বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

মোট প্রশ্ন১,৮৩৫এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা

PrepBank · পাতা / ১৯ · ১০১২০০ / ১,৮৩৫

১০১.
কোনটিকে সরকারের ফিফথ স্টেট বলা হয়?
  1. সিভিল সোসাইটি
  2. বিচার বিভাগ
  3. জনগণ
  4. গণমাধ্যম
ব্যাখ্যা
• সরকারের স্তম্ভ:
- সরকার প্রধানত তিনটি বিভাগ বা স্তম্ভ নিয়ে গঠিত।
- এগুলো হলো:
→ শাসন বিভাগ,
→ আইন বিভাগ ও
→ বিচার বিভাগ।

- এদের বাহিরে পণ্ডিতগণ অঘোষিতভাবে গণমাধ্যমকে সরকারের চতুর্থ স্তম্ভ বলা হয়।
- সিভিল সোসাইটিকে সরকারের পঞ্চম স্তম্ভ বা ফিফথ স্টেট বলা হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথমপত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, মো. মোজাম্মেল হক।
১০২.
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রধানকে কী বলা হয়?
  1. পরিচালক
  2. রেক্টর
  3. মহাপরিচালক
  4. প্রশাসক
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড:
-‘কোস্ট গার্ড এ্যাক্ট ১৯৯৪’ মহান জাতীয় সংসদে পাশ করার মাধ্যমে বাংলাদেশে কোস্ট গার্ড গঠন করা হয়।
- এবং ১৯৯৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে "GUARDIAN AT SEA" মূলমন্ত্রে  একটি আধাসামরিক স্বতন্ত্র বাহিনী হিসাবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তার যাত্রা শুরু করে।
- প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে অদ্যাবধি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানা,
- তৎসংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চল এবং বিভিন্ন নদ-নদীতে অর্পিত দায়িত্ব পালন করে আসছে।
- বর্তমান সরকারের দূরদর্শিতা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডে সংযুক্ত হয়েছে ৯৮ টি আধুনিক ও দ্রুততর জলযান,
- এ বাহিনীর কার্যাবলীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে,
- বাংলাদেশের জাতীয় জলসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলে জলদস্যুতা দমন,
- মাদকদ্রব্য পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধ,
- মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ,
- সমুদ্রবন্দরের নিরাপত্তা প্রদান,
- প্রাকৃতিক দূর্যোগকালে উপকূলীয় এলাকায় ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ পরিচালনা
- এবং তেল, গ্যাস ও বনজ সম্পদ রক্ষাসহ উপকূলীয় পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধ।
- কোস্ট গার্ডের প্রধানকে মহাপরিচালক বলা হয়।

• বাংলাদেশের কোস্ট গার্ড নিম্নোক্ত কর্মকর্তা দ্বারা গঠিত হয়।
১।  কমডোর শফিক-উর-রহমান, (এন), এনসিসি, পিএসসি (মহাপরিচালক)
২।  ক্যাপ্টেন এন এ চৌধুরী, (জি), পিএসসি, বিএন  (পরিচালক, অপস অ্যান্ড টেকনিক্যাল)
৩।  কমান্ডার কে এম হাসান, (সি), পিএসসি, বিএন (উপ-পরিচালক, পূর্ব জোন)
৪।  কমান্ডার এস এম এম এ আবেদীন, (ই), পিএসসি, বিএন (উপ-পরিচালক, অপস্ অ্যান্ড টেকনিক্যাল)
৫।  কমান্ডার এম আর হুসেন, (এন), বিএন (উপ-পরিচালক, পশ্চিম জোন)।

উৎস: কোস্ট গার্ড ওয়েবসাইট।
১০৩.
সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণের অবসর বয়সসীমা কত?
  1. ৬৯ বছর
  2. ৬৮ বছর
  3. ৬৫ বছর
  4. ৬৭ বছর
ব্যাখ্যা
• সুপ্রিম কোর্ট:
- বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রিমকোর্ট।
- এর রয়েছে দুটি বিভাগ, যথা: আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।
- সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রধানবিচারপতি রয়েছেন, যাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বলা হয়।
- রাষ্ট্রপতি তাঁকে নিযুক্ত করেন।
- প্রত্যেক বিভাগের জন্য যতজন বিচারক প্রয়োজন ততজন বিচারককে নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট গঠিত।
-  প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিগণ বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হতে হলে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
- সুপ্রিম কোর্টে কমপক্ষে ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা বাংলাদেশে বিচার বিভাগীয় পদে ১০ বছর বিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণ ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে কর্মরত থাকতে পারেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
১০৪.
জাতীয় সংসদে 'কাউন্টিং' ভোট কি?
  1. সংসদ নেতার ভোট
  2. হুইপের ভোট
  3. স্পিকারের ভোট
  4. রাষ্ট্রপতির ভোট
ব্যাখ্যা
প্রশ্নে “কাউন্টিং” শব্দের পরিবর্তে “কাস্টিং” হবে।
• জাতীয় সংসদে 'কাস্টিং ভোট' হলো — স্পিকারের ভোট।

কাস্টিং ভোট (Casting Vote):
- সংসদে কখনো কখনো কোন বিষয়ে দু পক্ষের হা অথবা না ভোটের সংখ্যা সমান হয়ে যেতে পারে।
- এমন অবস্থায় স্পীকার নিজের ভোট দিয়ে সংসদের অচলাবস্থা দূর করেন।
- অন্যভাবে বলা যায়, কোন বিলের ভোটাভুটিতে যখন পক্ষে বিপক্ষে সমান ভোট পরে, তখন স্পিকার সংসদের সভাপতি হিসেবে তার ভোট প্রয়োগ করেন।
- একে নির্ণায়ক বা কাস্টিং ভোট বলে।
- এ ব্যতীত অন্যকোন ক্ষেত্রে স্পিকার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
- স্পিকারের এই ভোটটিই হলো 'কাস্টিং বা নির্ণায়ক ভোট'।

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান এর ৭৫ (১) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী:
”উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে সংসদে সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে, তবে সমসংখ্যক ভোটের ক্ষেত্র ব্যতীত সভাপতি (স্পিকার) ভোটদান করিবেন না এবং অনুরূপ ক্ষেত্রে তিনি নির্ণায়ক (casting) ভোট প্রদান করিবেন।”

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান, আরিফ খান।
১০৫.
পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দকে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. প্রধান বিচারপতি
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা

সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুসারে:

রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- প্রধানমন্ত্রী।
- প্রধান বিচারপতি।
- মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ।
- স্পিকার।
- ডেপুটি স্পিকার।

প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করান:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।

স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান:
- রাষ্ট্রপতি।
- সংসদ সদস্যবৃন্দ।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ সংবিধান।

১০৬.
লর্ড ব্রাইস এর মতে, সুনাগরিকের গুণ কোনটি?
  1. বিবেক 
  2. আত্মত্যাগ
  3. সচেতনতা
  4. জ্ঞান
ব্যাখ্যা

• সুনাগরিকের গুণাবলি:
- সুনাগরিক বলতে সেই ব্যক্তিকে বুঝায় যিনি রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য চিন্তাভাবনা করেন এবং প্রয়োজনীয় কর্তব্য সম্পাদন করেন।
- নিজের অধিকার এমনভাবে ভোগ করেন যাতে অন্যের সমঅধিকার ভোগের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি না হয়।
- তিনি রাষ্ট্রের আইন-কানুনের প্রতি আনুগত্য দান করেন এবং দেয় করসমূহ সময়মত পরিশোধ করেন।
- এরূপ নাগরিক রাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠ সম্পদ।

- লর্ড ব্রাইস বলেন, "সেই ব্যক্তি সুনাগরিক যে বুদ্ধি, আত্মসংযম ও বিবেক এ তিনটি গুণের অধিকারী।" 

উৎস: পৌরনীতি , বাংলাদেশ উন্মুক্তবিশ্ববিদ্যালয়।

১০৭.
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (NICAR) এর বর্তমান প্রধান কে?(সেপ্টেম্বর, ২০২৫)
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধান উপদেষ্টা
  3. জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
  4. মন্ত্রীপরিষদ সচিব
ব্যাখ্যা

NICAR:
- NICAR-এর পূর্ণরূপ: National Implementation Committee for Administrative Reform বা প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।
- এটি ১৯৮২ সালে গঠিত।
- ১৯৮২ সালের আগস্ট মাসে তৎকালীন উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক রিয়ার এডমিরাল এম.এ খানকে সভাপতি করে এ কমিটি গঠিত হয়। 
- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই কমিটির আহবায়ক।
- বর্তমান আহ্বায়ক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। 

উৎস: i) NICAR ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া।

১০৮.
নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্যে প্রয়োজন-
  1. সার্বভৌমত্ব
  2. জনসমষ্টি
  3. জাতিসংঘের সমর্থন
  4. সরকার
ব্যাখ্যা
• রাষ্ট্রের উপাদান:

- রাষ্ট্রের উপাদান চারটি।

• জনসমষ্টি:
- রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে জনসমষ্টি।
- জনসমষ্টি বলতে রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত জনগণকে বোঝায়।

• নির্দিষ্ট ভূখণ্ড:  নির্দিষ্ট ভূখণ্ড হচ্ছে রাষ্ট্রের অপরিহার্য দ্বিতীয় উপাদান।

• সরকার:
- রাষ্ট্রের অপরিহার্য তৃতীয় উপাদানটি হলো সরকার।
- সরকার গঠনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এর মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন আংশিকভাবে সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তিনটি বিভাগ থাকে- আইনবিভাগ, শাসনবিভাগ ও বিচারবিভাগ।
- এ তিন বিভাগের সমন্বয়ে সরকার গঠিত হয়।

•সার্বভৌমত্ব: - রাষ্ট্র গঠনের মুখ্য উপাদান সার্বভৌমত্ব বা সার্বভৌমিকতা।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।
১০৯.
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে আপিল বিভাগ রায় ঘোষণা করে কবে?
  1. ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২২ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ২৫ নভেম্বর, ২০২৫
  4. ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা:
- ২০ নভেম্বর, ২০২৫ সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে রায় ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টে আপিল বিভাগ।
- প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিতে রায় দেন।
- আপিল বিভাগ বলছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আর চতুর্দশ সংসদ নির্বাচন থেকে কার্যকর হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ৫৮খ-৫৮ঙ পর্যন্ত চারটা অনুচ্ছেদ যোগ করে জাতীয় নির্বাচনের সময়ে সরকার পরিচালনার জন্য ‘নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থা চালু করা হয়।
- ২০১১ সালে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় দেয় আপিল বিভাগ।

তথ্যসূত্র- পত্রিকা রিপোর্ট। [Link]

১১০.
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কার্যকর দপ্তর কয়টি? [ডিসেম্বর, ২০২৪]
  1. ১৮টি
  2. ২০টি
  3. ২২টি
  4. ২৫টি
ব্যাখ্যা
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
- বাংলাদেশের জন্য একটি আধুনিক ও সুন্দর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যয়কে সামনে রেখে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।
- সচিবালয় থেকে ১৯৭২ সালে এ মন্ত্রণালয়টি হাইকোর্ট ভবনে এবং ১৯৯৩ সালে শের-ই-বাংলা নগরের গণভবন কমপ্লেক্সে বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।

উল্লেখ্য, 
- প্রাথমিক পর্যায়ে ১৪টি দপ্তর/সংস্থা নিয়ে এ মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছিল।
- বর্তমানে ২৫টি দপ্তর/সংস্থা নিয়ে এ মন্ত্রণালয় পরিচালিত হচ্ছে।
- মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোতে বর্তমানে মোট পদসংখ্যা হয়েছে ২৩২টি।

উৎস: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১১১.
বাংলাদেশের উচ্চতর বিচার বিভাগ কোনটি?
  1. জেলা জজের আদালত
  2. হাইকোর্ট
  3. সুপ্রিম কোর্ট
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

সুপ্রিম কোর্ট:
- সুপ্রিম কোর্ট বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত।
- সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে থাকে।
- প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগকৃত নির্ধারিত সংখ্যক বিচারপতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট গঠিত।
- সুপ্রিম কোর্ট দেশের সর্বোচ্চ আদালত হিসেবে হাইকোর্ট বিভাগ ও আপীল বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- সুপ্রিম কোর্ট প্রধান বিচারপতি ও প্রত্যেক বিভাগের বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
- এসকল বিচারকবৃন্দ বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১২.
সংবিধান অনুযায়ী কোন অপরাধে ন্যূনতম কত বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত নাগরিক সংসদ সদস্য হতে পারবেন না?
  1. ৩ মাস
  2. ৬ মাস
  3. ১ বছর
  4. ২ বছর
ব্যাখ্যা

সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা:
- সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৫ বছর বয়স্ক বাংলাদেশী যেকোন নাগরিক সংসদ সদস্য হবার যোগ্যতা রাখে।
- অপ্রকৃতিস্থ, দেউলিয়া, বিদেশী নাগরিকত্ব অর্জন, কোন অপরাধে ২ বছরের জন্য সাজাপ্রাপ্ত নাগরিক সংসদ সদস্য হতে পারবেন না।
- সংসদের মেয়াদ ৫ বছর। তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- অধিবেশন আরম্ভ করার জন্য ৬০ সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম পূর্ণ হতে হয়।
- সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল সরকারি দলের এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসনে বিজয়ী দল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। সংসদ সদস্যগণ অনেকে একই সাথে হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে থাকেন।
- কোন সংসদ সদস্য নিজের ইচ্ছায় পদত্যাগ দাখিল করলে অথবা একাধারে ৯০ কার্যদিবস সংসদে অনুপস্থিত থাকলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে।
- তাছাড়া তিনি যে দল থেকে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সেই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে সে দলের বিপক্ষে ভোট দান করলেও তাঁর সদস্যপদ বাতিল হবে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১১৩.
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মোট আসন কয়টি?
  1. ২২৩টি
  2. ২৩০টি
  3. ২৭২টি
  4. ১৫১টি
ব্যাখ্যা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ
- ২৮টি রাজনৈতিক দল থেকে ১৯৭০ প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন।
- যার মধ্যে সতন্ত্র প্রার্থী ৪৩৬ জন।
- নারী প্রার্থী ৯৪ জন (বিজয়ী ২০ জন) ।
- ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রার্থী ৭৯ জন ।
- তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী ১ জন।
- নির্বাচনী ফলাফলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২২৪ আসনে বিজয় পায়।
- জাতীয় পার্টি ১১ আসনে বিজয় পায়।
- ওয়ার্কার্স পার্টি ১, জাসদ ১, কল্যাণ পার্টি ১ আসনে বিজয় পায়।
- এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৬২ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। 
- সংসদে সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের মাঝে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ৪৮ আসন পায়।
- দ্বাদশ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মোট আসন সংখ্যা ২২৪ (নির্বাচিত) + ৪৮ (সংরক্ষিত নারী) = ২৭২টি । 

