বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা / ৩১ · ৫০১৬০০ / ৩,০২৪

৫০১.
"সে নিজে অঙ্কটা করছে।" বাক্যে 'নিজে' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম
  2. আত্মবাচক সর্বনাম
  3. নির্দেশক সর্বনাম
  4. অনির্দিষ্ট সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আত্মবাচক সর্বনাম
ব্যাখ্যা

• আত্মবাচক সর্বনাম: 
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। 
যেমন: নিজে (সে নিজে অঙ্কটা করছে), স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম:

- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:
- বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
- শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
- অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।
- শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

• নির্দেশক সর্বনাম:
যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি; দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

• অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়, তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন কেউ, কোথাও, কিছু, একজন (একজন এসে খবরটা দেয়) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)। 

৫০২.
'রাকিবকে  দিয়ে এ কাজ হবে না।' - এ বাক্যে 'দিয়ে' ধরনের অব্যয়?
  1. পদান্বয়ী অব্যয়
  2. সমুচ্চয়ী অব্যয়
  3. অনন্বয়ী অব্যয়
  4. অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
পদান্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পদান্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ অব্যয় : 
​- যে সকল অব্যয় শব্দ বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের বিভক্তির ন্যায় বসে কারকবাচকতা প্রকাশ করে, তাদের অনুসর্গ অব্যয় বলে।
​- যথা- ওকে দিয়ে এ কাজ হবে না। (দিয়ে অনুসর্গ অব্যয়)।
- অনুসর্গ অব্যয় 'পদান্বয়ী অব্যয়' নামেও পরিচিত।

​অন্যদিকে,
সমুচ্চয়ী অব্যয়: 

​যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

​অনন্বয়ী অব্যয়: 
​যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ না রেখে ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়, তাদের অনন্বয়ী অব্যয় বলে। যেমন-
ক. উচ্ছ্বাস প্রকাশে: মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!
খ. স্বীকৃতি বা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে : হ্যাঁ, আমি যাব। না, আমি যাব না।
গ. সম্মতি প্রকাশে: আমি আজ আলবত যাব। নিশ্চয়ই পারব।

​উৎস: 

অনুকার অব্যয়: 
​যে সকল অব্যয় অব্যক্ত রব, শব্দ বা ধ্বনির অনুকরণে গঠিত হয়, সেগুলোকে অনুকার বা
ধ্বন্যাত্মক অব্যয় বলে। যথা-
- বজ্রের ধ্বনি- কড় কড়। 
- মেঘের গর্জন – গুড় গুড়। 
- বৃষ্টির তুমুল শব্দ – ঝম ঝম। 
- সিংহের গর্জন – গর গর। 

​উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮-সংস্করণ)।

৫০৩.
'মাটি, চাল, চিনি' কোন ধরনের বিশেষ্যবাচক শব্দের উদাহরণ?
  1. সমষ্টিবাচক
  2. বস্তুবাচক
  3. ভাববাচক
  4. গুণবাচক
সঠিক উত্তর:
বস্তুবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বস্তুবাচক
ব্যাখ্যা

• যে পদে কোন উপাদানবাচক পদার্থের নাম বোঝায় তাকে বস্তুবাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে।
• এই জাতীয় বস্তুর সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়। যেমনঃ
- বই,
- খাতা,
- কলম,
- থালা,
- বাটি,
- মাটি,
- চাল,
- চিনি,
- লবণ,
- পানি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫০৪.
বাংলা ব্যাকরণে লগ্নক কয় প্রকার?
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক

লগ্নক চার ধরনের:

১. বিভক্তি : ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বােঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলােকে বিভক্তি বলে। বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। করলাম ক্রিয়াপদের লাম’ শব্দাংশ হলাে ক্রিয়া-বিভক্তি এবং কৃষকের পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
২. নির্দেশক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলােকে নির্দেশক বলে। ‘লােকটি বা ভালােটুকু পদের টি’ বা ‘টুকু হলাে নির্দেশকের উদাহরণ।

৩. বচন: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বােঝায়, সেগুলােকে বচন বলে। ছেলেরা বা বইগুলাে পদের রা’ বা ‘গুলাে হলাে বচনের উদাহরণ।

৪. বলক: যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে। তখনই বা ‘এখনও পদের ই বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫০৫.
কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, তাকে কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ বলে?
  1. পদাণু
  2. কালবাচক
  3. স্থানবাচক
  4. ধরনবাচক
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও কি, যে, বা, না, তাে প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- কি: আমি কি যাব?
- যে: খুব যে বলেছিলেন আসিবেন!

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫০৬.
'অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।' - বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. বর্তমান অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• পুরাঘটিত বর্তমান:
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন:
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫০৭.
লগ্নক কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. পাঁচ
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক। 
- লগ্নক চার ধরনের।
যথা - 
 
বিভক্তি: 
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। 
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি। 
- 'করলাম' ক্রিয়াপদের 'লাম' শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং 'কৃষকের' পদের 'এর' শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।
 
নির্দেশক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে। 
- 'লোকটি' বা 'ভালোটুকু' পদের 'টি' বা 'টুকু' হলো নির্দেশকের উদাহরণ। 
 
বচন: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদের সংখ্যা বোঝায়, সেগুলোকে বচন বলে। 
- 'ছেলেরা' বা 'বইগুলো' পদের 'রা' বা 'গুলো' হলো বচনের উদাহরণ। 
 
বলক: 
- যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালো হয়, সেগুলোকে বলক বলে। 
- 'তখনই' বা 'এখনও' পদের 'ই' বা 'ও' হলো বলকের উদাহরণ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫০৮.
অনুসর্গের বৈশিষ্ট্য কোনটি?
  1. ক) অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ থাকে।
  2. খ) অনুসর্গ সম্পর্কিত শব্দটির বামদিকে একটু তফাতে বসে।
  3. গ) অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়ােগ নেই।
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ থাকে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ থাকে।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দের বৈশিষ্ট্য
১. অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ থাকে। 
২. অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়ােগ আছে।
৩. অনুসর্গ সম্পর্কিত শব্দটির ডানদিকে একটু তফাতে বসে।
৪. অনুসর্গ সাধারণত শব্দের পরে বসলেও কখনাে কখনাে পূর্বেও বসে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫০৯.
'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন'- এখানে 'খাওয়াচ্ছেন' কোন ধরনের ক্রিয়াপদের উদাহরণ?
  1. ক) ণিজন্ত
  2. খ) সমাপিকা
  3. গ) অসমাপিকা
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক) ণিজন্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ণিজন্ত
ব্যাখ্যা
• প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- 'মা শিশুকে খাওয়াচ্ছেন'।

• বাক্যটিতে 'খাওয়াচ্ছেন' প্রযোজক বা ণিজন্ত ক্রিয়া, 'মা' প্রযোজক কর্তা এবং 'শিশুকে' প্রযোজ্য কর্তা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, ২০০১৯ সংস্করণ।
৫১০.
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে কী বলে?
  1. ঘটমান বর্তমান
  2. পুরাঘটিত অতীত
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান: 
- যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে। 

যেমন: 
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন। 
- এবার মা খেতে ডেকেছেন। 
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৫১১.
কোনটি শব্দের শেষে যুক্ত হয় না?
  1. নির্দেশক
  2. প্রত্যয়
  3. বিভক্তি
  4. উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উপসর্গ
ব্যাখ্যা
• শব্দের শেষে যুক্ত হয়না - উপসর্গ।

উপসর্গ:
- যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে।
'পরিচালক' শব্দের ‘পরি অংশ একটি উপসর্গ ।

অন্যদিকে,
প্রত্যয়:
যেসব শব্দাংশ শব্দমূলের পরে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে প্রত্যয় বলে।
সাংবাদিক” শব্দের ইক’ অংশ একটি প্রত্যয়।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
‘লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা ‘টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

বিভক্তি: 
ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য বা কারক বোঝাতে যেসকল শব্দাংশ যুক্ত হয় তাদের বিভক্তি বলে।
- 'কৃষকের' শব্দে 'এর' শব্দাংশটি হলো বিভক্তির উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫১২.
'স্বাস্থ্য' কোন ধরনের বিশেষ্য?
  1. গুণবাচক বিশেষ্য
  2. ভাববাচক বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষ্য
  4. নাম-বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৫১৩.
আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়। - বাক্যে কোন ক্রিয়ার প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. নাম ক্রিয়া
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
নাম ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নাম ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

নাম ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো।

সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন-
- ছেলেরা মাঠে খেলছে।

প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫১৪.
কোনটি ক্রিয়া-বিশেষ্য?
  1. আনন্দ
  2. সরলতা
  3. দীনতা
  4. ভোজন
সঠিক উত্তর:
ভোজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভোজন
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি । 

অন্যদিকে,
গুণ-বিশেষ্য:
- গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫১৫.
যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তাকে কোন ক্রিয়া বলে?
  1. অকর্মক ক্রিয়া
  2. অসমাপিকা ক্রিয়া
  3. সকর্মক ক্রিয়া
  4. দ্বিকৰ্মক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অকর্মক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনাে কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়। এই বাক্যে কোনাে কর্ম নেই।

অন্যদিকে,
সকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে সকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে বই পড়ছে।
[এই বাক্যে পড়ছে’ হলাে সকর্মক ক্রিয়া। বই’ হলাে ‘পড়ছে' ক্রিয়ার কর্ম।]

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।
[এই বাক্যে ‘দিলেন একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া। কী দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (বই), আর কাকে দিলেন প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (ছাত্রকে)।]

অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫১৬.
নিচের কোন বাক্যটি সাধারণ বর্তমান কাল নির্দেশ করছে?
  1. আমি ভাত খাই।
  2. আমি ভাত খেয়েছি।
  3. আমি ভাত খাচ্ছি।
  4. আমি ভাত খাব।
সঠিক উত্তর:
আমি ভাত খাই।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি ভাত খাই।
ব্যাখ্যা
• 'আমি ভাত খাই।' বাক্যটি সাধারণ বর্তমান কাল নির্দেশ করছে।
• সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
- যেমন- সে ভাত খায়। আমি বাড়ি যাই।

