বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব

মোট প্রশ্ন৬০১এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ/শব্দ দ্বিত্ব

PrepBank · পাতা / · ১০০ / ৬০১

.
"সে মা মা বলে কাঁদছে" এখানে 'মা মা' দ্বিরুক্তি শব্দ দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে? 
  1. সামান্য
  2. আগ্রহ
  3. আধিক্য
  4. পরস্পরতা
সঠিক উত্তর:
আগ্রহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগ্রহ
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি: 
- বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি। 

বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: 
- বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে- 
ক) আধিক্য বোঝাতে: 
• রাশি রাশি ধান, 
• থোকা থোকা জাম। 

খ) সামান্য বোঝাতে: 
• আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি। 

গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: 
• তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ, 
• সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে। 

ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বোঝাতে: 
• সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়। 

ঙ) অনুরূপ বোঝাতে: 
• তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই। 

চ) আগ্রহ বোঝাতে: 
সে মা মা বলে কাঁদছে। 

উৎস: বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. সুরে সুরে
  2. অল্পসল্প
  3. দমাদম
  4. ঘুম ঘুম
সঠিক উত্তর:
অল্পসল্প
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অল্পসল্প
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

যেমন:
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

আবার, 
দমাদম - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

.
কোন শব্দটি বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে সৃষ্টি হয়েছে?
  1. মড়মড়
  2. গুনগুন
  3. ভেউ ভেউ
  4.  ঠা ঠা
সঠিক উত্তর:
মড়মড়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মড়মড়
ব্যাখ্যা

ধ্বনিবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ:
- কোনোকিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ জাতীয় শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে:
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে: ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠা ঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে: মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে: ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
অনুরূপভাবে, কড়কড় (বিশেষ্য) মেঘগর্জন ধ্বনি; বজ্রপাতের শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

.
বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. জ্বর জ্বর
  2. কবি কবি
  3. হাতে হাতে
  4. ভালো ভালো
সঠিক উত্তর:
হাতে হাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতে হাতে
ব্যাখ্যা

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ- হাতে হাতে। 

অন্যদিকে, 
জ্বর জ্বর, কবি কবি ও ভালো ভালো বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ। 

-----------------
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:

পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

.
‘ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি।’- এখানে ‘ঝাঁকে ঝাঁকে’ কোন ধরনের দ্বিরুত্ব শব্দের উদাহরণ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. বিভক্তিহীন দ্বিত্ব
  4. অনুকার দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
.
'খাবারদাবার' কোন শব্দ দ্বিত্ব?
  1. ধ্বন্যাত্মক শব্দ
  2. অনুকার শব্দ
  3. শব্দদ্বৈত
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
অনুকার শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার শব্দ
ব্যাখ্যা
অনুকার শব্দ:
- শব্দের অনুকরণে বা বিকারে যেসব শব্দের সৃষ্টি হয়, তাকে অনুকার শব্দ বলে। অনুকার শব্দ ধ্বন্যাত্মক শব্দেরই রকমফের মাত্র।

যেমন:
আবোলতাবোল: নোমান সকাল থেকে আবোলতাবোল বকে চলেছে।
কাপড়চোপড়: মা বাইরে যাবার জন্য কাপড়চোপড় পরে তৈরি হয়ে বসে আছেন।
খাবারদাবার: এইমাত্র খাবারদাবার শেষ হয়েছে।
গোছগাছ: জিনিসপত্র গোছগাছ করে নাও, এক্ষুনি বেরুব।
চোটপাট: আমাকে চোটপাট করে কোনো লাভ হবে না।
জড়সড়: ভয়ে ছেলেটা জড়সড় হয়ে আছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
.
”অনুকার দ্বিত্বের” উদাহরণ কোনটি?
  1. জ্বলজ্বল
  2. ঝমঝম
  3. ঝাঁকে ঝাঁকে
  4. আড়াআড়ি
সঠিক উত্তর:
আড়াআড়ি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আড়াআড়ি
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায়দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন: এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল।

অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে,
- যেমন
- আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি।

অন্যদিকে,
• ধ্বন্যাত্মকদ্বিত্ব এর উদাহরণ=  জ্বলজ্বল, ঝমঝম,।
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব এর উদাহরণ= ,ঝাঁকে ঝাঁকে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

.
কোনটিতে বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার হয়েছে?
  1. ধামা ধামা ধান
  2. গরম গরম জিলাপি
  3. ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল
  4. ভালো ভালো আম নিয়ে এসো
সঠিক উত্তর:
ধামা ধামা ধান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধামা ধামা ধান
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:
১. আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান
২. সামান্য বোঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর বোধ করছি।
৩. পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ। তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

অন্যদিকে,
বিশেষণ শব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
১. আধিক্য বোঝাতে: ভালো ভালো আম নিয়ে এসো। ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল
২. তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতে: গরম গরম জিলাপি, নরম নরম হাত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. জ্বলজ্বল
  2. এলোমেলো
  3. জ্বর জ্বর
  4. কথায় কথায়
সঠিক উত্তর:
জ্বলজ্বল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্বলজ্বল
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

১০.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ নয়?
  1. ভটভট
  2. কচর-মচর
  3. ঝিলমিল
  4. টাট্ট-ফাটু
সঠিক উত্তর:
ভটভট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভটভট
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়ােগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় এই রকম একটা ভাব।
যেমন -
- অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাট্ট-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলােমেলাে, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষমেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মােটাসােটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন-
- কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথক, শোঁ শোঁ, চকচক, ভটভট, ধুপধুপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
১১.
নিচের কোন বাক্যে দ্বিরুক্ত বাচক শব্দে 'ভাবের গভীরতা' প্রকাশ পেয়েছে?
  1. সবাই হায় হায় করতে লাগল।
  2. ফোঁড়াটা টন টন করছে।
  3. পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
  4. ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
সঠিক উত্তর:
সবাই হায় হায় করতে লাগল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবাই হায় হায় করতে লাগল।
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:

যেমন:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

১২.
কোনটি ভিন্নার্থক শব্দ যোগে দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. জন্ম-মৃত্যু
  2. বন-জঙ্গল
  3. মাঝামাঝি
  4. ডাল-ভাত
সঠিক উত্তর:
ডাল-ভাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডাল-ভাত
ব্যাখ্যা
একই শব্দ ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে বলে যুগ্মরীতি।
যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত গঠনের কয়েকটি নিয়ম রয়েছে।
যেমন-
১. শব্দের আদি স্বরের পরিবর্তন করে: চুপচাপ, মিটমাট, জারিজুরি, টুপটাপ।
২. শব্দের অন্ত্যস্বরের পরিবর্তন করে: মাঝামাঝি, মারামারি, হাতাহাতি, সরাসরি, জেদাজেদি।
৩. দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তনে: ছটফট, নিশপিশ, ভাতটাত।
৪. সমার্থক বা একার্থক সহচর শব্দ যোগে: চালচলন, রীতিনীতি, বনজঙ্গল, ভয়ডর।
৫. ভিন্নার্থক শব্দ যোগে: ডালভাত, তালাচাবি, পথঘাট, অলিগলি।
৬. বিপরীতার্থক শব্দ যোগে: ছোট-বড়, আসা-যাওয়া, জন্ম-মৃত্যু, আদান-প্রদান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৩.
নিচের কোন বাক্যে পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ঝম ঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।
  2. ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা নীড়ে ফিরছে।
  3. বুদ্ধিশুদ্ধি কিছু নেই।
  4. বেলটা টং টং করে বাজছে।
সঠিক উত্তর:
ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা নীড়ে ফিরছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা নীড়ে ফিরছে।
ব্যাখ্যা
• ‘ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরা নীড়ে ফিরছে।’ বাক্যে ব্যবহৃত ‘ঝাঁকে ঝাঁকে’ শব্দটি পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে, 
• বুদ্ধিশুদ্ধি অনুকার শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।
• ঝম ঝম ও টং টং ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
১৪.
'তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই' বাক্যে কোন অর্থে পদের দ্বিরুক্তি ঘটেছে?
  1. ক) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে
  2. খ) আধিক্য বােঝাতে
  3. গ) আগ্রহ বােঝাতে
  4. ঘ) অনুরূপ বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুরূপ বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুরূপ বোঝাতে
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি:
বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি।
- বাংলা ভাষায় পদের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপায়ে শব্দ গঠন করা হয়

বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি:
বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে।

- আধিক্য বােঝাতে: রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
- সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
- পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে: তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
- ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
- অনুরূপ বােঝাতে: তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
- আগ্রহ বােঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
১৫.
প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে সৃষ্ট শব্দের পুনরাবৃত্তিকে কী বলে?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. শব্দ দ্বিত্ব
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
⇒ কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
⇒  কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। 

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

১৬.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব?
  1. ঝাল-টাল
  2. মোটাসোটা
  3. নরম-সরম
  4. টুং টুং
সঠিক উত্তর:
টুং টুং
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুং টুং
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

অন্যদিকে:
অনুকার দ্বিত্ব - ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
১৭.
বস্তুর ধ্বনির অনুকার বোঝাতে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি হয়েছে কোনটি?
  1. হি হি
  2. হু হু
  3. ঠা ঠা
  4. ট্যা ট্যা
সঠিক উত্তর:
হু হু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হু হু
ব্যাখ্যা
• বস্তুর ধ্বনির অনুকার বোঝাতে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি হয়েছে - হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ)।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:

- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়। যেমন-

মানুষের ধ্বনির অনুকার:
- ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

বস্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ-মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার:
- ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
১৮.
'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'- বাক্যের ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তিটি কোন পদ নির্দেশ করছে?
  1. ক্রিয়া বিশেষণ
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. বিশেষ্য
  5. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়। 

• বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
- বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
- বিশেষণ: 'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।'
- ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
- ক্রিয়া বিশেষণ: 'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।'

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
১৯.
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. চুকচুক
  2. সুড়সুড়
  3. গুনগুন
  4. চুপচাপ
সঠিক উত্তর:
চুপচাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চুপচাপ
ব্যাখ্যা

• চুপচাপ - অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ।

-----------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- যেমন: ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ।
- কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়।
- ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।
- যেমন: সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ বিভিন্নভাবে হতে পারে।
যেমন, 
১। মানুষের বিভিন্ন ধ্বনির অনুকরণের সাহায্যে : ভেউ ভেউ করে কাঁদা, ট্যাট্যা করে কাঁদা, হা হা করে হাসা, ঠাঠা করে হাসা ইত্যাদি
২। জীব-জন্তুর ধ্বনিকে অনুকরণ করে : মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ডাক), গুনগুন (মৌমাছির ডাক) ইত্যাদি।
৩। কোন বস্তুর ধ্বনির অনুকরণে : ঝমঝম (বৃষ্টির শব্দ), চুকচুক (দুধ খাবার শব্দ) মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ইত্যাদি।
৪। অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির শব্দ : চিকচিক, ঝিকমিক, কুটকুট, ম্যাজম্যাজ, ঘিনঘিন, ঘ্যানঘ্যান, সুড়সুড়, চিনচিন, ছমছম ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-২০২১ সংস্করণ)।

২০.
কোনটি অব্যয় দ্বিরুক্তির উদাহরণ?
  1. ছটফট
  2. বার বার
  3. ডেকে ডেকে
  4. কেউ কেউ
সঠিক উত্তর:
বার বার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার বার
ব্যাখ্যা
• অব্যয়ের দ্বিরুক্তি:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে - তার দু:খ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে - বার বার সে কামান গর্জে উঠল। 
- ভাব বোঝাতে -  ভয়ে গা ছম ছম করছে। 
- বিশেষণ বোঝাতে - পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটে মিটে। 
- ধ্বনিব্যঞ্জনা - ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।

অন্যদিকে,
• যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্তি শব্দ:
- দ্বিতীয়বার ব্যবহার সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তন বোঝাতে- ছটফট।

• ক্রিয়া বাচক দ্বিরুক্তি শব্দ :
- পৌন:পুনিকত বোঝাতে- ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

• সর্বাবনাম বাচক দ্বিরুক্তি শব্দ :
- আধিক্য বোঝাতে- কেউ কেউ বলে।


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম ও দশম শ্রেণি ( ২০১৯ সালের সংস্করণ)
২১.
কোনটি ধনাত্মক দিত্বের উদাহরন?
  1. ক) মুটামুটি
  2. খ) তাড়াতাড়ি
  3. গ) মারধোর
  4. ঘ) থকথকে
সঠিক উত্তর:
ঘ) থকথকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) থকথকে
ব্যাখ্যা

শব্দের দিত্ব তিন প্রকার,
যথা:
- অনুকার দিত্ব,
- ধনাত্মক দিত্বের,
- পুনরাবৃত্ত দিত্ব।

- মুটামুটি, তাড়াতাড়ি, মারধোর , ছাগল-টাগল, ঝিকিমিকি, কচর-মচর ইত্যাদি অনুকার দিত্ব এর উদাহরন।

- টপাটপ, দমাদম, গপগপে, থকথকে ইত্যাদি ধনাত্মক দিত্বের এর উদাহরন । 

- সুরে সুরে, ধাপে ধাপে, চোখে চোখে ইত্যাদি পুনরাবৃত্ত দিত্ব এর উদাহরন।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি।
২২.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব?
  1. অল্পস্বল্প
  2. বুঝে-সুঝে
  3. নরম-সরম
  4. ঠুকঠুক
সঠিক উত্তর:
ঠুকঠুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠুকঠুক
ব্যাখ্যা
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ, খক খক, দুম দুম।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব - নরম-সরম, বুঝে-সুঝে, অল্পস্বল্প।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম (২০২২ সংস্করণ)।
২৩.
নিচের কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. টুং টুং
  2. ঠুকঠুক
  3. ঘর-টর
  4. পটাপট
সঠিক উত্তর:
ঘর-টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘর-টর
ব্যাখ্যা

শব্দদ্বিত্ব:
অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোন শব্দ পর পর দুইবার ব্যবহার হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব ৩ প্রকার-
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধনাত্মক দ্বিত্ব,
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। যেমন:
- অঙ্ক-টঙ্ক;
- আম-টাম,
- কেক-টেক;
- ঘর-টর;
- গরু-টরু;
- ছাগল- টাগল;
- আড়াআড়ি,
- খোজাখুজি ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - টুং টুং, ঠুকঠুক, শোঁ শোঁ।
- কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। 
- যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৪.
কোন ধরনের দ্বিত্বে বিভক্তি যুক্ত হতে দেখা যায়?
  1. পুনরাবৃত্ত
  2. অনুকার
  3. ধ্বন্যাত্মক
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত
ব্যাখ্যা

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

২৫.
নিচের কোনটি কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার?
  1. ক) ঠা ঠা
  2. খ) কা কা
  3. গ) টুপ টুপ
  4. ঘ) ট্যা ট্যা
সঠিক উত্তর:
ক) ঠা ঠা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ঠা ঠা
ব্যাখ্যা
'ঠা ঠা' হচ্ছে কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার।

• চোখ, ত্বক, হৃদয় প্রভৃতি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতি ভাব প্রকাশক অনুকারজাত দ্বিরুক্ত শব্দকে অনুভূতিমূলক কাল্পনিক ধনাত্মক শব্দদ্বৈত বলে।
- যেমন: কনকন, কুসুম কুসুম, টনটন, ছট ফট, দুরু দুরু, ঝিকিমিকি, ঠা ঠা, কুটকুট, মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
২৬.
আমার জ্বর জ্বর লাগছে- ‘জ্বর জ্বর’ শব্দ দুটি অবিকৃতভাবে উচ্চারিত হওয়াকে বলে-
  1. দ্বিরুক্ত শব্দ
  2. সার্থক শব্দ
  3. যুগ্মশব্দ
  4. শব্দদ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
দ্বিরুক্ত শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিরুক্ত শব্দ
ব্যাখ্যা
[বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণির নতুন সংস্করণ অনুসারে দ্বিরুক্ত শব্দই শব্দদ্বিত্ব নামে অভিহিত করা হয়েছে।
তবে ৪২তম বিসিএসএর প্রশ্নটি পুরাতন সংস্করণ অনুসারে করা হয়েছে। তাই পুরাতন সংস্করণ অনুসারে অপশন ‘ক’ (দ্বিরুক্ত শব্দ) উত্তর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।]

• 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে' এখানে 'জ্বর-জ্বর' দ্বিরুক্ত শব্দের উদাহরণ। 

• শব্দের/পদের দ্বিরুক্তি:
বাক্যে একই পদ বার বার ব্যবহার করাকে বলা হয় পদের দ্বিরুক্তি। বাংলা ভাষায় পদের দ্বিরুক্তির মাধ্যমে নিম্নলিখিত উপায়ে শব্দ গঠন করা হয়। 

• বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে।
ক) আধিক্য বােঝাতে: রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
খ) সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে : তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
ঙ) অনুরূপ বােঝাতে: তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বােঝাতে: সে মা মা বলে কাঁদছে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
২৭.
পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার ঘটেছে কোন বাক্যে?
  1. ছি ছি, তুমি কী করেছ?
  2. ভয়ে গা ছম ছম করছে।
  3. বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
  4. আমার জ্বর জ্বর লাগছে।
সঠিক উত্তর:
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
ব্যাখ্যা
• পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার ঘটেছে- ‘বার বার সে কামান গর্জে উঠল।’ বাক্যে।

• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন -
- আমার জ্বর জ্বর লাগছে।
অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

• অব্যয়ের দ্বিরুক্তি:
১. ভাবের গভীরতা বোঝাতে:
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- ছি ছি, তুমি কী করেছ?

২. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

৩. অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ফোঁড়াটা টন টন করছে।

৪. বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।

৫. ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
২৮.
"শিশুর ঘুম ঘুম হাসিতে সবাই মুগ্ধ হয়ে গেল।" - কীসের উদাহরণ?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• "শিশুর ঘুম ঘুম হাসিতে সবাই মুগ্ধ হয়ে গেল।" - এখানে "ঘুম ঘুম" পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:

- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
- অনুকার দ্বিত্ব - অঙ্ক-টঙ্ক, মোটাসোটা।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - খক খক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
২৯.
বিভক্তিহীন শব্দদ্বিত্ব কোনটি?
  1. ক) আড়াআড়ি
  2. খ) গবাগব
  3. গ) পথে পথে
  4. ঘ) গরম গরম
সঠিক উত্তর:
ঘ) গরম গরম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) গরম গরম
ব্যাখ্যা
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উডু
উডু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা) ।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন: ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্রাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব

- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন – ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। 
- কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। যেমন - সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।
- অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়। যেমন – ফোড়া টনটন করে, গা ছমছম করে। 

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:

কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথকে, ফুসুর ফুসুর, ভটভট, শোঁ শোঁ, হিস হিস ।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন:
খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি, ২০২২ সংস্করণ।
৩০.
নিচের কোন বাক্যে পুনরাবৃত্ত দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ফোড়া টনটন করে।
  2. গা ছমছম করে।
  3. সুরে সুরে কথা বলে।
  4. রোদ ঝিলমিল করে।
সঠিক উত্তর:
সুরে সুরে কথা বলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সুরে সুরে কথা বলে।
ব্যাখ্যা
⇒ ‘সুরে সুরে কথা বলে।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘সুরে সুরে’ শব্দটি বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

⇒ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

♦ বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

♦ বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তেরি হয়। 
যেমন:
- ফোড়া টনটন করে।
- গা ছমছম করে।

- রোদ ঝিলমিল করে। - বাক্যে ঝিলমিল অনুকার দ্বিত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব?
  1. জ্বর জ্বর
  2. ঝাল-টাল
  3. খক খক
  4. শোঁ শোঁ
সঠিক উত্তর:
ঝাল-টাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝাল-টাল
ব্যাখ্যা

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - জ্বর জ্বর। 
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - শোঁ শোঁ, খক খক।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩২.
'দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।' এখানে ‘দেখতে দেখতে' দ্বিরুক্তিটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. পৌনঃপুনিকতা
  2. অস্থিরতা
  3. দীর্ঘকাল স্থায়ী
  4. স্বল্পকাল স্থায়ী
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
স্বল্পকাল স্থায়ী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্বল্পকাল স্থায়ী
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:

বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- তোমার নেই নেই ভাব গেলো না।

স্বপ্লকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।

ক্রিয়া বিশেষণ:
- দেখে দেখে যেও।
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৩.
আমি আজ জ্বর জ্বর বােধ করছি- বাক্যে 'জ্বর জ্বর' কি অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) গভীরতা
  2. খ) সামান্য
  3. গ) আধিক্য
  4. ঘ) তীব্রতা
সঠিক উত্তর:
খ) সামান্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) সামান্য
ব্যাখ্যা

দ্বিরুক্ত অর্থ দুইবার উক্ত হয়েছে এমন।
যেমন-
আধিক্য বােঝাতে- রাশি রাশি ধন, ধামা ধামা ধান।
সামান্য বােঝাতে- আমি আজ জ্বর জ্বর বােধ করছি।
ভাবের গভীরতা বােঝাতে- ছি ছি, তুমি কী করেছ?
তীব্রতা বােঝাতে- গরম গরম জিলাপি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি

৩৪.
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার কোনটি?
  1. ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?
  2. দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
  3. এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
  4. ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
সঠিক উত্তর:
দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:
 
বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- তোমার নেই নেই ভাব গেলো না।
 
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
 
ক্রিয়া বিশেষণ:
- দেখে দেখে যেও।
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?
 
পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব?
  1. পটাপট
  2. এলো মেলো
  3. ঝমঝম
  4. হাতে হাতে
সঠিক উত্তর:
হাতে হাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হাতে হাতে
ব্যাখ্যা
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।

যেমন:
- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
- ‘এলো মেলো’ অনুকার শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।
- ঝমঝম ও পটাপট ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৬.
কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব?
  1. ঝিলমিল
  2. লুটিফুটি
  3. এলোমেলো
  4. কবি কবি
সঠিক উত্তর:
কবি কবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কবি কবি
ব্যাখ্যা

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন – জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালাে ভালাে (কথা), কত কত (লােক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন: ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঝমঝম, টসটস।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, লুটিফুটিঝিলিমিলি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৩৭.
"তোমার নেই নেই ভাব গেল না।" - এখানে দ্বিরুক্ত বাচক শব্দ 'নেই নেই' কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. পৌনঃপুনিকতা
  2. আধিক্য
  3. সামান্যতা
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবাচক শব্দ:

বিশেষণ রূপে: এদিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা। তোমার নেই নেই ভাব গেল না। 
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো। 
ক্রিয়া বিশেষণ: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮.
"ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।" - এ বাক্যে 'ঝির ঝির' কোন অর্থে দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. পৌনঃপুনিকতা
  2. ভাবের গভীরতা
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. স্বল্পকাল স্থায়ী
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা
• 'ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।' - বাক্যটি অব্যয়ের দ্বিরক্তি যা 'ধ্বনিব্যঞ্জনা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯.
বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব কোনটি?
  1. হঠাৎ হঠাৎ
  2. উড়ু উড়ু
  3. ভালো ভালো
  4. মনে মনে
সঠিক উত্তর:
মনে মনে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মনে মনে
ব্যাখ্যা
• বিভক্তিযুক্ত শব্দদ্বিত্ব - মনে মনে

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৪০.
‘আগড়ম-বাগড়ম’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. ক) অনুকার দ্বিত্ব
  2. খ) পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. গ) ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. ঘ) কোনটিই নয়।
সঠিক উত্তর:
ক) অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, ঝাল-টাল, মোটা-সোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্প-সল্প, বুদ্ধি-শুদ্ধি, গুটি-শুটি, আম-টাম, আগড়ম-বাগড়ম

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪১.
ধ্বন্যাত্মক শব্দের উদাহরণ কোনটি?
  1. চাকর-বাকর
  2. চকচক
  3. জ্বর জ্বর
  4. সুরে সুরে
সঠিক উত্তর:
চকচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চকচক
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, থকথকে, ভটভট, হিস হিস।

কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট। 

অন্যদিকে, 
------------------
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
কচর-মচর, অঙ্ক-টঙ্ক, চাকর-বাকর, এলোমেলো, অল্পসল্প, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন: জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৪২.
'লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান' - বাক্যে ‘হাড়ে হাড়ে’ দ্বিরুক্ত শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ভাবের প্রগাঢ়তা
  2. কালের বিস্তার
  3. সর্তকতা
  4. আধিক্য
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আধিক্য
ব্যাখ্যা
বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা),
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা),
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার),
- লোকটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)

দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৩.
'ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?' - বাক্যে 'ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে' দ্বিরুক্ত দিয়ে কি প্রকাশ পেয়েছে?
  1. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে
  2. ক্রিয়া বিশেষণ
  3. স্বল্পকাল স্থায়ী
  4. বিশেষণ রূপে
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবাচক শব্দ:
১. বিশেষণ রূপে: এদিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা। তোমার নেই নেই ভাব গেল না।
২. স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
৩. ক্রিয়া বিশেষণ: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
৪. পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৪.
'বাড়াবাড়ি' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
  4. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• 'বাড়াবাড়ি' অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ। 

• অনুকার দ্বিত্ব:

পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।

যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে।
যেমন-
আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৪৫.
নিচের কোনটি পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. ঝাঁকে ঝাঁকে
  2. ঝাল-টাল
  3. খুটুর খুটুর
  4. অল্পসল্প
সঠিক উত্তর:
ঝাঁকে ঝাঁকে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝাঁকে ঝাঁকে
ব্যাখ্যা
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
 যেমন
- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
- ভালো ভালো (কথা), কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
- কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে: 
- 'অল্পসল্প' এবং 'ঝাল-টাল' হচ্ছে অনুকার শব্দদ্বিত্ব।
- 'খুটুর খুটুর' হচ্ছে ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৪৬.
'ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।' - বাক্যে 'ঝির ঝির' কোন অর্থে প্রকাশ পেয়েছে?
  1. পৌনঃপুনিকতা
  2. ভাবের গভীরতা
  3. অনুভূতি
  4. ধ্বনিব্যঞ্জনা
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা
• 'ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।' - বাক্যটি অব্যয়ের দ্বিরক্তি যা 'ধ্বনিব্যঞ্জনা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। 

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির।
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।
৪৭.
বিকারজাত শব্দযোগে দ্বিরুক্তির উদাহরণ হলো -
  1. ক) রকম-সকম
  2. খ) ভাসা ভাসা
  3. গ) নিভূনিভু
  4. ঘ) রাস্তাঘাট
সঠিক উত্তর:
ক) রকম-সকম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) রকম-সকম
ব্যাখ্যা
• শব্দের দ্বিরুক্তি:
- একই শব্দ দুবার ব্যবহৃত হয় এবং শব্দ দুটি অবিকৃত থাকে। এরকম- নিভু নিভু, ভাসা ভাসা 
- একই শব্দের সঙ্গে সমার্থক আর একটি শব্দ যােগ করে ব্যবহৃত হয়। এরকম- ধন-দৌলত, হাঁড়িপাতিল, খেলা-ধুলা, ঢাকঢোল, রাস্তাঘাট, লালন-পালন, বলা-কওয়া, খোঁজ-খবর ইত্যাদি।
- দ্বিরুক্ত শব্দ জোড়ার দ্বিতীয় শব্দটির আংশিক পরিবর্তন অর্থাৎ বিকার (পরিবর্তনে জাত) জাত। এরকম- মিটমাট, ফিটফাট, বকা-ঝকা, ডাকা-ডাকি, বই-টই, তােড়-জোড়, গল্প-সল্প, রকম-সকম ইত্যাদি।


উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৪৮.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. ছমছম
  2. আম-টাম
  3. জ্বর জ্বর
  4. আড়াআড়ি
সঠিক উত্তর:
ছমছম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছমছম
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মকদ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। যেমন ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য কোনো ধাতব পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। 
যেমন- কুট কুট, কোঁত কোঁত, ছমছম

• অনুকার দ্বিত্ব:

- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় । 
যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, আড়াআড়ি

