বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব

মোট প্রশ্ন৬০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব

PrepBank · পাতা / · ২০১৩০০ / ৬০১

২০১.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি শব্দ কোনটি?
  1. ভয়ে ভয়ে
  2. ঝি ঝি
  3. হাটে হাটে
  4. হাতে নাতে
সঠিক উত্তর:
ঝি ঝি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝি ঝি
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।

যেমন-
 অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার:
- ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)।
- এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা),
- কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)।

অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
•পদাত্মক দ্বিরুক্তি:
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়। এগুলো দুই রকমে গঠিত হয়।
যেমন-
• একই পদের অবিকৃত অবস্থায় দুইবার ব্যবহার।
যথা
- ভয়ে ভয়ে এগিয়ে গেলাম।
- হাটে হাটে বিকিয়ে তোর ভরা আপণ। 1

• যুগ্মরীতিতে গঠিত দ্বিরক্ত পদের ব্যবহার।
যথা-
হাতে নাতে, ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২০২.
'মনে মনে তুলনা করে দেখলাম' এখানে দ্বিরুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে -
  1. ক) আধিক্য বোঝাতে
  2. খ) ক্রিয়া বিশেষণ রূপে
  3. গ) ব্যাপ্তি অর্থে
  4. ঘ) বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া বিশেষণ রূপে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া বিশেষণ রূপে
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দের আভিধানিক অর্থ- দুবার বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে কোন শব্দ বা পদের পরপর দুবার প্রয়োগ বা পুনরাবৃত্তিকেই দ্বিরুক্ত শব্দ বলে ।

• বাংলা ভাষায় এমন বহু দ্বিরুক্ত শব্দ আছে যা কোন বাস্তব ধ্বনির অনুকারী বা নিছক কোন ধ্বনির কাল্পনিক অনুকরণ করে। এই জাতীয় শব্দকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এমন একই ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুবার প্রয়োগের নামই ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি বা ধ্বনির দ্বিরুক্তি।

• ক্রিয়ার বিশেষণ: যে পদ ক্রিয়া সংগঠনের ভাব, কাল বা রূপ নির্দেশ করে, তাই ক্রিয়া বিশেষণ।

'মনে মনে তুলনা করে দেখলাম' বাক্যে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি পদ 'মনে মনে', তুলনা করা(ক্রিয়া) কে বিশেষায়িত করে।
- তাই 'মনে মনে' ক্রিয়া বিশেষণ রূপে দ্বিরুক্ত পদ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২০৩.
'চুপচাপ' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।

যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন-
আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২০৪.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. খক খক
  2. কুট কুট
  3. আম টাম
  4. ফটাফট
সঠিক উত্তর:
আম টাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আম টাম
ব্যাখ্যা

• 'আম টাম' - অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ। 

অন্যদিকে, 
কুট কুট, খক খক, ফটাফট - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ। 

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, চকচক, টসটস।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

২০৫.
কোন বাক্যটিতে আধিক্য বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার হয়েছে?
  1. ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
  2. ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছে।
  3. ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা।
  4. বার বার সে কামান গর্জে উঠলো।
সঠিক উত্তর:
ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
ব্যাখ্যা
“ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।” বাক্যটিতে আধিক্য বোঝাতে বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার হয়েছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৬.
‘ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে’ শুনলে কীভাবে? - দ্বিরুক্ত শব্দ দ্বারা কোনটি প্রকাশ পায়?
  1. ক) সামান্যতা
  2. খ) বিশেষণ রূপ
  3. গ) পৌনঃপুনিকতা
  4. ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ রূপ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ রূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ রূপ
ব্যাখ্যা
• 'ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?' এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি ক্রিয়া বিশেষণ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে।  

আরো কিছু দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ: 

 ক্রিয়া বিশেষণ অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে: 
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
- দেখে দেখে যেও।

স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।

বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।

অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে। 

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে, 
- 'ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি'- এখানে দ্বিরুক্ত শব্দ পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
২০৭.
একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে কী বলে?
  1. ক) দ্বিযুক্ত শব্দ
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক শব্দ
  3. গ) প্রচলিত শব্দ
  4. ঘ) দ্বিরুক্ত শব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিরুক্ত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) দ্বিরুক্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। 

- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা। 
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়। 

সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
২০৮.
'টুপটাপ' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক  দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
কুট কুট, খক খক, সাঁই-সাঁই, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথক, শোঁ শোঁ, চকচক, ভটভট, ধুপধুপ, টুপটাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২০৯.
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব কয় প্রকার?
  1. ক) ২
  2. খ) ৩
  3. গ) ৪
  4. ঘ) ৫
সঠিক উত্তর:
ক) ২
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ২
ব্যাখ্যা
অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২১০.
‘কেউ কেউ’ কি ধরণের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ক) শব্দের দ্বিরুক্তি
  2. খ) পদের দ্বিরুক্তি
  3. গ) অনুকার দ্বিরুক্তি
  4. ঘ) আকার দ্বিরুক্তি
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দের দ্বিরুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শব্দের দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দ ৩ প্রকার। যথা - ১. শব্দের দ্বিরুক্তি (রোজ রোজ, কেউ কেউ), ২.পদের দ্বিরুক্তি (হেসে হেসে, চোরে চোরে) ও ৩. অনুকার দ্বিরুক্তি (শন শন, খিল খিল)। সূত্রঃ বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২১১.
নিচের কোনটি অনুকার অব্যয়ের দ্বিরুক্তির উদাহরণ?
  1. ক) গরম গরম
  2. খ) তালা-চাবি
  3. গ) চোর চোর
  4. ঘ) ট্যা ট্যা
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) ট্যা ট্যা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ট্যা ট্যা
ব্যাখ্যা
মানুষের ধ্বনির অনুকার ভেউ ভেউ, ট্যা ট্যা, হি হি।
২১২.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব?
  1. অঙ্ক-টঙ্ক
  2. কথায় কথায়
  3. মোটাসোটা
  4. গুটিশুটি
সঠিক উত্তর:
কথায় কথায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথায় কথায়
ব্যাখ্যা

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
- অনুকার দ্বিত্ব - অঙ্ক-টঙ্ক, মোটাসোটা।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - গুটিশুটি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২১৩.
'রাশি রাশি ভারা ভারা ধান কাটা হলো সারা'- এখানে 'রাশি রাশি'-
  1. সাপেক্ষ সর্বনাম
  2. নির্ধারক বিশেষণ
  3. অনুকার অব্যয়
  4. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
নির্ধারক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্ধারক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• সাধারণত একের বেশি কোনাে কিছুকে বােঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহার করা হয়, যাকে নির্ধারক বিশেষণ বলে।

এখানে বিশেষ্য ‘ধান’ এর নির্ধারক বিশেষণ ‘রাশি রাশি' 'ভারা ভারা'।

‘রাশি রাশি' বলতে 'অনেক' এবং 'ভারা ভারা' বলতে 'বােঝা' বােঝায়।

উৎস: শীকর বাংলা প্রশ্ন-পাঠ, মোহসীনা নাজিলা। 
২১৪.
কোনটি ’অনুকার দ্বিত্ব’-এর উদাহরণ?
  1. ফটাফট
  2. খক খক
  3. এলোমেলো
  4. ঝটাঝট
সঠিক উত্তর:
এলোমেলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলোমেলো
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন
, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষমেষ, অল্পসল্প,বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• ধ্বন্যাত্মকদ্বিত্ব
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন-
কুট কুট, কোঁত কোঁত,কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম,ঢং ঢং।

- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন
খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝটফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

২১৫.
"আমন মৌসুমে মাঠ থেকে ধামা ধামা ধান উঠছে।"- বাক্যে ‘ধামা ধামা’ কী অর্থে দ্বিরুক্তি হয়েছে?
  1. অনুরূপ
  2. ধারাবাহিকতা 
  3. আধিক্য
  4. তীব্রতা
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
ব্যাখ্যা

