বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

ধ্বনির উচ্চারণ বিধি

মোট প্রশ্ন৭২৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

ধ্বনির উচ্চারণ বিধি

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৭২৮

২০১.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী 'ল' ও 'র' হচ্ছে -
  1. দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন
  2. তালব্য ব্যঞ্জন
  3. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে।
- নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
- দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা।
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে।
- টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

তালব্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে।
- চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ এবং ২০১৯ সংস্করণ)।
২০২.
'ব' বর্ণ উচ্চারিত হয়-
  1. ক) তালু থেকে
  2. খ) ওষ্ঠ্য থেকে
  3. গ) দন্ত থেকে
  4. ঘ) মূর্ধা থেকে
সঠিক উত্তর:
খ) ওষ্ঠ্য থেকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ওষ্ঠ্য থেকে
ব্যাখ্যা
'ব' বর্ণ উচ্চারিত হয়- ওষ্ঠ্য থেকে।

• উচ্চারণ স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনি সাত প্রকার। যথা-

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি: জিভের মূল বা গোড়ালি উঁচু করে কোমল তালুর সামনের বা মাঝের সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা জিহ্বামূলীয় ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ক, খ, গ, ঘ ঙ/ং।

তালব্য ধ্বনি: জিভের পাতা উঁচু করে অর্থতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন - চ, ছ, জ, ঝ ঞ, শ।

দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি: সমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি উপর পাটি দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা একটু উল্টো করে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হ তাদের দন্তমূলায় মূর্ধন্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ট ঠ ড ঢ ণ ড় ঢ়।

দন্ত ধ্বনি: উপর পাটি দাঁতের সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের দন্ত ধ্বনি বলে। যেমন- ত, থ, দ, ধ।

ওষ্ঠ্য ধ্বনি:
উপরের ঠোঁটের সঙ্গে নিচের ঠোঁট লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন— প, ফ, , ভ, ম।

দন্তমূলীয় ধ্বনি: উপর পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের দন্তমূলীয় ধ্বনি বলে। যেমন - ন, য, র, ল, স।

কন্ঠ্য ধ্বনি: স্বরযন্ত্রের ভেতরে যে দুট স্বরতন্ত্রী আছে তাদের সংকোচনের সাহায্যে বায়ুপথ সংকীর্ণ করে, কিন্তু একেবারে বন্ধ না করে যে ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাকে কন্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- হ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২০৩.
স বর্ণের [স] উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. সালাম
  2. সাধারণ
  3. সামান্য
  4. শসা
সঠিক উত্তর:
সালাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সালাম
ব্যাখ্যা

• স বর্ণের [স] উচ্চারণ হয়েছে-  সালাম [সালাম্‌] শব্দে। 

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

• শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
• শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শ্রদ্ধা [স্রোদ্‌ধা], শৃগাল [স্রিগাল]।
• ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
• স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন্‌], সামান্য [শামান্‌নো] ।
• স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আস্‌তে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২০৪.
উচ্চারণ স্থানের নামানুসারে ন-বর্গের বর্ণগুলো কী নামে পরিচিত?
  1. কণ্ঠ্য বর্ণ
  2. মূর্ধন্য বর্ণ
  3. ওষ্ঠ্য বর্ণ
  4. দন্তমূলীয় বর্ণ
  5. তালব্য বর্ণ
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয় বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দন্তমূলীয় বর্ণ
ব্যাখ্যা
• দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল, সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট দুটি কাছাকাছি এসে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। এগুলো দ্বি-ওষ্ঠ্য ধ্বনি নামেও পরিচিত। পাকা, ফল, বাবা, ভাই, মা প্রভৃতি শব্দের প, ফ, ব, ভ, ম ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• তালব্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২০৫.
বাংলা ভাষায় কোন স্বরধ্বনি উচ্চারণকালে জিহ্বা নিম্ন অবস্থানে থাকে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় ‘আ' স্বরধ্বনিটি উচ্চারণকালে জিহ্বা নিম্ন অবস্থানে থাকে। 
 
• স্বরধ্বনির উচ্চারণ বিধি:
- উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।
 
উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। 
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - এ, ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।
 
আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।
 
বিশেষ তথ্য:
- ই এবং ঈ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা এগিয়ে আসে এবং উচ্চে অগ্রতালুর কঠিনাংশের কাছাকাছি পৌছে।
- ই, ঈ এ (অ) ধ্বনির উচ্চারণে জিহবা এগিয়ে সম্মুখভাগে দাঁতের দিকে আসে বলে এগুলোকে বলা হয় সম্মুখ ধ্বনি।
 
- উ এবং ঊ-ধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বা পিছিয়ে আসে এবং পশ্চাৎ তালুর কোমল অংশের কাছাকাছি ওঠে।
- উ, ঊ ও অ-ধ্বনির উচ্চারণে জিহবা পিছিয়ে আসে বলে এগুলোকে পশ্চাৎ স্বরধ্বনি বলা হয়।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ) এবং ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২০৬.
স এবং শ-এর সঙ্গে 'ত', 'থ', 'ন', 'ঋ', 'র', 'ল' যুক্ত অবস্থায় থাকলে স এবং শ এর উচ্চারণ হবে-
  1. স- এর মত
  2. শ- এর মত
  3. ষ- এর মত
  4. সস- এর মত
সঠিক উত্তর:
স- এর মত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স- এর মত
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- এ তিনটি 'শ' বাংলা ভাষার উচ্চারণে কেবল বিশেষ বিশেষণে বিশেষিত।
- যথা-তালব্য শ, মূর্ধন্য 'ষ' এবং দন্ত্য 'স'।
- আসলে এ তিনটি 'শ'-ই 'শ' (ইংরেজির sh')-এর মতো উচ্চারিত।
- প্রাচীনকালে এগুলোর পৃথক উচ্চারণ ছিল কিন্তু আধুনিক বাংলা ভাষায় প্রতিটি 'শ'-ই "বাংলার শিস জাতীয় মূলধ্বনি (phoneme)।”
- কেবল ত, থ, ন, র, ল-এর পূর্ববর্তী ধ্বনি হিসেবে 'শ'-এর দন্ত্য স (স) ধ্বনির উচ্চারণ শোনা যায়।
 - এটাকে 'শ'-এর দন্ত্য সহধ্বনি বা পূরক ধ্বনি (allophone) বলা যায়
 - যথা: ত: সমস্ত (শোমোস্‌তো/শমোস্‌তো), ব্যস্ত (ব্যাস্‌তো), গ্রস্ত (গ্রোস্তো), মস্তক (মস্‌তোক্-তক্), বস্তি (বোস্‌তি), আস্তে (আস্‌তে), রাস্তা (রাস্‌তা) ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

২০৭.
চ-বর্গীয় ধ্বনির উচ্চারণ স্থান কোনটি?
  1. ওষ্ঠ্য
  2. দন্ত্য
  3. তালব্য
  4. কণ্ঠ্য
সঠিক উত্তর:
তালব্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালব্য
ব্যাখ্যা
ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ:
• ক-বর্গীয় ধ্বনি:
ক, খ,গ, ঘ, ঙ- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণ জিহ্বার গোড়ার দিকে নরম তালুর পশ্চাৎ ভাগ স্পর্শ করে। এগুলো জিহ্বামূলীয় বা কণ্ঠ্য স্পর্শধ্বনি।

• চ-বর্গীয় ধ্বনি: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ-এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ চ্যাপটাভাবে তালুর সম্মুখ ভাগের সঙ্গে ঘর্ষণ করে। এদের বলা হয় তালব্য স্পর্শধ্বনি।

• ট-বর্গীয় ধ্বনি: ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বার অগ্রভাগ কিঞ্চিৎ উল্টিয়ে ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশকে স্পর্শ করে। এগুলোর উচ্চারণে জিহ্বা উল্টা হয় বলে এদের নাম দন্তমূলীয় প্রতিবেষ্টিত ধ্বনি। আবার এগুলো ওপরের মাড়ির গোড়ার শক্ত অংশ অর্থাৎ মূর্ধায় স্পর্শ করে উচ্চারিত হয় বলে এদের বলা হয় মূর্ধন্য ধ্বনি।

• ত-বর্গীয় ধ্বনি: ত, থ, দ, ধ, ন- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে জিহ্বা সম্মুখে প্রসারিত হয় এবং অগ্রভাগ ওপরের দাঁতের পাটির গোড়ার দিকে স্পর্শ করে। এদের বলা হয় দন্ত্য ধ্বনি।

• প-বর্গীয় ধ্বনি: প, ফ, ব, ভ, ম- এ পাঁচটি বর্ণে দ্যোতিত ধ্বনির উচ্চারণে ওষ্ঠের সঙ্গে অধরের স্পর্শ ঘটে। এদের ওষ্ঠ্যধ্বনি বলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)
২০৮.
কোনটি ব্যঞ্জনচ্যুতির উদাহরণ?
  1. ধাইমা > দাইমা
  2. কবাট > কপাট
  3. নকশা > নশকা
  4. বড়দাদা > বড়দা
সঠিক উত্তর:
বড়দাদা > বড়দা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বড়দাদা > বড়দা
ব্যাখ্যা

ব্যঞ্জনচ্যুতি:
- পাশাপাশি সমউচ্চারণের দুটি ব্যঞ্জনধ্বনি থাকলে তার একটি লোপ পায়। এরূপ লোপকে বলা হয় ধ্বনিচ্যুতি বা ব্যঞ্জনচ্যুতি।
যেমন:
- বড়দাদা > বড়দা;
- বউদিদি > বউদি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ব্যঞ্জনবিকৃতি:
শব্দের মধ্যে কোন ব্যঞ্জনধ্বনি পরিবর্তিত হয়ে যদি নতুন কোন রূপ ধারণ করলে তাকে ব্যঞ্জনবিকৃতি বলে।
যেমন:
শাক > শাগ,
কবাট > কপাট,
ধাইমা > দাইমা ইত্যাদি।

ধ্বনি বিপর্যয়:
উচ্চারণের সময় আগের ধ্বনি পরে গেলে ও পরের ধ্বনি আগে চলে আসলে ধ্বনি বিপর্যয় ঘটে।
যেমন:
নকশা > নশকা
,
রিক্সা > রিস্কা। 

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা - ড. সৌমিত্র শেখর, মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।

২০৯.
শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. শতক
  2. শ্রান্তি
  3. শ্রম 
  4. শ্রাবণ
সঠিক উত্তর:
শতক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শতক
ব্যাখ্যা