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
 যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়,জোরে জোরে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৪৯.
“ঝির ঝির”, “টাপুর টুপুর” — এই শব্দগুলো কী নির্দেশ করে?
  1. অনুভূতি বা ভাব
  2. পৌনঃপুনিকতা
  3. ধ্বনিব্যঞ্জনা
  4. ভাবের গভীরতা
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা
ব্যাখ্যা
অব্যয়ের ক্ষেত্রে দ্বিরুক্তি বোঝাতে:

ভাবের গভীরতা বোঝাতে:
- তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
- ছি ছি, তুমি কী করেছ। 

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- বার বার সে কামান গর্জে উঠল।

অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে:
- ভয়ে গা ছম ছম করছে।
- ফোঁড়াটা টন টন করছে।

বিশেষণ বোঝাতে:
- পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটি মিটি।

ধ্বনিব্যঞ্জনা:
- ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
- বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৮)।
৫০.
কোনটি অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. চিকচিক
  2. ঘ্যানঘ্যান
  3. আগড়ম-বাগড়ম
  4. সুরে সুরে
সঠিক উত্তর:
আগড়ম-বাগড়ম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আগড়ম-বাগড়ম
ব্যাখ্যা

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।

যেমন-
অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাটু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

• অনুকার দ্বিত্বে অনেক সময়ে স্বরের পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন-
আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, ঘোরাঘুরি, চুপচাপ, ঠেকাঠেকি, তাড়াতাড়ি, দলাদলি, দামাদামি, পাকাপাকি, বাড়াবাড়ি, মোটামুটি, টুকরো-টাকরা, ধারধোর, জোগাড়-জাগাড়।

অন্যদিকে, 
• চিকচিক, ঘ্যানঘ্যান ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।
• 'সুরে সুরে' পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫১.
জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকৃতি কোনটি?
  1. গুনগুন
  2. কুট কুট
  3. গর গর
  4. ঘচঘচ
সঠিক উত্তর:
গর গর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গর গর
ব্যাখ্যা
জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকৃতি:
ঘেউ ঘেউ: কুকুরটি ঘেউ ঘেউ করে চিৎকার করছে।
মিউ মিউ: বিড়ালটি মিউ মিউ করে ডেকে কোলে এসে বসল।
কুহু কুহু: বসন্তে কোকিল ডেকে ওঠে কুহু কুহু রবে।
কা কা: কাকগুলো একসাথে কা কা করে ডেকে উঠল।
গর গর: তখন বাঘটি রাগে গর গর করতে লাগল

অন্যদিকে,
বস্তুর ধ্বনির অনুকৃতি:
ঘচঘচ: কৃষকেরা ঘচঘচ করে ধান কেটে চলেছে।

অনুভূতির কাল্পনিক অনুকৃতি: 
কুট কুট: মশা কুট কুট করে কামড়াচ্ছে।

মানুষের ধ্বনির অনুকৃতি:
গুনগুন: মেয়েটি গুনগুন করে গান গাইছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫২.
'ডুগডুগ' কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. যৌগিক দ্বিত্ব
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ধ্বন্যাত্মক শব্দের দ্বিত্ব:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ ধরনের দ্বিত্বে ধ্বনিটির পুনরাবৃত্তি বা প্রলম্বন ঘটে। কখনো-বা বহুত্বের অর্থ যোগ করে। বক্তার প্রকাশ-প্রবণতা অনুসারে এক বা বহুবার পুনরাবৃত্ত হতে পারে।
যেমন-

- সাঁ করে তিরটা ছুটে গেল। সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে গেল। সাঁ সাঁ সাঁ সাঁ করে তির ছুটে যাচ্ছে।

ধ্বন্যাত্মক একক শব্দের দ্বিত্বের উদাহরণ:
ইস্-ইস্, উহ্‌-উহ্, কুট কুট, কোঁৎ কোঁৎ, কুটুস-কুটুস, খুটখুট, খুটুর খুটুর, ঘেউ ঘেউ, ছি-ছি, ছ্যা-ছ্যা, ছ্যাঁক-ছ্যাঁক, ঠুকঠুক, ঠকর ঠকর, ডুগডুগ, দুমদুম, দুপদুপ, ধূপধুপ, ধুপুর-ধুপুর, ফোঁস্-ফোঁস্, ভোঁস্-ভোঁস্, শোঁ-শোঁ, শাঁ-শাঁ, সাঁই-সাঁই, হুশ-হুশ, হুম্-হুম্, হিস্-হিস্।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩.
'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' -এখানে দ্বিরুক্ত শব্দটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. ধ্বনিব্যঞ্জনা বোঝাতে
  2. বিশেষণ বোঝাতে
  3. পৌনঃপৌনিকতা বোঝাতে
  4. ভাবের গভীরতা বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বনিব্যঞ্জনা বোঝাতে
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দ: 
- যা দুইবার বলা হয়েছে এমন শব্দকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে। 
- ‘দ্বি+উক্ত’ = দ্বিরুক্ত। 
- দ্বিরুক্ত শব্দ ৩ প্রকার। 
যথা - 
১। শব্দের দ্বিরুক্তি, 
২। পদের দ্বিরুক্তি এবং 
৩। অনুকার দ্বিরুক্তি। 

কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ: 
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: 
• সবাই হায় হায় করতে লাগল। 
• ছি ছি, তুমি এত খারাপ! 

- ধ্বনিব্যঞ্জনা বোঝাতে: 
• ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। 
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর। 

- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: 
• বার বার সে কামান গর্জে উঠল। 

- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: 
• ভয়ে গা ছম ছম করছে। 
• ফোঁড়াটা টন টন করছে। 

- বিশেষণ বোঝাতে: 
• পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪.
'ছ্যাঁক-ছ্যাঁক' কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. যৌগিক দ্বিত্ব
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক শব্দের দ্বিত্ব:
কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। এ ধরনের দ্বিত্বে ধ্বনিটির পুনরাবৃত্তি বা প্রলম্বন ঘটে। কখনো-বা বহুত্বের অর্থ যোগ করে। বক্তার প্রকাশ-প্রবণতা অনুসারে এক বা বহুবার পুনরাবৃত্ত হতে পারে।
যেমন-

- সাঁ করে তিরটা ছুটে গেল। সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে গেল। সাঁ সাঁ সাঁ সাঁ করে তির ছুটে যাচ্ছে।

ধ্বন্যাত্মক একক শব্দের দ্বিত্বের উদাহরণ:
ইস্-ইস্, উহ্‌-উহ্, কুট কুট, কোঁৎ কোঁৎ, কুটুস-কুটুস, খুটখুট, খুটুর খুটুর, ঘেউ ঘেউ, ছি-ছি, ছ্যা-ছ্যা, ছ্যাঁক-ছ্যাঁক, ঠুকঠুক, ঠকর ঠকর, ডুগডুগ, দুমদুম, দুপদুপ, ধূপধুপ, ধুপুর-ধুপুর, ফোঁস্-ফোঁস্, ভোঁস্-ভোঁস্, শোঁ-শোঁ, শাঁ-শাঁ, সাঁই-সাঁই, হুশ-হুশ, হুম্-হুম্, হিস্-হিস্।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৫.
ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্তি শব্দ কোনটি?
  1. ক) আসা - যাওয়া
  2. খ) ছোট - বড়
  3. গ) তালাচাবি
  4. ঘ) চালচলন
সঠিক উত্তর:
গ) তালাচাবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) তালাচাবি
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

তালাচাবি হচ্ছে ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।
৫৬.
কোনটি অনুকার শব্দ দ্বিত্ব?
  1. চোটপাট
  2. হিহি
  3. ট্যা ট্যা
  4. খক খক
সঠিক উত্তর:
চোটপাট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চোটপাট
ব্যাখ্যা
অনুকার শব্দ:
- শব্দের অনুকরণে বা বিকারে যেসব শব্দের সৃষ্টি হয়, তাকে অনুকার শব্দ বলে। অনুকার শব্দ ধ্বন্যাত্মক শব্দেরই রকমফের মাত্র।
যেমন:
- আবোলতাবোল,
- কাপড়চোপড়, 
- খাবারদাবার, 
- গোছগাছ, 
- চোটপাট
- জড়সড় ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন:
- ভেউ ভেউ, 
- হিহি
- ট্যা ট্যা
- গুনগুন,
- খক খক

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫৭.
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্বের উদাহরণ কোনটি?
  1. দুম দুম
  2. শোঁ শোঁ
  3. গুটিশুটি
  4. জ্বর জ্বর
সঠিক উত্তর:
জ্বর জ্বর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
জ্বর জ্বর
ব্যাখ্যা

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।

যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায়।

অন্যদিকে,
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - দুম দুম, শোঁ শোঁ।
অনুকার দ্বিত্ব - গুটিশুটি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৫৮.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব শব্দ?
  1. ক) গুটিশুটি
  2. খ) ঝিকিমিকি
  3. গ) ঝমঝম
  4. ঘ) ভালো ভালো
সঠিক উত্তর:
গ) ঝমঝম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঝমঝম
ব্যাখ্যা
'ঝমঝম'- 'ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব শব্দ'

তাছাড়া, 
- 'গুটিশুটি, ঝিকিমিকি'- অনুকার দ্বিত্ব এর উদাহরণ।
- 'ভালো ভালো'- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব এর উদাহরণ।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
- যেমন- ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।   

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। 
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি।  

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৫৯.
কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব?
  1. টসটস
  2. ঝিকিমিকি
  3. গরম গরম
  4. পর পর
সঠিক উত্তর:
টসটস
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টসটস
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন: ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঝমঝম, টসটস

