বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনির উচ্চারণ বিধি

মোট প্রশ্ন৭২৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনির উচ্চারণ বিধি

PrepBank · পাতা / · ৬০১৭০০ / ৭২৮

৬০১.
নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. অ্যা
সঠিক উত্তর:
অ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যা
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। যথা:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬০২.
অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ হয়েছে কোন শব্দে?
  1. কথা
  2. অনাথ
  3. অতি
  4. অনেক
সঠিক উত্তর:
অতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতি
ব্যাখ্যা
• 'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

যেমন:
• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্কো], অদ্য [ওদো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৬০৩.
ক- বর্গীয় ধ্বনিগুলো -
  1. কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি
  2. তালব্য স্পর্শধ্বনি
  3. দন্তমূলীয় ধ্বনি
  4. দন্ত্য ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি
ব্যাখ্যা
• স্পর্শ ধ্বনি: 
- 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি বর্ণকে স্পর্শ বর্ণ বা স্পর্শ ধ্বনি বলা হয়। 
- 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনি কে উচ্চারণ স্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় ঐ বর্গীয় ধ্বনি। 
যেমন - 
- ক খ গ ঘ ঙ ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'কণ্ঠ ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'ক' বর্গীয় বর্ণ। 
- চ ছ জ ঝ ঞ ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'তালব্য ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'চ' বর্গীয় বর্ণ। 
- ট ঠ ড ঢ ণ ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'মূর্ধন্য ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'ট' বর্গীয় বর্ণ। 
- ত থ দ ধ ন ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'দন্ত্য ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'ত' বর্গীয় বর্ণ। 
- প ফ ব ভ ম ⇒ ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'ওষ্ঠ্য ধ্বনি' ⇒ বর্ণ হিসেবে 'প' বর্গীয় বর্ণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬০৪.
‘ল’ এর উচ্চারণ স্থল -
  1. অগ্র দন্তমূল
  2. পশ্চাৎ দন্তমূল
  3. ওষ্ঠ
  4. অগ্র তালু
সঠিক উত্তর:
অগ্র দন্তমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অগ্র দন্তমূল
ব্যাখ্যা
ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স উচ্চারিত হয় অগ্র দন্তমূল থেকে।
এগুলোকে দন্ত্য বর্ণ বলা হয়।
[সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী]
৬০৫.
মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির মুখ্য বাকপ্রত্যঙ্গ কোনটি?
  1. ক) উপরের পাটির দাঁত
  2. খ) দন্তমূল
  3. গ) জিভের ডগা
  4. ঘ) দন্তমূলের পিছনের উঁচু অংশ
সঠিক উত্তর:
গ) জিভের ডগা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জিভের ডগা
ব্যাখ্যা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢােল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির মুখ্য বাকপ্রত্যঙ্গ = জিভের ডগা
মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির গৌণ বাকপ্রত্যঙ্গ = দন্তমূলের পিছনের উঁচু অংশ(মূর্ধা)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬০৬.
"বাহ্যিক" - শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. বাজ্‌ঝিক্
  2. বায্‌ঝিক্
  3. বায্‌ঁঝিক্
  4. বায্‌ঝিঁক্
সঠিক উত্তর:
বাজ্‌ঝিক্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাজ্‌ঝিক্
ব্যাখ্যা

• "বাহ্যিক" শব্দের সঠিক উচ্চারণ - বাজ্‌ঝিক্
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- বাইরের, 
- আপাত দৃশ্যমান।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬০৭.
'সাধারণ'- শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শাধারণ
  2. শাধারােন্‌
  3. শাধারন
  4. শাধারোণ্‌
সঠিক উত্তর:
শাধারােন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাধারােন্‌
ব্যাখ্যা
 • সাধারণ এর উচ্চারণ হচ্ছে শাধারােন্‌।

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৬০৮.
‘ওষ্ঠ্যধ্বনি’ নিচের কোনটি ?
  1. ক) চ
  2. খ) ধ
  3. গ) ব
  4. ঘ) দ
সঠিক উত্তর:
গ) ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ব
ব্যাখ্যা

- প, ফ, , ভ, ম - এ পাঁচটি বর্ণের দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০১৯]

৬০৯.
কোন ক্ষেত্রে ‘র’ এর উচ্চারণে বৈচিত্র পাওয়া যায়?
  1. র-ফলা
  2. রেফ
  3. ব-ফলা
  4. ঋ-কার
সঠিক উত্তর:
র-ফলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
র-ফলা
ব্যাখ্যা
র বর্ণের উচ্চারণ:
- র বর্ণের উচ্চারণ [র্‌]। তবে র-ফলা হিসেবে এর উচ্চারণে বৈচিত্র্য আছে।
- শব্দের মধ্যে বা শেষে কোনাে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে র-ফলা থাকলে দ্বিত্বসহ র-ফলা উচ্চারিত হয়।
যেমন –
- মাত্র [মাত্ত্রো‌], বিদ্রোহ [বিদ্দ্রো‌হাে], যাত্রী [জাত্ত্রি‌]।
- কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে র-ফলা যুক্ত হলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না।
যেমন -
- কেন্দ্র [কেন্‌দ্রো], শাস্ত্র [শাস্‌ত্রো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
৬১০.
”অ্যা” কী ধরনের স্বরধ্বনি?
  1. অর্ধ-বিবৃত
  2. বিবৃত
  3. সংবৃত 
  4. অর্ধ-সংবৃত
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-বিবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-বিবৃত
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই), [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও]; 
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ]; 
- বিবৃত: [আ]। 

উল্লেখ্য,
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ ২০২৫)।

৬১১.
বাংলা বর্ণমালা ‘ল’ কী বর্ণ নামে পরিচিত?
  1. ক) তাড়নজাত বর্ণ
  2. খ) অনুনাসিক বর্ণ
  3. গ) কম্পনজাত বর্ণ
  4. ঘ) পাশ্বিক বর্ণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাশ্বিক বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাশ্বিক বর্ণ
ব্যাখ্যা
'ল'- বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগকে মুখের মাঝামাঝি দন্তমূলে ঠেকিয়ে রেখে জিহ্বার দুই পাশ দিয়ে মুখবিবর থেকে বায়ু বের হয়৷
দুই পাশ থেকে বায়ু নিঃসৃত হয় বলে 'ল'–কে পার্শিক ধ্বনি বলা হয়।
উদাহরণঃ লতা, লাল, কলরব, ফল, ফসল।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷
৬১২.
নিচের কোনটি স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ক) ক্ত
  2. খ) ঞ্ঝ
  3. গ) ক্ম
  4. ঘ) ক্র
সঠিক উত্তর:
খ) ঞ্ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঞ্ঝ
ব্যাখ্যা
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ্ঝ, ড্ড, ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্+স )ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬১৩.
'গ্রাহ্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. গ্রাজ্‌জো
  2. গ্রাজ্‌ঝো
  3. গ্রাঝ্‌ঝো
  4. গ্রাজ্‌হো
সঠিক উত্তর:
গ্রাজ্‌ঝো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রাজ্‌ঝো
ব্যাখ্যা
• বানান: গ্রাহ্য।
- সঠিক উচ্চারণ: গ্রাজ্‌ঝো
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √গ্রহ্‌ + য।
- অর্থ: গ্রহণযোগ্য; জ্ঞেয়, বোধগম্য (ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য)।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬১৪.
গ্রাম > গেরাম – এখানে কোন ধরনের ধ্বনির পরিবর্তন ঘটেছে?
  1. ক) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. খ) পরাগত
  3. গ) স্বরাগম
  4. ঘ) অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
গ) স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্বরাগম
ব্যাখ্যা
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ। যেমন : গ্রাম > গেরাম। আরো কয়েকটি উদাহরণ- রত্ন > রতন, প্রীতি > পিরীতি, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬১৫.
কোনটি অশুদ্ধ?
  1. ক) জ্ঞ = জ্‌ + জ
  2. খ) ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ
  3. গ) ক্ষ = ক্‌ + ষ
  4. ঘ) হ্ম = হ্‌ + ম
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞ = জ্‌ + জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্ঞ = জ্‌ + জ
ব্যাখ্যা
কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক্‌ + ষ,
- হ্ম = হ্‌ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬১৬.
”ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন” ধ্বনির উদাহরণ কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
”ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন” ধ্বনির উদাহরণ= ভ।