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- স কখনো [শ]-এর মতো উচ্চারিত হয়, আবার কখনো [স]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।
যেমন:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা], শতক [শতোক্]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা], শ্রান্তি [স্রান্‌তি], শ্রম [স্রোম্‌], শ্রাবণ [স্রাবোন্]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষোলো [শোলো]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারোন), সামান্য [শামান্নো] সার্বিক [শার্‌বিক্]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২১০.
'স্বায়ত্তশাসন' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শায়ত্‌তোশাশোন্‌
  2. শায়ত্‌তোশাসোন্‌
  3. সায়ত্‌তোশাশোন্‌
  4. সায়ত্‌তোশাসোন্‌
সঠিক উত্তর:
শায়ত্‌তোশাশোন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শায়ত্‌তোশাশোন্‌
ব্যাখ্যা
• বানান: স্বায়ত্তশাসন।
- সঠিক উচ্চারণ: শায়ত্‌তোশাশোন্‌
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি ও প্রত্যয়: স্বায়ত্ত + শাসন।
- অর্থ: স্বশাসিত রাষ্ট্র (একনায়ক-শাসিত নয়)।

 উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২১১.
[ঋ] বর্ণের উচ্চারণ-
  1. [রি]-এর মতো
  2. [রা]-এর মতো
  3. [রে]-এর মতো
  4. [রৃ]-এর মতো
সঠিক উত্তর:
[রি]-এর মতো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
[রি]-এর মতো
ব্যাখ্যা
• [ঋ] বর্ণের উচ্চারণ:
ঋ বর্ণের উচ্চারণ [রি]-এর মতো। 

যেমন:
- ঋতু [রিতু],
- ঋণ [রিন্],
- কৃষক [ক্রিশক্],
- দৃশ্য [দ্রিশৃশো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২১২.
পরিষ্কৃত শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. পোরিশ্‌কৃতো
  2. পোরিশ্‌কৃত
  3. পোরিশ্‌ক্রিত
  4. পরিশ্‌কৃতো
সঠিক উত্তর:
পোরিশ্‌কৃতো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোরিশ্‌কৃতো
ব্যাখ্যা
পরিষ্কৃত (পোরিশ্‌কৃতো) 
[স. পরি+√কৃ+ত]
- বিশেষণ
- নির্মলীত, পরিমার্জিত
- পরিশোধিত 

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, একাডেমি অভিধান।
২১৩.
'আহ্বায়ক' শব্দের প্রমিত উচ্চারণ-
  1. ক) আওভায়োক্
  2. খ) আও্‌ভায়ক্‌
  3. গ) আহব্‌বায়ক
  4. ঘ) আহোব্‌বায়োক
সঠিক উত্তর:
খ) আও্‌ভায়ক্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আও্‌ভায়ক্‌
ব্যাখ্যা

আহ্বায়ক [আও্‌ভায়ক্‌] (বিশেষণ) - আহ্ববানকারী

আহ্বান [আও্‌ভান্] (বিশেষ্য)
১ আমন্ত্রণ; নিমন্ত্রণ (সভা আহ্বান করা)।
২ সম্বোধন; ডাক (রণে আমি আহ্বানিরে তোরে-মাইকেল মধুসূদন দত্ত)।

উৎসঃ বাংলা একাডেমী অভিধান

২১৪.
বাংলা বর্ণমালায় হ্রস্বস্বর স্বরধ্বনির সংখ্যা কয়টি?
  1. ২টি
  2. ৩টি
  3. ৪টি
  4. ৫টি
সঠিক উত্তর:
৪টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৪টি
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ের তারতম্য অনুসারে স্বরধ্বনিগুলােকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয়।
যেমন:
- হ্রস্বস্বর ও 
- দীর্ঘস্বর।

• হ্রস্বস্বর:
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে কম সময় লাগে, তাদেরকে হ্রস্বস্বর বলে।
যেমন: অ, ই, উ, ঋ এই ৪টি হ্রস্বস্বর।

• দীর্ঘস্বর: 
যেসব স্বরধ্বনি উচ্চারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সময় লাগে, তাদেরকে দীর্ঘস্বর বলে।
যেমন: আ, ঈ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ এই ৭টি দীর্ঘস্বর। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১৫.
নিচের কোনটি ধ্বনি বিপর্যয়ের উদাহরণ নয়?
  1. ক) তলােয়ার > তরােয়াল
  2. খ) আরমারি > আলমারি
  3. গ) তুলতুলা > লুতলুতা
  4. ঘ) উপরের সবগুলোই উদাহরণ
সঠিক উত্তর:
খ) আরমারি > আলমারি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) আরমারি > আলমারি
ব্যাখ্যা
উচ্চারণের সময় শব্দের কোনাে কোনাে ধ্বনি স্থান পরিবর্তন হলে তাকে ধ্বনিবিপর্যয়। একে বর্ণ বিপর্যয়ও বলা হয়। যেমন : নকশা > নশকা, কলমি > কমলি, পিশাচ > পিচাশ, বাক্স > বাসক, রিক্সা > রিস্কা, লাফ > ফাল, তলােয়ার > তরােয়াল, চাকরি > চারকি, লােকসান > লােসকান, তুলতুলা > লুতলুতা, এক্সিডেন্ট > এস্কিডেন্ট ইত্যাদি। উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১৬.
"শিরশ্ছেদ" শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শিরোশ্‌ছেদ
  2. শিরশ্‌ছেদ
  3. শিরোঁশ্‌চেদ
  4. শিরোষঁছেদ
সঠিক উত্তর:
শিরোশ্‌ছেদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিরোশ্‌ছেদ
ব্যাখ্যা
'শ' এর কয়েক রকম উচ্চারণ হয়:

স্বতন্ত্র শ-এর মতো:
- শক্তি (শোক্‌তি), মশা (মশা), শাসন (শাশোন্‌), সচিব (শোচিব)। 

যুক্ত শ + চ/ছ: শ-এর মতো:
- নিশ্চয় (নিশ্‌চয়), শিরশ্ছেদ (শিরোশ্‌ছেদ)

যুক্ত শ + ন/র: ইংরেজি S-এর মতো:
- প্রশ্ন (প্রোস্‌নো), শ্রম (স্রোম্)।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২১৭.
'পক্ষ' - শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. পক্খো‌
  2. পোঁক্খ
  3. পোক্খো‌
  4. পোক্ক্ষ
সঠিক উত্তর:
পোক্খো‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পোক্খো‌
ব্যাখ্যা

'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।

• সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা্‌], অনাথ [অনাথ্‌]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোক্খো‌], অদ্য [ওদ্‌দো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২১৮.
‘ন, ল, স’ এ তিনটি ধ্বনি উচ্চরণ স্থান কোথায়?
  1. ক) জিহ্বামূল
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) অগ্রতালু
  4. ঘ) অগ্র দন্তমূল
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্র দন্তমূল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অগ্র দন্তমূল
ব্যাখ্যা
• অগ্র দন্তমূলীয় বর্ণ গুলো হলো: ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স।
• জিহ্বামূলীয় বর্ণ: ক, খ, গ, ঘ, ঙ।
• অগ্রতালু বা তালব্য বর্ণ: চ, ছ, জ, ঝ, ঞ, শ, য, য়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১৯.
কোন দুটি স্বরের মিলিত ধ্বনিতে 'ঐ' ধ্বনির সৃষ্টি হয়-
  1. ক) অ এবং ই
  2. খ) ও এবং ই
  3. গ) উ এবং ই
  4. ঘ) এ এবং ই
সঠিক উত্তর:
খ) ও এবং ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ও এবং ই
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ অনুসারে,
• 'ঐ' ধ্বনিটি একটি যৌগিক স্বরধ্বনি। অ+ই কিংবা ও+ই = অই, ওই। অ এবং ই-এ দুটো স্বরের মিলিত ধ্বনিতে ঐ-ধ্বনির সৃষ্টি হয়।
যেমন-
- ক্+অ+ই = কই,
- কৈ; ব্+ই+ধ = বৈধ ইত্যাদি।
এরূপ— বৈদেশিক, ঐক্য, চৈতন্য।

অন্যদিকে, নবম-দশম শ্রেণির ২০২৩ সংস্করণ অনুসারে,
• ঐ ধ্বনি - ও+ই = ওই। ও এবং ই - এ দুটো স্বরের মিলিত ধ্বনিতে ঐ-ধ্বনিটি গঠিত।

বাংলা ব্যাকরণের নতুন সংস্করণটি অধিক গ্রহণযোগ্য হওয়ায় সে অনুযায়ী সঠিক উত্তর অপশন ‘খ’।

২২০.
‘ঈ’ স্বরবর্ণের উচ্চারণস্থান কোনটি?
  1. দন্তমূল
  2. মূর্ধা
  3. তালু
  4. ওষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
তালু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালু
ব্যাখ্যা
• ঈ বাংলা স্বরবর্ণমালার চতুর্থ বর্ণ।
- এটি সংস্কৃত দীর্ঘস্বর এবং এর উচ্চারণ-স্থান তালু।
- এটি ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে যুক্ত হলে ‘ x’ এইরূপ আকার প্রাপ্ত হয়।
যথা:
- ক + ঈ = কী;
- জ + ঈ = জী ইত্যাদি;

- এর নাম দীর্ঘ ঈ-কার =‘ x’ ।

উৎস: অভিগম্য অভিধান।
২২১.
কোনটি অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ?
  1. ক) ল্গ
  2. খ) রূ
  3. গ) ল্ফ
  4. ঘ) ষ্ট
সঠিক উত্তর:
খ) রূ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রূ
ব্যাখ্যা
যুক্তবর্ণ
- একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়।
- যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
- এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
- ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ্ঝ, ড্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, দ্ম, ষ্ঠ, ন্ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ব্দ, ম্ফ, ল্ক, ল্গ, ল্ট, ল্ড, ল্প, ল্ফ, শ্চ, ষ্ট, ষ্ঠ, ম্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ:
রূ (র্+উ), শু (শ্+উ), ষ্ণ (ষ্+ণ), হু (হ্+উ), হৃ (হ্+ঋ), হ্ন (হ্+ন), হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২২২.
জিভের কোন অবস্থানের কারণে উচ্চারণের সময়ে স্বরধ্বনি ভাগ করা হয়?
  1. উচ্চতা
  2. সম্মুখ
  3. পশ্চাৎ
  4. উপরের সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপরের সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।
- নিচের ছক থেকে স্বরধ্বনির এই উচ্চারণ-বিভাজন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়:


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২২৩.
সংবৃত স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. অ্যা
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।

[উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।]

-----------------------
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি: ই, এ, অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

-----------------------
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত: [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২২৪.
নিচের কোন শব্দে 'অ' বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো হয়?
  1. অনেক 
  2. পক্ষ 
  3. অনাথ  
  4. কথা 
সঠিক উত্তর:
পক্ষ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পক্ষ 
ব্যাখ্যা

'পক্ষ ' শব্দটিতে 'অ' বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো হয়।

• স্বরবর্ণ অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
- অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
- অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

২২৫.
'আ' উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন?
  1. অর্ধ-সংবৃত
  2. সংবৃত 
  3. অর্ধ-বিবৃত
  4. বিবৃত
সঠিক উত্তর:
বিবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিবৃত
ব্যাখ্যা

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই), [উ);
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ ]।