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি(২০২৪)।

৬০.
'তীব্রতা বা সঠিকতা' বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে কোনটি তে?
  1. কালো কালো চেহারা
  2. ছোট ছোট ডাল
  3. গরম গরম জিলাপি 
  4. ভালো ভালো আম
সঠিক উত্তর:
গরম গরম জিলাপি 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গরম গরম জিলাপি 
ব্যাখ্যা
• 'গরম গরম জিলাপি'- দ্বিরুক্তি শব্দজুটি 'তীব্রতা বা সঠিকতা' বোঝায়। 

• অন্যদিকে, 
- 'ভালো ভালো আম' - আধিক্য বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
- 'কালো কালো চেহারা' - 'সামান্যতা' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
- 'ছোট ছোট ডাল' - 'আধিক্য' বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
================ 
• দ্বিরুক্ত শব্দ: 
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
- যেমন- 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে।' অর্থাৎ ঠিক জ্বর নয়, জ্বরের ভাব অর্থে এই প্রয়োগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০১৯।
৬১.
‘ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।’- বাক্যে ‘ঝমঝম’ কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ‘ঝমঝম করে বৃষ্টি হচ্ছে।’- বাক্যে ‘ঝমঝম’ ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের। যথা:

১. অনুকার দ্বিত্ব,
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

⇒ কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ: কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপর শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। এ ধরনের কোনো কোনো ধ্বন্যাত্মক শব্দে প্রথম অংশের পরে আ-এর বিধান ঘটার ফলে আর-এক ধরনের অব্যাহত ব্যাপ্তির অর্থ সূচিত হয়।

যেমন: খপাখপ, টাপুর-টুপুর, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬২.
‘কড়কড়’ কোন অব্যয়?
  1. অনুকার
  2. অনুসর্গ
  3. সমুচ্চয়ী
  4. অনন্বয়ী
সঠিক উত্তর:
অনুকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার
ব্যাখ্যা
• অনুকার অব্যয়: যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার অব্যয় বলে।
যেমন :
বজ্রের ধ্বনি - কড় কড়।
বাতাসের ধ্বনি - শনশন।
নূপুরের আওয়াজ - রুম ঝুম।
সিংহের গর্জন - গর গর।
রাতের ধ্বনি - কল কল।
মেঘের গর্জন - গুড় গুড়।
কোকিলের ডাক - কুহু কুহু।
চুড়ির শব্দ - টুং টাং।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
৬৩.
‘চোখে চোখে রাখা’- বাক্যে ‘চোখে চোখে’ কোন ধরনের শব্দ?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. অনুকার দ্বিত্ব
  4. বিভক্তিহীন পদ্যাত্মক দ্বিত্ব
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
• ফটা ফট ও দুম দুম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দ।
• এলো মেলো অনুকার দ্বিরুক্ত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৪.
অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার বোঝাতে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি হয়েছে কোনটি?
  1. ট্যা ট্যা
  2. মিন মিন
  3. কুহু কুহু
  4. মড়মড়
সঠিক উত্তর:
মিন মিন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
মিন মিন
ব্যাখ্যা
• অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার - মিন মিন

ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি:
- কোনো কিছুর স্বাভাবিক বা কাল্পনিক অনুকৃতিবিশিষ্ট শব্দের রূপকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- এ জাতীয় ধ্বন্যাত্মক শব্দের দুইবার প্রয়োগের নাম ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্তি দ্বারা বহুত্ব, আধিক্য ইত্যাদি বোঝায়।
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিরক্ত শব্দ কয়েকটি উপায়ে গঠিত হয়। যেমন-

মানুষের ধ্বনির অনুকার:
- ভেউ ভেউ – মানুষের উচ্চস্বরে কান্নার ধ্বনি। এরূপ-ট্যা ট্যা, হি হি ইত্যাদি।

জীবজন্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘেউ ঘেউ (কুকুরের ধ্বনি)। এরূপ-মিউ মিউ (বিড়ালের ডাক), কুহু কুহু (কোকিলের ডাক), কা কা (কাকের ডাক) ইত্যাদি।

বস্তুর ধ্বনির অনুকার:
- ঘচাঘচ (ধান কাটার শব্দ)। এরূপ-মড়মড় (গাছ ভেঙে পড়ার শব্দ) ঝমঝম (বৃষ্টি পড়ার শব্দ), হু হু (বাতাস প্রবাহের শব্দ) ইত্যাদি।

অনুভূতিজাত কাল্পনিক ধ্বনির অনুকার:
- ঝিকিমিকি (ঔজ্জ্বল্য)। এরূপ ঠা ঠা (রোদের তীব্রতা), কুট কুট (শরীরে কামড় লাগার মতো অনুভূতি)। অনুরূপভাবে- মিন মিন, পিট পিট, ঝি ঝি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৬৫.
কোন শব্দটি ভিন্নার্থক শব্দযোগে গঠিত?
  1. ছটফট
  2. রীতিনীতি
  3. বনজঙ্গল
  4. অলিগলি
সঠিক উত্তর:
অলিগলি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অলিগলি
ব্যাখ্যা

যুগ্মরীতিতে শব্দ দ্বিরুক্ত গঠন:
- একই শব্দ ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে বলে যুগ্মরীতি। যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত গঠনের কয়েকটি নিয়ম রয়েছে।

যেমন:
- শব্দের আদিস্বরের পরিবর্তন করে: চুপচাপ, মিটমাট, জারিজুরি, টুপটাপ।
- শব্দের অন্ত্যস্বরের পরিবর্তন করে: মারামারি, হাতাহাতি, সরাসরি, জেদাজেদি।
- দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তনে: ছটফট, নিশপিশ, ভাতটাত।
- সমার্থক বা একার্থক সহচর শব্দ যোগে: চালচলন, রীতিনীতি, বনজঙ্গল, ভয়ডর।
- ভিন্নার্থক শব্দ যোগে: ডালভাত, তালাচাবি, পথঘাট, অলিগলি
- বিপরীতার্থক শব্দ যোগে: ছোট-বড়, আসা-যাওয়া, জন্ম-মৃত্যু, আদান-প্রদান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৬.
নিচের কোনটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. চুপচাপ
  2. ঝিকিমিকি
  3. হেন-তেন
  4. ঝমঝম
সঠিক উত্তর:
ঝমঝম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝমঝম
ব্যাখ্যা
• ঝমঝম - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
- আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন-
কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো, হেন-তেন, ঝাল-টাল, চুপচাপ, ঝিকিমিকি ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৬৭.
ভিন্নার্থক শব্দযোগে গঠিত দ্বিরুক্তি শব্দ কোনটি?
  1. চালচলন
  2. ছোট-বড়
  3. আসা-যাওয়া
  4. তালাচাবি
সঠিক উত্তর:
তালাচাবি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তালাচাবি
ব্যাখ্যা

• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়। -
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

• 'তালাচাবি' — ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।

অন্যদিকে,
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৬৮.
‘দমাদম’ কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. অনুকরণ দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. অনুকার দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের। যথা:
১. অনুকার দ্বিত্ব,
২. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
যেমন- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। ঠন শব্দটি পর পর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়।

• কয়েকটি ধ্বন্যাত্বক দ্বিত্বের উদাহরণ:
চকচক, জ্বলজ্বল, থকথকে, কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস কুটুস, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঢং ঢং, ঝমঝম, ধুপ ধুপ, শোঁ শোঁ ইত্যাদি।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে।
যেমন: খপাখপ, হবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৬৯.
নিচের কোন দ্বিরুক্তিবাচক শব্দগুলো "পৌনঃপুনিকতা" বোঝাতে ব্যবহার হয়েছে?
  1. ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
  2. বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
  3. ঝির ঝির করে বাতাস বইছে।
  4. পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির
সঠিক উত্তর:
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
ব্যাখ্যা

অব্যয় পদের কয়েকটি দ্বিরুক্তির উদাহরণ:

যেমন:
- ভাবের গভীরতা বোঝাতে: সবাই হায় হায় করতে লাগল। ছি ছি, তুমি এত খারাপ!
- পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: বার বার সে কামান গর্জে উঠল।
- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে। ফোঁড়াটা টন টন করছে।
- বিশেষণ বোঝাতে: পিলসুজে বাতি জ্বলে মিটির মিটির
- ধ্বনিব্যঞ্জনা: ঝির ঝির করে বাতাস বইছে। বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৭০.
'কবি কবি' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ -
  1. বিভক্তিযুক্ত দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৭১.
কোনটি অনুকার শব্দদ্বিত্ব?
  1. মজার মজার 
  2. খকখক
  3. গুনগুন
  4. বুদ্ধিশুদ্ধি
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিশুদ্ধি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুদ্ধিশুদ্ধি
ব্যাখ্যা
• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।

যেমন:
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব - মজার মজার ।
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব - খকখক, গুনগুন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৭২.
অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ -
  1. ঘর-টর
  2. কুট কুট
  3. খক খক
  4. ফটাফট
সঠিক উত্তর:
ঘর-টর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘর-টর
ব্যাখ্যা
• 'ঘর-টর' - অনুকার দ্বিত্বের উদাহরণ। 

অন্যদিকে, 
কুট কুট, খক খক, ফটাফট - ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ। 

• অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন:
গুটিশুটি, মোটাসোটা, আম টাম, এলোমেলো ইত্যাদি। 

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে।
আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন- কুটুস- কুটুস, কুট কুট, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, চকচক, টসটস।  

