আসত্তি গুণ পূরণ না হওয়া
ব্যাখ্যা
- প্রদত্ত বাক্যটিতে বচনের ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
- বাক্যটিতে 'পরিবার' শব্দের সাথে 'বর্গ' যোগ করা হয়েছে।
- এখানে 'পরিবার' অর্থগতভাবে বহুবচন।
- তাই 'পরিবার' এর সাথে পুনরায় 'বর্গ' যোগ করায় এখানে বচনের ভুল প্রয়োগ হয়েছে।
• একইসঙ্গে দুইবার বহুবচনবাচক প্রত্যয় বা শব্দ ব্যবহৃত হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০১৯সংস্করণ)।
২৭.
নিচের কোন বাক্যটিতে প্রত্যয়জনিত ভুল হয়েছে-
  1. আধুনিক চেতনাই তার কবির বৈশিষ্ট্য।
  2. রচনাটির উৎকর্ষ অনস্বীকার্য।
  3. আমার অত্যন্ত কার্যবাহুল্যতা ঘটেছে।
  4. তার সৌজন্য ভুলতে পারব না।
ব্যাখ্যা

• প্রদত্ত অপশনগুলোতে, 'আমার অত্যন্ত কার্যবাহুল্যতা ঘটেছে।' বাক্যটি প্রত্যয়জনিত ভুল।
• শব্দে অনেক সময় প্রত্যয় জনিত ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়।
• যেমন- উৎকর্ষতা নয় হবে উৎকর্ষ, ধৈর্যতা নয় হবে ধৈর্য, সৌজন্যতা নয় হবে সৌজন্য, কার্যবাহুল্যতা নয় হবে কার্যবাহুল্য ইত্যাদি।

২৮.
কোনটি অপপ্রয়োগের উদাহরণ?
  1. একক
  2. একত্রিত
  3. ঐক্য
  4. একত্র
ব্যাখ্যা
• 'একত্রিত'-  অপ্রয়োগের উদাহরণ। 

•  'একত্রিত' শব্দটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে 'একত্র'।

উল্লেখ্য,
বাংলা একাডেমি 'একত্রিত' শব্দকে বাংলা শব্দ হিসেবে গণ্যকরে শুদ্ধ দেখিয়েছে। তবে, শব্দটি ব্যাকরণসম্মত নয়। 
 
• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ। 
 
 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- অধীনস্ত, আবশ্যকীয়, স্বত্ত্ব, সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
একক, একত্র, ঐক্য, - শব্দগুলো শুদ্ধ প্রয়োগ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৯.
কোন শব্দে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. চপলতা
  2. পৌরুষত্ব
  3. গাম্ভীর্য
  4. চতুরতা
ব্যাখ্যা
 • 'পৌরুষত্ব'- প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ। এর শুদ্ধ প্রয়োগ - পৌরুষ, পুরুষত্ব।

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

অন্যদিকে:
- গাম্ভীর্য, চতুরতা ও চপলতা শব্দ গুলোর শুদ্ধপ্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০.
কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. আমায় একা রেখে যেওনা। 
  2. বইগুলো সাজিয়ে রাখো।
  3. তার কাছে আমার ঠিকানা নেই।
  4. অপ্রয়োজনীয় গ্রন্থসমূহ সরিয়ে রাখো।
ব্যাখ্যা
⇒ (না, নেই, নয়) ব্যবহারের সঠিক নিয়ম:
না, নাই, নয় এই নেতিবাচক শব্দ সবসময় পৃথক শব্দ হিসেবে বসবে। কখনো কোনো শব্দের সঙ্গে জুড়ে যাবে না। যেমন- করিনা, যাইনা, যেওনা, লেখেনা ইত্যাদি না হয়ে, হবে- করি না, যাই না, যেও না, লেখে না ইত্যাদি।

অতএব নিয়ম অনুসারে,
• অশুদ্ধ বাক্য: আমায় একা রেখে যেওনা। 
• শুদ্ধরূপ: আমায় একা রেখে যেও না। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. সৌহার্দ্য
  2. গাম্ভীর্যতা
  3. অদ্যাপি
  4. অহোরাত্র
ব্যাখ্যা
'গাম্ভীর্যতা'-  'অপপ্রয়োগ'। 
এটি  প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ। 
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'গাম্ভীর্য' অথবা গম্ভীরতা। 


 তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন। 
৩২.
কোনটি প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি?
  1. ঘূর্ণায়মান
  2. গণ্যনীয়
  3. পূজ্য
  4. জ্ঞানবান
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি - গণ্যনীয়
- 'গণ্যনীয়' শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ - গণনীয়।

অন্যদিকে,
- ঘূর্ণায়মান,
- পূজ্য,
- জ্ঞানবান।
উপরিউক্ত শব্দগুলোর প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৩.
লিঙ্গ জনিত শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. ক) অনাথানী
  2. খ) নির্দোষীনী
  3. গ) সিংহানী
  4. ঘ) বিদুষী
ব্যাখ্যা
লিঙ্গ জনিত শুদ্ধ প্রয়োগ - অনাথা, নির্দোষ, সিংহী এবং বিদুষী।
উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান
৩৪.
নিচের কোনটি অপ-প্রয়োগের দৃষ্টান্ত নয়?
  1. জন্মজয়ন্তী
  2. ইদানীংকাল
  3. সপরিবার
  4. জন্মবার্ষিক
ব্যাখ্যা
জন্মজয়ন্তী, ইদানীংকাল ও জন্মবার্ষিক শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ হলো যথাক্রমে জয়ন্তী, ইদানীং ও জন্মবার্ষিকী।
উৎসঃ‌ শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা এবং বাংলা একাডেমির ডিকশনারি।
৩৫.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি কোনটি?
  1. আবশ্যক
  2. জ্ঞানবান
  3. গণ্যনীয়
  4. বাহ্য
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
একত্রিত - একত্র;
অধীনস্থ - অধীন;
করিতকর্মী - করিতকর্মা;
গণ্যনীয় - গণনীয়;
জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
পুজ্য - পূজ্য;
বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৬.
কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. অধীন
  2. অহর্নিশি
  3. একত্র
  4. মৌন
ব্যাখ্যা
• 'অহর্নিশি', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: অহর্নিশ। 

অন্যদিকে,
বাকি শব্দগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৭.
সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. নীরোগ
  2. নিরভিমানী 
  3. নিরপরাধ
  4. দিবারাত্র
ব্যাখ্যা

• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে 'নিরভিমানী' শব্দে।
শুদ্ধ প্রয়োগ: নিরভিমান।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়।

যেমন- নেই ধন যার নির্ধন; নেই গুণ যার নির্গুণ; নেই পাপ যার = নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
নিরপরাধী- নিরপরাধ;
অহর্নিশি - অহর্নিশ;
নির্দোষী - নির্দোষ;
পিতাহারা - পিতৃহারা;
অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
নিরভিমানী - নিরভিমান;
দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৩৮.
`দেশের সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন‘। বাক্যটি কোন দোষে দুষ্ট?
  1. ক) বাহুল্য দোষ
  2. খ) উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. গ) গুরুচন্ডালি দোষ
  4. ঘ) অপ্রচলিত শব্দের ব্যবহার
ব্যাখ্যা
"দেশের সকল আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন"- বাক্যটিতে বাহুল্য দোষ রয়েছে। 

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।
বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের "দেশের আলেমগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন" অথবা "দেশের সকল আলেম সভায় উপস্থিত ছিলেন"।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯.
সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. যুবরাজ
  2. অহর্নিশ
  3. মাতৃজাতি
  4. নির্দোষী
  5. নিরভিমান
ব্যাখ্যা
• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে ‘নির্দোষী’ শব্দে।
- শুদ্ধ প্রয়োগ: নির্দোষ।

• কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্‌- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ- কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার= নির্ধন, নেই গুণ যার = নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

• কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- মাতাজাতি - মাতৃজাতি;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- সুবুদ্ধিমান - সুবুদ্ধি;
- যুবরাজা - যুবরাজ;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪০.
অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত নয় কোনটি?
  1. সুবুদ্ধিমান
  2. মহিমামণ্ডিত
  3. মৈত্রতা
  4. বিপদুদ্ধার
ব্যাখ্যা

• 'বিপদুদ্ধার' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 
- 'বিপদুদ্ধার' শব্দের অর্থ - বিপদ থেকে রক্ষা, বিপন্মুক্তি। 

