বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি:
- বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, এককেন্দ্রিক ও সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার রাষ্ট্র।
- এর সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে সরকার কাঠামো কেন্দ্রিয় ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
⇒ বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কাঠামো ও কার্যগতভাবে কতগুলো বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে।
- সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক ও সংসদীয় কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- অর্থাৎ এই সরকার কাঠামোয় একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারই রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল সূতিকাগার হিসেবে আইন প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যা সংক্রান্ত বিষয়ে ভূমিকা পালন করবে।
- সরকারের তিনটি অঙ্গ- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। প্রতিটি অঙ্গ 'নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য' নীতির মাধ্যমে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্যকরি। একটি বিভাগ কখনও অন্য বিভাগের কার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- সংসদীয় সরকার কাঠামোর নিয়ম মেনে বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংসদকে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী বিভাগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
- আইন অনুযায়ী শাসন বিভাগের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদ হল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
- এই সরকার ব্যবস্থায় একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং বাংলাদেশ সংবিধানের ধারা ৫৫-র ৩ অনুসারে মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবে।
উল্লেখ্য,
- এককেন্দ্রিক সরকার এক ধরনের একক, অখন্ড ও সুসংবদ্ধ সরকার ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। এ ধরনের শাসন ব্যবস্থায় কেন্দ্রই থাকে সকল ক্ষমতার উৎস। এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থায় আঞ্চলিক বা স্থানীয় সরকারের অস্তিত্ব থাকতে পারে, এ সরকারগুলো কিছু কিছু ক্ষমতা উপভোগ করতেও পারে। তবে তাদের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে এ সরকারগুলো তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে। কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছা করলে এ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, কমাতেও পারে।
- এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় স্থানীয় বা আঞ্চলিক সরকারগুলোর সাংবিধানিক কোন ক্ষমতা নেই। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান, বাংলাদেশ এ ধরনের সরকারের উদাহরণ।
অন্যদিকে,
- যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার হলো এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে বন্টন করা হয়।এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা বন্টন এমন প্রক্রিয়ায় হয়, যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার ও আঞ্চলিক সরকার প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।
উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।