• "আমন মৌসুমে মাঠ থেকে ধামা ধামা ধান উঠছে।"- বাক্যে ‘ধামা ধামা’ - আধিক্য অর্থে দ্বিরুক্তি হয়েছে।
--------------
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।

• বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।

২১৬.
বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি হয়েছে কোনটিতে?
  1. ক) বন-জঙ্গল
  2. খ) রীতি-নীতি
  3. গ) লেন-দেন
  4. ঘ) চাল-চলন
সঠিক উত্তর:
গ) লেন-দেন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) লেন-দেন
ব্যাখ্যা
লেন-দেন সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি।

সমার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক্তি:
চালচলন
রীতিনীতি
বনজঙ্গল
ধনদৌলত

বিপরীতার্থক দ্বিরুক্ত শব্দ:
ভাল - মন্দ
আমীর - ফকির
ধনী - গরীব
লেন - দেন
দেনা - পাওনা

উৎস: ভাষা শিক্ষা, হায়াত মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০১৯।
২১৭.
'ভয়ে গা ছম ছম করছে।' এখানে 'ছম ছম' কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অনুভূতি বা ভাব
  2. পৌনঃপুনিকতা
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. ভাবের গভীরতা
সঠিক উত্তর:
অনুভূতি বা ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুভূতি বা ভাব
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি:
ভাবের গভীরতা বোঝাতে:
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- ছি ছি, তুমি কী খারাপ?

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ফোঁড়াটা টন টন করছে।

বিশেষণ বোঝাতে:
- পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।

ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২১৮.
কোনটি পদাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ?
  1. সাথে সাথে
  2. দিনরাত্রি
  3. রাতারাতি
  4. শুনশান
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
সাথে সাথে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাথে সাথে
ব্যাখ্যা
• সাথে সাথে - এখানে 'সাথে' পদটির সম্পূর্ণ পুনরাবৃত্তি হয়েছে। এটি পদাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ।
 
• দ্বিরুক্তি তিন প্রকার।
যথা:
⇒ শব্দের দ্বিরুক্তি,
⇒ পদের দ্বিরুক্তি,
⇒ অনুকার দ্বিরুক্তি।

• পদাত্মক দ্বিরুক্তি:
বিভক্তিযুক্ত পদ পর পর দুবার ব্যবহৃত হলে তাকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলে। পদাত্মক দ্বিরুক্তি দুইভাবে হতে পার:
১. যথাদ্বিরুক্তি,
২. যুগ্মরীতি বা অনুচর-দ্বিরুক্তি।

• পদাত্মক দ্বিরুক্তি:
যেমন:
- ভয়ে ভয়ে, হাটে হাটে, জনে জনে, হাতে হাতে, সাথে সাথে। 

অন্যদিকে,
- দিনরাত্রি - দ্বন্দ্ব সমাসের উদাহরণ।
- রাতারাতি, শুনশান - অনুকার/ধন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২১৯.
অনুভূতিজাত দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
  1. ছমছম
  2. ঝমঝম
  3. টিকটিক
  4. ঠিক ঠিক
সঠিক উত্তর:
ছমছম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছমছম
ব্যাখ্যা
অনুভূতিজাত দ্বিরুক্ত শব্দ হলো - ছমছম।
এটি ভয়ের অনুভূতি প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ভয়ে গা ছমছম করছে। 

• অব্যয়ের দ্বিরুক্তি:

১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি কী করেছ?
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছমছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

অন্যদিকে,
কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে: ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২২০.
কোনটি ধন্যাত্মক শব্দের উদাহরণ?
  1. ক) চোখে চোখে
  2. খ) ভয়টয়
  3. গ) টুপটাপ
  4. ঘ) কাছাকাছি
সঠিক উত্তর:
গ) টুপটাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টুপটাপ
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন-
- কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথক, শোঁ শোঁ, চকচক, ভটভট, ধুপধুপ টুপটাপ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২২১.
নিচের কোনটিতে আধিক্য বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি
  2. খ) ভালো ভালো আম নিয়ে আসো
  3. গ) উড়ু উড়ু ভাব
  4. ঘ) ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি
সঠিক উত্তর:
খ) ভালো ভালো আম নিয়ে আসো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ভালো ভালো আম নিয়ে আসো
ব্যাখ্যা
ভালো ভালো আম নিয়ে আসো- এখানে 'আধিক্য' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

তাছাড়া,
আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি- এখানে 'সামান্য' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
উড়ু উড়ু ভাব- এখানে 'সামান্যতা' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি- এখানে 'পৈনঃপুনিকতা' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।  


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি।
২২২.
‘টসটস’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. পদদ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, টসটস, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২২৩.
'ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো'। কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. ক) সতর্কতা
  2. খ) বিপদ
  3. গ) আশঙ্কা
  4. ঘ) ভয়
সঠিক উত্তর:
ক) সতর্কতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সতর্কতা
ব্যাখ্যা
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো 'সতর্কতা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ :
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
২২৪.
'মিষ্টি মিষ্টি কথা' - বাক্যে দ্বিরুক্তি শব্দ কী বোঝাতে ব্যবহৃত হচ্ছে?
  1. অল্পতা বোঝাতে
  2. বাহুল্য বোঝাতে
  3. গুণ বোঝাতে
  4. বহুবচন বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
গুণ বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণ বোঝাতে
ব্যাখ্যা
একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার পর শব্দ দুটো অবিকৃত থেকে গেলে তাকে শব্দের দ্বিরুক্তি বলে। 
- একই শব্দ দুবার ব্যবহার করার ফলে বিভিন্ন অর্থ প্রকাশ করতে পারে- 

- অল্পতা বোঝাতে - জ্বরজ্বর , কবিকবি, হাসি হাসি মুখ ইত্যাদি। 
- বাহুল্য বোঝাতে - বস্তা বস্তা চাল, ঝুড়ি ঝুড়ি আম ইত্যাদি। 
- তাড়াতাড়ি বোঝাতে - সকাল সকাল আসবে, হাতে হাতে ফল পাওয়া ইত্যাদি। 
- ধারাবাহিকত বোঝাতে - দিন দিন ভালো হওয়া, বছর বছর পাস করা  ইত্যাদি। 
- বহুবচন বোঝাতে - লাল লাল ফুল, ছোট ছোট ঘর ইত্যাদি। 
- গুণ বোঝাতে - গরম গরম ভাত, মিষ্টি মিষ্টি কথা ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
২২৫.
'ঘচাঘচ' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দের দৃষ্টান্ত?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত
  2. পদাত্মক দ্বিরুক্ত
  3. অনুকার দ্বিরুক্ত
  4. পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।
যেমন-
১. মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

২. জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

৩. বস্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ-মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

৪. অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)। 

২২৬.
নিচের কোনটি শব্দদ্বিত্বের প্রকার নয়?
  1. ক) অনুকার দ্বিত্ব
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. গ) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ঘ) পদ দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পদ দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত হয়ে দুইবার ব্যবহৃত হওয়া শব্দকে শব্দদ্বিত্ব বলে।

• শব্দ দ্বিত্ব তিন প্রকার। যথা: 
- অনুকার  দ্বিত্ব।
- ধ্বন্যাত্মক  দ্বিত্ব।
- পুনরাবৃত্ত  দ্বিত্ব।

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, (নতুন সংস্করণ) নবম ও দশম শ্রেণি।
২২৭.
‘তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।' - এখানে 'হায় হায়' কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. অনুভূতি
  2. ভাবের গভীরতা
  3. আধিক্য
  4. সামান্য
সঠিক উত্তর:
ভাবের গভীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:

​- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান।
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।