অন্যদিকে,
• 'সুবুদ্ধিমান', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
- এর শুদ্ধরূপ: সুবুদ্ধি, বুদ্ধিমান। 

• 'মৈত্রতা', প্রত্যয় ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: মিত্রতা/ মৈত্র।

• 'মহিমামণ্ডিত', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: মহিমমণ্ডিত 

উৎস:
১) ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
২) বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪১.
প্রবাদ-প্রবাচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. আষাঢ়ের তর্জনগর্জন।
  2. দশচক্রে ভগবান ভূত।
  3. খালি কলসির গর্জন বেশি।
  4. ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো।
ব্যাখ্যা
• সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।

যেমন:
অশুদ্ধ: খালি কলসির গর্জন বেশি।
শুদ্ধ প্রয়োগ: খালি কলসির বাজনা বেশি।

অশুদ্ধ: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ প্রয়োগ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ: ঘরের খেয়ে পরের মোষ তাড়ানো।
শুদ্ধ প্রয়োগ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো।

অশুদ্ধ: আষাঢ়ের তর্জনগর্জন।
শুদ্ধ বাক্য: অসারের তর্জনগর্জন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪২.
বাংলা ভাষার অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত -
  1. ঐক্যমত
  2. শ্রেষ্ঠতর
  3. অধীনস্থ
  4. সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত হলো- ঐক্যমত।
এর সঠিক রূপ হলো: ঐকমত্য বা ঐক্যমত্য।

• 'শ্রেষ্ঠতর', উৎকর্ষবাচক '-তর' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: শ্রেষ্ঠ।

• 'অধীনস্থ' শব্দটিতে অপ-প্রয়োগ ঘটেছে। এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে অধীন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩.
বহুবচনের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. পৃথিবী সর্বদা সূর্যের চারিদিকে ঘূর্ণায়মান।
  2. সকল ছাত্র পাঠে মনোযোগী।
  3. অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
  4. অত্যন্ত দুঃখিত হলাম।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: অন্যান্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।
শুদ্ধ বাক্য: অন্য বিষয়গুলোর আলোচনা পরে হবে।

[বাক্যে ব্যবহৃত অন্যান্য শব্দটি বহুবচন প্রকাশক। ‘বিষয়’ শব্দের সঙ্গে পুনরায় ‘গুলোর’ বহুবচন লগ্নক যুক্ত হওয়ায় বহুবচনের দ্বিত্ব প্রয়োগ বা অপ্রয়োগ ঘটেছে।]

⇒ সূত্র:
বহুত্ব বোঝাতে আমরা বহুবচন ব্যবহার করি। বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা, এর ইত্যাদি যুক্ত করে বহুবচন তৈরি করা হয়। স্মরণ রাখতে হবে যে বহুবচনের পরে দ্বিত্ব প্রয়োগ হয় না, অর্থাৎ কোনো শব্দকে একবার বহুবচনে রূপান্তরিত করলে পুনরায় তার বহুত্ব অপ্রয়োজনীয়। তাই অগণিত, অনেক, বহু, যাবতীয়, সব ইত্যাদি যত বহুত্ববাচক শব্দ আছে, তাদের পরে সংশ্লিষ্ট বিশেষ্য পদের সঙ্গে গুলি/গুলো/রা ইত্যাদি যুক্ত হবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৪.
প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. তার পরিস্থিতি যেন জলে কুমির ডাঙায় সিংহ। 
  2. দেখায় তো যাচ্ছে কারো ফাল্গুন মাস কারো সর্বনাশ।
  3. গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে হাজী। 
  4. ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
ব্যাখ্যা
• প্রবাদ-প্রবচনের শুদ্ধ প্রয়োগ- ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

-----------
অন্যদিকে, অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো-

• অশুদ্ধ: তার পরিস্থিতি যেন জলে কুমির ডাঙায় সিংহ। 
• শুদ্ধরূপ: তার পরিস্থিতি যেন জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।

• অশুদ্ধ: গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে হাজী। 
• শুদ্ধরূপ: গফুর মিয়া কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরালে পাজি। 

• অশুদ্ধ: দেখায় তো যাচ্ছে কারো ফাল্গুন মাস কারো সর্বনাশ।
• শুদ্ধরূপ: দেখায় তো যাচ্ছে কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৫.
কোনটি সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ? 
  1. পৌরুষত্ব
  2. নিরভিমানী
  3. অর্ধরাত্র
  4. সমূল
ব্যাখ্যা

• সমাসঘটিত অপপ্রয়োগ - নিরভিমানী
- শুদ্ধ প্রয়োগ - নিরভিমান।

অন্যদিকে,
- পৌরুষত্ব,
- অর্ধরাত্র,
- সমূল,
শব্দগুলো সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

৪৬.
নিচের কোনটি অপ-প্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. ক) বিপদগ্রস্ত
  2. খ) নিষ্পাপী
  3. গ) অভাবগ্রস্ত
  4. ঘ) মুখস্থ
ব্যাখ্যা

- নিষ্পাপী হচ্ছে অপ-প্রয়োগের দৃষ্টান্ত।
- এর সঠিক প্রয়োগ হবে নিষ্পাপ, পাপ, পাপী।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান রীতি।

৪৭.
নিচের কোন শব্দে প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. পূজনীয়
  2. গণ্যনীয়
  3. দূষণীয়
  4. পুষ্করিণী
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

• অশুদ্ধ ⇒ শুদ্ধ:
- আবশ্যকীয় ⇒ আবশ্যক;
- একত্রিত ⇒ একত্র;
- পুজ্য ⇒ পূজ্য;
- বাহ্যিক ⇒ বাহ্য;
- গণ্যনীয় ⇒ গণনীয়;
- পুজ্যনীয় ⇒ পূজনীয়
- দোষণীয় ⇒ দূষণীয়
- পুষ্কর্ণী  ⇒ পুষ্করিণী।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৮.
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে কোন ধরনের ভুল হয়ে থাকে?
  1. গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে 
  2. উপমার ভুল প্রয়োগ
  3. বাহুল্য দোষ ঘটে
  4. কোনোটিই নয় 
ব্যাখ্যা

• বাহুল্য দোষ:
প্রয়ােজনের অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করলে বাক্যে বাহুল্য দোষ ঘটে এবং শব্দ তার যােগ্যতা গুণ হারিয়ে ফেলে।
• যেমন,
- দেশের সব শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

• বাংলা ভাষায় একই বাক্যে দুইবার বহুবচন ব্যবহৃত হয় না।
- দুইবার বহুবচন বাচক চিহ্ন বা শব্দ ব্যবহার করলে শব্দ বাহুল্য দোষে দুষ্ট হয়।
বাক্যটি হবে দেশের সব শিক্ষক এখানে উপস্থিত হয়েছেন অথবা দেশের শিক্ষকগণ এখানে উপস্থিত হয়েছেন।

অন্যদিকে,
গুরুচণ্ডালী দোষ:
তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।

- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
যেমন:
গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপােড়া প্রভৃতি হলাে তৎসম শব্দ।

• উপমার ভুল প্রয়োগ:
- সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
- যেমনঃ 'এক পৌষে শীত যায় না' বাক্যটি ভুল৷ এতে প্রবাদ-প্রবচন বিকৃতিজনিত ভুল প্রয়োগ ঘটেছে।
- শুদ্ধ বাক্যটি হলো- এক মাঘে শীত যায় না (বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না)।

উৎস: উচ্চমাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৪৯.
'বইখানা বাজারে বেশ কাটছে।' এখানে কাটা কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. বিক্রি হওয়া
  2. সামঞ্জস্যহীনতা
  3. অতিবাহিত হওয়া
  4. মুক্ত হওয়া
  5. কোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা

• 'কাটা' শব্দের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
- অতিবাহিত হওয়া - দেখতে দেখতে একমাস কেটে গেল।
- ক্ষত হওয়া - শামুকে পা কেটে গেছে।
- রচনা করা - তুমি তো বেশ ছড়া কাটতে পার।
- কামড়ানো - ছেলেটাকে সাপে কেটেছে।
- বিক্রি হওয়া - বইখানা বাজারে বেশ কাটছে।
- ঝগড়া করা - তোমাদের কথা কাটাকাটি ভালো লাগছে না।
- সামঞ্জস্যহীনতা - শুরুতেই গানের তাল কেটে গেল।
- লেখা - একশ টাকার চেক কেটে দিলাম।
- মুক্ত হওয়া - বিপদ কেটে গেছে।
- লজ্জিত হওয়া - তোমার ব্যাপারে আমার মাথা কাটা গেছে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৫০.
শুদ্ধ শব্দ কোনটি?
  1. মৌনতা
  2. দরিদ্রতা
  3. সৌজন্যতা
  4. সখ্যতা
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ শব্দ: দরিদ্রতা।