উৎসঃ LIVE MCQ সাম্প্রতিক সমাচার (ফেব্রুয়ারি)। 
১১৪.
সার্ভে অ্যাক্ট পাস হয় কত সালে?
  1. ১৮৭৫ সালে
  2. ১৯৭৫ সালে
  3. ১৭৭৫ সালে
  4. ১৮৭৬ সালে
ব্যাখ্যা
সার্ভে অ্যাক্ট:
- ব্রিটিশ সরকার এদেশে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু করার পর জমিদারগণ ভূমির মালিক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন। তারা প্রজাচাষীর ভাল-মন্দ, সুখ-দু:খ, সুযোগ সুবিধার দিকে মোটেও তাকাত না। ফলে কৃষকের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। অনেকে কৃষি কর্ম ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে থাকে। ফলে কৃষি জমি অনাবাদি থাকার উপক্রম হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে কৃষক বিদ্রোহ দেখা দেয়। ইত্যাকার কারণে ইংরেজদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটে এবং কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ আইন প্রণয়নের চিন্তা করে।
- এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৭৫ সনে ইংরেজ সরকার বঙ্গীয় সার্ভে আইন পাশ করে।

⇒ কিন্ত কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এ আইন যথেষ্ট না হওয়ায় ১৮৮৫ সনে বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন প্রণয়ন করা হয়।
- ১৮৮৩ সনের ২ মার্চ আইনটি ভারতীয় আইন সভায় পেশ করা হয় এবং ১৮৮৫ সনে তা অনুমোদন লাভ করে।
- উল্লিখিত আইনের অধীনে খতিয়ান প্রণয়ন কাজ পর্যালোচনার জন্য ১৮৮৪ সনে ভূমি রেকর্ড ও কৃষি নামে একটি দপ্তর সৃষ্টি করা হয়।
- দপ্তরটির নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেয়া হয় বোর্ড অব রেভিনিউর হাতে।
- ১৮৮৮ সনে কৃষি একটি স্বতন্ত্র দপ্তর হিসেবে গঠিত হওয়ায় দপ্তরটি ভূমি রেকর্ড দপ্তর নামে পরিচিতি লাভ করে।
- তখন জরিপ কাজ পরিচালনা করত সার্ভে অব ইন্ডিয়া নামে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান।

উৎস: ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর ওয়েবসাইট।
১১৫.
সাংবিধানিকভাবে প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কোনটি?
  1. ক) পঞ্চম
  2. খ) সপ্তম
  3. গ) ষষ্ঠ
  4. ঘ) অষ্টম
ব্যাখ্যা

• ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ছিলেন বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ। তবে এটি সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃত ছিলো না।
• ১৯৯৬ সালের ২৭ মার্চ জাতীয় সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইন পাস হয়।
• এর ফলে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ বিচারপতি হাবিবুর রহমান কে প্রধান উপদেষ্টা করে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়।
সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিকভাবে অনুষ্ঠিত প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন।

 তথ্যসূত্র:- আইন মন্ত্রণালয় ও বাংলাপিডিয়া।        

১১৬.
সংবিধানের কত নং অনুচ্ছেদে "জাতীয় সংসদ" প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখিত?
  1. ৬৫(২)
  2. ৬৫(৩)
  3. ৬৫(৪)
  4. ৬৫(১)
ব্যাখ্যা

⇒ ৬৫(১) "জাতীয় সংসদ" নামে বাংলাদেশের একটি সংসদ থাকিবে এবং এই সংবিধানের বিধানাবলী-সাপেক্ষে প্রজাতন্ত্রের আইনপ্রণয়ন-ক্ষমতা সংসদের উপর ন্যস্ত হইবে:

 ⇒ তবে শর্ত থাকে যে, সংসদের আইন-দ্বারা যে কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে আদেশ, বিধি, প্রবিধান, উপ-আইন বা আইনগত কার্যকরতাসম্পন্ন অন্যান্য চুক্তিপত্র প্রণয়নের ক্ষমতার্পণ হইতে এই দফার কোন কিছুই সংসদকে নিবৃত্ত করিবে না।

  ⇒ ৬৫(২) একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকাসমূহ হইতে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে আইনানুযায়ী নির্বাচিত তিন শত সদস্য লইয়া এবং এই অনুচ্ছেদের (৩) দফার কার্যকরতাকালে উক্ত দফায় বর্ণিত সদস্যদিগকে লইয়া সংসদ গঠিত হইবে; সদস্যগণ সংসদ-সদস্য বলিয়া অভিহিত হইবেন।

 ⇒ ৬৫(৩) সংবিধান (সপ্তদশ সংশোধন) আইন, ২০১৮ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অব্যবহিত পরবর্তী সংসদের প্রথম বৈঠকের তারিখ হইতে শুরু করিয়া পঁচিশ বৎসরকাল অতিবাহিত হইবার অব্যবহিত পরবর্তীকালে সংসদ ভাংগিয়া না যাওয়া পর্যন্ত পঞ্চাশটি আসন কেবল মহিলা-সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং তাঁহারা আইনানুযায়ী পূর্বোক্ত সদস্যদের দ্বারা সংসদে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির ভিত্তিতে একক হস্তান্তরযোগ্য ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হইবেন:

 - তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার কোন কিছুই এই অনুচ্ছেদের (২) দফার অধীন কোন আসনে কোন মহিলার নির্বাচন নিবৃত্ত করিবে না।]

 ⇒ ৬৫(৩ক) সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ প্রবর্তনকালে বিদ্যমান সংসদের অবশিষ্ট মেয়াদে এই অনুচ্ছেদের (২) দফায় বর্ণিত প্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত তিন শত সদস্য এবং (৩) দফায় বর্ণিত পঞ্চাশ মহিলা-সদস্য লইয়া সংসদ গঠিত হইবে।]

 ⇒ ৬৫(৪) রাজধানীতে সংসদের আসন থাকিবে।
  
উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান।

১১৭.
বর্তমান বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কত স্তর বিশিষ্ট?  
  1. দুই স্তর
  2. তিন স্তর
  3. চার স্তর
  4. পাঁচ স্তর
ব্যাখ্যা

• স্থানীয় সরকার কাঠামো:
- বাংলাদেশে বর্তমানে 'তিন স্তরবিশিষ্ট' স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়। 
- যথা- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ। 
- এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন,
- পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি) স্থানীয় জেলা পরিষদ রয়েছে। 
- উল্লিখিত তিন স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকেই নিচের দিকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলে মনে করা হয়ে থাকে।
- গ্রাম বা এর নিকটবর্তী হচ্ছে ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ। 
- শহর এলাকায় রয়েছে পৌরসভা, জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশন।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১১৮.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কী ধরনের?
  1. রাষ্ট্রপতি শাসিত
  2. সংসদীয়
  3. নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র
  4. একনায়কতন্ত্র
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশ সরকারের স্বরূপ:
- স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকার, যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত, গঠিত হয়।
- বাংলাদেশ একটি গণপ্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ।
- দেশে সংসদীয় পদ্ধতির এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থা চালু রয়েছে। 
- এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি হলেন রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী হলেন সরকার প্রধান।

- রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্যান্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করেন। 
- সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রদত্ত এবং তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করেন।
- সংসদীয় রীতি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়।
- সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার উপর ন্যস্ত। 
- প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়বদ্ধ থাকে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।

১১৯.
বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কে?
  1. মহিবুল হাসান চৌধুরী
  2. সাবের হোসেন চৌধুরী
  3. ডাঃ সামন্ত লাল সেন
  4. মোহাম্মদ হাছান মাহ্‌মুদ
ব্যাখ্যা
বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা:
- প্রধানমন্ত্রী: শেখ হাসিনা,
- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়: জনাব ওবায়দুল কাদের,
- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী: জনাব আ, ক, ম, মোজাম্মেল হক
- অর্থ মন্ত্রণালয়: জনাব আবুল হাসান মাহমুদ আলী,
- আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়: জনাব আনিসুল হক,
- শিল্প মন্ত্রণালয়: জনাব নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, 
- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: জনাব আসাদুজ্জামান খান,
- স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়: জনাব মোঃ তাজুল ইসলাম, 
- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়: জনাব মুহাম্মদ ফারুক খান, 
- পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: জনাব মোহাম্মদ হাছান মাহ্‌মুদ,
- সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়: ডা: দীপু মনি, 
- খাদ্য মন্ত্রণালয়: জনাব সাধন চন্দ্র মজুমদার, 
- পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়: জনাব আব্দুস সালাম, 
- ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়: জনাব মোঃ ফরিদুল হক খান, 
- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়: জনাব র,আ,ম, উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী,
- ভূমি মন্ত্রণালয়: জনাব নারায়ন চন্দ্র চন্দ,
- বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়: জনাব জাহাঙ্গীর কবির নানক, 
- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়: জনাব মোঃ আব্দুর রহমান,
- কৃষি মন্ত্রণালয়: জনাব মোঃ আব্দুস শহীদ,
- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়: স্থপতি ইয়াফেস ওসমান,
- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়: ডাঃ সামন্ত লাল সেন,
- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়: জনাব ফরহাদ হোসেন,
- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়: জনাব নাজমুল হাসান,
- পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়: জনাব সাবের হোসেন চৌধুরী,
- শিক্ষা মন্ত্রণালয়: জনাব মহিবুল হাসান চৌধুরী।

উৎস: মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
১২০.
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা পরিষদ সংখ্যা কতটি?
  1. ৬১টি
  2. ৬২টি
  3. ৬৩টি
  4. ৬৪টি
ব্যাখ্যা
- স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন জেলা পরিষদের সংখ্যা ৬১টি।
- ৩ টি পার্বত্য জেলায় পার্বত্য আঞ্চলিক পরিষদের অধীন পার্বত্য জেলা পরিষদ বিদ্যমান।
- দেশে প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর।
- জেলা পরিষদ নির্বাচন পরোক্ষ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়।

২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী: [এখন ২০০০ সালের 'জেলা পরিষদ আইন' কার্যকরী নয়] 
- ২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী জেলা পরিষদ গঠিত হতো। 

জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২২ অনুসারে:
(২০০০ সনের ১৯ নং আইন), অতঃপর উক্ত আইন বলিয়া উল্লিখিত, এর ধারা ৪ এর উপ-ধারা (১) এর পরিবর্তে নিম্নরূপ উপ-ধারা (১) প্রতিস্থাপিত হইবে, যথা :-
‘‘(১) নিম্নবর্ণিত সদস্য সমন্বয়ে পরিষদ গঠিত হইবে, যথা :-
(ক) একজন চেয়ারম্যান;
(খ) সংশ্লিষ্ট জেলার মোট উপজেলার সমসংখ্যক সদস্য;
(গ) দফা (ক) ও (খ) এ উল্লিখিত সদস্য-সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (নিকটবর্তী পূর্ণ সংখ্যায়) নারী সদস্য:
তবে শর্ত থাকে যে, তাহাদের সংখ্যা ২(দুই) এর কম হইবে না; এবং
(ঘ) সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র এবং ক্ষেত্রমত, সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের প্রতিনিধি পদাধিকারবলে সদস্য।’’।
---------------------------------
[এখন ২০০০ সালের 'জেলা পরিষদ আইন' কার্যকরী নয়। বই তে ভুল রয়েছে।]

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা ; নবম-দশম শ্রেণি এবং জেলা পরিষদ (সংশোধন) আইন, ২০২২।
১২১.
ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয় কবে?
  1. ক) ০৩ অক্টোবর ১৯৯৬
  2. খ) ১২ নভেম্বর ১৯৯৬
  3. গ) ১০ ডিসেম্বর ১৯৯৬
  4. ঘ) ১১ জানুয়ারী ১৯৯৮
ব্যাখ্যা
১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট খন্দকার মোশতাক আহমেদ ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ জারি করেন যা ২৬ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়।
১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ’ বাতিল করে যার ফলশ্রুতিতে বঙ্গবন্ধু'র খুনীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হয়।
(সূত্রঃ বাংলাদেশ গেজেট)
১২২.
নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করা কোন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সমাজবিজ্ঞান
  2. পৌরনীতি ও নাগরিকতা
  3. ইতিহাস
  4. সমাজকর্ম
ব্যাখ্যা
• পৌরনীতি ও নাগরিকতা বিষয়ের পরিসর বা বিষয়বস্তু :

• নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য।
• সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান 
-যেমন- পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, নির্বাচন, রাজনৈতিক দল ইত্যাদি।
•. নাগরিকতার স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয়
• নাগরিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।

উৎস : পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১২৩.
সংসদ প্রণীত আইন অনুমোদন করেন কে?
  1. স্পিকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. সংসদীয় স্থায়ী কমিটি
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি: 
- পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতি সবার উপরে।
- সংবিধান অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রের প্রধান।
- সবার ঊর্ধ্বে তিনি স্থান লাভ করেন।
- সংবিধান ও আইন অনুযায়ী তাঁকে প্রদত্ত সকল দায়িত্ব ও ক্ষমতা তিনি প্রয়োগ করেন।
- সংসদ প্রণীত আইন রাষ্ট্রপতি অনুমোদন করেন
- সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি নিয়মতান্ত্রিক প্রধান।
- প্রজাতন্ত্রের সকল কাজ তাঁর নামে পরিচালিত হয়।
- তাঁর হাতে কোনো নির্বাহী ক্ষমতা নেই।
- দেশের সরকার গঠন, শাসন পরিচালনা, আইন প্রণয়ন এবং অর্থ, বিচার, প্রতিরক্ষা ও কূটনীতি বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ কাজ তিনি সম্পাদন করেন।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১২৪.
বাংলাদেশ সরকারের নির্বাহী প্রধান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. স্পিকার
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা
প্রধানমন্ত্রী:
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগের প্রধান প্রধানমন্ত্রী।
- সংসদীয় পদ্ধতির শাসনব্যবস্থা প্রবর্তিত থাকায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শাসন ক্ষমতার মধ্যমণি
- তাঁকে কেন্দ্র করেই প্রজাতন্ত্রের সকল শাসন ও প্রশাসন পরিচালিত হয়।
- সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী হলেন প্রধানমন্ত্রী।
- তিনি শাসন সংক্রান্ত সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও শাসনকার্য পরিচালনায় নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন।
- প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রণয়ন ও তা সংসদে পেশ করেন।
- তাঁর পরামর্শের আলোকে দেশের রাষ্ট্রপতি প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহে অর্থ মঞ্জুরী প্রদান করেন।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৫.
‘প্ল্যানেট ফিফটি ফিফটি চ্যাম্পিয়ন' পুরস্কার কোন বিষয়ের অবদানের জন্য দেয়া হয়েছে?
  1. ক) নারীর ক্ষমতায়ন
  2. খ) মহাকাশ গবেষণা
  3. গ) সাহিত্য
  4. ঘ) কোনটি নয়
ব্যাখ্যা
• উল্লেখিত প্রশ্নের উত্তর : নারীর ক্ষমতায়ন। 

- নারীর ক্ষমতায়নে অসামান্য অবদানের জন্য ‘প্ল্যানেট ফিফটি চ্যাম্পিয়ন' ও 'এজেন্ট অব চেঞ্জ' পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
- জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউএন-উইমেন ও গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার গ্রহণ করেন তিনি।