২২৮.
'কথায় কথায়' কোন প্রকার শব্দ দ্বিত্ব?
  1. ক) অনুকার
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক
  3. গ) সমার্থক
  4. ঘ) পুনরাবৃত্ত
সঠিক উত্তর:
ঘ) পুনরাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পুনরাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
- শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
৩.পুনরাবৃত্তদ্বিত্ব

• অনুকার দ্বিত্ব: পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
 যেমন: ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্রাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম ।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয় , সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে। যেমন: টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম ।

•পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।
২২৯.
নিচের কোন দ্বিরুক্ত শব্দ যুগ্ণরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ?
  1. ক) টপাটপ
  2. খ) ধরাধরি
  3. গ) টাপুর টুপুর
  4. ঘ) ঝনঝনি
সঠিক উত্তর:
গ) টাপুর টুপুর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টাপুর টুপুর
ব্যাখ্যা

যুগ্ণরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ-
কিচির মিচির (পাখি বা বানরের শব্দ),
টাপুর টুপুর (বৃষ্টি পতনের শব্দ),
হাপুস হুপুস (গোগ্রাসে কিছু খাওয়ার শব্দ)।
সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই।

২৩০.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. মোটাসোটা
  2. ঘর-টর
  3. গুটিশুটি
  4. কুটুস- কুটুস
সঠিক উত্তর:
কুটুস- কুটুস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কুটুস- কুটুস
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, চকচক, টসটস।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

২৩১.
‘ডেকে ডেকে হয়রান হচ্ছি।'-এ বাক্যে ‘’ডেকে ডেকে’ কোন অর্থ প্রকাশ করে?
  1. অসহায়ত্ব
  2. বিরক্তি
  3. কালের বিস্তার
  4. পৌনঃপুনিকতা
সঠিক উত্তর:
পৌনঃপুনিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পৌনঃপুনিকতা
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
- বিশেষণ রূপে: এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- স্বলপকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে গেলো।
- ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: দেখে দেখে যেও।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৩২.
‘রাশি রাশি ধান' এখানে 'রাশি রাশি' কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. আধিক্য
  2. আগ্রহ
  3. সামান্য
  4. নিকৃষ্ট
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
ব্যাখ্যা
• ‘রাশি রাশি ধান' এখানে 'রাশি রাশি' - 'আধিক্য' অর্থ প্রকাশ করেছে।

• দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।

• বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
- আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
- সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
- ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
২৩৩.
‘অঙ্ক-টঙ্ক’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
২৩৪.
'লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান।' - এখানে 'হাড়ে হাড়ে' দ্বিরুক্ত শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. সতর্কতা
  2. কালের বিস্তার
  3. আধিক্য
  4. পৌনঃপুনিকতা
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
ব্যাখ্যা

বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:

যেমন:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা),
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা),
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার),
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩৫.
ধ্বনিব্যঞ্জনা দ্বিরুক্ত শব্দ কোনটি?
  1.  ছমছম
  2. ঝির ঝির
  3. টন টন
  4. মিটি মিটি
সঠিক উত্তর:
ঝির ঝির
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝির ঝির
ব্যাখ্যা

• ধ্বনিব্যঞ্জনা দ্বিরুক্ত শব্দ হলো- ঝির ঝির। 
এটি বাতাসের শব্দ প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।

--------------------
অব্যয়ের দ্বিরুক্তি:
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি কী করেছ?
২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছমছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
৪. বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি
৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৩৬.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. চকচক
  2. থকথকে
  3. লুচিফুচি
  4. ভটভট
সঠিক উত্তর:
লুচিফুচি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লুচিফুচি
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
অঙ্ক-টঙ্ক, অল্পসল্প, কেক-টেক, কচর-মচর, চাকর-বাকর, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, আগড়ম-বাগড়ম, এলোমেলো, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন:
আড়াআড়ি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, ধারধোর ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
---------------- 
 চকচক, থকথকে, ভটভট, ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

২৩৭.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব শব্দ?
  1. বুঝে-সুঝে
  2. জ্বর জ্বর
  3. শোঁ শোঁ
  4. দুম দুম
সঠিক উত্তর:
বুঝে-সুঝে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুঝে-সুঝে
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - শোঁ শোঁ, দুম দুম।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - জ্বর জ্বর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
২৩৮.
নিচের কোন বাক্যে পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ঘুম ঘুম চোখে সে চেয়ে থাকলো।
  2. অল্পসল্প বুদ্ধি তার।
  3. ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।
  4. ফোড়া টনটন করে।
সঠিক উত্তর:
ঘুম ঘুম চোখে সে চেয়ে থাকলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘুম ঘুম চোখে সে চেয়ে থাকলো।
ব্যাখ্যা
• ‘ঘুম ঘুম চোখে সে চেয়ে থাকলো।’ বাক্যে ব্যবহৃত ‘ঘুম ঘুম’ শব্দটি পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
- অল্পসল্প অনুকার শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।
- ঝমঝম ও টনটন ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৩৯.
"রুবেলের সাথে তাঁর গলায় গলায় ভাব।" - এখানে 'গলায় গলায়' কোন ধরনের দ্বিরুক্তি?
  1. শব্দাত্মক
  2. ধ্বন্যাত্মক
  3. পদাত্মক
  4. অব্যয়ের দ্বিরুক্তি
সঠিক উত্তর:
পদাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদাত্মক
ব্যাখ্যা

• "রুবেলের সাথে তাঁর গলায় গলায় ভাব।"- এখানে 'গলায় গলায়' - পদাত্মক দ্বিরুক্তি।
এখানে একই পদ (গলায়) দুইবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে, যার ফলে এটি পদাত্মক দ্বিরুক্তি।

• পদাত্মক দ্বিরুক্তি:
বিভক্তিযুক্ত পদ পর পর দুবার ব্যবহৃত হলে তাকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলে। পদাত্মক দ্বিরুক্তি দুইভাবে হতে পার। 
যথা- 
১. যথাদ্বিরুক্তি,
২. যুগ্মরীতি বা অনুচর-দ্বিরুক্তি।

• পদাত্মক যথাদ্বিরুক্তি:
যেমন:
- জনে জনে আজকে আমি জানিয়ে যাব সব।
অন্যান্য ( হোতে হাতে, হেসে হেসে, চোর চোর ইত্যাদি।)

• পদাত্মক যুগ্নরীতি বা অনুচর দ্বিরুক্তি:
যেমন:
- হাতে-নাতে পড়লে ধরা দলে-বলে জেলে যাবে।
অন্যান্য (আকাশে-বাতাশে, কাপড়-চোপড়, দলে-বলে ইত্যাদি।)

অন্যদিকে,
- রোজ রোজ, দিন দিন শব্দের দ্বিরুক্তি।
- অব্যয়ের দ্বিরুক্তিতে বহুবচন এর উদাহরণ: যখন যখন।
- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস - ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৪০.
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব কোনটি?
  1. ঘুম ঘুম
  2. হায় হায়
  3. ভালো ভালো
  4. মজার মজার
সঠিক উত্তর:
মজার মজার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মজার মজার
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - মজার মজার।

----------------------------
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৪১.
ভয়ে গা ছম ছম করছে- এ বাক্যের দ্বিরুক্ত শব্দ কী বুঝাচ্ছে?
  1. ক) আধিক্য
  2. খ) ভাবের গম্ভীরতা
  3. গ) অনুভূতি বা ভাব
  4. ঘ) পৌনঃপুনিকতা
  5. ঙ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) অনুভূতি বা ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুভূতি বা ভাব
ব্যাখ্যা
এটি অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে অব্যয়ের দ্বিরুক্তির উদাহরণ। আরেকটি উদাহরণ হলোঃ ফোড়াটা টন টন করছে।
২৪২.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. আম-টাম
  2. ঠুকঠুক
  3. কবি কবি
  4. দুম দুম
সঠিক উত্তর:
আম-টাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আম-টাম
ব্যাখ্যা

