বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

মোট প্রশ্ন১,৩৩৮এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

প্রাচীন কালের ইতিহাস, জনপদ ও বিভিন্ন রাজবংশ

PrepBank · পাতা ১২ / ১৪ · ১,১০১১,২০০ / ১,৩৩৮

১,১০১.
সোমপুর বিহার কে আবিষ্কার করেন?
  1. লর্ড ওয়েলেসলি
  2. কর্ণওয়ালিস
  3. আলেকজান্ডার কানিংহাম
  4. আলেকজান্ডার ফ্লেমিং
সঠিক উত্তর:
আলেকজান্ডার কানিংহাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আলেকজান্ডার কানিংহাম
ব্যাখ্যা
 সোমপুর বিহার:
- পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার বা সোমপুর মহাবিহার বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
- পালবংশের দ্বিতীয় রাজা শ্রী ধর্মপালদেব অষ্টম শতকের শেষের দিকে বা নবম শতকে এই বিহার তৈরি করছিলেন।
- ১৮৭৯ সালে স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম এই বিশাল কীর্তি আবিষ্কার করেন।
- ১৯৮৫ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেয়।
- পাহাড়পুরকে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বৌদ্ধবিহার বলা যেতে পারে।
- আয়তনে এর সাথে ভারতের নালন্দা মহাবিহারের তুলনা হতে পারে।
- এটি ৩০০ বছর ধরে বৌদ্ধদের অতি বিখ্যাত ধর্মচর্চা কেন্দ্র ছিল।
- শুধু উপমহাদেশের বিভিন্ন স্থান থেকেই নয়, চীন, তিব্বত, মায়ানমার (তদানীন্তন ব্রহ্মদেশ), মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বৌদ্ধরা এখানে ধর্মচর্চা ও ধর্মজ্ঞান অর্জন করতে আসতেন।
- খ্রিষ্টীয় দশম শতকে বিহারের আচার্য ছিলে অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান।
- পুন্ড্রবর্ধনের রাজধানী পুন্ড্রনগর (বর্তমান মহাস্থান) এবং অপর শহর কোটিবর্ষ (বর্তমান বানগড়)এর মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত ছিল সোমপুর মহাবিহার।
- এর ধ্বংসাবশেষটি বর্তমান বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজশাহীর অন্তর্গত নওগাঁ জেলার বদলগাছি উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামে অবস্থিত। 

উৎস: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন।
১,১০২.
কোনটি সঠিক?
  1. ক) প্লেটো→সক্রেটিস→এরিস্টটল→আলেকজান্ডার
  2. খ) সক্রেটিস→এরিস্টটল→প্লেটো→আলেকজান্ডার
  3. গ) সক্রেটিস→প্লেটো→আলেকজান্ডার→এরিস্টটল
  4. ঘ) সক্রেটিস→প্লেটো→এটিস্টটল→আলেকজান্ডার
সঠিক উত্তর:
ঘ) সক্রেটিস→প্লেটো→এটিস্টটল→আলেকজান্ডার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) সক্রেটিস→প্লেটো→এটিস্টটল→আলেকজান্ডার
ব্যাখ্যা
সক্রেটিস প্রাচীন গ্রিসের একজন দার্শনিক। তার শিষ্য ছিলেন প্লেটো। প্লেটোর শিষ্য ছিলেন এরিস্টটল এবং এরিস্টটলের শিষ্য ছিলেন আলেকজান্ডার।
(সূত্রঃ এনসাক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা)
১,১০৩.
মধ্যযুগে সোনারগাঁও কার রাজধানী ছিল?
  1. পাল রাজাদের
  2. মুসলিম সুলতানদের
  3. মুঘলদের
  4. ব্রিটিশদের
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সুলতানদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মুসলিম সুলতানদের
ব্যাখ্যা

সোনারগাঁও:
-সোনারগাঁও বাংলার প্রাচীন রাজধানী।
-বর্তমান ঢাকা থেকে ২৭ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সোনারগাঁও বর্তমান নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা।
-প্রাচীন সুবর্ণগ্রাম থেকে সোনারগাঁও নামের উদ্ভব বলে কারো কারো ধারণা রয়েছে।
-বারো ভূঁইয়া প্রধান ঈশা খাঁ'র স্ত্রী সোনাবিবি'র নামানুসারে সোনারগাঁও নামকরণ করা হয়।
- বাংলার রাজধানী হিসেবে সোনারগাঁওয়ের পত্তন করেন ঈশা খাঁ।
- আনুমানিক ১২৮১ খ্রিস্টাব্দে এ অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনা হয়।
- মধ্যযুগে এটি মুসলিম সুলতানদের রাজধানী ছিল।
-১৬১০ খ্রিস্টাব্দে দিল্লির সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে ঢাকা সুবে বাংলার রাজধানী হিসেবে ঘোষিত হবার পূর্ব পর্যন্ত সোনারগাঁও ছিল পূর্ববঙ্গের রাজধানী।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন।

১,১০৪.
কোন শতাব্দীতে শশাঙ্ক স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন?
  1. পঞ্চম শতাব্দী
  2. সপ্তম শতাব্দী
  3. অষ্টম শতাব্দী
  4. নবম শতাব্দী
সঠিক উত্তর:
সপ্তম শতাব্দী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সপ্তম শতাব্দী
ব্যাখ্যা
- সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে বাংলার প্রথম স্বাধীন নৃপতি শশাঙ্ক উত্তর বাংলায় একটি শক্তিশালী স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন যা ‘গৌড়রাজ্য’ নামে পরিচিত। এই রাজ্যের রাজধানী ছিলো মুর্শিদাবাদ জেলার নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ।
- উত্তর বাংলা থেকে উড়িষ্যা পর্যন্ত স্বাধীন গৌড়রাজ্যের বিস্তৃতি ছিলো।
- ৫৯৪ খ্রি. থেকে ৬৩৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শশাঙ্ক গৌড়রাজ্য শাসন করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১০৫.
নিচের কোন স্থানটি বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে এখনও স্থান পায়নি?
  1. পাহাড়পুর
  2. মহাস্থানগড়
  3. ষাটগম্বুজ মসজিদ
  4. সুন্দরবন
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
- বাংলাদেশে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের সংখ্যা তিনটি। এগুলো হলো:
- নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার (১৯৮৫ সালে)
- বাগেরহাট জেলার ষাটগম্বুজ মসজিদ (১৯৮৫ সালে)
- সুন্দরবন (১৯৯৭ সালে)।

এর মধ্যে,
- সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত ৭৯৮তম বিশ্ব ঐতিহ্য
- পাহাড়পুরের সোমপুর বৌদ্ধবিহার ৩২২তম
- ষাটগম্বুজ মসজিদ ৩২১তম বিশ্ব ঐতিহ্য।
- মহাস্থানগড় ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য নয়। 

(তথ্যসূত্র: ইউনেস্কো ওয়েবসাইট)
১,১০৬.
নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল কোন জেলা?
  1. চট্টগ্রাম
  2. কুমিল্লা
  3. বরিশাল
  4. সিলেট
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
বঙ্গ:

- বঙ্গ একটি প্রাচীন জনপদ।
- ঐতরেয় আরণ্যক গ্রন্থে একটি উপজাতির নাম হিসেবে বঙ্গের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়।
- ভাগীরথী ও পদ্মার স্রোত মধ্যবর্তী এলাকায় যে ত্রিভুজাকৃতি ব-দ্বীপ সৃষ্টি হয়েছে তাকেই বঙ্গদের অঞ্চল বলা হয়।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর বঙ্গ অন্যটি নাব্য বঙ্গ।
- ঢাকা-ফরিদপুর-বরিশাল এলাকা নাব্য বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বাংলায় মুসলমান শাসনামলের প্রাথমিক পর্যায়ে 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণপূর্ব অংশকেই বুঝানো হতো। 
- মধ্যযুগের বিখ্যাত মুঘল ঐতিহাসিক আবুল ফজল রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থে পাওয়া যায় যে, বঙ্গদেশের উত্তরকালীন নাম বঙ্গাল । 

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৭.
মাস্টার দা সূর্যসেন কত সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন?
  1. ক) ১৯৩০
  2. খ) ১৯৩২
  3. গ) ১৯২৯
  4. ঘ) ১৯৩৩
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৩০
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১৯৩০
ব্যাখ্যা

- মাস্টার দা সূর্যসেন ছিলেন স্থানীয় ন্যাশনাল ইনিস্টিটিউটের শিক্ষক। তিনি ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল তার দলবল নিয়ে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করেন। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি চট্টগ্রামে সূর্যসেনের ফাঁসি দেওয়া হয়।
- ১৯৩২ সালে প্রিতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে পাহাড়তলী রেলওয়ে ক্লাব আক্রমণ করেন।
- ১৯০৮ সালে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি কিং ফোর্ডকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে গাড়িতে বোমা ফেলেন। ক্ষুদিরাম ধরা পড়েন এবং তার ফাঁসি হয়। প্রফুল্ল চাকি আত্মহত্যা করেন।

উৎস : পৌরনীতি ও সুশাসন (একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি)।

১,১০৮.
'কণিষ্ক' কোন যুগের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন?
  1. গুপ্ত
  2. দেব
  3. পাল
  4. কুষাণ
সঠিক উত্তর:
কুষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষাণ
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ যুগের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন 'কণিষ্ক'।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১০৯.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্ক কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন?
  1. ক) বৌদ্ধ
  2. খ) হিন্দু
  3. গ) জৈন
  4. ঘ) শৈব
সঠিক উত্তর:
ঘ) শৈব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) শৈব
ব্যাখ্যা
• বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্ক শৈব ধর্মের অনুসারী ছিলেন । 
• বিখ্যাত চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শৈব ধর্মের অনুসারী রাজা শশাঙ্ককে বৌদ্ধধর্ম বিদ্বেষী / বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
• শশাঙ্ক একজন সুশাসক ছিলেন। তার রাজধানী ছিল মুর্শিদাবাদের নিকটবর্তী কর্ণসুবর্ণ। তার আমলে তাম্রলিপ্ত বন্দর গুরুত্ব লাভ করে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১০.
সর্বপ্রথম 'বঙ্গ' দেশের নাম পাওয়া যায় যে গ্রন্থে-
  1. আইন-ই-আকবরী
  2. বাঙালির ইতিহাস
  3. ঐতরেয় আরণ্যক
  4. রঘুবংশ
সঠিক উত্তর:
আইন-ই-আকবরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আইন-ই-আকবরী
ব্যাখ্যা
জনপদ:
- 'বঙ্গ' বাংলার একটি সুপ্রাচীন মানব-বসতির স্থান বা জনপদ, যা  চৌদ্দ শতকে মুসলমান শাসনামলে পরিবর্তিত রূপে বাঙ্গালাহ হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
- বাংলার অন্যান্য ভৌগোলিক ইউনিটের মতো বঙ্গের ভৌগোলিক গূঢ়ার্থও ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তিত হয়েছে।
- দেশবাচক শব্দ হিসাবে 'বঙ্গ' বা 'বাঙ্গাল' শব্দটি প্রথম পাওয়া যায় - আবুল ফজল রচিত 'আইন-ই-আকবরী' গ্রন্থে।

অন্যদিকে,
- ঐতরেয় আরণ্যক -এ সর্বপ্রথম মগধের সাথে বঙ্গ নামক একটি জনগোষ্ঠীর কথা উল্লিখিত হয়েছে।
- বৌধায়ন ধর্মসূত্রে একটি জনগোষ্ঠী হিসেবে বঙ্গ নামের উল্লেখ রয়েছে, যারা আর্যসভ্যতার সীমার বাইরে কলিঙ্গের পাশেই বসবাস করত।
- পুরাণে এদের উল্লেখ রয়েছে পূর্বাঞ্চলীয় অন্যান্য জনগোষ্ঠী যেমন অঙ্গ, মগধ, মুদগরক, পুন্ড্র, বিদেহ, তাম্রলিপ্তি ও প্রাগজ্যোতিষ-এর সাথে।
- রামায়ণ এ অযোধ্যার সাথে বঙ্গের মৈত্রীবন্ধনের কথার উল্লেখ রয়েছে। 

[যদি প্রশ্নে বঙ্গ দেশ বলা হয় তাহলে উত্তর হবে আইন-ই-আকবরী, কিন্তু বঙ্গ জনগোষ্ঠী বললে উত্তর হবে ঐতরেয় আরণ্যক।]

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১১.
নিম্নের কোন গোত্রের লোকদের পেশা ছিল যুদ্ধ?
  1. ক) বৈশ্য
  2. খ) ক্ষত্রিয়
  3. গ) শূদ্র
  4. ঘ) ব্রাহ্মণ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষত্রিয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্ষত্রিয়
ব্যাখ্যা
• কোনো সমাজে বর্ণপ্রথা একেবারে শুরুতে থাকে না। বাংলা তথা ভারতীয় সমাজে আর্য সংস্কার ও সংস্কৃতির বিস্তার হিসেবেই বর্ণপ্রথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রাচীন বাংলার ৪ টি গোত্রের পেশা নিম্নরুপ:-    
১। ব্রাহ্মণ- অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা- এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম । তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে।
২। ক্ষত্রিয়- ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা।
৩। বৈশ্য- ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
৪। শূদ্র- সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত।

• ব্রাহ্মণ ছাড়া বাকি সব বর্ণের মানুষ একে অন্যের সাথে মেলামেশা করতাে। বিচিত্র সব বর্ণ, উপবর্ণ ও শংকর বর্ণের সামাজিক বিন্যাস এতে গুরুত্ব পায়। এভাবে বর্ণভেদ প্রথা ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচারে প্রতিষ্ঠা পায়।
• নিম্নবর্ণের ডোমদের বাস ছিল গ্রামের বাইরে। উচ্চবর্ণের লোকেরা এঁদের ছুঁতেন না।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১২.
‘আলোকিত মানুষ চাই’ কোন প্রতিষ্ঠানের স্লোগান?
  1. ক) বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি
  2. খ) বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
  3. গ) বাংলা একাডেমি
  4. ঘ) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র
ব্যাখ্যা
• বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র:
- ‘আলোকিত মানুষ চাই’ হলো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের স্লোগান
- ১৯৭৮ সালে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়।
- এটির অবস্থান ঢাকার বাংলা মটরে।
- প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
- বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র হলো একটি এনজিও যা শিক্ষার মাধ্যমে অন্ধকার দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র: বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ওয়েবসাইট।
১,১১৩.
বরেন্দ্রভূমির অন্তর্ভুক্ত জেলা কোনটি?
  1. ক) টাঙ্গাইল
  2. খ) জয়পুরহাট
  3. গ) গাজীপুর
  4. ঘ) কুমিল্লা
সঠিক উত্তর:
খ) জয়পুরহাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) জয়পুরহাট
ব্যাখ্যা
বরেন্দ্রভূমি
• রাজশাহী বিভাগের উত্তর-পশ্চিমাংশ অর্থাৎ নওগাঁ, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে বরেন্দ্রভূমি অবস্থিত।
• এর আয়তন প্রায় ৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার।
• এই ভূমিরূপ প্রায় ২৫ হাজার বছর পূর্বে প্লাইস্টোসিনকালে গঠিত হয়েছিলো।
• প্লবান সমভূমি থেকে বরেন্দ্রভূমি ৬ থেকে ১২ মিটার অধিক উচ্চতায় অবস্থিত।
• বরেন্দ্রভূমির মাটি ধূসর ও লাল বর্ণের। 

অপরদিকে, 
• টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় মধুপুর এবং গাজীপুর জেলায় ভাওয়ালের গড় অবস্থিত।
• লালমাই পাহাড় কুমিল্লা জেলায় অবস্থিত যা লালমাই থেকে ময়নামতি পর্যন্ত বিস্তৃত। 
• বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বিহার যা দেব সাম্রাজ্যের কীর্তি।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১১৪.
মগ জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন কে?
  1. ক) শায়েস্তা খান
  2. খ) ঈসা খান
  3. গ) মীর কাসেম
  4. ঘ) মুর্শীদকুলী খান
সঠিক উত্তর:
ক) শায়েস্তা খান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শায়েস্তা খান
ব্যাখ্যা
- মগ জলদস্যুদের বিতাড়িত করেন শায়েস্তা খান।