উল্লেখ্য,
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
 যেমন:
- প, ফ, ব, , ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
জ,  তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির  উদাহরণ।
ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।
৬১৭.
'পক্ষ' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. পোক্কো
  2. পোক্খো‌
  3. পোক্ক্ষ
  4. পক্খো
সঠিক উত্তর:
পোক্খো‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোক্খো‌
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬১৮.
বাংলা ভাষার নাসিক্য ধ্বনি/বর্ণগুলো উচ্চারণ রীতি অনুযায়ী কোন শ্রেণীভুক্ত?
  1. ক) অল্পপ্রাণ ধ্বনি
  2. খ) অঘোষ ধ্বনি
  3. গ) ঘোষ ধ্বনি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ঘোষ ধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঘোষ ধ্বনি
ব্যাখ্যা

ঙ, ঞ, ণ, ন, ম --এই ৫টি বর্ণ উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী নাসিক্য ধ্বনি/বর্ণ এবং এগুলো উচ্চারণ রীতি অনুযায়ী ঘোষ বর্ণ/ধ্বনি।
উৎসঃ মোহসীনা নাজিলা রচিত শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য

৬১৯.
উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি কয় প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তিন প্রকার
ব্যাখ্যা
• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬২০.
ক’র উচ্চারণ স্থান-
  1. ক) ওষ্ঠ
  2. খ) দন্ত্য
  3. গ) জিহ্বামূল
  4. ঘ) মূর্ধা
সঠিক উত্তর:
গ) জিহ্বামূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) জিহ্বামূল
ব্যাখ্যা
ক, খ, গ, ঘ, ঙ এই বর্ণগুলোকে উচ্চারন স্থানানুসারে বলে জিহ্বামূলীয় বর্ণ। এদের উচ্চারণের স্থান হচ্ছে জিহ্বামূল। জিহ্বামূলীয় ধ্বনি জিভের গোড়ালি থেকে উচ্চারিত হয়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ
৬২১.
'কিংবদন্তি' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. কিংবদোন্‌তি
  2. কিংবধোন্‌তি
  3. কিংবোদোন্‌তি
  4. কিংবোধোন্‌তি
সঠিক উত্তর:
কিংবদোন্‌তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কিংবদোন্‌তি
ব্যাখ্যা
• বানান: কিংবদন্তি।
- সঠিক উচ্চারণ: কিংবদোন্‌তি
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: কিম্‌ + √বদ্‌ + অন্তি।
- অর্থ: লোকপরম্পরায় শ্রুত কাহিনি।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬২২.
‘জিহ্বা’ শব্দের উচ্চারণ হচ্ছে -
  1. জিউবা
  2. জিউভা
  3. জিওভা
  4. জিওবা
সঠিক উত্তর:
জিউভা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জিউভা
ব্যাখ্যা
• ‘জিহ্বা’ শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ (জিউ্ভা),
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = [লিহ্ + ব + অ (টাপ্)]
অর্থ: জিভ, রসনা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬২৩.
কোনটি মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন?
  1. ড়
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন: ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৬২৪.
নিচের কোনটি উষ্মধ্বনি?
  1. ক) ম
  2. খ) ন
  3. গ) হ
  4. ঘ) ল
সঠিক উত্তর:
গ) হ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) হ
ব্যাখ্যা
উষ্মধ্বনি/উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাম্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্মধ্বনি/উষ্ম ব্যঞ্জন  বলে।
- এগুলোকে শিস্‌ ধ্বনিও বলা হয়।

বাংলায় উষ্ম ধ্বনিমূল তিনটি।
যথা - স্‌, শ্‌ ও হ্‌।
এগুলোর ক্ষেত্রে অল্পপ্রাণ-মহাপ্রাণভেদ প্রযোজ্য নয়।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (প্রথম খন্ড), বাংলা একাডেমি।
৬২৫.
'জরুরি > জরুলি' ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ক) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. খ) সমীভবন
  3. গ) বিষমীভবন
  4. ঘ) ধ্বনিবিপর্যয়
সঠিক উত্তর:
গ) বিষমীভবন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিষমীভবন
ব্যাখ্যা
দুটো সমবর্ণের একটির অপরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে। যেমন : শরীর > শরীল, লাল > নাল, আরমারি > আলমারি, জরুরি > জরুলি, মর্মর > মার্বেল, লাঙ্গল > নাঙ্গল, নুকসান (আরবি) > লােকসান ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৬.
'উপগ্রহ' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. উপগ্‌গ্রোহো
  2. উপোগ্‌গ্রহো
  3. উপোগ্‌গ্রোহ
  4. উপোগ্‌গ্রোহো
সঠিক উত্তর:
উপোগ্‌গ্রোহো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপোগ্‌গ্রোহো
ব্যাখ্যা
• বানান: উপগ্রহ।
- সঠিক উচ্চারণ: উপোগ্‌গ্রোহো
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: উপ + গ্রহ।
- অর্থ: গ্রহকে প্রদক্ষিণ করে এমন ক্ষুদ্রতর গ্রহ; অনুষঙ্গী গ্রহ।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬২৭.
স্বরান্ত অক্ষরকে কী বলে?
  1. মুক্তাক্ষর
  2. বদ্ধাক্ষর
  3. যুক্তাক্ষর
  4. একাক্ষর
সঠিক উত্তর:
মুক্তাক্ষর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুক্তাক্ষর
ব্যাখ্যা
⇒ অক্ষর (Syllable):
- বাগযন্ত্রের ক্ষুদ্রতম প্রয়াসে উচ্চারিত ধ্বনি বা শব্দাংশের নাম অক্ষর (Syllable)। অক্ষর দু প্রকার। 
যথা:
১. মুক্তাক্ষর ও
২. বদ্ধাক্ষর।

============
⇒ মুক্তাক্ষর:
যখন একটি অক্ষরে একটিই বর্ণ থাকে, তখন তাকে মুক্তাক্ষর বলে। অযুগ্ন বা মুক্ত স্বরান্ত ধ্বনিকে মুক্তাক্ষর বলে। একে স্বরান্ত অক্ষরও বলা হয়।
যেমন:
- ‘ভালোবাসো যদি বলিবে না কেন?’
এখানে (ভা) (লো) (বা) (সো) (য) (দি) (ব) (লি) (বে) (না) (কে) (ন) এই সবগুলোই (১২টি) মুক্তাক্ষর। 

- মুক্তাক্ষর U চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়।
- মুক্তাক্ষর উচ্চারণের শেষে মুখ খোলা থাকে, ফলে অক্ষর উচ্চারণ করে ও তাকে প্রয়োজন মতো প্রলম্বিত করা চলে। 
যেমন: অপরিচিত। 