উল্লেখ্য,
• সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

২২৬.
'শিক্ষক' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. শিকখ্‌ক
  2. শিক্‌ষক্‌
  3. শিক্‌ক্ষক্‌
  4. শিক্‌খক্‌
সঠিক উত্তর:
শিক্‌খক্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিক্‌খক্‌
ব্যাখ্যা
• শিক্ষক,
- উচ্চারণ: শিক্‌খক্‌। 
- বিশেষ্য ও বিশেষণ উভয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। 
- প্রকৃতি-প্রত্যয়: শিক্ষ + ণিচ্ + অক।
অর্থ:
- শিক্ষাদাতা; অধ্যাপক; উপদেষ্টা; গুরু।

• 'শিক্ষক' শব্দের স্ত্রীবাচক শব্দ- শিক্ষিকা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 
২২৭.
‘এ’ বর্ণের উচ্চারণ কয় প্রকার হতে পারে?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

মৌলিক স্বরধ্বনি ৭ টি।
এ একটি মৌলিক স্বরধ্বনি।
‘এ’ বর্ণের দুটি উচ্চারণ রয়েছে।
যথা :
সংবৃত : এ যদি এ উচ্চারতি হয় তখন সেটি সংবৃত উচ্চারণ।
যেমন : একটি, দেশ, এলো
বিবৃত : এ যদি অ্যা উচ্চারিত হয় তখন সেটি বিবৃত উচ্চারণ।
যেমন : একটা (অ্যাক্টা), বেলা (ব্যালা)
উৎস : নবম দশম শ্রেণির ব্যাকরণ (নতুন)

২২৮.
'ষােলাে' শব্দের সঠিক উচ্চারণ -
  1. সোলো
  2. শােলাে
  3. শোল
  4. ষােলাে
সঠিক উত্তর:
শােলাে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শােলাে
ব্যাখ্যা
- 'ষােলাে' শব্দের সঠিক উচ্চারণ - শােলাে।

• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।
যেমন:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক], শ্রদ্ধা [স্রোধা]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্নাে] ।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২২)।
২২৯.
‘শ' বর্ণের উচ্চারণ [শ] হয়েছে কোন শব্দে?
  1. শৃগাল
  2. শ্রমিক
  3. শসা
  4. শ্রদ্ধা
সঠিক উত্তর:
শসা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শসা
ব্যাখ্যা
• শ, ষ, স এর উচ্চারণ:
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

• শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
• শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শ্রদ্ধা [স্রোদ্‌ধা], শৃগাল [স্রিগাল]।
• ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
• স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন্‌], সামান্য [শামান্‌নো] ।
• স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আস্‌তে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩০.
কোনটি ঘোষ ধ্বনির উদাহরণ?
  1. ক) জ
  2. খ) চ
  3. গ) ছ
  4. ঘ) শ
সঠিক উত্তর:
ক) জ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ
ব্যাখ্যা
• ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘােষ ও অঘোষ।

১. ঘােষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘােষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়,, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ ।

২. অঘোষ ব্যঞ্জন
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘােষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২সংস্করণ)।
২৩১.
'প্রশ্ন' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. প্রশ্‌নো
  2. প্রস্‌নো
  3. প্রোশ্‌নো
  4. প্রোস্‌নো
সঠিক উত্তর:
প্রোস্‌নো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোস্‌নো
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
• 'প্রশ্ন' এর সঠিক উচ্চারণ 'প্রোস্‌নো'।

অর্থ:
- জিজ্ঞাসা (কঠিন প্রশ্ন)।
- অনুসন্ধানের বিষয়।
- সমস্যা।


উৎস: বাংলা একাডেমী আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৩২.
'ও' উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন?
  1. বিবৃত
  2. অর্ধ-সংবৃত
  3. সংবৃত
  4. অর্ধ-বিবৃত
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-সংবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অর্ধ-সংবৃত
ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

উল্লেখ্য,
সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২৩৩.
‘ঙ’ এর উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নাম -
  1. ক) কন্ঠ্য
  2. খ) ওষ্ঠ
  3. গ) তালু
  4. ঘ) মূর্ধা
সঠিক উত্তর:
ক) কন্ঠ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) কন্ঠ্য
ব্যাখ্যা

ক, খ, গ, ঘ, ঙ - কন্ঠ্য বা জিহবামূলীয় বর্ণ
চ, ছ, জ, ঝ, শ, য - তালব্য বর্ণ
ট, ঠ, ড, ঢ, ণ, ষ, র, ড়, ঢ় - মূর্ধন্য বা পশ্চাৎ দন্তমূলীয় বর্ণ
ত, থ, দ, ধ, ন, ল, স - দন্ত বর্ণ
প, ফ, ব, ভ, ম - ওষ্ঠ বর্ণ
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম দশম শ্রেণী

২৩৪.
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় -
  1. ঘোষ ব্যঞ্জন
  2. অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
  3. অঘোষ ব্যঞ্জন
  4. মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
• অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলোকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন:
- প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

অন্যদিকে: 
• ঘোষ ব্যঞ্জন
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষ ধ্বনি।
যথা:
- ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ। 

• অঘোষ ব্যঞ্জন
- যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষ ধ্বনি।
যথা:
- প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

• মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন
- সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলোকে বলা হয় মহাপ্ৰাণ
ধ্বনি।
যেমন :
– ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩৫.
কোন শব্দে ম্-এর উচ্চারণ বজায় রয়েছে?
  1. স্মরণ
  2. গুল্ম
  3. আত্মীয়
  4. শ্মশান
সঠিক উত্তর:
গুল্ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুল্ম
ব্যাখ্যা
• 'গুল্ম' শব্দে ম্-এর উচ্চারণ বজায় রয়েছে।

• ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।
যেমন - শ্মশান [শশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন - আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন - যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩৬.
'বাঞ্ছিত' শব্দটি বিশ্লেষণ করলে কোনটি পাওয়া যায়?
  1. ছ + ঞ
  2. ঞ্‌ + চ
  3. ণ্‌ + ছ
  4. ঞ্ + ছ
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + ছ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঞ্ + ছ
ব্যাখ্যা
'বাঞ্ছিত' শব্দটি বিশ্লেষণ করলে পাওয়া যায় ঞ্ছ = ঞ্ + ছ।

এর কিছু উদাহরণ হলো- বাঞ্ছনীয়, বাঞ্ছা ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷
২৩৭.
'উ' উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন?
  1. বিবৃত
  2. অর্ধ-সংবৃত
  3. অর্ধ-বিবৃত
  4. সংবৃত
সঠিক উত্তর:
সংবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংবৃত
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
- সংবৃত [ই], [উ];
- অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও];
- অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ];
- বিবৃত: [আ]।

উল্লেখ্য,
সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৩৮.
'জয়ধ্বনি' - শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. জয়দ্‌ধ্বোনি
  2. জয়োদ্‌ধোনি
  3. যয়োদ্‌ধোনি
  4. যয়োদ্‌ধ্বনি
সঠিক উত্তর:
জয়োদ্‌ধোনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জয়োদ্‌ধোনি
ব্যাখ্যা

• 'জয়ধ্বনি' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ - জয়োদ্‌ধোনি
- শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- জয়োল্লাসের ধ্বনি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৩৯.
'বন্ধন' শব্দের সঠিক অক্ষর বিন্যাস কোনটি?
  1. ব + ন্ + ধ + ন্
  2. বন্ + ধন্
  3. ব + ন্ধ + ন
  4. বান্ + ধন্
সঠিক উত্তর:
বন্ + ধন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বন্ + ধন্
ব্যাখ্যা
• বন্ধন (বিশেষ্য পদ)।
- তৎসম বা সংস্কৃত।
- প্রকৃত-প্রত্যয় - √বন্ধ্‌ + অন,
- এর সঠিক উচ্চারণ - বন্‌ + ধোন্।
অর্থ:
- বাঁধন,
- আবেষ্টন,
- নির্মাণ,
- নিয়ন্ত্রণ।

অতএব, কাছাকাছি অক্ষর বিন্যাস হিসেবে সঠিক উত্তর অপশন (খ) বন্‌ + ধোন্।

অন্যদিকে,
(ব + ন + ধ + ন) এগুলো অক্ষর নয় এক একটি বর্ণ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৪০.
’যুগ্ম’ শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. জুগ্‌মো
  2. যুগন্‌
  3. যোগম্‌
  4. যুগুনো
সঠিক উত্তর:
জুগ্‌মো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জুগ্‌মো
ব্যাখ্যা
ম বর্ণের উচ্চারণ:
- ম বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]।
- শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়,
  যেমন:
- শ্মশান [শঁশান্],
- স্মরণ [শঁরোন্]।

- শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়,
যেমন:
- আত্মীয় [আতিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।
- কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্- এর উচ্চারণ বজায় থাকে,
যেমন:
- যুগ্ম [জুগ্‌মো],
- জন্ম [জমো],
- গুল্ম [গুমো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
২৪১.
নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

• উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা উপরে ওঠে বা কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - [ই], [উ]।
২. উচ্চ-মধ্য স্বরধ্বনি - [এ], [ও]।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - [অ্যা], [অ]।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - [আ]।
- উচ্চ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ উপরে ওঠে; নিম্ন স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভ নিচে নামে।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. সংবৃত - [ই], [উ]।
২. অর্ধ-সংবৃত - [এ], [ও]।
৩. অর্ধ-বিবৃত - [অ্যা], [অ]।
৪. বিবৃত - [আ]।
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪২.
‘শৃগাল’ শব্দটির সঠিক উচ্চারণ নিচের কোনটি?
  1. শৃগাল্‌
  2. শ্রিগাল্‌
  3. সৃগাল্‌
  4. স্রিগাল্‌
সঠিক উত্তর:
সৃগাল্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সৃগাল্‌
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ: 
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

- বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুযায়ী ‘শৃগাল’ শব্দটির সঠিক উচ্চারণ [সৃগাল্‌]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ) উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]।
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উল্লেখ্য যে,
- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (পরিমার্জিত সংস্করণ-২০২৫) অনুযায়ী ‘শৃগাল’ শব্দটির উচ্চারণ [স্রিগাল্‌]।
- উচ্চারণের ক্ষেত্রে সাধারণত অভিধানই অধিক গ্রহণযোগ্য।
- অপশনে [সৃগাল্‌] না থাকলে [স্রিগাল্‌] নেওয়া যাবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ও বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৪৩.
'অ'-ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. অমানিশা
  2. অতি
  3. করুণ
  4. প্রভাত
সঠিক উত্তর:
অমানিশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমানিশা
ব্যাখ্যা

শব্দের অ-ধ্বনির দুই রকম উচ্চারণ পাওয়া যায়৷
১. বিবৃত বা স্বাভাবিক উচ্চারণ৷
যেমনঃ অমল, অমানিশা, অনেক, কত ইত্যাদি৷
২. সংবৃত বা ও-ধ্বনির উচ্চারণ৷
যেমনঃ অতি, করুণ, প্রভাত, প্রত্যয় ইত্যাদি৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি৷