অন্যদিকে,
- মৌনতা, সৌজন্যতা, সখ্যতা হল ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল শব্দসমূহ।

• তা হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ’তা’ যুক্ত করলে তা ভুল হবে।

• ’তা’ প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল শব্দসমূহ:
• অশুদ্ধশব্দ - শুদ্ধশব্দ:
- মৈত্রতা - মৈত্র, মিত্রতা।
- আলস্যতা - আলস্য ।
- লাঘবতা - লাঘব, লঘুতা।
- কাপর্ণ্যতা - কাপর্ণ্য।
- মৌনতা - মৌন।
- সখ্যতা - সখ্য।
- দারিদ্রতা- দরিদ্রতা।
- সারল্যতা - সারল্য, সরলতা।
- মাধুর্যতা - মাধুর্য।
- সাদৃশ্যতা - সাদৃশ্য, সদৃশতা।
- স্বাতন্ত্র্যতা - স্বাতন্ত্র্য/স্বতন্ত্রতা।
- সামর্থ্যতা - সামর্থ্য, সমর্থতা।
- সৌজন্যতা - সৌজন্য, সুজনতা।
- সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য, সুন্দরতা।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫১.
কোনটি শব্দটি অপপ্রয়োগ জনিত ভুল নয়?
  1. ক) অশ্রুজল
  2. খ) সস্ত্রীক
  3. গ) একত্রিত
  4. ঘ) অধীনস্থ
ব্যাখ্যা

• অশ্রুজল শব্দের সঠিক রূপ হবে অশ্রু অথবা জল অথবা চোখের জল।
• একত্রিত শব্দের সঠিক রূপ হবে একত্র।
• অধীনস্থ শব্দের সঠিক রূপ হবে অধীন।
উৎসঃ বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানান রীতি।

৫২.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. আয়ত্তাধীন
  2. তূষ্ণী
  3. দুরাবস্থা
  4. নিরহঙ্কারী
ব্যাখ্যা
তূষ্ণী - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ। 
- 'তূষ্ণী' শব্দের অর্থ - মৌন অবলম্বনকারী, মৌনী, নীরব। 

অন্যদিকে,
• 'আয়ত্তাধীন', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: আয়ত্ত / অধীন। 

• 'দুরাবস্থা', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: দুরবস্থা।

• 'নিরহঙ্কারী', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ। 
এর শুদ্ধরূপ: নিরহঙ্কার। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৩.
"অত্র অফিসে আমি কাজ করি।"- এখানে 'অত্র অফিস' লিখলে ভুল হবে কেন?
  1. বাহুল্য হয়ে যায় 
  2. অর্থসংগতি ঠিক থাকে না
  3. অত্র একটি অপ্রচলিত শব্দ 
  4. গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট
ব্যাখ্যা

• অত্র:
'অত্র' শব্দের অর্থ 'এখানে'।
- যত্র- যেখানে,
- তত্র- সেখানে,
- যত্রতত্র- যেখানে সেখানে।
তাই অত্র বললে' এই' বোঝাবার কারণ নেই।
যেমন: 'এই অফিস' অর্থে 'অত্র অফিস' লিখলে ভুল হবে।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

৫৪.
নিচের কোনটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) চপলতা
  2. খ) দৈন্যতা
  3. গ) দরিদ্রতা
  4. ঘ) কৃপণতা
ব্যাখ্যা
- ‘তা’ এবং ‘ত্ব’ হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো ‘তা’ বা ‘ত্ব’ যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
- এখানে দৈন্যতা শব্দটি অপপ্রয়োগ বা অশুদ্ধ। কারণ ‘দীন’ বিশেষণ শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক ‘য’ প্রত্যয় যোগ করে ‘দৈন্য’ বিশেষ্য শব্দ গঠিত হয়। ফলে ‘দৈন্য’ শব্দের সঙ্গে আবারো বিশেষ্যবাচক ‘তা’ প্রত্যয় যুক্ত হলে তা ভুল বলে গণ্য হয়েছে।

কয়েকটি অশুদ্ধ ও শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
 ধৈর্যতা - ধীরতা
 চাপল্যতা - চপলতা
 দারিদ্র‌্যতা - দরিদ্রতা
 কার্পণ্যতা - কৃপণতা


উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. অহোরাত্রি
  2. বিবিধপ্রকার
  3. উপর্যুপরি
  4. কনিষ্ঠতর
ব্যাখ্যা
• উপর্যুপরি - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
- 'উপর্যুপরি' শব্দের অর্থ - পরপর, ক্রমান্বয়ে, ক্রমাগত, অবিরাম।

অন্যদিকে,
• 'অহোরাত্রি', সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: অহোরাত্র।

• 'বিবিধপ্রকার', সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: বিবিধ।

• 'কনিষ্ঠতর', উৎকর্ষবাচক '-তর' প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ।
এর শুদ্ধরূপ: কনিষ্ঠ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৬.
'সৌহার্দতা' শব্দটি কোন কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপসর্গজনিত
  2. বানানজনিত
  3. প্রত্যয়জনিত
  4. সন্ধিজনিত
ব্যাখ্যা
• 'সৌহার্দতা'- প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের উদাহরণ।
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: 'সৌহার্দ'। 

 তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ: 
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। 
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে 
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।
- বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে বিশেষ্যবাচক 'তা' প্রত্যয়ের ব্যবহার হলে তা অপপ্রয়োগ।

 এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ: 
সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৫৭.
কোন শব্দে সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সমূল
  2. সুবুদ্ধিমান
  3. অদ্যাপি
  4. কদাপি
ব্যাখ্যা

• সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অশুদ্ধি - সুবুদ্ধিমান
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - সুবুদ্ধি/বুদ্ধিমান।

অন্যদিকে,
- সমূল,
- অদ্যাপি এবং 
- কদাপি।
শব্দগুলোর বানান শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৮.
কোনটি অপপ্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. অদ্যবধি
  2. অধীন
  3. দরিদ্রতা
  4. নিরপরাধ
ব্যাখ্যা
• 'অদ্যবধি', সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধরূপ: অদ্যাবধি। 

• 'অদ্যাবধি' শব্দের অর্থ:
- আজ পর্যন্ত, এখন থেকে।

অন্যদিকে, 
বাকি (অধীন, দরিদ্রতা, নিরপরাধ) শব্দগুলো শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৯.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ষ্টেশন
  2. ভবিষ্যৎ
  3. অভিষেক
  4. সুষুপ্ত
ব্যাখ্যা

• ষ-ত্ব বিধানের নিয়ম অনুসারে বিদেশি শব্দের বানান বাংলায় লেখার সময় কখনো 'ষ' লেখা যাবে না।
যেমন:
- ফটোষ্ট্যাট হবে না, সঠিক বানান হবে ফটোস্ট্যাট।
তেমনইভাবে ষ্টেশন, স্ট্রিট ও কিষমিশ লিখলে ভুল হবে, সঠিক বানান হবে স্টেশন, স্ট্রিট এবং কিশমিশ।

অন্যদিকে,
ভবিষ্যৎ, অভিষেক ও সুষুপ্ত শব্দগুলোতে 'ষ' এর ব্যবহার শুদ্ধ।

--------------------
ষ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় সাধারণত মূর্ধন্য-ষ ধ্বনির ব্যবহার নেই। তাই দেশি, তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ লেখার প্রয়োজন হয় না। কেবল কিছু তৎসম শব্দে য-এর প্রয়োগ রয়েছে। তৎসম শব্দের বানানে মূর্ধন্য-ষ এর ব্যবহারের নিয়মকে ষ-ত্ব বিধান বলে।
'ষ' ব্যবহারের নিয়ম:
১. 'ঋ' এবং 'ঋ-কার' এর পর 'ষ' হয়। যেমন- ঋষি, কৃষক, উৎকৃষ্ট ইত্যাদি।
২. ট-বর্গীয় ধ্বনির সাথে 'ষ' যুক্ত হয়। যেমন- কষ্ট, স্পষ্ট, নষ্ট, কাষ্ঠ, ওষ্ঠ ইত্যাদি।
৩. অ, আ ভিন্ন অন্য স্বরধ্বনি এবং ক ও র-এর পরে প্রত্যয়ের 'স' 'ষ' হয়। যেমন- ভবিষ্যৎ, মুমূর্ষু, চক্ষুম্মান, চিকীর্ষা ইত্যাদি।
৪. ই-কারান্ত এবং উ-কারান্ত উপসর্গের পর কতগুলো ধাতুতে 'ষ" হয়। যেমন- অভিসেক > অভিষেক, সুসুপ্ত  > সুষুপ্ত, অনুসঙ্গ > অনুষঙ্গ, সুসমা > সুষমা ইত্যাদি।
৫. তৎসম শব্দে 'র'-এর পর 'ষ' হয়। যেমন: বর্ষা, ঘর্ষণ, বর্ষণ।
৬. কতগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ষ' ব্যবহৃত হয়। যেমন- ষড়ঋতু, রোষ, কোষ, আষাঢ়, ভাষণ, ঊষা, পৌষ ইত্যাদি।