অন্যদিকে,
- 'আমি ভাত খেয়েছি।' - পুরাঘটিত বর্তমান।
- 'আমি ভাত খাচ্ছি।' - ঘটমান বর্তমান।
- 'আমি ভাত খাব।'- সাধারণ ভবিষ্যত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫১৭.
"চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।" — এই বাক্যে অনুজ্ঞা কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. আদেশ
  2. সম্ভাবনা
  3. বিধান
  4. অনুরোধ
সঠিক উত্তর:
সম্ভাবনা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সম্ভাবনা
ব্যাখ্যা
অনুজ্ঞা পদ:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা, অনুনয় প্রভৃতি অর্থে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কালে মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যেরূপ হয় তাকে অনুজ্ঞা পদ বলে।

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
(১) আদেশে: সদা সত্য বলবে।
(২) সম্ভাবনায়: চেষ্টা কর, সবই বুঝতে পারবে।
(৩) বিধান অর্থে: রোগ হলে ওষুধ খাবে।
(৪) অনুরোধে: কাল একবার এসো (বা আসিও বা আসিবে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫১৮.
কোনটি সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ?
  1. নিজেরা নিজেরা 
  2. পরস্পর
  3. যেমন-তেমন
  4. কেউ-কোথাও
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যেমন-তেমন
ব্যাখ্যা

• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
সর্বনামকে ৯টি শ্রেনিতে ভাগ করা হয়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যাক্তির নামের পরিবর্তে বসে।
যেমন: আমি, তুমি, সে ইত্যাদি।

২. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৩. অনির্দিষ্ট সর্বনাম: অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে এই সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: কেউ, কোথাও, একজন, কিছু ইত্যাদি।

৪. নির্দেশবাচক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব প্রকাশ করে তাকে নির্দেশবাচক সর্বনাম বলে।
যেমন: এ, এই, এরা, ইনি ইত্যাদি।

৫. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোন কাজ করছে এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এই সর্বনামটি ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে।
যেমন: যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পরিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগীতা বা নির্ভরশীলতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: সবাই, সকলে, সকলকে ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোন অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৫১৯.
দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে কোন ধরনের সর্বনাম ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) আত্মবাচক সর্বনাম
  2. খ) পারস্পরিক সর্বনাম
  3. গ) প্রশ্নবাচক সর্বনাম
  4. ঘ) সাপেক্ষ সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
খ) পারস্পরিক সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) পারস্পরিক সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।

• পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা (যাবতীয় দ্বন্দ্ব নিজেরা নিজেরা মিটমাট করে) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫২০.
‘জনতা’ কোন পদ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক ও খ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘জনতা’ সমষ্টিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।

---------------------
• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫২১.
মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। '- ‘সামনে ’ কোন পদ?
  1. ধারনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
  3. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ক্রিয়াবিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
- মেয়েটি গুণগুণিয়ে গান করছে।
[এখানে দ্রুত, ধীরে, গুণগুণিয়ে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়াবিশেষণ।]

ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।  
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরন বাচক ক্রিয়া বিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৫২২.
নিচের কোনটি সর্বনামের বিশেষণ?
  1. ক) হাজার লোক
  2. খ) মেটে কলসি
  3. গ) সেই ছেলে
  4. ঘ) করুণাময় তুমি
সঠিক উত্তর:
ঘ) করুণাময় তুমি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) করুণাময় তুমি
ব্যাখ্যা
যে পদ বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদের দোষ, গুণ, অবস্থা, সংখ্যা, পরিমাণ ইত্যাদি প্রকাশ করে, তাকে বিশেষণ পদ বলে। 'করুণাময় তুমি' বাক্যটিতে 'তুমি' সর্বনামের পূর্বে 'করুণাময়' বিশেষণ টি বসে 'তুমি' সর্বনামটিকে বিশেষিত করেছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫২৩.
অন্যকে দিয়ে করা বোঝালে কোন ক্রিয়া হয়?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. নাম ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

• প্রযোজক ক্রিয়া:
- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
 যেমন :
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন; রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায় এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

অন্যদিকে,
• সরল ক্রিয়া:
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়াটি সম্পন্ন করে, তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- সে লিখছে। ছেলেরা মাঠে খেলছে। এখানে লিখছে ও খেলছে - এগুলো সরল ক্রিয়া।

• নামক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের শেষে -আ বা -আনো প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে নামক্রিয়া বলে।
 যেমন:
- বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে-আনো যুক্ত হয়ে হয় ‘চমকানো’।

• যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৫২৪.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্য?
  1. শোনা
  2. বহর
  3. দর্শন
  4. উৎকর্ষ
সঠিক উত্তর:
উৎকর্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উৎকর্ষ
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষ্য (Abstract Noun):
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা- মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা। তদ্রুপ সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, তারুণ্য, তারল্য, তিক্ততা, সুখ, দুঃখ, উৎকর্ষ ইত্যাদি।

অন্যদিকে, 
----------------
• সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (Collective Noun):
যে পদে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। যথা- সভা, জনতা, সমিতি, সমাজ, পঞ্চায়েত, মিছিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।

• ভাববাচক বিশেষ্য (Verbal Noun):
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে। যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ গমন।
তদ্রুপ- ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

আবার ধাতুর বা প্রাতিপদিকের পর 'আই' প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য গঠিত হয়। চড়ু + আই = চড়াই, বড় + আই = বড়াই ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা দ্বিতীয় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫২৫.
'চিন্তা করো না, কালই আসছি' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. ঘটমান ভবিষ্যৎ
  4. সাধারণ ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা

ঘটমান বর্তমান কাল: 
- যে কাজ শেষ হয়নি, এখনও চলছে, সে কাজ বোঝানোর জন্য ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যথা:
- হাসান বই পড়ছে। 
- নীরা গান গাইছে। 

ঘটমান বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
বক্তার প্রত্যক্ষ উক্তিতে ঘটমান বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়। 
যথা-
- বক্তা বললেন, "শত্রুর অত্যাচারে দেশ আজ বিপন্ন, ধন-সম্পদ লুণ্ঠিত হচ্ছে, দিকে দিকে আগুন জ্বলছে।” 

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অর্থে: 
- চিন্তা করো না, কালই আসছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৫২৬.
"আমি মাত্রই বাড়িতে ফিরেছি।" বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. সাধারণ বর্তমান
  3. পুরাঘটিত অতীত
  4. সাধারণ অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত বর্তমান:
- এইমাত্র সম্পন্ন ক্রিয়ার কালকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।
যেমন
• আমি অঙ্কটি করেছি।
• তারা বাড়িতে ফিরেছে।
• আমি মাত্রই বাড়িতে ফিরেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি, ২০২৫ সালের সংস্করণ।

৫২৭.
ভাববাচক বিশেষ্য নয় কোনটি? 
  1. ভোজন
  2. দর্শন
  3. শোনা
  4. তারল্য
সঠিক উত্তর:
তারল্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
তারল্য
ব্যাখ্যা

• ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনো ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- যাওয়ার ভাব বা কাজ গমন।
তদ্রুপ:
ভোজন, শয়ন, দর্শন, দেখা, শোনা প্রভৃতি।

অন্যদিকে,
• গুণবচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা।
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা।
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫২৮.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. কখনো বা দেখা হবে।
  2. ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
  3. তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
- নিচের বাক্য তিনটির নিম্নরেখ শব্দগুলো ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
লোকটি ধীরে হাঁটে।
মেয়েটি গুনগুনিয়ে গান করছে।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
- এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
যথাসময়ে সে হাজির হয়।

অন্যদিকে,
পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ - কখনো বা দেখা হবে। 
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।
• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ - তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫২৯.
কোনটি নিত্যবৃত্ত অতীত কালের উদাহরণ?
  1. সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
  2. অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।
  3. ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।
  4. এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
সঠিক উত্তর:
ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।

যেমন:
- বাবা প্রতিদিন বাজার করতেন।
- স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
- ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।

অন্যদিকে,
পুরাঘটিত অতীত কাল - সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
পুরাঘটিত বর্তমান কাল - অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি। এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৫৩০.
‘আবার’ শব্দটি কী পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) বিশেষণ
  4. ঘ) সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়।
যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
যেমন- আর, আবার, হ্যাঁ, না, এবং, জন্য, আর, সহসা, হঠাৎ, সুতরাং, কিন্তু, ও, আবার, আলবত, বহুত, খুব ইত্যাদি।
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে৷
যথা- বাংলা অব্যয় শব্দ, তৎসম অব্যয় শব্দ এবং বিদেশী অব্যয় শব্দ৷
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণী
৫৩১.
নিচের কোনটি ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি
  2. খ) মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
  3. গ) টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে
  4. ঘ) সে এখন যাবে না
সঠিক উত্তর:
গ) টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে
ব্যাখ্যা
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন - টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন -আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন -মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়

 নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বােঝায়।
এগুলাে সাধারণত ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন -সে এখন যাবে না

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনাে ভূমিকা পালন না করলেও ‘কি’, ‘যে, বা',না’, ‘তাে  প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন - কি: আমি কি যাব?

