বিষয়সমূহ

PrepBank · বিষয়ভিত্তিক প্রশ্ন

পদ-প্রকরণ

মোট প্রশ্ন৩,০২৪এই পাতা১০০প্রতি পাতা১০০
ঘনত্ব
উত্তর
উত্তরিতবর্তমানপুনরায় দেখুনঅসম্পূর্ণ

পদ-প্রকরণ

PrepBank · পাতা / ৩১ · ৩০১৪০০ / ৩,০২৪

৩০১.
কোনটি পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ?
  1. বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
  2. প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।
  3. পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।
  4. আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
সঠিক উত্তর:
আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
ব্যাখ্যা
• ‘আমি ঐ কাজ করেছিলাম।’ পুরাঘটিত অতীত কালের উদাহরণ।

-------------------------
• অতীত কাল:

যে ক্রিয়া পুর্বে ঘটে গেছে, তাকে অতীত কাল বলে। অতীত কালের চারটি রূপ। যথা:

১. সাধারণ অতীত কাল:
যে ক্রিয়া সাধারণভাবে অতীত অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে তার সংঘটন কালই সাধারণ অতীত।
যেমন:
- বিড়াল ইঁদুরটিকে ধরল।
- পুলিশ সন্ত্রাসী ছেলেটিকে মেরে ফেলল।

২. ঘটমান অতীত কাল:
অতীতে কোনো কাজ চলছিল এবং তখনও কাজটি শেষ হয়নি; এরূপ অর্থে ঘটমান অতীত ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধ্যায় আমরা টেলিভিশনে খেলা দেখছিলাম।

৩. পুরাঘটিত অতীত কাল:
’যে ক্রিয়া অতীতে ঘটেছে এবং এর প্রভাবও শেষ হয়ে গেছে। তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।
যেমন:
- দায়িত্বটি আমি পালন করেছিলাম।
- প্রিন্সিপাল স্যার আমাদের বাড়ি গিয়েছিলেন।
- আমি ঐ কাজ করেছিলাম।
[বাক্যে কাজ গুলো অতীতে হয়ে গিয়েছে এবং এর রেশ এবং প্রভাবও শেষ হয়ে গিয়েছে]

৪. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
অতীতকালে যে ক্রিয়া সাধারণভাবে এবং সচরাচর ঘটতো তার কাল নিত্যবৃত্ত অতীত কাল।
যেমন:
- প্রতিদিন সকালে আমরা শহিদ মিনারে আড্ডা দিতাম।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩০২.
বাংলা ব্যাকরণে পুরুষ কত প্রকার?
  1. ২ প্রকার
  2. ৩ প্রকার
  3. ৪ প্রকার
  4. ৬ প্রকার
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
৩ প্রকার
ব্যাখ্যা
সর্বনামের পুরুষ:
- বাংলা ব্যাকরণে কেবলমাত্র বিশেষ্য, সর্বনাম ও ক্রিয়াপদেরই পুরুষ আছে।
- বিশেষণ ও অব্যয়ের কোন পুরুষ নাই।
- বাংলা ব্যাকরণে পুরুষ ৩ প্রকার।

যথা-
• উত্তম পুরুষ: আমি, আমরা, আমাদের ইত্যাদি
• মধ্যম পুরুষ: তুমি, তোমরা, তোমাকে, তোমাদের, আপনি, আপনারা ইত্যাদি মধ্যম পুরুষ।
• নাম পুরুষ: সে, তারা, তাহারা, তাদের, তাহাকে, তিনি, তাঁরা ইত্যাদি নাম পুরুষ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩০৩.
'যে' কোন শ্রেণির সর্বনাম শব্দ?
  1. ব্যতিহারিক
  2. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক
  3. সংযোগজ্ঞাপক
  4. সামীপ্যবাচক
সঠিক উত্তর:
সংযোগজ্ঞাপক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সংযোগজ্ঞাপক
ব্যাখ্যা
'যে' - সংযোগজ্ঞাপক সর্বনামের উদাহরণ।

সর্বনাম পদ:
- বাক্যে বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
২. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
৩. সামীপ্যবাচক সর্বনাম: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
৪. দূরত্ববাচক সর্বনাম: ঐ, ঐসব।
৫. সাকুল্যবাচক সর্বনাম: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
৬. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
[প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন - কী দিয়ে ভাত খায়?]
৭. অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক সর্বনাম: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
৮. ব্যতিহারিক সর্বনাম: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
৯. সংযোগজ্ঞাপক সর্বনাম: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
১০. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।
১১. সাপেক্ষ সর্বনাম: যেমন - যারা তারা, যে-সে, যেমন-তেমন (যেমন কর্ম তেমন ফল) ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ ও ২০২১ সংস্করণ)।
৩০৪.
'আজ শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ বনাম নিউজিল্যান্ড এর দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ' - এখানে 'বনাম' কোন অনুসর্গ?
  1. ক্রিয়া অনুসর্গ
  2. ফারসি অনুসর্গ
  3. বিবর্তিত অনুসর্গ
  4. সংস্কৃত অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
ফারসি অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ফারসি অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
- বাংলা ভাষায় এক ধরনের সহায়ক শব্দ বাক্যে অন্য কোন পদের পরে বসে পদটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে কিংবা বিভক্তির মত কাজ করে।
- এগুলো অনুসর্গ নামে পরিচিত।
- এদেরকে পরসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয়ও শব্দ বলা হয়ে থাকে।

• অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
যথা - 
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ।
- ক্রিয়া অনুসর্গ।

• নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
যথা -
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসি অনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম, বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৩০৫.
নিচের কোনটি যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. এগিয়ে চলা
  2. গরম করা
  3. গান করা
  4. ঠনঠন করা
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
এগিয়ে চলা
ব্যাখ্যা
• 'এগিয়ে চলা'- যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ।  

গঠন বিবেচনায় ক্রিয়া পাঁচ প্রকার। 
- সরল ক্রিয়া 
- প্রযোজক ক্রিয়া 
- নাম ক্রিয়া
- সংযোগ ক্রিয়া
- যৌগিক ক্রিয়া

যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন: এগিয়ে চলা, মরে যাওয়া, কমে আসা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে ইত্যাদি।

সংযোগ ক্রিয়া:
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি। 

সরল ক্রিয়া
- একটিমাত্র পদ দিয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় এবং কর্তা এককভাবে ক্রিয়ায়টি সম্পন্ন করে।
যেমন: সে লিখছে, ছেলেরা মাঠে খেলছে। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩০৬.
'ইচ্ছা' - এর বিশেষণ কোনটি?
  1. ঐচ্ছিক
  2. ইচ্ছুক
  3. ইচ্ছাময়
  4. ইচ্ছাশীল
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঐচ্ছিক
ব্যাখ্যা
• ইচ্ছা (বিশেষ্য পদ),
অর্থ:
- অভিলাষ; স্পৃহা; বাসনা।
- রুচি; প্রবৃত্তি (খাওয়ার ইচ্ছা নাই)।
- অভিপ্রায় (খোদার ইচ্ছায় সব হয়)।

অন্যদিকে,
• ইচ্ছুক (বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- অভিলাষী;
- বাসনাযুক্ত
- রাজি;
- সম্মত।

• ঐচ্ছিক ( বিশেষণ পদ),
অর্থ:
- ইচ্ছানুরূপ,
- ইচ্ছানুযায়ী,
- ইচ্ছাধীন।

- ঐচ্ছিক এবং ইচ্ছুক দুটিই বিশেষণ পদ।
- কিন্তু এখানে ইচ্ছা- কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ করছে না, বরং একটি বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করছে। তাই এর বিশেষণ হিসেবেও এমন শব্দ চয়ন করা উচিত যেটা কোন ব্যক্তিকে নির্দেশ না করে একটি বিমূর্ত ধারণাকে প্রকাশ করবে।

• ইচ্ছুক - সাধারণত ব্যক্তিকেই নির্দেশ করে।
• ঐচ্ছিক - বিমূর্ত ধারণা প্রকাশ করে।

সুতরাং, ‘ইচ্ছা’ শব্দের সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য বিশেষণর পদ হচ্ছে- ঐচ্ছিক।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩০৭.
'শরতের পর আসে বসন্ত' বাক্যটিতে 'পর' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. ক) নৈকট্য
  2. খ) দীর্ঘ বিরতি
  3. গ) সামীপ্য
  4. ঘ) আতিশষ্য
সঠিক উত্তর:
খ) দীর্ঘ বিরতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) দীর্ঘ বিরতি
ব্যাখ্যা
'শরতের পর আসে বসন্ত।' বাক্যটিতে 'পর' অনুসর্গটি দীর্ঘ বিরতি অর্থ প্রকাশ করছে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩০৮.
কোনটি পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল?
  1. সুমন হয়তো তখন দেখতে থাকবে।
  2. কাঞ্চন বোধহয় কঠিন অঙ্কটা বুঝে থাকবে।
  3. মনীষা দৌড়াতে থাকবে। 
  4. তুমি হয়তো সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' পড়ে থাকবে।
সঠিক উত্তর:
কাঞ্চন বোধহয় কঠিন অঙ্কটা বুঝে থাকবে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাঞ্চন বোধহয় কঠিন অঙ্কটা বুঝে থাকবে।
ব্যাখ্যা
• ভবিষ্যৎ কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:

• "তোমরা হয়তো 'বিশ্বনবী' পড়ে থাকবে।" এবং "তুমি হয়তো সুকান্ত ভট্টাচার্যের 'ছাড়পত্র' পড়ে থাকবে।" - বাক্যগুলো সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশিষ্ট প্রয়োগের উদাহরণ।
------------------
সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ: অতীত কালের ঘটনা সম্পর্কিত যে ক্রিয়াপদে সন্দেহের ভাব বর্তমান থাকে, তার বর্ণ্নায় সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ব্যবহার হয়।
(ভবিষ্যতে কাজটি সংঘটিত হবে, কিন্তু সমাপ্তির ধারণা স্পষ্ট নয়।) উপরিউক্ত উদাহরণগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত হওয়ার লক্ষণ স্পষ্ট নয়। তাই এগুলো সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশিষ্ট প্রয়োগের উদাহরণ।
-------------
অন্যদিকে, 
পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল:
- যে ক্রিয়া সম্ভবত ঘটে গিয়েছে এবং সেটি বোঝাতে সাধারণ ভবিষ্যৎ কালবোধক শব্দ ব্যবহার করা হয়, এমন হলে তার কালকে পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল বলে।
ভবিষ্যতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজটি সমাপ্ত হয়ে যাবে।
যেমন- 
"কাঞ্চন বোধহয় কঠিন অঙ্কটা বুঝে থাকবে।"
এখানে "বুঝে থাকবে" নির্দেশ করছে যে ভবিষ্যতের নির্দিষ্ট এক সময়ে অঙ্ক বোঝার কাজ সমাপ্ত হয়ে যাবে।
এটি পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ কাল।

অন্যদিকে,
→ ঘটমান ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ - সুমন হয়তো তখন দেখতে থাকবে। মনীষা দৌড়াতে থাকবে।
→ সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের উদাহরণ - বাবা আজ আসবেন। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩০৯.
নিচের কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. উপরে
  2. ব্যতীত
  3. অতএব
  4. অবধি
সঠিক উত্তর:
অতএব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অতএব
ব্যাখ্যা
• উপরে, ব্যতীত, অবধি → এগুলো অনুসর্গ।
অতএব → এটি অব্যয় শব্দ, কিন্তু অনুসর্গ নয়। (যেমন: "সে পরিশ্রম করেছে, অতএব সফল হয়েছে")।

------------------
অনুসর্গ: 

- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন - 
• সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।
এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।

• কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, চেয়ে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

অনুসর্গকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। 
যথা - 
- সাধারণ অনুসর্গ ও 
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (সংস্করণ-২০১৯)।
৩১০.
অনুসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি মিথ্যা?
  1. কখনো স্বাধীন পদরূপে ব্যবহৃত হয় না।
  2. কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
  3. বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে।
  4. কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়।
সঠিক উত্তর:
কখনো স্বাধীন পদরূপে ব্যবহৃত হয় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কখনো স্বাধীন পদরূপে ব্যবহৃত হয় না।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদরূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।

[অনুসর্গগুলো কখনো প্রতিপাদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা ‘কে’ এবং ‘র’ বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।]

• বাংলা ভাষায় বহু অনুসর্গ আছে:
প্রতি, বিনা, বিহনে, সহ, ওপর, অবধি, হেতু, মধ্যে, মাঝে, পরে, ভিন্ন, বই, ব্যতীত, জন্যে, পর্যন্ত, মতো, নামে, পানে, অধিক, পক্ষে, দ্বারা, দিয়া, ভিতর, পাছে, চেয়ে ইত্যাদি।

[এদের মধ্যে দ্বারা, দিয়া, দিয়ে, কর্তৃক (তৃতীয়া বিভক্তি), হইতে, হতে, চেয়ে (পঞ্চমী বিভক্তি), অপেক্ষা, মধ্যে প্রভৃতি কয়েকটি অনুসর্গ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয়।]

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১১.
‘ফলগুলো খুব মিষ্টি।’- বাক্যে ফল কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. বিশেষ্য
  4. অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• ‘ফলগুলো খুব মিষ্টি।’ বাক্যে ‘ফল’ জাতি বিশেষ্যের উদাহরণ।

• বিশেষ্য পদ:
যেসব শব্দ দিয়ে ব্যক্তি, প্রাণী, স্থান, বস্তু, ধারণা ও গুণের নাম বোঝায়, সেগুলোকে বিশেষ্য বলে। যেমন নজরুল, বাঘ, ঢাকা, ইট, ভোজন, সততা ইত্যাদি। বিশেষ্য সাধারণত ছয় প্রকার:
১. নাম-বিশেষ্য,
২. জাতি-বিশেষ্য,
৩. বস্তু-বিশেষ্য,
৪. সমষ্টি-বিশেষ্য,
৫. গুণ-বিশেষ্য এবং
৬. ক্রিয়া-বিশেষ্য।

• নাম-বিশেষ্য:
ব্যক্তি, স্থান, দেশ, কাল, সৃষ্টি প্রভৃতির সুনির্দিষ্ট নামকে নাম-বিশেষ্য বলা হয়।
যেমন:
ব্যক্তিনাম: হাবিব, সজল, লতা, শম্পা।
স্থাননাম: ঢাকা, বাংলাদেশ, হিমালয়, পদ্মা।
কালনাম: সোমবার, বৈশাখ, জানুয়ারি, রমজান।
সৃষ্টিনাম: গীতাঞ্জলি, সঞ্চিতা, ইত্তেফাক, অপরাজেয় বাংলা।

• জাতি-বিশেষ্য:
জাতি-বিশেষ্য সাধারণ-বিশেষ্য নামেও পরিচিত। এ ধরনের বিশেষ্য নির্দিষ্ট কোনো নামকে না বুঝিয়ে প্রাণী ও অপ্রাণীর সাধারণ নামকে বোঝায়। যেমন: মানুষ, গরু, ছাগল, ফুল, ফল, নদী, সাগর, পর্বত ইত্যাদি।