⇒ বদ্ধাক্ষর:
ব্যঞ্জনধ্বনি বা অর্ধস্বরধ্বনির মাধ্যমে যে সব অক্ষরের সমাপ্তি ঘটে তাকে বদ্ধাক্ষর বলে।
বদ্ধ অর্থ্যাৎ যুগ্মাস্বরান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত ধ্বনিকে বদ্ধাক্ষর বলে। 
যেমন : 'সোম বার দিনরাত হরতাল।
[এখানে (সোম্) (বার্) (দিন্) (রাত) (হর্) (তাল্) এই সবগুলোই (৬টি) বদ্ধাক্ষর।] 

বদ্ধাক্ষর ( - ) চিহ্ন দিয়ে বোঝানো হয়। 

উৎস: বাংলা কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা- ড. সৌমিত্র শেখর।
৬২৮.
ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি -

ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যেমন - ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ,

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যেমন - প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬২৯.
'হ্ম' কোন কোন বর্ণের যুক্ত?
  1. ক্ + ষ
  2. ম্ + হ
  3. ষ্ + ক
  4. হ্ + ম
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ্ + ম
ব্যাখ্যা

• হ্ + ম = হ্ম,
উদাহরণঃ ব্রাহ্ম, ব্রাহ্মণ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি।

৬৩০.
'শিক্ষা' শব্দের সংযুক্ত বর্ণ কোন কোন বর্ণ নিয়ে গঠিত-
  1. ক + হ
  2. হ + ম
  3. ক + ষ
  4. ষ + ক
সঠিক উত্তর:
ক + ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক + ষ
ব্যাখ্যা

• ক্ষ = ক + ষ, যেমন- বক্ষ, রক্ষা, শিক্ষা ইত্যাদি।
• হ্ম = হ + ম, যেমন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
• জ্ঞ = জ + ঞ, যেমন- জ্ঞান, বিজ্ঞ ইত্যাদি।
• ষ্ণ = ষ + ণ, যেমন- কৃষ্ণ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৬৩১.
'দৃশ্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. দৃশ্‌শো
  2. দ্রিশ্‌শো
  3. দ্রিশ্‌শ্য
  4. দ্রিশ্‌শ
সঠিক উত্তর:
দ্রিশ্‌শো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্রিশ্‌শো
ব্যাখ্যা
ঋ বর্ণের উচ্চারণ [রি]-এর মতো:

যেমন:
- ঋতু [রিতু], ঋণ [রিন্, কৃষক [ক্রিশক্], দৃশ্য [দ্রিশ্‌শো]

বর্ণের উচ্চারণ:
- বাংলা ভাষায় ৩৭টি মূল ধ্বনিকে প্রকাশ করার জন্য রয়েছে ৫০টি মূল বর্ণ। এর মধ্যে অধিকাংশ বর্ণের উচ্চারণ মূল ধ্বনির অনুরূপ। কয়েকটি বর্ণের একাধিক উচ্চারণ রয়েছে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক বর্ণের উচ্চারণ অভিন্ন। ধ্বনিগুলো দিয়ে শব্দ তৈরি হওয়ার সময়ে পাশের ধ্বনির প্রভাবে বর্ণের উচ্চারণ অনেক সময়ে বদলে যায়। এখানে বাংলা বর্ণের উচ্চারণ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৩২.
নিম্ন - মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি কোনটি? 
  1. উ 
  2. অ্যা
  3. এ 
সঠিক উত্তর:
অ্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অ্যা
ব্যাখ্যা

• [অ্যা] নিম্ন-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।

অন্যদিকে,
- [ই] উচ্চ সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [উ] উচ্চ পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [এ]  উচ্চ-মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [ও]  উচ্চ-মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [অ্যা]  নিম্ন - মধ্য সম্মুখ স্বরধ্বনি।
- [অ]  নিম্ন - মধ্য পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

- [আ]  নিম্ন মধ্য স্বরধ্বনি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)। 

৬৩৩.
কোনটি পশ্চাৎ স্বরধ্বনি?
  1. অ্যা
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩৪.
'হরিণ' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) হোরিন্‌
  2. খ) হুরিণ্‌
  3. গ) হোরিণ্‌
  4. ঘ) হুরিন্‌
সঠিক উত্তর:
ক) হোরিন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হোরিন্‌
ব্যাখ্যা
- 'হরিণ' শব্দের সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে হোরিন্‌।

• ণ বর্ণের উচ্চারণ [ন্‌]:
- কণা [কনা],
- বাণী [বানি],
- হরিণ [হোরিন্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
৬৩৫.
"ভ্রাতুষ্পুত্র" শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ভ্রাতুষ্‌পুত্‌ত্রো
  2. ভ্রাতুশ্‌পুত্‌ত্রো
  3. ভ্রাতুশ্‌পুত্‌ত্র
  4. ভ্রাতুষ্‌পুত্‌ত্র
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতুশ্‌পুত্‌ত্রো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভ্রাতুশ্‌পুত্‌ত্রো
ব্যাখ্যা

• "ভ্রাতুষ্পুত্র" শব্দের সঠিক উচ্চারণ - ভ্রাতুশ্‌পুত্‌ত্রো
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- ভাইয়ের ছেলে।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৩৬.
জ্ঝ এই বর্ণটি কোন যুক্ত বর্ণের ফলে তৈরী হয়েছে?
  1. ক) জ্‌+ঝ
  2. খ) জ+ব
  3. গ) জ+ক্ষ
  4. ঘ) ঝ+জ
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌+ঝ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌+ঝ
ব্যাখ্যা
জ্ঝ = জ্‌+ঝ - কুজ্ঝটিকা।
জ্‌+ঞ = জ্ঞ (উচ্চারণ গ্‌গ্যঁ এর মত) - জ্ঞান, বিজ্ঞান, অজ্ঞান, সংজ্ঞা, প্রজ্ঞা।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৬৩৭.
বাগ্‌যন্ত্রের সবচেয়ে সচল অঙ্গ কোনটি?
  1. ক) জিভ
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) তালু
  4. ঘ) মূর্ধা
সঠিক উত্তর:
ক) জিভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিভ
ব্যাখ্যা
ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলােকে একত্রে বাগযন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগযন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। 

জিভ
- মুখগহ্বরের নিচের অংশে জিভের অবস্থান।
- বাগযন্ত্রের মধ্যে জিভ সবচেয়ে সচল ও সক্রিয় প্রত্যঙ্গ।
- জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং মুখগহ্বরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে জিভের স্পর্শের প্রকৃতি অনুযায়ী ধ্বনির বৈচিত্র্য তৈরি হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৩৮.
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে-
  1. ক) অপিনিহিতি
  2. খ) আদি স্বরাগম
  3. গ) প্রগত স্বরসঙ্গতি
  4. ঘ) অসমীকরণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসমীকরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অসমীকরণ
ব্যাখ্যা
অপিনিহিতিঃ
পরের ই-কার আগে উচ্চারিত হলে কিংবা যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির আগে ই-কার বা উ-কার উচ্চারিত হলে তাকে অপিনিহিতি বলে।
যেমন- আজি > আইজ, সাধু > সাউধ, মারি > মাইর ইত্যাদি।

আদি স্বরাগমঃ
উচ্চারণের সুবিধার জন্য শব্দের আদিতে স্বরধ্বনি এলে তাকে আদি স্বরাগম বলে।
যেমন- স্কুল > ইস্কুল, স্টেশন > ইস্টিশন, স্পর্ধা > আস্পর্ধা ইত্যাদি।