[উৎস:বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, সংস্করণ-২০২১]
৫৩২.
নিচের কোনটি সকর্মক ক্রিয়া?
  1. ক) আমি খাই।
  2. খ) সে ঘুমায়।
  3. গ) সে ফুটবল খেলে।
  4. ঘ) কামাল পড়ছে।
সঠিক উত্তর:
গ) সে ফুটবল খেলে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) সে ফুটবল খেলে।
ব্যাখ্যা
সে ফুটবল খেলে- সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ। 
এখানে ক্রিয়ার সাথে 'কী' বা 'কাকে প্রশ্ন' করলে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ আছে। 

সকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া।
- ক্রিয়ার সাথে 'কী' বা 'কাকে প্রশ্ন' করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ। 
- কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া। 

অকর্মক ক্রিয়া
যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া। 
যেমন: সে রোজ সেখানে যায়। 
কী ‘যায়’ বা ‘কাকে যায়’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যায়’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (২০২১ সংস্করণ)।
৫৩৩.
নিচের কোনটি ঘটমান অতীতকালের ক্রিয়া?
  1. পৌঁছেছিলাম
  2. পড়ছিলাম
  3. জানিয়েছিলে
  4. উঠতাম
সঠিক উত্তর:
পড়ছিলাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পড়ছিলাম
ব্যাখ্যা

সাধারণ অতীত:
অতীত কালে যে কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বোঝায়, তাকে সাধারণ অতীত কাল বলে।
যেমন-
- তারা সেখানে বেড়াতে গেল।
- তখন বাতিটা জ্বলে উঠল।

ঘটমান অতীত:
যে ক্রিয়া অতীত কালে চলছিল বোঝায়, তাকে ঘটমান অতীত কাল বলে।
যেমন:
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- তারা মাঠে খেলছিল।

পুরাঘটিত অতীত:
অতীতের যে ক্রিয়া বহু পূর্বেই ঘটে গেছে এবং পরে আরো কিছু ঘটনা ঘটেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।
- খরবটা তুমি আমাকে চিঠিতে জানিয়েছিলে।

নিত্য অতীত:
অতীত কালে প্রায়ই ঘটতো এমন বোঝালে নিত্য অতীত কাল হয়।
যেমন:
- খুব সকালে ঘুম থেকে উঠতাম।
- তারা সাগরের তীরে ঝিনুক কুড়াত।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।

৫৩৪.
'শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।' - বাক্যে 'দিলেন' কোন ক্রিয়া?
  1. প্রযোজক ক্রিয়া
  2. অকর্মক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন। এই বাক্যে ‘দিলেন’ একটি দ্বিকর্মক ক্রিয়া।
- 'কী দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় মুখ্য কর্ম (‘বই’), আর 'কাকে দিলেন' প্রশ্নের উত্তর দেয় গৌণ কর্ম (‘ছাত্রকে’)।

অন্যদিকে:
অকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যে ক্রিয়ার কোনো কর্ম না থাকলে সেই ক্রিয়াকে অকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে ঘুমায়।
- এই বাক্যে কোনো কৰ্ম নেই ৷

প্রযোজক ক্রিয়া:

- কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।
- রাখাল গরুকে ঘাস খাওয়ায়।
- এখানে 'করাচ্ছেন' ও 'খাওয়ায়' প্রযোজক ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৩৫.
"মন দিয়ে পড়ালেখা কর।" - বাক্যে 'দিয়ে' কোন অনুসর্গের উদাহরণ?
  1. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
  2. সাধারণ অনুসর্গ
  3. বিশেষ অনুসর্গ
  4. ক্রিয়াধর্মী অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি,
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
- যেমন: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৩৬.
সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  2. ভালো করে খেয়ে নাও।
  3. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
  4. মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
সঠিক উত্তর:
এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: তুমি সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছি।

• সাধারণ অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৫৩৭.
গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া কয় প্রকার?
  1. ক) ৪
  2. খ) ৫
  3. গ) ৬
  4. ঘ) ৭
সঠিক উত্তর:
খ) ৫
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ৫
ব্যাখ্যা

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া ৫ প্রকার।
যথা:
সরল ক্রিয়া: একটি মাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে তা সম্পন্ন করে তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন: সে লিখছে, ছেলেরা খেলছে ইত্যাদি।

প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন: তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।

নাম ক্রিয়া: 
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ’ বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন: মেঘের বুকে বিদ্যুৎ চমকায়। 

সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘করা', 'কাটা', 'হওয়া', 'দেওয়া' ইত্যাদি যোগ করে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন: ভাঙন ধরা, লজ্জা পাওয়া, আছাড় খাওয়া, পকেট মারা ইত্যাদি।

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠন করে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, এগিয়ে আসা, বলে ফেলা, বুঝে নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৩৮.
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে- এ বাক্যে ‘টিপটিপ’ কী ধরণের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ক) ধরণবাচক
  2. খ) কালবাচক
  3. গ) স্থানবাচক
  4. ঘ) নেতিবাচক
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ধরণবাচক
ব্যাখ্যা
• যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোন কাজ কীভাবে বা কেমন করে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে ধরনবাচক বা ভাবজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
য়েমন :
টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে।
লেখাটা ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
অর্পনা দ্রুত লিখতে পারে।

অন্যদিকে,
কালবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে তাদেরকে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন:
আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

স্থানবাচক: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
মিলেমিশে সামনে এগিয়ে যায়।

নেতিবাচক: যে সকল ক্রিয়াবিশেষণ না, নি, নেই ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায় তাকে নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ বলে। এগুলো সাধারণত ক্রিয়ার পেছনে বসে।
যেমন:
সে এখন যাবে না।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৩৯.
রবিন সারাদিন খেলেছিল। - বাক্যের ক্রিয়া কোন ধরনের?
  1. সকর্মক
  2. অকর্মক
  3. দ্বিকর্মক
  4. অসমাপিকা
সঠিক উত্তর:
অকর্মক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকর্মক
ব্যাখ্যা

সমাপিকা ক্রিয়ার গঠনঃ
সমাপিকা ক্রিয়া সকর্মক, অকর্মক ও দ্বিকর্মক হতে পারে।
ধাতুর সঙ্গে বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যৎ কালের বিভক্তি যুক্ত হয়ে সমাপিকা ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
- মনোয়ার বই পড়ে। (এখানে, ক্রিয়া - সকর্মক; কাল - বর্তমান)
- রবিন সারাদিন খেলেছিল। (এখানে, ক্রিয়া - অকর্মক; কাল অতীত)
- আমি তোমাকে একটি কলম উপহার দেব। (এখানে, ক্রিয়া - দ্বিকর্মক; কাল - ভবিষ্যৎ)

উৎসঃ নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ।

৫৪০.
বাংলা ব্যাকরণের নিয়মানুসারে কোন পদ ছাড়া বাক্য গঠন করা যায় না?
  1. ক) বিশেষ্য পদ
  2. খ) ক্রিয়া পদ
  3. গ) বিশেষণ পদ
  4. ঘ) সর্বনাম পদ
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া পদ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়া পদ
ব্যাখ্যা

ক্রিয়া পদঃ যে পদ দিয়ে কোন কাজ করা বোঝায়, তাকে ক্রিয়া পদ বলে।
অর্থাৎ, বাক্যের অন্তর্গত যে পদ দ্বারা কোন কাজ সম্পাদন করা বা কোন কাজ সংঘটন হওয়াকে বোঝায়, তাকে ক্রিয়া পদ বলে।

ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে পুরুষ ও কাল অনুযায়ী ক্রিয়াবিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। যেমন, ‘পড়্’ একটি ধাতু। এর সঙ্গে উত্তম পুরুষ ও সাধারণ বর্তমান কাল অনুযায়ী ‘ই’ প্রত্যয় যুক্ত হয়ে গঠিত হয় ‘পড়ি’ ক্রিয়াপদটি। আবার মধ্যম পুরুষের জন্য হবে ‘পড়ো’। নাম পুরুষের জন্য হবে ‘পড়ে’। আবার উত্তম পুরুষের জন্য ঘটমান বর্তমান কালের জন্য হবে ‘পড়ছি’। সাধারণ অতীত কালের জন্য হবে ‘পড়েছি’।

ক্রিয়া পদ বাক্যের অপরিহার্য অঙ্গ। শুধু ক্রিয়াপদ নিয়ে একটি বাক্য গঠিত হতে পারে। কিন্তু ক্রিয়া পদ ছাড়া কোন বাক্য গঠিত হতে পারে না। তবে মাঝে মাঝে অনেক বাক্যের ক্রিয়াপদটি উহ্য থাকে। যেমন- ‘রমেশ আমার ভাই (হয়)।’ এই বাক্যে ‘হয়’ ক্রিয়াটি উহ্য থাকে, এটি না লিখলেও সবাই বুঝতে পারে। আর তাই এটি লেখাও হয় না।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি, শীকর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, মোহসীনা নাজিলা এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা, ড. সৌমিত্র শেখর।

৫৪১.
নিচের কোনটি সর্বনামের প্রতিনিধি স্থানীয়?
  1. ক) অব্যয়
  2. খ) ক্রিয়া
  3. গ) বিশেষ্য
  4. ঘ) বিশেষণের অতিশায়ন
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
সর্বনাম
- বিশেষ্যের পরিবর্তে যে শব্দ ব্যবহৃত হয়, তাকে সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম সাধারণত ইতোপূর্বে ব্যবহৃত বিশেষ্যের প্রতিনিধি স্থানীয় শব্দ।
যেমন:  হস্তী প্রাণিজগতের সর্ববৃহৎ প্রাণী। তার  শরীরটি যেন বিরাট এক মাংসের স্তুপ।

উল্লেখ্য যে, 

- বিশেষ্য পদ অনুক্ত থাকলেও ক্ষেত্রবিশেষে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হতে পারে।
- যেমন: যারা দেশের ডাকে সারা দিতে পারে, তারা তো সত্যিকারের দেশপ্রেমিক।

তথ্যসূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
৫৪২.
কোন বাক্যে নামপুরুষের ব্যবহার রয়েছে?
  1. আমরা যাচ্ছি।
  2. ওরা কী করে?
  3. তোরা যাসনে।
  4. আপনি আসবেন
সঠিক উত্তর:
ওরা কী করে?
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ওরা কী করে?
ব্যাখ্যা
• ওরা কী করে? - বাক্যে 'ওরা' নামপুরুষ। 
--------------------
উত্তম পুরুষ:
- স্বয়ং বক্তাই উত্তম পুরুষ।
- আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ উত্তম পুরুষ।