• বস্তু-বিশেষ্য:
কোনো দ্রব্য বা বস্তুর নামকে বস্তু-বিশেষ্য বলে। যেমন: ইট, লবণ, আকাশ, টেবিল, বই ইত্যাদি।

• সমষ্টি-বিশেষ্য:
এ ধরনের বিশেষ্য দিয়ে ব্যক্তি বা প্রাণীর সমষ্টিকে বোঝায়। যেমন: জনতা, পরিবার, ঝাঁক, বাহিনী, মিছিল ইত্যাদি।

• গুণ-বিশেষ্য:
গুণগত অবস্থা ও ধারণার নামকে গুণ-বিশেষ্য বলে। যেমন: সরলতা, দয়া, আনন্দ, গুরুত্ব, দীনতা, ধৈর্য ইত্যাদি।

• ক্রিয়া-বিশেষ্য:
যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে। যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩১২.
‘তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।’- বাক্যে ‘অথচ’ কোন পদের উদাহরণ?
  1. বিশেষণ
  2. সর্বনাম
  3. যোজক
  4. অনুসর্গ
সঠিক উত্তর:
যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যোজক
ব্যাখ্যা
• যোজক:
যোজক একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য পদের সংযোজন বিয়োজন অথবা সংকোচন ঘটায়।
যেমন:
- এতোগুলো বই আর এতোগুলো খাতা ওই ব্যাগে ধরবে?
- ফুলদানিটা ভালো করে ধরো নইলে পড়ে যাবে।
- যত গর্জে তত বর্ষে না।
- যদি রোদ ওঠে তবে রওনা দেব।
- তিনি বিদ্বান অথচ সৎ ব্যক্তি নন।
- তুমি অপরাধী অতএব শাস্তি পেতে হবে।

• যোজকের কাজ একাধিক শব্দ, পদবন্ধু, বাক্যকল্প কিংবা বাক্যকে জুড়ে দেওয়া বা সম্পর্কিত করা। এক্ষেত্রে আর, এবং, নইলে, যেহেতু, কিংবা, অতএব, যদি, যত-তত, যেমন-তেমন, যেরূপ-সেরূপ, অথচ, তবে, তাই, নতুবা, কিন্তু ইত্যাদি যোজক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩১৩.
"লামিসা পাস করে গেল।" - বাক্যে কোন ক্রিয়ার উদাহরণ আছে?
  1. সংযোগ ক্রিয়া
  2. যৌগিক ক্রিয়া
  3. প্রযোজক ক্রিয়া
  4. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- লামিসা পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।

অন্যদিকে,
প্রযোজক ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া অন্যের দ্বারা চালিত হয়, তাকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।
যেমন: মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন।

দ্বিকর্মক ক্রিয়া:
- বাক্যের মধ্যে ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকলে সেই ক্রিয়াকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে।
যেমন: শিক্ষক ছাত্রকে বই দিলেন।

সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন: গরম করা, গান করা, মার খাওয়া, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১) ও বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩১৪.
'কাটিতে কাটিতে ধান এলো বরষা' বাক্যে 'কাটিতে কাটিতে' অসমাপিকা ক্রিয়াটি কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) সামর্থ্য অর্থে
  2. খ) নিরন্তরতা অর্থে
  3. গ) পরিণতি অর্থে
  4. ঘ) আবশ্যকতা অর্থে
সঠিক উত্তর:
খ) নিরন্তরতা অর্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) নিরন্তরতা অর্থে
ব্যাখ্যা
'কাটিতে কাটিতে ধান এলো বরষা' বাক্যে 'কাটিতে কাটিতে' ক্রিয়াটি 'নিরন্তরতা' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

তাছাড়া,
অন্যান্য অসমাপিকা ক্রিয়ার ব্যবহার- 
সামর্থ্য অর্থে: খোকা এখন হাঁটতে পারে।
পরিণতি অর্থে: বৃষ্টিতে ভিজলে সর্দি হবে।
আবশ্যকতা অর্থে: এখন ট্রেন ধরতে হবে। 

 উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩১৫.
ক্রিয়ার ভাব কত প্রকার?
  1. দুই
  2. তিন
  3. চার
  4. ছয়
সঠিক উত্তর:
চার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চার
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়ার ভাব:
ক্রিয়ার যে অবস্থার দ্বারা তা ঘটার ধরন বা রীতি প্রকাশ পায়, তাকে ক্রিয়ার ভাব বলে।

ক্রিয়ার ভাব — ৪ প্রকার।
যথা -
১. নির্দেশক ভাব (Indicative Mood),
২. অনুজ্ঞা ভাব (Imperative Mood),
৩. সাপেক্ষ ভাব (Subjunctive Mood),
৪. আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব (Optative Mood)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)
৩১৬.
'কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।'- বাক্যটি কোন কালের?
  1. নিত্যবৃত্ত বর্তমান 
  2. সাধারণ অতীত
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  4. বর্তমান অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান 
ব্যাখ্যা

• বর্তমান কাল :
⇒ সাধারণ বর্তমান কাল যে ক্রিয়া বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে, তার কালকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে।
যেমন-
- সে ভাত খায়।
- আমি বাড়ি যাই।

ক. নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল:
স্বাভাবিক বা অভ্যস্ততা বোঝালে সাধারণ বর্তমান কালের ক্রিয়াকে নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।
যথা-
সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। (স্বাভাবিকতা)
আমি রোজ সকালে বেড়াতে যাই। (অভ্যস্ততা)

⇒ নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ।
(১) স্থায়ী সত্য প্রকাশে : চার আর তিনে সাত হয়।
(২) ঐতিহাসিক বর্তমান :অতীতের কোনো ঐতিহাসিক ঘটনায় যদি নিত্যবৃত্ত বর্তমান কালের প্রয়োগ হয়, তাহলে তাকে ঐতিহাসিক বর্তমান কাল বলে।
যেমন- বাবরের মৃত্যুর পর হুমায়ুন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণ করেন।
(৩) কাব্যের ভণিতায় :মহাভারতের কথা অমৃত সমান। কাশীরাম দাস ভনে শুনে পুণ্যবান।
(৪) অনিশ্চয়তা প্রকাশে: কে জানে দেশে আবার সুদিন আসবে কি না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম ও দশম শ্রেণি  (২০২০ সালের সংস্করণ)।

৩১৭.
'ডালে ডালে কুসুম ভার'- এখানে 'ভার' কোন অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. সমূহ
  2. বোঝা
  3. গুরুত্ব
  4. বিষাদ
সঠিক উত্তর:
সমূহ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমূহ
ব্যাখ্যা

• এখানে 'ভার' হলো 'সমূহ' অর্থ প্রকাশ করে।

এছাড়া 'ভার' যেসকল অর্থ প্রকাশ করতে পারে:
• ভারকেন্দ্র (বিশেষ্য) (পদার্থবিদ্যা) বস্তুর ভারের মধ্যবিন্দু; centre of gravity। 
• ভারগ্রস্ত (বিশেষণ) ভারাক্রান্ত (এই ভারগ্রস্ত ভাঙা সংসারটিকে চারাইবার-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর))। 
• ভারবাহ, ভারবাহক, ভারবাহী (বিশেষণ), (বিশেষ্য) যে বোঝা বহন করে; বোঝা বহনকারী; ভারী। 
•ভারযষ্টি (বিশেষ্য) ভার বহনের বাঁক। 
• ভারসহ (বিশেষণ) ভার সইতে পারে এমন। 
• ভারসাম্য (বিশেষ্য) দুই দিকের ভাবের সমতামূলক সামঞ্জস্য; balance। 
• ভারহীন (বিশেষণ) হালকা; ওজনহীন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯সংস্করণ)।

৩১৮.
'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!'- বাক্যটিতে কোন প্রকারের অব্যয় পদ ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. অনুসর্গ অব্যয়
  2. অনন্বয়ী অব্যয়
  3. অনুকার অব্যয় 
  4. পদান্বয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
• অনন্বয়ী অব্যয়:
যে সকল অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে কোনাে অন্বয় বা সম্বন্ধ না রেখে স্বাধীনভাবে ভাব প্রকাশ করে তাদেরকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে।
- অনন্বয়ী অব্যয় বক্তার আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিষাদ প্রভৃতি মনােভাব প্রকাশে সহায়তা করে।
যেমন:
- মরি মরি, উঃ, বটে, ছিঃ প্রভৃতি।

'মরি মরি! কী সুন্দর প্রভাতের রূপ!' - এখানে 'মরি মরি' অনন্বয়ী অব্যয়। ‘মরি' পদের সাথে অন্য কোন পদের সম্পর্ক নেই। তাই এটি অনন্বয়ী অব্যয় পদ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৩১৯.
"সুতরাং তুমি যেতে পারো।" - এখানে 'সুতরাং' কোন পদ?
  1. অব্যয়    
  2. বিশেষ্য
  3. বিশেষণ
  4. ক্রিয়া বিশেষণ  
সঠিক উত্তর:
অব্যয়    
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়    
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর: ক) অব্যয়।

ব্যাখ্যা:
বাক্যটি: “সুতরাং তুমি যেতে পারো।”

‘সুতরাং’ এখানে একটি সংযোজক অব্যয় হিসেবে কাজ করছে।
এটি পূর্ববর্তী বাক্য বা কথার সঙ্গে বর্তমান বাক্যকে যুক্ত করে এবং কারণ-ফলাফলের সম্পর্ক বোঝায়।
- অর্থ: “তাই”, “অতএব”, “সেজন্য”, “কাজেই”।

• বাংলা ব্যাকরণে এ ধরনের শব্দগুলো (সুতরাং, অতএব, তাই, কাজেই, তজ্জন্য, এজন্য, তাইলে ইত্যাদি) অব্যয় পদের অন্তর্গত।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ; বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি- নবম ও দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ); অভিগম্য অভিধান।

৩২০.
‘আবার’ - শব্দটি কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. অব্যয়
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অব্যয় পদ:
- যে পদ সর্বদা অপরিবর্তনীয় থেকে বাক্যের শোভা বর্ধন করে, কখনো একাধিক পদের, বাক্যাংশের বা বাক্যের সংযোগ বা বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটায়, তাকে অব্যয় পদ বলে।
যথা-
১. বাংলা, 
২. তৎসম, 
৩. বিদেশি।

বাংলা অব্যয় শব্দ - আর, আবার, ও, হ্যাঁ।
তৎসম অব্যয় শব্দ - যদি, যথা, সহসা, আপাতত, বরং।
বিদেশী অব্যয় শব্দ - আলবত, বহুত, খুব, শাবাশ, খাসা, মাইরি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) ও বাংলা দ্বিতীয় পত্র, নবম-শ্রেণি, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩২১.
'খুব ভালো খরব।'- এখানে 'খুব' কোন ধরনের বিশেষণ?
  1. নির্দিষ্টতাবাচক বিশেষণ
  2. গুণবাচক বিশেষণ
  3. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভাববাচক বিশেষণ
ব্যাখ্যা
ভাববাচক বিশেষণ:
- যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে।

যেমন:
- খুব ভালো খরব।
- গাড়িটা বেশ জোরে চলছে।
- এসব বাক্যে ‘খুব’ এবং ‘বেশ’ ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩২২.
এদেশের মাঝে একদিন সব ছিলো। অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করে?
  1. মধ্যে
  2. একদেশিক
  3. ক্ষণকাল
  4. ব্যাপ্তি
সঠিক উত্তর:
একদেশিক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
একদেশিক
ব্যাখ্যা

উৎস : মাধ্যমিক বাংলা ব্যাকরণ (২০১৯)
৩২৩.
তাকে আসতে বললাম, তবু এল না- বাক্যটিতে কোন ধরনের যোজকের প্রয়োগ ঘটেছে?
  1. সাপেক্ষ যোজক
  2. কারণ যোজক
  3. বিকল্প যোজক
  4. বিরোধ যোজক
সঠিক উত্তর:
বিরোধ যোজক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিরোধ যোজক
ব্যাখ্যা
• তাকে আসতে বললাম, তবু এল না- এখানে 'তবু' বিরোধ যোজক।

• বিরোধ যোজক: 
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে। 
যেমন- এত পড়লাম, কিন্তু পরীক্ষায় ভালো করতে পারলাম না ।
তাকে আসতে বললাম, তবু এল না ।
-------------------- 
• সাধারণ যোজক:
এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যোগ করে।
যেমন – রহিম ও করিম এই কাজটি করেছে । জলদি দোকানে যাও এবং পাউরুটি কিনে আনো ।

• বিকল্প যোজক:
এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন - লাল বা নীল কলমটা আনো । চা না-হয় কফি খান ।

• কারণ যোজক:
এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় যার একটি অন্যটির কারণ।
যেমন-জিনিসের দাম বেড়েছে, কারণ চাহিদা বেশি ।
বসার সময় নেই, তাই যেতে হচ্ছে।

• সাপেক্ষ যোজক:
এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়। যেমন
যদি রোদ ওঠে, তবে রওনা দেব ।
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২৪.
"এতক্ষণ আমি কাপড় ধুয়েছি।" বাক্যটি কোন কালের?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. সাধারণ অতীত
  3. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  4. সাধারণ বর্তমান
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
• "এতক্ষণ আমি কাপড় ধুয়েছি।" বাক্যটি পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ।

• পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- ক্রিয়া পূর্বে শেষ হলে এবং তার ফল এখনও বর্তমান থাকলে, পুরাঘটিত বর্তমান কাল ব্যবহৃত হয়।
যেমন-
- এবার আমি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।
- এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩২৫.
নিচের কোনটি সর্বনাম শব্দের সঙ্গে যোগ হয়?
  1. বচন
  2. সমাস
  3. প্রত্যয়
  4. কারক
সঠিক উত্তর:
বচন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বচন
ব্যাখ্যা
সর্বনাম:
- বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
- বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে।
যেমন :
- “শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।”
- দ্বিতীয় বাক্যের ‘সে' প্রথম বাক্যের ‘শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩২৬.
‘লোকটি ধীরে হাঁটে।’- বাক্যে ‘ধীরে’ কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. সর্বনাম
  4. ক্রিয়া বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়া বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়া বিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
[এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।]

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়।

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ:
না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়।
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ:
'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে।
যেমন:
- আমি কি যাব?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩২৭.
সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝাতে কোন নির্দেশক ব্যবহৃত হয়?
  1. টা
  2. খানি
  3. জন
  4. টুকু
সঠিক উত্তর:
টুকু
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টুকু
ব্যাখ্যা

• টুকু
-টুকু নির্দেশক দিয়ে কোনো কিছুর সামান্য অংশ বা অল্প পরিমাণ বোঝায়। বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে নির্দেশকটি ব্যবহৃত হয়। এর রূপভেদ: -টু বা -টুক।
যেমন
- সাবানটুকু, হাসিটুকু, শরবতটুকু, এতটুকু, সময়টুকু, একটু, আধটু, যতটুক, ততটুক ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
• -টা,-টি
⇒ বিশেষ্য,সর্বনাম ও বিশেষণের সঙ্গে -টা,-টি নির্দেশক বসে। এর দুটি রূপান্তর: -টো ও-টে। যেমন - বাড়িটা, ছেলেটা।