সুবেদার শায়েস্তা খান:
- শায়েস্তা খানের সুবাদারি আমল দুঅধ্যায়ে বিভক্ত ছিল। তিনি প্রথম অধ্যায়ে ১৬৬৪ খ্রিঃ থেকে ১৬৭৮ খ্রিঃ পর্যন্ত এবং দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৬৮০ খ্রিঃ থেকে ১৬৮৮ খ্রিঃ পর্যন্ত বাংলাদেশের সুবাদার ছিলেন।
- তিনি একজন দক্ষ সেনাপতি ও জনপ্রিয় সুবেদার ছিলেন।
- চট্টগ্রাম থেকে মগদের বিতাড়ন ও চট্টগ্রাম জয় শায়েস্তা খানের সুবাদারির কৃতিত্বপূর্ণ কাজ।
- মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের ইচ্ছানুযায়ী চট্টগ্রামের নাম রাখা হয় ইসলামাবাদ
- শুল্ক ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলে ইংরেজ কোম্পানির সঙ্গে শায়েস্তা খানের প্রথম সংঘর্ষ ঘটে এবং ইংরেজরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এভাবে তিনি ইংরেজ বণিকদের ঔদ্ধত্যের সমুচিত জবাব দেন।
- শায়েস্তা খান রাজস্ব সংস্কারে বড় ধরনের অবদান রাখেন।
- তাঁর সময়ে বাংলাদেশ কৃষি, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করেছিল। তখন বাংলাদেশে জিনিসপত্রের দাম খুব কম ছিল।
- শায়েস্তা খান ঢাকায় ছোট কাটরা, হুসায়েনী দালান, লালবাগ দুর্গের একাংশ এবং আরও বহু অট্টালিকা ও মসজিদ নির্মাণ করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৫.
মহাস্থানগড়ের পুরাতন নাম কী?
  1. ময়নামতি
  2. পুণ্ড্রনগর
  3. সুবর্ণগ্রাম
  4. চন্দ্রদ্বীপ
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রনগর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্রনগর
ব্যাখ্যা
মহাস্থানগড়:
- বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- পাহাড়পুরের মত এখানেও বৌদ্ধ এবং হিন্দু সংস্কৃতির নিদর্শন পাওয়া গেছে।
- ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে মহাস্থানগড়ই সর্বাধিক প্রাচীন।
- অবস্থান: বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিলোমিটার উত্তরে বাংলাদেশের প্রাচীনতম ও সর্ববৃহৎ নগরী পুন্ড্রনগরের অবস্থান।
- ঢাকা-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে অবস্থিত এই পুন্ড্রনগরই হচ্ছে মহাস্থানগড়।
- এর পূর্বদিকে করতোয়া নদী প্রবাহিত।
- প্রাচীন এ সভ্যতাটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৫০০ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে ১৪০০ মিটার বিস্তৃত।
- উৎপত্তি: খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক দ্বিতীয় শতকে মহাস্থান ব্রাহ্মলিপিতে 'পুন্দনগল' এর উল্লেখ পাওয়া যায়।
- প্রত্নতাত্ত্বিক ও নৃবিজ্ঞানীদের ধারণা, এ পুন্দনগলই হচ্ছে প্রাচীন পুঞ্জের রাজধানী পুন্ড্রনগর বা মহাস্থানগড়।
- মৌর্য সম্রাট অশোকের একটি শিলালিপি ও চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং- এর বর্ণনায় পুণ্ড্রনগরের উল্লেখ আছে।
- হিউয়েন সাং- এর বর্ণনা থেকেই আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯ সালে মহাস্থানকে পুণ্ড্রনগর বলে চিহ্নিত করেন।
- মহাস্থানগড়ের প্রাচীনতম নাম 'পুণ্ড্রনগর'।

অপরদিকে,
- চন্দ্রদ্বীপ বাংলাদেশের বরিশাল জেলার একটি ছোট অঞ্চল।
- ময়নামতি বাংলাদেশের কুমিল্লায় অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক স্থান।
- সোনারগাঁও-এর প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণগ্রাম।

উৎস: সমাজ বিজ্ঞান ২য় পত্র, এইচ এস সি, প্রোগ্রাম, ‍উন্মু্ক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১১৬.
'অদ্ভুত সাগর' গ্রন্থের রচয়িতা কে?
  1. বল্লাল সেন
  2. লক্ষ্মণ সেন
  3. বিজয় সেন
  4. হেমন্ত সেন 
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

বল্লাল সেন:
- বল্লাল সেন হলো সেন বংশের ২য় রাজা।
- বিজয় সেনের মৃত্যুর পর আনুমানিক ১১৬০ সালে তার পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তিনি রাজ্য জয়ের চেয়ে দেশের ভেতরে উন্নয়ন, নতুন প্রথা চালু ও সংস্কারের কাজে অধিকতর মনোযোগী ছিলেন।
- তবে তিনি গোবিন্দপালকে পরাজিত করে মগধের পূর্বাঞ্চল অধিকার করেন।
- কথিত আছে যে, বল্লাল সেন তাঁর পিতার রাজত্বকালে মিথিলা জয় করেন।
- তিনি ব্রতসাগর, আচারসাগর, প্রতিষ্ঠাসাগর, দানসাগর ও অদ্ভুতসাগর নামে পাঁচটি গ্রন্থ রচনা করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১১৭.
সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয় কত সালে?
  1. ক) ১৮২৫ সালে
  2. খ) ১৮২৮ সালে
  3. গ) ১৮২৯ সালে
  4. ঘ) ১৮৩৯ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮২৯ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৮২৯ সালে
ব্যাখ্যা
- সতীদাহ প্রথা হলো হিন্দু সমাজের একটি প্রথা যেখানে স্বামীর শবের সাথে বিধবা স্ত্রীকেও দাহ করা হতো।
- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ১৮২৯ সালে আইনের মাধ্যমে সতীদাহ প্রথা রহিত করেন।
- তবে এ প্রথা পুরোপুরি বন্ধ হয় উনিশ শতকের শেষ দিকে। রাজা রামমোহন রায় সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
(তথ্যসূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,১১৮.
Which European traders were the first to arrive in Bengal?
  1. British
  2. French
  3. Dutch
  4. Portuguese
সঠিক উত্তর:
Portuguese
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Portuguese
ব্যাখ্যা

• পর্তুগিজ:
- পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন, তিনি ভাস্কো-ডা-গামা। 
- ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের ২৭ মে তার এ উপমহাদেশে আগমন ব্যবসায়-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করে।
- প্রথম আগত ইউরোপীয়ান বাণিজ্যিক দল হলেও তাদের অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপের ঘাঁটি দখল করে, তাদের বাংলা থেকে বিতাড়িত করেন।
- তাছাড়া পর্তুগিজরা এদেশে আগত ইউরোপীয় অন্যন্য শক্তির সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরাজিত হয়ে এদেশ ত্যাগে বাধ্য হয়।

তথ্যসূত্র:  বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।

১,১১৯.
'ভারতের তোতা পাখি' বলা হয় -
  1. আবুল ফজলকে
  2. সরোজিনী নাইডুকে
  3. আমীর খসরুকে
  4. কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
আমীর খসরুকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমীর খসরুকে
ব্যাখ্যা
কবি পরিচিত:
- আমির খসরু কবি এবং ইতিহাসবিদ, যিনি ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফার্সি ভাষার কবি হিসেবে বিবেচিত।
- আমীর খসরুকে বলা হয় "Parrot of India" ভারতের তোতা পাখি বলা হয়

এছাড়াও,
- সরোজিনী নাইডু, The Golden Threshold ১৯০৫ সালে প্রকাশিত হওয়ার পর তিনি সাধারণ্যে ‘বুলবুলে হিন্দ’ খেতাবে বিভূষিত হন। ১৯০৮ সালে হায়দ্রাবাদে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ তৎপরতার জন্য ব্রিটিশ সরকার তাঁকে কায়সার-ই-হিন্দ স্বর্ণপদক প্রদান করে।

উৎস: বাংলাপিডিয়া ও ব্রিটানিকা। [Link]
১,১২০.
পুণ্ড্র জনপদের বর্তমান নাম কী?
  1. মহাস্থানগড়
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. সমতট
  4. জাহানাবাদ
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মহাস্থানগড়
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ: 
- প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুণ্ড্র।
- পুণ্ড্র বলে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
- বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুঞ্জ জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
- পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর।
- পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- মহাস্থানগড় প্রাচীন পুঞ্জ নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা মনে করেন।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুঞ্জই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
- পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়। ধারণা করা হয়, বাংলাদেশে প্রাপ্ত এটিই প্রাচীনতম শিলালিপি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১২১.
পর্তুগিজদের এ দেশ থেকে বিতাড়িত করেন কোন মুঘল সম্রাট?
  1. শাহজাহান
  2. আকবর
  3. আওরঙ্গজেব
  4. জাহাঙ্গীর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শাহজাহান
ব্যাখ্যা
পর্তুগিজদের আগমণ ও বিতাড়ন: 

মুঘল সম্রাট শাহজাহান পর্তুগিজদের এদেশ থেকে বিতাড়িত করেন। 
• পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-দ্য-গামার উপমহাদেশে প্রথম আসেন।
• এরপর ১৪৮৭ খ্রিস্টাব্দে বার্থলমিউ দিয়াজ, আলভারেঞ্জ ক্যাব্রাল ও ১৫০৯ খ্রিস্টাব্দে আলবুকার্ক গোয়াতে আগমন করেন। 
• আলবুকার্ক উপমহাদেশে পর্তুগিজ-শক্তির প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। 
• কলম্বাস এবং ম্যাজিলানও বিখ্যাত পর্তুগিজ নাবিক ছিলেন। 
• পর্তুগিজদের নৌ ও সেনাবাহিনী খুব শক্তিশালী ছিল।
• পর্তুগিজরা বাংলাদেশের চট্টগ্রামেও বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে ।
• পর্তুগিজরা জোর করে এদেশেরই অসহায় বালক-বালিকাদের খ্রিস্টান বানাত। 
• এদেশের মানুষকে ধরে নিয়ে দাসদাসীরূপে বিক্রি করতো বিদেশের বাজারে। 
• পর্তুগিজ সৈন্যরা জোর করে এদেশের মেয়ে বিয়ে করত। 
• সম্রাট শাহজাহান এর নির্দেশে কাসিম খান পর্তুগিজদের হুগলী কুঠি থেকে বিতাড়িত করেন। 
• সর্বশেষ বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খান তাদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপ ঘাঁটি দখল করে চিরতরে এ দেশ থেকে উচ্ছেদ করেন।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২২.
নিচের কোন শাসক 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন?
  1. হেমন্ত সেন
  2. বল্লাল সেন
  3. বিশ্বরূপ সেন
  4. কেশব সেন
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা
কৌলিন্য প্রথা ও বল্লাল সেন:
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায় যে, কৌলিন্য প্রথার সাথে বল্লাল সেনের সম্পর্কের তেমন কোনো যুক্তিযুক্ত ভিত্তি নেই।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন।
- ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৩.
নিচের কোন অঞ্চলটি পুণ্ড্র জনপদের অংশ ছিল না?
  1. বগুড়া
  2. বরিশাল
  3. রংপুর
  4. রাজশাহী
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:

- বরিশাল পুণ্ড্র জনপদের অংশ ছিল না।
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১,১২৪.
প্রাচীন বাংলায় সবচেয়ে নীচু শ্রেণির লোক হিসেবে গণ্য করা হতো কাদের?
  1. ক) বৈশ্য
  2. খ) শূদ্র
  3. গ) ক্ষত্রিয়
  4. ঘ) ব্রাহ্মণ
সঠিক উত্তর:
খ) শূদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) শূদ্র
ব্যাখ্যা
কোনো সমাজে বর্ণপ্রথা একেবারে শুরুতে থাকে না। বাংলা তথা ভারতীয় সমাজে আর্য সংস্কার ও সংস্কৃতির বিস্তার হিসেবেই বর্ণপ্রথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রাচীন বাংলার ৪ টি গোত্রের পেশা নিম্নরুপ - 
• ব্রাহ্মণ - অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা- এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম। তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতাে।
• ক্ষত্রিয় - ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা।
• বৈশ্য - ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
শূদ্র - সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, এইচ এস সি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৫.
কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট কে ছিলেন?
  1. কুজলা
  2. কদফিসেস
  3. কণিষ্ক
  4. বাসুদেব
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কণিষ্ক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কণিষ্ক
ব্যাখ্যা

কুষাণ যুগ:
- যে সকল বিদেশি জাতি ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য স্থাপন করেছিল তাদের মধ্যে কুষাণদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
- কুষাণরা ছিল ইউ-চি জাতির একটি শাখা।
- কুষাণ শাখার নেতা কুজলা কদফিসেস কর্তৃক খ্রিস্টপূর্ব ৩০ অব্দ নাগাদ পাঁচটি শাখায় বিভক্ত ইউ-চিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।
- তিনি কাবুল, সোমায়ার, কাশ্মির অধিকার করেন।
- তাঁর পুত্র বিম কদফিসেস সিংহাসনে বসেন।
- তাঁর সাম্রাজ্য মধ্য এশিয়ার তুর্কিস্থান থেকে সিন্ধু উপত্যকা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। 
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২৬.
Where did the Fakir-Sannyasi Rebellion begin?
  1. Bihar
  2. Burdwan
  3. Murshidabad
  4. Rangpur
সঠিক উত্তর:
Burdwan
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Burdwan
ব্যাখ্যা

• ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ: 
-  ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলায় সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে। 
- ১৭৭১ খ্রিস্টাব্দে মজনু শাহ সারা উত্তর বাংলায় ইংরেজ বিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। 
- ১৭৭৭ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর, বগুড়া, ঢাকা, ময়মনসিংহ, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, মালদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে।
- তবে এ আন্দোলনের তীব্রতা ছিল উত্তর বঙ্গে। এই সব অঞ্চলে ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহী ফকির-সন্ন্যাসীদের বহু সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। 
-এ সব সংঘর্ষে বিদ্রোহীরা অনেক ব্রিটিশ সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে এবং কোম্পানির বহু কুঠি লুঠ করে।
অপরদিকে,
- সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতা ভবানী-পাঠক ১৭৮৭ খ্রিস্টাব্দে লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে দুই সহকারীসহ নিহত হন। 
-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন তিনি।
- ফলে তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী বিদ্রোহের অবসান ঘটে।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১২৭.
“The Spirit of Islam” - গ্রন্থটির লেখক কে?
  1. ক) চৌধুরী রহমত আলী
  2. খ) সৈয়দ আমীর আলী
  3. গ) রাজা রামমোহন রায়
  4. ঘ) নওয়াব আব্দুল লতিফ
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আমীর আলী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সৈয়দ আমীর আলী
ব্যাখ্যা
• সৈয়দ আমীর আলী:
- ১৮৪৯ খ্রিস্টাব্দে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত শিয়া পরিবারে তাঁর জন্ম।
- তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.এ এবং বি.এল ডিগ্রি লাভ করেন।
- লন্ডনের লিঙ্কন্স ইন থেকে ব্যারিস্টারি পাশ করার পর ১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে দেশে ফিরে তিনি কলকাতা হাইকোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন।
- তিনি ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি নিযুক্ত হন।
- তার রচিত গ্রন্থ - The Spirit of Islam এবং  A short History of the Saracens নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন।
 
- ১৯০৪ সালে তিনি লন্ডনে চলে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন।
- ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি লন্ডনে প্রিভি কাউন্সিলের সদস্য নিয়োজিত হন এবং আমৃত্যু সে পদে বহাল থাকেন। 
- ১৯০৮ সালে লন্ডনে মুসলিম লীগের একটি শাখা প্রতিষ্ঠা করেন।
- ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

তথ্যসুত্র: ইতিহাস প্রথম পত্র, (HSC Programme) উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১২৮.
চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং বাংলায় আসেন -
  1. ক) ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ৬৩৪ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ৬৩৯ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
হিউয়েন-সাং (চীন) 
▪ ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে চীন থেকে যাত্রা শুরু করে হিউয়েন-সাং উত্তরের বাণিজ্য পথ ধরে মধ্য-এশিয়ার কুচ হয়ে উত্তর ভারতে পৌঁছান।
▪ হিউয়েন-সাং সপ্তম শতকের চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
হিউয়েন সাং ৬৩৮ সালে বাংলায় আসেন।
▪ ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন সাং পুন্ডবর্ধনের রাজধানী পুন্ডনগরে আগমন করেন।
▪ বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষবর্ধনের শাসনামলে ভারতবর্ষে আসেন।
▪ হিউয়েন-সাং যখন নালন্দা মহাবিহারে অধ্যয়ন করেন তখন বাঙালি বৌদ্ধ ভিক্ষু শীলভদ্র ছিলেন এর অধ্যক্ষ। হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের একজন ছাত্র ছিলেন।
▪ তাঁর রচিত ‘জিউ জি (সি-উ চি)’ মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের উপর সর্ববৃহৎ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সম্বলিত গ্রন্থ।

তথ্যসূত্র: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচ এস সি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১২৯.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় কবে?
  1. ক) ১৯১৮ সালে
  2. খ) ১৯২০ সালে
  3. গ) ১৯২১ সালে
  4. ঘ) ১৯২২ সালে
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২১ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ১৯২১ সালে
ব্যাখ্যা
১৯২১ সালের ১ জুলাই পূর্ববঙ্গের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু হয়।
বঙ্গভঙ্গ রদের পর পূর্ব বাংলার অসন্তুষ্ট মুসলমানদের দাবীর প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় নাথান কমিশন গঠিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত হন স্যার পি জে হার্টগ।
২০২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ পূর্ণ হবে।
(সূত্রঃ বাংলাপিডিয়া)
১,১৩০.
ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম কী?
  1. ক) পাল
  2. খ) কুষাণ
  3. গ) গুপ্ত
  4. ঘ) মৌর্য
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৌর্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মৌর্য
ব্যাখ্যা
মৌর্য সাম্রাজ্যে
• প্রাচীন ভারতের সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন ছিল খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে।
• প্রাচীন ভারতে সাম্রাজ্যের বিকাশ ঘটে খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে।  
• ভারতবর্ষের প্রথম সাম্রাজ্যের নাম মৌর্য সাম্রাজ্যে

চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
• মৌর্য সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষ হচ্ছেন চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। তাঁর রাজত্বকাল খ্রিস্টপূর্ব ৩২২-২৯৮ অব্দ পর্যন্ত।
• তার রাজধানী ছিল পাটালিপুত্র।
• সম্রাট চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের প্রধানমন্ত্রী ছিল কৌটিল্য। 

মহামতি অশোক
• অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে বসেছিলেন এবং তাঁর অভিষেক হয়েছিল ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে।
• তার শাসনামলেই উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
• প্রাচীন পুন্ড্রনগর ছিল এ প্রদেশের রাজধানী।
• কলিঙ্গের যুদ্ধ ছিল তার জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এ যুদ্ধে ১১/২ লক্ষ লোক বন্দী, ১ লক্ষ লোক নিহত এবং বহু সংখ্যক লোক আহত হয়।
• যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন। তাঁর শাসনামলে বৌদ্ধধর্ম রাজধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি পায়। 
• এজন্য তাঁকে বৌদ্ধধর্মের কনস্ট্যানটাইন বলা হয়।
•  প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন। 

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩১.
বিক্রমশীলা বিহার কিসের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্টি হয়েছিলো? 
  1. নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
  2. উজ্জয়িনী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
  3. তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
  4. ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়া
ব্যাখ্যা

• ধর্মপাল ও বিক্রমশীলা বিহার:
-
পাল বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা ছিলো ধর্মপাল।
- তিনি বৌদ্ধধর্মের একজন মহান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
- তার সময় ত্রিশক্তির সংঘর্ষ হয়-
• পালবংশ;
• রাজপুতানা গুর্জর প্রতিহার বংশ;
• দক্ষিণাংশের রাষ্ট্রকূপ বংশ।
- ধর্মপাল পাহাড়পুরের বৌদ্ধ বা সোমপুর বিহার নির্মাণ করেন।
- এছাড়া তিনি বিক্রমশীলা বিহার নির্মাণ করে যা বর্তমানে ভাগলপুরে অবস্থিত।
- বিক্রমশীলা বিহার নির্মিত হয় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমে যাওয়ার প্রতিক্রিয়ায়।
- তান্ত্রিক বৌদ্ধধর্ম এবং শিক্ষার জন্য বিক্রমশীলা বিখ্যাত ছিল।

অন্যদিকে,
• উজ্জয়িনী  বিশ্ববিদ্যালয়- মধ্যপ্রাচ্য ও ভারতীয় উপমহাদেশের বৌদ্ধ শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

• তক্ষশীলা বিশ্ববিদ্যালয়- পাকিস্তানের প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়।
- প্রাচীন সময়ে বিদ্যা, চিকিৎসা, যুদ্ধে কৌশল ও বাণিজ্য শিক্ষার জন্য সমাদৃত ছিলো।

• ওদন্তপুরী বিশ্ববিদ্যালয় ভারতের বিহারে অবস্থিত।
- এটি নালন্দার মতো বৌদ্ধ শিক্ষা ও গবেষণার কেন্দ্র।
- ধর্মশিক্ষা ও শাস্ত্রীয় শিক্ষায় বিশেষভাবে প্রভাবশালী ছিলো।

উৎস:
১. ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়;
২. বাংলাপিডিয়া। 

১,১৩২.
ময়নামতির পূর্ব নাম কী?
  1. রোহিতগিরি
  2. সুবর্ণ গ্রাম
  3. ভবানীগঞ্জ
  4. সিংহজানী
সঠিক উত্তর:
রোহিতগিরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রোহিতগিরি
ব্যাখ্যা
ময়নামতি:
- কুমিল্লা শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে ময়নামতি অবস্থিত।
- ময়নামতিতে রয়েছে ৮ম শতকের পুরার্কীতির নিদর্শন।
- ময়নামতির উত্তর - দক্ষিণে রয়েছে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ২ কিলোমিটার প্রস্থ নিয়ে বিস্তৃত প্রাচীনকালের রোহিতগিরি যা লালমাটির পাহাড় নামে পরচিতি।
- এর উত্তরাংশ দশম শতকে দেব বংশের রাজা মানিক্য চন্দ্রর রাজধানীকে কন্দ্রে করে তার স্ত্রী মরণামতরি নামে নামকরণ করা হয় ময়নামতি।

⇒ ময়নামতি বৌদ্ধ বিহার:
- লালমাই ময়নামতি গিরি শ্রেণীর মধ্যবর্তী স্থানে এই বিহারটি অবস্থিত।
- এই বিহারটির প্রত্যেক বাহুর দৈর্ঘ্য ৫৫০ ফুট।
- চারটি বাহুতে মোট ১১৫টি ভিক্ষু কক্ষ আছে যাতে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বসবাস করতেন।
- মূল বিহারটি দেব বংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব কর্তৃক আনুমানিক ৮ম শতাব্দীতে নির্মিত হয়েছে।
- শালবন বিহার খনন করে অসংখ্য মূল্যবান প্রত্নতত্ত্ব আবিস্কার করা হয়েছে।
- এগুলোর মধ্যে আছে ৮টি তাম্রলিপি, ১৮টি স্বর্ণ ও ৩৫০টি রৌপ্য মুদ্রা, স্বর্ণালংকার, নানা ধরণের মূর্তি, পোড়ামাটির বিএফলক, সীল ও নিত্য ব্যবহার্য দ্রব্য।

অন্যদিকে,
- সোনারগাঁও এর পূর্বনাম সুবর্ণগ্রাম।
- গাইবান্ধা  এর পূর্বনাম ভবানীগঞ্জ।
- জামালপুর এর পূর্বনাম সিংহজানী।

উৎস: বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ওয়েবসাইট।
১,১৩৩.
নিচের কোনটি সমতট জনপদের রাজধানী ছিলো?
  1. ক) ত্রিপুরা
  2. খ) বড় কামতা
  3. গ) তাম্রলিপ্ত
  4. ঘ) পুন্ড্রনগর
সঠিক উত্তর:
খ) বড় কামতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বড় কামতা
ব্যাখ্যা
• বড় কামতা ছিলো সমতট জনপদের রাজধানী। 

• সমতট জনপদ: 
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- সমতটের রাজধানী ছিল বড়কামতা। 

সূত্র: বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 
১,১৩৪.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্কের রাজধানী কোথায় ছিলো?
  1. পুন্ড্রবর্ধন
  2. কর্ণসুবর্ণ
  3. পাটালিপুত্র
  4. সোনারগাঁও
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কর্ণসুবর্ণ
ব্যাখ্যা
⇒ বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা শশাঙ্কের রাজধানী ছিলো -কর্ণসুবর্ণ।

রাজা শশাংক:

- শশাঙ্ক ছিলেন বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা।
- ৬০৬ সালে শশাঙ্ক গৌড়ে একটি স্বাধীন রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
- শশাঙ্কের রাজ্য বাংলার উত্তর, উত্তর-পশ্চিমাংশ ও মগধে বিস্তৃত ছিল।
- শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- কর্ণসুবর্ণ বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরের ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত রাঙ্গামাটি।
- শশাঙ্ক শৈব ধর্মের অনুসারী ছিলেন।
- চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং শশাঙ্ককে বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারী বা বিদ্বেষী হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৫.
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সংঘটিত হয় কত সালে?
  1. ক) ১৯৪৭
  2. খ) ১৯০৫
  3. গ) ১৮৮৫
  4. ঘ) ১৮৫৭
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৫৭
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৮৫৭
ব্যাখ্যা
- পলাশী যুদ্ধের একশ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহীদের নেতৃত্বে যে ব্যাপক সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়। 
- ব্রিটিশ ভারতের ইতিহাসে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের স্বাধীনতা সংগ্রাম এক যুগান্তকারী ঘটনা।
- ভারতের রাজনৈতিক, আর্থ- সামাজিক, ধর্মীয় ও সামরিক ক্ষেত্রে কোম্পানি সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা, অনুসৃত নীতি বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে অসন্তোষ আর ক্ষোভের সৃষ্টি করে, তারই বহি:প্রকাশ এই সংগ্রাম।
- নানা কারণে এ সংগ্রাম ব্যর্থ হয়।
- তবে এর ফলে ভারতে একশ বছরের কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে।
- ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দের ১ নভেম্বর মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঘোষণাপত্রে স্বত্ববিলোপ নীতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য নিয়ম বাতিল করা হয়।
- তাছাড়া এই ঘোষণা পত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী ভারতীয়দের চাকরি প্রদান এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাসহ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করা হয়।
- এই বিদ্রোহের সুদূর প্রসারি গুরুত্ব হচ্ছে, বিদ্রোহের ক্ষোভ থেমে থাকেনি।
- এই সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণ সচেতন হয় উঠে এবং নানা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটায়।

উৎস:- বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা, এস এস সি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
 
১,১৩৬.
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন কে?
  1. দেবপাল
  2. গোপাল
  3. ধর্মপাল
  4. মহেন্দ্রপাল
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা
পাল রাজবংশ:
- প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজবংশ দীর্ঘকাল শাসন করেছে।
- সুশাসন, জনকল্যাণ, ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, উন্নত জীবনবোধ ইত্যাদি বাংলায় সর্বপ্রথম পালরাই প্রতিষ্ঠিত করে।
- পাল রাজারা বাংলা ও বিহার অঞ্চলে অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে প্রায় চারশ বছর শাসন করেছেন।
- নৈরাজ্য ও চরম অরাজকতার হাত থেকে বাংলাকে রক্ষা করে গোপাল নামক এক উচ্চবর্গীয় ব্যক্তি এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
- ধর্মপাল, দেবপাল, মহিপাল নামে অনেক পাল রাজারা বাংলা শাসন করেছেন।
- তালপাতার পুঁথিচিত্র পাল যুগের নিদর্শন।
- তালপাতার উপরে চিত্রসম্বলিত বৌদ্ধ গ্রন্থ অষ্টসাহস্রিকা-প্রজ্ঞাপারমিতা পান্ডুলিপির বারোটি রঙ্গিন চিত্র বঙ্গীয় চিত্রকলার প্রাচীনতম নিদর্শন।
- বর্তমানে দুর্লভ এই পান্ডুলিপি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটিতে সংরক্ষিত আছে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৩৭.
বাংলা বর্ষপঞ্জি প্রবর্তন করা হয় কত সালে?
  1. ক) ১৫৪৮ সালে
  2. খ) ১৫৫৬ সালে
  3. গ) ১৫৬৫ সালে
  4. ঘ) ১৫৮৪ সালে
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৮৪ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ১৫৮৪ সালে
ব্যাখ্যা

- বাংলা বর্ষপঞ্জি ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট আকবর প্রবর্তন করেন।
- এই নতুন বর্ষপঞ্জিটি প্রথমে তারিখ-ই-এলাহী নামে পরিচিত ছিল ।
- ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ বা ১১ মার্চ এটি বঙ্গাব্দ নামে প্রচলিত হয়।
- নতুন এই সালটি আকবরের রাজত্বের ঊনত্রিশতম বর্ষে প্রবর্তিত হলেও তা গণনা করা হয় ১৫৫৬ খ্রিস্টাব্দের ৫ নভেম্বর থেকে, কারণ এদিন আকবর দ্বিতীয় পানিপথের যুদ্ধে হিমুকে পরাজিত করে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- তারিখ-ই-এলাহীর উদ্দেশ্য ছিল আকবরের বিজয়কে মহিমান্বিত করে রাখা এবং একটি অধিকতর পদ্ধতিগত উপায়ে রাজস্ব আদায়ে সহায়তা করা।
- এর পূর্বে মুগল সম্রাটগণ রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে হিজরি বর্ষপঞ্জি ব্যবহার করেতেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,১৩৮.
কণিষ্ক নিচের কোনটি প্রবর্তন করেন?
  1. গুপ্তাব্দ
  2. শকাব্দ
  3. হর্ষাব্দ
  4. কণিষ্কাব্দ
সঠিক উত্তর:
শকাব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শকাব্দ
ব্যাখ্যা
⇒ কণিষ্ক একটি অব্দ বা সম্বৎ প্রবর্তন করেন যা পরবর্তীতে শকাব্দ নামে পরিচিতি লাভ করে।
- কণিষ্কের প্রবর্তিত অব্দটি পশ্চিম ভারতের শক ক্ষত্রপরা দীর্ঘকাল ধরে ব্যবহার করেন।
- কুষাণদের পতনের পরেও তাঁরা এই অব্দটির প্রচলন অব্যাহত রাখেন।
- শকদের দ্বারা দীর্ঘকাল ব্যবহৃত হওয়ার কারণেই এই অব্দের নাম হয় শকাব্দ। 

কণিষ্ক:
- কুষাণ বংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট ছিলেন কণিষ্ক।
- ৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- ভারতে তিনি এক বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন, এটি উত্তর- পশ্চিমে পেশোয়ার থেকে পূর্বে পশ্চিমবাংলা, উত্তরে কাশ্মির থেকে দক্ষিণে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- ভারতের বাইরে বর্তমান সোভিয়েত তুর্কিস্থানের এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশও তাঁর সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল।
- পুরুষপুর বা বর্তমান পেশোয়ার তাঁর রাজধানী ছিল।
- বিশাল সাম্রাজ্যকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন রাজকর্মচারীদের মাধ্যমে এখান থেকেই তিনি শাসনকার্য পরিচালনা করতেন।
- তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম 'মহাযান' ও 'হীনযান' -এ দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
- ২৩ বছর রাজত্ব করার পর কণিষ্ক ১০১ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এসএসএইচএল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৩৯.
Which one of the following is the ancient name of Barisal?
  1. Venico of Bangal
  2. Islampur
  3. Chandra Deep
  4. Fatehabad
  5. None
সঠিক উত্তর:
Chandra Deep
উত্তর
সঠিক উত্তর:
Chandra Deep
ব্যাখ্যা
বর্তমান বরিশাল জেলার পূর্বনাম ছিল চন্দ্রদ্বীপ।

চন্দ্রদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
- চন্দ্রদ্বীপ নামের আগে এ অঞ্চলটির নাম ছিল ‘বাকলা’। 
- চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী ছিল কচুয়া।
- মধ্যযুগে চন্দ্রদ্বীপ বেশ সমৃদ্ধ ছিল।
 
উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪০.
শালবন বিহার এর অবস্থান বাংলার কোন প্রাচীন জনপদে?
  1. সমতট
  2. তাম্রলিপ্তি
  3. চন্দ্রদ্বীপ
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
সমতট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট
ব্যাখ্যা
সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান।
- সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত।
- গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট।
- কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
- শালবন বিহার এদের অন্যতম।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,১৪১.
কোন শাসনামলে বাংলায় কৈবর্ত বিদ্রোহ সংঘটিত হয়?
  1. ক) গুপ্ত শাসন
  2. খ) হাবশী শাসন
  3. গ) পাল শাসন
  4. ঘ) সেন শাসন
সঠিক উত্তর:
গ) পাল শাসন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পাল শাসন
ব্যাখ্যা
- পাল শাসনামলে দ্বিতীয় মহীপালের সময়ে উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অন্ত:কলহের সময় বাংলায় এক বিদ্রোহ সংঘটিত হয় যা `কৈবর্ত বিদ্রোহ’ নামে পরিচিত।
- দেবপালের মৃত্যুর পর পাল রাজারা সামরিক শক্তিতে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েন। 
- ৯৮৮ খ্রিস্টাব্দের পর বাংলার কিছু অংশ বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গ কম্বোজরাজ রাজ্যপালের অধীনে চলে যায়। 
- এরপর ১০৭৫ খ্রিস্টাব্দে বিদ্রোহী কৈবর্ত সম্প্রদায়ের সাথে সামন্তবর্গ একাত্মতা ঘোষণা করেন। 
- তাঁরা উচ্চ-পদস্থ রাজকর্মচারী দিব্যের নেতৃত্বে অত্যাচারী পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালকে পরাজিত করতে সক্ষম হন।
 - বাংলার ইতিহাসে এই প্রতিরোধ ‘কৈবর্ত বিদ্রোহ' হিসেবে পরিচিত।
 
- কৈবর্ত হলো বরেন্দ্র অঞ্চলের একটি জেলে সম্প্রদায়। ১০৮০ সালে দিব্য এর নেতৃত্বে কৈবর্তরা বরেন্দ্র অঞ্চলে পালদের পরাজিত করে ক্ষমতা দখল করে।
- তবে কৈবর্ত শাসন ছিলো স্বল্পস্থায়ী। ১০৮২ সালে দ্বিতীয় মহীপালের ভাই রামপাল কৈবর্ত শাসক ভীমকে পরাজিত করে বরেন্দ্র অঞ্চলে পাল শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেন।