মধ্যম পুরুষ:
- প্রত্যক্ষভাবে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বা শ্রোতাই মধ্যম পুরুষ।
- তুমি, তোমরা, তোরা, তোমাদের, আপনি, আপনারা, আপনাদের ইত্যাদি সর্বনাম শব্দ মধ্যম পুরুষ।

প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ:
- যে সর্বনামের দ্বারা বক্তা বা শ্রোতা ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে বোঝায়, তাকে প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ বলে। 
- আমি ও তুমি এবং এদের দলভুক্ত অন্যান্য সর্বনাম ছাড়া যাবতীয় সর্বনাম পদ  প্রথম পুরুষ বা নাম পুরুষ।
- যেমন: সে, তাকে, তাঁর, তিনি, ওরা, ওদের, ইহারা ইত্যাদি। 

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।।
৫৪৩.
'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' এখানে 'মাঝেই' - অনুসর্গটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. একদেশিক
  2. মধ্যে
  3. ব্যাপ্তি
  4. ক্ষণকাল
সঠিক উত্তর:
ক্ষণকাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্ষণকাল
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।
- অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

• অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ,
- ক্রিয়া অনুসর্গ।

• 'নিমেষ মাঝেই সব শেষ।' - 'মাঝে' অনুসর্গটি 'ক্ষণকাল' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

অন্যদিকে,
• 'এ দেশের মাঝে একদিন সব ছিল।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'একদেশিক' অর্থে' ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'আছ তুমি প্রভু, জগৎ মাঝারে।' - 'মাঝারে' অনুসর্গটি 'ব্যাপ্তি' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
• 'সীমার মাঝে অসীম তুমি।' - এখানে 'মাঝে' অনুসর্গটি 'মধ্যে' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৪৪.
কল্যাণী গাজীপুর থাকে। এখানে গাজীপুর কোন পদ?
  1. ক) বিশেষ্য
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) সর্বনাম
  4. ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

যে ক্রিয়াবিশেষণ দ্বারা কোনো কাজ কোথায় বা কোন স্থানে সংঘটিত হচ্ছে বুঝায় তাকে স্থানজ্ঞাপক ক্রিয়াবিশেষণ বলে।
যেমন :
- আমার সামনে দাঁড়াও।
- এখানে বসো। কল্যাণী গাজীপুর থাকে।
- চশমাটা কোথায় রেখেছি বলতে পারছি না।
- মামুন আমেরিকা থাকে।

উৎস : ভাষা-শিক্ষা, হায়াৎ মামুদ, বাংলা ব্যাকরণ, ড. শাজাহান মনির, বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।

৫৪৫.
’মহারাজের ভোজন-পর্ব শেষ হয়েছে।’ এ বাক্যে ’ভোজন’ কোন পদ?
  1. ক্রিয়া
  2. অব্যয়
  3. বিশেষ্য
  4. বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্যপদ দ্বারা ক্রিয়ার ভাব বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ভাববাচক বা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন: ভোজন, শয়ন, দর্শন, গমন, শ্রবণ, করা, দেখা, শোনা ইত্যাদি।

উল্লেখ্য,
- ভাববাচক বিশেষ্য ও ক্রিয়াপদ এক নয়।
যেমন:

• ভাববাচক বিশেষ্য   
  =     ক্রিয়াপদ
- কোটবাড়ি দর্শন করে এলাম।   =  আমি কোটবাড়ি দেখেছি।
- মহারাজের ভোজন-পর্ব শেষ হয়েছে।    =    আমরা খেয়েছি।
- বাবার শয়ন এখনো সম্পন্ন হয় নি। =    বাবা শুয়েছেন।
- খুকুর নাচন দেখে যা। =   খুকু নাচছে।
-  তার বোধহয় ফেরা হবে না। =  সে ফিরেছে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।
৫৪৬.
'এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।' - এখানে নিম্নরেখ শব্দটি কোন অব্যয়ের উদাহরণ?
  1. সংকোচক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. সংযোজক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।

যেমন:
১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৫৪৭.
আমি তাকে সভায় উপস্থিত দেখেছিলাম - এ বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কালের অন্তর্ভুক্ত?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. নিত্যবৃত্ত অতীত
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।

- যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- আমি তাকে সভায় উপস্থিত দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৫৪৮.
মূর্ত বিশেষ্য কোনটি?
  1. সাহস
  2. সৌন্দর্য
  3. আনন্দ
  4. গোলাপ
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গোলাপ
ব্যাখ্যা

ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতা অনুসারে সাধারণ বিশেষ্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. মূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্যকে স্পর্শ করা যায়, ঘ্রাণ নেওয়া যায় এবং পরিমাপ করা যায় তাকে মূর্ত বিশেষ্য বলে। যেমন- হাত, পা, পানি, গোলাপ ইত্যাদি।

২. বিমূর্ত বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা অবস্তুগত অবস্থা, মনোগত ভাব বা গুণগত বৈশিষ্ট্য বোঝায় তাকে বিমূর্ত বা ভাববিশেষ্য বলে। যেমন- আনন্দ, দুঃখ, ইচ্ছা, রাগ, সন্দেহ, সাহস, সৌন্দর্য ইত্যাদি।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা।

৫৪৯.
নিচের কোনটি সাধু রীতির ক্রিয়াপদ?
  1. করলেন
  2. হইল
  3. পেরিয়ে
  4. পড়লো
সঠিক উত্তর:
হইল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হইল
ব্যাখ্যা

• সাধু ও চলিত ভাষায় ক্রিয়া পদের কতিপয় রূপ:

যেমন:
সাধু     -   চলিত:
হইল - হল/হলো,
→ আসিয়া- এসে,
→ করিলেন- করলেন,
→ দেন নাই- দেননি,
→ পার হইয়া- পেরিয়ে,
→ পড়িল- পড়ল/পড়লো। 
→ করিয়া- করে

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।

৫৫০.
‘কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।’ - বাক্যে ‘হেতু’ অনুসর্গ কী অর্থ প্রকাশ করেছে?
  1. মাঝে
  2. সঙ্গে
  3. নিমিত্ত
  4. কারণ
সঠিক উত্তর:
নিমিত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিমিত্ত
ব্যাখ্যা
• ‘কী হেতু এসেছ তুমি, কহ বিস্তারিয়া।’ বাক্যে ‘হেতু’ অনুসর্গ 'নিমিত্ত' অর্থ প্রকাশ করেছে।

অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে:
- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫১.
কিসের ভেদে ক্রিয়ার রূপের কোনো পার্থক্য হয় না?
  1. অর্থভেদে
  2. বচনভেদে
  3. বর্ণনাভেদে
  4. কালভেদে
সঠিক উত্তর:
বচনভেদে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বচনভেদে
ব্যাখ্যা

ক্রিয়াপদ:
ক্রিয়ামূল অর্থাৎ ধাতুর সঙ্গে কাল সময় ও পুরুষ জ্ঞাপক (ক্রিয়া) বিভক্তিযোগে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়।

ক. পুরুষভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য দেখা যায়।
যেমন:
- আমি যাই।
- তুমি যাও।
- আপনি যান।
- সে যায়। তিনি যান। (সাধারণ ভবিষ্যৎ কালে নাম পুরুষ ও মধ্যম পুরুষের রূপ অভিন্ন।)

খ. বচনভেদে ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় না।
যেমন:
- আমি (বা আমরা) যাই।
- তুমি (বা তোমরা) যাও।
- সে (বা তারা) যায়।

গ. সাধারণ, সম্ভ্রমাত্মক, তুচ্ছার্থকভেদে মধ্যম ও নাম পুরুষের ক্রিয়ার রূপের পার্থক্য হয় হয়ে থাকে (উত্তম পুরুষের হয় না)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ ও ২০২২ সংস্করণ)।

৫৫২.
বাংলা ভাষায় পদ কত প্রকার?
  1. ক) ৩ প্রকার
  2. খ) ৪ প্রকার
  3. গ) ৫ প্রকার
  4. ঘ) ৬ প্রকার
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ৫ প্রকার
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় পদ প্রধানত ২ প্রকার। যথা সব্যয় ও অব্যয় পদ। এর মধ্যে সব্যয় পদ ৪ প্রকার। যার কারণে সামগ্রিকভাবে বাংলা ভাষায় পদ ৫ প্রকার। এগুলো হলোঃ বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম, ক্রিয়া এবং অব্যয়। (সূত্রঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ : নবম-দশম শ্রেণী)
৫৫৩.
'এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।' বাক্যটি ক্রিয়ার কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ অতীত 
  2. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. ঘটমান বর্তমান 
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত বর্তমান:
ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৫৪.
অনুসর্গ প্রধানত কত প্রকার?
  1. দুই প্রকার
  2. তিন প্রকার
  3. চার প্রকার
  4. পাঁচ প্রকার
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দুই প্রকার
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোনো পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মতো কাজ করে। এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত। অন্যভাবে বলা যায়, যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
১. নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ,
২. ক্রিয়া অনুসর্গ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৫.
'সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন' এখানে পূর্বপদ কোনটি?
  1. ক) সিংহ
  2. খ) আসন
  3. গ) সিংহ চিহ্নিত আসন
  4. ঘ) সবগুলো
সঠিক উত্তর:
ক) সিংহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সিংহ
ব্যাখ্যা
সমাসের কয়েকটি পরিভাষা।
ক. সমস্যমান পদ: যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেককে সমস্যমান পদ বলে।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এ বাক্যে সিংহ, চিহ্নিত, আসন- এ তিনটি হচ্ছে সমস্যমান পদ।

খ. সমস্ত পদ : সমস্যমান পদগুলাে মিলিত হয়ে যে একপদে পরিণত হয়, তাকে সমস্ত পদ বলে।
একে আবার সমাসবদ্ধপদও বলা হয়।
যেমন- সিংহ চিহ্নিত আসন = সিংহাসন।
এখানে সিংহাসন হচ্ছে সমস্ত পদ।

গ. ব্যাসবাক্য : সমাসবদ্ধ পদটিকে ব্যাখ্যা করার জন্য যে বাক্য তৈরি করা হয় তাকে ব্যাসবাক্য বলে। ব্যাস' শব্দের অর্থ ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ।
একে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্যও বলা হয়। উপরের বাক্যে ‘সিংহ চিহ্নিত আসন হলাে সিংহাসন শব্দের ব্যাসবাক্য।