২৪৪.
'ঙ'-এর ক্ষেত্রে কোন উচ্চারণটি সঠিক?
  1. উঁয়ো
  2. উয়ঁ
  3. উমা
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

• ঙ [উয়োঁ, উঁয়]:
- পঞ্চম ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ক-বর্গের পঞ্চম বর্ণ।
- ‘উয়ঁ’, ‘উঁয়ো’ বা ‘উমা’; উঁঅ রূপে উচ্চারিত হয়। 
- এর উচ্চারণ স্থান নাসিকা।
- এটি ঘোষ পশ্চাত্তালুজাত নাসিক্য ব্যঞ্জন ধ্বনি। 
- এর উচ্চারণ হুবহু ‍অনুস্বারের মতো।

উৎস: অভিগম্য অভিধান; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৪৫.
জিভের অবস্থান অনুযায়ী ‘অ’ কোন ধরনের স্বরধ্বনি?
  1. সম্মুখ-মধ্য স্বরধ্বনি
  2. মধ্য স্বরধ্বনি
  3. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
  4. সম্মুখ স্বরধ্বনি
সঠিক উত্তর:
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
ব্যাখ্যা
• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন প্রকার।
যথা:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি,
২. মধ্য স্বরধ্বনি ও
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি।

• সম্মুখ স্বরধ্বনি: সম্মুখ স্বর‌ধ্বনির উচ্চারণের সময় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।
- যেমন: [ই], [এ], [অ্যা] ইত্যাদি সম্মুখ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

• মধ্য স্বরধ্বনি: মধ্য স্বরধ্বনি হচ্ছে [আ]।

• পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: পশ্চাৎ স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়। [অ], [ও], [উ] ইত্যাদি পশ্চাৎ স্বরধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৪৬.
নিচের কোনটি ’ব্যঞ্জনদ্বিত্বা’ ধ্বনি পরিবর্তনের উদাহরণ?
  1. পক্ব > পক্ক
  2. কাঁদনা > কান্না
  3. চক্র > চক্ক
  4. সকাল > সক্কাল
সঠিক উত্তর:
সকাল > সক্কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সকাল > সক্কাল
ব্যাখ্যা

• দ্বিত্ব ব্যঞ্জন বা ব্যঞ্জনদ্বিত্বা:
কখনো কখনো জোর দেয়ার জন্য শব্দের অন্তর্গত ব্যঞ্জনের দুই বার উচ্চারণ হয়, একে বলে দ্বিত্ব ব্যাঞ্জন বা ব্যাঞ্জনদ্বিত্বা।
যেমন:
- পাকা > পাক্কা;
- সকাল > সক্কাল, ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• প্রগত সমীভবন:
পূর্ব ধ্বনির প্রভাবে পরবর্তী ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে। অর্থাৎ পরবর্তী ধ্বনি পূর্ববর্তী ধ্বনির মতাে হয়, একে বলে প্রগত সমীভবন।
যেমন:
- চক্র > চক্ক,
- পক্ব > পক্ক,
- পদ্ম > পদ্দ,
- লগ্ন > লগ্গ ইত্যাদি।

• সমীভবন (Assimilation):
- শব্দমধ্যস্থ দুটি ভিন্ন ধ্বনি একে অপরের প্রভাবে অল্প-বিস্তর সমতা লাভ করে। এ ব্যাপারকে বলা হয় সমীভবন।
যেমন- জন্ম > জন্ম, কাঁদনা > কান্না ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪৭.
'অনৈক্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. অনোই্‌ক্‌ক
  2. অনোই্‌ক্‌কো
  3. অনোক্‌কো
  4. অনোই্‌ক্‌কোঁ
সঠিক উত্তর:
অনোই্‌ক্‌কো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনোই্‌ক্‌কো
ব্যাখ্যা

• 'অনৈক্য' শব্দের সঠিক উচ্চারণ - অনোই্‌ক্‌কো
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- ঐক্যের অভাব, বিরোধ।
- গরমিল, অমিল, মতভেদ।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান

২৪৮.
'শৈত্যপ্রবাহ' এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শোই্‌ত্‌তোপ্রোবাহো 
  2. শোই্‌তোপ্রোবাহো 
  3. শোত্‌তোপ্রোবাহ
  4. শোই্‌তোপ্রবাহো 
সঠিক উত্তর:
শোই্‌ত্‌তোপ্রোবাহো 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শোই্‌ত্‌তোপ্রোবাহো 
ব্যাখ্যা

- 'শৈত্যপ্রবাহ' এর সঠিক উচ্চারণ - শোই্‌ত্‌তোপ্রোবাহো।

- ব্যুৎপত্তি: শৈত্য + প্রবাহ
- অর্থ: শীতল বায়ুর প্রবাহ।



উৎস: বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৪৯.
'মণিমঞ্জুষা' - শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. মনিমোঁঞ্জুষা
  2. মণিমোনঞ্জুষা
  3. মোণিঁমোনজুষা
  4. মোনিমোন্জুশা
সঠিক উত্তর:
মোনিমোন্জুশা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মোনিমোন্জুশা
ব্যাখ্যা
• 'মণিমঞ্জুষা' শব্দের সঠিক উচ্চারণ - মোনিমোন্জুশা
- শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত

শব্দের অর্থ:
- মণিমাণিক্যের আঁধার,
- রত্নের ঝাপি।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৫০.
'অ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ আছে কোন শব্দে?
  1. মৌন
  2. অতনু
  3. গয়না
  4. মৃগ
সঠিক উত্তর:
গয়না
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গয়না
ব্যাখ্যা
'অ' বর্ণের উচ্চারণ:
- স্বরবর্ণ অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্], গয়না [গয়্না]।

অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্], মৌন [মৌনো, মৃগ [মৃগো], অতনু [অতোনু]

উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৫১.
‘কৈ’ শব্দের মধ্যে কোন দুটি স্বরধ্বনি আছে?
  1. ও + ঐ্
  2. ও + ই্
  3. ও + উ্
  4. অ + এ্
সঠিক উত্তর:
ও + ই্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও + ই্
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ: 
[আই্]: তাই, নাই।
[এই্]: সেই, নেই।
[আও্]: যাও, দাও।
[আএ্]: খায়, যায়।
[উই্]: দুই, রুই।
[অএ্]: নয়, হয়।
[ওউ্]: মৌ, বউ।
[ওই্]: কৈ, দই।
[এউ্]: কেউ, ঘেউ।

বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]। একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পৃ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫২.
'ঐ' যৌগিক স্বরধ্বনিটিকে বিশ্লেষণ করলে নিচের কোনটি পাওয়া যায়?
  1. ক) এ + ঐ
  2. খ) অ + ই
  3. গ) অ + উ
  4. ঘ) এ + ই
সঠিক উত্তর:
খ) অ + ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অ + ই
ব্যাখ্যা
ঐ:
এ ধ্বনিটি একটি যৌগিক স্বরধ্বনি। 
অ এবং ই - এ দুটো স্বরের মিলিত ধ্বনিতে ঐ-ধ্বনির সৃষ্টি হয়।
যেমন-
- ক + অ + ই = কই, কৈ
- ব্ + ই + ধ = বৈধ ইত্যাদি।
এরূপ - বৈদেশিক, ঐক্য, চৈতন্য

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯ ]
২৫৩.
বাংলা উচ্চারণে ‘এ’ ধ্বনির কয় প্রকার উচ্চারণ আছে?
  1. ১টি
  2. ২টি
  3. ৩টি
  4. ৪টি
সঠিক উত্তর:
২টি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২টি
ব্যাখ্যা

- বাংলা উচ্চারণে ‘এ’ ধ্বনির ২ প্রকার উচ্চারণ রয়েছে।
যথা- এ এবং এ্যা।
- উদাহরণঃ একটি > একটি; এক > এ্যাক' ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর ও ভাষা শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ।

২৫৪.
নাসিক্য ব্যঞ্জনের উদাহরণ কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে। মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

অন্যদিকে,
• উম্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলোকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে। সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ। উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) - এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলোর মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শ্বাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতো আওয়াজ হয়।

• তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূ্র্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: 'বাড়ি, মূঢ়' প্রভৃতি শব্দের 'ড়, ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি

• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে। লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৫.
'অভ্যুত্থান' শব্দের যুক্তবর্ণের সঠিক রূপ কোনটি?
  1. থ্ + ত
  2. ত্ + থ
  3. হ্ + থ
  4. ত্ + ত
সঠিক উত্তর:
ত্ + থ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ত্ + থ
ব্যাখ্যা
ত্ + থ = ত্থ
- উত্থান,
- উত্থিত,
- অভ্যুত্থান
 
আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক + ষ,
- হ্ম = হ + ম,
- জ্ঞ = জ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ + ণ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
২৫৬.
উচ্চারণের প্রকৃতি অনুযায়ী উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি কোন ভাগে বিভক্ত নয়?
  1. ক) তালব্য
  2. খ) দন্তমূলীয়
  3. গ) ওষ্ঠমূলীয়
  4. ঘ) কণ্ঠনালীয়
সঠিক উত্তর:
গ) ওষ্ঠমূলীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ওষ্ঠমূলীয়
ব্যাখ্যা
⇒ উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি নবম-দশম দ(২০২২ সংস্করণ)।
২৫৭.
পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির ব্যবহার রয়েছে কোন শব্দে?
  1. হাঙর
  2. মূঢ়
  3. লাল
  4. ঘাস
সঠিক উত্তর:
লাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লাল
ব্যাখ্যা
• পার্শ্বিক ব্যঞ্জন:
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা দন্তমূল স্পর্শ করে এবং ফুসফুস থেকে আসা বাতাস জিভের দুই পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, তাকে পার্শ্বিক ব্যঞ্জন বলে। লাল শব্দে 'ল' পার্শ্বিক ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• নাসিক্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে আসা বাতাস মুখের মধ্যে প্রথমে বাধা পায় এবং নাক ও মুখ দিয়ে বেরিয়ে যায়, সেসব ধ্বনিকে নাসিক্য ব্যঞ্জন বলে। মা, নতুন, হাঙর প্রভৃতি শব্দের ম, ন, ঙ নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনি।

• উম্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলোকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে। সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ। উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলোকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) - এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। এগুলোর মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শ্বাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতো আওয়াজ হয়। যেমন: ঘাস, শসা ইত্যাদি।

• তাড়িত ব্যঞ্জন:
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের সামনের অংশ দন্তমূলের একটু উপরে অর্থাৎ মূ্র্ধায় টোকা দেওয়ার মতো করে একবার ছুঁয়ে যায়, তাকে তাড়িত ব্যঞ্জন বলে।
যেমন: 'বাড়ি, মূঢ়' প্রভৃতি শব্দের 'ড়, ঢ়' তাড়িত ব্যঞ্জনধ্বনি