• -খানা,-খানি
⇒ বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে-খানা, -খানি নির্দেশক বসে। যেমন : ব্যাপারখানা, ভাবখানা।

• -জন
⇒ শুধু মানুষের বেলায়-জন নির্দেশকের ব্যবহার হয়। যেমন : বিজ্ঞজন, লোকজন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম ও দশম শ্রেণি (২০২৫ সালের সংস্করণ)।

৩২৮.
আবেগ শব্দের প্রচলিত নাম কী?
  1. ক) সমুচ্চয়ী অব্যয়
  2. খ) অনন্বয়ী অব্যয়
  3. গ) অনুসর্গ অব্যয়
  4. ঘ) অনুকার অব্যয়
সঠিক উত্তর:
খ) অনন্বয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনন্বয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা
যে শব্দের সাহায্যে বক্তার মনের নানা ভাব বা আবেগ প্রকাশ পায় তাকে আবেগ-শব্দ বলে। 
প্রচলিত ব্যাকরণে এগুলোকে অনন্বয়ী অব্যয় বলে। 

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ। 
৩২৯.
অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে ওরা। এখানে 'দিকে' শব্দটি-
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) বিশেষণ
  3. গ) অব্যয়
  4. ঘ) উপসর্গ
সঠিক উত্তর:
ক) অনুসর্গ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অনুসর্গ
ব্যাখ্যা
'অবাক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকে ওরা।' এখানে 'দিকে' শব্দটি- অনুসর্গ

যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না। - এই বাক্যে ছাড়া একটি অনুসর্গ।
কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে পর্যন্ত একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৩০.
'সমুদয়' কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. নির্দেশক
  2. আত্মবাচক
  3. সাকল্যবাচক
  4. অনির্দেশক
সঠিক উত্তর:
সাকল্যবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাকল্যবাচক
ব্যাখ্যা
• বাংলা ভাষায় সর্বনাম পদ নানারকম হয়।

যেমন:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তিনি, এরা, ওরা ইত্যাদি।
২. নির্দেশক সর্বনাম: এ, এটি, সেটি, সেগুলো ইত্যাদি।
৩. সাকল্যবাচক সর্বনাম: সকল, সব, সমুদয় ইত্যাদি।
৪. সাপেক্ষ সর্বনাম: যে-সে, যা-তা, যিনি-তিনি ইত্যাদি।
৫. প্রশ্নসূচক সর্বনাম: কী, কার, কাদের, কিসে ইত্যাদি।
৬. অনির্দেশক সর্বনাম: কেউ, কোন, কেহ, কিছু ইত্যাদি।
৭. আত্মবাচক সর্বনাম: স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি ইত্যাদি।
৮. অন্যাদিবাচক সর্বনাম: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৩১.
"আমি বাড়ি গিয়ে খাব।" - বাক্যের "গিয়ে" কোন ক্রিয়াপদ?
  1. অসমাপিকা
  2. প্রযোজক
  3. সকর্মক
  4. সমাপিকা
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
অসমাপিকা ক্রিয়া:
- যে ক্রিয়া দ্বারা বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ হয় না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে .......
- সে বই নিয়ে ...
• এখানে 'গিয়ে', 'নিয়ে' ক্রিয়ার দ্বারা কথা শেষ হয় নি। বাক্যের অর্থ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বাক্যের অর্থ সম্পূর্ণ করার জন্য আরও ক্রিয়া চাই।

যেমন:
- আমি বাড়ি গিয়ে খাব।
- সে বই নিয়ে পড়তে বসেছে।
• সুতরাং, 'গিয়ে', 'নিয়ে' হচ্ছে অসমাপিকা ক্রিয়া। আর 'খাব', 'বসেছে' এগুলো সমাপিকা ক্রিয়া।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৩২.
সাকুল্যবাচক সর্বনাম কোনটি?
  1. ঐসব
  2. সমুদয়
  3. অপর
  4. স্বয়ং
সঠিক উত্তর:
সমুদয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমুদয়
ব্যাখ্যা

সর্বনামের শ্রেণিবিভাগ:
- বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত সর্বনামসমূহকে নিম্নলিখিত কয়েকটি ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে।

(১) ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা ইত্যাদি।
(২) আত্মবাচক: স্বয়ং, নিজে, খোদ, আপনি।
(৩) সামীপ্যবাচক: এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি ইত্যাদি।
(৪) দূরত্ববাচক: ঐ, ঐসব
(৫) সাকুল্যবাচক: সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ।
(৬) প্রশ্নবাচক: কে, কি, কী, কোন, কাহার, কার, কিসে?
(৭) অনির্দিষ্টতাজ্ঞাপক: কোন, কেহ, কেউ, কিছু।
(৮) ব্যতিহারিক: আপনা আপনি, নিজে নিজে, আপসে, পরস্পর ইত্যাদি।
(৯) সংযোগজ্ঞাপক: যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা ইত্যাদি।
(১০) অন্যাদিবাচক: অন্য, অপর, পর ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩৩৩.
'তোমরা যা খুশি করো, আমি বিদায় হলাম'- এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. ক) সাধারণ অতীত
  2. খ) বর্তমান অনুজ্ঞা
  3. গ) ঘটমান বর্তমান
  4. ঘ) ঘটমান ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) সাধারণ অতীত
ব্যাখ্যা
• 'তোমরা যা খুশি করো, আমি বিদায় হলাম'- এটি সাধারণ অতীত কালের উদাহরণ।
• যে ক্রিয়া অতীত কালে সাধারণভাবে সংঘটিত হয়েছে অর্থাৎ বর্তমান কালের পূর্বে সংঘটিত হয়েছে , তাকে সাধারণ অতীত কাল বলা হয়।
যেমন :
- আমি কাজটি করলাম।
- আমি খেলা দেখে এলাম।
- এক্ষণে জানিলাম, কুসুমে কীট আছে ইত্যাদি।

সাধারণ অতীতের বিশিষ্ট ব্যবহার:
পুরাঘটিত বর্তমান স্থলে : 'এক্ষণে জানিলাম, কুসুমে কীট আছে।' 
বিশেষ ইচ্ছা অর্থে বর্তমান কালের পরিবর্তে : তোমরা যা খুশি কর, আমি বিদায় হলাম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ নবম দশম শ্রেণি ২০১৯ সংস্করণ।
৩৩৪.
ঘটমান বর্তমান কালের ক্রিয়া রয়েছে নিচের কোন বাক্যে?
  1. চার আর তিনে সাত হয়।
  2. এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।
  3. টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
  4. সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়।
সঠিক উত্তর:
টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
• ঘটমান বর্তমান:
যে ক্রিয়ার কাজ বর্তমানে ঘটছে বা চলছে, এখনো শেষ হয়ে যায়নি, তাকে ঘটমান বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- আমার ছোট ভাই লিখছে।
- ছেলেরা এখনো ফুটবল খেলছে।
- টেলিভিশনে রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক দেখাচ্ছে।
- বালকেরা স্কুলে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, 
• এতক্ষণ আমি অঙ্ক করেছি।- পুরাঘটিত বর্তমান কালের উদাহরণ। 
• সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যায়। চার আর তিনে সাত হয়।-  নিত্যবৃত্ত সাধারণ বর্তমান কালের উদাহরণ। 

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯-সংস্করণ)।
৩৩৫.
অনুসর্গের উদাহরণ নয় কোনটি?
  1. ধীরে, সুস্থে
  2. মাঝে, মধ্যে
  3. সাথে, পাশে
  4. সম্মুখে, পিছনে
সঠিক উত্তর:
ধীরে, সুস্থে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরে, সুস্থে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ:
যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন -
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না।
এই বাক্যে ‘ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ?
এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

• যেসব শব্দের পরে অনুসর্গ বসে, সেসব শব্দের সঙ্গে ‘-কে’, ‘-র’ ইত্যাদি বিভক্তিও যুক্ত হতে পারে।
যেমন -
তোমাকে দিয়ে এ কাজ সম্ভব।
সে পরীক্ষার জন্য পড়ছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৩৬.
'সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল'। বাক্যটিতে কোন ধরনের ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. ক) অসমাপিকা ক্রিয়া
  2. খ) যৌগিক ক্রিয়া
  3. গ) ক্রিয়া বিশেষণ
  4. ঘ) সমাপিকা ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) যৌগিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
যৌগিক ক্রিয়া:
অসমাপিকা ক্রিয়ার সঙ্গে সমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়ে যখন একটি ক্রিয়া গঠন করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন - মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, হেসে ওঠা, উঠে পড়া, পেয়ে বসা, সরে দাঁড়ানাে, বেঁধে দেওয়া, বুঝে নেওয়া, বলে ফেলা, করে তােলা, চেপে রাখা ইত্যাদি।
'সন্ধ্যা ঘনিয়ে এল' তাই যৌগিক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৩৭.
কোনটি আত্মবাচক সর্বনাম?
  1. নিজেরা নিজেরা
  2. পরস্পর
  3. যারা-তারা
  4. নিজে
সঠিক উত্তর:
নিজে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিজে
ব্যাখ্যা
আত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরনের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
যেমন: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
পারস্পরিক সর্বনাম - পরস্পর, নিজেরা নিজেরা
সাপেক্ষ সর্বনাম - যারা-তারা

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ সংস্করণ)।
৩৩৮.
কোন বাক্যটিতে সমধাতুজ কর্ম আছে? 
  1. সে ঘুমিয়ে আছে।
  2. সে যে চাল চেলেছে তাতে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
  3. সে গভীর চিন্তায় মগ্ন।
  4. সে বই পড়ছে।
সঠিক উত্তর:
সে যে চাল চেলেছে তাতে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সে যে চাল চেলেছে তাতে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
ব্যাখ্যা
সমধাতুজ কর্ম:
- বাক্যের ক্রিয়া ও কর্ম পদ একই ধাতু থেকে গঠিত হলে ঐ কর্মপদকে সমধাতুজ কর্ম বা ধাত্বর্থক কর্মপদ বলে।

যেমন:
- 'আমি বেশ এক ঘুম ঘুমিয়েছি'- বাক্যে কর্মপদ ঘুম এবং ক্রিয়াপদ ঘুমিয়েছি একই ধাতু ঘুম্‌ থেকে গঠিত হয়েছে।
অনুরূপ,
- সে যে চাল চেলেছে তাতে তাকে ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।

অন্যদিকে,
অন্যান্য বাক্যে সমধাতুজ কর্ম নেই।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৩৯.
"বাবা আমাদের দেখাশুনা করছিলেন।" বাক্যের ক্রিয়া কোন কাল নির্দেশ করছে?
  1. সাধারণ অতীত
  2. ঘটমান অতীত
  3. ঘটমান বর্তমান
  4. পুরাঘটিত অতীত
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান অতীত
ব্যাখ্যা
• "বাবা আমাদের দেখাশুনা করছিলেন।" বাক্যের ক্রিয়া ঘটমান অতীত কাল নির্দেশ করছে।

• ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়। যেমন-
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৪০.
'তুমি কিংবা সে এর জন্য দায়ী।' - এখানে 'কিংবা' কোন ধরনের অব্যয়?
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. সংকোচক অব্যয়
  4. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিয়োজক অব্যয়
ব্যাখ্যা

• 'তুমি কিংবা সে এর জন্য দায়ী।' এখানে 'কিংবা' একটি বিয়োজক অব্যয়। 

--------------------
• সমুচ্চয়ী অব্যয়: 

যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন বা সংকোচন ঘটায়, তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বা সম্বন্ধবাচক অব্যয় বলে।

ক. সংযোজক অব্যয়:
(i) উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। এখানে 'ও' অব্যয়টি বাক্যস্থিত দুটি পদের সংযোজন করছে।
(ii) তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। এখানে 'তাই' অব্যয়টি দুটি বাক্যের সংযোজন ঘটাচ্ছে। আর, অধিকন্তু, সুতরাং শব্দগুলোও সংযোজক অব্যয়।

খ. বিয়োজক অব্যয়:
(i) হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।
[এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি পদের (হাসেম এবং কাসেমের) বিয়োগ সম্বন্ধ ঘটাচ্ছে।]

(ii) 'মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন'। এখানে 'কিংবা' অব্যয়টি দুটি বাক্যাংশের বিয়োজক।
[আমরা চেষ্টা করেছি বটে, কিন্তু কৃতকার্য হতে পারিনি। এখানে 'কিন্তু' অব্যয় দুটি বাক্যের বিয়োজক।]

বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো শব্দগুলো বিয়োজক অব্যয়।

গ. সংকোচক অব্যয়:
তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। এখানে 'অথচ' অব্যয়টি দুটি বাক্যের মধ্যে ভাবের সংকোচ সাধন করেছে।
কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

ঘ. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-
১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪১.
কোনটি অসমাপিকা ক্রিয়ার ধরন নয়?
  1. ভাবী অসমাপিকা
  2. ভূত অসমাপিকা
  3. শর্ত অসমাপিকা
  4. অকর্মক অসমাপিকা
সঠিক উত্তর:
অকর্মক অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অকর্মক অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
• অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের।
যথা- 
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।

• অসমাপিকা ক্রিয়ার উদাহরণ:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায়।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালো হয়।

অন্যদিকে,
অকর্মক অসমাপিকা - অসমাপিকা ক্রিয়ার ধরন নয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি ( সংস্করণ- ২০২১)।
৩৪২.
‘ঠিকভাবে কাজ করলে কেউ কিছু বলবে না।’বাক্যে ব্যবহৃত ‘ঠিকভাবে’ কোন ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ?
  1. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  2. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  3. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
  4. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা

• ‘ঠিকভাবে কাজ করলে কেউ কিছু বলবে না।’বাক্যে ব্যবহৃত ‘ঠিকভাবে’- ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণ: যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হলো ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

• ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনাে ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন:
- টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
- ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

• কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে। 
যেমন:
- যথাসময়ে সে হাজির হয় ।

• স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন:
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়। 

• নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। 
যেমন:
- তিনি আর এখন ক্রিকেট খেলেন না।

• পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: 'কি', 'যে', 'বা', 'না', 'ত' ইত্যাদি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। 
যেমন:
- আমি কি যাব? 