• প্রধানমন্ত্রীর অন্যান্য পুরস্কার : 
- ড. কালাম স্মৃতি ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড- ২০১৯,
- ভ্যাকসিন হিরো- ২০১৯,
- গ্লোবাল উইমেন লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড- ২০১৮,
- গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম থেকে এজেন্ট অব চেঞ্জমেকার- ২০১৬, 
- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য সাউথ সাউথ পুরস্কার- ২০১৪,
- ইউএন কর্তৃক চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ- ২০১৫,
- ইউনেস্কো কর্তৃক শান্তিবৃক্ষ- ২০১৪,
- এসকে গান্ধী পুরস্কার- ১৯৯৮,
- মাদার তেরেসা পুরস্কার- ১৯৯৬।

সূত্র : দৈনিক প্রথম আলো। 
১২৬.
নিম্নের কোন অপরাধটির বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে হবে?
  1. খুন
  2. ধর্ষণ
  3. মাদকদ্রব্য
  4. বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
খুন, ধর্ষণ, মাদকদ্রব্য অর্থাৎ বর্ণিত সবগুলো অপরাধের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে হবে।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল:

⇒ দ্রুতবিচার আদালত সংক্রান্ত আইন প্রাথমিকভাবে অধ্যাদেশ আকারে ২০০২ সালে প্রণীত হয়।
- ঐ বছরের ১০ এপ্রিল এটি সংসদ কর্তৃক আইনে পরিণত হয় (২০০২ সালের ১১ নং আইন)।
- ২০০২ সালের ১ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের এ সংক্রান্ত অপর একটি আইন (২০০২ সালের ২৮ নং আইন) বাংলাদেশ গেজেটে (অসাধারণ) প্রকাশিত হয়।
- এ আইনের মাধ্যমে দ্রুতবিচার আদালত গঠিত হয়।
- এ আইনের ভূমিকায় কয়েকটি অপরাধের দ্রুতবিচার সম্পন্ন করার বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া হয়।
- আইনটি সরকারকে কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করে।
- এর মধ্যে রয়েছে এক বা একাধিক আদালত গঠন, জনস্বার্থে অন্যান্য অসম্পন্ন বিচার দ্রুতবিচার আদালতে প্রেরণসহ শেষোক্ত আদালতের ভৌগোলিক অধিক্ষেত্র নির্ধারণ।

⇒ অসম্পন্ন বিচারকার্য দ্রুতবিচার আদালতে প্রেরণের জন্য যে অপরাধসমূহকে চিহ্নিত করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে: খুন, ধর্ষণ, বেআইনি অস্ত্র, বিস্ফোরক ও মাদকদ্রব্য সংরক্ষণ।
- এতে দেখা যায় যে, মূল আইনের নির্ধারিত অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

⇒ এ আইনের ভূমিকায় আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কয়েকটি অপরাধের দ্রুত বিচারের প্রয়োজনীয়তার স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
- মূল আইনে অনধিক ছয় বছর পর্যন্ত আইনটি বলবৎ রাখার বিধান ছিল।
- ২০০৮ সালে এক সংশোধনীর মাধ্যমে নির্ধারিত সময়সীমা আট বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

⇒ এ আইনটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো অন্যান্য আইনের উপর প্রাধান্য।
- অর্থাৎ অন্যান্য আইনে ভিন্নতর বিধান থাকা সত্বেও এ আইনের বিধানই বাধ্যতামূলক হবে।

উৎস: i) জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১২৭.
বাংলাদেশের বিচার কাঠামোর সর্বোচ্চ বিভাগ কোনটি?
  1. জেলা জজ আদালত
  2. প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. আপিল বিভাগ
ব্যাখ্যা
আপিল বিভাগ:
- বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হল আপিল বিভাগ।
- হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের প্রেক্ষিতেই কেবল এখানে আপিল করা যায়।
- এ বিভাগের বিচারকের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই তবে এখানে হাইকোর্ট বিভাগের চেয়ে স্বল্প সংখ্যক বিচারক থাকে।

আপিল বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- হাইকোট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির ও তা নিস্পত্তির এখতিয়ার ও ক্ষমতা রয়েছে।
- এ বিভাগের কোন ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
- রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন মোতাবেক আপিল বিভাগ আইন বিষয়ে মতামত জ্ঞাপন করতে পারে।
- সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের স্বার্থে কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা ও কাগজপত্র পেশ করার আদেশ দিতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১২৮.
নিচের কোন ব্যবস্থাটি ভারত উপমহাদেশে লর্ড ক্যানিং প্রথম চালু করেন?
  1. ক) চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থা
  2. খ) সতীদাহ নিবারণ ব্যবস্থা
  3. গ) পুলিশ ব্যবস্থা
  4. ঘ) দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা
ব্যাখ্যা

১৮৬১ সালে ভারতীয় পুলিশ আইন পাসের মাধ্যমে লর্ড ক্যানিং ভারত উপমহাদেশে প্রথম পুলিশ ব্যবস্থা চালু করেন। ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন লর্ড কর্নওয়ালিস। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার প্রবর্তক ছিলেন লর্ড ক্লাইভ এবং ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা রোহিত করেন লর্ড বেন্টিং। সূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক।

১২৯.
বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা কে?
  1. অ্যাটর্নি জেনারেল
  2. আইন সচিব
  3. আইনমন্ত্রী
  4. প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা

অ্যাটর্নি জেনারেল:
- বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগের ৫ম পরিচ্ছেদে ৬৪ নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের উল্লেখ রয়েছে।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন অ্যাটর্নি জেনারেল থাকবেন।
- অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
- তিনি আইনগত দিক নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশ করেন।
- সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি অ্যাটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভ করবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের ন্যায় মর্যাদা ভোগের অধিকারী হবেন।

⇒ অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
• অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করবেন।
• অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্বপালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁর বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।
• বাংলাদেশ সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।

১৩০.
The Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, 2025 জারি করা হয় কবে?
  1. ৫ জুলাই, ২০২৫
  2. ৭ জুলাই, ২০২৫
  3. ১০ জুলাই, ২০২৫
  4. ১২ জুলাই, ২০২৫
ব্যাখ্যা
The Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, 2025:
- গত ১০ জুলাই, ২০২৫ “The Code of Criminal Procedure (Amendment) Ordinance, 2025” নামে নতুন অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
- সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
- এতে ‘ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮’ সংশোধন করে নতুনভাবে যুক্ত করা হয়েছে ধারা ১৭৩এ (173A)।
- এর মাধ্যমে তদন্ত চলাকালে অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার আইনি সুযোগ তৈরি হয়েছে।
- বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই নতুন বিধান তদন্তাধীন মামলায় দীর্ঘ সময় ধরে নিরপরাধ ব্যক্তিদের জেল হাজতে থাকা বা হয়রানির শিকার হওয়ার প্রবণতা কমবে।

তথ্যসূত্র- নিউজ রিপোর্ট। [LINK]
১৩১.
বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)-এর প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কে দায়িত্ব পালন করেছিলেন? 
  1. ড. আখতার হামিদ খান
  2. ড. মাহবুব আলম
  3. ড. হাসান মোস্তফা
  4. ড. আনিসুর রহমান
ব্যাখ্যা

• বার্ডের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
- বার্ড স্থানীয় সরকার, পল্লী ‍উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান।
- বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) ১৯৫৯ সালের ২৭ মে পল্লী উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও প্রায়োগিক গবেষণা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে।
-  বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) -এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ড. আখতার হামিদ খান ।
- একাডেমি কর্তৃক উদ্ভাবিত পল্লী উন্নয়নের ‘কুমিল্লা মডেল’ এর জন্য বার্ড দেশে-বিদেশে সুখ্যাতি অর্জন করে। 
- পল্লী উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখার জন্য বার্ড ১৯৮৬ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ লাভ করে। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)।

১৩২.
মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান কে?
  1. মন্ত্রী
  2. সচিব
  3. অতিরিক্ত সচিব
  4. সহকারী সচিব
ব্যাখ্যা

মন্ত্রনালয়গুলোর প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশে মন্ত্রণালয়গুলোকে যৌথভাবে সচিবালয় বলা হয়।
১. মন্ত্রী - মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধান। প্রত্যেক মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে
থাকে।
২. সচিব - মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সচিব মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মূখ্য হিসাব নিরীক্ষক।
৩. অতিরিক্ত সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৪. যুগ্ম-সচিব - উপ-বিভাগের প্রধান।
৫. উপসচিব - একাধিক শাখার প্রধান।
৬. সিনিয়র বা জেষ্ঠ সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।
৭. সহকারী সচিব - শাখা বা সেকশন প্রধান।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোজাম্মেল হক।

১৩৩.
১৯১৯ সালের পল্লি আইনে ইউনিয়ন পর্যায়ে কোন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়?
  1. ইউনিয়ন পরিষদ
  2. ইউনিয়ন বোর্ড
  3. ইউনিয়ন কাউন্সিল
  4. ইউনিয়ন কমিটি
ব্যাখ্যা

• ইউনিয়ন পরিষদ:
- ইউনিয়ন পরিষদ এদেশের সর্বাপেক্ষা প্রাচীন স্থানীয় প্রতিষ্ঠান।
- ব্রিটিশ আমলে গ্রাম এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার জন্য চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইন ১৮৭০ প্রবর্তিত হয়।
- পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে গ্রামে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালনা করার জন্য এ ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।
- ১৮৮৫ সালে স্থানীয় পর্যায়ে অধিক দায়িত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য বঙ্গীয় স্থানীয় আইন পাশ হয়। 
- এই আইনে ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কমিটি, মহকুমা পর্যায়ে মহকুমা বোর্ড ওও জেলা পর্যায়ে জেলা বোর্ড গঠন করা হয়। 
- ১৯১৯ সালের পল্লি আইনে চৌকিদারি পঞ্চায়েত ও ইউনিয়ন কমিটি বিলুপ্ত করে ইউনিয়ন বোর্ড নামে একটিমাত্র স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
- পাকিস্তান আমলে এর নাম হয় ইউনিয়ন কাউন্সিল।
- ১৯৯৭ সালে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) সংশোধিত আইনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়।
- সাধারণত গড়ে ১০-১৫টি গ্রাম নিয়ে একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত। 
- ইউনিয়ন পরিষদে একজন নির্বাচিত চেয়ারম্যান, নয় জননির্বাচিত সাধারণ সদস্য ও তিনজন নির্বাচিত মহিলা সদস্য (সংরক্ষিত আসনে) থাকবেন। 

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৩৪.
প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়লে সংসদ আইন দ্বারা অনধিক কত বছরকাল সংসদের মেয়াদ বাড়ানোর বিধান রয়েছে?
  1. ক) ১ বছর
  2. খ) ২ বছর ৬ মাস
  3. গ) ৩ বছর
  4. ঘ) ২ বছর
ব্যাখ্যা
- সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- তবে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙ্গে দিতে পারেন।
- তবে রাষ্ট্রপতি যদি মনে করেন যে, প্রজাতন্ত্র কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে পড়েছে তাহলে সংসদ আইন দ্বারা অনধিক এক বছরকাল সংসদের মেয়াদ বাড়াতে পারেন।
- তবে যুদ্ধ শেষ হলে বর্ধিত মেয়াদ ৬ মাসের অধিক করা যাবে না।

তথ্যসূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং বাংলাদেশের সংবিধান।
১৩৫.
মুজিবনগর সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মন্ত্রী ছিলেন -
  1. তাজউদ্দিন আহমদ
  2. ক্যাপ্টেন মনসুর আলী
  3. এ এইচ এম কামারুজ্জামান
  4. খন্দকার মোশতাক
ব্যাখ্যা

১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিব নগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
- উপ-রাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম।
- প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ।
- অর্থ, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এম. মনসুর আলী।
- স্বরাষ্ট্র, ত্রান ও পুনর্বাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

সুত্র:- বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।

১৩৬.
জাতীয় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কে?
  1. স্পীকার
  2. চীফ হুইপ
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. প্রধানমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:
- স্পীকার সংসদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- জাতীয় সংসদের বৈঠকে স্পীকার সভাপতিত্ব করেন।
- সাধারণ নির্বাচনের পর সংসদের প্রথম বৈঠকে সংসদ-সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পীকার ও একজন ডেপুটি স্পীকার নির্বাচন করা হয়।
- স্পীকারের প্রধান দায়িত্ব সংসদে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং এর মর্যাদা সংরক্ষণ করা।
- স্পীকারকে নিরপেক্ষ হতে হয় এবং সংসদে সংখ্যালঘিষ্ঠ দলের সদস্যদের অধিকার সংরক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে হয়।
- সংসদের অধিবেশন চলাকালে স্পীকারের সিদ্ধান্ত ও রুলিং অবশ্য পালনীয়।
- সংসদে শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে স্পীকার যেকোন সদস্যকে বহিষ্কার করতে পারেন।
- স্পীকার সংসদের কার্যপ্রণালী নিয়ন্ত্রণ করেন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতি বা তাঁর অসামর্থ্যের ক্ষেত্রে স্পীকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১৩৭.
বর্তমান (২০২৪) অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা কে?
  1. সারজিস আলম
  2. আবু বকর মজুমদার
  3. নাহিদ ইসলাম
  4. জুনাইদ আহমেদ পলক
ব্যাখ্যা
[এই প্রশ্নের তথ্য পরিবর্তনশীল। অনুগ্রহ করে সাম্প্রতিক তথ্য দেখে নিন। সাম্প্রতিক আপডেট তথ্য জানার জন্য Live MCQ ডাইনামিক ইনফো প্যানেল, সাম্প্রতিক সমাচার বা অথেনটিক সংবাদপত্র দেখুন।]

দুই সমন্বয়ক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা

- অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এঁরা দুজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
- ঢাকার বনশ্রীর ছেলে নাহিদ ইসলাম ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন।
- আর ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র আসিফ মাহমুদের বাড়ি কুমিল্লায়।
- মো. নাহিদ ইসলাম দায়িত্ব পেয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের।
- আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দায়িত্ব পেয়েছেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের। 

সূত্র- জনপ্রশাসন মন্ত্রাণালয়।
১৩৮.
রাষ্ট্রপতির কতদিনের জন্য তহবিল থেকে অর্থ অনুমোদনের ক্ষমতা আছে?
  1. ৯০ দিন
  2. ৩০ দিন
  3. ৪৫ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও কাজ :

• নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষমতা:
রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী নিয়োগ।
শীর্ষ কর্মকর্তা (মহাহিসাব রক্ষক, রাষ্ট্রদূত, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা) নিয়োগ।
প্রতিরক্ষা বাহিনীর সর্বাধিনায়ক এবং সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের নিয়োগ।
প্রধান বিচারপতি নিয়োগ (এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত)।

• সংসদ সংক্রান্ত ক্ষমতা:
জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত এবং ভেঙে দেওয়া (প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে)।
সংসদে ভাষণ ও বাণী প্রদান।
সংসদ কর্তৃক পাস হওয়া বিলে সম্মতি দিয়ে আইন কার্যকর করা।
সংসদ ভেঙে গেলে বা অধিবেশন না থাকলে অধ্যাদেশ জারি।