(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় : ষষ্ঠ শ্রেণী, বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএ প্রোগ্রাম; উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,১৪২.
'বিক্রমশীল' কার উপাধি ছিল?
  1. গোপাল 
  2. ধর্মপাল 
  3. রামপাল 
  4. মহীপাল 
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধর্মপাল 
ব্যাখ্যা
ধর্মপাল: 
- ধর্মপাল প্রায় ৪০ বছর (৭৮১-৮২১ খ্রিষ্টাব্দ) রাজত্ব করেন।
- ধর্মপাল ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী।
- পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ সার্বভৌম উপাধি পরমেশ্বর, পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন।
- ভাগলপুরের পূর্ব দিকে তিনি একটি বৌদ্ধ বিহার বা মঠ নির্মাণ করেন।
- ধর্মপালের দ্বিতীয় নাম বা উপাধি ছিল 'বিক্রমশীল'।
- এ নামানুসারে বিহারটি 'বিক্রমশীল বিহার' নামে খ্যাত ছিল।
- নালন্দার মতো বিক্রমশীল বিহার বাংলা ও ভারতবর্ষের সর্বত্র ও বাইরে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিল।
- নবম শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত এটি সমগ্র ভারতবর্ষের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- তিব্বতের অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষু এখানে অধ্যয়ন করতে আসত এবং এখানকার অনেক প্রসিদ্ধ বৌদ্ধ আচার্য তিব্বতে বিশুদ্ধ বৌদ্ধ ধর্ম প্রচার করেছিলেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,১৪৩.
পাণিনি, কৌটিল্য কোন শিক্ষা কেন্দ্রের ছাত্র ছিলেন?
  1. তক্ষশীলা
  2. অজন্তা
  3. উজ্জয়িনী
  4. নালন্দা
সঠিক উত্তর:
তক্ষশীলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তক্ষশীলা
ব্যাখ্যা
গুপ্ত যুগে শিক্ষা-দীক্ষা:
- গুপ্ত যুগে ভারতে শিক্ষাক্ষেত্রে প্রভূত অগ্রগতি সাধিত হয়।
- নালন্দা, তক্ষশীলা, উজ্জয়িনী, সারনাথ এবং অজন্তা তৎকালীন গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
- এ সকল স্থানের শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনার অগ্রগতি লক্ষ করা যায়।
- বিহারের নালন্দা বিহারে মহাযান বৌদ্ধমতের ওপর বিশেষভাবে পড়ানো হতো।
- উত্তর-পশ্চিম ভারতে অবস্থিত তক্ষশীলা ছাত্র ছিলেন বিখ্যাত পন্ডিত পাণিনি, কৌটিল্য, চরক প্রমুখ।
- এছাড়া গুজরাটে বল্লভী এবং অন্যান্য অসংখ্য স্থানে নানা ধরনের শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল।
- এসব স্থানে ব্যাকরণ, যুক্তিবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, দর্শন, ধর্ম এবং জ্যোতির্বিদ্যা বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জ্ঞান আহরণ করতো।
- গুপ্ত শাসকগণ এবং বড় বড় ব্যবসায়ীরা ছিলেন শিক্ষার পৃষ্ঠপোষক।

তথ্যসূত্র - ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৪৪.
ময়নামতি -শালবন বিহার কার কীর্তি?
  1. শ্রী শান্তিদেব
  2. শ্রী আনন্দদেব
  3. শ্রী ভবদেব
  4. শ্রী বীরদেব
সঠিক উত্তর:
শ্রী ভবদেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শ্রী ভবদেব
ব্যাখ্যা
শালবন বিহার:
- বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কুমিল্লার শালবন বিহার যা দেব সাম্রাজ্যের কীর্তি।
- এটি দেববংশের চতুর্থ রাজা ভবদেব খ্রিস্টীয় আট শতকে নির্মাণ করেন।
- বিহারের আসল নাম 'ভবদেব মহাবিহার'।
- সময়কাল:- অষ্টম শতক।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েবসাইট।
১,১৪৫.
রাজশাহীর উত্তরাংশ, বগুড়ার পশ্চিমাংশ, রংপুর ও দিনাজপুরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত‒
  1. পললগঠিত সমভূমি
  2. বরেন্দ্রভূমি
  3. চলনবিল
  4. পাহাড়পুর
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্রভূমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরেন্দ্রভূমি
ব্যাখ্যা
জনপদগুলোর অবস্থান:
- গৌড় জনপদ: বর্তমান চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর এলাকায় এটি বিস্তৃত ছিলো।
- বঙ্গ জনপদ: বঙ্গ জনপদ অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।
- পুণ্ড্র জনপদ: বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ: বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।

- হরিকেল জনপদ: সিলেট ও চট্টগ্রামের অংশবিশেষ ছিলো।
- চন্দ্রদ্বীপ জনপদ: বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- সমতট জনপদ: বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- তাম্রলিপ্ত: মেদিনীপুর।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৪৬.
পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
  1. মহীপাল
  2. ধর্মপাল
  3. গোপাল
  4. দেবপাল
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা

পাল রাজবংশ:
- পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল।
- গোপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত পাল রাজবংশের শাসন বাংলায় প্রায় ‘চারশ' বছর স্থায়ী হয়েছিল।
- গোপালের ক্ষমতা লাভ সম্পর্কে খালিমপুর তাম্রশাসন থেকেও জানা যায়।
- গোপালের উত্থানের মধ্য দিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয় পাল রাজবংশ।
- ১৭ জন পাল নৃপতি বাংলা শাসন করেন।
- গোপাল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত শাসনের উপর ভিত্তি করে তার পরবর্তী দুই উত্তরাধিকারী ধর্মপাল ও দেবপাল সাম্রাজ্যকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যান।

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪৭.
নালন্দা মহাবিহার ভারতের কোথায় অবস্থিত?
  1. ক) উড়িষ্যা
  2. খ) বিহার
  3. গ) পশ্চিমবঙ্গ
  4. ঘ) কর্ণাটক
সঠিক উত্তর:
খ) বিহার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) বিহার
ব্যাখ্যা
- ভারতের বিহারে অবস্থিত নালন্দা মহাবিহার প্রাচীন ভারতের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র। এটিকে পৃথিবীর প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় বিবেচনা করা হয়।
- বাঙালি বৌদ্ধ পণ্ডিত শীলভদ্র ৬৩৫ সালে নালন্দা মহাবিহারের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন।
- বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ শীলভদ্রের নিকট শিক্ষা লাভ করেন।
(তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া)
১,১৪৮.
কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন কে?
  1. লক্ষ্মণ সেন
  2. হেমন্ত সেন
  3. বিজয় সেন
  4. বল্লাল সেন
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা: 
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- ব্রাহ্মণগণ এ প্রথা প্রবর্তনের উদ্যোক্তা ছিলেন।
- সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।
- তবে সেন রাজাদের আমলে সাধারণত সম্মানীয় ব্রাহ্মণদেরকে সমাদর করার উদ্দেশ্যে জমি দান করা হতো।
- এরূপ জমিপ্রাপ্ত ব্রাহ্মণদের মধ্যে কয়েকজনের কথাসহ তাম্রশাসন পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য,
- বল্লাল সেন তাঁর পিতার ন্যায় শৈব ছিলেন। ধর্মপ্রচারে তাঁর বিশেষ আগ্রহ ছিল।
- তিনি তাঁর পিতার অন্যান্য উপাধির সাথে 'অরিরাজ নিঃশঙ্কর' উপাধি গ্রহণ করেন।
- তিনি আনুমানিক ১৮ বছর রাজত্ব করার পর বৃদ্ধ বয়সে পুত্র লক্ষণ সেনের হাতে রাজ্যভার অপর্ণ করে সস্ত্রীক ত্রিবেণীর কাছে গঙ্গাতীরে বাণপ্রস্থ অবলম্বন করে শেষ জীবন অতিবাহিত করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৪৯.
চীনদেশের কোন ভ্রমণকারী গুপ্তযুগে বাংলাদেশে আগমন করেন?
  1. হিউয়েন সাং
  2. ফা হিয়েন
  3. আই সিং
  4. এদের সকলেই
সঠিক উত্তর:
ফা হিয়েন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফা হিয়েন
ব্যাখ্যা
ফা-হিয়েন:
- ফা-হিয়েন প্রাচীন চৈনিক বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি মধ্য এশিয়া, ভারত ও শ্রীলংকা ভ্রমণ করেন ও তাঁর ভ্রমণ বৃত্তান্ত লিপিবদ্ধ করেন।
- ৩৯৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি যখন ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন তখন তাঁর বয়স সম্ভবত ৬৪ বছর।
- তিনি পঞ্চম শতকের সূচনায় বাংলায় আসেন।
- তিনি তাঁর ভ্রমণের অধিকাংশ সময়ই মধ্য ভারত বা মগধ পরিভ্রমণ অতিবাহিত করেন।
- তাঁর গন্তব্যস্থল ছিল সে সময়ের বিখ্যাত আন্তর্জাতিক বন্দর তাম্রলিপ্তি (বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত তমলুক)।

উল্লেখ্য,
- চিনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েন গুপ্ত সম্রাট দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের শাসনকালে গৌতমবুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে ভারত অভিমুখে যাত্রা করেন।
- ফা-হিয়েনের বর্ণনায় পাটলীপুত্র, তাম্রলিপ্তি, তক্ষশীলা, সারনাথ, মথুরা, পেশোয়ার, কুশীনগরসহ বেশ কিছু প্রসিদ্ধ স্থানের বিবরণ আছে।
- তাঁর ভ্রমণ কাহিনী থেকে গুপ্তযুগীয় ভারতের আর্থ-সামাজিক, ধর্মীয় এবং পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক অবস্থার কিছু চিত্র পাওয়া যায়, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- ফা-হিয়েন গুপ্ত শাসনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে,
- হিউয়েন সাঙ বাংলায় আসেন ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে।

উৎস:
i) ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশবিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
১,১৫০.
কৌলিন্য প্রথা বাংলায় কে প্রবর্তন করেন?
  1. রাজা বল্লাল সেন
  2. রাজা বিজয় সেন
  3. রাজা লক্ষ্মণ সেন
  4. রাজা হেমন্ত সেন
সঠিক উত্তর:
রাজা বল্লাল সেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাজা বল্লাল সেন
ব্যাখ্যা

কৌলিন্য প্রথা:
- কৌলিন্য প্রথা বলতে বোঝায় যে কোনো জাতি বা গোষ্ঠী বা বর্ণ বা সম্ভ্রান্ত বংশ যারা সামাজিক সম্মান ভোগ করে এবং ঐতিহ্যগতভাবে নিজেদের সামাজিক অবস্থান এবং ‘কুল’ পরিচিতি ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। 

• বাংলাদেশে কৌলিন্য প্রথার বহুল প্রচলন দেখা যায় আঠারো ও উনিশ শতকে।
- কৌলিন্য প্রথার প্রবর্তক হিসেবে বল্লাল সেন ইতিহাসে বিশেষভাবে পরিচিত।
- ব্রাহ্মণগণ এ প্রথা প্রবর্তনের উদ্যোক্তা ছিলেন। তাঁরা তাঁদের দাবি প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এ প্রথার একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি দেখানোর জন্য প্রচার করেন যে, সেন আমলে বল্লাল সেন কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করেন।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৫১.
বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজা কে?
  1. ধর্মপাল
  2. শেরশাহ
  3. শশাঙ্ক 
  4. লক্ষণ সেন
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শশাঙ্ক 
ব্যাখ্যা

 শশাঙ্ক:
- শশাঙ্ক বাংলার প্রথম স্বাধীন রাজা।
- বাংলার ইতিহাসে শশাঙ্ক ছিলেন প্রথম সার্বভৌম রাজা।
- তিনি বাংলার বাইরেও রাজ্য জয় করে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছিলেন।
- শশাঙ্ক উত্তর ভারতের রাজনীতিতেও ভূমিকা পালন করেছিলেন।
- ড. নীহাররঞ্জনের মতে শশাঙ্ক "স্বতন্ত্র স্বাধীন নরপতিরূপে সুবিস্তৃত রাজ্যের অধিকারী হইয়াছিলেন।"
- শশাঙ্ক সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
- হর্ষবর্ধনের সভাকবি বাণভট্ট শশাঙ্ককে বৌদ্ধবিদ্বেষী ও বৌদ্ধ ধর্মের নিগ্রহকারীরূপে চিহ্নিত করেন।
- প্রতিভা বলে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- তিনি গৌড় রাজ্যকে ভারতের বিহার ও উড়িষ্যা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন।

উল্লেখ্য,
- সেন বংশের সর্বশেষ সার্বভৌম ও বাংলার শেষ হিন্দু রাজা লক্ষণ সেন।
- শেরশাহ ভারতবর্ষের সম্রাট ও শূর রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা।
- ধর্মপাল বাংলার পাল বংশের দ্বিতীয় এবং সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও সভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্বদ্যালয়।

১,১৫২.
কোন মুঘল সম্রাটের আমলে জিজিয়া কর পুন:স্থাপিত হয়?
  1. সম্রাট জাহাঙ্গীর
  2. সম্রাট আওরঙ্গজেব
  3. সম্রাট শাহজাহান
  4. সম্রাট আকবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আওরঙ্গজেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আওরঙ্গজেব
ব্যাখ্যা
জিজিয়া কর:
- মুসলিম রাষ্ট্রের যুদ্ধক্ষম অমুসলিম নাগরিকদের থেকে আদায়যোগ্য এক ধরনের নিরাপত্তা 'কর'।

আরোপিত:
- এটা নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধদের ওপর আরোপিত হয় না।
- বলা যায়, এটা মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাস করে প্রতিরক্ষা কাজে তাদের কায়িক অংশগ্রহণ না করার বিনিময়ে প্রদেয় কর।
- যুদ্ধের সময়ও এই করের বিনিময়ে অমুসলিমরা মুসলিম রাষ্ট্রে সব রকম নাগরিক অধিকার ভোগ করে।
- মুসলিম ভারতে সব সময়ই অমুসলমানদের নিকট থেকে জিজিয়া আদায় করা হত।

 রহিত:
- সম্রাট আকবর ১৫৬৪ সালে জিজিয়া কর রহিত করেন।

পুন:স্থাপন:
- সম্রাট আওরঙ্গজেব পুনরায় ১৬৭৯ সালে তা অমুসলমানদের উপর আরোপ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৩.
‘জাপোনিকা জাতের’ ধান চাষের প্রমাণ পাওয়া গেছে-
  1. ক) সুনামগঞ্জে
  2. খ) ময়মনসিংহে
  3. গ) জয়দেবপুরে
  4. ঘ) উয়ারী-বটেশ্বরে
সঠিক উত্তর:
ঘ) উয়ারী-বটেশ্বরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উয়ারী-বটেশ্বরে
ব্যাখ্যা
নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বরে আড়াই হাজার বছর আগের জাপোনিকা জাতের ধান চাষের প্রমাণ পেয়েছেন গবেষকেরা। জাপান, থাইল্যান্ড, চীনে এই জাতের ধান এখনো চাষ হয়। কিছুটা আঠালো এই ধানের ভাত পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় জনপ্রিয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) পাঁচ গবেষকের যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সূত্র- প্রথম আলো পত্রিকা(০৭ ডিসেম্বর ২০১৯)।
১,১৫৪.
ময়নামতিতে কোন সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়?
  1. গুপ্ত সভ্যতা
  2. মৌর্য সভ্যতা
  3. বৌদ্ধ সভ্যতা
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সভ্যতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বৌদ্ধ সভ্যতা
ব্যাখ্যা
⇒ ময়নামতিতে বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া যায়।

ময়নামতি:
- ময়নামতির পূর্ব নাম রোহিতগিরি।
- এটি কুমিল্লা শহরের প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিমে বাংলাদেশের পূর্ব সীমায় বিচ্ছিন্ন অনুচ্চ পার্বত্য এলাকা।
- এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্যের ফলে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ নিদর্শনাদি উন্মোচিত হয়েছে।
- মেঘনা বেসিনের ভাটিতে গোমতী নদী তীরস্থ ময়নামতী গ্রাম থেকে লালমাই রেলস্টেশনের নিকটে চান্দিমুরা পর্যন্ত এই ক্ষুদ্র শৈলশ্রেণি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১৭ কিলোমিটার বিস্তৃত।
- এর প্রশস্ততম অংশটি ৪.৫ কিলোমিটার চওড়া এবং সর্বোচ্চ চূড়াটি ৪৫ মিটার উঁচু।
- ১৮৭৫ সালে পাহাড়গুলির মধ্য দিয়ে প্রসারিত পুরানো সড়কটির পুনঃনির্মাণ কালে শ্রমিকরা হঠাৎ কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ঘাটন করে।
- প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি বৌদ্ধ মঠ।
- খননকৃত প্রত্নস্থান খননকৃত প্রত্নস্থানসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শালবন বিহার।
- এটি শৈলরাজির প্রায় কেন্দ্রে বর্তমান কোটবাড়িস্থ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন অ্যাকাডেমির সন্নিকটে অবস্থিত।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৫.
উমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন কারা?
  1. গুপ্তরা
  2. কুষাণরা
  3. দিল্লির সুলতানরা
  4. মৌর্যরা
সঠিক উত্তর:
কুষাণরা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষাণরা
ব্যাখ্যা
কুষাণ যুগ:
- উমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন কুষাণ সম্রাটগণ।
- কুষাণ সম্রাট বীম কদফিসেসই সম্ভবত সর্বপ্রথম স্বর্ণমুদ্রা প্রবর্তন করেন যেখানে মুদ্রার উপরিপৃষ্ঠে বেদিতে যজ্ঞরত রাজার প্রতিকৃতি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, এই বিশেষ প্রতিকৃতি পার্থিয়ান রাজা গোটার্জেসের স্বর্ণমুদ্রার নকশা দ্বারা প্রভাবিত।
- তবে পরবর্তীকালের কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক ও হুবিষ্ক তাদের স্বর্ণমুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের নকশা ও প্রতীক ব্যবহার করেছেন যেগুলো আলাদাভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ বাংলার বিভিন্ন প্রত্নস্থান থেকে কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক, হুবিষ্ক ছাড়াও মহানাদ কুষাণ, প্রথম বাসুদেব ও দ্বিতীয় বাসুদেবের স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কার করেছেন।