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
 যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

২৪৩.
'ঝমঝম' কোন ধরনের দ্বিরুক্তি?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্তি
  2. অনুকার দ্বিরুক্তি
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
  4. পদাত্মক দ্বিরুক্তি
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।
যেমন:
• মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

• জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

• বস্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ- মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ), ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

• অনুভূতিজাত কাল্পনিক: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ- ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
২৪৪.
‘কুটুস-কুটুস’ কোন প্রকার শব্দদ্বিত্বের অন্তর্ভুক্ত?
  1. ক) অনুকার দ্বিত্ব
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. গ) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ঘ) ঋণাত্বক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
‘কুটুস-কুটুস’ - ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের অন্তর্ভুক্ত।

শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের। যথা:
১. অনুকার দ্বিত্ব
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব: কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ,  শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

উৎস:- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি,  নবম-দশম শ্রেণি বোর্ড বই।
২৪৫.
বিকারজাত শব্দযোগে দ্বিরুক্তির উদাহরণ হলো -
  1. ক) ধন-দৌলত
  2. খ) নিভূনিভু
  3. গ) ডাকা-ডাকি
  4. ঘ) ভাসা ভাসা
সঠিক উত্তর:
গ) ডাকা-ডাকি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ডাকা-ডাকি
ব্যাখ্যা

শব্দের দ্বিরুক্তি :

ক) একই শব্দ দুবার ব্যবহৃত হয় এবং শব্দ দুটি অবিকৃত থাকে। এরকম- নিভু নিভু, ভাসা ভাসা 
খ) একই শব্দের সঙ্গে সমার্থক আর একটি শব্দ যােগ করে ব্যবহৃত হয়। এরকম- ধন-দৌলত, হাঁড়িপাতিল, খেলা-ধুলা, ঢাকঢোল, রাস্তাঘাট, লালন-পালন, বলা-কওয়া, খোঁজ-খবর ইত্যাদি।
গ) দ্বিরুক্ত শব্দ জোড়ার দ্বিতীয় শব্দটির আংশিক পরিবর্তন অর্থাৎ বিকার (পরিবর্তনে জাত) জাত। এরকম- মিটমাট, ফিটফাট, বকা-ঝকা, ডাকা-ডাকি, বই-টই, তােড়-জোড়, গল্প-সল্প, রকম-সকম ইত্যাদি।


উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
২৪৬.
পদের দ্বিরুক্তি ঘটে কোথায়?
  1. ক) বলা -কওয়া নেই, সে চলে এলো।
  2. খ) ভালো ভালো ফল এনেছ।
  3. গ) গাছে বড় বড় বরই হয়েছে।
  4. ঘ) আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে।
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি:
দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে।
যেমন: দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগলো।
আবার, দ্বিতীয় পদের আংশিক পরিবর্তনও ঘটে, কিন্তু পদ বিভক্তি অবিকৃত থাকে।
যেমন - চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে। আমার সন্তান যেনো থাকে দুধে ভাতে। 

অপশনে উল্লেখিত বাকিগুলো শব্দের দ্বিরুক্তি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৪৭.
‘বুদ্ধিশুদ্ধি’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিহীন দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
২৪৮.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. মোটাসোটা
  2. গরম গরম
  3. ঝমঝম 
  4. আমটাম
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঝমঝম 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝমঝম 
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

২৪৯.
‘ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা।’—এখানে ‘বাছা বাছা’ শব্দদ্বিত্বটি কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. সতর্কতা 
  2. কালের বিস্তার
  3. ভাবের প্রগাঢ়তা
  4. আধিক্য
সঠিক উত্তর:
ভাবের প্রগাঢ়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবের প্রগাঢ়তা
ব্যাখ্যা

• বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)
- খাঁচার ফাঁকে ফাঁকে, পরশে মুখে মুখে, নীরবে চোখে চোখে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সংস্করণ)।

২৫০.
‘তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।’—এখানে ‘হায় হায়’  শব্দদ্বিত্বতে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. অনুভূতি
  2. আধিক্য 
  3. সামান্যতা
  4. ভাবের গভীরতা
সঠিক উত্তর:
ভাবের গভীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবের গভীরতা
ব্যাখ্যা

• পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ (অব্যয়ের দ্বিরুক্তি):
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে : তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি কী করেছ?
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৫১.
'শন্ শন' কী ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. শব্দের দ্বিরুক্তি
  2. অনুকার দ্বিরুক্তি
  3. পদের দ্বিরুক্তি
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিরুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
যা দুইবার বলা হয়েছে এমন শব্দকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। ‘দ্বি+উক্ত' = দ্বিরুক্ত।

দ্বিরুক্ত শব্দ তিন প্রকার।
যথা:
- শব্দের দ্বিরুক্তি (রোজ রোজ, কেউ কেউ)।
- পদের দ্বিরুক্তি ( হেসে হেসে, চোরে চোরে)।
- অনুকার দ্বিরুক্তি (শন শন, খিল খিল)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫২.
কোন বাক্যে অনন্বয়ী অব্যয় এর প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) তাকে দিয়ে এ কাজ হবে না।
  2. খ) তুমি ভালো ছাত্র তাই তোমাকে সবাই ভালোবাসে।
  3. গ) বৃষ্টি পড়ে ঝমঝম
  4. ঘ) উঃ বড্ড লেগেছে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) উঃ বড্ড লেগেছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) উঃ বড্ড লেগেছে।
ব্যাখ্যা
‘উঃ বড্ড লেগেছে’ বাক্যটিতে যন্ত্রণা প্রকাশে অনন্বয়ী অব্যয় এর প্রয়োগ ঘটেছে। যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোন সমন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে নানাবিধ ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। [সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণীর বোর্ড বই]
২৫৩.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি শব্দের উদহরণ কোনটি?
  1. ঘেউ ঘেউ
  2. ফাঁকে ফাঁকে
  3. থেকে থেকে
  4. হাড়ে হাড়ে
সঠিক উত্তর:
ঘেউ ঘেউ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘেউ ঘেউ
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।
যেমন-
• মানুষের ধ্বনির অনুকার : ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।
• জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
• অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), 

এছাড়াও
•বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)
- খাঁচার ফাঁকে ফাঁকে, পরশে মুখে মুখে, নীরবে চোখে চোখে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২৫৪.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. সুরে সুরে
  2. হঠাৎ হঠাৎ
  3. ঠুক ঠুক
  4. গরম গরম
সঠিক উত্তর:
ঠুক ঠুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠুক ঠুক
ব্যাখ্যা
• ঠুক ঠুক শব্দটি ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:

কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন - ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
যেমন - সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।
- অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন - ফোরা টনটন করে, গা ছমছম করে।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, থকথকে, ভটভট, হিস হিস।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন - খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

---------------------------
অন্যদিকে,
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৫৫.
কোনটি অনুকার দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ?
  1. কুটুস-কুটুস
  2. ঝটাঝট 
  3. চুপচাপ
  4. টসটস
সঠিক উত্তর:
চুপচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুপচাপ
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।
যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে, যেমন- আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

অন্যদিকে, 
কুটুস-কুটুস, টসটস, ঝটাঝট ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২৫৬.
'খিল খিল' কোন জাতীয় দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ক) পদের দ্বিরুক্তি
  2. খ) অনুকার দ্বিরুক্তি
  3. গ) শব্দের দ্বিরুক্তি
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
খ) অনুকার দ্বিরুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুকার দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
• যা দুইবার বলা হয়েছে এমন শব্দকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। ‘দ্বি+উক্ত' = দ্বিরুক্ত।

দ্বিরুক্ত শব্দ তিন প্রকার। যথা:
- শব্দের দ্বিরুক্তি (রোজ রোজ, কেউ কেউ)।
- পদের দ্বিরুক্তি ( হেসে হেসে, চোরে চোরে)।
- অনুকার দ্বিরুক্তি ( শন শন, খিল খিল)।