অসমীকরণ (Dissimilation):
একই স্বরধ্বনির পুনরাবৃত্তি দূর করার জন্য মাঝখানে যখন স্বরধ্বনি যুক্ত হয় তখন তাকে বলে অসমীকরণ।
যেমনঃ টপ + টপ >টপাটপ, ধপ + ধপ > ধপাধপ, ফট + ফট > ফটাফট। ইত্যাদি।

প্রগত স্বরসঙ্গতিঃ

আদি স্বর অনুযায়ী অন্ত্যস্বর পরিবর্তিত হলে তাকে প্রগত স্বরসঙ্গতি বলে।
যেমনঃ মুলা > মুলো, শিকা > শিকে ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।
 
৬৩৯.
উচ্চারণের সময়ে জিভ এর উচ্চতা অনুযায়ী 'আ' এর অবস্থান-
  1. ক) উচ্চ স্বরধ্বনি
  2. খ) উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি
  3. গ) নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি
  4. ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নিম্ন স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- উচ্চ স্বরধ্বনি [ই], [উ];
- উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি [এ], [ও];
- নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি [অ্যা], [অ];
- নিম্ন স্বরধ্বনি [আ]। 

- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে;
- নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৪০.
'পশ্বধম' শব্দের প্রমিত উচ্চারণ হলো -
  1. পশ্‌শোধম্‌
  2. পোশ্‌শোধম্‌
  3. পোশ্‌শধম্‌
  4. পশ্‌শধম্‌
  5. কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
পোশ্‌শোধম্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোশ্‌শোধম্‌
ব্যাখ্যা
'পশ্বধম' শব্দের প্রমিত উচ্চারণ হলো পোশ্‌শোধম্‌ 
পশ্বধম (বিশেষ্য)
অর্থ:
পশুর চেয়েও অধম।

{(তৎসম বা সংস্কৃত) পশু+অধম}

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।
৬৪১.
'শৃগাল' - শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. স্রিগাল্‌
  2. সৃগাল্‌
  3. স্রিগাঁল্‌
  4. সৃগাঁল্‌
সঠিক উত্তর:
সৃগাল্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃগাল্‌
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

৬৪২.
'এ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. খেলা 
  2. একটি 
  3. বেলা
  4. একটা 
সঠিক উত্তর:
একটি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটি 
ব্যাখ্যা

• 'এ' বর্ণের উচ্চারণ:
এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] সংবৃত এবং [অ্যা] বিবৃত।

সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।
এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [এক্‌টি], দেশ [দেশ্‌], এলো [এলো]।
• এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্‌টা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।

--------------------
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা,
- সংবৃত,
- অর্ধ-সংবৃত,
- অর্ধ-বিবৃত,
- বিবৃত। 

উল্লেখ্য,
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।

৬৪৩.
'ক' বর্গের ধ্বনিসমূহের উচ্চারণ স্থান কোনটি?
  1. ক) জিহবামূল
  2. খ) অগ্রতালু
  3. গ) পশ্চাৎ দন্তমূল
  4. ঘ) অগ্রদন্তমূল
সঠিক উত্তর:
ক) জিহবামূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জিহবামূল
ব্যাখ্যা
ক, খ, গ, ঘ, ঙ এই বর্ণগুলােকে উচ্চারণ স্থানানুসারে বলে জিহ্বামূলীয় বর্ণ।
এদের উচ্চারণের স্থান হচ্ছে জিহ্বামূল। জিহ্বামূলীয় ধ্বনি জিভের গােড়ালি থেকে উচ্চারিত হয়।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড.হায়াৎ মামুদ
৬৪৪.
'গবেষণা' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. গবেশনা
  2. গবেশোনা
  3. গোবেশনা
  4. গোবেশোনা
সঠিক উত্তর:
গবেশনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গবেশনা
ব্যাখ্যা
• বানান: গবেষণা।
- সঠিক উচ্চারণ: গবেশনা
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: গবেষণ + আ (টাপ্‌)।
- অর্থ: তত্ত্বাদির বিশেষ অনুসন্ধান।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৪৫.
দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির মুখ্য বাক্প্র‌ত্যঙ্গ কোনটি?
  1. ক) নিচের ঠোঁট
  2. খ) জিভের ডগা
  3. গ) দন্তমূল
  4. ঘ) উপরের পাটির দাঁত
সঠিক উত্তর:
খ) জিভের ডগা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জিভের ডগা
ব্যাখ্যা
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিভাজন:
- বাক্প্র‌ত্যঙ্গের ঠিক যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে সেই জায়গাটি হলো ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান।
- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়।
যথা-
১. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
২. দন্ত্য ব্যঞ্জন,
৩. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
৪. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
৫. তালব্য ব্যঞ্জন,
৬. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
৭. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।
- ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে কোন বাক্প্রত্যঙ্গের অংশগ্রহণ মুখ্য এবং কোন বাপ্রত্যঙ্গের অংশগ্রহণ গৌণ, নিচের সারণিতে তা দেখানো হলো:


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)। 
৬৪৬.
দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামে পরিচিত -
  1. ক) ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. খ) দন্ত্য ব্যঞ্জন
  3. গ) মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. ঘ) তালব্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
ক) ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৪৭.
'জয়ধ্বনি' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. জয়দ্‌ধ্বোনি
  2. জয়োদ্‌ধোনি
  3. যয়োদ্‌ধোনি
  4. যয়োদ্‌ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
জয়োদ্‌ধোনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়োদ্‌ধোনি
ব্যাখ্যা
• 'জয়ধ্বনি'
- সংস্কৃত শব্দ।
- বিশেষ্য পদ।
- উচ্চারণ: জয়োদ্‌ধোনি
- প্রকৃতি প্রত্যয়: জয় + √ধ্বন্‌ + ই। 
 অর্থ:
- জয়োল্লাসের ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৪৮.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী 'স' কোন প্রকার ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. ক) দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনি
  2. খ) তালব্য ব্যঞ্জন
  3. গ) কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন
  4. ঘ) দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি
সঠিক উত্তর:
ঘ) দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনি
ব্যাখ্যা
দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গােড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৬৪৯.
'সাধারণ' শব্দটির সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শাধারােণ
  2. শাধারােন
  3. শাদারােন
  4. শাধারন
সঠিক উত্তর:
শাধারােন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাধারােন
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১) ও বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৫০.
'রহস্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. রহশো
  2. রহশ্‌শ
  3. রহশ্‌শো
  4. রহোশ্‌শো
সঠিক উত্তর:
রহোশ্‌শো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রহোশ্‌শো
ব্যাখ্যা

আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি অনুসারে,
রহস্য:
- উচ্চারণ: রহোশ্‌শো
- অর্থ:
১) গূঢ় অর্থ বা তাৎপর্য, মর্ম।
২) সহজে বোঝা যায় না এমন গোপন তত্ত্ব।
৩) (বাংলায়) হাস্যপরিহাস; রসিকতা।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।