উৎস: বাংলাদেশ স্ট্যাডিজ, বিবিএ বাংলা, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৫৬.
কোন শাসকের শাসনামলে ইবনে বতুতা বাংলায় আগমন করেন?
  1. আলাউদ্দিন হোসেন শাহ
  2. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  3. গিয়াসউদ্দিন আযম শাহ
  4. ইলিয়াস শাহ
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা

ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ: 
- ইবনে বতুতা বাংলায় আগমন করেন সুলতান ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের শাসনামলে, ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে।
- এই সময় ফখরুদ্দীন ছিলেন বাংলার স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা এবং সোনারগাঁ ছিল তাঁর রাজধানী।
- ইবনে বতুতা তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে ফখরুদ্দীনকে একজন খ্যাতনামা, প্রজাবৎসল এবং দানশীল শাসক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
- তিনি জানান যে, চট্টগ্রামও ফখরুদ্দীনের রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং তাঁর শাসনকালেই বাংলা ছিল সমৃদ্ধিশালী ও বাণিজ্যিকভাবে উন্নত।
- ইবনে বতুতার বিবরণে জানা যায়, বাংলার অভ্যন্তরীণ শান্তি, খাদ্য প্রাচুর্য, বাণিজ্য প্রসার এবং সুফি-দরবেশদের প্রতি সুলতানের শ্রদ্ধা ছিল ব্যতিক্রমধর্মী।
- ফখরুদ্দীনের শাসনামলেই বাংলায় একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী রাজ্যব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপিত হয়। 

সূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১,১৫৭.
বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ কোনটি?
  1. হরিকেল
  2. সমতট
  3. পুণ্ড্র
  4. বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:

- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ।
- পুণ্ড্র ‘জন' বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল।
- পুণ্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহাস্থানগড় হয়। 
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।
- পুণ্ড্র রাজ্যের উত্তর অংশের নাম বরেন্দ্র, বরেন্দ্রী অথবা বরেন্দ্রভূমি ছিল।
- রাজশাহী অঞ্চলকে এখনও বরেন্দ্র বলা হয়ে থাকে। ক্রমবর্ধমান সমৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুণ্ড্র ৫ম-৬ষ্ঠ শতকে পুণ্ড্র বর্ধন নামে পরিচিত হয়।
- গুপ্ত যুগে (৪র্থ- ৬ষ্ঠ শতকে) পুণ্ড্র নগর ছিল গুপ্তদের প্রাদেশিক রাজধানী।
- পুন্ড্র জনপদে একটি উন্নত নগর সভ্যতা ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম- দশম শ্রেণি ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৫৮.
বাংলার আদি জনগোষ্ঠীর ভাষা কি?
  1.  দ্রাবিড়
  2. কামরুপী
  3. অস্ট্রিক
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অস্ট্রিক
ব্যাখ্যা

বাঙালি আদি-জনগোষ্ঠী:
- অস্ট্রোলয়েড প্রাচীন বাংলায় একটি নৃ-গোষ্ঠী।
- নৃতত্ত্ববিদগণ এদেরকে আদি অস্ট্রেলীয় বলে মনে করেন।
- এ জনগোষ্ঠীকে অস্ট্রিক বা অস্ট্রো-এশীয়ও বলা হয়।
- প্রাচীন সাহিত্যে এরা নিষাদ নামে পরিচিত।
- কাল পরিক্রমায় তাদের একটি দল আদি বাসস্থান ত্যাগ করে বাংলায় অভিবাসন করে।
- বাংলার প্রাচীনতম বং জনগোষ্ঠীর পরবর্তী নেগ্রিটো জনগোষ্ঠীর পরে বাংলায় এদের আগমন ঘটে বলে অনুমিত হয়।
- বাংলার আদি জনগোষ্ঠী অস্ট্রিক ভাষাভাষী ছিল।

উৎস: i) সমাজবিজ্ঞান দ্বিতীয়পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
         ii) বাংলাপিডিয়া।

১,১৫৯.
বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো-
  1. বরেন্দ্র জনপদ
  2. সমতট জনপদ
  3. হরিকেল জনপদ
  4. চন্দ্রদ্বীপ জনপদ
সঠিক উত্তর:
সমতট জনপদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমতট জনপদ
ব্যাখ্যা
• প্রচীন জনপদ:
- প্রাচীনকালে বাংলা নামে কোনো অখণ্ড রাষ্ট্র ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। প্রতিটি অঞ্চলের শাসক নিজেদের মতো শাসন করতো। বাংলার এ অঞ্চলগুলোকে তখন সমষ্টিগতভাবে নাম দেয়া হয় জনপদ। 
• জনপদগুলো হলো:
- গৌড়, বঙ্গ, পুণ্ড্র, হরিকেল, সমতট, বরেন্দ্র, চন্দ্রদ্বীপ, রাঢ়, তাম্রলিপ্ত প্রভৃতি।

• জনপদগুলোর অবস্থান:
- গৌড় জনপদ: বর্তমান চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বীরভূম ও বহরমপুর এলাকায় এটি বিস্তৃত ছিলো।
- বঙ্গ জনপদ: বঙ্গ জনপদ অন্তর্ভুক্ত ছিলো বৃহত্তর ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি, ঢাকা, বরিশাল, ময়মনসিংহের কিছু অংশ।
- পুণ্ড্র জনপদ: বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী প্রভৃতি অঞ্চল নিয়ে এই জনপদটি গঠিত হয়েছিলো।
- বরেন্দ্র জনপদ: বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিলো।
- হরিকেল জনপদ: সিলেট ও চট্টগ্রামের অংশবিশেষ ছিলো।
- চন্দ্রদ্বীপ জনপদ: বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।
- সমতট জনপদ: বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিলো।
- তাম্রলিপ্ত: মেদিনীপুর।

• প্রাচীন জনপদের রাজধানী:
- গৌড় জনপদের রাজধানী - কর্ণসুবর্ণ। 
- সমতট জনপদের রাজধানী - বড়কামতা।
- পুণ্ড্র জনপদের রাজধানী - পুণ্ড্রনগর/পুণ্ড্রবর্ধন।
- রাঢ় জনপদের রাজধানী - কোটিবর্ষ।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি। 
১,১৬০.
গুপ্ত সম্রাটদের শাসন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বিভাগ ছিলো কোনটি?
  1. সুবা
  2. ভুক্তি
  3. মণ্ডল
  4. বীথি
সঠিক উত্তর:
ভুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভুক্তি
ব্যাখ্যা
- গুপ্ত যুগের সম্রাটদের সময় পুরো সাম্রাজ্যকে কত গুলো ভুক্তিতে বিভক্ত করা হতো।
- ভুক্তি আবার কতগুলো মণ্ডলে বিভক্ত ছিলো। মণ্ডলকে বীথিতে এবং বীথিকে গ্রামে।
- ভুক্তি ছিলো সবচেয়ে বড় প্রশাসনিক বিভাগ। ভুক্তি প্রধানকে বলা হতো উপরিক। তাকে সরাসরি সম্রাট নিযুক্ত করতেন।
- সবচেয়ে ছোট প্রশাসনিক বিভাগ ছিলো গ্রাম।
- পাল আমলে সর্বপ্রথম প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান সচিব পদের উল্লেখ পাওয়া যায়।
(তথ্যসূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণী)
১,১৬১.
কনস্টান্টিনোপল বর্তমানে কোন নামে পরিচিত?
  1. ক) বাগদাদ
  2. খ) ইসলামাবাদ
  3. গ) রোম
  4. ঘ) ইস্তাম্বুল
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইস্তাম্বুল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ইস্তাম্বুল
ব্যাখ্যা
ইস্তাম্বুল, পূর্বে কনস্টান্টিনোপল বা প্রাচীন বাইজান্টিয়াম শহর এবং তুরস্কের সমুদ্রবন্দর।
- কৃষ্ণ সাগরের প্রবেশদ্বারে একটি উপদ্বীপে অবস্থিত।
- তুরস্কের বৃহত্তম শহর বসপোরাসের উভয় পাশে অবস্থিত এবং এইভাবে ইউরোপ এবং এশিয়া উভয় স্থানেই অবস্থিত।
- বাইজান্টিয়াম খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতাব্দীতে গ্রীক উপনিবেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
- ৫১২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পারস্য আচেনীয় রাজবংশের কাছে এবং তারপর আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের কাছে, এটি প্রথম শতাব্দীতে রোমানদের অধীনে একটি মুক্ত শহর হয়ে ওঠে।
- সম্রাট প্রথম কনস্টান্টাইন শহরটিকে ৩৩০ সালে পূর্ব রোমান সাম্রাজ্যের আসন বানিয়েছিলেন, পরে এটির নামকরণ করা হয়েছিল কনস্টান্টিনোপল।

উৎস: Britannica.
১,১৬২.
সম্রাট অশোকের রাজত্বকাল ছিল -
  1. খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩-খ্রিস্টপূর্ব ২৩২
  2. খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩-খ্রিস্টপূর্ব ২৬৯
  3. খ্রিস্টপূর্ব ২৭৬-খ্রিস্টপূর্ব ২৩২
  4. খ্রিস্টপূর্ব ২৬৯-খ্রিস্টপূর্ব ২৩৮
সঠিক উত্তর:
খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩-খ্রিস্টপূর্ব ২৩২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ্রিস্টপূর্ব ২৭৩-খ্রিস্টপূর্ব ২৩২
ব্যাখ্যা
সম্রাট অশোক:
- চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের পৌত্র এবং বিম্বিসারের পুত্র অশোক ২৭৩ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
- সিংহাসনে আরোহণের চার বছর পর ২৬৯ খ্রিস্টপূর্বাব্দে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়।
- তিনি তাঁর পূর্বসুরীদের সাম্রাজ্য সম্প্রসারণনীতি অনুসরণ করেন এবং রাজত্বের ত্রয়োদশ বছরে কলিঙ্গ আক্রমণ করে জয় করেন।
- এ যুদ্ধের পর তিনি বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করেন।
- তিনি মৌর্য সম্রাটদের চিরাচরিত দ্বিগ্বিজয় নীতি পরিত্যাগ করে ঘোষণা করেন তাঁর পুত্র, প্রপৌত্র কেউই ভবিষ্যতে আর যুদ্ধ করবে না।
- সামরিক বিজয়ের পরিবর্তে ধর্ম বিজয় অর্থাৎ সৌহার্দ্য, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের মাধ্যমে অপরের প্রীতি অর্জনকেই প্রকৃত বিজয় বলে তিনি মনেপ্রাণে গ্রহণ করেন।
- তিনি অনেক জনহিতকর কাজ করেন।
- বৌদ্ধ ধর্মের মূলনীতির সঙ্গে পার্থক্যের দরুন পন্ডিতরা মনে করেন যে, অশোকের প্রচারিত ধর্মের মূল বিষয় ছিল গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, জীবে দয়া, সত্যবাদিতা ইত্যাদি।
- প্রায় ৪০ বছর রাজত্বের পর ২৩২ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মহামতি অশোক মৃত্যুবরণ করেন।

উৎস: ইতিহাস, এস এস এইচ এল, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৩.
চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন-সাং এর দীক্ষাগুরু কে ছিলেন?
  1. মেগাস্থিনিস
  2. অতীশ দিপঙ্কর
  3. শিলভদ্র
  4. মা হুয়ান
সঠিক উত্তর:
শিলভদ্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শিলভদ্র
ব্যাখ্যা
হিউয়েন-সাং:
- একজন বিখ্যাত চীনা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রী।
- তিনি ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে ভারতের উদ্দেশ্যে চীন থেকে যাত্রা শুরু করেন।
- ভারতে তিনি প্রায় পনের বছর অতিবাহিত করেন।
- এর অনেকটা সময় তিনি বিহারে অবস্থিত প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত বৌদ্ধ শিক্ষাকেন্দ্র নালন্দা মহাবিহারে অতিবাহিত করেন।
- হিউয়েন-সাং এর দীক্ষাগুরু ছিলেন শিলভদ্র।
- তখন নালন্দা বিহারের অধ্যক্ষ ছিলেন বাঙালি বৌদ্ধ পন্ডিত শীলভদ্র।
- হিউয়েন-সাং শীলভদ্রের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেন।
- হিউয়েন-সাং বাংলায় আসেন ৬৩৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে।
- ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন-সাং চীনে ফিরে যান।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৪.
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় -
  1. ১৬২০ সালে
  2. ১৬১৫ সালে
  3. ১৬১০ সালে
  4. ১৬০০ সালে
সঠিক উত্তর:
১৬০০ সালে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬০০ সালে
ব্যাখ্যা
ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি:
- ব্রিটেনের রানী প্রথম এলিজাবেথের নিকট থেকে প্রাপ্ত সনদের মাধ্যমে ১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
- ১৬১২ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের অনুমতি নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রথম সুরাটে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ১৭০০ সালে কলকাতায় ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ স্থাপন করে।
- ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশী যুদ্ধে জয়লাভের মাধ্যমে বাংলা তথা ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন শুরু হয় এবং ১৮৫৮ সাল পর্যন্ত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত শাসন করে। এরপর ভারতের শাসনভার ব্রিটিশ সরকার নিজে নিয়ে নেয়।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : নবম-দশম শ্রেণি এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৬৫.
ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান নির্মাণ করেন কে?
  1. ক) হাম্বুরাবি
  2. খ) ইখনাটন
  3. গ) নেবুচাদনেজার
  4. ঘ) ডেরিয়াস
সঠিক উত্তর:
গ) নেবুচাদনেজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) নেবুচাদনেজার
ব্যাখ্যা
খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে অ্যাসেরীয়দের পরাজিত করে নেবুচাদনেজার নব্য ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। তিনি তার রাণীর সন্তুষ্টির জন্যে ব্যাবিলন নগরের দেয়ালের উপর এক মনোরম উদ্যান নির্মাণ করেন যা ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যান নামে পরিচিত।
(সূত্রঃ উচ্চ মাধ্যমিক ইসলামের ইতিহাস ১মপত্র : উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়)
১,১৬৬.
বাংলাদেশের কোন এলাকা থেকে বিখ্যাত 'গ্রান্ড ট্রাঙ্ক' রোডটি শুরু হয়েছে?
  1. ক) সোনারগাঁও
  2. খ) কুমিল্লা
  3. গ) যশোর
  4. ঘ) মানিকগঞ্জ
সঠিক উত্তর:
ক) সোনারগাঁও
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সোনারগাঁও
ব্যাখ্যা

- শের শাহের গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে পাকিস্তানের সিন্ধু নদ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
- তিনি এ পথে গমনকারী পথচারীদের সুবিধার জন্য রাস্তার উভয় পার্শ্বে বৃক্ষরোপণ ও সরাইখানা স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

- এছাড়াও শেরশাহ ‘ঘোড়ার ডাক’ এবং কবুলিয়ত ও পাট্টা প্রথার প্রচলন করেন।]
- তিনি ‘দাম’ নামক রূপার মুদ্রার প্রচলন করেন।

উৎস: বাংলাপিডিয়া।

১,১৬৭.
চৈনিক পর্যটক মা-হুয়ান কার শাসনামলে বাংলায় ভ্রমণ করেন?
  1. ইলিয়াস শাহ
  2. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  3. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
  4. হর্ষবর্ধন
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
ব্যাখ্যা

চৈনিক পর্যটক মা-হুয়ান:
- মা হুয়ান  চৈনিক পরিব্রাজক।
- জেং হি (চেং হো)-র ভারত মহাসাগরে অভিযাত্রায় সফরসঙ্গী চার প্রধান কর্মকর্তার মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। 
- তিনি গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ-এর শাসনামলে বাংলায় ভ্রমণ করেন।

• গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং তিনি চীনে বিশেষ দূত প্রেরণ করেন। চীন সম্রাট ইয়াং লু'র সাথে তিনি দূত বিনিময় করেন।
- বাংলা থেকে ১৪০৫, ১৪০৮ ও ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দে চীন সম্রাটের দরবারে প্রতিনিধি দল প্রেরণ করা হয়, প্রত্যুত্তরে চীন সম্রাটও ১৪১১ খ্রিস্টাব্দে প্রখ্যাত চৈনিক দোভাষী মাহুয়ান-এর নেতৃত্বে একটি চীনা প্রতিনিধি দল বাংলায় প্রেরণ করেন।
- মাহুয়ান তাঁর বর্ণনায় বাংলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে যেসব বর্ণনা দিয়েছেন তা বাংলার ইতিহাসের এক নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বিবেচিত।