• আর্থিক ক্ষমতা:
রাষ্ট্রপতির সম্মতি ছাড়া অর্থ বিল উত্থাপন করা যাবে না।
সংসদ অর্থ মঞ্জুর করতে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের জন্য তহবিল থেকে অর্থ অনুমোদন।

• বিচার বিভাগীয় ক্ষমতা:
প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ।
আদালত বা ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা।
জরুরি অবস্থা ঘোষণা:
যুদ্ধ, বিদেশি আগ্রাসন বা অভ্যন্তরীণ গোলযোগের ক্ষেত্রে জরুরি অবস্থা ঘোষণা (প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিতে)।

• অন্যান্য দায়িত্ব:
জাতীয় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব।
খেতাব, পদক ও সম্মাননা প্রদান।
নাগরিকদের বিদেশি উপাধি গ্রহণে অনুমতি প্রদান।
রাষ্ট্রীয় চুক্তি ও দলিল সম্পাদন।
বিদেশি কূটনীতিকদের পরিচয়পত্র গ্রহণ।
প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও বিচারপতিদের শপথ বাক্য পাঠ করানো।

• জবাবদিহিতা:
রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর কাছে জবাবদিহি করবেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৩৯.
বাংলাদেশ সরকার কত সালে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ পাস করে?
  1. ২০১০ সালে
  2. ২০১১ সালে
  3. ২০১২ সালে
  4. ২০১৩ সালে
ব্যাখ্যা

পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন:
- বাংলাদেশ সরকার ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ পাস করে।
- এ আইনে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সন্তানকে তাঁর মা-বাবার ভরণপোষণ দিতে হবে।
- কোনো মা-বাবার একাধিক সন্তান থাকলে সে ক্ষেত্রে সন্তানেরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে তাঁদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করবেন।
- আর তা না করলে তাঁদের শাস্তি পেতে হবে।

⇒ পিতামাতার ভরণপোষণ আইন ২০১৩-এর ৫ ধারার (১) অনুযায়ী, কোনো প্রবীণ ব্যক্তি তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আনলে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
- আইনে বলা হয়, কোনো সন্তানের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে বা নিকটাত্মীয় যদি বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি সন্তানকে দায়িত্ব পালনে বাধা দেন, তাহলে তাদেরও একই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

উৎস: পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩। 

১৪০.
বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা কে ছিলেন?
  1. শাহাবুদ্দিন আহমেদ
  2. মো. শামসুল হক
  3. মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান
  4. ড. মুহাম্মদ ইউনূস
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের একপ্রকারের শাসন ব্যবস্থা, যার অধীনে দুইটি নির্বাচিত সরকারের মধ্যবর্তী সময়কালে সাময়িকভাবে অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ কোন দেশের শাসনভার গ্রহণ করে থাকে।
- ১৯৯০ সালে সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য গঠন করা হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
- গণআন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
- ওই দিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ।

⇒ বিএনপি সরকারের পদত্যাগের পর ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে যোগ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।
- ১৯৯৬ সালে বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সংবিধানসম্মত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
- এর চারদিন পর সংবিধান অনুযায়ী ১০ জন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
- তারা হলেন ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।
- এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোট ৮৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
- তিনি ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উৎস: i) The Business Standard.
ii) ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪১.
দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব কোন বিভাগের উপর ন্যস্ত থাকে?
  1. শাসন বিভাগ
  2. আইন বিভাগ
  3. বিচার বিভাগ
  4. প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ব্যাখ্যা
• শাসন বিভাগ:
 → দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা রক্ষার গুরুদায়িত্ব শাসন বিভাগের ওপরে ন্যস্ত থাকে।
 → সাধারণভাবে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধান সৈন্যবাহিনীর গঠন, পরিচালনা, যুদ্ধ পরিচালনা বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং দেশ রক্ষার প্রয়োজনে বেসামরিক শক্তিকে কাজে লাগানো প্রভৃতি কার্য সম্পাদন করে।
 → রাষ্ট্রপ্রধান প্রয়োজনবোধে সামরিক আইনও জারি করতে পারেন।
 → যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব প্রতিরক্ষা দপ্তরের উপর ন্যস্ত থাকে। 

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন (প্রথম পত্র), একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪২.
রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজ কোনটি?
  1. শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যাবলি
  2. দেশ রক্ষা
  3. স্বাস্থ্য সংরক্ষণ
  4. সামাজিক নিরাপত্তা
ব্যাখ্যা

• রাষ্ট্রের কার্যাবলি :
-  অপরিহার্য কাজ যেসব কার্য নাগরিকদের জীবন, সম্পত্তি অধিকার, স্বাধীনতা সাথে জড়িত থাকে সেগুলোকে অপরিহার্য কার্যাবলি বলে। রাষ্ট্রের অপরিহার্য কাজগুলো হলো:
১। দেশ রক্ষা।
২। প্রশাসন সংক্রান্ত কার্যাবলি
৩। অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা: 
৪। আর্থিক কার্যাবলি 
৫। আইন সংক্রান্ত কার্যাবলি  
৬। বিচার সংক্রান্ত।
৭। পররাষ্ট্র সংক্রান্ত কার্যাবলি।

⇒ ঐচ্ছিক কাজ স্বেচ্ছা প্রণোদিত হয়ে নাগরিকদের জীবনের বহুমুখী উন্নয়ন সাধনের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র যে কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকে সেগুলোকে রাষ্ট্রের ঐচ্ছিক কাজ হিসেবে ধরা যায়। ঐচ্ছিক কাজগুলো নিমে আলোচনা করা হলো:
(১) শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যাবলি।
(২) স্বাস্থ্য সংরক্ষণ।
(৩) দরিদ্র কল্যাণ।
(8) শিল্প ব্যবসা-বাণিজ্য সংক্রান্ত।
(৫) উন্নয়নমূলক কার্যাবলি।
(৬) সামাজিক নিরাপত্তা।
(৭) অসহায় নারীদের সাহায্য প্রদান।
(৮) শ্রমিক কল্যাণ ।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৪৩.
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সর্ব নিম্ন স্তর কোনটি?
  1. জেলা পরিষদ
  2. উপজেলা পরিষদ
  3. ইউনিয়ন পরিষদ
  4. পৌরসভা পরিষদ
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার:
- বাংলাদেশে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান।
- এ স্তরগুলো হল-জেলা পরিষদ,
- উপজেলা পরিষদ,
- এবং সবচেয়ে নিম্ন স্তর  ইউনিয়ন পরিষদ।
- শহরে পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।
- তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে আঞ্চলিক পরিষদ ও জেলা পরিষদ রয়েছে।
- গ্রাম বা এর নিকটবর্তী হল ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ।
- ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বশেষ ও কার্যকরী স্তর বলে বিবেচিত।
- পার্বত্য চট্টগ্রামে বিশেষ স্থানীয় সরকারের পাশাপাশি পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন রয়েছে।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা এসএসসি প্রোগ্রাম, ‍উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৪.
স্থানীয় শাসন বলতে বোঝায় -
  1. ক) এলাকাভিত্তিক শাসন পরিচালনা
  2. খ) অঞ্চলভিত্তিক শাসন পরিচালনা
  3. গ) প্রাদেশিক শাসন পরিচালনা
  4. ঘ) শহর বা জনপদভিত্তিক শাসন পরিচালনা
ব্যাখ্যা
স্থানীয় শাসন বা স্থানীয় সরকার কাঠামো
Structure of Local Administration or Local Government

- একটি দেশে সরকারের নীতিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীনে স্থানীয় পর্যায়ে নিযুক্ত সরকারি কর্মচারী কর্তৃক এলাকাভিত্তিক শাসনব্যবস্থাকে স্থানীয় শাসন বা স্থানীয় সরকার বলে। 
- স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষের কোনো নীতি নির্ধারণী ক্ষমতা নেই।
- স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষ সরকারের নির্দেশে এবং প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীনে দায়িত্ব পালন করে।
- বাংলাদেশে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন প্রভৃতি হলো স্থানীয় শাসন ব্যবস্থার উদাহরণ।
- স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠানের সাথে সংশ্লিষ্ট যারা, সকলেই সরকারি কর্মচারী।
- স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের নীতি ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হয়।
- স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষকে স্থানীয় সরকার বলেও অভিহিত করা হয়।

তথ্যসূত্র: পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
১৪৫.
সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক' নিয়োগ দেয়া হয়?
  1. ক) ১২৭
  2. খ) ১৩৭
  3. গ) ১৩৮
  4. ঘ) ১১৮
ব্যাখ্যা
সংবিধানের ১২৭নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী 'মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক' নিয়োগ দেয়া হয়। ১১৮নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেয়া হয়। অনুচ্ছেদ ১৩৭ অনুযায়ী সরকারি কর্ম কমিশন গঠিত হয় এবং ১৩৮(২) নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।
উৎসঃ বাংলাদেশের সংবিধান।
১৪৬.
বর্তমান প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতান্ত্রিক সরকার কে বলে-
  1. ক) দলীয় সরকার
  2. খ) রাজনৈতিক সরকার
  3. গ) নিরপেক্ষ সরকার
  4. ঘ) বহুদলীয় সরকার
ব্যাখ্যা
- বর্তমান প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতান্ত্রিক সরকার কে দলীয় সরকার বলা হয়।
- প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো রাজনৈতিক দল।
- রাজনৈতিক দল হলো আধুনিক প্রতিনিধিত্ব মূলক গণতন্ত্রের প্রাণ।
- প্রতিনিধিত্বশীল গণতন্ত্রে ‘বিকল্প সরকার’ বলা হয় বিরোধীদল কে।

 (উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী প্রথম পত্র)।
১৪৭.
নিচের কোনটি বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল?
  1. জজ কোর্ট
  2. আপিল বিভাগ
  3. হাইকোর্ট বিভাগ
  4. সুপ্রীম কোর্ট
ব্যাখ্যা
আপিল বিভাগ:
- বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ এবং সর্বশেষ আশ্রয়স্থল হল আপিল বিভাগ।
- হাইকোর্ট বিভাগের আদেশের প্রেক্ষিতেই কেবল এখানে আপিল করা যায়।
- এ বিভাগের বিচারকের নির্দিষ্ট কোন সংখ্যা নেই তবে এখানে হাইকোর্ট বিভাগের চেয়ে স্বল্প সংখ্যক বিচারক থাকে।

আপিল বিভাগের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- হাইকোট বিভাগের রায়, ডিক্রি, আদেশ বা দন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির ও তা নিস্পত্তির এখতিয়ার ও ক্ষমতা রয়েছে।
- এ বিভাগের কোন ঘোষিত রায় বা প্রদত্ত আদেশ পুনর্বিবেচনা করতে পারে।
- রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন মোতাবেক আপিল বিভাগ আইন বিষয়ে মতামত জ্ঞাপন করতে পারে।
- সম্পূর্ণ ন্যায় বিচারের স্বার্থে কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করা ও কাগজপত্র পেশ করার আদেশ দিতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা (নবম-দশম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৪৮.
নিচের কোনটি অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা বা কার্যাবলির মধ্যে পড়ে না?
  1. রাষ্ট্রের পক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশ করা
  2. রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করা
  3. সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করা
  4. সংসদে সরাসরি আইন প্রণয়ন করা
ব্যাখ্যা

অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা বা কার্যাবলির মধ্যে পড়ে না- সংসদে সরাসরি আইন প্রণয়ন করা।

অ্যাটর্নি জেনারেল:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের একজন অ্যাটর্নি জেনারেল থাকবেন।
- অ্যাটর্নি জেনারেল বাংলাদেশ সরকারের প্রধান আইন কর্মকর্তা। তিনি আইনগত দিক নিয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষে আদালতে বক্তব্য পেশ করেন। বাংলাদেশ সংবিধানের চতুর্থ ভাগে নির্বাহী বিভাগের ৫ম পরিচ্ছেদে ৬৪নং অনুচ্ছেদে অ্যাটর্নি জেনারেল পদের কথা উল্লেখ রয়েছে।
- সুপ্রীম কোর্টের বিচারক হবার যোগ্য কোন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি এটর্নি জেনারেল পদে নিয়োগদান করবেন।
- রাষ্ট্রপতির সন্তোষানুযায়ী সময়সীমা পর্যন্ত এটর্নি জেনারেল স্বীয় পদে বহাল থাকবেন এবং রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নির্ধারিত পারিশ্রমিক লাভকরবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপতির কাছে লিখিত স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করতে পারবেন।
- বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের ন্যায় মর্যাদা ভোগের অধিকারী হবেন।

⇒ অ্যাটর্নি জেনারেলের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- অ্যাটর্নি-জেনারেল রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রদত্ত সকল দায়িত্ব পালন করবেন।
- অ্যাটর্নি-জেনারেলের দায়িত্বপালনের জন্য বাংলাদেশের সকল আদালতে তাঁর বক্তব্য পেশ করার অধিকার থাকবে।
- বাংলাদেশ সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য,
- দেশের বর্তমান অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

উৎস: i) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ওয়েবসাইট।
ii) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

১৪৯.
দেশে বর্তমানে কতটি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে?
  1. ৬টি
  2. ৭টি
  3. ৮টি
  4. ৯টি
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ৮টি প্রশাসনিক বিভাগ রয়েছে।
এগুলো হলো:
- ঢাকা বিভাগ (সর্বাধিক ১৩টি জেলা ও জনসংখ্যা বৃহত্তম)
- চট্টগ্রাম বিভাগ (আয়তনে বৃহত্তম)
- রাজশাহী বিভাগ
- খুলনা বিভাগ
- সিলেট বিভাগ
- বরিশাল বিভাগ (জনসংখ্যায় ক্ষুদ্রতম)
- রংপুর বিভাগ
- ময়মনসিংহ বিভাগ (আয়তনে ক্ষুদ্রতম ও সর্বশেষ বিভাগ)।
(তথ্যসূত্রঃ জাতীয় তথ্য বাতায়ন)
১৫০.
দুর্নীতি দমন কমিশনের টোল ফ্রি হটলাইন নাম্বার কোনটি?
  1. ১০০
  2. ১০৬
  3. ১০৯
  4. ৯৯৯ 
  5. ৩৩৩ 
ব্যাখ্যা

১০৬: দুর্নীতি দমন কমিশনের কল সেন্টার
- দুর্নীতির ঘটনা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের লক্ষ্যে কমিশন ২০১৭ সালের ২৭ শে জুলাই দুদক অভিযোগ কেন্দ্রের টোল ফ্রি হটলাইন ১০৬ এর কার্যক্রম শুরু করে।