উৎস: বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৫৭.
'ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।' - বাক্যে দ্বিরুক্ত বাচক শব্দটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. অনুভূতি বা ভাব
  2. পৌনঃপুনিকতা
  3. ভাবের গভীরতা
  4. ধ্বনিব্যঞ্জনা
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:

- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৫৮.
'খোঁজাখুঁজি' শব্দটি কীভাবে গঠিত হয়েছে?
  1. উপসর্গযোগে
  2. দ্বিত্ব শব্দদ্বারা 
  3. বিভক্তির সাহায্যে
  4. প্রত্যয়যোগে
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব শব্দদ্বারা 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিত্ব শব্দদ্বারা 
ব্যাখ্যা

• 'খোঁজাখুঁজি' শব্দটি দ্বিত্ব শব্দের সাহায্যে গঠিত হয়েছে।

--------------
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২৫৯.
নিচের কোনটি যুগ্মরীতির দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ছি ছি
  2. জারিজুরি
  3. ডেকে ডেকে
  4. কে কে
সঠিক উত্তর:
জারিজুরি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জারিজুরি
ব্যাখ্যা
• যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত শব্দের গঠন:
- একই শব্দ ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে বলে যুগ্মরীতি। যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত গঠনের কয়েকটি নিয়ম রয়েছে।
যেমন-
•. শব্দের আদি স্বরের পরিবর্তন করে:
- চুপচাপ, মিটমাট, জারিজুরি

• শব্দের অন্ত্যস্বরের পরিবর্তন করে:
- মারামারি, হাতাহাতি, সরাসরি, জেদাজেদি।

• দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তনে:
- ছটফট, নিশপিশ, ভাতটাত।

অন্যদিকে,
- অব্যয়ের দ্বিরুক্ত শব্দ = ছি ছি।
- ক্রিয়া দ্বিরুক্ত শব্দ = ডেকে ডেকে।
- সর্বনাম দ্বিরুক্ত শব্দ = কে কে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২৬০.
সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত নিচের কোনটি দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ক) তালাচাবি
  2. খ) ছোট-বড়
  3. গ) আসা-যাওয়া
  4. ঘ) চালচলন
সঠিক উত্তর:
ঘ) চালচলন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) চালচলন
ব্যাখ্যা
চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ। 

- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- তালাচাবি  হচ্ছে ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। 
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা। 
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়। 

সূত্র- বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি। 
 
২৬১.
কোনটি অনুভূতিজাত কাল্পনিক দ্বিরুক্তি?
  1.  ঝমঝম 
  2. ঝিকিমিকি 
  3. ঘচাঘচ
  4. মড়মড়
সঠিক উত্তর:
ঝিকিমিকি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝিকিমিকি 
ব্যাখ্যা

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।

যেমন:
• মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।
• জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
• বস্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ- মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ), ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।
অনুভূতিজাত কাল্পনিক: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ- ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৬২.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব?
  1. শোঁ শোঁ
  2. কথায় কথায়
  3. ঠুকঠুক
  4. টুং টুং
সঠিক উত্তর:
কথায় কথায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথায় কথায়
ব্যাখ্যা
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায়

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৬৩.
"ফোড়া টনটন করে।" বাক্যে 'টনটন' কোন ধরনের দ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

- অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
- যেমন: ফোড়া টনটন করে, গা ছমছম করে।

- কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
২৬৪.
দ্বিরুক্ত শব্দগুলো কোন ধরনের অর্থ প্রকাশ করে?
  1. বিপরীতার্থক
  2. কালনিরপেক্ষ    
  3. সম্প্রসারিত
  4. নিরর্থক  
সঠিক উত্তর:
সম্প্রসারিত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্প্রসারিত
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এগুলোকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- কোন শব্দ বা পদ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হয়ে কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
যেমন-
- ‘আমার জ্বর জ্বর লাগছে।’ এখানে ‘জ্বর জ্বর’ দ্বিরুক্ত শব্দটি ঠিক ‘জ্বর’ অর্থ প্রকাশ করছে না। জ্বরের ভাব প্রকাশ করছে।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণির বোর্ড বই (২০১৯ সংস্করণ)। 
২৬৫.
তোমাকে ডেকে ডেকে আমি হয়রান হয়ে গেলাম। - কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) কালের বিস্তার
  2. খ) পৌণপুনিকতা
  3. গ) বিরক্তি
  4. ঘ) ভাবের গভীরতা
সঠিক উত্তর:
খ) পৌণপুনিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পৌণপুনিকতা
ব্যাখ্যা

বাংলা ভাষায় ক্রিয়াবাচক পদ নানা অর্থ প্রকাশ করে। প্রশ্নে উল্লিখিত বাক্যটি পৌণপুনিকতা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

২৬৬.
'দামাদামি' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।

যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন-
আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৬৭.
'হু হু' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. অনুকার দ্বিরুক্তি
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্তি
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। 

যেমন-
• মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

• জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

• বস্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ- মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

• অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)।

অনুরূপভাবে-
মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
২৬৮.
আমার জ্বর জ্বর লাগছে- ‘জ্বর জ্বর’ শব্দ দুটি অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হওয়াকে বলে-
  1. দ্বিরুক্ত শব্দ
  2. সার্থক শব্দ
  3. যুগ্মশব্দ
  4. শব্দদ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
দ্বিরুক্ত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিরুক্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
[বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির নতুন সংস্করণ অনুসারে দ্বিরুক্ত শব্দই শব্দদ্বিত্ব নামে অভিহিত করা হয়েছে।
তবে ৪২তম বিসিএসএর প্রশ্নটি পুরাতন সংস্করণ অনুসারে করা হয়েছে। তাই পুরাতন সংস্করণ অনুসারে অপশন ‘ক’ (দ্বিরুক্ত শব্দ) উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।]

• 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে' এখানে 'জ্বর-জ্বর' দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ। 

• শব্দের/পদের দ্বিরুক্তি:
বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি। বাংলা ভাষায় পদের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপায়ে শব্দ গঠন করা হয়। 

• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে।
ক) আধিক্য বােঝাতে: রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
খ) সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে : তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
ঙ) অনুরূপ বােঝাতে: তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বােঝাতে: সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৬৯.
কোন ধরনের দ্বিত্বে বিভক্তিযুক্ত হয়?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বে
  2. অনুকার দ্বিত্বে
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বে
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বে
ব্যাখ্যা

• 'পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বে' - বিভক্তিযুক্ত হয়।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৭০.
'পূজা জ্বর জ্বর বোধ করছে।' -এই বাক্যে 'জ্বর জ্বর' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়?
  1. তীব্রতা
  2. গভীরতা
  3. আধিক্য
  4. সামান্য
সঠিক উত্তর:
সামান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্য
ব্যাখ্যা

'পূজা জ্বর জ্বর বোধ করছে।' -এই বাক্যে 'জ্বর জ্বর' সামান্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

• দ্বিরুক্ত শব্দ:
দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন। বাংলা ভাষার কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে। এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন- আমার জ্বর জ্বর লাগছে অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার-
• আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
• সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
• ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

২৭১.
'ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা।' - বাক্যে দ্বিরুক্ত শব্দ 'বাছা বাছা' কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আধিক্য
  2. কালের বিস্তার
  3. ভাবের প্রগাঢ়তা
  4. সতর্কতা
সঠিক উত্তর:
ভাবের প্রগাঢ়তা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাবের প্রগাঢ়তা
ব্যাখ্যা
বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:

যেমন:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
২৭২.
'টনটন' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. পদাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। 
অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মাক দ্বিত্ব তৈরি হয়। যেমন- ফোড়া টনটন করে, গা ছমছম করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