ঘ. পূর্বপদ ও পরপদ : সমাস যুক্ত পদের প্রথম অংশকে বলা হয় পূর্বপদ এবং শেষ অংশকে বলা হয় পরপদ বা উত্তরপদ।
'সিংহাসন' শব্দের 'সিংহ' হলাে পূর্বপদ, আর 'আসন' হলাে পরপদ বা উত্তরপদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৫৬.
‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ওরা’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. সর্বনাম
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া
  4. আবেগ
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সর্বনাম
ব্যাখ্যা
• ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইরা নিতে চায়।’- বাক্যে ব্যবহৃত ‘ওরা’ ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম পদের দৃষ্টান্ত।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৭.
“মধুর মিষ্টত্বের গুণ“- বাক্যে মধু কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• গুণবচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা:
• মধুর মিষ্টত্বের গুণ - মধুরতা। (এখানে মধু গুণবাচক বিশেষ্য)
• তরল দ্রব্যের গুণ - তারল্য।
• তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ - তিক্ততা।
• তরুণের গুণ - তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৫৮.
'যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এ বাক্যে 'করলে' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সমাপিকা
  2. দ্বিকর্মক
  3. অসমাপিকা
  4. অকর্মক
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
• 'যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এ বাক্যে 'করলে' অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ
----------------------- 
অসমাপিকা ক্রিয়া: 

- যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- যত্ন করলে রত্ন মিলে।
এখানে 'করলে' বললে ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয় না। তাই এটি অসমাপিকা ক্রিয়া।

অর্থাৎ,
বাক্যটি সম্পূর্ণ হতে হলে 'করলে' ক্রিয়ার পর আরও কিছু যোগ করতে হয়। 'যত্ন করলে' বললে বাক্যটি অসম্পূর্ণ থাকে এবং পূর্ণ অর্থ প্রকাশ পায় না। তাই এখানে 'করলে' একটি অসমাপিকা ক্রিয়া।
------------------------- 
অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা: 
• ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
• ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহি যায়।
• শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি-নবম ও দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ), ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৫৯.
'বৈশাখ' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) সৃষ্টিনাম
  2. খ) স্থাননাম
  3. গ) ব্যক্তিনাম
  4. ঘ) কালনাম
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) কালনাম
ব্যাখ্যা
- 'বৈশাখ' হচ্ছে কালনাম জাতীয় নাম-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান ৷
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( ২০২১ সংস্করণ)।
৫৬০.
‘আজকাল সৎ মানুষের চেয়ে ধনী মানুষের মূল্য বেশি’- বাক্যে ‘আজকাল’ কোন পদের দৃষ্টান্ত?
  1. বিশেষণ
  2. আবেগ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ‘আজকাল সৎ মানুষের চেয়ে ধনী মানুষের মূল্য বেশি’- বাক্যে ‘আজকাল’ কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ পদের দৃষ্টান্ত

⇒ ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৬১.
'জবাই করা মুরগি উঠানে ছটফটায়'-এখানে 'ছটফটায়' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) প্রযোজক ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) সরল ক্রিয়া
  4. ঘ) নামক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ঘ) নামক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) নামক্রিয়া
ব্যাখ্যা
- উল্লেখিত বাক্যে 'ছটফটায়' শব্দটি 'নামক্রিয়ার উদাহরণ।

•নাম ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বনাত্মক শব্দের শেষে ‘আ' বা 'আনো' প্রত্যয় যোগ করে যে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন: বিশেষ্য চমক শব্দের সঙ্গে - 'আনো' প্রত্যয় যুক্ত্য করে হয় 'চমকানো'; আকাশে বিদ্যুৎ চমকায়।

প্রযোজক ক্রিয়া:
কর্তা অন্যকে দিয়ে কাজ করালে তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন: তিনি আমাকে অঙ্ক করাচ্ছেন।

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সাথে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠন করে তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মরে যাওয়া, এগিয়ে আসা, বলে ফেলা, বুঝে নেওয়া ইত্যাদি।

সরল ক্রিয়া: একটি মাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে তা সম্পন্ন করে তাকে সরল ক্রিয়া বলে।
যেমন: ছেলেরা মাঠে খেলছে

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৬২.
‘হেসে ওঠা’ কোন ধরনের ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. মৌলিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- মরে যাওয়া, 
- কমে আসা, 
- এগিয়ে চলা,
- হেসে ওঠা, 
- উঠে পড়া, 
- পেয়ে বসা,
- সরে দাঁড়ানো, 
- বেঁধে দেওয়া,
- বুঝে নেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১)।

৫৬৩.
আমার যাওয়া হবে না –বাক্যে 'যাওয়া' কী ধরনের বিশেষ্য?
  1. ক) ভাববাচক
  2. খ) জাতিবাচক
  3. গ) সংজ্ঞাবাচক
  4. ঘ) গুণবাচক
সঠিক উত্তর:
ক) ভাববাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) ভাববাচক
ব্যাখ্যা

- আমার যাওয়া হবে না –বাক্যে 'যাওয়া' একটি ভাববাচক/ ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য৷
- যে বিশেষ্য পদে কোন ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।

যেমন:
- দর্শন (দেখার কাজ)
- ভোজন (খাওয়ার কাজ)
- শয়ন (শোওয়ার কাজ)
- পঠন (পড়ার কাজ)
- এরূপঃ বসা, চলা, লেখা ইত্যাদি৷

সূত্র: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণী ; ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৬৪.
সাধারণ অনুসর্গের প্রয়োগ ঘটেছে কোনটিতে?
  1. কার কাছে গেলে সমাধান পাব।
  2. বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
  3. সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
  4. ভালো করে খেয়ে নাও।
সঠিক উত্তর:
কার কাছে গেলে সমাধান পাব।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কার কাছে গেলে সমাধান পাব।
ব্যাখ্যা
• কার কাছে গেলে সমাধান পাব।- বাক্যটিতে ‘কাছে’ সাধারণ অনুসর্গের উদাহরণ।

-------------------
• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. সাধারণ অনুসর্গ ও
২. ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
 
• সাধারণ অনুসর্গ:
সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
 
• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন: 
ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।
করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৬৫.
নিচের কোনটি সঠিক?
  1. বাহ - বিস্ময় আবেগ
  2. আহ - প্রশংসা আবেগ
  3. উহ - আতঙ্ক আবেগ
  4. আহা - অলঙ্কার আবেগ
সঠিক উত্তর:
উহ - আতঙ্ক আবেগ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
উহ - আতঙ্ক আবেগ
ব্যাখ্যা
• আবেগ:
মনের নানা ভাব প্রকাশ করা হয় যেসকল শব্দ দিয়ে সেগুলোকে আবেগ বলে।
- এই ধরনের শব্দ বাক্যের অন্য শব্দগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত না হয়ে আলগাভাবে বা স্বাধীনভাবে ব্যবহৃত হয়।
যেমন - ছি ছি, আহা, বাহ্, শাবাশ, হায় হায় ইত্যাদি।

• আতঙ্ক আবেগ:
এ ধরনের শব্দ আতঙ্ক, যন্ত্রনা, কাতরতা ইত্যাদি প্রকাশ করে।
যেমন -
উহ! কি বিপদে পড়া গেল।
বাপরে বাপ! কী ভয়ঙ্কর ছিল রাক্ষস্টা।

অন্যদিকে,
• প্রশংসা আবেগ:
এ ধরনের শব্দ প্রশংসা বা তারিফের মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
বাহ, চমৎকার লিখেছ।
শাবাশ! এমন খেলাই তো চেয়েছিলাম।

• বিস্ময় আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বিস্মিত বা আশ্চর্য হওয়ার  ভাব প্রকাশ করে।
যেমন -
আরে! তুমি আবার কখন এলে?
আহ, কী চমৎকার দৃশ্য!

• অলংকার আবেগ:
এ ধরনের শব্দ বাক্যের অর্থের পরিবর্তন না ঘটিয়ে কোমলতা, মাধুর্য ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য এবং সংশয়, অনুরোধ, মিনতি ইত্যাদি মনোভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়।
যেমন -
যাকগে, ওসব কথা থাক। 
দুর! এ কথা কি বলতে আছে?

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৬৬.
ক্রিয়ার রূপভেদ হয় -
  1. বচন ভেদে
  2. পক্ষ ভেদে
  3. কাল ভেদে
  4. খ ও গ উভয়ই
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ ও গ উভয়ই
ব্যাখ্যা
ক্রিয়া:
বাক্যে উদ্দেশ্য বা কর্তা কী করে বা কর্তার কী ঘটে বা হয়, তা নির্দেশ করা হয় যে পদ দিয়ে তাকে ক্রিয়া
বলে।
যেমন -
- সেজান খেলছে।
- বৃষ্টি হতে পারে।

- ক্রিয়ামূল বা ধাতুর সঙ্গে বিভক্তি যুক্ত হয়ে ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন -
পড় + ই = পড়ি, পড় + এ = পড়ে, পড় + ছে = পড়ছে, পড় + বে = পড়বে।
- পক্ষ (পুরুষ) এবং কাল ভেদে ক্রিয়ার রূপভেদ হয়।
যেমন -
- পক্ষভেদ: আমি পড়ি, আমরা পড়ি, তুমি পড়ো, তোমরা পড়ো, সে পড়ে, তারা পড়ে।
- কালভেদ: আমি পড়ি, আমি পড়ছি, আমি পড়েছি, আমি পড়েছিলাম, আমি পড়ছিলাম, আমি পড়ব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৬৭.
ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তা হলো-
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) শব্দ
  3. গ) ধাতু
  4. ঘ) উক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) ধাতু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ধাতু
ব্যাখ্যা
• ধাতু বা ক্রিয়ামূল:
- ক্রিয়াপদকে বিশ্লেষণ করলে দুটো অংশ পাওযা যায়।
- ক্রিয়াপদ এর দুটি অংশ- ধাতু বা ক্রিয়ামূল, ক্রিয়া বিভক্তি।
- ক্রিয়াপদ থেকে ক্রিয়া বিভক্তি বাদ দিলে যা থাকে তাই ধাতু।
- যেমন: ‘করে’ একটি ক্রিয়াপদ। এতে দুটো অংশ রয়েছে : কর্ +এ (এখানে 'কর্' ধাতু এবং ‘এ’ বিভক্তি)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম - দশম শ্রেণী।
৫৬৮.
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম। - বাক্যটি কোন ধরনের অতীত কাল নির্দেশ করে?
  1. পুরাঘটিত
  2. নিত্যবৃত্ত
  3. ঘটমান
  4. সাধারণ
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত
ব্যাখ্যা
নিত্যবৃত্ত অতীত:
- যে ক্রিয়া অতীতে প্রায়ই ঘটত এমন বোঝায়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।