উল্লেখ্য,
- খ্রিস্টীয় প্রথম শতকে এসেছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ কৌটিল্য (তার আরেক নাম চাণক্য)। 
- আনুমানিক খ্রিস্টীয় ৩৯৯ অব্দে দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের আমলে পায়ে হেঁটে বাংলা ভ্রমণে আসেন চীন দেশের ফা হিয়েন।
- হিউয়েন সাং একাধারে একজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী, পর্যটক এবং অনুবাদক ছিলেন। হর্ষবর্ধনের আমলে ৬৩০-৬৪০ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে চীনের এই পরিব্রাজক বাংলা ভ্রমণ করেন।
- সপ্তম শতকে  বাংলায় আসেন আরেক চীনা নাগরিক ‘ইৎ-সিং’। 
- ১৩৪৬ খ্রিস্টাব্দে ইবনে বতুতা বাংলা ভ্রমণে আসেন।
- বঙ্গের সুলতান জালালউদ্দিন মুহাম্মদের শাসনামলে চীনা পর্যটক ফেই-সিন বাংলা ভ্রমণে আসেন।
- আনুমানিক ১৬৫৫ সালে ইতালীর নিকোলা মানুচ্চি বাংলায় এসেছিলেন। 

উৎস: i) বাংলাপিডিয়া।
ii) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৬৮.
প্রাচীন কোন জনপদের অবস্থান বাংলাদেশের বাইরে ছিল?
  1. পুণ্ড্র
  2. হরিকেল
  3. রাঢ়
  4. বরেন্দ্র
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রাঢ়
ব্যাখ্যা
প্রাচীন রাঢ় জনপদের অবস্থান বাংলাদেশের বাইরে ছিল।

রাঢ় জনপদ:
- রাঢ় জনপদ বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি বড় অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

- রাঢ় বলতে পশ্চিম বাংলার দক্ষিণাঞ্চলকেই বুঝানো হতো।
- এটি গঙ্গা নদীর দক্ষিণ ও পশ্চিম ভাগে সীমাবদ্ধ ছিল।
- রাঢ় জনপদটি ২টি অংশে বিভক্ত ছিল।
- দক্ষিণ রাঢ় এবং উত্তর রাঢ় নিয়ে ছিল রাঢ় জনপদ।
- এই উত্তর ও দক্ষিণ রাঢ়ই ছিল যথাক্রমে বজ্রভূমি ও সূহ্মভূমি।
- রাঢ়ের প্রধান নগর বা রাজধানী ছিল কোটিবর্ষ।
- অনেক ঐতিহাসিক মেদিনীপুর জেলার পূর্বপ্রান্ত অবস্থিত আধুনিক তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্ত বলে চিহ্নিত করেছেন।
- বৌদ্ধ পুঁথি ও বিদেশী পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, তৎকালে তাম্রলিপ্তি একটি বিখ্যাত নৌ-বাণিজ্য বন্দর ছিল।
- শুধু বাংলা নয় এটি প্রাচীন ভারতেরও পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বন্দর।

অন্যদিকে,
- বাংলার সর্বপ্রাচীন জনপদ হলাে পুণ্ড্র। বগুড়া, রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলার অবস্থানভূমিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পুণ্ড্র জনপদ।
- চট্টগ্রাম ও সিলেট প্রাচীন বাংলার হরিকেল জনপদের অংশ ছিল।
- বরেন্দ্র জনপদ: রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর এবং ভারতের মালদহ, মুর্শিদাবাদের কিছু অংশ, দার্জিলিং ও কোচবিহার এক সময় এ জনপদের আওতায় ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৬৯.
’দিনাজপুর’ প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের অন্তর্গত ছিলো?
  1. সমতট
  2. পুণ্ড্র
  3. হরিকেল
  4. বঙ্গ
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুণ্ড্র
ব্যাখ্যা
পুণ্ড্র জনপদ:
- পুণ্ড্র শব্দের অর্থ আখ বা ইক্ষু। প্রাচীন বাংলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ ছিল পুণ্ড্র, যা সম্ভবত পুণ্ড্র নামক এক জনগোষ্ঠী গড়ে তুলেছিল।
- এই জনপদটি বর্তমান বাংলাদেশের বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর এলাকা নিয়ে গঠিত ছিল।
- এর রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর, যা পরে মহাস্থানগড় নামে পরিচিত হয়।
- মহাস্থানগড়কে পুণ্ড্রনগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে মনে করা হয়।

- পুণ্ড্র ছিল প্রাচীন বাংলার অন্যতম সমৃদ্ধ নগরসভ্যতা।
- এখানে পাথরের চাকতিতে খোদাই করা একটি ব্রাহ্মীলিপি পাওয়া গেছে, যার নাম মহাস্থান ব্রাহ্মীলিপি।
- ধারণা করা হয়, এটি বাংলাদেশে পাওয়া সবচেয়ে প্রাচীন শিলালিপি।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম ও দশম শ্রেণি।
১,১৭০.
কোন বাংলার প্রাচীন জনপদ নাম সমতট নামে পরিচিত?
  1. উত্তর-পূর্ব
  2. দক্ষিণ-পশ্চিম
  3. দক্ষিণ-পূর্ব
  4. উত্তর-পশ্চিম
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পূর্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দক্ষিণ-পূর্ব
ব্যাখ্যা
• সমতট:
- পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রাচীন জনপদের নাম সমতট।
- প্রাচীন বঙ্গরাজ্যের দক্ষিণ-পূর্ব অংশের নতুন নামের আর একটি বিশাল রাজ্য।
- মধ্যবাংলার কিছু অংশ এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কিছু অংশ, বাংলাদেশের বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল সমতট নামে পরিচিত ছিল।
- তবে ত্রিপুরাকে সমতটের প্রধান কেন্দ্র বলা হতো।
- রাজা রাজভট্টের (৭ম শতকে) অন্যতম রাজধানী ছিল বড়োকামতা।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বিবিএস প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭১.
উপমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন কোন যুগের সম্রাটগণ?
  1. কুষাণ
  2. গুপ্ত
  3. মৌর্য
  4. শুঙ্গ
সঠিক উত্তর:
কুষাণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুষাণ
ব্যাখ্যা

কুষাণ যুগ:
- উমহাদেশে প্রথম স্বর্ণমুদ্রা চালু করেন কুষাণ সম্রাটগণ।
- কুষাণ সম্রাট বীম কদফিসেসই সম্ভবত সর্বপ্রথম স্বর্ণমুদ্রা প্রবর্তন করেন যেখানে মুদ্রার উপরিপৃষ্ঠে বেদিতে যজ্ঞরত রাজার প্রতিকৃতি উৎকীর্ণ রয়েছে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, এই বিশেষ প্রতিকৃতি পার্থিয়ান রাজা গোটার্জেসের স্বর্ণমুদ্রার নকশা দ্বারা প্রভাবিত।
- তবে পরবর্তীকালের কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক ও হুবিষ্ক তাদের স্বর্ণ মুদ্রায় বিভিন্ন ধরনের নকশা ও প্রতীক ব্যবহার করেছেন যেগুলো আলাদাভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
- ভারতের অন্যান্য স্থানে কুষাণ শাসনের সাথে সংশিষ্ট মুদ্রা আর বাংলায় প্রাপ্ত কুষাণ মুদ্রার অবস্থানগত পার্থক্য রয়েছে।
- বিশেষত, বাংলা সরাসরি কুষাণ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
- তবুও বাংলা থেকে অগণিত কুষাণ-মুদ্রা আবিষ্কৃত হয়েছে যেগুলোর প্রকৃত গুরুত্ব অনুধাবন করা কষ্টকর।
- প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকগণ  ধারণা করেন, খুব সম্ভবত এই মদ্রুাগুলো বাংলায় এসেছে বাণিজ্যিক কারণে বিভিন্ন বণিকের হাত ধরে।
- প্রত্নতাত্ত্বিকগণ বাংলার বিভিন্ন প্রত্নস্থান থেকে কুষাণ সম্রাট কনিষ্ক, হুবিষ্ক ছাড়াও মহানাদ কুষাণ, প্রথম বাসুদেব ও দ্বিতীয় বাসুদেবের স্বর্ণমুদ্রা আবিষ্কার করেছেন।
- এই মুদ্রাগুলোর প্রাপ্তি থেকে বাংলাদেশে সরাসরি কুষাণ শাসনের কথা চিহ্নিত করা না গেলেও ধারণা করা হয়, বাংলাদেশের
রাজনৈতিক কাঠামোতে কুষাণদের হস্তক্ষেপ থাকতে পারে।
- লিপিমালা ও আনুসাঙ্গিক তথ্যের অপ্রতুলতায় মৌর্যযুগ পরবর্তীকালের বাংলাদেশের ইতিহাস অনেকটাই ধোঁয়াশাচ্ছন্ন।
- বিশেষ করে একটিমাত্র শুঙ্গানুকৃতির টেরাকোটা আর কিছু কুষাণ মুদ্রার সূত্র ধরে এই সময়ের ইতিহাস নির্মাণ অনেক কঠিন।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,১৭২.
নাসিরাবাদের বর্তমান নাম কি?
  1. ক) ময়মনসিংহ
  2. খ) জাহাঙ্গীরনগর
  3. গ) বরিশাল
  4. ঘ) চট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর:
ক) ময়মনসিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ময়মনসিংহ
ব্যাখ্যা
মোগল আমলে মোমেনশাহ নামে একজন সাধক ছিলেন, তাঁর নামেই মধ্যযুগে অঞ্চলটির নাম হয় মোমেনশাহী।
ষোড়শ শতাব্দীতে বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহ তাঁর পুত্র সৈয়দ নাসির উদ্দিন নসরত শাহ'র জন্য এ অঞ্চলে একটি নতুন রাজ্য গঠন করেছিলেন, সেই থেকেই নসরতশাহী বা নাসিরাবাদ নামের সৃষ্টি।
নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন হয়ে ময়মনসিংহ হয় একটি ভুলের কারণে।
বিশ টিন কেরোসিন বুক করা হয়েছিল বর্জনলাল এন্ড কোম্পানীর পক্ষ থেকে নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে।
এই মাল চলে যায় রাজপুতনার নাসিরাবাদ রেল স্টেশনে। এ নিয়ে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পরবর্তীতে আরো কিছু বিভ্রান্তি ঘটায় রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে ময়মনসিংহ রাখা হয়। সেই থেকে নাসিরাবাদের পরিবর্তে ময়মনসিংহ ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

উৎসঃ ময়মনসিংহ জেলার সরকারি ওয়েবসাইট
১,১৭৩.
চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র ছিল কোথায়?
  1. সোমপুর বিহার
  2. মহাস্থানগড়
  3. লালমাই পাহাড়
  4. বরেন্দ্রভূমি
সঠিক উত্তর:
লালমাই পাহাড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালমাই পাহাড়
ব্যাখ্যা
চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার লালমাই পাহাড়।

চন্দ্র রাজবংশ:

- পূর্ব ও দক্ষিণ বাংলায় সবচেয়ে শক্তিধর রাজবংশ হচ্ছে চন্দ্রবংশ।
- খ্রিস্টীয় দশম শতকের শুরুতেই চন্দ্রবংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- প্রায় দেড়শ বছর এই বংশ শাসনকার্য পরিচালনা করে।
- চন্দ্র রাজাদের মূল কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার লালমাই পাহাড়।
- কুমিল্লার লালমাই পাহাড়কে সে যুগে বলা হতো রোহিতাগিরি।
- চন্দ্রবংশের রাজাদের ধর্মও ছিল বৌদ্ধ।

উল্লেখ্য,
⇒ এই বংশের প্রথম শক্তিধর রাজার নাম ত্রৈলোক্যচন্দ্র।
- তিনি মহারাজাধিরাজ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন।
- শক্তিধর ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল ও চন্দ্রদ্বীপ দখল করেছিলেন।
- একে একে তাঁর অধিকারে আসে বঙ্গ ও সমতট।
- ত্রৈলোক্যচন্দ্র প্রায় ত্রিশ বছর শাসন করেন।

⇒ পিতার মৃত্যুর পর রাজা হন শ্রীচন্দ্র।
- শ্রীচন্দ্র বংশের গৌরব আরও বৃদ্ধি করেন।
- তিনি বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে রাজধানী গড়ে তোলেন।
- তাঁর উপাধি ছিল 'পরমেশ্বর' 'পরম ভট্টারক' 'মহারাজাধিরাজ'।
- শ্রীচন্দ্র প্রায় পয়তাল্লিশ বছর রাজত্ব করেন।

⇒ এর পর সিংহাসনে বসেন শ্রীচন্দ্রের পুত্র কল্যাণচন্দ্র।
- কল্যাণচন্দ্রের পুত্র লড়হচন্দ্রের রাজত্বকালেও এই গৌরব ম্লান হয়নি।
- শেষ চন্দ্ররাজা ছিলেন গৌবিন্দচন্দ্র।
- তিনি লড়হচন্দ্রের পুত্র।
- তাঁর রাজত্বকালে বাইরের আক্রমণের আঘাত আসে।
- চোল সম্রাট রাজেন্দ্রচোল ও কলচুরিরাজ কর্ণ বঙ্গ আক্রমণ করলে চন্দ্রবংশের পতন হয়।

উৎস: ইতিহাস, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৪.
শালবন বিহার কোন রাজবংশের কীর্তি?
  1. দেব
  2. রাঢ়
  3. পাল
  4. চন্দ্র
সঠিক উত্তর:
দেব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেব
ব্যাখ্যা
• শালবন বৌদ্ধ বিহার:
- শালবন বৌদ্ধ বিহার বাংলাদেশের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনগুলোর মধ্যে অন্যতম।
- কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি প্রত্নস্থলের অসংখ্য প্রাচীন স্থাপনাগুলোর একটি এই বৌদ্ধ বিহার।
- এতে ৭ম-১২শ শতকের প্রত্নতাত্বিক নিদর্শন পাওয়া যায়।
- শালবন বৌদ্ধ বিহার দেব বংশের কীর্তি।

• নির্মাণ:
- ধারণা করা হয় যে খৃষ্টীয় সপ্তম শতাব্দীর শেষ থেকে অষ্টম শতাব্দীর প্রথম ভাগে দেববংশের চতুর্থ রাজা শ্রীভবদেব এ বৌদ্ধ বিহারটি নির্মাণ করেন।
- শালবন বিহারের ছয়টি নির্মাণ ও পুনঃনির্মাণ পর্বের কথা জানা যায়।
- খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে কেন্দ্রীয় মন্দিরটি নির্মাণ করা হয় ও বিহারটির সার্বিক সংস্কার হয় বলে অনুমান করা হয়।
- চতুর্থ ও পঞ্চম পর্যায়ের নির্মাণকাজ ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন হয় নবম-দশম শতাব্দীতে।

সূত্র: কুমিল্লা জেলার ওয়েবসাইট।
১,১৭৫.
প্রাচীন 'হরিকেল জনপদটি' কোন কোন বিভাগ সমন্বয়ে গঠিত?
  1. রাজশাহী ও রংপুর  
  2. চট্টগ্রাম ও সিলেট 
  3. রাজশাহী ও খুলনা
  4. খুলনা ও ঢাকা
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম ও সিলেট 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম ও সিলেট 
ব্যাখ্যা

→ প্রাচীন 'হরিকেল জনপদটি' চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ সমন্বয়ে গঠিত।

♦ প্রাচীন জনপদ:
- প্রাচীন যুগে বাংলা বিভিন্ন জনপদে বিভক্ত ছিল এবং এই জনপদবাসীরাই স্ব-স্ব জনপদের নামেই পরিচিতি লাভ করে।
- প্রাচীন কাল থেকে আরম্ভ করে আনুমানিক ষষ্ঠ ও সপ্তম শতক পর্যন্ত প্রাচীন বাংলা – বরেন্দ্র, পুন্ড্র, গৌড়, রাঢ়, সুহ্ম, তাম্রলিপ্ত, সমতট, বঙ্গ, চন্দ্রদ্বীপ ইত্যাদি জনপদে বিভক্ত ছিলো।
- এই জনপদগুলো স্বতন্ত্র ও পৃথক, মাঝে মাঝে বিরোধ মিলনে একের সাথে অন্যের যোগাযোগের বিষয়টি লক্ষ করা যায় ৷

♦ হরিকেল:
- হরিকেল জনপদের কথা প্রথম জানা যায় প্রথম শতকের চট্টগ্রামে প্রাপ্ত লিপিতে।
- চন্দ্রবংশীয় লিপিতেও হরিকেল রাজ্যের কথা উল্লেখ আছে।
- হরিকেল জনপদ আধুনিক সিলেট থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত দুটি প্রাচীন গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিতে হরিকোল (হরিকেল) ও বর্তমান সিলেট বিভাগ অভিন্ন উলিণ্ঢখিত হয়েছে।
- বাংলাদেশের প্রাচীন জনপদগুলোর সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, জনপদগুলোর নির্দিষ্ট সীমারেখা নির্ণয় করা বা যুগে যুগে তাদের সীমার বিস্তার ও সংকোচনের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা দুরূহ কাজ।
- হরিকেল প্রাচীন পূর্ববঙ্গের একটি জনপদ।

♦ অন্যান্য জনপদের অবস্থান:
● পুণ্ড্র:
- প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল বাংলার সবচেয়ে প্রাচীন ও সমৃদ্ধ জনপদ।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান - বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল ।