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৪৩.
প্রযোজক ক্রিয়ার অপর নাম কী?
  1. ণিজন্ত ক্রিয়া
  2. নামধাতুর ক্রিয়া
  3. যৌগিক ক্রিয়া
  4. মিশ্র ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
ণিজন্ত ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ণিজন্ত ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রযোজক ক্রিয়া: 
- যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অন্য কর্তৃক অনুষ্ঠিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে। (সংস্কৃত ব্যাকরণে একে ণিজন্ত ক্রিয়া বলা হয়)।
যেমন: 
- মা খোকাকে চাঁদ দেখাচ্ছেন। 
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
 
অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলিত হয়ে যে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- সে পাস করে গেল।
- সাইরেন বেজে উঠল।
 
মিশ্র ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ ও ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সঙ্গে কর্, হ্, দে, পা, যা, কাট্, গা, ছাড়্, ধর্, প্রভৃতি ধাতুযোগে
গঠিত ক্রিয়াপদ বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করলে, তাকে মিশ্র ক্রিয়া বলে।
যেমন–
বিশেষ্যের (পরে) : আমরা তাজমহল দর্শন করলাম; এখন গোল্লায় যাও।
ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের পরে : ঝম্‌ ঝম্‌ করে বৃষ্টি পড়ছে।
 
উৎস:
১) বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিত, নবম দশম শ্রেণি, (সংস্করণ ২০২১ ও ২০১৯)।
২) বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৪৪.
সর্বনামকে কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়?
  1. ১০
সঠিক উত্তর:
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ব্যাখ্যা
• সর্বনাম:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে।
যেমন - নজরুল ভালো ছেলে। সে নিয়মিত স্কুলে যায়।
দ্বিতিয় বাক্যের ‘সে’ প্রথম বাক্যের ‘নজরুল’- এর পরিবর্তে বসেছে।
- বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

• সর্বনামকে নিচের নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অর্নিদিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪৫.
'বালকেরা স্কুলে যাচ্ছে' বাক্যটি কোন ধরণের বর্তমান কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. নিত্য বর্তমান
  4. বর্তমান অনুজ্ঞা
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘটমান বর্তমান
ব্যাখ্যা
ঘটমান বর্তমান কাল: যে ক্রিয়ার কাল শেষ হয়নি, এখনো চলছে এরূপ অর্থ বোঝালে ঘটমান বর্তমান হয়।
যেমন:
- ছন্দা গান গাইছে।
- রাফিন ও রিজন বল খেলছে।
- বালকেরা স্কুলে যাচ্ছে

অন্যদিকে, 
সাধারণ বর্তমান:
যে ক্রিয়া বর্তমান কালে নিয়মিতভাবে ঘটে, তাকে সাধারণ বর্তমান কাল বলে। যেমন -
- আমি স্কুলে যাই।
- সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে।

বর্তমান অনুজ্ঞা: বর্তমানে কোনো ক্রিয়া সম্পাদনের আদেশ, উপদেশ, আশীবার্দ, অভিশাপ, অনুরোধ, প্রার্থনা প্রভৃতি বোঝানোর জন্য বর্তমান অনুজ্ঞা ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- সদা সত্য বলো।
- আল্লাহ তোমাকে দীর্ঘজীবী করুন।

উৎস: প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৪৬.
"আজ যদি পারি, একবার সেখানে যাব।" - এখানে 'যদি'- 
  1. সংযোজক অব্যয়
  2. বিয়োজক অব্যয়
  3. অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
  4. সংকোচক অব্যয়
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়
ব্যাখ্যা

• অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থাকে। তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন-

১. তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।
২. আজ যদি (শর্ত বাচক) পারি, একবার সেখানে যাব।
৩. এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

• "আজ যদি পারি, একবার সেখানে যাব।" - এখানে 'যদি'- অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়।

অন্যদিকে,
• সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং।
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে।

• বিয়োজক অব্যয় - বা, অথবা, নতুবা, নয়তো।
• সংকোচক অব্যয় - অথচ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৪৭.
"সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।" - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত কাল
  2. ঘটমান অতীত কাল
  3. সাধারণ অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত কাল
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত অতীত কাল:
- যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।

যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ) এবং মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৪৮.
কোনটি শ্রোতা পক্ষের সর্বনামের দৃষ্টান্ত?
  1. আপনি
  2. তিনি
  3. আমাদের
  4. ওদের
সঠিক উত্তর:
আপনি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আপনি
ব্যাখ্যা
• ব্যক্তিবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তিনামের পরিবর্তে বসে। এই সর্বনাম তিন ধরনের:

• বক্তা পক্ষের সর্বনাম: আমি, আমরা, আমাকে, আমাদের ইত্যদি।
• শ্রোতা পক্ষের সর্বনাম: তুমি, তোমরা, তুই, তোরা, আপনি, আপনারা, তোমাকে, তোকে, আপনাকে ইত্যাদি।
• অন্য পক্ষের সর্বনাম: সে, তারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ওর, ওদের ইত্যাদি।

শ্রোতাপক্ষ ও অন্যপক্ষের সর্বনামকে মর্যাদা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: 
• সাধারণ সর্বনাম (তুমি, সে), 
• মানী সর্বনাম (আপনি, তিনি, ইনি, উনি) ও
• ঘনিষ্ঠ সর্বনাম (তুই, এ, ও)।

----------------------------
• সর্বনাম পদ:
বিশেষ্যের পরিবর্তে ব্যবহৃত শব্দকে সর্বনাম শব্দ বলে। বাক্যের মধ্যে বিশেষ্য যে ভূমিকা পালন করে, সর্বনাম অনুরূপ ভূমিকা পালন করে। যেমন- "শিমুল মনোযোগের সঙ্গে পড়াশোনা করত। তাই সে পরীক্ষায় ভালো করেছে।" দ্বিতীয় বাক্যের 'সে' প্রথম বাক্যের 'শিমুল'-এর পরিবর্তে বসেছে। বিশেষ্য শব্দের মতো সর্বনাম শব্দের সঙ্গেও বিভক্তি, নির্দেশক, বচন প্রভৃতি যুক্ত হয়।

সর্বনামকে নয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ব্যক্তিবাচক সর্বনাম,
২. আত্মবাচক সর্বনাম,
৩. নির্দেশক সর্বনাম,
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম,
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম,
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম,
৭. পারস্পরিক সর্বনাম,
৮. সকলবাচক সর্বনাম,
৯. অন্যবাচক সর্বনাম।

- তবে বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণির পুরাতন সংস্করণ অনুসারে সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৪৯.
কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয়?
  1. দুঃখ
  2. স্বাস্থ্য
  3. সুখ
  4. ভােজন
  5. কোনোটি নয়
সঠিক উত্তর:
ভােজন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ভােজন
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।

তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য পদে কোনাে ক্রিয়ার ভাব বা কাজের ভাব প্রকাশিত হয়, তাকে ভাববাচক বিশেষ্য বলে।
যথা-
- গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।
৩৫০.
কোনটি অনুসর্গ নয়?
  1. ধরে
  2. করে
  3. হর
  4. অবধি
সঠিক উত্তর:
হর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
হর
ব্যাখ্যা

• উর্দু-হিন্দি উপসর্গ 'হর'।

অনুসর্গ: 

- যেসব শব্দ কোনাে শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সঙ্গে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- সে কাজ ছাড়া কিছুই বােঝে না।- এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
- কোন পর্যন্ত পড়েছ? - এই বাক্যে 'পর্যন্ত' একটি অনুসর্গ।

কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ:
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দরুন, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাবদ, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতাে, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে,
সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫১.
কর্মপ্রবচনীয় কী?
  1. ক) প্রত্যয়
  2. খ) উপসর্গ
  3. গ) ক্রিয়া বিভক্তি
  4. ঘ) অব্যয়
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) অব্যয়
ব্যাখ্যা
বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তিরূপে ব্যবহৃত হয় তাদেরকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ-নবম দশম শ্রেণি
৩৫২.
‘এক যে ছিল রাজা!’- এ বাক্যে ‘যে’ কোন ধরনের অব্যয়?
  1. বাক্যালংকার
  2. সংশয়বাচক
  3. সম্মতিসূচক
  4. ক্রিয়াবিশেষণ স্থানীয়
সঠিক উত্তর:
বাক্যালংকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যালংকার
ব্যাখ্যা

• ‘এক যে ছিল রাজা!’- বাক্যে ‘যে’ বাক্যালংকার অব্যয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। বাক্যে ব্যবহৃত ‘যে’ অব্যয়টি প্রদত্ত বাক্যের মনোভাবকে সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

⇒ ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যে গুণ দ্বারা ভাষার শক্তি বর্ধন ও সৌন্দর্য সম্পাদন হয় তাকে অলংকার বলে।”

==============
⇒ সমুচ্চয়ী অব্যয়:

যে অব্যয় পদ একটি বাক্যের সঙ্গে অন্য একটি বাক্যের অথবা বাক্যস্থিত একটি পদের সঙ্গে অন্য একটি পদের সংযোজন, বিয়োজন এবং সংকোচন ঘটায় তাকে সমুচ্চয়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- 'লেখাপড়া কর নতুবা ফেল করবে' বাক্যের ‘নতুবা' সমুচ্চয়ী অব্যয়।

সমুচ্চয়ী অব্যয় তিন প্রকার। যথা:
• বিয়োজক অব্যয়: 
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।
এখানে ''কিংবা'' বিয়োজক' অব্যয়। 
এরকম- কিংবা, বা, অথবা, নতুবা, না হয়, নয়তো, ইত্যাদি।

• সংযোজক অব্যয়: 
ক. উচ্চপদ ও সামাজিক মর্যাদা সকলেই চায়। বাক্যে ‘ও’ সংযোজক অব্যয়।
খ. তিনি সৎ, তাই তাঁকে সকলেই শ্রদ্ধা করে। বাক্যে ‘তাই’ সংযোজক অব্যয়।
তাছাড়া আর, অধিকন্তু, সুতরাং সংযোজক অব্যয়।

• সংকোচক অব্যয়: 
- তিনি বিদ্বান, অথচ সৎ ব্যক্তি নন। বাক্যে ‘অথচ’ সংকোচক অব্যয়। কিন্তু, বরং শব্দগুলোও সংকোচক অব্যয়।

• অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয়: 
যে, যদি, যদিও, যেন প্রভৃতি কয়েকটি শব্দ সংযোজক অব্যয়ের কাজ করে থেকে।
তাই তাদের অনুগামী সমুচ্চায়ী অব্যয় বলে।
যেমন:
- তিনি এত পরিশ্রম করেন যে তার স্বাস্থ্যভঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা আছে।

উৎস: ভাষা-শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫৩.
'লোকটা পাগল' এখানে 'পাগল' কোন বিশেষণ?
  1. বিধেয় বিশেষণ
  2. অবস্থাবাচক বিশেষণ
  3. গুণবাচক বিশেষণ
  4. ভাববাচক বিশেষণ
সঠিক উত্তর:
বিধেয় বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিধেয় বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিধেয় বিশেষণ:
- বাক্যের বিধেয় অংশে যেসব বিশেষণ বসে, সেসব বিশেষণকে বিধেয় বিশেষণ বলে।
যেমন- 'লোকটা পাগল' বা 'এই পুকুরের পানি ঘোলা' বাক্য দুটির 'পাগল' ও 'ঘোলা' বিধেয় বিশেষণ।

 অন্যদিকে,
- গুণবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ দিয়ে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বোঝায়, তাকে গুণবাচক বিশেষণ বলে।যেমন- চালাক ছেলে, ঠান্ডা পানি এখানে 'চালাক' ও 'ঠান্ডা' হলো গুণবাচক বিশেষণ।
- অবস্থাবাচক বিশেষণ: যে বিশেষণ দিয়ে অবস্থা বোঝায়, তাকে অবস্থাবাচক বিশেষণ বলে। যেমন- চলন্ত ট্রেন, তরল পদার্থ- এখানে 'চলন্ত' ও 'তরল' অবস্থাবাচক বিশেষণ।
- ভাববাচক বিশেষণ: যেসব বিশেষণ বাক্যের অন্তর্গত অন্য বিশেষণকে বিশেষিত করে, সেসব বিশেষণকে ভাববাচক বিশেষণ বলে। যেমন- 'খুব ভালো খবর' ও 'গাড়িটা বেশ জোরে চলছে' এসব বাক্যে 'খুব' এবং 'বেশ' ভাববাচক বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২৫ সংস্করণ), ৯ম-১০ম শ্রেণি।
৩৫৪.
অনুসর্গ সাধারণত কোথায় বসে?
  1. বাক্যের শেষে
  2. শব্দের পূর্বে
  3. শব্দের পরে
  4. শব্দের মধ্যে 
সঠিক উত্তর:
শব্দের পরে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শব্দের পরে
ব্যাখ্যা

অনুসর্গ: 
- যেসব শব্দ কোনো শব্দের পরে বসে শব্দটিকে বাক্যের সাথে সম্পর্কিত করে, সেসব শব্দকে অনুসর্গ বলে।
যেমন:
- বিনা, তরে, দ্বারা, দিয়ে, পানে, নামে, মত, কাছে, ধরে, নিয়োগ ইত্যাদি।

অনুসর্গকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা-
১) সাধারণ অনুসর্গ ও
২) ক্রিয়াজাত অনুসর্গ। 

• সাধারণ অনুসর্গ: 
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া ছাড়া অন্য শব্দ থেকে তৈরি হয়, তাকে সাধারণ অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: আজ বাংলাদেশ বনাম ভারতের খেলা।
- কার কাছে গেলে জানা যাবে? 
- এমন কাজ তোমার দ্বারা হবেনা।

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
- যেসব অনুসর্গ ক্রিয়াপদ থেকে তৈরি হয়েছে, তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে। 
- যেমন: বহুদিন ধরে অপেক্ষা করে আছি;
- তুমি আসবে বলে দাঁড়িয়ে আছি,
- মন দিয়ে পড়ালেখা কর।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৫৫.
ক্রিয়া কালের বিশিষ্ট প্রয়াগ কোনটি?
  1. ক) ভালোভাবে পৌঁছে যেয়ো।
  2. খ) এমন ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
  3. গ) দু - একদিনের মধ্যে সে আসবে।
  4. ঘ) আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি।
ব্যাখ্যা
• “আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি” - ক্রিয়া কালের বিশিষ্ট প্রয়াগ

• অনেক সময় ক্রিয়াবিভক্তি যেই কালের হয়, ঘটনা সেই কালের হয় না। এগুলো ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ ।
নিচের বাক্য দুটির দিকে তাকানো যাক : 
- আমি গতবছর পরীক্ষা দিয়েছিলাম 
- আমি গত বছর পরীক্ষা দিয়েছি 
প্রথম বাক্যে ক্রিয়ার কাল অতীত এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে ক্রিয়ার কাল বর্তমান কালের এবং ক্রিয়া ঘটার সময় অতীতের। দ্বিতীয় বাক্যটি ক্রিয়ার কালের বিশিষ্ট প্রয়োগের নমুনা।

উৎস : বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি ( নবম-দশম শ্রেণি )।
৩৫৬.
‘অমুক’ কোন সর্বনাম?
  1. অন্যবাচক
  2. ব্যক্তিবাচক
  3. আত্মবাচক
  4. নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
অন্যবাচক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অন্যবাচক
ব্যাখ্যা

⇒ ‘অমুক’ অন্যবাচক সর্বনামের উদাহরণ।

⇒ সর্বনাম:
 বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে। সর্বনাম পদগুলোকে মূলত ৯ ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা:
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: ব্যক্তিবাচক সর্বনাম ব্যক্তি নামের পরিবর্তে বসে। যেমন-  আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।