৬৫১.
'ষষ্ঠী' - এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শশ্ঠি
  2. সয্টি
  3. শোস্ঠি
  4. শোশ্‌ঠি
সঠিক উত্তর:
শোশ্‌ঠি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোশ্‌ঠি
ব্যাখ্যা
• 'ষষ্ঠী'
- বিশেষ্য পদ।
- সংস্কৃত শব্দ।
- উচ্চারণ: শোশ্‌ঠি
- প্রকৃতি প্রত্যয়: ষষ্ঠ + ঈ।
অর্থ: 
- সন্তানের রক্ষয়িত্রী বলে কল্পিত দেবী। 
- সম্বন্ধপদের বিতক্তি।
- তিথিবিশেষ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৫২.
'অঞ্চল' শব্দের যুক্তবর্ণ কিভাবে গঠিত হয়?
  1. ঞ্ + চ
  2. চ্‌ + ঞ
  3. ঞ্‌ + ছ
  4. ণ্‌ + চ
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + চ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + চ
ব্যাখ্যা
ঞ্ + চ = ঞ্চ৷ উদাহরণ - অঞ্চল, সঞ্চয়, পঞ্চম ইত্যাদি৷
ঞ + ছ = ঞ্ছ৷ উদাহরণ - বাঞ্ছিত, অবাঞ্ছিত৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৫৩.
‘জ্ঞ’ যুক্তবর্ণটি কিভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. জ্ +ঞ
  2. ঞ + জ্
  3. ঞ্ + ছ
  4. ঞ্ + চ
সঠিক উত্তর:
জ্ +ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ +ঞ
ব্যাখ্যা
জ্ +ঞ=জ্ঞ
ঞ্ + ছ = ঞ্ছ
ঞ্ + চ = ঞ্চ
ঞ্ + জ = ঞ্জ

[বাংলা ভাষার ব্যাকরণ , নবম দশম শ্রেণি , সংস্করণ ২০১৮]
৬৫৪.
'প্রত্যাশা' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. প্রত্যোশা
  2. প্রত্‌তাশা
  3. প্রোত্‌তাশা
  4. পোত্‌তাশা
সঠিক উত্তর:
প্রোত্‌তাশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোত্‌তাশা
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
'প্রত্যাশা' এর সঠিক উচ্চারণ: 'প্রোত্‌তাশা'।

• 'প্রত্যাশা' শব্দের অর্থ: 
- আশা; কামনা। 
- সম্ভাবনা; সম্ভাবিত বিষয়ের জন্য অপেক্ষা; প্রতীক্ষা।

উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান। 
৬৫৫.
'বাহ্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কী?
  1. ক) বাহ্‌ঝো
  2. খ) বাজ্‌ঝো
  3. গ) বাজ্‌জো
  4. ঘ) বাজ্‌ঝ
সঠিক উত্তর:
খ) বাজ্‌ঝো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বাজ্‌ঝো
ব্যাখ্যা
বাহ্য  [বাজ্‌ঝো]
- [স. বহিস্‌+য]
- (বিশেষণ)
- বাইরের 
-  অসত্য;
- অপ্রকৃত;
- অপ্রধান

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬৫৬.
নিচের কোন শব্দে ‘অ’ বর্ণটি [ও] ধ্বনির মতো উচ্চারিত হয়?
  1. অনেক
  2. অদ্য
  3. কথা
  4. অনাথ
সঠিক উত্তর:
অদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্য
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

যেমন:
অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]।
অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৫৭.
মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি?
  1. ক) ২
  2. খ) ৭
  3. গ) ২৫
  4. ঘ) ১১
সঠিক উত্তর:
খ) ৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৭
ব্যাখ্যা
মৌলিক স্বরধ্বনি সাতটি। যথা- অ আ ই উ এ অ্যা ও। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, সৌমিত্র শেখর।
৬৫৮.
Apenthesis এর অর্থ -
  1. ক) অপিনিহিতি
  2. খ) অন্ত্যস্বরাগম
  3. গ) দ্বিত্ব ব্যঞ্জন
  4. ঘ) সমীভবন
সঠিক উত্তর:
ক) অপিনিহিতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অপিনিহিতি
ব্যাখ্যা
• অপিনিহিতি এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Apenthesis। 

অন্যদিকে, 
- অন্ত্যস্বরাগম এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Apothesis।
- দ্বিত্ব ব্যঞ্জন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Long Consonant।
- সমীভবন এর ইংরেজি প্রতিশব্দ Assimilation।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৬৫৯.
'উ' উচ্চারণের সময় জীবের অবস্থান -
  1. ক) উচ্চ-সম্মুখ
  2. খ) নিম্ন-সম্মুখ
  3. গ) উচ্চ-পশ্চাৎ
  4. ঘ) নিম্ন-পশ্চাৎ
সঠিক উত্তর:
গ) উচ্চ-পশ্চাৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) উচ্চ-পশ্চাৎ
ব্যাখ্যা
- জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা- 
• সম্মুখ স্বরধ্বনি [ই], [এ], [অ্যা];
• মধ্য স্বরধ্বনি [আ];
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি [অ], [ও], [উ]

- সম্মুখ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়;
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৬০.
’অদ্যাপি’ শব্দের উচ্চারণ-
  1. অদ্‌দাপি 
  2. ওইদপি 
  3. ওদ্‌দাপি 
  4. ওদ্‌দ্পি 
সঠিক উত্তর:
ওদ্‌দাপি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওদ্‌দাপি 
ব্যাখ্যা
- বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
’অদ্যাপি’ শব্দের উচ্চরণ: ওদ্‌দাপি। 
-------------------------------------
’অদ্যাপি’ শব্দের অর্থ:
-  অব্য,
- এখনও;
- আজও;
- একাল পর্যন্ত।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৬১.
'হ্ম' যুক্ত বর্ণটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. ক) হ্ + ম
  2. খ) ক + ষ
  3. গ) ষ্ + ম
  4. ঘ) ম্ + হ
সঠিক উত্তর:
ক) হ্ + ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) হ্ + ম
ব্যাখ্যা

হ+ম= হ্ম যেমনঃ ব্রাহ্মণ, ব্রহ্ম ইত্যাদি
ক+ষ= ক্ষ যেমনঃ শিক্ষা, রক্ষা ইত্যাদি।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণী।

৬৬২.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী 'ট ও ঠ' হচ্ছে -
  1. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  3. তালব্য ব্যঞ্জন
  4. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিভাজন:
- বাকপ্রত্যঙ্গের ঠিক যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে সেই জায়গাটি হলাে ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান।

• উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
→ ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
→ দন্ত্য ব্যঞ্জন,
→ দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
→ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
→ তালব্য ব্যঞ্জন,
→ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
→ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: 
- দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
- তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ, দন্ত্যধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তাবল্য ব্যঞ্জন: 
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ এবং ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৬৩.
’ধাইমা >দাইমা‘ কীসের উদহরণ?
  1. ব্যঞ্জন বিকৃতি
  2. বিষমীভবন
  3. ব্যঞ্জনচ্যুতি
  4. অন্তর্হতি
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
• বিষমীভবন:
- দুটো সমবর্ণের একটির পরিবর্তনকে বিষমীভবন বলে।
যেমন-
- শরীর > শরীল, লাল > নাল ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জন বিকৃতি:
শব্দ-মধ্যে কোনো কোনো সময় কোনো ব্যঞ্জন পরিবর্তিত হয়ে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়, একে বলে ব্যঞ্জন বিকৃতি।
যেমন-
- কবাট> কপাট, ধোবা >ধোপা, ধাইমা >দাইমা ইত্যাদি।

• ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়, এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বউদিদি> বউদি, বড় দাদা> বড়দা ইত্যাদি।