যে সব ক্ষেত্রে ষ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
- আরবি, ফারসি, ইংরেজি ইত্যাদি বিদেশি ভাষা থেকে আগত শব্দে ষ হয় না। যেমন- জিনিস, পোশাক, মাস্টার, পোস্ট ইত্যাদি।
- সংস্কৃত 'সাৎ' প্রত্যয়যুক্ত পদেও 'ষ' হয় না। যেমন- অগ্নিসাৎ, ধূলিসাৎ, ভূমিসাৎ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬০.
নিচের কোন শব্দটি গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত?
  1. শবদাহ
  2. শবপােড়া
  3. গরুর শকট
  4. মড়াদাহ
ব্যাখ্যা
• 'গুরুচণ্ডালী দোষ':
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়ােগ কখনাে কখনাে গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যােগ্যতা হারায়।
- 'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপােড়া' প্রভৃতির স্থলে যথাক্রমে গরুর শকট, শবপােড়া, মড়াদাহ প্রভৃতির প্রয়ােগ গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
- সুতরাং গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত শব্দ - শবদাহ

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 
৬১.
'তোমার মত এমন বুদ্ধিমতী বালক আমি আর দেখিনি।' উপরের বাক্যটিতে কি ধরনের ভুল প্রয়োগ রয়েছে?
  1. ক) বাচ্যজনিত
  2. খ) সন্ধিজনিত
  3. গ) লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত ভুল
  4. ঘ) বাহুল্য দোষ
ব্যাখ্যা
'তোমার মত এমন বুদ্ধিমতী বালক আমি আর দেখিনি।' -বাক্যটিতে লিঙ্গ-সঙ্গতিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
কারণ বুদ্ধিমতী হলো স্ত্রীলিঙ্গ। এর পুংলিঙ্গ হলো বুদ্ধিমান।
সঠিক বাক্যটি হবে 'তোমার মত এমন বুদ্ধিমান বালক আমি আর দেখিনি।'
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬২.
কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. আরক্ত
  2. স্বাগত
  3. সুস্বাস্থ্য
  4. সমূল
ব্যাখ্যা

• 'সুস্বাস্থ্য' - শব্দটি অপপ্রয়োগ।
- এটি সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত কারণে অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ হচ্ছে - স্বাস্থ্য।

অন্যদিকে,
- সমূল,
- স্বাগত,
- আরক্ত।
উপরিউক্ত শব্দগুলো প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৩.
কোনটি অপপ্রয়োগজনিত ভুল শব্দ?
  1. নিরপরাধ
  2. অর্ধরাত্র
  3. নিরভিমানী
  4. নীরোগ
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অপপ্রয়োগজনিত শব্দের শুদ্ধরূপ হলো-
অশুদ্ধ শব্দ ----- শুদ্ধ শব্দ
• নিরপরাধী ------ নিরপরাধ
• অহর্নিশি ----- অহর্নিশ
• নিরহঙ্কারী ----- নিরহঙ্কার
• নির্দোষী ----- নির্দোষ
• পিতাহারা ------ পিতৃহারা
• অর্ধরাত্রি ----- অর্ধরাত্র
• নিরভিমানী ---- নিরভিমান
• দিবারাত্রি ----- দিবারাত্র
• নীরোগী ------ নীরোগ ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৪.
প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত ত্রুটি ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
  2. হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।
  3. ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
  4. এক মাঘে শীত যায় না।
ব্যাখ্যা

বাক্যে প্রবাদ-প্রবচনের বিকৃতিজনিত ত্রুটি:
সাধারণত বাংলা ভাষায় প্রবাদ-প্রবচনগুলো যেভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে তার বিকৃতি বা রূপের পরিবর্তন করা হলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।
যেমন:
অশুদ্ধ: দশচক্রে ঈশ্বর ভূত।
শুদ্ধ: দশচক্রে ভগবান ভূত।

অশুদ্ধ: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে হলুদ ফুল দেখছ।
শুদ্ধ: হাতে টাকা নেই, একারণেই চোখে সরষে ফুল দেখছ।

অশুদ্ধ: গৃহস্থের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।
শুদ্ধ: ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতে পারব না।

অশুদ্ধ: এক অগ্রহায়ণে শীত যায় না।
শুদ্ধ: এক মাঘে শীত যায় না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৬৫.
'অনুরোধ করা' অর্থে ধরা'র রীতিসিদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) ম্যাও ধরা
  2. খ) হাতে-পায়ে ধরা
  3. গ) গলা ধরা
  4. ঘ) গোঁ ধরা
ব্যাখ্যা
ম্যাও ধরা - দায়িত্ব নেওয়া৷
হাতে-পায়ে ধরা - অনুরোধ করা৷
গলা ধরা - কণ্ঠ রুদ্ধ হওয়া৷
গোঁ ধরা - একগুয়েমি করা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৬৬.
'একত্রিত' কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. উপসর্গ অপপ্রয়োগ
  2. প্রত্যয় অপপ্রয়োগ
  3. বিভক্তি অপপ্রয়োগ
  4. সন্ধি অপপ্রয়োগ
ব্যাখ্যা
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগজনিত অশুদ্ধি:
- প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ = শুদ্ধ
• আবশ্যকীয় - আবশ্যক,
• একত্রিত - একত্র,
• পুজ্য - পূজ্য,
• বাহ্যিক - বাহ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৭.
গুরুত্বহীন অর্থে ‘কাঁচা’ শব্দের ব্যবহার কোনটি?
  1. ক) কাঁচা চুল
  2. খ) কাঁচা বয়স
  3. গ) কাঁচা কথা
  4. ঘ) কাঁচা আম
ব্যাখ্যা
• কাঁচা কথা (গুরুত্বহীন কথা): এমন কাঁচা কথা বলো না।

অন্যদিকে,
• কাঁচা চুল (কালো চুল): গৃহিণীর ঘন কাঁচা চুলের মতোই বর্ষার আকাশ।
• কাঁচা আম (অপরিপক্ক আম): কাঁচা আমগুলো গাছে ঝুলছে।
• কাঁচা বয়স (অপরিণত বয়স): মেয়েটির একেবারেই কাঁচা বয়স।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
৬৮.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. দরিদ্রতা আমাদের দেশের প্রধান সমস্যা।
  2. এখানে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
  3. 'গীতাঞ্জলি' একখানা কাব্যগ্রন্থ।
  4. মামলা চালাতে গিয়ে লোকটি সর্বশান্ত হলো।
ব্যাখ্যা
অশুদ্ধ বাক্য: মামলা চালাতে গিয়ে লোকটি সর্বশান্ত হলো।
শুদ্ধ বাক্য: মামলা চালাতে গিয়ে লোকটি সর্বস্বান্ত হলো।

আরো কিছু শুদ্ধ বাক্য:
অশুদ্ধ বাক্য: বমালশুদ্ধ চোর ধরা পড়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: বমাল বা মালশুদ্ধ চোর ধরা পড়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: গাছটি সমূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।
শুদ্ধ বাক্য: গাছটি সমূল / মূলসহ উৎপাটিত হয়েছে।

অশুদ্ধ বাক্য: তিনি স্বপরিবারে ঢাকায় থাকেন।
শুদ্ধ বাক্য: তিনি সপরিবার ঢাকায় থাকেন।