উল্লেখ্য বিভিন্ন সেবায় হেল্পলাইন:
- ৯৯৯: বাংলাদেশের জরুরি কল সেন্টার। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি সার্ভিস। 
- ১৬৪৩০: সরকারি আইনি সহায়তা কল সেন্টার। 
- ১৬১২৩: কৃষি বিষয়ক যে কোন পরামর্শ পেতে বিনামূল্যে কল করুন। 
- ১০৯: নারী ও শিশু নির্যাতন অথবা পাচারের ঘটনা প্রতিরোধে কল সেন্টার
- ১০৯৮: শিশু সহায়তামুলক কল সেন্টার।
- ৩৩৩: জাতীয় তথ্যবাতায়ন কল সেন্টার।
- ১৬২৬৩: বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য কল সেন্টার। 
- ১৬১০৮: মানবাধিকার সহায়ক কল সেন্টার। 
- ১৬২৫৬: আপনার ইউনিয়নের সকল তথ্য জানতে কল করুন ইউনিয়ন সহায়তামুলক কল সেন্টারে।
- ১৩১: বাংলাদেশ রেলওয়ে কল সেন্টার। 
- ১০৫: জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য কল সেন্টার।
- ১০০: বিটিআরসি কল সেন্টার।
- ১৬৪২০: বিটিসিএল কল সেন্টার।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৫১.
বিচার বিভাগের কাজ নয় কোনটি?
  1. আইন সংক্রান্ত কাজ
  2. নির্বাচন পরিচালনা
  3. সংবিধান সংরক্ষণ
  4. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা
ব্যাখ্যা
বিচার বিভাগ:
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিচার বিভাগ অন্যতম।
- নাগরিকের অধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের বিচার বিভাগ শেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে।
- বাংলাদেশের বিচার বিভাগ মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
• উচ্চতর বিচার বিভাগ (সুপ্রিম কোর্ট)।
• অধস্তন বিচার বিভাগ (নিম্ন আদালতসমূহ)।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ৯৪ নং ধারা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারপতিদেরকে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পাদন করে থাকেন।
- বাংলাদেশ সংবিধানের ষষ্ট বিভাগে বিচার বিভাগের কাঠামো, মর্যাদা এবং কার্যাবলি সম্পর্কিত বিধান লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

বিচার বিভাগের কার্যাবলি:
১. বিচার সংক্রান্ত কাজ।
২. আইন সংক্রান্ত কাজ।
৩. শাসন সংক্রান্ত কাজ করা।
৪. পরামর্শ সংক্রান্ত কাজ।
৫. জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা।
৬. তদন্ত সংক্রান্ত কাজ
৭. সংবিধান সংরক্ষণ।

উল্লেখ্য,
- নির্বাচন পরিচালনা বিচার বিভাগের কাজ নয়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া, পৌরনীতি ও সুশাসন ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও পৌরনীতি, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫২.
বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত -
  1. মাঠ প্রশাসন
  2. সচিবালয়
  3. বিভাগ
  4. জেলা
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশের প্রশাসনের দুটি স্তর রয়েছে।
- যেমন: কেন্দ্রীয় প্রশাসন এবং মাঠ প্রশাসন।
- কেন্দ্রিয় প্রশাসনিক কাঠামোর পদসোপান অনুযায়ী সর্বনিম্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হচ্ছেন সহকারী সচিব।
- ধাপের ক্রমানুসারে কর্মকর্তাদের পদবি যথাক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব, উপসচিব, যুগ্ম সচিব, অতিরিক্ত সচিব, সচিব, সিনিয়র সচিব এবং সবার উপরে মন্ত্রী অবস্থান করেন।
- প্রশাসনিক কর্মকান্ড এই কাঠামো স্তরের মধ্য দিয়েই বাস্তবায়িত হয়।
- সিদ্ধান্ত বা নির্দেশ উপর থেকে নিচের দিকে যায়।
- সচিবের পরামর্শ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কোনো বিভাগীয় প্রধান, সরাসরি মন্ত্রীর কাছে কোনো প্রস্তাব বা সুপারিশ পাঠাতে পারেন না।
- একটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব বা অধস্তন কর্মকর্তা থাকতে পারেন। 
- সচিবালয়ে গৃহীত সিদ্ধান্ত ক্রমান্বরে বিভাগে, জেলা প্রশাসনে এবং উপজেলা প্রশাসনে প্রেরিত হয়।
- সচিবালয় বাংলাদেশ প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত।
- সকল বিভাগ, দপ্তর ও সংস্থাসমূহ সচিবালয়ের কাছে দায়ী।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১৫৩.
‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫’ জারি করা হয় কত তারিখে?
  1. ২৮ নভেম্বর, ২০২৫
  2. ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
  3. ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  4. ২৭ নভেম্বর, ২০২৫
ব্যাখ্যা

• সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করা হয় - ৩০ নভেম্বর, ২০২৫।

-
অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত বিষয়াদি যথাযথরূপে পালনের জন্য এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করিবার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত এ অধ্যাদেশ।

- অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে খসড়া অনুমোদনের পর আজ রোববার সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করেছেন রাষ্ট্রপতি। এখন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা হলে অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ–সংক্রান্ত সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে এই সচিবালয়।

- অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিচারকাজে নিয়োজিত বিচারকদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটিবিষয়ক সব সিদ্ধান্ত ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় এই সচিবালয়ের হাতে থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির ওপর ন্যস্ত থাকবে এবং সচিবালয়ের সচিব প্রশাসনিক প্রধান হবেন।

উৎস: সংবিধান এবং প্রথম আলো।

১৫৪.
বাংলাদেশের আইনসভা কয় কক্ষবিশিষ্ট?
  1. দুই কক্ষবিশিষ্ট
  2. এক কিক্ষবিশিষ্ট
  3. তিন কক্ষবিশিষ্ট
  4. চার কক্ষবিশিষ্ট
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের আইনসভা:
- সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম।
- বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
- এটি এক কক্ষবিশিষ্ট।
- জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০।
- এর মধ্যে ৩০০ জন সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন
- এবং অবশিষ্ট ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।
- বাংলাদেশকে মোট ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ভাগ করা হয়েছে।
- সংসদে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার থাকেন।
- তাঁরা সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন এবং সংসদের কর্যক্রম নিয়ন্ত্রন করেন।
 - জাতীয় সংসদের কার্যকাল পাঁচ বছর।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
১৫৫.
সংসদে বেসরকারি বিল কে উত্থাপন করেন?
  1. স্পিকার
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. সংসদ সদস্য
  4. মন্ত্রী
ব্যাখ্যা

বিল:
- আইনের প্রাথমিক প্রস্তাবকে সংসদীয় ভাষায় বিল বলা হয়।
- আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যে সংসদে আনীত প্রত্যেকটি প্রস্তাব বিল আকারে উত্থাপিত হয়।

• বিল মূলত দুই প্রকার। 
১) সরকারি বিল:
- উত্থাপনকারী: মন্ত্রীরা।
- নোটিশের সময়: ৭ দিন।
- বৈশিষ্ট্য: সরকার কর্তৃক প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে ব্যবহৃত হয়।

২) বেসরকারি বিল:
- উত্থাপনকারী: সাধারণ সংসদ সদস্য (মন্ত্রী ব্যতীত)।
- নোটিশের সময়: ১৫ দিন।
- বৈশিষ্ট্য: ব্যক্তিগত সংসদ সদস্যদের উদ্যোগে উত্থাপিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি, প্রফেসর মোঃ মোজাম্মেল হক এবং সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট।

১৫৬.
বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কোথায় অবস্থিত?
  1. বগুড়া

  2. গাজীপুর

  3. নারায়ণগঞ্জ

  4. ঢাকা

ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র:
- বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সংক্ষেপে: বিপিএটিসি) একটি সংবিধিবদ্ধ প্রশিক্ষণমূলক প্রতিষ্ঠান যা সরকারি, বেসরকারি ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।
- এটি ঢাকা জেলার সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত।
- এছাড়া এর প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের সদর দপ্তরে চারটি আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে।
- প্রতিষ্ঠানটি ২৮ এপ্রিল, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটি বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অধ্যাদেশ ১৯৮৪ দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত।
- ১৯৮৪ সালের ২৬ নং অধ্যাদেশের আওতায় লোকপ্রশাসন ও ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিষ্ঠানটি একটি সমন্বিত জাতীয় সংবিধিবদ্ধ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
- সরকারের একজন সচিব এর প্রধান কর্মকর্তা।
- পদবী রেক্টর। রেক্টরের অধীনে পাঁচটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব পর্যায়ে রয়েছে পাঁচজন এমডিএস।
- বিভাগগুলো হলো: ব্যবস্থাপনা ও লোকপ্রশাসন, কর্মসূচি প্রণয়ন ও পর্যবেক্ষণ, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিষয়াদি, গবেষণা ও নির্দেশনা এবং প্রকল্প প্রণয়ন।
- একজন মন্ত্রীর সভাপতিত্বে ১২-সদস্য বিশিষ্ট বোর্ড অব গভর্নরস প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ নীতিমালা নির্ধারণ করে।

উৎস: বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ওয়েবসাইট। 

১৫৭.
শাসন বিভাগের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও তদারক করে কোনটি?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. বিচার বিভাগ
  3. রাষ্ট্রপতির কার্যালয়
  4. মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়
ব্যাখ্যা

• শাসন বিভাগ:
- বাংলাদেশের শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রিত হয় জাতীয় সংসদ দ্বারা।

» জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি:
- আইন প্রণয়নের ক্ষমতা একমাত্র জাতীয় সংসদের হাতে ন্যস্ত হওয়ায় বাংলাদেশের সংবিধান কর্তৃক জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে বিস্তৃত করা হয়েছে। 
- বাংলাদেশ সংবিধানের পঞ্চমভাগে জাতীয় সংসদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে।
- সংবিধানের ৬৫ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই প্রজাতন্ত্রের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা জাতীয় সংসদের উপর ন্যস্ত। 
- সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য নিয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়। 

» শাসন বিভাগ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কার্যাবলি:
- তত্ত্বগতভাবে শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণকল্পে অর্থাৎ শাসন বিভাগের স্বেচ্ছাচারিতা রোধে আইন বিভাগ ভূমিকা পালন করে।
- তবে রাষ্ট্রভেদে তা ভিন্নরূপ পরিগ্রহ করতে দেখা যায়।
- বাংলাদেশের আইন সভা সার্বভৌম হওয়ার দরুণ আইন বিভাগের এ ধরনের ভূমিকা রাখার কথা থাকলেও, ভারসাম্যপূর্ণ শাসন ও প্রশাসনের তাগিদে শাসন বিভাগ আইন বিভাগের হস্তক্ষেপ মুক্ত থাকে।
- তবে আইন সভা কর্তৃক প্রণীত সাংবিধানিক আইন নির্বাহী বা শাসন বিভাগ মেনে চলতে বাধ্য থাকে। আইন সভা কর্তৃক প্রণীত আইন অমান্য করার অর্থ হল সংবিধানকে অগ্রাহ্য করা।

উল্লেখ্য,
- সরকারের সর্ববৃহৎ বিভাগ হল শাসন বিভাগ যাকে নির্বাহী বিভাগও বলা হয়।
- শাসন বিভাগ আইন প্রয়োগ ও আইনের আলোকে রাষ্ট্রের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। 
- জনগণকে সেবা প্রদানের মূল দায়িত্বে থাকে শাসন বিভাগ। 
- শাসন বিভাগের দুটি অংশ থাকে। 
(১) রাজনৈতিক অংশ ও
(২) অরাজনৈতিক অংশ। 

রাজনৈতিক অংশ:
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্যগণ শাসন বিভাগের রাজনৈতিক অংশ।
রাজনৈতিক অংশ অস্থায়ী।
তাঁরা নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নির্বাচিত এবং নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন।
 
অরাজনৈতিক অংশ:
- আমলাগণ শাসন বিভাগের অরাজনৈতিক অংশ, স্থায়ী ও বেতনভূক্ত। 
- শাসন বিভাগের ক্ষমতা বিভিন্ন ইউনিটে বিভক্ত থাকে। যা কেন্দ্রিয় ও মাঠ প্রশাসন হিসেবে পরিচিত।
- কেন্দ্রে থাকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। মাঠ প্রশাসনে জেলা-উপজেলা প্রশাসন সরকারি দায়িত্ব পালন করে। 
শাসন বিভাগ আইন প্রয়োগ ও বাস্তবায়ন, প্রতিরক্ষা, অর্থ সংক্রান্ত কাজ থেকে শুরু কওে সরকারের প্রয়োজনীয় সকল কাজই করে থাকে।
- রাষ্ট্রপতি কর্তৃক প্রণীত 'রুলস অব বিজনেস' অনুযায়ী শাসন বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। 
- সরকারের সফলতা ও স্থায়িত্ব শাসন বিভাগের দক্ষতার উপর নির্ভর করে।

তথ্যসূত্র: i) পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৫৮.
মাত্র ১টি সংসদীয় আসন বিদ্যমান -
  1. মেহেরপুরে
  2. ঝালকাঠিতে
  3. গোপালগঞ্জে
  4. রাঙামাটিতে
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আসন:
- বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি।
- এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি।
- জাতীয় সংসদের ৩০০ নং আসন হলো বান্দরবান।
- ১ নং আসন হলো পঞ্চগড়-১।
- বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিনটি সংসদীয় আসনের মাত্র ১টি করে সংসদীয় আসন রয়েছে।
- জেলাগুলো হলো: রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি।

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১৫৯.
মন্ত্রিপরিষদ সচিব কতজন?
  1. ১ জন 
  2. ২ জন 
  3. ৩ জন 
  4. ৫ জন 
ব্যাখ্যা

মন্ত্রিপরিষদ সচিব:
- মন্ত্রিপরিষদ সচিব ১ জন। 

⇒ বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ।
- ড. শেখ আব্দুর রশীদ মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে ১৬ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে যোগদান করেন।
- তিনি বাংলাদেশ সরকারের ২৫তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব। 

উল্লেখ্য,
- মন্ত্রিপরিষদ সচিব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আনুষ্ঠানিক প্রধান। তিনি শীর্ষপদের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে মনোনীত হন। পদমানক্রমে তাঁর পদমর্যাদা অন্যান্য সচিবের পদের চার ধাপ ঊর্ধ্বে। তিনি আন্তঃমন্ত্রণালয় আলোচনা বিষয়ক কয়েকটি সচিব পর্যায়ের কমিটিরও প্রধান। তিনি প্রশাসন উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটি ও সুপিরিয়র সিলেকশন বোর্ডেরও চেয়ারম্যান। বস্ত্তত মন্ত্রিপরিষদ সচিব প্রধানমন্ত্রী/মন্ত্রিসভার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেন। তার অবস্থান অনেকটা সিভিল সার্ভিস ও স্থায়ী আমলাতন্ত্রের প্রধানের অনুরূপ। কেননা, সকল সচিব তাঁর পরামর্শ ও নির্দেশনার মুখাপেক্ষী।
- মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও তার ঊর্ধ্বতন সহযোগিবৃন্দ মন্ত্রিসভার প্রায় সকল বৈঠকে উপস্থিত থাকেন। তিনি নৈর্ব্যক্তিকভাবে এসব বৈঠকের সংক্ষিপ্ত বিবরণ লিপিবদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য তার কাছে পেশ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন লাভের পর মন্ত্রিসভার বৈঠকের কার্যবিবরণীর অনুলিপি মন্ত্রীদের মধ্যে বিলি করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের উদ্ধৃতাংশ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের নিকট পাঠান। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রতি অবিরত নজর রাখাও তার দায়িত্ব।