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৮.
"প্রত্যন্ত" - শব্দটির সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. প্রোত্‌তোন্‌ত
  2. প্রোত্‌তোন্‌তো
  3. প্রত্‌তোন্‌তো
  4. প্রোত্‌তোতো
সঠিক উত্তর:
প্রোত্‌তোন্‌তো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রোত্‌তোন্‌তো
ব্যাখ্যা

• "প্রত্যন্ত" শব্দটির সঠিক উচ্চারণ - প্রোত্‌তোন্‌তো
- এটি একটি বিশেষ্য পদ।
- শব্দটি সংস্কৃত ভাষা হতে আগত।

শব্দের অর্থ:
- প্রান্তবর্তী (প্রত্যন্ত অঞ্চল); সীমান্তের নিকটবর্তী।
- প্রান্তদেশ,সীমান্তবর্তী অঞ্চল।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

২৫৯.
'এ' বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ ঘটেছে কোন শব্দে?
  1. একটা
  2. খেলা
  3. বেলা
  4. এলাে
সঠিক উত্তর:
এলাে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলাে
ব্যাখ্যা
এ বর্ণের উচ্চারণ: 
- এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]।
- সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনাে কখনাে [অ্যা] উচ্চারিত হয়।
- এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [একটি], দেশ [দেশ], এলাে [এলাে]।
- এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা ], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬০.
'জ্ঞান' শব্দের শুধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. গ্যান্‌
  2. গ্যএন্‌
  3. গ্যাঁন্‌
  4. গ্যঁআন্‌ 
সঠিক উত্তর:
গ্যাঁন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যাঁন্‌
ব্যাখ্যা

• 'আ' বর্ণের উচ্চারণ:
আ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ [আ]: আকাশ [আকাশ], রাত [রাত্], আলো [আলো]।

[আ] জ্ঞ-এর সঙ্গে থাকলে [অ্যা]-এর মতো উচ্চারিত হয়।
যেমন: জ্ঞান [গ্যাঁন্‌], জ্ঞাত [গ্যাঁতো], জ্ঞাপন [গ্যাঁপোন্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৬১.
ওষ্ঠ্য ধ্বনি কোনটি?
  1. ক) ত
  2. খ) ধ
  3. গ) ম
  4. ঘ) ছ
সঠিক উত্তর:
গ) ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ম
ব্যাখ্যা
উচ্চারণ স্থান অনুসারে ব্যঞ্জনধ্বনি সাত প্রকার। যথা-

জিহ্বামূলীয় ধ্বনি: জিভের মূল বা গোড়ালি উঁচু করে কোমল তালুর সামনের বা মাঝের সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা জিহ্বামূলীয় ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ক, খ, গ, ঘ ঙ/ং।

তালব্য ধ্বনি:
জিভের পাতা উঁচু করে অর্থতালুর সঙ্গে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের তালব্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- চ, ছ, জ, ঝ ঞ, শ।

দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি:
সমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি উপর পাটি দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা একটু উল্টো করে লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হ তাদের দন্তমূলীয় মূর্ধন্য ধ্বনি বলা হয়। যেমন- ট ঠ ড ঢ ণ ড় ঢ়।

দন্ত ধ্বনি: উপর পাটি দাঁতের সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাদের দন্ত ধ্বনি বলে। যেমন- ত, থ, দ, ধ।

ওষ্ঠ্য ধ্বনি: উপরের ঠোঁটের সঙ্গে নিচের ঠোঁট লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের ওষ্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- প, ফ, ব, ভ,

দন্তমূলীয় ধ্বনি: উপর পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে জিভের ডগা লাগিয়ে যেসব ধ্বনি উচ্চারিত হয় তাদের দন্তমূলীয় ধ্বনি বলে। যেমন- ন, য, র, ল, স।

কন্ঠ্য ধ্বনি: স্বরযন্ত্রের ভেতরে যে দুট স্বরতন্ত্রী আছে তাদের সংকোচনের সাহায্যে বায়ুপথ সংকীর্ণ করে, কিন্তু একেবারে বন্ধ না করে যে ধ্বনি উচ্চারণ করা হয় তাকে কন্ঠ্য ধ্বনি বলে। যেমন- হ।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৬২.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী নিচের কোনটি মূর্ধন্য বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ‘ঋ’ বাংলা ভাষার সপ্তম স্বরবর্ণ।
- এর উচ্চারণ-স্থান মূর্ধা।

অন্যদিকে,
• ঔ [ওউ] উচ্চারণ স্থান কণ্ঠ ও ওষ্ঠ।
• ঈ এটি সংস্কৃত দীর্ঘস্বর এবং এর উচ্চারণ-স্থান তালু।
• অ এর উচ্চারণ-স্থান কণ্ঠ।

================
⇒ উচ্চারণস্থান অনুযায়ী বিভাজন:
বাকপ্রত্যঙ্গের ঠিক যে জায়গায় বায়ু বাধা পেয়ে ব্যঞ্জনধ্বনি সৃষ্টি করে সেই জায়গাটি হলাে ঐ ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান।
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়:
১. ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
২. দন্ত্য ব্যঞ্জন,
৩. দন্তমূলীয় ব্যঞ্জন,
৪. মূর্ধন্য ব্যঞ্জন,
৫. তালব্য ব্যঞ্জন,
৬. কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন,
৭. কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন।

⇒ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন: 
দত্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্যার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। টাকা, ঠেলাগাড়ি, ডাকাত, ঢোল, গাড়ি, মূঢ় প্রভৃতি শব্দের ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে। তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দম বা জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতের গোড়ার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে দণ্ডমূলীয় ব্যঞ্জন বলে। নানা, রাত, লাল সালাম প্রভৃতি শব্দের ন, র, ল, স দন্ত্যমূলীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ তাবল্য ব্যঞ্জন: 
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তালব্য ব্যঞ্জন বলে। চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রভৃতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তালব্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে স্বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক খ, গ, ঘ, ঙ কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

⇒ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন:
কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জন উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বার থেকে বায়ু কণ্ঠনালি হয়ে সরাসরি বের হয়ে আসে। হাতি শব্দের হ কণ্ঠনালীয় ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ এবং ২০১৯ সংস্করণ) এবং অভিগম্য অভিধান।
২৬৩.
'আ' উচ্চারণের সময়ে ঠোঁটের উন্মুক্তি কেমন হয়?
  1. ক) সংবৃত
  2. খ) বিবৃত
  3. গ) অর্ধ-বিবৃত
  4. ঘ) অর্ধ-সংবৃত
সঠিক উত্তর:
খ) বিবৃত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিবৃত
ব্যাখ্যা
- স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত। 
যথা- 
• সংবৃত [ই], [উ]; 
• অর্ধ-সংবৃত: [এ], [ও]; 
• অর্ধ-বিবৃত: [অ্যা] [অ]; 
• বিবৃত: [আ]। 


- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; 
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৪.
"শাস্ত্র" শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. শাস্‌ত্র
  2. শাস্‌রো
  3. শাষ্‌ত্রো
  4. শাস্‌ত্রো
সঠিক উত্তর:
শাস্‌ত্রো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাস্‌ত্রো
ব্যাখ্যা
র বর্ণের উচ্চারণ:
- র বর্ণের উচ্চারণ [র্‌]। তবে র-ফলা হিসেবে এর উচ্চারণে বৈচিত্র্য আছে।
- শব্দের মধ্যে বা শেষে কোনাে ব্যঞ্জনবর্ণের সঙ্গে র-ফলা থাকলে দ্বিত্বসহ র-ফলা উচ্চারিত হয়।
যেমন –
- মাত্র [মাত্ত্রো‌], বিদ্রোহ [বিদ্দ্রো‌হাে], যাত্রী [জাত্ত্রি‌]।
- কিন্তু শব্দের মধ্যে বা শেষে যুক্তব্যঞ্জনের সঙ্গে র-ফলা যুক্ত হলে দ্বিত্ব উচ্চারণ হয় না।
যেমন -
- কেন্দ্র [কেন্‌দ্রো], শাস্ত্র [শাস্‌ত্রো]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২১ সংস্করণ।
২৬৫.
কোন যুক্তবর্ণটি সঠিক?
  1. ষ্ + ণ = জ্ঞ
  2. ষ্ + ণ = ষ্ণ
  3. হ্‌ + থ = ত্থ
  4. হ্ + ম = ষ্ণ
সঠিক উত্তর:
ষ্ + ণ = ষ্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ্ + ণ = ষ্ণ
ব্যাখ্যা
গুরুত্বপূর্ণ কিছু যুক্তবর্ণ:
ত্ + ত্ = ত্ত
ভ্ + র = ভ্র
ত্ + থ = ত্থ
ষ্ + ণ = ষ্ণ
হ্ + ম =হ্ম
জ্‌ + ঞ =জ্ঞ

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০২১ সংস্করণ]
২৬৬.
'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত বর্ণগুলোকে কী বর্ণ বলা হয়?
  1. ক) মহাপ্রাণ বর্ণ
  2. খ) ওষ্ঠ্য বর্ণ
  3. গ) স্পর্শ বর্ণ
  4. ঘ) ঘোষ বর্ণ
সঠিক উত্তর:
গ) স্পর্শ বর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) স্পর্শ বর্ণ
ব্যাখ্যা
'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি বর্ণকে স্পর্শ বর্ণ বলা হয়।

- 'ক' থেকে 'ম' পর্যন্ত পঁচিশটি স্পর্শধ্বনি কে উচ্চারণ স্থানের দিক থেকে পাঁচটি গুচ্ছে বা বর্গে ভাগ করা হয়েছে।
- প্রতি গুচ্ছের প্রথম ধ্বনিটির নামানুসারে সে গুচ্ছের সবগুলো ধ্বনিকে বলা হয় ঐ বর্গীয় ধ্বনি।

ক খ গ ঘ ঙ      ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'কণ্ঠ ধ্বনি'       বর্ণ হিসেবে 'ক' বর্গীয়
চ ছ জ ঝ ঞ    ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'তালব্যধ্বনি'    বর্ণ হিসেবে 'চ' বর্গীয়
ট ঠ ড ঢ ণ       ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'মূর্ধন্য ধ্বনি'    বর্ণ হিসেবে 'ট' বর্গীয়
ত থ দ ধ ন       ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'দন্ত্যধ্বনি'       বর্ণ হিসেবে 'ত' বর্গীয়
প ফ ব ভ ম     ধ্বনি হিসেবে এগুলো 'ওষ্ঠ্য ধ্বনি'      বর্ণ হিসেবে 'প' বর্গীয়

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি; ২০১৯ সংস্করণ]
২৬৭.
' যুক্ত' অর্থে কোন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) যুক্ত
  2. খ) ইতরামি
  3. গ) গেঁয়ো
  4. ঘ) টেকো
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেকো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) টেকো
ব্যাখ্যা
প্রত্যয় যোগ করলে শব্দের অর্থ অনেক সময় বদলে যায়- 