২. আত্মবাচক সর্বনাম: কর্তা নিজেই কোনো কাজ করেছে, এ ভাবটি জোরদিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়। যেমন- স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।

৩. নির্দেশক সর্বনাম: যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে  নির্দেশক সর্বনাম বলে। যেমন:
নিকট নির্দেশক- এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি।
দূর নির্দেশক- ও, ওই, ওরা, উনি।

৪. অনির্দষ্ট সর্বনাম: অনির্দষ্ট বা পরিচয়হীন কিছু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয় তাকে অনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে। যেমন- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন।

৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম: প্রশ্ন তৈরির জন্য প্রশ্নবাচক সর্বনাম প্রয়োগ করা হয়। যেমন- কে, কারা, কাকে, কার, কী ইত্যাদি।

৬. সাপেক্ষ সর্বনাম: পরস্পর নির্ভরশীল দুটি সর্বনামকে সাপেক্ষ সর্বনাম বলে। যেমন- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন ইত্যাদি।

৭. পারস্পারিক সর্বনাম: দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয় । যেমন- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

৮. সকলবাচক/সাকুল্যবাচক সর্বনাম: ব্যক্তি, বস্তু বা ভাবের সমষ্টি বোঝাতে সকলবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত ইত্যাদি।

৯. অন্যবাচক সর্বনাম: নিজ ভিন্ন অন্য কোনো অনির্দিষ্ট ব্যক্তি বোঝাতে অন্যবাচক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়। যেমন: অন্য, অপর, পর, অমুক ইত্যাদি।

- তবে পুরাতন বই অনুযায়ী সর্বনাম ১০ প্রকার। ১০ নম্বরটি হলো- ব্যতিহারিক সর্বনাম।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২৩ ও ২০১৯ সংস্করণ)।

৩৫৭.
'বিকালে ছেলেরা ক্রিকেট খেলে।' - এখানে অলগ্নক পদ কোনটি?
  1. বিকালে
  2. ছেলেরা
  3. ক্রিকেট
  4. খেলে
সঠিক উত্তর:
ক্রিকেট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিকেট
ব্যাখ্যা

সঠিক উত্তর - গ) ক্রিকেট।
-------------------
• লগ্নক:
- শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ।
- পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলোর নাম লগ্নক।

• লগ্নক চার ধরনের।
যথা:
- বিভক্তি, 
- নির্দেশক, 
- বচন, 
- বলক।

• গঠনগতভাবে পদ দুই রকমের।
যথা -
- অলগ্নক পদ,
- সলগ্নক পদ। 
 -------------------  
• সলগ্নক পদ:
- বাক্যের যেসব পদে লগ্নক থাকে সেগুলোকে সলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'বিকালে ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'। 
- এ বাক্যে 'বিকালে', 'ছেলেরা' ও 'খেলে' সংলগ্নক পদ।
 
• অলগ্নক পদ:
যেসব পদে লগ্নক থাকে না সেগুলোকে অলগ্নক পদ বলে।
যেমন -
'বিকালে ছেলেরা ক্রিকেট খেলে'।
- এ বাক্যে 'ক্রিকেট' অলগ্নক পদ।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৫৮.
নিচের কোনটি সকর্মক ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ক) মেয়েটি হাসে
  2. খ) ছেলেরা খেলা করছে
  3. গ) সে যায়
  4. ঘ) রাজু পড়ে
সঠিক উত্তর:
খ) ছেলেরা খেলা করছে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) ছেলেরা খেলা করছে
ব্যাখ্যা
সে রোজ সেখানে যায়- বাক্যটি অর্কমক ক্রিয়ার উদাহরণ। 

সকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্মপদ আছে তাই সকর্মক ক্রিয়া।
- ক্রিয়ার সাথে কী বা কাকে প্রশ্ন করলে যে উত্তর পাওয়া যায়, তাই ক্রিয়ার কর্মপদ।
- কর্মপদযুক্ত ক্রিয়াই সর্কমক ক্রিয়া।

অকর্মক ক্রিয়া
- যে ক্রিয়ার কর্ম নেই, তা অকর্মক ক্রিয়া।
- যেমনঃ সে রোজ সেখানে যায়। কী ‘যায়’ বা ‘কাকে যায়’ প্রশ্ন করলে কোনো উত্তর হয় না। কাজেই ‘যায়’ ক্রিয়াটি অকর্মক ক্রিয়া।

উৎস: ভাষা শিক্ষা- ড. হায়াৎ মামুদ।
৩৫৯.
কোনটি নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়?
  1. যদিও
  2. অধিকন্তু
  3. যথা-তথা
  4. নয়তো
সঠিক উত্তর:
যথা-তথা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
যথা-তথা
ব্যাখ্যা

নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয়:
- কতকগুলো যুগ্ম শব্দ পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল, সেগুলো নিত্য সম্বন্ধীয় অব্যয় রূপে পরিচিত।

যেমন:
- যথা-তথা,
- যখন-তখন,
- যেমন-তেমন,
- যেরূপ- সেরূপ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
অনুগামী সমুচ্চয়ী অব্যয়:
- যে, যদি, যদিও, যেন। 
যেমন: এভাবে চেষ্টা করবে যেন কৃতকার্য হতে পার।

সংযোজক অব্যয়:
- ও, আর, তাই, অধিকন্তু, সুতরাং। 
যেমন: তিনি সৎ, তাই সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করে। 

বিয়োজক অব্যয়:
- বা, অথবা, নতুবা, নয়তো
যেমন: হাসেম কিংবা কাসেম এর জন্য দায়ী।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।

৩৬০.
'দু-একটা উইকেট পড়লে কী হবে, কেউ-না-কেউ নিশ্চয় দাঁড়িয়ে যাবে।’ - এই বাক্যে কেউ-না-কেউ’ কোন ধরনের সর্বনাম?
  1. সামীপ্যবাচক
  2. ব্যতিহারিক
  3. অন্যাদিবাচক
  4. অনির্দেশক
সঠিক উত্তর:
অনির্দেশক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনির্দেশক
ব্যাখ্যা
অনির্দিষ্ট সর্বনাম:
- অনির্দিষ্ট বা পরিচয়হীন কিচু বোঝাতে যে সর্বনাম ব্যবহৃত হয, তাকেঅনির্দিষ্ট সর্বনাম বলে।
- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন ইত্যাদি দ্বারা অনির্দিষ্টতা নির্দেশ করা হয়।
যেমন:
- কেউ-না-কেউ নিশ্চয় দাঁড়িয়ে যাবে।

অন্যদিকে,
নির্দেশক সর্বনাম:
- যে সর্বনাম নৈকট্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে, তাকে নির্দেশক সর্বনাম বলে।
 যেমন:
- নিকট নির্দেশক: এ, এই, এরা, ইনি;
- দূর নির্দেশক: ও, ওই, ওরা, উনি।

অত্মবাচক সর্বনাম:
- কর্তা নিজেই কোনো কাজ করছে, এ ভাবটি জোর দিয়ে বোঝানোর জন্য এ ধরণের সর্বনাম ব্যবহার করা হয়।
- আত্মবাচক নির্দেশক: নিজে, স্বয়ং ইত্যাদি।
যেমন:
- সে নিজে অঙ্কটিা করছে।

পারস্পরিক সর্বনাম:
- দুই পক্ষের সহযোগিতা বা নির্ভরতা বোঝাতে পারস্পরিক সর্বনাম ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬১.
'ধীর' শব্দটির বিশেষ্যরূপ কী?
  1. ধীরতা
  2. ধৈর্য
  3. ধীরস্থির
  4. ধীরি
সঠিক উত্তর:
ধীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরতা
ব্যাখ্যা

• 'ধীর' শব্দের বিশেষ্য পদ - ধীরতা।

• ধীর (বিশেষণ পদ):
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- স্থিরচিত্ত
- মন্থর,
- সামান্য,
- বিনীত,
- পণ্ডিত।

অন্যদিকে,
• ধীরতা (বিশেষ্য পদ):
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ধৈর্য; ধৃতি (সকল ধীরতা শিক্ষা রসেতে পণ্ডিত-দৌকা)।
- স্থিরচিত্ততা।
- গাম্ভীর্য।
- পাণ্ডিত্য।
- বুদ্ধিমত্তা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৬২.
কর্তা অন্যকে দিয়ে করালে বোঝালে কোন ক্রিয়া হয়?
  1. ক) সরল ক্রিয়া
  2. খ) প্রযোজক ক্রিয়া
  3. গ) নাম ক্ৰিয়া
  4. ঘ) যৌগিক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
খ) প্রযোজক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) প্রযোজক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
⇒ প্রযোজক ক্রিয়া:
যে ক্রিয়া একজনের প্রযোজনা বা চালনায় অপরজন কর্তৃক সম্পাদিত হয়, সেই ক্রিয়াকে প্রযোজক ক্রিয়া বলে।

• প্রযোজক ক্রিয়া: যে ক্রিয়া প্রযোজনা করে, তাকে প্রযোজক কর্তা বলে।
• প্রযোজ্য কর্তা: যাকে দিয়ে ক্রিয়াটি অনুষ্ঠিত হয়, তাকে প্রযোজ্য কর্তা বলে।

যেমন:
- মা (প্রযোজক কর্তা) শিশুকে (প্রযোজ্য কর্তা) চাঁদ দেখাচ্ছে(প্রযোজক ক্রিয়া)।
- সাপুড়ে সাপ খেলায়।
- মা শিশুটিকে হাসান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৩.
কোনটি ঘটমান অতীত কালের উদাহরণ?
  1. সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
  2. শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।
  3. কাজটি কি তুমি করেছিলে?
  4. কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
সঠিক উত্তর:
কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
ব্যাখ্যা
• ঘটমান অতীত কাল:
- অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি, ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বুঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন:
- কাল সন্ধায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- আমরা তখন বই পড়ছিলাম।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

অন্যদিকে, 
• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংগঠিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন:
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

• সাধারণ অতীত কাল:
বর্তমান কালের পূর্বে যে ক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে, তার সংঘটন সাধারণ অতীত কাল।
যেমন:
- শিকারি পাখিটিকে গুলি করল।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৪.
কোনটি সংযোগ ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. ঠনঠন করা
  2. এগিয়ে চলা
  3. সরে দাঁড়ানো
  4. মরে যাওয়া
সঠিক উত্তর:
ঠনঠন করা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঠনঠন করা
ব্যাখ্যা

সংযোগ ক্রিয়া:
- বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের পরে করা, কাটা, হওয়া, দেওয়া, ধরা, পাওয়া, খাওয়া, মারা প্রভৃতি ক্রিয়া যুক্ত হয়ে সংযোগ ক্রিয়া গঠিত হয়।
যেমন:
- গরম করা, গান করা, উদয় হওয়া, ঠনঠন করা ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
যৌগিক ক্রিয়া:
- সমাপিকা ক্রিয়ার সাথে অসমাপিকা ক্রিয়া যুক্ত হয়।
যেমন:
- মরে যাওয়া, কমে আসা, এগিয়ে চলা, বুঝে নেওয়া, সরে দাঁড়ানো
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৬৫.
পদ বিবেচনায় শব্দ কত প্রকার?
  1. ছয়
  2. সাত
  3. আট
  4. নয়
সঠিক উত্তর:
আট
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আট
ব্যাখ্যা

পদ বিবেচনায় শব্দের শ্রেণিবিভাগ: 
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন তার নাম হয় পদ।
- বাক্যের অন্তর্গত এসব শব্দ বা পদকে মোট আটটি শ্রেণিতে ভাগ করে বর্ণনা করা যায়:

যেমন:
১. বিশেষ্য,
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ,
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়াবিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক ও
৮. আবেগ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।

৩৬৬.
'ঝাঁক' কোন প্রকার বিশেষ্যের উদাহরণ?
  1. বস্তুবাচক বিশেষ্য
  2. জাতিবাচক বিশেষ্য
  3. ভাববাচক বিশেষ্য
  4. সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
সমষ্টিবাচক বিশেষ্য: 
- যে পদে বেশকিছু সংখ্যক ব্যক্তি বা প্রানীর সমষ্টি বোঝায় তা-ই সমষ্টিবাচক বিশেষ্য।

যেমন:
- সভা, জনতা, সমিতি, পঞ্চায়েত, মাহফিল, ঝাঁক, বহর, দল ইত্যাদি।
 
অন্যদিকে,
ভাববাচক বিশেষ্য - গমন (যাওযার ভাব বা কাজ), দর্শন (দেখার কাজ), ভােজন (খাওয়ার কাজ), শয়ন (শশায়ার কাজ), দেখা, শােনা।
জাতিবাচক বিশেষ্য - মানুষ, গরু, পাখি, গাছ, পর্বত, ইংরেজ ইত্যাদি জাতিবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ।
বস্তুবাচক বিশেষ্য - বই, খাতা, কলম, থালা, বাটি, মাটি, চাল, পানি, চিনি ইত্যাদি।
 
উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৬৭.
বুৎপত্তি অনুসারে অনুসর্গ কয় প্রকার?
  1. ৪ প্রকার
  2. ১ প্রকার
  3. ৩ প্রকার
  4. ২ প্রকার
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
উত্তর
সঠিক উত্তর:
২ প্রকার
ব্যাখ্যা
• ব্যুৎপত্তি অনুসারে অনুসর্গ গুলিকে দুটিভাগে ভাগ করা যায়- 
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ
- ক্রিয়াজাত অনুসর্গ

• নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ কে আবার তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
- সংস্কৃত অনুসর্গ
- বিবির্তিত অনুসর্গ
- ফারসি অনুসর্গ

• ক্রিয়াজাত অনুসর্গ:
যেসব অনুসর্গ ক্রিয়া থেকে তৈরি হয় তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
ক্রিয়াজাত অনুসর্গের মধ্যে উল্লেখযোগ্য: করে, থেকে, দিয়ে, ধরে হতে ইত্যাদি।

• ক্রিয়াজাত কিছু অনুসর্গের প্রয়োগ- উদাহরণ:
- করে : কাপড়্গুলো ভালোকরে পরিষ্কার করো। 
- থেকে: আমার কথ শুনে সে আকাশ থেকে আকাশ থেকে পড়লো।
- দিয়ে: মন দিয়ে লেখাপড়া করা উচিত। 
- বলে: আপনি সাহায্য করেছেন বলেই কাজটা হলো।


উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি অভিধান।
৩৬৮.
‘শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে’ - এখানে কী অর্থে যৌগিক ক্রিয়া ব্যবহৃত হয়েছে?
  1. নিরন্তর
  2. কার্যসমাপ্তি
  3. অভ্যস্ততা
  4. অনুমোদন
  5. তাগিদ দেয়া
সঠিক উত্তর:
অভ্যস্ততা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অভ্যস্ততা
ব্যাখ্যা
একটি সমাপিকা ক্রিয়া ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া পাশাপাশি বসে যদি কোন বিশেষ বা সম্প্রসারিত অর্থ প্রকাশ করে, তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে।
অর্থাৎ, একটি সমাপিকা ও একটি অসমাপিকা ক্রিয়া মিলে যদি তাদের সাধারণ অর্থ প্রকাশ না করে কোন বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে, তখন তাকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। যেমনঃ
- ঘটনাটা শুনে রাখ। (শোনার বদলে তাগিদ দেয়া অর্থ বুঝিয়েছে)
- তিনি বলতে লাগলেন। (বলার অর্থ সম্প্রসারণ করে নিরন্তর বলা বুঝিয়েছে)
- ছেলেমেয়েরা শুয়ে পড়ল। (শোওয়ার পাশাপাশি দিনের কার্যসমাপ্তিও বোঝাচ্ছে)
- সাইরেন বেজে উঠল। (আকস্মিক সাইরেন বাজার কথা বলা হচ্ছে)
- শিক্ষায় মন সংস্কারমুক্ত হয়ে থাকে। (অভ্যস্ততা অর্থে, ধীরে ধীরে সংস্কারমুক্ত হয় বোঝাচ্ছে)
- এখন যেতে পার। (যাওয়ার বদলে অনুমোদন অর্থে)
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি।
৩৬৯.
“হাসিমের ভাই এসেছে” - এ বাক্যে ‘হাসিমের’ পদটি কীসের সম্প্রসারক?
  1. ক) ক্রিয়ার সম্প্রসারক
  2. খ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
  3. গ) বিশেষণের সম্প্রসারক
  4. ঘ) বিধেয়ের সম্প্রসারক
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) উদ্দেশ্যের সম্প্রসারক
ব্যাখ্যা
প্রতিটি বাক্যে দুটি অংশ থাকে: উদ্দেশ্য ও বিধেয়।
বাক্যের যে অংশে কাউকে উদ্দেশ্য করে কিছু বলা হয়, তাকে উদ্দেশ্য এবং উদ্দেশ্য সম্বন্ধে যা বলা হয়, তাকে বিধেয় বলা হয়।
যেমন: খোকা এখন (উদ্দেশ্য) বই পড়ছে (বিধেয়)।

একটি মাত্র পদবিশিষ্ট কর্তৃপদকে সরল উদ্দেশ্য বলে।
উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশেষণাদি যুক্ত থাকলে তাকে সম্প্রসারিত উদ্দেশ্য বলে।

প্রশ্নের বাক্যে,
হাসিমের (উদ্দেশ্য) ভাই এসেছে (বিধেয়)।
সুতরাং, উদ্দেশ্যের সম্প্রসারণ হয়েছে।

উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।
৩৭০.
কোনটি বর্তমান কালের অনুজ্ঞা?
  1. সব সময় সত্যি বলবে।
  2. অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।
  3. বড় হও, বুঝতে পারবে।
  4. আদেশ করুন জাহাপনা।
সঠিক উত্তর:
আদেশ করুন জাহাপনা।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
আদেশ করুন জাহাপনা।
ব্যাখ্যা

অনুজ্ঞা:
- আদেশ, অনুরোধ, অনুমতি, প্রার্থনা ইত্যাদি বোঝাতে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালের মধ্যম পুরুষে ক্রিয়াপদের যে রূপ হয়, তাকে অনুজ্ঞা বলে।

যেমন:
বর্তমান কালের অনুজ্ঞা:
- তোমরা কাজ করো।
- রোহান লিখুক।
- আদেশ করুন জাহাপনা।

ভবিষ্যৎ কালের অনুজ্ঞা:
- সব সময় সত্যি বলবে।
- বড় হও, বুঝতে পারবে।
- অসুস্থ হলে ওষুধ খাবে।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩৭১.
'ধীর' শব্দটির বিশেষ্য কী?
  1. ধীরস্থির
  2. ধীরস্থিরতা
  3. ধৈর্য
  4. ধীরতা
সঠিক উত্তর:
ধীরতা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরতা
ব্যাখ্যা
• ধীর শব্দের বিশেষ্য পদ ধীরতা।

• ধীর (বিশেষণ পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- স্থিরচিত্ত
- মন্থর,
- সামান্য,
- বিনীত,
- পণ্ডিত।

অন্যদিকে,
• ধীরতা (বিশেষ্য পদ),
- এটি একটি সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ধৈর্য; ধৃতি (সকল ধীরতা শিক্ষা রসেতে পণ্ডিত-দৌকা)।
- স্থিরচিত্ততা।
- গাম্ভীর্য।
- পাণ্ডিত্য।
- বুদ্ধিমত্তা।

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৭২.
'অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।' - বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  4. সাধারণ বর্তমান
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত বর্তমান
ব্যাখ্যা
পুরাঘটিত বর্তমান:
যে ক্রিয়া কিছু আগে শেষ হয়েছে কিন্তু তার ফল এখনো রয়েছে, তাকে পুরাঘটিত বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
- এখন বাবা অফিস থেকে ফিরেছেন।
- এবার মা খেতে ডেকেছেন।
- অবশেষে আমি ইংরেজি পড়া শেষ করেছি।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৭৩.
‘যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এখানে 'করলে' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ-
  1. ক) অসমাপিকা
  2. খ) অনুক্ত
  3. গ) দ্বিকর্ম
  4. ঘ) সমাপিকা
সঠিক উত্তর:
ক) অসমাপিকা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) অসমাপিকা
ব্যাখ্যা
⇒ অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন:
- যত্ন করলে রত্ন মিলে।
এখানে 'যত্ন করলে' বললে ভাব সম্পূর্ণ প্রকাশিত হয় না। তাই এটি অসমাপিকা ক্রিয়া।

• একইভাবে, 'যত্ন করলে রত্ন মিলে'- এখানে 'করলে' অসমাপিকা ক্রিয়া।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা,
২. ভাবী অসমাপিকা এবং
৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
• ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
• ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহি যায়।
• শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৭৪.
'প্রাচী’ শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ কোনটি?
  1. প্রাচীন
  2. প্রাচিতি 
  3. প্রাচ্য
  4. প্রতীচী
সঠিক উত্তর:
প্রতীচী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
প্রতীচী
ব্যাখ্যা

• ‘প্রাচী’ মানে পূর্ব দিক বা পূর্বাঞ্চল। 
- এর বিপরীত অর্থ হলো ‘প্রতীচী’।
- প্রতীচী মানে পশ্চিম দিক বা পশ্চিমাঞ্চল।

• কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিপরীতার্থক শব্দসমূহ:
- প্রাচীন ↔ আধুনিক; 
- প্রাচ্য ↔ পাশ্চাত্য; 
- আপদ ↔ সম্পদ;
- আবির্ভাব ↔ তিরোভাব;
- আলো ↔ আঁধার;
- উৎকর্ষ ↔ অপকর্ষ;
- উত্তরণ ↔ অবতরণ;
- অনুরক্ত ↔ বিরক্ত;
- অনুমেয় ↔ অননুমেয়;
- নিয়ত ↔ বিরত;
- প্রবিষ্ট ↔ প্রস্থিত;
- উদ্ধত ↔ বিনীত;
- ঔদ্ধত্য ↔ বিনয়।

উৎস:
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য জিজ্ঞাসা;
বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৭৫.
কোনটি ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ?
  1. চলন্ত ট্রেন
  2. ধীরে হাঁটে
  3. সবুজ মাঠ
  4. নীল আকাশ
সঠিক উত্তর:
ধীরে হাঁটে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ধীরে হাঁটে
ব্যাখ্যা
ক্রিয়াবিশেষণ:
- যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়া বিশেষণ বলে।

নিচের বাক্যে নিম্নরেখ শব্দগুলাে ক্রিয়া বিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়
- লোকটি ধীরে হাঁটে
এখানে দ্রুত, ধীরে শব্দ গুলো হল ক্রিয়া বিশেষণ।

ক্রিয়া বিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

অন্যদিকে,
রূপবাচক বিশেষণ: নীল আকাশ, সবুজ মাঠ, কালো মেঘ।
অবস্থাবাচক বিশেষণ: চলন্ত ট্রেন।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭৬.
"ভাবলাম, তিনি এখন দোকানে গিয়ে থাকবেন।" কোন কাল নির্দেশ করে?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. সাধারণ ভবিষ্যৎ
  4. পুরাঘটিত ভবিষ্যৎ
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাধারণ ভবিষ্যৎ
ব্যাখ্যা
• "ভাবলাম, তিনি এখন দোকানে গিয়ে থাকবেন।" সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল নির্দেশ করছে।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল:

- যে ক্রিয়া পরে বা অনাগত কালে সংঘটিত হবে, তার কালকে সাধারণ ভবিষ্যৎ কাল বলে।
যথা- আমরা মাঠে খেলতে যাব। শীঘ্রই বৃষ্টি আসবে।

• সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের বিশিষ্ট প্রয়োগ:
• আক্ষেপ প্রকাশে অতীতের স্থলে ভবিষ্যৎ কাল ব্যবহার হয়।
যেমন-কে জানত, আমার ভাগ্য এমন হবে?
- সেদিন কে জানত যে ইউরোপে আবার মহাযুদ্ধের ভেরি বাজবে?

• অতীত কালের ঘটনা সম্পর্কিত যে ক্রিয়াপদে সন্দেহের ভাব বর্তমান থাকে, তার বর্ণনায় সাধারণ ভবিষ্যৎ কালের ব্যবহার হয়।
যেমন- ভাবলাম, তিনি এখন বাড়ি গিয়ে থাকবেন।
- তোমরা হয়তো 'বিশ্বনবি' পড়ে থাকবে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ- ৯ম ও ১০ম শ্রেণি (২০১৮ সংস্করণ)।
৩৭৭.
নিচের কোন বাক্যে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়েছে? 
  1. কিছু দরকার হলে বলো। 
  2. যদি ডাক পাই, নিশ্চয় যাব।
  3. কে তোমায় ডাক দিয়েছে আজ?
  4. ক ও গ 
সঠিক উত্তর:
ক ও গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক ও গ 
ব্যাখ্যা

• 'কিছু দরকার হলে বলো' ও 'কে তোমায় ডাক দিয়েছে আজ'?- বাক্য দুইটিতে সর্বনাম পদ ব্যবহৃত হয়েছে।  
- 'কিছু' অনির্দিষ্ট সর্বনামের উদাহরণ এবং 'কে' প্রশ্নবাচক সর্বনামের উদাহরণ। 

• সর্বনাম পদ:
- বিশেষ্য পদের পরিবর্তে যে পদ ব্যবহৃত হয়, তাকেই সর্বনাম পদ বলে।
- সর্বনাম পদগুলো মূলত নয়টি ভাগে বিভক্ত করা যায়: 
১. ব্যক্তিবাচক বা পুরুষবাচক সর্বনাম: আমি, আমরা, তুমি, তোমরা, সে, তারা, তাহারা, তিনি, তাঁরা, এ, এরা, ও, ওরা।
২. আত্মবাচক সর্বনাম, যেমন—স্বয়ং, নিজ, খোদ, আপনি।
৩. নির্দেশক সর্বনাম- নিকট নির্দেশক (এ, এই, এরা, ইহারা, ইনি) এবং দূর নির্দেশক (ও, ওই, ওরা, উনি)। 
৪. অনির্দিষ্ট সর্বনাম- কেউ, কোথাও, কিছু, একজন। 
৫. প্রশ্নবাচক সর্বনাম- কে, কারা, কাকে, কার, কী। 
৬. সাপেক্ষ সর্বনাম- যারা-তারা, যে-সে, যেমন-তেমন। 
৭. পারস্পারিক সর্বনাম- পরস্পর, নিজেরা নিজেরা। 
৮. সকল বা সাকুল্যবাচক সর্বনাম- সব, সকল, সমুদয়, তাবৎ, সমস্ত। 
৯. অন্যবাচক সর্বনাম- অন্য, অপর, পর, অমুক। এছাড়া সংযোগজ্ঞাপক সর্বনামও আছে, যেমন—যে, যিনি, যাঁরা, যারা, যাহারা।

উৎস:
বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ);
বাংলা দ্বিতীয় পত্র, এসএসসি প্রোগ্রাম, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।

৩৭৮.
নিচের কোন বাক্যেটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া নেই?
  1. ক) সে গান করে আনন্দ পায় ।
  2. খ) রাতের বেলা আকাশে চাঁদ ওঠে।
  3. গ) ভালো করে পড়াশোনা করবে।
  4. ঘ) পড়াশোনা করলে ভালো ফল হবে।
সঠিক উত্তর:
খ) রাতের বেলা আকাশে চাঁদ ওঠে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) রাতের বেলা আকাশে চাঁদ ওঠে।
ব্যাখ্যা
• 'রাতের  বেলা আকাশে চাঁদ ওঠে।' - বাক্যেটিতে অসমাপিকা ক্রিয়া নেই। 
------------------- 
ভাবপ্রকাশের দিক থেকে ক্রিয়া দুই প্রকার:
- সমাপিকা ক্রিয়া,
- অসামাপিকা ক্রিয়া।

১. সমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া দিয়ে ভাব সম্পূর্ণ হয়, তাকে সমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন – ভালাে করে পড়াশােনা করবে

২. অসমাপিকা ক্রিয়া: যে ক্রিয়া ভাব সম্পূর্ণ করতে পারে না, তাকে অসমাপিকা ক্রিয়া বলে।
যেমন - ভালাে করে পড়াশােনা করলে ভালাে ফল হবে।

অসমাপিকা ক্রিয়া তিন ধরনের:
১. ভূত অসমাপিকা, ২. ভাবী অসমাপিকা এবং ৩. শর্ত অসমাপিকা।
যথা:
ভূত অসমাপিকা: সে গান করে আনন্দ পায়।
ভাবী অসমাপিকা: সে গান শিখতে রাজশাহী যায় ।
শর্ত অসমাপিকা: গান করলে তার মন ভালাে হয়।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৭৯.
নিচের কোনটি অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দের বৈশিষ্ট্য?​
  1. কোন অর্থ প্রকাশ করে না​
  2. শুধু বিশেষ্য পদের সঙ্গে ব্যবহৃত হয়
  3. বাক্যে অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে
  4. সবসময় ক্রিয়াপদের আগে ব্যবহৃত হয়
সঠিক উত্তর:
বাক্যে অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বাক্যে অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দ:
- বাংলা ভাষায় যে অব্যয় শব্দগুলো কখনো স্বাধীন পদ রূপে, আবার কখনো শব্দ বিভক্তির ন্যায় বাক্যে ব্যবহৃত হয়ে বাক্যের অর্থ প্রকাশে সাহায্য করে, সেগুলোকে অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় বলে। অনুসর্গগুলো কখনো প্রাতিপদিকের পরে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বা 'কে' এবং 'র' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে বসে।

যেমন-
বিনা: দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে? (প্রাতিপদিকের পরে)।
সনে: ময়ূরীর সনে নাচিছে ময়ূর। (ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।
দিয়ে: তোমাকে দিয়ে আমার চলবে না। (দ্বিতীয়ার 'কে' বিভক্তিযুক্ত শব্দের পরে)।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৮০.
ক্রিয়া বর্তমানে, অতীতে বা ভবিষ্যতে সম্পন্ন হওয়ার সময় নির্দেশকে কী বলে?
  1. ক) ক্রিয়ার ভাব
  2. খ) ক্রিয়ার কর্ম
  3. গ) ক্রিয়ার কাল
  4. ঘ) ক্রিয়া বিভক্তি
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়ার কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) ক্রিয়ার কাল
ব্যাখ্যা