অশুদ্ধ বাক্য: নীরোগী লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।
শুদ্ধ বাক্য: নীরোগ লোক প্রকৃত অর্থেই সুখী।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৯.
কোন শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বিপদুদ্ধার
  2. অনটন
  3. অদ্যবধি
  4. পৃথগন্ন
ব্যাখ্যা
• 'অদ্যবধি' শব্দটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর শুদ্ধ প্রয়োগ - অদ্যাবধি।
- এবং এর সন্ধিবিচ্ছেদ - অদ্য + অবধি।

অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- অনটন,
- বিপদুদ্ধার।
→ উপরিউক্ত শব্দগুলো প্রয়োগ শুদ্ধ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৭০.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য।
  2. সে দলের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম খেলোয়াড়।
  3. তা প্রমাণ হয়েছে।
  4. হস্তীটি অপরিসীম স্থূল।
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• অপশনের অশুদ্ধ বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ:
অপশন ক)- 
সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য- সমৃদ্ধ বাংলাদেশ আমাদের লক্ষ্য। 

অপশন খ)- 
সে দলের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম খেলোয়াড়- সে দলের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। 

অপশন গ)-
তা প্রমাণ হয়েছে- তা প্রমাণিত হয়েছে। 

অপশন ঘ)-  
হস্তীটি অপরিসীম স্থূল- হস্তীটি অত্যন্ত স্থূলকায়। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৭১.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. ক) অর্থই অর্থের মূল। 
  2. খ) ইটটি মারলে পাথর খেতে হয়।
  3. গ) খোদার পরে খোদকারি।
  4. ঘ) চোরে চোরে মামাতো ভাই।
ব্যাখ্যা
বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ হলো :
অর্থই অনর্থের মূল। 
ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়। 
চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৭২.
নিচের কোনটি অপ-প্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. ক) নির্ভরশীল
  2. খ) নির্ভরশীলতা
  3. গ) নির্ভরতা
  4. ঘ) নির্ভরযোগ্য
ব্যাখ্যা
অপশন গুলোতে নির্ভরশীলতা অপ-প্রয়োগের দৃষ্টান্ত। এর সঠিক প্রয়োগ হবে- নির্ভরশীল, নির্ভর, নির্ভরতা ও নির্ভরযোগ্য।
উৎসঃ প্রমিত বাংলা বানান রীতি।
৭৩.
নিচের কোন বাক্যটিতে অপপ্রয়োগ ঘটেনি?
  1. অল্প দিনের মধ্যে তিনি আরোগ্য হলেন।
  2. আবশ্যকীয় কাগজপত্র নিয়ে আসবেন।
  3. আমি তোমার নিকট কৃতজ্ঞ রইলাম।
  4. আমি সাক্ষী দিব না।
ব্যাখ্যা
• শুদ্ধ প্রয়োগ: আমি তোমার নিকট কৃতজ্ঞ রইলাম।

অন্যান্য অপশন,

• অপপ্রয়োগ: অল্প দিনের মধ্যে তিনি আরোগ্য হলেন।
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো: অল্পদিনের মধ্যে তিনি আরোগ্য লাভ করলেন। 

• অপপ্রয়োগ:আবশ্যকীয় কাগজপত্র নিয়ে আসবেন।
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো: আবশ্যক কাগজপত্র নিয়ে আসবেন।

• অপপ্রয়োগ:আমি সাক্ষী দিব না।
বাক্যটির শুদ্ধরূপ হলো: আমি সাক্ষ্য দেব না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, এইচএসসি প্রোগ্রাম- উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৭৪.
“আমার কাঁচা ঘুম টি ভাঙালে কেন?” এখানে ‘কাঁচা’ শব্দটি কি অর্থে প্রয়োগ হয়েছে?
  1. ক) অসিদ্ধ
  2. খ) অপূর্ন
  3. গ) অদক্ষ
  4. ঘ) অপরিনত
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় কতগুলো শব্দ ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ্য, বিশেষণ ও ক্রিয়া জাতীয় এই পদগুলো বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বিশেষ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ অর্থ প্রকাশ করে।
বাক্যে কাঁচা শব্দটি বিভিন্ন অর্থে প্রয়োগ হতে পারে।
অপক্ব - আমটি কাঁচা হলেও খেতে মিষ্টি। 
অসিদ্ধ - কাঁচা দুধ সবার হজম হয় না। 
অপূর্ন - আমার কাঁচা ঘুম টি ভাঙালে কেন?
অদক্ষ - কাঁচা লোক দিয়ে বাড়ি বানিও না। 
অশুষ্ক - কাঁচা কাঠে আগুন জ্বলে না। 
অপরিনত - এই শক্ত কাজের জন্য ছেলেটি বড্ড কাঁচা। 
দূর্বল - ছেলেট অঙ্কে কাঁচা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি। 

৭৫.
কোনটি শুদ্ধ প্রয়োগের দৃষ্টান্ত?
  1. মনযোগ
  2. ভৌগলিক
  3. ঐক্যতা
  4. যদ্যপি
  5. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা
• 'যদ্যপি'- শুদ্ধ প্রয়োগের দৃষ্টান্ত। 

অন্যান্য শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ:

অশুদ্ধ শব্দ-- শুদ্ধ শব্দ:
মনযোগ- মনোযোগ, 
ভৌগলিক - ভৌগোলিক, 
ঐক্যতা- ঐক্য/ একতা। 

উৎস:  বাঙ্গালা ব্যাকরণ- ড. মুহম্মদ শহিদুল্লাহ্‌, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৭৬.
নিচের কোনটি অশুদ্ধ?
  1. বর্ণনা
  2. ব্যাকরণ
  3. ত্রিনয়ণ 
  4. কঙ্কণ
ব্যাখ্যা

• অশুদ্ধ- ত্রিনয়ণ।  

-----------------
ণ-ত্ব বিধান:
বাংলা ভাষায় বহু তৎসম বা সংস্কৃত শব্দে মূর্ধন্য-ণ এবং দন্ত্য-ন এর ব্যবহার
রয়েছে। এগুলো বাংলা বানানেও অবিকৃতভাবে রক্ষিত হয়। তৎসম শব্দের বানানে ণ-এর সঠিক ব্যবহারের নিয়মই ণ-ত্ব বিধান।

'ণ' ব্যবহারের নিয়ম:
- ট-বর্গীয় ধ্বনির আগে তৎসম শব্দে সব সময় 'ণ' ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঘণ্টা, কাণ্ড ইত্যাদি।
- ঋ, র, ষ এর পরে 'ণ' হয়। যেমন: ঋণ, তৃণ, বর্ণ, বর্ণনা, কারণ, মরণ, ব্যাকরণ, ভীষণ, ভাষণ, উষ্ণ ইত্যাদি।
কতকগুলো শব্দে স্বভাবতই 'ণ' হয়। যেমন: চাণক্য, মাণিক্য, গণ, বাণিজ্য, লবণ, মণ, বেণু, বীণা, কঙ্কণ, কণিকা, স্থাণু, ফণী, পিণাক ইত্যাদি।

যেসকল ক্ষেত্রে ণ-ত্ব বিধান প্রযোজ্য নয়:
১. সমাসবদ্ধ শব্দে সাধারণত ণ-ত্ব বিধান খাটে না। এরূপ ক্ষেত্রে 'ন' হয়। যেমন- ত্রিনয়ন, সর্বনাম, দুর্নীতি, দুর্নাম, দুর্নিবার, পরনিন্দা, অগ্রনায়ক ইত্যাদি।
২. ত-বর্গীয় বর্ণের সঙ্গে যুক্ত ন কখনো (ণ) হয় না। যেমন- অন্ত, গ্রন্থ ইত্যাদি।
৩. বাংলা (দেশি), তদ্ভব ও বিদেশি শব্দের বানানে 'ণ' লেখার প্রয়োজন হয় না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৭৭.
কোন শব্দটির ক্ষেত্রে শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সুবুদ্ধিমান
  2. অধীনস্ত
  3. উপলক্ষ্য
  4. সৌন্দর্যতা
ব্যাখ্যা
• 'উপলক্ষ্য' — শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।
এর অর্থ - উদ্দেশ্য, প্রয়োজন।

অন্য অপশনের অশুদ্ধ শব্দগুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ হলো:
সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য,
• সুবুদ্ধিমান - বুদ্ধিমান,
• অধীনস্ত - অধীন।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান, ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৭৮.
কোন বাক্যে 'না' অব্যয়টি 'বিকল্প' অর্থে প্রয়োগ হয়েছে?
  1. আমি যাব না।
  2. না চাইতে দানের কোনো মর্যাদা নেই।
  3. তুমি বাড়ি যাবে না আমি যাব?
  4. একটা গান গাও না ভাই।
ব্যাখ্যা