- অবজ্ঞা অর্থে: চোর→চোরা। 
- বৃহৎ অর্থে: ডিঙি → ডিঙা।
- সদৃশ  অর্থে: বাঘ→ বাঘা।
- আগত অর্থে: দখিন → দখিনা।
- আদর অর্থে: কানু → কানাই।
- জাত অর্থে: ঢাকা → ঢাকাই। 
- ভাব অর্থে: ইতর → ইতরামি।
- নিন্দা অর্থে: জেঠা → জেঠামি।
- পেশা অর্থে: ডাক্তার → ডাক্তারি।
- মালিক অর্থে: জমিদার → জমিদারি।
- উপকরণ অর্থে: মাটি → মেটে। 
- নৈপুণ্য অর্থে: না → নেয়ে।
- রোগগ্রস্থ অর্থে: বাত → বেতো।
- যুক্ত অর্থে: টাক  → টেকো।
- সংশ্লিষ্ট অর্থে: গাঁ → গেঁয়ো। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬৮.
উচ্চারণস্থান অনুযায়ী উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি কয় ভাগে বিভক্ত?
  1. ২ভাগে
  2. ৩ ভাগে
  3. ৪ ভাগে
  4. ৫ ভাগে
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ ভাগে
ব্যাখ্যা
⇒ উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
যেমন:  সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।

- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ) – এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
২৬৯.
ঘোষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ঘোষ অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি -

ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যেমন - ব, ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, , ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যেমন - প, ফ, ত, থ, স, ট, ঠ, চ, ছ, শ, ক, খ।

ধ্বনি সৃষ্টিতে বায়ুর প্রবাহ অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ুপ্রবাহের বেগ কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: অল্পপ্রাণ ও মহাপ্রাণ।
 
অল্পপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম, সেগুলােকে বলা হয় অল্পপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - প, ব, ত, দ, স, ট, ড, ড়, চ, জ, শ, ক, গ ইত্যাদি।

মহাপ্রাণ ব্যঞ্জন:
সেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ুপ্রবাহ অপেক্ষাকৃত বেশি, সেগুলােকে বলা হয় মহাপ্রাণ ধ্বনি।
যেমন - ফ, ভ, থ, ধ, ঠ, ঢ, ঢ়, ছ, ঝ, খ, ঘ, হ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭০.
নিচের কোন শব্দে 'অ' বর্ণের উচ্চারন [ও] এর মতো হবে?
  1. অদ্য
  2. কথা
  3. অনাথ
  4. অনেক
সঠিক উত্তর:
অদ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অদ্য
ব্যাখ্যা
• 'অদ্য' শব্দটিতে অ বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো হয়।

• স্বরবর্ণ  অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭১.
ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি -
  1. ক, ন
  2. থ, দ
  3. ব, ঙ
  4. স, হ
সঠিক উত্তর:
ব, ঙ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব, ঙ
ব্যাখ্যা
ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: , ভ, ম, দ, ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, , হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: প, ফ, ত, , , ট, ঠ, চ, ছ, শ, , খ।

অভিসম্বন্ধ: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭২.
উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• উষ্ম ব্যঞ্জনধ্বনি নয়- ম।
- ‘ম’ হচ্ছে নাসিক্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• উষ্ম ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ কাছাকাছি এসে নিঃসৃত বায়ুতে ঘর্ষণ সৃষ্টি করে, সেগুলােকে উষ্ম ব্যঞ্জন বলে।
- সালাম, শসা, হুঙ্কার প্রভৃতি শব্দের স, শ, হ উষ্ম ধ্বনির উদাহরণ।
- উচ্চারণস্থান অনুসারে উষ্ম ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলােকে দন্তমূলীয় (স), তালব্য (শ), এবং কণ্ঠনালীয় (হ)- এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- এগুলাের মধ্যে স এবং শ-কে আলাদাভাবে শিস ধ্বনিও বলা হয়ে থাকে। কারণ স, শ উচ্চারণে শাস অনেকক্ষণ ধরে রাখা যায় এবং শিসের মতাে আওয়াজ হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২২ সংস্করণ)।
২৭৩.
‘বিজ্ঞাপন’ শব্দে ব্যবহৃত যুক্তবর্ণ কোন বর্ণদ্বয়ের সমন্বয়ে গঠিত?
  1. ক) জ্‌ + ঞ
  2. খ) গ্‌ + গ
  3. গ) ঞ + জ
  4. ঘ) গ + ঙ
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌ + ঞ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) জ্‌ + ঞ
ব্যাখ্যা

জ্ঞ = জ্‌ + ঞ, যেমন: জ্ঞান, বিজ্ঞান, বিজ্ঞাপন, বিজ্ঞ ইত্যাদি।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৭৪.
নিচের কোন শব্দে 'এ' ধ্বনির উচ্চারণ বিবৃত?
  1. দেহ
  2. তেলাপোকা
  3. রেণু
  4. মেঘ
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তেলাপোকা
ব্যাখ্যা

‘এ' ধ্বনির উচ্চারণ দুই রকম।
যথা,
সংবৃত ও বিবৃত।

- 'এ' যদি 'এ' এর মতো উচ্চারণ হয় সেটাকে স্বাভাবিক বা সংবৃত উচ্চারণ বলে।
যেমন : দেশ, একটি, এলো, দেহ, রেণু, মেঘ ইত্যাদি।

• এ ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ ইংরেজি ক্যাট ও ব্যাট এর মতো।
যেমন,
তেলাপোকা, একা (এ্যাকা)।

• এ- ধ্বনির এই বিবৃত উচ্চারণ কেবল শব্দের আদিতেই পাওয়া যায়, শব্দের মধ্যে ও অন্তে পাওয়া যায় না।

• 'তেলাপোকা' শব্দে 'তে' অংশে বিবৃত 'এ' উচ্চারিত হয়।
কারণ,বিবৃত 'এ':
- মুখ বেশি খোলা হয়
উদাহরণ: তেলাপোকা (ত্যালাপোকা), কেন, বেলা, মেলা।

------------------------- 
• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা,
- সংবৃত,
- অর্ধ- সংবৃত,
- অর্ধ- বিবৃত,
- বিবৃত

উল্লেখ্য, 
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে;
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)৷

২৭৫.
'ঙ'-এর সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. উয়ঁ
  2. উঁয়ো
  3. উঁঅ
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা
• ঙ [উয়োঁ, উঁয়]:
- পঞ্চম ব্যঞ্জনবর্ণ এবং ক-বর্গের পঞ্চম বর্ণ।
- ‘উয়ঁ’, ‘উঁয়ো’ বা ‘উমা’; উঁঅ রূপে উচ্চারিত হয়। 
- এর উচ্চারণ স্থান নাসিকা।
- এটি ঘোষ পশ্চাত্তালুজাত নাসিক্য ব্যঞ্জন ধ্বনি। 
- এর উচ্চারণ হুবহু ‍অনুস্বারের (s) মতো।

উৎস: অভিগম্য অভিধান; বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান।
২৭৬.
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন নয় কোনটি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন নয় -
- এটি ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন।

কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
- যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে।
- কাকা, খালু, গাধা, ঘাস, কাঙাল প্রভৃতি শব্দের ক, , গ, , কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৭৭.
পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে 'স্মরণ' শব্দের ক্ষেত্রে কোনটি ঘটে?
  1. স-এর উচ্চারণ শ হয়ে যায়
  2. ণ-এর উচ্চারণ ন হয়ে যায়
  3. ম-ফলার উচ্চারণ ম হয়ে যায় 
  4. শুরুতে নাসিক্য উচ্চারণ হয় না
সঠিক উত্তর:
স-এর উচ্চারণ শ হয়ে যায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স-এর উচ্চারণ শ হয়ে যায়
ব্যাখ্যা

বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারেভ স্মরণ (বিশেষ্য পদ) শব্দের প্রমিত উচ্চারণ - শঁরোন্। 

পূর্ববঙ্গীয় (ঢাকাইয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী ইত্যাদি) উচ্চারণে "স্ম" ধ্বনির শুরুতে "স" প্রায়শই "শ" ধ্বনিতে রূপ নেয়। তাই "স্মরণ" উচ্চারণ হয় "শঁরোন"। সুতরাং পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে স-এর উচ্চারণ শ হয়ে যায়। 

অন্যান্য অপশনগুলোর বিশ্লেষণ:
খ) ণ-এর উচ্চারণ ন হয়ে যায়: লিখিত রূপে 'ণ' থাকলেও উচ্চারণগত দিক থেকে এ বর্ণটি দন্ত্য 'ন'-এর সঙ্গে অভিন্ন। 'ণ' ও 'ন' এর উচ্চারণগত ভিন্নতা নেই দুইটি পরিপূরক বর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। স্মরণ শব্দে 'ণ' এর উচ্চারণগত কোনো পরিবর্তন ঘটেনি, তাই এটি সঠিক নয়।

গ) ম-ফলার উচ্চারণ ম হয়ে যায়: ‘স্মরণ’ শব্দে ‘ম’ ফলাযুক্ত নয়; এটি একটি স্বাধীন ব্যঞ্জনবর্ণ। তাই এই অপশনটি প্রযোজ্য নয়।

ঘ) শুরুতে নাসিক্য উচ্চারণ হয় না: ‘স্মরণ’ শব্দে শুরুতে নাসিক্য ধ্বনি (ঁ) থাকে (যেমন: শঁরোন্), এবং পূর্ববঙ্গীয় উচ্চারণে এই নাসিক্যতা সাধারণত বজায় থাকে। তাই এটি সঠিক নয়।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান এবং ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

২৭৮.
'অন্যূন' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) অন্‌নুন
  2. খ) অন্‌নুনো
  3. গ) অন্‌নোনু
  4. ঘ) অন্‌নুন্য
সঠিক উত্তর:
খ) অন্‌নুনো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অন্‌নুনো
ব্যাখ্যা
অন্যূন  [অন্‌নুনো] [স. ন+নি+√ঊন্‌+অ] ক্রিয়াবিশেষণ
- অন্তত;
- কমপক্ষে
বিশেষণ  - সম্পূর্ণ
              - সমগ্র

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, একাডেমি অভিধান।
২৭৯.
'জ্ঞান' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. গ্যাঁন্‌
  2. গেন্‌
  3. গ্যান্‌
  4. জ্ঞ্যাঁন
সঠিক উত্তর:
গ্যাঁন্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ্যাঁন্‌
ব্যাখ্যা
আ: আ-এর উচ্চারণও দু রকম:

স্বাভাবিক (আ-এর মতো):
- আগামী (আগামি), আম্‌রা (আম্মা), আশা (আশা), আকাশ (আকাশ্‌), আলো (আলো)।

সংবৃত বা পরিবর্তিত (অ্যা-এর মতো):
- জ্ঞান (গ্যাঁন্‌), বিখ্যাত (বিক্‌খ্যাতো)।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
২৮০.
'পরশ্ব' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. ক) পরশ্শু‌
  2. খ) পরশু
  3. গ) পোরশ্‌শ
  4. ঘ) পরোশ্‌শো
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরোশ্‌শো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পরোশ্‌শো
ব্যাখ্যা
-  'পরশ্ব' শব্দের সঠিক উচ্চারণ হচ্ছে পরোশ্‌শো