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৭৩.
'ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে।' - বাক্যে 'ঘরে ঘরে' কীসের দ্বিরুক্তি?
  1. ধ্বন্যাত্মকের
  2. পদের
  3. অব্যয়ের
  4. শব্দের
সঠিক উত্তর:
পদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদের
ব্যাখ্যা
পদের দ্বিরুক্তি:
- দুটি পদে একই বিভক্তি প্রয়োগ করা হয়, শব্দ দুটি ও বিভক্তি অপরিবর্তিত থাকে।
যেমন:
- ঘরে ঘরে লেখাপড়া হচ্ছে।
- দেশে দেশে ধন্য ধন্য করতে লাগল।
- মনে মনে আমিও এ কথাই ভেবেছি।

- দ্বিতীয় পদের আংশিক ধ্বনিগত পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু পদ-বিভক্তি অবিকৃত থাকে।
যেমন-
- চোর হাতে নাতে ধরা পড়েছে।
- আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৭৪.
ধনাত্মক শব্দদ্বিত্ব কোনটি?
  1. কবি কবি
  2. ঠুকঠুক
  3. ঝাল-টাল
  4. মোটাসোটা
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
ঠুকঠুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠুকঠুক
ব্যাখ্যা
শব্দদ্বিত্ব:
- অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
- শব্দদ্বিত্ব তিন ধরণের:
১.অনুকার দ্বিত্ব,
২.ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব,
৩.পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পসল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম ।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
 যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৭৫.
নিচের কোন বাক্যে আগ্রহ বোঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. ক) তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ।
  2. খ) ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।
  3. গ) ফিরে ফিরে তাকায়।
  4. ঘ) ভয়ে গা ছম ছম করছে।
সঠিক উত্তর:
খ) ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।
ব্যাখ্যা
'ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে'- বাক্যে আগ্রহ বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 

তাছাড়া অন্য অপশনে, 
- 'তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ'- পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।
- 'ভয়ে গা ছম ছম করছে'- অনুভূতি বা ভাব বোঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে। 
 - 'ফিরে ফিরে তাকায়। ক্রিয়া'- বিশেষণ বােঝাতে দ্বিরুক্তির প্রয়োগ ঘটেছে।  

বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি: বাংলা ভাষায় বিশেষ্য পদের দ্বিরুক্তি নিম্নলিখিত অর্থে হয়ে থাকে।
ক) আধিক্য বােঝাতে : রাশি রাশি ধান, থােকা থােকা জাম।
খ) সামান্য বােঝাতে: আমি আজ জ্বর জ্বর অনুভব করছি।
গ) পরম্পরতা বা ধারাবাহিকতা বােঝাতে : তুমি দিন দিন রােগা হয়ে যাচ্ছ। সে বাড়ি বাড়ি থেকে চাঁদা তুলছে।
ঘ) ক্রিয়া বিশেষণ বােঝাতে: সে ধীরে ধীরে যায়, ফিরে ফিরে তাকায়।
ঙ) অনুরূপ বােঝাতে : তার সঙ্গী-সাথী কেউ নেই।
চ) আগ্রহ বােঝাতে : সে মা মা বলে কাঁদছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৭৬.
‘খোঁজাখুঁজি’ কোন ধরনের শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ‘খোঁজাখুঁজি’ অনুকার শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ।

• শব্দদ্বিত্ব:

অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারার কোন শব্দ পর পর দুইবার ব্যবহার হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে।
শব্দদ্বিত্ব ৩ প্রকার-
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধনাত্মক দ্বিত্ব,
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারায় শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় অনুকার দ্বিত্ব বলে। এত প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।

যেমন: অঙ্ক-টঙ্ক; আম-টাম, কেক-টেক; ঘর-টর; গরু-টরু; ছাগল- টাগল; আড়াআড়ি, খোঁজাখুঁজি, পাকাপাকি, মোটাসোটা ইত্যাদি।

--------------------
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। 
যেমন:
- ঠন একটি ধ্বন্যাত্মক শব্দ। কোনো ধাতব পদার্থের সঙ্গে অন্য পদার্থের সংঘর্ষে এই ধরনের ধ্বনি তৈরি হয়। ঠন শব্দটি পরপর দুই বার বা কখনো ততোধিক বার ব্যবহৃত হলে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব সৃষ্টি হয়। 
যেমন:
- সাঁ করে তির ছুটে যায়, সাঁ সাঁ করে তিরগুলো ছুটে যাচ্ছে, সাঁ সাঁ সাঁ করে অসংখ্য তির চারদিকে ছুটে গেল।

• অনেক সময়ে কল্পিত ধ্বনির ভিত্তিতেও ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব তৈরি হয়।
যেমন:
- ফোরা টনটন করে।
- গা ছমছম করে।

কয়েকটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ:
কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম, ঢং ঢং, চকচক, টসটস, ভটভট, হিস হিস।

• কিছু ক্ষেত্রে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের মাঝখানে স্বরধ্বনির আগমন ঘটে। 
যেমন- খপাখপ, গবাগব, ঝটাঝট, ফটাফট, দমাদম, পটাপট।

------------------------
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড়ু উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৭.
কোনটি বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত শব্দ দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. চোখে চোখে রাখা
  2. মজার মজার কথা
  3. ঝাঁকে ঝাঁকে চলা
  4. হঠাৎ হঠাৎ দেখা
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ হঠাৎ দেখা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হঠাৎ হঠাৎ দেখা
ব্যাখ্যা
• অভিন্ন বা সামান্য পরিবর্তিত চেহারায় কোনো শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে শব্দদ্বিত্ব বলে। শব্দদ্বিত্ব তিন ধরনের:
- অনুকার দ্বিত্ব,
- ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব ও
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব।

⇒ পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), হঠাৎ হঠাৎ (দেখা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৭৮.
কোনটি অনুকার দ্বিত্ব? 
  1. দুম দুম
  2. কবি কবি
  3. ঠুকঠুক
  4. নরম-সরম
সঠিক উত্তর:
নরম-সরম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নরম-সরম
ব্যাখ্যা

অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।

যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
 যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।

৭৯.
কোনটি বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব?
  1. কথায় কথায়
  2. ভালো ভালো
  3. মজার মজার 
  4. ঝাঁকে ঝাঁকে 
সঠিক উত্তর:
ভালো ভালো
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো ভালো
ব্যাখ্যা

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।
যেমন- জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত:
ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড়ু (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত:
কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।

৮০.
'চালচলন' শব্দটি কোন অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. সমার্থক
  2. ভিন্নার্থক
  3. পদাত্মক
  4. বিপরীতার্থক
সঠিক উত্তর:
সমার্থক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থক
ব্যাখ্যা

• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

• বিভিন্ন অর্থরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
- তালাচাবি - ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- 'চালচলন' - শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০১৯ সংস্করণ।

৮১.
’তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ’ বাক্যে ’দিন দিন’ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. সামান্য
  2. ধারাবাহিকতা
  3. আধিক্য
  4. আগ্রহ
সঠিক উত্তর:
ধারাবাহিকতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধারাবাহিকতা
ব্যাখ্যা
• পদের দ্বিরুক্তির প্রয়োগ:
- বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার
• আধিক্য বোঝাতে:
- রাশি রাশি ধন,
- ধামা ধামা ধান।

• সামান্য বোঝাতে:
- আমি আজ জ্বর জ্বর বোধ করছি।

• পরস্পরতা বা ধারাবাহিকতা বোঝাতে:
- তুমি দিন দিন রোগা হয়ে যাচ্ছ।
- তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।

• ক্রিয়া বিশেষণ:
- ধীরে ধীরে যায়,
- ফিরে ফিরে চায়।

• অনুরূপ কিছু বোঝাতে:
- তার সঙ্গী সাথী কেউ নেই।

•আগ্রহ বোঝাতে:
- ও দাদা দাদা বলে কাঁদছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৮ সালের সংস্করণ)।
৮২.
দ্বিরুক্ত শব্দের ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
  2. দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
  3. ভিন্নার্থক শব্দ যোগে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
  4. সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক শব্দ গঠিত হয়না।
সঠিক উত্তর:
সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক শব্দ গঠিত হয়না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দযোগে দ্বিরুক শব্দ গঠিত হয়না।
ব্যাখ্যা
• দ্বিরুক্ত শব্দ:
- একই ধরণের শব্দ পরপর দুইবার ব্যবহৃত হলে তাকে দ্বিরুক্ত শব্দ বলে।
- দ্বিরুক্ত শব্দের অর্থ পরপর দুইবার বলা।
- বাংলা ভাষায় দ্বিরুক্ত শব্দের মাধ্যমে নতুন শব্দ তৈরি হয়।
- বিভক্তিযুক্ত পদের দুইবার ব্যবহারকে পদাত্মক দ্বিরুক্তি বলা হয়।

উল্লেখ্য,
• তালাচাবি হচ্ছে ভিন্নার্থক শব্দ যোগে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- চালচলন শব্দটি সমার্থক অর্থে ব্যবহৃত দ্বিরুক্ত শব্দ।
- ছোট-বড়, আসা-যাওয়া হচ্ছে বিপরীতার্থক অর্থে ব্যবহৃত শব্দ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (২০১৯ সংস্করণ)।
৮৩.
‘বইগুলো সব এলোমেলো হয়ে আছে।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘এলোমেলো’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. পুনরাবৃত্ত শব্দদ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্ব
  3. অনুকার শব্দদ্বিত্ব
  4. বিভক্তিহীন শব্দদ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
অনুকার শব্দদ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার শব্দদ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• ‘বইগুলো সব এলোমেলো হয়ে আছে।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘এলোমেলো’ অনুকার শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।