২৭৩.
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. ঝমঝম
  2. খুটুর খুটুর
  3. ঝিলিমিলি
  4. কথায় কথায়
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কথায় কথায়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কথায় কথায়
ব্যাখ্যা

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ- কথায় কথায়।
---------------
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:

- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন:
ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঝমঝম, টসটস।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, লুটিফুটি, ঝিলিমিলি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৭৪.
অব্যয়ের দ্বিরুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে কোন বাক্যে?
  1. রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
  2. কবিরের মৃত্যুতে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
  3. কে কে যাবে দোকানে?
  4. নদী বয়ে চলে ধীরে ধীরে।
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
কবিরের মৃত্যুতে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবিরের মৃত্যুতে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
ব্যাখ্যা
অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি: কবিরের মৃত্যুতে সবাই হায় হায় করতে লাগল।

বাংলা ব্যাকরণে অব্যয় এমন শব্দ যা বাক্যে অন্য শব্দের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং সাধারণত অপরিবর্তনীয় থাকে। দ্বিরুক্তি বলতে একই শব্দ বা শব্দাংশের পুনরাবৃত্তি বোঝায়, যা অর্থের তীব্রতা বা ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।

অপশন বিশ্লেষণ,
ক) রোগীর তো যায় যায় অবস্থা: এখানে যায় যায় হলো ক্রিয়াপদের দ্বিরুক্তি, কারণ যায় একটি ক্রিয়া। এটি অব্যয় নয়।
খ) কবিরের মৃত্যুতে সবাই হায় হায় করতে লাগল: এখানে হায় হায় হলো অব্যয়ের দ্বিরুক্তি। হায় একটি অনুকরণাত্মক অব্যয় (অনুনাদ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়), যা দুঃখ বা ক্ষোভ প্রকাশ করে। এটি দুইবার ব্যবহৃত হয়েছে, যা দ্বিরুক্তির উদাহরণ। তাই এটি সঠিক উত্তর।

গ) কে কে যাবে দোকানে?: এখানে কে কে হলো প্রশ্নবাচক সর্বনামের দ্বিরুক্তি। কে একটি সর্বনাম, অব্যয় নয়।
ঘ) নদী বয়ে চলে ধীরে ধীরে: এখানে ধীরে ধীরে হলো ক্রিয়াবিশেষণের (বিশেষণ থেকে গঠিত) দ্বিরুক্তি। ধীরে একটি ক্রিয়াবিশেষণ, অব্যয় নয়।

উপসংহার:
• কবিরের মৃত্যুতে সবাই হায় হায় করতে লাগল বাক্যে - হায় হায় অব্যয়ের দ্বিরুক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও  মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়; বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।
২৭৫.
'হাপুস হুপুস' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্তি
  3. অনুকার দ্বিরুক্তি
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।
যেমন-

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির গঠন:
১. একই (ধ্বন্যাত্মক) শব্দের অবিকৃত প্রয়োগ: ধক ধক, ঝন ঝন, পট পট।
২. প্রথম শব্দটির শেষে আ যোগ করে: গপাগপ, টপাটপ, পটাপট।
৩. দ্বিতীয় শব্দটির শেষে ই যোগ করে: ধরাধরি, ঝমঝমি, ঝনঝনি।
৪. যুগ্মরীতিতে গঠিত ধ্বন্যাত্মক শব্দ: কিচির মিচির (পাখি বা বানরের শব্দ), টাপুর টুপুর (বৃষ্টি পতনের শব্দ), হাপুস হুপুস (গোগ্রাসে কিছু খাওয়ার শব্দ)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)
২৭৬.
দ্বিরুক্ত শব্দ বাংলা ব্যাকরণের কোন অংশের আলোচ্য বিষয়?
  1. বাক্যতত্ত্ব
  2. অর্থতত্ত্ব
  3. ধ্বনিতত্ত্ব
  4. রূপতত্ত্ব
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
রূপতত্ত্ব
ব্যাখ্যা
• রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। সুতরাং দ্বিরুত্ব শব্দ রূপতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়।

• ব্যাকরণের আলােচ্য বিষয় ৪ ভাগে বিভক্ত। যথা:

⇒ ধ্বনিতত্ত্ব: ধ্বনিতত্ত্বের আলোচ্য বিষয় ধ্বনি। লিখিত ভাষায় ধ্বনিকে যেহেতু বর্ণ দিয়ে প্রকাশ করা হয় তাই বর্ণমালা সংক্রান্ত আলোচনা এর অন্তর্ভূক্ত।  ধ্বনিতত্ত্বের মূল আলোচ্য বিষয়- বাগ্‌যন্ত্র, বাগ্‌যন্ত্রের উচ্চারণ-প্রক্রিয়া, ধ্বনির বিন্যাস, স্বর ও ব্যঞ্জনধ্বনির বৈশিষ্ট্য, ধ্বনিদল প্রভৃতি।

⇒ রূপতত্ত্ব: রূপতত্ত্বে শব্দ ও তার উপাদান নিয়ে আলোচনা করে। এই আলোচনায়  বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া, ক্রিয়া বিশেষণ ইত্যাদি স্থান পায়। বিশেষ গুরুত্ব পায় শব্দ গঠন প্রক্রিয়া।
 
⇒ বাক্যতত্ত্ব: বাক্যতত্ত্বে বাক্য নিয়ে আলোচনা করে। বাক্যের নির্মাণ ও গঠন বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। বাক্যের মধ্যে পদ ও বর্গ কীভাবে বিন্যস্ত থাকে, বাক্যতত্ত্ব তা বর্ণনা করে। তাছাড়া এক ধরনের বাক্যকে অন্য ধরনের বাক্যে রূপান্তর, বাক্যের বাচ্য, উক্তি ইত্যাদি বাক্যতত্ত্বের আলোচ্য বিষয়। এবং কারক বিশ্লেষণ, বাক্যের যোগ্যতা, বাক্যের উপাদান লোপ, যতিচিহ্ন প্রভৃতি বাক্যতত্ত্বে আলোচনা করা হয়।

⇒ অর্থতত্ত্ব: ব্যকরণের যে অংশে শব্দ, বর্গ ও বাক্যের অর্থ নিয়ে আলোচনা করা হয় সে অংশের নাম অর্থতত্ত্ব। বিপরীত শব্দ, প্রতিশব্দ, শব্দজোড়, বাগধারা প্রভৃতি এর আলোচ্য বিষয়। এছাড়া শব্দ, বর্গ ও বাক্যের ব্যঞ্জনা নিয়েও ব্যাকরণের এ অংশে আলোচন করা হয়ে থাকে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
২৭৭.
"তার সঙ্গী সাথী কেউ নেই।" এখানে "সঙ্গী সাথী" কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ধারাবাহিকতা
  2. অনুরূপ
  3. আধিক্য
  4. আগ্রহ
সঠিক উত্তর:
অনুরূপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুরূপ
ব্যাখ্যা

বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:

আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান।
সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
অনুরূপ কিছু বোঝাতে: তার সঙ্গী সাথী কেউ নেই।
আগ্রহ বোঝাতে: ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

২৭৮.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. কবি কবি
  2. ঠুকঠুক
  3. শোঁ শোঁ
  4. গুটিশুটি
সঠিক উত্তর:
গুটিশুটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুটিশুটি
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
 যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

২৭৯.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ?
  1. ঠুকঠুক
  2. উড়ু উড়ু
  3. চুপচাপ
  4. ঘর-টর
সঠিক উত্তর:
ঠুকঠুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠুকঠুক
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

অন্যদিকে,
• ঘর-টর, চুপচাপ - অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।
• উড়ু উড়ু - পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮০.
কোন শব্দটিকে ক্রিয়াপদের দ্বিরুক্ত ঘটেছে?
  1. কাকে-কাকে
  2. যার যার
  3. হেসে হেসে
  4. কেমন কেমন
সঠিক উত্তর:
হেসে হেসে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হেসে হেসে
ব্যাখ্যা
হেসে হেসে - শব্দটিকে ক্রিয়াপদের দ্বিরুক্ত ঘটেছে।