উৎস: i) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট।
ii) বাংলাপিডিয়া। 

১৬০.
শায়েস্তাগঞ্জ বাংলাদেশের কততম উপজেলা?
  1. ক) ৪৯১
  2. খ) ৪৯২
  3. গ) ৪৯৩
  4. ঘ) ৯৪৪
ব্যাখ্যা
শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) বাংলাদেশের সর্বশেষ উপজেলা। এটি বাংলাদেশের ৪৯২ তম উপজেলা।
১৬১.
বাংলাদেশে সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী জাতীয় সংসদ ছিল-
  1. ষষ্ঠ সংসদ
  2. দ্বিতীয় সংসদ
  3. চতুর্থ সংসদ
  4. তৃতীয় সংসদ
ব্যাখ্যা

- বাংলাদেশে সবচেয়ে স্বল্পস্থায়ী জাতীয় সংসদ ছিল- ষষ্ঠ সংসদ।

• বাংলাদেশে গঠিত সকল সংসদের তালিকা:

- প্রথম সংসদ: ২ বছর ৬ মাস (৭ই এপ্রিল, ১৯৭৩ ৬ই নভেম্বর, ১৯৭৫) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।
- দ্বিতীয় সংসদ: ২ বছর ১১ মাস (২রা এপ্রিল, ১৯৭৯ ২৪শে মার্চ, ১৯৮২) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে।
- তৃতীয় সংসদ: ১ বছর ৫ মাস (১০ই জুলাই, ১৯৮৬ ৬ই ডিসেম্বর, ১৯৮৭) জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে।
- চতুর্থ সংসদ: ২ বছর ৭ মাস (১৫ই এপ্রিল, ১৯৮৮ ৬ই ডিসেম্বর, ১৯৯০) জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে।
- পঞ্চম সংসদ: ৪ বছর ৮ মাস (৫ই এপ্রিল, ১৯৯১ ২৪শে নভেম্বর, ১৯৯৫) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে।
- ষষ্ঠ সংসদ: ১২ দিন (১৯শে মার্চ, ১৯৯৬ ৩০শে মার্চ, ১৯৯৬) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে।
- সপ্তম সংসদ: ৫ বছর (১৪ই জুলাই, ১৯৯৬ ১৩ই জুলাই, ২০০১) আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে।

উৎস: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট।

১৬২.
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন কে? [মার্চ, ২০২৫]
  1. মোঃ তৌহিদ হোসেন
  2. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ
  3. চৌধুরী রফিকুল আবরার
  4. আলী ইমাম মজুমদার
ব্যাখ্যা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা: 
- ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
- প্রধান উপদেষ্টা সহ বর্তমানে অন্তবর্তীকালীন সরকারের মোট উপদেষ্টা ২৩ জন।
- অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরার।
- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও মানবাধিকারকর্মী।
- ৫ মার্চ বঙ্গভবনে সি আর আবরারকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

উল্লেখ্য,
- শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা হিসেবে প্রথমে দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
- বর্তমানে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ শুধু পরিকল্পনা উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

তথ্যসূত্র- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ওয়েবসাইট। [Link]
১৬৩.
জাতীয় সংসদের সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন-
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. হুইপ
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. স্পীকার
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের আইনসভা:
- সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে আইনসভা অন্যতম।
- বাংলাদেশের আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
- এটি এক কক্ষবিশিষ্ট।
- জাতীয় সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা ৩৫০।
- এর মধ্যে ৩০০ জন সদস্য জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন
- এবং অবশিষ্ট ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।
- বাংলাদেশকে মোট ৩০০টি নির্বাচনী এলাকায় ভাগ করা হয়েছে।
- সংসদে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার থাকেন।
- তাঁরা সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন এবং সংসদের কর্যক্রম নিয়ন্ত্রন করেন।
 - জাতীয় সংসদের কার্যকাল পাঁচ বছর।
- স্পীকার জাতীয় সংসদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।
- স্পীকার আইন সভা তথা জাতীয় সংসদের সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন।


উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
১৬৪.
বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন-
  1. এম.এ .ইদ্রিস
  2. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম
  3. ড.গোলাম মোস্তফা
  4. আব্দুস সাত্তার 
ব্যাখ্যা

সুপ্রিম কোর্ট:
- হাইকোর্টের ব্রেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি।
- প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি।
- বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির বয়সসীমা দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ হতে পরবর্তী ৫ বছর।
- সংবিধানের প্রণয়নকালে বিচারপতিদের চাকরির বয়সসীমা ছিল ৬২ বছর।
- দেশে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় ২৮ জানুয়ারি ২০১৩ সালে।
- 'বাংলাদেশের প্রথম প্রধান বিচারপতি ছিলেন বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম।
-  তিনি ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ থেকে ৫ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। 

উল্লেখ্য,
- প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারকদের অবসরের বয়স ৭০ বছর করার প্রস্তাব করেছে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন।
- এজন্য বিদ্যমান সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
- বিদ্যমান সংবিধানে প্রধান বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের অবসরের বয়স ৬৭ বছর নির্ধারণ করা রয়েছে।
- এই অবসরের বয়সসীমা তিন বছর বৃদ্ধি করে ৭০ করার প্রস্তাব করল কমিশন। 

উৎস: সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট এবং দৈনিক প্রথম আলো।

১৬৫.
শিশুর জন্মের কত দিনের মধ্যে নবজাতকের জন্ম নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়?
  1. ৪৫ দিন
  2. ১৫ দিন
  3. ৩০ দিন
  4. ৬০ দিন
ব্যাখ্যা

নবজাতকের নিবন্ধনপ্রক্রিয়া: 
- সরকারি নিয়মে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নবজাতকের নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হয়।

উল্লেখ্য,
-'রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়, জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন'-এর তথ্য অনুসারে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯ মাসে মোট জন্মনিবন্ধন হয়েছে ৭৭ লাখ ৮১ হাজার ৩৯০ জনের।
- এর মধ্যে ৬ লাখ ৫৭ হাজার ৮৪৮ শিশুর নিবন্ধন হয়েছে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে,

উৎস: 'রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় এবং প্রথম আলো।

১৬৬.
বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কয়টি দপ্তর/সংস্থা নিয়ে গঠিত? [মে, ২০২৫]
  1. ২২টি
  2. ২৪টি
  3. ২৫টি
  4. ২৭টি
ব্যাখ্যা
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়:
- বাংলাদেশের জন্য একটি আধুনিক ও সুন্দর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়।
- সচিবালয় থেকে ১৯৭২ সালে এ মন্ত্রণালয়টি হাইকোর্ট ভবনে এবং ১৯৯৩ সালে শের-ই-বাংলা নগরের গণভবন কমপ্লেক্সে বর্তমান ভবনে স্থানান্তরিত হয়।
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন।
- আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সময়োপযোগী কর্ম-উদ্যোগ এবং বাস্তবানুগ ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর/সংস্থাসমূহ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে চলেছে।
- প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর আওতাধীন সামরিক অসামরিক প্রতিষ্ঠান সমূহের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম, সুখী, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টাকে আরো সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করে তুলবে।

উল্লেখ্য,
- প্রাথমিক পর্যায়ে ১৪টি দপ্তর/সংস্থা নিয়ে এ মন্ত্রণালয় গঠিত হয়েছিল।
- বর্তমানে ২৫টি দপ্তর/সংস্থা নিয়ে এ মন্ত্রণালয় পরিচালিত হচ্ছে।
- মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোতে বর্তমানে মোট পদসংখ্যা হয়েছে ২৩২টি।

উৎস: প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ওয়েবসাইট।
১৬৭.
'রাজনৈতিক জোট' গড়ে উঠার প্রবণতা দেখা যায় কী ধরনের শাসনব্যবস্থায়?
  1. একদলীয় ব্যবস্থায়
  2. দ্বি-দলীয় ব্যবস্থায়
  3. বহুদলীয় ব্যবস্থায়
  4. সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায়
ব্যাখ্যা
বহুদলীয় ব্যবস্থা:

- 'রাজনৈতিক জোট' গড়ে উঠার প্রবণতা দেখা যায় বহুদলীয় শাসনব্যবস্থায়।
- একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন দুইটির বেশি দল রাজনৈতিক ক্ষমতা লাভের লড়াইয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করে তাকে বহুদলীয় ব্যবস্থা বলে।
- বহুদলীয় ব্যবস্থায় সাধারণত সাধারণ নির্বাচনে কোন দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে না।
- ফলে নির্বাচনে জয় লাভের জন্য অনেক সময় সমমনা দলগুলির সমন্বয়ে 'সম্মিলিত সরকার' গঠিত হয়।
- ফ্রান্স, ইতালি, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশে এরূপ বহুদলীয় ব্যবস্থা বিদ্যমান আছে।
- বহু দলীয় ব্যবস্থায় মতামত প্রকাশের অবাধ স্বাধীনতা থাকে।
- জনগণ ইচ্ছামত যেকোনো দলকে সমর্থন করে তাদের ব্যক্তিগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পারে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, মোজাম্মেল হক।
১৬৮.
সুপ্রিমকোর্টের অংশ-
  1. জেলা জজ আদালত
  2. আপিল বিভাগ
  3. সহকারী জজ আদালত
  4. যুগ্ম জেলা জজ আদালত
ব্যাখ্যা
• সুপ্রিম কোর্ট:
- বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রিমকোর্ট।
- সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রধানবিচারপতি রয়েছেন, যাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বলা হয়।
- প্রত্যেক বিভাগের জন্য যতজন বিচারক প্রয়োজন ততজন বিচারককে নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট গঠিত। 
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ দেন। 

• সুপ্রিমকোর্টের এর রয়েছে দুটি বিভাগ,
যথা:
- আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।
 
উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা-৯ম শ্রেণি।
১৬৯.
বাংলাদেশে সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয় কত সালে?
  1. ১৯৯১ সালে
  2. ১৯৯২ সালে
  3. ১৯৯৫ সালে
  4. ১৯৯৬ সালে
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার:
- বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের একপ্রকারের শাসন ব্যবস্থা, যার অধীনে দুইটি নির্বাচিত সরকারের মধ্যবর্তী সময়কালে সাময়িকভাবে অনির্বাচিত ব্যক্তিবর্গ কোন দেশের শাসনভার গ্রহণ করে থাকে।
- বিএনপি সরকারের পদত্যাগের পর ১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনের মাধ্যমে সংবিধানে যোগ হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি।
- এই সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে সাংবিধানিকভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু হয়।
- বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান ছিলেন সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা।
- উপদেষ্টা পরিষদের বাকিরা হলেন: ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ড. মুহাম্মদ ইউনূস, অর্থনীতিবিদ ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অধ্যাপক মো. শামসুল হক, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, শেগুফতা বখত চৌধুরী, এ জেড এম নাছিরুদ্দিন, সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, অধ্যাপক নাজমা চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রহমান খান।
- এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার মোট ৮৬ দিন ক্ষমতায় ছিল। এই সরকার ১৯৯৬ সালের ১২ জুন জাতীয় সংসদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন।
- অবশেষে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১২ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন প্রথম সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য,
- ১৯৯০ সালে সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতনের পর জাতীয় নির্বাচন আয়োজন পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের জন্য গঠন করা হয়েছিল নির্দলীয় প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
- প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ঐ সরকার গঠিত হয়েছিল।

এছাড়াও,
- ৩০ জুন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে 'তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা' বাতিল করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৭০.
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স কত বছর?
  1. ২৫ বছর
  2. ৩০ বছর
  3. ৩৫ বছর
  4. ৪০ বছর
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশ সংবিধান অনুসারে-
- বাংলাদেশের একজন ভোটারের সর্রনিম্ন বয়স ১৮ বছর,
- বাংলাদেশের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২৫ বছর,
- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২৫ বছর,
- বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৭১.
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন-
  1. এম জি তোয়াব
  2. সদরুদ্দিন আহমেদ
  3. সাইফুল আজম
  4. এ কে খন্দকার
ব্যাখ্যা

এ কে খন্দকার
- এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আবদুল করিম খন্দকার যিনি এ. কে. খন্দকার নামে পরিচিত
- তারঁ জন্ম: জানুয়ারি ১, ১৯৩০ সাল।
- তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান ছিলেন। 
- মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে তিনি কঠোর মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে বিজয়ের দিকে পরিচালিত প্রচেষ্টাগুলোর সমন্বয়সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- স্বাধীনতার পর তিনি প্রথম বিমান বাহিনী প্রধান নিযুক্ত হন এবং তাঁর যোগ্যতম পরিচালনায় যুদ্ধ বিধ্বস্ত বিমান বাহিনী পুনর্গঠনে সক্ষম হন।
- বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেশাত্মবোধ ও সাহসিকতাপূর্ণ অবদানের জন্য এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকারকে ‘বীর উত্তম’খেতাবে ভূষিত করা হয়।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১৭২.
১৯৭৬ সালের স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশে কয় স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা চালু হয়?
  1. তিন
  2. দুই
  3. চার
  4. পাঁচ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার:
- ১৯৭৬ সালে জেনারেল জিয়াউর রহমানের নতুন সরকার স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করে।
- এতে তিন ধরনের গ্রামীণ স্থানীয় সরকার গঠনের বিধান রাখা হয়, যথা, ইউনিয়ন পরিষদ, থানা পরিষদ এবং জেলা পরিষদ।
- ইউনিয়ন পরিষদের গঠন ও কার্যাবলি বলতে গেলে ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির ২২ নং অধ্যাদেশের অনুরূপই থেকে যায়।
-  ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদকাল পাঁচ বছর নির্ধারিত ছিল।
- ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যদের যোগ্যতা, তাদের অপসারণ প্রক্রিয়া এবং একইভাবে ইউপি কার্যক্রম কি হবে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশে তার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১৭৩.
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ কত বছর?
  1. ৪ বছর
  2. ৫ বছর
  3. ৬ বছর
  4. ১০ বছর
ব্যাখ্যা
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ ৫ বছর।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের সপ্তম ভাগের ১১৮ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের প্রধানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলা হয়ে থাকে।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে বাংলাদেশের একটি নির্বাচন কমিশন থাকবে।
- একাধিক নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কমিশনের সভাপতিরূপে কাজ করবেন।
- সংবিধানের বিধানবলী সাপেক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কোন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ তাঁর কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৯ এ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বর্ণিত হয়েছে।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি ও সংসদে নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা (এর মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ যেমনঃ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ অর্ন্তভুক্ত) এবং আনুষাঙ্গিক কার্যাদির সুষ্ঠু সম্পাদন।
- দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবেন এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন।
- নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।
১৭৪.
নূন্যতম কতজন সংসদ সদস্য উপস্থিত না থাকলে স্পীকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন?
  1. ৪৫ জন
  2. ৬০ জন
  3. ৯০ জন
  4. ১৫১ জন
ব্যাখ্যা
জাতীয় সংসদ:

- জাতীয় সংসদ  গণপ্রজাতন্ত্রী  বাংলাদেশের এক কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা।
- দেশের সংবিধানের বিধানাবলি সাপেক্ষে আইন প্রণয়ন ক্ষমতা এ সংসদের ওপর ন্যস্ত।
- প্রতি নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ৩০০ সদস্য সমন্বয়ে জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- জাতীয় সংসদের মেয়াদ ৫ বছর।
- সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে (২০১১) মহিলা আসন সংখ্যা ৫০ করা হয়।
- সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের অধিবেশন আহবান করা হয়।
- জাতীয় সংসদের কার্য পরিচালনার জন্য কোরাম থাকতে হয়।
- অধিবেশনে কোরামের জন্য ন্যূনতম ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতি প্রয়োজন।
- বাংলাদেশের সংবিধানের ৭৫ নং অনুচ্ছেদে কোরাম সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- সংবিধান অনুযায়ী কমপক্ষে ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কাজ চলবে অর্থাৎ ৬০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদের কোরাম হবে।
- ৬০ জনের কম সদস্য উপস্থিত থাকলে স্পীকার সংসদের অধিবেশন স্থগিত রাখেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।
১৭৫.
মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো- 
  1. জেলা প্রশাসন
  2. বিভাগীয় প্রশাসন
  3. উপজেলা প্রশাসন
  4. পৌর প্রশাসন
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামো:
- বাংলাদেশের প্রশাসনিক কাঠামোর দুটি স্তর আছে।
- প্রথম স্তরটি হলো কেন্দ্রীয় প্রশাসন (সচিবালয়)।
- দেশের সব ধরনের প্রশাসনিক নীতি ও সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গ্রহণ করা হয়।
- আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমেসারা দেশে বাস্তবায়িত হয়।

• বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের দ্বিতীয় স্তরটি হলো মাঠ প্রশাসন।
- মাঠ প্রশাসনের প্রথম ধাপ হলো বিভাগীয় প্রশাসন।
- দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
- জেলার পর আছে উপজেলা প্রশাসন।
- উপজেলা প্রশাসন একেবারে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- মাঠ প্রশাসন মূলত কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৭৬.
সরকারের সকল কার্যাদি কার নামে সম্পাদিত হয়?
  1. আইন সভা
  2. প্রধানমন্ত্রী
  3. রাষ্ট্রপতি
  4. স্পীকার
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতির শাসন সংক্রান্ত ক্ষমতা:
- রাষ্ট্রের প্রধান হওয়ায় সরকারের সকল কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদিত হয়।
- প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও তিনি অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীকে নিয়োগ প্রদান করেন।
- এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে তিনি প্রধান বিচারপতি, এটর্নি জেনারেল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ দান করে থাকেন।
- তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন।
- রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিভাগের সর্বাধিনায়ক।

উৎস: পেীরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৭৭.
Kazi Habibul Awal has been appointed as the ___ Chief Election Commissioner (CEC) of Bangladesh.
  1. 10th
  2. 11th
  3. 12th
  4. 13th
ব্যাখ্যা

কাজী হাবিবুল আউয়াল:
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হলেন কাজী হাবিবুল আউয়াল।
- জনাব কাজী হাবিবুল আউয়াল ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। 
- তিনি দেশের ১৩তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)। 

উৎস: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

১৭৮.
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আসন কতটি?
  1. ৩৫১টি
  2. ৩৫০টি
  3. ৩৩০টি
  4. ৩০০টি
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে বাংলায় আইনসভার নাম জাতীয় সংসদ।
- বাংলাদেশের সংসদ একটি এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা যা ৩৫০ জন সদস্য নিয়ে গঠিত।
- যার মধ্যে ৩০০টি আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকার ৩০০ জন সদস্য যা প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে একজন করে।
- অবশিষ্ট ৫০টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে।
- ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের জন্য এই বিধান নবম সংসদের শুরু থেকে দশ বছর অব্যাহত থাকবে।
- ১৭তম সংশোধনী অনুযায়ী, ৫০টি সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেয়াদ দশম সংসদের শুরু থেকে আরও ২৫ বছরে বৃদ্ধি পাবে।

উৎস: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ওয়েবসাইট।
১৭৯.
'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন' প্রণীত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৫৬ সালে
  2. খ) ১৯৭৩ সালে
  3. গ) ১৯৮৭ সালে
  4. ঘ) ১৯৮৮ সালে
ব্যাখ্যা
১৯৮৭ সালের 'বাংলা ভাষা প্রচলন আইন' এর ৩নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে - 

৩। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর বাংলাদেশের সর্বত্র তথা সরকারী অফিস, আদালত, আধা-সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান কর্তৃক বিদেশের সাথে যোগাযোগ ব্যতীত অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে নথি ও চিঠিপত্র, আইন আদালতের সওয়াল জবাব এবং অন্যান্য আইনানুগত কার্যাবলী অবশ্যই বাংলায় লিখিতে হইবে।
 
 (২) ৩(১) উপ-ধারায় উল্লেখিত কোন কর্ম স্থলে যদি কোন ব্যক্তি বাংলা ভাষা ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় আবেদন বা আপীল করেন তাহা হইলে উহা বেআইনী ও অকার্যকর বলিয়া গণ্য হইবে।
 
 (৩) যদি কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী এই আইন অমান্য করেন তাহা হইলে উক্ত কার্যের জন্য তিনি সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধির অধীনে অসদাচরণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হইবে এবং তাহার বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপীল বিধি অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হইবে।

সূত্র: বাংলা ভাষা প্রচলন আইন, ১৯৮৭। 
১৮০.
তেঁতুলিয়া কোন জেলায় অবস্থিত?
  1. ক) দিনাজপুর
  2. খ) পঞ্চগড়
  3. গ) লালমনিরহাট
  4. ঘ) কক্সবাজার
ব্যাখ্যা
তেঁতুলিয়া বাংলাদেশের সর্বউত্তরের উপজেলা। এটি পঞ্চগড় জেলায় অবস্থিত।
সুত্রঃ tetulia.panchagarh.gov.bd ও বাংলাপিডিয়া
১৮১.
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর কোনটি?
  1. উপজেলা পরিষদ
  2. জেলা পরিষদ
  3. সিটি কর্পোরেশন
  4. ইউনিয়ন পরিষদ
ব্যাখ্যা

• বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বরূপ :
⇒ বাংলাদেশে বর্তমানে তিন স্তরবিশিষ্ট স্থানীয় সরকার কাঠামো লক্ষ করা যায়।
 যথা- ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদ।
-  উল্লিখিত তিন স্তরের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকেই নিচের দিকে সবচেয়ে কার্যকর ইউনিট বলে মনে করা হয়ে থাকে।

⇒ এছাড়া শহরগুলোতে পৌরসভা, বড় শহরে সিটি কর্পোরেশন,
⇒ পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ও তিন পার্বত্য জেলায় তিনটি (খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, রাঙামাটি)

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৮২.
বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে? (ডিসেম্বর, ২০২৫)
  1. কে এম নূরুল হুদা
  2. কে এম নজরুল ইসলাম
  3. কাজী হাবিবুল আউয়াল
  4. এ এম এম নাসির উদ্দীন
ব্যাখ্যা

নির্বাচন কমিশন:
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় নির্বাচন কমিশন গঠিত। 
- এটি সাংবিধানিকভাবে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনারসহ মোট পাঁচজন নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত।
- নির্বাচন কমিশনারগণকে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন।
- নির্বাচন কমিশনের সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার সভাপতির কাজ করেন।
- বাংলাদেশের বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। (ডিসেম্বর, ২০২৫)
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারের মেয়াদ তাদের কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর।
- নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সরকার ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষের কর্তব্য।
- নির্বাচন কমিশন সংবিধানে বর্ণিত নির্দেশনাবলি এবং দেশের নির্বাচনি আইন দ্বারা পরিচালিত হয়।
- নির্বাচন কমিশন কর্তৃক পরিচালিত নির্বাচন সমূহ,
• রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
• জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
• সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।
• জেলা পরিষদ নির্বাচন।
• উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।
• পৌরসভা নির্বাচন।
• ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম-দশম শ্রেণি ও নির্বাচন কমিশন ওয়েবসাইট।

১৮৩.
একাদশ জাতীয় সংসদে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সংখ্যা কতটি?
  1. ক) ৩৮টি
  2. খ) ৩৯টি
  3. গ) ৪১টি
  4. ঘ) ৪৩টি
ব্যাখ্যা
বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদে মোট সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সংখ্যা ৫০টি।
এর মধ্যে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সংখ্যা ৩৯টি।
(সূত্র: জাতীয় সংসদ সচিবালয় ওয়েবসাইট)
১৮৪.
সংবিধানের কোন ভাগে 'জাতীয় সংসদ' সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে?
  1. অষ্টম ভাগে
  2. সপ্তম ভাগে
  3. ষষ্ঠ ভাগে
  4. পঞ্চম ভাগে
ব্যাখ্যা
-জাতীয় সংসদ: 
- জাতীয় সংসদ সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে সংবিধানের পঞ্চম ভাগে।
- আইন অনুসারে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ হলো এককক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা।
- সারাদেশ থেকে নির্বাচিত ৩০০ সংসদ সদস্য এবং সংরক্ষিত ৫০ জন নারী সংসদ সদস্য নিয়ে এই জাতীয় সংসদ গঠিত হয়।
- পূর্ণ মেয়াদে প্রতি পাঁচ বছর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
- নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রত্যেক বয়স্কপ্রাপ্ত নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকে।
- প্রচলিত আইন মেনে বাংলাদেশের যেকোন নাগরিক এই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।
- এই সংসদীয় ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে একজন প্রার্থীর বয়স ৩৫ বছর হতে হবে। 
- প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ২৫ বছর হওয়ার শর্ত দেশের সংবিধান কর্তৃক স্বীকৃত। 

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।
১৮৫.
কোন ধারণার উপর ভিত্তি করে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র পরিচালিত হয়?
  1. রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ
  2. মুক্ত বাজার অর্থনীতি
  3. নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি
  4. সম্পদের সুষম বন্টন
ব্যাখ্যা
পুঁজিবাদী রাষ্ট্র:
- পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থায় ব্যক্তিগতভাবে পুঁজি সংগ্রহ, বিনিয়োগ ও মুনাফা অর্জনের উপর রাষ্ট্রের কোনো হস্তক্ষেপ থাকে না।
- এক্ষেত্রে ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্যতা থাকে এবং অবাধ প্রতিযোগিতার সুযোগ বিদ্যমান।
- সাধারণত পুঁজিবাদী রাষ্ট্র মুক্ত বাজার অর্থনীতির উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠে।
- এক্ষেত্রে রাষ্ট্র বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করবে না বরং চাহিদা ও যোগান দ্বারা বাজার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রিত হয়।
- পুঁজিবাদী রাষ্ট্রে পুঁজিপতিরা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানসমূহের উপর অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হয়।
- এ ধরনের রাষ্ট্রে জনকল্যাণমূলক ব্যয় কম হয় এবং সরকার পুঁজি বিনিয়োগের যাবতীয় কাঠামোগত ও নীতিগত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করে।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৬.
বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কোন ধরনের?
  1. রাজতন্ত্র
  2. সমাজতন্ত্র 
  3. এককেন্দ্রিক
  4. কোনটিই নয়
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশের সরকার পদ্ধতি:
- বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, এককেন্দ্রিক ও সংসদীয় সরকার ব্যবস্থার রাষ্ট্র।
- এর সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে সরকার কাঠামো কেন্দ্রিয় ও স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

⇒ বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা কাঠামো ও কার্যগতভাবে কতগুলো বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছে।
- সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা এককেন্দ্রিক ও সংসদীয় কাঠামোর ওপর প্রতিষ্ঠিত।
- অর্থাৎ এই সরকার কাঠামোয় একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার থাকবে। কেন্দ্রীয় সরকারই রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল সূতিকাগার হিসেবে আইন প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও ব্যাখ্যা সংক্রান্ত বিষয়ে ভূমিকা পালন করবে।
- সরকারের তিনটি অঙ্গ- আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। প্রতিটি অঙ্গ 'নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য' নীতির মাধ্যমে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে কার্যকরি। একটি বিভাগ কখনও অন্য বিভাগের কার্যে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
- সংসদীয় সরকার কাঠামোর নিয়ম মেনে বাংলাদেশে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সংসদকে সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী বিভাগ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
- আইন অনুযায়ী শাসন বিভাগের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ পদ হল রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
- এই সরকার ব্যবস্থায় একটি মন্ত্রিসভা থাকবে এবং বাংলাদেশ সংবিধানের ধারা ৫৫-র ৩ অনুসারে মন্ত্রিসভা যৌথভাবে সংসদের নিকট দায়ী থাকবে।

উল্লেখ্য,
- এককেন্দ্রিক সরকার এক ধরনের একক, অখন্ড ও সুসংবদ্ধ সরকার ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতা সাংবিধানিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে। এ ধরনের শাসন ব্যবস্থায় কেন্দ্রই থাকে সকল ক্ষমতার উৎস। এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থায় আঞ্চলিক বা স্থানীয় সরকারের অস্তিত্ব থাকতে পারে, এ সরকারগুলো কিছু কিছু ক্ষমতা উপভোগ করতেও পারে। তবে তাদের ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে এ সরকারগুলো তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে। কেন্দ্রীয় সরকার ইচ্ছা করলে এ ক্ষমতা বাড়াতে পারে, কমাতেও পারে।
- এককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থায় স্থানীয় বা আঞ্চলিক সরকারগুলোর সাংবিধানিক কোন ক্ষমতা নেই। ব্রিটেন, ফ্রান্স, জাপান, বাংলাদেশ এ ধরনের সরকারের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
- যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার হলো এমন এক ধরনের সরকার ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা সংবিধান অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে বন্টন করা হয়।এ ব্যবস্থায় ক্ষমতা বন্টন এমন প্রক্রিয়ায় হয়, যার ফলে কেন্দ্রীয় সরকার ও আঞ্চলিক সরকার প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকায় স্বতন্ত্র ও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন দ্বিতীয় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১৮৭.
বাংলাদেশের জাতীয় তহবিলের অভিভাবক কে?
  1. জাতীয় সংসদ
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. অর্থমন্ত্রী
ব্যাখ্যা
সরকারি তহবিল নিয়ন্ত্রণ:
- জাতীয় সংসদ জাতীয় তহবিলের অভিভাবক।
- সংসদের অনুমতি ও কর্তৃত্ব ব্যতীত কোনো প্রাকর কর আরোপ বা সংগ্রহ করা যাবে না (অনুচ্ছেদ: ৮৩)।
- সরকার প্রতি বছর আয়-ব্যয়ের অনুমিত হিসাব সংবলিত একটি বাজেট সংসদে উপস্থাপিত করবেন [অনুচ্ছেদ ৮৭ (১)]।
- বাজেট সংযুক্ত তহবিলের ওপর ধার্য ব্যয়সমূহ সংসদে আলোচিত হবে, কিন্তু এর ওপর ভোট গ্রহণ করা যাবে না [অনুচ্ছেদ ৮৯ (১১)]।