যেমন:
কচর-মচর, অঙ্ক-টঙ্ক, চাকর-বাকর, ঝিকিমিকি, এলোমেলো, অল্পসল্প, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৮৪.
'ভয়ে গা ছম ছম করছে।' - দ্বিরুক্ত শব্দ দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?
  1. আধিক্য
  2. ধারাবাহিকতা
  3. ভাবের গভীরতা
  4. অনুভূতি
সঠিক উত্তর:
অনুভূতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুভূতি
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য শব্দযুগলের বিশেষণরূপে ব্যবহার:

আধিক্য বোঝাতে: রাশি রাশি ধান, ধামা ধামা ধান
সামান্য বোঝাতে: আমি জ্বর জ্বর বোধ করছি।
ধারাবাহিকতা বোঝাতে: তুমি বাড়ি বাড়ি হেঁটে চাঁদা তুলেছ।
ভাবের গভীরতা বোঝাতে: তার দুঃখ দেখে সবাই হায় হায় করতে লাগল।
অনুভূতি বোঝাতে: ভয়ে গা ছম ছম করছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, (সংস্করণ-২০১৯)।
৮৫.
যেসব শব্দের নিজস্ব কোন অর্থ নেই কিন্তু এগুলোর সাহায্যে বিশেষ বিশেষ ভাব প্রকাশ করা যায় -
  1. ক) ধবন্যাত্নক শব্দ
  2. খ) অর্থবহ শব্দ
  3. গ) ব্যঞ্জনবিকল্প শব্দ
  4. ঘ) অনুকার শব্দ
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুকার শব্দ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অনুকার শব্দ
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় যে সকল শব্দদ্বিত্ব বা অনুকার শব্দ ব্যবহৃত হয় সেগুলোর নিজস্ব কোনো অর্থ নেই  কিন্তু এর ব্যবহার বাক্যে এক ধরনের বিশেষ দ্যোতনা সৃষ্টি করে।
যদিও এসব শব্দের নিজস্ব অর্থ নেই কিন্তু এগুলোর সাহায্যে বিশেষ বিশেষ ভাব প্রকাশ করা যায়, যা অন্য কোনো শব্দের সাহায্যে সম্ভব নয়। শারীরিক অনুভূতি, হাসি ও কান্নার বর্ণনা, রং বৈচিত্র্য, নিঃশব্দতা, শূন্যতা প্রভৃতি বোঝাতে শব্দদ্বৈতের ব্যবহার হয়ে থাকে ।
 যেমন :
 ধবধবে সাদা, কনকনে ঠান্ডা, নিবুনিবু আলো ইত্যাদি । 

শব্দদ্বিত্ব বা অনুকার শব্দ বাংলা ভাষার এক অমূল্য সম্পদ। 
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অনুকার বা ধ্বন্যাত্মক শব্দ সম্পর্কে বলেছেন, “সৈন্য দলের পশ্চাতে যেমন একদল অভিযাত্রিক থাকে, তাহারা রীতিমত সৈন্য নহে, সৈন্যদের নানাবিধ প্রয়োজন সরবরাহ করে, ইহারাও বাংলা ভাষার পশ্চাতে সেইরূপ ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরিয়া সহস্র কর্ম করিয়া থাকে, অথচ ঠিকমত সৈন্য শ্রেণীতে ভর্তি হইয়া অভিধানকারের নিকট সম্মানপ্রাপ্ত হয় নাই । ইহারা না থাকিলে বাংলা ভাষার বর্ণনার পাঠ একেবারে উঠাইয়া দিতে হয় ।”

উৎস : প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি - ড. হায়াৎ মামুদ ও ড. মোহাম্মদ আমীন ।
৮৬.
'থকথক' কোন ধরনের দ্বিরুক্ত শব্দ?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  3. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  4. পদাত্মক দ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
কুট কুট, খক খক, সাঁই-সাঁই, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথক, শোঁ শোঁ, চকচক, ভটভট, ধুপধুপ টুপটাপ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৮৭.
নিচের কোনটি 'অনুকার দ্বিত্ব' এর উদাহরণ নয়?
  1. চকচক
  2. চাকর-বাকর
  3. আম-টাম
  4. অঙ্ক-টঙ্ক
সঠিক উত্তর:
চকচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চকচক
ব্যাখ্যা
• 'চকচক' 'অনুকার দ্বিত্ব' এর উদাহরণ নয়।
• চকচক ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ।

• অনুকার দ্বিত্ব:

- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দকে খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়। প্রকাশ পায় 'এই রকম একটা' ভাব।
যেমন-
- অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি,
- টাট্টু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর, এলোমেলো, ঝিকিমিকি, কচর-মচর, ঝিলমিল, শেষ-মেষ,
- অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি( ২০২৪ সংস্করণ)।
৮৮.
‘বুঝে-সুঝে’ কোন ধরনের শব্দদ্বিত্ব?
  1. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  2. অনুকার দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুকার দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
অনুকার দ্বিত্ব:
- পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে।
- এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
- এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়।
- তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন:
- ঝাল-টাল,
- মোটাসোটা,
- নরম-সরম,
- ব্যাপার-স্যাপার,
- বুঝে-সুঝে,
- অল্পস্বল্প,
- বুদ্ধিশুদ্ধি,
- গুটিশুটি,
- অঙ্ক-টঙ্ক,
- আম-টাম।

অন্যদিকে:
ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- টুং টুং,
- ঠুকঠুক,
- শোঁ শোঁ,
- খক খক,
- দুম দুম।

পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন:
- জ্বর জ্বর,
- পর পর,
- কবি কবি,
- কথায় কথায় ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১সংস্করণ)।
৮৯.
'বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।'- বাক্যে 'ঝমঝমানি' দ্বিরুক্ত শব্দটি কোন পদ রূপে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক্রিয়া 
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য 
  4. অব্যয় 
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য 
ব্যাখ্যা

বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:
যেমন:
বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
বিশেষণ: নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।
ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
ক্রিয়া বিশেষণ: 'চিকচিক করে বালি কোথা নাহি কাদা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৯০.
পৌনঃপুনিকতা বুঝাতে দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার কোনটি?
  1. ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
  2. দেখে দেখে যেও।
  3. এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
  4. দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
সঠিক উত্তর:
ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবাচক শব্দের দ্বিরুক্তি:

পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে:
- ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

অন্যদিকে,
বিশেষণ রূপে:
- এ দিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।
- তোমার নেই নেই ভাব গেলো না।

স্বপ্লকাল স্থায়ী বোঝাতে:
- দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।

ক্রিয়া বিশেষণ:
- দেখে দেখে যেও।
- ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি  (২০১৯ সংস্করণ)।

৯১.
নিচের কোনটিতে কালের বিস্তার প্রকাশ পেয়েছে?
  1. মেয়েটা হাড়ে হাড়ে শয়তান।
  2. ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা
  3. থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে।
  4. ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো।
সঠিক উত্তর:
থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে।
ব্যাখ্যা

বিশিষ্টার্থক বাগধারায় দ্বিরুক্ত শব্দের প্রয়োগ:

যেমন:
- ছেলেটিকে চোখে চোখে রেখো। (সতর্কতা)
- ফুলগুলো তুই আনরে বাছা বাছা। (ভাবের প্রগাঢ়তা)
- থেকে থেকে শিশুটি কাঁদছে। (কালের বিস্তার)
- মেয়েটা হাড়ে হাড়ে শয়তান। (আধিক্য)

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৯২.
নিচের কোন বাক্যে ধ্বন্যাত্মক শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সুরে সুরে কথা বলে।
  2. চকচক করলেই সোনা হয় না।
  3. বিড়ানটি গুটিশুটি হয়ে বসে আছে।
  4. মজার মজার কথা।
সঠিক উত্তর:
চকচক করলেই সোনা হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চকচক করলেই সোনা হয় না।
ব্যাখ্যা
• ‘চকচক করলেই সোনা হয় না।’- বাক্যে ‘চকচক’ ধ্বন্যাত্মক শব্দদ্বিত্বের উদাহরণ। 

----------------------- 
• ধ্বন্যাত্মক শব্দ:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন-
- কুট কুট, খক খক, সাঁই-সাঁই, খুটুর খুটুর, টুং টুং, জ্বলজ্বল, ঝমঝম, টসটস, থকথক, শোঁ শোঁ, চকচক, ভটভট, ধুপধুপ টুপটাপ।

অন্যদিকে,
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে। পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে। যেমন - জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, হাতে হাতে, কথায় কথায়, জোরে জোরে ইত্যাদি।

• বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।
• বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরনে তৈরি হয়। এই অনুকরণ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় শব্দের শুরুতে ট, ফ, ব, ম, শ প্রভৃতি ধ্বনি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাতে শব্দের খানিকটা অনির্দিষ্ট, সাধারণ বা গুরুত্বহীন করা হয়।
যেমন: ঝাল-টাল, মোটাসোটা, নরম-সরম, ব্যাপার-স্যাপার, বুঝে-সুঝে, অল্পসল্প, বুদ্ধিশুদ্ধি, গুটিশুটি, অঙ্কটঙ্ক, আমটাম ।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ ও বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৯৩.
কোন শব্দটি ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্বের উদাহরণ?
  1. কথায় কথায়
  2. আমটাম
  3. ঝমঝম
  4. ঝিকিমিকি
সঠিক উত্তর:
ঝমঝম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঝমঝম
ব্যাখ্যা

• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
কোনো প্রাকৃতিক ধ্বনির অনুকরণে যেসব শব্দ তৈরি হয়, সেগুলোকে ধ্বন্যাত্মক শব্দ বলে। আর ধ্বন্যাত্মক শব্দের পনেরাবৃত্তিকে ধ্বান্যাত্মক দ্বিত বলে।
যেমন: ঝমঝম, কুটুস- কুটুস, কুট কুট, জ্বলজ্বল, খক খক, খুটুর খুটুর, টুং টুং, ঝমঝম, টসটস।