• অন্তর্হতি:
- পদের মধ্যে কোনো ব্যঞ্জনধ্বনি লোপ পেলে তাকে বলে অন্তর্হতি।
যেমন
ফাল্গুন> ফাগুন, ফলাহার > ফলার, আলাহিদা >আলাদা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ।
৬৬৪.
বাগ্‌যন্ত্রের অংশ কোনটি?
  1. পিত্তকোষ
  2. ফুসফুস
  3. যকৃত
  4. হৃৎপিণ্ড
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফুসফুস
ব্যাখ্যা
• বাগ্‌যন্ত্রের অংশ - ফুসফুস

বাগ্‌যন্ত্র:
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলোকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

বাগ্‌যন্ত্রের অংশ সমূহ:
- ফুসফুস,
- শ্বাসনালী,
- স্বরযন্ত্র,
- জিভ,
- আলজিভ,
- তালু,
 -মূর্ধা,
- দন্তমূল ও দন্ত,
- ওষ্ঠ,
- নাসিকা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৬৫.
কোনটি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
৬৬৬.
স্বরধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ ঘটেছে কোথায়?
  1. ক) [অ]
  2. খ) [আ]
  3. গ) [ই]
  4. ঘ) [ঈ]
সঠিক উত্তর:
খ) [আ]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) [আ]
ব্যাখ্যা
স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট কতটুকু খােলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]

সংবৃত ঘরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট কম খেলে;
বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোট বেশি খােলে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৬৭.
স বর্ণের [স] উচ্চারণ কোন শব্দে?
  1. ক) সম্পর্ক
  2. খ) সামান্য
  3. গ) সালাম
  4. ঘ) সাধারণ
সঠিক উত্তর:
গ) সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সালাম
ব্যাখ্যা
শ, ষ, স এর উচ্চারণ:  শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়। ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৬৮.
'ঋত্বিক' শব্দের সঠিক প্রমিত উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) ঋত্‌তিক
  2. খ) রিত্‌তিক্‌
  3. গ) ঋত্তিক্‌
  4. ঘ) রিত্‌ভিক্‌
সঠিক উত্তর:
খ) রিত্‌তিক্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রিত্‌তিক্‌
ব্যাখ্যা
ঋত্বিক (রিত্‌তিক্‌)
- বিশেষ্য 
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = ঋতু+√যজ্‌+ক্কিপ্‌
অর্থ: যজ্ঞের পুরোহিত, যাজক ।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬৬৯.
'হ্ণ' এই যুক্ত ব্যঞ্জনে কোন‌ কোন বর্ণ আছে?
  1. হ + ন
  2. হ + ম
  3. হ + ঋ
  4. হ + ণ
সঠিক উত্তর:
হ + ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হ + ণ
ব্যাখ্যা
- হ + ণ = হ্ণ, যেমন- পূর্বাহ্ণ, অপরাহ্ণ ইত্যাদি।
- হ + ন = হ্ন, যেমন- চিহ্ন, বহ্নি, মধ্যাহ্ন ইত্যাদি।
- হ + ম = হ্ম, যেমন- ব্রাহ্মণ, ব্রহ্ম ইত্যাদি।
উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৬৭০.
'লেহ্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) লেহ্হো‌
  2. খ) লেহ্হ
  3. গ) লেজ্‌ঝ
  4. ঘ) লেজ্‌ঝো
সঠিক উত্তর:
ঘ) লেজ্‌ঝো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লেজ্‌ঝো
ব্যাখ্যা
'লেহ্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ = লেজ্‌ঝো

লেহ্য (বিশেষণ)
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = √লিহ+য
অর্থ: লেহনীয়। 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬৭১.
’জ্ঞাপন’ শব্দের সঠিক উচ্চরণ কোনটি?
  1. গ্যাঁপন
  2. গ্যাঁপোন
  3. গেপোঁন
  4. গ্পোঁন
সঠিক উত্তর:
গ্যাঁপোন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যাঁপোন
ব্যাখ্যা

• আ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ [আ):
- আকাশ [আকাশ্], 
- রাত (রাত্], আলো [আলো]।

• [আ] জ্ঞ-এর সঙ্গে থাকলে [অ্যা]-এর মতো উচ্চারিত হয়। 
যেমন
- জ্ঞান [গ্যান্), 
- জ্ঞাত [গ্যাতো], 
- জ্ঞাপন [গ্যাঁপোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৬৭২.
নিচের কোনটি অন্তঃস্থ বর্ণ নয়?
  1. ক) য
  2. খ) ভ
  3. গ) র
  4. ঘ) ল
সঠিক উত্তর:
খ) ভ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভ
ব্যাখ্যা
স্পর্শ বা উষ্ম ধ্বনির অন্তরে অর্থাৎ মাঝে আছে বলে য, র,ল, ব- এ ধ্বনিগুলোকে অন্তঃস্থ ধ্বনি বা বর্ণ বলে।
রেফারেন্সঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ–নবম-দশম শ্রেণির র্বোড বই।
৬৭৩.
নিচের কোন শব্দের 'অ' এর উচ্চারণ সংবৃত?
  1. অকাল
  2. ক্ষণ
  3. নদী
  4. ঘর
সঠিক উত্তর:
নদী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নদী
ব্যাখ্যা
অ-এর উচ্চারণ দু রকম:

স্বাভাবিক (অ-এর মতো):
- অজ (অজো), অকাল (অকাল্), কথা (কথা), শপথ (শপথ্) ক্ষণ (খন্‌), জঞ্জাল (জন্‌জাল্), গয়না (গয়্না‌, ঘর (ঘর্)।

সংবৃত বা পরিবর্তিত (ও-এর মতো):
- অতি (ওতি), নদী (নোদি), অভিধান (ওভিধান্‌), অতনু (অতোনু), সুমতি (সুমোতি), মৌন (মৌনো), মৃগ (মৃগো)।
 
উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৬৭৪.
'ঔষ্ণ্য' এর সঠিক উচ্চারণ নিম্নের কোনটি?
  1. ক) উ্‌শ্‌ঠো
  2. খ) ওউ্‌শ্‌ঠো
  3. গ) উ্‌শ্‌মো
  4. ঘ) ওউ্‌শ্‌মো
সঠিক উত্তর:
খ) ওউ্‌শ্‌ঠো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ওউ্‌শ্‌ঠো
ব্যাখ্যা
ঔষ্ণ্য (ওউ্‌শ্‌ঠো)
- বিশেষ্য
- সংস্কৃত শব্দ 
- প্রকৃতি প্রত্যয় = উষ্ণ+য
অর্থ: 
- উষ্ণতা, উষ্ণত্ব 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৬৭৫.
কোনটি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ?
  1. [উ]
  2. [অ্যা]
  3. [আ]
  4. [অ]
সঠিক উত্তর:
[অ্যা]
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[অ্যা]
ব্যাখ্যা
সম্মুখ স্বরধ্বনি:
- সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
যেমন:
- [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মধ্য স্বরধ্বনি:
- মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]

পশ্চাৎ স্বরধ্বনি:
- পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৬৭৬.
নিচের কোন শব্দে 'ম' [অঁ]-এর মতো উচ্চারিত হয়?
  1. স্মরণ
  2. জন্ম
  3. পদ্ম
  4. গুল্ম
সঠিক উত্তর:
স্মরণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্মরণ
ব্যাখ্যা
• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন -
শ্মশান [শশান্‌],
স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন -
আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন -
যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৭৭.
'ক্র' যুক্তবর্ণটির রূপ কী?
  1. এ্‌ + ক
  2. ত্ + র
  3. ক্ + র
  4. র্‌ + ক
সঠিক উত্তর:
ক্ + র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ + র
ব্যাখ্যা
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
'ক্র' যুক্তবর্ণটির এর সঠিক রূপ হলো: ক্র = ক্ + র 

গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
- ত্ + ত্ = ত্ত
- ভ্ + র = ভ্র
- ত্ + থ = ত্থ
- ষ্ + ণ = ষ্ণ
- হ্ + ম =হ্ম
- ঙ্ + গ = ঙ্গ
- ঙ্ +ক = ঙ্ক
- ক্ + র = ক্র
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
৬৭৮.
উচ্চারণ স্থান অনুসারে 'র' কোন ধরনের ধ্বনি?
  1. কণ্ঠ্য
  2. তালব্য
  3. দন্তমূলীয়
  4. মূর্ধন্য
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মূর্ধন্য
ব্যাখ্যা

উচ্চারণ স্থান অনুসারে ‘র’ বর্ণটি মূর্ধন্য ধ্বনি।
কারণ এটি উচ্চারণের সময় জিহ্বার অগ্রভাগ মূর্ধা-র দিকে ওঠে।

• উচ্চারণের স্থানের নাম অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনিগুলোকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:
১. কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় ২. তালব্য বা অগ্রতালুজাত, ৩. মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয়, ৪. দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয় এবং ৫. ওষ্ঠ্য।

• মূর্ধন্য/পশ্চাৎ দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।
- মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ়
-------------
অন্যদিকে,
• দন্ত্য বা অগ্র দন্তমূলীয়:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্তমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন: যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত।
- পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬৭৯.
'চিকিৎসাবিজ্ঞান' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. চিকিত্‌সাবিগ্‌গ্যাঁন্‌
  2. চিকিত্‌শাবিগ্‌গাঁন্‌
  3. চিকিত্‌সাবিগ্‌গাঁন্‌
  4. চিকিত্‌শাবিগ্‌গ্যাঁন্‌
সঠিক উত্তর:
চিকিত্‌শাবিগ্‌গ্যাঁন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চিকিত্‌শাবিগ্‌গ্যাঁন্‌
ব্যাখ্যা
• বানান: চিকিৎসাবিজ্ঞান।
- সঠিক উচ্চারণ: চিকিত্‌শাবিগ্‌গ্যাঁন্‌
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: চিকিৎসা + বি + √জ্ঞা + অন।
- অর্থ: চিকিৎসাবিদ্যা।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৮০.
'শাক > শাগ' ধ্বনির কোন ধরনের পরিবর্তন?
  1. ক) ব্যঞ্জনচ্যুতি
  2. খ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
  3. গ) অভিশ্রুতি
  4. ঘ) সমীভবন
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ব্যঞ্জন বিকৃতি
ব্যাখ্যা
শব্দের মধ্যে কোনাে ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি কোনাে নতুন ব্যঞ্জনধ্বনি ব্যবহৃত হয়, তাকে ব্যঞ্জন বিকৃতি বলে। যেমন- ধােবা > ধােপা, কবাট > কপাট, ধাইমা > দাইমা, শাক > শাগ ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
৬৮১.
"তত্ত্বাবধায়ক" - শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ততাবোধায়োক্‌
  2. তত্‌তাবোধায়োক্‌
  3. তত্‌তাবোধায়োঁক্‌
  4. তত্‌তাবধায়োক্‌
সঠিক উত্তর:
তত্‌তাবোধায়োক্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তত্‌তাবোধায়োক্‌
ব্যাখ্যা

• "তত্ত্বাবধায়ক" শব্দের সঠিক উচ্চারণ - তত্‌তাবোধায়োক্‌
- এটি একটি বিশেষণ পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
-  তত্ত্বাবধানকারী;
- পরিদর্শক; পরিচালক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৮২.
‘ও’ স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা কোন অবস্থানে থাকে?
  1. উচ্চ
  2. নিম্ন-মধ্য
  3. নিম্ন
  4. উচ্চ-মধ্য
সঠিক উত্তর:
উচ্চ-মধ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উচ্চ-মধ্য
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. সংবৃত - [ই], [উ]।
২. অর্ধ-সংবৃত - [এ], [ও]।
৩. অর্ধ-বিবৃত - [অ্যা], [অ]।
৪. বিবৃত - [আ]।
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৮৩.
'অতি' শব্দটিতে 'অ' বর্ণের উচ্চারণ কোন ধরনের?
  1. ক) স্বাভাবিক উচ্চারণ
  2. খ) [ও] উচ্চারণ
  3. গ) অস্বাভাবিক উচ্চারণ
  4. ঘ) কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
খ) [ও] উচ্চারণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) [ও] উচ্চারণ
ব্যাখ্যা
• স্বরবর্ণ  অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৮৪.
'আ' বর্ণের উচ্চারণ কোথায় অ্যা-এর মতো হয়েছে?
  1. রাত
  2. জ্ঞান
  3. আকাশ
  4. আলো
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান
ব্যাখ্যা

'আ' বর্ণের উচ্চারণ:
- 'আ' বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম:

'আ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ [আ]: 
- আকাশ [আকাশ্], রাত [রাত্], আলো [আলো]। 
 
- [আ] জ্ঞ-এর সঙ্গে থাকলে [অ্যা]-এর মতো উচ্চারিত হয়। 
যেমন:
- জ্ঞান [গ্যান্‌], জ্ঞাত [গ্যাঁতো], জ্ঞাপন [গ্যাপোন্‌]।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬৮৫.
নিচের কোনটি উচ্চমধ্য-পশ্চাৎ স্বরধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ,
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬৮৬.
'বনস্পতি' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. বনোশ্‌পোতি
  2. বনোস্‌পোতি
  3. বোনশ্‌পোতি
  4. বোনস্‌পোতি
সঠিক উত্তর:
বনোশ্‌পোতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বনোশ্‌পোতি
ব্যাখ্যা
• বানান: বনস্পতি।
- সঠিক উচ্চারণ: বনোশ্‌পোতি
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: বনঃ + পতি।
- অর্থ: যে গাছে ফুল দেখা যায় না কিন্তু ফল ধরে; অশ্বত্থ, বট প্রভৃতি; অতি বিশাল গাছ।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৮৭.
'অ' - ধ্বনির বিবৃত বা স্বাভাবিক উচ্চারণ হয় কোন শব্দটিতে?
  1. অতুল
  2. অধীর
  3. অতি
  4. অমল
সঠিক উত্তর:
অমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমল
ব্যাখ্যা
• শব্দের অ-ধ্বনির দুই রকম উচ্চারণ পাওয়া যায়৷
১. সংবৃত বা ও-ধ্বনির উচ্চারণ৷
যেমন: 
- অধীর (ওধীর), অতুল (ওতুল), অতি ওত),  মন (মোন) ইত্যাদি৷

২. বিবৃত বা স্বাভাবিক উচ্চারণ৷
যেমন:
- অমল, অমানিশা, অনেক, কত ইত্যাদি৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)৷
৬৮৮.
উষ্ম ঘোষধ্বনি কোনটি?
  1. ক) শ
  2. খ) হ
  3. গ) স
  4. ঘ) ষ
সঠিক উত্তর:
খ) হ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) হ
ব্যাখ্যা
শ, স, ষ এবং হ এই ৪ টি ধ্বনি উচ্চারণে বায়ুর প্রাধান্য থাকে বিধায় এদের উষ্ম ধ্বনি বলা হয়। এর মধ্যে শ, স এবং ষ হলো শিশধ্বনি এবং হ হলো ঘোষ ধ্বনি। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৬৮৯.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ক) ঙ্ +গ = ঞ্জ
  2. খ) ঙ্ + ক = ঞ্ছ
  3. গ) ত্ + থ = ত্থ
  4. ঘ) ক্ + র = ক্ত
সঠিক উত্তর:
গ) ত্ + থ = ত্থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ত্ + থ = ত্থ
ব্যাখ্যা
সঠিক যুক্তবর্ণ হলো: ত্ + থ = ত্থ