যেমন:
স্কুল ছুটির পর বন্ধুদের সঙ্গে রোজ পড়া নিয়ে আলাপ করতাম।
ছুটিতে প্রতি বছর গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যেতাম।
আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৫৬৯.
বহর, ঝাঁক, জনতা ইত্যাদি কী ধরনের বিশেষ্য পদ?
  1. ব্যক্তিবাচক
  2. জাতিবাচক
  3. ভাববাচক
  4. সমষ্টিবাচক
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিবাচক
ব্যাখ্যা

• যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বোঝায় তাকে সমষ্টিবাচক বিশেষ্য পদ বলে। যেমনঃ
- সভা,
- সমাবেশ,
- জনতা,
- সমিতি,
- সমাজ,
- পঞ্চায়েত,
- ঝাঁক,
- মিছিল,
- বহর,
- দল,
- বাহিনী ইত্যাদি।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭০.
"এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।" – এখানে "দ্বারা" কী ধরনের অনুসর্গ?
  1. বিশেষণ অনুসর্গ
  2. ক্রিয়া অনুসর্গ
  3. সর্বনাম অনুসর্গ
  4. সাধারণ অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
• "এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।" – এখানে "দ্বারা" সাধারণ অনুসর্গ।

• সাধারণ অনুসর্গ:

সাধারণ অনুসর্গ যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলােকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন:
উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
জন্যে: হারানাে ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
দ্বারা: এমন কাজ তােমার দ্বারা হবে না।
বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৭১.
'উদ্ধত' শব্দের বিশেষ্য রূপ কোনটি?
  1. ক) উদ্ধত
  2. খ) উদ্ধৃত
  3. গ) ঔদ্ধত্য
  4. ঘ) কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
গ) ঔদ্ধত্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ঔদ্ধত্য
ব্যাখ্যা

উদ্ধত [উদ্‌ধতো] (বিশেষণ){(তৎসম বা সংস্কৃত ) উৎ+ √হন্+ত(ক্ত)}

১ দুর্বিনীত; ধৃষ্ট; স্পর্ধিত।
২ দুরন্ত; দুর্দান্ত; উগ্র।
৩ গর্বিত; গোঁয়ার।

ঔদ্ধত্য ( বিশেষ্য)
উদ্ধতি (বিশেষ্য)
১ ঔদ্ধত্য; উচ্ছৃঙ্খলতা; ধৃষ্টতা।
২ গর্ব; অহঙ্কার (কতকগুলি নতুন উদ্ধতি, নতুন উত্তেজনা-অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্ত)।
৩ উন্নতি।

উৎস: বাংলা একাডেমি অভিধান।

৫৭২.
'দ্রুতগতিতে' কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. বিশেষ্য
  3. ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• দ্রুতগতিতে (ক্রিয়া বিশেষণ পদ),
- দ্রুত সংস্কৃত শব্দ + গতিতে বাংলা শব্দ।
অর্থ:
- শ্রীঘ্র,
- ‍তাড়াতাড়ি।

-----------------------
• ক্রিয়া বিশেষণ:
 যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

- অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়।
যেমন - ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।
- তিনি বেড়াতে যাননি।
- এমন কথা আমার জানা নেই।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
- কখনো বা দেখা হবে।
- একটু ঘুরে আসুন না, ভালো লাগবে।
- মরি তো মরব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ) এবং বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৫৭৩.
নিচের কোনটি অনুসর্গ?
  1. ক) পাতি
  2. খ) আম
  3. গ) বাজে
  4. ঘ) পানে
সঠিক উত্তর:
ঘ) পানে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পানে
ব্যাখ্যা

• বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত কিছু অনুসর্গ হলোঃ অপেক্ষা, অভিমুখে, উপরে, করে, কর্তৃক, প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, তরে, পানে, নামে, মতো, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, কর্তৃক, হতে, থেকে, চেয়ে, ভিতর, ভেতর ইত্যাদি।
• পাতি বাংলা উপসর্গ।
• আম ও বাজে আরবি উপসর্গ।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।

৫৭৪.
ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশ করে সেগুলোকে কী বলে?
  1. ক) ক্রিয়ামূল
  2. খ) ক্রিয়াবিভক্তি
  3. গ) প্রকৃতি
  4. ঘ) প্রত্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়াবিভক্তি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ক্রিয়াবিভক্তি
ব্যাখ্যা
ক্রিয়ার দুইটি অংশ:
- প্রথম অংশ ধাতু বা ক্রিয়ামূল এবং
- দ্বিতীয় অংশ ক্রিয়াবিভক্তি।
ক্রিয়ামূলের সঙ্গে যেসব লগ্নক যুক্ত হয়ে ক্রিয়ার কাল ও পক্ষ নির্দেশিত হয়, সেগুলােকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে।
যেমন -
- পড়ছি (পড় + ছি) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা বক্তা পক্ষের এবং এটা দিয়ে ঘটমান বর্তমান কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়।
- পড়বেন (পড়ু + বেন) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা শ্রোতা পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়। - পড়ছিল (পড়ু + ছিল) - ক্রিয়ার এই রূপটি থেকে বােঝা যায় যে, এই ক্রিয়ার কর্তা অন্য পক্ষের এবং এটা দিয়ে সাধারণ অতীত কালের পড়া ক্রিয়াকে বােঝায়। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।
৫৭৫.
কোন বাক্যে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ রয়েছে?
  1. ভালো করে খেয়ে নাও।
  2. এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।
  3. কার কাছে গেলে জানা যাবে?
  4. হারানো ঘড়িটার জন্য অনেজ কেঁদেছি।
সঠিক উত্তর:
ভালো করে খেয়ে নাও।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভালো করে খেয়ে নাও।
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- ভালো করে খেয়ে নাও।
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি।
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

অন্যদিকে,
সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।

যেমন:
- হারানো ঘড়িটার জন্য অনেজ কেঁদেছি।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৫৭৬.
'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!' -বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. অনন্বয়ী অব্যয়
  2. অনুকার অব্যয়
  3. পদান্বয়ী অব্যয়
  4. অনুসর্গ অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

♦ অনন্বয়ী অব্যয়:
- অনন্বয়ী অব্যয় হলো এমন একটি অব্যয়, যা বাক্যের অন্য কোনো পদের সঙ্গে ব্যাকরণগতভাবে যুক্ত নয়। এই ধরনের অব্যয় মূলত মনের আবেগ, সম্বোধন বা বিস্ময় প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। বাক্যের অন্যান্য পদের সঙ্গে এরা কোনো সংযোগ স্থাপন করে না।

- 'তুমি তো ভারি সুন্দর ছবি আঁক!'- বাক্যটিতে 'তো' অব্যয়টি অনন্বয়ী অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাক্যের অন্য পদের সাথে সরাসরি সম্বন্ধ না রেখে একটি বিশেষ ভাব (এখানে প্রশংসা বা জোর) প্রকাশ করে।

উদাহরণ:
• আবেগ বা বিস্ময় প্রকাশ:
- "বাঃ!" কী সুন্দর দৃশ্য!
- "আহা!" বেচারি খুব কষ্ট পেয়েছে।

• আফসোস প্রকাশ:
- "হায়," আমার কপালে কি এই ছিল?

• সম্বোধন প্রকাশ:
- "ওহে," এদিকে এসো।
- "মা," আমাকে আশীর্বাদ করো।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৫৭৭.
বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়াপদ কোথায় বসে?
  1. ক) শেষে
  2. খ) প্রথমে
  3. গ) কর্মের আগে
  4. ঘ) অব্যয় পদের পরে
সঠিক উত্তর:
ক) শেষে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) শেষে
ব্যাখ্যা

সমাপিকা ক্রিয়া:
-যে-ক্রিয়াতে বক্তব্য বা বাক্য শেষ হয়ে যায়, আর কিছু বলার বাকি থাকে না, বাক্যের অর্থগত পূর্ণতা সৃষ্টি হয়, তাকে ‘সমাপিকা ক্রিয়া' বলে।
যেমন-
-ছাত্রেরা বই পড়ছে।
-খোকা ভাত খেয়েছে।
-সূর্য পূর্বদিকে ওঠে।


তাই বলা যায়, বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়াপদ মূলত শেষে বসে।


উৎসঃ ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।

৫৭৮.
'সৌরভ' কী ধরনের বিশেষ্য?
  1. ক) গুণবাচক বিশেষ্য
  2. খ) দ্রব্যবাচক বিশেষ্য
  3. গ) ভাববাচক বিশেষ্য
  4. ঘ) সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
ক) গুণবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) গুণবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
জাতিবাচক বিশেষ্য:
যে পদ দ্বারা কোনাে একজাতীয় প্রাণী বা পদার্থের সাধারণ নাম বােঝায়, তাকে জাতিবাচক বিশেষ্য বলে।
যেমন - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, নদী, ইংরেজ।

দ্রব্যবাচক বিশেষ্য:
যে পদে কোনাে উপাদানবাচক পদার্থের নাম বােঝায়, তাকে বহ্বাচক বা দ্রব্যবাচক বিশেষ্য বলে। এই জাতীয় বস্ত্র সংখ্যা ও পরিমাণ নির্ণয় করা যায়।
যেমন - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, চিনি, লবণ, পানি।