⇒ এরূপ ব্যয়গুলো হলো রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, মহা-হিসাব নিয়ন্ত্রক, কর্মকমিশনের সভাপতি ও সদস্যবৃন্দ, এটর্নি জেনারেল, নির্বাচন কমিশনার ও কর্মচারীবৃন্দ, সরকারের আর্থিক ঋণ, সুদ, আদালত কর্তৃক আরোপিত ব্যয় ইত্যাদি।
- অন্যান্য বিষয় সম্পর্কিত ব্যয় মঞ্জুরি দাবির আকারে সংসদে উপস্থাপিত হবে এবং সংসদ এরূপ মঞ্জুরি দাবি অনুমোদন কিংবা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে বা এতে নির্ধারিত অর্থ হ্রাস করতে পারবে [অনুচ্ছেদ ৮৯ (২)]।
- কিন্তু রাষ্ট্রপতির সুপারিশ ব্যতীত অর্থ ব্যয় সংক্রান্ত কোনো বিল বা মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করা যায় না [অনুচ্ছেদ ৮৯ (৩)]।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৮৮.
মন্ত্রিসভার কত ভাগ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী রাখা যায়?
  1. ৫%
  2. ১০%
  3. ১৫%
  4. ২৫%
ব্যাখ্যা

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী:
- সংবিধানের ৫৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে, সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হতে ৯০ শতাংশ মন্ত্রী নিযুক্ত হবেন।
- নির্বাচিত সদস্য সংসদ সদস্যদের বাইরে থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে পরিচিত।

উল্লেখ্য,
- বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায় এক-দশমাংশ।
- অর্থাৎ ১০ শতাংশ সংসদ সদস্যের বাইরে থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী নিয়োগ দেয়া যায়।

উৎস: বাংলাদেশের সংবিধান।

১৮৯.
নিচের কোনটি সরকার কাঠামোর অংশ নয় কিন্তু সরকারি নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে?
  1. ক) জাতীয় সংসদ
  2. খ) সুপ্রিম কোর্ট
  3. গ) সুশীল সমাজ
  4. ঘ) বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্যাখ্যা
সুশীল সমাজ বা সিভিল সোসাইটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার কাঠামোর অংশ নয়। এরা হলো বেসরকারি স্বেচ্ছামূলক সংগঠিত গোষ্ঠী।
কিন্তু তা সত্ত্বেও এই গোষ্ঠী সরকারি সিদ্ধান্ত ও নীতি নির্ধারণে প্রভাব বিস্তার করে থাকে। এদের মূল উদ্দেশ্যে হলো নিজেদের অনুকূলে সরকারি নীতিকে প্রভাবিত করা।
অন্যদিকে, জাতীয় সংসদ, সুপ্রিম কোর্ট ও বাংলাদেশ ব্যাংক সরকার কাঠামোর অংশ।
(সূত্রঃ পৌরনীতি ও সুশাসন : একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণী : প্রথমপত্র : মো. মোজাম্মেল হক)
১৯০.
রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ব্যতীত কোন দুটি নিয়োগ দিতে পারেন?
  1. মন্ত্রী ও সচিব
  2. সচিব ও মহাপরিচালক
  3. প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি
  4. স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনার
ব্যাখ্যা

→ প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি পদে রাষ্ট্রপতি সরাসরি নিয়োগ দেন।

৪৮ অনুচ্ছেদ: রাষ্ট্রপতি 

- বাংলাদেশে একজন রাষ্ট্রপতি থাকবেন যিনি আইন অনুযায়ী জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান ব্যক্তি হিসেবে সকলের ঊর্ধ্বে অবস্থান করবেন এবং সংবিধান ও অন্যান্য আইনে যে ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা পালন করবেন।
- রাষ্ট্রপতি তাঁর অধিকাংশ দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী পালন করবেন। তবে, প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি সরাসরি দায়িত্ব পালন করতে পারেন।  
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির কমপক্ষে ৩৫ বছর বয়স হতে হবে, সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য হতে হবে, এবং তিনি যদি কখনও সংবিধান অনুযায়ী অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে অপসারিত হয়ে থাকেন, তবে তিনি আর রাষ্ট্রপতি হওয়ার যোগ্য নন।
- প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে দেশের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিমালা সম্পর্কে নিয়মিতভাবে অবহিত করবেন। রাষ্ট্রপতি চাইলে যে কোনো বিষয় মন্ত্রিসভায় আলোচনা করার জন্য তোলা যাবে।

সূত্র: বাংলাদেশের সংবিধান। 

১৯১.
নিচের কোন জেলায় একটি মাত্র সংসদীয় আসন রয়েছে?
  1. ক) মেহেরপুর
  2. খ) বরগুনা
  3. গ) নারায়ণগঞ্জ
  4. ঘ) বান্দরবান
ব্যাখ্যা
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩৫০টি। এর মধ্যে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত আসন সংখ্যা ৩০০টি। এর মধ্যে বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলায় একটি করে সংসদীয় আসন রয়েছে। সর্বোচ্চ ২০টি আসন রয়েছে ঢাকা জেলায়।
(সূত্র: নির্বাচন কমিশন)
১৯২.
প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল কোন বিভাগের অধীন?
  1. ক) আইন বিভাগ
  2. খ) বিচার বিভাগ
  3. গ) প্রতিরক্ষা বিভাগ
  4. ঘ) শাসন বিভাগ
ব্যাখ্যা
সুপ্রিমকোর্ট, অধস্তন আদালত এবং প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ গঠিত। প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল হলো বিশেষ উদ্দেশ্যে স্থাপিত আদালত। যেমনঃ শ্রম আদালত, ভাড়া নিয়ন্ত্রক আদালত। (সূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা : নবম-দশম শ্রেণী)।
১৯৩.
রাজনৈতিক দল কিসের ভিত্তিতে কর্মসূচি প্রণয়ন করে?
  1. ক) নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত  পদ্ধতিতে
  2. খ) ব্যক্তিস্বার্থের ভিত্তিতে
  3. গ) আন্তর্জাতিক চাপের ভিত্তিতে
  4. ঘ) সরকারি নীতির ভিত্তিতে
ব্যাখ্যা
• রাজনৈতিক দল কর্মসূচি প্রণয়ন: 
- প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নির্দিষ্ট কর্মসূচি থাকে। এই কর্মসূচিকে বাস্তবে রূপায়িত করার জন্য দলগুলো নিয়মতান্ত্রিক এবং সংবিধানসম্মত পদ্ধতিতে অগ্রসর হয়।
- রাজনৈতিক দল ও চাপসৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর কর্মকান্ড আঞ্চলিক অথবা জাতীয় ভিত্তিতে পরিচালিত হতে পারে।
- রাজনৈতিক দলের লক্ষ্য হল রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জন। লক্ষ্য পূরণের জন্য রাজনৈতিক দলের প্রধান কাজ থাকে সদস্য নিয়োগ, নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সরকার গঠন ও পরিচালনা,সরকারের কর্মসূচি নির্ধারণ ও প্রয়োগ। 
- চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর লক্ষ্য হল সরকারি নীতিকে প্রাভাবিত করা। 

উৎস:  পৌরনীতি ও সুশাসন, প্রথম পত্র (এইচএসসি প্রোগ্রাম), উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
১৯৪.
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের কয়টি বিভাগ রয়েছে?
  1. ৩ টি
  2. ৪ টি
  3. ২ টি
  4. ৫টি
ব্যাখ্যা
• বিচার বিভাগ:
- সুপ্রিমকোর্টের রয়েছে দুইটি বিভাগ।
• আপিল বিভাগ, 
• হাইকোর্ট বিভাগ।
- সরকারের যে অঙ্গ বা বিভাগ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সংবিধান ও আইন অনুযায়ী বিচার কাজ পরিচালনা করে থাকে তাকে বলা হয় বিচারবিভাগ।
- বাংলাদেশের বিভিন্ন বিচারালয়ের বিচারকদের নিয়ে এ বিভাগ গঠিত।
- বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ স্তর হলো সুপ্রিমকোর্ট।
- এর প্রধানকে 'বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি' বলা হয়।
- রাষ্ট্রপতি তাঁকে নিয়োগ দেন।
- এই দুটি বিভাগের বিচারপতিগণও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত হনG
- দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে বিচার কাজ পরিচালনা করে থাকেন।

এছাড়াও,
• নিম্নস্তর আদালত:
- যে আদালতে নাগরিকদের অধিকার, অপরাধ, বিরোধ সংক্রান্ত মামলা সম্পন্ন হয় তাকে নিম্নস্তর আদালত বা অধঃস্তন আদালত বলে।
- নিম্নস্তরের আদালতকে অপরাধের প্রকৃতি অনুসারে দু'টি ভাগে ভাগ করা হয়। যথা

• ফৌজদারি আদালত।
-  জনগণের বিভিন্ন প্রকার অপরাধ সংক্রান্ত মামলার বিচার করা হয় ফৌজদারি আদালতে।

• দেওয়ানি আদালত।
- নাগরিকদের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার বিচার করা হয় দেওয়ানি আদালতে।

উৎস: পৌরনীতি ও সুশাসন প্রথম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৯৫.
মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক কে শপথ বাক্য পাঠ করান কে?
  1. রাষ্ট্রপতি
  2. প্রধান বিচারপতি
  3. প্রধানমন্ত্রী
  4. স্পিকার
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে শপথ পাঠ সম্পর্কে বলা হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি শপথ বাক্য পাঠ করান যাদের:
- প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার।

• প্রধান বিচারপতি শপথ বাক্য পাঠ করান যাদের:
- আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিবৃন্দ।
- পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ।
- মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক।
- প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারবৃন্দ।

• স্পিকার শপথবাক্য পাঠ করান যাদের:
- রাষ্ট্রপতি, সংসদ সদস্যবৃন্দ।

 উৎস: বাংলাদেশ সংবিধান, আরিফ খান।
১৯৬.
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শ করে বিচারক নিয়োগ দেয়—
  1. প্রধানমন্ত্রী
  2. রাষ্ট্রপতি
  3. আইনমন্ত্রী
  4. অ্যাটর্নি জেনারেল
ব্যাখ্যা

• সুপ্রিম কোর্ট:
- বিচারবিভাগের সর্বোচ্চ আদালতের নাম সুপ্রিমকোর্ট।
- এর রয়েছে দুটি বিভাগ, যথা: আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ।
- সুপ্রিম কোর্টের একজন প্রধানবিচারপতি রয়েছেন, যাকে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি বলা হয়।
- রাষ্ট্রপতি তাঁকে নিযুক্ত করেন। প্রত্যেক বিভাগের জন্য যতজন বিচারক প্রয়োজন ততজন বিচারককে নিয়ে সুপ্রিমকোর্ট গঠিত।
- প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সুপ্রিমকোর্টের দুই বিভাগের বিচারপতিদের নিয়োগ দেন।
- প্রধান বিচারপতি ও অন্য বিচারপতিগণ বিচারকার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন। 
- সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হতে হলে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। 
- সুপ্রিম কোর্টে কমপক্ষে ১০ বছর অ্যাডভোকেট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে অথবা বাংলাদেশে বিচার বিভাগীয় পদে ১০ বছর বিচারক হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
- সুপ্রিমকোর্টের বিচারকগণ ৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত স্বীয় পদে কর্মরত থাকতে পারেন।

উৎস: পৌরনীতি ও নাগরিকতা, নবম ও দশম শ্রেণি।

১৯৭.
মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রধানের দায়িত্ব কে পালন করেন?
  1. সচিব
  2. মন্ত্রী
  3. উপ সচিব
  4. মহাপরিচালক
ব্যাখ্যা
• বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রশাসন এর দুইটি প্রধান শাখা হচ্ছে সচিবালয় এবং মন্ত্রণালয়।

সচিবালয়ঃ 
⇒ সকল মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় অফিসকে বলা হয় সচিবালয়। 
⇒ সচিবালয়ের অধীনস্ত মন্ত্রণালয় সমন্বয়ের জন্য পৃথক যে Unit আছে তাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলা হয় এবং এর প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। 
⇒ রাষ্ট্রপতি সচিবালয়, কর্মকমিশন সচিবালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়।

মন্ত্রণালয়ঃ 
⇒ সচিবালয়ের অধীন একটি প্রশাসনিক ইউনিট হলো মন্ত্রণালয়।
যার নির্বাহী প্রধান হলেন মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক প্রধান সচিব। 
⇒ মন্ত্রীপরিষদের প্রধান হলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সরকারের প্রধান। 
⇒ মন্ত্রীপরিষদ তাদের কাজকর্মের জন্য জাতীয় সংসদের নিকট দায়ী থাকেন।

তথ্যসূত্র- উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন , প্রফেসর মোজাম্মেল হক।
১৯৮.
মুজিবনগর সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন -
  1. ক) তাজউদ্দীন আহমদ
  2. খ) খন্দকার মোশতাক আহমদ
  3. গ) এম মনসুর আলী
  4. ঘ) এএইচএম কামরুজ্জামান
ব্যাখ্যা

বাংলাদেশে প্রথম সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল।
এটি ‘অস্থায়ী প্রবাসী সরকার বা মুজিবনগর সরকার’ নামেও পরিচিত। ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ এই সরকার শপথ গ্রহণ করে।

মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রীসভা:
- রাষ্ট্রপতি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
- প্রধানমন্ত্রী : তাজউদ্দীন আহমদ
- উপরাষ্ট্রপতি ও ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি : সৈয়দ নজরুল ইসলাম
- অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রী : এম মনসুর আলী
- স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী : এএইচএম কামরুজ্জামান
- পররাষ্ট্র, আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী : খন্দকার মুশতাক আহমেদ।

(তথ্যসূত্রঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)

১৯৯.
মোট কতজন সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়?
  1. ৯ জন
  2. ১১ জন
  3. ১৩ জন
  4. ১৫ জন
ব্যাখ্যা
ইউনিয়ন পরিষদের গঠন:
- একটি ইউনিয়ন ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
- চেয়ারম্যান ১ জন।
- নির্বাচিত সদস্য ৯ জন।
- সংরক্ষিত মহিলা সদস্য ৩ জন।
- ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয় মোট ১৩ জন সদস্য নিয়ে।
- প্রতি তিন ওয়ার্ড থেকে একজন মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন।
- কার্যালয় পরিচালনার জন্য এক জন সচিব নিয়োগ করা হয়।
- ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর, সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যদের অপসারণ করা যায়।
- ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

তথ্যসূত্র - পৌরনীতি ও নাগরিকতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০০.
রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে কী বলে?
  1. দলিল
  2. বিল
  3. অধ্যাদেশ
  4. আইন
ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রপতি:
- রাষ্ট্রপতি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রধান।
- বাংলাদেশের সংবিধানের চতুর্থ অংশের ৪৮-৫৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি সম্পর্কিত বিধানাবলি বিধৃত হয়েছে।
- রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত।
- তিনি সংবিধান ও আইন বলে তাঁর উপর অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব সম্পন্ন করেন।
- রাষ্ট্রপতি জারিকৃত আইনকে অধ্যাদেশ বলে।
- সরকারের যাবতীয় নির্বাহী কার্যাদি রাষ্ট্রপতির নামে সম্পাদন করা হয়।
- সংসদ-সদস্যদের দ্বারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
- রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার জন্যে নূন্যতম বয়স ৩৫ বছর।
- রাষ্ট্রপতির পদ শূণ্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার ৬০-৯০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার বিধান রয়েছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের সংবিধান।