• পরশ্ব:
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- এর অর্থ আগামীকালের পরবর্তী বা গতকালের পূর্ববর্তী দিন, পরশু।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
২৮১.
রত্ন > রতন এখানে কোনটি ঘটেছে?
  1. ক) স্বরাগম
  2. খ) অপিনিহিতি
  3. গ) অসমীকরণ
  4. ঘ) স্বরসংগতি
সঠিক উত্তর:
ক) স্বরাগম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) স্বরাগম
ব্যাখ্যা
সময় সময় উচ্চারণের সুবিধার জন্য সংযুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনির মাঝখানে স্বরধ্বনি আসে। একে বলা হয় মধ্যস্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ। যেমন : গ্রাম > গেরাম। আরো কয়েকটি উদাহরণ- রত্ন > রতন, প্রীতি > পিরীতি, ধর্ম > ধরম, স্বপ্ন > স্বপন ইত্যাদি।
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি
২৮২.
অর্ধ-বিবৃত পশ্চাৎ স্বরধ্বনি কোনটি?
  1. অ্যা
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• অর্ধ-বিবৃত পশ্চাৎ স্বরধ্বনি -

স্বরধ্বনি:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে বায়ু মুখগহ্বরের কোথাও বাধা পায় না, সেগুলোকে স্বরধ্বনি বলে।

• জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত:
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - [ই], [এ], [অ্যা]।
২. মধ্য স্বরধ্বনি - [আ]।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি [অ], [ও], [উ]।
- সম্মুখ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ সামনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়; পশ্চাৎ স্বরধ্বনির বেলায় জিভ পিছনের দিকে উঁচু বা নিচু হয়।

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত:
১. সংবৃত - [ই], [উ]।
২. অর্ধ-সংবৃত - [এ], [ও]।
৩. অর্ধ-বিবৃত - [অ্যা], [অ]
৪. বিবৃত - [আ]।
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে; বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।
 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৩.
'লাউ' শব্দের মধ্যে কোন কোন স্বরধ্বনি আছে?
  1. ক) অ+উ
  2. খ) ই+উ
  3. গ) অ+ই্‌
  4. ঘ) আ+উ্‌
সঠিক উত্তর:
ঘ) আ+উ্‌
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আ+উ্‌
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
- পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়।
যেমন - লাউ শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বনি এবং [উ্‌] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [আউ্‌] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ:
[আই্‌]: তাই, নাই।
[এই্‌]: সেই, নেই।
[আও্‌]: যাও, দাও।
[আএ্‌]: খায়, যায়।

- বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে। যথা: ঐ এবং ঔ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
২৮৪.
'ষ্ণ' যুক্তবর্ণটির বর্ণ দুটি হলো-
  1. ক + ষ
  2. হ + ম
  3. জ + ঞ
  4. ষ + ণ
সঠিক উত্তর:
ষ + ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ষ + ণ
ব্যাখ্যা

• ষ্ণ = ষ + ণ, যেমন- কৃষ্ণ, কৃষ্ণচূড়া, তৃষ্ণা, উষ্ণ ইত্যাদি।
• ক্ষ = ক + ষ,
• হ্ম = হ + ম,
• জ্ঞ = জ + ঞ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

২৮৫.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. ষ্‌ + ন= ষ্ণ
  2. ঙ্ +ক = ঙ্ক
  3. হ্‌ + ম =ক্ষ
  4. জ্‌ + ঞ = ঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ঙ্ +ক = ঙ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঙ্ +ক = ঙ্ক
ব্যাখ্যা
সঠিক যুক্তবর্ণ হলো: ঙ্ +ক = ঙ্ক

আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তবর্ণঃ
- ঙ্ + গ = ঙ্গ
- ঙ্ +ক = ঙ্ক
- ক্, + র = ক্র
- ঞ্ঝ = ঞ্ + ঝ,
- ক্ষ = ক্‌ + ষ,
- হ্ম = হ্‌ + ম,
- জ্ঞ = জ্‌ + ঞ,
- ষ্ণ = ষ্‌ + ণ।

[উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি সংস্করণ ২০১৯]
২৮৬.
নিচের কোন শব্দে 'অ' বর্ণের উচ্চারন [ও] এর মতো হবে?
  1. ক) অনেক
  2. খ) অনাথ
  3. গ) কথা
  4. ঘ) পক্ষ
সঠিক উত্তর:
ঘ) পক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পক্ষ
ব্যাখ্যা
• 'অদ্য' শব্দটিতে অ বর্ণের উচ্চারণ [ও] এর মতো হয়।

• স্বরবর্ণ  অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]।
- সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

• অ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: অনেক [অনেক্], কথা [কথা], অনাথ [অনাথ্]।
• অ বর্ণের [ও] উচ্চারণ: অতি [ওতি], অণু [ওনু], পক্ষ [পোখো], অদ্য [ওদো], মন [মোন্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৭.
স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ কোনটি?
  1. ক) গ্ধ
  2. খ) ক্ত
  3. গ) ষ্ঠ
  4. ঘ) হৃ
সঠিক উত্তর:
গ) ষ্ঠ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ষ্ঠ
ব্যাখ্যা
একাধিক বর্ণ যুক্ত হয়ে যুক্তবর্ণ তৈরি হয়। যুক্ত হওয়া বর্ণগুলোকে দেখে কখনো সহজে চেনা যায়, কখনো সহজে চেনা যায় না।
 এদিক দিয়ে যুক্তবর্ণ দুই রকম: স্বচ্ছ ও অস্বচ্ছ।

স্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: ক্ট, জ্জ, জ্ব, ঞ, ণ্ড, ণ্ট, ণ্ঠ, দ্দ, দ্ব, ঋ, ণ্ঠ, ড, ন্স, প্ট, প্ত, প্প, ন্স, জ, ল্প, ল্ট, ল্ড, ল্প, ফ, শ্চ, শ্ছ, ষ্ট, ষ্ঠ, স্ফ, স্খ, স্ট, স্ক ইত্যাদি।

অস্বচ্ছ যুক্তবর্ণ: 
ক্ত (ক্+ত), 
গ্ধ (গ্+ধ), 
হৃ (হ+ঋ), 
ক্ম (ক্+ম), 
ক্ষ (ক্+ষ), 
ক্ষ্ম (ক্+ষ্+ম),
ক্স (ক্+স), 
গু (গ্+উ),
ঙ্গ (ঙ্+গ), 
জ্ঞ (জ+ঞ), 
ঞ্চ (ঞ+চ), 
ঞ্জ (ঞ+জ), 
ষ্ণ (ষ্+ণ)
হু (হ্+উ), 
হ্ন (হ্+ন), 
হ্ম (হ্+ম) ইত্যাদি।
 
উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৮.
নিচের কোনটি উচ্চমধ্য-সম্মুখ স্বরধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা

স্বরধ্বনির উচ্চারণ:
উচ্চারণের সময়ে জিভের উচ্চতা অনুযায়ী, জিভের সম্মুখ-পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী এবং ঠোঁটের উন্মুক্তি অনুযায়ী স্বরধ্বনিকে ভাগ করা হয়।

উচ্চারণের সময়ে জিভ কতটা নিচে নামে সেই অনুযায়ী স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. উচ্চ স্বরধ্বনি - ই, উ।
২. উচ্চ -মধ্য স্বরধ্বনি - , ও।
৩. নিম্ন-মধ্য স্বরধ্বনি - অ্যা, অ।
৪. নিম্ন স্বরধ্বনি - আ।

আবার, জিভের সম্মুখ - পশ্চাৎ অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি তিন ভাগে বিভক্ত।
যথা -
১. সম্মুখ স্বরধ্বনি - ই, , অ্যা।
২. মধ্য স্বরধ্বনি: আ।
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি: অ, ও, উ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৮৯.
নিচের কোন শব্দে এ ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ হয়েছে?
  1. মেলা
  2. দেশ
  3. দেহ
  4. মেঘ
সঠিক উত্তর:
মেলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মেলা
ব্যাখ্যা

‘এ' ধ্বনির উচ্চারণ দুই রকম।
যথা,
সংবৃত ও বিবৃত।

• 'এ' যদি 'এ' এর মতো উচ্চারণ হয় সেটাকে স্বাভাবিক বা সংবৃত উচ্চারণ বলে।
যেমন : দেশ, একটি, এলো, দেহ, রেণু, মেঘ ইত্যাদি।

• 'এ' ধ্বনির বিবৃত উচ্চারণ ইংরেজি ক্যাট ও ব্যাট এর মতো।
• 'এ'- ধ্বনির এই বিবৃত উচ্চারণ কেবল শব্দের আদিতেই পাওয়া যায়, শব্দের মধ্যে ও অন্তে পাওয়া যায় না।
• 'তেলাপোকা' শব্দে 'তে' অংশে বিবৃত 'এ' উচ্চারিত হয়।
কারণ,বিবৃত 'এ':
- মুখ বেশি খোলা হয়
উদাহরণ: তেলাপোকা (ত্যালাপোকা), কেন, বেলা, মেলা(ম্যালা)

• স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় ঠোঁট কতটুকু খোলা বা বন্ধ থাকে অর্থাৎ কী পরিমাণ উন্মুক্ত হয়, তার ভিত্তিতে স্বরধ্বনি চার ভাগে বিভক্ত।
যথা,
- সংবৃত,
- অর্ধ- সংবৃত,
- অর্ধ- বিবৃত,
- বিবৃত
উল্লেখ্য, 
- সংবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট কম খোলে;
- বিবৃত স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ঠোঁট বেশি খোলে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)৷

২৯০.
‘‌মৌ’ শব্দের মধ্যে কোন দুটি স্বরধ্বনি আছে?
  1. ও + ই্
  2. আ + ও্
  3. ও + উ্
  4. ও + অ্
সঠিক উত্তর:
ও + উ্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ও + উ্
ব্যাখ্যা
• দ্বিস্বরধ্বনি:
পূর্ণ স্বরধ্বনি ও অর্ধস্বরধ্বনি একত্রে উচ্চারিত হলে দ্বিস্বরধ্বনি হয়। যেমন 'লাউ' শব্দের [আ] পূর্ণ স্বরধ্বরি এবং [উ্] অর্ধস্বরধ্বনি মিলে দ্বিস্বরধ্বনি [লাউ] তৈরি হয়েছে।

দ্বিস্বরধ্বনির কিছু উদাহরণ: 
[আই্]: তাই, নাই।
[এই্]: সেই, নেই।
[আও্]: যাও, দাও।
[আএ্]: খায়, যায়।
[উই্]: দুই, রুই।
[অএ্]: নয়, হয়।
[ওউ্]: মৌ, বউ।
[ওই্]: কৈ, দই।
[এউ্]: কেউ, ঘেউ।