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঙ্ + গ = ঙ্গ
- ঙ্ +ক = ঙ্ক
- ক্ + র = ক্র
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
৬৯০.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন কয় প্রকার?
  1. ছয়
  2. পাঁচ
  3. চার
  4. তিন
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পাঁচ
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি।

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।
৬৯১.
কিসের মাধ্যমে ফুসফুস থেকে তৈরি বাতাস বের হয়?
  1. তালু
  2. নাসারন্ধ্র
  3. মুখবিবর
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
বাগ্‌যন্ত্র:
- ধ্বনি উচ্চারণ করতে যেসব প্রত্যঙ্গ কাজে লাগে, সেগুলােকে একত্রে বাগ্‌যন্ত্র বলে।
- মানবদেহের উপরিভাগে অবস্থিত ফুসফুস থেকে শুরু করে ঠোঁট পর্যন্ত ধ্বনি উৎপাদনে ব্যবহৃত প্রতিটি প্রত্যঙ্গই বাগ্‌যন্ত্রের অন্তর্ভুক্ত। 

শ্বাসনালি:
ফুসফুস থেকে বাতাস শ্বাসনালি হয়ে মুখবিবর ও নাসারন্ধ্র দিয়ে বের হয়ে আসে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯২.
শ বর্ণের [স] উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. শান্ত
  2. শসা
  3. শত
  4. শ্রমিক
সঠিক উত্তর:
শ্রমিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রমিক
ব্যাখ্যা

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
শ কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়। স কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, আবার কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়। [ষ] বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
• শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা], শান্ত [শান্‌তো]।
• শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্], শৃগাল [সৃগাল্]।
• ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষোলো [শোলো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৬৯৩.
উচ্চারণস্থান অনুসারে কোনটি কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

উচ্চারণস্থান অনুসারে - 'গ' কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ।

উচ্চারণস্থান অনুসারে বর্ণের নাম:
• কণ্ঠ্য বা জিহ্বামূলীয় বর্ণ: অ, আ, ক, খ, গ, ঘ, ঙ, হ।
• তালব্য বর্ণ: ই, ঈ, চ, ছ, জ,, ঞ, য, য়, শ।
• ওষ্ঠ্য বর্ণ: উ, উ, প, ফ, ব, ভ, ম।
• মূর্ধন্য বর্ণ: , ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, র, ড়, ঢ়, ষ।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৬৯৪.
'অদ্য' - শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অদ্‌দো
  2. ওদ্‌দো
  3. ওইদ্‌দো
  4. ঔদ্‌দো
সঠিক উত্তর:
ওদ্‌দো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওদ্‌দো
ব্যাখ্যা

'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৬৯৫.
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন -  

মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, , গ, ঘ, কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
- কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে।
- 'হাতি' শব্দের '' কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯৬.
'গ্রীষ্ম' শব্দের উচ্চারণ কোনটি?
  1. গ্রিশ্‌শোঁ
  2. গ্রীশ্‌শোঁ
  3. গ্রিশ্‌সোঁ
  4. গ্রীশ্‌সোঁ
সঠিক উত্তর:
গ্রিশ্‌শোঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্রিশ্‌শোঁ
ব্যাখ্যা
• বানান: গ্রীষ্ম।
- সঠিক উচ্চারণ: গ্রিশ্‌শোঁ
- এটি সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: √গ্রস্‌ + ম।
- অর্থ: ঋতুবিশেষ; গরমকাল, নিদাঘ।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৬৯৭.
'বিজ্ঞান' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ -
  1. ক) জ্‌+ঞ
  2. খ) ঞ + জ্‌
  3. গ) ঞ্‌ + গ
  4. ঘ) গ + ঞ্‌
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌+ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌+ঞ
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ:
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, আবার কখনো সহজে চেনা যায় না।
- যুক্তবর্ণ দুই রকম।
যথা- স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, ব্দ ইত্যাদি। 

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ত (ক্+ত), ক্ম (ক্+ম), ক্র (ক্‌+র), ক্ষ (ক্+ষ), ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম), ক্স (ক্‌+স), গু (গ্‌+উ), ন্ধ (গ্‌+ধ), ঙ্ক (ঙ্+ক), ঙ্গ (ঙ্+গ), জ্ঞ (জ্‌+ঞ), ঞ্চ (ঞ্‌+চ), ঞ্ছ (ঞ্‌+ছ), ঞ্জ (ঞ্‌+জ), ট্ট (ট্+ট), ত্ত (ত্+ত), খ (ত্+থ), ত্র (ত্+ত্র), দ্ধ (দ্‌+ধ), ন্ধ (ন্+ধ), ব্ধ (ব্‌+ধ), ভ্র (ভ্+র), ভ্রূ (ভ্+র্+উ), রু (র্+উ), রূ (র্‌+ঊ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯৮.
কোন শব্দে এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ ঘটেছে?
  1. একটি
  2. দেশ
  3. এলাে
  4. একটা
সঠিক উত্তর:
একটা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একটা
ব্যাখ্যা
'এ' বর্ণের উচ্চারণ:
- এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]।
- সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনাে কখনাে [অ্যা] উচ্চারিত হয়।
- এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [একটি], দেশ [দেশ], এলাে [এলাে]।
- এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯৯.
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে মিলে হয়-
  1. স্বরধ্বনি
  2. মৌলিক স্বরধ্বনি
  3. স্বল্প স্বরধ্বনি
  4. দ্বিস্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিস্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা

• অর্ধস্বরধ্বনি
- যেসব স্বরধ্বনি পুরোপুরি উচ্চারিত হয় না সেগুলোকে অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
- বাংলা ভাষায় অর্ধস্বরধ্বনি চারটি: [ই্], [উ্], [এ্] এবং [ও্।
- স্বরধ্বনি উচ্চারণ করার সময়ে টেনে দীর্ঘ করা যায়, কিন্তু অর্ধস্বরধ্বনিকে কোনোভাবেই দীর্ঘ করা যায় না।
যেমন-
'চাই' শব্দে দুটি স্বরধ্বনি আছে: [আ] এবং [ই]। এখানে [আ] হলো পূর্ণ স্বরধ্বনি, [ই্] হলো অর্ধস্বরধ্বনি।

• দ্বিস্বরধ্বনি
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন - 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্] তৈরি হয়েছে।

- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ।

এছাড়া ও,
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।
- বাংলায় মৌলিক স্বরধ্বনি ৭ টি। যথা - [ই], [এ], [অ্যা], [আ], [অ],[ও], [উ]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৭০০.
উচ্চারণের প্রকৃতি অনুযায়ী ‘হ' কোন প্রকৃতির ব্যঞ্জনধ্বনি?
  1. পার্শ্বিক ব্যঞ্জন
  2. তাড়িত ব্যঞ্জন
  3. নাসিক্য ব্যঞ্জন
  4. উষ্ম ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
উষ্ম ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উষ্ম ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে। সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে।
- কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।