কাল: ক্রিয়া সংঘটনের সময়কে কাল বলে।
ক্রিয়া বর্তমান, অতীত বা ভবিষ্যতে সম্পন্ন হওয়ার সময় নির্দেশই ক্রিয়ার কাল ।
ক্রিয়ার কাল তিন প্রকার। যথা:
১. বর্তমান কাল। যেমন: আমরা বই পড়ি।
২. অতীত কাল। যেমন: কাল তুমি শহরে গিয়েছিলে।
৩. ভবিষ্যত কাল। যেমন: আগামীকাল স্কুল বন্ধ থাকবে।
উৎসঃ বাংলা ভাষার ব্যাকরণ - নবম-দশম শ্রেণি।

৩৮১.
'তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?' - এটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত অতীত
  2. নিত্যবৃত্ত অতীত 
  3. পুরাঘটিত বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত
ব্যাখ্যা

পুরাঘটিত অতীত:
- যে ক্রিয়া অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলে।

যেমন:
- আমরা রাজশাহী গিয়েছিলাম।
- তুমি কি তার পরীক্ষা নিয়েছিলে?
- আমি তাকে ভাত খেতে দেখেছিলাম।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।

৩৮২.
‘সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না’ বাক্যে ‘ছাড়া’ কোন পদ?
  1. আবেগ
  2. বিশেষ্য
  3. যোজক
  4. অনুসর্গ 
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
উত্তর
সঠিক উত্তর:
অনুসর্গ 
ব্যাখ্যা

• সে কাজ ছাড়া কিছুই বোঝে না। — এই বাক্যে 'ছাড়া' একটি অনুসর্গ।
-------------------------- 
• অনুসর্গ:
- অনুসর্গ হলো এমন এক ধরনের অব্যয় যা সাধারণত বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে
- এটি শব্দের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয় না।
- পৃথকভাবে বসে এবং বিভক্তির মতো কাজ করে বাক্যের অর্থকে স্পষ্ট করে। 
- এর মাধ্যমে পদের কারক সম্পর্ক বোঝানো যায়।
- উদাহরণস্বরূপ:
• “আমার জন্য সে অপেক্ষা করল” বাক্যে ‘জন্য’ একটি অনুসর্গ, যা ‘আমার’ পদের পরে বসে সম্পর্ক নির্দেশ করছে।
• “তার দ্বারা কাজটি সম্পন্ন হলো” – এখানে ‘দ্বারা’ অনুসর্গটি ‘তার’ পদের পরে বসে কর্ম নির্দেশ করছে।
• তেমনই, “খাওয়া ছাড়া আর কিছু মনে নেই” বাক্যে ‘ছাড়া’ অনুসর্গটি ‘খাওয়া’ পদের পরে বসে বাক্যের অর্থ সুস্পষ্ট করছে।

- কয়েকটি অনুসর্গের উদাহরণ-
- অপেক্ষা, অবধি, অভিমুখে, আগে, উপরে, করে, কর্তৃক, কাছে, কারণে, ছাড়া, জন্য, তরে, থেকে, দক্ষিণ, দিকে, দিয়ে, দ্বারা, ধরে, নাগাদ, নিচে, পর্যন্ত, পানে, পাশে, পিছনে, প্রতি, বদলে, বনাম, বরাবর, বাইরে, বাদে, বাদন, বিনা, ব্যতীত, ভিতরে, মতো, মধ্যে, মাঝে, লেগে, সঙ্গে, সম্মুখে, সাথে, সামনে, হতে ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, ৯ম-১০ম শ্রেণি (২০২৫ সংস্করণ)।

৩৮৩.
‘চতুর’ শব্দের বিশেষ্য পদ কোনটি?
  1. চতুরা
  2. চালাক
  3. চতুরি
  4. চাতুরী
  5. কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর:
চাতুরী
উত্তর
সঠিক উত্তর:
চাতুরী
ব্যাখ্যা
• চতুর (বিশেষণ পদ),
- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ:
- ধূর্ত,
- বুদ্ধিমান,
- নিপুণ,
- ঠগ ইত্যাদি।
• ‘চতুর’ শব্দের স্ত্রীবাচক- চতুরা।

• চালাক (বিশেষণ পদ),
- ফারসি শব্দ।
অর্থ:
- বুদ্ধিমান,
- চতুর।

অন্যদিকে,
• চাতুরী (বিশেষ্য পদ),

- সংস্কৃত শব্দ।
অর্থ: 
- চতুরতা,
- শঠতা,
- কৌশল ইত্যাদি।

সুতরাং ‘চতুর’ শব্দের বিশেষ্য পদ - চতুরী।

উৎস: বাংলা একডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।

৩৮৪.
'টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।'- এখানে 'টিপ টিপ' কোন পদ?
  1. বিশেষণ
  2. ক্রিয়াবিশেষণ
  3. ক্রিয়া
  4. যোজক
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক্রিয়াবিশেষণ
ব্যাখ্যা
• ক্রিয়াবিশেষণ:
যে শব্দ ক্রিয়াকে বিশেষিত করে, তাকে ক্রিয়াবিশেষণ বলে। ক্রিয়াবিশেষণের উদাহরণ:
- ছেলেটি দ্রুত দৌড়ায়।
- লোকটি ধীরে হাঁটে।

অনেক সময়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ শব্দের সঙ্গে '-এ', '-তে' ইত্যাদি বিভক্তি এবং '-ভাবে', '-বশত', '-মতো' ইত্যাদি শব্দাংশ যুক্ত হয়ে ক্রিয়াবিশেষণ তৈরি হয়। যেমন ততক্ষণে, দ্রুতগতিতে, শান্তভাবে, ভ্রান্তিবশত, আচ্ছামতো ইত্যাদি।

ক্রিয়াবিশেষণকে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:
১. ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: কোনো ক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হয়, ধরনবাচক ক্রিয়াবিশেষণ তা নির্দেশ করে।
যেমন-
টিপ টিপ বৃষ্টি পড়ছে।
ঠিকভাবে চললে কেউ কিছু বলবে না।

২. কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: এই ধরনের ক্রিয়াবিশেষণ ক্রিয়া সম্পাদনের কাল নির্দেশ করে।
যেমন-
- আজকাল ফলের চেয়ে ফুলের দাম বেশি।
- যথাসময়ে সে হাজির হয়।

৩. স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: ক্রিয়ার স্থান নির্দেশ করে স্থানবাচক ক্রিয়াবিশেষণ।
যেমন-
- মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়
- তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

৪. নেতিবাচক ক্রিয়াবিশেষণ: না, নি ইত্যাদি দিয়ে ক্রিয়ার নেতিবাচক অবস্থা বোঝায়। এগুলো সাধারণত
ক্রিয়ার পরে বসে।
যেমন-
- সে এখন যাবে না
- তিনি বেড়াতে যাননি
- এমন কথা আমার জানা নেই

৫. পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ: বাক্যের মধ্যে বিশেষ কোনো ভূমিকা পালন না করলেও 'কি', 'যে', 'বা','না', 'তো' প্রভৃতি পদাণু ক্রিয়াবিশেষণ হিসেবে কাজ করে। যেমন- 
-  আমি কি যাব?
-  খুব যে বলেছিলেন আসবেন!

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১-সংস্করণ)।
৩৮৫.
"মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল।" কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান কাল
  2. পুরাঘটিত অতীত কাল
  3. ঘটমান অতীত কাল
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
উত্তর
সঠিক উত্তর:
পুরাঘটিত অতীত কাল
ব্যাখ্যা

• পুরাঘটিত অতীত কাল:
যে ক্রিয়া অতীতের বহু পূর্বেই সংঘটিত হয়ে গিয়েছে এবং যার পরে আরও কিছু ঘটনা ঘটে গেছে, তার কালকে পুরাঘটিত অতীত কাল বলা হয়।
যেমন-
- সেবার তাকে সুস্থই দেখেছিলাম।
- কাজটি কি তুমি করেছিলে?

(ক) অতীতে সংঘটিত ঘটনার নিশ্চিত বর্ণনায়:
যেমন:
- পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে এক লক্ষ সৈন্য মারা গিয়েছিল।
- আমি সমিতিতে সেদিন পাঁচ টাকা নগদ দিয়েছিলাম।
- মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছিল।

(খ) অতীতে সংঘটিত ক্রিয়ার পরম্পরা বোঝাতে শেষ ক্রিয়াপদে পুরাঘটিত অতীত কালের প্রয়োগ হয়।
যেমন-
- বৃষ্টি শেষ হওয়ার পূর্বেই আমরা বাড়ি পৌঁছেছিলাম।

অন্যদিকে, 
• ঘটমান অতীত কাল:
অতীত কালে যে কাজ চলছিল এবং যে সময়ের কথা বলা হয়েছে, তখনও কাজটি সমাপ্ত হয়নি-ক্রিয়া সংঘটনের এরূপ ভাব বোঝালে ক্রিয়ার ঘটমান অতীত কাল হয়।
যেমন-
- কাল সন্ধ্যায় বৃষ্টি পড়ছিল।
- বাবা আমাদের পড়াশুনা দেখছিলেন।

• নিত্যবৃত্ত অতীত:
- অতীত কালে যে ক্রিয়া সাধারণ অভ্যস্ততা অর্থে ব্যবহৃত হয়, তাকে নিত্যবৃত্ত অতীত কাল বলে।
যেমন-
- আমরা তখন রোজ সকালে নদী তীরে ভ্রমণ করতাম।

পুরাঘটিত বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কার্য কিছুক্ষণ পূর্বে ঘটেছে। কিন্তু এর ফর বা প্রভাব এখনও বর্তমান, এরূপ অর্থে পুরাঘটিত বর্তমান কাল হয়।

যেমন:
- বৃষ্টি আমাদের বড়োই উপকার করেছে।
- ঝড় আমাদের ভীষণ ক্ষতি করেছে।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।

৩৮৬.
অনুসর্গের ক্ষেত্রে কোনটি সঠিক?
  1. ক) অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ থাকে না।
  2. খ) অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়ােগ আছে।
  3. গ) অনুসর্গ সম্পর্কিত শব্দটির বামদিকে একটু তফাতে বসে।
  4. ঘ) সবগুলোই সঠিক
সঠিক উত্তর:
খ) অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়ােগ আছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়ােগ আছে।
ব্যাখ্যা
অনুসর্গ বা কর্মপ্রবচনীয় শব্দের বৈশিষ্ট্য
১. অনুসর্গের নিজস্ব অর্থ থাকে। 
২. অনুসর্গের স্বতন্ত্র প্রয়ােগ আছে।
৩. অনুসর্গ সম্পর্কিত শব্দটির ডানদিকে একটু তফাতে বসে।
৪. অনুসর্গ সাধারণত শব্দের পরে বসলেও কখনাে কখনাে পূর্বেও বসে।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৮৭.
নিম্নের কোনটি ফারসি অনুসর্গের উদাহারণ?
  1. ক) ভেতর, মাঝে
  2. খ) অপেক্ষা, অভিমুখ
  3. গ) কর্তৃক, বদলে
  4. ঘ) বাবদ, বরাবর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাবদ, বরাবর
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ঘ) বাবদ, বরাবর
ব্যাখ্যা
• অনুসর্গ প্রধানত দুই প্রকার।
- নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গ,
- ক্রিয়া অনুসর্গ।

• নাম বা বিশেষ্য অনুসর্গকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
- সংস্কৃত অনুসর্গ: অপেক্ষা, অভিমুখ, উপরে, কর্তৃক, জন্য, দিকে ইত্যাদি।
- বিবর্তিত অনুসর্গ: আগে, কাছে, ছাড়া, তরে, পানে, পাশে, বই, ভেতর, মাঝে, সাথে, সামনে ইত্যাদি।
- ফারসিঅনুসর্গ: দরুন, বদলে, বনাম,বাদে, বাবদ, বরাবর ইত্যাদি।

উৎস: প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি।
৩৮৮.
'তোমাকে যেতেই হবে।' এই বাক্যে 'যেতে' শব্দের সঙ্গে যুক্ত ই-এর ব্যাকরণিক পরিচয় কী?
  1. যোজক
  2. বলক
  3. বিভক্তি
  4. নির্দেশক
সঠিক উত্তর:
বলক
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বলক
ব্যাখ্যা
• বাক্যটি - তোমাকে যেতেই হবে।
- এখানে "যেতে" ক্রিয়ার সঙ্গে "ই" যুক্ত হয়ে "যেতেই" হয়েছে।

এই "ই" হলো একটি বলক (বা নিযুক্তি বলক), যা ক্রিয়ার ওপর জোর বা অনিবার্যতা বোঝায়।
যেমন:
"তুমি খেতেই পারো না।"
"সে করতেই হবে।"

শব্দ যখন বাক্যের মধ্যে থাকে, তখন তার নাম হয় পদ। পদে পরিণত হওয়ার সময়ে শব্দের সঙ্গে কিছু শব্দাংশ যুক্ত হয়, এগুলাের নাম লগ্নক।
লগ্নক চার ধরনের:।
যথা- 
• বলক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হলে বক্তব্য জোরালাে হয়, সেগুলােকে বলক বলে।
যেমন - 
'তখনই' বা ‘এখনও' পদের 'ই' বা ‘ও’ হলাে বলকের উদাহরণ।

বিভক্তি:
- ক্রিয়ার কাল নির্দেশের জন্য এবং কারক বোঝাতে পদের সঙ্গে যেসব শব্দাংশ যুক্ত থাকে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে।
- বিভক্তি দুই প্রকার: ক্রিয়া-বিভক্তি ও কারক-বিভক্তি।
- ‘করলাম’ ক্রিয়াপদের ‘লাম’ শব্দাংশ হলো ক্রিয়া-বিভক্তি এবং ‘কৃষকের’ পদের ‘এর’ শব্দাংশ কারক-বিভক্তির উদাহরণ।

নির্দেশক:
যেসব শব্দাংশ পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পদকে নির্দিষ্ট করে, সেগুলোকে নির্দেশক বলে।
‘লোকটি বা ভালোটুকু পদের টি' বা ‘টুকু হলো নির্দেশকের উদাহরণ।

• যোজক: 
- পদ, বর্গ বা বাক্যকে যেসব শব্দ যুক্ত করে তাকে যোজক বলে।
- যেমন: এবং, ও, আর, তবু, অথবা, সুতরাং, কারন, তবে ইত্যাদি।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৮৯.
প্রশ্ন জিজ্ঞাসায় ক্রিয়ার কোন ভাব হয়?
  1. আকাঙ্ক্ষা ভাব
  2. অনুজ্ঞা ভাব
  3. সাপেক্ষ ভাব
  4. নির্দেশক ভাব
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক ভাব
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নির্দেশক ভাব
ব্যাখ্যা
নির্দেশক ভাব:
- সাধারণ ঘটনা নির্দেশ করলে বা কিছু জিজ্ঞাসা করলে ক্রিয়াপদের নির্দেশক ভাব হয়।
ক. সাধারণ নির্দেশক: আমরা বই পড়ি। তারা বাড়ি যাবে।
খ. প্রশ্ন জিজ্ঞাসায়: আপনি কি আসবেন? সে কি গিয়েছিল?