● বঙ্গ:
- বৃহত্তর ফরিদপুর, বিক্রমপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি নিয়ে ‘বঙ্গ’ জনপদ গঠিত হয়েছিল।
- এই অঞ্চলে বসবাসকারী ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী থেকে ‘বঙ্গ' নামের উৎপত্তি ঘটেছে বলে ধারণা করা হয় ৷

● গৌড়:
- বৃহত্তর রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহীর অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত ছিল।

● রাঢ়:
- রাঢ় জনপদের অবস্থান ছিলো বর্তমান পশ্চিমবঙ্গে।

● সমতট:
- বর্তমান বৃহত্তর নোয়াখালী ও কুমিল্লা অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত ছিল।

● বরেন্দ্র:
- বর্তমান রাজশাহী, রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চল জুড়ে বিরাজমান ছিল।

● চন্দ্ৰদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল অঞ্চলে চন্দ্রদ্বীপ নামক একটি জনপদের সৃষ্টি হয়েছিল। এ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত।

● তাম্রলিপ্ত:
- বর্তমান ভারতের মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র। সপ্তম শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।

তথ্যসূত্র -
i) বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
ii) বাংলাপিডিয়া।
iii) প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ওয়েবসাইট।

১,১৭৬.
বর্তমানের কোন জেলা প্রাচীন জনপদ চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র ছিল?
  1. চট্টগ্রাম
  2. সিলেট
  3. বরিশাল
  4. কুষ্টিয়া
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বরিশাল
ব্যাখ্যা
চন্দ্রদ্বীপ:
- বর্তমান বরিশাল জেলা ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
- এ প্রাচীন জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
- চন্দ্রদ্বীপ নামের আগে এ অঞ্চলটির নাম ছিল ‘বাকলা’।
- চন্দ্রদ্বীপের রাজধানী ছিল কচুয়া।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি।
১,১৭৭.
মোঘল সাম্রাজ্যের সর্বশেষ সম্রাট কে ছিলেন?
  1. জহিরউদ্দিন বাবর
  2. দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর
  3. শাহ আলম
  4. ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর
ব্যাখ্যা
মোগল সাম্রাজ্যের পতন:
- ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে সম্রাট জহিরউদ্দিন বাবর কর্তৃক ভারতবর্ষে মোগল বংশের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
- পরবর্তীতে তার উত্তরসূরীরা এটিকে সর্বভারতীয় সাম্রাজ্যে রুপান্তরিত করে।
- বাবর থেকে আওরঙ্গজেব অর্থাৎ ১৫২৬ থেকে ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মোগল শাসন ছিল স্বর্ণযুগের শাসন।
- ১৭০৭ খ্রিস্টাব্দে আওরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর মোগল শাসনের পতনে প্রক্রিয়া শুরু হয়।
- ১৮৫৭ সালে শেষ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফর ইংরেজ কর্তৃক নির্বাসিত হলে মোগল শাসনের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি হয়।
- তাই ১৭০৭ থেকে ১৮৫৭ সময় কালকে (প্রায় দেড়শ বছর) মোগল বংশের পতনের যুগ বলা হয়।
- সামগ্রিকভাবে মোগল সাম্রাজ্য পতনের জন্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বহিঃআক্রমন প্রভৃতি বিষয়কে দায়ী করা হয়।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৮.
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কত সালে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে?
  1. ক) ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে
  2. খ) ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে
  3. গ) ১৬২১ খ্রিস্টাব্দে
  4. ঘ) ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে
ব্যাখ্যা
ইংরেজ আগমন:

- ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬১২ খ্রিস্টাব্দে প্রথম বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
- প্রাচ্যের ধন সম্পদের প্রাচুর্য অন্যান্য ইউরোপীয় বণিকদের মতো ইংরেজ বণিকদেরকেও এ অঞ্চলে ব্যবসা বাণিজ্যে উৎসাহিত করে।
- ইংল্যান্ডের একদল বণিক ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' নামে একটি বণিক সংঘ গঠন করে।
- এই সংঘটি ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে রাণী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৫ বছর মেয়াদি একচেটিয়া বাণিজ্য করার সনদপত্র লাভ করে।
- স্বল্প সময়ের মধ্যে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সুরাট, আগ্রা, আহমদাবাদ, মসলিপট্টমে বাণিজ্যকুঠি স্থাপন করে এদেশে তাদের ভিত্তি মজবুত করে ফেলে।
- বাংলার সুবেদার শাহ সুজার অনুমতি নিয়ে ১৬৫৮ খ্রিস্টাব্দে হুগলিতে একটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা,এসএসসি প্রোগ্রাম,বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৭৯.
কোন শাসকের আবির্ভাবে মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটে?
  1. শশাঙ্ক
  2. ধর্মপাল
  3. অশোক
  4. গোপাল
সঠিক উত্তর:
গোপাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোপাল
ব্যাখ্যা
মাৎস্যন্যায় ও গোপালের উত্থান:
- শশাঙ্কের পর সপ্তম শতকের মাঝামাঝি থেকে অষ্টম শতক পর্যন্ত বাংলায় বিরাজ করছিল এক অন্ধকার যুগ। বাংলার ইতিহাসে এই সময়টি ‘মাৎস্যন্যায়' নামে খ্যাত।
- মাৎস্যন্যায় একটি সংস্কৃত শব্দ যার অর্থ হল অরাজক পরিস্থিতি।
- অরাজকতা এবং রাষ্ট্রহীনতার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল শত বছরের হানাহানির অবসান ঘটে যখন গোপাল রাজা হলেন।
- শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলা যেন পরিণত হয়েছিল মাছের রাজ্যে।
- শাসকের অভাবে সবল অত্যাচার করে দুর্বলের ওপর।
- মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কে মায়া, মমতা, সৌহার্দ্যের যে স্থান তা দখল করে নেয় হিংসা ও দ্বেষ। লামা তারানাথ লিখেছেন, সমগ্র দেশের কোনো রাজা ছিল না।
- এক চরম অরাজক পরিস্থিতিতে বাংলার ইতিহাসে অনেকটা ধূমকেতুর মতো গোপালের আবির্ভাব হয়।
- মাৎস্যন্যায়ের অবসান ঘটান গোপাল।
- খালিমপুর তাম্রশাসনের বলা হয়েছে যে, মাৎস্যন্যায় দূর করার অভিপ্রায়ে প্রকৃতিগণ গোপালকে রাজা নির্বাচন করেছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮০.
পুন্ড্রনগর কোন নদীর তীরে অবস্থিত?
  1. ব্রহ্মপুত্র
  2. করতোয়া
  3. মহানন্দা
  4. বাঙ্গালী নদী
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
করতোয়া
ব্যাখ্যা

পুন্ড্রনগর:
- এটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম নগরকেন্দ্র।
- 'পুন্ড্র' বাংলার প্রাচীনতম জনপদ।
- পুন্ড্র ‘জন’ বা জাতি এ জনপদ গঠন করেছিল। পুন্ড্ররা বঙ্গসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিকটজন ছিল।
- পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
- বর্তমান বগুড়া শহরের অদূরে করতোয়া নদীর তীরে পুন্ড্রনগর অবস্থিত।
- পরবর্তী কালে এর নাম মহস্থানগড় হয়।
- সম্ভবত মৌর্য সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে (খ্রি. পু. ২৭৩-২৩২ অব্দ) প্রাচীন পুন্ড্র রাজ্য স্বাধীনসত্তা হারায়।
- এ রাজ্যের বিস্তৃতি বর্তমান বগুড়া, রংপুর ও দিনাজপুর পর্যন্ত ছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেনি এবং বাংলাপিডিয়া।

১,১৮১.
গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা বলা হয় -
  1. ক) ভানুগুপ্তকে
  2. খ) দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তকে
  3. গ) সমুদ্র গুপ্তকে
  4. ঘ) প্রথম চন্দ্রগুপ্তকে
সঠিক উত্তর:
গ) সমুদ্র গুপ্তকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সমুদ্র গুপ্তকে
ব্যাখ্যা
• সমুদ্রগুপ্ত ছিলেন গুপ্ত বংশের শ্রেষ্ঠ রাজা।
• চন্দ্রগুপ্তের মৃত্যুর পর সমুদ্রগুপ্ত পাটালিপুত্রের সিংহাসনে বসেন।
•তাঁকে প্রাচীন ভারতের নেপোলিয়ান বলা হয়। তার রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা জয় করা হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল।

উৎস: ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮২.
সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করা হয় কত সালে?
  1. ১৬১০ সাল
  2. ১৯০৫ সাল
  3. ১৯১১ সাল
  4. ১৯৪৯ সাল
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
১৬১০ সাল
ব্যাখ্যা

- ১৬১০ সালের ১৬ জুলাই সুবাদার ইসলাম খান চিশতী সর্বপ্রথম ঢাকাকে বাংলার রাজধানী করেন এবং নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর।
- এই নাম সম্রাট জীবিত থাকা পর্যন্ত বহাল ছিল।
-এরপর ১৬৫০ সালে সুবাদার শাহ সুজা পুনরায় বাংলার রাজধানী বিহারের রাজমহলে নিয়ে যান।
-কিন্তু ১৬৬০ সালে মীর জুমলা পুনরায় ঢাকায় রাজধানী স্থানান্তর করেন যা ১৭১৭ সাল পর্যন্ত বজায় ছিল।
-১৭১৭ সালে মুর্শিদকুলি খান বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন।
- পরবর্তী ১৯০৫ থেকে ১৯১১ এবং ১৯৪৭ সাল থেকে ঢাকা বাংলার রাজধানী হিসেবে ছিলো।
-১৯৭১ সাল থেকে ঢাকা স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী।

উৎস: ঢাকা জেলা ওয়েবসাইট

১,১৮৩.
কোন শাসকের এলাহাবাদ লিপিতে সমতটের উল্লেখ পাওয়া যায়?
  1. সমুদ্রগুপ্ত
  2. হর্ষবর্ধন
  3. চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য
  4. কনিষ্ক
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রগুপ্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদ্রগুপ্ত
ব্যাখ্যা

সমতট:
- দক্ষিণ পূর্ব বাংলার জনপদ সমতট নামটি বর্ণনামূলক এবং এর অর্থ তটের সমান্তরাল।
- চতুর্থ শতকের সম্রাট সমুদ্রগুপ্তের এলাহাবাদ লিপিতে তাঁর রাজ্যের পূর্ব সীমায় সমতটের উল্লেখ রয়েছে।
- কালিদাসের রঘুবংশ কাব্যের মাধ্যমে জানা যায় যে, সমতট বঙ্গের পূর্বে অবস্থিত ছিল।
- সপ্তম শতকে সমতটে এসেছিলেন হিউয়েন সাঙ।
- তিনি বৌদ্ধ সংস্কৃতির বিদ্যমান অবস্থার যে বর্ণনা রেখে গেছেন তা থেকে বোঝা যায় যে, কুমিল্লার লালমাই অঞ্চলই সমতট।
- মূলত মেঘনা-পূর্ববতী অঞ্চলই সমতট বলে পরিচিত ছিল এবং এ অঞ্চলের কেন্দ্র ছিল কুমিল্লার নিকটবর্তী ‘লালমাই’ এলাকা।
- একেবারে সঠিকভাবে সমতটের সীমা নির্ধারণ না করা গেলেও ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ও নোয়াখালী অঞ্চলই ছিল সম্ভবত প্রাচীন সমতট।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (এসএসসি প্রোগ্রাম), বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

১,১৮৪.
বখতিয়ার খিলজি কত শতকে বাংলা আক্রমণ করেন?
  1. বার শতকের প্রথম দিকে
  2. তের শতকের শেষের দিকে
  3. তের শতকের প্রথম দিকে
  4. বার শতকের শেষের দিকে
সঠিক উত্তর:
তের শতকের প্রথম দিকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তের শতকের প্রথম দিকে
ব্যাখ্যা
• তের শতকের প্রথম দিকে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন। 

- তের শতকের প্রথম দিকে, সম্ভবত ১২০৪ সালে বখতিয়ার খিলজি বাংলা আক্রমণ করেন।
- লক্ষ্মণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন, দুর্বল লক্ষ্মণ সেন কোনো প্রতিরোধ না করে নদীপথে দক্ষিণপূর্ব বাংলায় চলে যান।
- এর ফলে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম বাংলা বখতিয়ার অধিকার করেন এবং লক্ষ্মণাবতীকে (গৌড়) কেন্দ্র করে বাংলায় মুসলিম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।
- লক্ষ্মণ সেনের নদীয়া ত্যাগের মাধ্যমেই বাংলায় হিন্দুশাসনের পতন হয়েছিল বলে ধরা হলেও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় লক্ষ্মণ সেন আরও কয়েক বছর রাজত্ব করেন ।
- লক্ষ্মণ সেন একজন বিদ্বান ও কবি ছিলেন।
- তিনি বল্লাল সেনের অসমাপ্ত অদ্ভুতসাগর সমাপ্ত করেছিলেন। 

সূত্র: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা (৯ম-১০ম শ্রেণি), বাংলাদেশ উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৫.
বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা -
  1. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
  2. ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খলজি
  3. আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ
  4. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ্‌
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ব্যাখ্যা
• ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ বাংলায় প্রথম স্বাধীন মুসলিম সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা।

ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ:
- ফখরুদ্দীন ছিলেন জাতিতে তুর্কি।
- ১৩৩৭ খ্রিস্টাব্দে বাহরাম খানের মৃত্যুর পর ফখরুদ্দীন সোনারগাঁয়ে শাসন ক্ষমতা করায়ত্ত করেন।
- স্বীয় অবস্থান সুদৃঢ় করে ১৩৩৮ খ্রিস্টাব্দে নিজেকে স্বাধীন সুলতান ঘোষণা করেন।
- তাঁর রাজধানী ছিল ঐতিহাসিক নগর সোনারগাঁয়ে।
- ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের রাজত্বকালে ১৩৪৬ সালে মরক্কোর পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলায় সফর করেন।
- তিনি বাংলায় তার ভ্রমণের এক মূল্যবান বিবরণ লিপিবদ্ধ করে যান।
- এ বিবরণে বাংলার প্রাকৃতিক দৃশ্য, অধিবাসীদের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং দেশের সমৃদ্ধির প্রাণবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়।

তথ্যসূত্র - বাংলাপিডিয়া।
১,১৮৬.
প্রাচীন বঙ্গ রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিলো না কোন জেলা?
  1. চট্টগ্রাম
  2. ঢাকা
  3. ফরিদপুর
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চট্টগ্রাম
ব্যাখ্যা
চট্টগ্রাম প্রাচীন হরিকেল জনপদের অন্তর্গত ছিলো।

বঙ্গ জনপদ:

- বঙ্গ জনপদ বিস্তৃত ছিল- ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল অঞ্চল নিয়ে।
- বঙ্গ অত্যন্ত প্রাচীন জনপদ। সম্ভবত আর্যযুগের আগে বা শুরুতে (খ্রি. পূ. ১৫০০-৬০০) বঙ্গ জাতি এ ভূখন্ডের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে জনপদ-রাষ্ট্র তৈরি করে।
- মহাভারতে ও রামায়ণে শক্তিশালী বঙ্গ রাজ্যের কথা উল্লেখ আছে।
- বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে বঙ্গজনপদ অবস্থিত ছিল।
- পশ্চিমে করতোয়া নদী, উত্তর-পূর্বে ব্রহ্মপুত্র প্রবাহিত হয়েছে।
- বৃহত্তর বগুড়া, পাবনা, ময়মনসিংহ জেলার পশ্চিমাঞ্চল, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালির কিয়দংশ নিয়ে বঙ্গ গঠিত হয়েছিল।
- এখানে যারা বসবাস করত তাদের ‘বঙ্গ’ জনগোষ্ঠী বলা হত।
- ‘বঙ্গ’ থেকে বাঙালি জাতির উৎপত্তি ঘটেছিল।

উৎস: বাংলাদেশ স্টাডিজ , বিবিএস প্রোগ্রাম , উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৭.
নিচের কোনটি বঙ্গ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. বাখেরগঞ্জ
  2. ফরিদপুর
  3. পটুয়াখালী
  4. বর্ণিত সবগুলো
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বর্ণিত সবগুলো
ব্যাখ্যা
• বঙ্গ জনপদ:
- বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
- অনুমান করা হয়, এখানে বঙ্গ বলে একটি জাতি বাস করত।
- তাই জনপদটি পরিচিত হয় বঙ্গ নামে।
- প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গে দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
- একটি বিক্রমপুর আর অন্যটি নাব্য।
- বর্তমানে নাব্য বলে কোন জায়গার অস্তিত্ব নেই।
- ধারণা করা হয়, ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ ও পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি এ নাব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- প্রাচীন বঙ্গ জনপদ ছিল খুব শক্তিশালী অঞ্চল।
- বাংলায় মুসলিম শাসন বিস্তারের প্রাথমিক পর্যায়েও 'বঙ্গ' বলে বাংলার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলকে বোঝানো হতো।