বাংলা বর্ণমালায় দুটি দ্বিস্বরধ্বনির জন্য আলাদা বর্ণ নির্ধারিত আছে, যথা: ঐ এবং ঔ। ঐ-এর মধ্যে দুটি ধ্বনি আছে, একটি পূর্ণ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [ই্]। একইভাবে ঔ-এর মধ্যে রয়েছে একটি পৃ স্বরধ্বনি [ও] এবং একটি অর্ধস্বরধ্বনি [উ্]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯১.
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে বলে-
  1. ক) কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন
  2. খ) তাবল্য ব্যঞ্জন
  3. গ) মূর্ধন্য ব্যঞ্জন
  4. ঘ) দন্ত্য ব্যঞ্জন
সঠিক উত্তর:
খ) তাবল্য ব্যঞ্জন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) তাবল্য ব্যঞ্জন
ব্যাখ্যা
⇒ তাবল্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা খানিকটা প্রসারিত হয়ে শক্ত তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে তাবল্য ব্যঞ্জন বলে। যেমন: চাচা, ছাগল, জাল, ঝড়, শসা প্রর্ভতি শব্দের চ, ছ, জ, ঝ, শ তাবল্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

অন্যদিকে,
কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের পিছনের অংশ উঁচু হয়ে আলজিভের কাছাকাছি নরম তালুর কাছে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলোকে কণ্ঠ্য ব্যঞ্জন বলে। কণ্ঠ্য ব্যঞ্জনধ্বনিগুলো হলো- ক, খ, গ, ঘ, ঙ।

• মূর্ধন্য ব্যঞ্জন:
দন্তমূল এবং তালুর মাঝখানে যে উঁচু অংশ থাকে তার নাম মূর্ধা। যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা মূর্ধার সঙ্গে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে মূর্ধন্য ব্যঞ্জন বলে। ট, ঠ, ড, ঢ, ড়, ঢ় মূর্ধন্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

• দন্ত্য ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে জিভের ডগা উপরের পাটির দাঁতে লেগে বায়ুপথে বাধা সৃষ্টি করে, সেগুলােকে দন্ত্য ব্যঞ্জন বলে।
তাল, থালা, দাদা, ধান প্রভৃতি শব্দের ত, থ, দ, ধ দন্ত্য ব্যঞ্জনধ্বনির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯২.
'সংস্করণ' শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ কোনটি?
  1. শংশ্‌করোণ
  2. শংকরোন্
  3. শংশ্‌করোন্
  4. শংকরোন
সঠিক উত্তর:
শংশ্‌করোন্
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শংশ্‌করোন্
ব্যাখ্যা

• সংস্করণ (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- শুদ্ধ উচ্চারণ- [শংশ্‌করোন্]।
অর্থ:
- সংশোধন, পরিমার্জন।
- গ্রন্থের একদফায় মুদ্রিত ও প্রকাশিত প্রস্থ। 
- বিশেষ উদ্দেশ্যে মুদ্রণ ও প্রকাশন (সুলভ সংস্করণ)।

ইংরেজি পারিভাষিক- Edition.

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান। 

২৯৩.
কোনটিতে 'স' বর্ণের [শ] উচ্চারণ হয়েছে?
  1. শৃগাল
  2. সালাম
  3. আস্তে
  4. সামান্য
সঠিক উত্তর:
সামান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য
ব্যাখ্যা

শ, ষ, স এর উচ্চারণ: 
- শ কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- স কখনাে [শ]-এর মতাে উচ্চারিত হয়, আবার কখনাে [স]-এর মতাে উচ্চারিত হয়।
- ষ বর্ণের উচ্চারণ সব সময়ে [শ]।

উদাহরণ:
- শ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: শত [শতো], শসা [শশা]।
- শ বর্ণের [স] উচ্চারণ: শ্রমিক [স্রোমিক্‌], শৃগাল [সৃগাল্‌]।
- ষ বর্ণের [শ] উচ্চারণ: ভাষা [ভাশা], ষােলাে [শােলাে]।
- স বর্ণের [শ] উচ্চারণ: সাধারণ [শাধারােন], সামান্য [শামান্‌নো]
- স বর্ণের [স] উচ্চারণ: আস্তে [আসতে], সালাম [সালাম্‌]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০২১)।

২৯৪.
‘প, ভ’ কোন ধরনের স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন?
  1. ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
  2. দন্ত স্পৃষ্ট
  3. কণ্ঠ স্পৃষ্ট
  4. মূর্ধা স্পৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওষ্ঠ স্পৃষ্ট
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাপ্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি। 

উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি,  নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৯৫.
স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণস্থান নয় কোনটি?
  1. মূর্ধা
  2. তালু
  3. কণ্ঠনালীয়
  4. ওষ্ঠ
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠনালীয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণ্ঠনালীয়
ব্যাখ্যা
• স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনের উচ্চারণস্থান নয় - কণ্ঠনালীয়। 

⇒ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন:
যেসব ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে দুটি বাক্প্রত্যঙ্গ পরস্পরের সংস্পর্শে এসে বায়ুপথে বাধা তৈরি করে, সেগুলোকে স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন বলে। এগুলো স্পর্শ ব্যঞ্জনধ্বনি নামেও পরিচিত। পথ, তল, টক, চর, কল শব্দের প, ত, ট, চ, ক স্পৃষ্ট ব্যঞ্জনধ্বনি। 

- উচ্চারণস্থান অনুযায়ী এগুলোকে এই পাঁচ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা :
• ওষ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: প, ফ, ব, ভ।
• দন্ত স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ত, থ, দ, ধ।
• মূর্ধা স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ট, ঠ, ড, ঢ।
• তালু স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: চ, ছ, জ, ঝ।
• কণ্ঠ স্পৃষ্ট ব্যঞ্জন: ক, খ, গ, ঘ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯৬.
'আত্মীয়' শব্দের সঠিক উচ্চারণ কোনটি?
  1. আত্‌তিঁও
  2. আত্‌তিঁয়ো
  3. আত্‌তীয়োঁ
  4. আত্‌তিয়ো
সঠিক উত্তর:
আত্‌তিঁয়ো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্‌তিঁয়ো
ব্যাখ্যা
'ম' বর্ণের উচ্চারণ:
- বর্ণের সাধারণ উচ্চারণ [ম]। শব্দের প্রথম বর্ণে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণের সময়ে ম-এর উচ্চারণ [অঁ]-এর মতো হয়।

যেমন:
- শ্মশান [শশান্‌], স্মরণ [শঁরোন্]।

• শব্দের মধ্যে ম-ফলা থাকলে সেই বর্ণ উচ্চারণে দ্বিত্ব হয় এবং সামান্য অনুনাসিক হয়।
যেমন:
- আত্মীয় [আত্‌তিঁয়ো], পদ্ম [পদ্‌দোঁ]।

• কিছু ক্ষেত্রে ম-ফলায় ম্-এর উচ্চারণ বজায় থাকে।
যেমন:
- যুগ্ম [জুগ্‌মো], জন্ম [জন্‌মো], গুল্ম [গুল্‌মো]।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৯৭.
আ-এর সংবৃত উচ্চারণ হয়েছে নিচের কোন শব্দে?
  1. আগামী 
  2. আলো
  3. আকাশ
  4. জ্ঞান
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্ঞান
ব্যাখ্যা

• আ: আ-এর উচ্চারণও দু রকম:
১. স্বাভাবিক (আ-এর মতো): আগামী (আগামি), আশা (আশা), আকাশ (আকাশ্‌), আলো (আলো)।

২. সংবৃত বা পরিবর্তিত (অ্যা-এর মতো): জ্ঞান (গ্যাঁন্‌), বিখ্যাত (বিক্‌খ্যাতো)।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

২৯৮.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ নয়?
  1. ক) চিকচিক
  2. খ) টিক টিক
  3. গ) মিউ মিউ
  4. ঘ) রাশি রাশি
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাশি রাশি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) রাশি রাশি
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দের আভিধানিক অর্থ- দুবার বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোন শব্দ বা পদের পরপর দুবার প্রয়োগ বা পুনরাবৃত্তিকেই দ্বিরুক্ত শব্দ বলে ।

বাংলা ভাষায় এমন বহু দ্বিরুক্ত শব্দ আছে যা কোন বাস্তব ধ্বনির অনুকারী বা নিছক কোন ধ্বনির কাল্পনিক অনুকরণ করে। এই জাতীয় শব্দকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এমন একই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নামই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা ধ্বনির দ্বিরুক্তি।

এই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দগুলো বাংলা ভাষার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, 'সে সকল শব্দ ভাষা হইতে বাদ দিলে বঙ্গভাষার বর্ণনাশক্তি নিতান্তই পঙ্গু হইয়া পড়ে।” 

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে : ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে : মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে : ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
৪। অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ : চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৯.
'অ্যা' এর মতো উচ্চারিত হয় কোন বর্ণ?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
[এ] বর্ণের উচ্চারণ:
এ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [এ] এবং [অ্যা]। সাধারণ উচ্চারণ [এ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে এ কখনো কখনো [অ্যা] উচ্চারিত হয়।

- এ বর্ণের স্বাভাবিক উচ্চারণ: একটি [একটি], দেশ [দেশ], এলো [এলো]।
- এ বর্ণের [অ্যা] উচ্চারণ: একটা [অ্যাক্টা], বেলা [ব্যালা], খেলা [খ্যালা]।

অন্যদিকে, 
---------------
• [ঐ] বর্ণের উচ্চারণ:
ঐ বর্ণের উচ্চারণ [ওই): ঐকিক [ওইকিক্], তৈল [তোইলো]।

• [ও] বর্ণের উচ্চারণ:
ও বর্ণের উচ্চারণ [ও]: ওল [ওল্], বোধ [বোধ]।

• [অ] বর্ণের উচ্চারণ:
অ বর্ণের উচ্চারণ দুই রকম: [অ] এবং [ও]। সাধারণ উচ্চারণ [অ], কিন্তু পাশের ধ্বনির প্রভাবে [অ] কখনো কখনো [ও]-এর মতো উচ্চারিত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩০০.
নিচের কোনটি ঘোষ ধ্বনি?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• ঘোষ ব্যঞ্জনধ্বনি -

ধ্বনির কম্পনমাত্রা অনুযায়ী বিভাজন:
ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময়ে স্বরযন্ত্রের ধ্বনিদ্বারে বায়ুর কম্পন কমবেশি হওয়ার ভিত্তিতে ব্যঞ্জনধ্বনিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: ঘোষ ও অঘোষ।

ঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত বেশি, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় ঘোষধ্বনি।
যথা: ব, ভ, ম, , ধ, ন, র, ল, ড, ঢ, ড়, ঢ়, জ, ঝ, গ, ঘ, ঙ, হ।

অঘোষ ব্যঞ্জন:
যেসব ধ্বনি উচ্চারণের সময়ে ধ্বনিদ্বারের কম্পন অপেক্ষাকৃত কম, সেসব ধ্বনিকে বলা হয় অঘোষধ্বনি।
যথা: , ফ, ত, থ, স, ট, ঠ,, ছ, শ, ক,

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।