ক্রিয়াবাচক পদের দ্বিরুক্তি:
- বাংলা ভাষায় ক্রিয়াবাচক পদ নিম্নলিখিত অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়-

বিশেষণরূপে: তোমার নেই নেই ভাব আর গেল না।
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশে মেঘ জমা হয়ে গেল।
ক্রিয়া-বিশেষণ বোঝাতে: দেখে দেখে যাও।
পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: তোমাকে ডেকে ডেকে আমি হয়রান হয়ে গেলাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ) ও মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৮১.
'দ্বাদশ' কোন জাতীয় সংখ্যা?
  1. ক) পরিমাণবাচক
  2. খ) গণনাবাচক
  3. গ) তারিখবাচক
  4. ঘ) পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
ঘ) পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়....একাদশ, দ্বাদশ ইত্যাদি হলো পূরণবাচক বা ক্রমবাচক সংখ্যা। অন্যদিকে ১, ২, ৩.... ১১, ১২, ১৩ ইত্যাদি হলো অঙ্কবাচক সংখ্যা। এক, দুই..... এগার, বার ইত্যাদি হলো পরিমাণ বা গণনাবাচক সংখ্যা। পহেলা, দোসরা, তেসরা, চৌঠা ইত্যাদি হলো তারিখবাচক সংখ্যা। বাংলা ভাষায় তারিখবাচক সংখ্যাগুলোর প্রথম তিনটি হিন্দি ভাষা থেকে এসেছে। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
২৮২.
কোন বাক্যে আধিক্য বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি
  2. খ) ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে
  3. গ) ঝির ঝির করে বাতাস বইছে
  4. ঘ) ভালো ভালো আম নিয়ে এসো
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভালো ভালো আম নিয়ে এসো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ভালো ভালো আম নিয়ে এসো
ব্যাখ্যা
ভালো ভালো আম নিয়ে এসো বাক্যটিতে আধিক্য বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে।
অন্যান্য বাক্যগুলোতে -
ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি (পৌনঃপুনিকতা বুঝাতে)
ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে (আগ্রহ বোঝাতে)
ঝির ঝির করে বাতাস বইছে (ধ্বনিব্যঞ্জনা)
রেফারেন্সঃ ৯ম-১০ম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ
২৮৩.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি শব্দের উদহরণ কোনটি?
  1. বাছা বাছা
  2. থেকে থেকে
  3. ঠা ঠা
  4. চোখে চোখে
সঠিক উত্তর:
ঠা ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠা ঠা
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।
যেমন-
• মানুষের ধ্বনির অনুকার : ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।
• জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
• অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), 

এছাড়াও
•বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)
- খাঁচার ফাঁকে ফাঁকে, পরশে মুখে মুখে, নীরবে চোখে চোখে যায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০১৮ সালের সংস্করণ)।
২৮৪.
নিচের কোন বাক্যে পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. হঠাৎ হঠাৎ দেখা হয়।
  2. ফোড়া টনটন করে।
  3. বুঝেসুঝে পথ চলো।
  4. ঝম ঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ হঠাৎ দেখা হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ হঠাৎ দেখা হয়।
ব্যাখ্যা
• ‘হঠাৎ হঠাৎ দেখা হয়।’ বাক্যে ব্যবহৃত ‘হঠাৎ হঠাৎ ’ শব্দটি পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

অন্যদিকে,
• ঝম ঝম ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।
• অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তেরি হয়।
যেমন:
- ফোড়া টনটন করে।
- গা ছমছম করে।

• বুঝেসুঝে পথ চলো।- অনুকার শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ।

-------------------------
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৫.
নিচের কোন শব্দটি অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকরণে তৈরি ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির উদাহরণ?
  1. ঝলমল
  2. ভেউ ভেউ 
  3. ঘেউ ঘেউ
  4.  ঝমঝম
সঠিক উত্তর:
ঝলমল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝলমল
ব্যাখ্যা

• ‘ঝলমল’ শব্দটি বাস্তবে কোনো আওয়াজ নয়, কিন্তু আলো বা উজ্জ্বলতার অনুভূতি ধ্বনির মাধ্যমে প্রকাশ করে।
- এটি অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকরণে গঠিত ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
---------------------------------
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- দ্বিরুক্ত শব্দ বলতে বোঝায়—যে শব্দ পরপর দু’বার ব্যবহৃত হয়।
- বাংলা ভাষায় অনেক ক্ষেত্রে কোনো শব্দ একবার ব্যবহৃত হলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেই একই শব্দ দু’বার ব্যবহৃত হলে অর্থে ভিন্নতা আসে। - কখনো অর্থ বিস্তৃত হয়, কখনো সংকুচিত হয়।
- ফলে মূল অর্থের সঙ্গে একটি অতিরিক্ত ভাব বা অনুভূতি যুক্ত হয়।
- যেমন— “আজ সারাদিন আমার ঘুম ঘুম পাচ্ছে”;
- এখানে ‘ঘুম’ শব্দটি দু’বার ব্যবহৃত হয়ে পুরো ঘুম নয়, বরং ঘুমের ভাব বোঝাচ্ছে।

- গঠনগত দিক থেকে দ্বিরুক্ত শব্দকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
• শব্দের দ্বিরুক্তি— যেখানে একই শব্দ পরপর ব্যবহৃত হয়। 
• পদের দ্বিরুক্তি— যেখানে কোনো ক্রিয়া বা পদের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে কাজের ধারাবাহিকতা বোঝানো হয়। 
• অনুকার দ্বিরুক্তি বা ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি— যা ধ্বনি বা অনুভূতির অনুকরণে গঠিত।
-----------------------------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি হলো এমন দ্বিরুক্ত শব্দ, যা কোনো বাস্তব বা কাল্পনিক আওয়াজ, শব্দ বা অনুভূতির অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই ধরনের শব্দের পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ধ্বনির তীব্রতা, ধারাবাহিকতা বা অনুভূতির গভীরতা প্রকাশ পায়।
- যেমন— ভবভন, হুহু, ফ্যালফ্যাল, চকচক, কিচমিচ, ধকধক, বিড়বিড়, ধপধপ,ম্যাজম্যাজ, বকবক, খটখট, কড়কড়, সাঁইসাঁই ইত্যাদি।

• অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকরণ:
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকরণ।
- এখানে বাস্তবে কোনো শব্দ না থাকলেও মানুষের অনুভূতিকে ধ্বনির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
- যেমন—
- ঝলমল (আলোর উজ্জ্বলতা),
- টনটন (ব্যথার অনুভূতি),
- ঝিমঝিম (মাথা ভারী লাগা),
- কাঁপাকাঁপি (ঠান্ডার অনুভূতি)।
-------------------------------- 
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্ন উৎস থেকে গঠিত হতে পারে।

• মানুষের ধ্বনির অনুকরণ, যেমন—
- আহা আহা (ব্যথা),
- উফ উফ (কষ্ট প্রকাশ),
- ভেউ ভেউ, ট্যাট্যা (কাঁদার শব্দ), 
- হা হা, ঠাঠা (হাসির শব্দ),
- গর গর (বিরক্তি বা অস্বস্তি),
- ফিস ফিস (চুপিচুপি কথা বলা) ইত্যাদি। 


• জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকরণ, যেমন—
- চিঁ চিঁ (ইঁদুরের ডাক), 
- ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি),
- মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক),
- কুহু কুহু (কোকিলের ডাক),
- কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

• বস্তুর ধ্বনির অনুকরণ, উদাহরণস্বরূপ—
- ঝনঝন (ধাতব শব্দ),
- ঠাসঠাস (কাঠে আঘাতের শব্দ),
- ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ),
- মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ),
- ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ),
- চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ), 
- হু হু (বাতাসের প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