সমষ্টিবাচক বিশেষ্য:
যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টি বােঝায়, তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।
যথা— সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝক, বহর, দল।

ভাববাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

গুণবাচক বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দ্বারা কোনাে বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বােঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যথা—মধুর মিষ্টত্বের গুণ মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ–তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের দোষ বা গুণ— তিক্ততা, তরুণের গুণ-তারুণ্য ইত্যাদি।
তদ্রপ : সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ।

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ]
৫৭৯.
নিচের কোন শব্দটি বিশেষণ পদ?
  1. নিপুণ
  2. নৈপুণ্য
  3. নিপুণতা
  4. দাক্ষিণ্য
সঠিক উত্তর:
নিপুণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিপুণ
ব্যাখ্যা

• বিশেষণ পদ - নিপুণ
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
- "নিপুণ" শব্দের বিশেষ্য পদ - নিপুণতা। 

শব্দের অর্থ:
- দক্ষ, পটু, বিচক্ষণ।

অন্যদিকে,
বিশেষ্য পদ - নৈপুণ্য, দাক্ষিণ্য।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৫৮০.
কোনটি গুণবাচক বিশেষণের উদাহরণ?
  1. ক) তরল পদার্থ
  2. খ) ঠান্ডা পানি
  3. গ) চলন্ত ট্রেন
  4. ঘ) এক টাকা
সঠিক উত্তর:
খ) ঠান্ডা পানি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ঠান্ডা পানি
ব্যাখ্যা
- গুণবাচক বিশেষণ হচ্ছে ঠান্ডা পানি

• গুণবাচক বিশেষণ:
- যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন-
- চালাক ছেলে,
- ঠান্ডা পানি
উপরের উদাহরণগুলোতে ‘চালাক’ ও ‘ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

অন্যান্য অপশন:
• অবস্থাবাচক বিশেষণ:
যেমন- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ। এখানে- ‘চলন্ত’ ও ‘তরল’ অবস্থাবাচক বিশেষণ।

• ক্রমবাচক বিশেষণ:
যেমন- এক টাকা, আট দিন। এখানে- ‘এক' ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৫৮১.
‘দশম শ্রেণি’ - এখানে 'দশম' কোন জাতীয় বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. পরিমাণবাচক
  3. ক্রমবাচক
  4. পূরণবাচক
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পূরণবাচক
ব্যাখ্যা
• পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ:
- পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ দিয়ে কোনো সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান ও পরিমাণকে বোঝায়।
- যেমন: 'এক' সংখ্যার ক্রমিক অবস্থান 'প্রথম', প্রথমা, পহেলা ইত্যাদি। এগুলোকে পূরণবাচক সংখ্যাশব্দ বলে।

• প্রকারভেদ:
• তারিখ পূরণবাচক:
- বাংলা ভাষায় তারিখ নির্দেশ করার জন্য সংখ্যাশব্দের পূরণবাচকে নির্দিষ্ট কিছু প্রত্যয় ব্যবহৃত হয়।
- যথা: পহেলা বা পয়লা (১লা), দোসরা (২রা), তেসরা (৩রা), চৌঠা (৪ঠা), পাঁচই (৫ই), 
- তারিখবাচক শব্দের প্রথম চারটি অর্থাৎ ১ থেকে ৪ পর্যন্ত হিন্দি নিয়মে সাধিত হয়।
- বাকি গুলো বাংলার নিজস্ব নিয়মে গঠিত।

• সাধারণ পূরণবাচক:
- ক্রমবাচক সংখ্যার পর্যায় বা অবস্থানকে নির্দেশ করতে সাধারণ পূরণবাচক হয়ে থাকে।
- যেমন - প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম, একাদশ বা এগারােতম ইত্যাদি।
- সাধারণ পূরণবাচক সংক্ষিপ্ত রূপেও লেখা যায়। যেমন - ১ম, ২য়, ৩য়, ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম, ৯ম, ১০ম ইত্যাদি।

• ভগ্নাংশ পুরণবাচক শব্দ:
- কোনো পূর্ণসংখ্যা থেকে খানিকিটা কম বা খানিকটা বেশি বোঝাতে ভগ্নাংশ পূরণবাচক হয়। 
যেমন: আধ, সাড়ে, সোয়া, পোয়া, দেড়, আড়াই, তেহাই ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৮২.
‘সোনালি ফসল’ - এখানে ‘সোনালি’ কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. গুণবাচক
  2. বিশেষ্যজাত
  3. ক্রিয়াদ্বিত্বজাত
  4. উপাদানবাচক
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যজাত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্যজাত
ব্যাখ্যা
‘সোনালি ফসল’ - এখানে ‘সোনালি’ বিশেষ্যজাত বিশেষণ।
বিশেষ্যের সঙ্গে প্রত্যয় (তদ্ধিত প্রত্যয়) যোগে এ ধরনের বিশেষণ গঠিত হয়।এদেরকে বিশেষ্যজাত বিশেষণ।
- দেশীয় (দেশ+ঈয়) সম্পদ,
- সোনালি (সোনা+আলি। ফসল,
- মেঘলা (মেঘ+লা) আকাশ।

• অন্যান্য অপশন:
- গুণবাচক: বিশেষিত পদের গুণ-বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। যেমন-চৌকস লোক, দক্ষ কারিগর, ঠান্ডা হাওয়া।
- ক্রিয়াদ্বিত্বজাত বিশেষণ: ক্রিয়াপদের দ্বিত্ব ঘটিয়ে গঠিত হয়। যেমন। যায় যায় অবস্থা, খাই খাই মলন, কাঁদো কাঁদো চেহারা।
- উপাদানবাচক বিশেষিত বস্তুর উপাদান নির্দেশ করে। যেমন: বেলে মাটি, মেটে কলসি, পামুদ্রে মূর্তি।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৫৮৩.
কোনটি কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
  2. খুব যে বলেছিলেন আসবেন!
  3. টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
  4. যথাসময়ে সে হাজির হয়।
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথাসময়ে সে হাজির হয়।
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - ঘ) যথাসময়ে সে হাজির হয়। 

কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা না করলেও ‘কি’, ‘যে’, ‘বা’, ‘না’, ‘তো’ ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ:
- আমি কি যাব?
- খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

ধরণবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
- কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয় তা নির্দেশ করে।
উদাহরণ:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ। 

৫৮৪.
অপরিবর্তনীয় পদ কোনটি?
  1. অব্যয়
  2. বিশেষ্য
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা
ন ব্যয় = অব্যয়।
- যার ব্যয় বা পরিবর্তন হয় না, অর্থাৎ যা অপরিবর্তনীয় শব্দ তাই অব্যয়।
- অব্যয় শব্দের সাথে কোনাে বিভক্তিচিহ্ন যুক্ত হয় না, সেগুলাের একবচন বা বহুবচন হয় না এবং সেগুলাের স্ত্রী ও পুরুষবাচকতা নির্ণয় করা যায় না।
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে কখনাে বাক্যের শােভা বর্ধন করে, কখনাে একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযােগ বা বিয়ােগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
বাংলা ভাষায় তিন প্রকার অব্যয় শব্দ রয়েছে-
- বাংলা অব্যয় শব্দ,
- তৎসম অব্যয় শব্দ এবং
- বিদেশি অব্যয় শব্দ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০১৯ সংস্করণ)।
৫৮৫.
"প্রাচুর্য" শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
  5. কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• বাংলা একাডেমি আধুনিক বাংলা অভিধান অনুসারে,
- "প্রাচুর্য" শব্দটি একটি বিশেষ্য পদ।

• 'প্রাচুর্য' (বিশেষ্য)- 
- সংস্কৃত শব্দ।
- প্রকৃতি প্রত্যয় = প্রচুর+য।
অর্থ:
- আধিক্য, বাহুল্য।

উল্লেখ্য,
'প্রচুর' শব্দটি বিশেষণ যার অর্থ - প্রয়োজনানুরূপ; যথেষ্ট; পর্যাপ্ত।

উৎস: আধুনিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি।
৫৮৬.
তুচ্ছার্থে কোন সর্বনামের পুরুষটি ব্যবহৃত হয়?
  1. ক) সে
  2. খ) ইনি
  3. গ) মোরা
  4. ঘ) ওদের
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওদের
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ওদের
ব্যাখ্যা
 
ব্যাক্তিবাচক সর্বনাম পদের ক্ষেত্রে তুচ্ছার্থক বা ঘনিষ্ঠতা জ্ঞাপক রূপে উত্তম ও মধ্যম পুরুষে ব্যবহার নেই ।
কেবল নাম পুরুষের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার - ইহা, ইহারা, এই, এ, এরা, উহা, উহারা্‌, ও, ওরা, ওদের।

উৎস:  মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৮৭.
কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. মন দেওয়া
  2. দোষ দেওয়া
  3. বুঝে নেওয়া
  4. কথা দেওয়া
সঠিক উত্তর:
বুঝে নেওয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বুঝে নেওয়া
ব্যাখ্যা

যৌগিক ক্রিয়া:
- অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।

যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানো, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তোলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• সংযোগ ক্রিয়া - কথা দেওয়া, দোষ দেওয়া, মন দেওয়া।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৮৮.
'বৈশাখ' কোন জাতীয় নাম-বিশেষ্য?
  1. ক) স্থাননাম
  2. খ) কালনাম
  3. গ) সৃষ্টিনাম
  4. ঘ) ব্যক্তিনাম
সঠিক উত্তর:
খ) কালনাম
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) কালনাম
ব্যাখ্যা
- 'বৈশাখ' হচ্ছে কালনাম জাতীয় নাম-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
- ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন-
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান ৷
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা ৷

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ- ২০২১)।
৫৮৯.
নিচের কোনটি নির্দেশক সর্বনাম?
  1. ইনি
  2. কী
  3. কেউ
  4. সবার
সঠিক উত্তর:
ইনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ইনি
ব্যাখ্যা
• নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
যেমন-
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি;
- দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অন্যদিকে,
- 'কী'  প্রশ্নবাচক সর্বনাম।
- 'কেউ' অনির্দিষ্ট সর্বনাম।
- 'সবার' সকলবাচক সর্বনাম।