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)।
৭৯.
'ষ' ত্ব বিধান মতে সঠিক প্রয়োগ ঘটেছে নিম্নের কোন শব্দে?
  1. ক) মাষ্টার
  2. খ) পোষাক
  3. গ) ষোড়শ
  4. ঘ) পোষ্ট
ব্যাখ্যা
'ষ' ত্ব বিধান মতে সঠিক প্রয়োগ ঘটে ষোড়শ শব্দে। 
- এটি একটি তৎসম শব্দ। 

'ষ-ত্ব' বিধান অনুযায়ী- 
- কেবল তৎসম শব্দেই  'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য। 
- বিদেশি শব্দে 'ষ-ত্ব' বিধান প্রযোজ্য নয়। 

- 'পোষ্ট' ও 'মাষ্টার' এবং 'পোষাক' এর সঠিক বানান - পোস্ট, মাস্টার ও পোশাক।  
- পোস্ট, মাস্টার ইংরেজি শব্দ ও পোশাক ফারসি ভাষার শব্দ,।
 তাই এতে 'ষ'-ত্ব বিধান প্রযোজ্য হবে না।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)। 
৮০.
'লাফ প্রদান করিল' - এটি কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. যোগ্যতার অভাব
  2. বাহুল্য দোষ
  3. দুর্বোধ্য
  4. গুরুচণ্ডালী দোষ
ব্যাখ্যা

• 'লাফ প্রদান করিল' এটি গুরুচণ্ডালী দোষে অশুদ্ধ
- এর শুদ্ধ রূপ - লম্ফ প্রদান করিল / লাফ দিল।

গুরুচণ্ডালী দোষ:
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ ঘটলে যে দোষের সৃষ্টি হয়, তাকে বলা হয় গুরুচণ্ডালী দোষ।
- তৎসম শব্দের সঙ্গে দেশীয় শব্দের প্রয়োগ কখনও কখনও গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়।
- বাক্যে সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণ ঘটলে গুরুচণ্ডালী দোষ ঘটে।

যেমন:
- গরুর গাড়ি, শবদাহ, মড়াপোড়া প্রভৃতি হলো তৎসম শব্দ। গঠন ও অর্থের দিক থেকে এসব শব্দের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বলা হয় যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ; তাহলে দেশীয় শব্দের সঙ্গে তৎসম শব্দের মিলন ঘটে এবং তাতে শব্দ গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি অষ্টম শ্রেণি এবং ভাষা ও শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ।

৮১.
বাংলা বানানে ঙ/ং এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক নয়?
  1. ক) সন্ধিতে ( তৎসম শব্দে) প্রথম শব্দের শেষে ম্‌ থাকলে ক-বর্গের পূর্বে ম স্থানে ং (অনুস্বার) হবে।
  2. খ) উপর্যুক্ত নিয়মে সন্ধিজাত না হলে ক-বর্গের পূর্বে ম ং (অনুস্বার) হবে।
  3. গ) প্রত্যয় ও বিভক্তিহীন শব্দের শেষে ং (অনুস্বার) হয়।
  4. ঘ) অনুস্বারযুক্ত শব্দে বিভক্তি বা প্রত্যয় বা স্বরবর্ণ যুক্ত হলে ং এর স্থলে ঙ হয়।
ব্যাখ্যা

বাংলা বানানে ঙ/ং এর ব্যবহার:
- সন্ধিতে ( তৎসম শব্দে) প্রথম শব্দের শেষে ম্‌ থাকলে ক-বর্গের পূর্বে ম স্থানে ং (অনুস্বার) হবে। যেমন: অহংকার (অহম্‌+কার), কিংকর, কিংবদন্তি, ঝংকার, ভয়ংকর ইত্যাদি। 
- উপর্যুক্ত নিয়মে সন্ধিজাত না হলে ক-বর্গের পূর্বে ম স্থানে ঙ (উয়ো) হবে। যেমন: আকাঙ্খা, অঙ্কুর, অঙ্গ, ইঙ্গিত, কঙ্কাল, পঙ্কজ ইত্যাদি। 
- প্রত্যয় ও বিভক্তিহীন শব্দের শেষে ং (অনুস্বার) হয়। যেমন: আড়ং, ইদানীং, এবং, ঠ্যাং, পালং ইত্যাদি। 
- অনুস্বারযুক্ত শব্দে বিভক্তি বা প্রত্যয় বা স্বরবর্ণ যুক্ত হলে ং এর স্থলে ঙ হয়। যেমন: আড়ঙে, টঙে, ঢঙে, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরন ও নির্মিত অষ্টম শ্রেণি।

৮২.
নিচের কোন শব্দে সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. অহর্নিশ
  2. অর্ধরাত্র
  3. নির্দোষী
  4. নীরোগ
ব্যাখ্যা

• সমাস সাধিত অশুদ্ধি ঘটেছে 'নির্দোষী' শব্দে। 
শুদ্ধ প্রয়োগ: নির্দোষ।

কিছু সমাস ঘটিত অশুদ্ধ শব্দের সম্পর্কে সতর্কতা:
সংস্কৃত ইন্- প্রত্যয়ান্ত শব্দের প্রথমবার একবচনের রূপ হিসেবে বাংলায় ধনী, গুণী, মানী, পাপী ইত্যাদি হয়। কিন্তু নিঃ উপসর্গযোগে সমাসবদ্ধ হলে শব্দের শেষে ঈ-কার হয় না। সেখানে ধন, গুণ, মান, পাপ ইত্যাদি শব্দের সমান হয়। যেমন- নেই ধন যার নির্ধন, নেই গুণ যার= নির্গুণ, নেই পাপ যার= নিষ্পাপ। নির্ধনী, নির্গুণী, নিষ্পাপী ইত্যাদি অশুদ্ধ।

কিছু সমাস সাধিত অশুদ্ধ শব্দের শুদ্ধ প্রয়োগ:
অশুদ্ধ শব্দ = শুদ্ধ শব্দ:
- নিরপরাধী - নিরপরাধ;
- অহর্নিশি - অহর্নিশ;
- নিরহঙ্কারী - নিরহঙ্কার;
- নির্দোষী - নির্দোষ;
- পিতাহারা - পিতৃহারা;
- অর্ধরাত্রি - অর্ধরাত্র;
- নিরভিমানী - নিরভিমান;
- দিবারাত্রি - দিবারাত্র;
- নীরোগী - নীরোগ ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।

৮৩.
’অপকর্ষতা’ কী কারণে অশুদ্ধ?
  1. সন্ধিজনিত
  2. প্রত্যয়জনিত
  3. বিভক্তিজনিত
  4. উপসর্গজনিত
ব্যাখ্যা
• ’অপকর্ষতা’ প্রত্যয়জনিত কারনে অশুদ্ধ।
- ’অপকর্ষতা’ এর শুদ্ধরূপ - ’অপকর্ষ’ 

উল্লেখ্য,
তা এবং ত্ব হলো বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়। যা কেবল বিশেষণ শব্দকে বিশেষ্য করে। তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে আবারো তা বা ত্ব যুক্ত করলে তা ভুল হবে।
যেমন: • ’অপকর্ষ’ শব্দের সঙ্গে বিশেষণবাচক তা প্রত্যয় যোগ করলে তা ভুল বলে গণ্য হবে।

• তা” যুক্ত কিছু অপপ্রয়োগ হয়।

- অপপ্রয়োগ   প্রয়োগ;
- দারিদ্র্যতা = দারিদ্র্য / দরিদ্রতা;
- সৌজন্যতা = সৌজন্য;
- বৈচিত্র্যতা= বিচিত্রতা / বৈচিত্র্য;
- দৈন্যতা= দীনতা / দৈন্য;

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ।
৮৪.
নিচের কোনটি বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. ক) যুক্তি খন্ডিত হয়েছে।
  2. খ) সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়েছে ।
  3. গ) বিধি লঙ্ঘন হয়েছে।
  4. ঘ) সে তাকে দেখে চমৎকৃত হয়েছে।
ব্যাখ্যা
ব্যাখ্যা :
বাক্যটির শুদ্ধরূপ : বিধি লঙ্ঘিত হয়েছে।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৮৫.
নিচের কোন শব্দে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে?
  1. বিপদুদ্ধার
  2. পৃথগন্ন
  3. অনটন
  4. বাগেশ্বরী
ব্যাখ্যা
- 'বাগেশ্বরী' শব্দের শুদ্ধরূপ 'বাগীশ্বরী'।
- এটি সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ।
- এর সন্ধি বিচ্ছেদ হচ্ছে:
- বাক্‌ + ঈশ্বরী = বাগীশ্বরী।