অন্যদিকে,
• অনুকার দ্বিত্ব:
পরপর প্রয়োগ হওয়া কাছাকাছি চেহারার শব্দকে অনুকার দ্বিত্ব বলে। এতে প্রথম শব্দটি অর্থপূর্ণ হলেও প্রায় ক্ষেত্রে দ্বিতীয় শব্দটি অর্থহীন হয় এবং প্রথম শব্দের অনুকরণে তৈরি হয়।
যেমন: গুটিশুটি, ঝিকিমিকি, মোটাসোটা, আমটাম, এলোমেলো ইত্যাদি।

• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব:
পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
যেমন: গরম গরম, জ্বর জ্বর, পর পর, কবি কবি, কথায় কথায়, ঘুম ঘুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৯৪.
'মেয়েটার উড়ু উড়ু ভাব।' বাক্যে 'উড়ু উড়ু' কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. তীব্রতা বোঝাতে
  2. স্বল্পকাল বোঝাতে
  3. সামান্যতা বোঝাতে
  4. আধিক্য বোঝাতে
সঠিক উত্তর:
সামান্যতা বোঝাতে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সামান্যতা বোঝাতে
ব্যাখ্যা
দ্বিরুক্ত শব্দ:
- দ্বিরুক্ত অর্থ দুবার উক্ত হয়েছে এমন।
- বাংলা ভাষায় কোনো কোনো শব্দ, পদ বা অনুকার শব্দ, একবার ব্যবহার করলে যে অর্থ প্রকাশ করে, সেগুলো দুইবার ব্যবহার করলে অন্য কোনো সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে।
- এ ধরনের শব্দের পরপর দুইবার প্রয়োগেই দ্বিরুক্ত শব্দ গঠিত হয়।
যেমন- 'আমার জ্বর জ্বর লাগছে।
 
বিশেষণ শাব্দযুগলের বিশেষণ রূপে ব্যবহার:
আধিক্য বোঝাতে: 
- ভালো ভালো আম নিয়ে এসো।
- ছোট ছোট ডাল কেটে ফেল।
 
তীব্রতা বা সঠিকতা বোঝাতেন: 
- গরম গরম জিলাপি।
- নরম নরম হাত।
 
সামান্যতা বোঝাতে: 
- উড়ু উড়ু ভাব।
- কালো কালো চেহারা।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৫.
কোনটি যুগরীতির দ্বিরুক্ত?
  1. ক) গরম গরম
  2. খ) টুপটাপ
  3. গ) ঝমঝম
  4. ঘ) মিটির মিটির
সঠিক উত্তর:
খ) টুপটাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) টুপটাপ
ব্যাখ্যা
একই শব্দ ঈষৎ পরিবর্তন করে দ্বিরুক্ত শব্দ গঠনের রীতিকে বলে যুগ্মরীতি।
যুগ্মরীতিতে দ্বিরুক্ত গঠনের কয়েকটি নিয়ম রয়েছে।
যেমন-
১. শব্দের আদি স্বরের পরিবর্তন করে: চুপচাপ, মিটমাট, জারিজুরি, টুপটাপ
২. শব্দের অন্ত্যস্বরের পরিবর্তন করে: মারামারি, হাতাহাতি, সরাসরি, জেদাজেদি।
৩. দ্বিতীয়বার ব্যবহারের সময় ব্যঞ্জনধ্বনির পরিবর্তনে: ছটফট, নিশপিশ, ভাতটাত।
৪. সমার্থক বা একার্থক সহচর শব্দ যোগে: চালচলন, রীতিনীতি, বনজঙ্গল, ভয়ডর।
৫. ভিন্নার্থক শব্দ যোগে: ডালভাত, তালাচাবি, পথঘাট, অলিগলি।
৬. বিপরীতার্থক শব্দ যোগে: ছোট-বড়, আসা-যাওয়া, জন্ম-মৃত্যু, আদান-প্রদান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৯৬.
'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়'- এ বাক্যের 'ছলছল' কোন ধরনের পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• 'নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়'- এ বাক্যের 'ছলছল' বিশেষণ পদ। 

• বিভিন্ন পদরূপে ধ্বন্যাত্মক দ্বিরুক্ত শব্দের ব্যবহার:

বিশেষ্য: বৃষ্টির ঝমঝমানি আমাদের অস্থির করে তোলে।
বিশেষণ: নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।
ক্রিয়া: কলকলিয়ে উঠল সেথায় নারীর প্রতিবাদ।
ক্রিয়া বিশেষণ: চিকচিক কর বালি কোথা নাহি কাদা। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)। 
৯৭.
'মেয়েটি সুরে সুরে কথা বলে।' এখানে 'সুরে সুরে' কোন ধরণের দ্বিত্ব?
  1. অনুকার দ্বিত্ব
  2. ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব
  3. পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
  4. পদদ্বিত্ব
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব
ব্যাখ্যা
• পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব: 
- পুনরায় আবৃত্ত হলে তাকে পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বলে।
- পুনরাবৃত্ত দ্বিত্ব বিভক্তিহীন বা বিভক্তিযুক্ত হতে পারে।

- বিভক্তিহীন পুনরাবৃত্ত: ভালো ভালো (কথা), কত (লোক), হঠাৎ হঠাৎ (ব্যথা), ঘুম ঘুম (চোখ), উড় উড় (মন), গরম গরম (জিলাপি), হায় হায় (করা)।

- বিভক্তিযুক্ত পুনরাবৃত্ত: কথায় কথায় (বাড়া), মজার মজার (কথা), ঝাঁকে ঝাঁকে (চলা), চোখে চোখে (রাখা), মনে মনে (হাসা), সুরে সুরে (বলা), পথে পথে (হাঁটা)।

অন্যদিকে,
• অনুকার দ্বিত্ব:
- অঙ্ক-টঙ্ক, আম-টাম, কেক-টেক, ঘর-টর, গরু-টরু, ছাগল-টাগল, ঝাল-টাল, হেন-তেন, লুচিফুচি, টাট্টু-ফাটু, আগড়ম-বাগড়ম, চাকর-বাকর ইত্যাদি।
• ধ্বন্যাত্মক দ্বিত্ব:
- কুট কুট, কোঁত কোঁত, কুটুস-কুটুস, খক খক, খুটুর-খুটুর, টুং টুং, ঠুক ঠুক, ধুপ ধুপ, দুম দুম ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৪ সংস্করণ)।
৯৮.
কোন দ্বিরুক্ত শব্দটি সমার্থক?
  1. আসা-যাওয়া
  2. দেনা-পাওনা
  3. লালন-পালন
  4. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
লালন-পালন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
লালন-পালন
ব্যাখ্যা
শব্দের দ্বিরুক্তি:
১. একই শব্দ দুইবার ব্যবহার করা হয় এবং শব্দ দুটি অবিকৃত থাকে।
যথা- ভালো ভালো ফল, ফোঁটা ফোঁটা পানি, বড় বড় বই ইত্যাদি।

২. একই শব্দের সঙ্গে সমার্থক আর একটি শব্দ যোগ করে ব্যবহৃত হয়।
যথা- ধন-দৌলত, খেলা-ধুলা, লালন-পালন, বলা-কওয়া, খোঁজ-খবর ইত্যাদি।

৩. দ্বিরুক্ত শব্দ-জোড়ার দ্বিতীয় শব্দটির আংশিক পরিবর্তন হয়।
যেমন- মিট-মাট, ফিট-ফাট, বকা-ঝকা, তোড়-জোড়, গল্প-সল্প, রকম-সকম ইত্যাদি।

৪. সমার্থক বা বিপরীতার্থক শব্দ যোগে।
যেমন- লেন-দেন, দেনা-পাওনা, টাকা-পয়সা, ধনী-গরিব, আসা-যাওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৯৯.
'এদিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা।' - বাক্যটিতে দ্বিরুক্ত শব্দ কী অর্থ প্রকাশ পেয়েছে? 
  1. বিশেষণ
  2. স্বল্পকাল স্থায়ী
  3. পৌনঃপুনিকতা
  4. সম্যক
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াবাচক দ্বিরুক্ত শব্দ:
যেমন:
বিশেষণ রূপে: এদিকে রোগীর তো যায় যায় অবস্থা। তোমার নেই নেই ভাব গেল না।
স্বল্পকাল স্থায়ী বোঝাতে: দেখতে দেখতে আকাশ কালো হয়ে এলো।
ক্রিয়া বিশেষণ: দেখে দেখে যেও। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে শুনলে কীভাবে?
পৌনঃপুনিকতা বোঝাতে: ডেকে ডেকে হয়রান হয়েছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

১০০.
‘বাবার সামান্য আয়ে সংসারই চলে না, সেখানে আমার বিদেশ যাওয়ার শখ ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধার মতোই হাস্যকর’- এ বাক্যে ‘ছেঁড়া চুলে খোঁপা বাঁধা’ কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অর্থের অভাব
  2. খ) দুরাশা
  3. গ) দুর্ভাগ্য
  4. ঘ) বৃথা চেষ্টা
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৃথা চেষ্টা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বৃথা চেষ্টা
ব্যাখ্যা

‘ছেঁড়ে চুলে খোঁপা বাঁধা’ প্রশ্নোক্ত বাক্যে 'বৃথা চেষ্টা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
অবশ্য এই বাগধারাটির সাধারণ অর্থ হচ্ছে – 'পরকে আপন করার চেষ্টা'।