উৎস:
ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াত মামুদ; 
বাংলা ২য় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 

২৮৬.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. এলোমেলো
  2. চকচক
  3. হাতে হাতে
  4. ভটভট
সঠিক উত্তর:
হাতে হাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতে হাতে
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন-জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে, 
• এলোমেলো অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।
• চকচক ও ভটভট ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৮৭.
'জ্বলজ্বল' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. পদাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
কুট কুট, খক খক, সাঁই-সাঁই, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথক, শোঁ শোঁ, চকচক, ভটভট, ধুপধুপ টুপটাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৮৮.
নিম্নের কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. ক) চোখে চোখে
  2. খ) থকথকে
  3. গ) তাড়াতাড়ি
  4. ঘ) গরম গরম
সঠিক উত্তর:
গ) তাড়াতাড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তাড়াতাড়ি
ব্যাখ্যা
'তাড়াতাড়ি' = অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ। 
চোখে চোখে, গরম গরম = পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব। 
থকথকে = ধ্বন্যাত্ম্যক দ্বিত্ব। 
---------------------

অনুকার দ্বিত্ব
- পরপর প্রয়ােগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় এই রকম একটা ভাব।
যেমন -
- অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাট্ট-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলােমেলাে, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষমেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মােটাসােটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ।

অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন -
আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘােরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মােটামুটি, টুকরাে-টাকরা, ধারধাের, জোগাড়-জাগাড়।


উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
২৮৯.
বিভক্তিযুক্ত বা বিভক্তিহীন হতে পারে কোন ধরনের দ্বিত্বে?
  1. পদদ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৯০.
ব্যাপ্তি অর্থে অনুকার শব্দের প্রয়োগ কোনটি?
  1. ক) শীত শীত
  2. খ) পাকা পাকা
  3. গ) পথে পথে
  4. ঘ) বারবার
সঠিক উত্তর:
গ) পথে পথে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) পথে পথে
ব্যাখ্যা
• ব্যাপ্তি অর্থে অনুকার শব্দের প্রয়োগ - পথে পথে।

• বিভিন্ন অর্থে শব্দদ্বিত্ব বা অনুকার শব্দের প্রয়োগ: 
- আধিক্য অর্থে: পাকা পাকা ,রাশি রাশি, লাল লাল।
- সামান্য বা ঈষৎ অর্থে: কবি কবি, হাসি হাসি, শীত শীত।
- পরপর অর্থে: বারবার, দিন দিন, বছর বছর।
- ব্যাপ্তি অর্থে: ঘরে ঘরে, দিকে দিকে , পথে পথে

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন।
২৯১.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব?
  1. আগড়ম বাগড়ম
  2. সাঁ সাঁ
  3. বুঝে সুঝে
  4. কথায় কথায়
সঠিক উত্তর:
সাঁ সাঁ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাঁ সাঁ
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন:
- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
[কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।]

যেমন:
- সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন-
- ফোড়া টনটন করে,
- গা ছমছম করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধূপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

অন্যদিকে, 
• আগড়ম বাগড়ম ও বুঝে সুঝে অনুকার দ্বিত্ব। 
• কথায় কথায় পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
২৯২.
নিম্নের কোন বাক্যে পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে?
  1. ক) তোমার সাথে আমার আর কোনো লেন দেন নেই।
  2. খ) তার ভালো-মন্দ বোধ নেই।
  3. গ) কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করে ডাকছে।
  4. ঘ) তুমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলেছ।
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলেছ।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) তুমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলেছ।
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি: দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে।
যেমন: দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগলো।
আবার, দ্বিতীয় পদের আংশিক পরিবর্তনও ঘটে, কিন্তু পদ বিভক্তি অবিকৃত থাকে। যেমন - চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে।
পদের দ্বিরুক্ত শব্দের বিভিন্ন রকম প্রয়োগ রয়েছে। প্রশ্নে উল্লেখিত বাক্যে অব্যয় পদের দ্বিরুক্তি হয়েছে।

"তুমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা তুলেছ।" পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে।
 
"তার ভালো-মন্দ বোধ নেই।" বাক্যে শব্দের দ্বিরুক্তি ঘটেছে। 
"তোমার সাথে আমার আর কোনো লেন দেন নেই।" বাক্যে শব্দের দ্বিরুক্তি ঘটেছে। 
"কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করে ডাকছে।" বাক্যে অনুকার দ্বিরুক্তি ঘটেছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
২৯৩.
‘ঘুম ঘুম চোখে কাজ করেছি।’ - এ বাক্যে ‘ঘুম ঘুম’ কোন ধরনের দ্বিত্ব?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ‘ঘুম ঘুম চোখে কাজ করেছি।’ বাক্যে ‘ঘুম ঘুম’ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৯৪.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. টুং টুং
  2. জ্বলজ্বল
  3. গরম গরম
  4. কুট কুট
  5. গুটিশুটি
সঠিক উত্তর:
গুটিশুটি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুটিশুটি
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

২৯৫.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. গুটিশুটি
  2. অল্পস্বল্প
  3. ঝাল-টাল
  4. ঠুক-ঠুক
সঠিক উত্তর:
ঠুক-ঠুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠুক-ঠুক
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- টুং টুং, ঠুক-ঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পস্বল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৯৬.
'আম টাম' কোন ধরনের দ্বিরুক্তি?
  1. ক) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. খ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. গ) অনুকার দ্বিত্ব
  4. ঘ) কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
'আম টাম'- 'অনুকার দ্বিত্ব' এর উদাহরণ। 

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস। 

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
২৯৭.
পৌণপুনিকতা বোঝাতে কোন বাক্যে ক্রিয়াবাচক পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে?
  1. ক) সে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দখেছে
  2. খ) এত খাই খাই ভালো না
  3. গ) তোমাকে ডেকে ডেকে আমি হয়রান হয়ে গেলাম
  4. ঘ) দেখতে দেখতে আকাশে মেঘ জমা হয়ে গেল
সঠিক উত্তর:
গ) তোমাকে ডেকে ডেকে আমি হয়রান হয়ে গেলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তোমাকে ডেকে ডেকে আমি হয়রান হয়ে গেলাম
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় ক্রিয়াবাচক পদ নিম্নোক্ত অর্থ প্রকাশে ব্যবহৃত হয়-

- পৌনপুনিকতা বোঝাতে : তোমাকে ডেকে ডেকে আমি হয়রান হয়ে গেলাম
- স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে : দেখতে দেখতে আকাশে মেঘ জমা হয়ে গেল।
- ক্রিয়া-বিশেষণ বোঝাতে : সে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখছে।
- বিশেষণরূপে : এত খাই খাই করা ভালো না।

উৎস:- মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৯৮.
"কুট কুট" কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. পুনরাবৃত্ত
  2. ধ্বন্যাত্মক
  3. অনুকার
  4. বিভক্তিযুক্ত
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়।
যেমন-
১. মানুষের ধ্বনির অনুকার: ভেউ ভেউ- মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ- ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।
২. জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ- মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।
৩. বস্তুর ধ্বনির অনুকার: ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ- মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।
৪. অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার: ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যকারণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।
২৯৯.
নিচের কোনটি অনুকার শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. জ্বলজ্বল
  2. এলোমেলো
  3. থকথকে
  4. খক খক
সঠিক উত্তর:
এলোমেলো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এলোমেলো
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
কচর-মচর, অঙ্ক-টঙ্ক, চাকর-বাকর, ঝিকিমিকি, এলোমেলো, অল্পসল্প, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০০.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. কবি কবি
  2. নরম-সরম
  3. ঝাল-টাল
  4. খক খক
সঠিক উত্তর:
খক খক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খক খক
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব - নরম-সরম, ঝাল-টাল।
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - কবি কবি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।