অন্যদিকে,
- পৃথগন্ন,
- অনটন,
- বিপদুদ্ধার।
শব্দ গুলোর সঠিক প্রয়োগ হয়েছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৬.
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি ঘটেছে নিচের কোন শব্দে?
  1. দূষণীয়
  2. গণনীয়
  3. অসহ্যনীয়
  4. পূজনীয়
ব্যাখ্যা
• প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগ: অসহ্যনীয়।
শুদ্ধ প্রয়োগ: অসহনীয়/অসহ্য।

• প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ-জনিত অশুদ্ধি:
প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগের ফলে শব্দগঠন বা বাক্যে পদ ব্যবহারের সময় বানানে যে সব ভুল হয় সেরকম কিছু শব্দের তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

অশুদ্ধ শব্দ - শুদ্ধ শব্দ:
- আবশ্যকীয় - আবশ্যক;
- অধীনস্থ - অধীন;
- করিতকর্মী - করিতকর্মা;
- গণ্যনীয় - গণনীয়;
- দোষণীয় - দূষণীয়;
- জ্ঞানমান - জ্ঞানবান;
- পুজ্যনীয় - পূজনীয়;
- ঘূর্ণীয়মান - ঘূর্ণায়মান;
- পুজ্য - পূজ্য।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৮৭.
'উদ্দেশ্য' শব্দের অপপ্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. আমার কাছে এসব কেন বল? তোমার উদ্দেশ্য কী খুলে বল।
  2. তিনি যখন এ-কথা বলেছেন, তখন বুঝতে হবে-এর কোনো উদ্দেশ্য আছে।
  3. লোকটা সুবিধের নয়, উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো কাজ করে না।
  4. নদী ধায় সাগর উদ্দেশ্য।
ব্যাখ্যা

• নদী ধায় সাগর উদ্দেশ্য।- বাক্যে উদ্দেশ্য শব্দটির অপপ্রয়োগ ঘটেছে। 
শুদ্ধ বাক্য: নদী ধায় সাগর উদ্দেশে। (এখানে 'উদ্দেশে' শব্দটি খোঁজ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।) 

• উদ্দেশ শব্দে বোঝায় হদিস, খোঁজ, লক্ষ্য। 
যেমন:
ক. কার উদ্দেশে একথা বলা, হলো কেউ বুঝতে পারল না।
খ. নদী ধায় সাগর উদ্দেশে।
গ. তাঁর পবিত্র স্মৃতির উদ্দেশে এই গ্রন্থ উৎসর্গিত হয়েছে।

আবার, 
• উদ্দেশ্য শব্দের অর্থ: অভিপ্রায় বা মতলব, তাৎপর্য, প্রয়োজন। 
যেমন:
ক. আমার কাছে এসব কেন বল? তোমার উদ্দেশ্য কী খুলে বল।
খ. সাবধানে থেকো। লোকটা সুবিধের নয়, উদ্দেশ্য ছাড়া কোনো কাজ করে না।
গ. ভদ্রলোক ফালতু কথা একেবারেই বলেন না। তিনি যখন এ-কথা বলেছেন, তখন বুঝতে হবে-এর কোনো উদ্দেশ্য আছে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড হায়াৎ মামুদ। 

৮৮.
কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. সকল লোকেরাই ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল।
  2. সে কোর্টে সাক্ষ্য দিয়েছে।
  3. আমি কোর্টে সাক্ষী দিতে যাচ্ছি।
  4. আমি আসিতে থাকবো।
ব্যাখ্যা
• 'সে কোর্টে সাক্ষ্য দিয়েছে।' - বাক্যটি শুদ্ধ।
 
অপশনের অন্যান্য বাক্যগুলির ভুলগুলো হলো:
ক) 'সকল লোকেরাই' না হয়ে "সকল লোকই" হবে।
গ) আমি কোর্টে সাক্ষী দিতে যাচ্ছি -> "সাক্ষী" নয়, "সাক্ষ্য" হবে।
ঘ) আমি আসিতে থাকবো -> "আসিতে থাকবো" নয়, "আসবো" হবে। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৮৯.
‘উপর্যপুরি’ শব্দটিতে কী ধরণের অশুদ্ধি ঘটেছে?
  1. সমাসজনিত
  2. বাহুল্যজনিত
  3. সন্ধিজনিত
  4. উপসর্গজনিত
ব্যাখ্যা
• ‘উপর্যপুরি’ শব্দটিতে সন্ধিজনিত অপপ্রয়োগ ঘটেছে।
• শুদ্ধ বানান: উপর্যুপুরি।

⇒ নিয়ম:
 - ই + ঊ = য্‌ + উ;
যেমন, উপরি + উপরি = উপর্যুপুরি। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
৯০.
অপপ্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. আমি অপমানিত হয়েছি।
  2. এ কথা প্রমাণ হয়েছে। 
  3. পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।
  4. অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য।
ব্যাখ্যা
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন:
অশুদ্ধ: এ কথা প্রমাণ হয়েছে।
শুদ্ধ: এ কথা প্রমাণিত হয়েছে।  

অন্যদিকে,
- পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।
- অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।
- আমি অপমানিত হয়েছি।

[বাক্যে শব্দের গঠন অনুসারে উপরিউক্ত বাক্যগুলো শুদ্ধ।]

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯১.
উপমার ভুল প্রয়োগ ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে রোদন একই কথা।
  2. দেশের বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন। 
  3. এক মাঘে শীত যায় না।
  4. আমার হৃদয়-মন্দিরে আশার বীজ উপ্ত হলো।
ব্যাখ্যা
চতুর্থ বাক্যে উপমার ভুল প্রয়োগ হয়েছে।  
• শুদ্ধ বাক্য হলো- আমার হৃদয় মন্দিরে-আশার প্রদীপ প্রজ্বালিত হলো।
• বা, আমার হৃদয়-জমিনে আশার বীজ উপ্ত হলো।
 
• প্রবাদ-প্রবচনের সঠিক প্রয়গে শুদ্ধ বাক্য: এক মাঘে শীত যায় না।
• অর্থ: বিপদ বা প্রতিকূল অবস্থা সবসময় থাকে না।

• বাগধারার প্রয়োগে শুদ্ধবাক্য:  রাহাতকে উপদেশ প্রদান আর অরণ্যে রোদন একই কথা।

• শুদ্ধ বাক্য- দেশের বেসরকারি শিক্ষকগণ তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন। 
• বা, দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষক তাদের চাকুরী স্থায়ীকরণে আন্দোলন করছেন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং লাইভ এমসিকিউ বাংলাবিদ লেকচার।
৯২.
গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত কোনটি? 
  1. শবপোড়া
  2. শবদাহ
  3. শবমড়া
  4. মড়াদাহ
ব্যাখ্যা

গুরুচন্ডালী দোষ:
- বাংলা ভাষায় তৎসম শব্দ এবং দেশীয় শব্দের একসাথে ব্যবহার এর ফলে মাঝেমধ্যে গুরুচন্ডালী দোষ সৃষ্টি হয়। এ দোষে দুষ্ট শব্দ তার যোগ্যতা হারায়। সাধু ও চলিত ভাষার মিশ্রণের ফলে যে তৃতীয় রূপের প্রকাশ ঘটে তাকে গুরুচণ্ডালী দোষে দুষ্ট বলে।

যেমন,
- শবপোড়া-শব (তৎসম শব্দ) পোড়া (দেশি শব্দ),
- মড়াদাহ- মড়া (দেশি শব্দ) দহ (তৎসম শব্দ),
- শবদাহ-শব (তৎসম শব্দ) দাহ (তৎসম শব্দ)।

উল্লেখ্য,
'গরুর গাড়ি', 'শবদাহ', 'মড়াপোড়া' প্রভৃতির স্থলে যথাক্রমে গরুর শকট, শবপোড়া, মড়াদাহ প্রভৃতির প্রয়োগ গুরুচণ্ডালী দোষ সৃষ্টি করে।
সুতরাং গুরুচণ্ডালী দোষমুক্ত শব্দ শবদাহ।