অন্যদিকে, 
অনুজ্ঞা ভাব:
- আদেশ, নিষেধ, উপদেশ, অনুরোধ, আশীর্বাদ ইত্যাদি সূচিত হলে ক্রিয়াপদের অনুজ্ঞা ভাব
হয়।
যেমন-
ক. আদেশাত্মক-
• বর্তমান কালে: চুপ কর।
• ভবিষ্যৎ কালে: তুমি কাল যেও।

আকাঙক্ষা প্রকাশক ভাব:
- যে ক্রিয়াপদে বক্তা সোজাসুজি কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে, তাকে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশক ভাবের ক্রিয়া বলা হয়।
যেমন:
- সে যাক।
- যা হয় হোক।
- সে একটু হাসুক।
- বৃষ্টি আসে আসুক।

সাপেক্ষ ভাব:
- একটি ক্রিয়ার সংঘটন অন্য একটি ক্রিয়ার ওপর নির্ভর করলে, নির্ভরশীল ক্রিয়াকে সাপেক্ষ ভাবের ক্রিয়া বলে।
যথা:
- যদি সে পড়ত, তবে পাস করত।
- আজ বাবা বেঁচে থাকলে আমার এত কষ্ট হতো না।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯০.
‘আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।’ — বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. সাধারণ বর্তমান
  2. পুরাঘটিত বর্তমান
  3. ঘটমান অতীত
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত অতীত
ব্যাখ্যা

নিত্যবৃত্ত অতীত কাল:
- অতীতকালে কোনো ক্রিয়া সব সময় বা নিয়মিতভাবে ঘটতো এমন বোঝালে কিংবা অভ্যাসগত কোনো কাজ বোঝালে তাকে 'নিত্যবৃত্ত অতীতকাল' বলে।
যেমন:
- আমি খুব খেতাম, এখন পারি না।

নিত্যবৃত্ত অতীত কালের প্রয়োগ:
• ইচ্ছা প্রকাশে: আজ যদি ছুটি হতো, কেমন মজা হতো।
• কল্পনায়: 'সাতাশ হতো যদি একশ সাতাশ'।
• সম্ভাবনা প্রকাশে: তুমি যদি যেতে, তবে ভালই হতো।
• ক্রিয়া সংঘটনের অপূর্ণতাজনিত কারণ বোঝাতে: গাড়িটা কিনতাম, কিন্তু দাম বেশি বলে কেনা হল না।
• অপূর্ণতাজনিত খেদ প্রকাশে: যদি তোমার মতো গান গাইতে পারতাম।
• নিশ্চয়তার ভাব প্রকাশে ভবিষ্যৎকালের দ্যোতনায়: এ ঘটনা আজ হোক কাল হোক ঘটতই।

উৎস: ভাষা শিক্ষা, ড. হায়াৎ মামুদ এবং বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২-সংস্করণ)।

৩৯১.
'শরতের পর আসে বসন্ত'। - এখানে 'পর' অনুসর্গটি কী অর্থ প্রকাশ করছে?
  1. নৈকট্য
  2. অল্প বিরতি
  3. দীর্ঘ বিরতি
  4. দূরে
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ বিরতি
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দীর্ঘ বিরতি
ব্যাখ্যা
অনুসর্গের প্রয়োগ:

যেমন:
অবধি: পর্যন্ত অর্থে – সন্ধ্যা অবধি অপেক্ষা করব।
পরে: স্বল্প বিরতি অর্থে – এ ঘটনার পরে আর এখানে থাকা চলে না।
পর: দীর্ঘ বিরতি অর্থে - শরতের পরে আসে বসন্ত।
মতে: ন্যায় অর্থে – বেকুবের মতো কাজ করো না।
তরে: মত অর্থে – এ জন্মের তরে বিদায় নিলাম।
পক্ষে: সক্ষমতা অর্থে – রাজার পক্ষে সব কিছুই সম্ভব।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, নবম-দশম শ্রেণি (২০১৯ সংস্করণ)।
৩৯২.
'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়'- বাক্য 'মিছিল' কোন পদ?
  1. ক্রিয়াবিশেষণ
  2. বিশেষণ
  3. বিশেষ্য
  4. সর্বনাম
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষ্য
ব্যাখ্যা
• 'মিছিলটি সামনে এগিয়ে যায়'- বাক্যে 'মিছিল' বিশেষ্য পদ। 

• মিছিল (বিশেষ্য পদ),
- এটি ফারসি ভাষার শব্দ। 
অর্থ:
- শোভাযাত্রা (একুশের মিছিল, মহরমের মিছিল);
- সমান,
- সমকক্ষ। 

উৎস: বাংলা একাডেমি, আধুনিক বাংলা অভিধান।
৩৯৩.
সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ কোনটি?
  1. ক) বিয়েপাগলা
  2. খ) ছেলে-ভুলানাে
  3. গ) গরুরগাড়ি
  4. ঘ) তেলেভাজা
সঠিক উত্তর:
ক) বিয়েপাগলা
উত্তর
সঠিক উত্তর:
ক) বিয়েপাগলা
ব্যাখ্যা
তৎপুরুষ সমাস
সমস্যমান পদের বিভক্তি ও সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পেয়ে যে সমাস হয়, তার নাম তৎপুরুষ সমাস। এই সমাসে পরপদের অর্থ প্রাধান্য পায়।


⇒ বিভক্তি লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
দুঃখকে প্রাপ্ত = দুঃখপ্রাপ্ত
ছেলেকে ভুলানাে = ছেলে-ভুলানাে
মামার বাড়ি = মামাবাড়ি
ধানের খেত = ধানখেত
পথের রাজা = রাজপথ
গােলায় ভরা = গােলাভরা
গাছে পাকা = গাছপাকা
অকালে মৃত্যু = অকালমৃত্যু।

⇒ সন্নিহিত অনুসর্গ লােপ পাওয়া তৎপুরুষ সমাসের উদাহরণ:
মধু দিয়ে মাখা = মধুমাখা
চিনি দিয়ে পাতা = চিনিপাতা
রান্নার জন্য ঘর = রান্নাঘর
বিয়ের জন্য পাগলা = বিয়েপাগলা
গ্রাম থেকে ছাড়া = গ্রামছাড়া
আগা থেকে গােড়া = আগাগােড়া।

⇒ কিছু ক্ষেত্রে বিভক্তি লােপ পায় না, এসব তৎপুরুষ সমাসের নাম অলুক তৎপুরুষ, যেমন –

গরুর গাড়ি = গরুরগাড়ি
তেলে ভাজা = তেলেভাজা।

উৎস:
মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৯৪.
"ঠাণ্ডা পানি খাওয়া ঠিক হবে না।" - এখানে 'ঠাণ্ডা' কোন পদ?
  1. বিশেষ্য
  2. বিশেষণ
  3. ক্রিয়াবিশেষ্য
  4. গুণবিশেষ্য
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
বিশেষণ
ব্যাখ্যা
• বিশেষণ:
যে শব্দ দিয়ে সাধারণত বিশেষ্য ও সর্বনামের গুণ, দোষ, সংখ্যা, পরিমাণ, অবস্থা ইত্যাদি বোঝায় তাকে বিশেষণ বলে।

বাক্য: "ঠাণ্ডা পানি খাওয়া ঠিক হবে না।"
এখানে ‘ঠাণ্ডা’ শব্দটি ‘পানি’ শব্দটির অবস্থা বোঝাচ্ছে — যেমন কী রকম পানি? → ঠাণ্ডা পানি।

তাই:
উত্তর: খ) বিশেষণ।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ সংস্করণ)।
৩৯৫.
'দুই আর দুইয়ে চার হয়।' বাক্যটি কোন কালের উদাহরণ?
  1. পুরাঘটিত বর্তমান
  2. ঘটমান বর্তমান
  3. নিত্যবৃত্ত বর্তমান
  4. নিত্যবৃত্ত অতীত
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
উত্তর
সঠিক উত্তর:
নিত্যবৃত্ত বর্তমান
ব্যাখ্যা
সাধারণ বর্তমান কাল:
- যে ক্রিয়ার কাজটি বর্তমানে সাধারণভাবে ঘটে বা হয়, তাকে সাধারণ বর্তমান বা নিত্যবৃত্ত বর্তমান কাল বলে।

যেমন:
সকালে সূর্য ওঠে।
দুই আর দুইয়ে চার হয়।
আমি রোজ বিদ্যালয়ে পড়তে যাই।

উৎস: বাংলা ব্যাকরণ ও নির্মিতি, অষ্টম শ্রেণি।
৩৯৬.
প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে কোনটি পদের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত নয়?
  1. ক) অনুসর্গ
  2. খ) অব্যয়
  3. গ) আবেগ
  4. ঘ) যোজক
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয়
উত্তর
সঠিক উত্তর:
খ) অব্যয়
ব্যাখ্যা

পদ:
- শব্দ যখন বাক্যে ব্যবহৃত হয়, তখন নাম হয় পদ।

প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে বাংলা ভাষার শব্দগুলিকে পাঁচটি শব্দশ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে। 
এগুলো হলো: 
১. বিশেষ্য
২. বিশেষণ
৩. সর্বনাম
৪. ক্রিয়া
৫. অব্যয় 

তবে, আধুনিক প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ অনুসারে পদ ৮ প্রকার:
১. বিশেষ্য
২. সর্বনাম,
৩. বিশেষণ
৪. ক্রিয়া,
৫. ক্রিয়া বিশেষণ,
৬. অনুসর্গ,
৭. যোজক
৮. আবেগ।

প্রচলিত ব্যাকরণের অব্যয় কথাটিকে এই ব্যাকরণে গ্রহণ করা হয় নি, তার কারণ হল,  শব্দ শ্রেণি হিসাবে অব্যয় কারক-বিভক্তি-বহুল সংস্কৃত ব্যাকরণের ধারণা। 

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি (২০২২ সংস্করণ) এবং প্রমিত বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা একাডেমি। 

৩৯৭.
'বাবা আমাকে একটি কলম দিয়েছেন' কোন ক্রিয়ার উদাহরণ?
  1. সকর্মক ক্রিয়া
  2. অকর্মক ক্রিয়া
  3. দ্বিকর্মক ক্রিয়া
  4. প্রযোজক ক্রিয়া
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
উত্তর
সঠিক উত্তর:
দ্বিকর্মক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
দ্বিকর্মক ক্রিয়া: যে ক্রিয়ার দুটি কর্মপদ থাকে তাকে দ্বিকর্মক ক্রিয়া বলে। দ্বিকর্মক ক্রিয়ার বস্তুবাচক কর্মপদটি মুখ্য বা প্রধান কর্ম এবং ব্যক্তিবাচক কর্ম পদটিকে গৌণ কর্ম পদ বলে।
যেমন- 'বাবা আমাকে একটি কলম দিয়েছেন'। এখানে 'কলম' (বস্তু) মুখ্য বা প্রধান কর্ম আর 'আমাকে' (ব্যক্তি) গৌণ কর্ম পদ।

উৎস: মাধ্যমিক বাংলা ২য় পত্র, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৯৮.
যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি। - এখানে 'যত' ও 'ততই' কোন ধরনের যোজক?
  1. বিকল্প
  2. সাপেক্ষ
  3. বিরোধ
  4. সাধারণ
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ
উত্তর
সঠিক উত্তর:
সাপেক্ষ
ব্যাখ্যা
সাপেক্ষ যোজক:
- এ ধরনের যোজক একে অন্যের পরিপূরক হয়ে বাক্যে ব্যবহৃত হয়।
যেমন:
- যত পড়ছি, ততই নতুন করে জানছি।

অন্যদিকে,
বিরোধ যোজক:
- এ ধরনের যোজক বাক্যের দুটি অংশের মধ্যে সংযোগ ঘটায় এবং প্রথম বাক্যের বক্তব্যের সঙ্গে বিরোধ তৈরি করে।
যেমন:
- তাকে আসতে বললাম, তবুও এলো না।

সাধারণ যোজক:
- এ ধরনের যোজক দুটি শব্দ বা বাক্যকে যুক্ত করে।
যেমন:
- করিম ও রহিম এ কাজটি করেছে।

বিকল্প যোজক:
- এ ধরনের যোজক একাধিক শব্দ বা বাক্যের মধ্যে বিকল্প নির্দেশ করে।
যেমন:
- চা না-হয় কফি খান।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২২ সংস্করণ)।
৩৯৯.
নিচের কোনটিতে নামক্রিয়া আছে?
  1. ক) আমরা তাজমহল দর্শন করলাম। 
  2. খ) তোমাকে দেখে প্রীত হলাম। 
  3. গ) শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে।
  4. ঘ) মাথা ঝিমঝিম করছে। 
সঠিক উত্তর:
গ) শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে।
উত্তর
সঠিক উত্তর:
গ) শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে।
ব্যাখ্যা
বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বনাত্মক অব্যয়ের শেষে আ-প্রত্যয় যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয় তাকে নামক্রিয়া বলে।
যেমন : 
বিশেষ্যের পরে : শিক্ষক ছাত্রকে বেতাচ্ছেন
বিশেষণের পরে : শিশুটি কলম বাঁকাচ্ছে
ধ্বনাত্মক অব্যয়ের পরে : ছেলেটি ঝিমাচ্ছে

উৎস : নবম-দশম শ্রেণি পুরাতন ও নতুন ব্যাকরণ, ভাষা-শিক্ষা, বাংলা একাডেমির ব্যাকরণ, উন্মক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাকরণ।
৪০০.
নিচের কোনটি গুণবাচক বিশেষ্যের উদাহরণ নয়?
  1. যৌবন
  2. শয়ন
  3. স্বাস্থ্য
  4. সুখ
সঠিক উত্তর:
শয়ন
উত্তর
সঠিক উত্তর:
শয়ন
ব্যাখ্যা
গুণবাচক বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দ্বারা কোনো বস্তুর দোষ বা গুণের নাম বোঝায়, তা-ই গুণবাচক বিশেষ্য।
যেমন:
- মধুর মিষ্টতার গুণ- মধুরতা, তরল দ্রব্যের গুণ- তারল্য, তিক্ত দ্রব্যের গুণ- তিক্ততা ইত্যাদি।
তদ্রুপ: সৌরভ, স্বাস্থ্য, যৌবন, সুখ, দুঃখ ইত্যাদি।

অন্যদিকে,
ক্রিয়া-বিশেষ্য:
- যে বিশেষ্য দিয়ে কোনো ক্রিয়া বা কাজের নাম বোঝায়, তাকে ক্রিয়া-বিশেষ্য বলে।
যেমন: পঠন, ভোজন, শয়ন, করা, করানো, পাঠানো, নেওয়া ইত্যাদি।

উৎস: বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি, নবম-দশম শ্রেণি (২০২১ ও ২০১৯ সংস্করণ)।