উল্লেখ্য,
সর্বনাম ৯ প্রকার।
- ব্যক্তিবাচক সর্বনাম, 
- আত্মবাচক সর্বনাম, 
- প্রশ্নবাচক সর্বনাম, 
- নির্দেশক সর্বনাম, 
- অনির্দিষ্ট সর্বনাম, 
- সকলবাচক সর্বনাম, 
- সাপেক্ষ সর্বনাম, 
- পারস্পরিক সর্বনাম, 
- অন্যবাচক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৪ সংস্করণ)।
৫৯০.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ?
  1. আমি তাকে ভাত খেতে দেখেছিলাম।
  2. তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
  3. আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।
  4. সবগুলোই
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সবগুলোই
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?
- আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।
- তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
- আমি তাকে ভাত খেতে দেখেছিলাম।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৫৯১.
'লাজ' শব্দের বিশেষণরূপ কোনটি?
  1. ক) লাজুক
  2. খ) লাজ
  3. গ) লজ্জাবতী
  4. ঘ) কোনটি নয়
সঠিক উত্তর:
ক) লাজুক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) লাজুক
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য- লাজ,
বিশেষণ- লাজুক,
বিশেষ্যের বিশেষণ- লজ্জাবতী

Source: Bangla Academy Dictionary
৫৯২.
নিচের কোনটি দ্বিকর্ম ক্রিয়া নয়?
  1. ক) বাবা আমাকে একটি বই কিনে দিয়েছেন। 
  2. খ) সুজন সখিকে চিঠি লিখবে।
  3. গ) শিক্ষক ছাত্রকে ব্যাকরণ পড়াচ্ছেন। 
  4. ঘ) আমার একটি উপন্যাস আছে।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার একটি উপন্যাস আছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমার একটি উপন্যাস আছে।
ব্যাখ্যা
যে ক্রিয়ার দুটি কর্মপদ আছে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বাবা আমাকে একটি বই কিনে দিয়েছেন। 
মা তোমাকে চিঠি লিখবেন।
শিক্ষক ছাত্রকে অঙ্ক করাচ্ছেন। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৫৯৩.
অনুসর্গ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৫ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: সাধারণ অনুসর্গ ও ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।

সাধারণ অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, সেগুলোকে সাধারণ অনুসর্গ বলে।
যেমন-
- উপরে: মাথার উপরে নীল আকাশ।
- কাছে: কার কাছে গেলে জানা যাবে?
- জন্যে: হারানো ঘড়িটার জন্য অনেক কেঁদেছি।
- দ্বারা: এমন কাজ তোমার দ্বারা হবে না।
- বনাম: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।

ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, সেগুলোকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
যেমন-
- করে: ভালো করে খেয়ে নাও।
- থেকে: ঢাকা থেকে বরিশাল যেতে পদ্মা নদী পার হতে হয়।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা দরকার।
- ধরে: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি।
- বলে: সে সঙ্গে যাবে বলে তৈরি হয়ে এসেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৫৯৪.
কোনটি অনুসর্গের দৃষ্টান্ত?
  1. তেমন
  2. ভিতরে
  3. অপর
  4. যেমন
সঠিক উত্তর:
ভিতরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভিতরে
ব্যাখ্যা
• ‘ভিতরে’ অনুসর্গ পদের উদাহরণ।

• অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- রুনা অপেক্ষা পুতুলের পরীক্ষা ভালো হয়েছে।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
[উপরের বাক্যে ব্যবহৃত ‘অপেক্ষা’ ও ‘পর্যন্ত’ অনুসর্গের উদাহরণ।]

• এরূপ আরো কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ হলো:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতিত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘কে’ ‘রে’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন:
- তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব!

অন্যদিকে,
- ‘যেমন - তেমন’ ‘যারা - তারা’ সাপেক্ষ সর্বনামের উদাহরণ।
- ‘অপর’ অন্যবাচক সর্বনাম পদের উদাহরণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৫৯৫.
'ধূর্ত লোক' - এখানে 'ধূর্ত' কোন ধরনের বিশেষণ শব্দ?
  1. গুণবাচক
  2. অবস্থাবাচক
  3. রূপবাচক
  4. ভাববাচক
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক
ব্যাখ্যা
• সঠিক উত্তর হলো - ক) গুণবাচক।

• 'ধূর্ত লোক' - এখানে 'ধূর্ত' হল একটি গুণবাচক বিশেষণ। এটি 'লোক' শব্দটির একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করছে। 'ধূর্ত' শব্দটি ব্যক্তির চরিত্রের একটি গুণ (কুটিল, চালাক, প্রতারক) নির্দেশ করে।
--------------------
বিভিন্ন প্রকারের বিশেষণ পদ - 

১ . বর্ণবাচক/রূপবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে রং নির্দেশ করা হয়, তাকে বর্ণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – নীল আকাশ, יל ,, সবুজ মাঠ, লাল ফিতা – এখানে ‘নীল’, ‘সবুজ' বা ‘লাল’ হলো বর্ণবাচক বিশেষণ ।

২. গুণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি – এখানে ‘চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।

৩. অবস্থাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন - চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ – এখানে ‘চলন্ত’ ও ‘তরল’ অবস্থাবাচক বিশেষণ।

8. ক্রমবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে ক্রমসংখ্যা বোঝায়, তাকে ক্রমবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এক টাকা, আট দিন – এখানে ‘এক' ও ‘আট’ ক্রমবাচক বিশেষণ ৷

৫. পূরণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পূরণসংখ্যা বোঝায়, তাকে পূরণবাচক বিশেষণ বলে। যেমন – তৃতীয়
প্রজন্ম, ৩৪তম অনুষ্ঠান – এখানে ‘তৃতীয়’ ও ‘৩৪তম’ পূরণবাচক বিশেষণ।
-
৬. পরিমাণবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে পরিমাণ বা আয়তন বোঝায়, তাকে পরিমাণবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – আধা কেজি চাল, অনেক লোক – এখানে ‘আধা কেজি' ও 'অনেক' পরিমাণবাচক বিশেষণ।

৭. উপাদানবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে উপাদান নির্দেশ করে, তাকে উপাদানবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – বেলে মাটি, পাথুরে মূর্তি – এখানে ‘বেলে' ও ‘পাথুরে’ উপাদানবাচক বিশেষণ।

৮. প্রশ্নবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে প্রশ্নবাচকতা নির্দেশিত হয়, তাকে প্রশ্নবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – কেমন গান? কতক্ষণ সময়? – এখানে ‘কেমন' ও 'কতক্ষণ' প্রশ্নবাচক বিশেষণ।

৯. নির্দিষ্টতাবাচক:
যে বিশেষণ দিয়ে বিশেষিত শব্দকে নির্দিষ্ট করা হয়, তাকে নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – এই দিনে, সেই সময় – এখানে ‘এই’ ও ‘সেই’ নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ৷

১০. ভাববাচক বিশেষণ:
যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।
যেমন – ‘খুব ভালো খবর’ ও ‘গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' – এসব বাক্যে “খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (সর্বশেষ সংস্করণ)।
৫৯৬.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. ক) হতে
  2. খ) পরে
  3. গ) নামে
  4. ঘ) পাতি
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) পাতি
ব্যাখ্যা
- পাতি অনুসর্গ নয়, এটি বাংলা উপসর্গ।
- বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে।
- যেমন:
- প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই,
ব্যতীত, জন্যে, জন্য, পর্যন্ত, অপেক্ষা, সহকারে, তরে, পানে, নামে, মত, নিকট, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক, সাথে, সঙ্গে, হইতে, হতে, থেকে, চেয়ে, পাছে, ভিতর, ভেতরে ইত্যাদি। 


উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় বোর্ড বই।
৫৯৭.
নাম অনুসর্গের অন্তর্গত নয় কোনটি?
  1. ক) বিবর্তিত অনুসর্গ
  2. খ) সংস্কৃত অনুসর্গ
  3. গ) ফারসি অনুসর্গ
  4. ঘ) ক্রিয়া অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) ক্রিয়া অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ
- ক্রিয়া অনুসর্গ

নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম,বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৫৯৮.
"কামাল চালাক ছেলে, সে সবাইকে সহজেই বুঝিয়ে ফেলে।" - এখানে 'চালাক' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. বর্ণবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গুণবাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• গুণবাচক বিশেষণ:
যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।
 যেমন-
"কামাল চালাক ছেলে, সে সবাইকে সহজেই বুঝিয়ে ফেলে।"- 
এখানে,
‘চালাক’ হলো গুণবাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৫৯৯.
শিক্ষক ছাত্রটিকে বেতাচ্ছেন- এখানে 'বেতাচ্ছেন' কীসের উদাহরণ?
  1. যৌগিক ক্রিয়া
  2. সরল ক্রিয়া
  3. মিশ্র ক্রিয়া
  4. নামক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
নামক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নামক্রিয়া
ব্যাখ্যা
• নামক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বনাত্মক অব্যয়ের শেষে আ-প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বিশেষ্যের পরে : শিক্ষক ছাত্রকে বেতাচ্ছেন
বিশেষণের পরে : শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে।
ধ্বনাত্মক অব্যয়ের পরে : ছেলেটি ঝিমাচ্ছে।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ), ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৬০০.
পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম ____
  1. ক) বিভক্তি
  2. খ) অক্ষর
  3. গ) বর্ণ
  4. ঘ) লগ্নক
সঠিক উত্তর:
ঘ) লগ্নক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) লগ্নক
ব্যাখ্যা

- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তাকে পদ বলে।
-পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।
- লগ্নক চার ধারনের
- বিভক্তি 
- নির্দেশক
- বচন
- বলক

[উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম - দশম শ্রেণি, সংস্করণ ২০২১, পৃষ্ঠাঃ ২৬]