উৎস: ভাষা শিক্ষা - ড হায়াৎ মামুদ।

৯৩.
নিচের কোনটি অপপ্রয়োগ?
  1. কার্পণ্য
  2. দ্বৈততা
  3. পৌরুষ
  4. গাম্ভীর্য
ব্যাখ্যা
• 'দ্বৈততা' - 'অপপ্রয়োগ'।
এটি প্রত্যয়জনিত অপপ্রয়োগের এর উদাহরণ।
-এর শুদ্ধ প্রয়োগ হবে: দ্বৈত

• তা- প্রত্যয়ের শুদ্ধ- অশুদ্ধ প্রয়োগ:
- তা, ত্ব প্রত্যয় বিশেষ্যবাচক প্রত্যয়।
- এই প্রত্যয় কেবল বিশেষণকে বিশেষ্য করে।
- তাই বিশেষ্য শব্দের সঙ্গে তা বা ত্ব প্রত্যয় প্রয়োগ অশুদ্ধ।

• এ ধরনের অপপ্রয়োগের উদাহরণ:
- সৌহার্দতা, সাদৃশ্যতা, সৌজন্যতা, কার্পণ্যতা, উৎকর্ষতা ইত্যাদি।

অন্যদিকে:
- গাম্ভীর্য, পৌরুষ ও কার্পণ্য শব্দ গুলোর শুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৪.
নিচের কোন বাক্যটিতে গুরুচণ্ডালী দোষ দেখা যায় না?
  1. শবপোড়া
  2. ঘোড়ারশকট
  3. মড়াদাহ
  4. মড়াপোড়া
  5. কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
সাধু ভাষা ও চলিত ভাষা বাংলা ভাষারই দুটো রীতি । তাই একই রচনায় সাধু ও চলিত ভাষার সংমিশ্রণ অসংগত ও অশুদ্ধ।
ভাষারীতির এ অশিষ্ট প্রয়োগকে গুরুচণ্ডালী দোষ বলে।
শবপোড়া (অশুদ্ধ)  -  শবদাহ (শুদ্ধ)
ঘোড়ারশকট (অশুদ্ধ) - ঘোড়ারগাড়ি (শুদ্ধ)
মড়াদাহ (অশুদ্ধ) - মড়াপোড়া (শুদ্ধ)

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম ও দশম শ্রেণী।
   
৯৫.
নিচের কোন বাক্যটি শুদ্ধ?
  1. আবশ্যক ব্যায়ে কার্পণ্য উচিত নয়।
  2. নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে।
  3. বাংলা বানান আয়ত্ত করা কঠিন নয়।
  4. এ মামলায় আমি সাক্ষি দিব না।
ব্যাখ্যা
• বাংলা বানান আয়ত্ত করা কঠিন নয়- বাক্যটি শুদ্ধ।

অন্য অপশনের বাক্যগুলোর শুদ্ধ বাক্য:

অশুদ্ধ বাক্য-- শুদ্ধ বাক্য:  
• আবশ্যক ব্যায়ে কার্পণ্য উচিত নয়- আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য উচিত নয়।
• নতুন নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে- নতুন ছেলেগুলো উৎপাত করছে। 
• এ মামলায় আমি সাক্ষি দিব না- এ মামলায় আমি সাক্ষ্য দিব না।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৯৬.
প্রবাদ-প্রবচনের অশুদ্ধ প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
  2. সবুরে লেওয়া ফলে।
  3. চোরে চোরে মাসতুত ভাই।
  4. খালি কলসির বাজনা বেশি।
ব্যাখ্যা
• প্রবাদ-প্রবচনের অশুদ্ধ প্রয়োগ- সবুরে লেওয়া ফলে।

• শুদ্ধ প্রবাদ-প্রবচন: সবুরে মেওয়া ফলে।
অর্থ: ধৈর্যে সফলতা আসে। 

অশুদ্ধ প্রবাদগুলোর শুদ্ধরূপ হলো:
• শকুনের দোয়ায় গরু মরে না।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: লোভী বা স্বার্থান্বেষীর আশা সর্বদা পূরণ হয় না।

• শুদ্ধ প্রয়োগ: চোরে চোরে মাসতুত ভাই।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: খারপ লোকের সঙ্গে খারাপ লোকের সম্পর্ক।

• খালি কলসির বাজনা বেশি।
- প্রবাদ-প্রবচনটির অর্থ: অক্ষম লোকের হাঁকডাক বেশি / আসারের তর্জনগর্জন।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৭.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. দিবারাত্র পরিশ্রমে তাহার স্বাস্থ্য ভঙ্গ হইয়াছে।
  2. চরিত্রহীন লোক পশ্বধম।
  3. পাখিগুলো আকাশে উড়ছে।
  4. বর্ষার রৌদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
ব্যাখ্যা
• ‘বর্ষার রৌদ্রে প্লাবনের সৃষ্টি হয়’ কাব্যটিতে ভাবগত মেলবন্ধন না থাকায় বাক্যটি যোগ্যতা হারিয়েছে।   
- সঠিক বাক্যটি হবে ‘বর্ষার বৃষ্টিতে প্লাবনের সৃষ্টি হয়’।

ভাষার বিচারে একটি স্বার্থক বাক্যের ৩টি গুণ থাকা আবশ্যক। যথা :
• আকাঙ্খা: বাক্যের অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য এক পদের পর অন্য পদ শোনার যে আগ্রহ তাকে আকাঙ্খা বলে।

• আসত্তি: বাক্যে ব্যবহৃত পদগুলোর মাঝে অর্থের সঙ্গতি বা মিল রাখার জন্য পদগুলোর সুশৃঙ্খলভাবে পদ  বিন্যাসই আসত্তি।

• যোগ্যতা: বাক্যস্থিত পদসমূহের অন্তর্গত এবং ভাবগত মেলবন্ধনের নাম যোগ্যতা।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৯৮.
নিচের কোন বাক্যটি অশুদ্ধ?
  1. অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
  2. মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
  3. তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
  4. পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।
ব্যাখ্যা
• অশুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল দুর্নিবার্য।
• শুদ্ধ: অন্যায়ের প্রতিফল অনিবার্য/দুর্নিবার।

------------------------
• বাক্যে যথার্থ শব্দ প্রয়োগ না করায় বাক্য গঠনে ভুল হয়। 
যেমন-
• অশুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।
• শুদ্ধ: মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

• অশুদ্ধ: তিনি স্বস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।
• শুদ্ধ: তিনি সস্ত্রীক ঢাকায় থাকেন।

• অশুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদয় হয়।
• শুদ্ধ: পূর্বদিকে সূর্য উদিত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৯৯.
কোন শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ?
  1. অনাটন
  2. দৌর্বল্য
  3. নিরপরাধী
  4. সমূলসহ
ব্যাখ্যা
• 'দৌর্বল্য' - শব্দটির প্রয়োগ শুদ্ধ।

অন্যদিকে,
• 'অনাটন'
- শব্দটির সন্ধি বিষয়ক অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: অনটন।

• 'নিরপরাধী'
- শব্দটির সমাস-ঘটিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: নিরপরাধ।

• 'সমূলসহ'
- শব্দটির সমার্থ শব্দের বাহুল্যজনিত অপপ্রয়োগ হয়েছে।
- এর শুদ্ধরূপ: সমূল / মূলসহ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
১০০.
শুদ্ধ প্রয়োগ কোনটি?
  1. মৌনতা
  2. স্বতন্ত্রতা
  3. সখ্যতা
  4. সারল্যতা
ব্যাখ্যা
• 'তা' প্রত্যয়ের অপপ্রয়োগ জনিত ভুল শব্দসমূহ হলো- 

অশুদ্ধশব্দ 
- শুদ্ধশব্দ:
• মৈত্রতা - মৈত্র, মিত্রতা। 
• লাঘবতা - লাঘব, লঘুতা। 
• মৌনতা - মৌন। 
• সখ্যতা - সখ্য। 
• সারল্যতা - সারল্য, সরলতা। 
• সাদৃশ্যতা - সাদৃশ্য, সদৃশতা। 
• সামর্থ্যতা - সামর্থ্য, সমর্থতা। 
• সৌজন্যতা - সৌজন্য, সুজনতা। 
• সৌন্দর্যতা - সৌন্দর্য, সুন্দরতা। 
• সৌহার্দ্যতা - সৌহার্দ্য। 
• স্বাতন্ত্র্যতা - স্বাতন্ত্র্য, স্বতন্ত্রতা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।