উৎস: বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৮৮.
’ইলিয়াস শাহিবংশ’ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা কে?
  1. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
  2. জালালউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  3. নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ
  4. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
ব্যাখ্যা
• ইলিয়াস শাহিবংশ:
- সোনারগাঁয়ে ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ যখন স্বাধীন সুলতান তখন লখনৌতির সিংহাসন দখল করেছিলেন সেখানকার সেনাপতি আলি মুবারক।
- সিংহাসনে বসে তিনি 'আলাউদ্দিন আলি শাহ' উপাধি গ্রহণ করেন।
- লখনৌতিতে তিনিও স্বাধীন রাজ্য গড়ে তোলেন।
- পরেরাজধানী স্থানান্তর করেন পাণ্ডুয়ায় (ফিরোজাবাদ)।
- আলি শাহক্ষমতায় ছিলেন ১৩৪২ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত।
- তাঁর দুধভাই ছিলেন হাজি ইলিয়াস।
- তিনি আলি শাহকে পরাজিত ও নিহত করে 'শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ' নাম নিয়ে বাংলায় একটি রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন।
- এই রাজবংশের নাম ইলিয়াস শাহি বংশ।
- এরপর ইলিয়াস শাহের বংশধরগণ অনেক দিন বাংলা শাসন করেন।
- মাঝখানেকিছুদিনের জন্য রাজা গণেশের রাজত্বের উত্থান ঘটেছিল।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই।
১,১৮৯.
প্রাচীনকাল থেকে বিশ্বখ্যাত কোন কাপড় বাংলায় তৈরি হতো?
  1. রেয়ন
  2. রেশমি
  3. মসলিন
  4. পশমি
সঠিক উত্তর:
মসলিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মসলিন
ব্যাখ্যা
প্রাচীনকালে বাংলার শিল্প:
- বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান হলেও অতি প্রাচীনকাল থেকে এখানে নানা প্রকার শিল্পজাত দ্রব্য তৈরি হতো।
- বস্ত্র শিল্পের জন্য বাংলা প্রাচীনকালেই বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল।
- বিশ্বখ্যাত মসলিন কাপড় প্রাচীনকাল থেকেই বাংলায় তৈরি হতো।
- এ বস্ত্র এত সূক্ষ্ম ছিল যে, ২০ গজ মসলিন একটি নস্যির কৌটায় ভরা যেত।
- কার্পাস তুলা ও রেশমের তৈরি উন্নতমানের সূক্ষ্ম বস্ত্রের জন্যও বঙ্গ প্রসিদ্ধ ছিল।
- শণের তৈরি মোটা কাপড়ও তখন প্রস্তুত হতো।
- জানা যায় যে, বঙ্গদেশে সে সময় টিন পাওয়া যেত।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১,১৯০.
বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ কে চালু করেছিলেন? 
  1. শায়েস্তা খান
  2. ইলিয়াস শাহ
  3. সম্রাট বাবর
  4. সম্রাট আকবর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্রাট আকবর
ব্যাখ্যা

• বাংলা নববর্ষ:
- পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন।
- এ দিনটি বাংলা নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়।
- এটি বাঙালি জাতির একটি সর্বজনীন লোক উৎসব।
- এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা - ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে।
- তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতু নির্ভর।
- এই কৃষি কাজের সুবিধার্থেই মুঘল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলা সন প্রবর্তন করেন।
- হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়।
- নতুন সনটি প্রথমে 'ফসলি সন' নামে পরিচিত ছিল যা পরে 'বঙ্গাব্দ' নামে পরিচিত হয়।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া। 

১,১৯১.
কর্ণসুবর্ণ প্রাচীন বাংলার কোন জনপদের রাজধানী ছিল?
  1. গৌড়
  2. বঙ্গ
  3. সমতট
  4. রাঢ়
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- ষষ্ঠ শতকে বাংলার উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় তুর্কি বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বোর্ড বই। 
১,১৯২.
‘জিজিয়া কর’ কী?
  1. সরকারের বাণিজ্য কর
  2. মুসলমানদের উপর ধার্য ভূমি কর
  3. বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক কর
  4. অমুসলিমদের উপর ধার্য এক ধরনের নিরাপত্তা কর
সঠিক উত্তর:
অমুসলিমদের উপর ধার্য এক ধরনের নিরাপত্তা কর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অমুসলিমদের উপর ধার্য এক ধরনের নিরাপত্তা কর
ব্যাখ্যা
কর:
 - জিজিয়া কর মুসলিম রাষ্ট্রের যুদ্ধক্ষম অমুসলিম নাগরিকদের থেকে আদায়যোগ্য এক ধরনের নিরাপত্তা 'কর'।
- এটা নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও বৃদ্ধদের ওপর আরোপিত হয় না। বলা যায়, এটা মুসলিম রাষ্ট্রে বসবাস করে প্রতিরক্ষা কাজে তাদের কায়িক অংশগ্রহণ না করার বিনিময়ে প্রদেয় কর।

এছাড়াও,
- যুদ্ধের সময়ও এই করের বিনিময়ে অমুসলিমরা মুসলিম রাষ্ট্রে সব রকম নাগরিক অধিকার ভোগ করে।
- মুসলিম ভারতে সব সময়ই অমুসলমানদের নিকট থেকে জিজিয়া আদায় করা হত।
- সম্রাট আকবর ১৫৬৪ সালে জিজিয়া কর রহিত করেন।
- কিন্তু সম্রাট আওরঙ্গজেব পুনরায় ১৬৭৯ সালে তা অমুসলমানদের উপর আরোপ করেন।

উৎস: ইসলামের ইতিহাস ২য় পত্র, এইচএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৩.
বিজয় সেনের রাজত্বকাল-
  1. ক) ১০৯৮ থেকে ১১৬০ সাল
  2. খ) ১১০০ থেকে ১১৮০ সাল
  3. গ) ১১৬০ থেকে ১২০০ সাল
  4. ঘ) ১১২০ থেকে ১১৭৮ সাল
সঠিক উত্তর:
ক) ১০৯৮ থেকে ১১৬০ সাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ১০৯৮ থেকে ১১৬০ সাল
ব্যাখ্যা
বিজয় সেন:

- বিজয় সেন বাংলাদেশে বিজয় সেনের সময়ই সেনবংশের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হয়।
- হেমন্ত সেনের পুত্র বিজয় সেন ১০৯৮ সাল থেকে ১১৬০ সাল পর্যন্ত বাংলায় রাজত্ব করেন।
- বিজয়সেন প্রায় সমগ্র বাংলা জয় করে সেনদের ক্ষুদ্র রাজ্যটিকে একটি বড় রাজ্যে পরিণত করেন।
- বিজয় সেন তাঁর সুদীর্ঘ ৬২ বছরের রাজত্বকালে বহু যুদ্ধে জয়লাভ করে প্রায় সমগ্র বাংলাদেশে একক রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।
- বিজয় সেন শৈব ছিলেন এবং বৈদিক ধর্মের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধাবান ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৪.
নিচের কোন স্থানে সেনদের আদি নিবাস ছিল?
  1. ক) দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটে
  2. খ) ত্রিবেণীর বিজয়পুরে
  3. গ) বিক্রমপুরে
  4. ঘ) দিল্লী
সঠিক উত্তর:
ক) দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটে
ব্যাখ্যা
সেন বংশ:

- বাংলার পাল যুগের অবসানের পর বার শতকের দ্বিতীয় ভাগে সেন শাসনের সূচনা হয়। ধারণা করা হয় তারা এদেশে ছিলেন বহিরাগত।
- সেনদের পূর্বপুরুষদের আদি বাস ছিল দাক্ষিণ্যাত্যের কর্নাটে।
- বাংলায় সেনবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন।
- তিনি শেষ বয়সে কর্নাট থেকে এসে রাঢ় অঞ্চলে গঙ্গা নদীর তীরে বসতি স্থাপন করেন। 
- ধারণা করা হয় যে, তিনি পাল রাজা রাম পালের অধীনে একজন সামন্ত রাজা ছিলেন।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশ ও বিশ্বসভ্যতা, নবম-দশম শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১,১৯৫.
প্রাচীন বাংলার কোন জনপদটি মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল?
  1. সমতট
  2. রাঢ়
  3. বরেন্দ্র
  4.  গৌড়
সঠিক উত্তর:
 গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
 গৌড়
ব্যাখ্যা
গৌড়:
- 'গৌড়' নামটি সুপরিচিত হলেও প্রাচীনকালে ঠিক কোথায় গৌড় জনপদটি গড়ে উঠেছিল তা জানা যায়নি।
- তবে ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়।
- সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
- এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
- বাংলায় মুসলমানদের বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকেও গৌড় বলা হতো।

উৎস: বাংলাদেশের  ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, নবম দশম শ্রেণি।
১,১৯৬.
'কর্ণসুবর্ণ' কোন জনপদের রাজধানী ছিল?
  1. হরিকেল
  2. বঙ্গ
  3. গৌড়
  4. সমতট
সঠিক উত্তর:
গৌড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গৌড়
ব্যাখ্যা

গৌড়:
- বাংলার প্রাচীন জনপদগুলো যে যুগে যুগে সীমানা সম্প্রসারণ করেছে তার বড় উদাহরণ হলো গৌড়।
- এই জনপদের খ্যাতি এতই বৃদ্ধি পেয়েছিল যে, সমগ্র বাংলাকেই সময়ে সময়ে গৌড়দেশ বিবেচনা করা হতো।
- পূর্ব ভারতীয় দেশসমূহের সামগ্রিক নাম হিসেবে এমনকি উত্তর ভারতের আর্যাবর্তের নাম হিসেবেও কখনো কখনো গৌড়ের ব্যবহার দেখা যায়।
- সর্বপ্রথম পাণিনির গ্রন্থে গৌড়ের উল্লেখ পাওয়া যায়।
- সেনবংশীয় রাজারা ‘গৌড়েশ্বর' উপাধি গ্রহণ করে গৌরববোধ করতেন।
- ব্যাপক অর্থে ‘গৌড়' বলতে অনেক সময় বাংলা ভাষাভাষী সমগ্র অঞ্চলকে বুঝাত।
- আদিকালে গৌড় বলতে বর্তমানের মুর্শিদাবাদ জেলা ও মালদা জেলার দক্ষিণাংশকে বুঝাত।
- হিউয়েন সাঙ শশাঙ্ককে কর্ণসুবর্ণ দেশের সম্রাট বলেছেন এবং হর্ষচরিত গ্রন্থে শশাঙ্ককে ‘গৌড়াধিপতি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- গৌড়ের রাজধানী শহর ছিল কর্ণসুবর্ণ।
- মুসলিম যুগে অঞ্চলটি কখনো ‘গৌড়' আবার কখনো লক্ষ্মণাবতী নামে পরিচিত ছিল।

তথ্যসূত্র - বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

১,১৯৭.
কোন রাজবংশের সময়ে ‘আনন্দবিহার’ তৈরি হয়?
  1. পাল রাজবংশ
  2. সেন রাজবংশ
  3. দেব রাজবংশ
  4. চন্দ্র রাজবংশ
সঠিক উত্তর:
দেব রাজবংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেব রাজবংশ
ব্যাখ্যা
দেব রাজবংশের সময়ে ‘আনন্দবিহার’ তৈরি হয়।

আনন্দবিহার:
- আনন্দবিহার প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে সমৃদ্ধ কুমিল্লার নিকটবর্তী কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
- এ বিহার ময়নামতিতে আবিষ্কৃত সৌধমালার মধ্যে সর্ববৃহৎ।
- এ এলাকার সর্ববৃহৎ পুষ্করিণীসহ আনন্দবিহার কমপ্লেক্সটি সাত শতকের শেষ বা আট শতকের প্রথম দিকের কোনো এক সময়ে প্রথম দেববংশের তৃতীয় শাসক শ্রী আনন্দ দেব কর্তৃক নির্মিত হয়।

⇒ দেব রাজা ভবদেব এই বিহারটি প্রতিষ্ঠা করেন।
- ঐ সময় বিহারটি এশিয়ার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিগণিত হয়।
- সেই সময় একে বিশ্বিবদ্যালয়ের মর্যাদা দেওয়া হয়।
- তার প্রমাণ হলো, বিখ্যাত চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং আনন্দ বিহারে আসেন এবং তিনি এখানে প্রায় ৪০০০ ভিক্ষু ও ময়নামতি অঞ্চলে ৩৫টি শিক্ষাকেন্দ্র দেখতে পান।
- যার কারণে তিনি কুমিল্লাবাসীকে প্রবল শিক্ষানুরাগী বলে আখ্যায়িত করেন।
- প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে ভারতের নালন্দের পর এশিয়ার দি¦তীয় বৃহত্তম শিক্ষাকেন্দ্র ছিলো লালমাই-ময়নামতি অঞ্চল।

উৎস: জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও বাংলাপিডিয়া।
১,১৯৮.
প্রাচীন তাম্রলিপ্ত জনপদের বর্তমান অবস্থান কোন অঞ্চলে?
  1. ক) রাজশাহী
  2. খ) দিনাজপুর
  3. গ) মুর্শিদাবাদ
  4. ঘ) মেদিনীপুর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেদিনীপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) মেদিনীপুর
ব্যাখ্যা
• গ্রিক পন্ডিত টলেমির মানচিত্রে বাংলায় তমলিটিস নামে একটি বন্দরনগরীর উল্লেখ পাওয়া যায়, যেটি প্রাচীন বাংলার তাম্রলিপ্তি বা তাম্রলিপ্ত বন্দরেরই অন্য নাম বলে মনে করা হয়।
- বন্দরটির অবস্থান নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও মোটামুটিভাবে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলায় বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী রূপনারান নদীর মোহনায় অবস্থিত তমলুককে প্রাচীন তাম্রলিপ্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
- এছাড়া স্বরস্বতী নদীর মোহনায় অবস্থিত সপ্তগ্রাম বা সাতগাঁও এবং কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত চট্টগ্রাম বন্দর প্রাচীন ও মধ্যযুগেই বহির্বিশ্বে বেশ পরিচিত ছিল।
- সুলতানি আমলে বাংলা ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা ও চীনা পর্যটকদের বর্ণনা থেকে জানা যায় তাঁরা চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে নদীপথে সোনারগাঁও বন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন।
- মুগল আমলে ঢাকায় রাজধানী স্থাপিত হলে বাংলার প্রধান অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর হিসেবে সোনারগাঁও গুরুত্ব হারায়।

উৎস:- বাংলাপিডিয়া, কালের কন্ঠ। 
১,১৯৯.
Historical Panam City is located in
  1. ক) Dinajpur
  2. খ) Rangpur
  3. গ) Cumilla
  4. ঘ) Narayangonj
সঠিক উত্তর:
ঘ) Narayangonj
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) Narayangonj
ব্যাখ্যা
পানাম নগর:
- ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও  চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এর ফলশ্রুতিতেই গড়ে উঠেছিল বর্তমান পানামনগর।
- পানাম নগর নারায়ণগঞ্জ জেলার, সোনারগাঁতে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর।
- বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর -প্রাচীন সোনারগাঁর এই তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিলো সবচেয়ে আকর্ষণীয়।
- এখানে কয়েক শতাব্দী পুরনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূইয়াঁদের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত।
- তেরো শতকের শেষপাদে সোনারগাঁয়ে হিন্দু আমলের রাজধানী শহরটি এখানেই অবস্থিত ছিল বলে ধারণা করা হয়।
- মুগলদের সোনারগাঁও অধিকারের (১৬১১) পর মহাসড়ক ও সেতু নির্মাণ করে রাজধানী শহরের সঙ্গে পানাম এলাকার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়।
- পানামে এখনও মুগল আমলের তিনটি ইটনির্মিত সেতু রয়েছে। এগুলি হলো পানাম সেতু, দালালপুর পুল ও পানামনগর সেতু।
- এখানে রয়েছে ভগ্নপ্রায় ও অযত্নে লালিত ৫২টি বাড়ি; সড়কের উত্তর পাশে ৩১টি এবং দক্ষিণ পার্শ্বে ২১টি।
- পানামনগরের চতুষ্পার্শ্ব কৃত্রিম খাল বা পরিখা দ্বারা সুরক্ষিত।

তথ্যসূত্র: বাংলাপিডিয়া।
১,২০০.
প্রাচীন ভারতে সাম্রাজ্যকেন্দ্রিক ইতিহাসের শেষ সম্রাট হর্ষবর্ধন কোন বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন?
  1. মৌখরি বংশ
  2. চালুক্য বংশ
  3. পুষ্যভূতি বংশ
  4. কুষাণ বংশ
সঠিক উত্তর:
পুষ্যভূতি বংশ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুষ্যভূতি বংশ
ব্যাখ্যা
ভারতে চতুর্থবারের মতো বৃহৎ সাম্রাজ্য গড়ে তোলার কৃতিত্ব - পুষ্যভূতি বংশের। এই রাজবংশের শ্রেষ্ঠ শাসক হর্ষবর্ধন।
হর্ষ কনৌজ এবং থানেশ্বরকে যুক্ত করেন এবং নিজ সাম্রাজ্য বহুদূর পর্যন্ত বর্ধিত করেন। তিনি ছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী। সম্ভবত ৬৪৬ খ্রিস্টাব্দে হর্ষের মৃত্যু হয়।
প্রাচীন ভারতের সাম্রাজ্যকেন্দ্রিক ইতিহাসে হর্ষবর্ধনই শেষ সম্রাট। বিখ্যাত চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং হর্ষের শাসন ব্যবস্থার প্রশংসা করেছেন।
[সূত্রঃ বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা নবম-দশম শ্রেণি এবং ইতিহাস ১ম পত্র, এইচএসসি(উন্মুক্ত)]